আমাদের সময় ছাত্র নেতারা ছিলেন আদর্শ। তাদের কথায় কাজ হতো। বঙ্গবন্ধুও তাঁর ছাত্র নেতাদের কথা শুনতেন। শুনতেন বলেই অনেক সাহসী ভূমিকা নিতে পারতেন অনায়াসে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের ছাত্র নেতাদের চরিত্র পবিত্র থাকেনি। আজ যদি পেছন ফিরে তাকাই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে বিপ্লবের নামে যে সংগঠন তার হাত ধরেই নেমে এসেছিল নানাবিধ দুর্যোগ। একটা কথা বলে রাখি, যারা জানেন তারা ভুল, তারা সমালোচনা কিংবা বিরোধিতা মানতে পারেন না। জাসদ নিয়ে কিছু বললেই পুরনো মানুষজন, বিশেষত আমার বয়সী মানুষদের গায়ে ফোস্কা পড়ে। একটি ব্যর্থ বিপ্লবের খসড়া ও পরিশেষে আ স ম রব কিংবা ইনুর মত নেতাদের জন্ম দেয়া জাসদ এখনো মনে করে তারা সঠিক ছিলো। এই দুইজনের নাম বললাম এই কারণে রবকে মন্ত্রী বানালেই সরকার ভালো। আর নয়তো, তার ভাষায়, আওয়ামী মানে আপদ। এই আপদের ঘরেই জন্ম তাঁর। আর ইনু এখন মন্ত্রী। ইনু সাহেব বিপ্লব বা আন্দোলন ঘরে রেখে ধর্ম মেনে এখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বলাটাকেই মানছেন আসল কাজ। এতে তিনি যে সরকারে  আছেন বা যে দলের কারণে মন্ত্রীত্ব করছেন তাদের ইমেজের কি হয় কিংবা জনমনে কি প্রভাব পড়ে তা নিয়ে থোড়াই চিন্তা তাঁর। আবার দেখুন যে বাম দলকে মনে প্রাণে সমর্থন করতাম  যাঁর নেতা ছিলেন মনি সিংহ বা ফরহাদ তাঁদের একদা দুঁদে নেতা মতিয়া চৌধুরী কিংবা নাহিদের কান্ড কারখানা। মতিয়া আপার বয়স বেড়েছে। তাঁর ভাষণ যেটি নিয়ে আমাদের রাজনীতি বহুকাল পর রাজাকার জায়েজ করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছিল–সেটি আসলে কেমন?

আমি শুনে দেখেছি আসলে তেমন কিছু বলেননি, তবে বলেছেনও। কি বলেছেন? ঐ যে শীতকালের ওয়াজ গ্রীষ্মকালে করা। তেমন কিছু। এতে লাভ হয়না। বরং হিতে বিপরীত হয়। সেই বিপরীত দিকটি বোঝার মত শক্তি হয়তো তিনি হারিয়ে ফেলেছেন। অভিজ্ঞতা এক বিষয় আর তাকে ঝালানো বা শান দেয়া আরেক বিষয়। সেটি তাঁরা করেন না। নাহিদ সাহেবকে দেখুন। তিনি আসলে সরকারী লেখাপড়ার মতই সরলরেখায় চলা বিনামূল্যে পাওয়া পাঠ্য বইয়ের মত ম্যাড়ম্যাড়ে টাইপের। সামান্য নকল বা প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে না-পারা হাঁসফাঁস করা এই একদা বাম নেতা কি বোঝেন না যে এক বয়সে মানুষকে বিশ্রামও নিতে হয়?

