ধর্মবাদ-জঙ্গিবাদ আজ বড় বেশি বেপরোয়া৷ অসহিষ্ণু। তারা কোনও এথিক্স মানে না৷ তাদের কাছে বিরুদ্ধবাদ বা প্রগতিশীলতা মানেই নাস্তিক্য। ধর্মের শত্রু। আর ধর্মের শত্রুদের কোতল করা, খুন করা জায়েজ। `মনগড়া’ ধর্মের শত্রুদের খতম করার জন্য, ক্ষমতা কায়েম করার জন্য তারা অন্ধ। চরম প্রতিক্রিয়াশীল। তারা ধর্মকে হাতিয়ার করে মাথা তুলে দাঁড়াতে চায় বলেই খুন হয়ে যান মুক্তমনা, অকুণ্ঠচিত্ত মানুষরা৷ বার বার আক্রান্ত হয় বিঘ্নিত হয় পরমতসহিষ্ণুতা৷ খাজা মইনুদ্দিন, শ্রীচৈতন্য, লালন সাঁইদের সহজ-সমাজের স্বপ্নের আলো গিলে নিতে চাইছে এই কৃষ্ণগহ্বর!

চারিদিকে মৃত্যুর উৎসব৷ মৃত্যু না কি হত্যা? না কি গণহত্যার নিরিখে সংস্কৃতি ও তার ইতিহাস উজাড় করার প্রস্তুতি? প্রজ্ঞা ও মনীষার আলো নেভানোর দিন আজ৷ পেছনের দিকে হাঁটি-হাঁটি পা-পা হেঁটে যাওয়ার এ শুধুই পেছনোর দিন!

ধর্ম, যা যাপনের মাধ্যম-রূপে সভ্যতার সূচনা করেছিল তা ক্রমে প্রতিষ্ঠানিক প্রকরণে ‘আফিম’৷ অতঃপর অন্ধকারের নেশা-মুক্তির সংগ্রাম থেকে সহাবস্থান ও সাম্যের দিকে অগ্রসর হতে-হতে একদিন ফের চাকা ঘুরে গেল পিছনের দিকে৷ ব্যাক-গিয়ারের পথে ক্রমে ধর্ম, ফের ‘আফিম’৷ আর সেই অন্ধত্বের নেশা আমাদের বোধের সবকটা খোলা জানলা বন্ধ করে অনন্ত কালো এক পরিসর তৈরি করেছে৷ সেই পরিসর ক্রমাগত প্রসারিত হতে-হতে আজ এক অনন্ত গহ্বর৷ হিংসা আর অন্ধত্বের সেই গহ্বর এই উপমহাদেশ জুড়ে৷ আর সেই গর্ত আজ গিলে খাচ্ছে বোধ, প্রজ্ঞা, মনীষার প্রতিটি আলোককণাকে৷

একদিকে ব্লগার-প্রকাশক খুন, অন্যদিকে যুক্তিবাদী লেখক, সমাজকর্মী, ভিনদেশী, অন্য ধর্মের মানুষকে হত্যা৷ আক্রমণ। হুমকি। কণ্ঠরোধের ফ্যাসিবাদী যে চেষ্টা আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখেছি, সেই সকল উদাহরণকেও লজ্জায় ফেলে দেওয়ার ঘটনাক্রমের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা৷ কেন না ধর্ম-সংস্কার-ট্যাবু তাড়িত রাষ্ট্রের আইডেন্টিটি সামনে রেখে কণ্ঠরোধ-প্রকল্পে হত্যা ও গণহত্যার সঙ্গে চলছে গুপ্তহত্যাও৷ সময়ে সময়ে চলছে ধর্ষণ। এই এজেন্সিগুলোই সংখ্যালঘু ও সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের ওপর নামিয়ে আনছে সংগঠিত হত্যালীলা৷ কখনও বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। কখনও নারীদের ধর্ষণ করছে। কখনও পিটিয়ে মেরে ফেলছে। নুইয়ে পড়ছে প্রগতির দিকে মুখ তুলে চাওয়া মানুষরা৷

দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতভাগ, ব্রিটিশ ছলচাতুরির ট্রাম-কার্ডে আর কংগ্রেস, মুসলিম লিগ ও হিন্দু-মহাসভার দড়ি-টানাটানিতে ‘ক্যালকাটা গ্রেট কিলিং’, ‘নোয়াখালি দাঙ্গা’ অতিক্রান্ত হয়ে প্রগতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার  পথ ধরে সূচিত হয়েছিল স্বপ্নের ভাষা আন্দোলন৷ এরপর ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ ডাক দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ৷ আর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আবারও বাঙালি জাতিসত্তা ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক দেশ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে, দ্বিজাতিত্বের কালো স্মৃতি মুছে ফেলে তৈরি করেছিল বাংলাদেশ৷

