তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষের বাসভবন। ইঙ্গরাজ আমলে নির্মিত এই অপূর্ব উদ্যান-ভবনটি পূর্বরাত্রে এমনভাবে বিচূর্ণিত ও লুণ্ঠিত হইয়াছে যে বাঙ্গালা বাচনে ‘ভবন’ শব্দটি (ফরাসিস ভাষার মতো) স্ত্রীলিঙ্গ হইলে ‘ধর্ষিতা’ বিশেষণটি প্রয়োগ করা যাইত। দেখিয়া মনে হইতেছিল, একাধিক মদমত্ত হস্তী যেন সারা রাত ধরিয়া ভবনটিকে দলিত, মথিত করিয়া বহুযুগের গোপন কোনো প্রতিহিংসা চরিতার্থ করিয়াছে।

গবাক্ষ ও দ্বারসমূহের আরশি চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া ভবনের অভ্যন্তরে ও চতুর্দিকের উদ্যানে ছড়াইয়া আছে। ইঙ্গরাজ আমলের যে সকল রূচিশীল আসবাব কিংবা তৈলচিত্র এই ভবনে রহিয়াছে বলিয়া জনশ্রুতি ছিল, সেইগুলার ধ্বংসাবশেষ কুত্রাপি দৃশ্যমান হইতেছিল না। সিঁড়ি ও কক্ষসমূহের ভূমিতে ভূপাতিত ছিল অর্বাচীন আমলের বায়ু-বন্দুক বা ঐয়রগান, অর্ধদগ্ধ হিসাবের খাতা, নিম্নরূচির ফুলদানি, রঙ-চটা ইস্পাত-আলমারি, প্রকা-াকার তুষার-প্রকোষ্ঠসহ কলোনিয়ল ঐতিহ্যবাহী এই ভবনের স্থাপত্যের সহিত সঙ্গতিহীন ও রূচিহীন যত আসবাব ও তৈজসপত্র। ভস্মীভূত কিছু আসবাব ভবনের সন্মুখভাগে স্তূপীকৃত করা হইয়াছিল। ভবনের পশ্চাৎভাগে নিশাকালে অঙ্গারিভূত অত্যাধুনিক কয়েকটি শকট হইতে তখনও ধূম্র নির্গত হইতেছিল। সমীপবর্তী অর্ধদগ্ধ পনসবৃক্ষটি তাহার অপোগণ্ড মুচি ও অপক্ক ইচর সন্তান সমূহকে বুকে লইয়া যন্ত্রণায় অসাড় হইয়া নতমুখে দণ্ডয়মান ছিল।

উপাধ্যক্ষভবনে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বিশেষে দর্শনার্থীরা দলে দলে প্রবেশ করিতেছিল। দৃশ্য, শ্রাব্য ও পাঠ্য গণমাধ্যম সমূহের পত্রকারেরাতো ছিলেনই। মজলিশে সুরার অন্যতম কর্ণধার কবিরাজ সৈমদ, মৈকশুদ্ধ কমল, লালিমা আকৈত্রসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ একে একে কিংবা দলবদ্ধ হইয়া উপস্থিত হইতেছিলেন। কিয়ৎকাল পূর্বে নির্বাচিত ডৈন চৈতকা হৈলম সিঁড়ি দিয়া দ্বিতলে উঠিতেছিলেন এবং এই বলিয়া দুঃখপ্রকাশ করিতেছিলেন যে একসপ্ততি বর্ষের পঞ্চবিংশ মর্চের নিশাকালেও তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমত ধ্বংসলীলা হয় নাই। অন্যদিগের তুলনায় শ্রীমতি হৈলম মহোদয়া অধিক বিষাদগ্রস্ত হইবার কথা, কারণ কৈশোরান্তে কিংবা যৌবনারম্ভে তিনি কিছু কাল স্বীয় উপাধ্যক্ষ পিতার সহিত এই ভবনে বসবাস করিয়াছিলেন। লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে ঐরাবিণ সৈদকের এক কালের দোর্দণ্ড প্রতাপে সিপাহশালার এবং এক্ষণে ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার: অসৈফল ঐলম, রৈহমতুল্য, বায়তুল্য কৈদর প্রমূখ হয় তখনও আসিয়া পৌঁছান নাই কিংবা কেহ কেহ পৌঁছাইলেও খুব একটা উচ্চবাচ্য করিতেছিলেন না।

