Zihadi - 111

১. নভেম্বর ২৪, ২০১৭– মিসরের সুফি মসজিদে জুমা নামাজে বোমা-ব্রাশফায়ার, ২৭ শিশুসহ নিহত ৩০৫, আহত ১২৮।

২. হামলার ব্যাপকতা, প্রস্তুতি, ধরন, ক্ষিপ্রতা, দক্ষতা, টিমওয়ার্ক ইত্যাদি আইসিসএর সঙ্গে মেলে এবং এক সন্ত্রাসীর হাতে আইসিসের পতাকা ছিল বলে একজন জানিয়েছেন।

৩. ২০১৩ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার, সিনাইতে জঙ্গি-উত্থান, সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও জয়-পরাজয়, ২০১৪ সালে সেখানকার জঙ্গি সংগঠন (ওলিয়াত সিনাই বা আনসারুল বায়তুল মুকাদ্দাস) আইসিসের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা, এগুলো রাজনৈতিক। কিন্তু মসজিদে হামলার শেকড়টা আদর্শিক। সমস্যাটা মারাত্মক। এ দানব প্রতিহত করতে দ্বন্দ্বটার শেকড়ে যেতে হবে, বুঝতে হবে দুপক্ষের চরিত্র ও কর্মপদ্ধতি।

বলাবাহুল্য, দুপক্ষই কোরান হাদিস থেকে সমর্থন দেখান। কিন্তু গাছের পরিচয় তো তার ফলেই। যেহেতু জনগণের পক্ষে অত অত কেতাব পড়া সম্ভব নয়, তাই বৃক্ষের ফলের দিকেই দেখা যাক সে শান্তি অর্থাৎ ইসলাম কোথায় আছে।

৪. সুফি মানসিকতা:

সুফিদের ধর্মবিশ্বাস হল ইসলামের মিস্টিক অর্থাৎ মরমীয়া ব্যাখ্যা। “সুফিইজম অ্যান্ড শরিয়াহ, এ স্টাডি অফ শেখ আহমদ সিরহিন্দ’স এফোর্ট টু রিফর্ম সুফিইজম” বইটা তাদের ইসলামি ধর্মবিশ্বাস বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছে, এর মধ্যে রাজনীতি ইসলামি রাষ্ট্র, মতভেদ হলে কাউকে শত্রু বা মুরতাদ বলা ইত্যাদি নেই। রাষ্ট্রক্ষমতার প্রতি তাদের মনোভাব আমরা সুফিদের মধ্যে দেখেছি। বাংলায় অনেক সুফি এসেছেন, তাদের অনেকেই প্রজাদের নালিশের ভিত্তিতে অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হয়েছেন। যেমন দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, যশোহর, হরিরামপুর ইত্যাদি জায়গার হযরত শাহ মাহমুদ, জাফর খাঁ গাজী, পীর বদরুদ্দীন, শাহ বদরুদ্দীন, সুলতান বলখী, কাত্তাল পীর, বড়খাঁ গাজী, শাহ নেকমর্দান ইত্যাদি। ক্ষমতায় বসলে তাদের ইসলাম প্রচারে সুবিধেই হত, কিন্তু তাঁরা সবাই ক্ষমতা ছেড়ে জনগণের মধ্যে ফিরে মুসলিম সংখ্যালঘিষ্ঠ দেশকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে পরিণত করার অভূতপূর্ব অসাধ্য সাধন করেছিলেন। সে জন্যই লক্ষ মুসলিম তো বটেই, লক্ষ অমুসলিমও আজও আসেন হযরত শাহ জালাল, নিজামুদ্দীন আউলিয়া, খাজা মঈনুদ্দীন চিশতির দরবারে।

ইসলাম যদি শান্তির ধর্ম হয় তবে সে শান্তি এখানে আছে কিনা ভেবে দেখুন।

৫. জঙ্গি মানসিকতা:

জঙ্গিদের জীবন-মরণ চাওয়া মাত্র একটাই, তা হল, শারিয়া আইনভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র। এ বিশ্বাস নিয়ে তারা জন্মায়নি, এটা তাদের মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বাসটা সতেরশ শতাব্দীর ওয়াহাব বা সাম্প্রতিক জামাতে ইসলামী, মুসলিম ব্রাদারহুড, তালেবান, বোকো হারাম বা আইসিসের আবিস্কার নয়, এটা বানানো হয়েছে চৌদ্দশ বছর আগেই। নবীজী ও চার খলিফার পর ইসলাম রাজতন্ত্রের কুক্ষিগত হল, রাজারা বিলক্ষ্মণ জানত ইসলামে রাজতন্ত্র অবৈধ। তাই তাদের দরকার হল রাজতন্ত্রের গায়ে ইসলামি লেবেলের। গড়ে উঠল রাজনৈতিক ইসলাম, দুনিয়ার সব অমুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ভিত্তিতে– উদ্ধৃতি দিচ্ছি:-

