- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

একজন গবেষক ও একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মৃত্যু

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস এর স্কলারশিপ নিয়ে ভারতের বোস ইনস্টিটিউটে ‘প্ল্যান্ট মলিকিউলার অ্যান্ড সেলুলার জেনেটিক্স ডিভিশন’ এ নিজের ডক্টরেট ডিগ্রির কাজ শুরু করি। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল র্পযন্ত উপমহাদেশের বিখ্যাত পাট বিজ্ঞানী সৌমিত্র কুমার সেনের তত্ত্বাবধানে আমি ডক্টরেট করছিলাম।

বোস ইন্সিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা বিক্রমপুরের ছেলে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু। ৭৫ বছর আগে বিজ্ঞান গবেষণার জন্য নিজ উদ্যোগে তিনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন।

তাতে সহায়তা করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আর্চায প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, ত্রিপুরার রাজা, সিস্টার নিবেদিতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অবিভক্ত বাংলায় নিজ বাড়ি কলকাতায় তৈরি হয়েছিল জগদীশ বোস ইন্সিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯১৭ সালের ৩০ নভেম্বর, তাঁর জন্মদিনে। ২০১৭ সালে যার শতবর্ষ পালন হলো।

বসু ইন্সিটিউটে গবেষণার টাকা দেয় ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার। ফলাফল না আসা পর্যন্ত মঞ্জুরি বন্ধ হয় না। বোস ইন্সিটিউটে গবেষণাগার দেখে মনে আমার মনে দৃঢ় ইচ্ছা হয় এরকম একটা কিছু নিজদেশে প্রতিষ্ঠা করবো।

বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি নেয়ার পর দেশে ফিরে এলাম। যোগ দিলাম অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে। সেখানে গবেষণার কাজে হতাশ হয়ে, ১৯৯৬ সালে আর্কষণীয় চাকরিটা ছেড়েই দিলাম। একমাসের মধ্যে আমি উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিলাম।

উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষণ পদ্ধতির জন্য কিছু টেলিভিশন প্রোগ্রাম করতে হয়। এই অনুষ্ঠানটি করতে গিয়ে গ্রামের কৃষকের সাথে আলাপচারিতায় জানতে পারলাম যে, ইরিসহ কিছু হাইব্রিড ধানের মাত্র ৪ থেকে ৫ প্রজাতির চাষ হয়। আর এসব প্রজাতির বেশিরভাগই আমদানি করা বীজের। পাটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। পাটের বীজ পুরোটাই ভারত থেকে আমদানি করা হয়।

উন্নত জাতের সকল শাক-সবজির বীজই ভারত, চীন কিংবা নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা হত তখন।

আলু বীজের ক্ষেত্রে আরও দুরবস্থা। পুরো উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তাটা বীজ আমদানির উপর নির্ভরশীল,  যা এখনও একইভাবেই চলছে। ব্যাপারটি আমার কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক মনে হলো।

এখানে গবেষণার কোনও ব্যবস্থা না থাকায়, আমি ১৯৯৭ সালে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দেই। নিজের এসএসসি থেকে পিএইচডি র্পযন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ জমা রেখে ১০ মাসিক সুদে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নেই। কম্পিউটার কেনার টাকাও ঋণ নেই। বিয়ের সমস্ত গহনা বিক্রি করি। বাসা রেফ্রিজারেটর বিক্রি করে একটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র ভাড়া করি। র্ফামগেইটের মণিপুরি পাড়ায় ছোট্ট একটা বাসা ভাড়া নিয়ে খুলে বসি দেশের প্রথম প্রাইভেট বায়োটেকলজি গবেষণাগার। গবেষণার কেমিক্যাল নিয়ে আসি বোস ইনস্টিটিউট থেকে।

আমি ১৯৯৮ সালে জুনে জাতীয় বৃক্ষ মেলায় যোগ দেই। সেখানে আলু, অর্কিডের ও কলার টিস্যু কালচার করা বোতল উপস্থাপন করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন এই মেলাটি উদ্বোধন করেন। তখন পরিবেশ সচিব আমার স্টলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আসেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাচের ফ্লাস্কের ভিতরে অর্কিডের চারা, কলার চারা, আলুর চারা এবং ঝুলিয়ে রাখা অর্কিড ফুল দেখে অবাক হন ও আনন্দিত হন।

আমার সাথে স্টলে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথাও বলেন এবং পিআইডি এর ক্যামেরায় ছবিও তোলেন। একটি কলার চারার টিস্যু কালচারের বোতল হাতে তুলে বলেন- ‘এটা আমি নিলাম’; এরপর তিনি স্টল ত্যাগ করেন।

