মনে পড়ে রুশ দেশের উপকথা, ঠাকুর মার ঝুলি, হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের রূপকথাগুলোর কথা? সেই যে সুয়ো রাণী আর দুয়ো রাণী, ব্যাঙ রাজকুমার আর বুড়ো আঙলার গল্পগুলো? মনটা কেমন করে উঠলো তাইতো?

কেউ কেউ নিশ্চয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবতে শুরু করেছেন – ‘‘আমাদের শৈশব কী দারুণ সুন্দর ছিল। রূপকথার জগতে ভেসে বেড়াতাম। দাদি-নানির গা ঘেঁষে গল্প শুনতাম – ঘোড়ায় চড়ে রাজকুমার ছুটেছে রাজকন্যাকে উদ্ধার করতে। এখনকার ছেলে-মেয়েরা রূপকথার মজাই বুঝলো না। তারা শুধু জানে মোবাইল টিপতে আর মারামারির গেইমস খেলতে। ’’

বলি, একটু থামুন। আরেকবার গভীরভাবে ভাবুন। সৎ মা মাত্রই খারাপ – এই কথাটা সর্বপ্রথম আমাদের মনে কে ঢুকিয়েছে বলুন তো? রূপকথা। নারী হবে ফুলের মতো সুন্দর, দুধের মতো ফর্সা আর তুলার মতো নরম মনের অধিকারী – কে শিখিয়েছে? উত্তর একই – রূপকথা। আমরাও হত্যার পাঠ শিশুকালেই পেয়েছি। আর তা রূপকথা থেকেই। আমরা শিখেছি যে তলোয়ার দিয়ে এককোপে ডাইনি বুড়ির গলা কেটে দিলেই রাজকন্যাসহ অর্ধেক রাজত্ব পাওয়া যায়। তাই বলি, অতীতের সব কিছু ভালো নাও হতে পারে। আমার কন্যার জন্মের পর আবিষ্কার করলাম ছোটকালে শেখা বাংলা ছড়ার বড় অংশই ছেলে শিশুদের নিয়ে লেখা। কন্যা শিশুর কথা উল্লেখ থাকা এক ছড়ায় বলা হয়েছে ‘বর আসবে এখনি, নিয়ে যাবে তখনি’। আমাদের সমাজে কতটা নির্লজ্জভাবে যুগ যুগ ধরে ছোট্ট শিশুদের মনে পুরুষতান্ত্রিকতার বীজ বপন করা হয়েছে! আর আমরা এখনো এই ছড়াগুলোকে জীবনের শ্রেষ্ঠ পাঠ বলে মনে করি!

তার মানে এই নয় যে আমি পুরনো দিনের রূপকথা, ছড়া, গান সবকিছুকে অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দিতে চাচ্ছি। অসংখ্য ভাল জিনিসের মধ্য থেকে কিছু খারাপ কন্টেন্টের উদাহরণ দিলাম মাত্র। এগুলোকে উল্লেখ করার মাধ্যমে দ্বিমত প্রকাশ করছি তাদের সঙ্গে যারা পুরনো সবকিছুকেই ভাল বলে মনে করেন। জাতি হিসেবে আমাদের অনেক বড় দূর্বলতা হলো আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকি। নতুনকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারি না। যা কিছু আমার শৈশবে ছিল তার কতটুকু সঠিক আর কতটুকু ভুল সেটা আমরা অধিকাংশ মানুষই চিন্তা করি না। শুধু বলতে থাকি এ যুগের সবকিছুই খারাপ, নতুন প্রজন্ম টিভিতে, মোবাইলে খারাপ কন্টেন্ট দেখছে, খারাপ জিনিস শিখছে। তারা উচ্ছ্বন্নে যাচ্ছে।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব কিছু পরিবর্তিত হয়। এটাই পৃথিবীর নিয়ম। আমরা ছোটবেলায় তুষারকন্যা, আলাদিন, স্লিপিং বিউটি ইত্যাদি এনিমেটেড সিনেমা দেখতাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিজনীর সিনেমাতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। নায়িকারা এখন আর রাজপুত্র কবে তাকে উদ্ধার করবে সেই আশায় দিন গোনে না। তারা নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ব দিতে পারে। অসংখ্য এনিমেটেড সিনেমার নারীরা ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন, তুখোড়, আত্মবিশ্বাসী। তারা গল্পের মূলচরিত্র। বর্তমান যুগ শিশুদের জেন্ডার সমতার গুরুত্ব শেখাতে চায়। এই সময়ে বসে আমাদের অবশ্যই কোন রূপকথা বা কোন ছড়া পুরুষতান্ত্রিকতার বিষ ছড়ায় সেগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। আধুনিক সিনেমাগুলো শিশুদের বেশি করে দেখাতে হবে। আমরা যেভাবে শিখেছি আমাদের শিশুরাও ঠিক একইভাবে শিখবে এটা খুবই সংকীর্ণ চিন্তা। আমাদের শৈশবে শেখা গল্প, গান, কবিতা অবশ্যই শিশুদের শেখাবো। তবে সেগুলো পুরনো ধ্যানধারণার বাহক কিনা সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