কথাগুলো বলার মূল কারণ আমাদের বর্তমান নেতৃত্বের সংকট। কিছুদিন আগে জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসা মাহমুদুর রহমান মান্না আগে কলাম লিখতেন। তারও আগে জ্বালাময়ী ভাষণ দিতেন। তিনিও বাম। তবে বাসদের নেতা। তখন বাসদ মানে স্ফুলিঙ্গ। বাসদ মানে তারুণ্য। সে সুবাদে ডাকসুতে জেতা এই নেতাকে একবার কষে ধমক দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সিপাহসালার কর্ণেল ওসমানী। আমরা তখন যুবক। দেশে সামরিক শাসন। সামরিক নেতা নিজেকে বৈধ করার জন্য নির্বাচনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। সংসদ নয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সে নির্বাচনে জোটের প্রার্থী ওসমানী সাহেব। সাদা পাঞ্জাবী আর পায়জামায় ছোটখাটো দেখতে ভারী গোঁফের মানুষ। তবে তেজ বেশী। সন্ধ্যায় লালদীঘির ময়দানে চট্টগ্রাম ভেঙে পড়েছে। মানুষের মনে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতাকে হারানোর বেদনা আর পাকিস্তানের  প্রেতাত্মা ফিরে আসার ভয়। জামাতকে দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। তারা তখনো আড়ালে। গুটি চালছিলো একদা মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হওয়া মেজর জিয়াউর রহমানের দল। সাথে চৈনিক নামে পরিচিত বামেরা। সে দুঃসহ জায়গা অতিক্রম করার চেষ্টা চলছে তখন। মান্না যখন ভাষণ দিতে উঠলেন তখন বেলা গড়িয়ে। একাধিক বিশেষণ আর অপরিমিত কথা সহ্য করতে পারেননি সিপাহসালার। এক ধমকে থামিয়ে মাইক হাতে নিয়ে তাঁর কথা বলেছিলেন সেদিন। এখন মনে হয় তিনি হয়তো বুঝতে পারছিলেন বাগাড়ম্বর আর  আন্তরিকতা এক নয়। প্রসঙ্গটা মনে এলো এই কারণে যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোটা আন্দোলন ও তার ধারাবাহিকতায় দেশ যখন আরেকটি ক্রান্তিকাল কিংবা খারাপ সময় পার করলো মান্না সাহেব তাঁর ফেইসবুকে একটি ষ্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী রাগ করে বললেও কোটা বাতিল এখনো আদেশে পরিণত হয়নি। তিনি এর আশু ব্যবস্থা নেয়া এবং নিশ্চিত করার কথা লিখেছেন খোলাখুলি।

আর একটা ঘটনা বলি। সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ একদা ডাকসু নির্বাচনে জিতেছিলেন। কবি ও স্বাধীনচেতা মানুষ তিনি। তাঁর বর্ণনায় আছে জেনারেল জিয়াউর রহমান যখন ছাত্রনেতাদের ডেকে নিয়ে গেছিলেন, তাঁরা কজন বঙ্গবন্ধুর ব্যাজ পরেই গিয়েছিলেন সেখানে। এবং কথা প্রসঙ্গে তারা রাজনীতি অবমুক্ত করা ও ছাত্রদের কথা বলার সুযোগ দেয়ার কথা বলায় খানিকটা বিচলিত হবে পড়েন জিয়া। পরে মান্নাকে নাকি তিনি একপাশে ডেকে নিভৃতে কিছু বলেন। এর পর জানা যায় অসংখ্য রিকশার লাইসেন্স আর দোকানের মালিক হয়ে তাঁর একটা হিল্লে হয়ে যায়। সেটা হোক বা না হোক ঘটনাক্রমে আমরা দেখছি মান্না যিনি কিনা আওয়ামী লীগের মত বড় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন  সে জায়গাটা কাজে না লাগিয়ে ঠিকই নিজের দূর্গে ফিরে গেছেন। যেমনটা আমরা ড: কামাল হোসেন কিংবা কাদের সিদ্দিকীর বেলায়ও দেখি। বাংলাদেশে অজস্র মেধাবী কূটনীতিক  আর প্রবীণ মানুষ থাকার পরও বঙ্গবন্ধু ড: কামালকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী করেছিলেন। সে মর্যাদা বা আনুগত্য তিনি ধরে রাখেননি। রাখতে হবে এমন কোন কথা নাই। কিন্তু তার মানে এই না যে তিনি একশ আশি ডিগ্রী ঘুরে যাবেন। কাদের সিদ্দিকীর কথা না বলাই ভালো। বহু নাটকের জন্ম দেয়া সুযোগ পেলে শেখ হাসিনাকে ভগ্নি ডাকা এই মানুষটি কি চান তিনি ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না। যে ঘরে যে দূর্গে এখন আশ্রয় নিচ্ছেন সেটি তাঁর দুশমনের স্বর্গ। কারন তিনিই সে লোক যিনি স্বাধীনতার পর বিজয়ের মুহূর্তে বেয়নেটের খোঁচায় রাজাকার নিধন করেছিলেন। তাঁর কারণে বিদেশী মিডিয়ার তোপের মুখে পড়া নবজাতক দেশের ইমেজ বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছিল তাজউদ্দিন বা অন্যান্যদের। তিনি পঁচাত্তরে আরো একবার ভারতে চলে যান। প্রতিজ্ঞা করেন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার নাহলে গোশত খাবেন না। আবার ঘটা করে অনুষ্ঠান করে মাংস ভোজনও করেন একসময়।

