অবশেষে বুদ্ধিজীবীরা মুখ খুললেন। ধরে নেয়া হচ্ছিল বুদ্ধিবৃত্তি স্তাবকতার আড়ালে চাপা পড়ে গেছে। একটা সময় ছিলো যখন দেশে বিদেশে বুদ্ধিবৃত্তিই পথ দেখাতো। কোন ঘটনা ঘটার আগেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়তেন। আমাদের যৌবনে বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতাকে হত্যার ধাক্কা সামলানোর পর বুদ্ধিজীবীরা আর কোনদিন থেমে থাকেননি। জিয়া থেকে এরশাদ আমল দেশের মানুষের আশা হতাশা মানুষের মন ও মননের প্রতিনিধি ছিলেন তাঁরা। এরশাদ আমল ছিলো নাটক গান কবিতা মিলে এক জমজমাট প্রতিবাদী বাংলাদেশ।  যৌবনে সেই প্রতিবাদের আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়েছি আমরা। কবিতা লিখে কবিতা পড়ে বাড়ীতে থাকতে পারিনি। সেই প্রতিবাদের মানুষজন ধীরে ধীরে কেমন জানি মিইয়ে পড়লো। খালেদা জিয়ার আমলেও বাদ প্রতিবাদ ছিলো নিত্য সঙ্গী। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে সরকারে চেয়েছিলাম মানে কি এই যে, আর কোনদিন প্রতিবাদ হবেনা? কেন জানি তেমনই হয়ে উঠলো পরিবেশ। শেখ হাসিনার সাথে থাকা মানে উন্নতির সাথে থাকা একথা যেমন সত্যি তেমনি আওয়ামী লীগের অপরাধ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া মানেও কিন্তু সমাজ ও জাতির সাথে বেঈমানী করা। কে না জানে এই দল আর বঙ্গবন্ধুর দল কোন ভাবেই এক না।  সরকারী দল বিশেষত কয়েকদফা গদীতে থাকা সরকারী দলে আসল মানুষরা কোথায় হারিয়ে গেছেন। সে জায়গায় সামনে চলে এসেছে ঢুকে পড়া চামচা আর স্বাধীনতা বিরোধীচক্র। তবে তার মানে এই না যে  এর দোহাই দিয়ে তারা পার পেয়ে যাবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ও অন্য নেতারা আছেন কি করতে? নিয়মমাফিক খালেদা জিয়াকে গালমন্দ আর বিএনপি জামাতের গুষ্ঠী উদ্ধারই কি তাদের কাজ? কোন এক অজ্ঞাত কারণে আমরা ধরে নিয়েছি আওয়ামী লীগ না থাকলে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি এতিম হয়ে যাবে। যদিও শেখ হাসিনা বা সৈয়দ আশরাফের মত কয়েকজনকে বাদ দিলে এমন কিছু বোঝার উপায় নাই। বরং বর্তমান নেতাদের কান্ড দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে এই কি সেই আওয়ামী লীগ?

যে কথা বলছিলাম, সম্প্রতি মাদক বিরোধী যুদ্ধে নেমেছে দেশ।  এ যুদ্ধ মানুষ চেয়েছিল। কারণ মাদকের মরণ ছোবল আজ সমাজকে প্রায় ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই ছোবল একদিনে সমাজকে গ্রাস করেনি। ধীরে ধীরে  মাদক সমাজে  এমন ভাবে প্রভাব ফেলেছে মনে হতে পারে এটাই নিয়ম। এর কুফলে তারুণ্য এতটাই বিপথে– মা বাবাকে মেরে ফেলাও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে চাইছে। ফলে মাদকবিরোধী যুদ্ধ দরকারী। কিন্তু তার মানে এই না যে এই যুদ্ধকে পুঁজি করে একশ্রেণী আবার আঙুল ফুলে কলাগাছ হবে আর যাকে খুশী তাকে টার্গেট করে মেরে ফেলবে। এদের সমর্থনে যদি সরকারী দল এসে দাঁড়ায় তখন তো পুরো বিষয়টাই গোলমেলে হয়ে ওঠে। উন্নতি অগ্রগতি এসব তখন তুচ্ছ হয়ে যায় । নিরীহ মানুষের হাতে বন্দুক ধরিয়ে দিলেই কি যুদ্ধে জয়ী হওয়া যাবে? সমর বাবুকে দেখে কি মনে হয়েছে তিনি আসলে বন্দুকবাজ? হাতে ধরিয়ে দেয়া বন্দুকটা পরম আদরে আগলে রাখা বা ভার  বহনে অসমর্থ সমর বাবুকে দেখেই বোঝা যায় এটি বানোয়াট। সে ঘটনাকে ছাপিয়ে দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে কলংকতিলক হবে উঠেছে একরামুল হত্যা।  এটি এমন ঘটনা যেসব বুদ্ধিজীবীরা মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন বা নানা কারণে কিছু বলতেন না তারাও বিবেকের তাড়নায় মুখ খুলেছেন।

