National flag - 30

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় নিয়ে আওয়ামী লীগ গর্ব করতেই পারে। কিন্তু আজ যখন বিজয় দিবস আমাদের দ্বারপ্রান্তে আর আমরা জাতি হিসেবে ইতিহাস ও অতীত নিয়ে এখনও বিতর্কে জানতে চাই, তাদের কি আসলে ইতিহাস ও সত্য ধরে রাখার বিষয়ে সত্যিকার মনোভাব কাজ করে? বাংলাদেশে এখন আর যাই থাক লোকের টাকার অভাব নেই। খবরে দেখলাম স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বাজেট নাকি সাত লাখ কোটি টাকা। একটা সময় এমন অংক শুনলে অনেক মানুষ মূর্চ্ছা যেতেন। এখন হবতো তা হবে না। কিন্তু তার মানে কি এই যে, কেবল টাকার মাপে আমরা স্বাধীনতা বিজয় এসব দিন বা ইতিহাস মনে করার মনে রাখার দায়িত্ব পালন করব?

যে ইতিহাসের গৌরবে আওয়ামী লীগ বিএনপি বা অন্যদের চাইতে এগিয়ে সে বিষয়ে তাদের একপেশে মনোভাব আর অনিচ্ছা কিংবা না-জানার যে ফাঁক তাতেই মূলত অনেক কিছু হাতছাড়া হয়ে গেছে আমাদের। স্বাধীনতার পরপর সময় পাননি বলে বঙ্গবন্ধু বা চার জাতীয় নেতা যা করতে পারেননি এত বছর পর আপনারা সেদিকে মনোযোগ দেন না কেন? স্বাধীনতা বা বিজয় সমুন্নত রাখার মানে কি অন্য দলের কাউকে গালাগাল করা কিংবা তাদের সমালোচনাতেই পার পাওয়া?

সেটাই কিন্তু করে চলেছে সরকারি দল। মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই পাওয়া জাসদ বা বাম নেতাদের মুখে যা শুনি তাতে বিচলিত বোধ করার বিকল্প থাকে না। কে-না-জানে তখনকার বাম শিবির ছিল দুধারায় বিভক্ত। সোভিয়েতঘেঁষা বামেরা ছিলেন আওয়ামী লীগের ছায়াসঙ্গী। তাদের নেতাকর্মীরা ছোটখাট বিরোধ ব্যতীত আওয়ামী লীগ আর বঙ্গবন্ধুর অনুগামী হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পরও আজ তারা আওয়ামীবিরোধী বলে পরিচিত। আর চৈনিক বাম বা জাসদের যারা লড়াইয়ের সময় এই যুদ্ধকে দুই কুকুরের লড়াই বা পরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর জায়গায় ছিলেন তারাই এখন মুখে ফেনা তুলছেন রাতদিন।

এই কারণে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বা ইতিহাস চাইলেও দানা বাঁধতে পারছে না। এই যে সরকারে থাকার সুবিধা এবং দীর্ঘ সময় সরকারি দলে থেকে সুবিধা নেওয়ার নেতারা একবারও কি ভেবেছেন আমাদের ইতিহাসে এত বড় বিজয়ের পরও আমাদের সেই উদ্যানটির নাম কেন বঙ্গবন্ধু উদ্যান বা বিজয় উদ্যান রাখা হয়নি? হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অবদান বা অতীত কেউ অস্বীকার করে না। তিনি বঙ্গবন্ধুর গুরুও বটে। কিন্তু তাঁর জীবন তো স্বাধীনতার আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। রেসকোর্স আমাদের সেই উদ্যান যেখান থেকে বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত হয়েছিল, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’। সেই ভাষণ আজ বিশ্বস্বীকৃত।

সে আনন্দে মাতোয়ারা হবার নাম কি স্কুল-কলেজ থেকে জোর করে শিক্ষক আর ছাত্রছাত্রীদের ধরে নিয়ে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা? না আগামী দিনের নাগরিকদের কাছে সেই উদ্যান আর ইতিহাস প্রাঞ্জল ও বাস্তব করে রাখা? যদি তাই হয় আমাদের নেতাদের মনে একবারের জন্যও কেন এই প্রশ্ন জাগে না যে, উদ্যানটির নাম কেন বঙ্গবন্ধুর নামে হল না? বঙ্গবন্ধুর নামে মেডিক্যাল হাসপাতাল কি জরুরি?