বেলা দ্বিপ্রহর। তক্ষশীলার অতি সাধারণ কয়েকজন শিক্ষক শৈশরক, শামৈমক, মৈসদক প্রমূখ ভবনের চতুপার্শ্বস্থ উদ্যানে পায়চারী করিতেছেন। ইহাদিগের মত অতি সাধারণ এবং মতলবহীন শিক্ষকের এই ভবনে প্রবেশের প্রয়োজন সাধারণত হয় না। কিন্তু অদ্য ‘আলুর গুদামে অগ্নিকাণ্ড’ সংঘঠিত হওয়ার সুবাদে তাহারা ফোকটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র উদ্যান-ভবনের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাইতেছিলেন।

জগতের অন্য সব ঘটনার মতো ধ্বংসলীলারও একটি অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য যদি না থাকিত তবে ঈশ্বর কদাপি তাহা সংঘঠিত হইতে দিতেন না। মহান সৃষ্টিকর্তার অনিচ্ছায় গাছের একটি পাতাও যদি না নড়ে, তবে উপাধ্যক্ষ ভবনের ভাংচুরও যে মূলতঃ তাঁহারই ইচ্ছারই প্রতিফলন – ইহাতে সন্দেহ প্রকাশ করা সমীচিন নহে। শৈশরক জীবনে প্রথম দেখা সেই বিরল ঐশ্বরিক সৌন্দর্য নীরবে উপভোগ করিতেছিলেন, কিন্তু বেরসিক মৈসদক প্রথম প্রশ্নটি করিয়া উপভোগের বাড়াভাতে ভস্মপ্রদান করিল। বলা বাহুল্য, ইহা মৈসদকের স্বভাবদোষ নহে, শিক্ষাদোষ, কারণ পেশায় শিক্ষক হইলেও মূলত যেহেতু তিনি একজন দণ্ডবিধি বিশারদ, সেহেতু বেশিক্ষণ প্রশ্নহীন থাকা তাঁহার পক্ষে সম্ভবে না।

মৈসদক: আর্য! ‘উহারা’ কী করিয়া এমন একটি ধ্বংসযজ্ঞ সম্পাদন করিতে পারিল! কোনো শিক্ষিত মনুষ্যসন্তানের পক্ষে কি এমন ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করা সম্ভব? বাঙলার ইতিহাসে কেহ কখনও এমন জঘন্য, নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে নাই।

শৈশরক: সুহৃদ মৈসদক। আপনি দণ্ডবিধিতে বিশেষজ্ঞ। ‘উহারা’ বলিতে আপনি ‘কাহাদের’ প্রতি ইঙ্গিত করিতেছেন? আর আপনার ‘উহারাই’ যে এই অপকর্ম করিয়াছে তাহাই বা আপনি নিশ্চিত হইলেন কী প্রকারে? আপনিতো অল্পবিস্তর ইতিহাস পাঠ করিয়াছেন। তক্ষশীলা কিংবা অন্য পৃথিবীর অন্য কোনো নগরে এই জাতীয় ধ্বংসযজ্ঞ কি আসলেই অশ্রুতপূর্ব কোনো ঘটনা?

মৈসদক কোনো উত্তর দিলেন না। আর্যাবর্তে প্রশ্ন করা বিপদজনক, উত্তর দেয়া ততোধিক বিপদজনক। অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়াইতে শামৈমক গত শতাব্দীর প্রারম্ভে ছোটলাট ফুলার সাহেবের শুভাগমন উপলক্ষে নির্মিত শতাধিক ভবনের মধ্যে টিকিয়া থাকা সবেধন নীলমণি এই উপাধ্যক্ষ ভবনের ইতিহাস বলিতে আরম্ভ করিলেন। রোকেয়া হলের পুষ্করিণী, চামেরি ও চামেলি ভবন ইত্যাদি যে সুদূর অতীতে উপাধ্যক্ষ ভবনের উদ্যানের অংশ ছিল, প্রাক্তন কোন ধর্মভীরু উপাধ্যক্ষের সময়ে এই ভবনের অমূল্য সব চিত্রকর্ম দেয়াল হইতে নামাইয়া শৌচাগারে রাখার পর কীভাবে সেইগুলা একে একে চুরি হইয়া যায় ইত্যাদি ঘটনার বর্ণনা শুনিতে শুনিতে অধ্যাপকবৃন্দ উপাধ্যক্ষ ভবন হইতে নির্গত হইয়া কলাভবনের বিশ্রামাগার অভিমুখে অগ্রসর হইলেন।

সপ্তম অঙ্ক, ২য় দৃশ্য।
[গোপন মন্ত্রণাকক্ষে উপবিষ্ট চন্দ্রগুপ্ত। অদূরে তাঁহার নিজস্ব গুপ্তচর বাহিনীর প্রধান করজোড়ে দণ্ডায়মান]

