বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে গত ১৮ মে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সংখ্যালঘুদের মনে খুব আশাবাদ তৈরি করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বর্তমানে যে মানসিক চাপ ও অস্থিরতার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন, তাদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও ভীতি কাজ করছে তা নিরসনের জন্য যে ধরনের আশা জাগানিয়া বক্তব্য শাসক দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির কাছে প্রত্যাশিত ছিল, তিনি তা দিতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। তার বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন, কিন্তু সেটা উপস্থিত কতোজনের মন ছুঁয়েছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশের সুযোগ আছে।

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছোটখাটো ভুলত্রুটি নিয়ে বসে থাকলে বড় ভুলত্রুটি হবে। ২০০১-এর নির্বাচনের পরের কথা মনে নেই? ২০০১, ২০০৩-এর নির্যাতনের কথা ভুলে গেছেন? আপনাদের জন্য আমাদের চেয়ে বেটার কেউ না। আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই সংখ্যালঘুদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। পাকিস্তানের বন্ধুরা আপনাদের বন্ধু হতে পারে না।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এসব বক্তব্যে সংখ্যালঘুরা খুব উৎফুল্ল বা উৎসাহিত হয়েছে বলে মনে হয় না। এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা এক সময় আওয়ামী লীগকেই তাদের বড় বন্ধু এবং নির্ভরতার জায়গা বলে মনে করতো। নির্বাচন এলে দলবেধে কোনো অগ্রপশ্চাৎ না ভেবে নৌকায় ভোট দিতো। ১৯৭০ সাল থেকে শুরু করে পরের সবগুলো নির্বাচন আমি নিজে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। দেখেছি সংখ্যালঘুদের সংঘবদ্ধভাবে নৌকায় ভোট দিতে। আমি নিজে ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের শুরু পর্যন্ত বাম-প্রগতিশীল রাজনীতির সমর্থক ছিলাম। ছাত্র ইউনিয়ন-সিপিবির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে গৌরব বোধ করতাম। আমরা মনে করতাম, বামপন্থীরাই সংখ্যালঘুদের প্রকৃত বন্ধু। কমিউনিস্টদেরই তখন সাচ্চা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পাহারাদার বা হেফাজতকারী মনে করা হতো। অথচ ভোট এলে দেখতাম আমাদের পরিবারের সদস্যরাও আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার জন্য কেমন ব্যাকুল হয়ে উঠতো। ১৯৭৩ অথবা ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে দিনাজপুর সদর আসনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি থেকে কুঁড়েঘর মার্কা নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন তেজেন নাগ। তিনি এতো কম ভোট পেয়েছিলেন যে আমরাও মজা করে বলতাম গুরুদাস তালুকদারও তাকে ভোট না দিয়ে নৌকায় ভোট দিয়েছেন! গুরুদাস তালুকদার ছিলেন দিনাজপুরের খ্যাতনামা ত্যাগী কমিউনিস্ট নেতা। অর্থাৎ সংখ্যালঘু ভোট আওয়ামী লীগের জন্য বাধা বলে ধরে নেওয়া হতো।

কিন্তু এখন আর সে অবস্থা নেই। গত কয়েকটি নির্বাচন থেকে দেখা যাচ্ছে, সংখ্যালঘুরা আর পাগলের মতো নৌকায় ভোট দেয় না। আবার নির্বাচনের আগে-পরে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন-জুলুম একপ্রকার নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতির অসহায় শিকার এখন সংখ্যালঘুরা। তাদের কাছে সবাই ভোট চায় কিন্তু তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে কেউ চিন্তিত নয়। সংখ্যালঘুরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এখন শুধুই ‘ভোটার’, মানুষ নয়।
যে সিপিবি বা বামপন্থীদের একসময় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিশ্বস্ত মিত্র বলে মনে করা হতো তারাও রাজনীতির জটিল সমীকরণে সংখ্যালঘুদের বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানোর গরজ বোধ করে না। তারা যাদের ভোট দেয়, তারাই তাদের রক্ষা করুক – এই হলো মনোভাব। তাছাড়া তাদের শক্তি-সক্ষমতাও এখন একেবারেই তলানিতে এসে ঠেকেছে। এখন সংখ্যালঘুদের ঘরে আগুন লাগলে আগুন নেভানোর লোক পাওয়া না গেলও আলু পোড়া দেওয়ার লোক ঠিকই পাওয়া য়ায়।