 

Bangabandhu - 35000
রেসকোর্স আমাদের সেই উদ্যান যেখান থেকে বজ্রকণ্ঠে ঘোষিত হয়েছিল, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’– সেই ভাষণ আজ বিশ্বস্বীকৃত

 

আমরা যদি কলকাতার দিকে তাকাই দেখব, তারা মেডিক্যাল কলেজ বা হাসপাতালের নামাকরণ করেছে স্বনামখ্যাত চিকিৎসকের নামে। এটাই তো হতে হবে। যিনি কালজয়ী একটি ভাষণে আমাদের দেশে-বিদেশে গৌরবদীপ্ত করলেন তাঁর সেই স্মৃতিময় উদ্যানটির নাম কী হওয়া উচিত তাহলে?

তার চেয়েও আর একটি বিষয় মনে জেগে থাকে। আর কি কোনোদিন আমাদের কাছে কেউ এভাবে আত্মসমর্পণ করবে? না করার দরকার পড়বে? বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে বীরত্ব বড় কম। হিন্দু রাজারা না জানত বীরের মতো আচরণ করতে না তাদের ছিল ভালোবাসা। নারী শরীর আর মদ বা নেশানির্ভর রাজারা কর তুলে আনন্দ আয়েশ করতেন আর দুশমনে এলে কাছার কাপড় তুলে পালাতেন! সে থেকে আমাদের ইতিহাস পরাজয় আর ভীরুতার।

প্রথমবারের মতো বাঙালি একাত্তরে প্রমাণ করে দিয়েছিল তারাও পারে। সে অসম যুদ্ধে পাকিস্তানের মতো একটি দেশ যেটি সামরিক শক্তি আর বল ছাড়া মেধাশূণ্যের কোঠায় তাদের আমরা হারিয়েছিলাম যুদ্ধে। ডিসেম্বরের এক হিমেল সন্ধ্যায় তখনকার রেসকোর্সে আত্মসমর্পণ করা পাকিদের চেহারা কি শুধু জাদুঘরে রাখলেই চলবে? যদি উদ্যানটির নাম ‘বিজয় উদ্যান’ হত তাহলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম জানত কেন এর এই নাম। যারা সেখানে কোনো বিকেলে ঘুরতে যেতেন তারাও জানতে চাইতেন, এর নাম বিজয় উদ্যান কেন, কীসের বা কোন বিজয় অর্জিত হয়েছিল এই মাঠে?

সে সুযোগ আমরা দিইনি। অথচ দিনরাত টেলিভিশনে, সর্বত্র বিজয় আর স্বাধীনতা নিয়ে তর্ক চলছে। আপনি দিল্লি গেলে দেখবেন তারা গান্ধীর সমাধির পাশে শক্তিস্থল নামে একটি জায়গা বানিয়ে নেহেরু ও অন্যদের স্মৃতি ধরে রেখেছে। আমরা কি চার নেতা বা মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ওসমানীর নামে এমন কিছু রেখেছি ঢাকায়? কেন রাখিনি? জানি এর যোগ্য জবাব নেই।

বাংলাদেশের রাজনীতির এই আরেক রূপ। ঝগড়া আর হানাহানিতে বহু আগে পথ হারিয়েছে শুভবোধ। তাই কাজগুলো ঠিকমতো হয়নি। বলছিলাম স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা বিজয়ের ঘটার কথা। এটা আরেক ফ্যাশন। মূলত সমাজের যে কী চিত্র তা আমরা সবাই জানি। খবরে দেখি আজ এখানে কাল ওখানে কোথাও-না-কোথাও অপমানিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। সবচেয়ে অধিক অপমান আমাদের সমাজের বদলে যাওয়ায়। ধর্ম বা বিশ্বাস আদিকাল থেকে চলে আসছে। ধার্মিক মানুষেরা রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামায়ও না। যারা ঘামায় তাদের আমরা চিনি। আজ সমাজ ও দেশজুড়ে তাদের দাপট কি অস্বীকার করার মতো? একদল মানুষ যারা মুখে বিজয় ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশ জাগাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন তারা কি তাদের আচরণ ও ভালোবাসায় মানুষের মন জয় করতে পেরেছেন আসলে?

বাস্তবে এরা মিডিয়া বা সমাজের এলিট অংশ বাদে এখন একেবারেই সংখ্যালঘু। যারা মূলত জনপ্রিয় তাদের আমি বলি ককটেল। এই ককটেল এমন এতে এক খাবলা মুক্তিযুদ্ধ আছে, এক চিমটি পাকিপ্রেম, কিছুটা আমেরিকা বা পশ্চিমা-ফ্লেভার আর অল্পস্বল্প ভারত। ব্যস, এটাই হল সেরা। বুঝে-না-বুঝে এর প্রিয়তা এত বেশি, আসল বা অকৃত্রিম বিজয় কিংবা ইতিহাস এখন কঙ্কালসার।

মানুষকে দোষ দেবেন না, হে রাজনীতিবিদগণ। মানুষ তাদের জীবন দিয়েও দেখেছে, লাভ হয়নি। খুব বেশি দিনের কথা নয়। আমাদের চোখের সামনে মরলেন নূর হোসেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ যিনি, তিনি এখন রাজদূত। তার দলকে নিয়ে পিংপং বলের মতো দোটানায় আছে বড় দুদল। কারণ তাকে ছাড়া গদিতে যাওয়া যায় না। এরপর আমরা যদি মানুষকে আদর্শের সবক দিই তারা তা কেন মানবে? কোন দুঃখে তারা তা মানতে চাইবে?