কিন্তু কায়েমি স্বার্থের খেলা থেমে থাকে না৷ শহীদ হতে হয় বঙ্গবন্ধুকেও৷ তিনি চেষ্টা করেছিলেন উদ্বাস্তুর নিপীড়িত ক্রন্দন থামিয়ে এক সহাবস্থানের সহজ সমাজ গড়তে৷ কিন্তু তাঁকে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল৷

এর পর থেকেই আমাদের প্রিয় স্বদেশের পেছনযাত্রা শুরু হয়। ক্ষমতার ছাতার তলায় ধর্মের মুখোশ এঁটে বিকশিত হয় চাপাতি আর জামাতিরা৷ সমাজে তাদের বাড়বাড়ন্ত অবস্থান দেখে ক্রমেই আপোষকামী হয়ে ওঠে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, যুদ্ধাপরাধের বিচারকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও। তাদের প্রশ্রয়, উদাসীনতা, রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি চরিতার্থ করার হীন মানসিকতার আড়ালে পশ্চৎপদ ধর্মবাদীরা দল ও দলের আদর্শকে গ্রাস করতে থাকে।

উন্নয়নের স্লোগানের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় সামাজিক-রাজনৈতিক কূপমন্ডুকতা দূর করার মহান কর্তব্যকর্মটি। শুধু ধর্মবাদের সঙ্গেই নয়, বিশ্ব-লগ্নিপুঁজির সঙ্গেও আওয়ামী লীগকে আপোষ করতে দেখা যায়। হয়তো লগ্নিপুঁজির সঙ্গে দোস্তির জের দলটির এই আদর্শিক অকালমৃত্যু৷ কেননা উন্নয়নের প্যারাডাইম আজ আর গণমুখী নয়, বরং তা বিত্তবানদের স্বার্থে৷ যাঁরা কনজিউমার হতে পারেন৷ ফিনান্স ক্যাপিটাল নিয়ন্ত্রিত ওপেন মার্কেটের কনজিউমার হতে পারেন যাঁরা, তাঁদের স্বার্থেই ডেভেলপমেন্টের মেনিফেস্টো৷

মনে রাখা দরকার, পুঁজিবাদের রাজনীতির সঙ্গে লগ্নিপুঁজির রাজনীতির একটা ফারাক রয়েছে৷ পুঁজিবাদের জন্ম হয়েছিল সামন্তবাদের বিরুদ্ধে দ্রোহ ঘোষণা করে৷ সামন্তবাদকে উচ্ছেদ করে৷ পুঁজিবাদ উদ্বৃত্ত শ্রম থেকে মুনাফার পাহাড় গড়লেও তার তবু কিছু বুর্জোয়া এথিক্স ছিল৷ মৌলবাদের বিরুদ্ধে পুঁজিবাদ অবস্থা নিত মাঝেমধ্যে৷ কিন্তু লগ্নিপুঁজি বেপরোয়া৷ লুম্পেন৷ সে কোনও এথিক্স মানে না৷ নিজের বিকাশের জন্য, ক্ষমতা কায়েম করার জন্য সে চরম প্রতিক্রিয়াশীলদের সঙ্গে জোট করে৷ আর ফ্যাসিবাদের চরম অবস্থানে নিজেকে মূর্ত করে তোলে সে৷ লিবারাল বুর্জোয়াকে সে ঘাড় ধরে নিয়ে আসে চরম ডান দিকের রাস্তায়৷ সেভাবেই বঙ্গবন্ধুর তৈরি মধ্য-বাম সমাজ-গণতন্ত্রী আওয়ামী লীগ আজ লগ্ণিপুঁজির এজেন্ডায় ধীরে-ধীরে ডানদিকে যাচ্ছে৷ যে চরম ডানে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত, আনসারুল্লা বাংলা, আইএসএস-এর মতো ইসলামপন্থীরা৷ চাপাতিরা৷ তাই ব্লগার রাজীব হায়দারকে খুন করা থেকে শুরু হওয়া চাপাতিরাজ সমানে অগ্রসর হচ্ছে৷ আর লাশ পড়ছে মুক্তমনা ওয়াশিকুর রহমান বাবুর, অভিজিৎ রায়ের৷ লাশ হচ্ছেন অনন্ত বিজয় দাস, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় আর জাগৃতি প্রকাশনার দীপনরা৷ সর্বশেষ আঘাত এসেছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক-অধ্যাপক জাফর ইকবালের উপর। যদিও তিনি সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। যেমন বেঁচে গেছেন একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনা। এই তালিকা হয়তো আরও বাড়বে৷ এই তালিকা যত বাড়বে লগ্নিপুঁজির ফ্যাসিবাদ আরও-আরও মূর্ত হবে বাংলাদেশ জুড়ে!

