কোনো রাখঢাক না করে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যেই এটা বলছেন যে তারা আগামী নির্বাচনে ভারতের সহযোগিতা চান। প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ ভারতের সহযোগিতা নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১০ জুন বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভারতের সহযোগিতা তারা চান। বিএনপি মনে করছে, ভারত চাইলে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারে। বাংলাদেশে ভারতের যথেষ্ট প্রভাব আছে। এই প্রভাব খাটিয়েই তারা এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।
বিএনপি বাংলাদেশে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত। ভারতবিরোধিতা যে বিএনপির রাজনীতির একটি বড় উপাদান তা নিয়ে বিতর্ক করা অর্থহীন। বহু ঘটনা থেকে এটা প্রমাণ করা যাবে যে ভারত সম্পর্কে বিএনপির মনোভাব কি! বিবিসি এ নিয়ে মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন করেছিল। বিবিসির প্রশ্ন ছিল : বাংলাদেশে বিএনপির ভাবমূর্তি একটি ভারতবিরোধী দল হিসেবে। এখন মানুষ যদি দেখে বিএনপিও ভারতের দ্বারস্থ হচ্ছে, সেটা কি বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করবে না?
মির্জা ফখরুলের জবাব : আপনারা এটাকে এমনভাবে দেখছেন কেন? আপনারা যেমনভাবে বলছেন তাতে এটা দাঁড়ায় যে, এটা একটা প্রতিষ্ঠিত ইমেজ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্নটা সেখানে নয়। বিএনপি যেটা বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। আর বিএনপিকে বাংলাদেশের স্বার্থ দেখতে হবে। সেই স্বার্থ দেখতে গিয়ে কেউ যদি বলে যে, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছি, সেটা কিন্তু সঠিক একটা অ্যানালিসিস নয়। আমি মনে করি, পারস্পরিক মর্যাদাবোধ, পারস্পরিক স্বার্থ – এটা খুব জরুরি। ভারতের তো এটা দায়িত্ব, যাতে বাংলাদেশে তাদের বিরোধী মনোভাব বা ধারণা তৈরি না হয়। এমনটা হলে তাদের জন্যও ক্ষতিকর, আমাদের জন্যও ক্ষতিকর।

ভারত কেন বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে, বিশেষ করে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের এতো ভালো সম্পর্ক এবং বিএনপির ব্যাপারে  ভারতে অনেকের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে? – বিবিসির  এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন : এ সন্দেহ অনেকটাই অমূলক। কারণ বাংলাদেশে বিএনপি সরকার কখনই ভারতের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেছে বলে জানা নেই। আর দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এমন একটা সরকার ভারতের জন্যই খুব প্রয়োজন। আর ভারতের সঙ্গে বিএনপির বৈরি সম্পর্ক যেগুলো প্রচার করা হয়, তা ঠিক নয়।

