“মিমিক্রি’ পারফর্মিং আর্টের প্রেক্ষাপটে বেশ লোকপ্রিয় মাধ্যম কিন্তু রাজনীতিতে নয়। “মিমিক্রি’ বা বিবেচনাহীন অন্ধ অনুকরণের ঘেরাটোপে পড়ে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো ঐতিহাসিকভাবে সংস্কার বিমুখ। এই মতের সাথে মতানৈক্য পোষণ করার লোক কি খুব বেশি আছে? খুব বেশি কিছু সংস্কার না করে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল “আওয়ামী লীগ” সত্তরে পা দিতে যাচ্ছে আগামী বছরই। সংস্কার বলতে প্রতিষ্ঠাকালীন “মুসলিম” শব্দটি বাদ দিয়ে ‘আওয়ামী লীগ’ নামকরণ ।

নিঃসন্দেহে আওয়ামী লীগ দলটি এদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের পতাকাবাহী। দেশের স্বাধীনতা অর্জনে দলটির ভূমিকা অগ্রগণ্য। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেন ছিল আওয়ামী লীগের আঁতুর ঘর। আত্মপ্রকাশের পর দলটির পথচলা নির্ঝঞ্ঝাট ছিল না। মোকাবেলা করতে হয়েছে নানা ঘাত-প্রতিঘাত। দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানি সামরিক শাসন, জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা রেখেছে।

শাস্ত্রমতে ‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়, পরধর্ম ভয়াবহ।’ অর্থাৎ নিজ ধর্মে নিষ্ঠ থেকে মৃত্যু ভালো, আর পরধর্মে আশ্রয় গ্রহণ ভয়াবহ। বিষয়টি যেমন ব্যক্তির বেলায় প্রযোজ্য তেমন দলের বেলায়ও। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই একটি দর্শন বা চেতনা থাকে। প্রাধিকার সময়ে সময়ে বদলাতে পারে কিন্তু দলের দর্শন বা চেতনা-ধর্ম কখনই না। স্বধর্মচ্যুতির দ্বারা শুধু দলের না দেশেরও বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে।

সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট ঘরানায় বিশ্বাসী হওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেই সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে দলের দর্শন হিসেবে ঘোষণা করেন যদিও আওয়ামী লীগের ভেতরেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও দলের দর্শনের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে। ডানপন্থী নেতাকর্মী তখনও দলে ছিল তবে দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের সক্রিয় প্রতিরোধের মুখে তাদের তৎপরতা ব্যর্থ হয়েছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ার স্বপ্ন ধাক্কা খায় একদলীয় বাকশাল চালু, বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড, সামরিক শাসন জারির ঘটনা পরম্পরার মধ্য দিয়ে। উদার বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও শেকড় সন্ধানী বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারন করেই আওয়ামী লীগ আজ বড় দল। আর বিপরীতে অন্য বড় অংশটি স্থানীয় সব ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো নিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই চরমপন্থার কারণেই ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনগুলো এই দেশে কোনো জনসমর্থন পায়নি, পাবে বলেও মনে হয় না।

পরজীবি যদি ভাল পৃষ্ঠপোষকতা পায় তাহলে তার বাড় বাড়ন্ত হয় এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি জোট সরকারের শাসন আমলে তার নজির আমরা দেখতে পেয়েছি। বিরুদ্ধ পরিবেশে পরজীবিতা টিকিয়ে রাখা কঠিন কিন্তু তারপরও আমরা দেখছি ঘোষিত অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের আমলেও জঙ্গীপনার কমতি নেই বরং যেকোন সময়ের চাইতে বেশি।

বামপন্থীদের মধ্যে আদর্শিক দেউলিয়াপনা কেবল যে তাদের নিজেদের রাজনীতিতে সংকট তৈরি করছে তাই না, এ দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতেও সংকট তৈরিতে প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। বামপন্থীদের ক্ষমতা পিপাসা ও নিজেদের স্বার্থচিন্তা এ অধঃপতনের কারণ। বামপন্থীদের এই অবস্থা যে শাসক শ্রেণিকে সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন, জনগণের প্রতি কর্তব্যহীন এবং বেপরোয়া করতে সহায়ক হয়েছে এতে সন্দেহ নেই। যেভাবে জবাবদিহিতাহীন সরকার একের পর এক টিকে থাকছে তার সব থেকে বড় শর্ত বামপন্থীরাই তৈরি করেছে। চিন্তার দেউলিয়াপনা ও নৈরাজ্য তাদের অবস্থাকে দাবার কমজোরি সৈন্যের মতো মানহীন গুটিতে পরিণত করেছে।