আমাদের সমাজে এখন একদিকে অন্ধকার, আরেকদিকে বেলেল্লাপনা। এমন আগে কখনও দেখা যায়নি। মানুষের মনে বা চিন্তায় আদর্শ কিংবা শুভবোধ আছে কি নেই সেটা দুরবিন দিয়ে দেখলেও বোঝা মুশকিল। অন্যদিকে সব কিছুতে আচার আর সংস্কার। পোশাক-খাবার সব মিলিয়ে মনে হবে এক সংস্কারমুখী জাতি আমরা। সেটাই যদি সত্য হত এই সমাজের তলায় এত অন্ধকার থাকে কী করে? কী করে সস্তা হয় নারীদেহ বা ঘুষের মতো উপসর্গ? কে-না-জানে দেশে কোনো কাজ হয় না উপরি ছাড়া? কে-না-জানে কতটা সহজলভ্য নারীশরীর?

আমাকে বলেছেন এমন বেশ কজন নারীকে চিনি যাদের রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ভালো রাখতে হচ্ছে নিজেকে। বস থেকে আর্দালি সবার কুনজর এড়িয়ে চলা সহজ কিছু নয়। এটা এমন রোগ, এখন রোহিঙ্গাদের বেলায়ও তার আছড় পড়েছে। শরণার্থী-বিষয়ক মানবতা আর সহমর্মিতা শেষ না হতেই শুরু হয়ে গেছে যৌনতা। খবরে দেখলাম রীতিমতো গ্রেপ্তারও হচ্ছে আমাদের ভাইবন্ধুরা। শরণার্থী মানে অসহায় আর বিপন্ন মানুষ। তাদেরও ছাড় দিতে রাজি নয় আজকের লোভী সমাজ। সেগুলো কি আমাদের জাতীয় চরিত্রের বদলে যাবার নমুনা নয়?

এই মানুষদের নিয়ে আপনি ডিজিটাল দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন, এটা শুনলে মনে হয় কলা গাছে আঙুর ফলতে চলেছে।

 

Afridi - 111
আর আজ তোমরা গালে উল্কি এঁকে মেরী মি আফ্রিদি বা পাকি পতাকা নিয়ে মাঠে যাও, এই কি দেশের প্রাপ্য?

 

রাজনীতি আমাদের একসময় মুক্তির পথ দেখাত। যখন এদেশের স্বাধীনতা আমাদের আরাধ্য আর পাকিদের কবল থেকে মুক্ত হবার চেষ্টা ছিল প্রবল, তখন রাজনীতি ছিল প্রধান হাতিয়ার। সে সুবর্ণসময় আজ বিগত। বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় অভিভাবকের তিরোধানের পর আমাদের রাজনীতিতে জগাখিচুড়ি দল বিএনপির জন্ম হয়। যতদিন আমরা বাঁচব আমাদের বলে যেতেই হবে, ইতিহাসে তার জন্ম বা দরকার যে কারণেই হোক, আমাদের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো এই দলের হাতেই মূলত পাকিকরণের শুরু। আজ এমন এক জায়গায় তা পৌঁছে গেছে, চাইলেও কিছু করা যায় না।

এ লেখা যখন লিখছি তখন সামাজিক মিডিয়ায় দেশের দুই প্রধান ক্রিকেটারের কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। যার মাধ্যম উর্দু। আরবি হলেও ধরে নিতাম এক ধরনের বিশ্বাসবশত তারা তা করেছেন। কিন্তু উর্দু কেন?