এবার দুপুরে খেতে এসে গবেষণাগারে কাজ করছি। বেলা তখন ৩টা। আমার গবেষণাগারে একজন সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসে তার পরিচয় দেন। তিনি বলেন,  ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে ডেকেছেন, বিকাল ৫টায় প্রধানমন্ত্রীর গণভবনে যেতে হবে।’

ওইদিন আমি বিকাল ৫টায় গণভবন যাই। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কক্ষে ঢুকে অবাক হই। দেখি টিস্যু কালচারকৃত কলার চারার ফ্লাস্কটি টেবিলের উপর। একটি সাধারণ তাঁতের শাড়ি পরে হাস্যোজ্জ্বলমুখে তিনি কক্ষে আসেন। আমি খুশিতে দাঁড়িয়ে সালাম দেই। তিনি আমাকে টেবিলের কাছে ডেকে নিয়ে বোতলটি দেখিয়ে বলে, ‘এটি কীভাবে বানিয়েছেন?’  আমি ওভাবে দাঁড়িয়ে যতটা সহজ করে সম্ভব উনাকে বলি। তখন তিনি বলেন, ‘এটাতো দেশের অনেক উপকারে আসবে।’

আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কী কী করলে এটি ভারত বা অন্যান্য দেশের মতো হতে পারে।’

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, ‘প্রথমে একটি স্থায়ী জায়গায় একটি উন্নত গবেষণাগার তৈরি করতে হবে, যাতে বড় অংকের টাকার অনুদান প্রয়োজন।’

তিনি আমাকে একটি দরখাস্ত নিয়ে ভূমিমন্ত্রীর কাছে চলে যেতে বললেন এবং আর গণভবনের একটা জায়গায় অর্কিড লাগিয়ে দেয়ার অনুরোধ করলেন। বললেন, ‘আমি অর্কিড ভীষণ ভালবাসি।’

পরদিন সকালেই আমি গণভবনে অর্কিড লাগিয়ে দিয়ে আসি। পরবর্তীতে দরখাস্ত নিয়ে তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী রাশেদ মোশারফের কাছে যাই। তিনি গাজীপুরের জেলা প্রশাসককে দরখাস্তের উপর লিখে দেন- ‘জরুরি ভিত্তিতে দেশের প্রয়োজনে জমি ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য প্রেরিত হলো।’

২০০১ সালে রাজনৈতিক পট পরির্বতন হয়। নতুন সরকার, নতুন জেলা প্রশাসক, নতুন মন্ত্রী। আমার কাগজ দেখে তারা বললেন, ‘আমি আওয়ামী লীগার।’

কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি, ২০০৩ এবং ২০০৪ এ দুই বছরে মায়ের জমি বিক্রির টাকা নিয়ে প্রচলিত মূল্যের দেড়গুণ বেশি দিয়ে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ১৪৭ ডেসিমেল সরকারি খাস জমি কিনলাম।

যদিও জমিটি আমাকে ১ টাকা মূল্যেও দিতে পারতো প্রশাসন! এই খাস জমি কেনার ইতিহাস লিখলে একটি উপন্যাস হবে।

এরপর জমির সীমানা প্রাচীর দিতে গিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে অনেকেই আমাকে নানা ধরনের হুমকিধামকি দিতে শুরু করলো। এইসময় হত্যার হুমকিও পেয়েছি।

এই জমিটি যারা দখল করেছিলেন তারা একজন প্রভাবশালী গার্মেন্টস মালিক এবং  রাজনীতিবিদের তত্ত্বাবধানে ছিল। এক বৃষ্টির দিনে প্রায় ৫০-৬০ জন আমাকে আর আমার ম্যানেজারকে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করল। আমার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেল। ম্যানেজারকে পিটিয়ে আধমরা করল। আমার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করতে গেলে আমি বাথরুমে লুকিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিলাম।

মামলা-মোকাদ্দমা অনেক কিছুর পর জমিটি আমি আমার আয়ত্তে আনলাম।

এখানে বলে রাখা ভালো, ২০০০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় থেকে অর্কিড উৎপাদনের মঞ্জুরি দেওয়ার জন্য পত্র দেন; কিন্তু ২০০১ সালে সরকারের পরিবর্তনে আমি অনুদানটি পাইনি।

দেখা করলাম তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফখরুদ্দীন সাহেবের সাথে। উনার পরার্মশে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ইক্যুইটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনরশিপ ফান্ড ইউনিট’ (ইইএফ) এ আমি পাঁচকোটি টাকার প্রজেক্ট প্রোফাইল জমা দেই।

কিন্তু ইইএফ কর্মকর্তারা আমার কাছে ১০ শতাংশ ঘুষ হিসেবে চান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘুষ না দেওয়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। যা চেয়েছি, যা দরকার ছিল তার অর্ধেকেরও কম।

