Feature Img

anu-f11111বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার ‘গরীব’ দেশগুলো রফতানি করে খাদ্য বস্ত্রসহ এমন ভোগ্যপণ্য, যা দিয়ে মানুষ বাঁচে। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘ধনী’ দেশগুলো রফতানি করে অস্ত্র, যা দিয়ে মানুষ মরে।

সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন বাংলাদেশে এসেছিলেন নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও বিনিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে কথা বলতে। সংবাদপত্র, টিভি টকশো, বিবরণী, ‘আড্ডা’ সর্বত্র এটাকে বাংলাদেশের জন্য ‘বিরাট সুযোগ’ ‘বিরাট সম্ভাবনা’ হিসাবেই দেখানো হয়েছে। হিলারী ক্লিনটনের সফরের আসল বৃত্তান্ত নিয়ে কমই জানা যাবে। বোঝার জন্য কোন সুযোগও রাখা হয়নি। সরকার, প্রধান বিরোধী দল, মিডিয়া, সুশীল সমাজ সর্বত্র এত মুগ্ধতা, গদগদভাব আর সম্মতি ছিল যে কোথাও কোন ভিন্নমত, যথাযথ তথ্য উপস্থাপন কিংবা প্রশ্নেরও সুযোগ ছিল না। মাঝে মধ্যে মনে হয়, আমাদের ভদ্রলোকদের চরিত্রে কি মেরুদন্ডের কোন স্থায়ী সমস্যা আছে? নইলে দেশি বিদেশি ক্ষমতাবানদের সামনে সবসময় এরকম প্রভুতোষণ চেহারা দেখা যায় কেন? তোষণ, তোষামোদ, হাত কচলানো, নতজানু , নতমস্তক, হাত পা ধরা, নুইয়ে পড়া, নিজেদের ছোট করে ধন্য হওয়া এগুলোর এত উপদ্রব কেনো? এই স্বভাব যাদের তাদের সম্পদ আছে, ক্ষমতা আছে। বোঝা যায়, আরও দরকার। এরাই যেহেতু সমাজের নানাক্ষেত্রে ক্ষমতাবান, সেহেতু এদের সমষ্টিগত উচ্ছাসে আচ্ছন্নতা তৈরি হয় চারিদিকে। আগ্রাসনকে ভালবাসা, যুদ্ধকে শান্তি, ধ্বংসকে তখন উন্নয়ন মনে হতে থাকে তখন।

সেজন্য শুধু হিলারী কেন, একের পর এক সফররত কোনো মার্কিনী কর্মকর্তার সামনেই বাংলাদেশের জন্য বহু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন উত্থাপিত হয়না। মিডিয়ার আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকার কারণে সমাজের মধ্যেও এই জরুরী প্রশ্নগুলো যায় না। অনেক চুক্তি, গোপন সমঝোতা দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে, যেগুলো জনগণের আড়ালেই থাকে। হিলারীও তাই বাংলাদেশে মার্কিন সেনাবাহিনীর অবস্থান, বাংলাদেশ-মার্কিন গোপন সামরিক চুক্তি, মার্কিন-ভারত চুক্তি, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত খনি করা ও সমুদ্রের গ্যাস ব্লক মার্কিন কোম্পানিকে দেবার জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতের চাপ, শেভ্রনের পরিবেশ বিধ্বংসী তৎপরতা সত্ত্বেও তার জন্য মার্কিন অব্যাহত তদ্বির, সারা বিশ্বে মার্কিনী সন্ত্রাস, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক, মার্কিন কোম্পানির কাছে আমাদের পাওনা ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি কোনো প্রশ্নেরই মুখোমুখি হননি।

এটা কেন হয়? কীভাবে হয়? এই বিষয় নিয়ে নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ তাঁর সাম্প্রতিক লেখায় বিশ্লেষণ করেছেন। এই লেখায় ক্রিস হেজেস-এর এম্পায়ার অব ইল্যুশন (২০০৯) থেকে যে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে তার সারকথা হল, এই অবনত সংস্কৃতি এমন একটি মায়াময় বিশ্ব তৈরি করে যে, তা মানুষের সামনে বিশ্বের প্রাকৃতিক অবক্ষয়, বিশ্ব পুঁজিবাদের নিষ্ঠুরতা, ক্রমবর্ধমান তেল সংকট, বিশ্ব অর্থখাতের ধ্বস, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ সবকিছুকে তুচ্ছ কিংবা অদৃশ্য করে দেয়। …. এই মায়ার সংস্কৃতি আমাদের মায়া থেকে সত্যকে আলাদা করবার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। আমরা শিশুর মতো পুতুল চালক, যারা নিজেরাই পুতুল, তাদের দ্বারা পরিচালিত হই। টেলিভিশন, প্রচার, বাজারজাত করণের কৌশল, ফটোগ্রাফ, খবর, সাজানো প্রশ্নোত্তর সবকিছু একের পর এক আমাদের বোধবুদ্ধি ভোঁতা করে দিয়ে এক মায়ার জগতে সম্মতি নিয়ে হাজির হতে প্ররোচিত করে। ( ‘ইয়েস’,‘ওয়াও’, ইয়ুথ আড্ডা উইথ হিলারী, নিউ এইজ, ১৪ মে ২০১২)

আমাদের ‘কর্তা’দের কথায় মনে হয়, বাংলাদেশের পণ্য যে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করে সেটা তাদের প্রয়োজন নয়, তাদের দয়া। তারা আমদানি করলেও দয়া, রফতানি করলেও দয়া। তারা বিনিয়োগ করলেও সেটা অনুগ্রহের বিষয়। অথচ তারা ঋণ অনুদান নামে যে তহবিল বরাদ্দ করে তার ৪ গুণ বেশি অর্থ বাংলাদেশ শুল্ক হিসেবে প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্রকে। মার্কিন তেল কোম্পানি শেভ্রন যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে তার কয়েকগুণ ইতিমধ্যে দেশে প্রেরণ করেছে। গত ৬ বছরে তাদের কাছ থেকে গ্যাস কিনতে আমাদের খরচ হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা, যে পরিমাণ গ্যাস আমাদের জাতীয় সংস্থা ২ হাজার কোটি টাকায় সম্পাদন করতে পারতো। তাদেরই আরেকটি কোম্পানি অক্সিডেন্টাল মাগুড়ছড়ায় যে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে তা পুরো বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ১ বছরে যে গ্যাস ব্যবহার হয় তার সমান। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এই গ্যাস কিনতে বাংলাদেশের যে অর্থ প্রয়োজন তা তাদের ১০ বছরের বার্ষিক ঋণ অনুদানের সমান।

