অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হইয়াও হইলো না শেষ
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই চরণটি মনে পড়লো কোটা সংস্কার আন্দোলনের সর্বশেষ অবস্থা দেখে। আন্দোলন আপাতত শেষ হলো বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থে শেষ হয়নি। এর রেশ-পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আরো চলবে। কোটা না-থাকার ঘোষণা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত করা হলেও ‘কোটা’ বা বিশেষ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য চাকরির সুযোগ একেবারে বাতিল করাটা সংবিধানের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না। তাই কোটা না থাকলে কীভাবে ‘সমতা’র নীতি কার্যকর হবে সেটা সরকারকে নির্ধারণ করতে হবে এবং সেটা যতো তাড়াতাড়ি করা হবে ততোই মঙ্গল।
কিছুটা আকস্মিকভাবেই কোটা সংস্কারের আন্দোলন গতিবেগ পায়। ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সারা দেশে। এই দাবি আদায় হলে তার কি লাভ সেটা না বুঝে অথবা ভুল বুঝে অনেকে এই আন্দোলনে শামিল হয়েছে বলে আমার মনে হয়। অনেকটা সেই গুঁড়ো দুধের বিজ্ঞাপনের মতো – আমি তো এমনি এমনি খাই।

আন্দোলনটাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেওয়ার একটা চেষ্টা দ্রুতই লক্ষ করা যায়। লন্ডন থেকে তারেক রহমানের তৎপর হয়ে ওঠা তার বড়ো প্রমাণ। এছাড়াও আমাদের দেশে কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা আছেন যারা সব সময় রুটি ভাজার জন্য গরম তাওয়া খুঁজতে থাকেন। তাদের নিজেদের ঘরে চুলো বা তাওয়া নেই অর্থাৎ নিজেদের ক্ষমতায় কিছু করার সাধ্য নেই। তাদের কাঁধ আছে, জোয়াল নেই। জোয়াল দেখলেই কাঁধ বাড়িয়ে দেন। কোটা সংস্কারের আন্দোলন তাদের সামনে একটি মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। তারা মাঠে নেমে পড়েন।

বিষয়টি বুঝতে সরকার প্রধান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভবত একটু সময় লাগে। তিনি প্রথমে হয়তো ভেবেছিলেন একটু সময় নিয়ে পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখে তারপর ব্যবস্থা নেবেন। সেজন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে একটি সময়সীমাও নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলন বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামা পার্টিগুলো তাতে প্রমাদ গোনে। পরিস্থিতি জটিল করার পরিকল্পনা থেকেই তারা প্রধানমন্ত্রীর মুখে ঘোষণা শুনতে চান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তখন হয়তো বিষয়টি পরিষ্কার হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তিনি আন্দোলনের আগুনে পানি ঢেলে দেন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে। আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

এখন বলা হচ্ছে, চাওয়া হয়েছে সংস্কার। প্রধানমন্ত্রী পুরো পদ্ধতিটি বাতিল করলেন কেন? প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় সবচেয়ে অখুশি হাতে ময়দা নিয়ে বের হওয়া মতলবাজরা। তাদের যে রুটি সেঁকা হলো না। আবার এটাও মনে রাখতে হবে যে, কোটা রাখা না-রাখার বিতর্ক খুব সহজে কিন্তু মিটবে না। সরকারকে, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্যোগী হয়েই কোটা বিষয়ক জটিলতা নিরসন করতে হবে।

দুই.
কোটা সংস্কারের আন্দোলন যেভাবে ফুঁসে উঠছিল, বিস্তার লাভ করছিল, দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কেউ কেউ যেভাবে আন্দোলনরত তরুণদের আবেগের প্রতি সম্মান দেখাতে শুরু করেছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল এই আন্দোলনটার জন্যই বুঝি জাতি এতোদিন অপেক্ষায় ছিল। এই আন্দোলনের সফল পরিণতির ওপরই যেন জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছিল। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবির ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু বিষয়টিকে যেভাবে সামনে আনা হলো, এর পক্ষে যেরকম প্রচার-প্রচারণা চললো তাতে মনে হয়ওয়াই স্বাভাবিক যে, এই কোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন হলেই বুঝি দেশের সব মেধাবী এবং বেকাররা চাকরি পাবেন। দেশে আর বেকার সমস্যা থাকবে না। যতো নষ্টের গোড়া হলো এই কোটা ব্যবস্থা।