৭ হাজার স্কয়ারফিটের ১০তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ১ বছরে গবেষণাগারের ভবনটি দাঁড় করালাম, তাতে সমস্ত টাকা খরচ হয়ে যায়। গবেষণাগারের যন্ত্রপাতি কেনা হয় না। সে সময় ব্যাংকের অফিসারদের ঘুষ দিলে ২০ কোটি টাকা নিতে পারতাম।

অন্য অনেকেই যা করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ফান্ডের টাকা দিয়ে মানুষ জমি কিনেছে, বাড়ি করেছে, বিদেশে চলে গিয়েছে বলে শুনেছি। আমি সমস্ত টাকা এখানে ব্যয় করলাম। মুন্সিগঞ্জে আমার রোগমুক্ত আলুবীজের পরীক্ষার মাঠ দেখে কৃষকেরা আমার কাছে আলুবীজ, কলার চারা চাইতে থাকে, আমি বাণিজ্যিকভাবে কিছুই করতে পারছিলাম না।

আমি বিভিন্ন দাতা সংস্থার সাথে দেখা করতে থাকি, কোনও লাভ হয় না। ২০১০ সালে আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী শাহজাহান কামালের (তৎকালীন জনতা ব্যাংকের পরিচালক) সহযোগিতায় ২০১১ সালে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বিএমআরই ঋণ পাই।  ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকের মাধ্যমে আমার গবেষণাগারে এয়ার কন্ডিশন, যন্ত্রপাতি, ফার্নিচারসহ সবই কিনে দেয়। আমার নগদ আর কোনও টাকা থাকে না।

আমি থেমে থাকিনি দেশ বিদেশ থেকে শির্ক্ষাথীরা গবেষণার জন্য আসতে থাকল। এইদিকে নিয়মিত কৃষি প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছি- কীভাবে রপ্তানিযোগ্য আলু, ফুল, শাক-সবজি উৎপাদন করা যায়, কীভাবে কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে দেয়া যায় ইত্যাদি নানা বিষয়ে।  প্রসঙ্গত নীলফামারীতে আমার আলুবীজ উৎপাদন কর্মকাণ্ডের সাথে ৫০০ নারী শ্রমিক জড়িত। তাঁরা এখন আর কোনও মাইক্রোক্রেডিটের সাথে জড়িত নন। তাদের সন্তানরা এখন স্কুলে যায়। অর্কিডের জন্য গবেষনাগার সংলগ্ন জায়গায় একটি শেড তৈরি করি।

কিন্তু পাশের গার্মেন্টস এর দখল মনোভাব এবং প্রতিনিয়ত আর্বজনা ফেলার কারণে অর্কিড উৎপাদন ব্যাহত হয়। সাধারণত টিস্যু কালচারকৃত রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদন করতে সময় লাগে ৬ বছর। সারা পৃথিবীতে এভাবেই আলুবীজ উৎপাদন হয়। বাংলাদেশে রোগমুক্ত আলুবীজের চাহিদা বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন। আলুবীজও নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা হয়।

২০১১-২০১২ সালে আলুর মূল্য কমে যাওয়ায় বিএডিসিসহ আমরা সকলেই বীজ বিক্রি করতে না পেরে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হই। আবার যখন আমি ৬ বছর পর প্রত্যেকটি স্তর পার হয়ে ২০১৭ সালে ৫০০ টন আলুবীজ বিক্রি করবো, তখনই আবার আলুর কেজি ২ টাকা হয়ে যাওয়ায় ২০১৭-১০১৮ সালে আমি আড়াই কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হই।

আর সবশেষ ২০১৮ সালের ১০ মে প্রচণ্ড ঝড়ে নীলফামারির স্থাপনাসহ সমস্ত কিছু উড়ে যায়। এতে আমার ৫০০ বিঘা জমির ভূট্টার চাষসহ ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। কৃষির জন্য কোন লোকসানে গার্মেন্টসের মত প্রণোদনা বা বিশেষ ব্যবস্থা নেই।

 

২০১৫ সালেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই গবেষণাগারটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্র করার জন্য আবেদন জানাই। তিনি আমাকে সহযোগিতার জন্য আবারও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ে পত্র দেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারও কোন সুরাহা হয়নি। ব্যাংকের দায়দেনা নিয়ে আমার উপর গত তিন বছর ধরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আমি ধারদেনা ও দেশের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে, ফ্ল্যাট ও গাড়ি বিক্রি করে কিছু কিছু টাকা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে দিল্লি যাওয়ার প্রাক্কালে, তিনি বিমানে আমার সাথে ২-৩ মিনিট গবেষনাগারটি নিয়ে আলোচনা করেন। আমি তাঁর সাক্ষাৎ প্রার্থী হলে তিনি সম্মতি জানান। আজ ১৫ মাস হয়ে গেল আমি এখন পর্যন্ত  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে পারিনি।

