আমি ইউনিভার্সিটিতে ছেলে-মেয়েদের পড়াই, তারা পাশ করে চাকরি-বাকরি পাবে কী পাবে না সেটা নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। দেখেছি সবচেয়ে ফাঁকিবাজ ছেলে বা মেয়েটাও কোথাও না কোথাও ঢুকে পড়ছে। তাই দুর্ভাবনা করার কোনো কারণও ছিল না। তবে ইদানিং সহকর্মীদের কেউ কেউ ছেলেমেয়েদের বিসিএস নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে শুরু করেছেন। তাদের মতে ক্লাসের লেখাপড়া নিয়ে তাদের মনোযোগ নেই, তারা নাকি দিন রাত বিসিএস গাইড বই মুখস্ত করে! সত্যি মিথ্যা যাচাই করার কোনো উপায় নেই তাই আমি সেটা নিয়ে মাথা ঘামাইনি। পত্রপত্রিকায় দেখেছি বিসিএসের কোটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, বিষয়টার গভীরে ঢোকার চেষ্টা করিনি।

চারদিন আগে ভোরবেলা উঠে খবরে দেখলাম আগের রাতে সরকারি চাকুরির কোটা বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রীতিমত রণক্ষেত্র হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়ের এ ব্যাপারে কী করার আছে কে জানে কিন্তু তার বাসাটা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ডিপার্টমেন্টে সবাই বিষয়টা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছে এবং আমার তরুণ সহকর্মীরা তখন আমাকে কোটা সংক্রান্ত জটিলতা বুঝিয়ে দিল। মূল চাকরির ৫৬ শতাংশ নানা ধরণের কোটা থেকে আসে শুনে আমি বেশ অবাক হলাম, কেউ অস্বীকার করবে না সংখ্যাটা যথেষ্ট বেশি। সেদিন দুপুর বেলাতেই একজন সাংবাদিক কোটা সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কী ভাবনা জানতে চাইল। আমি মোটেও এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ নই তারপরও আমার ভাবনাটুকু বললাম, আমার ধারণা ছাত্রছাত্রীদের কোটা সংস্কারের দাবিটি যৌক্তিক একটা দাবি। তারপরই আমার কাছে যে কথাটি আরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে সেটাও তাদের জানিয়ে দিলাম। আমি বললাম, যেহেতু এই কোটাগুলোর মাঝে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সন্ততির জন্যে একটা অংশ আছে তাই আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনোভাবেই কোটার সংস্কারের দাবিতে ভুলেও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অসম্মান প্রকাশিত না হয়। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ছেলেমেয়েরা চাকরি পাবে সেই আশায় মুক্তিযুদ্ধ করেননি, আমরা তাদের যথাযথ সম্মান দেইনি, তাদের সেভাবে সাহায্য করিনি। কাজেই কোনোভাবেই যেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান দেখানো না হয়।

পরদিন ক্লাস নিতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম ছাত্রছাত্রী বিশেষ নেই। এই সেমিস্টারে আমার অনেকগুলো কোর্স নিতে হচ্ছে, মাঝখানে পুরো এক মাস ক্লাস নিতে পারিনি তাই ক্লাস নেয়ার ভীষণ চাপ। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা জানালো তারা কোটা নিয়ে যে আন্দোলন হচ্ছে সেই আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে, তাই এখন ক্লাস করবে না। আন্দোলন মানেই কাজকর্ম বন্ধ করে দেয়া, কাজেই মেনে নেয়া ছাড়া গতি কী? আন্দোলন শেষ হবার পর শুক্র শনিবার বাড়তি ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করতে হবে সেভাবে চিন্তা ভাবনা করছি। একটা যৌক্তিক দাবি নিয়ে ছেলে মেয়েরা যদি ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন করতে চায় কে তাদের বাধা দেবে?

পরদিন খবর পেলাম পুরো ঢাকা শহরকে ছেলেমেয়েরা অচল করে দিয়েছে। একেকটা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের এলাকার রাস্তা ঘাট বন্ধ করে ফেলেছে। ঢাকা শহরের অবস্থা আমরা জানি, শহরের এক কোণায় কিছুক্ষণ ট্রাফিক বন্ধ থাকলেই কিছুক্ষণের মাঝে পুরো শহরে তার প্রভাব পড়ে। কাজেই শহরের বড় বড় ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা সবাই যদি নিজেদের এলাকাকে অচল করে রাখে তার ফল কী ভয়াবহ হবে সেটা চিন্তা করা যায় না। এই পদ্ধতিটি নূতন নয়, এর আগে একবার প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা একই পদ্ধতিতে তাদের দাবি আদায় করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের সাত খুন মাপ, তারা যখন খুশী পুরো শহর, প্রয়োজন হলে পুরো দেশের মানুষকে জিম্মি করে ফেলতে পারে তাদের কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না। তাদের এই কর্মকাণ্ডে যে শিশুটি স্কুলে যেতে পারেনি, যে রোগীটি হাসপাতালে যেতে পারেনি, গার্মেন্টসের যে মেয়েটি কাজে যেতে পারেনি, যে রিকশাওয়ালা তার পরিবারের খাবার উপার্জন করতে পারেনি তাদের কারো জন্যে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের এই ছাত্রছাত্রীদের কোনো মায়া নেই। তাদের দাবিটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বা স্বৈরশাসকের পতনের মতো জাতীয় কোনো দাবি নয়, নিজেদের একটা চাকরি পাওয়ার সুযোগটা বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি।