“প্রথমে যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল। তারপর যাহারা মুসলমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং যাহারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনা করে তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হইল ও পরে যুদ্ধকে বাধ্যতামূলক করা হইল।

মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহসিন খান অনুদিত সহি বুখারী (অখণ্ড) পৃ– ১০৮১। এটা দুনিয়ার সব অমুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর সমর্থনে শারিয়া আইন বানানো হল–

“খলিফা দুনিয়ার সকল অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন যতক্ষণ পর্যন্ত না তাহারা মুসলমান হইয়া যায়।”

— শাফি আইন উমদাত আল শালিক, আইন নং 0.9.9।

সূরা হাদীদ আয়াত ২৫–

“আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি।”

এই “শক্তি’র ব্যাখ্যা করা হল “রণশক্তি”– (ইবনে কাথির} আজ যখন যুদ্ধ করে দুনিয়া দখলের স্বপ্নটা কুয়াশার মতো মিলিয়ে গেছে হাওয়ায়, এখন লোহার শক্তিটা হয়ে গেছে “রাষ্ট্রশক্তি।”

বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ৩য় খণ্ড পৃ– ২৪৫)।

সূরা বাকারা ৪২, হজ্ব ৩০ ইত্যাদি (মিথ্যা বল না, সত্যের সঙ্গে মিথ্যে মিশিও না) লঙ্ঘন করে চৌদ্দশ বছর আগেই আইন করা হয়েছিল যা আজও আছে কেতাবে আর ওয়াজ মাহফিলে– “উদ্দেশ্য যদি বাধ্যতামূলক হয় তবে মিথ্যা বলা বাধ্যতামূলক।”– শাফি আইন নং r.8.2। দুনিয়ার সব অমুসলিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাটা এখনও বলবৎ মওদুদির সুস্পষ্ট দাবিতে যা জঙ্গিদের ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তি– মুসলমানদের ক্ষমতা থাকলে তারা সারা দুনিয়া থেকে সব অমুসলিম সরকারকে উচ্ছেদ করে বিশ্ব-ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম করবে– জিহাদ ইন ইসলাম, পৃষ্ঠা ১৫।

মওদুদি এটাও বলেছেন-– ““ইসলামি বিপ্লবের পর জনগণকে নোটিস দেওয়া হইবে যাহারা বিশ্বাসে-কর্মে ইসলাম ছাড়িয়াছে ও সেভাবেই থাকিতে চায় তাহারা প্রকাশ্যে অমুসলিম পরিচিতি প্রকাশ করিয়া এক বছরের মধ্যে দেশত্যাগ করুক। তারপর যাহারা জন্মাইবে তাহারা হইবে মুসলিম। ইসলামি আইন প্রয়োগ করিয়া তাহাদিগকে ধর্মীয় কাজকর্ম ও দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হইবে। তারপর কেউ ইসলাম ছাড়িয়া দিলে তাহাকে খুন করা হইবে।”

[দ্য পানিশমেণ্ট অফ দ্য অ্যাপোস্টেট অ্যাকর্ডিং টু ইসলামিক ল’]

ইসলাম যদি শান্তির ধর্ম হয় তবে সে শান্তি এখানে আছে কিনা ভেবে দেখুন।

৬. বাস্তবতা:

ধর্মবিশ্বাসের এই দ্বন্দ্ব বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে প্রবল হিংস্রতায়। পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নিদের পরস্পরের মসজিদে হামলা-হত্যার ঐতিহ্য বহু বছরের, সেখানে শিয়ারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সুফিরা অস্ত্রহীন, অরক্ষিত ও আক্রান্ত, জঙ্গিরা সশস্ত্র ও অক্রমণকারী, তা-ও আবার অতর্কিত আক্রমণ। এ এক অসম, অন্যায় যুদ্ধ। সিনাই প্রবলভাবে সুফি-প্রভাবিত, মসজিদটি তাদের কেন্দ্র। সুফিরা জঙ্গিদের কখনও গালাগালি করেনি মুরতাদ বলেনি কিন্তু তবু জঙ্গিরা প্রচার করেছে ‘সুফিবাদ একটি রোগ’ ও গত বছর এক সুফি-ইমামের শিরচ্ছেদ করেছে। এবারে তারা মুসলিম হয়েও মসজিদে নামাজরত মুসলিম-হত্যায় বিশ্বরেকর্ড গড়ল। শিশুসহ শত শত নিরপরাধ নিহত-আহত হল, শত শত এতিম হল বিধবা হল, বিশ্বে আবারও ছড়িয়ে গেল ইসলামভীতি। জঙ্গিদের ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তি হয়ে উঠেছে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় যে কোনো বাধা যে কোনো উপায়ে উচ্ছেদ করা ইবাদত, এরপর আর কত রক্ত ঝরবে কে জানে!