ডানপন্থীদের খুশি করতে খালেদা জিয়ার সরকার ২০০৬ সালে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি কিন্তু হেফাজত প্রীতি শেষ হয়ে যায়নি তাতে, যে কারণে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন শরিক হওয়ার জন্য। বোঝা যায় ২০০৬ সালে বিএনপির হেফাজত ভালোবাসার কারণ ছিল ভোটের হিসাব। আবার ২০১৩ সালের মে মাসের কর্মসূচিতে সমর্থনের কারণও ছিল ২০১৪-এর নির্বাচন, যদিও সে নির্বাচনে যায়নি বিএনপি। এখন বিরোধী দলগুলোই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ করে প্রায়ই।

এবার আওয়ামী অথবা ক্ষমতার চৌম্বকে আকর্ষিত ডানপন্থী হেফাজত । চুম্বকত্ব চুম্বকের ভৌত ধর্ম, ক্ষমতাকর্ষণ তেমনি রাজনৈতিক দলের মৌল ধর্ম। ছলে কৌশলে একক অথবা জোটবদ্ধ যেকোন ভাবে ক্ষমতা নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলের একমাত্র উদ্দেশ্য। বাম দলগুলো আওয়ামী জোটে আগে থেকেই ছিল, ক্ষমতার হিসাব নিকাশে ডানপন্থী হেফাজত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বিবেচনায় তাদের সাথে হাত মিলিয়েছে। ডান বাম দুই বিপরীতপন্থী মতাদর্শের জোট দুদিকে নিয়ে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিতের দৌড়ে আছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব যে কত প্রবল তা এবার দেশে গিয়ে দুই সপ্তাহ অবস্থানের সময় আমি টের পেয়েছি। আওয়ামী লীগ দেশের বৃহত্তম ও পুরনো রাজনৈতিক দল। তাতে নানা মতের, নানা উদ্দেশ্যের লোক থাকবেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি অবহেলিত থাকায় তার মধ্যে শৃঙ্খলা ও নীতিবোধ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এর ওপর আওয়ামী লীগের উপরের স্তরের নেতারাও নিজেদের ক্ষমতা ও অন্যান্য স্বার্থে প্রতি অঞ্চলে দলের ভেতর নিজেদের কোটারি তৈরি করায় সর্বত্র এই কোটারি-দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। এই দ্বন্দ্বের মধ্যে স্বার্থসংঘাতও আছে। দেশের একটা পত্রিকায় প্রকাশিত আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্ক্ষী আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর এই পর্যবেক্ষণ কি খন্ডন করা যাবে?

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের অবদান তুলনারহিত। রাষ্ট্র প্রকল্পে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চেতনা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা আওয়ামী লীগের মতো করে ভাবে না অন্য কোনো বড় দল। আওয়ামী লীগ হেফাজতের ঐক্য ক্ষমতা পরম্পরা ঠিক রাখবে কিনা তা সময়েই দেখা যাবে। বিশ্লেষকদের ধারণা আওয়ামী লীগ হেফাজতের ভোট পাবে না। বরং যেসব মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রগতিশীল চিন্তার সেক্যুলার দল হিসেবে সমর্থন করেন, তাঁদের আস্থা হারাবে। কোনো ধর্মকে রাষ্ট্রের ওপর বসিয়ে দেওয়া যাবে না এটা অনেকে ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়েও বলেছেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সব নাগরিকের জন্য সব ধর্মের জন্য। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূলনীতিও তাই। আওয়ামী লীগের নিজের ও দেশের স্বার্থে আওয়ামী মানসের পুনঃনির্মাণ জরুরী।

