রোকেয়াকে বাংলাদেশের শিক্ষিতরা কম-বেশি চেনেন। যদিও সে চেনাশোনাটা পরিপূর্ণ নয়। বরং অনেক বেশি খণ্ডিত, খর্বিত। কেবল ‘মুসলিম নারীজাগরণের অগ্রদুত’, ‘স্কুলপ্রতিষ্ঠাতা একজন পর্দানশীন ভদ্রমহিলা’ হিসেবে সমাজে রোকেয়ার একটা জুতসই ইমেজ তৈরি করা হয়েছে। সে ইমেজ কেন, কার স্বার্থে তা নিয়ে অনেক কথা আছে। আমরা আপাতত সেই আলোচনায় যাচ্ছি না। মোটের ওপর কথা, রোকেয়া আমাদের কাছে পরিচিত।

আর কদিন আগে এ দেশের পত্রপত্রিকা কাঁপিয়ে আরেকটি নাম আমাদের কাছে খুব চেনা হল, সোফিয়া। সে অবশ্য মানুষ নয়। যন্ত্র-মানুষ। তাকে নিয়ে কৌতূহল হল আমাদের। যদিও সবাই জানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সোফিয়া কথা বলে। তার স্রষ্টা মানুষ। তবু মানুষ ভিড় করল তাকে দেখতে– হয়তো মানুষ নিজেদের সৃষ্টিকে দেখতে চাইল। তাতে দোষের কিছু নেই। সোফিয়া দেখতে এককালের হলিউডতারকা অড্রে হেপবার্নের মতো। তাকে বাংলাদেশে আনার সময় জামা পরানো হয়েছে। যেন ‘যন্ত্র তাতে কী, নারী বলে কথা!’

যন্ত্র সোফিয়াতেই আমরা মুগ্ধ। সোফিয়ার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা, সে তার নিজের মতো করে চলতে পারে না, তাকে চালানো হয়। অথচ কত স্মার্ট, সুন্দর সে দেখতে!

সোফিয়াকে নিয়ে খবরগুলো দেখতে দেখতে কিছু প্রশ্ন এল মনে– সুবিধাবঞ্চিতদের কথা বাদই দিলাম– এই যে আমি, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা মেয়েরা– আমরা কি নিজেদের মতো পথ চলতে পারছি? নিজের মতো বলে কি কিছু তৈরি হচ্ছে আমাদের? আমরাও কি পুঁজি, পিতৃতন্ত্র আর ধর্মের শৃঙ্খল-সিস্টেমে বাঁধা নই? আমরাও কি তবে একেকজন সোফিয়া? যাদের পুরো জীবনের ওপর তাদের নিজেদের কোনো হাত নেই, তা পুরোটাই অন্যের নিয়ন্ত্রণে?

অথচ ১৮৮০ সালে রংপুরের পায়রাবন্দে জন্ম নেওয়া স্বশিক্ষিত রোকেয়া দাসত্বমুক্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নারী দেখতে চেয়েছেন। সেই ১৯০৪ সালে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘মতিচুর’‘স্ত্রীজাতির অবনতি’ নামের প্রবন্ধে তিনি এদেশের নারীদের দুর্দশার কারণ হিসেবে দাসত্বকে চিহ্নিত করেন। তিনি জোরের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন,

“এই বিংশ শতাব্দীর সভ্য জগতে আমরা কি? দাসী। পৃথিবী হইতে দাসপ্রথা উঠিয়া গিয়াছে শুনিতে পাই, কিন্তু আমাদের দাসত্ব গিয়াছে কি?”

তিনিই উত্তর দেন,

“না।”

আর এ দাসত্ব যে সৃষ্টির শুরু থেকে ছিল না, রোকেয়া নিজেই ঐতিহাসিক দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের ভিত্তিতে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন:

“আদিমকালের ইতিহাস কেহ জানে না বটে; তবু মনে হয় পুরাকালে যখন সভ্যতা ছিল না, সমাজবন্ধন ছিল না, তখন আমাদের অবস্থা এরূপ ছিল না।”

তিনি মেয়েদের দাসীপনার জন্য তীব্রভাবে কটাক্ষ করেছেন,

“সুতরাং আমরা আলস্যের– প্রকারান্তরে পুরুষের– দাসী হইয়াছি। ক্রমশ আমাদের মন পর্যন্ত দাস (enslaved) হইয়া গিয়াছে এবং আমরা বহুকাল হইতে দাসীপনা করিতে করিতে দাসত্বে অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। এরূপে আমাদের স্বাবলম্বন, সাহস প্রভৃতি মানসিক উচ্চবৃত্তিগুলি অনুশীলন অভাবে বারবার অঙ্কুরে বিনাশ হ্ওয়ায় এখন আর বোধহয় অঙ্কুরিত্ও হয় না।

 

Begum Rokeya - 111

 

আর সে জন্যই পুরুষজাতির নিকট আশ্রিত হ্ওয়া ছাড়া নারীদের যে গত্যন্তর থাকে না। সেই সুযোগে পুরুষজাতিও বলেন যে, তাঁহারা আমাদিগকে বুকের ভিতর বুক পাতিয়া দিয়া ঢাকিয়া রাখিয়াছেন এবং এরূপ সোহাগ আমরা সংসারে পাইব না বলিয়া ভয় প্রদর্শন করিয়া থাকেন। আমরা তাই সোহাগে গলিয়া-ঢলিয়া বহিয়া যাইতেছি। ফলত, তাহারা যে অনুগ্রহ করিতেছেন তাহাতেই আমাদের সর্বনাশ হইতেছে।”

রোকেয়ার মৃত্যুর ৮৭ বছর পরও আমরা মেয়েরা কতজন সচেতনভাবে এই ‘সোহাগে গলিয়া-ঢলিয়া বহিবার’ জন্য নিজেদের প্রস্তুত না করে থাকছি? কতজন বলছি, ‘অনুগ্রহ করে অনুগ্রহ কর না মোদের’?