আমরা অনেকেই আমাদের সন্তানদের যুক্তিহীন উন্মাদনার পথে ঠেলে দিলাম, পথ অবরোধ করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন তৈরি করাতে দোষের কিছু দেখলাম না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ঘৃণ্য হামলার নিন্দা করলাম না পুলিসি বাড়াবাড়ির অজুহাত সামনে এনে, পুলিস যেহেতু ছাত্রদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে, তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় ছাত্ররা একটু ভাঙচুর করেছে, এটা তেমন দোষের কিছু নয় এমন কথাও বলা হয়েছে। ভিসির বাড়িতে হামলা না হলে সরকার কি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতো – এমন প্রশ্ন তুলে হামলার ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টাও লক্ষ করা গেছে। দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করতে হলে শান্তিপূর্ণ পথ কার্যকর নয় বলেও বেশ ধীমান বলে পরিচিত কাউকে কাউকে বলতে শুনলাম, লিখতে দেখলাম। বিষয়গুলো আমার কাছে কেমন যেন বেখাপ্পা লাগছে।

ধরে নিলাম কোটা ব্যবস্থায় গলদ আছে, ত্রুটি আছে । তাই বলে এটা কি আমাদের তরুণদের ‘জীবনমরণ’ সমস্যা হতে পারে? সরকারি চাকরিতে যে পরিমাণ পদ খালি হয় তারচেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি শিক্ষার্থী প্রতিবছর পাস করে বের হয়। কোটা ব্যবস্থা না থাকলেও তো সবার সরকারি চাকরি হওয়ার সুযোগ সুষ্টি হয় না। কোনো একটি হুজুক তুলে শিক্ষার্থীদের পথে নামিয়ে, তাদের তারুণ্যের আবেগের প্রতি সম্মান জানানোর এই প্রবণতার পরিণাম কি আমরা একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখছি? আমার তো মনে হয় আন্দোলনের এই স্টাইলটা ভবিষ্যতে যেকোনো আন্দোলনের সময়ই ব্যবহার করা হতে পারে।

তিন.
আমার ব্যক্তিগত ধারণা কোটা সংস্কারের আন্দোলন জনপ্রিয় হয়েছে যতোটা না কোটা ইস্যুতে তারচেয়ে সরকারবিরোধিতার ইস্যুতেই বেশি। বিভিন্ন কারণে সরকার এবং সরকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সরকার এবং আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডকে কোটা আন্দোলনের পোস্টমর্টেম করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে তো ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য। ছাত্র দল, শিবির তো হল ছাড়া। তাহলে কীভাবে কোটা আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লো? ছাত্রলীগ কী করলো? ছাত্রলীগের কেউ কেউ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আর ছাত্রলীগে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ‘এজেন্টপ্রভোকেটিয়ার’ হিসেবে কাজ করেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে এটা আবারো প্রমাণ হয়েছে যে, ছাত্রলীগ আর সরকার বা আওয়ামী লীগকে কোনো ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে না, বরং বিপদ বাড়াতে পারে। ছাত্রলীগ যে এখন গণবিচ্ছিন্ন একটি পরগাছা সংগঠনে পরিণত হয়েছে – এটা বোঝার জন্য আর কালক্ষেপণের দরকার নেই। অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বর্তমান ছাত্রলীগ বহন করছে না। ছাত্রলীগ এখন অনেকটাই এক লজ্জা ও কলঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের অপকর্ম-কুকর্ম মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সব ধরনের অপরাধমূলকে কাজের সঙ্গেই ছাত্রলীগের নাম জড়িয়েছে। ছাত্রলীগ নামধারী দুর্বৃত্তদের বাড়াবাড়িতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ। ডাকসু ও হল সংসদগুলোর নির্বাচন হয় না। ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সৃজনশীলতা চর্চার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ নেই। ছাত্রদের সমস্যার কথা, সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনার কেউ নেই। উল্টো আছে ছাত্রলীগ নামধারীদের নানা ধরনের অত্যাচার-নিপীড়ন। সব মিলিয়ে যে গুমোট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তারই বিস্ফোরণ ঘটেছে কোটা আন্দোলনে।

অতীত নিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে ছাত্রলীগের পক্ষে সাফাই না গেয়ে ছাত্রলীগকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত ছাত্রলীগের অপকর্মের দায় গিয়ে তার ওপরই বর্তায়। দুষ্টের দমনে  দৃঢ়তা দেখালে তিনি কিছুই হারাবেন না কিন্তু পাবেন অগনিত মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও নিঃশর্ত সমর্থন। কিন্তু ছাত্রলীগ নামের আপদ সঙ্গে রাখলে বিপদ বাড়বে বৈ কমবে না।

চার.
গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি লাভবান হয়েছিল। কোণঠাসা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ঘাতক-দালালরা। কিন্তু এবারের ‘কোটা’ আন্দোলন সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করলো মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার। কারণ আন্দোলনের বর্শাফলকটার টার্গেট ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা, বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে যারা পরিচিত তারা যখন এই কোটার বিরুদ্ধে কাছা খুলে নামেন তখন রাজাকার-আলবদর এবং ওই ধারার সমর্থকরা বিপুল উৎসাহে মাঠে নেমে পড়েছেন। যতো রকম কুযুক্তি আছে তার সবই তোলা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা রাখার বিরুদ্ধে। সামাজিক প্রচারমাধ্যম সয়লাব ওই সব অপলাপে।