এই মুহূর্তে সমস্ত জমি, গবেষণাগার বিক্রি করে ব্যাংকের দায়দেনা পরিশোধের জন্য ব্যাংক আমাকে চাপ দিচ্ছে। কিন্তু জমি বিক্রির শর্তে আছে জমি বিক্রির ২৫ শতাংশ টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হবে এবং সরকারের অনুমতি লাগবে। এখানেও এক চরম জটিলতার মধ্যে পড়েছি। দেড়গুণ মূল্যে সাব কোবলা দলিলে জমি কিনে আমাকে কেন বর্তমান বিক্রয় মূল্যের ২৫ শতাংশ সরকারকে জমা দিতে হবে?

জমিটির সীমানা প্রাচীর, মাটি ভরাট, এতে ভবন তৈরি, ইলেকট্রিসিটি, পানি আনার সমস্ত খরচ আমিই করেছি। তাহলে বর্তমান মূল্যে ২৫% টাকা আমি কেন সরকারকে ফেরত দেব। এটা কি ধরনের নীতিমালা!

নিজেকে একজন ব্যর্থ মানুষ, ব্যর্থ বিজ্ঞানী বলে মনে হয়। কেন সেইদিন জগদীশ চন্দ্র বসু, প্রফেসর সোয়ামিনাথানদের মত বড় বড় বিজ্ঞানীদের পথ অনুসরণ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে এই গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করতে গেলাম তা ভেবে হতাশ হয়ে পড়ি।

২২ বছর সংগ্রাম, কষ্ট, যন্ত্রণা নিয়ে তিলে তিলে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। স্বপ্ন ছিল এতে ইন্সটিউটের মতো বিভিন্ন গবেষণা হবে, যা দেশের কাজে লাগবে, শির্ক্ষাথী ও গবেষকরা এখানেই থাকবেন, রাত-দিন কাজ করবেন সেটি প্রায় শেষ হওয়ার পথে।

স্বপ্ন ছিল একদিকে বাণিজ্যিক বায়োটেকনোলজি শিল্প গড়ে উঠবে যার আয় দিয়ে গবেষণা কেন্দ্রটি চলবে, পাশাপাশি কৃষকের উন্নত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা হবে।

ভেবেছিলাম পৃথিবীর নামকরা বিজ্ঞানীরা এখানে এসে প্রশিক্ষণ দেবেন, গবেষণা করবেন এবং নতুন নতুন জাতের ফসল ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন করবেন। শির্ক্ষাথীরা এখান থেকে ডিগ্রি নিয়ে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে, বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক গবেষণা কেন্দ্রের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে।

সেগুলোর আপাত ইতি ঘটেছে। আমি ব্যাংক ঋণগ্রস্ত বা মামলার সম্মুখীন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সকল নীতি নির্ধারক কাছে প্রশ্ন, আমরা নিজেদের খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসর্ম্পূণ বলছি, বীজ উৎপাদন করা ছাড়া আমরা কি সত্যিই খাদ্য নিরাপত্তা পাবো?  প্রায়োগিক বিজ্ঞান গবেষনা ছাড়া কী একটি দেশের উন্নতি সম্ভব?

পাঁচ কোটি টাকার জন্য একজন উদ্যোক্তার ২২ বছরের সবকিছুর মৃত্যু ঘটছে তা কি দেশের জন্য ক্ষতি নয়? উদ্যোক্তা তৈরি ও বিনিয়োগের জন্য কত নীতিমালা হয়! অসফল উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অভিজ্ঞতাকে দিয়ে আবার শুরুর জন্য কোনও নীতিমালা কী করা যেতে পারে না?

আমার শেষ আবেদন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, এই সাড়ে ৫ কোটি টাকাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর খাতে নিয়ে গিয়ে, আমাকে আরো ৫ কোটি টাকা দিয়ে গবেষণাগারটি চালু করা কী যায়?

পাশাপাশি উদ্যোগী বিজ্ঞানীদের জন্য থাইল্যান্ডের রাজার তহবিলের মতো একটি প্রধানমন্ত্রী তহবিল গঠন করে, গবেষণা কার্যক্রমকে বাণিজ্যিকিকরণে সহায়তা দানের নতুন উদ্যোগ কী নেওয়া যায়!