তাদের দেশের নাম বাংলাদেশ, তাদের জাতীয় পরিচয় আমাদের গর্ব আর তারা প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশের। তাদের ভাষা কেন হবে উর্দু? এর জন্যে তারা থোড়াই দায়ী। পুরো সমাজ আর দেশের ভেতরে এক বাইরে আরেক। যার পেছনে আছে এই রাজনৈতিক দলের ইন্ধন। যে প্রজন্ম আজ বিপিএল দেখছে, যারা নিজেদের সাকিব-তামিম-সৌম্য বা তাসকিনের গর্বে আনন্দ করছ, তোমরা ভাবতেও পারবে না কী কঠিন সময় আমরা পার করেছিলাম। আমরাও ক্রিকেট খেলতাম। তবে আমাদের ছিল না আসল বল বা ব্যাট কেনার সামর্থ্য।

আমার এক কবিবন্ধু একবার ম্যাচের ওপেনিং করতে এসেছিল অদ্ভূত এক প্যান্ট পরে। না-পাজামা না-পাতলুন ধরনের সে প্যান্ট দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসলেও আমরা জানতাম এর পেছনে কারণ আছে। আমার সেই সরল মেধাবী কবিবন্ধুটি অকপটে বলেছিল তাদের যৌথ বড় পরিবারে নতুন প্যান্ট কেনা বিলাসিতা। তাই সে বাবার প্যান্ট কেটে এটা বানিয়ে নিয়েছিল।

কিন্তু সে সময় আমাদের ঐশ্বর্য ছিল ভালোবাসা। আজ যে প্রজন্ম নিজেদের মাঠে দেশ-বিদেশের সেরা খেলোয়াড়দের অনায়াসে দেখতে যাও তারা জান না আমরা এদের স্বপ্ন ছাড়া আর কোথাও দেখতে পেতাম না। আমাদের সবার বাড়িতে টেলিভিশন ছিল না। কোনো এক বন্ধুর বাসায় সবাই মিলে একসঙ্গে ক্রিকেট বা ফুটবল দেখার আনন্দ আর নিজে নিজে পপকর্ন খেয়ে দেখার আনন্দ এক নয়। সেই সমবেত উদযাপন আজ কি আসলেই শেষ হয়ে গেছে?

যে প্রজন্ম এই দেশকে সামনে নেবে তাদের বলি, তোমরা জান না আমাদের সম্পদ বা প্রাচুর্য কম থাকলেও দেশপ্রেমের ঘাটতি ছিল না। যে কারণে পাকি ক্রিকেটাররা চট্টগ্রামে এসে দেশের পতাকা আর মানুষকে অসম্মান করার ফল পেয়েছিল হাতে হাতে। সে এক আশ্চর্য দৃশ্য! মেঘলা দুপুরে চট্টগ্রামের পুরনো সে ষ্টেডিয়ামে কিছু তরুণ জাতীয় পতাকা কাঁধে গ্যালারিময় ঘুরতেই জেগে উঠেছিল মানুষ। তখন চাইলেই পতাকা কেনা যেত না। হয়তো বানিয়েই এনেছিল তারা। আর সে পতাকা মুহূর্তে আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছিল, আর যা-ই যাক না কেন, দেশের সম্মান ও পবিত্রতায় ছাড় দেওয়া যাবে না। বাকিটা পাকিদের জন্য ইতিহাস।

আর আর আজ তোমরা গালে উল্কি এঁকে মেরী মি আফ্রিদি বা পাকি পতাকা নিয়ে মাঠে যাও। এই কি দেশের প্রাপ্য?

আজ এই ডিসেম্বরে নিজেদের সমালোচনা আর প্রকৃত কাজগুলো ছাড়া এগুনো যাবে না। কথা আর উৎসবে বিজয় উদযাপন হবে, লালন হবে না। হবে না স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের দেশ নির্মাণ। সাম্প্রদায়িকতা, অন্ধত্ব, সংকীর্ণতা, পাশাপাশি দলবাজি– এর বাইরে একটি মুক্তদেশ আমাদের স্বপ্নই থেকে গেল।

জানি না আগামী প্রজন্ম এ থকে বের হয়ে নতুন কিছু দিতে পারবে কি না। জয় হোক বাংলাদেশের। এই মাসে তার বুকে জেগে থাকা আনন্দ কেউ কেড়ে নিতে পারেনি। পারবেও না।

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

২৯ Responses -- “যে দেশ চেয়েছিলাম যে দেশ পাইনি”

  1. russell asraf

    অসংখ্য ধন্যবাদ এবং অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই লেখককে। দেশে পড়ালেখা, খেলাধুলা, আচার-সংস্কৃতি, নাগরিক উন্নতি ইত্যাদির কিচ্ছু নাই। বরং সমাজ বিধ্বংসী সর্বপ্রকার আয়োজন আনাচে- কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। তথ্য প্রযুক্তি খাত, বিজয় দিবস, দিবস পালনে ব্যস্ত থাকে বাংলাদেশ। অথচ, হলফ করে বলতে পারি যে, বিগত পাঁচ বছরে অধ্যয়নকারীদের শতভাগ শিক্ষার্থীর তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই।

    Reply
  2. Dr.Mohd.Mozammel Haque

    Though it becomes personal I beg pardon I want to ventilate my opinion through it.
    Bangali rey bangali rekhechho manus koroni-remember this versatile and famous quotation with- His will.At one end homosapien in the good form and nature and in the other end homosapien as-manus koroni -non human.
    So what we see every day is a battle for gain and this battle is changing its expression from -give me in your creator’ sake to -it is my right.Again this creator’ sake has changed to —-‘ sake and fill up this gap with any party leader’ name and pass comfortable days- money and wealth will run at you.
    So Mr.Gupta do not worry.We can not change only the Ganga,the Padma,the Meghna other wise we can change anything even head to earn money.