ধর্ম রাজনীতির একটি বড় ফ্যাক্টর হওয়ায় আওয়ামী লীগও আর সংখ্যালঘুদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। সংখ্যালঘুরা দিন দিনই সংখ্যায় কমছে। ভোটের রাজনীতিতে সংখ্যা একটি বড় বিষয়। সংখ্যালঘু ভোট দেশে এখন সম্ভবত শতকরা দশ ভাগও নয়। তাই সবার মনোযোগ এখন শতকরা ৯০ ভাগ ভোটের দিকে। সংখ্যালঘু ভোট বিভক্ত হওয়ায় তাদের দরকষাকষির ক্ষমতাও এখন কমেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানি ধারার রাজনীতি শুরু হওয়া, সামরিক শাসক জিয়া, এরশাদের ইসলামপ্রীতি, সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্র ধর্ম সংযোজন ইত্যাদি মিলিয়ে এক অদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘুরাও বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারায় বিভক্ত হয়ে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছে বলে আমার মনে হয়।
সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য গড়ে উঠেছে একাধিক সংগঠন, একাধিক রাজনৈতিক ধারায়। এই সংগঠনগুলোর যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা ব্যক্তিগতভাবে কিছু লাভবান হলেও হতে পারেন, কিন্তু সম্প্রদায়ের কল্যাণে তারা কতোটুকু কি করতে পারছেন, আমার কাছে অন্তত তা পরিষ্কার নয়।

পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলনে সংখ্যালঘু নির্যাতনকে বিএনপির ‘পলিসি’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, নির্বাচন এলে সংখ্যালঘুদের জন্য মায়াকান্না দেখায় বিএনপি। ২০০১ সালের পর ক্ষমতায় থাকতে সংখ্যালঘুদের ওপর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। এটা ছিল তাদের সরকারের পলিসি। তবে ভুলত্রুটি আমাদেরও আছে। আমাদের সরকারের সময় মাইনরিটিদের ওপর দু’একটি বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেছে। এটা আওয়ামী লীগের পলিসি নয়। দুর্বৃত্তরা এটা ঘটিয়েছে। আর দুর্বৃত্তদের ব্যাপারে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ রয়েছে।
ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্য শতভাগ সত্য বলে মেনে নিতে পারলে ব্যক্তিগতভাবে আমার চেয়ে খুশি আর কেউ হতো না। কিন্তু সারাদেশে সংখালঘু নিগ্রহের যে সব তথ্য ও চিত্র আমার সংগ্রহে আছে তাতে আমি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যকে খোলা মনে স্বাগত জানাতে পারছি না। সংখ্যালঘু নির্যাতনকে তিনি বিএনপির ‘পলিসি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার এই কথাটা ঠিক। বিএনপি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে না। মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে বিএনপির রাজনীতির মিল বা সাদৃশ্য আছে। মুসলিম লীগ সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতো, বিএনপিও তাই করে। সংখ্যালঘুরা দেশে থাকবে, তবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে। তারা সমান অধিকার পাবে না, সমান মর্যাদা পাবে না।

মুসলিম লীগ নেতা চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছিলেন এই কথা বলে যে, ‘আপনারা তো আমাকেই ভোট দেবেন, তাই কষ্ট করে আর ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই’। বিএনপিও এই নীতিতে বিশ্বাসী। সংখ্যালঘুরা ভোট কেন্দ্রে গেলে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে – এই ভীতি থেকে তাদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকেই বিরত রাখতে চায়। ভয়ভীতি দেখায়। সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতেই তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন।
এখন সংখ্যালঘুরা এক মার্কায় ভোট না দেওয়ায় তাদের বিপদও বেড়েছে। ভোটের রাজনীতির সব পক্ষের ‘সফট টার্গেট’ এখন সংখ্যালঘুরা। আগে আওয়ামী লীগ যেভাবে সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতো এখন তেমন দাঁড়ায় না। ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাদের সময় ‘দু’একটি বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেছে’ তবে এটা ‘আওয়ামী লীগের পলিসি নয়’, ওটা ‘দুর্বৃত্ত’রা করেছে এবং দুর্বৃত্তদের ব্যাপারে সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। তার এসব কথায় যথেষ্ট ফাঁকিজুকি আছে। প্রথমত আওয়ামী লীগের শাসনামলে দুচারটি নয়, অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে যাতে সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পদ বিপন্ন হয়েছে। লুটপাট, অগ্নি সংযোগ, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধও সংঘটিত হয়েছে। আর যে দুর্বৃত্তরা এসব করেছে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বৃত্তদের মধ্যে আওয়ামী লীগের পরিচয়ধারীদেরও দেখা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের খবর জানা যায়নি। মানুষ চোখে দেখা সত্যকে অস্বীকার করবে কীভাবে?