চন্দ্রগুপ্ত (রাগান্বিত স্বরে): তোমার কথামত আমাদিগের দলভূক্ত শিক্ষার্থীরাই যদি আন্দোলন পরিচালনার সহিত যুক্ত থাকিবে তবে আন্দোলন থামিয়া যাইবার পরিবর্তে কী কারণে অধিকতর বেগবান হইল? সর্বোপরি গভীর রাতে সপুইয়া কৈমল ছাত্রী-নিবাসে এমন কি ঘটিল যে আমাদিগের সকল হিসাব বদলাইয়া পাশার সকল দান উল্টাইয়া গেল? সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমলক দলের ছাত্রীশাখার যে নেত্রীকে পাদুকা-মালা পড়াইয়া বিশ্ববিদ্যালয় হইতে বিতাড়িত করিয়াছে, উপাধ্যক্ষ যদি আমাদিগের নির্দেশে ঐ রাত্রে সেই ঐশাকে বিশ্ববিদ্যালয় হইতে বহিষ্কার না করিতেন, তবে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলিয়া যাইত। সাধারণ ছাত্রীর পায়ের শিরা কর্তনের খবরটি গুজব ছিল, কিন্তু একটি গুজবের ভিত্তিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে প্রকারে তাহাদিগের সহপাঠীনির সাহায্যে আগাইয়া আসিল তাহাও বিস্ময়কর। এই সব ঘটনা কিংবা রটনার পশ্চাতে কী কী কারণ থাকিতে পারে বলিয়া তোমার মনে হয়?

গুপ্তচর-প্রধান: মহান সম্রাট! প্রথমত, ঐশাসহ আমলক ছাত্র শাখার অন্য অনেক নেতা বহু দিন যাবৎ সাধারণ শিক্ষার্থীগণের উপর অত্যাচার করিয়া আসিতেছে। প্রকৃতপক্ষে আমলক দলের শিক্ষার্থী শাখার নেতা-নেত্রীরা প্রতিটি ছাত্রবাসকে এক একটি নির্যাতনকেন্দ্রে পরিণত করিয়াছে। গভীর রাত্রিতেও মিছিলে না গেলে ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদিগের শয়নের জায়গা মিলে না। অনেকে শৌচালয়ে বিছানা পাতিয়া ঘুমায়। নেতৃবৃন্দ কারণে-অকারণে সাধারণ ছাত্রছাত্রীগণকে চপেটাঘাত-পদাঘাত করে–কটুবাক্য প্রয়োগতো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অবশ্য আমলক দলের আশকারা পাইয়া সচিব হইতে পিয়ন — কাহাকেই বা তাহারা আঘাত কিংবা অপমান না করিয়া থাকে? প্রতিটি ছাত্রাবাসের সন্মুখে আমলক দলের শতাধিক স্বয়ংক্রীয় দ্বিচক্রযান সদাপ্রস্তুত। তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই সকল যান বেপরোয়াভাবে চালাইয়া আমলক দলের শিক্ষার্থী নেতারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করিয়াছে। প্রধানত এই অত্যাচারের প্রতিবাদেই এই অসংগঠিত স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন সংঘঠিত হইয়াছে।

দ্বিতীয়ত, মহান সম্রাট হয়তো অবগত আছেন যে আর্যাবর্তে কর্মসংস্থানের অবস্থা ভয়াবহ। প্রতি চারজন যুবক-যুবতীর মধ্যে একজন শিক্ষিত বেকার। কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা যথেচ্ছভাবে বিদেশে পাচার হইতেছে। টকসওয়ারেরা বলিতে বলিতে মুখে ফেনা এবং পত্রকারেরা লিখিতে লিখিতে নিবে কালি তুলিয়া ফেলিল, কিন্তু আপনার অতিবৃদ্ধ অর্থ-অমাত্য বুঝিতেই পারিতেছেন না ‘এই সামান্য পরিমাণ অর্থের জন্য’ আর্যাবর্তের পত্রকার ও বুদ্ধিজীবীগণ কেন এত হাহাকার করিতেছেন। এদিকে বিনিয়োগ হইতেছে না বলিয়া কর্মসংস্থানও হইতেছে না। সুদূর মফস্বলেও সামান্য একটি পিয়নের চাকুরির জন্যে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিতে হয়। ব্যাংকসমূহ স্বেচ্ছা-কুঋণে আকণ্ঠ জর্জরিত। আমলকপন্থী পরিচালকেরা নিজেরাই ঋণ নিয়া ব্যাংকগুলাকে একের পর এক দেউলিয়া করিতেছে। ইহারা আবার সম্রাটের একান্ত প্রীতিভাজনও বটেন।

