মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগে এস. এস. সি পরীক্ষার রেজাল্ট হয়েছে। আমাদের দেশের এটা অনেক বড় একটা ঘটনা। দেশের সব পরিবারেরই পরিচিত কেউ না কেউ এস. এস. সি পরীক্ষা দেয়। আগ্রহ নিয়ে রেজাল্টের জন্যে অপেক্ষা করে। রেজাল্ট হবার পর ক্যামেরাম্যানরা নামী দামী স্কুলগুলোতে যায়, ছেলে মেয়েগুলোর আনন্দোজ্জ্বল মুখের ছবি তুলে আমরা পত্রপত্রিকায় দেখি, আমাদের ভালো লাগে।

আমি দুরু দুরু বক্ষে পরের দিন পত্রিকা খুলি, পত্রিকার ভেতরের পাতায় চোখ বুলাই, এখন পর্যন্ত একবারও হয় নাই যখন পরীক্ষায় রেজাল্টের হতাশার কারণে ছেলেমেমেয়রা আত্মহত্যা করে না। দেখে আমার বুকটা ভেঙে যায়। মানুষের জীবন কতো বড় একটা ব্যাপার তার তুলনায় এস. এস. সি পরীক্ষার গুরুত্ব কতো কম কিন্তু এই দেশের কিশোর কিশোরীদের সেটা কেউ বলে না। অভিমানী ছেলে মেয়েগুলো পরীক্ষায় মনের মত রেজাল্ট করতে না পেরে আত্মহত্যা করে ফেলে। মাঝে মাঝে একটা দুটো ঘটনায় খুটিনাটি বের হয়ে আসে আমরা শুনে হতবাক হয়ে যাই। যখন জানতে পারি এরকম ঘটনার বড় একটা কারণ অভিভাবকদের অবহেলা তখন কোনোভাবেই সেটা মেনে নিতে পারি না। পরীক্ষায় রেজাল্ট তো খারাপ হতেই পারে, যদি হয়েই যায় তখন অভিভাবকদের আপনজনদের বুক আগলে সেই কিশোর কিংবা কিশোরীটিকে রক্ষা করার কথা, তাকে শান্তনা দেওয়ার কথা, সাহস দেওয়ার কথা। অথচ পুরোপুরি উল্টো একটা ঘটনা ঘটে, বেশীর ভাগ জাগায় অভিভাবকদের লাঞ্চনা গঞ্জনা অপমানে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ছেলেমেয়েগুলো গলায় দড়ি দেয়। ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে। পৃথিবীর আর কোথাও আমাদের কিছু অভিভাবক থেকে নিষ্ঠুর অভিভাবক আছে কিনা  আমার জানার খুব কৌতূহল হয়।

এটা কেউ অস্বীকার করবে না যে দেশের মানুষ লেখাপড়ার গুরুত্বটি ধরতে পেরেছে, সবাই তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাতে চায়। কিন্তু কীভাবে কীভাবে জানি লেখাপড়ার আসল অর্থটি কোথায়  হারিয়ে গেছে। সবার ধারণা হয়েছে লেখাপড়ার অর্থ পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করা। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেও যে অনেক সময় একটি ছেলে বা মেয়ে কোথাও কিছু  করতে পারছে না সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর পরও আমাদের অভিভাবকদের টনক নড়ছে না। ছেলেমেয়েদের যে একটা আনন্দময় শৈশব থাকতে হয় সেটি অনেকেই জানে না। শুধু অভিভাবকদের দোষ দেই কীভাবে, আমরা নিজেরাই কী লেখাপড়ার পুরো প্রক্রিয়াটাই শুধু পরীক্ষার মাঝেই সীমাবদ্ধ করে ফেলিনি?

পৃৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গায়ক, লেখক, শিল্পী, ফুটবল প্লেয়ার বের করতে দেয়া হলে সবাই বিভ্রান্ত হয়ে যায়। কাকে ছেড়ে কার নাম বলবে ধরতে পারে না। কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিকের নাম বলতে বলা হলে দেখা যায় কোনো তর্ক বিতর্ক না করে সবাই আলবার্ট আইনস্টাইনের নাম বলছে। আমার ধারণা লেখাপড়ার আসল উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিৎ সেটা বোঝার জন্যে আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনের কয়েকটা উদাহরণ পরীক্ষা করে দেখা যায।