এম এম খালেকুজ্জামানআইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

১৮ Responses -- “আওয়ামী মানসের পুনঃনির্মাণ জরুরী”

  1. এম এম খালেকুজ্জামান

    সম্মানিত পাঠকের সুচিন্তিত মতামত ও প্রতিক্রিয়া সব বিচারেই লেখক ও অন্যান্যদের জন্য নতুন চিন্তার সলতে জ্বালাতে সাহায্য করে। আমি অনেক পাঠকের মতামত ও প্রতিক্রিয়া থেকেও লেখার অনেক উপকরণ পাই।
    সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

    Reply
  2. Bongo Raj

    আওয়ামী লীগ-হেফাজতের ঐক্য যতটুকুন ভোটের হিসাবের উপর দাড়িয়েছে তার থেকেও বেশী দাঁড়িয়ে আছে এই ধর্ম ব্যাবসায়ীদের চোখের সামনে রাখার দরকারের উপর। কারণ এই ধর্ম ব্যাবসায়ীরা যেকোন মুহূর্তে আরও আরও আগুনযজ্ঞ (মতিঝিল আগুন খেলা) শুরু করতেই পারে! এমন ভাবার পিছনের যুক্তি হলো- ধর্মের কু-ব্যাখ্যা দিয়ে রাস্তায় নামাতে, অন্যের গলায় ছুরি বসাতে (কতল করতে), গ্রামসুদ্ধ জ্বালিয়ে দিতে অতি সহজেই হাজার হাজার মুসলমানকে ক্ষণিক সময়ের মাঝেই পাওয়া যায়। যার প্রমাণ গত কয়েক বছরে আমরা ডজনখানেক বার দেখেছি। এই সব ভেবে প্রগতিশীল চিন্তা আর সেক্যুলার ভাবনা ধারনকারী গংদের আরও একটু বাস্তববাদী হওয়াটা দেশের স্বার্থেই অতি আবশ্যিক নয় কি?

    Reply
  3. Akash Malik

    @ শুভ্র ,

    ” অসমাপ্ত আত্নজীবনী ও কারাগারের রোজনামচাতে বঙ্গবন্ধুকে ধার্মিক ও পরহেজগার মুসলমান হিসেবে পেয়েছি। মূলত অসাম্প্রদায়িকতার সাথে ধর্মের কোন দ্বন্দ্ব নেই”।

    তো ধার্মিক আর পরহেজগার মুসলমান দিয়ে আমরা কী করতাম? এখানে বঙ্গবন্ধুর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তো কথা হয়নি, ধর্মের বদনাম করা হয়নি, ধর্ম কী তাও কেউ জানতে চান নি, তো এই ওয়াজের প্রয়োজনটা কেন পড়লো বুঝলাম না।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      না বোঝার কিছু নেই। আওয়ামী লীগের নতুন করে মুসলমান হবার কোন প্রয়োজন নেই, – শুভ্র হয়তোবা সেই কথাটিই বোঝাতে চেয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করেও নিজ নিজ ধর্মাচার অনুসরণ করা যায়, বরং, তাতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পায়।

      Reply
  4. Fazlul Haq

    মুসলিম শব্দ বাদ বা আওয়ামী লীগের সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবার উপরে মৌলিক কথা হচ্ছে বাঙ্গালিকে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে হলে গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, শোষণমুক্ত অর্থব্যবস্থা, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা কায়মনোবাক্যে ধারণ করতে হবে যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বিএনপি, জামাত, হেফাজত ইত্যাদি যারা ধর্মান্ধ হয়ে নিজদেরকে বাঙ্গালি সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বর্জিত করে বাঁচতে চায় তারা এ দেশে এবং এদেশের সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি এবং পাবেও না। তাদের বিদেশি মদদের দাপট অচিরেই স্তব্দ হয়ে যাবে।