৭. পটভূমি বাংলাদেশ:

দেশে ইসলামি রাষ্ট্রপন্থীদের এক অংশ হিংস্র হয়ে উঠেছে। মুসলিমের মধ্যেই ভিন্নমত তারা সহ্য করতে পারে না এবং প্রতিপক্ষকে কতল করা ছাড়া আর কোনো সমাধান খুঁজে পায় না। এরা প্রবলভাবে সুফি-বিরোধী ও সূফিদের মাজারবিরোধী। এরাই বোমা হামলা করেছে হযরত শাহ জালালের দরগায়। একাত্তরে এদের অবিশ্বাস্য নৃশংসতা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ওটার শেকড়ই হল ইসলামের ওই যুদ্ধবাজ ব্যাখ্যা। এই হিংস্রতারই প্রবল প্রকাশ সাম্প্রতিক ব্লগার-লেখক-প্রকাশক হত্যায়। ইসলামি রাষ্ট্রপন্থী নেতাদের কাউকে কোনোদিন দেখলাম না ভিন্নমতাবলম্বী কাউকে ডেকে আদব-লেহাজের সঙ্গে হাসিমুখে আলাপ-আলোচনা করতে। সংলাপ না হলে নিজের প্রতি অভিযোগের সত্যতা কীভাবে যাচাই হবে, কীভাবে প্রতিপক্ষের যুক্তিগুলোর মূল্যায়ন হবে, কীভাবে পরস্পরের বিশ্বাসের সবলতা দুর্বলতাগুলো উপলব্ধি করবে?

৮. অনতিবিলম্বে যা করতে হবে:

(ক) মুখে মিষ্টি কথা সবাই বলে, হিটলারও বলত। তাই মুখের কথা নয়, ইসলামি রাষ্ট্রপন্থীদের অতীত বর্তমানের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে;

(খ) আলেম উলামা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত-পরিচালিত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ইসলামি সংগঠন নাহদালাতুল উলামার প্রকাশিত “ইলিউশন অফ ইসলামি স্টেট্” (ইসলামি রাষ্ট্রের বিভ্রম)এর মতো বইগুলো ছড়িয়ে দিতে হবে।

(গ) দেশের কিছু মওলানা বুক ফুলিয়ে হুঙ্কার দেন ও ঘৃণা ছড়ান, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা ভুলে যান যে, তারা ফিতনা ছড়াচ্ছেন যা হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ।

সূরা বাকারা আয়াত ১৯১। অন্য মাওলানারা তাদের বিরোধিতা করলে ভালো হয়।

(ঘ) ধর্মে রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা নুতন কিছু নয়, খোদ সৌদি আরবেই আইন করা হয়েছে খোতবায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে ইমাম চাকরি হারাবেন– একাত্তর টিভি ৪ জানুয়ারি ২০১৭। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও সরকার নির্দেশ দিয়েছে খোতবায় অমুসলিমদের প্রতি যেন নেতিবাচক কথা না বলা হয়। আলেম-উলামা-মাওলানারা জাতিকে হেদায়েত দিন, এখন যার অভাব প্রকট এবং ওখানেই থেমে যান। যে শুনবে শুনবে, কেউ না শুনলে তার দায়িত্ব আপনার নয়। হুঙ্কারি ওয়াজ করে “ইসলাম প্রতিষ্ঠা” করার দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়নি, সে অধিকার আপনার নেই।

সবাইকে সালাম।

হাসান মাহমুদওয়ার্ল্ড মুসলিম কংগ্রেসের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য, মুসলিমস রিফর্ম মুভমেন্ট ও আমেরিকান ইসলামিক লিডারশিপ কোয়ালিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