তার জীবনের একটা গল্প এরকম। তিনি তখন আমরেকিা এসেছেন, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে থাকেন। এতো বড় একজন বিজ্ঞানী তার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষ খুবই সতর্ক। একদিন রাত্রিবেলা ইউনিভার্সিটির পুলিশ দফতরে একটা টেলিফোন এসেছে। একজন মানুষ টেলিফোন করে আইনস্টাইনের বাসার নম্বরটি জানতে চাইছে। খুব সাভাবিক কারণেই পুলিশ বলল, আইনস্টাইনকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য তার বাসার নম্বরটি গোপন রাখা হয়েছে। এটি কাউকে বলা যাবে না। মানুষটি পুলিশকে জানালো তাকে আইনস্টাইনের বাসার নাম্বর জানালে কোনো ক্ষতি নেই। কারণ তিনি নিজেই আইনস্টাইন। বাসার নম্বাটি ভুলে গিয়ে এখন নিজের বাসাটি খুঁজে বের করতে পারছেন না।

বিখ্যাত মানুষদের নিয়ে অনেক ধরনের গল্প থাকে, কাজেই এই গল্পটি কতখানি সত্যি এবং কতখানি অতিরঞ্জিত আমার জানা নেই। আমরা নিজেরাও অনেক সময় অনেক কিছু ভুলে যাই কিন্তু সেটি কখনো দশজনের সামনে প্রচার করা হয় না, উল্টো আমরা অপদার্থ মানুষ হিসেবে বকা ঝকা খাই। তবে আইনস্টাইনের এই গল্পটির একটা গুরুত্ব আছে, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ একজন বিজ্ঞানী যিনি তার মস্তিষ্ক ব্যবহার করে সারা পৃথিবীর চিন্তার জগতে ওলট পালট করে ফেলতে পারেন তার নিশ্চয়ই একটা নম্বর মনে রাখার ক্ষমতা আছে কিন্তু তিনি তার মস্তিষ্কটিকে তথ্য দিয়ে ভারাক্রান্ত করতে চাইতেন না। আমাদের মস্তিষ্কটি তথ্য জমা রাখার জন্য তৈরী হয়নি, আমাদের মস্তিষ্ক তৈরী হয়েছে তথ্যকে বিশ্লেষণ করার জন্য, তথ্যকে প্রক্রিয়া করার জন্য। সোজা কথায় বলা যায় সমস্যা সমাধান করার জন্য।

কাজেই আমরা যখন দেখি ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করছে শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাবার জন্য কিন্তু সেটা করতে গিয়ে তার মহামূল্যবান মস্তিষ্কটি অপব্যবহার করে সেটাকে অকেজো করে ফেলছে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাটাকে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে তখন অবশ্যই আমাদের দুশ্চিন্তা হয়।

মস্তিষ্ক নিয়ে কথা বলতে হলে ঘুরে ফিরে অনেকবারই আইনস্টাইনের কথা বলতে হয়। আমরা কোনো কথা বললে সেটা কেউ গুরুত্ব দিয়ে নেবে না কিন্তু আইনস্টাইন বললে সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই। আইনস্টাইন বলেছেন জ্ঞান থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কল্পনাশক্তি। এই কথাটি আমি অসংখ্যবার উচ্চারণ করেছি, অসংখ্যবার ছেলে মেয়েদের মনে করিয়ে দিয়েছি। (কোনো কোনো ছেলেমেয়ে আমাকে প্যাচে ফেলে দেওয়ার জন্যে বলে, স্যার তাহলে আমরা লেখা পড়া বাদ দিয়ে দিন রাত গালে হাত দিয়ে কল্পনা করি না কেন? আমি তাদের চেষ্টা করে দেখতে বলেছি তাহলে নিজেরাই আবিষ্কার করবে জ্ঞানের ওপর ভর না করে শুধু কল্পনা বেশী দূর যেতে পারে না।) কল্পনা শক্তিকে বেশী গুরুত্ব দেওয়ার কারণটি সহজ। আমাদের যখনই জ্ঞানের ঘাটতি হয় আমরা চেষ্টা চরিত্র করে সেই ঘাটতিকে পূরণ করে ফেলতে পারি। কিন্তু যদি কল্পনা করার শক্তি একবার হারিয়ে ফেলি তাহলে সেটা আর ফিরে পাওয়া যায় না।
কাজেই আমাদের লেখাপড়ার উদ্দেশ্যটাই হতে হবে কল্পনাশক্তিকে বাঁচিয়ে রাখার একটা যুদ্ধ। প্রতি পরীক্ষায় গোল্ডেন ফাইভ পেয়ে জীবনের আসল পরীক্ষায় যদি আমরা একটা ছেলে মেয়েকে অপ্রয়োজনীয় অকেজো একটা মানুষ হিসেবে পাই তাহলে সেই দুঃখ আমরা কোথায় রাখব?