সে জন্যই আমার মনে হয়, কোটা আন্দোলনের নেতা-সংগঠকদের ব্যাপারে একটু বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া দরকার। এরা কারা? এরা কোন রাজনৈতিক মতে বিশ্বাসী? এদের পারিবারিক ঠিকুজিও জানা দরকার। পরিবারের রাজনৈতিক ধারার বাইরে সাধারণত অনেকেই যেতে পারেন না। কেউ গেলেও যান বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে। কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে কেউ যদি ছাত্রলীগেরও থাকেন তাহলে তার ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া দরকার। কারণ তিনি শফিউল আলম প্রধান মার্কা ছাত্রলীগ কি না– সেটা নিশ্চিত হওয়া দরকার। মুসলিম লীগ নেতা এবং আইয়ুব খানের কাছের মানুষ গমিরউদ্দিন প্রধানের ছেলে শফিউল আলম প্রধান স্বাধীনতার পর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। তার পরিণতি কি হয়েছিল? মহসিন হলে সাত খুনের ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার।
আমার ধারণা, কোটা আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী লীগ এবং সর্বোপরি শেখ হাসিনাবিরোধী বৃহত্তর ঐক্যের একটি ড্রেস রিহার্সাল হয়ে গেল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যদি আবারও ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে দেশে আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তাই শেখ হাসিনাকে আর ক্ষমতায় আসতে না দেওয়ার একটি বড়ো ধরনের পরিকল্পনা আছে। এ নিয়ে কোনো কোনো মহল তৎপর আছে বলেই আমার ধারণা। তারা পানি ঘোলা করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করবে না। সেজন্যই মনে হয় কোটা আন্দোলনের একটি পরিপূর্ণ ব্যবচ্ছেদ হওয়া খুবই জরুরি।

বিভুরঞ্জন সরকারসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

২৬ Responses -- “কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ছাত্রলীগ”

  1. তামিম

    দালালির সীমা থাকা চাই,,আজ কাল হেড লাইন দেখলেই বুঝা যায় দালালির মোর কোন দিকে ঘুরছে।দালালী না করে জাতির উপকার হবে এমন একটা লেখা দিন।

    Reply
  2. shamim

    Your writing is almost a big lie. U are biased & inclined to circulate someones propaganda. It seems u r trying to flatter the govt. to get their blessing. People of our country r getting smart fast. Very soon boot-licker like u will b thrown to the trash….

    Reply
  3. গিয়াস উদ্দিন

    চাটুকারিতা আর কাকে বলে। এ চাটুকাররাই দেশ ও জাতির প্রধান শত্রু। এদের বিষয়ে সজাগ থাকুন।

    Reply
  4. জিকরুল হক

    আসলে আজকাল কিছু কিছু লেখক, কলামিস্ট এত্ততাই চামচামি করে কোন বিশেষ দলের, যা ভবিষ্যৎ কে ভাবায়।অথচ উচিত হবে ন্যায্য কথা লেখার যদিও বা নিজের বিরুদ্ধে যায়।

    Reply
  5. জাকের আহম্মদ খোকন

    ওরা মেধাবী তাই ছাত্র হত্যার মিথ্যা গুজব ছড়ায়, ওরা মেধাবী তাই কোটা সুবিধাভোগীর মিথ্যা পরিসংখ্যান দাখিল করে, ওরা মেধাবী তাই ভিসির বাড়িতে আগুন দিয়ে সেই হামলার বিচার চায় আবার মামলাও প্রত্যাহার চায়, ওরা মেধাবী তাই রগ কাটার মিথ্যা গুজব ছড়ায়। রাজাকার প্রযোজিত-নির্দেশিত-পরিকল্পিত এই মেধাবী আন্দোলন নাটক। অচিরেই সেটা প্রমাণিত হবে।

    Reply
  6. জাকের আহম্মদ

    ঘটনা দুইটাঃ বিষয় কোটা
    মিলিয়ে দেখতে পারেনঃ

    ঘটনা একঃ
    আজ থেকে প্রায় ৩০বছর আগের কথা। ১৯৮৯ সাল। চীন তখন বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে শিরদাঁড়া শক্ত করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। যথারীতি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। চীনের সাবেক কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব ইয়াওবাংয়ের মৃত্যুকে ঘিরে বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তিয়ান আনমেন স্কয়ারে বিক্ষোভ শুরু করে।

    বিক্ষোভে প্রায় দশ লাখ লোক সমবেত হয়েছিল বেইজিং এর প্রাণকেন্দ্র তিয়ান আনমেন স্কয়ারে। এদের অধিকাংশই ছিলো বেইজিং এর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