২০ Responses -- “মসজিদে গণহত্যা ও জঙ্গি-মানস”

  1. Bidhan

    আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনার এই কথাগুলো মন দিয়ে শোনার মত কেউ নেই। কারণ, যতদিন উগ্র, উচ্ছৃঙ্খল, অপব্যাখ্যাকারীদের হাতে ধর্ম নামক এক মহৎ বিষয়ের দায়িত্ব থাকবে ততদিন বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এক জায়গায় নিরাপদে বাস করতে পারবে না। আর আপনি জঙ্গিবাদের কথা বলছেন ? বিশ্বে এমন কোন মুসলমান পাবেন যিনি কারণে অকারণে জঙ্গিবাদকে সমর্থন করেন না। আমি বলব খুঁজে দেখুন ! জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অদ্যাবধি কোন ধর্মীয় সম্প্রদায় কি একটা মিছিল করেছে ? যদি করেও থাকে তা রাজনৈতিক কারণে। বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, বাজারে, চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে একজন অমুসলিম হিসেবে হেঁটে দেখুন এখানকার মানুষের আলাপচারিতার বিষয়বস্তু কি ? কখনও মালাউন, কখনও ভারত, কখনও ইহুদি, কখনও খ্রীস্টান। এদের নিয়ে সারাদিন কি ধরনের কটুক্তি করা হয় তা একটু নিজের কানে শুনুন। আর ইউটিউব তো পুরোটাই দখলে।এভাবে একে অপরকে সহ্য না করার মানুষিকতা আগেরকার মানুষের ভিতর কম ছিল। আর এখন যে না বুঝে সেও অন্য ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা ভিন্ন মতাদর্শের মানুষকে নানাভাবে উৎপীড়ণ করে। এটা যেন একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাজার হাজার মানুষ মিলে ধর্ম অবমাননার অযুহাত তুলে আগুণ জ্বালাচ্ছে, আর আনন্দ করছে। অথচ অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিয়ত অবমাননা করছে এরাই। এদের তো বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। বিচার কেবল অমুসলিমদের জন্য ? এটা কি অন্যায়ভাবে বিচারের দোকান খুলে বসেছেন নাকি ? সুতরাং যতদিন সকল মত পথের মানুষের সাথে মিলে মিশে থাকার, অন্য ধর্ম কিংবা সম্প্রদায়কে নিয়ে কটূক্তি না করার, সস্পত্তি দখল না করার মানুষিকতা তৈরি হবে ততদিন এ পৃথিবীতে ধর্মীয় সংঘাত বড়বে বৈ কমবে না। কথায় আছে না, চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। আপনারা নিজেরা কতটুকু অন্য ধর্মকে সম্মান করেন তা একটু ভাবুন । সা¤্রাজ্যবাদ তথা সালিস মানি তালগাছ আমার এ মনোভাব থেকে বেড়িয়ে আসুন। অর্থাৎ হয় অন্য ধর্ম ও মত পথের মানুষের সাথে মিলে থাকার মানুষিকতা তৈরি করুন না হয় মওদুদীবাদ নিয়ে থাকুন আর যুদ্ধ করুন আর হত্যাযজ্ঞে মেতে থাকুন !!! ঠিক করুন কোন পথে যাবেন।

    Reply
  2. Ak A Hossain

    Dr. Hasan Mahmud has been writing on Islam and Islamic stuff for a long time, rather tirelessly. This one I find most interesting! If you one reads entire Quran and most of the Hadith literature, one gets mixed messages. It is not what we can call “One size fits all”. There are message of peace and messages of aggression.However, with medievalism gone, and with the rise of ‘nation states’ , nations , rightfully, turned religion into private matters. A state completely based on “Sharia laws” is unthinkable now. To most of the people Islam is all about prayer, Zakat , fasting, Hajj, etc. The are more to it: concept of “booty” “Dhimi” are unthinkable.

