১.

সিগারেটের প্যাকেটে “সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ” থাকে। সেখানে সিগারেট খেলে কী কী রোগ বালাই হতে পারে তার ভয়াবহ বর্ণনা থাকে–এর পরেও কেউ যদি সিগারেট খেতে চায় তাকে সেটা নিজের দায়িত্বে খেতে হয়। আমি একটা সেমিনারের কথা জানি যেখানে বক্তা তার সেমিনার দেওয়ার আগে “সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ” করে নিয়েছিলেন– অর্থাৎ শ্রোতাদের বলে নিয়েছিলেন যে তিনি যে বিষয় নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছেন সেই বিষয়ে বিশেষ কিছু জানেন না, তাই ভুলভাল কিছু বলে ফেললে তার দায়িত্ব নিতে রাজী নন! আজকে ওয়ার্ল্ড কাপ নিয়ে এই লেখাটি লিখতে শুরু করার আগে আমার মনে হচ্ছে পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমার “সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ” করে নেয়া দরকার, কারণ আজকে যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে বসেছি আমি মোটেও তার এক্সপার্ট নেই। বিষয়টি কতো গুরুতর সেটি একটি কথাতেই বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব, সারা পৃথিবী যখন ওয়ার্ল্ড কাপের উন্মাদনায় উন্মত্ত তখন আমি এখন পর্যন্ত একটি খেলাও দেখিনি।

খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে আমি তাহলে কেন এই বিষয় নিয়ে লিখতে বসেছি? কারণটি খুবই সহজ, ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা শুরু হওয়ার পর আমার চারপাশের মানুষগুলো যে ভাবে প্রতিক্রিয়া করছে আমার ধারণা ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা থেকে সেটি মোটেও কম চমকপ্রদ নয়। সেটি নিয়ে আমি তো লিখতেই পারি!

আমার ধারণা এই দেশের মোটামুটি সবাই জেনে গেছেন জার্মান দেশের ভক্ত একজন নিজের জমি বিক্রি করে এই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা উপলক্ষে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাইল লম্বা একটি ফ্ল্যাগ তৈরি করেছেন। পথে ঘাটে আমরা হয়তো এরকম কয়েক মাইল লম্বা ফ্ল্যাগ অহরহ দেখি না কিন্তু নানা দেশের নানা সাইজের ফ্ল্যাগ যে দেখি তাতে কোনো সন্দেহ নেই! হঠ্যাৎ করে কেউ এই দেশে হাজির হলে এটি কোন দেশ সেটি নিয়ে বিভ্রান্তি হতে পারে। একজন মানুষ একটি নির্দিষ্ট দেশের ফুটবল খেলার ভক্ত হতেই পারে কিন্তু ঢালাওভাবে সেই দেশের ফ্ল্যাগ টানালে নিজের দেশকে একটুখানি হলেও অসম্মান করা হয়। অন্য সবকিছুকেই হালকা ভাবে নেয়া যায় কিন্তু জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতকে কিন্তু হালকাভাবে নেয়া যায় না। মনে আছে গত বারের ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার সময় যশোরের ডিসি মাইকে ঘোষণা দিয়ে অন্য দেশের পতাকা নামিয়ে দিয়েছিলেন। আমার ধারণা তারপরও যদি কেউ তার প্রিয় ফুটবল টিমের দেশটির পতাকা টানাতে চায় তাহলে তার উপরে বাংলাদেশের একটি ফ্ল্যাগ টানিয়ে রাখতে পারে। কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক জাতীয় সঙ্গীত যেরকম শুধু কিন্তু শব্দ আর কিছু বাক্য নয় আরও অনেক বড় কিছু, জাতীয় পতাকাও সেরকম শুধু সেলাই করা দুই টুকরো কাপড় নয়, আরো অনেক বড় কিছু। নিজের দেশের জাতীয় পতাকার জন্যে ভালোবাসা দেখানোর জন্যে যশোরের সেই ডিসি এখনো আমার প্রিয় মানুষ রয়ে গেছেন।

