নয় বছর পর আবারো ভিজিটর হয়ে দেখে এলাম জন্মভূমি বাংলাদেশ। অনেকদিন পর বিদেশ থেকে দেশে বেড়াতে গিয়ে প্রবাসী বন্ধুদের যে অভিযোগ ও বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখেছি তার অন্যতম হল; যানজট, মশা, লোডশেডিং, অত্যধিক গরম, ধুলাবালি, যেখানে সেখানে থুথু ফেলা ইত্যাদি।
অভিযোগের তালিকা অনেক লম্বা ছিল তবে সময় পরিবর্তনের মাঝ দিয়ে আস্তে আস্তে সেই তালিকা ছোট হয়ে অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। যোগ দিচ্ছে নতুন নতুন সমস্যা। এই সমস্ত সমস্যার কিছু ভোগাচ্ছে রাষ্ট্রকে আবার কিছুটা যাচ্ছে নাগরিকদের ওপর।
প্রথমে ভেবেছিলাম এগুলো নিয়ে কোন অভিযোগ করবো না। অভিযোগের খুব সুযোগ আছে তাও বলা মুশকিল। ধরুন যানজট নিয়ে যদি কিছু বলতে হয় তবে বলবো লক্ষ লক্ষ নাগরিক যেখানে প্রতিদিন অসহ্য কষ্ট সহ্য করছে এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনরকম ভাবে মানিয়ে নিয়ে দৈনন্দিন কাজ করে যাচ্ছে সেখানে কিছুদিনের অতিথি হয়ে আমি কেন উন্নত বিশ্বের যাতায়াত ব্যবস্থার সাথে তুলনা করে মন ভারী করবো।
দেশে যাবার আগে তো সব জেনেশুনেই গিয়েছিলাম। আফ্রিকার কোন দেশে গেলে যেমন আফ্রিকান পরিবেশের সম্মুখীন হতে হয়, ইউরোপে গেলে যে ভিন্নতা দেখা দেয় অথবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গিয়ে যে সুবিধা অসুবিধার সম্মুখীন হই, বাংলাদেশে গেলে তেমনি দেখবো, এতে অবাক হব কেন?

কিন্তু কথা হলো সবাই বড় গাছের সাথে নৌকা বাঁধতে চায় এবং সবাই আশা করে উন্নত জীবন ব্যবস্থা। বিশেষ করে আশপাশের কয়েকটি দেশের চকচকে নগর সভ্যতা দেখে বাংলাদেশের লোকজন বলতেই পারে ওরা পারলে আমরা পারবো না কেন?
বাস্তবতা হলো যিনি এই প্রশ্ন করেন তিনি হয়তো লক্ষ্য করেন না এই না পারার একটি কারণ হয়তো তিনি নিজে অথবা তারই আত্মীয়স্বজন। আকাশ থেকে দৈত্যদানব এসেতো যানজট তৈরি করে না। এর জন্য দায়ী আমাদের নিজস্ব লোকজন। পেছন থেকে একবার সামনে হেঁটে গেলেই দেখা যাবে যিনি গাড়িটা বাঁকা করে ঢুকিয়ে দিয়েছেন কিংবা অবৈধ পার্ক করে বসে আছেন তিনি আমাদেরই চাচা খালা ফুপা ফুপুর কেউ।
খুশির খবর হলো কিছু অসুবিধা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির ভেতর দিয়েও বাংলাদেশে উন্নয়নের কাজ জোর গতিতে এগিয়ে চলছে। অর্থনৈতিক মানদণ্ডের অনেক সুচকে বাংলাদেশ এখন অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে আছে। বিশ্ব ব্যাংকের মতে বাংলাদেশের জিডিপি মাথাপিছু আয় ২০১৬ সালে ছিল ১৩৫৮.৭৮ মার্কিন ডলার (এই সংখ্যা ২০১৩ সালে ছিল ৯৫১.৮৯, ২০০০ সালে ৪০৫.৬ আর ১৯৭২ সালে ছিল ৯৩.০২)। দ্রুত গতিতে অগ্রসরমান একটি রাষ্ট্রে যা হয় তার অনেক কিছুই এখন বাংলাদেশে পরিলক্ষিত। সাইকোলজিক্যাল শকের মত সমাজ উত্তরণের শকের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে দেশের অধিকাংশ মানুষ। বলা যায় অগ্রগতির প্রসব বেদনায় ভুগছে বাংলাদেশ। স্বভাবতই বিভিন্ন মাত্রার ওঠানামা করতে দেখা যাচ্ছে সমাজের বিভিন্ন অংশে। যার হয়তো একটা সাইকেল কেনার সামর্থ্য ছিল না তার ঘরেও দুই তিনটা গাড়ি। হাতখোলা পুঁজি বাজারে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা অর্থনৈতিক সচল মানুষগুলো চায় সমাজের উঁচু আসন ধরে রাখতে। এক অর্থে এই প্রবণতাকে বলা যেতে পারে ক্রয় করা সামাজিক মর্যাদা। তাই নিজস্ব সুবিধা আদায়ের জন্য নব্য ধনীরা দেশের ব্যবসায়ী আইন কানুন উপেক্ষার মতন ট্রাফিক আইনও অমান্য করে। এরা একা নয়, তাদের ঘরের অন্যরাও পথে নেমে তাই করছে। কাজেই জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাচ্ছে জ্যাম।
একবার লালমাটিয়া যাবার জন্য এক গলিতে ঢুকে দেখি আধা মাইল পর্যন্ত গাড়ির লাইন। জিজ্ঞেস করলাম এত গাড়ি পার্ক করে আছে কেন? উত্তর পেলাম এখানে একাধিক কোচিং সেন্টার। ছাত্রছাত্রীদের নামিয়ে ড্রাইভার অপেক্ষা করছে তাদের বাড়ি নিয়ে যাবার জন্য। তা কতক্ষণ কোচিং হয়? দুই ঘণ্টা বা হয়তো তারও বেশি। তাহলে দাঁড়ালো কী? দুটি গাড়ি পাশাপাশি যাবার পথের এক পাশে লাইন করে গাড়ি দাঁড়ানো। অতএব, অন্যপাশের মাত্র একটি গাড়ি যাবার পথ দিয়ে আপ ডাউনের সব গাড়ি, রিক্সা, মটর সাইকেল ও পদযাত্রীদের যাবার ব্যবস্থা চলছে। জ্যাম হবে না তো কী হবে। মজার কথা হলো গলিতে অবৈধ গাড়ি পার্ক করে যারা জ্যাম সৃষ্টি করে তাদের বাড়িতেও দেখবেন জ্যামের অভিযোগ নিয়ে ঝড় বইছে। নিজের কোন দোষ নেই সব দোষ অন্যের – এমন অভিযোগ করে না তেমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর।
মশা, লোডশেডিং,প্রচুর গরম, ধুলাবালি, যেখানে সেখানে থুথু ফেলা এগুলোর চিত্রও একই রকম। এর বেশিরভাগের জন্য দেশের মানুষই দায়ী। মনে হতে পারে গরমের জন্য আবার মানুষ দায়ী হবে কেন। চিন্তা করে দেখুন আমরা দায়ী না হলে কে দায়ী? না না আমি প্রকৃতির কথা বলছি না। এমনকি প্রকৃতির মালিকের কথাও না। পরিবেশ বলে একটি কথা আছে। ভারসাম্য বলে আরও একটি কথা আছে। এগুলো সবই আমাদের হাতে ছিল। হয় পরিবেশ বলতে কি বলে আমরা তা বুঝি নাই কিংবা পরিবেশ রক্ষা করতে পারি নাই। সে জন্য অসহনীয় গরমের কারণও আমরা।
এবার কিছু উন্নয়নের কথা বলি। বাংলাদেশের শত্রুও এখন অস্বীকার করতে পারবে না যে বিভিন্ন দিক দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের কাজে জড়িত হয়েছে দেশের অগণিত মানুষ। তবে, এর পাশাপাশি দেশের কিছু মানুষের মন মানসিকতার যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। অসভ্য যুগের মত আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। যারা হয় স্বাভাবিক সুস্থ মানুষ নয় অথবা তারা সাধারণ মানুষের ঊর্ধ্বে। এদের কর্মকাণ্ড মাঝে মাঝে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। এরা মানুষকে কাঁদাচ্ছে, মানুষকে ভোগাচ্ছে। তবুও বলবো, উন্নয়নের সার্বিক চিত্রে এরা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু এবড়োখেবড়ো দাগ মাত্র। সকলেই স্বীকার করছে গত এক যুগে অনেক অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশে।
মজার ব্যাপার হল দেশ কতটা উন্নতি লাভ করেছে তা ঠিক করে অনেকেই বলতে পারে না। যেমন একজন রাজনীতিবিদকে বলতে শুনলাম বর্তমান সরকারের উন্নয়ন সাফল্যে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, রাস্তাঘাট উন্নয়নের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি কয়েকবার বি এন পি সরকারের সাথে তুলনা করে বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করলেন। তাকে বললাম আপনি নিজেও জানেন না যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কি ভাবে বেড়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা শুধু বি এন পি কিংবা জাতীয় পার্টি সরকার আমলের সমস্যা না। পাকিস্তান আমলে সন্ধ্যা হতেই বিদ্যুৎ চলে যেত। আমরা তখন মহা খুশি হতাম। বলতাম, কারেন্ট নাই তো পড়ব কি করে? পড়ালেখা না করার জন্য মনে মনে দোয়া করতাম কারেন্ট যেন সহসা না আসে।
এই যে ফেব্রুয়ারি – মার্চ সময়ে দেড় মাস ঢাকায় ছিলাম। তারমধ্যে একদিনও বিদ্যুৎ যেতে দেখি নি। অথচ বর্তমান সমাজ সেই পূর্ব পাকিস্তান আমলে আটকে নেই। পূর্ব পাকিস্তান আমলে যে যায়গাতে চার থেকে ছয়জন মানুষ বসবাস করতো এখন সেই একই যায়গাতে হয়তো ত্রিশ চল্লিশ জনের বাস। তাদের বাড়িতে লিফট টেলিভিশন ফ্রিজ এয়ার কন্ডিশনার ফ্যান সেলফোন প্যাড ইত্যাদি চলছে বিদ্যুতের সাহায্যে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ঘাটতি সনাতন কালের সমস্যা ছিল। যা সমাধান করে বর্তমান সরকার আধুনিক ও সময়োপযোগী করে তুলেছে। তাকে আরও বললাম আপনি যে দলই করেন না কেন বুঝাতে পারলেন না যে দেশ কতোটা উন্নত হয়েছে। আগে আমাদের বাপ চাচারা পাঁচ দশ মাইল পথ পায়ে হেঁটেই চলে যেত। মেয়েরাও দুই এক মাইল পথকে তেমন দূরত্ব মনে করতো না। বেশি দূরের পথ হলে পাল্কি কিংবা নৌকা বা গরুর গাড়িতে যেত। এখন হাত উঠিয়ে গ্রামের লোক রিক্সা কিংবা অটো থামায়। কাজেই উন্নয়নের মাপকাঠি এক একজনের কাছে এক এক রকম।