গ্রাম থেকে একটা মেয়ে যদি শহরে এসে গার্মেন্টসে একটা চাকরির চেষ্টা করতো, কিংবা কোনও একজন তার জমি বিক্রি করে মালয়েশিয়াতে চাকরি পাবার চেষ্টা করতো তাহলে তাদের পাশে দেশের সব বড় বড় অধ্যাপকেরা এসে দাঁড়াতেন না, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের পাশে তারা এসে দাঁড়িয়েছেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা কিন্তু তাদের পাশে যারা দাঁড়িয়েছে তাদের সম্মানটুকু রক্ষা করেনি। তারা দেশের মানুষকে জিম্মি করে, যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল তাদেরকেও অপরাধী করে দিয়েছে। যদি আমি জানতাম তারা এরকমটি করবে তাহলে তাদের দাবির বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে একশ হাত দূরে থাকতাম।

বিসিএস পরীক্ষায় কী প্রশ্ন করা হয় কিংবা ভাইভাতে কী জিজ্ঞেস করা হয় আমি জানি না। আমি যদি সেই পরীক্ষা নেয়ার দায়িত্বে থাকতাম তাহলে তাদের নিচের প্রশ্নটি করতাম:

তোমার দাবি আদায় করার জন্যে তুমি কী সবাইকে নিয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে পুরো শহরকে জিম্মি করে ফেলার বিষয়টি সমর্থন করো?

যারা এই দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি নেয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা কী উত্তর দিতো?

আমার খুব এটি জানার ইচ্ছা ।

 

 

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৫ Responses -- “দাবি, আন্দোলন এবং আন্দোলনের প্রক্রিয়া”

  1. আসিফ

    জনাব জাফর ইকবাল,

    দুঃখিত যে আপনাকে আর ‘স্যার’ বলা সম্ভব হচ্ছে না। কোটা-সংস্কার আন্দোলন এবং তার পরবর্তী ছাত্রলীগের হেনস্থার কারণে এতদিন আপনার লেখাটা পড়া হয় নি। বন্ধুদের মুখে অনেক ধিক্কার শুনেছিলাম আর্টিকেলটার ব্যাপারে, আজ পড়ার সুযোগ হল।

    নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেওয়া আমাদের জেনারেশনটাকে অনেকেই ‘জাফর ইকবাল’ প্রজন্ম বলে, কারণ আমরা ছোটবেলা থেকেই আপনার লেখা পড়ে বড় হয়েছি এবং আপনার কথা আমাদের কাছে প্রায় বেদবাক্য ছিল। কিন্তু দিনে দিনে আপনার দলান্ধ একচোখা লেখা পড়ে আমরা সস্তায় কেনাবেচা হয় এমন বুদ্ধিজীবি চিনতে শিখছি। আন্দোলন শুরু হওয়ার দুদিন আগে-পরেও তো আপনি অস্পষ্ট অবস্থানে ছিলেন, আর যাই হোক সরাসরি বিরোধী অবস্থান নেননি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী-কৃষিমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে সামান্য ধমক দিতেই ভোজবাজির মত নিজের অবস্থান পাল্টে ফেললেন! একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর হিসাবে আপনার থেকে এমনটা প্রত্যাশিত ছিল না। হুমায়ুন আজাদ/আহমেদ ছফার মত সোজাসাপ্টা সত্য কথা বলার সাহস না করতে পারেন, অন্তত আপনার ভাইয়ের মত ভদ্রভাবে সত্যটা বলার চেষ্টা করুন। উনার ‘দেয়াল’ উপন্যাসটা আর একবার পড়ে দেখুন।

    যদি এভাবেই বুদ্ধিজীবিতার আড়ালে একের পর এক তোষামোদি লেখা লিখতে থাকেন তাহলে সেইদিন বেশি দূরে না যেদিন আপনার ভক্ত এই ‘জাফর ইকবাল’ প্রজন্মের কাছেই আপনি ‘স্যার’ জাফর ইকবালের পরিবর্তে ‘মীর’ জাফর ইকবাল হিসাবে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠবেন।

    Reply
  2. shaon

    জাফর ইকবাল সাহেবের কথোপকথোন কখনোই আমাকে আকৃষ্ট করে না, সবসময়ই উনি বায়াসড বিবৃতি প্রদান করে থাকেন। উনি জ্ঞানী মানুষ তা নিয়েও কোন সন্দেহ নাই। উনি উনার জ্ঞানের প্রয়োগ ক্ষেত্র ধরে রাখুক, সেই সেক্টরের বাংলাদেশকে আরো উপরে নিয়ে যাবেন সেটাই কাম্য। সেজন্য উনার প্রতি সম্মান কখনো কমও থাকবে না। তবে অবশ্যই একটা ব্যাপারে এখানে তার সাথে একমত পোষণ করতেই হবে তা হল, ছাত্রদের কোটা আন্দোলনে তারা রাস্তাঘাট বন্ধ না করে দিলেও পারত… বাংলাদেশের আন্দোলনে নতুন মাত্রাও নিয়ে আসতে পারত তারা, দেশে অসভ্য আন্দোলনের কালচারতো আর নতুন না। তাদের থেকেও যদি নতুন দিগন্ত উন্মোচন না হয় তাহলে আমরা আশাবাদী হব কোথায়? এটা অস্বীকার করার উপায় নাই যে, ছাত্রদের উপর হামলার সময় তারা কাউকে পাশে পায় নাই বা ওটা নিয়ে উচ্চবাচ্চ করার মত জ্ঞানীদের দেখা পাওয়া যায় নাই তবে তারা রাস্তা ব্লকের বিষয়টি এড়ালেই ভালো করত।

