গত ক’দিন ধরে ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন করে আসছে সে দাবিটা যৌক্তিক। এবং আমি মনে করি বিদ্যমান কোটার যে হার রয়েছে তা সংস্কার করাই উচিৎ। কিন্তু কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন সেই আন্দোলন হঠাৎ করে সহিংস রূপ ধারন করাটা চিন্তার বিষয়। নিজেদের আন্দোলনকে বারবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে দাবি করলেও ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায় যে তাণ্ডবলীলা চালানো হয়েছে সেটা রীতিমতো সহিংসতা। নিজেদের অভিভাবকের বাসভবনে এভাবে হামলা চালানোটা কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারীর কাজ হতে পারে না। নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রার উপকরণে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরে নিশ্চয়ই অন্য কোনো পক্ষের ইন্ধন কাজ করেছে। অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় না আনতে পারলে ভবিষ্যতে আরো বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। আবার আমি এটাও বলতে চাই পুলিশ আন্দোলন দমনের নামে শিক্ষার্থীদের উপর যে হামলা করেছে সেটাও কাম্য নয়। পুলিশি হামলার তদন্তটিও এখন সময়ের দাবি।

আরেকটি বিষয়  মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে এবং যে অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে সেটা একদমই কাম্য নয়। কোটা কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ছিল না। দেশ স্বাধীনের পরে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ বিবেচনা করে কোটা ব্যবস্থা প্রণয়ন করেন। মুক্তিযোদ্ধারা এই সামান্য কোটা পাওয়ার জন্যে দেশ স্বাধীন করেন নাই। তারা পুরো দেশের মানুষের মুক্তির জন্যেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা যে সাহস নিয়ে দেশ স্বাধীনের জন্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাদের সন্তান-সন্ততিদেরও সেই সাহসটুকু আছে যে কোটা ছাড়াই তারা প্রতিযোগিতা করতে পারেন। এখন যদি পুরো মুক্তিযোদ্ধা কোটা তু্লেও দেয়া হয় একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবো। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান- মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করবেন না।

তবে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করা হলেও কয়েকটি বিশেষ কোটা থাকা একান্তই জরুরি। যেমন নারী, প্রতিবন্ধী এবং আদিবাসী কোটা অবশ্যই থাকতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে নিয়ে আসার জন্য এই কোটাগুলো থাকা আবশ্যক। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে কোটা ব্যবস্থা প্রণয়নই করা হয়েছে কিন্তু সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের বৈষম্য নিরসনের জন্য যা সংবিধান সম্মত।

১৯ Responses -- “প্রসঙ্গ কোটা সংস্কার: মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করবেন না”

  1. Qudrate Khoda

    সংক্ষিপ্ত কিন্তু পরিপক্ক, শান্তিপূর্ণ , ভারসাম্যপূর্ণ, ও শিক্ষণীয় লেখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না। উনি দেশ ও জাতির জন্য এক মহান দায়িত্ব পালন করেছেন।

    দেশে এখন সত্য ও বিবেচনাপ্রসূত কথা বলার লোকের খুব অভাব। এ জাতির দুর্ভাগ্য যে প্রধানমন্ত্রীকে সব বিষয়েই সিদ্ধান্ত দিতে হয়, এমনকি পানে চুন সুপারি জর্দা লাগাতে হবে কিনা তাতেও!

    চামচা ও ধান্দাবাজেরা এখন দেশের ভাগ্যবিধাতা। সত্যি সেলুকাস, বিচিত্র এই দেশ!

