সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের একটা ঘটনার কথা পত্রিকা মারফত জেনেছি, যা সারাদেশে তীর্যক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। লক্ষ্মীপুরের ঘটনাটির বিতর্কে পক্ষ ও বিপক্ষের বক্তব্যও সুস্পষ্ট। মিডিয়াগুলোর রিপোর্টেও পরোক্ষভাবে তার ছাপ একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়। লক্ষ্মীপুরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলামের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফকে আটকের পর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। েএক সকালে শহরের কাকলি শিশু অঙ্গন বিদ্যালয়ে প্রবেশ কেন্দ্র করে দুজনের বাকবিতণ্ডার পর হাতাহাতির ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সালাহ উদ্দিন শরীফকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে কারাগারে পাঠায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। সাবেক সার্জন একদিন পর জামিনে মুক্তি পান।

আলোচনার সুবিধার্থে লক্ষ্মীপুরের ঘটনার ব্যাপারে চারটি প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট বা বক্তব্য হুবহু তুলে ধরছি। আমার উদ্দেশ্য, মিডিয়ায় উপস্থাপিত বক্তব্যের কিছুটা বিশ্লেষণ এবং আমার নিজস্ব সোর্সের ডকুমেন্টেড বক্তব্যের সঙ্গে তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে, সম্পূর্ণ সত্য না হলেও অন্তত সত্যের খুব কাছাকাছি একটা জায়গায় পৌঁছুনো। যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন, তাই অনেক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করা ঠিক হবে না। তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ আলোচনার চেষ্টা করব।

“৪ ডিসেম্বর সকাল নয়টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবন এলাকার প্রাথমিক স্কুলে প্রবেশ মুখে মি. মুর্শিদুলের সাথে ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বাকবিতণ্ডা হাতাহাতির পর্যায় চলে গিয়েছিল। মি. শরীফ সে সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে চড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।”

[বিবিসি বাংলা]

“সকালে শহরের কাকলি স্কুলের প্রবেশ পথে আগে পরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বাকবিতন্ডা হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতহাতির ঘটনা ঘটে।”

[বাংলাদেশ প্রতিদিন]

“একই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার সময় তিনি স্কুলের মাঠে ছিলেন। তিনি শুনেছেন সাবেক সিভিল সার্জন এডিসিকে থাপ্পড় দিয়েছেন। আর তিনি দেখেছেন, এডিসি সাবেক সিভিল সার্জনকে থাপ্পড় দিচ্ছেন।”

[বাংলা ট্রিবিউন]

“প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, সোমবার সকাল নয়টার দিকে শহরের কাকলি শিশু অঙ্গন বিদ্যালয় এলাকায় লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলামের সঙ্গে তর্ক হয় সালাহ উদ্দিন শরীফের। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।”

[প্রথম আলো]

উপরের চারটি সংবাদমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তার ব্যাপারে বোধকরি নতুন কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, বিবিসি বাংলার রিপোর্টে যেখানে সরাসরি উল্লেখ করছে যে, মি. শরীফ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে চড় মেরেছিলেন, অন্যান্য পত্রিকাগুলো পরস্পরের মাঝে ‘হাতাহাতি’ বলে একই ঘটনার বর্ণনা করেছে। আরও অবাক হতে হয় বাংলা ট্রিবিউনের একটা রিপোর্ট পড়ে। ট্রিবিউন ঘটনার প্রথম রিপোর্টে উল্লেখ করেছিল ‘হাতাহাতি’র ঘটনার। তারপর ঘটনাটির একটি তদন্তমূলক রিপোর্ট ‘সেদিন লক্ষ্মীপুরে এডিসি ও চিকিৎসকের মধ্যে যা ঘটেছিল’ শিরোনামে প্রকাশ করেছে। যেখানে একজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবকের সাক্ষাৎকার নেয় তারা। অভিভাবক আবদুল মান্নান ট্রিবিউন রিপোর্টারকে বলেন, ঘটনার সময় তিনি স্কুলের মাঠে ছিলেন এবং তিনি শুনেছেন যে, সাবেক সিভিল সার্জন এডিসিকে থাপ্পড় দিয়েছেন। সেই একই অভিভাবক মান্নান কী করে দাবি করেন যে, এডিসি সাহেব সিভিল সার্জনকে থাপ্পড় দিচ্ছেন। আবার এ রিপোর্টে প্রকাশ করেছে বাংলা ট্রিবিউন!