    Reply
  3. Khandaker Asad Rahman

    এতদিন সন্দেহ ছিল যে, জাফর ইকবাল সাহেব (আজ থেকে আর ওনাকে স্যার সম্বোধন করে স্যার শব্দটাকে ছোট করব না) বোধহয় পুরোপুরিই দলীয় লোকে পরিণত হয়েছেন। আপনার এই লেখা পড়ে পুরোপুরি শিওর হলাম আজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক ধমকে বক্তব্য পরিবর্তন করে ফেললেন?? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলন করা জায়েজ ছিল আর আজ ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের ভবিষ্যৎ এর দাবিতে সেই একই জায়গায় আন্দোলন করতে গেলে তাতে প্রশ্ন তুলে ফেললেন?? পুলিশ হামলার বিষয়টা এড়িয়ে গেলেন যেন এটা একটা নিত্ত-নৈমিত্তিক ঘটনা। বাহ, হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র আপনার চরিত্র!!

    Reply
      • MahibuL Ahsan

        ফাও কথা বলার দরকার কি? শ্রদ্ধা করেন না তো করেন না। ভান করার দরকার কি! শ্রদ্ধা কখনো এক কথায় শেষ হয়ে যায় না! শ্রদ্ধা করেন না, ব্যাস করেন না। তাতে আপনার বা জাফর ইকবালের কিছু যায় আসে না। ভিন্নমত থাকতেই পারে। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই যেমন এক দিনে প্রিয় ছাত্র অপ্রিয় হয়ে যায় না, তেমনি ভিন্নমত প্রকাশ করলেই শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক অশ্রদ্ধেয় হতে পারে না।

  4. Safikul

    sir,
    apni akjon teacher hisebe apnar kach theke ekta niropekkho lekha asha korechilam but purotai ekta dol kendrik hoye geche. Je andolonta akhon somoyer dabi hoye geche je andolone na media r na proshason pokkhe chilo tar poreo andolonkarider kach theke shantipurno r ki asha koren??

    Reply
  5. Monjur Ahmed

    সব প্রতিক্রিয়া পড়ে এটা পরিস্কার বোঝা গেল জাফর ইকবাল স্যার এর গ্রহণযোগ্যতা এখন তলানিতে। এর জন্য উনার এই ধরনের একপেশে অবস্থান দায়ী। এতজন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাকারজনক হামলা উনার চোখেই পড়ল না এটাই হতাশার।

    Reply
  6. Mehedi

    আর আমার যদি সৌভাগ্য হত আপনার এই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার, তাহলে আমার উত্তরটি হত এরকম –
    “যে দেশে একটি যৌক্তিক দাবিকে (অধিকারকে) সু-শৃংখল শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কিংবা মানব বন্ধনের মাধ্যমে মেনে নেওয়াতে যুগ যুগ লেগে যায় তারপরও দাবি পূরণ হয় না সেই দেশে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তিতে যদি দাবিটি পূরণ হয় তবে আমি তার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ।”

    Reply
  7. তালুকদার লিটন

    কিন্তু স্যার অহিংস আন্দোলনের ভাষা এখন আর কেউ বোঝে না। এতদিন যাবৎ দাবি আদায়ে আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছিল, কেউতো কর্ণপাত করেনি, তাছাড়া পুলিশ দিয়ে রাতের বেলা আন্দোলন দমনের নামে যা ঘটল তাতো মানা যায় না । ভিসি বাসভবনে হামলা একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা, পুলিশতো তখন ক্যাম্পাসে ছিল। তারা কেন ব্যবস্থা নিল না, মুখোশধারী কারা ছিল এব্যাপারে কিছু বলছে না,শুধু জনদুর্ভোগটাই চোখে পড়ল!

    Reply
  8. আজিজ

    কোটার মতো বৈষম্য ও অমানবিক একটা
    বিষয় নিয়ে যখন যৌক্তিক একটা
    আন্দোলন হচ্ছে, তখন এসে জাফর ইকবাল
    প্রশ্ন তুললেন রাস্তা অবরোধ করে
    আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে।
    আন্দোলন তাহলে কোথায় করবো
    মিস্টার ইকবাল? নিজেদের বাসায়?
    বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে?
    শাহবাগকে তো আপনিই চিনিয়ে দিয়ে
    গেছেন আন্দোলনের মোক্ষম জায়গা
    হিসেবে ভুলে গেছেন? আমরা
    শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বাসায় বসে করলে,
    আপনার স্বৈরাচারী সরকার কি
    আমাদের দাবি মেনে নিতো?