২০১০-১১ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করেছে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার পণ্য, এর মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই গার্মেন্টস। অন্যদিকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে মাত্র ৬৭ কোটি মার্কিন ডলার। দুনিয়াজুড়ে অস্ত্র রফতানিতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অবস্থান। বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার ‘গরীব’ দেশগুলো রফতানি করে খাদ্য বস্ত্রসহ এমন ভোগ্যপণ্য, যা দিয়ে মানুষ বাঁচে। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ ‘ধনী’ দেশগুলো রফতানি করে অস্ত্র, যা দিয়ে মানুষ মরে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ যা রফতানি করে তার ওপর শুল্ক দিতে হয় শতকরা ১৫.৩ ভাগ। অথচ তাদের গড় শুল্কহার শতকরা ২ ভাগেরও কম। ফ্রান্স, বৃটেন ও সৌদী আরব থেকে পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক শতকরা ১ ভাগেরও কম। অতএব বাংলাদেশ একটি বড় আকারের বৈষম্যের শিকার। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পণ্য আমদানি বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধি ও সাধারণ চর্চার সাথে এটা অসঙ্গতিপূর্ণ। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, কিংবা বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান কোনো দয়াদাক্ষিণ্যের ব্যাপার নয়, বাংলাদেশ এটা নিশ্চয়ই দাবি করতে পারে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস দিয়ে তাদের রাষ্ট্র, ব্যবসায়ীরা এই দেশের মালিকদের থেকে বেশি মুনাফা করে। শুল্কমুক্ত না হলেও শুধু যদি শুল্ক শতকরা ৫০ ভাগ কমে তাহলেও তথাকথিত বিদেশি সাহায্য নামের তহবিলের তুলনায় তার পরিমাণ বেশি হবে।

হিলারীর এই সফর বাংলাদেশের নিরাপত্তা, শান্তি আর সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করবে বলে আমরা বারবার শুনছি। এত ভক্তি এত সালাম এত নিবেদনের মধ্যে খুব সরল কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করাই কঠিন। মার্কিন প্রশাসন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার যে বর্ণনা দেয়, তাতে কোন রাষ্ট্রশক্তি ছাড়াই কতিপয় সন্ত্র্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুটি ভবন টুইন টাওয়ার গুড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল, এমনকি পেন্টাগনেও হামলা পরিচালনা করেছিল। বিশ্বের সবচাইতে দক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাদের ঠেকাতে পারেনি, সেজন্য সিআইএ, এফবিআই বা সম্পর্কিত কোন সংস্থার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। এনিয়ে কোনো তদন্তকাজও ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। তাদের বর্ণনা যদি সত্যিও ধরি তাহলে প্রশ্ন হল, যে রাষ্ট্র কতিপয় ব্যক্তি সন্ত্রাসীর হাত থেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম, তার কোন কুলকিনারাও করতে পারে না সে কী করে অন্যের নিরাপত্তা দেবে? নিরাপত্তার নাম দিয়ে বঙ্গোপসাগর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বহুদিনের। ঐ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বেসামরিক লোকজনের ঘন ঘন সফর থেকে যে কেউ এটা উপলব্ধি করবেন। কিন্তু কাকে কার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র? যারা আমাদের জন্য হুমকি হতে পারে তাদের সাথেই তো যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মহড়া। ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কথা আমাদের কখনোই ভুলে যাওয়া উচিৎ হবে না। যে রাষ্ট্র সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করে ইরাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করলো, তাদের ওপর আমরা বাংলাদেশের নিরাপত্তার ভার ছাড়বো?

প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ সারাবিশ্বের মানুষ, সহযোগী সারাবিশ্বের তাবৎ সন্ত্রাসীরা। এই তথ্য তাই সবার সবসময় মনে রাখা উচিৎ যে, বর্তমান বিশ্বে সবচাইতে বড় সন্ত্রাসী শক্তি যুক্তরাষ্ট্র নিজেই। মার্কিন গবেষক উইলিয়াম ব্লুম যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রামাণ্য বিবরণ দিয়ে কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাদের রেকর্ডে এশিয়া আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে নির্বাচিত সরকার উচ্ছেদ, নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান হত্যা, সামরিক অভ্যুত্থান, গণহত্যা, অন্তর্ঘাতসহ সব বর্বরতা অন্তভর্’ক্ত। বিশ্বে বর্তমানে সামরিক খাতে বার্ষিক ব্যয় বা হত্যা ধ্বংসের প্রধান অংশই যুক্তরাষ্ট্রের ভাগে, একাই শতকরা প্রায় ৬০ ভাগের বেশি। যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেই একটি সামরিক দুর্গ, একটি ক্যান্টনমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বহু মানুষ এখন অনাহারে, কর্মহীন, চিকিৎসার সুযোগ বঞ্চিত। অথচ মার্কিন অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজ ইরাক যুদ্ধব্যয়ের হিসাব করে দেখিয়েছেন, প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে ইরাকে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে, যার সুবিধাভোগী অস্ত্র ও তেল ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও আমলা। কৃত্রিম বানানো শত্রুর ভয়ংকর চেহারা তৈরি করে আতংকিত আবহাওয়া তৈরি করা হয় মার্কিন জনগণের মধ্যে। এবং তাদের শিক্ষা স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার অর্থ বিনা বাধায় যুদ্ধখাতে স্থানান্তরিত হয়। সেখানেই মার্কিন ক্ষমতাবানদের মুনাফার পাহাড়।

যে কাজ সরাসরি হত্যা, দখল, ধ্বংস আর কিছু নয়- তাই মানুষের সামনে উপস্থিত করা হয় ‘সার্বভৌমত্ব’ ‘মুক্তি’ ‘নিরাপত্তা’ ‘গণতন্ত্র’ ‘স্বাধীনতা’ রক্ষা, কিংবা ‘সন্ত্রাস’ দমনের উপায় হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক কার্যক্রমের জন্য বরাবর ‘নিরাপত্তার হুমকি’ হিসেবে কোন না কোন দেশ বা শক্তিকে দেখিয়েছে। ক্ষুদ্র কিউবা বা নিকারাগুয়াকেও আগ্রাসী শক্তি হিসেবে উপস্থিত করা হয়েছে। প্রচারণার কল্যাণে এসব দেশও, কিংবা বহু দূরের ভিয়েতনাম বা কোরিয়া বা ইরান মার্কিন জনগণকে আতংকিত করতে পেরেছে। এখন আতংক আরও বিস্তৃত হয় কোন গুহায় বসবাসরত কল্পিত কিংবা নিজেদের নির্মিত ‘ইসলামী সন্ত্রাসী’ দিয়ে। অনেক সরল তথ্যকেও এসব প্রচারণা আড়াল করে ফেলে।