বিএনপি আমলে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিদ্রোহীরা বাংলাদেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছে। দশ ট্রাক অস্ত্রের চালানের মতো ঘটনা ঘটেছে, যেটা ভারতের কাছে খুবই স্পর্শকাতর বিষয় – বিবিসির এমন মন্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন : এ ঘটনাগুলো কতটা সত্যি, কতটা তৈরি কর, তা কিন্তু এখনও পরিপূর্ণভাবে জানি না।
বিবিসি জানতে চেয়েছিল : ভারতের মধ্যে বিএনপির ব্যাপারে যে সন্দেহ, সেটা দূর করতে বিএনপির কোনো কৌশল কি আছে?
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উত্তর : অবশ্যই। আমরা তো সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক হবে, সে সম্পর্কে আমরা একটা পেপারও দিয়েছি। সেখানে পরিষ্কারভাবে বলেছি, উই উইল হ্যাভ জিরো টলারেন্স অ্যাবাউট অ্যানি ইনসারজেন্সি ইনসাইড বাংলাদেশ। তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।স্পষ্ট করে বলেছি, তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। স্পেস থাকবে না। এটা যদি সরকারে যাই, অবশ্যই নিশ্চিত করবো।
বিএনপি মহাসচিবের সাক্ষাৎকারটি মনোযোগ দিয়ে পাঠ করলে য়ে কারো কাছেই এটা স্পষ্ট হবে যে, বিএনপি তার ভারতনীতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে। ভারতবৈরিতা বিএনপির জন্য লাভের হচ্ছে না – এটা সম্ভবত বিএনপি নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছেন। কিছু কিছু বিষয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য স্ববিরোধী, আবার কিছু বক্তব্য অসত্য। অবশ্য এতদিনের অবস্থান ও অভ্যাস বদলাতে গিয়ে এমনটা হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, বিএনপি ভারতকে একটি ‘পেপার’ দিয়েছে। লিখিত কিছু অঙ্গীকার করেছে, যেটা বিএনপি সরকারে গেলে ‘অবশ্যই নিশ্চিত’ করবে। এই পেপারের বিষয়টি বিএনপি আগে কখনও বলেছে বলে মনে পড়ে না। আমাদের কোনো গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত খবর দেখা যায়নি। ব্যাপারটা কি?  কবে এই পেপার বা অঙ্গীকারনামা দেওয়া হলো? এটা এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল কেন? এটা কি ‘মুচলেকা’ জাতীয় কিছু?
বিবিসির কাছে এই তথ্য প্রকাশ করার পরও আমাদের দেশের গণমাধ্যম এটা নিয়ে আগ্রহী হলো না কেন? আওয়ামী লীগ যদি এমন কোনো লিখিত পেপার ভারতকে দিতো তাহলে সেটা নিয়ে  কি পরিমাণ শোরগোল হতো তা সহজেই অনুমান করা যায়।  আওয়ামী লীগের ভারতপ্রীতির সমালোচনায় যারা সদা উচ্চকন্ঠ, বিএনপির ব্যাপারে তাদের  বর্তমান নীরবতার কারণ কি?
বিএনপি মহাসচিব বাংলাদেশের স্বার্থ দেখার কথা বলেছেন। খুব ভালো কথা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল তো বাংলাদেশের স্বার্থই দেখবে। প্রশ্ন হলো, বিএনপি তো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, সরকার চালিয়েছে। তখন বাংলাদেশের স্বার্থ আদায়ে কতটুকু জোরালো ভূমিকা তারা পালন করেছিল? ভারতের সঙ্গে কোন অমিমাংসিত সমস্যা বিএনপি সমাধান করতে পেরেছিল?  বাইরে তীব্র ভারতবিরোধিতা, আর তলে তলে দিল্লির শাসকগোষ্ঠীকে তোয়াজ করার নীতিই কি বিএনপি অনুসরণ করেনি?  ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনার সত্যতা নিয়ে একদিকে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব, অন্যদিকে লিখিত পেপারে বলেছেন, ‘তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, অস্তিত্ব থাকবে না’ ইত্যাদি। অতীতে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অস্তিত্ব ছিল বলেই তো অমন অঙ্গীকারের প্রয়োজন হয়েছে। নয় কি? বিএনপি সরকারে থাকতে ভারতের স্বার্থবিরোধী কিছু করেনি – বলেছেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বার্থ রক্ষা করেছে বিএনপি!  এ-ও কি সম্ভব?
গরু হারিয়ে গ্রামের কৃষক যেমন স্ত্রীকে মা বলে সম্বোধন করে বলেছিল, ‘গরু হারালে মাথা ঠিক থাকে নারে মা ‘, ঠিক তেমনি ক্ষমতা হারিয়েও বিএনপির মাথা ঠিক নেই। ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য বিএনপি  এখন মরিয়া । তাই তাদের এতদিনের ভারতভীতি এখন ভারতপ্রীতিতে পরিণত হয়েছে। ভারতের কাছে দেনদরবার করছে। তাদের ক্ষমতায় না বসানো ভারতের জন্যই ক্ষতিকর – এমন কথাও বলা হচ্ছে। বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত ও জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এমন সরকার ভারতের জন্যই প্রয়োজন – এসব কথার অর্থ কি? বিএনপি কি তাহলে ভারতের স্বার্থের পাহারাদার হতে চাইছে?
বিএনপির এসব কথা কি দিল্লির মন গলাতে পারছে? দিল্লি কি বিএনপিকে কোনো ‘এনওসি’ দিয়েছে? আমরা জানি না। তবে আমরা একটু ভারত প্রশ্নে বিএনপির অতীতটা স্মরণ করতে পারি। মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিকে দাসত্বের চুক্তি বলে মনে করতো বিএনপি। যদিও বিএনপির জন্মের আগে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। ১৯৯১ সালে নির্বাচনের আগে বিএনপির মূল প্রচারণা ছিল : আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে দেশ ভারত হয়ে যাবে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে ফারাক্কার পানি বন্টন চুক্তি করলে বিএনপি তাকে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বলে সমালোচনা করছিল। পার্বত্য শান্তিচুক্তিরও বিরোধিতা করেছে বিএনপি। খালেদা জিয়া নিজেই বলেছিলেন, ওই চু্ক্তির ফলে ফেনী পর্যন্ত ভারতের অংশ হয়ে যাবে। ক্ষমতায় গেলে এই দুই চুক্তি বাতিলের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ২০০৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র আটক হয়েছিল, যা ভারতের আসাম রাজ্যের উলফা বিদ্রোহীদের জন্য আনা হয়েছিল। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এলে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বিএনপির তিন নেতা সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে এগুলোকে অতীতের বিষয় বলে উল্লেখ করে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বৈরি আচরণ ‘ভুল’ ও ‘বোকামিপূর্ণ’ ছিল। বিএনপি এখন নতুন দৃষ্টভঙ্গি নিয়ে নতুনভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নবায়ন করতে চায়। এটা নাকি বিএনপির ভবিষ্যৎকান্ডারি তারেক রহমানের চাওয়া!
অতীতের বোকা বিএনপি এখন বুদ্ধিমান হওয়ার দাবি করছে। কিন্তু পোলাও না খেয়ে কি তার স্বাদ সম্পর্কে কোনো সার্টিফিকেট কেউ দেবেন? ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার বীণা সিক্রি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক তা হুট করে গড়ে ওঠেনি। এই সম্পর্কের একটি ধারাবাহিকতা আছে। ইতিহাস আছে। পারস্পরিক নির্ভরতা আছে। দৃষ্টিভঙ্গির সাযুজ্য আছে। আওয়ামী লীগের আমলে ভারত ও বাংলাদেশ সবদিক দিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিএনপির সময়ে, দুঃখের কথা, এই নির্ভরতা বা ধারাবাহিকতা ছিল না।
নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভারতের সহযোগিতার প্রসঙ্গে এই সাবেক কূটনীতিকের বক্তব্য : বাংলাদেশের ভোট করেন সে দেশের মানুষ। অন্য কোনো দেশের ভোটে ভারতের কোনো ভূমিকা কোনো দিন ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
ভারত বলছে কারো ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই। বাংলাদেশের জনগণই সেটা করে। অথচ বিএনপি মনে করে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসায় ভারত। এখন তর্কের খাতিরে বিএনপির কথা সত্য ধরে নিলে প্রশ্ন আসে, আওয়ামী লীগ যদি ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ক্ষমতায় যায় এবং টিকে থাকে, সেটা যদি খারাপ এবং অগ্রহণযোগ্য হয় তাহলে বিএনপি যদি একই পথ অনুসরণ করে তা কেন সমর্থনযোগ্য এবং নন্দিত কাজ হবে? বিএনপির জুতা যেমন আওয়ামী লীগের পায়ে বেমানান, তেমনি আওয়ামী লীগের জুতাও বিএনপির পায়ে মানানসই হওয়ার কথা নয়। না-কি এক্ষেত্রেও আমাদের সেই আপ্তবাক্য আওড়ে শান্তি পেতে হবে যে : রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই!