দেশের উন্নয়ন মাপার জন্য আমি দুটো ভিন্ন মাপকাঠি ব্যবহার করছি।
এক: ছোট্ট একটি পরিবারের কথা বলছি। এই পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট চারজন। স্বামী স্ত্রী এবং তাদের পুত্র কন্যা। এটাও অবাক করার বিষয়। একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে নিয়ে গ্রামের কেউ সংসার করে খুশি আছে এটা আমার জন্য নতুন তথ্য। আমি আগের দিনের মানুষ। জন্ম পাকিস্তান আমলে। ১৯৭১ এর পর গ্রামে গেছি বলে মনে হয় না। তবে, আমরা ছোট বেলায় যখন গ্রামে যেতাম প্রতি ঘরে গাদাগাদা ছেলেমেয়ে দেখতাম। তাই মাত্র দুটি সন্তান নিয়ে একটি পরিবার তাও আবার গ্রামে সেটা আমাকে অবাক করেছিল বটে। যাইহোক পরিবারের পুরুষ সদস্য গ্রামে রিক্সা চালায়। আর মহিলা অন্যের বাড়িতে রান্নাবান্না সহ সবরকম দেখাশুনার কাজ করে। তাদের কন্যা ক্লাস নাইনে পড়ে এবং ছেলেটি ক্লাস এইটে। মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম বিলকিসের মা, তোমার মেয়ে দেখতে সুন্দর, গায়ের রঙ দুধে আলতা, বিয়ে দিচ্ছ না কেন? উত্তরে বিলকিসের মা বলল, ‘না মামা কলেজ পাশ না করাইয়া বিয়া দিমু না। অনেক প্রস্তাব আসে আমি সবাইরে ভাগাইয়া দেই। এখন ভয়ে কেউ আসে না’।
আমিতো আকাশ থেকে পড়লাম– বলে কি মহিলা! মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কেউ এলে তাকে ভাগিয়ে দেয়। তাও অন্যের বাড়িতে কাজ করার মানুষ, যার স্বামী গ্রামে রিক্সা চালায়! এতোটা মানসিক উন্নতি!
দুই: এটিও গ্রামের উদাহরণ। ছবি তোলার জন্য একটা বট গাছ খুঁজছিলাম। একজন নিয়ে গেল বটগাছ দেখাতে। দূর থেকে দেখি অনেকগুলো বাচ্চা রঙিন জামা কাপড় পরে এগিয়ে আসছে। ওরা কাছে এলে দেখি সবার হাতে বই পেন্সিল ইরেজার, স্কেল, রোল করা খাতা। ওদের পায়ে জুতা স্যান্ডেল, গায়ে রঙিন জামা। কথা হলো পরশ নামের একটি ছেলের সাথে। সে বলল স্কুলে যাবার জন্য ওরা মাসে ভাতা পায়, বই পায় বিনে পয়সায়। কোন কোন স্কুলে আবার নাস্তাও খেতে দেয়। গ্রামের সবাই তাই স্কুলে যায়।
হঠাৎ মনে পড়ে গেল পঁচিশ ছাব্বিশ বছর আগের একটি ঘটনা। আমার বড় ছেলেকে নিয়ে একদিন ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। তিন চার ঘণ্টার কাজ তাই ওর স্কুল থেকে ছুটি নিতে হয়েছিল সেদিন। ডাক্তার এবং বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ করে ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম একটা শপিং প্লাজাতে। দোকানের সেলস গার্ল এক গাল হাসি দিয়ে প্রশ্ন করলো ‘লক্ষ্মী সোনা তুমি আজ স্কুলে যাওনি? তাকে বললাম ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছিল তাই আজ ওর ছুটি। আশ্চর্য, একই প্রশ্ন পর পর আরো দুজন জিজ্ঞেস করলো। চিন্তায় পড়ে গেলাম, সবাই কেন একই প্রশ্ন করছে?
তারপর চারিদিকে চেয়ে দেখি আশেপাশে আর কোনো বাচ্চা নেই। একমাত্র আমিই ছেলের হাত ধরে শপিং প্লাজাতে ঘুরছি। আসলে তখন ছিল স্কুলের সময়। কাজেই  স্কুলের বাইরে বাচ্চাদের না থাকাটাই স্বাভাবিক। এটাই কানাডার নিয়ম। চিত্রটি বাংলাদেশের সাথে মিলিয়ে দেখলাম। দেশে থাকাকালে দেখেছি দিনে দুপুরে বাচ্চারা পথে ঘাটে ঘুরে বেড়াত। বিদেশের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার গ্রামে গিয়ে দেখি গ্রাম চলে এসেছে বিদেশের অবস্থানে। আগে বাবারা যখন জমিতে হাল চাষ করতে যেত তাদের পিছন পিছন বাচ্চারা যেত খাবারের বোঝা নিয়ে। অথবা তারাও ছিল খুদে কৃষক কিংবা বাড়িতে মায়ের কাজে সাহায্য করতো বা গরু ছাগল নিয়ে মাঠে যেত। এবার চারিদিকে চেয়ে দেখলাম স্কুলের বাচ্চাগুলো ছাড়া আর কোন বাচ্চা কোথাও নেই। যতদূর চোখ যায় কোথাও খুঁজে পেলাম না কাউকে। বলেন, দেশ কি পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে না?