    Reply
  5. শুভ্র

    অসমাপ্ত আত্নজীবনী ও কারাগারের রোজনামচাতে বঙ্গবন্ধুকে ধার্মিক ও পরহেজগার মুসলমান হিসেবে পেয়েছি। মূলত অসাম্প্রদায়িকতার সাথে ধর্মের কোন দ্বন্দ্ব নেই। দ্বন্দ্ব ধর্মকে পুঁজি করে মানুষের চোখে ধূলা দিয়ে অবৈধভাবে আত্নসার্থ হাসিল। ঢাকার ট্রাফিক জ্যামে যেমন একশ্রেণির ধর্মাশ্রয়ী ফটকাবাজ দুনিয়া আখেরাতের কথা বলে কাল্পনিক মসজিদ এতিমখানার জন্য টাকা উঠিয়ে নিজ স্বার্থ বাগিয়ে নেয় তেমনি একশ্রেণির ধর্ম ব্যবসায়ী বিভিন্ন অপব্যাখ্যা করে মানুষের সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। মোতাহের যেমন বলেছিলেন ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার আর কালচার শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম তেমনি অসাম্প্রদায়িকতা সকল জীবের ধর্ম আর ধর্মের ভিত্তি অসাম্প্রদায়িকতা। মুসলীম বাদ দিয়া আওয়ামী লীগ যেমন অমুসলীম হয় নাই তেমনি অমুসলীমদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করে মুসলীমদের কোন সমূহ ক্ষতিও হয় নাই। ধর্মের মূলধর্ম মানবতা আর মানবতার প্রতিবিম্ব সার্বজনীনতা।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      চমৎকার মন্তব্য। এই উপলব্ধিটি সবার মাঝে বিস্তৃত হোক, – এই কামনা।

      Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        জয় হাতুড়ির জয়! ভিক্ষা চাই না মা, কুত্তা সামলা।

  6. সৈয়দ আলী

    বিএনপি আপন চরিত্র অনুযায়ী হেফাজতের লেজুড়। লেখক, আপনি সবটুকু দোষ বিএনপির ঘাড়ে দিয়ে বলেছেন, “ডানপন্থীদের খুশি করতে খালেদা জিয়ার সরকার ২০০৬ সালে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি…….”। আওয়ামী লীগ কি তা’ বাস্তবায়ন করেনি? বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার দুই মহীরুহ কবীর চৌধুরী ও ড. জাফর ইকবাল একমুখী শিক্ষানীতি চালু করতে গিয়ে মোল্লাদের ধমক খেয়ে (সরকারের পরামর্শে) ফেলে দেয়া থুঁথু চেটে খেয়েছেন। লেখক, এই ইতিহাসটিও বলুন, প্লীজ। বুড়ি ছোঁয়ার মতো আওয়ামী লীগকে খানিকটা দোষ দিয়ে যার আকাঙ্খায় মাদ্রাসা পাস করারা মাস্টার্সের সমমর্যাদা পাবে তাঁর নামটি তো বলার সাহসই দেখাতে পারেন নি। ধিক।

    Reply
  7. লতিফ

    লেখক হয়তো পুণঃনির্মান বলতে সংস্কার বুঝিয়ে থাকবেন। শব্দ দুটোর অর্থ আলাদা। কোন কিছু ভেঙে নতুন করে গড়া, নতুন করে গড়ার বেলায় পুরোনো আদল ফিরিয়ে আনা, অথবা বিদ্যমান কাঠামোতে সংস্কার করা― তিনটা তিন জিনিষ। যাহোক, এরকম একটা প্রবন্ধের বেলায় আলোচনা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ভালো হয়। আমার বিবেচনায় গণমুখী যে কোন রাজনৈতিক দলের বেলায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে সেই সময়ের সামাজিক শক্তির জায়গাটাকে আমলে নেওয়া জরুরী। আওয়ামী লীগ তার সত্তর বছরের ইতিহাসে স্বাধীনতার পরের সময়টুকু বাদে আর সকল সময়ে বিকশিত ও বিকাশমান সামাজিক শক্তির চাহিদা মতো নিজেকে সংস্কার করেছে। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে সবচে বিকশিত ও বিকাশমান সামাজিক শক্তির নাম সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র। মাত্র তিন বছরে মেজর থেকে মেজর জেনারেল, উপ-সচিব থেকে সচিব হওয়ার সেই ক্ষণে আর কোন সামাজিক শক্তি ওই একই মাত্রায় বিকশিত হয় নি। ওই বাস্তবতাকে বঙ্গবন্ধু অস্বীকার করতে চেয়েছেন এবং মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার মূল্য দিয়েছেন। অর্থনীতির প্রশ্নে কিছু সংস্কার করলেও (৮৩ সালে সমাজতন্ত্র থেকে মিশ্র অর্থনীতির ঘোষণা) শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ওই বাস্তবতা বুঝতে দেরি করে নব্বই পর্যন্ত। এখন ওসবের বালাই নেই। সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের বিকাশ চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বর্তমান বাস্তবতাটা তাহলে কী? ব্যক্তিখাতে পুঁজির বিকাশ হচ্ছে দুটো ভিন্ন ধারায়। এক ধারার সাথে জড়িত রপ্তানী― পোশাক ও সফটঅয়্যার। অন্যধারায় ধর্মব্যবসা। মসজিদ-মাদ্রাসা-ওয়াজ ভিত্তিক অর্থনীতি, শরিয়া ব্যাংক, সামাজিক পর্যায়ে হিজাবের বিস্তার, প্রবাস থেকে আসা অলস মুদ্রা― এসব নতুন সামাজিক শক্তির প্রকাশ ঘটাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ২০১৩ সালে এই শক্তির বিকাশকে আমলে নেয় নি। কিন্তু তার পরেই তাদের বোধদয় হয়েছে। সেই জায়গায় সংস্কার চলছে।