বাংলাদেশের এই চিত্র অত্যন্ত হতাশার হলেও বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। অতিদক্ষিণপন্থী বিশ্ব-লগ্নিপুঁজি গোটা উপমহাদেশকে কব্জা করতে আজ ধর্মীয় আফিমকে হাতিয়ার করেছে৷ এর আগে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক গুরু মাহমুদুর রহমান, শফিক রেহমান, ফরহাদ মজহার গং ও ‘আমার দেশ’ পত্রিকা একটা সুদূর প্রসারি ষড়যন্ত্র হিসেবে আস্তিক-নাস্তিক এ দু’ভাগে দেশকে ভাগ করে সমগ্র জাতিকে বিরাট এক আত্ম কলহে লিপ্ত করতে চেয়েছিল। তারা আল্লামা আহাম্মদ শফিকে হেফাজতের ব্যানারে মাঠেও নামিয়েছিল। বিবাদের সূত্রপাত করেছিল সফলভাবে। পরিণতিতে দেশে ছুরি-চাপাতির ধারাবাহিক চর্চা চলছে।

মীর জাফরের কু-কর্মের ফলে বাঙালি জাতি প্রায় দু’শত বছর পরাধীনতার নাগপাশে আবদ্ধ ছিল। আর মাহমুদুর রহমান গংদের অসৎ কর্মের ফল জাতিকে এখন ভোগ করতে হচ্ছে। আরও কতদিন ভোগ করতে হয় কে জানে!

নানা কৌশলে জাতিকে সর্বস্তরে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির দেশকে বিভক্ত করেছিল ভারতকে নিয়ে। তারা ক্ষমতার থাকলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ভারতের কাছে বিকিয়ে দেবে। এটা রাজনৈতিক ইস্যু। আর মাহমুদুর রহমান গংরা জাতিকে বিভক্ত করেছেন আস্তিক-নাস্তিক ইস্যু নিয়ে। যা একটা চরম স্পর্শকাতর ইস্যু। এটা শিয়া-সুন্নির ইস্যুর চেয়ে কোনো অংশে কম স্পর্শকাতর নয়!

গত শতকে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৭ লাখ মানুষ হত্যা করেছিল নাহাদাতুল ওলামা। তারা প্রত্যেকে কলেমা পড়ে মুসলমান, এ কথা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নাহাদাতুল ওলামা তাদের কলেমা পাঠকে বিশ্বাস করেনি। সে রকম একটা পরিস্থতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বদেশে। মৌলবাদী ধর্মোন্মাদদের কাছে কিছুতেই প্রমাণ করা যাচ্ছে না, যে দেশের প্রগতিশীলরা নাস্তিক নয়!

এই ঘোর মৌলবাদী যুগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও নীরব-নিস্তব্ধ। অধ্যাপক জাফর ইকবাল আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতো শান্ত! কোথায় ছাত্র সমাজ? কোথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা? কোথায় প্রতিবাদ? আস্তিক-নাস্তিক বিভাজনে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরাও বিভক্ত হয়ে পড়ল? তারাও কি মনে করছেন, জাফর ইকবালকে আক্রমণ করা ঠিক হয়েছে? তাঁর মরে যাওয়াই উচিত ছিল? ধর্মবাদী-চাপাতিওয়ালাদের মতের সঙ্গে তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের মতের কোনো ফারাক নেই?

স্বার্থ ছাড়া কি কোনও কাজ করা যাবে না? অথচ আমাদের গর্বের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক জিয়ার জন্ম-বার্ষিকীতে ১৭ জন শিক্ষক আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। একজন সহকর্মীর মর্মান্তিক হামলার শিকার হওয়া কি তাঁদের কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়? এর চেয়ে তারেক বন্দনা কি অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

না, চারদিকে কেবলই শেয়াল-শকুনের আনাগোনা, লেজনাড়াদের ভিড়! এই ভিড় ঠেলে আমরা উন্নয়নের কোন বন্দরে নাও ভেড়াব?