    চীন সরকার কঠোর হাতে দমন করে এই মেধাবীদের ন্যায্য দাবী আদায়ের আন্দোলন। মারা যায় প্রায় ২০০০ থেকে ২৫০০ ছাত্র। শুধু তাই নয়। এ ঘটনার বিষয়ে যেকোন আলোচনা ও স্মরণও নিষিদ্ধ চীন দেশে। এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শনকারী ঝাও জিয়াংকে পার্টির নেতৃত্ব থেকেই সরিয়ে দেয়া হয়। তার জায়গায় নিয়ে আসা হয় জিয়াং জেমিনকে, যিনি পরবর্তীতে চীনের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।

    ঘটনা দুইঃ
    ০৫ মে ২০১৩ সাল। সাদা চোখে ১৩ দফা ন্যায্য দাবীতে হেফাজতীরা মতিঝিল দখল করে তাণ্ডব চালাচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত ও পুলিশি একশানে তাদের উচ্ছেদ করে।

    আসুন এবার মিলিয়ে দেখুন। তিয়ান আনমেন স্কয়ার থেকে পুরো চীনে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন – বিক্ষোভের মূলে ছিল চীনের সাবেক কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব ইয়াওবাং এবং নমনীয়তা দেখিয়ে সমর্থন দিয়েছিল ততকালীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী নেতা ঝাও ঝিয়াং। যদি বিক্ষোভকারীরা সফল হতো, তাহলে কী ঘটতো?? আরেকটি মার্কিন পা-চাটা দেশ, যেটা বর্তমানের প্রতিপত্তিশালী চীনের তুলনায় কি হতো সেটা সহজেই অনুমেয়। আর চীনের শাষকদল কমিউনিস্ট পার্টি ও তার নেতাদের কী হতো??? অনুমান করুন।

    যদি হেফাজত সফল হতো শাপলা চত্বরে তাহলে এদেশ, আওয়ামীলীগ, শেখ হাসিনা আর দলীয় কর্মীদের কী হতো সেটাও অনুমান করুন।

    এবার যারা আওয়ামীলীগের সমর্থক-নেতা পরিচয়ে জামাত নেতার শিবির পুত্র রাশেদের নেতৃত্বে এই কোটা বিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন তারা চিন্তা করুন একবার। আপনারা ন্যায্যতার কথা বলে তাদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। আচ্ছা আপনারা কি এ দেশের ০১ কোটি জামাত আর ৫/৬ কোটি বিএনপি সমর্থকের প্রাণের দাবী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনও সমর্থন করেন? যদি ত্রিশ লাখ তরুণের ন্যায্য দাবী সমর্থন করেন তাহলে ৬/৭ কোটি লোকের দাবীকে নিশ্চয়ই অন্যায্য বলবেন না? অসমর্থন করবেন না?? তারপরও কি আপনারা দাবী করতে পারেন আপনারা আওয়ামীলীগ, শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে??? কোন পাগলে বিশ্বাস করবে???

    পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে মাদ্রাসা ছাত্রদের দিয়ে ঢাবি দখল সম্পূর্ণ। এবার কোটা বাতিল করে প্রশাসন দখলের পথ ক্লিয়ার হলো। অপেক্ষা করেন, তালেবানি জামাতি শাসনের জন্য। মুক্তমনারা, হলের বিপ্লবী আপুরা, ভণ্ড চেতনাধারীরা, সুশীলরা, বলদ ভিসি – প্রক্টররা, সাংবাদিক ভাইয়েরা। কেউ বাদ যাবেন না। প্রতিক্রিয়াশীল ম্যা-দাবীদের সমর্থন দিয়ে যান প্রাণ ভ-রে।

    Reply
    • Jafar Ahmed

      বি এন পি এক সময় ভয় দেখাত আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে দেশটা ভারত হয়ে যাবে । এখনকার অল্পবুদ্ধির ডিজিটাল কিছু পোলাপাইন ভয় দেখায় বি এন পি ক্ষমতায় এলে দেশটা তালেবান হয়ে যাবে !!! আওয়ামীলীগ বা বি এন পি দুটাই মুদ্রার এপিঠ ও পিঠ । মাঝখানে আম জনতা পিষ্ঠ । আম জনতা পাপিষ্ঠ । রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবার বড় বেশী মনে হচ্ছে ।

      Reply
  7. Saiful Islam

    ইদানীং নাম দেখলেই বোঝা যায় দালালীটা কোন দিকে হবে। একটা ভালো লেখা যা দেশ ও জাতীর উপকার হতে পারে এমন লেখা নাই। শুধু পদলেহন। পদলেহন করলে ভবিষ্যতে হয়তো লেখকের উপকার হবে এই আশা। তৈলের দাম আসলে উনাদের কারণে বাড়ে। ওনার লেখা পড়তে পড়তে বার বার আমার নিজের মুখটা তৈলাক্ত হয়ে যাচ্ছে।

    Reply
  8. জয়

    আগে আমরা যারা আওয়ামী লীগ করতাম তারা কোটার আশায় থাকতাম, এখন সব আমাদের। যারা আওয়ামীলীগ করে না যারা স্বধীনতার বিরুদ্ধচারী। আমরা তাদের কোন পদেই আসতে দিবো না। আর দেখবেন একটা একটা করে ধরা হবে যারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।

    Reply
  9. সৈয়দ আলী

    শফিক রেহমানের সাগরেদ মাথার ঘোমটা ফেলই দিলো। সাধে কি বদরুদ্দিন উমর তাদেরকে ঐ নামে ডাকেন?