যাই হোক শুধু জাতীয় পতাকা নিয়ে বাড়াবাড়ির কথা বলার জন্যে আমি আজকে লিখতে বসিনি ওয়ার্ল্ড কাপের মরশুমে আমার অন্য অভিজ্ঞতাটুকুও ভাগাভাগি করে নিতে পারি। এটা কেউ অস্বীকার করবে না যে খেলা দেখার সময় কেউ যদি কোনো একটা টিমকে সাপোর্ট করে তবে খেলা উপভোগ করার আনন্দটুকু শতগুণ বেড়ে যায়। তাই আমি দেখি আমার আশেপাশে যারা আছেন তারা প্রায় সবাই কোনো না কোনো টিমের ভক্ত। আমি যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো টিমের ভক্ত নই তাই যদি কখনো খেলা দেখতে বসি তাহলে অবধারিতভাবে দুর্বল টিমটির জন্যে মায়া জন্মে যায়, তখন নিজের অজান্তেই মনে মনে সেই দুর্বল টিমটিকে সাপোর্ট করতে থাকি। দেখা যায় সাধারণতঃ আমার সেই দুর্বল টিম খেলায় হেরে যায় এবং আমি আশা ভঙ্গ নিয়ে ভগ্ন হৃদয়ে খেলা দেখা শেষ করি। টিমটির জন্যে যত না দুঃখ হয় তার চেয়ে শতগুণ বেশী দুঃখ হয় সেই টিমের সাপোর্টারদের জন্য। আমার জন্যে প্রায় সব খেলাই হচ্ছে মনে দুঃখ পাওয়ার খেলা। (এই বছর যেহেতু এখনো খেলা দেখিনি তাই মনে দুঃখ পাওয়া এখনো শুরু হয়নি!)

তবে আমার চারপাশে যারা আছেন এবং যারা নিয়মিত খেলা দেখছেন তারা বলেছেন এই বছর নাকি দুর্বল টিম আর শক্তিশালী টিম বলে কিছু নেই। ছোট বড় সব টিমই নাকি অসাধারণ খেলা খেলছে এবং এই ওয়ার্ল্ড কাপ হচ্ছে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা। কাজেই যে টিম হেরে যাচ্ছে মনে হচ্চে, মায়াবশত তাকে সাপোর্ট করলেও আশা ভাঙ্গ হওয়ার কারণ নেই, শেষ মুহূর্তে গোল দিয়ে তারাও নাকি হিসাব গোলমাল করে দিচ্ছে। আমার পরিচিত বোদ্ধা দর্শকদের কথা বিশ্বাস করে আমি হয়তো এক দুটি খেলা দেখার চেষ্টা করতেও পারি যদিও বলতে দ্বিধা নেই মূল খেলা থেকে দর্শকদের অভিব্যক্তি দেখতেই আমার অনেক বেশী মজা লাগে!

ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা শুরু হবার পর আমার পরিচিত বন্ধু বান্ধব যখনই একত্রিত হয় তারা ফুটবল নিয়ে কথা বলে। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে তাদের কথা শুনি, আমার কাছে ফুটবলের জন্যে তাদের এই ভালোবাসার ব্যাপারটুকু অসাধারণ মনে হয়। লক্ষ্য করেছি সবাই সব খেলোয়ারের নাড়ী নক্ষত্রের খুটিনাটি তারা বিস্ময়কর রকম নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেন। তারা খেলা দেখে আনন্দ পান এবং আমি তাদের আনন্দ পাওয়া দেখে আনন্দ পাই।