নেতাদের এই দোলাচল আসলে কি বার্তা দেয় আমাদের? কিভাবে গড়ে উঠবে নেতৃত্ব? এখন যারা সরকারী দলের নেতা তারা জয় বাংলা আর জয় বঙ্গবন্ধু বলেই খালাস। তাদের ধারণা এই আনুগত্য থাকলেই ব্যবসা বানিজ্য বা আয় রোজগার বাড়ানো যায়। আদর্শ বা ইতিহাস মূলত কথার কথা। বি এন পি এখনো তৃণমূলে শক্তিশালী । কিন্তু তাদের ছাত্রদল আজ মৃত। সে মৃত্যুর কারণ যে আদর্শহীনতা সেটাও তারা বোঝেন না। বিদেশে বসে দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা কি এত সহজ? তারা মূলত ভুগছেন নেতার সংকটে। সাথে আছে ইতিহাসের সাথে মিথ্যাচার। ফলে যখন সুযোগ মিলছে তখনই তারা নাশকতা বা বেপরোয়া কিছুর সাথে যোগ হয়ে উস্কে দিয়ে ফায়দা নিতে চাইছে। এতেও কাজ হবে না।

নেতৃত্বের এই চরম সংকটকালে আমাদের সামনে যে বাস্তবতা তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার: সামনে যদি এধারা চলতে থাকে নারী পুরুষ কেউই নিরাপদ থাকবেনা। ঢাকায় যে মেয়েটিকে প্রায় বিবস্ত্র করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হলো তাতে তার আত্মহত্যা করাটাও বিচিত্র কিছু ছিলোনা। আমি তার হয়ে কথা বলছি না। কিন্তু ভাবতে বলছি আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাও লুপ্ত হতে চলেছে। মধ্যবিত্তকে দেখুন, তাদের মনে এক মুখে আরেক। এদের মতো হাসিনা বিরোধিতা কোথাও নাই। মুখে দুর্নীতি, ব্যাংকলুট কিংবা ধর্ষনের বিরোধিতার কথা বললেও আসলে তারা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির পর শেখ হাসিনার প্রতি নির্মম। সমঝোতার রাজনীতি এদেশে কি তবে অসম্ভব? অসম্ভব শান্তিতে বসবাস? হিন্দু মুসলমান, আদিবাসী বাঙালি  শিয়া সুন্নীর  পর আসবে নোয়াখালী কুমিল্লার মত বিরোধ। যে তারুণ্য বিশ্বায়নের ফলে দুনিয়া দেখে, একমিনিটে যার হাতে চলন্ত মিডিয়া, যার চোখে নাগরিক অনাগরিক সভ্যতা মুহূর্তে দৃশ্যমান সে কেন আজ এমন উগ্র? কি সেই কারণ যা তাকে এই মাটি মানুষ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ‘আমি রাজাকার’ লিখিয়ে মাঠে নামতে প্ররোচনা দেয়?