বিভুরঞ্জন সরকারসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

৩৯ Responses -- “ভারতের সহযোগিতা চায় বিএনপি!”

  1. 00000000000

    BNP,JP,Jamat সব দলই রাইতের বাসে ইন্ডিয়া যায় ব্যাবসা কইরা মাল কামাইতে আর ফিরা আইয়া গাইল পারে মালাউন মালাউন কইয়া!!

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      AL কখন যায় আর ফিরা আইসা কি কইয়া মাতম করে তা কইলেন না ক্যান?

      Reply
  2. শামীম খান

    রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপি যে কতটা দেউলিয়া হয়ে পড়েছে তা আরেকবার উন্মোচিত হল দলটির তিন নেতার সাম্প্রতিক ভারত সফরে। এই সফরে তারা নিজেদের অতীত কার্যকলাপের জন্য শুধু অনুশোচনা প্রকাশই নয়, কার্যত দলীয় অপরাধের জন্য তারা মিঃ তারেক রহমানের নির্দেশে ভারতের পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে এসেছেন। এমন খোলামেলা নাকে খত অনুষ্ঠান সেরে এসে তারা আবার যে ভাবে জোর গলায় ভোট ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছে তা জাতি হিসাবে আমাদের জন্য সীমাহীন লজ্জার ।
    এতো কিছুর পরও যদি পরাশক্তি প্রতিবেশীর একটু সুদৃষ্টি পাওয়া যেতো তা হলে হয়তো কষ্ট ছিল না। ভারতের ভাবগতি দেখে মোটেই তা মনে হচ্ছে না। এদিকে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা তথাকথিত সেই ভারত বিরোধীদের আস্থায়ও ক্রমশ চিড় ধরতে শুরু করেছে। শেষমেশ এরাও সরে দাঁড়ালে ‘আমও গেল, ছালাও গেল’ প্রবাদটি আবার বিএনপি’র একান্ত আপন না হয়ে যায় ।

    Reply
  3. Bongo-Raj

    গত ৫ বছরের হিসাবই যদি ধরি তা হলেও অন্তত ৫ কোটি বার “সুষ্ঠু নির্বাচন” কথাটা আওড়ানো হয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে। ভাল কথা, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধরে নেই আওয়ামী লীগ পরাজিত হলো, তারপর কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চাই(?) এই প্রশ্নটা করা হলে তার উত্তর কি হওয়া উচিৎ। না বললেও বোঝা যায় জবাব হবে বিএনপি।

    এখানে তাই আরও একটা প্রশ্ন, ১৯৯০ সনের পরে বিএনপি ১০ বছর, আওয়ামী লীগ ১৫ বছর দেশ শাসন করেছে, দেশের উন্নতি, দুর্নীতি ইত্যাদি দিয়ে, যদি সরল হৃদয়ে দিয়ে বিচার করি, তাহলে কি জবাবটা বিএনপি হওয়া উচিৎ??