    Reply
    • Nebedita Dey

      Mr. Islam, I think you did not understand what Ajoy Das Gupta try to explain and high light our mentality. We forget everything very quickly. Just an example, in 1971, when Pak Army attacked women hostels in Dhaka, raped,———– , I would not say “Pakistan Zindabad”. Your education, beliefs and mentality will divert your own path.

      Reply
      • Najim

        Dear Nebedita, I regret to shame on me this guy’s name Islam! These people always putting questions on Freedom of Bangladesh. He might be enjoy if any Pakistani would like to marry his daugther or sister! So please dont count them but there are huge Bangladeshi are beside them who love Bangladesh from their deep of the heart!

  3. নেহাল রায়হান

    রাজাকাররা চায় দেশ পাকিস্তান হউক।

    ভারতীয় দালালরা চায় দেশে ভারতের অঙ্গরাজ্য হউক।

    লেখক অজয় দা বার বার ভারতের উদাহরণ দিচ্ছেন। উনি কি দ্বিতীয়টি চান ???

    Reply
  4. মো: মাহবুব আলী

    তারপর আমি একজন সরকারি কর্মচারী হলাম। কিভাবে কাউকে ঠকিয়ে নিজের আখড়া গুছাতে হয় তা শিখলাম।
    তারপর আমি একজন রাজনীতিবিদ হলাম। কিভাবে দেশের মা বোন এক করে ; দেশ গড়ার নামে লুটপাট করতে হয় তা শিখলাম।
    ফের আমি একজন নষ্ট পুরুষ হলাম।যার পতিতালয়ে হর-হামেশাই যাতায়াত। সেখানে বুঝলাম আমি কাম কি? পতিতাও হতে চেয়েছিলাম ; কিন্তু মনুষ্য জাতি আবার নারী পুরুষে বিভক্ত। আমি পুরুষ হওয়ায় পারলাম না।
    তাই আমি একজন নারীবাদী, মুক্তমনা, সৃজনশীল বুদ্ধিজীবী হলাম।সেখান থেকে শিখলাম কিভাবে কোন না কিছু না করেই নিজেকে মহাপুরুষ বানানো যায়। কিভাবে সাহায্যের নামে এন.জি.ও খুলে গরিব্দের রক্ত চুষে খাওয়া যায়।
    অতঃপর আমি একজন ধর্মীয় যোদ্ধা হলাম।একই লাইব্রেরিতে থেকেও কোরআন, গীতা,বাইবেল যুদ্ধ না করলেও ; আমি ঠিকই যুদ্ধ করেছি।
    আমি অবশ্য প্রেমিকও হয়ে ছিলাম।কিন্তু দামী মেকাপের পর্দায় ঢাকা প্রেয়সীরা ভালবাসতে জানে না।তাদের দৃষ্টি প্রেমিকের মানিব্যাগে নিবদ্ধ।
    পরে আমি অন্য রকম প্রেমিক হলাম। যে কিনা প্রেম খুঁজে প্রেমিকার দেহের ভাজে। আমি বাবাও হয়ে ছিলাম।সেই বাবা যে মেয়েকে ধর্ষণ করে।
    এত রূপে ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন একটাই
    কে ভালো
    মানুষ নাকি পিশাচ????

    Reply
    • Bonfo-Raj

      জনাব মাহবুব আলী

      আপনার আঁকা ছবিটা চমৎকার, এটা বোধ হয় দুনিয়ার সব দেশের মানুষের বেলায়ই কম বেশী প্রযোজ্য- যেখানে কম তাদের আমরা উন্নত জাতি বা দেশ বলি , আর যেখানে বেশী তাদেরকেই আমরা বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া পাকিস্থান ইত্যাদি বলি।
      আসলে আমরা জনগনই সব দোষের মুল, কারন আমাদের মাঝ থেকেই,
      সরকারী চাকুরে, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, মিলিটারী, পুলিশ, আন্সার, রিকসাওয়ালা, রাজনিতিবিদ, মসজিদের মোল্লা, মুয়্যজ্জিন, স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইত্যাদিরা আসেন।
      আসল কথা, সমাজের যারা খারাপ, তারা সবাইই এই জনগ্নের মাঝখান থেকে আসা, আসমান থেকে নাজিল হওয়া মহাখারাপ লোকজন নয়!!!!