আওয়ামী লীগকে সংখ্যালঘুরা তাদের ‘রক্ষক’ বলে মনে করে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ভক্ষকের ভূমিকায় দেখে তাদের অসহায়ত্ত্ব এখন চরমে। নিরাপত্তাহীনতা অথবা আত্মরক্ষার তাগিদ থেকে সংখ্যালঘুদের কেউ কেউ বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টিতে নাম লিখিয়েছে। কিন্তু সংখ্যালঘুদের মূল বা বড় অংশই এখনও আওয়ামী লীগের ওপরই ভরসা রাখছেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব কতোটুকু দলের অসাম্প্রদায়িক নীতি উর্ধ্বে তুলে ধরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সে বিষয়ে অনেকেরই সন্দেহ আছে। আওয়ামী লীগের চেয়ে ভালো বিকল্প নেই – এটা ঠিক। কিন্তু ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোট না দিয়ে ভোটদানে বিরত থাকার চিন্তাভাবনাও কারো কারো মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা যাতে নিজেদের সংখ্যালঘু না ভাবেন, সে পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়াসহ দলের বিভিন্ন কমিটিতে সংখ্যালঘুদের রাখা হয়েছে। সংখ্যালঘুরা কেউ স্বেচ্ছায় নিজেদের সংখ্যালঘু ভাবেন না। এটা তাদের ভাবতে বাধ্য করা হয়। এটা ঠিক যে, বিএনপি আমলে চাকরি, পদোন্নতি, পদায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুরা যেভাবে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, আওয়ামী লীগের আমলে তা হয়নি। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সরকারি চাকরিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রধান বিচারপতি পদেও একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যকে নিয়োগদানও নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাযোগ্য একটি অবদান।
দেশে আবার একটি নির্বাচন আসছে। সংখ্যালঘুরা উদ্বিগ্ন, ভীত। তাদের ওপর আবার কোনো কালো থাবা নেমে আসবে কি না তা নিয়ে তারা রীতিমতো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে যে ধরনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সরকার তথা আওয়ামী লীগের কাছে সংখ্যালঘুরা চান তা পাচ্ছেন বলে মনে হয়না। সংখ্যালঘুদের মনে আস্থা ফরিয়ে আনতে হলে কি করতে হবে সেটা তাদের কাছ থেকে জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কেবল ‘এমন বন্ধু আর কে আছে’ গান শুনিয়ে কাজ হওয়ার দিন ফুরিয়েছে।

বিভুরঞ্জন সরকারসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

২৩ Responses -- “সংখ্যালঘু স্বার্থ এবং ভোটের রাজনীতি”

  1. সুনীল আকাশ

    বিডিনিউজ২৪ কে বলছিলাম। এত ভয় পেলে পত্রিকা চালাবেন কেমনে ? পাঠকের মতামত যদি সরকারী দলের পৃষ্ঠপোষক হয়েও ছাপাতে না পারেন তাহলে আর ঐ দল করে লাভ কি হলো? আমার বেশকিছু মতামত আপনারা ছাপান নি! সাহসী আর নিরেপেক্ষ সাংবাদিকতার নমুনা 😂😂😂

    Reply
  2. Bongo-Raj

    হয়তো বা হবে ভরাডুবি — তারপর?
    আবারো আমাদের শুনতে হবে, বাবারা তোমরা একজন একজন করে যাও, আমার মেয়েটা অনেক ছোট –
    নয়তো
    দেখবো পতাকা ঊড়ছে আবারও কোন মুজাহিদ বা গোলাম আজমদের মত মহৎ লোকদের গাড়ীতে।
    আমরা যে বাঙ্গালী- দয়ার সাগর !!!