২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তান সরাসরি মার্কিনী নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর হাতে। এই সময়কালে জাতিসংঘের ড্রাগ অফিসের তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানে হিরোইন উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। এর আগে তালিবান, তারও আগে মুজাহিদীনরাও মার্কিনী মদদেই ক্ষমতায় বসেছিল। মার্কিনী বাহিনী মুজাহেদীনদের মদদ দিয়েছিল এমন সরকারের বিরুদ্ধে – যারা ভূমি সংস্কার করতে উদ্যোগ নিয়েছিল, নারীর শিক্ষা ও চিকিৎসার পথে সব বাধা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছিল। এখন মার্কিন কর্তৃত্বাধীন আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমে হিরোইনের শতকরা ৭০ ভাগ যোগান যায়, যেখানে আফগানিস্তানের শতকরা ৭৫ ভাগ মানুষ দারিদ্রসীমার অনেক নীচে বাস করেন। আর এই মাদক সরববরাহের রাস্তাও পরিষ্কার রাখা হয়েছে মার্কিনী নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় এশীয় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ দিয়ে, এর মধ্যে অন্যতম তাজিকিস্তান। এই দেশের মানুষদের এখন প্রধান কর্মসংস্থান এই মাদকদ্রব্য চালান কাজ। করপোরেট বিশ্বের মুখপাত্র ইকনমিস্ট পত্রিকা জানাচ্ছে, ‘তাজিকিস্তানের জিডিপির শতকরা ৩০-৫০ ভাগ এই মাদকদ্রব্য চালান ‘শিল্প’ থেকেই আসে।’ পত্রিকাটি আরও জানাচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ জোট ন্যাটো তাজিকিস্তানের এই তৎপরতায় বাধা দিতে আগ্রহী নয়। বরং সেখানকার মার্কিন সাহায্যে পরিচালিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্মকর্তারাই এই কাজে নেতৃত্ব দেয়, তা তাদের অনুমোদনেই ঘটে। ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থার পরিবর্তন চায় না। কেন? তাদের যুক্তি, কারণ তা করতে গেলে আফগানিস্তানে তাদের যুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাজিকিস্তানে তাদের ভারসাম্য নষ্ট হবে। সেই দেশে দারিদ্র এখন ভয়াবহ, অনেক স্থানে এখন ২৪ ঘন্টায় ২ ঘন্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। (ইকনমিষ্ট, এপ্রিল ২১-২৭, ২০১২) এই হল যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন, শান্তি ও নিরাপত্তায় সহযোগিতার ধরন।

হিলারীর সফরের পর ‘একুইজিশন এ্যান্ড ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক চুক্তি সম্পাদনের জন্য চাপও বাড়ছে বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানা যায় (নিউ এজ, ১৩ মে, ২০১২)। সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণের নামে বিপুল অস্ত্রক্রয়েরও চাপ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যুরো অব পলিটিক্যাল-মিলিটারী এফেয়ার্স’ এর সহকারী সেক্রেটারী এন্ড্রু জে শেপিরো ঢাকা সফর করেন গত ১৯ এপ্রিল। ২৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে তিনি এক বক্তৃতায় বলেন, ‘এই আধুনিকীকরণ কর্মসূচি আমাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ দেবে…আমাদের বাড়তি অস্ত্রশস্ত্র সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে।’

বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এবং খনিজ সম্পদের বিপুল আধার বাংলাদেশের ভূমি ও সমুদ্রে কর্তৃত্ব বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে বিশেষভাবে সক্রিয় করে তুলেছে। আর এই সক্রিয়তা দেখে আমাদের দেশের অনেক নির্বোধ কিংবা অনুগত কর্তাব্যক্তি বা সুশীল ‘বিশেষজ্ঞরা’ মুগ্ধ। এতেই নাকি বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে! যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দেশের ওপর ভর করে, আর সেই দেশ যদি তাদের ভৃত্য হিসেবে সার্ভিস দিতে থাকে তার কী পরিণতি হয় তা দেখার জন্য আছে পাকিস্তান নামক তাবেদার রাষ্ট্রটি।

মেরুদন্ডের সমস্যাওয়ালা লোকেরা এই দেশের নানা ক্ষেত্রে মাথা হয়ে থাকায় জাতির মাথা বারবার হেঁট হচ্ছে, বিপদ ও বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে নানা মাত্রায়। এদের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত না করতে পারলে আমাদের কোন উদ্ধার নাই। এটাই ভরসার কথা যে, এরাই বাংলাদেশ নয়। ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করেই মানুষ যুদ্ধ করে বাংলাদেশ এনেছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে মার্কিন প্রশাসনের প্রবল চাপ ছিল বাংলাদেশ থেকে গ্যাস রফতানি করা আর চট্টগ্রাম বন্দর তাদের এক জালিয়াত কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া। জনগণ মেরুদন্ড নিয়েই এর সবই প্রতিরোধ করেছেন। দেশের পানি, আবাদী জমি ও মানুষের সর্বনাশ করে ফুলবাড়ী উন্মুক্ত খনি করতে চেয়েছিল এরা। মানুষ জীবন দিয়ে তা ঠেকিয়েছেন। এটা হয়নি, হবে না। মেরুদন্ডহীনদের তোষামোদী সত্ত্বেও কনোকো ফিলিপসের সাথেও জনগণের মোকাবিলা চলছে। বঙ্গোপসাগরের সম্পদ লুট ও পাচার এদেশের মানুষ কোনভাবেই হতে দেবে না। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দানবীয় আগ্রাসনের মুখেও, তাকে আমাদের প্রত্যাখ্যান করবার সাহস দেখানোর তাই যথেষ্ট কারণ আছে।
১৮ মে ২০১২

আনু মুহাম্মদ: শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ।

৪৯ Responses -- “হিলারী ও মেরুদন্ড সমস্যা”

  1. Adnan

    লেখাটি হিলারী বিষয়কও না, সাম্রাজ্যবাদ বিষয়কও না, পুরোপুরি তোষামোদির উপরও না। অনেকগুলো বিষয়ের অবতারনা করা্য় মূল বক্তব্যটি হারিয়ে গেছে ‘ওরা কত খারাপ’-এটা প্রমান করার চেষ্টায়। আর অন্তত শেখানোর জন্য হলেও আত্ম-সমালোচনার একটা চেষ্টা দরকার ছিল।

    আরো দুঃখজনক আমাদের কমেন্টগুলোর ম্যাচুরিটির অভাব। যতক্ষণ ‘খুব ভালো স্যার’ বলছি, সবা্ই খুশি। ভিন্নমত আসলেই কিন্তু শুরু হচ্ছে ‘যারা জুতা চাটে, দালাল ..যাদের কোন ধারনাই নেই, ৭১-এ মার্কিন বিরোধিতা, লেখাপড়া করে আসেন’ ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে মার্কিনীদেরও এ বিষয়ে কথা থাকতে পারে। তাঁদের সাথে বিতর্কেও কি আমরা এই দূর্বল, প্যাসিভ-আ্যগ্রেসিভ অবস্হানই অবলম্বন করবো?