    Reply
  9. Mamun

    আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ হয়েও এটা কিভাবে লিখলেন বুঝতে পারছি না। আপনি কি জানেন না যে এই আন্দোলনটা হঠাৎ করেই এমন রূপ ধারণ করে নাই। দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপূর্ণভাবেই হয়ে আসছিল এই আন্দোলন। সরকার যদি আগেই এটা বিবেচনার আশ্বাস দিত এবং ঐদিন পুলিশ হামলা না করত তাহলে এমন পরিস্থিতি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। একটু গোড়ায় যেয়ে ভাবা উচিৎ। এটাও যদি আপনার মত মানুষকে আমরা সামান্য মানুষরা বোঝাতে হয় তাহলে কিছুই বলার নাই আর। ঢালাওভাবে রাস্তায় জ্যামের কথাটা বলে ফেললেন।

    Reply
  10. Hasan

    এখানেই আপনার সাথে আপনার ভাই হুমায়ুন আহমেদের পার্থক্য। উনি আপনার মত দলকানা ছিল না।

    Reply
  11. Abdullah M. Taher

    অবাক হয়ে ড. জাফর ইকবালের লেখাটি পড়লাম। এতদিন উনি কোটা বিষয়ে কিছুই জানতেন না!!!! বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থান বিষয়ে এতটা উদসীন কিভাবে থাকতে পারে!!! এই তার দেশপ্রেমের নমুনা।

    Reply
  12. মোহাম্মদ ইসলাম

    ছিঃ ছিঃ ছিঃ
    এত বড় প্রতারণার লেখা আপনি লিখতে পারলেন? আপনার প্রতি একসময় অনেক শ্রদ্ধা ছিল, আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছিল। এখন একেবারে ঘৃণার পর্যায়ে চলে গেল। আপনি একেবারে বিবেক-বিসর্জিত একজন মানুষে পরিণত হয়েছেন, বুদ্ধিজীবি বলা একেবারে ভুল হবে। কেন এতটা দলান্ধ হয়ে গেলেন? এই সরকারের ছাত্রসংগঠনই তো আপনার স্ত্রীকে অপমান আর হেনস্থা করেছিল! আপনার কি স্বামী হিসাবেও কোনো বিবেকবোধ নাই? কিছু মনে করবেন না, মনে অত্যন্ত আঘাত পেয়ে কথাগুলো লিখতে বাধ্য হলাম…
    “কোটা থেকে মুক্তি চাই”

    Reply
    • তালুকদার লিটন

      স্যার আপনার কাছ থেকে এই রকম লেখা আশা করিনি। আপনিও পদলেহী হলেন! ধিক্কার জানাই

      Reply
  13. আতাউর রহমান

    শেখ হাসিনা সংসদে আপনার কথা তুলেছে বলে কি ভয়ে নিজের অবস্থান ঠিক করে নিলেন স্যার?

    Reply
  14. Niloy Rashid

    আসলে অনেকে স্যারের বক্তব্য ভুলভাবে নিচ্ছে। অনেক হয়ত জানে না স্যার ফেসবুক ব্যাবহার করেন না, এমনকি মোবাইলও ব্যবহার করেন না। সো ফেসবুকে বসে আন্দোলন সম্পর্কে আপনারা যত কাছ থেকে আন্দোলনকে দেখেছেন স্যারের সেই সুযোগ হয়নি। কারণ দেশের মেইনস্ট্রিম নিউজগুলা আন্দোলনটাকে একপ্রকার এড়িয়েই গিয়েছিল। আবার যেইদিন প্রচার করেছে সেদিনও দেখলাম আন্দোলনের সাথে জানজটও হাইলাইট করেছে। একজনের কাছে তথ্য প্রবাহ যেমন হবে তার কাছে থেকে মন্তব্যও তেমন আসা স্বাভাবিক। স্যারের যদি এতই সরকারের পক্ষে যেতে হত তাহলে আন্দোলনের সময় একে সমর্থন করতেন না। আর এখন সরকার মেনে নেওয়ার পর এই কথা বলারও কোন দরকার ছিল না। জাফর স্যারের সাথে এই লেখায় একমত নই। তবে লেখাটা ধরে আমরা সম্ভবত স্যারকে মিস জাজ করে ফেলছি

    Reply
  15. Niloy Rashid

    আসলে অনেকে স্যারের বক্তব্য ভুলভাবে নিচ্ছে। অনেকে হয়ত জানেই না স্যার ফেসবুক ব্যবহার করেন না, এমনকি মোবাইলও ব্যবহার করেন না। তাই ফেসবুকে বসে আন্দোলন সম্পর্কে আপনারা যত কাছ থেকে আন্দোলনকে দেখেছেন স্যারের সেই সুযোগ হয়নি। কারণ দেশের মেইনস্ট্রিম নিউজগুলা আন্দোলনটাকে একপ্রকার এড়িয়েই গিয়েছিল। আবার যেদিন প্রচার করেছে সেদিনও দেখলাম আন্দোলনের সাথে জানজটও হাইলাইট করেছে। একজনের কাছে তথ্য প্রবাহ যেমন হবে তার কাছে থেকে মন্তব্যও তেমন আসা স্বাভাবিক। স্যারের যদি এতই সরকারের পক্ষে যেতে হত তাহলে আন্দোলনের সময় একে সমর্থন করতেন না। আর এখন সরকার মেনে নেওয়ার পর এই কথা বলারও কোন দরকার ছিল না। জাফর স্যারের সাথে এই লেখার সাথে আমি একমত নই। তবে লেখাটা ধরে আমরা সম্ভবত স্যারকে মিস জাজ করে ফেলছি।

    Reply
  16. nurislamrafiq

    স্যার কিন্তু এটা মতামত লিখেননি।
    লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী সে দিন সংসদে বসে শাবি ঢাবির শিক্ষদের সমালোচনা করেছেন তার উত্তর।
    যদিও এই উত্তরে স্যার ঢাবির শিক্ষকের ডলা মাঝা (সমালোচনা) করে যে তেল বের করেছেন তা নিজের কাজে অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীকে তেলবাজি করতে এই উত্তরে (লেখায়) ব্যবহার করেছেন।