রোকেয়া মেয়েদের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন। স্বাধীনতা বলতে তিনি পুরুষের সমকক্ষতা অর্জনের বিষয়টি বুঝিয়েছিলেন। এজন্য তিনি নারীশিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেকালের বিবেচনায় নারীশিক্ষা নিঃসন্দেহে মেয়েদের অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম ধাপ ছিল। তবে একথা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, রোকেয়া কিন্তু ‘পাশ করা’ বিদ্যাকে প্রকৃত শিক্ষা বলেননি। তিনি দারুণভাবে বস্তুবাদী ছিলেন। যে কারণে রোকেয়ার পক্ষেই বলা সম্ভব–

“সময় সময় আমার পাখী, শাখী হইতে যে সদুপদেশ ও জ্ঞান লাভ করি, তাহা বিদ্যার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। একটি আতার পতন দর্শনে মহাত্মা নিউটন যে জ্ঞান লাভ করিয়াছিলেন, সে জ্ঞান তৎকালীন কোনো পুস্তকে ছিল না।”

আর এ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে রোকেয়ার দর্শনটি কোনো আমদানি করা দর্শনের সঙ্গে মেলানো যায় না। তিনি বরং অনেক বেশি এদেশের মাটির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিলেন। এমনকি সাধারণত বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রে শাসকের সঙ্গে গলাগলির বা তাদের লেজুড়বৃত্তির মধ্য দিয়ে উপাধি নেবার যে ইতিহাস অনেক বিখ্যাত মানুষদের মধ্যে দেখা যায়, রোকেয়া খুব সচেতনভাবে সে পথ্ মাড়াননি। বরং তিনি ‘চাষার দুক্ষু’ ধারণ করেছেন। ‘পাছায় জোটে না ত্যানা’ যে চাষীর তার দিকে দেশবাসীকে নজর দিতে বলেছিলেন,

“কেবল কলিকাতাটুকু আমাদের গোটা ভারতবর্ষ নহে এবং মুষ্টিমেয় সৌভাগ্যশালী ধনাঢ্য ব্যক্তি সমস্ত ভারতের অধিবাসী নহে।”

তিনি এন্ডি শিল্পের পুনরুদ্ধারের জন্য্ও কাজ শুরু করেন। সুতরাং রোকেয়া নিজ ভূমিতে দাঁড়িয়েই সমস্যা দেখেছেন এবং সে সবের সমাধানের চেষ্টা করেছেন।

তবু কিন্তু রোকেয়া তাঁর মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে তীব্র সমালোচনার মধ্যে পড়েন। ১৩১২ সালের ভাদ্র সংখ্যায় নবনূরে গ্রন্থ সমালোচনায় আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ও সৈয়দ এমদাদ আলী ‘মতিচুর’ গ্রন্থ সম্পর্কে লেখেন,

“‘মতিচুর’ রচিয়ত্রীর একটি দোষের কথা এ স্থলে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁহার গ্রন্থ মাদ্রাজের Christian Tract Society এর প্রকাশিত Indian Reform সম্বন্ধীয় অুুপ্রাণিত বলিয়াই আমাদের ধারণা।… তাঁহার মতে আমাদের সবই কু আর ইউরোপ আমেরিকার সবই সু। সমাজ সংস্কার করা এক কথা আর সমাজকে চাবুক মারা আর এক কথা। চাবুকের চোটে সমাজদেহে ক্ষত হইতে পারে, কিন্তু তদ্বারা সমাজের কোনো ক্ষতি বা অভাব পূরণ হয় না। ‘মতিচুর’ রচয়িত্রী কেবল ক্রমাগত সমাজকে চাবকাইতেছেন, ইহাতে যে কোনো সুফল ফলিবে আমরা এমত আশা করিতে পারি না।”

রোকেয়া এসব সমালোচনার জবাব দেন বলিষ্ঠ ভাষায়। ‘মতিচুর’ এর নিবেদনে তিনি বলেন,

“অপরের ভাব কিংবা ভাষা আয়ত্ত করিতে যে সাহস ও নিপুণতারর প্রয়োজন, তাহা আমার নাই। সুতরাং অদৃশ্য চেষ্টা আমার পক্ষে অসম্ভব।

আমিও কোনো ঊর্দু মাসিক পত্রিকায় কতিপয় প্রবন্ধ দেখিয়া চমৎকৃত হইয়াছি। উক্ত প্রবন্ধাবলীর অনেক অংশ ‘মতিচুর’ এর অবিকল অনুবাদ বলিয়া ভ্রম জন্মে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, সে প্রবন্ধসমূহের লেখিকাগণ বঙ্গভাষায় অনভিজ্ঞা।