    আরও একটা ব্যাপার, আমাদের দেশে, ১০০/২০০ টাকা করে দিয়ে ভোট কেনা যায় এমন ভোটারের অনুপাত অবশ্যই ১০% -১৫% হবার কথা। এই কারণেই যেকোন দলেরই বেশীরভাগ নমিনেশন পান ব্যবসায়ীরা বা ধনী ব্যক্তি। এই ভাবে ভোট কেনাটা যদিও বেআইনি, এই সামান্য টাকা নিয়ে ভোট দেওয়াটাকে কি আমরা দুর্নীতি বলে বিবেচনা করি? বা এই ভাবে ভোট পাওয়াটাকে দুর্নীতি বলে ধরে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি হয়নি বলে গলা ব্যাথা করি? জোর করে ব্যালট বাক্স ভরা বা ভোট দিয়ে না দেওয়া যেমন মারাত্মক অপরাধ তেমনি, যারা এই সামান্য টাকে পেয়ে কোন বদমাইশকে ভোট দিয়ে দেয় তাদের আমরা সমান অপরাধী হিসাবে ধরি না কেন??

    Reply
    • Mute Spectator

      সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ পরাজিত হবে এই ধারণা করার হেতু কি? হোক না সুষ্ঠু নির্বাচন, আওয়ামী লীগ তো জিতবে। এই আস্থাটা না থাকাই বিপদের। ভাই বংগ রাজ, সুষ্ঠু নির্বাচনের একটা বিশ্বজনীন সংজ্ঞা আছে। এটাকে মোকাবেলা করেই রাজনীতিতে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। জুজুর ভয় দেখিয়ে নির্বাচনের মৌলিক চরিত্র ধ্বংস করার যে কোন যুক্তি ক্ষমতাসীনদের ব্যাকফুটে নিয়ে যাবে। দয়া করে বলুন আমরা সকলেই সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।

      Reply
      • Bongo-Raj

        জনাব
        আমার কমেন্টের গুপ্ত থিম (hidden theme)টা বুঝাতে পারিনি মনে হচ্ছে। কমেন্টের মাঝে “ধরে নিলাম” ক্রিয়াপদটা সেই উদ্দেশেই ব্যবহার। সেই যাই হোক, গুপ্ত থিমটা হলো আওয়ামীলীগ হেরে গেলও বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে, আসা উচিৎ এমন একটা কারণও কি কেউ দেখাতে পারবেন তা জানতে চাওয়া!

        নির্বাচনের মৌলিক চরিত্র ধ্বংসের যে ভয় করছেন তা ঠিক নয়, কারণ এদেশে নির্বাচন কখনো আস্ত ছিল না, তাই ধ্বংস হয়ে থাকা জিনিস কে ধ্বংস করা যায় না। তাই ধ্বংস হবার ভয় না করে, বরং কিভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জিনিসটাকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলা যায় তার পথ খোঁজা। আমার মতে বাঁচিয়ে তোলা অতি সহজ, “আমি-আপনি-তিনি” এই তিনজন ভাল হলেই সব ঠিক, কারণ এই তিনজনের মাঝ থেকেই, রাজনৈতিক, পুলিশ, মিলিটারী, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক সবাই আছেন!!! সবশেষে, এই তিনজন সব সময়ই “চাই চাই” করে যাচ্ছেন, কোন এক সময় থেকে “করব করব” তে পরিবর্তন না করলে আজীবন আমি-আপনি-তিনি কমেন্ট করে দোষারপই শুধু করে যাবো!!

    • সজল কান্তি

      দাদা বংগরাজ
      আপনার প্রতিটি মতামতে “নিরেপেক্ষ” ভোটের কথা বলেন কিন্তু আপনি নিজেও জানেন এদেশে ভোট ব্যবস্থা পৃথিবীর সবচে বাজে। ভোট নামে এখানে প্রহসন হয়। আমি নিজে বিগত ৫ বছর কোনও ভোট দিতে পারি নাই কারণ আমার ভোট নির্বাচনের আগের রাতে দেয়া হয়ে গেছে। আপনার মতামত পড়ে মনে হয় আপনি চান আওয়ামী লীগ আবার ৫ জানুয়ারির মতো বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসুক। এটা ঠিক হবে না। ব্যাপারটা দল ও দেশের জন্য লজ্জার। স্বাধীন দেশের লজ্জিত নাগরিক হয়ে আর থাকতে চাই না। দয়া করে বিনা ভোটে নির্বাচনের ব্যাপারে আর ” হাওয়া” দিয়েন না।

      Reply
      • Bongo-Raj

        আসলেই বোধহয় আমার লেখার ক্ষমতা খুবই সামান্য। তা না হলে এমন ভুল ধারনা কেন হয়ে যাচ্ছে। বিনা ভোটে নির্বাচন করা ভাল অমন ধারনা কোথায় কোন কমেন্টে লিখেছি হাজার খুঁজেও খোঁজ পেলাম না। আসলে সজল কান্তি বাবু বোধ হয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচনের কথা বলতে চেয়েছেন, অমনটা ধরে নিয়েই জবাবটা দিচ্ছি।