আমাদের মধ্যে একটি বড় গোষ্ঠী আছেন যারা শিশুতোষ বই বা সিনেমায় ভিন গ্রহবাসীর উপস্থিতি বা স্পেস শিপে চড়ে গ্রহান্তরে ঘুরে বেড়ানোকে পছন্দ করেন না। একটু ভেবে দেখুনতো, আগামী যুগতো হবেই মহাবিশ্বকে জয়ের যুগ। সেই যুগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আপনি কেন আপনার শিশুর মনের জানালাকে রাজকুমার আর রাজকুমারীতে আটকে রাখতে চান? ভিন গ্রহবাসী, রোবট, টাইম মেশিন এগুলোই এ যুগের রূপকথা। এগুলো নিয়ে শিশুরা যত ভাববে, যত কল্পনা করবে, তত তারা তৈরি হবে ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী বা নভোচারী হওয়ার জন্য। এই যে সারাক্ষণ আমরা বলেই চলেছি – এখনকার ছেলে-মেয়েরা বই পড়ে না। আপনি কী অবগত আছেন যে সারা বিশ্ব থেকেই খুব দ্রুত গতিতে কাগজে ছাপানো বই, পত্রিকা ইত্যাদির চল উঠে যাচ্ছে। সবই এখন অনলাইন নির্ভর। নতুন প্রজন্ম বই পড়ে না এই হাহুতাশ থেকে বেরিয়ে এসে আমরা কি তাদের অনলাইন লাইব্রেরিগুলো থেকে কম্পিউটার বা ট্যাবে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে পারি না? তারা এ যুগের শিশু। প্রযুক্তি তাদের মুঠোয়। তারা যেভাবে ভালোবাসে সেভাবে গল্পগুলোকে তাদের কাছে উপস্থাপন করলেইতো সমস্যার সহজ সমাধান হয়ে যায়।

এখনকার শিশুরা ছোটকাল থেকেই কম্পিউটার টেপাটেপি করে। তারা টেকনোলজি ভালো বোঝে। কম্পিউটার বড়দের জন্য, এটি অতিরিক্ত ব্যবহার করতে গিয়ে শিশুর চোখ নষ্ট হবে, তারা খারাপ জিনিস শিখবে, ইত্যাদি বলে তাদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করবেন না। এখন অনেক ভাল ভাল শিক্ষামূলক গেমস পাওয়া যায়। শিশুতোষ টিভি শো বানানো হয়, রূপকথার অ্যানিমেশন পাওয়া যায়। সেগুলো আমরা খুব সহজেই আমাদের শিশুদের দেখতে দিতে পারি। এক্ষেত্রে শিশুরা যেন টেকনোলজির সদ্বব্যবহার করে সে দিকে খেয়াল রাখুন। তাদের ইন্টারনেটের ব্যবহারবিধি শেখান। খারাপ কন্টেন্ট থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করুন। এই প্রজন্ম কম্পিউটারে গল্প লিখবে, মোবাইলে ছবি আঁকবে, তাদের মন গ্রহ-গ্রহান্তরে ঘুরে বেড়ায়, টাইমমেশিনে চড়তে চায় – এগুলোই বাস্তবতা। এটাই সত্য যে অদূর ভবিষ্যতে কাগজের মলাটে বাধানো বই থাকবে না। চক-পেনসিল থাকবে না। রাজা-রাণী আর রাক্ষসপুরীর রূপকথারাও থাকবে না। কিন্তু সাহিত্য থাকবে, চিত্রকলা থাকবে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চাও থাকবে। সেগুলোর বিষয়বস্তু হবে অন্যরকম। এটাই জগতের নিয়ম। তাই অতীত আঁকড়ে না থেকে আমাদের নিজের চিন্তা-চেতনাকেও আধুনিক করতে হবে। নিজের শৈশবকে শিশুর উপর চাপিয়ে না দিয়ে তাকে তার সময়ের উপযোগী হয়ে বড় হয়ে উঠতে সহায়তা করুন। তাতে জাতি হিসেবে আমরা সবাই উপকৃত হবো।