ইংরাজ মহিলা মেরী করেলির ‘ডেলিশিয়া হত্যা’ উপন্যাসখানি ‘মতিচুর’ রচনার পূর্ব্বে আমার দৃষ্টিগোচর হয় নাই, অথচ তাহার অংশবিশেষের ভাবের সহিত ‘মতিচুর’এর ভাবের ঐক্য দেখা যায়।

এখন প্রশ্ন হইতে পারে কেন এরূপ হয়? বঙ্গদেশ, পাঞ্জাব, ডেকান (হায়দারাবাদ), বোম্বাই, ইংল্যান্ড– সর্ব্বত্র হইতেই একই ভাবের উচ্ছ্বাস উত্থিত হয় কেন? তদুত্তরে বলা যাইতে পারে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবলবৃন্দের আধ্যাত্মিক একতা।”

নানা প্রতিকূলতায় রোকেয়া নিজ লক্ষ্যে অনড় অটল ছিলেন। তিনি কেবল তাঁর সাহিত্যে নারীস্বাধীনতার ছবি আঁকেননি, ব্যক্তিগত জীবনেও সে চর্চা করেছেন। মরিয়ম রশীদকে লেখা রোকেয়ার একটি চিঠি সে সাাক্ষ্য দেয়। চিঠিতে মরিয়মকে একা বাসায় থাকা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন,

“সেলিমসহ পৃথক বাসায় থাকতে পারবে না কেন? আমি তো একাই ২২ বৎসর ধরে আছি– তা তুমি বলবে যে তুমি বুড়া মানুষ। কিন্তু ২২ বছর পূর্বে তো বুড়া ছিলুম না। ফল কথা, তুমি ভালো করে চিন্তা করে দেখ। এখন এই উন্নতির যুগে তুমি একটা আলাদা বাসায় থাকতে সাহস না করলে চলবে কেন? আজও কি আমরা মেয়েদের এমন নির্ভীক হতে সাহস দিতে পারি?”

একটি ঔপনেবেশিক আধা-সামন্ততান্ত্রিক সমাজ কাঠামোতে থেকেও রোকেয়া যে সাহস নিয়ে কঠোর ভাষায় ‘ধর্মের দোহাই দিয়া নারীকে পুরুষের অধস্তন রাখার’ কথা বলেছেন বা ‘ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষরচিত বিধি-বিধান ব্যতীত অন্য কিছু নহে’ বলে তা প্রমাণের প্রয়াস পেয়েছেন, আজকের দিনে আমরা রোকেয়ার সেই মত কতখানি ছড়িয়ে দিতে পারছি? ২০১৮ তে পা দিতে গিয়ে আমরা যে উন্নয়নের কথা বলছি, দূরদর্শী রোকেয়া তো বহু আগেই নারীকে সমাজের অংশ হিসেবে দেখে তাকে এগিয়ে নিতে বলেছেন। নয়তো এক পা নিয়ে সমাজ বেশিদূর এগুতে পারবে না।

আজকের দিনে নারীর অগ্রগতি মানে পাহাড়ে, হাওড়ে, সমতলে, গার্মেন্টেসে, ইটভাটায়, বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে থাকা নারীকে যুক্ত করার কথা ভাবতে হবে। নয়তো ‘পাশ করা বিদ্যে’ নিয়ে উচ্চশিক্ষিত নারীরা আমরা কর্পোরেট বা মাল্টিন্যাশনাল স্মার্টনেস রপ্ত করব, আরও বেশি পুঁজির সেবাদাসে পরিণত হব, পণ্য করব নিজেকে অথবা ধর্মের কিংবা পিতৃতান্ত্রিক প্রথা-প্রতিষ্ঠানের কাছে মুক্তির তরিকা খুঁজব। যা আসলে মুক্তির সোপান নয়।

সোফিয়ার মতো চাবি দেওয়া যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং রোকেয়ার মতো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন লড়াকু মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার দীক্ষাটা আজ নেওয়া বড় প্রয়োজন।

জাহান-ই-গুলশানলেখক, অ্যকটিভিস্ট

৩২ Responses -- “রোকেয়া থেকে যন্ত্রমানবী সোফিয়া: দাসত্ব থেকে মুক্তি কোথায়?”

  1. রফিক

    তসলিমার একটি বিখ্যাত উক্তি: -পুরুষরা যেমন গরম লাগলে খালি গায়ে ঘুরে বেড়ায় নারীরাও তেমনি খালিগায়ে ঘুরে বেড়াবে, তাদের স্তন সবাই দেখবে।When women are exposing themselves to every man around, is that sexual harassment???? Isn’t that the accusation of many of the #MeToo movement? Men exposing themselves to woman, is that indecent exposure??? Double standard ???

    Reply
  2. সোহেল

    একটি যন্ত্র নিয়ে মানুষের কত কৌতুহল,যার বাহ্যিক অংগ প্রতংগ, আল্লহর সৃষ্ট একটি মানুষের অঙ্গ প্রতঙ্গের ১কোটি ভাগের একভাগের সমান না, অভ্যন্তরিন বিষয় তো বাদই রইল ,তাতেই এই রোবটের নির্মাতারা কতইনা গর্বিত ,আবার মানুষরাও তাদের নিয়ে কত জয়জয়কার করে ,আফসোস!!! রোবট যে বেক্তি বানিয়েছে সে কোথা থেকে আসলো, তাকে কে বানিয়েছে ???