৪৩ Comments (Open | Close)

৪৩ Comments To "একজন গবেষক ও একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মৃত্যু"

#১ Comment By সরকার জাবেদ ইকবাল On জুলাই ১৯, ২০১৮ @ ৮:২০ অপরাহ্ণ

আপনার অদম্য উদ্দীপনাকে স্যাল্যুট জানাই। এত কিছুর পরও আপনি হাল ছাড়েননি! আপনি পারবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার আবেদনে সাড়া দেবেন বলে বিশ্বাস করি। আপনার এই উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে আরও অনেকেই গবেষণাকর্মে অনুপ্রাণিত হবেন – এই প্রত্যাশাও রাখছি।

#২ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৫১ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ আপনাকে।

#৩ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ আপনাকে, আপনারাইতো আছেন আমাকে প্রেরণা দেবার জন্য।

#৪ Comment By জাহাঙ্গীর কবীর বাপপি On জুলাই ১৯, ২০১৮ @ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

কেউ কি নেই এসব দেখার??

#৫ Comment By খোকন On জুলাই ২০, ২০১৮ @ ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ

আমি খুবই দুঃখিত। আমরা কি করতে পারি।? কোন ভাবে সাহায্য করতে পারি কি?

#৬ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৫১ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ ভাই, আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
মোবাইলঃ ০১৭১৩০১৭৭০৫

#৭ Comment By Hasan Mahmud On জুলাই ২০, ২০১৮ @ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিবন্ধটা আবেগের বেশী নাকি হিসেবের? দেশ কোন দিকে যাচ্ছে তা আবারও বোঝা গেল। ফেরদৌসী বেগম, গবেষকের কাজ লড়াই করা নয়, তার পরেও যথেষ্ট লড়াই করেছেন। এই চোরাবালির ওপরে এখনো দৃঢ় দাঁড়িয়ে আছেন, স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। ক’জন পারে? ৯৯% মানুষের ৯৯% স্বপ্ন কখনো সত্যি হয়না তবু স্বপ্ন থাকতে হয়, স্বপ্নই জীবনের, সমাজের চালিকাশক্তি। অনেক শুভেচ্ছা……..

#৮ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৫০ অপরাহ্ণ

ভাই, আমি চেয়েছিলাম প্রায়োগিক গবেষণা করতে, যা সাধারণ কৃষকের কাজে লাগবে। আমি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ১০-৫টা অফিস করতে চাইনি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মত গবেষণা পেপার ছাপিয়ে প্রমোশন বাগিয়ে নিতে চাই নি। আমি সহজ করে বিজ্ঞান লিখে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলাম। গত ২২ বছর গবেষণার টাকার জন্য যুদ্ধ করতে করতে আমার সমস্ত প্রতিভার যেন মৃত্যু ঘটেছে। বিজ্ঞানীরতো গবেষণাগারের বাহিরে যাওয়ার কথা নয়!

#৯ Comment By kamal On জুলাই ২০, ২০১৮ @ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

ম্যাডাম,হতাশ হবেন না । আপনি কী কষ্টে আছেন তা, আপনার লেখাতে রয়েছে । আপনার সাথে যা হচ্ছে তা’ কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা আমাদের স্বভাব এবং এটা আমাদের দেশের ভাগ্য কিন্তু আপনাদের মত আজন্ম ও অদম্য যোদ্ধা যুগে যুগে এক-আধজন আছেন বলেই আমাদের দেশ একটু একটু করে এগিয়ে যায়। আবারও আপনাকে সালাম। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট লেখাটি দেখানো হবে। প্লিজ, হতাশ হবেন না।

#১০ Comment By সরকার জাবেদ ইকবাল On জুলাই ২০, ২০১৮ @ ৪:২২ অপরাহ্ণ

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর প্রবক্তা আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে তাঁর ব্যাপক আগ্রহ। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবেন বলে আশা রাখি।

#১১ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ।

#১২ Comment By সুনীল আকাশ On জুলাই ২১, ২০১৮ @ ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

লেখাটা পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল । তবে হতাশ হবেন না। এতদূর এসে, এত ত্যাগ স্বীকারের পর হাল ছেড়ে দেবেন না। আপনি পারবেন। মাঝে মাঝে মনে হয় আপনাদের মতন কিছু মানুষ এখন দেশে আছেন বলেই দেশটা এখনো টিকে আছে। স্যালুট আপনাকে শ্রদ্ধা অন্তর থেকে। আমি বিশ্বাস করি আপনার এ প্রতিষ্ঠান দাঁড়াবেই।

#১৩ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৪৪ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ আপনাকে।

#১৪ Comment By Dibbendu Dwip On জুলাই ২১, ২০১৮ @ ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

Nothing to say …

#১৫ Comment By সৈয়দ আলী On জুলাই ২১, ২০১৮ @ ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

দেখারতো অবশ্যই আছে। নাহলে ঘুষ চাইলো কি করে?