    Reply
  3. আবুল হাসেম

    স্যামুয়েল হান্টিংটন তার বিখ্যাত বই Clashes of civilization-এ লিখেছেন স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর বিশ্ব পরিস্থিতি কী হতে পারে। মার্কিনিরা টিকে থাকতে কী করবে তার ইঙ্গিত রয়েছে ওই বইটিতে। West versus the Rest শিরোনামে তিনি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমা ও আমেরিকার বিরুদ্ধে অন্য জাতির অবস্থান কী হতে পারে। পশ্চিমা দেশে জঙ্গি হামলা হান্টিংটনের শঙ্কাই প্রমাণ করছে। আমেরিকার জন্য একমাত্র মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী মুসলিম দেশগুলো হবে সফট টার্গেট, টাকা কামানোর আর ক্ষমতা জাহির করার মোক্ষম উর্বর ভূমি। তাদের গবেষক, রাজনীতিক ও প্রতিরক্ষা বাহিনী এক ধ্যানে এক জ্ঞানে চলে। নীতিনির্ধারকরা যে পথ দেখাচ্ছেন অন্ধের মতো তারা দেখানো পথে হাঁটছে। কী অবাক কাণ্ড এক মুসলিম অন্য মুসলিমকে হত্যা করছে। এ ভয়াবহ রক্তের খেলায় নিরীহ দেশগুলোও রক্ষা পাচ্ছে না। একই ধর্মের লোক হানাহানি, খুন-খারাবিতে লিপ্ত তা বিশ্বকে দেখিয়ে দেদার তেল-অস্ত্র-গোলাবারুদের সওদা করছে। আকাশ থেকে বোমা মেরে দেশকে মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আইএস ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশ করে। প্রফেসর পিটার, (কিং কলেজ লন্ডন) বলেন, আশি ভাগ যোদ্ধা ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশ, আমেরিকা ও আরব দেশের অনেক যোদ্ধা তাদের হয়ে লড়াই করছে। সৌদি আরব মদদ দিচ্ছে মোড়লের ইঙ্গিতে। সিআইএ ১৯৭০ সালে মুসলিম ব্রাদারহুডকে মদদ দিত সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা মার্কসবাদকে সামাল দিতে। আমেরিকার নীতি ঘুরপাক খায় তাদের পরম বন্ধু ইসরায়েল আর তেলের খনি লুটতরাজ নিয়ে। ইরান সিরিয়াকে সমর্থন করে বিধায় ফ্রি সিরিয়া আর্মির বিদ্রোহীদের ব্যবহার করে সিরিয়ার সরকার উত্খাতের চেষ্টা ও ইরানকে শাসাচ্ছে তারা। মার্কিনিরা আইএস তিন কারণে পালে। এক. শত্রুদেশের ওপর আক্রমণ করে ধনসম্পদ লুট করা। দুই. দেশ দখলের অজুহাত হিসেবে আইএসের উৎপাত বিশ্বকে দেখানো। তিন. নিজ দেশের মানুষকে ধোঁকা দিতে তাদের দিয়ে কিছু সহিংস ঘটনা ঘটানো। জঙ্গিদের প্রথম ব্রিডিং গ্রাউন্ড তৈরি করেছিল আফগানিস্তানের তালেবান দিয়ে। আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষিত জনগোষ্ঠী সহজে তাদের পাতা ফাঁদে পা দেবে না জেনে মাদ্রাসাপড়ুয়া সরল অন্তকরণের কিশোর-যুবকদের নির্বাচিত করে জঙ্গি সৃষ্টির উপাদান হিসেবে। ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান না হলে নৈরাজ্য থামবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলো তা চায় না। তাতে তাদের অস্ত্র ব্যবসা, তেলের লুটপাট বন্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বের সব মহাযুদ্ধই এই জার্মানি, ফ্রান্স, আমেরিকা, ইংল্যান্ড গুটি চালাচালিতে বাধিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ দেশগুলো গোঁয়ার্তুমি করে শান্তিপ্রিয় মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছিল। বর্তমান বিশ্বে আদি ও খাঁটি জঙ্গি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তারাই সারা পৃথিবীতে বিবাদ-বিসম্বাদ বাধিয়ে রেখেছে। জঙ্গির হাতে অর্থ-অস্ত্র দিয়ে ধান্দা হাসিল করছে। তাদের আছে পোষা মিডিয়া, গৃৃৃহপালিত মানবাধিকার সংস্থা, সর্বোপরি সেনাবল-অস্ত্রবল। জর্জ বুশের আমল থেকে মুসলমানদের জঙ্গি-সন্ত্রাস ব্রান্ডেড করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। ভাঁওতাবাজি করে ইরাক দখলে নেওয়ার পর প্রপাগান্ডা আরও বাড়িয়ে আরব বসন্তে গিয়ে ঠেকিয়েছে। আসল অপরাধীকে না ধরে আমরা শুধু উপসর্গ নিয়ে হৈচৈ করছি।

    Reply
  4. কামরুল

    মাত্র ২৫ বছর ব্যবধানের দুই বিশ্বযুদ্ধ দুনিয়ার ইতিহাস ভুগোলের আগা-পাশ-তলা বহু কিছুই উল্টেপাল্টে দিয়েছিল। বিশেষ করে ইসলামি জনগোষ্ঠীর সর্বশেষ খলিফার শাসনাধীন অটোম্যান সাম্রাজ্যকে প্রথমে ভেঙে দুই বড় টুকরোয় ভাগ করে নিয়েছিল ব্রিটিশ আর ফরাসি সরকার। এরপর দুই অংশেরই তস্য টুকরো টুকরা করা শুরু করেছিল। ব্রিটিশ অংশ থেকে এক বড় টুকরা ভাগ নিয়ে আজকের রাজতান্ত্রিক সৌদি আরব রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা (আবদুল-আজিজ আল-সৌদ) ইবনে সৌদের হাতে এর শুরু হয়েছিল ১৯৩২ সালে। ইরান ভীতি সৌদি আরবকে মনঃস্তাত্বিকভাবে এতটা চাপে ফেলেছে যে, দেশটি ক্ষ্যাপার মত আচরণ করছে। শুধু সৌদি আরব আরব নয়, একই ভাবে চাপে পড়েছে ইসরায়েল এবং আমেরিকাও। ফলে তারা শুধু ইরান নয়, যে কোন শিয়া মুসলিমকে ইরানের লোক এবং “ভঙ্কর শত্রু” মনে করতে শুরু করেছে। ইরান প্রসঙ্গে সৌদি অরব ও মিত্রদের সাম্প্রতিক হত্যাশা ও আত্মগ্লানির বড় বড় ক্ষেত্রগুলো হ’ল, সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতাচ্যূত করতে ব্যর্থতা এবং সেখানে আসন্ন পরাজয়, সব রকম প্রচেষ্টা এবং দৌড় ঝাঁপ চালিয়েও ইরানের সাথে জাতিসংঘ ও পশ্চিমাদের পারমাণবিক চুক্তি ঠেকাতে ব্যর্থতা এবং ইয়েমেনে লজ্জাকর পরাজয়।