    Reply
  17. রাসেল রহমান

    এই ইস্যূতে কোনরকম পক্ষে বা বিপক্ষে মন্তব্য না করার কারনে আমার বেশ কয়েকজন ছাত্র প্রশ্ন করেছিল এই ব্যাপারে আমি নিরব কেন? উত্তরে তাদের বলেছিলাম, যদিও আমার কাছেও মনে হয় ৫৬% কোটা আসলেই অনেক বেশি তাই আমি এই কোটার পক্ষেও অবস্থান নিতে পারছি না আবার বিপক্ষকেও সমর্থন করতে পারছি না। পুরো ব্যাপারটা আমি দেখেছি একটা ভিন্ন দৃষ্টিতে। আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি এই দেশে আমরা বছরের পর বছর কি প্রজন্ম উৎপাদন করলাম! হাজার হাজার ছেলে মেয়ে এই দেশে রাস্তায় ভিখারির মত হা পিত্যেশ করছে শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির চাকুরির জন্য? দেশে কি আর কোন সম্মানজনক চাকুরী নেই? কি আছে এই চাকুরীতে? কি তাদের লক্ষ্য? শুধুই কি বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশকে সার্ভ করার ইচ্ছা নাকি নিজেকে সার্ভ করার ইচ্ছা? আমার শৈশবে আমি লক্ষ্য করেছি আমার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাতেগোনা দুই চারজন থাকতো যাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য থাকতো বিসিএস ক্যাডার হওয়া। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম মাত্র এক দশকের ব্যবধানে কেন এই বিসিএস ক্যাডারের চাকুরি এই তথাকথিত মেধাবি ছেলেমেয়েদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাড়ালো? দেশে কি মেধাবিদের জন্য আর কোন সেক্টর নাই? কি ভাবে বিশ্বাস করি এই ছেলেমেয়েরা নিজেকে কিছু না দিয়ে দেশকে পুরোপুরি সৎভাবে সেবা দিবে? এই ছেলেমেয়েরা কি শুধুই নিজের অধিকার বা দেশকে সেবা দেয়ার জন্য লড়াই করছে? কি ধরনের মেধাবী প্রজন্ম উৎপাদন করছে এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা?
    উপরের সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া খুব সহজ। গত এক দশকে এই চাকুরির সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির হার খুব ভালো করে খেয়াল করলেই বোঝা যাবে কেন হঠাত করে এই চাকুর সবার “Aim in life” হয়ে দাড়ালো।

    Reply
  18. তানজিল

    তানজিল
    আপনার প্রশ্ন টা দুঃখজনক? আপনিও লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর একটি যৌক্তিক দাবীকে প্রশ্নবিদ্ধ করলেন!?

    Reply
  19. শুভ্র

    কবি বলেছেন, it’s difficult to make a man understand a thing when his salary depends on his not understanding it. শিক্ষিত মানুষদের কথাবার্তার এই একটা মজা যে, তারা বাংলা ভাষার কুটিল ব্যাকরণবিন্যাস থেকে বাংলার শব্দভান্ডারের বিশাল সমুদ্র থেকে শব্দচয়ন করে এমনভাবে কথাবার্তা বলতে পারদর্শী যে খুব কম মানুষই তাদের কথার ফাঁদের মাঝে ইচ্ছাকৃতভাবে উহ্য রাখা প্রকৃত সত্যটি খুড়ে বের করে তাদের নিরপেক্ষ পক্ষপাতিত্ত্বের মুখোশ উন্মোচন করতে সক্ষম

    Reply
    • Khandaker Asad Rahman

      শুভ্র ভাই, খুবই খুবই ভাল লাগলো আপনার বক্তব্যটা। একদম সত্যি কথা বলছেন।

      Reply
  20. ফারহানা

    ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলনই করছিল এবং তাদের শান্তিপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও হলে হলে পলিটিকাল বাহিনী যে ভয়াবহ নির্যাতন শুরু করে তা অচলাবস্থা ছাড়া আর কোন পথ খোলা রাখেনি।
    আর বৃহৎ স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দেয়াটাই নিয়ম। বৈষম্য দূরীকরণের দাবি যদি জাতীয় দাবি নাহয় তাহলে আর কিছু বলার নেই এখানে।

    Reply
  21. Bikash Das

    আন্দোলনটা আজ একদিনের নয়, আপনি হয়তো আন্দোলন পুরো বিষয়ে অবগত নন। মিডিয়া পর্যন্ত সাপোর্ট দেয়নি, শাহবাগে রাস্তা দখলের আগে পর্যন্ত। এই ছাত্ররা আরো অনেক ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বাধ্য হয়েই এরা রাস্তায় বসেছে।

    Reply
  22. কান্টি টুটুল

    আপনি যখন শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে অবস্থান করছিলেন তখন রাস্তা বন্ধ হয় নাই? আমজনতার কষ্ট হয় নাই?
    আপনি তো দেখি পুরাই ভন্ড!

    Reply
  23. Shahjahan Siraj

    মেধার স্বীকৃতি হলো! এইবার শপথ চাই, “চাকুরীতে গেলে ঘুষ, দূর্নীতি ও স্বার্থপরতায় যুক্ত হইবো না!” দেখি কার কত মেধা, বুকের পাটা!