প্রথমত প্রায় প্রত্যেকটা পত্রিকাই ‘থাপ্পড়’ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ‘হাতাহাতি’ বলে মূল সত্য আড়াল করে নিরপেক্ষ অবস্থান নিলেও বাংলা ট্রিবিউনের ক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। ট্রিবিউনের বিজ্ঞ রিপোর্টার জনৈক মান্নান সাহেবের জবানিতে যা বলার চেষ্টা করছেন তা হল, এডিসি সিভিল সার্জনকে থাপ্পড় দিয়েছেন এটা সাক্ষীর জবানিতে প্রমাণিত। তবে উল্টোটা শতভাগ প্রমাণিত নয়। কারণ অভিভাবক মান্নান সেটা দেখেননি, শুধু শুনেছেন!

 

Pexel photo - 22000

 

ধরা যাক যে, স্কুলগেটে এডিসি ও সিভিল সার্জন হঠাৎ হাতাহাতিতে লিপ্ত হলেন। মিডিয়ার খবর পড়ে ধারণা করা যায় যে, হাতাহাতির স্থায়িত্ব ছিল বড়জোড় ৩০ থেকে ৫০ সেকেন্ড। অভিভাবক মান্নান তখন স্কুলের মাঠে অবস্থান করছিলেন। তিনি কিছুই দেখেননি বা তাৎক্ষণিক বিষয়টির খুব কাছাকাছি যাওয়াও তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। প্রথমত তিনি বলছেন যে, তিনি শুনেছেন সিভিল সার্জন এডিসিকে থাপ্পড় দিয়েছেন। অথচ একই মুহূর্তে তিনি দেখলেন যে, এডিসি সিভিল সার্জনকে থাপ্পড় দিচ্ছেন!

এখন বাংলা ট্রিবিউনের রিপোর্ট আমলে নিয়ে আদালত যদি অভিভাবক মান্নানকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে তলব করেন, তাহলে তাঁর দুই বক্তব্যের কোনটি আমলে নেওয়া আইনের চোখে যৌক্তিক হবে? মান্নান যেটা দেখেছেন সেটাই সত্য এবং যেটা শুনেছেন সেটা সত্য না-ও হতে পারে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারী অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হচ্ছেন অথবা তাঁকে অপরাধী হিসেবে আদালতে দাঁড় করাতে ‘গ্রাউন্ড ওয়ার্ক’ সম্পন্ন হয়েছে বললে কি অত্যুক্তি করা হবে?

আইনের ভাষায় একটা কথা আছে– প্রত্যক্ষ তথ্য-উপাত্তের অভাব হলে সার্বিক বিচার্য বিষয়গুলো বিবেচনা করে বিচারক একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন যাকে ইংরেজিতে বলে, The benefit of doubt– অর্থাৎ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত রিপোর্ট অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে একটা পক্ষাবলম্বন করায় এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলামকে হয়তো ভিকটিম হতে হবে। যার নেতিবাচক প্রভাব প্রজাতন্ত্রের উপর পড়তে বাধ্য।