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব বঙ্গরাজ, আপনারা করলে হয় ‘লীলা’ আর অন্য কেউ করলে হয় ‘নষ্টামি’ – সেটাই কি বলতে চাচ্ছেন?

      Reply
      • সৈয়দ আলী

        সরকার জাবেদ ইকবাল, আহা, একেবারে কুড়ালের কোপ! দেখছিলাম গত ক’দিন ধরে ১৯৯১ এর সেই বহুল ব্যবহারের কেচ্ছানামা। ৯৩-৯৪তেই তা’ শেষ। হেমন্তের গান, ‘তার আর পর নেই…..’।

      • Bongo-Raj

        জনাব, জেগে থাকা মানুষকে জাগাতে যাওয়া বোকামি, তারপরও তন্দ্রাতে আছেন ভেবে আরও একবার চেষ্টা করে দেখছি।

        বাঙ্গালিদের খাচলতের একটা প্যাকেজ আছে, আর তা ভরা আছে “দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মকেন্দ্রিক, দুশ্চরিত্র, অপরের ভালোতে পিত্তি জ্বলে, ইত্যাদি” দিয়ে। এই প্যাকেজটার ব্যবহার বাঙ্গালিরা তার সমাজ প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই বহন করে আসছে। তাই সময়ের সাথে সাথে এই প্যাকেজটার ব্যবহার একইভাবে চলে আসছে । একটা অংশের লোক এই প্যাকেজটার ব্যবহারে একটু অগ্রাধিকার পায়। সেই অংশটা হলো সরকারি দল। তবে অন্য আরও দুটো অংশ আছে তারা বরাবরই অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে তার হল সরকারি চাকুরে আর সামরিক বাহিনী। এই পর্যন্ত বয়ানের সাথে যদি অমত থাকে তাহলে পরের অংশটা পড়ার দরকার নেই, কারণ তন্দ্রা নয় জেগেই আছেন।

        পরের অংশ অতি সংক্ষেপে-
        উপরের চিরাচরিত প্যাকেজটার বাইরে আরও একটা খারাপ অংশ যোগ হয়েছে ১৯৭১ এ, তাহল রাজাকারি, আর পাকিগিরি। সরকার বদলানোর মানেই হল এদের আসা আর তাই বলতে চেয়েছিলাম উপরের কমেন্টে। এরপরও যদি প্রতিক্রিয়া দেখান তাহলে ভাবতেই হবে রাজাকারি, আর পাকিগিরি অংশটা যোগ হয়েছে আপনাতে।

      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        জনাব বঙ্গরাজ, আমি আগেও বলেছি, প্রশংসা করলেই ‘চামচা’ আর, সমালোচনা করলেই ‘রাজাকার’। আমাদেরকে এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে মাথায় করে রাখি সেভাবে পাশাপাশি তাঁর শাসনামলে তাঁর মহানুভবতা আর উদারতার সুযোগ নিয়ে দেশে যে আওয়ামী দু;শাসন চলেছে তারও সমালোচনা করি। কিন্তু, আপনাদেরকে নিয়ে সমস্যা হলো এখানেই যে, আপনারা একটি দিক দেখতে পান, আরেকটি দিক দেখতে পান না। আশা করি বোঝাতে পেরেছি।

      • Bongo-Raj

        As expected after all?
        জেগেই ছিলেন তা হলে!!
        এত যত্ন করে বাঙালীর খাসলতের অনুসিদ্ধান্তটা পেশ করলাম আর তা গিয়ে পড়লো অপাত্রে?
        এখন আওয়ামী দুঃশাসন চলছে (৯ বছর ধরে) কিছুদিন আগে ছিল মিলিটারীদের দুবছর তারও আগে ছিল ৫ বছর কাদের যেন?
        এই ব্যাপারটা ছাগলেও জানে যে এই এক একটা দুঃশাসনের সাথে আরেকটার কোন তফাৎ নেই। শুধু তফাৎ ১৯৭১ এ জন্ম নেওয়া অতিরিক্ত দুটা বিশেষণ ( রাজাকারী আর পাকিগিরি) যোগ হলো কি হলো না। তাই মনে হচ্ছে কষ্ট করে বানানো অনুসিদ্ধান্তটা, ঊলুবনে মুক্ত ছড়ানো হয়ে গেলো !!!!
        অমন মুখে বঙ্গবন্ধুর নাম??