    Reply
  24. Saiful Islam

    Sir
    যে দেশের সরকার দীর্ঘ ৯ বছরের বেশী শাসনকালে তার শিক্ষিত নাগরিকদের চাকরি দিতে পারে না। বেকারত্ব দূর করতে পারে না। এটা নিয়ে যদি কখনো লিখেন তাহলে আমরা উপকৃত হবো। একটি বিশেষ পক্ষ না নিয়ে শিক্ষিত বেকারের কষ্ট নিয়ে লিখুন। শিক্ষিত যোগ্য ছেলেকে/ মেয়েেক চাকরীর ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দ্বায়িত্ব। চাকরির জন্য ছাত্ররা যদি রাস্তায় নামে তাহলে শিক্ষক হিসাবে আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।

    Reply
  25. Ahsanul Haque

    Sir
    আপনার সংগঠন ছাত্রলীগ আপনার কথা রেখেছে । আপনি বলেছিলেন ” ছাত্রলীগ যেন ভুল না করে ” উনারা ভুল করেন নি। ধন্যবাদ আপনাকে। নীরপেক্ষতার ভান না করে বরং নিজের মন যে দলকে পছন্দ করে তা খোলাখুলি বলা শ্রেয়।

    Reply
  26. র হ

    এক মত হতে পারলাম না স্যার।
    ১। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়ের এ ব্যাপারে কী করার আছে কে জানে?
    আন্দোলনকারীরা ভিসির বাড়িতে আক্রমন করেছে এটা কেউ বলতে পারে না। আক্রমণকারীরা যে কেউ হতে পারে। তবে, আন্দোলনকারীদের ভিসি’র প্রতি অসন্তোষের কারণ তিন রকম। কেনই বা তিনি অভিভাবক হয়ে এতো ছাত্রের মনের কথা শুনতে পেলেন না? কেনই বা তিনি আগে সমর্থন দিলেন না যা তিনি পরবর্তীতে করলেনই। আর কেনই বা তারই এলাকায় ঢুকে পুলিশ তারই সন্তানদের গায়ে হাত তুলবে? তাহলে তাকে কি কোনোভাবেই আর অভিভাবক বলা যায়? তিনি তো অভিভাবক থাকার অধিকারই হারিয়ে ফেলেছেন।

    ২। তোমার দাবি আদায় করার জন্যে তুমি কী সবাইকে নিয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে পুরো শহরকে জিম্মি করে ফেলার বিষয়টি সমর্থন করো?
    দাবি আদায়ের অতীতের/ ইতিহাসের সব ঘটনাই তো একই। এজন্য ভুক্তভুগীদের ছাড় দিতে হয় যেমন দিয়েছে সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধারা। অসহযোগ আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ৭১, সবকিছুতেই তো কাউকে না কাউকে, কোন বা কোন ভাবে ভুক্তভুগী হতে হয়েছে। কিন্তু, তা অর্জনের তুলনায় বড় করে দেখা যাবে না। যদি দেখে, তাহলে … ভিন্ন কিছু বুঝে নিতে হয়।

    Reply
    • জাগ্রত নাগরিক

      ভাই, আপনার কমেন্টের প্রথম অংশটার সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। অভিভাবক যদি সন্তানের ব্যথা বুঝতে ব্যর্থ হয় তবে কি তার গায়ে হাত তুলে তাকে বুঝতে বাধ্য করা সন্তানের দায়িত্ব? আমি বলছিনা আন্দোলনকারীরাই হামলার নেপথ্যে রয়েছেন, কিন্তু আপনার কথায় মানুষ ভুল বার্তা পেতে পারে। ঢাবি ভিসি’র বাসভবনে যে নারকীয় হামলা হলো তা আমাদের কী বার্তা দেয়? কারা এমন হামলা নেপথ্যে কলকাঠি নাড়তে পারে আর কারাই সেইসব পশু যারা ভিসি’র টয়লেটের কমোডকে রক্ষা দেয়নি হামলার হাত থেকে? আশা করি উত্তর দিবেন।

      ধন্যবাদ।

      Reply
  27. Drubo

    স্যার, বেয়াদবি হলে মাফ করবেন।

    ছাত্ররা যদি ঢাকা শহর অচল করে দিয়ে বিবেকহীনতার পরিচয় দেয় তাহলে, কর্তৃপক্ষের বিবেকের প্রশ্ন কি এখানে থাকবে না?

    Reply
  28. Mute Spectator

    ডঃ জাফর ইকবাল রাস্তা বন্ধ করার যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তা যথার্থ তবে তাত্বিক। কারণ এই কাজটি আমাদের আন্দোলন সংস্কৃতির অংশ যুগ যুগ ধরে। আরও কিছু কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢাকার রাজপথ স্থবির হয়ে থাকে, যেমন ভি আই পি চলাচল, সরকারী দলের মিছিল সমাবেশ ইত্যাদি। জনদুর্ভোগ সমানই হয়। তাছাড়া ঢাকায় রাস্তার সক্ষমতার তুলনায় গাড়ি এতো বেশী যে কর্মসুচী না থাকলেও মানুষের ভগান্তি কোন অংশে কম হয় না। এটা একটা বাস্তবতা।
    সরকারের নথি ঘাঁটলে দেখা যাবে সাংবিধানিক সংস্থা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কোটা তুলে দেয়া বা এর সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে প্রতিবেদন/পরামর্শ দিয়েছে। কেউই কর্নপাত করে নাই। ছাত্ররা রাজপথে নামার আগে বহুদিন যাবৎ এ নিয়ে
    দেনদরবার করছিল। দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এবং সরকারের নির্লিপ্ততার জন্য এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই মুহুর্তে বিসিএস ভাইভাতে জাফর ইকবাল সাহেবের প্রশ্নটি
    করার সুযোগ নাই।সুযোগ নাই ছাত্রদের Blame করারও।

    Reply
  29. খালিদ

    স্যার আপনার কি মনে হয় ঘরে বসে ফেসবুকে আন্দোলন করলে সরকার মেনে নিত? আপনি যদি স্যার এমনটা মনে করেন বা এমন একটা উদাহরণ দেখাতে পারেন তাহলে বলবো আন্দোলনকারীরা বিশাল বড় ভুল করেছে। তার জন্য ক্ষমা প্রত্যাশী।

    Reply
  30. জাকের আহমদ খোকন

    স্যার, আপনার বক্তব্য ব্যবহার করে ক্ষতি যা করার তা করে ফেলেছে মেধাবীরা। এখন আর এসব বলে কী হবে?!!