    Reply
  2. Rasha

    কোটা আন্দোলন করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কটাক্ষ করে শ্লোগান দেয়া কতটা যৌক্তিক? কোটা সংস্কারের পক্ষে আমরাও তবে সচেতন থাকা জরুরী। সন্দেহ দানা বাধঁছে!
    একটি স্বাধীন দেশ, একটি পতাকা, একটি মানচিত্র কি জিনিস তা যারা জানে না, তারাই মুক্তিযোদ্ধাদের কটাক্ষ করে!
    আন্দোলনে বিজয় লাভ করার পর, বিজয়ী নেতাদের এতো বিষন্ন চেহারা আমি পৃথিবীর আর কোথাও দেখি নাই। ওদের চেহারা এতো বিষন্নতায় ভরা কেনো? ওরা কি হারিয়েছে!
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার মতো বিচক্ষণ মানুষ আমি আমার জীবনে দেখিনি। আমি আমার মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর ১৬ বছর বয়সে লেখা মুক্তিযুদ্ধকালের ভারতে প্রশিক্ষণকালীন ডায়েরী পড়েছি, দেখেছি কি অসীম কষ্ট তারা করেছেন। জেনেছি আমার শাশুড়ি মায়ের কিশোর ছেলের ঘর ছাড়ার পরের তৎকালীন অনিশ্চয়তা আর কষ্ট! আমি এবং আমার সন্তানেরা তার বিনিময়ে রাষ্ট্রের কাছে কিছু আশা করি না আর সেটা আমাদের অধিকারও নয়।আমাদের দু’টো সন্তানই আপনাদের সকলের শুভাশিষ ও ভালোবাসায় কোনোরকম কোটা সুবিধা ছাড়া দেশের বাইরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে লেখাপড়া শেষ করেছে। কিন্তু কখনো কখনো মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্বার্থান্বেষী আর মিথ্যেবাদিরা যে গুজব রটায় তার থেকে মুক্তি চাই। আজ চোখে অশ্রু নিয়ে আপনি যে প্রতিবন্ধী আর আদিবাসী মানুষের কোটা ঠিক রেখে অন্যান্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তাকে সাধুবাদ জানাই। বন্ধ হোক সকল ষড়যন্ত্র আর নোঙরা রাজনীতি। ভবিষ্যৎে যেনো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নিয়ে কখনো কেউ কটাক্ষ না করে সেটা দেখার অনুরোধ রইলো। মুক্তিযোদ্ধা এবং তার পরিবারের সদস্যরা সম্মান নিয়ে বাঁচতে চায়। জাতির দয়া, করুণা কিংবা ভিক্ষা নিয়ে নয়!?

    Reply
  3. Mute Spectator

    মুক্তিযোদ্ধা কোটা যদি ৫-১০% ব্যাবহার হয় তবে ৩০% রেখে লাভ কি? ইদানিংকার অভিজ্ঞতা হচ্ছে সরকারী কর্মচারী নিয়োগের সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য আবেদন জমা পরে কোটার সংখার চেয়ে কম।। দেশকে উন্নতির দিকে নিতে হলে আবেগ বিবর্জিত হয়ে সকল অংশীজনের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা উচিৎ। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা দুটো বিষয় আমরা খুবই নিষ্ঠার সাথে করি।
    ১) এডহক ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
    ২)সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আবেগকে প্রাধান্য দেয়া
    ফলে দেখা যাচ্ছে আমাদের কোন পরিকল্পনাই নাই।
    ছাত্রদের আন্দলনের কোন প্রয়োজনই হতনা যদি সরকার রুটিন মাফিক কোটা ব্যবস্থাকে নিয়মিত হালনাগাদ এবং যুগোপযোগী করত ।
    আবেগদিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা যায়, মুক্তিযদ্ধাকে সম্মান করা যায় না।
    ওয়ার্ড কমিশনার থেকে এম পি পর্যন্ত নমিনেশনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো মাস্তান টাকাওয়ালা খোঁজে না মুক্তিযোদ্ধা খোঁজে? স্বাধীনতার পর বৈজ্ঞানিক
    সমাজতন্ত্রের নামে যে মুক্তিযদ্ধারা মানুষ খুন করেছে এদের কি বলবেন।ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এতো বেশি যে সরকার এখন ভুয়া মুক্তিযুদ্ধা খুঁজতেই হয়রান কোটা দিবে কাকে?
    মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে সকল বিতর্কের উর্ধে একটি দলিল জাতির কাছে থাকা দরকার, এর মাধ্যমেই সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান এবং সুযোগ সুবিধা দিয়ে জাতি ঋণ শোধ করতে পারবে।
    বি দ্রঃ কয়েকজন সচিব মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখিয়ে চাকরি নিয়ে সকল আরাম/ক্ষমতা
    ভোগ করে অবসরে যাবার পর এখন সরকারী তদন্ত কমিশন জানাচ্ছে যে উনাদের
    সনদ জ্বাল। জনাব নাসির উদ্দিন ইউসুফ সাহেব এবার বলুনতো কারা মুক্তিযোদ্ধাদের
    অপমান করে। কোমলমতি ছাত্রদের অযথা দোষারোপ করাকি ঠিক?