এই দেশে সব টিমেরই ভক্ত খুঁজে পাওয়া যায় তবে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের ব্যাপারটা অন্যরকম। যারা এই টিম দুটির ভক্ত কোনো একটি অজ্ঞাত কারণে তাদের মাঝে এক ধরণের রেশারেশি রয়েছে। আগে ভেবেছিলাম এটি বুঝি শুধু আমাদের দেশের জন্যে সত্যি কিন্তু মিডিয়াতে দেখেছি এটি পৃথিবরি সব দেশের সব ভক্তদের জন্যে সত্যি। শুধু নিজের টিমকে ভালোবাসলেই আনুগত্য পুরো হয় না, অন্য টিমকে রীতিমত অপছন্দ করতে হয়। এই রেশারেশি যদি শুধুমাত্র কৌতুকের পর্যায়ে থাকতো তাহলে বলার কিছু ছিল না কিন্তু খবরের কাগজে দেখছি এই নিয়ে রীতিমত মারামারি এমন কী খুনোখুনি পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। তার চাইতেও ভয়ংকর ব্যাপার ঘটে যখন ফেবারিট টিম হেরে যাবার পর কেউ আত্মহত্যা করে ফেলে। কী ভয়ানাক। খেলাটি মানুষের আনন্দের জন্যে, এটি যদি মানুষের মনকে বিষাক্ত করে দেয় তাহলে কেমন করে হবে?

তবে সব সময় যে মনকে বিষাক্ত করে দেয় তা নয়। খবরের কাগজে দেখেছি জাপানের খেলোয়াররা যেরকম ভদ্র তাদের দর্শকেরাও সেরকম ভদ্র। জাপান এই ভদ্রতার কারণে পরবর্তী রাউন্ডে এসেছে এবং তাদের দর্শকেরাও খেলার মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার আগে গ্যালারিটি ঝেড়ে পুছে পরিস্কার করে রেখে যাচ্ছে! শেষ মুহূর্তে নিজের টিম হেরে যাবার পরও কেউ যদি আশাভঙ্গের বেদনা বুকে চেপে রেখে গ্যালারির নিজের অংশটুকু ঝেড়ে পুছে আসতে পারে সেটি খুব কম কথা নয়! সেদিন আমার একজন সহকর্মীর কাছে শুনেছি মাছের বাজারে মাছ বিক্রেতা যখন জানতে পেরেছে যে আমার সহকর্মীটি মাছ বিক্রেতার মতই আর্জেন্টিনার সমর্থক তখন খপ করে মাছের দাম কমিয়ে দিয়েছে। কী মজা!

ক্যাম্পাসে আমার বাসাটি মেয়েদের হলের খুব কাছে। কোনো কারণে ছাত্রীরা হলে চেচামেচি করলে আমি বাসা থেকে শুনতে পাই। সেদিন আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের মাঝে খেলা হচ্ছে, আমার বাসায় টেলিভিশন নেই তাই খেলা দেখতে পারছি না কিন্তু তাতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না, ছাত্রীদের চিৎকার থেকেই খেলার গতিবিধি টের পাচ্ছি। এর মাঝে একটা গগনবিদারী চিৎকার শুনে বুঝতে পারলাম আর্জেন্টিনা একটি গোল দিয়েছে! পুরো খেলার মাঝে আমি এরকম তিন তিনটি গগনবিদারী চিৎকার শুনে বুঝতে পারলাম একটি বা দুইটি নয় আর্জেন্টিনা তিন তিনটি গোল দিয়ে দিয়েছে। আমার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিল, ঘুম থেকে উঠে আমার কাছে জানতে চাইল খেলার কী খবর? আমি বললাম আর্জেন্টিনা জিতে গিয়েছে, একটি নয় দুইটি নয় তিন তিনটি গোল দিয়ে দিয়েছে! মেয়েদের চিৎকার শুনে টের পেয়েছি। একটু পর আমার স্ত্রী তার ল্যাপটপ চালু করে চমকে উঠে বলর, আর্জেন্টিনা নয়, ফ্রান্স জিতেছে। আর্জেন্টিনা তিনটি গোল দিয়েছে ঠিক আছে কিন্তু ফ্রান্স যে পালটা চারটি গোল দিয়েছে সেটা টের পাওনি? বলাই বাহুল্য সেটি টের পাইনি, প্রতিবার আর্জেন্টিনা গোল খাওয়ার পর মেয়েরা যে পুরোপুরি নিঃশব্দে বসে থাকবে সেটি কে জানতো?