    Reply
  3. ইফরান হায়দার

    নাস্তিকদের কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য না থাকলেও ইসলাম বিদ্বেষীদের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা হচ্ছে: ইউরোপ-আমেরিকা সহ পাশ্চাত্যদেশ সমূহের ভিসা অর্জন করা।ওরা না‌স্তিক নয়। ওরা হ‌চ্ছে ইসলাম বি‌দ্বেষী। উচ্চা‌ভিলাসি লোভী। ও‌দের কথা লেখা সব ইসলাম ও মুহাম্মদ বি‌রোধী। ওরা জা‌নে এ বিষ‌য়ে বল‌লে মুসলমান ক্ষেপ‌বে আর ইউরো‌পের ভিসা কনফার্ম। যেসব দেশ এদের‌কে প্রশয় দেয় চি‌নে রাখুন ওরাই প‌রিকল্পনাকা‌রি।বাস্তব জগত এবং সোশ্যাল মিডিয়ায়
    ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের বিরুদ্ধে এমন সব উসকানীমূলক লেখা, ছবি ও বক্তব্য প্রদান করে, যাতে করে ধর্মপ্রান মুসলিমরা ক্ষিপ্ত হয়। তখন তারা বিভিন্ন অমুসলিম দেশে ভিসার জন্য আবেদন করে এবং জানায় যে, এদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা তাদের যে কোন সময় মেরে ফেলবে। প্রমানস্বরুপ তারা বিভিন্ন রেফারেন্স দেখায়। অত:পর তারা খুব সহজেই তাদের কাঙ্খিত দেশের ভিসা পেয়ে যায়। ইসলাম বিদ্বেষীদের চেনা খুব সহজ। তারা যে কোন বিষয়ে ইসলামকে সামনে নিয়ে আসবে এবং ইসলামের বিপক্ষে কথা বলা শুরু করবে। ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলার সময় তারা অত্যন্ত নোংড়া ভাষা ব্যবহার করবে এবং ইসলামিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমন করবে, ইসলামের রীতিনীতির বিরুদ্ধে কথা বলে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালাবে। মূল কথা হচ্ছে, তারা যে কোন মূল্যেই মুসলিমদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করবে। নাস্তিকগুলা অভিনয় সাজানোর চেষ্টা করে যে, আস্তিকরা তাকে হুমকি দিয়েছে, এই করেছে, সেই করেছে। যাতে তিনি বিদেশিদের কাছে ‘যোগ্য’ বিবেচিত হন। ও‌দের য‌দি না‌ম্তিক মে‌নে নিই ত‌বে ওরা একটা জি‌নিস প্রমান দি‌য়ে দি‌চ্ছে পৃ‌থিবী‌তে ধর্ম একমাত্র ইসলামই। বিদেশে অ্যসাইলাম প্রত্যাশী এধরনের কিছু কুলাঙ্গারের কারণে দেশে জঙ্গিবাদ এবং ধর্মীয় হানাহানির সৃষ্টি হয়। এদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি প্রদান করা উচিত।প্রকৃতপক্ষে এরা নাস্তিকদের থেকে অনেক বেশি ভয়ংকর। সাম্প্রদায়িক বিভেদ, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ বাধানো তাদের কাছে খুবই সাধারন ব্যাপার।

    Reply
  4. নাজমুল হোসাইন

    “নাস্তিক হইসেন ভালো কথা।আপনাগোর ভালে দিক যদি কিসু থাইকা থাকে তয় তা প্রচার কইরা নাস্তিকতা প্রসার করেন।তাতে কেউ আকৃষ্ট হইলে আপনারে আরো ধন্যবাদ।কোন সমস্যা ত নাই ই।তয় কথা হইল-ইসলামের ভুল খোঁজার অধিকার আপনেরে কে দিসে?যদি আপনার অসীম জ্ঞানে ভুল ধরা পইড়া থাকে তা নিয়া আপনি খুশি থাকেন।তা লইয়া মনগড়া কথা কইয়া সাধারণ মানুষের সাথে ভন্ডামি শুরু করসেন কেন?তহন ত সমস্যা হইতেই পারে।যদিও ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আপনাগোর মতন প্রতিক্রিয়া দেখায় না।”

    Reply
  5. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    প্রতি টা স্যেকুলার সেই ইসলাম কে পরোক্ষভাবে ব্যবহার করে থাকে।
    উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়:- ইসলামিক নাম গুলোর কথা।
    বাংলাদেশের স্যেকুলারদের প্রায় নাম গুলো ইসলামিক নাম।
    ওনারা ইসলাম বর্জন করিয়া চলে, তাহলে নিজের ইসলামিক নাম টা বর্জন করিয়া চলে না কেন? বঙ্গ স্যেকুলার,রাই বিভিন্ন ধর্মের মাঝে ধর্ম বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। স্যেকুলারদের কারণে, মৌলবাদের জম্ম হয়। সৃষ্টি হয়, জঙ্গিবাদের। স্যেকুলার সমাজ ধর্মের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি কারী।
    তসলিমা নাসরিন: উনাকে চেনে না এমন লোক খুব কমই আছে।তার একটি বিখ্যাত উক্তি: -পুরুষরা যেমন গরম লাগলে খালি গায়ে ঘুরে বেড়ায় নারীরাও তেমনি খালিগায়ে ঘুরে বেড়াবে, তাদের স্তন সবাই দেখবে।
    লেখক ইমদালুল হক মিলন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্র মুহম্মদ, সৈয়দ শামসুল হক, মিনার মাহমুদ সহ আরো অসংখ্য পুরুষ বৈধ/অবৈধভাবে তাকে ভোগ করেছে বলে তসলিমা তার আত্মজীবনিতে অভিযোগ করেছে!! এছাড়াও ফ্রান্সের এক নারীর সাথে সমকামী প্রেম করেছেন বলেও তসলিমা তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছে। সে কি মাপের ইসলামবিদ্বেষী সেটা কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন দেখি না। সে নিজেকে নাস্তিক দাবী করলেও তার যত ক্ষোভ, যত ঘৃণা সব কিছুই কেবল ইসলাম ধর্মের উপর। সনাতন ধর্ম কিংবা খ্রিস্ট ধর্ম অথবা ইহুদীদের নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা চোখে পড়ে না।