আগে বলেছিলাম উন্নয়নের অনেক সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে (Bangladesh has been ranked 34th in the World Economic Forum’s Inclusive Development Index’s (IDI) list of emerging economies, ahead of South Asian competitors India, Pakistan and Sri Lanka). IDI scores on 1-7 scale (source: WEF)
Bangladesh 3.98 / Sri Lanka 3.79 / Pakistan 3.55/ India 3.09
উন্নয়নের সাফল্য আছে তবুও দেশে রয়েছে রাজ্যের হতাশা। বলবো না ভেবেছিলাম তবুও কিছু কথা বলতেই হচ্ছে। বাংলাদেশের যত হতাশা তার বেশিরভাগ দুর্নীতিকে ঘিরে। অপর ভাগে রয়েছে সুশাসনের ব্যর্থতা। নিয়ম শৃঙ্খলাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এক শ্রেণির সুবিধাবাদীদের আধিপত্য সরকার কিছুতেই ঠেকাতে পারছে না। অথবা প্রশাসনের উচ্চ আসনে বসে থেকে কেউ কেউ এদের মদদ দিচ্ছে বিধায় দুর্নীতি এবং সুশাসনের অভাব একই পাত্রে মিশে একাকার।
কাজেই দেশের যাবতীয় সুযোগ সুবিধার অগ্রভাগ দখল করে রেখেছে প্রতারক ঘুষখোর অসাধু চক্র। জমি নেই বাড়ি নেই সাদা কাগজের উপর মিথ্যে জমি বাড়ি দেখিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বাস ট্রাকের লঞ্চের বহর আছে এমন পরিবহন মালিকও এখনো হয়তো সরকারী বেতনভোগী কর্মচারী। পাবলিক লাইব্রেরিতে তাক করা উঁচু উঁচু বইয়ের মত এদের ঘরে নগদ টাকার বান্ডিল থাকে। এরা আগে ঈদের ছুটিতে আমেরিকা কানাডাতে আসতো এখন যায় বাহামা কিউবার রিসোর্টে। এরা বছরে বিশ পঁচিশবার বাংলাদেশী পাসপোর্টে ভিসা লাগায়। বাপ-বেটার আলাদা হেলিকপ্টার আছে।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ অফিসারেরা যেমন দেশের রাজা জমিদারদের বাড়িতে উপঢৌকন নিয়ে নিমন্ত্রণ খেতে যেত, বাংলাদেশের নব্য ধনীদের বাড়িতে এখন বিদেশী রাষ্ট্রদূত কিংবা ভ্রমণরত বিদেশী এম পি, মন্ত্রীরা নিমন্ত্রণ খায়। বাংলাদেশের নদী, মাটি, আকাশ, বাতাস সব কিছুকেই এরা লুট করছে। ধর্ম চর্চার নামে যা-ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে। লাজ লজ্জা শব্দগুলো অনুচ্চারিত থাকে এদের পরিবারে। আইন শৃঙ্খলার নথিপত্রে পানি ঢেলে পরিষ্কার করে দিয়েছে। ময়না পাখীর মত প্রশাসনের লোকবল খাঁচায় ভরে আদার খাওয়াচ্ছে। অন্যায়কে দীর্ঘায়িত ও প্রক্রিয়াজাত করণে এদের রয়েছে কৌশল, লোকবল ও হাতিয়ার। এরা দাঁড়ালে দেশ দাঁড়ায়। এরা বসলে দেশ বসে। এরা সমাজের মাথা। অথবা এরাই এখন সমাজ। এদের বাড়ির ছোট শিশুটিও বলে ‘তুমি জান আমি কে’?
ধরুন একটি কাল্পনিক হিসাব কষে বললাম দেশের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ অসৎ। তাহলে দাঁড়ালো কি? মাত্র দশ ভাগ মানুষের হাতে চলছে অগ্রগতি বা উন্নয়নের সঠিক কাজ। তাহলে বলুন, সবাই যদি ঠিক মত আচরণ করতো তবে দেশটা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াত? তবুও সৎ অসৎ লোকের সম্মিলিত কাজের নমুনা নিয়েই আমরা খুশিতে উল্লাস করছি। ভুলে যাচ্ছি কতটুকু অপ্রাপ্তি আমাদের।
যাইহোক, নব্বই ভাগ মানুষকে সাথে নিয়ে অথবা ক্ষেত্র বিশেষে এদের পাশ কাটিয়ে সরকার বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে যাতে উন্নয়নের গতিতে একটা জোয়ার তুলে দিতে পারে। তবে, শস্যের ভুতের মত কিছু কিছু মন্ত্রী এমপি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের পায়ের চাপেও অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের বিরাট অংশ। যার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হয়েছে ‘শেখ হাসিনাকে ছাড়া আওয়ামী লীগের সব নেতাকে কেনা যায়’ (প্রথম আলো, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪)। একই কথা বলেছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী সেনা গোয়েন্দাদের দল একদিন আমার সঙ্গে বৈঠক করে। পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা আমাকে জানায়, ‘একমাত্র শেখ হাসিনাকে ছাড়া সব রাজনীতিবিদকেই কেনা যায়’ (BANGLA INSIDER, OCT 05, 2017)।
আর একটু খুলে বললে হয়তো ব্যাপারটা পরিষ্কার বুঝা যাবে। বাংলাদেশে অনেক ড্রাইভার আছে যারা লাইসেন্স বিহীন ট্রেনিং বিহীন কিংবা দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাবে ট্রাক বাস চালায়। দেশে অনেক ধনী লোক আছে যারা আয়কর প্রদানে উদাসীন। অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা ঋণের টাকা পরিশোধ করে না। দেশের বড় বড় প্রজেক্ট, অর্থবরাদ্দ, উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত কর্তাব্যক্তিদের উল্লেখযোগ্য অংশ অনুরূপ এটা বিহীন, ওটা বিহীন, তলা বিহীন হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। না হলে উন্নয়নের এই যুগেও কেন মানবিক স্খলন দেখতে হচ্ছে। আলী বাবা চল্লিশ চোরের কাহিনী আমরা পড়েছি। সেই আলি বাবা চল্লিশ চোরদের তো এখন মহা জোট। জোট বেঁধেই ওরা করছে লুটপাট। এখনকার চোরদের বলতে হয় না, ‘খুল যা ছিম ছিম’। এখন ব্যাঙ্কের ভল্ট এদের জন্য খোলাই থাকে। চোর তো আর চল্লিশ জন না, ওরা জোট বেঁধেই আসে। কাজেই ভল্ট বন্ধ করার সময় কোথায়?
একবার এক দাওয়াতে বসে পাঁচজন লোককে জিজ্ঞেস করেছিলাম এতো অনিয়ম এবং দুর্নীতি কারা করছে? সবাই আঙ্গুল তুলল অদৃশ্য জনগোষ্ঠীর দিকে। আমি বললাম আচ্ছা বলেন তো গতকাল সকালে ঘর থেকে বের হবার পর রাতে ঘরে ফিরে আসা পর্যন্ত কে কে কোনো অন্যায় কাজে অংশগ্রহণ করেন নি, অন্যায় কাজে সাহায্য করেন নি, অন্যায় কাজে উৎসাহ দেননি, অন্যায়কে উদ্বুদ্ধ করেননি। মনে হল ঘরটির মধ্যে এটম বোম এসে আঘাত করলো। তাই মৃত বিবেকের কাছ থেকে কোন উত্তর পাইনি। শুধু একটাই মন্তব্য করলো একজন, দেশে থাকলে আপনিও অন্যায়ের সাথে জড়িয়ে যেতেন।
হয়তো হতাম, কিন্তু যে কাজে গত ত্রিশ বছর আমার সরাসরি অংশগ্রহণ নেই সে কাজ করতে গিয়ে কী করতাম না করতাম তা কি করে বলি। আবার কোন ভরসায় বলি আমি দশ পার্সেন্টের দলে। আমিও কি তাদের মত নয় যারা দেশের দশ ভাগ সৎ নাগরিকের জন্য যেমন গর্ব অনুভব করে তেমনি নব্বই ভাগ দোষীদের জন্য লজ্জিত হয় না। মানবিক চারিত্র খোয়ানো লোকগুলোই আমাদেরই আত্মীয় স্বজন। এই লোকগুলো নিজেদের মধ্যে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। একের সাথে অন্যজন আত্মীয়তা গড়ে তুলছে। একজনের বাড়িতে অন্যজন দাওয়াত খাচ্ছে। এদের রয়েছে গভীর বন্ধুত্ব। যে বন্ধুত্ব ও বন্ধনের উৎস চৌর্যবৃত্তি। যে যত বড় দুর্নীতিবাজ তাকে ততো বেশি দাম দেই আমরা। বড় দুর্নীতিবাজ বলেই তার গাড়িটা বড়, বাড়িটাও বড়। তার ভিজিটিং কার্ডটাও দুই পৃষ্ঠার হয়। আমরাও হাসি মুখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি, উনি আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। কাজেই লোকটা হয়তো ঠিকই বলেছে, দেশে থাকলে আমি কি করতাম না করতাম সে প্রশ্ন তোলাই যায়।
আশার কথা হলো দেশের সব মানুষই চিন্তা করছে কি করে নব্বই ভাগকে দশ ভাগের মত সাধু সৎ বানানো যায়। কি করে মানুষের মধ্যে আবারো স্বাভাবিক বোধশক্তি ফিরিয়ে আনা যায়। এই ভাবনা রয়েছে দেশের শতভাগ লোকের। ন্যায় অন্যায়ের সাথে জড়িত সকলেই চায় দেশে যেন সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করে।
যে সম্পদ হালাল ভাবে উপার্জন করি নাই সে সম্পদের মালিক আমি নই, এই অনুভূতি জাগিয়ে তুলে দেশটাকে কি বাঁচানো যায় না? হা, তাও হয়তো সম্ভব। দেশের বেশিরভাগ মানুষের আয় রোজগার নষ্ট পথ দিয়ে আসছে ঠিকই কিন্তু সে পথ এখনো পচে যায়নি। হাতির ঝিলের পানির মত স্বচ্ছ হবার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। অসম্ভব বলে কিছু নেই। তবে এ কাজে কাউকে না কাউকে উঁচু গলায় আওয়াজ তুলতে হবে।
যা যা করতে হয়, যা যা বলতে হয় তাই বলুন। এই ঘোষণা যিনি বলিষ্ঠ ভাবে দিতে পারবেন এবং কঠোর ও অনমনীয় হয়ে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন, দেশের মানুষের উচিৎ হবে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ানো। তিনিই হয়তো পচে যাবার আগে মানুষের উচ্চ বিলাস ও একপার্শ্বিক ভোগ দখল রুখে সুসম অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেন। আশা করবো দেশের মানুষ সঠিক নেতৃত্ব বাছাই করতে ভুল করবে না। আর যদি ভুল হয়, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে অচিরেই নব্বই ভাগের হাতে চলে যাবে দেশ। সত্যি সত্যি যদি তাই হয়, তবে দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য আগামীতে হয়তো দরকার হতে পারে একশো জন প্রধানমন্ত্রী, এক হাজার মন্ত্রী, দশ হাজার সংসদ সদস্য।
কেন বলছি একশো, এক হাজার, দশ হাজারের কথা? বলছি যদি কোন একক ব্যক্তির দ্বারা দেশে সমুদয় জঞ্জাল মেটানো সম্ভব না হয় তাহলে একাধিক ব্যক্তির দ্বারা দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থায় আনুপাতিক হারে ওই সমস্ত পদগুলোতেও দশ পার্সেন্ট লোক বসে থাকবে। তাঁরাই হয়তো উন্নয়নের গতি কিছুটা হলেও ধরে রাখতে পারবেন। বেশি বেশি সৎ ও যোগ্য লোকের হাতে উন্নয়নের দায়িত্ব তুলে দেওয়া মানে বেশি বেশি উন্নয়ন। ততদিনে বিলকিস আর পরশেরাও প্রস্তুত হয়ে চলে আসবে। বৈষয়িক সুখ নয়, চিন্তা ও মননে উন্নয়নের প্রস্তুতি নিয়ে ওরা আসছে। হয়তো এমন দিন আবারো ফিরে আসবে যেদিন ব্যাঙ্কের সেবার অঙ্গিকার করা চিঠি আসবে সাধারণ মানুষের ঘরে। নিরসন হবে যানজট। পথে ঘাটে থুথু ফেলবে না কেউ। অসহ্য গরমও থাকবে না বাংলাদেশে।