উপরের চারটি পত্রিকার রিপোর্টে হাতাহাতি বা থাপ্পড় মারার অংশটুকু অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হলেও কেউ ঘটনার সূত্রপাতের উপর তদন্তমূলক রিপোর্ট তৈরির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। বিভিন্ন মিডিয়ার পাঠক মহলে সুউচ্চ গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাদের এ ঘটনার উপরে প্রকাশিত রিপোর্টগুলোর প্রতিটা শব্দই জনগণের মনে প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি করবে বলে আমার ধারণা। কারণ মিডিয়ায় ঘটনার এক পক্ষের বক্তব্য দৃষ্টিকটুভাবে উপস্থাপনের যে প্রবণতা লক্ষ্মীপুরের ঘটনায় দেখলাম, তাতে সাংবাদিকতার এথিকস বা নৈতিকতার সার্বিক মূল্যায়নে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে বলেই আমি মনে করি।

যেহেতু আমার দৃষ্টিতে ঘটনাটি খুব ইউনিক এবং খালি চোখে দেখা যাচ্ছিল যে, সংশ্লিষ্ট দুটো পক্ষ কমবেশি শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের ঘরে নেওয়ার চেষ্টায় মত্ত ছিল, সে কারণে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আমি নিজেই কথা বলি। যা ডকুমেন্টেড তদন্ত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ঘটনার খুব কাছ থেকে দেখা জনৈকের (প্রয়োজনে নাম প্রকাশ করা হবে) ভাষ্যমতে সেদিন যা ঘটেছিল, তা সরাসরি তাঁর নিজের ভাষায় তুলে ধরছি–

“ডাক্তার সাহেবের ছেলে গেট (পকেট গেট) দিয়া বাহির হচ্ছে দৌড়াইয়া। ডিসি সাহেব বলছে, আস্তে বাহির হও এত দৌড়াও কেন। ডা. সাহেব বিষয়টা নিয়া ডিসি সাহেবকে বলল, আপনার সমস্যা কী? কেউ কাউকে চিনত না। এক কথা দুই কথা হতে না হতে ডা. সাহেব ডিসি সাহেবের গালে থাপ্পড় মারছে। ডা.কে পাশের দোকানদার কাজল ভাই বলল, ভাই, উনি ডিসি, কার গায়ে হাত দিছেন? ডা. পাত্তাই দিল না, আরও বেশি করল। ডিসি সাহেব বলল, আমাকে চিনেন আমি কে? তারপর ডিসি সাহেবকে নিয়ে হলরুমে বসানো হল। বেশি খারাপ লাগল ডা.এর বড় ছেলে ডিসিকে বলে, ওই বেটা চেয়ারে বসছস কেন, লাত্থি মেরে ফেলে দেব। অনেক গালমন্দ করছে।”

এই হল একজন খুব কাছ থেকে দেখা প্রত্যক্ষ্যদর্শীর ভাষ্য। যিনি ঘটনার খুব নিকটে কাজল নামের এক দোকানদারের কথা উল্লেখ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের একজন উর্ধ্বতন নেতা এক প্রশ্নের জবাবে বলেন–

“আপনার এ প্রশ্ন সময়োপযুগী। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকেই আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন। আমি সরকারি দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করতাম বিধায় প্রশাসনের ক্যাডারের অফিসারদের সাথে চলেছি। বর্তমানেও চলছি। লক্ষ্মীপুরের ডিসি হোমায়ারা বেগম যোগদানের পর থেকে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। ওই দিন এডিসি সাহেব লাঞ্চিত হওয়ার পরেও তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলেননি। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেননি। যার কারণে প্রকৃত ঘটনা জানতে না পারায় পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এখনও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নিকট কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। যার কারণে মার খেয়েও এডিসি সাহেব ওএসডি হলেন, আর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েও ডাক্তার বাহবা পেল! জেলা প্রশাসকের দায়িত্বহীনতার কারণে সব দায় তাদের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এডিসি জেনারেল জেলা প্রশাসনের ভালো কর্মকর্তাদের একজন। শেষ পর্যন্ত তাকেই বলি হতে হল।”