    Reply
  5. কামরুল

    ১৯০৮ সালে ইরানে এবং পরে সৌদি আরব, লিবিয়া ও আরব বিশ্বের অন্য দেশগুলোয় ভূগর্ভস্থ তেলের খনি আবিষ্কৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্য পরিণত হয় অশোধিত তেলের বিশ্বের বৃহত্তম সহজে প্রবেশযোগ্য মজুদে। ইউরোপ-আমেরিকা তথা পশ্চিমা দেশগুলো ঘাঁটি গাড়ে এসব দেশে। শিল্প উন্নয়নের জন্য প্রায় সব তেল রপ্তানি শুরু হয়, এতে এসব অঞ্চলের শাসকরাও প্রচুর ধনী হয়ে ওঠে। বিনিময়ে তেল ছাড়াও পশ্চিমারা পায় এসব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের পরোক্ষ ক্ষমতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে উসমানি সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং ইরান, তুরস্ক, সৌদি আরবের মতো দেশগুলো স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চলতে শুরু করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ইউরোপ থেকে বিতাড়িত ইহুদিদের নিয়ে ফিলিস্তিন ভূখ-ে পৃথিবীর একমাত্র স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং আমেরিকা-সোভিয়েতের স্নায়ুযুদ্ধের জের ধরে বিভিন্ন সময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে জড়ায়। যার মধ্যে ১৯৪৮-এ আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, ১৯৫৬-এ সুয়েজ যুদ্ধ, ১৯৮০ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ারে হামলার পর জঙ্গি উৎখাতের জন্য আমেরিকা ২০০১তে আফগানিস্তান ও ২০০৩ সালে ইরাকে আক্রমণ শুরু করে। পরবর্তী সময় মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করলেও ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে এখনো সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধ চলছে। সমাধান হয়নি ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের সংঘাত।

    Reply
  6. কামরুল

    ঠিক ৫০ বছর আগে, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে আরবের ত্রাতা বলে খ্যাত মিসরের গামাল আবদেল নাসের পরাস্ত হন। অল্পকাল পর তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনের আশাও নির্বাপিত হয়। জন্ম হয় পিএলওর। আরবজুড়ে সামরিক ও রাজতান্ত্রিক স্বৈরশাসন আরও পোক্ত হয়। সেক্যুলার আরব জাতীয়তাবাদের জায়গায় ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান ঘটে। ইসরায়েল আরও আগ্রাসী হয়, দখল করে নেয় পূর্ব জেরুজালেমসহ সিরিয়া, মিসর ও জর্ডানের বিস্তৃত এলাকা। নাসেরের পতনে যারা খুশি হয়েছিল, সাদ্দামের পতনে যারা উৎসব করেছিল, ইরানের পতনের জন্য তারাই আবার জোট বেঁধে মরিয়া হয়েছে। ইতিহাস পুনরাবৃত্তিময়। প্রথমবার যে ঘটনা ট্র্যাজিক হয়, দ্বিতীয়বার তা নাকি পরিহাস হয়ে ওঠে। প্রথম আরব ঐক্যের পরাজয় ছিল ট্র্যাজিক। দ্বিতীয়বার ইরাক ধ্বংস আরব ও মুসলিম দুনিয়াকে পরিহাস করেছিল। এবার সম্ভবত ট্র্যাজিকমেডি দেখতে যাচ্ছে শান্তিকামী বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইসলামি দুনিয়ার শীর্ষ সৌদি বাদশাহের তলোয়ার-নৃত্য ট্র্যাজিকমেডিই বটে।

    Reply
  7. কামরুল

    সারা বিশ্বে ওহাবি মতাদর্শীরাই ইসলামের নামে সন্ত্রাস করে, মুসলিম হত্যা করে । এসব ওহাবিদের কারণে আজ মুসলিমদের যে কোন যৌক্তিক আন্দোলনকেই সন্ত্রাসে রুপ দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তাই আন্তর্জাতিক সমর্থন হারায়। রোহিঙ্গারা কয়েক যুগ ধরে নির্যাতিত হয়ে আসছে,। আর ধা-ছুরি দ্বারা ও যদি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে, তবে জঙ্গিবাদের বদনাম জুটে। আমেরিকা ওহাবি রাষ্ট্র সৌদি আরবের মাধ্যমে জঙ্গি তৈরি করে। আবার সেই জঙ্গিদের অজুহাতে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে। আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলাকারি ১৯ জনের ১৫ জনই ছিল সৌদি নাগরিক। আমেরিকা খুব ভাল করেই জানে সৌদি আরব ওহাবি জঙ্গি গোষ্ঠী তৈরির মূল ফ্যাক্টরি। তবুও আমেরিকা বলেন আর ইসরায়েল বলেন কেউ সৌদি শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা চিন্তা করেনা। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশনই নেয়না। কারণ জঙ্গিবাদ আমেরিকার স্বার্থ হাসিলের খুব ভাল একটা মাধ্যম আর এই স্বার্থ হাসিলে ওহাবিরা আমেরিকাকে বিরাট সুযোগ করে দিচ্ছে।