সেদিন একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, স্যার আপনি কি  ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? কোরবানী ঈদের সময়ও এভাবে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কী গরু না খাসী?  একজন মানুষ একটা দেশের সমর্থক হতে পারে কিন্তু নিজেই দেশ হতে পারে কিনা আমি সেই বিতর্কে গেলাম না। তাকে বললাম, আমি বাংলাদেশ!

মানুষটি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। আমতা আমতা করে বলল, কিন্তু বাংলাদেশ তো ওয়ার্ল্ড কাপে খেলছে না! আমি বললাম তাকে কী হয়েছে? এক সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও ওয়ার্ল্ড কাপে খেলতো না, তখন ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেছি! এখনও তাই।

কেউ হয়তো লক্ষ্যও করেনি, ওয়ার্ল্ড কাপের উন্মাদনায় যখন সারা পৃথিবী উন্মত্ত তখন আমাদের বাংলাদেশের মেয়েরা ক্রিকেট খেলায় আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে। ওয়ার্ল্ড কাপের খবর দিতে ব্যস্ত খবরের কাগজগুলো আমাদের দেশের মেয়েদের বিজয়ের খবরটুকু পর্যন্ত ঠিক করে দিয়েছে কিনা সন্দেহ আছে! একজন ওয়ার্ল্ড কাপে তার ফেবারিট টিম জিতে যাবার পর যেটুকু আনন্দ পায় আমি আমার বাংলাদেশের মেয়েদের টিম জিতে যাবার পর সেই একই আনন্দ পাই! আনন্দ পাওয়ার জন্যে সবাই খেলা দেখে, আমি যদি এভাবেই আনন্দ পাই ক্ষতি কী?

জানি সবাই আমাকে নিয়ে আড়ালে হাসাহাসি করে। করুক!

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫ Responses -- “ওয়ার্ল্ড কাপ”

  1. Tara

    আপনি আমার মনের কথাটিই লিখেছেন স্যার। সাপোর্ট করাটা ঠিক আছে, কিন্তু বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যাওয়া ঠিক না। আমিও টিম সাপোর্ট করি কিন্তু অন্য দেশের জার্সি পরা, পতাকা ওড়ানোকে কখনোই সাপোর্ট করি না। কেউ কেউ টিম হেরে গেলে মারামারি করছে, আত্মহত্যা করছে, আর নিজ দেশের টিম আন্তর্জাতিক খেলায় হেরে গেলে গালাগালি করে, অপমান করে… আরো কত কি?
    এমন একটা কলাম লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

    Reply
  2. মোহাম্মদ

    গতকাল তো ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া (4-2) ফাইনাল দিয়ে ওয়ার্ল্ড কাপ শেষ হয়ে গেল। হলের মেয়েদের চিৎকার শুনতে না পেয়ে যদি আবার আপডেট না জানেন সেজন্য আগেই জানিয়ে দিলাম। যাহোক, গতকালই কিন্তু শহীদ মিনারে লীগের সোনার ছেলেদের হাতে ঢাবির ছাত্রছাত্রীদের সাথে প্রফেসররাও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন। সম্মানীয় শিক্ষকদের অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় আপনি কি করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? বাংলার ফুল-পাখি-গাছ-লতা নিয়ে থকথকে আবেগমন্ডিত কিছু রচনা করবেন নাকি ওয়ার্ল্ডকাপের হাইলাইটস নিয়ে আর্টিকেল লিখবেন?

    সত্যি বলতে একসময় আপনার ভক্ত ছিলাম বলে নিজেকেই খুব বোকা মনে হয়। আপনার এককালের অনেক গুণমুগ্ধরাই যে এখন আপনাকে ‘মীর’ জাফর ইকবাল নামে ডাকে তার যৌক্তিকতা খুঁজে পেতে রকেট সাইন্টিস্ট হওয়া লাগে না!