উপরের একজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও স্থানীয় একজন সিনিয়ার সংবাদিকের জবানবন্দীতে যে কথা জানলাম এবং পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম সারির পত্রিকাগুলোতে যা পড়লাম, তাদের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ বোধকরি আমাকে নিজ থেকে আর করতে হবে না। আমরা বাংলাদেশে পরিবহন মালিক এবং পরিবহন শ্রমিক, দুই শ্রেণিরই হরতাল-অবরোধ দেখেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনগুলোর শক্তিমত্ততার কথাও আমরা জানি। কত অনৈতিকভাবে এবং সম্পূর্ণ গায়ের জোরে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা প্রজাতন্ত্রের সাধারণ নাগরিকদের জিম্মি করে অসাধুতার বিজয় ঘটায়। সেবাদানকারী হাসপাতালেও মূমূর্ষ রোগীদের জিম্মি করে চিকিৎসকদের হরতাল-অবরোধ করতেও দেখেছি অনৈতিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে।

লক্ষ্মীপুরের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন হলেও সেখানে আমরা দেখতে পেলাম স্থানীয়দের সার্বিক শক্তির মহড়া। মফস্বলের বেশিরভাগ সাংবাদিক এলাকার গডফাদারদের পকেটে-পোরা পেশাজীবী এক শ্রেণি। তাদের হয়তো সততার অভাব নেই। কিন্তু তাদের বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাগুলো যখন স্থানীয় মাসলম্যানদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর নির্ভর করে, তখন সুবিচার নিভৃতে কাঁদতে বাধ্য।

লক্ষ্মীপুর জেলার বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা যখন একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের পক্ষ নিয়ে ডিসি হোমায়ারাকে বাধ্য করেন তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে এবং ডিসি হোমায়ারা যখন আইনি সহায়তার (এডিসির বিরুদ্ধে অবশ্যই) আশ্বাস দিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে, কীভাবে এবং কেন লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হলেন।

আইন ও সুবিচার যদি পেশিশক্তি দিয়ে নির্ধারণ হয়, তাহলে এর চরম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এ জাতি পেতে বাধ্য। হয়তো আজ নয়– আগামীতে কখনও।

সাব্বির খানবিশ্লেষক, লেখক ও সাংবাদিক

Responses -- “অনৈতিক শক্তিগুলো যখন সুবিচারের নির্ণায়ক হয়”

  1. রাসেল আশরাফ

    ধন্যবাদ লেখক সাব্বির খান। আমি জীবনে অন্তত শ খানেক হাসপাতাল এবং হাজার জন চিকিৎসককে দেখে যা পেয়েছি তা হলো সজ্ঞানে এদের সামনে যেতে নেই। হিপোক্রাটিস’র শপথের শতভাগ বিপরীত ব্যক্তিত্ব ও চেহারা নিয়ে চিকিৎসা দান করছেন ডাক্তারগণ। পেশা হিসাবে চিকিৎসককে ঈশ্বরের সাথেও তুলনা করা হয়। লক্ষীপুরের ঘটনার আলোকে বলা যায়, কোমলমধুর আচরনের বদলে ওদ্ধত হয়ে গায়ে পড়ে ঝগড়া করেন।

    Reply
  2. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    গত কিছুদিনে দেশে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, হেফাজতে খুন, গুম, ধর্ষণ ইত্যাদির তাই কোনো বিরতি নেই। সাম্প্রদায়িক হামলার সংখ্যাও বেড়েছে। ক্রসফায়ার, খুন, গুম, সাম্প্রদায়িক হামলা সম্পর্কে সরকারি ভাষ্য খুবই সরল, একঘেয়ে ও কৃত্রিম। ভাষ্যকারদের অবিরাম মিথ্যা ভাষণ এবং নির্লিপ্ত অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে তাদের আদেশ অনুযায়ী, অসার কথাগুলোই জনগণকে বিশ্বাস করতে হবে এবং যদি কেউ না করে তাতে তাদের কিছু এসে-যায় না। এসব মিথ্যা ভাষণের পক্ষে কথা বলার মতো সুবিধাভোগী সুধীসমাজও দেশে তৈরি হয়েছে! তাতে সরকার খুবই নিশ্চিন্ত।