      Reply
  5. Abul Kalam

    যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটি গবেষকরা জানিয়েছেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষ দিন দিন অলস এবং বুদ্ধিহীন হয়ে পড়ছে
    এভাবে যদি চলতে থাকে তবে আগামী একশো বছরে মানুষ নির্বোধ সরীসৃপ প্রাণীদের মতো হয়ে যাবে ।
    .
    এখনই হয়তো খেয়াল করে দেখতে পাবেন । মানুষের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আবেগ, বিবেক, অনুভূতি, মায়া, ভালোবাসা । মানুষ গুলো কেমন যেন দিন দিন রোবটের মতো হয়ে যাচ্ছে এর একটাই কারণ প্রকৃতির সাথে আমাদের কোন নিবিড় সম্পর্ক নেই । চার দেয়াল আর পিসি মোবাইলের স্কিনে আমরা বন্দী । আমরা ঘর থেকে বের হই না । চেয়ে দেখিনা আকাশের ঐ শুভ্র মেঘ অথবা চাঁদের জ্যোৎস্না । উপভোগ করিনা প্রকৃতির বিশাল সৌন্দর্য । অনুভব করিনা মানুষের সূক্ষ্ম অনুভূতি গুলো । আবিষ্কার করি না পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জ্ঞানগর্ভ রহস্য গুলো ।
    .
    আমি আপনাদের দেশান্তরী হতে বলছি না । আমি শুধু বলছি ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন । চার দেয়ালে নিজেকে বন্দী করে রাখবেন না । ইদানীং কালে ডিপ্রেশন শব্দটি খুব জোরে সোরে উচ্চারিত হচ্ছে এর একটাই কারণ নিজেকে বন্দী করে রাখা, নিজেকে অন্ধ করে রাখা ।
    .
    হয়তো ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজন আছে, প্রয়োজন আছে তথ্য প্রযুক্তির কিন্তু প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, মানুষের দুঃখ বেদনা, কষ্ট গুলোকে আপনাকে চোখ মেলে দেখতে হবে । অনুভব করতে হবে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় গুলো । আর এগুলো কে উপলব্ধি করার একটাই মাধ্যম, চার দেয়ালের বন্দী দশা থেকে নিজেকে মুক্ত করা । যখনই আপনি মুক্ত হতে পারবেন তখনই আপনার জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি হতে থাকবে । সেই জ্ঞান কোন পুঁথি গত জ্ঞান নয় সেই জ্ঞান একেবারে সৃষ্টি কর্তা প্রদত্ত নিঃসৃত জ্ঞান ।

    Reply
  6. আহমেদ সজীব

    “দেশের হাল-হকিকত কেমন?কেউ বলবেন,আমরা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছি।আবার কেউ বলবেন, দেশ রসাতলে যাচ্ছে। সবাই সব বিষয়ে একমত হবেন,এটা ভাবা যায় না। কোনকালেই ‘এক মত এক পথ ‘বলে কিছু ছিল না। এখনকার পরিস্থিতি নিয়ে দুকথা বলার আগে দেশের দিকে, ইতিহাসের দিকে একবার দু-চোখ মেলে দেখা উচিত। যেমনেটা একটা “রক্তপাতহীন বিপ্লব “”লক্ষ্য হাসিলের জন্য যেকোন পথই বৈধ! এই অমোঘ সত্য আমাদের রাজনীতিবিদেরা এখন সকাল-সন্ধ্যা জব করেন। রাষ্টক্ষমতা দখলের যে স্থুল রাজনীতি, সেখানে সুফি-দরবেশদের জায়গা নেই। আজমির শরিফ গিয়ে কেউ হয়তো খাজা বাবার দরবারে চাদর চড়াবেন ঠিকই,কিন্তু তাঁর জীবনাচরন কিংবা দর্শনকে ভাবজগতে ঠাঁই দেবেন না। কারন,রাজনীতিতে সুফিবাদের জায়গা নেই।এটা একটা যুদ্ধ।এখানে আছে নানান পক্ষ।জয়ের জন্য সবাই মরিয়া।নেতা তুমি এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে।☺
    দেশটা ওপরে ওপরে ফুলেফেঁপে উঠছে।চওড়া সড়ক,লম্বা সেতু, বিশাল বাজেটে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। ভেতরে ঘুন ধরেছে, ক্রমাগত ক্ষয়ে যাচ্ছে। একটা সময় আসবে, যখন প্রশ্ন উঠবে, তাহলে আমরা স্বাধীনতা চেয়েছিলাম কেন?কেন লাখ লাখ মানুষ জীবন দিলেন, সস্রম হারালেন?কেন??☺

    Reply
    • Bonfo-Raj

      The otherday, I checked the overall crime status of world countries, weirdly it is noticed that USA is much more a ahead of Bangladesh, in severe crimes like Rape rate, homicide rate, kidnapping rate etc.
      Here rate means, out of 1 millon population how many crimes are happend in each country. ( source internet)

      But it doesn’t mean we should not be like Singapore or Japan, where crime rates are surprisignly low.