    Reply
  3. Shakhawat Nadim

    জ্বি স্যার , আপনি ‘দুর্বলের ‘ পক্ষে , ‘দুর্বলের’ সহায় ,’দুর্বলের’ জন্য অনেক মায়া আপনার । স্কুলে থাকতে আপনি আমার আইডল ছিলেন , কোন লেভেলের বলদ ছিলাম চিন্তা করলে হাসি আসে , ভাল থাকবেন ।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      সুপ্রিয় নাদিম, স্যার জেনে গেছেন দুর্বলের জন্য আহাজারি করার চেয়ে সবলের গুণকীর্তন করা অনেক লাভজনক। নৈতিকতাবোধ যখন ভুলুন্ঠিত হয়, আর বুদ্ধিবৃত্তি যখন পণ্যের প্রথায় বিকিকিনি হয় তখন দু:খ রাখার সত্যিই কোন জায়গা থাকে না।

      Reply
  4. তাহসিন

    ইনি সেই সুশীল যে কিনা একটা খেলা না দেখেও তা সম্পর্কে একটা আস্ত কলাম লিখে ফেলে! কোটা আন্দোলন সম্পর্কে কিছু না জেনেও তার বিরুদ্ধে লেখে! ইনি সেই সুশীল যিনি কিনা দেশে এত কিছু হওয়ার পরেও তা লিখতে ভয় পায়! তাই safe zone হিসেবে বিশ্বকাপ নিয়ে লেখেন!! আর কিছু লিখতে পারছি না!

    Reply
  5. Md. Abdullah Al Mamun

    আপনার সেই লেখাটি (হর হর করে বমি করে দিব) পড়ার পর প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর নয়- অনেক হয়েছে (শুধু পাঠক প্রতিক্রিয়া গুলো পড়েছি)। আপনাকে চেনার বাকী নেই। আপনি যেমন সস্তা, তেমনি আপনার লেখা- পুঁজিবাদী, লেজুড়বৃত্তি, ফিল্মি, স্বার্থপর। আমি নিশ্চিত আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ হলে আপনাকে ফ্লোরিডা অথবা বার্লিনে পাওয়া যাবে। সাধু সাবধান- দেশ প্রেম আপনার কাছ থেকে শিখতে হবে? তার চেয়ে ঢের ভালো মাতাল হয়ে অজ্ঞান থাকা।

    Reply
  6. বুশরা বিনতে বশর

    Sir
    সালাম নেবেন। আশাকরি ভালো আছেন। আমরা (ছাত্ররা) ভালো নেই। নিজের অধিকার আদায় করতে গিয়ে একটি ছাত্র সংগঠনের হাতে ছাত্র-ছাত্রীসহ সবাই রাস্তাঘাটে কুকুরের মতো মার খাচ্ছি। এ অত্যাচার ৭১ এর হানাদার বাহিনীর কথা মনে করিয়ে দেয়। নিজের অধিকারের জন্য যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে না পারি তাহলে এ স্বাধীন দেশে বেঁচে থেকে লাভ কি? এ স্বাধীনতার মুল্যই বা কি? আমরা তো আপনারই সন্তান আপনার ছাত্র। আপনি আমাদের শিক্ষক আমাদের অভিভাবক । আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার সামনে এ ঘটনা ঘটল আর আপনি টু শব্দটিও করলেন না! নিজের বিবেক কে একবার জিজ্ঞাসা করে দেখুন। আপনার বড় ভাই দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ লেখক শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন আহমেদ তো কোন দল করতেন না। তাকে তো সবাই এখনো অসম্ভব সম্মান করে। আপনাকে কেন একটি বিশেষ দলের লেজুরবৃত্তি করতে হবে? আপনার কাছ থেকে আপনার ছাত্ররা কি শিখবে? যে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে গেলে চুপচাপ একটি দলের লেজুরবৃত্তি করতে হয়! সকালে আয়নায় যখন নিজের মুখ দেখেন তখন কেমন লাগে Sir?