    সরকার তাই পূর্ণ বিজয়ীর বেশে। বাংলাদেশে বিচার বিভাগসহ সব প্রতিষ্ঠান এখন সরকারের করায়ত্ত। নির্বাচনও তার হাতের মুঠোয়। তাই সর্বজনের অর্থ দিয়ে, দেশের উন্নয়নের কথা বলে, যা খুশি তা করায় তার কোনো দ্বিধা নেই, ফাঁসির আসামির দণ্ড মওকুফ করে নেতার ট্যান্ডল হিসেবে কাজ করতে দিতে কোনো সংকোচ নেই, বিচারব্যবস্থা চুরমার করতে কোনো দুশ্চিন্তা নেই, সুন্দরবন বিনাশে বা রূপপুর মহাবিপদ প্রকল্প নিয়ে তার বুকে কাঁপুনি নেই। শত শত মানুষ বিনা বিচারে খুন-গুম হয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা তো নেই–ই বরং এসব নিয়ে সরকারের তরফে এমন অনেক কিছু বলা হয়, তা অনেকটাই তামাশার মতো।

    সরকার যাকে বিজয় হিসেবে দেখাতে চায়, প্রতিক্ষণের যন্ত্রণা থেকে আমরা তার উল্টোটাই টের পাই।

    Reply
  3. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    শিক্ষা খাতে বাণিজ্য প্রসারের কারণে এর সঙ্গে যুক্ত অনেকেই দ্রুত টাকার মালিক হচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষা খাতে শিক্ষার কী অবশিষ্ট থাকছে, সেটাই খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রশ্ন ফাঁস নিয়মিত, কোচিং আর টিউশনি-নির্ভরতার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন বিষময়। শিক্ষাব্যবস্থাকে পরীক্ষাব্যবস্থায় রূপান্তর করার কারণে গাইড বই, কোচিং বাণিজ্যের পথ খুলেছে। চলছে নিয়োগ-বাণিজ্য। এতে যাদের লাভ তারা খুশি। তারা এই ব্যবস্থাই টিকিয়ে রাখতে চায়। শুধু শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদেরই ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অন্য সব মন্ত্রণালয়ের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিশ্চিন্ত। চিকিৎসা খাতের অবস্থাও তা–ই।

    বলাই বাহুল্য, এ সবকিছুই জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। অনেকে বলেন, সরকার ভালো উন্নয়ন করছে, সমস্যা হচ্ছে সুশাসনে। আমি এর সঙ্গে একমত নই। কেননা দুটোকে আলাদা করা যায় না।

    উন্নয়নের ধরনে যদি দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিহীনতা, দখল, দূষণ থাকে অর্থাৎ যদি উন্নয়ন প্রকল্প অতি-উচ্চমাত্রায় সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতি/বিপর্যয়ের কারণ হয়, তাহলে তা কুশাসন অবধারিত করে তোলে। নদী-নালা-খাল-বিল যারা দখল করে, যারা ব্যাংক লুট করে, যারা সম্পদ পাচার করে, তাদের দরকার হয় প্রশাসনের সমর্থন, এই সমর্থন পেলে তার অপরাধের গতি আরও বাড়ে। এর মধ্যে দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস—সবই প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা অর্জন করে। সেটাই ঘটছে অবিরাম।

    প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিংবা প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, যদি কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের এগুলো তদারকি বা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা না থাকে, তাহলে তৈরি হয় যথেচ্ছাচার।

    Reply
  4. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    এক–একজন জীবন্ত মানুষ উধাও হয়ে যাচ্ছেন, হয় প্রাণহীন দেহ পড়ে থাকছে কোথাও অথবা তার কোনো চিহ্নই থাকছে না। এই রাষ্ট্রেরই নাগরিক তাঁরা। সর্বজনের টাকায় রাষ্ট্র চলে, তার শানশওকত বাড়ে। সেই রাষ্ট্র চালায় যে সরকার, তারা এসব নিয়ে তামাশা করে, মিথ্যা কথা বলে, চুপ করিয়ে দেয়, পাগল বানায়। প্রতিবাদের ওপর চড়াও হয়।