      Reply
  7. সুরুজ বাঙালি

    কুনো উদ্যান বা কুনো ময়দানের নাম বঙ্গবন্ধুর নামে রাখলেই দেশ প্রেম জাহির হয় না। আপনি ভারতের উদাহরণ দিলেন। বুঝাই যায় এদেশে যেমন পাকিস্তানপন্থী আছে তেমন ভারত পন্থী লোক কম না।

    আর আপনি দেখবেন পশ্চিমা দেশ গুলোতে দেখবেন জাতীয় পতাকার তৈরী প্যান্ট কিংবা জুতা পরে ঘুরে বেড়ায়। তাই বলে কি ওই দেশগুলার মানুষের দেশপ্রেম কম ??? পশ্চিমাদের দেশপ্রেম দুনিয়ার অনেক জাতির চাইতে বেশি। কারণ তারা জানে দেশপ্রেম মানে জাতিরজনকের স্তূতি গাওয়া নয়। তারা জানে দেশপ্রেম মানে দুর্নীতি না করা, দেশের আইন মেনে চলা, উল্টা দিকে গাড়ি না চালানো, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ না হওয়া , কুনো রাজনৈতিক দল বা গুষ্ঠিকে তৈল মর্দন না করা , রাষ্ট্রের কর ফাঁকি না দেওয়া , কুনো রাজনৈতিক দলের বুদ্ধিজীবী সেজে অন্যায় সুবিধা বাগিয়ে না নেওয়া। সর্বোপরি সৎ থেকে দেশের প্রতিটি মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করা।

    আর আপনি বলছেন একটা ময়দানের নাম বঙ্গবন্ধুর নামে রাখলেই দেশপ্রেম পরিচয় পাওয়া যায়।

    আপনার বলা উচিত, কুনো ময়দান বা অবকাঠামোর নাম বঙ্গবন্ধুর নামে না রেখে সৎ এবং দুর্নীতি মুক্ত দেশ গঠন করলে প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যাবে আর বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান ও দেখানো হবে।

    Reply
  8. আবদুর রাজ্জাক

    পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বর্তমান প্রধানমন্রী নওয়াজ শরীফকে দুর্নীতির দায়ে প্রধানমন্রী হিসেবে অাজীবনের জন্য অযোগ্য ঘোষানার ৩ ঘন্টার মধ্যে, কোন প্রকার হামলা,ভাংচুর, হরতাল ছাড়াই নওয়াজ শরীফ পদত্যাগ করলেন..!!! অবাক হবার প্রয়োজন নেই। ইহাই সত্য ঘটনা, যেটা গত টার্মেও ইউসুফ রাজা গিলানির উপর ঘটেছিল। আসলে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি হামলায় বিধ্বস্ত একটা পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র যে পৃথিবীর বুকে দাড়িয়ে আছে, তার প্রধান কারন হল পাকিদের এই স্বাধীন বিচার ব্যাবস্হা। পাকিস্তানের জনগনের তাদের দেশের রাজনীতিবিদদের উপর তেমন আস্তা নেই, তাদের আস্তার জায়গা দুইটা। ১.সেনাবাহিনী ২. স্বাধীন বিচার বিভাগ.. আর এই প্রতিষ্ঠানগুলো জনগনের আস্তার প্রতিফলন দিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর পর… তবে উপমহাদেশের রাষ্ট্র হয়ে পাকিস্তানে মাঝে মধ্যে যে এমন নজির দেখা যাচ্ছে এটাই অভাক করার বিষয়। আমরা এমনই একটি দেশ চেয়েছিলাম,,,,,,,,,,,,দূর্ভাগ্যের বিষয় হলেও সত্য ৪৬ বছরেও আমাদের বিচার বিভাগ এমন স্বাধীনতা পায়নি।

    Reply
    • Najim

      As you said Pakistan crashed by terrorist, then nothing can say! Killing people in mosque! They are the people most visited porn sides. If we compare them with us, Bangladesh is higher income per capita! Even though any one here love Pakistan then they can go there. Bangladeshis are open the door but one way! Because we dont want any one import terrorism from Pakistan!