#১৬ Comment By শুভ্র On জুলাই ২১, ২০১৮ @ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

আমাদের যথেষ্ট মেধাবী “পলিসি মেকার” আছে বলে সংশয় আছে। অল্প দু’একজন থাকলেও তারা সুযোগের অভাবে ও পার্সেন্টেজের গোলযোগে তাদের প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত করতে পারে না বলে আমি মোটামোটি নিশ্চিত।

দেশে লাখ লাখ মানুষ ১২ মাসে যে হাজার মেট্রিক টন শাক সবজি উৎপাদন করে কিছু বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনে সেখানে বিদেশ থেকে মুষ্টিমেয় বিদেশি প্রকৌশলী ৬ মাস এদেশে কাজ করে ঐ বৈদেশিক মুদ্রাগুলো নিয়ে যায়। দুঃখের বিষয় ঐ সকল শাক সবজি যে এ দেশে উদ্বৃত্ত তা নয়। বরং এদেশের মানুষেরই পুষ্টির চরম অভাব। তাই মাছ, মাংস, চিংড়ি, শাক-সবজি দেশের মানুষকে খাইয়ে তাদের “কর্মমুখী যুগোপযোগী সুশিক্ষা” প্রদান করত তাদের আমড়া কাঠের ঢেকি থেকে রিসোর্স পার্সন হিসেবে গড়ে তুলে তাদের বিদেশে চালান করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর প্রচেষ্টা হাতে নেওয়া উচিত।

গবেষকের লেখা পড়ে দুঃখবোধ প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাস নি:সৃত হলো।

#১৭ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৪২ অপরাহ্ণ

ঠিক বলেছেন, ধন্যবাদ আপনাকে।

#১৮ Comment By শরীফ On জুলাই ২২, ২০১৮ @ ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

সব মন্তব্যের সাথে সহমত।
সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা। পরবর্তীতে ফলোআপ লেখা চাই।

#১৯ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৪০ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ আপনাকে, লিখছি।

#২০ Comment By Monzur E Khoda On জুলাই ২২, ২০১৮ @ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ

আমরা দেশের মাত্র ৫ কোটি জনগণ মাত্র ২ টাকা করে বিকাশ করলেই ১০ কোটি টাকা তহবিল হবে ইনশাআল্লাহ। চলুন গবেষণাগার এর জন্য একটি উদ্যোগ নেই।

#২১ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:১৮ অপরাহ্ণ

প্রিয় মনজুর,
আপনাকে ধন্যবাদ। বিজ্ঞানী জগদীশ বসু তার প্রতি জন্মদিনে সারা ভারতবর্ষের কাছে টাকা চাইতেন উপহার হিসেবে এবং এইভাবেই চলতো বোস ইন্সিটিউটের গবেষণা।
আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। ৫৬ বছর বয়স আমার। গত ৪-৫ বছর ঈদে চাঁদে একটি শাড়িও কিনিনি। দুই ছেলে প্রতিষ্ঠিত,তারা আমাকে সব সময় বলে মা এগুলো সব বিক্রি করে ব্যাংকের লোন দিয়ে তুমি দুশ্চিন্তা মুক্ত হও।
আচ্ছা ভাই স্বপ্ন কি বেচা যায়! আপনার প্রস্তাবটা অনেক ভালো, আসুন না কিছু করি। যেভাবে একদিন সারা দেশবাসী চাঁদা তুলে অসুস্থ অমিতকে বাঁচিয়েছিল, সেভাবে আমার তৃতীয় সন্তানকে বাঁচিয়ে দিন।

#২২ Comment By মেহেদী হাসান On জুলাই ২২, ২০১৮ @ ১:১০ পূর্বাহ্ণ

এটা আপনারই দোষ। চাকরি ছেড়ে এগুলো করতে গেলেন কেন? এতো পড়াশুনা করে আপনার নিশ্চয়ই জানার কথা “উলুবনে মুক্তা ছড়াতে নেই”।

#২৩ Comment By KM Sakhawatullah On জুলাই ২২, ২০১৮ @ ২:১০ অপরাহ্ণ

পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল।
আপনার হার না মানা প্রচেষ্টাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি এ বিপদ কেটে যাবে। আজ যে আমাদের দেশের মেরুদন্ড শক্ত তার অন্যতম কারণ কৃষিতে বিপ্লব। কিন্তু এ বিপ্লব অনিরাপদ যদি বীজ উৎপাদন নিজের নিয়ন্ত্রনে না থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং নীতি নির্ধারকগণ দ্রুতই এ বিষয়ে এগিয়ে আসবেন বলে আশা করছি।

#২৪ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

প্রিয় ভাই,
আমার দেশের মেরুদণ্ড সোজা হোক, তা কি কেউ চায়! খাদ্য নিরাপত্তার মূল বিষয় হলো ভালো বীজ এবং উন্নত প্রযুক্তি। ভারতের থেকে আমরা এই ব্যাপারে ৫০ বছর পিছিয়ে আছি। আমাদের নীতি নির্ধারকেরা ভাবে না, ১টি গবেষণার ১০০টি চেষ্টার পর একটি ফল পাওয়া যায়। যার উদাহরণ টমাস এডিসনের বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার।
গবেষণা কখনও ব্যাংকের লোন নিয়ে হয় না, এর জন্য দরকার সরকারি অনুদান।