আঁধার গহ্বর গিলে নিতে চাইছে আমাদের প্রজ্ঞা, বোধ, বুদ্ধি, চেতনার আর মনীষার আলো৷ খাজা মইনুদ্দিন, শ্রীচৈতন্য, লালন সাঁইদের সহজ-সমাজের স্বপ্নের আলো গিলে নিতে চাইছে এই কৃষ্ণগহ্বর! গিলে নিতে চাইছে আমাদের যৌথতার স্মৃতি! প্রতিবাদ আর লড়াই-সংগ্রামের স্মৃতি!

মস্ত এক শুয়োরের খোঁয়াড়ে আমরা যেন স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছি! অথবা আটকা পড়েছি। এই খোঁয়াড় থেকে বের হওয়ার আগ্রহও তেমন কারও মধ্যে দেখা যাচ্ছে না! এ এক আজব জাতি, আজব কুদরতি!

চিররঞ্জন সরকারকলামিস্ট।

Responses -- “তবে কি জাফর ইকবালের মরে যাওয়াই উচিত ছিল?”

  1. ই এ বারী

    ইসলাম কখনো সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে নি- করবেও না। আর জামারিতা ইসলামের ঠিকাদার নয়! অধ্কেযাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যদি কেউ কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার নিয়তে কিছু লিখে তাহলে আইন আছে। সুতরাং নাস্তিক, মুরতাদ, ধর্মবিরোধীরা যা-ই লেখেন বা বলেন না কেনো, তাতে ইসলামের কিছুই আসে যায় না। যাঁর অন্তরে ঈমানের নূর প্রবেশ করে নিয়েছে তাকে আল্লাহ তা’আলাই সকল প্রতিকূল অবস্থায়ও সুরক্ষা করে যাবেন। তবে হা, লেখার জবাব লেখা দিয়েই দিতে হবে। এর অতিরিক্ত কিছু করা আদৌ যুক্তিযুক্ত নয়। ধর্মের দৃষ্টি থেকেও সেটা হবে বাড়াবাড়ি ও অপরাধ।

    Reply
  2. masud rahaman

    যথার্থই লিখেছেন,,,
    দুর্বল অন্ধ মস্তিষ্কের ধর্মভীরু মানুষের রাজনীতি করার একমাত্র সাহজিক উপায়,
    ধর্মের অপব্যাখ্যা এবং ব্যবসা।সমস্ত পৃথিবীর মানুষকে এক কাতারে আনার অন্ধ অভিপ্রায়।
    হিংসা প্রতিশোধ ঘৃণা দিয়ে পৃথিবীর জয় করার হীন চেষ্টা।
    মানবতা ভালোবাসা উপেক্ষিত।
    হয়রত শাহজালাল (রঃ), আব্দুল কাদের জিলানি (রঃ), গোলাপ শাহ, লালন শাহ, শেখ ফরিদ, শাহ পরাণ, আরও কত ধর্ম মনীষী ছিলেন। এরা কি জঙ্গি ছিলেন।
    এরা কি ধর্ম প্রচার করেন নি।মানুষকে মানবতার পক্ষে ডাক দেন নি।তারা কি চাপাতি হাতে তুলে নিয়েছিলেন।
    প্রিয় ধর্ম অভিমানীরা, ধর্ম শিক্ষার সাথে সাথে উচ্চ আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করুন।
    অন্ধ চোখ খুলে যাবে।
    পৃথিবী অনেক সুন্দর, মানুষ অনেক সুন্দর প্রাণী।
    আস্তিক নাস্তিক মতবাদ নয়।
    সবাইকে আলোর পথ দেখাও।
    …………মাসুদ রহমান

    Reply
  3. সরকার জাবেদ ইকবাল

    এতসব কঠিন কথা বুঝি না। সোজাসুজি এটাই বুঝি যে, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুতির ফলেই ধর্মোন্মাদরা আশকারা পাচ্ছে। আমরা বোধ হয় বঙ্গবন্ধুর সেই অমিয় বাণী – “ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়”-এর কথা ভুলে গেছি। অর্থাৎ, সকল ধর্মের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আমরা সেই পথে হাঁটছি কি?

    Reply
    • nishi rahman

      “ধর্মহীনতাও” ধর্মনিরেপেক্ষতার অংশ।কারো ধর্ম পালন করার পূর্ণ অধিকার যেমন আছে, ধর্ম পালন না করারও আছে।আশা করি পার্থ‍ক‍্যটা এখানে শব্দের ব‍্যা‍বহারে।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—