    স্যার, অনেকেই আমাকে ইনবক্সে আপনার বক্তব্যের লিংক দিয়ে জানতে চেয়েছেন, স্যার কেন এটার পক্ষে। আমি হতাশ হয়েছি রাজাকার প্রযোজিত-নির্দেশিত এই মেধাবীদের আন্দোলন নাটকের মর্মাথ আপনার চোখে ধরা পড়েনি দেখে। আমি তাদের বলেছি শুধু, স্যার কোটা সংষ্কারের কথা বলেছেন যদিও এই মূহুর্তে এটা বলার সঠিক সময় ছিল না।

    Reply
      • মোন্তফা কামাল

        হা,আজ কাল অন্ধরা চোখে দেখে বেশী। অবিরত ফেসবুকিং করেই
        নিজেকে মহা মেধাবী মনে করে ।

  31. রাজীব রহমান

    মুশকিল হলো অনেকে মিলে কিছু করার মতো ফাঁকা জায়গা আমরা আমাদের শহরে রাখিনি।এমন কি রাজনৈতিক সমাবেশ করার মতোও। অথচ এখনকার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাতে মাঝেমাঝেই সমাবেশ করার, প্রতিবাদ বা অসন্তোষ প্রকাশ করার দরকার পড়ে। প্রেস-ক্লাবে গিয়ে ছোটখাটো প্রতিবাদ জানানোর দরকার হ’লেও তা সামনের রাস্তাতে দাড়িয়ে তা করতে হয়।
    দ্বিতীয়ত, রাস্তা বন্ধ ক’রে প্রতিবাদ সমাবেশ না করলে আমাদের কর্তৃপক্ষ কিমবা সরকার কখনো কোনো কিছু আমলে নিয়েছে ব’লে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। দেশের উপরের তলার মানুষগুলো আরো দায়িত্বশীল আচরণ না করলে এ ধরণের ঘটনা থেকে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মুক্তি আসার সম্ভবনা কম। আমি যতদূর জানি এই আন্দোলন হঠাৎ ক’রে শুরু হয়নি। অনেকদিন আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা নানা মাধ্যমে ব’লে আসছিল ব্যাপারটা নিয়ে। দায়িত্বশীল লোকেরা সেটাকে আমলে নিয়েছে বলে মনে হয়নি কখনো। এমনকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও।

    Reply
  32. Javed

    স্যার আপনি আমার মনের কথাই বলেছেন। আমিও একজন শিক্ষক।
    স্যার ওরা মেধাবী কিন্তু বেশির ভাগই মুখস্ত করা মেধাবী। পাবলিক লাইব্রেরিতে এদের মুখস্ত বিদ্যার জন্য জায়গা পাওয়া যায় না। সবাই গাইড মুখস্ত করছেন। একদিন যেয়ে দেখেন তাহলেই বুঝতে পারবেন কি অবস্থা। আমি কোটা সংস্কারের বিপক্ষে না। কিন্তু কোনো না কোনো ভাবে মুক্তিযুদ্ধকে ছোটো করা হয়েছে। যেন মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সবাই মেধাবী।

    Reply
    • shahriaf

      আমার আব্বা একজন শিক্ষক প্রায় ই বলে এখনকার ছেলে মেয়েদের নলেজ কম। এর বিপরীতে আম্মা বলে এখনকার ছেলে মেয়েরা আমাদের সময়ের চেয়ে হাজারগুণ বেশি পরিশ্রমী পড়াশোনার ব্যাপারে তাই রেজাল্টও ভালো হয়। বই জ্ঞানের উৎস, সে জ্ঞান মুখস্থ করলে সমস্যা কই?

      Reply
      • Javed

        মুখস্ত আর নকলের মধ্যে পার্থক্য খুবই কম। Knowledge is power isn’t it?
        মানুষ পরিশ্রম করে জ্ঞান অর্জন করে মুখস্ত না। আমি পাবলিক লাইব্রেরিতে যেতে চাই জ্ঞান অর্জন বা জানতে কোনো গল্পের বই বা প্রবন্ধ মুখস্ত করতে না।

      • Khandaker Asad Rahman

        প্রিয় Shahriaf ভাই, আমার মনে হয় না জাভেদ সাহেবের মত লোকেদের কিছু বোঝানো সম্ভব। আমার তো বুঝে আসে না যে আন্দোলন’টার মধ্যে কোথায় কিভাবে মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করা হয়েছে। ধন্যবাদ।

    • shahriaf

      ” যেন মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সবাই মেধাবী “। অবশ্যই আমাদের মতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সন্ততির মধ্যে প্রচুর মেধাবী আছেন। সেজন্যই কোটা সংকোচন জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ তারা অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় যাওয়ার মত মেধাবী। শুধু শুধু কোটা ব্যবহার করে কেন কনফিডেন্স কমাবে?