মহামান্য সম্রাট! আপনার সদিচ্ছার যে অন্ত নাই তাহাতে আর্যাবর্তে কেহ সন্দেহ করে না, কিন্তু রাষ্ট্র যাহারা পরিচালনা করে, সেই কায়স্থগণের দেশের ভবিষ্যৎ লইয়া কোনো চিন্তা কিংবা স্বপ্ন নাই। তাহারা রাষ্ট্রীয় অর্থে কারণে-অকারণে বিদেশ ভ্রমণ করে, কিন্তু বিদেশের কোনো অভিজ্ঞতা দেশে আসিয়া প্রয়োগ করিতে পারে না কিংবা করিতে চাহে না। এই কায়স্থগণ আপনাকে মিথ্যা প্রবোধ দিতেছে যে আর্যাবর্তের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, চকচকায়মান। সম্রাটের অন্যতম উপদেশক, প্রাক্তন কায়স্থ হৈটি ঐমম মনে করেন, কোটাবিরোধী আন্দোলন সম্রাট-বিরোধী এক ষড়যন্ত্র বৈ নহে এবং ইহার পশ্চাতে রহিয়াছে বৈনপি-জৈমত। রানা প্লাজার নড়বড়ায়মান স্তম্ভের মত ঐমামদিগের কথা বিশ্বাস না করিয়াও হয়তো সম্রাটের উপায় নাই। কিন্তু (সম্রাট আমার প্রগল্ভতা মার্জনা করিবেন!) উট বালিতে মুখ গুঁজিয়া থাকিলেই কি মরুঝড় থামিয়া যায়?

যাত্রাপালা: চন্দ্রগুপ্ত-৭। সপ্তম অঙ্ক, ৩য় দৃশ্য।
[চাণক্যের বাসভবনের সন্মুখস্থ উদ্যান। চাণক্য ও ঐকত্রজম্মন পায়চারী করিতেছেন।]

ঐকত্রজম্মন: গুরুদেব, আমি মহান সম্রাটের হস্তধৃত পুত্তলিকা বই নই। দুর্বৃত্তের দল যখন আমার বাসভবন লণ্ডভণ্ড করিল, শকট পোড়াইয়া দিল, বেঘোরে পৈতৃক প্রাণখানি পর্যন্ত যখন যাইবার উপক্রম হইল, তখন নগররক্ষীদলের প্রধানকে কত অনুনয়-বিনয় করিলাম, কিন্তু তিনি কিছুতেই রক্ষীদল প্রেরণ করিয়া আমাকে রক্ষা করিতে সম্মত হইলেন না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাকি অনুমতি নাই। ভয়ে কাঁপিতে কাঁপিতে কোনোমতে রাত্রিযাপন করিয়া পরদিন সৈনট ভবনে ভয়ে তদাবধি কম্পমান পশ্চাদ্দেশ কোনোমতে সামলাইয়া সমুদয় সহকর্মীর সন্মুখে বড় মুখ করিয়া বলিতে হইল: ‘ইচ্ছা করিয়া রক্তপাত এড়াইতে আমি নিজেই উপাধ্যক্ষ ভবনে প্রবেশের নিমিত্ত নগররক্ষীদলকে আহ্বান করি নাই!’

সম্রাটের নির্দেশে গভীর রাত্রিতে ঐশা নাম্নী এক শিক্ষার্থীনীকে আমি তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে বহিষ্কার করিয়াছি। আবার তাহারই নির্দেশে ইতিমধ্যে আমাকে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করিতে হইয়াছে। আমি পূর্বাহ্নে এক কথা বলি, অপরাহ্নে বলি আর এক কথা, সায়াহ্নে আবার নিজের কথা নিজেই বেমালুম অস্বীকার করি। সারা দিন মিডিয়ার সন্মুখে বকবক করিয়া মুখে ফেনা তুলিয়া ফেলি। মিডিয়াকে সময় দিতে গিয়া প্রশাসন অবহেলিত হয়। কিন্তু যাহা ভাবি, তাহা বলিতে পারি না, যাহা বলি তাহা আমি ভাবি না। আমার তুল্য অভিনেতা কি আর আছে? হায়! এই অভিনয় যদি আমি বিন্দুমাত্র উপভোগ করিতাম। আর্যাবর্তের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ আমি, অথচ আমার তুল্য দুর্ভাগা এই আর্যাবর্তে দ্বিতীয়টি নাই। ইচ্ছা করে পদত্যাগ করিয়া চিরতরে মনবেদনা বিদূরিত করি।