    যারা বিডিনিউজ পড়ছেন, তাঁরা কিন্তু দেশের স্বাধীন মুক্তচিন্তার প্রবর্তকও বটে। আর (বেনামী হলেও) তাঁদের কমেন্টগুলো কিন্তু খাঁটি দেশি বুদ্ধিচর্চার মাপকাঠিস্বরূপ।

    Reply
  2. Abul Kalam

    পুরা লেখার মুল সুর হোল বাংলাদেমিদের চরিত্রের সমস্যা। সেই দিক থেকে খুবই দুর্বল লেখা। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোনও বিশ্লেষণ নাই, কেন মার্কিনীরা বাংলাদেশের মতো ছোট দেশের সঙ্গে পার্টনারশিপ চুক্তি করতে চাইছে এখন, তার কোনও ব্যাখ্যা নাই। হিলারির বিরুদ্ধে ক্রোধ, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আক্রোশ – ইত্যাদি আছে। পাতিবুর্জোয়া মধ্যবিত্তের নিস্ফল আস্ফালন মনে হয়।

    Reply
  3. সেরীন ফেরদৌস

    হিলারী আসার এবং যাবার পর থেকে নিউজ বা ভিউজ প্রকাশের নামে পানসা পানসা প্যানপ্যানানি ভাষায় যা প্রকাশিত হচ্ছিল, তা পড়ে বিরক্ত লাগছিল, যা এই একটি লেখা পড়ে কেটে গেল। নইলে আজকাল ‘মতামত’ এর নামে এমন কিছু লেখা পড়তে বাধ্য হই যা বারবার প্রকাশিত একই তথ্যের নিউজের বর্ধিত সংস্করণমাত্র! আনু ভাইকে ধন্যবাদ!

    Reply
  4. partha

    আনু মুহাম্মদ এর লেখাটি ভালো লাগলো | লেখাটি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন আর প্রতিবাদে উদ্বুদ্ধ করবে | স্বার্থান্নেষী মানবতাহীন লুঠেরাদের চিনতে সাহায্য করবে | বিতর্ক, পর্যালোচনা-র মধ্যে দিয়ে সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে – আশা করি |
    বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের সমালোচনার এবং তার মুখোশ উন্মোচনের সাহসী এবং মহৎ কাজটিতে তিনি আন্তর্জাতিক নিপীড়িত-শোষিত মানুষকেও সাথে নিন; তাঁর লেখায় শুধু স্বদেশ নয়, বিশ্বের সমস্ত আক্রান্ত মানুষ তাদের ভাষা খুঁজে পাক |
    আনু মুহাম্মদ-ভাইকে সহযাত্রীর অভিনন্দন |

    Reply
  5. মুনতাসীর

    কথাগুলো আসলেই সত্য কিন্তু শেষ কথা ঐ একটাই স্বাধীনতার এত বছর পরওতো কেউ এই দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারলো না। আর যে গুটিকয়েক মানুষ এগিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন তারাও ব্যর্থ হয়েছেন। আসলে আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে নয়। প্রতিটি মানুষের মধ্যে তাদের নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা আর দেশপ্রেম জাগাতে হবে। কারণ ঐ ধান্দাবাজ রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় আসে তো আমাদের ভোটেই।

    Reply
  6. M HAQUE MUKUL

    ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যখন আমেরিকা হাজার হাজার টন বোমা ফেলছিল নির্বিচারে। আমাদের দেশে তখন এ নিয়ে উপন্যাস, গল্পের ছড়াছড়ি। মজা করে পড়তামও সেসব। চীন, রুশ সেই যুদ্ধের সর্বহারা লড়াকুদের পক্ষে। মাও-লেনিনের প্রবাদবাক্য ‘সাম্রাজ্যবাদের মরণ কামড়’, এই তারা অস্তিত্ববিহীন হয়ে পড়ছে, দুনিয়ায় গরীব মানুষের জয় এই এলো বলে।
    চল্লিশ বছর পেরুল। মাও মারা গেছেন, খোদ লেনিনগ্রাদ গেছে হারিয়ে। হ্যানয়-হোচিমিন শহর আমেরিকার পুঁজির অপেক্ষায় লাল কার্পেট বিছিয়েছে। যারা ঔষদ, খাবার, রসদ, যুদ্ধাস্ত্র দিয়ে বিপ্লবকে এগিয়ে দিল, ইতিমধ্যে চীনের সঙ্গে ভিয়েতনাম শুধু বিরোধে নয় যুদ্ধাস্ত্রও খরচ করেছে। মেকং বদ্বীপে এখন মাওয়ের বা লেনিনের জয়গানের চেয়ে পুঁজির প্রসারের নীতিবাক্যই সুর হয়ে বেজে যাচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদের পতন হয় নাই, আমেরিকা পালিয়ে বেড়াচ্ছে না, লক্ষ নিরীহ মানুষ মারার অপরাধে অপরাধীও হয় নাই বরং মস্কোর ঘন্টা টুকরো করে বেইজিং বসে যুদ্ধাস্ত্র বানাবার আর বেচার ফন্দি করছে।
    চায়নার নাম্বার ওয়ান বিজনেস পার্টনার একদিনের নাম্বার ওয়ান শত্রু। সেদিনের সেই গল্প, উচ্ছ্বাস আজ আর কিছুই নেই।
    আমেরিকা যেমন থাকবে, তেমনি তার প্রতিপত্তিকে মেনে নিয়েই এই দুনিয়ায় বসবাস করতে হবে। হাজারো বিরুদ্ধবাদী গল্প (যেগুলো যদিও সত্যি) ফেঁদে যাই হোক আমাদের উন্নতি হবে না। আমাদের উন্নতির জন্য যেটা দরকার সেটা হোল স্বাধীন ভাবনা এবং সেই লক্ষে কাজ করা আর এখানে প্রতিভা থাকতে হবে, গল্প বলার মাজেজা নয়।
    আজ বাংলাদেশে স্বাধীন চিন্তার লোক নেই, আর তার সবটুকু অবকাশ প্রতিদিনই বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। মানুষের প্রবৃত্তিগুলোকে দমিত করা হচ্ছে আর কিছু বুদ্ধিজীবী এই করেই খাচ্ছে। শুধু খাচ্ছেই না দুষ্ট শক্তির পাহারাদার হিসেবে কাজও করছে।
    ‘আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি খারাপ’ এই চমৎকার গল্পের কাটতি বাড়াচ্ছেন, কিন্তু বিকল্প শক্তির আবির্ভাবের আর তা নস্যাতের সব পায়তারা কিন্তু ওরা নয় এদের মদতেই হচ্ছে। একদিন ট্রটস্কিরাও সাম্যবাদী ছিলেন, আর স্টালিন ছিলেন প্রলেতারিয়েত রাষ্ট্রের নায়ক।