    Reply
    • তাহসিন

      এদিকে দেশে কত কি হয়ে যাচ্ছে, আর উনি লেখার জন্য একটা নিরাপদ বিষয় নির্বাচন করলেন! একেই বলে মনে হয় সুশীল এর চামচামি! আর কিছু বলতে চাই না! এত টুকু লিখেছি তাতেই আমার বমি পাচ্ছে!

      Reply
  7. জুয়েল আহমদ

    স্যার প্রথমে আমি সালাম জানাই। আসসালামু আলাইকুম স্যার আমি আপনার প্রতিটি কলাম পড়ি ভাল লাগে। আপনার কলামগুলি আমার সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করি। আপনার পজিটিভ বিষয় ব্রেইনে তোলার চেষ্টা করি। স্যার ফুটবল খেলা বাংলার মানুষের প্রাণ। এবং মানুষ প্রাণভরে খেলা দেখে এবং উপভোগ করে। তবে ইহা ঠিক যে কিছু মানুষ খেলা দেখে বিষাক্ত করে দেয়, পরিবেশ ঘোলাটে করে দেয়। যা সামাজিকভাবে বা দেশের ইমেজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে খেলা দেখতে। এবং খেলার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে চাই, জানতে চাই এটুকুই।

    Reply
  8. Not applicable

    I have no bangla font so I have to write it in English. I hope, you guys will not make it a big deal about it. I just want to say one thing. If you don’t love your country, if you don’t love your cultures, if you don’t love your own sports, then you are not Bangladeshi. You should return your National ID to Bangladesh government then try to go to mayanmer to see if they accept you same way we accepted their rohynga. Do you know how much fun it was when our own sports were played massively in every villages of Bangladesh? Now they are disappearing. How much do you support to your own National sport team ha do do or kabadi? Have you ever played any of those? You sold your land to make the biggest national flag of Germany? Will you sell your land to make biggest flag of Bangladesh ? Just think about it guys. In Bangladesh, you have more population than Germany.. if Bangladesh football federation wants sincerely, they can make a great Bangladesh football team too but they are just not doing it. Why? I don’t know. All they need is to have a district level coach to bring players for national team. It should take one week maximum to do that all. School can do the same thing same as college as well as universities. Our national football players can teach in school level during their break time. It’s really not that difficult. And off course Bangladesh national football team need few national coach from abroad. Very simple thing. And respect the coach the most. Or you get nothing.

    Reply
  9. SOHAG

    SIR, I HAVE AN IDEA. I THINK THIS IDEA IS BIGGER THAN OUR DESH PREM. WHAT IF THE WHOLE WORLD WOULD BE ONE DESH. THEN WE ALL WOULD LOVE ONE DESH AND THAT WOULD BE THE WHOLE WORLD. THEN THIS IDEA WOULD REDUCE OUR PROBLEMS REGARDING OUR DESHES. DON’T YOU THINK SO…..

    Reply
  10. আদিব

    ফুটবল-ক্রিকেটের প্রতি এদেশের মানুষের ভালবাসার টান ছোটবেলা থেকেই আমরা সবাই দেখে আসছি। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে প্রিয় দলের পতাকা আঁকানো কিংবা বিশাল সাইজের পতাকা ঝোলানো, এটা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ বলেই মনে করি। এটার মধ্যে জাতীয়তাবোধের অভাব কিংবা দেশপ্রেমকে গুলিয়ে ফেলাটা বোকামি এবং বাড়াবাড়ি। বিখ্যাত মানুষদের দেশপ্রেম বেশি এবং সাধারণ মানুষদের কম, এরকম মনে করার কোন কারণ নাই। আমার দেশকে, দেশের মানুষকে আমি আমার মত করেই ভালবাসি, সেটা কারো কাছে শেখার দরকার নাই, কথায় কথায় জাহির করারও দরকার নাই। দেশের প্রয়োজনেই সেটা প্রকাশ পাবে। বর্তমান রাজনীতির অস্থির পরিবেশে দেশের মানুষ ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে ভেদাভেদ ভুলে প্রিয় দলের জার্সি গায়ে পাশাপাশি বসে বিশ্বকাপ দেখুক, তাতে দেশের প্রতি ভালবাসা কমবে না। আপনার বাসায় টেলিভিশন নাই, আপনি পাঠকের কমেন্ট পড়েন না , ইমেইল ডিলিট করে দেন। আপনি অনলাইনে নিউজ পড়েন, সেগুলোও অন্য কারোরই লেখা, তাদের নিজস্ব স্টাইলে। তারচেয়ে টেলিভিশনে সরাসরি মানুষের কথা-বার্তা শুনে, তাদের হাসি-কান্না নিজের চোখে দেখে যাচাই-বাছাই করে সত্যটা উপলদ্ধি করার চেষ্টা করা উচিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল লেখা আশা করি। আপনি সহজ ভাষায় আপনার লেখায় সাধারণ মানুষের কাছে আসার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইদানীং কোথায় যেন একটু দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      সুপ্রিয় আদিব, আপনার মন্তব্য পড়ে এই সংলাপগুলো মনে পড়ে গেল, –