সপ্তাহখানেক আগে লেখাপড়া সংক্রান্ত ব্যাপারে আমার দুটি ছোট প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ হয়েছে। প্রথম প্রতিক্রিয়াটি একজন অভিভাবকের, তিনি আমার কাছে জানতে চেয়েছেন তিনি তার ছেলেটিকে কি বাংলা মিডিয়ামেই রাখবেন নাকি ও লেভেলে এ লেভেলে সরিয়ে নেবেন। এসব ব্যাপারে আমি কখনোই কোনো উপদেশ দিই না, এবারেও দিইনি কিন্তু আমি জানতে চেয়েছি কেন হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্তটি নিতে চাইছেন। তিনি যেটা বললেন সেটা শুনে আমি হকচকিয়ে গেলাম। অভিভাবকটি আমাকে জানালেন আমাদের দেশের মূল ধারার লেখাপড়ায় তিনি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয় যদি বা ফাঁস না হয়  তাহলে সেই প্রশ্ন হয় খুবই নিম্নমানের, পড়াশোনার পদ্ধতি মান্ধাতা আমলের। তার ধারণা এই পদ্ধতিতে পড়াশোনা করে একজন ছেলে বা মেয়ে বিশ্বমানের লেখাপড়া করতে পারবে না। যেহেতু পাশাপাশি আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে এবং সেই পদ্ধতিতে তার লেখা পড়া করানোর ক্ষমতা রয়েছে তাহলে কেন সেটি করাবেন না।

আমি ব্যাপারটি জানার পর আমার পরিচিত অনেকের সাথে এটি নিয়ে কথা বলেছি, আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তাদের কেউই ব্যাপারটি শুনে অবাক হলেন না। যে বিষয়টা আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সেটি হচ্ছে এক সময় এই দেশের লেখাপড়ার ওপর অভিভাবকদের আস্থা ছিল, এখন যতই দিন যাচ্ছে ততই আস্থা চলে যাচ্ছে। পৃথিবীতে সবকিছু ধীরে ধীরে ভালো হবার কথা, মনে হচ্ছে আমাদের দেশে লেখাপড়ার বেলায় উল্টোটি হচ্ছে। সবার ধারণা যতই দিন যাচ্ছে লেখাপড়ার মান কমে আসছে। এর অনেক কারণ আছে, বেশ কিছু কারণের কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এটাকে একটা সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা না হবে ততক্ষণ তার সমাধান হবে না। কেউ কি লক্ষ করেছে যতদিন শিক্ষা মন্ত্রনালয় স্বীকার করেনি প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে ততদিন প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হয়নি। যখন স্বীকার করেছে শুধুমাত্র তখনই প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হয়েছে।

লেখাপড়া নিয়ে দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়াটি পেয়েছি একজন এস. এস. সি পরীক্ষার্থী থেকে। সে খুলনার একটা স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং সেই স্কুলের ছেলে মেয়েরা ক্লাশে আসে না। ক্লাশে না এসে তারা কী করে তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে, আমরা সেটা নিজেরাই অনুমান করতে পারব। আমাকে চিঠিটা কয়েকবার পড়তে হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার জন্যে যে বিষয়টি একটি স্কুল নিয়ে। কলেজে এধরনের ঘটনা ঘটে সেটা আমরা সবাই জানি এবং মনে হয় আমরা সবাই সেটা মেনেও নিয়েছি। শিক্ষকেরা ক্লাশে পড়ান না এবং অনেকে উৎসাহ নিয়ে বাসায় পড়ান সেটা এখন সামাজিকভাবে স্বীকৃত বিষয়। কিন্তু আমার ধারণা ছিল স্কুলের বিষয়টি আলাদা লেখাপড়া হোক কি না হোক ছেলে মেয়েরা সবাই স্কুলে যায়। কিন্তু এখন দেখছি সেটি সত্যি নয়। যদি স্কুলে যাবার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে ছেলেমেয়েরা ক্লাশে না এসে অন্য কোথাও যায়, অন্য কিছু করে তাহলে সেটা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার। গল্প উপন্যাসে খুবই খারাপ একটা স্কুল বোঝানোর জন্য আমি নানা ধরনের বিচিত্র ঘটনার কথা লিখি, সেখানেও আমি এটা লিখতে সাহস পাই না যেখানে ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসার জন্যে বাসা থেকে বের হয়ে স্কুলে আসছে না। যদি শিক্ষকেরা সেটা অভিভাবকদের নজরে না আনেন আর অভিভাবকেরা এর সমাধান না করেন তাহলে শেষ পর্যন্ত আমরা কোন তলানীতে পৌছাব কে জানে?

এই পর্যন্ত লিখে আমি আবিষ্কার করেছি যে আমি সারাক্ষণই মন খারাপ করা বিষয় নিয়ে লিখে যাচ্ছি, কিন্তু আশেপাশে যে ভালো কিছু নেই তা নয়, সেগুলো দেখে ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে না নিই তাহলে কেমন হবে?