        ২০১৪ সনের নির্বাচন কিন্তু সংবিধানের নিয়ম মেনেই আয়োজন করা হয়েছিল। আর সংবিধানে যেই পরিবর্তন আনা হয়েছিল তাও কিন্তু সংবিধানের নিয়ম মেনেই করা হয়েছিল (প্রসঙ্গক্রমে বলছি, সামরিক শাসকরা কিন্তু কলমের এক খোঁচায় সংবিধান বদলিয়েছে অমন লজ্জার ব্যাপার আমরা সয়ে নিয়েছি)। তাহলে কি দাঁড়ালো? নির্বাচনে না এসে বরঞ্চ মানুষ যাতে ভোট কেন্দ্রে না আসতে পারে তার জন্য একদল লোক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছিল তাদের কেই তো দোষারোপ করা উচিৎ তাই না? নাকি সজল বাবুর কাছে এমন কোন যুক্তি আছে যা দিয়ে “অন্যকে ভোট না দিতে জোর করা, ভোট কেন্দ্র পুড়িয়ে দেওয়া এই সব ঠিক ছিল বলে প্রমাণ করার”? বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ১৫০ জন নির্বাচিত হয়েছিল তার জন্য তো ঐ সন্ত্রাসী দলকেই চেপে ধরা উচিৎ। নয় কি? আমি ঐ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অনেক বার কমেন্ট করেছি এবং আরও করে যাবো। আমরা কথায় কথায় পশ্চিমা বিশ্বের উপমা টেনে তাদের মত হতে চাই বলে কান্নাকাটি করি, কিন্তু নির্বাচনের বেলায় কেন উল্টো??

      • সজল কান্তি

        বংগ দাদা
        লজ্জা থাকলে আর বিনা ভোটের হাওয়া দিয়েন না। অবশ্য ওই জিনিস আপনার নাই। ভোট নিয়া কথা বলতে লজ্জা লাগে আপনার আর খালি সংবিধান দেখান! দলান্ধ দলদাসের কাছে আর কি বা আশা করা যায়। এদের জন্য দেশটা আজ দুর্নীতির শীর্ষে। এরাই দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        সজল বাবু, ওয়াক-ওভার পেয়ে জিতে যাওয়াওতো সাংবিধানিক নিয়মেই হয়, তাই না? মাভৈ, মাভৈ।

      • Bongo-Raj

        আমার কৈফিয়তের জবাব না দিয়ে লজ্জা পেতে বললেন? লজ্জা আছে বৈকি, কারণ লুঙ্গিখানা এখনো ঠিক মতই পরে বসে আছি। তা সজল বাবু, জবাব দিতে না পেরে লজ্জা পাচ্ছেন তো?নাকি পাচ্ছেন না? তাহলে তো বিপদ, মগজ নেই বলেই ধরে নিচ্ছি। আহা বেচারা!!

      • সজল কান্তি

        বংগ দাদা
        বিদেশে বসে আওয়ামীলাগের দাসত্ব করার মতো নোংরামী আপনার পক্ষেই করা সম্ভব । বার বার বলেছি আপনার প্রাণের দল হাজার বার ক্ষমতায় আসুক কিন্তু বিনা ভোটে বা ৩% ভোটে নয় বা পেছনের দরজা দিয়ে নয় কিন্তু এই দলান্ধ দলদাসকে কে বুঝাবে ? ভোট বলে বাংলাদেশে কিছু নেই এই দলদাস কে কে বোঝাবে ? মাপ চাই দোয়াও চাই, এ দলকানার সাথে আমি নাই !

      • Bongo Raj

        সজল কান্তি মিয়াঁ দের আস্তাকুড়ে ফেলার মত কমেন্টের জবাব দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। সেই ছোট বেলায় মা বলেছিল “আক্কেল ওয়ালাকে আক্কেল দিলে নিজের আক্কেল হয়, বেয়াক্কেল্লরে আক্কেল দিলে নিজের আক্কেল ক্ষয়” তেমন হলো আমার অবস্থা। যেই মিয়াঁর ঝুলিতে কয়েকটা শব্দই আছে, যেমন “দল দাসত্ব, নোংরামী, ৫% আবার কখনো ৩% ভোট, নিরপেক্ষ ভোট” তাই বার বার ইনিয়ে বিনিয়ে একই কথাই আউড়িয়ে যায় তাদের নিয়ে কথা না বলাই ভাল।
        হ্যাঁ আমি দলকানা কারণ
        – শত দোষ থাকেলেও এর চাইতে ভাল দল বাংলাদেশে আর নেই বলেই এটাকে সমর্থন করি।
        – এই দল বুকে জড়িয়ে ধরে রাখার মত একখানা পতাকা দিয়েছে।
        – অতীতের যেকোন সময়ের চাইতে বাঙ্গালী জাতিকে ভাল রেখেছে, আরও ভাল রাখার রোডম্যাপ সহ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
        – আরও হাজারো সমস্যার সমধান ভবিষ্যতেও দিতে পারে এমন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
        রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রাজা রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এদের ব্যক্তি জীবন খুঁজতে গেলে ডজন ডজন দোষ পাওয়া যাবে, তাই বলে তাদের সন্মান কমেনি!!!!!!

  4. Amar Das

    Very nice indeed. Truth is always bitter like medicines. To cure your disease need “Medicine”. Accepting the truth is upto you and don’t blame the writer. Is it the fact that he is Hindu ?