চাণক্য: বৎস ঐকত্রজম্মন, যে পদ পাইয়া তুমি অদ্য অস্বস্তিতে হংসফংস করিতেছ, সে পদখানির জন্যেই কি আজীবন তুমি লালায়িত ছিলে না? একদিনেতো তুমি উপাধ্যক্ষ হও নাই। তোমার কিংবা তোমার সহকর্মীদের জন্য তক্ষশীলার উপাধ্যক্ষ হওয়া উন্নতির প্রতিবন্ধক দৌঁড়ের প্রায় সর্বশেষ ধাপ। প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করিতে কত শত দুই-তিন নম্বরী পদক্ষেপ স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় তোমাকে গ্রহণ করিতে হইয়াছিল, স্মরণে আসে কি? তোমার বহু সহকর্মী এই দৌঁড়ে পদভ্রষ্ট, পদভঙ্গ হইয়া এক্ষণে বিরলে হাহুতাশ করিতেছে। নিজের দলেরই হোক কিংবা হোক অন্য দলের, প্রতিযোগী সহকর্মীকে দিনরাত ল্যাঙ্গ মারিয়া পদস্খলিত করিবার দুশ্চিন্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কত শিক্ষক-নেতার সুনিদ্রা হয় না। লেখাপড়া কিংবা গবেষণার চিন্তা চিরতরে পরিত্যাগ করিয়া শত শত শিক্ষক উপাধ্যক্ষ কিংবা নি¤œতর কোন পদপ্রাপ্তির মুষিকদৌঁড়ে সামিল হইয়াছে কিংবা হইতেছে। এই মুহূর্তে কত জন শিক্ষক-গৃহবধূ ফর্স্টলডি হইবার উদগ্র আকাক্সক্ষায় আপনাপন স্বামীদিগকে তোমার পদখানি ছলে-বলে-কৌশলে কাড়িয়া লইবার নিমিত্ত দিনরাত গঞ্জনা দিতেছে। সকলেই তোমার ধর্ষিতা বাগানবাটিকার দেহখানি উপভোগ করিতে চায়! একদিনের জন্যেও যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মালিক’ হইয়া উপাধ্যক্ষ ভবনের দোতলার বারান্দা হইতে সন্মুখভাগের সবুজিমার অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করিতে না পারিলেন তবে বৃথাই দেবীগণ নশ্বর মনুষ্য-দেহ ধারণ করিলেন! (সৈন্ডিকৈট নির্বাচনে চৈতকা হৈলমের অতি সাম্প্রতিক পরাজয় কি মজরিশে শুরার সদ্যস্যদিগের গোপন ল্যাঙ্গ কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার ফলশ্রুতি নহে? শ্রীমতির প্রতিপক্ষ অধ্যাপকগণের স্ত্রীগণ সম্ভবত ভাবিতেছেন, চৈতকা যদি কোনক্রমে উপাধ্যক্ষা হইয়াই যায়, তবেতো তক্ষশীলার ফর্স্টলডি পদখানির অনর্থক অপচয় হয়!) তোমার মহিষীও কি ফর্স্টলডি হইয়া এক্ষণে আহ্লাদে অষ্টখ- হইতেছেন না? কত বান্ধবী, কত আত্মীয়া তাঁহার সৌভাগ্যে ইর্ষান্বিত? তিনিই কি সহজে তোমাকে অ-পদস্থ হইতে দিবেন?

বাঘের পিঠে চড়িয়াছ ঐকত্রজম্মন, সহজে অবতরণ করিতে পারিবে না। যেইমাত্র অ-পদস্থ হইবে, লোকে তোমাকে অপদস্থ করিবার চেষ্টা করিবে। মৃত ব্যঘ্র আর অ-পদস্থ উপাধ্যক্ষে তফাৎ যে বিশেষ নাই তাহা কি ঐরাবিণ সৈদককে দেখিয়া বুঝিতেছ না? ফৌটবলে একবার পদাঘাত হইয়া গেলে ফৌটবল কি স্বেচ্ছায় থামিতে পারে? দেখ, পদহানি হইলে চতুস্পদ পশুরাই দণ্ডায়মান থাকিতে পারে না, তুমি দ্বিপদ মনুষ্য হইয়া কী প্রকারে সাত রাজার ধন উপাধ্যক্ষ পদ ত্যাগ করিবে?