দেশবরেণ্য দশ কবি সাহিত্যিক সংগঠক নাট্য ব্যক্তিত্ব এক বিবৃতিতে একরামুলের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছেন। অনেক বছর পর বিবেকের এই সাড়া দেশের মানুষের মনে একটু হলেও স্বস্তি দেবে। মনে হবে এখনো শুভবোধ শেষ হয়ে যায়নি। বিলম্বে হলেও তাঁদের বোধোদয় স্বস্তির। দেশের মানুষের মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে গেছে একারমুলের হত্যাকান্ড। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা যখন চোখে পড়ার মত তখন দেশের মানুষ এমন  একটি নৃশংস হত্যাকান্ড কিভাবে মেনে নেবেন? আমরা বিশ্বাস করি সব কিছুর ওপরে আইন । যেকোন সভ্য সমাজের আস্হা আর বিশ্বাসের জায়াগাটাই হলো আইন ও বিচার। সেটি নাথাকলে দেশ এগুলো না  পিছিয়ে থাকলো তা আসলেই কোন বিষয় না। একরামুল কে বা কি তাঁর অতীত আমি জানি না। বাংলাদেশে এমন হাজার হাজার কমিশনার আছেন। যে সমাজে রাজনীতি পচে গলে দূর্গন্ধময় সেখানে কমিশনারের মত পদটি নির্ভেজাল  তা ভাবিনা। আমরা সবাই জানি রাজনীতিতে এখন ভালো মানুষের অংশগ্রহণ নাই। যারা নির্বাচন করেন বা ভোটে জেতেন কিংবা হারেন তাদের সবার পেছনে সীল মারা থাকে। সে সীলগালা সুখকর কিছু না। ফলে আমি একথা বলবো না যে, একরাম ছিলেন ধোয়া তুলসীপাতা। কিন্তু তার মানে এই না যে কাউকে ইচ্ছেমত গুলি করে  বিনাবিচারে ক্রশফায়ারে মারা জায়েজ।

একরামুলকে যেভাবে মারা হয়েছে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত যে অডিও টেপটি বাজারে চলছে তার ভেতর যদি গলদ থাকতো তো কেন ইংরেজী কাগজ ডেইলী ষ্টারের অনলাইন সংস্করণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো? এই অডিও টেপ দেশের মানুষতো বটেই দেশের বাইরের বাঙালির মনকেও নাড়া দিয়ে গেছে। বলাবাহুল্য এর নেগেটিভ প্রভাব গিয়ে পড়েছে সরকারের ওপর। এবং এটাই স্বাভাবিক। এই টেপে মেয়েদের কথা মায়ের কান্না আর গুলীর শব্দ একাত্তরকে মনে করিয়ে দিয়েছে। কে জানে এমন কত ঘটনা অগোচরে ঘটছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় মানুষের মনে এর জটিল প্রভাব। কে কোন দল করেন বা কাকে সমর্থন করেন এখানে সেটা কোন বিবেচ্য বিষয় নয়। এটা মানবিকতা ও সহজ অর্থে মানুষের বাঁচা মরার বিষয়। মানুষের এমন মরণের জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। সত্যি বলতে কি দেশ স্বাধীনের সময় আমরা ছিলাম বালক। সেই তের চৌদ্দ বয়সে ধরে নিয়েছিলাম পাকি পান্জাবীরা চলে যাবার পর আর কোনদিন ও আমরা নিজেদের বুকে গুলি চালাবো না। সে আশা কোথায় তলিয়ে গেছে কোন হতাশার গভীরে নিজেরাই জানিনা। বরং এখন এমন এক পরিবেশ এমন এক দেশ ও সমাজ যেখানে আমরাই আমাদের চরম দুশমন।