    Reply
  5. শামছুর রহমান

    বিএনপি’র নয়া ভারতনীতি সম্পর্কে এখানে যে বিশ্লেষণ পেশ করা হয়েছে সেটা মোটেও গালগল্প নয়। এই বিশ্লেষণের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, বিএনপি’র স্ববিরোধী নীতি-অবস্থান বেশ প্রাঞ্জল ভাষায় পাঠকসমাজের সামনে তুলে ধরা। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, ভারতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক তারা কখনোই বিএনপি’র মতো একটি গোঁজামিলের দলকে বিশ্বাস করবে না। আরো একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হচ্ছে, জাতীয় উন্নয়ন, জনকল্যাণ এসবে বিএনপি’র কোনো কমিটমেন্ট নেই। তাদের কেবল ক্ষমতা চাই। তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার মূলধন একদিকে সাম্প্রদায়িক জিগির অন্যদিকে অকারণ ভারতবিরোধিতা। এর বাইরে বিএনপি’র আর কোনো রাজনীতি আছে বলে মনে হয় না। কাজেই বিএনপি-কে কোনো ভারতীয় দলই আস্থায় নিতে পারে না।

    Reply
    • Mute Spectator

      ভারাত সম্পর্কে ধারনাটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। ভারত প্রতিবেশী দেশে সেই দলকেই
      ক্ষমতায় দেখতে চায় যে দলের জাতীয় উন্নয়ন, জনকল্যাণ এসবে কোনো কমিটমেন্ট নেই। মালদ্বীপ,নেপাল আর শ্রীলংকার অভিজ্ঞতা দেখুন। স্বাধীন বাংলাদেশে ৭৫ থেকে নব্বই পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল এরা কি ভারতের সমর্থনে থাকে নাই? এরা স্থল সীমান্ত সমস্যা, অভিন্ন নদীর পানি বন্টন কিম্বা ভারতে বাংলাদেশের বাজার সম্প্রসারনের বিষয়ে
      কিছুই করে নাই, বহাল তবিয়তে ক্ষমতায় ছিল। মোট কথা দুর্বল আর নীতিহীন দল প্রতিবেশী দেশে ক্ষমতায় থাকলে ভারত Comfort Feel করে। বড় প্রতিবেশী হিসাবে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক আমরা চাই তবে শ্রদ্ধায় গদগদ হওয়ার কোন কারণ নাই।

      Reply
  6. সিবগাতুর রহমান

    আরেকটা লেখা পাকিস্তানকে নিয়ে লিখে দিন তাহলে হয়তো এদের চোখে ‘একচোখা দলকানা’ অপবাদ থেকে বাঁচা যাবে।

    Reply
    • সুনীল আকাশ

      তাও লিখুক না! একটা জীবন তো একটি দলের লেজুরবৃত্তি করে গেলেন আমাদের দাদা। দেখি দাদার হাত দিয়ে অন্যকিছু লিখা আসে কিনা? সাদা কাগজে একটা কিছু লিখলেই লেখা হয় না। দলমতের উর্ধ্বে থেকে লেখা দেশের মানুষের জন্য লেখা উনারা কবে শিখবেন? নাকি যেকোন লেখাই হতে হবে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির পক্ষে বা বিপক্ষে? এর বাইরে কোন লেখা নাই?

      Reply
      • Bongo-Raj

        সুনীল আকাশ
        আপনি এই সামান্য কমেন্টের ভিতরেও কি নিউট্রালিটিটা বজায় রাখতে পেরেছেন?
        যেমন ধরুন, যদি প্রশ্ন করি- বিভুরঞ্জন বাবুর এই লেখাটাতে সব কিছুই কি ভুল বা অতিরঞ্জিত?
        যদি জবাব “না হয়, তারমানে হবে বিভুরঞ্জন বাবু কিছুটা ঠিক বলেছেন।
        কই আপনি তো এক চেটিয়াভাবে অভিযোগই করে গেলেন, সেই ঠিক বলাটাকে তো উল্লেখ করলেন না!
        বলতে চাচ্ছি, কিছুটা উর্ধ্বে থেকে কি কমেন্ট করতে পেরেছেন?

        আর জবাব যদি “হাঁ” হয়, তাহলে বলতেই হবে ননসেন্স কমেন্ট, এই সব ননসেন্স কমেন্ট করা থেকে দূরে থাকুন।

      • সুনীল আকাশ

        দাদা বংগরাজ
        বিভুবাবু, স্বদেশ রায় এ জাতীয় লেখকদের লেখা নিয়া গবেষণার কিছু নাই । উনারা নিজেরাও গবেষণা করে কিছু লিখেন না। একটি বিশেষ দলের লেজুরবৃত্তি করেন মাত্র। উনারা এর বাইরে আর কিছু দিতে পারবেন বলে মনেও হয় না কারন দাসত্ব বড় খারাপ জিনিস, প্রতিভা নষ্ট করে ফেলে। আর সেটা যদি হয় লাভজনক দাসত্ব তাহলে তো কথাই নেই। আর দাদা আপনার নিজের সেন্স ঠিক রাখুন আমরা তাতেই খুশি হবো। কে যেন বলেছিলো ” বিভু বাবু স্বদেশ বাবু তৈল দেন আর তাতে হাওয়া বংগ বাবু” ।