    Reply
  4. নাহিদ হোসাইন

    দেশের ৮৫ ভাগ মানুষই যেখানে দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে এবং সামাজিক,অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সুবিধাবঞ্চিত,সেখানে বাবা কিংবা দাদা মুক্তিযোদ্ধা,এই দোহাই দিয়ে সবরকম সামাজিক,অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সুবিধা নিজের প্রাপ্য অধিকার বলে মনে করা কতটুকু বিবেকসম্পন্ন?? মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সম্মান করা রাষ্ট্রের কর্তব্য,তাদের সন্তানদের ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ রাষ্ট্র দিচ্ছে, এবার সেই সন্তানদের কর্তব্য পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা আর যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া,৯৯ ভাগ মানুষের সমঅধিকারকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গেও এটা যায় না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী আবদার করেন,তাইলে ত তারা মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানই করলেন। আর কোটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বাপের সম্পত্তি না যে রাষ্ট্রের ইচ্ছা হইলো আর দিয়া দিলো। ডেমোক্রেসির সংজ্ঞাতেও তাই বলা আছে,”democracy is of the people,for the people and by the people.”যেখানে দেশের ৯৮ ভাগ লোক কোটার বিরুদ্ধে,সেখানে রাষ্ট্র চাইলেও কাউকে কোটাসুবিধা দিতে পারে না।

    Reply
    • সুমন রেজা

      মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা কখনওই রাষ্ট্রর কাছে কোটার দাবি করে নাই। রাষ্ট্রই তাদের কে সম্মানিত করেছে। আর রাষ্ট্রই প্রয়োজন এ পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ এর কিছু মানুষ তাদের অসম্মানিত করে। তাদের বাঁকা চোখে দেখে যখন রাষ্ট্র তাদের সম্মানিত করার চেষ্টা করে।

      Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        মুক্তিযোদ্ধারা কোন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধ করেননি। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করাই ছিল তাঁদের একমাত্র ব্রত। কোটা-সুবিধা নিয়ে সম্তানদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করবেন এমন কোন প্রত্যাশা তাঁদের মনে কখনো ছিল না। এটা বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। কাজেই, কোটার বিরুদ্ধে কথা বললেই রাজাকার হতে হবে কেন?

  5. sumon reza

    আমি একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি্তে শিক্ষকতা করি যদিও আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। মুক্তিযোদ্ধা কোটা পাবলিক ইউনিভার্সিটির সার্কুলার এ উল্লেখ থাকলেও তারা অনুসরণ করেনা। কিন্তু আমি জানি আমার মেধা আছে কি, নাই। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু মানুষ(৭০-৮০%) মনে করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোন মেধা নাই। আমার প্রশ্ন টা এই জায়গাতে… । আবার আমি দেখেছি বাংলাদেশের প্রায় ৮০% মানুষ মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের খুব খারাপ ভাবে দেখে, মুক্তিযোদ্ধা দের অসম্মান করে, এমন কি গালিগালাজ করে। তবে ওপর তলার মুক্তিযোদ্ধারা এটা অনুভব করতে পারেনা। তাঁরা তো আর মানুষের সাথে মেলামেশা করে না। যারা দেশের জন্য প্রাণ দিল, যুদ্ধ করল… তাঁদেরকে আপমান করলে আমার খুব কষ্ট হয়। আজ বাংলাদেশের অবস্থা যদি ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, বেলুচিস্তান, ইরাক, লিবিয়া এমন কি রোহিঙ্গাদের মত হত তাহলে কি তাদের জন্ম হত কিংবা তারা কি বেঁচে থাকতো! আজ আমরা যাঁদের জন্য শান্তিতে দু মুঠো ভাত খেতে পাই তাঁদের কে আজ অসম্মানিত হতে হয়, লাঞ্ছিত হতে হয়। আজ মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের বংশধরদের কোটা নিয়ে কথা উঠে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংশোধনের জন্য কিছু সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের বংশধরদের প্রতি এতোটাই বিদ্বেষ…… যে সময় দেওয়া হলনা। এই হল তাদের কৃতজ্ঞতা! এ অবস্থার জন্য ৭৫ পরবর্তী অবস্থা-ই দায়ী… এ সময় টা ছিল রাজাকার দের পুনর্বাসনের সময়। আজ এই দেশে মুক্তিযোদ্ধারা সম্ভবত সংখ্যালঘু………… যে জাতি এঁদের মত সন্তানদের সম্মান করতে পারেনা সে দেশের সমৃদ্ধি কি ভাবে সম্ভাব!