দুঃখ করিও না ঐকত্রজম্মন, এই নশ্বর ধরাধামে লোভী ব্যক্তি মাত্রেই কোনও না কোনোভাবে পুত্তলিকা। কাহারও ক্ষমতার লোভ, কাহারও পদের লোভ, কাহারও অর্থের লোভ, কাহারও নারীর লোভ… যে সম্রাট তোমাকে পুত্তলিকার মত নাচাইয়া থাকেন, তিনি নিজেও কি অজানা কোনো হস্তে ধৃত পুত্তলিকা নন? উলঙ্গ ব্যক্তির যেমন চৌরভয় থাকে না, তেমনি একমাত্র সেই ব্যক্তিই স্বাধীন, যাহার কোনোপ্রকার লোভ নাই। এই যেমন ধর আমি। সম্রাটের কাছে বা কাহারও কাছে আমি কিছুই চাহি না। সম্রাট গুরুদেব মানেন, তাঁহাকে অযাচিত উপদেশ দিই। কখনও তিনি শোনেন, কখনও শোনেন না। শুনিলে সম্রাটের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ভাবিয়া আনন্দিত হই, না শুনিলে তাঁহার দুর্ভাগ্যের আশঙ্কায় অন্তরে কষ্টের সীমা থাকে না।

যাত্রাপালা: চন্দ্রগুপ্ত-৭। সপ্তম অঙ্ক, ৪র্থ দৃশ্য।
[পাটলিপুত্র নগরের গোপন রাজকীয় মন্ত্রণাকক্ষ। চাণক্য এক অতি সাধারণ কর্কশ কাষ্টাসনে উপবিষ্ট। অন্য একটি আরামদায়ক আসনে সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত বসিয়া আছেন। সম্রাটের মুখমণ্ডলে উদ্বিগ্ন ভাব]

চাণক্য: আমার গুপ্তচরেরা কহিল, আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীরাই করিতেছে বটে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে বৈয়নপি ও জৈয়মত্য দলের প্রশিক্ষিত দুর্বৃত্তগণ আন্দোলন জবরদখল করিতেছে। ইহারাই মিছিলের পুরোভাগে থাকিয়া রাজরক্ষীদের আক্রমণ করিতেছিল। রক্ষীগণ যখন অগ্নি ও ধূম্রবাণ নিঃক্ষেপ করিতেছিল তখন কৌশলে তাহারা সরিয়া পড়িতেছিল এবং (কাকের ভিড়ে জুটিয়া যাওয়া অতিউৎসাহী বুরবক বকের মতো) সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেহে অগ্নিবাণ আসিয়া পড়িতেছিল। শিক্ষার্থীরা আহত হওয়াতে জনসাধারণের সহানুভূতি তোমার বিপক্ষে এবং আন্দোলনকারীদিগের পক্ষে যাইতেছিল।

এমতাবস্থায় একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত গভীর রাত্রে তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষের গৃহে দুই তিন ঘটিকা ধরিয়া বিনা বাধায় তাণ্ডব চালাইল। ইহার অর্থ কি এই নহে যে একটি মহল চাহিয়াছিল, এই ধ্বংসলীলা সংঘঠিত হউক, যাহাতে জনমত কোটা-সংস্কারপন্থীদের বিপক্ষে যায়? কিন্তু এই কূটচাল মাঠে মারা গিয়াছে। আমলকদলের শিক্ষার্থীশাখার শত শত সশস্ত্র কৈডরের উপস্থিতিতে দুই দুইটি থানার মধ্যভাগে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে কোন মন্ত্রবলে অল্প কিছু দুর্বৃত্ত এমন ধ্বংসলীলা সম্পন্ন করিতে পারিল, জনগণের নিকট তাহা কোনমতেই পরিষ্কার হইতেছে না।

চন্দ্রগুপ্ত, তুমিতো আমার উপদেশে পারতপক্ষে কর্ণপাত কর না। মুর্খ কায়স্থ এবং মূঢ় পারিষদবর্গের পরামর্শের উপরই তুমি সাধারণত ভরসা করিয়া থাক। ইহারা অতীতে তোমার পিতাকে ডুবাইয়াছে, বর্তমানে তোমাকেও ডুবাইবে। ইহাদের কথামত চলিলে তুমি বারংবার জনগণের নিকট হাস্যাস্পদ হইবে যেমন হাস্যাস্পদ হইয়াছে তোমার সফলা খাদ্য-অমাত্য মৌতিয়া। অতি আবেগপ্রবণ হইয়া জীবন-সায়াহ্নে তিনি সারা জীবনের অর্জন বিসর্জন দিতে বসিয়াছেন। কপালের ফেরে মাদারির ডুগডুগি বানরের হাতে বাজিতেছে।