#২৫ Comment By ডক্টর মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ On জুলাই ২২, ২০১৮ @ ৭:৫০ অপরাহ্ণ

এত কিছুর পরও আপনি হাল ছাড়েননি! আপনার এই উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে আরও অনেকেই গবেষণাকর্মে অনুপ্রাণিত হবেন – এই প্রত্যাশাও রাখছি। আপনি পারবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার আবেদনে সাড়া দেবেন বলে বিশ্বাস করি। আপনার অদম্য উদ্দীপনাকে স্যাল্যুট জানাই।

#২৬ Comment By Mukul Mia Talukder On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ২:০৮ পূর্বাহ্ণ

চলুন সবাই ৫ টাকা বিকাশ করি, আর শেখ হাসিনা কি শুনছেন?

#২৭ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:১৭ অপরাহ্ণ

প্রিয় মুকুল,
আপনাকে ধন্যবাদ। বিজ্ঞানী জগদীশ বসু তার প্রতি জন্মদিনে সারা ভারতবর্ষের কাছে টাকা চাইতেন উপহার হিসেবে এবং এইভাবেই চলতো বোস ইন্সিটিউটের গবেষণা।
আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। ৫৬ বছর বয়স আমার। গত ৪-৫ বছর ঈদে চাঁদে একটি শাড়িও কিনিনি। দুই ছেলে প্রতিষ্ঠিত,তারা আমাকে সব সময় বলে মা এগুলো সব বিক্রি করে ব্যাংকের লোন দিয়ে তুমি দুশ্চিন্তা মুক্ত হও।
আচ্ছা ভাই স্বপ্ন কি বেচা যায়! আপনার প্রস্তাবটা অনেক ভালো, আসুন না কিছু করি। যেভাবে একদিন সারা দেশবাসী চাঁদা তুলে অসুস্থ অমিতকে বাঁচিয়েছিল, সেভাবে আমার তৃতীয় সন্তানকে বাঁচিয়ে দিন।

#২৮ Comment By KM Sakhawatullah On জুলাই ২৪, ২০১৮ @ ১২:১৩ অপরাহ্ণ

আপনার মহৎ স্বপ্ন অবশ্যই সফল হবে। অমিতের কথা কেউ ভোলেনি।
জানিয়ে দিন কিভাবে সহায়তা করবো।

#২৯ Comment By Mukul Mia Talukder On জুলাই ২৪, ২০১৮ @ ৭:৪২ অপরাহ্ণ

আমরা আপনার পাশেই আছি। আশাকরি সবাই এগিয়ে আসবেন। সবার কাছে আমার আকুল আহবান, এগিয়ে আসুন। এই গবেষণার কাজ আমার ও আপনার সকলের কাজেই লাগবে। একে বাঁচিয়ে রাখা সকলের উচিৎ।

#৩০ Comment By KM Sakhawatullah On জুলাই ২৪, ২০১৮ @ ১২:০৮ অপরাহ্ণ

আপনার উদ্যোগ আমি সমর্থন করি।
চলুন আমরা দেশের জন্য ডঃ ফেরদৌসির স্বপ্নকে সফল করার চেষ্টা করি। অমিতের জন্য হাত বাড়িয়েছিলা। এখানেও করবো।
জানিয়ে দিন কিভাবে সহায়তা করবো।

#৩১ Comment By Md. Jahangir Alam On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

লেখাটা পড়ে খুব কষ্ট পেলাম!

#৩২ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:০৮ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ আপনাকে

#৩৩ Comment By কামাল ফরাজী On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ১:৩৩ অপরাহ্ণ

আমার মনে হয় সরকারি অনুদান ও সহযোগিতা পাওয়াটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এক্ষেত্রে এনজিও’রা এগিয়ে আসলে সফলতা আসতে পারে।

#৩৪ Comment By ডঃ ফেরদৌসি বেগম On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৬:০৭ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ ভাই কালাম ফরাজী,
দেশীয় এনজিওগুলো বেশির ভাগই মাইক্রো ক্রেডিট নিয়ে কাজ করে। আমি ব্রাক, গ্রামীণ সবার কাছে গিয়েছিলাম,কোন লাভ হয়নি। আমি বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছে গিয়েছি। বিভিন্ন সময়ে ২০ জনের মত রাষ্ট্রদূত আমার গবেষণাগার পরিদর্শন করেছেন, অনেক প্রশংসা করেছেন।
আমার উপলব্ধি এই যে, তাঁরা শুধু টেকসই উন্নয়নের কথা বলে। দেশের জরিপ গবেষণার জন্য কোটি কোটি টাকা দিলেও, মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়ানোর জন্য, যেমনঃ উন্নত প্রযুক্তির কৃষি, সে ধরনের সহায়তা তাঁরা আমাদের দিবে না। তাহলেতো আপনি স্বনির্ভর হয়ে যাবেন।