একারমুলের হত্যাকান্ড বাংলাদেশের ভোটারদের মনে কি বার্তা দিয়ে গেছে বা এর ফল কি হতে পারে রাজনীতি সেটাও বুঝতে পারছেনা। সরকারী দল মানে কি প্রশাসন , নিরাপত্তা বাহিনী , বা যে কোন অপঘটনার দায় নিজের কাঁধে নেয়া? ভুল যদি হয়ে থাকে তো তার দায় নেবে যারা ক্রশ ফায়ার করছে তারা। এই সহজ বিষয়টুকুও বুঝতে দিচ্ছেনা অপরাজনীতি।  দম্ভের  সরকারী দলের মন্ত্রী বলছেন, বড় কাজে ছোট ভুল হতেই পারে। প্রথমত এই ভুল কোনভাবেই ছোট কিছু না। তাছাড়া মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার চাইতে বড় আর কি ভুল থাকতে পারে? জনাব কাদের সেটাও ভুলে গেছেন। অথচ নির্বাচন সামনে। দেশ ও সমাজ তৈরী হোক বা না হোক নির্বাচনতো হবেই। একতরফা বলেই কি এমন দম্ভোক্তি করতে হবে? কোন রাজনৈতিক দলের জন্য কি সরকারে থাকা চিরকালীন? এসব সহজ কথা সবাই জানেন শুধু অন্ধ বর্বর রাজনীতি বোঝেনা।

প্রধানমন্ত্রী একা যতটা টেনে তোলেন ততটাই পিছিয়ে দেয় স্তাবক ও লুকিয়ে থাকা ঘাতকেরা। এই ঘাতকের দল থেকে ছদ্মবেশী রাজাকার বা স্বাধীনতা বিরোধী সবাই এখন লীগার। এমনকি বিদেশেও। দেশের মত প্রবাসেও  আওয়ামী লীগের নামে এরা তৎপর।  এরা সবকিছু এমনকি  জান কেড়ে নেয়াটাও জায়েজ মনে করে। আর আমাদের দালালী করার জন্য চাপ দিতে থাকে। আরে বাবা তোদের না হয় আখের গোছানোর ধান্দা আছে, যাদের নাই তারা কেন স্তাবকতা করবে? মোদ্দা কথা এই, একরামুল হত্যাকান্ড একটি অশণি সংকেত। এর বিহিত বা বিচার না করে ইফতার পার্টি কিংবা বড় কথার রাজনীতিতে পতনের বাইরে কিছু নাই। এই সত্য  বা এর ফল আগে পরে ভোগ করা রাজনীতি কিছুতেই তা মানতে চায়না। যেকোন যুদ্ধের নামে নিরীহ হত্যাকান্ড বন্ধ হোক। সবার আগে দেশের মানুষ এবং তাদের জান। এর কোন বিকল্প নাই।

মাদকবিরোধী যুদ্ধে মানুষের সমর্থন থাকলেও এই অভিযান এখন তোপের মুখে। এর কারন আমাদের অজানা নয়। যখনই মানুষ আশায় বুক বাঁধে বা ভরসা রাখতে শুরু করে তখনই আমাদের সমাজে এমন কিছু ঘটে যায় যা আবার হতাশার কালো অন্ধকার ডেকে আনে। মাদক এমন এক সর্বনাশা বিষয় যা সমাজকে প্রায় খাদের কিনারে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এতকাল ধরে চলে আসা অনিয়ম জঞ্জাল রাতারাতি শেষ হবেনা। শেষ না হবার পেছনে অনেক কারণ। আছে রাজনৈতিক দলবাজী আছে সিন্ডিকেট আছে ইন্ধন আছে ব্যবসা। অথচ রাজনীতি তা স্বীকার করেনা। সেদিন এক টিভি শোতে এক নামকরা গায়িকা দেখলাম সমানে বলে যাচ্ছেন ফেনসিডিল দেয় ভারত। ইয়াবা দেয় মিয়ানমার। ভাবখানা এই ওরা গছিয়ে দেয় আমরা ভালো বা সুবোধের মত গিলি। এই এক দোষ সমাজের। মদের জন্য পাশ্চাত্য ইয়াবার জন্য মিয়ানমার, ফেনসিডিলের জন্য ভারত অস্ত্রের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেই আমাদের কাজ শেষ। কেউ সত্য বলেনা। কেউ জানতে চায়না কিভাবে এর বিস্তার আর কারা এর পেছনে। দেশের সুশীল বুদ্ধিজীবী এমনকি একটু অগ্রগামী মানুষেরাও পাশ ফিরে ঘুমায়। তবে এবার ক্রশফায়ারের ঘটনায় শেষতক হুঁশ ফিরেছে।