চন্দ্রগুপ্ত, তুমি অন্তত এই একটি বার আমার উপদেশ অনুসারে কার্য কর। যদি কোটা সংস্কারে তুমি রাজী হও, তবে বিরোধী দল ভাবিবে, তুমি ভয় পাইয়াছ। সংস্কারে রাজী হওয়ার আরও একটি সমস্যা আছে। একজন বলিবে, কোটা শতকরা দশ ভাগ কর, আরেকজন বলিবে শতকরা বিশ ভাগ কোটা চাই। যে প্রস্তাবেই তুমি রাজী হও না কেন, তাহারা ভাবিবে, তোমাকে চাপ দিয়া দাবি আদায় করিয়া লইতে সক্ষম হইয়াছে। আমি বলি কি, তুমি বরং সকল কোটা একেবারে বাতিল করিয়া দাও। সকলেই হতবাক হইয়া যাইবে এবং তোমারও মুখরক্ষা হইবে। শিক্ষার্থীরা তোমার কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জল চাহিয়াছিল, তুমি তাহদিগকে জলে নিমজ্জ্বিত কর! শিরঃপীড়ার ঔষধ চাহিয়াছিল, শিরটি কাটিয়া লও! প্রাকৃত বাংলায় একটি প্রবাদ আছে: ‘দিলাম তোরে দোয়া কইরা। খা এখন ভিক্ষা কইরা!’ অর্থাৎ আমার পরামর্শ গ্রহণ করিলে তুমি দাতা, তাহারা হইবে ভিক্ষুক, গ্রহীতা। কয়েক বর্ষ পূর্বে মৌতিঝিলে ভয়ঙ্কর শব্দ দ্বারা তুমি অসুর বিতারণ করিয়াছিলে। কোটা বাতিল করিয়া আশীর্বাদ করিবার ভঙ্গীতে হস্ত উত্তোলন করিয়া তুমি দেবীর মত অন্তরীক্ষে সবার উপরে থাকিবে। আন্দোলনকারী অ-সুরগণ বুকে অতিপ্রাপ্তির শেলবিদ্ধ হইয়া ভূমিতলে পড়িয়া থাকিয়া মাতম করিতে থাকিবে।

শিশির ভট্টাচার্য্যঅধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪ Responses -- “যাত্রাপালা: চন্দ্রগুপ্ত-৭। সপ্তম অঙ্ক, ১ম দৃশ্য।”

  1. আদিব

    অত্যন্ত উপাদেয় রচনা। জনমনে থাকা কিছু চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন আপনার লেখায় খুঁজে পাই। যাত্রাপালা চলতে থাকুক এই কামনা করি।

    Reply
  2. Faruk Kader

    শিশির বাবুর লেখা, ভাষা ও উপস্থাপনা পাঠ্যোপযোগী নয়। পদ্ধতি পাল্টান উচিত।

    Reply
  3. Bongo-Raj

    Bonkim’s writing is more powerful but how many people read those? For researchers that’s a solid gold!
    Defunitely, I entertain Shishir babu’s all writing with sincere respect.

    Reply
  4. করবী মালাকার

    লেখকের অন্য লেখা গুলির মত এটা ততটা রসঘন লাগেনি আমার কাছে। বিষয় উপস্থাপনাও খুব খোলামেলা হয়েছে। রসে নিমজ্জিত হয়ে পাঠক নিজে যে কিছু আবিস্কারের চেষ্টা করবে সে সুযোগ নেই।

    আমাদের দেশ তথা বিশ্বের কঠিন কঠিন সমস্যা নিয়ে আমরা অনেকভাবেই অবহিত হই।সমস্যার সংখ্যাধিক্যের চাপে আমদের গায়ের চামড়া ক্রমশ মোটাই হচ্ছে। তবে সমস্যার এমন রসাল পরিবেশনা কেবল আনন্দ নয় বোধকরি নাড়াও দেয়। সাহিত্য অঙ্গনেও এ লেখা বিশেষ স্থান করে নিতে পারে যদি সে ভাবনা নিয়ে লেখা হয়।

    Reply
  5. Qudrate Khoda

    অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত, উপভোগ্য, ও উৎকৃষ্ট মানের রম্য রচনা, যদিও আম জনতার জন্য একটু কঠিন বৈকি।