বহুবছর পর আমরা যখন থাকবো না, যখন এদেশে মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখার মানুষেরা বেঁচে থাকবেন না তখন কি তবে একথাই রটবে যে আসলে আমরাই ছিলাম রাজাকার আর দুশমনেরা ছিলো দেশপ্রেমী? শেখ হাসিনার বলিষ্ঠতা দেশপ্রেম নেতৃত্ব সব মেনে নিয়ে বলি নতুন নেতৃত্ব নতুন রক্ত আর নবীন প্রেম এখন জরুরী। তিনি থাকতেই তা হতে হবে। কোটা আন্দোলনের সাফল্য ব্যর্থতার ভেতরে একটা ম্যাসেজ আছে। যে কৌটায় বিষ তাকে চিরতরে নির্মূল করা আর যেটায় মধু তাকে মানুষের কাছে সহজলভ্য করা। এই কাজ রাজনীতির। তারা যদি তা করতে না পারে তবে সংস্কৃতি ও সমাজকেই দায় নিতে হয়। সে জায়গাটাও আজ নড়বড়ে। তবু আশায় বুক বাঁধি। একদিন আবারো হয়তো সময়ই জাগিয়ে তুলবে নতুন কোন শাহবাগ। নতুন কোন রেসকোর্স। নতুন কোন বিজয়ে। বাংলাদেশ পরাজিত হয় না হবার জন্য জন্মায়নি। সেটাই যেন সত্য হয়।

 

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

১৬ Responses -- “মধু ও বিষের কৌটা: সাবধান হে জাতি”

  1. Prince

    Pls speak the truth………Propagonda te vashaiyen na……..Perception theke r koto kal amader eisomosto kotha gilaiben…….Dinkaal paltaitase……Try to understand pls….Apnara na thakleo jate apnader somman korte pari sei rasta ta atleast kore jaan……..Plssssss….

    Reply
  2. jisu71

    Pls dont write any thing to break the nation into multiple pieces, Pls dont write anything to disintegrate the nation. Pls dont write anything to spread hatred in the nation. Oh my brothers and sisters acquire knowledge and skill, get higher education. Otherwise you will be destroyed and will be perished away from this earth with serious insult by these clever writers.

    Reply
  3. জিকরুল হক

    অনেক সংসদ সদস্য আছেন যারা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন নি ৫ জানুয়ারিতে, এই জন্য অনুরোধ গণতন্ত্র নিয়ে মাঝে মাঝে লিখবেন। একজন লেখকের সত্য লেখায় থাকে চিরঞ্জীবী শক্তি।

    Reply
  4. Nasser

    As I know Ajoy is from Chittagong and once he was a die-heart supporter of Moulana Bhashani,. I have heard him he was shouting “Sofed Punjabai- Sofed Punjabi” – a poem written on Moulana Bhashani by Poet Shamsur Raahman and on the dais Poet himself was reciting his own poem. I want to see that spirit of Ajoy Roy. Obviously it is not wise to create hiatus in the society and I know Bangladesh can be unbreakable bridge of all shades of opinion when a person like Bhashani is considered to be the pillar of the bridge. Mr Ajoy once again I want to see how many Razakars have now been inducted in the Awami League. May I request you to send me ‘your’ e-mail.

    Reply
  5. Jafar Ahmed

    দাদা
    এই প্রথম মনে হয় কিছু লিখলেন যা একটি বিশেষ দলের পক্ষে নয়। ধন্যবাদ। এবার গনতন্ত্র নিয়ে লিখুন। সবাই যেন নিজের ভোট টা দিতে পারে। ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন যেন বাংলার মাটিতে আর না হয়। লেখক হিসাবে এটা আপনার দ্বায়িত্ব। ভোটে যে দলই আসুক তারা যেন নিরেপেক্ষ ভোটে জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে আসে। আর একটা কথা কৌটা নিয়ে লিখতে চাইলেন কিন্তু মনে হলো কৌটার চেয়ে বোতল নিয়ে বেশী লিখা হলো।

    Reply
  6. mak

    আসলে সব কিছুই আমরা পুরনো রূপে দেখতে চাই। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় শুধু সময়। সে সব কিছুকেই বদলে দেয়।