    প্রায় প্রতিদিন গুম, খুন, ধর্ষণ, প্রশ্নফাঁস/ জালিয়াতি/পরীক্ষা কেলেঙ্কারি, ব্যাংক দখল, ঋণখেলাপিদের দাপট, ক্রসফায়ার নামের বিচারবহির্ভূত খুন, বন উজাড়, নদী দখল/দূষণ খবরে সমাজের মগজে চিন্তায় ময়লার স্তূপ জমে সক্রিয়তা লোপ পেতে থাকে। সমাজের চৈতন্য ভোঁতা করে দেওয়া, প্রত্যাশার মাত্রা ক্রমেই নামিয়ে আনা সরকারের একটা বড় সাফল্যই বটে। গণমাধ্যম সব সময় ইতিবাচক খবর দিতে চায়। কী সেগুলো? সাফল্যে একের পর এক পুরস্কার, সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর বাহারি অভিযান, সব খারাপ খবর সম্পর্কে কর্তা-মন্ত্রীদের অস্বীকৃতি আর নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি। কর্তাদের চোখেমুখে আনন্দ আর উল্লাস। সাফল্যের প্রচারে টিভি, পত্রিকা, সড়ক-মহাসড়ক সয়লাব হয়, আনন্দের বাদ্যবাজনা বাজতে থাকে। তার নিচে আমাদের প্রতিদিনের দুর্ভোগ, ক্ষোভ, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, সন্তান-স্বজন হারানো মানুষের কান্না, বন-নদী-হাওরের দীর্ঘশ্বাস, দেশের আসন্ন বিপদ নিয়ে অস্থিরতা চাপা পড়ে যায়।

    সরকারের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিজয়ের সুর। এই বিজয় চিরস্থায়ী এবং অপ্রতিরোধ্য এ রকম একটি ভাব থেকে তৈরি হয়েছে অতি-আত্মবিশ্বাস। সেখান থেকে এসেছে বেপরোয়া এবং থোড়াই কেয়ার মনোভঙ্গি। বিদেশি বৃহৎ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো তাদের চাহিদা পূরণ হওয়ায় খুশি, দেশের ভেতর ক্ষমতার নানা কেন্দ্র নিজ নিজ চাহিদার চেয়ে বেশি পেয়ে খুশি। সরকারের তাই এ রকম ধারণা হয়েছে যে তার আর জবাবদিহির কোনো দরকার নেই। যা খুশি তা–ই করলে কোনো কিছু যায়-আসে না।