    Reply
  10. Md. Abdullah Al Mamun

    A football is kicked by both side players, These type of journalists (Sarker babu, Swadesh babu etc.) will be kicked by both AL and BNP, because of their dual role (Absolutely hypocrite).

    Reply
  11. সরকার জাবেদ ইকবাল

    বিএনপি’র মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে জামাত যেভাবে রাজনীতির ময়দানে নিজেদের জায়গা করে নেয়ার চেষ্টা করেছে অনেকটা সেভাবেই একটি মহল কোটা সংস্কার আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। সাধারণ ছাত্রসমাজকে এ ধরনের অশুভ তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      ‘একটি মহল কোটা সংস্কার আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে।’- এই বক্তব্যটির কোন প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। যতক্ষণ মতিয়া ‘রাজাকারের বাচ্চা’ শব্দযুগল ব্যবহার না করেছে, ততক্ষণ মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখও করা হয়নি।

      Reply
      • MahibuL Ahsan

        প্রিয় মেধাবী বন্ধুরা – মেধা খাটিয়ে বলুন!
        যখন- মুক্তিযোদ্ধারা মিছিল মিটিং, দরবার শালিস করে কোটা আদায় করেননি! (বঙ্গবন্ধুর সরকার সেই ‘৭২-এ স্বপ্রনোদিত হযে় তাদের জন্য কোটা নির্ধারণ করেছিলেন। তখনও ৭০/৮০ ভাগ মুক্তিযোদ্ধা সরকারী চাকরীর ঐ সুবিধা নেননি;)
        – এর পর ‘৭৫ থেকে ‘৯৬ পর্যন্ত যখন মুক্তিযোদ্ধা শব্দটিই যথার্থ আবেগের সাথে উচ্চারিত হয়নি! তারমন বিবি বীরপ্রতিক-এর মতো মুক্তিযোদ্ধাকে জাতি চিনেছে ‘৯৬-এর পরে;
        – আরো পরে আজ এই ২০১৮-তে যখন মুক্তিযোদ্ধা সহায়ক সরকার (বেশীরভাগ মুক্তিযোদ্ধা তাই মনে করেন) ক্ষমতায় থাকাকালীন কোটা সংকুচিত (বাতিল!) করার শ্লোগান নিয়ে রাজপথ কম্পমান হলো তখনো মুক্তিযোদ্ধারা বা তাদের সন্তানরা টু শব্দটি করলো না;
        আজ যখন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, চায়ের আড্ডায় এ রকম বক্তব্য দেয়া হয়-
        “বাপের নামে খাচ্ছে ছেলে
        ছেলের নামে নাতি,
        নাতির নামে পুতি খাবে
        উপস থাকুক জাতি!
        অভুক্তরা ক্ষুধায় মরুক
        খেয়ে বাঁচুক হাতি,
        দেখবে কে তা এ আঁধারে
        বন্ধ আলোর বাতি।”
        ভাবখানা এ রকম, যেন মুক্তিযোদ্ধার ছেলের শরীরে মুক্তিযোদ্ধার হাফ রক্ত, আর নাতির শরীরে কোয়াটার রক্ত- তাই তারা কোটা দাবী করে কোন সাহসে!

        উল্লেখিত পোষ্টের প্রেক্ষিতে মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য কি খুব বেশী সংগতিহীন। আমি হলফ করে বলতে পারি উপরের কোটেশনভূক্ত বক্তব্য শুধু একজন মুক্তিযুদ্ধবিরোধীই দিতে পারেন। আমার বয়স ষাট – মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার আবেগটি এ রকমই এবং আমার সন্তানেরও তাই!

        তরুণ বন্ধুদের বলি মেধাবীরা বিবেকবানও হয়। বিবেক দিয়ে বিবেচনা করুন। বাংলাদেশের ৮০% ভাগ মুক্তিযুদ্ধা এখনও তারমন বিবি বীরপ্রতিকদের কাতারের নাগরিক। গত কয়েক বছর ধরে তারা সামান্য কিছু ভাতা-টাতা পান, মৃত্যুর পর দাফন বা শেষকৃত্যের সময় রাষ্ট্র তাদের স্যালুট করে। এটুকু পেয়েই তারা সন্তুষ্ট। (অভাবী মানুষের এর পরেও হয়তো মনে মনে দাবী নয় আশা থাকে। তবে না পেলেও দুঃখ নেই।) আর, ১৯৭২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত গত ৪৬ বছরে সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে ৩০% ভাগ করে মুক্তিযোদ্ধা নিয়োগ পেয়েছেন কি? সাত্যিকার মুক্তিযোদ্ধার কথা বাদ দেন, ও সব চাকরীতে বর্তমানে (আসল নকল মিলিয়ে) ৩০% ভাগ সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধা কর্মরত আছেন কি?