    Reply
  6. আশফাক আহমদ চৌধুরী

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা যেন আমাদের আগামী দিনের পাথেয় হয়, তাই-
    ১-পরীক্ষার মূল্যায়ন করার পর শুধু লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা,শিক্ষা,অভিজ্ঞতা প্রভৃতিতে বন্টনকৃত পুর্ন নম্বরের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বরের মোট করার পর শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়াই বাঞ্ছনীয়; প্রতিবন্ধী,অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ইত্যাদি ইস্যু নিষ্পত্তির জন্য কিছু পদ্ধতি থাকবে(উদাহরন নীচে আছে) যা পরীক্ষার পরে নয় আগেই করতে হবে যাতে পরীক্ষা দেওয়ার আগে এবং পরে আবেদনকারীকে বুঝে নিতে হবে যে বন্টনকৃত নম্বর অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলকভাবে ভাল করলেই চাকরী হবে।
    ২-বর্তমানে কয়েক ক্যাটাগরী (যাকে এককথায় কারিগরী বা বিশেষ বলা হয়)তে বিসিএস পরীক্ষায় অর্ধেক(প্রায়) নম্বর লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে এম বি বি এস (ডাক্তার)/ বিএস সি ইঞ্জি(সহকারী প্রকৌশলী)/ এল এল বি অনার্স(জুডিশিয়াল)/ অনার্স-মাস্টার্স(লেকচারার পদের জন্য) পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের অনুপাত থেকে নেয়া হয় এবং বিসিএস পরীক্ষার লিখিত অংশে কম পেপার পরীক্ষা দিতে হয়। এ ধরনের কম পেপার পরীক্ষা আরো ক্যাডারে বিদ্যমান যেমন কৃষি / বন / ডেন্টাল। আরো বিস্তৃত করলে তা থেকে বিভিন্ন পেশাকে সমন্বিত করা যাবে এবং কোটার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে।
    ৩-সরকারী সেক্টরে অনেক চাকুরীই আছে যেখানে বিসিএস পরীক্ষা না দিলেও জাতীয় বেতন স্কেল কার্য্যকর এবং স্ব স্ব নিয়োগ ও পরীক্ষা পদ্ধতি বিদ্যমান। কোটা না থাকলেও এসব ক্ষেত্রে স্ব স্ব সংস্থা নিজ পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া করছেন বা করবেন এবং তাদের বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী কিছু কিছু মহিলা/ অনগ্রসর জনগোষ্ঠী নিয়োগ করতে পারেন যেমন প্রাথমিক শিক্ষায় মহিলা কোটার পরিবর্তে “মহিলা শিক্ষক” (বা ” শিক্ষিকা”) পদে মহিলা নিয়োগ চলতে পারে। নার্স পদেও তেমনটি হতে পারে।
    ৪-মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান/ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বিভিন্ন স্তরে(প্রাথমিক / মাধ্যমিক / বিশ্ববিদ্যালয়) উদারভাবে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হলে তাদের সন্তানরা মেধা প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই চাকুরীর সুযোগ পাবে। একই সুযোগ প্রতিবন্ধী/ উপজাতি/ নৃগোষ্ঠী এবং নারী দের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ফলে চাকুরীর কোটা বিলোপের পরেও কিছু অসহায়/ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কল্যানে সরকার তথা রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ হবে।

    Reply
  7. সরকার জাবেদ ইকবাল

    জনাব বাঙাল (নিশ্চয়ই ছদ্মনাম?), আমাকে ক্ষমা করবেন। আপনার মনে তথা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কারও মনে আঘাত দেয়ার কোন অভিপ্রায় আমার ছিল না। আমাকে এত বড় অপবাদ দিলেন? আমি কোনদিন স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে লিখিনি। আমার সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো পড়লেও তার প্রমাণ পাবেন। আপনার পারিবারিক পরিচয়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এমন অনেক অমুক্তিযোদ্ধা পরিবার আছে যারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের চেয়েও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তাদেরকে কোন কোটায় ফেলবেন? বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

    Reply
  8. Abrar Sadiq

    মুক্তিযোদ্ধাদের তো মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তাদের ঘর বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, এগুলো কি সম্মান নয়? তো কোটা প্রথা বাতিল করলে অপমান কেন হবে!

    Reply
  9. পারভেজ

    বর্তমানে নারীদের প্রতি কোন ধরণের বৈষম্য করা হয় না। তাই নারী কোটাও তুলে দেয়া হোক।

    Reply
  10. Nebedita Dey

    All students of Bangladesh, you should read the above article. It is not something that change within a day. I also support your demand but give some time to govt. to find acceptable solution for the students and also benefit for the nation.