    • সুনীল আকাশ

      দাদা
      এ মুলা আর কত!!! অনেকদিন তো হলো। এ জন্যই তো গণতন্ত্রের ***** হয়ে গেছে । এখন গণতন্ত্র বলে ‘একজন একজন করে আসেন’ ভোটকেন্দ্র বলে ‘কবর থেকে মরা মানুষ এসে ভোট দিয়ে যায়’ ভোটার বলে ‘ডিজিটাল ভোট আমি ভোট দিতে না গেলেও ভোট দেয়া হয়ে যাবে’। আর মিডিয়া! মিডিয়া বলে ” ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি” ।

      Reply
      • Bongo-Raj

        জনাব
        মুলার ব্যাবসা বলেই যখন মনে হচ্ছে তাহলে তো বলতেই হ্য় যতদিন মুলা দিয়ে ইডিওসি ( The Idiocy) টা সারে সেই ততদিনই চলবে।

  3. Bongo-Raj

    আমার ব্যাক্তিগত একটা অভিজ্ঞতা পেশ করছি।
    একদা আমার একজন অতি প্রিয় আত্মীয়ের (খাস বাংলায় সম্বন্ধী) সাথে উনারই একজন প্রিয় মাওলানা সাহেবের বাসায় গিয়েছিলাম। কথায় কথায় সেই মাওলানা সাহেব আমার সম্বন্ধীকে বললেন, গেলো বছর তিনি xx শতাংশ এনিমি (শত্রু) সম্পত্তি (প্রপার্টি) কিনেছেন একেবারে জলের দামে।
    শুনে একটু চমকে জানতে চাইলাম এইটা আবার কি? উত্তরে মাওলানা সাহেব বুঝালেন, আরে ভাই তা হলো হিন্দুদের সম্পত্তি, ওরা তো ইন্ডিয়া যাবেই তাই অনেক সস্তা দামে কিনলাম আরকি। পরের অংশটা পড়ে নিতে আর আমার দেরী হয়নি, সনটা ছিল ১৯৯১।

    কথা প্রসঙ্গে চলে আসলো তাই বলছি, শুনেছি আমার সব চাইতে প্রিয় হাইস্কুলের শিক্ষক চিত্তরঞ্জন স্যার কোলকাতার রাস্তায় গামছা বিক্রি করে জীবনের ঘানি টানছেন কারণটা হলো আমার স্যার এনিমি ছিলেন তাই তিনি কোলকাতায় গিয়ে গামছা বিক্রি করছেন আর উনার সম্পত্তি অন্য কেউ ভোগ করছে এনিমি প্রোপার্টি বলে দখল করে।
    কে জানে সেই সম্পত্তি হয়তো নিয়েছে উনারই কোন ছাত্র আর হবেও বা হয়তো আমারই কোন সহপাঠী!
    – পরের অংশটা ১৯৯৩-৯৪ সনের গল্প –

    Reply
    • অন্ধকার

      এটা বাংলাদেশ। এখানে নতুন করে স্বপ্ন দেখা পাপ

      Reply
  4. শংকর

    বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর মুসলিমদের নির্যাতন, অত্যাচারের কথা আলোচনা করলে কাদের গায়ে জ্বালা ধরে, কারা পাশ কাটাতে চায়? তারা কোন দেশীয় সংস্কৃতির এদেশীয় দালাল তা জানা আছে।