        এতো কিছুর পরও কোটা ব্যবস্থাটির সংস্কার দরকার এটা মুক্তিযোদ্ধারা বুঝবেন না! তারা কি এতোটাই বিবেকহীন, আবেগহীন! তারা দেশের জন্য জীবন দেয়ার সংকল্প নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন- গুলশান, বারিধারায় বাড়ী, ছেলেমেয়েদের ভরনপোষণ, কোটায় চাকরী পাওয়ার আশায় নয়। তারা দেশের স্বার্থ, দেশের মানুষের স্বার্থ বুঝবেন না! তবে কোন মুক্তিযোদ্ধা যদি যে কোন অজুহাতেই হউক জামাতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত হন, তিনি বিবেক বিসর্জন দিয়েই সেটি করেন। (এমন মুক্তিযোদ্ধাকেও আমি চিনি!) যারা যুদ্ধে গিয়েছিলো তাদের কতজন জীবন দিয়েছিলো, আর কতজন ফিরে এসেছিলো সেই হিসাব নিয়ে দেখুন। অসহায় স্ত্রী সন্তানদের রেখে যারা যুদ্ধে গিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন তাদের স্ত্রী সন্তান, নাতিপুতিরা কোথায় কি অবস্থায় আছেন খোঁজ নিয়ে এসে কথা বলুন, কলম ধরুন। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডায় নাগরিকরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিকদের, ভেটার্নদের এখনও পুজা করে!

        ‘বিডিনিউজ ২৪’-এর মতো অনলাইন মিডিয়ায় একজন মেধাবী(!) তার হাইব্রিড কলামে লিখেছেন- মুক্তিযোদ্ধা কোটা নাকি অসাংবিধানিক! সেই বিচারে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আর মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানও অসাংবিধানিক। এর ফলে নাগরিকের সমঅধিকার ক্ষুন্ন হয়! ভাতা আর সম্মাননা বাতিল নয়, ওটা নিয়ে শুধু কথা বলে দেখুন। ২ লক্ষ (আন্দোলনকারীদের হিসাবে!) মুক্তিযোদ্ধা জীবন দেয়ার জন্য তৈরী হয়ে যাবে! পেটের টান, আত্মসম্মানবোধের সাথে আত্মাভিমান যুক্ত হলে মানুষ কতটুকু যেতে পারে যাচাই করে দেখতে পারেন। মুক্তিযুদ্ধার নাতী-পুতীর অপরাধ কি? তারা মুক্তিযোদ্ধার বংশধর! তারা কি কোটার জন্য দাবী করেছে? তাদের ৮০% ভাগই মেধাবী(!) নয়! যেমন চাষাভূষারা, গার্মেন্টস কর্মীরা, মধ্যপ্রাচ্যের কামলারা মেধাবী(!) নয় দেশের উন্নয়ন তারা করবেন কিভাবে! মুক্তিযোদ্ধাদের বাকী ২০% ভাগ নাসিরউদ্দি ইউসুফদের ছেলেমেয়ে নাতি নাতনী (নাতি পুতি নয়!) মেধাবী (!)- তাদের কোটার দরকার নেই। যেমন দরকার নেই আমাদের বিশ্বিবিদ্যালয়গুলোর মেধাবী(!) ছাত্রীদের। ‘আমি মেয়ে, আমার কোটা চাই না!’ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের মেধাবী (!) তরুনীটি কি এই কথাটা নারীদের প্রতিনিধি হিসাবে বলেছেন, না কি নিজের অবস্থান বিবেচনা করে বলেছেন। (তিনি কিন্তু শুধু তার নয় সব নারীর কোটা বাতিলের কথা বলছেন।) ভেবে দেখুন এ দেশের ৯০% ভাগ মেয়েই আপনাদের মতো মেধাবী(!) নয়। পুরুষশাসিত সমাজে স্কুল মাস্টার, পুলিশ কনস্টেবল, আনসার-গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনি, সরকারী অফিসের কেরানীর মতো চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণীর চাকরীগুলিতে পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে অর্ধেক যায়গা দখল করা তাদের পক্ষে এখনও সম্ভব নয়। (সমঅধিকারের তত্ত্ব অনুযায়ী জনসংখ্যার অর্ধাংশ হিসাবে চাকরীর অর্ধাংশও নারীদের পাওয়া উচিত।) তবে এ দেশের বড় লোকরা অনেক মেধাবীদের(!) বাবারা খুবই দয়ালু। তারা তাদের কারখানাগুলিতে নারীদের জন্য ৯০% ভাগ কোটা রেখে দিয়েছেন। সেখানে যাদি মেধাবী পুরুষগণ কোটা সংস্কারের দাবী তোলেন তা হলে সেলাই দিদিমনিদের বুয়া হয়ে আবার রংপুর, বরিশালের গ্রামে ফিরে যেতে হবে!