স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই মাত্র অভিযোগ করেছি, আবার এই স্কুলের ছেলেমেয়েরাই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো ছাত্রছাত্রীদের হারিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই না, তারা একটা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পদক পর্যন্ত পেয়েছে। একটু খানি সুযোগ করে দেয়া হলে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমাদের তাক লাগিয়ে দেয়, তাই তাদের নিয়ে মাঝে মাঝে দুশ্চন্তা হয়তো করি কিন্তু হতাশ কখনো হইনি।

শুধু অপেক্ষা করে থাকি দেখার জন্যে দেশটার লেখাপড়ার বিষয়টা কখন আরেকটু গুছিয়ে নেয়া হবে।

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪ Responses -- “টুকিটাকি ভাবনা”

  1. রিপনউল্লাহ

    জাফর ইকবাল স্যারের যেকোন লেখার শেষেই আমি প্রতিক্রিয়াগুলো পড়ি, এবং সেখানে কিছু প্রতিক্রিয়াশীল লোকের হাস্যকর প্রতিক্রিয়া দেখি। যাদের কাজ স্যারের যেকোন মতামতের বিরুদ্ধে হাস্যকর যুক্তি তুলে ধরা, এরা হয়ত জানে না বর্তমানের তরুণ প্রজন্মরা তাদের মিথ্যা ও হাস্যকর প্রপাগান্ডা গায়ে মাখে না। এদের আদর্শিক গুরুদের বিপক্ষে লিখলে অথবা সরকারের কিছু ভালো দিকের প্রশংসা করলেই এদের কাছ থেকে জোটে দলকানা নামক গালি। অথচ এরা প্রকাশ্যে না হলেও পরোক্ষভাবে তথা মনে মনে স্বাধীনতাবিরোধীদের আদর্শ মনে ধারণ করে।

    Reply
  2. Dr.Salam

    আপনারা এসি রুমে বসে সুন্দর সুন্দর পরামর্শ দিতে পারেন। আমাদের আগে দরকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা। সেজন্য দরকার সার্টিফিকেট। গায়ক, নায়ক, খেলোয়ার হিসেবে কয়জন জীবিকা নির্বাহ করে? একজন অধ্যাপক হয়ে কিভাবে আপনি গায়ক, নায়ক হওয়ার উদাহরণ দিলেন? আপনার সন্তানকে তো নায়ক, গায়ক, খেলোয়ার না বানিয়ে একাডেমিক ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিদেশ পাঠিয়েছেন। আপনার বাবাও আপনাদের ২ ভাইকে যুদ্ধে না পাঠিয়ে ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিদেশ পাঠিয়েছেন।

    Reply
    • M.J. Shan

      Criticism should be constructive. You have done very malicious and personal attacks. Your speech is not respectful and it seems like a lack of good education.

      Reply
  3. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন

    আসসালামু আলাইকুম স্যার। অনেকদিন পর আপনার মত একটা লেখা লিখেছেন। মাঝে মাঝে আপনার কিছু লেখায় বেশ হতাশ হই; যখন আপনার কোন লেখা রাজনৈতিক নেতাদের মত একপেশে হয়। ধন্যবাদ স্যার।

    Reply
  4. Bongo-Raj

    অনেককেই বলতে দেখি, জাফর ইকবাল স্যার কেন কমেন্টকারীদের বকবকানি গুলো পড়েন না বা প্রতিক্রিয়াই বা কেন দেখান না। এটা কে কি বলবো? আজব ব্যাপার? নাকি বলবো আজব চিড়িয়াদের প্যাঁক প্যাঁক??
    সে যাই হোক, জাফর স্যার শুধু নন, আরও অনেক লেখকই প্রতিক্রিয়া দেখান না, এই সহজ ব্যপার খানা এই চিড়িয়াদের চোখে পড়ে না তাই এদের আজব চিড়িয়া না বলে কি বলা যেতে পারে?
    তারও উপর, ছাগলদের সব প্যাঁক প্যাঁকে জবাব দিতে গেলে ছাগল গং হয়তো একদিন ভাবা শুরু করবে যে আরে!! আমি তো বুঝি অধ্যাপক হয়ে গেলাম। ওও বাবা বড় বিপদ — ছাগল অধ্যাপক!!

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব বঙ্গরাজ, সংক্ষেপে আপনাকে একটি গল্প বলি। ‘৯০ সালের ঘটনা। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তা নিয়ে একটি স্কুলের মাঠ উঁচু করার কাজে হাত দিলাম। এলাকার কিছু ‘অতি পণ্ডিত’ যুবক আমাকে প্রধান আসামী করে মোট ৭ জনের নামে ‘জোরপূর্বক জমি দখল করিয়া মাটি কাটিয়া লইয়া যাওয়া’ এই নামে মামলা ঠুকে দিল।