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

১০ Responses -- “মুখ খুললো বুদ্ধিবৃত্তি, জাগুক মানুষের বিবেক”

  1. মি. আহমেদ

    লেখাটি অত্যন্ত ভাল। যদিও কয়েকটি বিষয় একটু এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেখানে প্রতিবাদ হবে সেখানে পুরোপুরি সত্যভাষণই গ্রহণযোগ্য। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী দিনগুলোর ইতিহাস জানবো, যখন স্বাধীনতার পর দেশের এক ভয়াবহ পরিণতি হয়েছিল। দেশ পারিবারিক দেশে পরিণত হওয়া, সিরাজ শিকদারকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা, দেশে দুর্ভিক্ষকে অস্বীকার করা, দেড় হাত মাপের শাড়ী আমদানী করা (সুন্দরী শাড়ী, যাতে মেয়েদের শরীর ঢাকতো না), রেডক্রসের বিদেশ থেকে আসা ত্রাণ কেলেঙ্কারী। দুর্ভিক্ষের বছরে ৫ পাউন্ডের কেক কাটা। দেশের সকল মিডিয়াকে বন্ধ করে দেওয়া, বাকশাল গঠন করা, রক্ষীবাহিনী গঠন করা, সবই তো ইতিহাস। আর ইতিহাসকে লুকানোও তো আরো একটা অপরাধের মধ্যেই পড়ে।

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      মি. আহমেদ, আমরা যারা ৭২-৭৫ সালের বিপদজনক দিন কাটিয়ে এখনো বেঁচে আছি, তাদের মনে আছে সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা। স্বাধীন দেশে কতো স্বপ্ন চোখে নিয়ে বাঙালি জাতি প্রস্তুত হচ্ছিলো, এখনকার মতোই মাৎস্যণ্যায়, আইনহীন অপরাধ ও নিজের লোকদের বিচারহীনতা ও কিছু মানুষের অকস্মাৎ ধনাঢ্য হয়ে উঠার বিভীষিকা আমরা কেউ ভুলিনি। অথচ এখন নতুন প্রজন্মকে পড়ানো হয়, ৭২-৭৫ সাল ছিলো দুধ-মধু প্রবাহের কাল।

      Reply
    • কাজী ফয়জুস সালেহীন

      এই সত্যগুলো দাদাও জানেন কিন্তু পাছে আবার কারো বিরক্তির কারণ হন এই ভয়ে লিখতে ভয় পান আমাদের নির্ভীক দাদা 😉