        The five-point demand are: 1) 10 per cent fixed quota instead of existing 56 per cent 2) Recruitment of meritorious students in government jobs if eligible candidates are not found under the quota 3) Cancelling special recruitment test for quota candidates 4) Fixing an indifferent cut mark and age-limit for all in the job field and 5) Cancelling the quota facility for more than one time.
        প্রথমেই বলে নেই – বর্তমান কোটা ব্যবস্থা শুধু অযৌক্তিকই নয়, অবাস্তব!
        অনগ্রসর – মানে কি? গরীব? তাহলে তো গরীব মানুষের জন্য একটা কোটা রাখলেই হয়! সে টা ১,২ বা ৫, ৬ যাই হউক। তাহলে হয় কি? নরী কোটা মানে কি? নরী কোটায় কি কোটি পতির মেয়ে চাকরী পাবে না? ব্যাপারটি কি এতই সোজাসাপ্টা!

        মুক্তিযোদ্ধাদের কেচালা বন্ধ হওয়া উচিৎ।
        সংবিধানে সমঅধিকারের বাইরে যাদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা আসে না। তাদের মধ্যে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী বা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি, এমনকি অনগ্রসর এলাকার জনগোষ্ঠি আসতে পারেন। কোটার জন্য এদের মধ্যে অর্থনৈতিক অবস্থার বিচারে বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ নেই। তা হলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা কেন? মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে স্যালুট করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো – এ সব সংবিধানের ঐ ধারা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। এটাকে উপলব্ধি করার মধ্যেই নিহিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাদীপ্ত হলেই বুঝতে পারবেন তাদের এই সুবিধাটুকু দেয়া দরকার। কোটা বাদ দিন! মুক্তিযোদ্ধারা যদি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হন তালে তাদের মনে রাখতে হবে। কেবল কবরে ফুল দিয়ে নয়। সেনানিবাসের প্রধান ফটকে ‘বীর শ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান গেটে’ লিখেই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। মতিউর রহমানের নাতি-পুতিরা কেমন আছে সে খোঁজও রাখতে হবে। কোটা-ফোটা বাদ দিন সরকারী অফিসার পদপ্রাথীদের হিসাবে ২ লাখ হলে এই দুই লাখ পরিবারকে বংশপরম্পরায় (নাতি-পুতিসহ) সম্মানের সাথে বাঁচে থাকার সুযোগদেয়ার বিরোধিতা যে করবে, এই ধারাণাটিকে যে অবজ্ঞা করবে তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বললে খুব ভুল হবে কি? আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী হলে কি হয় !!
        গত ৪৫ বছরে সরকারী চাকরীতে ৩০% ভাগ কোটার সুবিধা মুক্তিযোদ্ধারা কতভাগ ভোগ করেছেন তা বিচার করে দেখেছেন কি? মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান (নাতি-পুতি শব্দটা শুধু অসম্মানজনক নয় অশালীন! তথাকথিত ভদ্র লোকেরা নাতি-নাতনী বলেন!!!) কত ভাগ বর্তমানে সরকারী চাকরীতে আছেন হিসাব করে দেখুন। মুক্তিযোদ্ধা মানে ২ লাখ নিবন্ধিত মুক্তিযোদ্ধা নয়।

        এই সমস্ত বাটপাদের স্বার্থেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা এভাবে রাখা হয়েছে। ক’জন সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা নিয়ে সরকারী চাকরীতে ঢুকেছেন এবং বর্তমানে নিয়োজিত আছেন? একজন আর্মি অফিসার ও তার বংশধররা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কতো সুবিধা নিচ্ছেন! দেশের সবচেয়ে পশ ও মূল্যবান বাড়িগুলোর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক সবই তার ঐ সরকারী চাকরীর সুবাদেই। একজন রেলের গার্ডও বংশপরম্পরায় রাষ্ট্রীয় সুবিধা পায়। তার সুবাদে তার নাতি-পুতিরাও রেলে চাকরী পায়। অথচ এই টাউট আমলাদের কারণে আরেক দল সুবিধাবাদী ভবিষ্যৎ আমলা মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনী সহ গালাগাল দিয়ে বেড়াচ্ছে। রাজনৈতিক সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও আমলাতন্ত্রের ঘাপলামির কারেণে কোটা কেন কোন সংস্কারই হচ্ছে না, হবেও না চরম ঠেলায় না পড়লে!