    Reply
  11. সরকার জাবেদ ইকবাল

    বাচ্চু ভাই, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার এই লেখাটি সময়ের দাবী। অভিনন্দন। আপনার কাছেই শিখেছিলাম মুক্তিযোদ্ধারা কখনো ‘প্রাক্তন’ হয় না; মুত্তিযোদ্ধারা সবসময়ই মুক্তিযোদ্ধা। আর, ‘৭১ সালে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণের বাইরেও চিন্তা-চেতনায়-মননে আমরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। তাহলে আলাদা করে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটার প্রশ্ন কেন আসবে? এটা এক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অবমাননাকর। আপনারা নিশ্চয়ই বিশেষ কোন সুবিধা পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করেননি?

    এনজিও মহলে ‘পজিটিভ ডিসক্রিমিনেশন’ বলে একটি প্রক্রিয়া চালু আছে যার আওতায় সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদেরকে মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। সেই প্রশ্নে নারী, অন্যভাবে সক্ষম (Differently able) মানুষ এবং আদিবাসীদের জন্য অবশ্যই কোটা থাকতে হবে। এ বিষয়ে আমি আপনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।

    Reply
    • বাঙাল

      সরকার জাবেদ ইকবাল সাহেব আপনি সব সময় স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে লেখেন এবং তাদের পক্ষে কথা বলেন। তাই আপনার কাছে বাচ্চু ভাইয়ের কথা ভালো লেগেছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নিজের যোগ্যতা বলে বেসরকারি সংস্থায় আনেক ভালো বেতনে চাকরি করছি। আমি কখনও চাকরির জন্য বাবার মুক্তিযোদ্ধের পরিচয় ব্যবহার করি নাই বা কখন করবও না। আমার বাবাও রাজি ছিলেন না কখনও তা করাতে। কিন্ত আমি চাই মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা থাকুক, এটা তাদের সন্তানদের অধিকার, তাদের বাবাদের আত্নত্যাগের স্বীকৃতি। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের একটি উপায়। পঁচাত্তর পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধাদের যে দুর্দিন গেছে, বাচ্চু ভাই তার স্বাক্ষী আর আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান তারা জানি কি ভয়াবহ দিন আমাদের গেছে। শুধু মাত্র মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার কারণে জিয়ার সময় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার চাকরি হারাতে হয়েছে, বিশেষ করে সেনাবাহিনীতে এবং সরকারি চাকরির নিচের স্তরে। চাকরি হারিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা সেই সময় ভয়াবহ দুর্দিনের শিকার হয়েছিল, তখন তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানো তো দূরের কথা, ঠিকমত খাবারও দিতে পারন নাই। আমার বাবার সহযোদ্ধাদের পরিবারের এই গল্প ছিল, আমার নিজের দেখা। চরম অর্থিক কষ্টে সেই সকল পরিবার এখন সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টীতে রূপান্তরিত হয়েছে। তাদের সমাজের মূল স্রোতে আনার জন্য কোটার প্রয়োজন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব তা করার। বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমিনের ছেলে এখন রাস্তার ময়লা টুকিয়ে জীবন ধারণ করেন। শুনে নিশ্চয়ই আপনার ভালো লাগছে, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কষ্টে আছে শুনে, তাই না? সেই সকল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য এই কোটা থাকা জরুরি। তাদের সন্তান বা বংশধরদের স্বাধীনতার সত্যিকারের আনন্দ দিতে, তাদের পিতাদের আত্নত্যাগের কারণ বুঝতে, তাদেরকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারি চাকরিতে তাদের কোটা প্রয়োজন আছে। জেনারেল জিয়া পঁচাত্তরের পর প্রায় ৩৫০০ মুক্তিযোদ্ধা সেনা-আফিসারদের ফাঁসি দিয়েছিলেন, বিভিন্ন অজুহাতে- তাদের সন্তানরা এখন কোথায় আছে সেই খোঁজ কেউ কোনদিন করে নাই। সেই সময় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে, সেই সকল পরিবার কোথায় হারিয়ে গেছে তার খবর কেউ কোনদিন রাখে নাই। জিয়া সেই সময় সেনাবাহিনী থেকে যত সেনা হত্যা করেছিলেনে, তার দ্বিগুণ সেনা সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করেছিল। চাকরি হারিয়ে সেই মুক্তিযোদ্ধা সেনা সদস্যরাও তাদের সন্তানদের সঠিক ভাবে পড়াশুনা করাতে পারে নাই। তাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর জীবন গড়ে দেয়ার দায়িত্ব কি রাষ্ট্রের নয়? বাচ্চু ভাই হয়তো, অভিমান থেকে এই কথাগুলি বলেছেন, তারা ছাড় দিয়েছেন বলেই রাজাকাররা দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছে, মন্ত্রী হয়েছে, সংসদ সদস্য হয়েছে। আর উনারা অভিমান করে বার বার ছাড় দিয়েছেন। আমরা উনাদের সন্তান, আমরা ছাড় দিব না। তাই আমি মুক্তিযোদ্ধাদের কোটার বিলোপ মানি না। মানতে পারি না।