      যথারীতি চিঠি এলো ৭ দিনের মধ্যে কোর্টে দেখা করতে হবে। প্রথম মামলার অভিজ্ঞতা। একটু ভয় পেয়েই গেলাম। কোর্টে গিয়ে দেখি বিচারক আমার শিশুকালের বন্ধু। অবাক হয়ে জানতে চাইলো, “তুমি এইখানে ক্যান?” সবকিছু শুনে উনি বললেন, “তুমি আইবা না, মামলা ডিসমিস।” ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতেই ব্যাখ্যা দিলেন, “তুমি আমলে না নিলে অটোমেটিকেলি মামলা ডিসমিস হইয়া যাইবো।”

      তাই, আপনার মতামতগুলোকে আমি আর আমলে নিচ্ছি না। ভাল থাকবেন। শুধু একটা কথাই বলবো, please think positive and act positive, দলকানা থাকবেন না।

      Reply
      • সৈয়দ আলী

        সরকার জাবেদ ইকবাল, আপনি অপাত্রে ঘি ঢালছেন। পাত্রটিও ফুঁটো, ঘি’র কিমৎ (মূল্য)ও সে বোঝে না। লক্ষ করবেন তার প্রতিটি মন্তব্যে মূর্খের আক্রমনাত্মক আচরন (উদাহরন: “অনেককেই বলতে দেখি, জাফর ইকবাল স্যার কেন কমেন্টকারীদের বকবকানি গুলো পড়েন না বা প্রতিক্রিয়াই বা কেন দেখান না। এটা কে কি বলবো? আজব ব্যাপার? নাকি বলবো আজব চিড়িয়াদের প্যাঁক প্যাঁক??”) লক্ষ্য করুন, ভাষার দুর্গন্ধ। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি লেখক যদি পাঠকের জন্য লিখেন, তবে পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানা একটি সৌজন্য। দু’ধরনের লেখকেরা পাঠকের মুখোমুখি হতে চান না। ১. অপরাধবোধের কারনে পলায়নী মনোবৃত্তি, একে যেকোন নামেই ডাকা হোক। ২. চটিজাতীয় কুৎসিৎ গোপন সাহিত্য লেখক। সেখানে পরিচয় প্রকাশ পেলে সরাসরি লাল দালান।

      • Bongo-Raj

        জনাব সরকার জাবেদ ইকবাল
        আমার মতামত আমলে নেবেন না খুবই ভাল কথা- আমি বোধহয় আপনাকে আমলে নেবার অনুরোধ করেছি এমনটা তো মনে আসছে না। তবে আমলে নেওয়া না নেওয়া সম্পূর্ণ আপনার অধিকার । সে যাই হোক,
        আমাকে think positive and act positive বলে উপদেশ দিয়েছেন, ধন্যবাদ তার জন্যও। কিন্তু দাদা, দেশ সমাজকে নিয়ে আপনার কমেন্টগুলো কষ্ট করে পড়ে দেখুন, উপদেশটা কার জন্য বেশী দরকার হয়তো জবাব পেতেও পারেন!
        দুঃখের ব্যাপার দেশ/সমাজ নিয়ে পজেটিভ কমেন্ট করেই আমি কিন্তু অনেকের আপনিও কি ছিলেন?) চ্যাঁটানি খেতে হয়েছে। দলকানা উপাধি পেলাম।
        এই প্রসঙ্গে শুধু রেফারেন্স হিসাবেই জানাচ্ছি আমি বাংলাদেশের ভোটারও নই, গত ৩৮ বছর ধরে বাংলাদেশেও থাকি না, শুধু বছরে একবার বা দু’বছরে একবার জন্মস্থানটা দেখে আসি। আর তাতে গত নয় বছরে বাংলাদেশে যে পরিবর্তন এসেছে তা যদি think positive and act positive দিয়ে দেখ, জবাব টা আপনিই বলে দিন!!

        একটা মজার ব্যাপার, আমার উপরের কমেন্টে আপনি (সাথে আরও একজন আছেন) কেন রিয়েক্ট করলেন??
        সবশেষে আপনার হাকিম বন্ধুকে নিয়ে যেই উপমাটা দিলেন, পুনরায় পড়ে দেখুন, ভুলটা টের পাবেন। তবে আমি TYPO হিসাবেই নিয়েছে।
        আরও একটা ব্যাপার বন্ধু দেখে শুনেই বেছে নিন, হোক না তা কমেন্ট সেশনে।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        জনাব সৈয়দ আলী, আপনার ধারণা হয়তোবা পুরোপুরি অমূলক নয়। মতামতের ইংরেজি সংস্করণে (Opinion) “Marriage: A thing of the past?” লেখায় পাঠকদের মতামত এবং লেখিকার সৌজন্যবোধ দেখুন।

        আরেকটি কথা, যারা মন্তব্য করেন তাদের অনেকেরই জানা নেই ‘সইরা বসেন’ বলার চেয়ে ‘আমি কি বসতে পারি?’ বলাটা ভদ্রতা। মোদ্দা কথা, মন্তব্যগুলোতে শালীনতাবোধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রকাশ থাকাটা জরুরি। ভাল থাকুন।