    Reply
  6. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    মুক্তমনা’রূপী কিছু ভণ্ডমনা দীর্ঘদিন ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে নিজ রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করে ফেলা হয়েছে যে, ইসলামই সবচেয়ে পুরুষতান্ত্রিক ও নারী-বিদ্বেষী। এতদিনে এই ভাইরাস যখন তাদের মুরিদদের মন-মগজে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে এবং তাদের মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা সম্পর্কে অনেকেই যখন অবহিত হয়েছে, তখন কেউ কেউ ঝুলি থেকে অন্যান্য দু-একটি ধর্মের কতিপয় নেগেটিভ বিষয় উল্লেখ করে সাথে সাথে সমস্বরে বলে উঠছে-
    সকল ধর্মই আসলে পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী; সব ধর্মেই রয়েছে সমসাময়িকতার প্রবল প্রভাব।
    তাই নাকি? এই ধরণের চরম প্রতারণামূলক ও অসত্য প্রলাপ বকতে হলে নিশ্চিতভাবেই কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে। সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী কি-না কিংবা সব ধর্মেই সমসাময়িকতার প্রবল
    প্রভাব আছে কি-না, তার কিছু নমুনা এই লেখায় তুলে ধরা হচ্ছে।
    ১. বৌদ্ধ ধর্ম বলে: নারীরা অস্পৃশ্য ও সকল প্রকার অনিষ্টের মূল- পুরুষদের নির্বাণ লাভের পথে অন্তরায়। কাজেই নারীসঙ্গ অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এর অর্থ হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মে নারীদেরকে মানুষই মনে করা হয়নি।
    হিন্দু ধর্ম বলে: নারীদের সাথে কোনো স্থায়ী বন্ধুত্ব হতে পারে না। নারীদের হৃদয় হচ্ছে হায়েনাদের হৃদয়। [ ঋগ্বেদ ১০:৯৫:১৫ ]
    খ্রীষ্টান ধর্ম বলে: এই ধর্মও নারীদের সম্পর্কে অনুরূপ ধারণা দেয়।
    ইসলাম বলে: বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারী একে অপরের বন্ধু… [কোরআন ৯:৭১]
    তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক… [কোরআন ২:১৮৭]
    “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা
    ও দয়া।” [কোরআন ৩০:২১]
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ২. হিন্দু ধর্ম বলে: নারীরা শক্তিহীন বা কর্তৃত্বহীন। তারা পৈত্রিক সম্পত্তির কোনো অংশ পাবে না। [যজুর্বেদ ৬:৫:৮:২ ]
    খ্রীষ্টান ধর্ম বলে: পুত্র সন্তান থাকলে কন্যা সন্তান কোনো সম্পত্তি পাবে না। [বাইবেল; নাম্বারস ২৭:৮]
    ইসলাম বলে: পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়দের সম্পত্তিতে নারী ও পুরুষ উভয়েরই অংশ আছে। [কোরআন ৪:৭]
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ৩. হিন্দু ধর্ম বলে: বিবাহিত নারীরা তালাক দিতেও পারবে না আবার নিতেও পারবে না। একবার কারো সাথে বিয়ে হয়ে গেলে আমৃত্য পর্যন্ত তার সাথেই থাকতে হবে।
    খ্রীষ্টান ধর্ম বলে: তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করা ব্যভিচারের সামিল। তার মানে তালাকপ্রাপ্তা নারী পুনরায় বিয়ে করতে পারবে না? [বাইবেল; ম্যাথু ৫:৩২]
    ইসলাম বলে: নারীরা ইচ্ছে করলে তালাক নিতে পারবে এবং তালাকপ্রাপ্তা নারী চাইলে তার পছন্দ অনুযায়ী অন্য কাউকে বিয়েও করতে পারবে। [কোরআন ২:২২৯-২৩২]
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ৪. হিন্দু ধর্ম বলে: বিধবা নারীরা পুনরায় বিয়ে করতে পারবে না। তাদেরকে বরং নিরামিষভোজী ও অত্যন্ত দ্বীনহীনভাবে বাকি জীবন কাটাতে হবে [ মনুসংহিতা ৫ ]। সতী প্রথার কথা না হয় বাদই থাকলো।
    ইসলাম বলে: বিধবা নারীরা ইচ্ছে করলে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে৷
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ৫. বৌদ্ধ ধর্ম বলে: নারীরা পুরোপুরি আলোকিত (Fully Enlightened or Buddha) হতে পারবে না।
    ইসলাম বলে: “যে ব্যক্তি ভালো কাজ করবে, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, এবং সে ঈমানদার হবে, এরূপ লোক জান্নাতে দাখিল হবে, আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না।” [কোরআন ৪:১২৪]
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ৬. বৌদ্ধ ধর্ম বলে: পুরুষের কাজ হচ্ছে বিরামহীনভাবে জ্ঞানের অন্বেষণ করা, আর নারীদের কাজ হচ্ছে বাড়ি ও স্বামীকে দেখাশুনা করা।
    হিন্দু ধর্ম বলে: নারী ও শূদ্ররা বেদ পড়া বা শোনার উপযুক্ত নয়।
    খ্রীষ্টান ধর্ম বলে: নারীরা চার্চের মধ্যে চুপচাপ থাকবে। সেখানে কথা বলা তাদের জন্য লজ্জাজনক। তারা চুপচাপ তাদের স্বামীদের কাছে থেকে সকল প্রকার বশীভূতকরণের মাধ্যমে শিক্ষা নিবে।
    নারীরা শিক্ষা দিতে পারবে না, এবং পুরুষদের উপর কর্তৃত্ব করার অধিকারও তাদের নেই। [বাইবেল; ১ করিনথিয়ান্স ১৪:৩৪-৩৫, ১ টিমোথি ২:১১-১২]
    ইসলাম বলে: নারী ও পুরুষ উভয়েই জ্ঞানের অন্বেষণ করতে পারবে। উভয়েই একে- অপর থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারবে।
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।