    প্রতিভা যদি থাকত তাহলে যারা কোনো কারণে কাটতি গল্প তৈরির মাজেজা প্রকাশ করেন, তারা এদেশে প্রতিদিন মার খাওয়া মানুষের ভরসার বিকল্প শক্তি হিসেবে অনেক আগেই পুজিত হতেন।

    Reply
  7. দীনা নার্গিস

    চমৎকার একটা লেখা পড়লাম। অভিনন্দন আনু মুহাম্মাদকে। সহজ ভাষায় চরম কিছু সত্য কথা বলার জন্য।

    Reply
  8. Mesbah Uddin Ahmed

    অত্যন্ত আশা-জাগানিয়া একটি লেখা। আমেরিকা সম্পর্কে এরকম সত্য বক্তব‌্য উপস্থাপন করার মতো লেখক বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। আপনার লেখাটি আমার মতো হাজারও বাঙ্গালির অনুপ্রেরণার উৎস। ধন্যবাদ স্যার।

    Reply
  9. Rakib

    আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আমার কাছে মনে হচ্ছে আপনার কথাগুলো আমাদের অল্পশিক্ষিত, অশিক্ষিত ও শিক্ষিত সর্বস্তরের লোকেদের কাছে পৌঁছানো দরকার। আমাদেরর দেশে অসংখ্য লোকের মাঝে আপনার আজকের কন্ঠস্বর বাজে কিন্তু প্রকাশ করতে পারে না। আমি চাই আপনার যদি সামর্থ থাকে তো আপনি এ তথ্যগুলি সবার সামনে সভা সেমিনারে এবং পত্রিকায় প্রকাশ করুন। আপনার সাথে পাবেন আমাদের মতো ক্ষুদ্র মেধাসম্পন্ন বাংলার সংখ্যা যুবককে। ধন্যবাদ, অনেক।

    Reply
  10. iqbal hasnu

    এক্সিলেন্ট! আমাদের তরুণদের জন্য এক আহ্বান যাতে তারা নতুন পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখে।

    Reply
  11. রবিউল

    দাদা, অসাধারণ একটা আর্টিকেল লিখেছেন। আশা করি আপনার পরবর্তী আর্টিকেলটি ভারত এবং বাংলাদেশের বিচিত্র বন্ধুত্ব নিয়ে হবে। আমি জানি আপনি টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে বেশ সংগ্রাম করেছেন, করছেন। জ্বালানি সম্পদ রক্ষায় আপনার আন্দোলন অসাধারণ। দয়া করে লিখে যান। বাংলাদেশ এখন শুধু মেরুদণ্ডহীনই নয়, বোবা এবং অন্ধ। আশা করি এ কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্ত করতে আপনার মতো মানুষ এবং আমাদের মিডিয়া এগিয়ে আসবে। BDnews24 কে অনেক ধন্যবাদ এরকম একটা মতামতের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়ার জন্য।

    Reply
  12. Pak

    তেল মালিশ করে স্বল্প সময়ের সফল হলেও দীর্ঘ সময়ে সফল হওয়া যায় না ।
    দরকার ব্যক্তিত্বের বিকাশ । আপনাকে অভিনন্দন মেরুদন্ডহীন বলার জন্য ।
    সত্য বলতে সাহস লাগে । আপনার তা আছে । আপনাকে সালাম ।

    Reply
  13. mehedi

    ধন্যবাদ স্যার। আপনার লেখাটি পড়ে মনে হচ্ছে এখনো কিছু মেরুদণ্ডওয়ালা সচেতন লোক রয়েছে সমাজে। তবে স্যার আপনার কাছে নিবেদন, আপনি সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ছাড়াও আমাদের বিগ ব্রাদার ভারত নিয়ে কিছু লিখবেন। যেভাবে আপনি যুক্তি এবং ইতিহাস দিয়ে আমেরিকার মুখোশ উন্মোচন করেছেন, তেমনিভাবে ভারতেরও মুখোশ উন্মোচন করতে আপনারাই পারবেন।

    Reply
  14. biplab barua

    আমেরিকানদের কাছ থেকে কোনো কিছু আশা না করার জন্য, ওদের গুরুত্ব না দেয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ।

    Reply
  15. Bishwajit Mondal

    স্যার আমরা একটি ছোট দেশের গর্বিত মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাই। মরতে চাই এই দেশকে ভালবেসে। আমাদের যার যা কিছু আছে তাই দিয়ে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে আমাদেরই। গার্মেণ্টস শ্রমিকরা যেমন আমাদের দেশের মানুষ আমরাও যারা অন্য কাজ করে খাই তারাও তাদেরই মতো মানুষ। মানুষ বিকল্প খুঁজবে। তাই বলে কাউকে প্রভু ভেবে নিজেদের পায়ে কুড়োল চালাবে না। আমরা সব সময় সচেতন থাকতে চাই।

    আপনারা অবশ্যই সেক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।

    Reply
  16. Tak Ratan

    ভালো একটা আর্টিকেলের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এমন যুক্তিপূর্ণ লেখা আরও বেশি বেশি লিখতে পারুন সেটাই চাই।

    Reply
  17. Md. Shahidul Hoque

    আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। ছোটকালে বাবার মুখে শুনেছি আমাদের দেশের যোদ্ধাদের সঙ্গে পেরে না উঠায় পশ্চিম পাকিস্তান আমেরিকার কাছে সাহায্য চাইলে আমেরিকা পূর্ব পাকিস্তান ( বর্তমানে বাংলাদেশ)-কে ধংস করার জন্য জাহাজ ভর্তি করে আস্ত্র পাঠায়। আমার প্রশ্ন যে দেশ আমাদের বাঙালি জাতির সৃষ্টিলগ্ন থেকে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তারা কীভাবে আমাদের নিরাপত্তা দিবে? এছাড়াও বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য, আমদানি-রপ্তানির যে পার্থক্য, তাতে করে আমাদের উচিৎ আমেরিকান সকল পণ্য বর্জন করা।

    Reply
    • Sheik Md. Golam Rasul

      আমি ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান পণ্য বর্জন করছি। আসুন আমরা সবাই তা করি।
      আর আসুন দেশটাকে ওই সব নোংরা পলিটিক্স আর পলিটিশিয়ানদের হাত থেকে বাঁচাই।
      আপদ (আওয়ামী লীগ), বিপদ ( বিএনপি) এবং জানোয়ার ( জামাত)-এর হাত থেতে নিজেরা বাঁচি। দেশকে বাঁচাই!!!