    Reply
  5. Mute Spectator

    সংখ্যালঘু নির্যাতন রাজনৈতিক দলের সমীকরণ মেনে চলে না। চলে ওদের সম্পদের আর সংখাগুরুদের জোরের সমীকরণে। হরিজন পাড়ায় সংখাগুরুদের কোন আক্রমণ চোখে পড়ে না। সরকারী দলের মাসলম্যান স্বভাবতই বেশি, সুতরাং সম্পত্তি দখলের জন্য দলের ছত্রছায়ায় ওরাই সম্পত্তি দখল করে, মাথা ফাটায় বাড়ির বউ ঝিদের তুলে নেয়। আবার ভোট আসলে চোখ রাঙিয়ে গুণেগুণে ভোট নেয়, হিসাব না মিললে ভোটের পর বহ্নি উৎসব (অগ্নিসংযোগ), খুন মেয়ে নিয়ে টানাটানি, সবই করে। ওবায়দুল কাদের সাহেব এইসব অস্বীকার করেন না বলেই মনে হয়।
    ভারত বাংলাদেশে চিত্রটা একই রকম নয়। ভারতে মুসলিমদের সংখ্যা বাংলাদেশে মুসলিম জনসংখ্যার চেয়ে বেশি না হলেও কম হবে না, এঁরা যেকোন পরিস্থিতিতে দেশ ত্যাগ করেন না। সেখানে সংখালঘুদের সমস্যা সম্পুর্ণ রাজনৈতিক। মোদী তাঁর ভাষণে প্রায়ই বলেন মুসলিমরা নাকি কংগ্রেস এর ভোট ব্যাংক। তাই শায়েস্তা করার জন্য বিজেপি এরএসএস এবং এদের মিত্ররা গরু জবাই নিয়ে বিভিন্ন প্রদেশে মিথ্যা ছড়িয়ে মুসলিম খুন করছে।হিন্দু মেয়ে মুসলিম ছেলে শতশত বছর ধরে প্রেম করে বিয়ে করে, ভারতীয় সমাজ এটা স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছে। কিন্তু মোদী ক্ষমতায় আসার পর এটাকে বলছে লাভ জিহাদ, অর্থাৎ মুসলমানরা নাকি ভালোবাসার নামে বিয়ে করে প্রকৃতপক্ষে জিহাদ করছে এবং ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়াচ্ছে। এখন বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশ এবং বিজেপি যৌথভাবে পাড়ায় পাড়ায় পাহারা বসিয়ে লাভ জিহাদ খোঁজে। বিয়ে ভেঙ্গে মেয়েদের জোর করে বাপের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে,এমনকি জাত রাখতে গিয়ে ঐসব মেয়েদের কখনো হত্যাও করা হয়। এরও একটা নাম আছে, ঘর ওয়াপসি অর্থাৎ ঘরে ফিরিয়ে নেওয়া। উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, মধ্য প্রদেশে, রাজস্থানে এই কার্যক্রম জোর কদমে চলছে। আসামের সরকার প্রায় এক কোটি মুসলমানের তালিকা করে বলছে এরা বাংলাদেশি। কে জানে কি পদক্ষেপ নেয়। এতো কথা বলার কারণ হল, ঐতিহাসিক ভাবে উভয় দেশে এই সমস্ত কাজের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়, সাম্প্রদায়িক শক্তির লাভ হয়। বিভু বাবুর আলচনায় মুদ্রার একপিঠ উঠে এসেছে, উভয় পিঠ তুলে ধরার মত সৎসাহস তাঁর নাই।

    Reply
    • Bongo-Raj

      রহিম গরু চুরি করেছে বলে তাই করিমেরও চুরি করার অধিকার জন্মায়!
      চমৎকার !!!!!!

      Reply
  6. Mirza Kibria

    “সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বর্তমানে যে মানসিক চাপ ও অস্থিরতার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন, তাদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও ভীতি কাজ করছে তা নিরসনের জন্য যে ধরনের আশা জাগানিয়া বক্তব্য শাসক দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির কাছে প্রত্যাশিত ছিল, তিনি তা দিতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। সম্প্রদায় বর্তমানে যে মানসিক চাপ ও অস্থিরতার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন, তাদের মধ্যে যে উদ্বেগ ও ভীতি কাজ করছে তা নিরসনের জন্য যে ধরনের আশা জাগানিয়া বক্তব্য শাসক দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির কাছে প্রত্যাশিত ছিল, তিনি তা দিতে পেরেছেন বলে মনে হয় না।”

    লেখক সংখ্যালঘু ফোবিয়াতে পাগোল হয়ে আছেন। ঘোড়া রোগ আর কি!! পাশের দেশের মুসলমান হলে আসল রোগ কি তা ভালো বুঝতেন!!!!!! এখানে তিনি বিরাট আতেল হয়ে বিলাসিতায় আছেন বটে!!!!