      Reply
  2. স্নেহা

    গত দশ বছরে কত বিরোধী মতের লোকেরা সাজানো নাটক ক্রসফায়ার ও গুম হয়েছে তাদের অডিও কেউ বের করেছে? একটা স্বাধীন দেশে মানুষ হত্যার এ কি খেলা? আদালত অপরাধীদের বিচার করে ফাঁসি দিক, আপনারা যাকে তাকে আইন নিজের হাতে নিয়ে হত্যা করবেন এটা তো স্বাধীন দেশে গ্রহণযোগ্য নয়! একজন নিরপরাধ মানুষকে হাজার কোটি টাকা দিয়ে ফেরত দিতে পারবেন? ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে, আপনি বড় নেতা যে গুম হবেন না গ্যারান্টি দিতে পারবেন? এদেশের পুলিশ পারে না এমন কিছু নেই। আপনার নামে মামলা নাই কিন্তু আপনাকে মেরে ৫০ মামলার আসামী বানিয়ে দেয়া তাদের কয়েক মিনিটের ব্যাপার। কাগজ কলম ঘষে ডেট দিয়ে সিল মেরে দিবে যাচাই করবে কে? পিতা বিএনপি করে ছেলে ছাত্র- তার নামেই ২টি মামলা দিয়ে দিচ্ছেন যে ভবিষ্যতে সরকারী চাকুরি তো দূরে থাক অাসামী হয়ে পালিয়ে বেড়ায়। ছোট্ট কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫০০০ লোকের নাম দিয়ে মামলা দিয়ে দিলেন আবার অজ্ঞাত তো আছেই। মানে গোটা দেশের ক্ষমতাসীনরা বাদে ৮০% লোকের নামে মামলা হয়ে গেল গত ১০ বছরে। হঠাৎ গ্রামে এসে দোকান হতে ২০ জন সাধারণ লোক ধরে নিল আর ২০ হাজার টাকা করে না দিলে অজ্ঞাত আসামী বানিয়ে চালান দিচ্ছে। কি স্বাধীন দেশ! কত সুন্দর জীবন ব্যবস্থা! মামলার ছড়াছড়ি!! সময় থাকতে কন্ট্রোল করুন। না হয় এ ব্যাধি গোটা জাতিকে আক্রমন করবে। আপনি ক্ষমতাসীনও মাপ পাবেন না। আমরা শান্তি চাই। দুর্নীতি ও ঘুষ মুক্ত দেশ চাই। জীবন যাপনের স্বাধীনতা চাই। দ্রব্যমূল্য সহনীয় চাই। সম্পদের সুষম বন্টন চাই। ১০ টাকা ট্যাক্স দিয়ে সেই পরিমান উন্নয়ন চাই। বিদেশে সম্পদ পাচারকারীদের বিচার চাই। ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার চাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সকল সরকারী আমলাদের হতে হয়রানি নয় সেবা চাই। জনগণের টাকার হিসাব ও সঠিক ব্যবহার চাই। আর এসব না করতে পারলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ পদত্যাগ চাই। সেবা দেবার জন্য ক্ষমতায় গিয়েছেন সেবা না করতে পারলে এমপি মন্ত্রীদের পদত্যাগ চাই। শিক্ষাকেন্দ্রে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও দখলবাজী হতে মুক্তি চাই

    Reply
  3. কাজী ফয়জুস সালেহীন

    দাদা
    এ সমস্ত গৃহপালিত বুদ্ধিজীবীদের কথায় খুশি হওয়ার কিছু নাই। ভোট বিহীন, ভোটার বিহীন সরকার বিগত ৫ বছর ধরে দেশ চালিয়ে আসছে এটা নিয়ে এ গৃহপালিত বুদ্ধিজীবীরা টু শব্দ করেন নাই। কেন জানেন? Money talks, honey.

    Reply
  4. নাহিদ সুলতান

    “জন্মই এদেশে এক আজন্ম পাপ”। এজন্য এদেশ থেকে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েও পালাতে চায় অন্য কোনও দেশে একটু ভালো থাকার জন্য।