    Reply
  5. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    বিচারপতিদের নিয়োগ, পারিশ্রমিক, পদোন্নতি ও অপসারণের মতো বিষয়গুলো নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা বিশ্বজুড়ে এখন একটি সর্বজনীন চর্চায় রূপ নিয়েছে। সে কারণেই আন্তর্জাতিক পরিসরে এসব নীতিমালা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছে ব্যাঙ্গালোর নীতিমালা এবং কমনওয়েলথ জোটে তৈরি হয়েছে লাটিমার হাউস নীতিমালা। এসব নীতিমালায় স্পষ্ট ভাষায় বলা আছে, ‘বিচারকেরা তাঁদের আচরণের জন্য জবাবদিহি করবেন বিচারব্যবস্থার মান বজায় রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত এমন প্রতিষ্ঠানের কাছে, যেটি হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।’ লাটিমার হাউস প্রিন্সিপালস বলছে, অসদাচরণ বা অক্ষমতার অভিযোগে অভিযুক্ত বিচারককে ‘একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনালে’ শুনানির সুযোগ দিতে হবে। কমনওয়েলথ দেশগুলোর বিদ্যমান ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, একেকটি অভিযোগের সময় একেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন কিংবা এক ব্যক্তিনির্ভর কোনো ট্রাইব্যুনাল না হওয়াই ভালো। কেননা, তাতে অভিযুক্ত বিচারকের প্রতি কোনো ধরনের সহানুভূতি বা বিদ্বেষ দেখানোর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। একটি স্থায়ী কমিশন বা ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা কম (দ্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট, টেনিওর অ্যান্ড রিমুভাল অব জাজেস আন্ডার কমনওয়েলথ প্রিন্সিপালস: আ কম্পেন্ডিয়াম অ্যান্ড অ্যানালাইসিস অব বেস্ট প্র্যাকটিস)।
    আমাদের সদ্য জারি করা শৃঙ্খলাবিধিতে তার উল্টোটাই করা হয়েছে। শৃঙ্খলাবিধির ছত্রে ছত্রে অভিযোগ পাওয়া এবং প্রাথমিক তদন্তের মতো বিষয়গুলোতে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’ অভিধা ব্যবহৃত হয়েছে। আর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় রাষ্ট্রপতি বা রুলস অব বিজনেসের আওতায় সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যার মানে দাঁড়াচ্ছে, প্রধানত আইন মন্ত্রণালয় এবং প্রেষণে নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ওই মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষ বিচারকদের ওপর কর্তৃত্ব করবেন। আর সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা একেবারেই পরামর্শকের পর্যায়ে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শের পরও কথিত ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষে’র ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত ব্যবস্থা। এতে করে আমলাতান্ত্রিক (কখনো কখনো ইচ্ছাকৃত) সময়ক্ষেপণের কারণে সুপ্রিম কোর্ট চাইলেও সেই চাওয়া অপূর্ণ থাকার আশঙ্কা থেকেই যাবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ আমাদের কারও জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

    Reply
  6. শাহিদুজ্জামান

    এ দেশে জোরালো, সাহসী ও সৎ সাংবাদিকতা করার অনুকূল পরিবেশ নেই। একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একধরনের আড়ষ্টতা, দ্বিধা, সংকোচ কাজ করছে সাংবাদিকদের মনে। জনপ্রিয় এক সহকর্মীকে বলতে শুনি: ‘মন খুলে লিখতে পারি না।’

    প্রশ্ন উঠতে পারে: কিসের ভয়? সাংবাদিকদের ভয় দেখাচ্ছে কে?

    এই প্রশ্নের উত্তরও মন খুলে দেওয়ার সাহস নেই। আমরা এমনই এক ভয়ের মধ্যে আছি যে ‘আমরা ভীত’—এই কথাটা বলতেও পারছি না।

    আন্তর্জাতিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের ২০১৭ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স রিপোর্ট অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ভোগের দিক থেকে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬। অর্থাৎ, ১৪৫টি দেশ আমাদের ওপরে আছে। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমাদের অবস্থান সবচেয়ে নিচে: ভুটান ৮৪, নেপাল ১০০, ভারত ১৩৬ ও পাকিস্তান ১৩৯ নম্বরে আছে।

    শুধু তা-ই নয়, গত এক বছরে আমরা আরও দুই ধাপ নেমে গেছি। ২০১৬ সালে আমাদের অবস্থান ছিল ১৪৪। এর কারণ হিসেবে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তার সমালোচনাকারী ও সাধারণভাবে সংবাদমাধ্যমের ব্যাপারে আরও শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এই শক্ত অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতি বৈরী সরকারি বক্তব্য (অফিশিয়াল স্টেটমেন্টস এক্সপ্রেসিং হোস্টিলিটি টুওয়ার্ডস মিডিয়া), কয়েক ডজন ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রচুর মামলা দায়ের করা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিটিআরসি দেশের ৩৫টি নিউজ ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতি সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর বৈরী বক্তব্য ও পদক্ষেপ বাড়লে সংবাদপ্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের মধ্যে সেল্ফ সেন্সরশিপ বা আত্মনিবৃত্তির প্রবণতা বাড়ে। এ কারণেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে আমরা গত বছরের তুলনায় দুই ধাপ নিচে নেমে গেছি।