      • Bongo-Raj

        আমার অনুরোধটার জবাব না দিয়ে, আরও একটা ননসেন্স কমেন্ট পেলুম। দুর্ভাগ্য!!
        বিভুবাবু, স্বদেশ বাবু গংদের লেখাতে গবেষণার অভাব আছে ধরতে পেরেছেন, চমৎকার ব্যাপার। তার মানে হলো আপনার গবেষণার বহুল প্রতিভা আছে ধরে নিতে পারি। তা সুনীল আকাশ বাবু, গবেষণামুলক একখানা রচনা লিখে আমাদের তাজ্জব বানিয়ে দিন। ও হাঁ, তার আগে, কমেন্টের মাঝে তার ছিটেফোটা হলেও কিছুটা পেশ করুন।

      • সুনীল আকাশ

        দাদা
        আপনার লেখাতেই আমরা তাজ্জব! এতো ভালো লিখেন কিভাবে দাদা! দেশে আসলে আপনাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করার জোর দাবি জানাচ্ছি। সাধারণ সম্পাদক হতে গেলে “লজ্জা” থাকতে নেই। আপনার এ গুণটা আছে দাদা। লেগে থাকেন বংগ দাদা ?

      • Bongo-Raj

        লজ্জা নেই বলে অপবাদ পাচ্ছি অনেকের কাছ থেকেই। কিন্তু কেন আমার লজ্জা নেই কারন টা খুঁজেই পাচ্ছি না। বেশী ধারালো প্রশ্ন হয়ে যাচ্ছে তাই উনারা জবাব দিতে পারছেন না।
        তারই সাইড ইফেক্টে উনারা ভুগছেন আর সেই কারণেই অসামঞ্জস্য সব কমেন্ট করে যাচ্ছেন!! সর‍্যি লজ্জা কি আসলে আমারই নেই নাকি!

        সাধারণ সম্পাদক হবার প্রস্তাব করছেন? ধন্যবাদ
        যেই দেশে জিব্রাইল এসে মন্ত্রী হলে সেই বেচারাও কয়দিন পর আপনাদের মাথা মোটা খোঁচানি খাওয়া শুরু করবে সেই দেশে সাধারন জনগন হয়ে থাকাটাই সুখের।

      • সুনীল আকাশ

        দাদা
        আপনার মতো অন্ধভক্তের জবাব দেয়া প্রয়োজন মনে করিনি। দাসত্ব যেদিন ছেড়ে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারবেন সে দিবো। দলদাসদের প্রতি আমার এলার্জি আছে। I care a fig about AL or BNP. একটি বিশেষ দলের ঢোল বাজানোর দায়িত্ব আমার না। এগুলো করে নোংরা মানুষ।

      • Bongo Raj

        হ্যাঁ আমি দলকানা কারণ
        – শত দোষ থাকেলেও এর চাইতে ভাল দল বাংলাদেশে আর নেই বলেই এটাকে সমর্থন করি।
        – এই দল বুকে জড়িয়ে ধরে রাখার মত একখানা পতাকা দিয়েছে।
        – অতীতের যেকোন সময়ের চাইতে বাঙ্গালী জাতিকে ভাল রেখেছে, আরও ভাল রাখার রোডম্যাপ সহ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
        – আরও হাজারো সমস্যার সমধান ভবিষ্যতেও দিতে পারে এমন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
        রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রাজা রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এদের ব্যক্তি জীবন খুঁজতে গেলে ডজন ডজন দোষ পাওয়া যাবে, তাই বলে তাদের সন্মান কমেনি!!!!!!

        তা মিয়াঁ আপনি কার/কিসের ঢোল বাজাচ্ছেন? অন্তত এ সাধারণ প্রশ্নের জবাব টা দেবার মত।

  7. zhir

    BNP sobsomoy e nijer joggotay biswas korena, kokhono military kokhono america ba pakistani sahajjo niye khomotay asece, aibar india r darostho hote chaice. obak howar kicu nei.

    Reply
  8. মাসুদ

    এমন স্পষ্ট ও যৌক্তিক লেখায়ও যদি কারো দ্বিমত পোষণ করার থাকে, তাহলে তাদের বোঝানো বিরস তো দূরের কথা, স্বয়ং শয়তানেও বোঝাতে পারবে না।
    বিএনপি যা-ই করুক, তবু তাকে নির্লজ্জের মতো সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। হায়রে অন্ধ আওয়ামী বিরোধিতা!

    Reply
  9. সুনীল আকাশ

    দাদা
    ভারতের সহযোগিতায় “ভোট ছাড়া” যদি আওয়ামী লীগ ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে তাহলে বিএনপি চেষ্টা করতে দোষ কি? History repeat itself. কে জানে বিএনপিও হয়তো ভোট ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। শিখেছে তো আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ??? । আপনি কেন ভয় পাচ্ছেন? একতরফা ভোটের মতো একচোখা লেখা না লিখে দেশ ও দশের ভালো হয় এমন লেখা লিখুন। বয়স তো হলো, এবার দলকে নয় দেশকে কিছু দিন!