২৩ Responses -- “বড়দের অতীত বনাম নতুন প্রজন্মের শৈশব”

  1. Zafar Shadeq Chowdhury

    লেখার তৃতীয় প্যারায় রূপকথার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে, আবার শেষ প্যারায় বাচ্চাদের এনিমেশন রূপকথা দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি একটু গোলমেলে হয়ে গেল।
    সার্বিকভাবে লেখাটি ভালো লেগেছে।

    Reply
    • Upoma Mahbub

      ধন্যবাদ।
      আপনার মন্তব্যের উত্তর আমার লেখার চতুর্থ প্যারাটিতে দেয়া আছেঃ

      তার মানে এই নয় যে আমি পুরনো দিনের রূপকথা, ছড়া, গান সবকিছুকে অগ্রহণযোগ্য বলে বাতিল করে দিতে চাচ্ছি। অসংখ্য ভাল জিনিসের মধ্য থেকে কিছু খারাপ কন্টেন্টের উদাহরণ দিলাম মাত্র। এগুলোকে উল্লেখ করার মাধ্যমে দ্বিমত প্রকাশ করছি তাদের সঙ্গে যারা পুরনো সবকিছুকেই ভাল বলে মনে করেন। জাতি হিসেবে আমাদের অনেক বড় দূর্বলতা হলো আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকি। নতুনকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারি না। যা কিছু আমার শৈশবে ছিল তার কতটুকু সঠিক আর কতটুকু ভুল সেটা আমরা অধিকাংশ মানুষই চিন্তা করি না। শুধু বলতে থাকি এ যুগের সবকিছুই খারাপ, নতুন প্রজন্ম টিভিতে, মোবাইলে খারাপ কন্টেন্ট দেখছে, খারাপ জিনিস শিখছে। তারা উচ্ছ্বন্নে যাচ্ছে।

      Reply
  2. Upoma Mahbub

    ধন্যবাদ। আমি একজন বইপোকা। আমার শৈশব কেটেছে রূপকথায় ডুবে থেকে। আমার কিন্তু বেশ মন খারাপ লাগতো এই ভেবে যে রাজকন্যারা কেন রাজপুত্রদের মতো সাহসী, বুদ্ধিমান, শক্তিশালী হয় না। তাই শিশুরা শুধু রোমাঞ্চটিকেই উপভোগ করে এই কথাটি বোধহয় পুরোপুরি সঠিক নয়। আপনার লেখা পড়েছি। ভালো লেগেছে।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      দোহাই হাসবেন না ……….. ছোটবেলায় পুতুল খেলেছি, আমাকে বউ সাজানো হয়েছে। কিন্তু কখনও মনে হয়নি আমি ‘মেয়ে’ হয়ে গেছি। অর্থাৎ, তখন আমার মধ্যে ‘জেণ্ডারবোধ’ কাজ করেনি। আশা করি বিষয়টি বোঝাতে পেরেছি। তবে আপনার কথাও ঠিক; বীরত্বপূর্ণ কাজ করতে কে না ভালবাসে? আমার লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