    Reply
    • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

      নারী-স্বাধীনতা বিষয়ক একটি বিজ্ঞাপন চোখে পড়লো। বলিউড খ্যাত নায়িকা দীপিকা পাদুকোনের এই বিজ্ঞাপন অনুসারে নারীর নিজের অধিকার আছে তার শরীরের । একান্তই তার ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে যে, সে তার শরীর নিয়ে কি করবে — বিয়ের আগে সেক্স করবে, নাকি বিবাহ-বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক তৈরি করবে। “শরীর আমার, চয়েশ আমার” নামক এই ধরনের একটি অত্যন্ত ক্যাচি এবং বোল্ড মেসেজ ছড়িয়ে আছে এই বিজ্ঞাপনী বক্তব্যে ।ব্যক্তিগতভাবে আমি এই ধরনের বক্তব্যের বিরোধী। মনে হতে পারে, একজন শিক্ষিত নারী হয়ে কেন আমি এর বিরোধিতা করছি ? নারীর শরীরের অধিকার কি নারীর নেই ? গালাগালি দিন , অপমান করুন ক্ষতি নাই। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন অন্তত সবদিকটা। ভেবে দেখুন আমরা বিজ্ঞাপনের অর্ধসত্য এবং চাকচিক্যে নিজের বিচারের ক্ষমতাকে হারিয়ে ফেলতে শিখে যাইনি তো ? এমন নয় তো, যে, এই আপাত নারীবাদী বিজ্ঞাপন সত্যি্কারের নারীবাদী নয় ? এমন নয় তো যে, এটি নারীবাদের আড়ালে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষের চাহিদার প্রকাশ ? এর পিছনে সত্যিই পুরুষের নারী-শরীরের খিদে লুকিয়ে নেই তো ?যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে বলি , দীপিকার এই আপাত-স্বাধীনতার বানীও আসলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হর্ত্তা কর্তা বিধাতা পুরুষের উদগ্র কামনারই প্রকাশ। কেন ? কারণ, দেখতে পাচ্ছি নারী স্বাধীনতার নামে এই বিজ্ঞাপনে অদ্ভুত ভাবে শরীরের দিকে জোর দেওয়া হয়েছে। কেননা নারী স্বাধীনতার এই বিজ্ঞাপনেও নারীর সত্তাকে নারী শরীরের সমতুল্য করে দেখা হয়েছে। নারী মানেই যেন নারীর শরীর। তাই শরীরের স্বাধীনতাতেই নারীর স্বাধীনতা । আর একথা যুক্তি–বহির্ভূত ভাবে কেবল স্কুল কলেজের মেয়েদের আবেগে সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্য বারবার সমস্ত চ্যানেলে বলা হচ্ছে। আচ্ছা, নারীর স্বাধীনতার কথা কেন শরীরে এসেই থেমে যাবে? কেন শিক্ষার স্বাধীনতা, কর্মের স্বাধীনতা পর্যন্ত পৌঁছাবে না ? প্রসঙ্গক্রমে একটু মনে পড়িয়ে দিতে চাই, সতীদাহ সংক্রান্ত যে সব তথ্য বর্তমান গবেষনায় বেরিয়ে আসছে, তাতে প্রমানিত হয়েছে যে, সতীদাহের জন্য খুব একটা জোর করে করা হত না। মেয়েরাই স্বেচ্ছায় সহমৃতা হত। এনিব্যাসান্তদের লেখা থেকে একথা প্রমানিত হয় যে, সেইসময় নারী সমাজের সামনে সহমরণকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের হর্তাকর্তা পুরুষেরা এতো উচ্চ মর্যাদার স্থানে স্থাপিত করতে সক্ষম হয়েছিল যে, মেয়েরা সতী হওয়াকেই পরম পুণ্যের কাজ বলে মনে করতো । এইভাবেই সেদিন নারী চিতায় উঠেছিল স্রেফ পুরুষের প্রচারণার ফাঁদে পা দিয়ে । আজো দীপিকাদের দিয়ে পুরুষ সমাজ এমন কিছুই করাতে চাইছে না তো, যাতে করে নারী নিজেই সহজলভ্যা হয়ে ওঠে পুরুষ সমাজের কাছে ?
      বিষয়ের জটিলে না গিয়ে একটা কথা বলে রাখা ভাল যে, নারীবাদের সৃষ্টি কিন্তু নারীকে পুরুষের মর্যাদায় তুলে আনার জন্য বা নারী পুরুষের সমান অধিকারের দাবীতে এবং নারীর প্রতি শারীরিক ( বিশেষত যৌন) ও মানসিক অপরাধ কমানোর লক্ষ্যে । কিন্তু নারীবাদী চেতনার মধ্যে দিনের পর দিন ধীর গতিতে স্থান করে নিয়েছে একটি শরীর কেন্দ্রিক চেতনা, যা নারীকে আবার শরীরমাত্র করে তুলছে। কৌশলে অসম্ভব করে তুলছে নারীর সত্যিকারের স্বাধীনতার সম্ভবনাকে।