    Reply
  5. আদিব

    আমাদের সমাজের অনেকে বর্তমানে মানসিকভাবে অসুস্থ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানুষের মতামত দেখলেই তা বোঝা যায়। হত্যা আর মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ফারাক বহুত, এ ব্যাপারটা বেশিরভাগ মানুষের মনে আর দাগ কাটে না। হত্যাকাণ্ডকে কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না, সেটা যত বড় মহৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বা হচ্ছে বলে প্রচার চালানো হোক না কেন। বন্দুকযুদ্ধের শুরুতে প্রায় সবাই অত্যন্ত খুশি মনে এর পক্ষে ছিল, চারিদিকে এর জয়-জয়কার। অতি উৎসাহী অনেকে আবার মন্তব্য করেন যে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মাদকাসক্তদেরও ক্রসফায়ারে মারা উচিত। তাহলেই দেশ, সমাজ উদ্ধার হয়ে যাবে। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ একটা সামাজিক আন্দোলন হওয়া উচিত, বন্দুকযুদ্ধ না। লক্ষ, লক্ষ মাদকাসক্তদের সাথে তাদের পরিবারের কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ জড়িত। মাদকাসক্তদের অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগে তাদের মানসিক অসুস্থতার ব্যাপারটা বোঝা উচিত। সমাজে ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন ধরণের মানসিক চাপ, সঙ্গদোষ, অবহেলা, ব্যর্থতা, হতাশা, একাকিত্ব ইত্যাদি থেকেই বেশিরভাগ মানুষ মাদকের পথ বেছে নিচ্ছে। যখন তারা কাউকে পাশে পাচ্ছে না, মাদক তার সর্বনাশা হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারের ঘাড়ে সব কিছুর দায়-দায়িত্ব চাপানোর প্রবণতা থেকে এটার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে রুখে দাঁড়াতে আমরা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছি। বর্তমান রাজনীতির ঘোলাজলে দিশাহারা সমাজে এখন এক ধরণের উগ্র মানসিকতা তৈরি হয়েছে। আমরা এখন চূড়ান্ত ফলাফলটা চাই, সেটা যে কোন ক্ষেত্রে, যে কোন প্রকারেই হোক না কেন। আইন ও বিচার বিভাগের ওপর দেশের মানুষের আস্থাহীনতাই বন্দুকযুদ্ধকে স্বাগত জানানোর প্রধান, যদি না একমাত্র কারণ। এই ব্যর্থতাটা সরকারের। প্রশাসনের অবহেলা এবং সংশ্লিষ্টতার জন্য মাদকচক্র এতদিন অবাধে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। তা না হলে পুলিশের “ভাষ্য” অনুযায়ী যাদের নামে আঠারো, বিশটা করে মামলা, খুনের আসামি, এলাকার বিখ্যাত “মাদকসম্রাট”, যাদের খোঁজ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এতদিন পায়নি, তারা নেহাত চুনোপুঁটির মতই “বন্দুকযুদ্ধে” দুদিনের মধ্যেই মারা পড়ল। জনাব কাদেরের “দুই একটা ভুলে অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হবে না” মন্তব্যটির ভাব সাধারণ মানুষের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তার ব্যাপার। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীর প্রতি গুমহত্যা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, নির্যাতনে মৃত্যুর যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও বিচার হতে হবে। মাদক চোরাকারবারিদের মূলহোতাদের খুঁজে বের করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোক, তবে অবশ্যই আদালতের রায়ে, জনগণের চোখের সামনে, যাতে আইনের প্রতি দেশের মানুষের শ্রদ্ধা, আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে মাদকাসক্তদেরকে উপযুক্ত চিকিৎসা এবং সাহচর্য দেয়ার মাধ্যমে তাদেরকে আবার সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, শুধুমাত্র ঘৃণা প্রদর্শন করে বা ক্রসফায়ারে দিয়ে দেশের কোন উপকার হবে না। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সব ধরনের বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে “দুই একটা” ভুলের শিকার যে আমরা, আমাদেরই প্রিয় মানুষদের কেউ হবে না, একথা জোর দিয়ে বলা যাবে না।

    Reply
  6. সরকার জাবেদ ইকবাল

    এতটুকুতেই খুশি হয়ে গেলেন? বুদ্ধিজীবীগণ দলীয় খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন কিনা তা ভাল করে যাচাই করতে হবে।

    “কে না জানে এই দল আর বঙ্গবন্ধুর দল কোন ভাবেই এক না।” কথাটা আপনিই শুধু বললেন, আর কেউ বলে না। একটি অপ্রিয় সত্যি কথা বলতে পারার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। একটি ঘটনা বলি, – দোকানে গেলাম পণ্ডস ক্রিম কিনতে। দোকানি একটি কৌটা এনে হাজির করলো। ঢাকনা খুলে পণ্ডস ক্রিমের মনলোভা সাদা রং আর মনমাতানো গন্ধ শুঁকে মনের আনন্দে কিনে নিয়ে ঘরে ফিরলাম। আঙ্গুল ডুবাতেই বেরিয়ে এলো তিব্বত ভ্যানিশিং ক্রিম! আওয়ামী লীগে এখন পণ্ডস ক্রিমের আস্তরণটাই আছে, ভেতরে সব ভ্যানিশিং ক্রিম।

    আরেকটি কথা, যেসব চাটুকার, স্তাবক বঙ্গবন্ধুর সর্বনাশের পথ সুগম করেছিল ঐ চক্রই কিন্তু এখনও শেখ হাসিনাকে ঘিরে আছে। আমার বিশ্বাস তিনি এ বিষয়ে সতর্ক আছেন এবং তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করতে পারবেন। তা না হলে এই চক্রই একদিন নৌকার তলায় ফাটল ধরাবে। তখন ডুবুডুবু নৌকাকে কূলে ভিড়ানো কঠিন হয়ে যাবে।