    • সুনীল আকাশ

      দাদা বংগরাজ
      নিজের পরিচয় দিলেন। ধন্যবাদ।

      Reply
    • কাজী ফয়জুস সালেহীন

      বিডিনিউজ২৪ এ মতামত পর্বে যে ভাষার প্রয়োগ দেখছি তাতে তো এখানে আর কমেন্ট করার সুযোগ নাই। একজন তো মনে হয় আর সামলাতে না পেরে কাপড় চোপড় খুলে এখানে ছবি দিয়ে দিবে মনে হয়। বুড়া বয়সের ভীমরতি নাকি সুশিক্ষার অভাব বুঝতে পারছি না।

      Reply
    • নাহিদ সুলতান

      জনাব বংগরাজ
      এটা তো বিডি নিউজ এর পাঠক মতামত কলাম। আপনি হয়তো মনে করেছেন এটা ‘ডিসকভারি চ্যানেল’ তাই হয়তো গরু ছাগল ভেড়া এসব নিয়ে লিখেছেন। সত্য কথা যদি নিতে না পারেন চুপ করে থাকাটাই শ্রেয়। নিজে কোন খোয়াড় থেকে এসেছেন সেই পরিচয় পাবলিক প্লেসে না জানানোটাই মনে হয় উত্তম।

      Reply
      • Bongo-Raj

        জনাবা নাঃ সুলতানা
        আমার আসা খোয়াড় এর পরিচয় জানতে চেয়েছেন তাই বলেই ফেলি-
        জ্বী, আমি এসেছি সেই খোয়ার থেকেই যে খোড়ারের ৯৯.৯৯% ই বদমাইশ, দুর্নীতিবাজ, অসৎ চরিত্রের। সেই খোয়াড়ের নাম বাংলাদেশ/বাঙ্গালী।

        এত বড় বুক ফুলিয়ে যখন বলছেন তাহলে বলতেই হয় আপনি বাকী ০.০১% গ্রুপের। নিশ্চয়ই খুশি। তাই না দিদি। ভালো থাকুন।

      • নাহিদ সুলতান

        দাদা
        দয়া করে নিজের চরিত্রের সাথে দেশের নাম মেলাবেন না। আপনার মতো একজন দলকানা দলান্ধ দলদাষ মানুষ সারা দেশ রিপ্রেজেন্ট করে না।

      • Bongo-Raj

        দিদি নাহিদ সুলতান
        দলকানা হলেই বুঝি অসৎ চরিত্রের হয়ে যায়?
        আমি দলকানা কিনা নিজেও বুঝি না, হবেওবা!!
        তা দিদি, যে বাংলাদেশের ভোটারই নয়, বাংলাদেশেই থাকে না, সেও কি দলকানা? সেও কি দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারে?

        আমাকে বোধ হয় দলকানা না বলে, দেশ একটু সামনে আগাচ্ছে (সামাজিক ইনডেক্সে পাশের সব দেশের চাইতে এগিয়ে) তাতেই বেজায় খুশি, তাই খুশি-কানা বলতে পারেন!!

      • নাহিদ সুলতান

        দাদা
        বিদেশে এসি রুমে বসে কেবল ” ইনডেক্স” দেখলেন 😂😂😂 পারলে একবার এসে ঘুরে যাবেন এই সোনার বাংলায় । আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাশে !!!

      • Bongo-Raj

        দিদি নাহিদ সুলতান
        আসলে বাংলাদেশ জন্মস্থান বলে কম করে হলেও বছরে ১বার যাওয়া হয়। যতদিন থাকি তার মাঝে অন্তত ৩০% সময় গ্রামেই থাকি (যেখানে জন্ম হয়েছিল), সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি গ্রামের মানুষের চিন্তা ভাবনা, (*)-ফলানোর যে নতুন ঢেউ মানুষের মাঝে এসেছে তা টের পাই। এটা সরকারের সাপোর্ট ছাড়া হয় না আর তা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত।
        ——-
        তা আপনি গ্রামে বছরে কয় বার যান? আনন্দ আকাশে বাতাসে আসতে হলে আরও সময় যে দরকার দিদি!