      Reply
  3. Maswod

    সবাই যার যার ধারণা প্রকাশ করে যায়,কিন্তু সত্য থেকে যায় আড়ালে। আইনস্টাইন যেমন শৈশবে ছড়া বা কম্পিউটার গেমস খেলে এতবড় বিজ্ঞানী হয়নি তেমনি আজকের সভ্যতায় কেউ কম্পিউটার টিপে ইবনে সিনা হবে না। কেউ যেমন এই গ্রহের প্রকৃতি, সৌরজগতের আচরণকে পরিবর্তন করতে পারবে না তেমনি মানুষ বিবর্তনকে কখনো রোধ করতে পারবে না। ইতিহাসের পাতায় আশ্রয় পাওয়া সেইসব প্রাচীন সভ্যতার মানুষও হয়ত আজকের মানুষের মতো পত্রিকার পাতায় আর্টিকেল না লিখলেও হয়ত ঘরের কোণে চিন্তা করত তারাও চিরস্থায়ী হয়ে এগিয়ে যাবে যেমনি আজকের সভাতার মানুষও সেই একই চিন্তা করছে স্বল্প, অল্প, বেশি বা অধিক জ্ঞান থাকার পরেও। আজ মানুষ ভাবে জ্ঞানী হয়ে সে মস্তিস্কের নিয়ন্ত্রণ করছে। ঠিক সেই জ্ঞান তাকে চরম এক মহাসত্য থেকে আড়াল করে রেখেছে- এই মহাবিশ্ব, গ্রহ নক্ষত্র, প্রকৃতি, প্রাণিজগতের সমস্তকিছুর মত সেও একটি ঊপাদানমাত্র। এই মানুষ পারছে না বিবর্তনের গতি আটকাতে। হারিয়ে যাচ্ছে জড়-জীব,গ্রহ-নক্ষত্রের মতো, গন্তব্য কোথায়-এই পৃথিবীতে বোধশক্তি জন্ম নিল কিন্তু এর পরে কোথায় হারিয়ে যাব, কোন জায়গায়, কিভাবে, কেন, কি পরিণতি হবে। কতই না বোকা আমরা এই মানুষ জাতি, একটি শিশুকে মামকেইয়ারিং,ড্যাডকেয়ারিং এ অস্থির আর এইদিকে সেই ভুলে বসে আছে তাকে হারিয়ে যেতে হবে অতীত সময়ের মত আর এইদিকে সেই শিশুটি কিছু পরে নিজের মস্তিস্কের নিয়ন্ত্রণে নিজেই চলবে। কোথায় গেল ছড়া, রূপকথা আর ঠাকুরমার ঝুলি।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব মাসউদ, আপনার চিন্তাভাবনার সঙ্গে লেখিকার চিন্তাভাবনার মূলত কোন পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি না। তিনিও বিবর্তনের ধারায় নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে শিশুদেরকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন। আপনিও তাই বলছেন। তাহলে নতুন করে কি বলতে চাইলেন বুঝতে পারলাম না।

      আরেকটি কথা, একটি সহজ বিষয়কে জটিল বাণী-ব্যঞ্জনায় ভারাক্রান্ত করে তোলার মধ্যে এক ধরনের (বিকৃত) আত্মতৃপ্তি থাকতে পারে; সার্থকতা নেই।

      Reply
  4. প্রিসিলা রাজ

    খুব সুন্দর লেখা। বেশ খানিকটা মতপার্থক্য সত্ত্বেও ভাল লাগায় কমতি পড়েনি। এমন আরো লিখে যাবেন সেই শুভকামনা রইল।

    Reply
  5. সাইফুল ইসলাম

    পৃথিবীর আর কোনও দেশে এভাবে জোর করে ইতিহাস গেলানোর প্র্যাকটিস আছে কিনা আমার জানা নেই। অদ্ভুত এক দেশ। যে যখন ক্ষমতায় আসে ইতিহাসের মালিক সে। ব্যক্তিপুজা কতটা নোংরামীর কতটা বিরক্তিকর পর্যায়ে যেতে পারে তা এদেশে না থাকলে বোঝা অসম্ভব।

    Reply
      • সাইফুল ইসলাম

        আমি জানতাম নোংরামীর অপর নাম বংগ রাজ!!! ভুতের মুখে রাম নাম ???. আর কত কমেডি করবেন জ্যাঠা। বয়সের সাথে যায় না।