      Reply
  18. Arif , ABB Finland

    স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি যে সত্যটা তুলে ধরেছেন তা দুনিয়ার অসভ্য মানুষকে কতটুকু শিক্ষা দিবে জানি না, তবে অসাধারণ এ লেখাটার জন্য ধন্যবাদ ।

    Reply
  19. Mahin

    অসাধারণ একটা লেখা। খুব গর্ব হচ্ছে দেখে যে এখানে অনেক অ্যানালিসিস আছে। এদেশে অন্তত এমন কেউ আছেন যিনি অন্ধ নন। প্লিজ ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে লিখুন। অন্যান্য ইস্যুগুলোর কথা বলুন।

    শুভেচ্ছা রইল।

    Reply
  20. zulfiker

    এমন লেখাগুলো আমাদের স্বপ্ন দেখায়্। আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই।

    Reply
  21. গাযী আনোয়ার

    আওয়ামীলীগ-বিএনপি দু’দলেরই বাবা হলো আমেরিকা। এ কারণে বলা যায়, বিএনপিও ভারত তোষণকারী দল। দাদা-বাবুদের খুশি করতেই এ দু’দল সমানভাবে ব্যস্ত। যদিও মুখে বিএনপি ভারতের বিরোধিতা করছে।
    এখন বাংলাদেশের কেবলা পরিবর্তন করা উচিত নিজ স্বার্থেই। চীনমুখী হওয়া উচিত এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত যেমন মালয়েশিয়া নিয়েছে।

    Reply
  22. Samdanye

    অসাধারণ। একদম অসাধারণ। ভাই, কিছু বলতেও তো ভয় হয় যদি গুম করে ফেলে….

    Reply
  23. অভিজিত

    স্যারের সঙ্গে একমত পোষণ করছি। সরকার কিংবা তাদের আমলারা যে এর পক্ষে সাফাই গাইবেন সেটা ধরে নেয়া যায় কিন্তু মিডিয়া কেন এইভাবে সমর্থন জানালো এবং কেন ভিন্নমত পোষণ করার সুযোগ সৃষ্টি করা গেল না সেই বিষয়ে লেখা আশা করছি।

    Reply
  24. রনি

    এরকম আরেকটি লেখার অপেক্ষায় আছি যার শিরোনাম হবে-”সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বাংলাদেশের কমিউনিস্টদের মেরুদন্ড সমস্যা ”

    Reply
  25. আবাবিল

    প্রভুতোষণ নীতিটা আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে, এটা আমদের কোনো অর্জিত গুণ নয়, একেবারে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত। প্রভুরা আমাদের ছাড়া থাকতে পারলেও আমরাই প্রভুদের ছাড়া থাকতে পারি না। আর এটাই আমাদের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।

    আমাদের দুইটা চাহিদা। একটা প্রভুভক্তি আর অন্যটা সম্পদ। দুনিয়ার আর কোনো চাহিদা আমাদের নাই। তাই প্রভুরা যখন আমাদের দিকে তাকায় তখন আমরা মুগ্ধ হয়ে যা। তারা যদি কিছু করতে চায়, আমরা তখন না বলি না। শুধু বলি যে, আমাদের পুজো করতে দেবে কিনা। আর আমাকে উপরি কোনো সম্পদ দিবে কি না। এই দুটো ঠিক থাকলে ব্যস আর কিছু চাই না। তাদের যেকোনো কর্মকান্ড মেনে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকে না। তা যতই দেশের স্বার্থবিরোধী হোক না কেন। কারণ প্রভুর তুষ্টিতেই আমাদের মহাকল্যাণ নিহিত। আমরা কখনও ভাবতে পারি না যে, আমাদের কল্যাণ প্রভুরা নয় আমাদেরকেই নিজ হাতে করতে হবে।

    Reply
  26. M golam newaz babul

    গত বিশ বছরে আমেরিকা পৃথিবীর জন্য কী করেছে? বরং নিজেদের স্বার্থে সব জায়গায় মানুষ মেরেছে। আমি তাই প্রফেসর আনু মুহাম্মদের সঙ্গে একমত।

    ওরা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিরোধিতা করেছে। আমাদের উচিত নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো। তাহলে এই বিশ্ব-সন্ত্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারব। তাদের পা-চাটা প্রতিষ্ঠান বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ যে আমাদের রক্ত চুষে নিচ্ছে এ ব্যাপারে কথা বলতে পারব্।

    হিলারি এ দেশে কেন এসেছিলেন? ড. ইউনূসের নীতিমালার পক্ষে সাফাই গাইতে। কারণ এই ইউনূস সাহেব আমেরিকার বড় দালাল। আমেরিকার মতো তিনিও কখনও আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেননি। এখনও তার প্রতিষ্ঠানে বিজয় দিবস, শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিবসগুরো পালন করা হয় না। একজন নোবেল বিজয়ী হিসেবে তিনি কি কখনও শহীদ মিনারে গিয়ে বাঙালির মহান সংগ্রামের ব্যাপারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন?

    এখন আমাদের উচিত মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজার অর্থনতির বিরুদ্দে কথা বলা।
    মুক্তিযুদ্ধে একবার আমরা দেখিয়েছি আমরা পারি। তাই জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করলে ঠিকই সফল হব আমরা।

    Reply
  27. আবুল মকসুদ

    সরকার মেরুদণ্ড সোজা রাখলে কেউ বাহবা দিতে আসে না, বরং রাজনৈতিক লাভ লসের হিসেব মেলায়।
    এই দেশের তেল গ্যাস নিয়া সবাই নিজের মতো করে ইতিহাস টানে। নিজের মতো কইরা লাভ লস দেখায়।
    মাঝখান দিয়ে আমরা সুদীর্ঘকাল অন্ধকারে থাকি।
    আমরা খালি রশি টানাটানি দেখি। এই দেখাতেও আনন্দ।

    Reply
  28. Hira

    আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার মতো ব্যাক্তিরা এখনও আছেন বলে বাংলাদেশক নিয়ে স্বপ্ন দেখি। যখন দেখি ই্উনুস ও আবেদ সাহেবের মতো ব্যক্তিরা আমেরিকা বা হিলারির পারিবাবিক বন্ধু হিসাবে বিবেচিত তখন ভয় হয় কী আছে বাংলাদেশেন ভাগ্যে। আপনি লিখে যান। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।

    Reply
  29. Mohammed ismail

    জনাব আনু মুহাম্মদ, ‍যুক্তরাষ্ট্রের একচোখা সমালোচনা করেছেন আপনি। সারা বিশ্বে সব দেশই নিজেদের স্বার্থে নানা ধরনের ডিল করে। আমরাও তো এর ব্যতিক্রম নই। তাহলে কেন ‍যুক্তরাষ্ট্রকে দোষ দেয়া? মুদ্রার যেমন দুটো পিঠ আছে, তেমন সব দেশের নীতিগুলোরও। আমরা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ডিউটি ফ্রি পণ্য নিয়ে যাই, ওরা সে জন্য আসে না। আবার আমাদের গার্মেন্টসে তিন মিলিয়ন শ্রমিক কাজ করেন যাদের বেশিরভাগ নারী। ভবিষ্যতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গার্মেন্টস সামগ্রী কেনা বন্ধ করে দিলে তখন কী বলবেন আনু সাহেবরা !!!