    Reply
  7. সরকার জাবেদ ইকবাল

    লজ্জাতে ফরমালিন দিয়ে রাখা নেতাদের নিয়ে আলোচনা করে কোন লাভ নেই। ফরমালিন ভেদ করে তাদের লজ্জার কাছে কোনদিনও পৌঁছাতে পারবেন না। প্রয়োজন ফরমালিনমুক্ত নেতা ও নেতৃত্বের যারা লজ্জার মাথা খেয়ে কোনদিনও অধর্ম করবেন না।

    ‘শাহবাগ’ একটি অপরিণত প্রসবের (ইম্ম্যাচিওরড ডেলিভারি) নাম। আন্দোলনটি পরিপক্কতা অর্জনের আগেই তার প্রসব হয়ে গেল। ফলে সে আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারলো না। পরবর্তী ‘গর্ভধারণটি’ যাতে পূর্ণতা পায় সেই অপেক্ষায় থাকলাম।

    Reply
  8. Mute Spectator

    ভ্রাত, একজন লিখেছেন কোটা সংস্কার যুক্তিযুক্ত কিনা এটা আপনি বলেন নাই। আমি উনার কথা সমর্থন করি। ডঃ কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মান্নাদের নিয়ে আপনার আক্ষেপের কোন কারণ দেখি না। এদের দলে তো লোকই নাই, সবচেয়ে বড় কথা এঁরা আওয়ামী লীগ করেন না। সুতরাং আপনার চোখ দিয়ে বা আওয়ামী লীগের চোখ দিয়ে তাঁরা সবকিছু কেন দেখবেন? এঁরা তো রাজাকার নন, আওয়ামী লীগের সাথে দ্বিমত করেন মাত্র।
    আপনি লিখেছেন, “বহুবছর পর আমরা যখন থাকবো না, যখন এদেশে মুক্তিযুদ্ধ চোখে দেখার মানুষেরা বেঁচে থাকবেন না তখন কি তবে একথাই রটবে যে আসলে আমরাই ছিলাম রাজাকার আর দুশমনেরা ছিলো দেশপ্রেমী?”
    এই রকম কথাবার্তা ছেলেমানুষি আবেগের কথা, Emotional Blackmail এর পর্যায়ে পড়ে। কারণ বহুবছর পরও দেশ থাকবে। মনে রাখার জন্য আপনার কথিত ‘আমরা’ কারা আর ‘বহুবছর’ মানে কত বছর? সম্রাট আকবর কি জীবিত অবস্থায় আপনার মত বিলাপ করতেন যে বহুবছর পর মানুষ তাঁকে মনে রাখবে কিনা? কই ইতিহাসে তো এমন কথা আমরা পাই না। সময়ের বিবর্তনে দ্রুত পরিবর্তনশীল এই গ্রহের মানুষ বহুবছর পর তাঁদের বিবেচনায় যা ভাল মনে করবে তাই করবে। এহেন সরল সত্যটি যারা জানেন না বা বিশেষ মতলবের জন্য আবেগের দ্বারস্ত হন তাঁদের দিয়েই বা দেশের কি হবে। আমাদের সমাজে অনেক ‘মুরুব্বি’ পাওয়া যায়
    যারা ছেলেপিলে দেখলেই বলতে থাকে ‘তোদের বয়েসে আমরা এই করেছি, সেই করেছি, তোরা বেয়াদব’ ইত্যাদি ইত্যাদি। মানুষের ছিদ্রের খোঁজে থাকা আর নিজেকে ভাল জাহির করা তাও আবার পাবলিক ডোমেইনে, মোটেও ভাল কাজ নয়।

    Reply
    • Bongo-Raj

      সে যাই হোক জনাব Mute Spectator বলেই সন্মোধন করছি,

      আমার মনে হয় অজয় বাবুর “বহুবছর পর আমরা যখন থাকবো না” কথাটা বুঝতে ভুল করেছেন। তাই সম্রাট আকবর পর্যন্ত টেনে আনারও দরকার নেই।
      ১৯৭৫-১৯৯৬ কে টেনে আনলেই, অজয় বাবুর আশঙ্কাটা বুঝতে পারার কথা-
      নুতন করে যদি ১৯৭৫ এর মত পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে কি হবে সেই কথাটাই বলতে চেয়েছেন বলে মনে হয়েছে !!!!-
      অজয় বাবু আমার এই কমেন্টে ভুল থাকলে দয়া করে কারেক্ট করে দিন!