  12. Mute Spectator

    “ছাত্রলীগ কী করলো? ছাত্রলীগের কেউ কেউ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আর ছাত্রলীগে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ‘এজেন্টপ্রভোকেটিয়ার’ হিসেবে কাজ করেছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে এটা আবারো প্রমাণ হয়েছে যে, ছাত্রলীগ আর সরকার বা আওয়ামী লীগকে কোনো ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে না, বরং বিপদ বাড়াতে পারে। ছাত্রলীগ যে এখন গণবিচ্ছিন্ন একটি পরগাছা সংগঠনে পরিণত হয়েছে – এটা বোঝার জন্য আর কালক্ষেপণের দরকার নেই। অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বর্তমান ছাত্রলীগ বহন করছে না। ছাত্রলীগ এখন অনেকটাই এক লজ্জা ও কলঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের অপকর্ম-কুকর্ম মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সব ধরনের অপরাধমূলকে কাজের সঙ্গেই ছাত্রলীগের নাম জড়িয়েছে। ছাত্রলীগ নামধারী দুর্বৃত্তদের বাড়াবাড়িতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ।”
    ” কিন্তু ছাত্রলীগ আপদ সঙ্গে রাখলে বিপদ বাড়বে বৈ কমবে না।”
    উপরে উধৃত অংশ প্রবন্ধকার জনাব বিভু রঞ্জন সরকারের। এখন কেউ যদি বলে ছাত্রলীগের পদধারী ‘এজেন্টপ্রভোকেটিয়ার’রাই ভিসি’র বাড়ি ভাংচুর ও লুট করেছে
    তাহলে কি তাঁকে দোষ দেয়া যাবে? কারণ জনাব সরকার একজন নিষ্ঠাবান আওয়ামী
    বুদ্ধিজীবি। তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হারবে এই দুশ্চিন্তায় এতটাই আতংকগ্রস্ত
    যে প্রলাপ বকছেন এবং ছাত্রলীগকে এহেন ভাষায় গালিগালাজ করলেন।
    বিরোধী দল মানেই যে স্বাধীনতা বিরোধী নয় এটা তিনি মানেন না।গনতন্ত্র বলতে
    তিনি বোঝেন তাঁর প্রিয় দল ক্ষমতায় থাকা, তাঁর ভাষায় “ছাত্রলীগ নামধারী দুর্বৃত্ত্ব” থাকলেও। জনাব সরকারের সদয় অবগতির জন্য বলছি, গত সপ্তাহে ভারতে দুটি ধর্ষণের ঘটনা বেশ আলোচনায় এসেছে।ধর্ষণ আর যাই হোক রাজনৈতিক কিছু না। একটি কাশ্মীরে, অভিযুক্ত পুলিশ এবং অপরটি ইউপিতে অভিযুক্ত বিজেপি এমএলএ। কংগ্রেস থেকে শিব সেনা, তৃনমুল, সিপিএম সব দল মোদীর বিরুদ্ধে
    ঝাঁপিয়ে পড়েছে, সংসদ অচল করেছে কিন্তু সেদেশে এতো বিচ্ছিরিভাবে কেউ কলাম লেখে নাই যে নিজেদের চুলা নাই রুটি সেকার জন্য সবাই ময়দা হাতে দৌড়াচ্ছে। গণতন্ত্র মানলে বিরোধী দলকে স্বাধীন ভাবে কথা বলতে দিতে হবে।
    আওয়ামী লীগের কাঁধে বসে আওয়ামী লীগের বারোটা বাজানোর কসরত আর কত দিন?

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব নির্বাক দর্শক, দু’টি তথ্য: ১) বিভু বাবু ‘লীগ’ নন। ২) সোনার বাংলার সোনার ছেলেরা (বাছালী)) কতটা সোনা দিয়ে তৈরি তা আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং কাদের সাহেবসহ দেশের আপামর জনসাধারণ সবাই জানে। সাফাই গেয়ে কোন লাভ নেই।

      Reply
      • সৈয়দ আলী

        সরকার জাবেদ ইকবাল, আপনি যদি বিভুবাবুকে লীগ নন বলে মনে করেন, তাহলে আপনাকে ফের বিরস এর মতামত সমূহের লাইন ও ইন-বিটুইন লাইন ফের পড়তে অনুরোধ জানাই।

  13. কৌশিক

    ধন্যবাদ,আপনার এক চোখা লেখার জন্য। আশা করি খুব দ্রুতই আপনার অন্য চোখের সমস্যাটিও ঠিক হয়ে যাবে এবং আগামীবার থেকে আপনি দুই চোখ খোলা রেখেই লিখতে পারবেন।

    Reply
  14. minar

    Our PM will read your article (Insha Allah).

    Insha Allah , AL will come to power again.

    Best will be like Ziaul Haque – No Election – Dear Politicians – I came to power to stay – Let us Develop the country.

    Reply
    • MahibuL Ahsan

      আপনার যে কারা – বুইঝা ফালাইছি। হানা কোটা বাতিল করলেও তারে ক্ষমতায় দেখতে চান না।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—