      Reply
  7. Kamruzzaman (Topu)

    জাহান-ই-গুলশান…………..আপনাকে বলছি , বেগম রোকেয়া কে আপনি সুধু রোকেয়া বলে সম্বোধন করে কি বোঝাতে চাইছেন ? আপনি অনেক আধুনিক ? আপনাকে বুঝতে হবে …………অভদ্রতা/বেয়াদবি আর আধুনিকতা এক জিনিশ নয় । আর আপনি যে বক্তব্ব লিখেছেন তা এখন আর মানুষ খায়না । এই বিষয় টি র চর্বিত চর্বণ নয় আপনি
    রীতিমত পয়ঃ চর্বণ করেছেন ।নারী ও নর ,কে শুধু ব্যাকরনের মধ্যেই সিমাবদ্ধ রাখুন ।
    আমি দুর্বল ,আমি দুর্বল …………এটা কোন কাজের কথা নয় ,এটা করুণা প্রার্থনা ।

    তপু

    Reply
  8. কামরুল

    হংকং-এর ধোলাইখালে তৈরি মানুষের একটা সিমুলেশন একটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেছে, আরেকটি দেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হয়ে কথা বলছে। এমন নাগরিকই তো এখন চায় রাষ্ট্রগুলো। মানুষ নয়, সিমুলেশন। সিমুলেশন যেখানে মানুষ হয়ে উঠছে, সেখানে আমাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সময় দেওয়া মানুষেরাও তো একেকটা সিমুলেশন হয়ে উঠছে।…সিমুলেশনদের নিজস্ব কোনো রাজনীতি নেই। তারা যেই পাত্রে থাকে, সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। যার প্রতিনিধিত্ব করে, পুরোপুরি তার হয়ে কথা বলে। কারণ, তা না করলে তার কপি করা আইডেন্টিটিটা থাকবে না। সোফিয়াকে বাংলাদেশের জনগণের হাতে তুলে দিলে…সে বরং পেঁয়াজের দামের কথা বলত, গুম হওয়া মানুষের কথা বলত।

    Reply
  9. তারিকুল বাশার

    এক রোবট নিয়ে যা শুরু হইছে যে লেখালেখি!!তাতে মনে হচ্ছে দেশে গাজার দাম কমে গেছে আর সব মিডিয়ার এডমিনরা জম্মের খাওয়া খাইছেন! !!

    Reply
  10. প্রভাতী

    বাংলাদেশের মিডিয়া এখন হাতি থেকে রোবট*** মিডিয়ায় রূপান্তরিত হচ্ছে। বংবাহাদুরকে চেটে সর্বস্বান্ত করার পর তারা এখন সোফিয়ার পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে। এমতাবস্থায় আমি রোবট সোফিয়ার দুর্যোগপূর্ণ ভবিষ্যতের আশংকা করতেছি। এ রোবট*** মিডিয়ার দিনের পর দিন প্রতিদিনকার খবরের শিরোনাম এইরকমঃ

    – সোজা হয়ে দাঁড়াতে শিখেছে রোবট সোফিয়া

    – বাংলাদেশে এসে বাংলায় কথা বলতে চায় রোবট সোফিয়া

    – নিত্যনতুন যন্ত্রের ব্যবহারে কুশলী রোবট সোফিয়া

    – অন্য মেয়েদের মতো সংসার করতে চায় রোবট সোফিয়া

    – মাতৃত্বের আকাংখায় উদ্বেল রোবট সোফিয়া

    – কিভাবে সন্তান নেবে রোবট সোফিয়া?

    – বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন রোবট সোফিয়া

    – সউদি নাগরিক রোবট সোফিয়াকে আবেগঘন বিদায় জানালেন যুবরাজ মোহাম্মদ

    – বাংলাদেশ একটি উদার দেশ, এদেশে সউদি মোডারেট ইসলামের ভবিষ্যত উজ্জ্বলঃ বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে রোবট সোফিয়া

    – বিমানবন্দর থেকে সংসদ ভবন আসার পথে পীর হাবিব আমার গায়ে হাত দিয়েছেঃ সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে রোবট সোফিয়া

    – পুরো দেশ আনন্দে উম্মাতালঃ দিনজুড়ে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখালো রোবট সোফিয়া

    – নাম চুরির অভিযোগ এনে কপিরাইট আইনে রোবট সোফিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন কাঙালিনী সুফিয়া

    – সারা বিশ্বের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রসঙ্গে সচেতন হতে হবেঃ রোবট সোফিয়ার সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়ে দাবী জানালেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ

    – রোবট সোফিয়াকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা দেখে উপরে বসে তিনি আনন্দ-অশ্রু ফেলছেনঃ বিশেষ সংবাদদাতাকে ষাড়

    – পাঁচ তারকা হোটেলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় রাত কাটাচ্ছে রোবট সোফিয়া

    – গভীর রাতে পাঁচ তারকা হোটেলের চারিদিকে পুলিশ-রেব-বিডিআরের যৌথ অভিযানঃ নগর জুড়ে গুজবের ছড়াছড়ি

    – উপর্যুপরি ধর্ষণে মারাত্মক আহত রোবট সোফিয়াঃ ভোরের আলো ফোটার সময় পাওয়া গেলো ভাঙাচোরা রোবটদেহ

    – জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছে রোবট সোফিয়াঃ থমকে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ

    – এ বর্বর ঘটনার পেছনে পাকিস্তান দুতাবাসের সক্রিয় হাত রয়েছেঃ রোবট সোফিয়া প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদের বিবৃতি

    – বিশিষ্ট প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা গাব্বার ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত করলেন রোবট সোফিয়া আর নেই

    – সন্তান সংসার চেয়েছিলো হতভাগী রোবট সোফিয়াঃ প্রার্থনায় বাংলাদেশ ন্যুব্জ

    – শেষ পর্যন্ত চলেই গেলো অভিমানী রোবট সোফিয়াঃ পুরো জাতি শোকে মুহ্যমাত

    Reply
  11. Raihan

    আপনারা এখানে যা কিছু দেখেছেন সবই প্রোগ্রাম করা কথা। এর শরীর মাথা, হাত, পা, চেহারা সব কিছু Electrical Engineer দের কাজ। আর ওর কথা বলা চিন্তা ভাবনা আসলে চিন্তা ভাবনা বললে ভুল হবে! Cause, robot cannot think! উত্তর দেবার সামর্থ্য ইত্যাদি সব Computer / Software engineer দের কাজ। সুতরাং ও নিজে থেকে বলছে এটা মনে করা বোকামি!

    Reply
  12. মান্নান

    চালের কেজি ৫০ টাকা;মরিচ১৫০টাকা;পেয়াঁজ১২৫টাকা ।আর আপনারা আছেন রোবট সোফিয়াকে নিয়ে।।

    Reply
  13. মামুন রশিদ

    সোফিয়া নামক এক রোবটকে নিয়ে মানুষের এত আবেগ দেখে, আমার আবেগ আছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে। কি সব প্রশ্ন করা হচ্ছে, তার প্রেমিক আছে কিনা, সে মা হতে চায় কিনা, তার কোন দেশ পছন্দ, তার নাগরিক্ত্ব লাগবে কিনা? কি মানবীয় প্রশ্ন করা হচ্ছে এক যন্ত্রকে!! তুমার নাগরিক্ত্ব লাগবে কিনা? এই একটা প্রশ্ন যুদ্ধে বিধস্ত আরাকান, সিরিয়াবাসীকে করার মত রাষ্ট্র নায়কের অভাব এই পৃথিবী হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। মানুষ কেন জানি মানুষকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে, হয়ত সময়ের চাহিদা। দিন কয়েক আগে ঢাকার এক রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে আনাহলো এক রোবটকে। ব্যাস বাজিমাত, ব্যবসা চাংগা। কাস্টমারেরা হুমড়ি খেয়ে পরল সেই রেস্টুরেন্টে, সেলফি তুলে বিশ্বকে জানিয়ে দিল আমাদের সাথে রোবটের সম্পর্কের কথা।

    Reply
  14. আবদুর রাজ্জাক

    বাংলাদেশে এসে রোবট ধরা খেয়েছে!বোঝা ই যাচ্ছিলো সে কি বলবে তা রেকর্ড়িং করা হয়েছে আগেই! এতো দিন সোফিয়ার ব্যাপারে যা শোনা গিয়েছিলো সবই অতিরঞ্জিত ছিলো! সে বিয়ে করতে চায়, বাচ্চাকাচ্চা চায়, মানুষের মতো অনুভূতি, সবই ভূয়া!

    Reply
  15. করবী মালাকার

    “সোফিয়ার মতো চাবি দেওয়া যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং রোকেয়ার মতো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন লড়াকু মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার দীক্ষাটা আজ নেওয়া বড় প্রয়োজন।”
    আমরা যারা নিজেদেরকে আধুনিক, সচেতন নারী ভাবি , তারাও আসলে এমন একটা চাবিতেই চলি। মর্যাদা এবং লড়াইটাই আমাদের নারী জীবনের মুখ্য হওয়া প্রয়োজন। এই মর্যাদার মানদণ্ড কি হবে – সেটাই আসলে লড়াই।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—