      Reply
      • Javed

        আমি বলেছি সংস্কার প্রয়োজন আছে। কিন্তু তার নাম বারবার মুক্তিযুদ্ধকে ছোটো করার একটি চেষ্টা করা হয়েছে। আমরাও মেধাভিত্তিক সমাজ চাই। কিন্তু যারা আমাদের জন্য প্রাণ দিতেও দ্বিধা করেননি তাদের সন্মান ও দিতে হবে। আমি কোনো কোটাধারি না। আর আপনি যদি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে থাকেন তাকে আমার তরফ থেকে ধন্যবাদ জানাবেন। এইদেশে আজকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেয়ার জন্য তাদের অবদানই বেশি। তারমানে নাতি-পুতিদের দিবে তাও মানা যায় না।

  33. সাকিব

    আমি আপনার ভাইভা বোর্ডে থাকলে কি বলতাম বলি। যেই দেশে ভি আইপি রা দিনে দশবার রাস্তা বন্ধ করে বহর নিয়ে চলাচল করে; যেই দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধীররা সর্বোচ্চ বিচার পাবে জেনেও রাস্তা ব্লক করে বিচার চাওয়া হয় (আর যেটা সেন্সিটিভ ইস্যু দেখে এটা নিয়ে কথা বলাও যায় না); যেই দেশে একটা স্পেসিফিক আন্দোলনের সময় ছাত্রদের উপর টিয়ার গ্যাস মারা হয় এবং বহিরাগতরা হামলা করে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে আন্দোলন দমানোর জন্য – সেই দেশে সেই স্পেসিফিক আন্দোলনে ঠিক অন্য কোনভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ এবং দাবি পূরণ করা সম্ভব ভেবে আপনার জিজ্ঞেস করা প্রশ্নটা, যথাযোগ্য সম্মান সহকারে বলছি, অতিরিক্ত অন্ধ এবং হিপোক্রিটিক্যাল।

    Reply
    • মোঃ শফিকুল ইসলাম

      ভিআইপিরা আধাঘন্টার কষ্ট দেয়, আপ্নারা সারাদিনের কষ্ট দিয়েছেন। আমার সন্তান স্কুলে। স্কুল ছুটি হয়ে গেছে কিন্তু তাকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে যেতে পারছি না। কারন রাস্তা বন্ধ। আমার সন্তান না খেয়ে স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে আছে ঘন্টার পর ঘন্টা। এই হলো আপনাদের আন্দোলনের ষ্টাইল।

      Reply
      • Mamun

        আন্দোলন টা একদিন দুইদিনের ছিল না। সরকার যদি বিষয়টা এর আগে ভেবে দেখারও আশ্বাস দিত তাও এমন পরিস্থিতি হত না। সরকার থাকে কিসের জন্য।জনগণের কোন কথাই শোনার আগ্রহ দেখায় না।

  34. Md.Zahir uddin Chowdhury

    প্রতি বছর যে পরিমান সরকারী চাকুরী প্রদান করা হয় তার পরিমান যে পরিমান ছেলে – মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ থেকে বের হয় তার কতো শতাংশ হবে ? অনুমান করি ২০% (কোটাধারী সহ )। আর এই ২০% এর জন্যই এতো কিছু ।

    Reply
  35. সরকার জাবেদ ইকবাল

    স্যার, ‘৮০-এর দশকে বিশ্ববিদ্যলয়ে ছাত্র থাকাকালে আমার ৬ বছরের শিক্ষাজীবনে কোন শিক্ষক অবমাননার ঘটনা ঘটতে দেখিনি। তবে একবার সর্বজনশ্রদ্ধেয় জিল্লুর রহমান সিদ্দীকি স্যারের বাড়ী ঘেরাও করেছিলাম মিলচার্জ ২.৫০ টা: থেকে কমিয়ে ২.২৫ টা: করার দাবীতে। কিন্তু, প্রাচীরের ভেতরে ঢোকার সাহস হয়নি। যাই হোক, আমার দিক থেকে আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো এ রকম:

    ১) হ্যাঁ, সমর্থন করি যদি তা জনগণের দাবীতে পরিণত হয়।
    ২) তারা চাকুরি পাওয়ার আশায়/স্বার্থে সমর্থন করতো না। (দু:খজনক হলেও সত্যি এরাই চাকুরি পায় আর দেশ চালায়! আমরা ওদের হাতে জিম্মি, ঘুষ না দিলে চাকুরি হয় না। উঁচু ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মরতে হয়।)

    Reply
  36. Maksudur Rahman

    স্যার অনুগ্রহ করে আওয়ামী লীগ সমর্থন করে আবার ১৯৭২ এর মত ভুল করবেন না। তরুন বয়সে আশাহত হয়েছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে আশাহতের বেদনা বেশী

    Reply
    • Saiful Islam

      আসলে উনার কিছু করার নাই । কিছুদিন আগে উনার সাথে যে ঘটনা হলো এবং সরকার যে গুরুত্ব দিয়ে উনাকে সাপোর্ট দিলো তাতে করে উনার পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু করা বা লিখা সম্ভব নয় । হয়তো কৃতজ্ঞতাবোধ হয়তো সরকারের বিপক্ষে লেখা উনি সেইফ মনে করেন না । আসলে আমাদের সবার অবস্থা উনার মতো ।

      Reply
      • Bikash Das

        সঠিক কথা বলেছেন। পুলিশের হামলার বিষয়টা এড়িয়ে গেলেন, যেন এটা সাধারণ ঘটনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—