#৩৫ Comment By কামাল ফরাজী On জুলাই ২৪, ২০১৮ @ ১:৩৯ অপরাহ্ণ

গুণী মানুষের কদর সবাই বোঝে না।

#৩৬ Comment By Rahmatullah Miah On জুলাই ২৩, ২০১৮ @ ৭:৩৮ অপরাহ্ণ

খুবই খারাপ লাগছে, আপা। কিন্তু কিইবা করতে পারি আমরা?

#৩৭ Comment By মনজুর ইকবাল On জুলাই ২৪, ২০১৮ @ ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

আপা ,আপনাকে সালাম। সব সমস্যারই একটি সমাধান আছে বলে আমি মনে করি। হাল ছাড়বেন না। মানুষ মাটিতে পড়ে আবার সেই মাটিতে ভর দিয়েই উঠে দাঁড়ায়।

#৩৮ Comment By সরকার জাবেদ ইকবাল On জুলাই ২৫, ২০১৮ @ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

আপনি যথার্থই বলেছেন যেমনটি নেলসন ম্যাণ্ডেলা বলেছেন, “The greatest glory in living is not in never falling, but in rising up every time we fall.” দেশের স্বার্থে আপা ঘুরে দাঁড়াবেন – এই প্রত্যাশা রাখছি।

#৩৯ Comment By Mohammed.Wali Ullah On জুলাই ২৪, ২০১৮ @ ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু কন্যা একা আর কতটুকুই করতে পারবেন? ঐ ভদ্রলোকের সাথে আমি ১০০% একমত, আসুন না (পদ্মা সেতুর, কিংবা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ন্যায়) আবার এই ৩ নাম্বার সৎকর্মটিও করে দেখাই। আমরাও পারি। বোন, তুমি এগিয়ে যাও অবশ্যই কৃতকার্য হবে। প্রতিভাবান মানুষের সংখ্যা “এই পৃথিবীতে” হাতে গোনা যাবে,”প্রিয় দেশবাসী, আমার মতো” রক্ত দিয়ে আপনাদের পঙ্গুত্ব বরণ করতে হবে না। আসুন অন্তত এক তৃতীয়াংশ “জনদরদী” মানুষ এগিয়ে এলে “ডঃ ফেরদৌসি বেগমের সমস্য থাকবে না, কথায় বলে “দশের লাঠি” একের বোঝা। আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় বাংলাদেশের জন্য “সামর্থ্য অনুযায়ী” যে যাহা পারেন, এক কাপ ‘চা’ কিংবা এক খিলি ‘পান’ একদিন না খেয়ে ঐ টাকা ডঃ ফেরদৌসির ‘গবেষণার কাজে’ তথা দেশের জনকল্যানে সবাই সাহায্য করুন। এতে অনেক বড় কল্যানকর কাজ হবে, খোদা হাফেজ।

#৪০ Comment By শোভন On জুলাই ২৪, ২০১৮ @ ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ

আপনি যতটা না গবেষক, তার থেকে বেশি একজন উদ্যোক্তা। সেই পরিচয়টা কেন গবেষক এর আড়ালে হারাতে চাচ্ছেন? আপনার কোন মৌলিক গবেষণার কথা আমাদের জানাবেন? কোন নামী জার্নালে আপনার লেখা পেলাম না। আমার অজ্ঞতায় একটু আলো ফেলুন।

#৪১ Comment By Mukul Mia Talukder On জুলাই ২৪, ২০১৮ @ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

মাননীয় শেখ হাসিনা, জরুরিভাবে এনার সহায় হোন। এটা আপনার কাছে আমাদের বিশেষ দাবি। এটা আপনাকে করতেই হবে, কারণ আপনি জাতির পিতার কন্যা।

#৪২ Comment By hossain md dalim On জুলাই ২৫, ২০১৮ @ ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা,আপনার মহৎ স্বপ্ন অবশ্যই সফল হবে.

#৪৩ Comment By Synthia On জুলাই ২৬, ২০১৮ @ ৫:০৪ অপরাহ্ণ

আজ নিজেকে অনেক বড় অপরাধী মনে হচ্ছে। যে স্বপ্ন নিয়ে বড় হচ্ছি হয়ত এ ঘটনার কারণে তা বাস্তবায়নে বিকল্প পন্থা বের করতে হবে। আজ আর আমি কোন মেধাবীকে বলি না, দেশে ফিরে আসো, তারপরও এই মাটির গন্ধ ছেড়ে আমি কোথাও থাকতে পারব বলে মনে হয় না।