    • younusur rahman

      এই পৃথিবীতে অনেক দেশ এরকম আছে। আমাদের ধর্মগুলিও তো এক একটা বড় বড় ইতিহাস। যেগুলি কেউ কেউ না গিললে এই দেশেই খুন হতে হয়। সামনে প্রায় চার হাজার বছর আগের ইতিহাস পালনের দিন কুরবানির ঈদ আসছে। ঈদ মুবারক।

      Reply
  6. সরকার জাবেদ ইকবাল

    সুপ্রিয় উপমা মাহবুব, আপনার রচনাশৈলী আমার ভীষণ ভাল লেগেছে। তাছাড়া বিষয়টি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং আপনার অগ্রসর চিন্তাভাবনা থেকে অনেকেই উপকৃত হবেন বলে আশা করছি। আপনার সঙ্গে চিন্তাভাবনায় আমার তেমন কোন পার্থক্য নেই। তবে একটি বিষয়ে খানিকটা দ্বিমত পোষণ করছি।

    আমরা বড়রা জেণ্ডার-সমতার বিষয়টিকে যেভাবে দেখে থাকি শিশুরা কিন্তু ওভাবে দেখে না। রাজপুত্র টগবগিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে রাজকন্যাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছে – এখানে শিশুরা রোমাঞ্চটিকেই উপভোগ করে; রাজপুত্রের পৌরুষত্বের বন্দনা করা হয়েছে বলে মনে করে না। অর্থাৎ, adult perception থেকে বিষয়টিকে দেখলে হবে না। তবে হ্যাঁ, শিশুদের মনে যাতে জেণ্ডার-বৈষম্যের ধারণা সৃষ্টি না হয় সেক্ষেত্রে শিশুদের জন্য লেখালেখিতে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

    নিচের লিংক থেকে আমার লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন যেখানে আপনার চিন্তাভাবনার সঙ্গে আমার চিন্তাভাবনার অনেক মিল খুঁজে পাবেন। http://shikshabarta.com/2017/10/14/%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE/

    Reply
  7. Bongo Raj

    জীবনে এই প্রথম এমন একখানা লিখা পেলাম, যেখানে আমার নিজের অনেকগুলো ভাবনার মাঝের একটার সাথে একাত্মতা খুঁজে পেলাম। সহজ কথায় যদি বলি তাহলে এমনটা হয়। অতীতের যে কোন ভালোর চাইতে এখনকার ভালটা অনেক বেশী উত্তম।

    অতি সহজ প্রমান, মানব সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে পিছিয়ে নয়। অতীতের চাইতে বর্তমানটা খারাপ হলে তা এগুতে পারে না।

    মজার একটা বাস্তব নিরিখ, চল্লিশ পার হওয়া দুনিয়ার যেকোন প্রান্তেরই একজন মানব বলবে “আজকালকার ছেলে মেয়েরা কিছুই বোঝে না, কিছুই পারে না, আমাদের সময় …..”। মজার ব্যাপার হলো এখানে চল্লিশ পার হওয়া যিনি এখন উপরের অংশটা বলছেন, তিনি কিন্তু একই কথা একইভাবে তার ছেলেবেলায় চল্লিশ পার হওয়া মানুষের কাছ থেকে শুনে এসেছিলেন। এই প্রক্রিয়া দাদা আদমের সময় কাল থেকেই চলে আসছে।

    আইনস্টাইন, Zuckerberg, Steve Jobs এর মত জিনিয়াসরা জন্মেছে, তাদের চাইতেও উত্তম লোক আসবেই এবং তারা আসবে নুতন প্রজন্মের মাঝ থেকেই। তাই অতি দৃপ্ত কন্ঠে বলছি, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে উত্তম, আমাদের সন্তানেরা আমাদের চাইতে উত্তম, আবার আমাদের নাতিরা আমাদের ছেলেদের চাইতে উত্তম হবেই হবে।

    তাই বলে অতীত কে অপমান করছি না, কারণ অতীতের উপরেই আজকেরটা দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ বর্তমান = অতিত + Alpha

    Reply
  8. মোঃ শামীম মিয়া

    সবার আগে শিশুকে ধর্মীয় শিক্ষা দিন তারপর রুপকথা শোনান বা প্রযুক্তি শিক্ষা দিন শিশুর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—