    গত কিছুদিন ধরে বিডিনিউজ এর সাথে সরকার বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। এতো কিছু করেও যদি বিডিনিউজ সরকারের মন জয় করতে না পারে তাহলে সেটা দুঃখজনক।

    Reply
  10. Mute Spectator

    বিএনপি একটা বড় রাজনৈতিক দল হিসাবে যদি অন্ধ ভারত বিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসে এবং তা নিয়ে জনগণের কাছে যায়, জনগণই তখন ঠিক করবে তাঁরা বিএনপিকে গ্রহণ করবে কিনা। রাজনৈতিক দলগুলোর বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে অবস্থান পরিবর্তন আচানক কিছু নয়, বিভু বাবু আলবাৎ তা জানেন তথাপি বিশেষ উতলা হচ্ছেন কেন তা বোঝা গেল না। মুক্তিযুদ্ধের বিরধিতাকারি দেশ হিসাবে আওয়ামী লীগ চীনের সাথে বহুদিন সম্পর্ক রাখত না কিন্তু পরবর্তীতে দেশের স্বার্থে দলটি এখন চীনের বিশেষ মিত্র এবং এতে আমাদের ভালই হয়েছে । ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশি, বৃহৎ দেশ এবং ভারত ছাড়া আমরা স্বাধীন হতে পারতাম না। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ত্যাগ অপরিসীম। বিএনপির মত একটা বড় দল জন্ম থেকেই যে দলটি প্রকাশ্যে অন্ধ ভারত বিরোধিতা করে আসছে, পাকিপন্থীদের পালে হাওয়া দিয়েছে, ভোটারদের বিভ্রান্ত করে ফায়দা তুলেছে যার ফলে দেশটা ভারত প্রশ্নে আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত হয়েছে সে দল যদি ভুল অবস্থান থেকে সরে আসে তা কি দেশের জন্য ভাল নয়? বিভুবাবুর চিন্তার কারণ সম্ভবত এটাই যে এর ফলে দলটির ভোট না বেড়ে যায়।
    সত্যি কথা হচ্ছে আমাদের কোন দলের পক্ষেই অন্ধ ভারত বিরোধিতা করা উচিৎ নয়
    আবার অসম বানিজ্য এবং পানি সংক্রান্ত বিষয়ের মত নাজুক ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ ভাবে
    প্রতিবাদ করা উচিৎ।

    Reply
    • সিবগাতুর রহমান

      ‘সম্পর্ক রাখত না’ আর ‘বিদ্বেষী হওয়া’ কি এক কথা?

      Reply
  11. সৈয়দ আলী

    বি-র-স লিখেছেন, ‘প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশ ভারতের সহযোগিতা নিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়।’ সত্যিই কি বিএনপি ঠিক এ কথাটি এ ভাষাতেই বলেছে? কোথায় বলেছে? এ নিয়ে লিখবেন কি মি. সরকার?

    Reply
  12. সরকার জাবেদ ইকবাল

    দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাটা একান্ত জরুরি। কেননা, পারস্পরিক প্রভাবের বিষয়টি একেবারে অস্বীকার করা যায় না। তবে এক্ষেত্রে পার্থক্য ঘটে কোন দেশে কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তার উপর। যদি একই ঘরানার দল হয় তাহলেতো পোয়াবারো। ভারতের বিজেপি আর বাংলাদেশের বিএনপি দু’টোই সাম্প্রদায়িক দল। কাজেই, ওদের মধ্যে যদি পারস্পরিক সমঝোতা গড়ে ওঠে তাতে অবাক হবার কিছু নেই। কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরে এলে আওয়ামী লীগের সুদিন ফিরে আসতেও পারে! ততদিন মোদি-মমতা নাকের সামনে মুলো ঝুলিয়েই রাখবে, খেতে দেবে না।

    Reply
  13. Mirza Kibria

    তর্কের খাতিরে বিএনপির কথা সত্য ধরে নিলে প্রশ্ন আসে, আওয়ামী লীগ যদি ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ক্ষমতায় যায় এবং টিকে থাকে, সেটা যদি খারাপ এবং অগ্রহণযোগ্য হয় তাহলে বিএনপি যদি একই পথ অনুসরণ করে তা কেন সমর্থনযোগ্য এবং নন্দিত কাজ হবে? – এর জবাব ??????

    Reply
  14. সুমন তালুকদার

    দাদা
    দেশটা চলে তো ভারতের ইশারায়। আমরা তো ট্রানজিট থেকে শুরু করে জীবন যৌবন সব উনাদের দিয়ে দিলাম। কি পেলাম সেটা বড় কথা নয়। দাদা কি মনে কষ্ট পেলেন মনে হয় বি এন পি ভারত স্ট্র‍্যাটেজি নিলো! একটু ভয়ও কি লাগছে দাদা, ভারত যদি আপনার দলকে সাপোর্ট না দেয় তাহলে সামনের নির্বাচনে কি হবে? বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দলগুলো এখনো নির্বাচনের আগে বিদেশীদেশ বিশেষত ভারতের কাছে হাত পাতে। এটা আপনার লজ্জা লাগে কিনা কোন এক লেখায় জানাবেন। বিডিনিউজ সরকারী প্রতিনিধি হওয়ার পরেও কেন বারবার সরকারী রোষানলে পরছে দয়া করে আমাদের জানাবেন। ধন্যবাদ আরেকটা একচোখা দলকানা লেখার জন্য।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—