    Reply
  7. মহিন

    এত্তদিন দেশের ক্ষমতাসীনদের ঘুম ভাঙ্গেনি যখন নিজের দলের ১ নেতা ক্রসফায়ার হল তখন ক্ষমতাসীনরা জেগে উঠেছে। এখন বুঝতে পারছেন আমাদের আইনে আমরাও নিরাপদ নই। আর বিরোধীদল হলে কতটুকু নিরাপদ থাকব। গত দশ বছরে কত বিরোধী মতের লোকেরা সাজানো নাটক ক্রসফায়ার ও গুম হয়েছে তাদের অডিও কেউ বের করেছে? একটা স্বাধীন দেশে মানুষ হত্যার এ কি খেলা? আদালত অপরাধীদের বিচার করে ফাঁসি দিক, আপনারা যাকে তাকে আইন নিজের হাতে নিয়ে হত্যা করবেন এটা তো স্বাধীন দেশে গ্রহণযোগ্য নয়! একজন নিরপরাধ মানুষকে হাজার কোটি টাকা দিয়ে ফেরত দিতে পারবেন? ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে, আপনি বড় নেতা যে গুম হবেন না গ্যারান্টি দিতে পারবেন? এদেশের পুলিশ পারে না এমন কিছু নেই। আপনার নামে মামলা নাই কিন্তু আপনাকে মেরে ৫০ মামলার আসামী বানিয়ে দেয়া তাদের কয়েক মিনিটের ব্যাপার।কাগজ কলম ঘষে ডেট দিয়ে সিল মেরে দিবে যাচাই করবে কে? পিতা বিএনপি করে ছেলে ছাত্র- তার নামেই ২টি মামলা দিয় দিচ্ছেন যে ভবিষ্যতে সরকারী চাকুরি তো দূরে থাক অাসামী হয়ে পালিয়ে বেড়ায়। ছোট্ট কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫০০০ লোকের নাম দিয়ে মামলা দিয়ে দিলেন আবার অজ্ঞাত তো আছেই। মানে গোটা দেশের ক্ষমতাসীনরা বাদে ৮০% লোকের নামে মামলা হয়ে গেল গত ১০ বছরে। হঠাৎ গ্রামে এসে দোকান হতে ২০ জন সাধারণ লোক ধরে নিল আর ২০ হাজার টাকা করে না দিলে অজ্ঞাত আসামী বানিয়ে চালান দিচ্ছে। কি স্বাধীন দেশ! কত সুন্দর জীবন ব্যবস্থা! মামলার ছড়াছড়ি!! সময় থাকতে কন্ট্রোল করুন। না হয় এ ব্যাধি গোটা জাতিকে আক্রমন করবে। আপনি ক্ষমতাসীনও মাপ পাবেন না। আমরা শান্তি চাই। দুর্নীতি ও ঘুষ মুক্ত দেশ চাই। জীবন যাপনের স্বাধীনতা চাই। দ্রব্যমূল্য সহনীয় চাই। সম্পদের সুষম বন্টন চাই। ১০ টাকা ট্যাক্স দিয়ে সেই পরিমান উন্নয়ন চাই। বিদেশে সম্পদ পাচারকারীদের বিচার চাই। ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার বিচার চাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সকল সরকারী আমলাদের হতে হয়রানি নয় সেবা চাই। জনগণের টাকার হিসাব ও সঠিক ব্যবহার চাই। আর এসব না করতে পারলে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ পদত্যাগ চাই। সেবা দেবার জন্য ক্ষমতায় গিয়েছেন সেবা না করতে পারলে এমপি মন্ত্রীদের পদত্যাগ চাই। শিক্ষাকেন্দ্রে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও দখলবাজী হতে মুক্তি চাই।

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      মহিন, আপনি বলেছেন, ‘আদালত অপরাধীদের বিচার করে ফাঁসি দিক’ – সেই বিচারও তো টিকিয়ে রাখা যায় না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় (পড়ুন প্রধানমন্ত্রী) পরামর্শ দিলে আদালতের বিচার ব্যবস্থা বেয়ে আসা আদালতের রায় রাষ্ট্রপতি বাতিল করে দিচ্ছেন। অতো দলিল-দস্তাবেজ, অতো প্রমাণ, অতো সাক্ষী সব বৃথা হলো। একবার নয়, কয়েকবার। তাহলে বিচার বিভাগের বিচারের মূল্যটি কোথায়?

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—