আকতার হোসেনলেখক

৪২ Responses -- “বাংলাদেশের জন্য চাই একশ জন প্রধানমন্ত্রী”

  1. Mohammad AlAmin Islam

    ইসলামী আইন প্রতিষ্টা করলে এক জন সরকারেই যথেষ্ট

    Reply
  2. Ishtiaque Jamal

    সুন্দর গল্প, চরিত্রের গাথুনি চমৎকার, পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম

    Reply
  3. mahfuja

    বর্তমানে যারা বড় বড় লেকচার ছাড়ে। বিশেষ করে যারা অন্যকে না জেনে রাজাকার বলে সম্বোধন করে তাদের ইতিহাস খুজলে পাওয়া যাবে এদের পূর্বসূরিরা যুদ্ধের সময় প্রকৃত রাজাকার ছিল দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়া পালাইছিল। কারণ মুক্তিযোদ্ধার বংশধরেরা রাজাকারদের মতো নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবী করত। আর মুক্তিযোদ্ধারা এত অহংকারী হয় না। আর এদেশের মুক্তিযুদ্ধের পিছনে প্রতিটি নাগরিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান আছে। কেউ বেশী কেউ কম ।তাই সকলে মুক্তিযোদ্ধা। যুক্তি-তর্কে হেরে গেলে যাকে তাকে রাজাকার বলে প্রকৃত রাজাকাররা। যেমনটি ফাঁসী হওয়া রাজাকাররা করত।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      মাহফুজা, আপনি কি বলতে চাচ্ছেন চোরের মা’র বড় গলা? অবস্থাদৃষ্টে সেরকমটিই মনে হচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগে, ৪৬ বছরে এত পরিবর্তন? কে কাকে রাজাকার বলছে? মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি ১৪ বছরের এক কিশোর। যুদ্ধে যেতে পারিনি বলে আমিও রাজাকার??? এক মধ্যরাতে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দলকে রান্না করে খাওয়ানো হয়েছিল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ইসলামপুর গ্রামে)। আমি খাবার পরিবেশনায় বাবাকে সহায়তা করেছিলাম। তখন নিজেকেও একজন মুক্তিযোদ্ধা মনে হয়েছিল! সেই অনুভূতি নিয়ে এখনও বেঁচে আছি। তারপরও কেউ কেউ আমাকে ‘রাজাকার’ ‘পাকিস্তানী’ অভিধা দিচ্ছে! কি ধৃষ্টতা!