    অন্য দেশে অস্ত্র বিক্রির ব্যাপারে আমাদের দেশে কি কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে? আমরা তো বিশ্বমানের অস্ত্র বানাতেই পারি না। বিশ্বের যেকোনো দেশে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর কেউ না এলেও যুক্তরাষ্ট্র পাশে দাঁড়ায়। আফ্রিকার ভুখা মানুষগুলোর কাছে কত খাবার পাঠাচ্ছে তারা সে সব দেখেন না? অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। আমরা তো এমন একটা দেশে আছি যেটাকে কেবল দোজখের সঙ্গেই তুলনা করা যায়। লোকজন গুম হয়ে যাচ্ছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া বিরোধী নেতাদের জেলে পুরে দেয়া হয়।

    ভবিষ্যতে আশা করি আপনি ঠিকঠাকমতো লিখবেন।

    Reply
    • রিফাত

      দেশে দেখি একমাত্র রামছাগলের সংকট নাই, যদিও সবকিছুর সংকট আছে!

      Reply
      • mehedi

        মত প্রকাশে বাধা দেয়া ঠিক নয়। অবশ্যই সবার মত এক হবে না। তাছাড়া একেবারে অর্থহীন কথাও তিনি বলেন নাই। আমার মনে হয় আপনি যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, আপনাকেও হয়তো কেউ তেমন কিছু মনে করছে।

      • nasrin siraj annie

        ব্লাইন্ডনেসকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলা আরেক ব্লাইন্ডনেস। মিডিয়া, একাডেমিয়া সবই যুদ্ধকে গ্লোরিফাই করছে আমাদের চোখে। আর মানুষের জীবনকে করছে তুচ্ছ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়েই এই প্রবণতা বেড়েছে যার মধ্য দিয়ে ইউএসএ বসেছে সকল যমদূতের শীর্ষে। জীবনের দিকে তাকান ভাই। মানুষের দিকে। বন্দুক আর বোমার দিকে না।

      • mehedi

        আমেরিকার পক্ষে যিনি বলেছেন তিনি একটি দিক থেকে ঠিক আছেন। সেটা হলো তার যেটা বিশ্বাস সেটা অকপটে প্রকাশ করেছেন। কিন্তু অনেকেই আছেন আমেরিকার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছেন, কিন্তু আমেরিকার একটি ভিসার বিনিময়ে তারা তাদের নিজেদেরই চৌদ্দগুষ্ঠি ত্যাগ করতে রাজি হয়ে যাবেন। দেশপ্রেম হারিয়ে যাবে ভিসার তলে চাপা পড়ে। আপনি হয়তো বলবেন, আরে আপনি নিজেই হয়তো সেই দলের। না ভাই, আমি সেই দলের না। আমি সেই দলের, যারা এদেশে পড়ে আছি আর নিষ্পেষিত হচ্ছি এদেশীয় আমেরিকার তাবেদার রং-বেরংয়ের হায়নাদের হাতে প্রতিক্ষণ। আমেরিকা কী জিনিস তা আমরা ভালো করেই টের পেয়েছি যখন সুন্দর সাজানো-গোছানো ইরাকের উপর তারা অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে হামলে পড়ে লাখো শিশু-কিশোর-আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল। এটা এজন্যই উল্লেখ্য যে, এটা আমাদের সময়ের ঘটনা। যিনি আমেরিকার পক্ষে দু’টো কথা বলেছেন তিনি তো আমেরিকার বোমার কথা বলেননি। তিনি যে গার্মেন্টসের কথা বলেছেন সেটাও তো মানুষের দিকে তাকানোরই কথা। আসল কথা হলো আমরা দেশের স্বার্থে আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করবো কিন্তু তার অপকর্মের সাথী হবো না। বলতে পারেন, এটা কি সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব, এজন্যই মেরুদণ্ডওয়ালা মানুষের প্রশ্ন আসে।

      • dfgdsfg

        আপনার সঙ্গে শতভাগ একমত। দেশটা স্টুপিডে ঠাসা।

    • mithila

      আপনি যেই- হোন না কেন, আপনি দেখছি পুরা আমেরিকার সাইডে কথা বলছেন। তাহলে আমেরিকায় গিযে থাকেন না কেন? আপনার জন্য সেটা ভালো। কারণ সেটা তো স্বর্গ ( আপনার মতে!!!), আর বাংলাদেশ হলো একটা দোজখখানা!!!

      দেশে থাকলে নিজের দেশকে নিয়ে অত নেতিবাচক কথাবার্তা বলবেন না। তার চে’ বরং দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।

      Reply
      • dfgdsfg

        মিথিলা, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যরা যদি আমাদের সাহায্য না করে তবে দেশটা টিকে থাকবে কি? ১৯৭৪ সালেরে বাকশাল দুর্ভিক্ষের কথা ভুলে যাবেন না। চার লাখ লোক মারা গিয়েছিল।

    • Abdullah All Shakil

      মোহাম্মদ ইসমাইল, আমার ধারণা আর্ন্তজাতিক রাজনীতি সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা না। চোখে পশ্চিমাদের বানানো গ্লাস পরে রেখেছেন। আমাদের গার্মেন্টসের কাপড় কি শুধু ইউরোপে যায়? আর এটা তো আমাদের ব্যর্থতা যে নতুন নতুন বাজার আমরা খুঁজে বের করতে পারছি না।

      আর নিজের দেশকে দোজখখানা বলবেন না। আপনার মতো লোকেরা তো দোজখটাকে স্বর্গ বানাতে কাজ করছেন না। আমার তাই ধারণা, আপনি আনু মুহাম্মদ স্যারের সম্পর্কে জানেন না। এ লোকটা একমাত্র প্রতিবাদ করে যাচ্ছেন আর আপনারা শুধু বলে যাচ্ছেন।

      Reply
    • মাহমুদ আল রাফাত

      “আমরা তো বিশ্বমানের অস্ত্র বানাতেই পারি না। বিশ্বের যেকোনো দেশে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর কেউ না এলেও যুক্তরাষ্ট্র পাশে দাঁড়ায়। আফ্রিকার ভুখা মানুষগুলোর কাছে কত খাবার পাঠাচ্ছে তারা সে সব দেখেন না?”