    Reply
  8. Dr.Mohd.Mozammel Haque

    Well writen.Thanks.
    Let us think Islam and the holy book are taken anywhere and see/decide what will be its impact in every day life of those homosapiens(the man)there.
    Then from Adam.Noah.Abraham,Moses,Jesus and Mohammad(GOD please bless them and many others)
    We see BATTLE FOR THE GAIN in every age.
    Now it has two ends one for self and the other one for other selves.
    Scientific development is due to second one and the gorgeous palace,tombs,mausoleum,the great wall are due to the first one and all go for making EGO everlasting.
    But this EGO and Godly ego can not go like rail lines parallel because ALLAH the supreme EGO does not want it.
    There are many homosapiens who do not understand it and making the whole earth unsuitable for living.If I accept other can not deny my right to live why should I deny their right to live.
    Let us consider it every time because a good man always do good except mistakes. So be careful every time of these homosapiens and accept their right to live till they threat my existence Ameen

    Reply
  9. Aizu

    Your articles are misleading in many ways !

    Firstly, Action of a Muslim/Muslim Banner Man does not represent Islam

    Secondly, Islam means Submission, a way of life – which includes Politics, Economics – Human Made Laws are no way better better than Laws of Allah

    Thirdly, People always Misunderstand any Information. Good example is same thing is taught in schools but not all students in the class understand the same. It’t not Islam’s fault because some people blow up themselves.

    What about your Jews and *** friends ( by the way they are just Banner Man of those Religions ) who are spreading ফিতনা in War Zones by bombing and in Peace Zones by Making Laws to Spreading Bribery, Interest, Weapons, Liquors, Drugs , Pornography ? Because the Govs. around the world DON’T CARE for Ordinary People.

    Here is an Example : Smocking is Bad, why ask Smokers to Quit ? Why does not the Government Ban and Shut Down Tobacco Companies ? Because, It’s Money – Tax Money, Pharmaceutical Money, Lobbing Money, Under The Table Money – You Name It !

    IF YOU REALLY WANT TO KNOW ISLAM, RESEARCH YOURSELF, ASK ALLAH FOR GUIDANCE – DON’T LISTEN TO THIS ANTI-ISLAMIC CONSPIRACY THEORIST.

    IF YOU DON’T LIKE THEN DON’T FOLLOW BUT DON’T BAD MOUTH ISLAM.