      Reply
  4. mahfuja

    “এরা দাঁড়ালে দেশ দাঁড়ায়। এরা বসলে দেশ বসে। এরা সমাজের মাথা। অথবা এরাই এখন সমাজ। এদের বাড়ির ছোট শিশুটিও বলে ‘তুমি জান আমি কে’?”।ওরা কারা জাতি এদের মত হাই প্রোফাইলদের লাগাম টেনে ধরতে চাই।তারা কি pm এর চোঁখে পড়না?দেশের ৮০%সম্পদ এরা জব্দ করে রেখেছে।বাকিটা আয়ত্বে আনার কায়দা খুজচে।সরকার এদের বিষয়ে বাকরুদ্ধ কেন?জাতি আজ জানতে চাই।
    “উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় কোন দেশ থেমে নেই।নতুন নতুন আবিষ্কার মানুষের চাহিদা প্রাপ্যতা সবকিছু মিলিয়ে উন্নত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না!!সরকার যেই আসুক উন্নয়নের গাড়ি সামনে যাবেই একমাত্র যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা বাদে।”
    বর্তমান সরকারের সবচে বড় ব্যর্থতা দুর্নিতি কন্ট্রোল।একশ্রেনীর মানুষকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদান।
    তাই বলি ১০০না ১০০০ এরকম দুর্নিতিবাজদের প্রধানমন্ত্রী বানানো উচিৎ ভবিষ্যতে গোটা দেশের সম্পদ তাদের কাছে চলে যাবে।আর জনগন ভাড়ায় থাকবে।
    আজ দেশের একি হাল।টাকা ছাড়া দেশের কোন বিচার, পশাসন, সরকারি-বেসরকারি সব দপ্তর কোন কাজ করেনা।মানুষ হাহাকার টাকা দিয়েও সরকারি তো দুরের কথা বেসরকারি দারোয়ানের চাকুরিও পাচ্চে না।আর যে টাকা দিয়ে চাকুরি নিচ্চে সে টাকা ছাড়াতো কোন সেবাত দিবেনা।এটাই কি সোনার বাংলা?এরকম দেশ কি বঙ্গবন্ধুর সপ্ন ছিল?
    নিজেরা উন্নত ঘোষনা করলে উন্নত হয়ে যায়?জনগনের মুখ হতে শুনতে হবে, কাছে যেতে হবে,চামচার কাছহতে শুনে কাগজে কলমে ঘোষনা করলেই–হয়ে যায়?তাই জানতে হবে আমার সেবা ও প্রতিশ্রুতি সাধারণের কাছে পৌছাচ্চে কিনা!—মোটকথা দুর্নিতি ছেয়েগেছে গোটা দেশের–পরতে পরতে।

    Reply
    • abullaish

      Mahfuja,having gone through diligently your all comments that you have made on various opinion columns I have come to a conclusion that you are just mentioning symptoms(though symptoms are true) of diseases but not telling anything about it’s root-cause and solution.So,not playing any constructive role to create people’s awareness regarding the state,state responsibility and indivisual responsibility towards the state and the society these kind of comments are appearing as nothing but populist big talks and pessimism.And above all,your comments are giving a subtle impression that present government is responsible for all ailments of this country, although the matter is not so.You have also written something over razakar but reading your writting I could not decide whethere this comment is in favor or disfavor of razakar or not.In fine,I would like to add that your comments may bring some hand-clappings and appreciations for you but it will contribute very little for increasing awareness of common people

      Reply
      • mahfuja

        abullaish saheb, if you do not have anything to do, then you have to do anything. But if you know this, you will be benefited by knowing the Razakars and the freedom fighter who is giving him the title of Razakars. It is necessary to punish the punishment of the Razakars. Advantages will be gained. Do not do the benefits of the people. Arhat Champachi. We are not party, but citizens of the country can not protest against the wrong in front of the election.

    • abullaish

      Mahfuja madam,you have written something in response to my
      comment in english but unfortunately,may be,not having good
      command over english language of mine I could’nt get anything
      what you’ve tried to make me understand with your responsing
      comment.

      Reply
  5. তানভির

    দেশের যা কিছু খারাপ তার জন্যে রাজনীতিবিদদের দায়ী করা একটা জনপ্রিয় ফ্যাশন। এটা মিলিটারিদের সাহায্য করেছে একসময়। রাজনীতিবিদদের অযোগ্য প্রমাণ করতে পারলে তাঁদের ক্ষমতা দখল করতে সুবিধা হতো। পাকিস্তানে চর্চাটা এখনও চলছে। ওদেশের ডি ফ্যাক্টো মালিক তাই জেনারেলরাই। দেশটা গোল্লায় গেছে।
    রাজনীতিবিদদের যারা নির্বিচার গালি দেন তাঁদের একটা সাধারণ ঝোঁক হল গালিটা দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে অথবা, নির্দিষ্টভাবে বললে, দুই নেত্রীর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া। আমি কোন ব্যতিক্রম ছিলাম না। খালেদা জিয়াকে একটা গালি দিলে খুঁজে পেতে সমান মাপের আরেকটা গালি শেখ হাসিনাকে দিতে হতো। তবে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর কিছু একটা পরিবরতন হয়েছে, যার জন্যে সবাই অপেক্ষা করছিলো। শেখ হাসিনা বোঝাতে পারলেন দেশটাকে নিয়ে তিনি বড় স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্নটাকে তিনি ক্রমশ ছড়িয়ে দিচ্ছেন সবার মধ্যে। আমরা বুঝতে পারছি ষোল কোটি মানুষের পিছিয়ে পড়া দেশটাকে দ্রুত অগ্রসর দেশগুলোর মিছিলে নিতে হলে বড় করে পা ফেলতে হবে। শিক্ষিত করতে হবে বিশাল জনগোষ্ঠীকে। তিনি দ্রুত একটা শিক্ষানীতি উপহার দিলেন, যা পঁচাত্তরের পরের তিন যুগেও করতে পারিনি আমরা। দেশের সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করলেন। কয়েকশো মাধ্যমিক স্কুলকে উপজেলা পর্যায়ে। প্রতিটা জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেন। উন্নয়নের অন্যতম শর্ত বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ালেন অবিশ্বাস্য মাত্রায়। গোয়ালন্দের ভাটিতে পদ্মায় সেতু বানাবার উদ্যোগ নিলেন। আর এসব শুরু করবার আগে দেশটাকে পরিস্কার করে নিলেন বিপুল শক্তিশালী হয়ে ওঠা যুদ্ধাপরাধীদের কবল থেকে। বাঙালি বিশ্বাস করতে সাহস পায়নি যে নিজামি, মুজাহিদ, মির কাশিম, সা কা চৌধুরীদের মতো শক্তিশালী খুনিরা ঝুলে পড়তে পারে। কত যে দেখা না দেখা চাপ বুক পেতে সহ্য করেছেন হাসিনা।
    কোন নেতাই একা দেশকে উন্নত করতে পারেন না। তাঁরা পারেন নিজের স্বপ্নকে দেশের মানুষের স্বপ্নে পরিণত করতে, অর্থাৎ মানুষকে বোঝাতে পারেন যেটা নিজে অর্জন করতে চান সেটা আসলে তাদেরই কাজ। শেখ মুজিব তাই করেছিলেন। নিজের চাওয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে দেশের সবার স্বপ্নে পরিণত করেছিলেন। বাংলাদেশের সবাই এখন চায় পরিবার ছোট রাখতে, বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাতে। দেশটা এগিয়ে যাবে। কিন্তু একটা ছোট্ট সমস্যা মাথায় রাখতে হবে।
    অনলাইন পত্রিকাগুলোর বিভিন্ন সংবাদের মন্তব্যের অংশে চোখ বুলালে দেখা যায় কি পরিমাণ জামাতি এখনও বাংলাদেশে শ্বাস নিচ্ছে। কি বিশাল ঝুঁকির মধ্যে শেখ হাসিনা আছেন, কারণ এরা সবাই তাঁকে মেরে ফেলতে চায়। এই জামাতিরা এখনও দেশের ক্ষতি করে চলেছে। আবার কখনো যুদ্ধ বাধলে এরাই হবে প্রথম রাজাকার। আমাদের কাজ হবে এদেরকে ক্রমশ নগন্য সংখ্যালঘুতে পরিণত করা। শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া এটা সম্ভব হবে না।