      ভাই এই কথা গুলা বুঝে লিখছিলেন তো?? আপনার কি মনে হয় আফ্রিকা এমনই আকামের জায়গা সেখানে মাত্র একজন বাচ্চাকে বাঁচানোর মতোও সম্পদ নাই যে আমেরিকা বছরের পর বছর খাবার দিয়ে যাওয়া লাগছে?? আগে এই বিষয়ে ভালো করে জেনে আসুন।

      Reply
    • Bos

      প্রমাণ ছাড়া সবচেয়ে বেশি গুম হচ্ছে যে দেশে সে দেশের নাম আমেরিকা…তারা শুধু নিজেদের নাগরিক নয়, অন্য দেশের নাগরিকদেরকেও গুম করে ফেলছে | আর বিপদে সাহায্যের কথা বলছেন? হাইতির দুর্যোগে ১০,০০০ সৈন্য দেয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো অবদান নেই | যে সব দেশে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে তার পরিণতিতে যে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় হচ্ছে এবং বিনিময়ে যে দাম উসুল করা হচ্ছে সেটা জানতে হলে আপনাকে যথেষ্ট পড়াশুনা করতে হবে |

      Reply
      • বাঙ্গালী

        হাইতির কথা টেনে ভালোই করেছেন, কারন হাইতি সকল কুয়োর ব্যাঙদের জন্য একটা যুতসই উদাহরন। আমেরিকান খাদ্যশস্য কোম্পানির লবি আর আমেরিকান প্রশাসনের চাপে হাইতি নিজের কৃষিক্ষেত্র নিজ হাতে ধ্বংস করেছে। আবাদযোগ্য জমি ফেলে রেখে তারা আমেরিকা থেকে চাল-গম আমদানি করে খেত। বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের দাম বাড়াতে হাইতির লোকজন দুর্যোগের আগে থেকেই দুর্ভিক্ষে ভুগছিলো, যা দুর্যোগের পরে আরো প্রকট হয়। এখনো লোকজন সেখানে মাটির সঙ্গে আটা-ময়দা মিশিয়ে খায়। আমেরিকা সেখানে যা করছে তাকে বলা হয় “গরু মেরে জুতাদান”।
        নিজের স্বার্থ নিজে রক্ষা করতে না পারলে আমাদেরকেও হাইতির পরিস্থিতি বরণ করতে হবে।

    • রফিকুল ইসলাম তনি

      //আফ্রিকার ভুখা মানুষগুলোর কাছে কত খাবার পাঠাচ্ছে তারা সে সব দেখেন না? অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।//

      মিস্টার Mohammed ismail, আপনি কি এই পৃথিবীর বাসিন্দা নাকি ভিনগ্রহ থেকে বেড়াতে আসছেন!?
      আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলো চলছে আফ্রিকার সব প্রাকৃতিক সম্পদ নিজেদের দখলে নেওয়ার মাধ্যমে। এত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকার পরও আফ্রিকার দেশগুলো কেন এত গরিব সেটা কখনো জানার চেষ্টা করেছেন?

      Reply
    • আবদুস ছাত্তার

      মি, ইসমাইল আপনাকে বলছি…আমি জানি না আপনি এখন কোথায় অবস্থান করতেছেন। বাংলাদেশে নাকি আমেরিকায়। আপনার আমেরিকা-প্রীতি দেখে মনে হচ্ছে না আপনি শিক্ষিত। ভাই আনু স্যার যতগুলা যুক্তি এবং অনেক স্ট্রং রেফারেন্স দিয়ে কথাগুলা বলেছেন সেইগুলা বোঝার ক্ষমতা আমার মনে হয় না আপনার আছে। এই রকম জায়গায় কিছু বলা অথবা কমেন্ট দেয়ার জন্য কিছু পড়াশোনা করে আইসেন ভাই। আর কিছু বললাম না। ধন্যবাদ

      Reply
  30. shuvashis

    আর কতোদিন মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকবে? মানুষের কি মুক্তি নেই? পুঁজিবাদের কি আর শেষ নেই? পৃথিবীজুড়ে গণতন্ত্রের নামে যা চলছে, ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে যেভাবে বাড়ছে, সবকিছুর জন্য দায়ী এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর তার দোসরেরা। আর আমাদের স্বদেশী মেরুদন্ডহীন লোকগুলোকে চিহ্ণিত করা দরকার। যুদ্ধ করে যুদ্ধের ফল যদি এই মেরুদন্ডহীনদের জন্য ধরে রাখা না যায় তাহলে আর কোনো আন্দোলন বা যুদ্ধ করে লাভ নেই। এই যে লাভ নেই বললাম, কেনো বললাম? মানুষ যাতে একথা বলে তার জন্যই কি একটি যুদ্ধ ঘটিয়ে মানুষকে মেরুদন্ডহীন করে ফেলা হয়েছে? এখন যত মানবসৃষ্ট দুর্যোগই আসুক, আমরা কি বলবো ” ধুর ছাড়…আবার যুদ্ধ!!! একবার করে শিক্ষা হয়নি, আবার?

    Reply
  31. Asad

    ধন্যবাদ স্যার, চমৎকার লেখাটির জন্য। চমৎকার বিশেষণ ব্যাবহার করেছেন- ‘মেরুদণ্ডহীন’। তবে, আমরা যারা ‘সাধারণ মানুষ’ তাদের মেরুদণ্ডগুলোতেও ভয়াবহ পচন! আর নয়ত এইসব মেরুদণ্ডহীন, বিদেশিদের পা-চাটাগুলো কীভাবে আমাদের দণ্ডমুণ্ডের কর্তাব্যাক্তি হয়!

    Reply
  32. জনি

    মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ধান্ধাবাজ সাহেব/বিবিদের জুতা চেটে যারা অভ্যস্ত তারা তো সেই কবে তাদের বাবাদের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে……….. ধিক্কার রইল ওই সব ধান্দাবাজ রাজনীতিবিদদের প্রতি যারা সবসময় নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত। তারা যখন মষ্ণে উঠে প্রগতিশীল বুলি কপচায় তখন কেমন লাগে …..কী বললে যে ওদের সত্যিকারের পরিচয়টা তুলে ধরা যাবে জানি না…

    Reply
  33. asheque

    অসাধারণ! আমাদের দেশের পত্রিকাওয়ালারাও একই সুরে গান গেয়েছে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—