    Reply
    • Bablu Rahman

      Rightly you identified the social changes in Bangladesh. Now-a-days, AL seems to go forward with these elements or it may say as reforms as well. But, we know that, Hefajot will never vote to the AL candidates.

      Reply
  8. Md. Abdullah Al Mamun

    এম এম খালেকুজ্জামান স্যার, ভীষণ ভালো লাগলো আপনার অসাধারণ লেখাটি পড়ে I সহমত পোষণ করছি সরকার জাবেদ ইকবালের সাথে I

    Reply
  9. সুনীল আকাশ

    অনেকদিন পর তৈল বিহীন, চাটুকারিতাহীন বাস্তবধর্মী লেখা । ভালো লাগলো । বুঝলাম সব লেখক এখনো সব লেখক দলান্ধ নয় । plz keep up the good work sir.

    Reply
  10. সরকার জাবেদ ইকবাল

    অনেকদিন পর একটি নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ লেখা পড়ার সুযোগ পেলাম। বেশ কিছুদিন যাবত কিছু দলকানা, দলান্ধ, দলদাস, তোষামোদী, চাটুকার লেখকের লেখা পড়তে পড়তে হাঁপিয়ে উঠেছি। এই লেখাটি পড়ার পর মনে হচ্ছে আবারও নতুন করে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছি। লেখককে ধন্যবাদ।

    মনে রাখা ভাল, এই চাটুকারের দলই বঙ্গবন্ধুর সর্বনাশের পথ ত্বরান্বিত করেছিল। শেখ হাসিনা এদের ব্যাপারে সতর্ক আছেন বলেই আমার বিশ্বাস। তবে কঠোর হস্তে দমন করতে পারছেন না। কিংবা চাচ্ছেন না! ‘সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়’ কথাটি মনে রাখতে হবে।

    ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়ার ফলে আওয়ামী লীগ ‘অমুসলমান’ হয়ে যায়নি। তাহলে নতুন করে আবারও ‘মুসলমান’ হবার জন্য আওয়ামী লীগের এই লম্ফঝম্প কেন? আওয়ামী লীগে সংস্কারের কোন প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন শুধু মূল চেতনা তথা ধর্মনিরপেক্ষতায় উজ্জীবিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে যাওয়া। মুখে বললেও কার্যত তারা সেখানে নেই।

    Reply
    • Hasan Mahmud

      “”‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়ার ফলে আওয়ামী লীগ ‘অমুসলমান’ হয়ে যায়নি। তাহলে নতুন করে আবারও ‘মুসলমান’ হবার জন্য আওয়ামী লীগের এই লম্ফঝম্প কেন? আওয়ামী লীগে সংস্কারের কোন প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন শুধু মূল চেতনা তথা ধর্মনিরপেক্ষতায় উজ্জীবিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে যাওয়া। মুখে বললেও কার্যত তারা সেখানে নেই””। – ১০০% সহমত।

      Reply
  11. সৈয়দ আলী

    আমার অবাক লাগে যে ১৯৭৪ সালের ২৫ জানুয়ারী আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত করার পরে এবং ১৯৭৭ সালে সামরিক একনায়ক জিয়ার শাসনামলে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে আওয়ামী লীগের যে পূণর্যাত্রার শুরু সে দল ১৯৪৯ বা পরের সময়কালীন লিগ্যাসি আওয়ামী লীগের পন্ডিতেরা কোন অধিকারে দাবী করে?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—