    তবে, সব জিনিসের স্বাদ তো আর একভাবে পাওয়া যায় না বা সব বস্তই সহজে গেলা যায়না। কিছু খাদ্য একটু কষ্ট করে চিবিয়ে তারপর তার রস খেতে হয় -এটুকুই যা সমস্যা।

    এই জন্যে কথায় বলে, কষ্ট না করিলে কেষ্ট মিলিবে না।

    Reply
  6. Qudrate Khoda

    অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত, উপভোগ্য, ও উৎকৃষ্ট মানের রম্য রচনা, যদিও আম জনতার জন্য একটু কঠিন বৈকি।

    তবে, সব জিনিসের স্বাদ তো আর একভাবে পাওয়া যায় না বা সব বস্তই সহজে গেলা যায়না। কিছু খাদ্য একটু কষ্ট করে চিবিয়ে তারপর তার রস খেতে হয় -এটুকুই যা সমস্যা।

    Reply
  7. Didarul Alam

    দেশটা চলে ভারতীয় দাদাদের কথা মতো সারাজীবন পাকিদের দোষ দিয়ে গেলেন !!!

    Reply
    • Bongo-Raj

      এই ডুগডুগি আর কত দিন বাজাবেন জনাব।
      আমার নিজেরই তো লজ্জা লাগছে!!

      Reply
      • Didarul Alam

        লজ্জা জিনিষটা থাকলে একই ডুগডুগি তো আপনিও সারাজীবন বাজাতেন না জনাব !!!

      • Bongo-Raj

        Your dugdugi is Indian birodita, what is my dugdugi?
        I am Always saing “since 1947 you people are playing the same dugdugi , I mean —- varot is occupying our motherland “ ?
        If so , how I can stop my dugdugi until you don’t realise that— if varot have that plan they could had done this in 1971 December.

      • দিদারুল আলম

        দাদা
        অনির্বাচিত লোকজন যখন ” লোটা কম্বল” নিয়ে নির্বাচনের আগে ভারতীয় দাদাদের কাছে দল বেধে দৌড়াদৌড়ি করে তখন চেতনাবাদীরা চোখে টিনের চশমা পরে থাকেন। আর কতো চেতনার ব্যবসা? ভারত পাকিস্তান কেউই আপন নয়। এটা আর কবে বুঝবেন?

  8. Bongo-Raj

    এমন একটা গুরুতর ঘঠনা কে “যাত্রাপালা: চন্দ্রগুপ্ত” দিয়ে বলতে গিয়ে লেখক ঘটনাটাকে হালকা করে দিয়েছেন। শিশির বাবুর মত পন্ডিতের সংখ্যা খুব একটা থাকার কথা নয় তাই এই রচনাটা ধৈর্য ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত পড়ে শেষ করবেন এমন পাঠকের সংখ্যা বেশী আছে বলে মনে হয় না।

    পাকিরা পর্যন্ত যেই ভবন ভাঙ্গেনি সেই ভবন এই দেশের একদল কুলাংগার ভেঙ্গেছে সামান্য একটা কোটা বদলানোর জন্য, তারা যে বঙ্গবন্ধুকে খুন করা একই গোষ্ঠী, এখনো পাকি বন্দনাতে দিন কাটায় সেই কথা বুঝতে জ্ঞানী হবার দরকার নেই।

    তাই বলছি, এমন একটা ঘঠনাকে সাধারণ মানুষের কাছে পোঁছে দিতে, সহজ ভাষায় বলাটা দরকার ছিল। যেমন বলা হয়, ইংরাজিতে পেপার লিখতে গেলে হাই স্কুল লেবেলের ইংরাজিতে লেখো, যাতে সারা দুনিয়ার বেশীরভাগ লোকেই বুঝতে পারে, কারণ, দেশ স্থান ভেদে ইংরাজী জানার ক্ষমতা সমান নয়।

    আশা করি, শিশির বাবু আমার এই কথাটা একবার ভেবে দেখবেন, কারণ উনার লিখা অন্য সব “যাত্রাপালা: চন্দ্রগুপ্ত” আমি ভয়ানক পছন্দ করি।

    Reply
    • শুভ্র

      সাধারনভাবেতো ডজন ডজন লেখা এই বিষয়ে অনেকেই লিখেছে এখন না হয় কষ্ট করে অসাধারন একটা লেখা একটু ভিন্নভাবে হজম করে দেখিইনা। লেখককে ধন্যবাদ জ্ঞনদীপ্ত অসাধারন এ লেখা উপহার দেয়ার জন্য

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—