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      পাশের দেশে কি হচ্ছে সেই উদাহরণ দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানো যায় না। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের সমানাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

      Reply
  7. আদিব

    সংখ্যালঘু, সংখ্যালঘু….এই “সংখ্যালঘু” শব্দটা ব্যাবহার করার মন-মানসিকতা যতদিন আমাদের মধ্যে থাকবে, ততদিন কিছু হবে না। “নির্বাচনের ট্রেন” আসবে,যাবে, “সংখ্যালঘু”রা “সংখ্যালঘু”ই থেকে যাবে। “সংখ্যালঘু”দের ওপর অত্যাচার,নির্যাতনের খবর দেশের মানুষ আগের মতই নির্বিকার মনে পাঠ করবে, পাশে কেউ দাঁড়াবে না।

    Reply
  8. Qudrate Khoda

    লিখেছেন ভাল নিঃসন্দেহ, তবে “চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী” কারণ উনাদের কোন প্রকার উপদেশ বা পরামর্শের দরকার নাই। উনারা সবজান্তা – মানে সব জানেন সব বোঝেন। উনারা যা বলেন তাই বাণী চিরন্তনী ।

    জনতা চিরকালই অভাগা ও অসহায়। আম জনতার কাম হল ভোট দেয়া, চুঙ্গা ফুকান, আর দুঃখের দিনশেষে ভুল কিংবা বিনা চিকিৎসায় ভোগান্তি ভুগে কবরে যাওয়া। ইহকালে নয় পরকালে বেহেস্তী সুখ পাওয়ার এক অনিশ্চিত আশায়। জয় বাঙালি।

    Reply
  9. সৈয়দ আলী

    অভ্যাস বদলানো যে খুব দুষ্কর তা বি-র-স এর নিবন্ধ পড়লে নিশ্চিত হওয়া যায়। তাদের যে পলিসি, আওয়ামী লীগ খারাপ, শেখ হাসিনা ভালো, তা অভ্যাসবশতঃ এই নিবন্ধেও চালু রেখেছেন। বি-র-স এর প্রাক্তন নেতা নুহ আলম লেনিন কুমিল্লাতে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করে মুসলিম লীগের স্টাইলে সেই হিন্দুদের ভারত পাঠিয়ে দিয়েছেন। খারাপ আওয়ামী লীগারের উদাহরণ বটে তবে ভালো শেখ হাসিনার উদাহরণও নয়। কারণ তিনি এই ঘোরতর অন্যায়টির জন্য লেনিনকে কিছুই বলেন নি, যা জনগণ দেখেছে। একই রকম, দেশ চলছে মদিনা সনদে বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম কিংবা মুজাহিদ বাহিনী প্রধানকে ধর্মীয় গুরু স্ট্যাটাস দেয়া হিন্দুদের জন্য শেখ হাসিনা কোনো আশার আলো দেখাচ্ছেন না। ‘দেশের প্রধান বিচারপতি পদেও একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যকে নিয়োগদানও নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসাযোগ্য একটি অবদান।’ তাঁকে দেশত্যাগে বাধ্য করাতেও শেখ হাসিনার অবদান আছে।

    Reply
    • Bongo-Raj

      Please look your own face in a mirror; you will hear some thing like ” An AX is blaming a NEEDLE that you have a hole in your butt”.

      Reply
  10. কাজী ফয়জুস সালেহীন

    কাকু
    বয়সে ভোগীও যোগী হয়। সত্য কথা লিখা শুরু করছেন দেখে ভালো লাগছে। আওয়ামীলীগ বা বিএনপি কারো হাতেই আপনারা নিরাপদ নন। ঘুঁটি মাত্র। ভোটের ঘুঁটি। ভোটের আগে মায়া কান্না ভোটের পর রামসন্না ।

    Reply
  11. সরকার জাবেদ ইকবাল

    সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আপনি যে সংখ্যালঘুদের প্রতি আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবস্থান বুঝতে পেরেছেন সেটাই মঙ্গল। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে সংখ্যালঘুদের প্রতি আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র দৃষ্টিভঙ্গি মূলত একই। বাংলােদেশের রাজনীতিতে সংখ্যালঘুরা বরাবরই দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে যতদিন না রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিবর্তন আসে। আর, আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে আসা তথা দুই ডিঙ্গায় পা রাখা আগামী নির্বাচনে (যদি হয়!) ব্যাপক প্রভাব রাখবে বলে আমার ধারণা (ভরাডুবি বললাম না)।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—