    Reply
    • mak

      তানভির বলেছেন, দেশের যা কিছু খারাপ তার জন্যে রাজনীতিবিদদের দায়ী করা একটা জনপ্রিয় ফ্যাশন।
      —ফ্যাশন নয়, এটাই ঠিক। দেশের যা কিছু ভালো তার জন্য রাজনীতিবিদরা হাততালি নিতে পারেন তাহলে খারাপের দায়ও তাদেরই নিতে হবে। একজন খেলোয়াড় যখন ভালো খেলে দলকে জেতান তখন কৃতিত্বের সবটাই নিজে নিয়ে নিতে চান। কিন্তু পরাজিত হলে পুরো দলের উপর দায় চাপিয়ে দেন।

      Reply
  6. লতিফ

    শেখ হাসিনার বয়স হচ্ছে। তিনি বড়জোড় দশ বছর নেতৃত্ব দিতে পারবেন। তারপরের বাংলাদেশ ফকফকা অন্ধকার। একটা উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে এবং বিচার বন্ধে আইন করা হয়েছে। কোন লাজ-লজ্জা ছিল? কোন জেনারেল, কোন বিচারপতি, কোন আমলা ― কেউ লজ্জিত হয়েছে? হয় নি। শুধুমাত্র শওকত ওসমান, নির্মুলেন্দু গুন আর আহমদ ছফার মতো গুণিজন ছাড়া কেউ লজ্জা পায় নি। শেখ হাসিনা রাজনীতিতে না এলে এই বিচার হতো না। তাঁকে ছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে এই হত্যার বিচার করতো না। তিনি যে জাতিকে কত বড় লজ্জায় ফেলে দিয়েছেন সেটা খুঁজতে অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগবে না। আমাদের সাহিত্যে শেখ হাসিনাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ হুমায়ূন আহমেদ থেকে শুরু করে যত বড় বড় সাহিত্যিক ছিলেন অথবা আছেন তাঁরা শেখ হাসিনাকে কেবল দেখেই গেছেন, তাঁর ভেতরের শক্তিটাকে উপলব্ধি করতে পারেন নি। জালালুদ্দিন রুমির একটা উক্তি স্মরণ করে বলি, সেখানে তিনি বলছেন ― পাহাড় থেকে শুধু যদি নেওয়া হয় আর তাকে কিছু ফিরিয়ে না দেয়া হয়, তবে পাহাড়ও নিঃশেষ হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা সেই পাহাড়ের মতো যাঁর কাছ থেকে সকলে শুধু নিয়েই যাচ্ছে। অতএব, অন্ধকারের দিন আসন্ন। এবং সেই ঘোর অন্ধকারে আমরা শেখ হাসিনাকেই দায়ি করব অন্ধকারের জন্য।

    Reply
  7. Bongo-Raj

    আমার একটা উপাদ্য আছে, এবং তা শুনে অনেকেই রেগে গিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবেন তাও ভাল কর বুঝি!!
    উপাদ্যটা হলো
    বাংলাদেশের যত সব সমস্যা আছে তার জন্য সরকার, সরকারীদল, বিরোদীদল, আইনের শাসন নেই এসব কিছুই দায়ী নয়, সব কিছুর জন্য দায়ী সাধারণ জনগণ।
    কি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন আর গালিগালাজও শুরু করে দিয়েছেন শুনতে পাচ্ছি। ব্যাখাও চাইছেন তাও বুঝতে পাচ্ছি।

    এই রকম করে ভাবলে কেমন হয়?
    আমাদের দেশের, রাজনীতিবিদ, সরকার, পুলিশ, মিলিটারী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারী কর্মচারী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রিকশাওয়ালা, বাড়ীর হেল্পিং হ্যান্ড ইত্যাদি এরা এক এক জন এক এক গ্রুপ থেকে আসেন না, আসেন সেই একটা গ্রুপ থেকেই আর তা হলো সাধারণ জনগণ। এরাই আইন বানায়, এদের হাতেই আইনের শাসন।
    দুষীত পানী দিয়ে দুনিয়ার সবচাইতে উত্তম মাছ মাংশ, তরিতরকারী যাই রান্না করি না কেন, স্বাস্থ্য ভালো হবে এমন খাবার পাতে উঠবে না।
    আমাদের নৈতিকতা যেই গতিতে বাড়বে, উন্নয়নও সেই তালে এগুবেই!
    গালিগালাজ ভরা প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছি!!

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      আপনার মন্তব্যগুলো আমার কাছে কখনই ‘মানসম্মত‘ বলে মনে হয় না। উল্টাপাল্টা কিছু বললেই বড় পণ্ডিত হওয়া যায় না। কাজেই, গালাগালিতো দূরের কথা; ব্যাখ্যা চাওয়ার প্রয়োজনই মনে করি না। আপনি কি বলতে চান তা কিছুই বোঝা যায় না। মাঝে মাঝে মনে হয় পাগলের প্রলাপ। তাই, ভাল করে ভাবুন আপনি কি বলতে চান। তারপর শুদ্ধ ইংরেজিতে বা বাংলায় লিখুন। নয়তো কোন মানসিক চিকিৎসকের সহায়তা নিন। আমি একজন বাংলা সাহিতের ছাত্র (১৯৭৭-১৯৮১) হয়েও আপনার ‘উপাদ্য’ শব্দটির অর্থ বুঝতে পারিনি।

      Reply
      • mahfuja

        সত্য বলেছেন,যে নিজেকে বেশি জাহির করে তার গোড়ায় গন্ডোগল।তারা মিথ্যাকে বারবার সত্য বলে চালাতে চেষ্টা করে —মনে হয় উনি মুক্তিযুদ্ধ করে এইমাত্র মহাভারত স্বাধিন করে এসেছেন।প্রকৃত যুদ্ধে এদের পাবেন ইন্ডিয়ায় নয় গর্তে

      • Bongo-Raj

        জনাব সরকার জাবেদ ইকবাল
        আমার ভবিষ্যদ্বাণীটা কি চমৎকার ভাবে ফলিয়ে দিলেন।
        মানসিক চিকিৎসকের সহায়তা নেবার উপদেশ দিয়েছেন? — ধন্যবাদ
        কিন্তু যেই ব্যাপারে দিলেন তাকি “উপাদ্য” শব্দটার জন্য।
        যেহেতু বলেছেন বাঙ্গলার ছাত্র তাই হোম ওয়ার্ক হিসাবেই নিননা
        অর্থটা পেলেও পেতে পারেন – সবই আপনার চেষ্টার পরিমানের উপর নির্ভর করবে।

  8. Bongo-Raj

    যেই দেশের ১০ জনের মাঝের সাড়ে নয়জনই সুযোগ পেলেই দুর্নীতি করতে এক পা খাড়া; যেই দেশের মেধাবীরা মোট জবের ১% সরকারী জবের জন্য সারা দেশকে অচল করে দেয়, সেই দেশে অন্য কিছু হলেও পশ্চিমা উন্নত রাষ্ট্রের সমান হতে যুগের যুগের পর যুগ লাগতে পারে এই ভাবার লোকের অভাব —

    এই মুহূর্তের বাস্থবতাটা কি?
    আকতার সাহেবের লেখা থেকে বলা যায় — আমরা আগাচ্ছি-
    তাই এখন দরকার হলো এই আগানোর ধারাকে ধরে রাখা-
    আরও দরকার হলো যেই কারণে আগানোর গতিটা অপেক্ষাকৃত ধীরে হচ্ছে তা খুঁজে বের করে প্রতিকারের দিকে নজর দেওয়া-

    কারন বলতে কি আর তার সমাধানই বা কি?
    – দুর্নীতি – গাধাও জানে তা দূর করা
    – ভাল খারাপ যেটাই হোক না কেন একদল আছে তার সমাধান নয় সমালোচনাকেই পছন্দ করে — তাদের মানুষ করা
    – এখনো পাকিস্থানীপন্থি রয়েছে এদের বিনাশ করা
    – ধর্মীয় ব্যাবসা — আইন করে বন্ধ করা

    এই ভাবে বললেই – ডেফিনেটলি চামচা খেতাব আপনার কপালে!!