      শরৎচন্দ্র: আপনি কেন এত বড় লেখক, আমি কেন নই?
      বঙ্কিমচন্দ্র: তুমি চলতে শিখেছো, থামতে শেখোনি।

      Reply
  11. MA Salam

    Patronizing games and cultural activity particularly
    football will make the young generation busy in creative
    work instead of what they are doing now.
    I congratulate you!

    Reply
  12. M I Chowdhury

    ধর্মান্ধতা ও অন্ধ দেশপ্রেম – আলাদা আলাদা মোড়কে একই বস্তু এবং বর্জনীয়। বাংলাদেশে জন্ম বলে কী একদম অন্ধের মত আচরণ করতে হবে ? যেসব জায়গায় বাংলাদেশের কোন অর্জন নেই, সেসব জায়গায়ও বাংলাদেশ বাংলাদেশ করে মুখে ফেনা তুলে ফেলতে হবে ? এটা অন্ধত্ব ! জাফর ইকবাল সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় এই ধরনের সস্তা লেখা লেখেন। জনপ্রিয়তা ও মানসম্পন্নতা – আলাদা আলাদা জিনিস।

    বাংলাদেশের ভাল আমরা সবাই চাই কিন্তু এই অন্ধ দেশপ্রেম বা অন্ধ সমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সত্যিকারের কোন উন্নতি হবে না। গত ৪৭ বছরে মুখসর্বস্ব স্লোগানমুখর দেশপ্রেমিক দ্বারা বাংলাদেশের কোন উন্নতি হয়নি।

    এই ধরনের জনপ্রিয়তা প্রত্যাশী লেখাগুলো বর্জনীয় !

    Reply
  13. সুমন তালুকদার

    Sir
    আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনাদের সামনে একটি দলের ছাত্র সংগঠন কোটা সংস্কারবাদী নারী পুরুষ সবাইকে রাস্তায় ফেলে কুকুরের মতো মারলো আর আপনি ফিচার লিখলেন “বিশ্বকাপ” নিয়ে!!!

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      আহা সুমন তালুকদার, কোটা সংস্কারবাদীদের কুকুরের মতো মারা বীরদের বিপক্ষে তো তিনি লিখতে পারেন না। নেমকহালাল বলে একটি শব্দ আছে না? তাইতো ফুটবল, আহা কি চমৎকার ডজ।

      Reply
  14. সরকার জাবেদ ইকবাল

    স্যার, আপনার সাজাত্য তথা জাতীয়তাবোধকে স্যাল্যুট জানাই। কিন্তু একটি বিষয়ে আমি ভীষণভাবে বিস্মিত হই, – আপনি জনগণের পায়ে পায়ে না হেঁটে, তাদের কাতারে না দাঁড়িয়ে, তাদের হাসি-কান্নার অংশীদার না হয়ে, পাঠকের হৃদয়ের তন্ত্রিতে অবস্থান না করে, তাদের মতামতকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে এমন অবলীলায় কেমন করে তাদের কথা বলতে পারেন! এ আপনার এক অলৌকিক ক্ষমতা!

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—