      Reply
    • শুভ্র

      “আমরা” যারা বাংলাদেশের বেঁচে থাকা নিয়ে, সার্বভৌমত্বের অস্তিত্ব নিয়ে, নেতৃত্বে “আমাদের” পছন্দের লোক বসে দেশ শাসন নিয়ে নাওয়া খাওয়া থুয়ে অবিরত উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় এবং নির্ঘুম থাকি “বহুবছর” পর “সমাজের নিচতলা নিবাসী কতিপয় পাঠকের” এরকম বুদ্ধিদীপ্ত ও বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গির গাড়তা দেখে যারপরনাই বিস্মিত না হয়ে পারিনি। সাধারণ পাঠককূলও যে এনাটমি অব আর্টিকেলে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে পারে তা “আমাদের” লেখককূলের কাছে অপ্রত্যাশিতই ছিল

      Reply
    • Saiful Islam

      হা হা হা । আসলে এটা দাদার অনেক দিনের অভ্যাস। একটি বিশেষ দলের প্রতি উনি দুর্বল যা উনার প্রত্যেকটা লেখাতেই দেখা যায় । সমস্যা হল দাদা বিচার বিভাগ, ব্যাংক হরিলুট, শিক্ষা ব্যবস্থা, আইনশৃংখলা বা দুর্নীতি এগুলো নিয়ে লিখেন না/ লিখতে চান না পাছে উনার দল ছোট হয়ে যায়। আসলে সেই লেখক সন্মানের যোগ্য নয় যার নাম দেখেই আমরা বুঝতে পারি উনি কোন পক্ষের লোক। দুর্ভাগ্য হলো এখন উনাদের সংখা বেশী।

      Reply
    • Conclusion Tanajabana

      উনি আর এস এস এর নেতা বাল ঠাকরের মতো লোক! এসব জায়গায় অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ লোক দিয়ে রাইট আপ করানোর অনুরোধ রইল। আমার জানা মতে আওয়ামী লীগে ২ জন ভাল মানুষ আছে যাদের দেখে আমরা অনুপ্রাণিত হই, শেখ হাসিনা আর বঙ্গবন্ধু, বাকিরা তো চামচা। আমি এক লোকাল নেতাকে চিনি যিনি সারারাত গাজা খেয়ে সকালে মাদকবিরোধী আন্দোলন করতো! উনাকে দেখে অনেকটা তেমন মনে হচ্ছে!

      Reply
    • Md Shoaieb Hossain Bhuiyan

      your comments may be right. Because today we can”t find any gentle man or women, boy or girl who who have any patience to hear any advice from his or elder person. It may be his/her father/mother, uncle/aunt ,teacher/student any person. We think I am the best like that we saw in Sahrukh khan chinema. Though I am a person of new genaration still i think that we can learn a olt from our elder person. we can start it from our home.

      Reply
  9. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম

    লেখাটা শুরু করলেন কৌটা(কোটা) নিয়ে কিন্তু কৌটার বদলে ‘ছিপি’ নিয়ে অনেক কিছুই বললেন। তবুও ভালো লেগেছে। কারণ লেখাটা ছিল অনেকটা দল, মত নির্বিশেষে যাকে বলে অসাম্প্রদায়িক। কিন্তু দাদা অাপনার কি মনে হয় না বর্তমান এই কোটা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন, বাতিল নয়।

    Reply
  10. Md. Abdullah Al Mamun

    Sir, thank you for the wonderful article. We want such type article so that we can learn something. Please revealed the truth, mass people demand as well as criticize the government controversial decision.

    Reply
  11. Ruhul Amin

    এক জন দেশপ্রেমিক এর লেখা পড়ালাম ভাল লাগলো। আসলে দেশের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আর দায়িত্ববোধ দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কথাটা সকল ক্ষেত্রে সবার মনে মননে আর বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার দরকার আরও বেশী।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—