      Reply
      • শুভ্র

        @ বাঙ্গাল

        আর্থিক কষ্টে নিপতিত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে ৫ কোটি টাকা করে দেয়া হোক তাদের আর্থিক কষ্ট লাঘবের জন্য। তাদের সন্তান এবং নাতি নাতনিদের বাংলাদেশের সকল স্কুল এবং কলেজগুলোতে এমনকি হোস্টেল এবং হলগুলোতে ফ্রী থাকা খাওয়া ও পড়ার ব্যবস্থা করা হোক। কিন্তু যা কিছু দেয়া হোক না কেন তা যেন মেধা ও যোগ্যতাকে পাশ কাটিয়ে না দেয়া হয়। আমাদের আত্নীয় স্বজনদের বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধা। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতাও। আমাদের মুক্তিযোদ্ধা আত্নীয় এবং তাদের সন্তানদের মেধার অভাব নেই। শুধু আর্থিক কষ্টটাই বেশি।তাই তাদের দিকে এ ব্যাপারে মনোনিবেশ করা উচিত। মুক্তিযোদ্ধারা এদেশ স্বাধীন করেছেন যোগ্য লোক যেন যোগ্য পদে বসে দেশ গড়তে পারেন এজন্য। নিজেরা গদিতে বসার জন্য নয়। সরকারী চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কোটা বরাদ্ধ রাখাই তাদের সম্মানিত করার উপায় নয়। বরং এতে হিতে বিপরীতই করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে পড়া সমাজের অংশ, পিছিয়ে পড়া নয়

      • জাকের আহমদ খোকন

        ভাই বাঙাল, একটা বিষয় তুলে এনেছেন আপনি। যারা বলে মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির জন্য কেন কোটা প্রয়োজন তার একটি উৎকৃষ্ট জবাব। ‘৭৫ – ‘৯৬ আর ২০০১ – ২০০৭ সময়কালে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করাই হয়নি, রাজাকার আলবদরদের রাষ্টীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে মোটা তাজা করা হয়েছে। তাদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি বানানো হয়েছে। সেই সুবাদে তারা দেদারছে রাজাকার-আলবদরে প্রশাসন ভরে তুলেছে। দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর এই প্রক্রিয়া চলেছে। এই বঞ্চনার ফলেই মুক্তিযোদ্ধারা পিছিয়ে পড়েছে। তাছাড়া সমাজের খুব বেশি অগ্রসর অংশের লোকজন বা মেধাবীরা ব্যাপক সংখ্যায় মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র ধরেননি। সেই সময়ের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই এদেশে অগ্রসর বা বিত্তবান বা ছাত্রদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিলো না। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা সামরিক-অসামরিক বেশির ভাগই ছিল তাই সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে সাড়ে তিন বছরেই তারা সকলে নিশ্চয়ই প্রতিষ্টিত হয়ে যান নি। আর রাজাকারদের দেশ শাষণের সময়ে তাদের অবস্থা সকলেই জানেন। আসল খেলা অন্য জায়গায়। দীর্ঘ ২৬ বছরের অবহেলা আর বঞ্চনায় পিছিয়ে পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই এখন শেখ হাসিনার দেয়া মাসিক দশ হাজার টাকার সম্মানীভাতার কারণে অন্তত ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। অভাবের তাড়নায় ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে না পারা তাদের ছেলে মেয়েদের চাকরি হয়েছে এখন পর্যন্ত ৩য় – ৪র্থ শ্রেণির পদে। বিসিএসে যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী পাওয়া যায় তার কারণ এটাই। কিন্তু তাদের ছেলে মেয়ের সন্তানের এখন উঠে আসছে। আর পাঁচ দশ বছরের মধ্যেই তারা এই কোটার পুরো সুবিধা ভোগের জায়গায় এসে দাঁড়াবে যদি এই পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকে। তাই এর বিরোধীতা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—