    ভারত-পাকিস্তানের মতো আমাদের দেশে প্রতিবছর দু-চারজন করে সাংবাদিক খুন হচ্ছেন না বটে, কিন্তু তাই বলে আমরা মুক্তমনে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করতে পারছি—এ কথা বলার উপায় নেই। এ দেশে সাংবাদিকদের মেরে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে একযোগে ষাট-সত্তরটা মামলা দায়ের করার মতো ঘটনাও এ দেশে ঘটে বৈকি। দৃষ্টান্ত ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক নঈম নিজাম প্রমুখ। এ ছাড়া বিভিন্ন সংবাদপ্রতিষ্ঠানের অনেক জেলা প্রতিনিধির বিরুদ্ধে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

    এ ছাড়া প্রত্যেক সচেতন ও স্বাধীনচেতা নাগরিকের মতো সাংবাদিকদের মাথার ওপরও অদৃশ্য খাঁড়ার মতো ঝুলে রয়েছে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়ার ভয়।

    খুন কিংবা গুম হওয়ার ভয়, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়ার ভয়, মামলার হয়রানি বা গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি ইত্যাদি ছাড়াও সাংবাদিকদের জন্য অনেক রকমের ভয়ের ব্যাপার আছে। কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়ার ভয় স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে এক বড় বাধা। আমাদের দেশে এখন এই ভয় কাজ করছে। কারণ, সরকারি কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত ও সমালোচনার ব্যাপারে কিছুটা অসহিষ্ণু।

    শুধু সাংবাদিকতায় নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সব ধরনের বিরুদ্ধমত ইতিমধ্যে কোণঠাসা; প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল প্রবল সরকারি দমন-পীড়নের শিকার। ছাত্র-যুবসমাজ কোনো ইস্যুতে রাস্তায় নামলে নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজ সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর ভুল-ত্রুটির সমালোচনার ব্যাপারে অতি নিম্নকণ্ঠ। আর সাংবাদিক সমাজের একটা অংশ সরকারের বিরাগভাজন হওয়ার ভয়ে এবং অনুগ্রহ লাভের আশায় সরকারের প্রশংসা করার সুযোগ ও উপলক্ষ খোঁজে। এটা বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের সময়; অধিকাংশ সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার পরিবর্তে তাঁর সুনজর আকর্ষণের চেষ্টা করেন। সরকারও সাংবাদিকদের এই অংশকে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নানাভাবে প্রভাবিত করে।

    Reply
  7. Zaman

    Your writing also proved that you you have tried to prove ADC as innocent though you are telling that all others reported in favor of of Doctor and you are the only person made impartial report. Be truly impartial. Dont try to prove yourself impartial writing in favor of ADC

    Reply
  8. Ak A Hossain

    সেই রামও নেই , সেই অযোধ্যাও নেই ! No matter what happened, it is hard to believe that two senior civil servants in a district were involved in a fist-fight. What else next the name of “Muktijuddher Chetona”

    Reply
  9. razu ahsan

    ধরা যাক, এডিসি সাহেবকে প্রাক্তন সিভিল সার্জন থাপ্পড় মেরেছেন; এটা সত্যি। এতে করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জেল দেয়া যায় কী? (মামলা করে আইনী প্রতিকার এডিসি সাহেব পেতেই পারেন।)
    ওএসডি কী কোন শাস্তি?
    ডিসি’র (ডেপুটি কমিশনার) বাংলা ‘জেলা প্রশাসক’ কেন? উপজেলা প্রশাসক (ইউএনও), বিভাগীয় প্রশাসক (বিভাগীয় কমিশনার) নয় কেন?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—