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      দুর্নীতিগুলো কাদের পৃষ্ঠপোষকতায়/নির্দেশে হয় জানালে উপকৃত হতাম।

      Reply
      • সৈয়দ আলী

        সরকার জাবেদ ইকবাল হা হা হা, আহা, ‘ পন্ডিত’ এর জ্ঞানচর্চায় বরফ-জল ঢেলে দিলেন?
        আপনি সঠিক বলেছেন, পাকিস্তান আমল থেকে রাজনীতিবিদেরাই নিজেদের লোভের মূল্য দিতে সামরিক-বেসামরিক আমলাদের ডেকে এনেছে (সুত্র: মধ্যরাতের অশ্বারোহী গ্রন্থে ফজলুল হক-আতাউর রহমান-গোলাম মুহম্মদের আলোচনার বিবরণ)।

      • Bongo-Raj

        জনাব সরকার জাবেদ ইকবাল
        সমস্যাটা এখানেই– রোগের ডায়াগনসিসে ভুল হলেই রোগ ভাল না হয়ে আরো বিপর্যয় ঘঠায়।
        আচ্ছা বলুনতো যাদের পৃষ্ঠপোষকতায়/নির্দেশে দুর্নীতিগুলো হচ্ছে এরা কি বাংলাদেশ জন্ম হবার পরথেকেই একই জন? জবাব অবশ্যই ” না ” তাইনা!
        তার মানে আমি বা আপনি যদি সেই পৃষ্ঠপোষক /নির্দেশে দাতার পোস্ট টা পাই একই কাজই করবো – তাহলে কি দাড়ালো ?
        সত্যিকারের সমাধান, নির্দেশ দেওয়া জন বড় আপরাধী কিন্তু যিনি নির্দেশ পালন তিনি আরও বড় অপরাধী এটা বুঝতে হবে আর তার প্রতিকারের জন্য দাড়াতে হবে।
        দুর্নীতির নির্দেশ পালন কারী ( সেই সরকারী চাকুরীর জীবি) হবার জন্য আমরা কেমন আন্দোলনটাই করছি। কেন আমাদের মেধাবীরা এমন পাগল প্রান সরকারী চাকুরি পাবার জন্য? এসবের উত্তর আমাদের খুঁজতে হবে! তা না করে সেই আন্দোলনকে আমরা অবতার সেজে সাপোর্ট দিচ্ছি —
        কই দুর্নীতির নির্দেশ পালন করবোনা এমন আন্দোলন হচ্ছে !!!
        তাই বলছি – আপ ভালো তো জগুথ ভালো

  9. Azad

    আমাদের দরকার একজন বিবেক তাড়িত সত্যিকার সৎ নেতৃত্ব৷মোনাফেক নয়৷

    Reply
    • Bongo-Raj

      এখনো যদি না পেয়ে থাকেন তাহলে জিব্রাইল (আঃ) কে আনতে হবে!!

      Reply
  10. Azad

    সকল ক্ষেত্রে বিবেক জাগ্রত করুন৷ ভবিষ্যত বংশধরদের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করুন৷

    Reply
  11. M.A.MORTUZA

    সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেয়ার জন্য কার প্রতি ইশারা করলেন ভালো করে বুঝলাম না।
    আরেকটু খোলাসা করে বললে ভালো হতো।

    Reply
  12. সরকার জাবেদ ইকবাল

    সম্প্রতি একটি ‘কালচার’ দাঁড়িয়ে গেছে, – প্রশংসা করলেই ‘চামচা’ আর সমালোচনা করলেই ‘রাজাকার’। একতরফা প্রশংসা মানুষকে কখনও বিপথে পরিচালিত করতে পারে, আবার, সমালোচনা মানুষকে সঠিক দিকনির্শেনা দিতে পারে। কাজেই, মতামত/মন্তব্য হওয়া চাই বস্তুনিষ্ঠ; বাগাড়ম্বর নয়।

    লেখক আকতার হোসেনের বিশ্লেষণ আমার ভাল লেগেছে। বিদেশের মাটিতে বসেও তিনি দেশের কথা ভাবেন, দেশকে ভালবাসেন তার জন্যেইতো তাঁকে সাধুবাদ দেয়া উচিত। তবে আমাদের একশ’ জন প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন নেই; শেখ হাসিনা একাই একশ’।

    একটি সতর্কতা দিতে চাই, – আগামী নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয় তা শেখ হাসিনার কারণেই হবে, আর, যদি ভরাডুবি হয় তাহলে ছাত্রলীগ তথা আওয়ামী লীগের কারণেই হবে। এরচেয়ে সংক্ষেপে আর বলা গেল না। আশা করি এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতৃবৃন্দ নজর দেবেন।

    Reply
    • Bongo-Raj

      সমালোচনা করলেই রাজাকার বলা হ্য় তা ঠিক নয়।
      প্রমান —
      প্রফেসর জাফর ইকবাল কে কোটা নিয়ে লিখার জন্য তথাকথিত অনেক সাধুও চামচা বলে সেই কি তোলপাড়!!
      , কিন্তু সেই তিনিই যখন প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সরকারকে তুলোধুনো করেছিল কেউ তাকে রাজাকার বলেনি! তো!!

      রাজাকার শব্দটা উচ্চারন করলেই যারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় ( Reacts sharply) তাদেরকে সন্দেহাতীত ভাবেই রাজাকার বলা যায় ,
      চামচা দের বেলায়ও তাই !!

      Reply
      • প্রবীর কুমার দাশ

        রাজাকার কে রাজাকার বলবে না তো কি বলবে ? প্রশ্ন ফাসের সমালোচনা করে আবার ঐ মন্ত্রীর সাথে একসাথে পান সিগারেট খায় আমার মুক্তিযোদ্ধা লেখক । যুদ্ধের সময় ভয়ে গর্তের মধ্যে লুকিয়ে ছিলো । জীবনে কোনদিন আক্ষেপ করতে দেখলাম না এ জন্য তাকে । শুধু সরকারের দালালী করে বেরায় । উনার ভন্ডামীর দিন শেষ । আরেকটা কথা যেই ক্ষমতায় আসুক বিনা ভোটে আর না !!! নিরেপেক্ষ ভোটে আসতে হবে ।

      • Bongo-Raj

        জনাব প্রবীর কুমার দাশ
        “জীবনে কোনদিন আক্ষেপ করতে দেখলাম না এ জন্য তাকে”
        তা করার জন্য যদি তিনি (জনাব জাফর ইকবাল) মহাভারত সম লিখাও আপনাকে দেয়, খুশি হবেন?
        মুক্তি যুদ্ধ কি এখনো শেষ হয়েছে।
        রাজাকারের গাড়ীতে দেশের পতাকা পতপত করে উড়লো তা নামানো কি মুক্তি যুদ্ধ নয়? হয়তো দ্বিতীয় পর্বের মুক্তি যুদ্ধ বলা যায়।
        প্রবীর কুমার দাশ (?) আপনার অবদান এই ২য় পর্বে?
        নিশচয়ই সেই রাজাকারে পতাকার পাশে ছিলেন? তানা হলে এমন কমেন্ট!!
        এই ২য় পর্বের মুক্তি যুদ্ধে অন্তত পরাক্রমশালী সেনাপতি ছিলেন জনাব জাফর ইকবাল!!