    Reply
  10. আলমগীর

    কে যে কাকে শিক্ষা দিল ? শুধুমাত্র ৫২জন নাস্তিকের কারণে ১৯১৭ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত প্রায় ১৪.৮ কোটি মানুষ মারা গিয়েছে। Democide (death by own government). by Dr. R. J. Rummel’ wrote —জোসেফ স্ত্যালিনকে ধরা হয় বিংশ শতাব্দীর কুখ্যাত গনহত্যাকারী হিসেবে, যে তালিকায় হিটলার এবং মাও সে-তুং ও আছেন। স্ত্যালীন সক্ষম হয়েছিলেন নিজের জাতিকে টুকরো টুকরো করতে। এই অপকর্ম তিনি করেছিলেন কারা অভ্যন্তরে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত এক্সটারমিনেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে। স্ত্যালীনের শাসনামলে ঠিক কতজনকে হত্যা করা হয় তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয় প্রায় কুড়ি মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেন এই গণহত্যাকারী। এই কুড়ি মিলিয়নের মধ্যে দুই মিলিয়ন হলো দুর্ভিক্ষ পিড়িত ইউক্রেনিয়ান কৃষক। স্ত্যালীন ১৯৩৭ সালে তাঁর কুখ্যাত `০০৪৪৭’ অধ্যাদেশ দ্বারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছিলেন সামাজিক ভাবে ক্ষতিকর মানুষ আখ্যা দিয়ে। এছাড়াও তিনি রাশিয়ান আর্মির সেনা সদস্য এবং বুদ্ধিজীবিদের পাঠিয়েছিলেন নির্বাসনে এবং হত্যা করেছিলেন নির্বিচারে। স্ত্যালীন এর কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যু বরণ করেছিলেন এবং কোটি কোটি মানুষ দুর্ভোগ পোহান। অবশেষে ১৯৫৩ সালে স্ত্যালীনের মৃত্যুতে রাশিয়ার ভাগ্য পরিবর্তন হয়। অবসান হয় চলমান গণহত্যার।
    ১৯৭৫ সালে খেমার রুজ বাহিনী কম্বোডিয়ার সরকার উত্খাতের মাধ্যমে কমিনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করে। কি হয়েছিলো ওইসময় কম্বোডিয়ায়?? ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি কম্বোডিয়ার বামপন্থী খেমার রুজ বাহিনী পলপটের নেতৃত্বে সংঘটিত করেছিলো এক নারকীয় গনহত্যা। বুর্জেয়া, সি আই এ’র এজেন্ট প্রভৃতি ধুয়া তুলে সেখানকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার ওপর চলেছে হত্যা,নির্যাতন, ধর্ষণ। ১৯৭৫-৭৯ এই ৪ বছরে তাঁরা হত্যা করে ২০ লাখের বেশি মানুষ। এরই প্রভাব পড়ে ডেমোগ্রাফিতে। মৃত্যু হার ২২.৫% থেকে লাফ দিয়ে ৪০% এ গিয়ে ঠেকল। ন্যাচারাল চেঞ্জ নেগেটিভ -৪৫০০০। খেমার রুজদের প্রথম কাজ ছিল সাবেক শাসন ব্যবস্থার সাথে যারা যুক্ত ছিল তাদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে হত্যা করা। এই তালিকায় সাবেক সরকারের সদস্য, সেনা সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী এমন কি সাধারণ মানুষ যারা এদের ক্ষমতা দখলকে ভালো চোখে দেখত না তারা সবাই ছিলেন। ধারণা করা হয়, স্বল্পস্থায়ী এই গণহত্যায় হতাহতের সংখ্যা দুই মিলিয়নের কম ছিলনা, যা কম্বোডিয়ার জনসংখ্যার কুড়ি ভাগ। সৌভাগ্যক্রমে ১৯৭৯ সালে আরেকটি কমিউনিস্ট গোষ্ঠী খেমার রুজদের পতন ঘটিয়ে তাদেরকে আত্নগোপন যেতে বাধ্য করে।

    Reply
  11. Azadi Hasnat

    ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান সীমাবদ্ধতা বহু ফিতনার জন্ম দিতে পারে। ইসলাম কম্পিলিট কোড অব লাইফ এটা স্বীকার করতে হবে। ইসলাম কোনো গতানুগতিক ধর্ম নয়। রাসুল স. কোনো গতানুগতি ধর্ম নেতা নন। নখ কাটা থেকে শুরু করে চুল পর্যন্ত, রান্নাঘর থেকে শুরু করে জাতিসংঘ পর্যন্ত ইসলামের বিধান আইন কানুন রয়েছে তা জানতে ও স্বীকার করতে হবে।
    ইসলামী ব্যবস্থা বরাবরই গতানুগতিকা, বাতিল, পুরনোপন্থার বিরুদ্ধে। এ কারণে রাসুল স. জীবনী জানতে হবে। তার মক্কী লাইফ জানতে হবে। ইসলাম মানেই হলো জীবন পরিচালনার একটা পূর্ণাঙ্গ কোড। এখানে জোর জুলুম অস্ত্র হত্যার কোনো স্থান নেই। গোটা কুরঅানই রাজনীতি, জীবন, ধর্ম সবই। এখানে রাজনীতি কিংবা ধর্ম আলাদা এর স্থান নেই। তা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন রাসুল স. ও চার খলিফা। সুফিবাদ আরও ১০০ বছর পরের সৃষ্ট একটা বেদাতি ধর্ম। এটার সৃষ্টি হয়েছে ইসলামকে অবমাননাকারী রাষ্ট্রনায়কদের মনোরঞ্জনের মাধ্যমে। এই বিকৃত সুফি ধর্মকেই ইসলামবিদ্বেষীরা ভুল করে মূল ইসলাম মনে করে এবং মানে। অথচ ইসলাম কল্পনা কিছু নয়, বাস্তব জীবনের সুন্দরতম দৃশ্যায়নই ইসলাম। এজন্য ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করলে আলাদাভাবে রাজনীতি করা লাগে না। ইসলামই রাজনীতি। এরমধ্যে সমাজনীতি অর্থনীতি কূটনীতি সবই আছে। মূলত ‘সৃষ্টি যার আইন চলবে তার’ এই ফান্ডামেন্টাল কোড অস্বীকারকারীরাই সুফি ধর্মের স্রষ্ঠা।

    Reply
  12. Bongo-Raj

    হাসান মাহমুদ সাহেব
    াাতথাস্ত — আপনার লিখার ৮ অধ্যায়ে যেই করনীয় গুলো প্রস্তাব করা হয়েছে তার সাথে পুরাপুরি একমত

    আপনাকেও সালাম–

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—