    • বাঙাল

      সরকার জাবেদ ইকবাল ও সৈয়দ আলী, এই দুই ব্যক্তি জাফর স্যারের কোন লেখা পেলেই সেখানে এসে আবল-তাবল মন্তব্য করে বসে। অধিকাংশ সময়ই বিয়ষবস্তু না বুঝেই মন্তব্য করে। উনাদের এই গুরুতর “চুলকানির” (দুঃখিত এই শদ্ধটি ব্যবহার করার কারণে) মুল কারণ, উনাদের আদর্শিক গুরুদের (গো-আজম, নিজামী, মুজাহিদ) করা একাত্তরের আপরাধগুলি (ধর্ষণ, গণহত্যা, দেশের স্বাধীনতা বিরোধিতা) নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য যে লোকটি সবচেয়ে বেশী আবদান রেখেছেন তিনি হলেন ডঃ জাফর ইকবাল। হয়তো জাফর ইকবাল না থাকলে নতুন প্রজন্মকে এইভাবে একাত্তরের ঘাতকদের বিচার দাবিতে রাস্তায় নামানো সম্ভব ছিল না। এই “ছাগু” গুলি যতই স্যারের লেখা নিয়ে আজে-বাজে মন্তব্য করুক আমি বিশ্বাস করি, এদের কথাগুলি এদের সমগোত্রীয়রা ছাড়া কেউ আমলে নিবে না। এরা চিরদিনই অন্ধকার আস্তাকুড়েই থাকবে। অার যারা জাফর ইকবাল এর লেখা থেকে চিন্তার খোরাক পেতে চায়, তারা এদের মন্তব্যেকে ছাগুদের ম্যাঁ..ম্যাঁ হিসাবে দেখবে।

      Reply
      • সৈয়দ আলী

        @বাঙাল, নদীর রচনা পড়ে পরীক্ষার হলে যেয়ে গরুর রচনা লিখতে বলার সেই পুরনো গল্পটির মতো গরুকে টেনে-হিঁচড়ে নদীতে নামানোর খাসলৎ পুরো অর্জন করেছেন বাঙাল নামের গাঁড়ল। তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়ে তাঁর অরুচিকর ভাষায় আমার আদর্শিক গুরু নির্ধারন করেছেন স্বাধীনতা বিরোধীদের। আমি যদিও তা নই, তবু বাঙাল কোন কথা মানবে না, কারণ তার আছেই তো একটি যুক্তি মাত্র। বিদ্যা ও জ্ঞানের অনটনতো আর আমরা দূর করতে পারি না! অন্যদিকে যাদেরকে আমাদের আদর্শিক গুরু বলা হচ্ছে, তাদের সাথে রাজনৈতিক শয্যায় শয়ন করে বাঙালের নেতা-নেত্রীরা রাজনৈতিক গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে তা বাঙাল দেখে না। ১৯৭১ সালের মুজাহিদ বাহিনী প্রধান এখন রাষ্ট্রীয় আদর্শিক গুরু। বাঙালের তাতে অসুবিধা নেই। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য জন্য তাকে চাটতেও বাঙাল রাজি।
        আমার কোন বিগ-ম্যান কম্পলেক্স নেই বলে ড. জাফর ইকবালকে আমার বিবেচনামত বিচার করি। তাঁর প্রচুর মন্তব্যে আমি সমর্থন করি, দলবাজি ও অসাধুতার জন্য তাঁকে আক্রমন করি। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়ার কারণ দেখি না।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        জনাব সৈয়দ আলী, যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যাদের মধ্যে কাজ করে না তারা নিজেদের অপকীর্তি ঢাকার জন্য এ রকম আবোল-তাবোল অনেক কিছুই বলতে পারে। গায়ে মাখবেন না।

      • সজল কান্তি

        হায়রে বাঙাল
        চিরদিন রয়ে গেলেন একটি বিশেষ দলের কাঙাল !!!

      • Bongo-Raj

        কমেন্টের বিষয়বস্তু সরকারী দলের পক্ষে চলে গেলেই
        “দলকানা, দলাল, দলদাস, দলের কাঙাল” ইত্যাদি গালি শুনতে হয়। কিন্তু যারা যত্ন করে এই গালিগুলো দেন, সেই মহাজ্ঞানীজন কোন দলের? উনারা সেই দলের কি বিশেষ করে যারা এই গালিগুলো দেন তাদের লেখায় আজ পর্যন্ত সরকারি দলের একটাও ভাল কাজের বর্ণনা পাইনা! অদ্ভুত নয় কি?

  5. সুনীল আকাশ

    দুঃখজনক হলেও সত্য যে বৃটিশরা যে শিক্ষা ব্যবস্থায় কেরানি তৈরী করার সিস্টেম করে গিয়েছিলো এখনো কোন সরকার সেই সিস্ট থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি, চেষ্টাও করেনি।
    করেনি কারণ অনেক স্টেকহোল্ডারের কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য আছে যাতে উপর থেকে নিচে সবাই জড়িত। জাফর ইকবাল সাহেবরা বিভিন্ন সভা সমিতিতে ঐ সব স্টেকহোল্ডারের সাথে বসেন চা বিস্কুট খান কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয় না। এভাবেই তৈরী হতে থাকবে কেরনিরা এভাবেই চলবে শিক্ষা বাণিজ্য।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব সুনীল আকাশ, একদম আমার মনের কথা বলেছেন। আমাদের আমলা আর বুদ্ধিজীবীরা হলেন হুঁশের পাগল। নিজেদের পকেটে টান পড়ে এমন কাজ তাঁরা কখনও করবেন না, কিংবা বলা যায় তাঁদের মানসিকতা হলো ‘বিচার মানি, গাছ আমার’।