      • প্রবীর কুমার দাশ

        মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১. এর পর যা চলছে তা হলো লুটপাটের যুদ্ধ । দেশটাকে কেউ বাবার কেউ স্বামীর মনে করে লুটপাট করেছে, করছে। আমি দলকানা নই। যুদ্ধের সময় যাত্রাবাড়ির বিরাট গর্তে লুকিয়ে থাকা লোককে যদি আপনি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি(!) বলেন তাহলে আপনার মতো মুর্খের সাথে আমি আর সময় নষ্ট করবো না । এমন এক দলের দালালী করছেন মনে শান্তি পেতাম তবুও যদি জনগনের ভোটে নির্বাচিত হতো ? দলকানা হওয়ার মধ্যে গর্বের কিছু নেই ।

  13. Mute Spectator

    লেখাটা পড়ে ভাল লাগল। উন্নয়নের সাথে ন্যায় বিচার থাকলে আমরা বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম। আইনের শাসনের কমতি, দুর্নীতি এই দুটি বিষয় আমাদেরকে অষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রেখেছে। আমাদের শাসনের ছোট্ট একটা উদাহরণ হচ্ছে ঢাকায় গাড়ির ব্যাবহার। প্রথমত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত স্বেচ্ছাচার মূলক গণ পরিবহণ। মালিক শ্রমিক আঁতাতের মাধ্যমে এ ই খাতটি দেশের মানুষের জন্য ক্যান্সার বই কিছু নয়। অথচ ঢাকার গণপরিবহণ স্যাটেলাইট যুগের (যে যুগে আমরা কেবলই প্রবেশ করে ভীষণ ভাবে গর্বিত) সাথে কম্পিটেবল করতে এই সরকারের সাতদিনও লাগার কথা নয়। মানুষের দুঃখটা এখানেই।
    প্রতিটি ক্ষেত্রে এইরকম বহু অনিয়মের উদাহরণ দেয়া যাবে। সরকার, বিরোধী দল
    এবং সাধারণ মানুষ সবাই জানে কোথায় ত্রুটি। কিন্তু সুরাহা হচ্ছেনা।
    যার জন্য মানুষ ভোটটাকে অবলম্বন করে আশার প্রদীপ জালিয়ে রাখতে চায়।সরকারের এব্যাপারে কোন হেলদোল আছে বলে তো মনে হচ্ছেনা।

    Reply
    • Bongo-Raj

      ধর্ষণের মহামারী, ক্ষমতাশালীদের অপ্রতিহত সংখ্যালঘু-সম্পত্তি দখল, বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি, জনগণের ওপর পুলিশের অবর্ণনীয় অত্যাচার আছে – নিরসন্দেহই আছে।
      তাকি আগের চাইতে বেড়েছে? মানে এই সব আছে আর তা আছে আমাদের বাঙ্গালী খাচালতের জন্য, সরকার বদল হয়েছে বলে নয়।

      লেখক একজনের উপর নির্ভর হতে বলেন নি, বলেছেন একজনই ভালো আছেন আর তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী । তাই হয় তো বলেছেন মন্ত্রী সভা নয় সবাই প্রধান মন্ত্রী হওয়া দরকার – this is my perception on this article of জনাব আক্তার হোসেন।

      Reply
    • Bongo-Raj

      Hasan Mahmud সাহেবের কমেটের বিপরীতে লিখতে গিয়ে জনাব Mute Spectator এর কমেন্টের বিপরীতে হয়ে গেল
      My bad!

      Reply
  14. সুরুজ বাঙালি

    হ্যা ১০০ জন কেন ৫০০ জন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে আসুন সমস্যা নাই , কিন্তু অবশ্যই নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। বিরোধী দলের নেতাদের জেলে পুড়ে আর নিজেদের দুর্নীতিবাজ নেতাদের বাইরে রেখে নির্বাচন করলে হবে না।

    Reply
    • Bongo-Raj

      যেই সব উন্নত দেশ নিয়ে আমরা বগলধাবা করি সেই সব দেশে বাংলাদেশের বর্তমান পদ্দতিতেই নির্বাচন হয় আর তাকে নিরপেক্ষ নির্বাচনই বলা হয়!!

      Reply
      • প্রবীর কুমার দাশ

        দাদা
        টিনের চশমা খুলেন । ঐটা অনেক দিনের পুরানো । এতদিনে জং ধরে গেছে । নিরেপেক্ষ নির্বাচন বলে আর লজ্জা নিয়েন না । ঘোর আওয়ামীলীগার ও এই কথা বলেনা 😁😁😁

      • Bongo-Raj

        জনাব প্রবীর কুমার দাশ
        আমার মনে হয় আপনি নিরপেক্ষ নির্বাচন কথার অর্থটাই বুঝেন না। ২০১৪ এর নির্বাচন, নিরপেক্ষ হয়েছিল তো বটেই। কারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কোন পার্টিতো খুত ধরেনি। যেই দল নির্বাচনে যোগই দেয়নি তাদের মুখ থেকে নিরপেক্ষ হয়নি বলাটা বোকামী নয় কি?

        নির্বাচনে যোগ দেয়নি দল হয়তো খুব বেশী হলে এইটুকুই বলতে পারেন, আমাদেরকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তার বেশী তো নয়!! নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি অমন কথা বোকার মত বলাটা তো লজ্জার।

        নির্বাচনে তো সেই তথাকথিত দলগুলো নিজ থেকেই আসেনি, বরঞ্চ, নির্বাচন ভন্ডুল করার জন্য সে কি জঘন্য কান্ডকারখানা! সেই কথা ভেবে কি লজ্জা পাচ্ছেন না? জবাবটা না হলে বলতেই হয় — মনুষত্য নেই দাদা– !!

  15. Hasan Mahmud

    সুন্দর লিখেছেন আকতার হোসেন। অবিশ্বাস্য উন্নতি হচ্ছে – আবার ধর্ষণের মহামারী, ক্ষমতাশালীদের অপ্রতিহত সংখ্যালঘু-সম্পত্তি দখল, বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি, জনগণের ওপর পুলিশের অবর্ণনীয় অত্যাচার এসবও আছে। “বাম্পি রাইড” যাকে বলে। একটা রাষ্ট্রের ভালোমন্দ উন্নতি-অবনতি মাত্র একজন মানুষের ওপর নির্ভর করাটা বিপজ্জনক। আর কিছু না হোক শরীর খারাপ হতে পারে…… জয় বাংলা….।

    Reply
    • Bongo-Raj

      একটা জায়গায় খালি দ্বিমত!
      ধর্ষণের মহামারী, ক্ষমতাশালীদের অপ্রতিহত সংখ্যালঘু-সম্পত্তি দখল, বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি, জনগণের ওপর পুলিশের অবর্ণনীয় অত্যাচার আছে – নিঃসন্দেহেই আছে।
      তাকি আগের চাইতে বেড়েছে?
      মানে এই সব আছে আর তা আছে আমাদের বাঙ্গালি খাচলতের জন্য, সরকার বদল হয়েছে বলে নয়।

      লেখক একজনের উপর নির্ভর হতে বলেননি, বলেছেন একজনই ভালো আছেন আর তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী। তাই হয় তো বলেছেন মন্ত্রী সভা নয় সবাই প্রধানমন্ত্রী হওয়া দরকার – this is my perception on this article of জনাব আক্তার হোসেন।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—