      Reply
  6. মোঃ মাহবুব সাদিক নাহিদ

    কোটাব্যবস্থা তে জর্জরিত হয়ে চাকুরী না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। আশা করি কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আপনি সঠিক ভাবে পার্যালোচনা করে লিখবেন।

    Reply
    • Bongo-Raj

      যিনি আত্মহত্যা করেন, তাকে স্বর্গে রাখলেও তিনি আত্মহত্যাই করবেন। ইহা একপ্রকারের রোগ! কোটা নিয়ে আন্দোলনটাই একটা বড় ভুল অথবা বাংলাদেশের জন্য অভিশাপও বলা যায়। কারণটা হলো-
      ১) প্রতি বছর যত জন লোক সরকারী চাকুরীর জন্য আবেদন করেন তার মাত্র ১% মনোনয়ন পান, বাকী ৯৯% কেই অন্য কোথাও চাকুরীর জন্য দৌড়াতে হয়। আর এই ১% কে নিয়েই কোটার যত সব গল্প, রাস্তায় দৌঁড়াদৌঁড়ি, ভিসির বাড়ি ভাঙ্গা, ইত্যাদি।
      ২) কোটা থাক আর না থাক, যারাই চাকুরি পাবে, তারা সবাই হবে সরকারী চাকুরে। সরকারী চাকুরির কথা আসলেই আসবে বাংলাদেশের দুর্নীতি। বাংলাদেশের যত দুর্নীতি হয় তার ১০০% এর জন্যই দায়ী (সরাসরি কিম্বা আপেক্ষিক ভাবে) এই সরকারী চাকুরিজীবীরাই। আপেক্ষিক ভাবে দায়ীটা হল, যেমন সরকারের মন্ত্রী বা ক্ষমতায় থাকা পার্টির বাজে-নেতাদের (গুন্ডাদের) কথায় করা দুর্নীতি, বিনিময়ে কিছু অংশ নিজের পকেটে আসে বা প্রমোশনের আশায়। তাই সরকারী চাকুরীর জন্য আন্দোলনটা অভিশাপ নাকি অভিশাপ নয় সেই বিবেচনা সাধু আপনারই!

      Reply
  7. সরকার জাবেদ ইকবাল

    দ্রুত বিশ্বায়নের যুগে আমাদের শিক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই বিশ্বায়িত (গ্লোবালাইজড) হতে হবে। তার অবর্তমানে ছেলেমেয়েরা যদি ‘ও’ লেভেল ‘এ’ লেভেল ইত্যাদির দিকে ঝুঁকে পড়ে তাতে অবাক হবার কিছু নেই। আমি বরং এইসব ছেলেমেয়ে এবং তাদের অভিভাবককে অগ্রসর চিন্তাভাবনায় উজ্জীবিত হয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারার কারণে অভিনন্দন জানাই।

    পুনশ্চ: আমার সুপারভাইজার (একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ) বলতেন, “ভাল বকাউল্লা হতে হলে প্রথমে ভাল শোনাউল্লা হও।” দু:খের বিষয়, আমাদের জাফর ইকবাল স্যার শুধু বলেন, শোনেন না কিছুই।

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      সরকার জাবেদ ইকবাল, খুবই যৌক্তিক মন্তব্য। তিনি যা লিখেন সেগুলো বেহেশতি মাল নয়। তাই, নিজেকে ভ্রান্তির উর্ধ্বে না ভেবে পাঠকেরা তাঁর বিতরিত পরামর্শ/জ্ঞান নিয়ে কি বলছে (ফিডব্যাক) তা তাঁর জানা উচিৎ। তিনি যদি সে ফিডব্যাককে গুরুত্ব না দেন, তাহলে তিনি ইংরেজি যাকে বলা হয় Haughty!

      Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        ধন্যবাদ জনাব আলী এবং জনাব রহমান।

  8. আদিব

    “আমাদের মস্তিষ্কটি তথ্য জমা রাখার জন্য তৈরী হয়নি, আমাদের মস্তিষ্ক তৈরী হয়েছে তথ্যকে বিশ্লেষণ করার জন্য, তথ্যকে প্রক্রিয়া করার জন্য। সোজা কথায় বলা যায় সমস্যা সমাধান করার জন্য।”-অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা। স্যার আবার তাঁর চিরাচরিত ধারার লেখায় ফিরেছেন দেখে ভাল লাগল।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—