      Reply
  9. আবু আমীন

    আমাদের নেতারা উপার্জন করতেন নিজেরা খেতেন কর্মীদের খাওয়াতেন রাজনীতি করতেন। সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ, কামরুজ্জামান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মনসুর আলী, শেখ আবদুল আজিজ, যশোরের রওশন আলী, সিরাজগঞ্জের মোতাহার হোসেন, সিলেটের দেওয়ান ফরিদ গাজী, পীর হাবিবুর রহমান, আবদুস সামাদ আজাদ, কুমিল্লার জহুরুল কাইয়ুম, নেত্রকোনার মমিন ভাই, জামালপুরের অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম, শেরপুরের নিজামউদ্দিন, টাঙ্গাইলের আবদুল মান্নান ভাই কার কথা বলব, প্রায় সবাই উপার্জন করতেন নিজে চলতেন দল চালাতেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ কোনো বড় অনুষ্ঠানে এলাকার জনসাধারণ দুহাতে সহযোগিতা করত। সে মওলানা ভাসানীর কৃষক সম্মেলন হোক আর অন্য কোনো অনুষ্ঠানই হোক। শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধু হয়ে ’৭০-এর পয়লা ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল গেলে প্রান্তঃসীমা থেকে শহর পর্যন্ত যে দেড়-দুইশ গেট করা হয়েছিল। সেই গেটের সানন্দে খরচ বহন করেছিল এলাকার জনগণ। আগে যাদের বিত্ত ছিল তাদের চিত্তও ছিল। জহুরুল ইসলাম ভিক্ষুককে পয়সা দেওয়ার মতো অবহেলা নিয়ে আমাদের কখনো সহযোগিতা করেননি। একটা কাজের কাজ করছেন তার সহযোগিতা দেশের কাজে লাগছে এমন মনোভাব নিয়েই করতেন। আমি চিনতাম না, লতিফ ভাই আমাকে পাঠিয়ে ছিলেন হোটেল পূর্বাণীতে এ আর খানের অফিসে। ’৬৯-এ টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের জন্য জাহাজ ব্যবসায়ী নাগরপুরের এ আর খান যে সম্মানের সঙ্গে আমার হাতে টাকা দিয়েছিলেন তা ছিল অভাবনীয়। ব্যবসায়ী এ আর খান কসকো গ্রুপের মালিক জাকারিয়া খানের বাবা খুব সম্ভবত আতাউর রহমান খান যাদের কাছে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য চাঁদা চাইতে গেলে বড় সম্মান করে চাঁদা দিতেন। আজকাল যারা তথাকথিত ধনী তাদের বিত্ত আছে চিত্ত নেই, তারা চাঁদা দিয়ে বা না দিয়ে অগোচরে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে যা বলেন তা শোনার অযোগ্য।

    Reply
  10. আবু আমীন

    ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি না করলে দেশের দুর্নীতি অর্ধেক আপনা-আপনি শেষ হয়ে যাবে। ’ বাহ্যিক দৃষ্টিতে তার কথার অবশ্যই যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তার কথাটি সঠিক নয়। আসলে এখন প্রকৃত রাজনীতিবিদরা রাজনীতিতে নেই। প্রকৃত রাজনীতিকরা রাজনীতিতে থাকলেও তারা ক্ষমতা ও গুরুত্বহীন এবং কোনো দুর্নীতি করে না। কারণ তাদের রাজনীতিতে যেমন গুরুত্ব নেই, দুর্নীতি করারও ক্ষমতা নেই। এখন রাজনীতি পরিচালনা করে অরাজনৈতিক ব্যবসায়ী বা অন্যান্য ব্যক্তিরা। অরাজনৈতিক লোকজন রাজনীতির মাঠ ভরে ফেলে রাজনীতিকে কলুষিত করছে। এখনো তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে, যারা আগাগোড়া রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা এখন নিঃস্ব সর্বস্বান্ত। আমাদের নেতারা রাজনীতিতে টু-পাইস কামানো যায় এটা ভাবতেও পারতেন না। এসব ছিল তাদের চিন্তার অতীত। আমরাও সেই ধারাবাহিকতায় চলার চেষ্টা করেছি। কমিটি গঠন, রাজনৈতিক পদ অদলি-বদলি এসব করে টাকা-পয়সা পাওয়া যায় আমাদের চিন্তায় ছিল না। প্রতি বুধবার বাংলাদেশ প্রতিদিনে পীর হাবিব লিখে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের পথ ধরে পীর হাবিব দুর্নীতি নিয়ে চমৎকার একটি লেখা লিখেছে। বহু পাঠকের সঙ্গে আমাকেও নাড়া দিয়েছে। তার লেখার সঙ্গে প্রায় সবটুকুই একমত। কিন্তু দ্বিমত পোষণ করি, প্রকৃত রাজনীতিবিদরা এখনো দুর্নীতির পাঁচ ভাগও করে না। কারণ দুর্নীতি এমন একটা কলাকৌশল তা শিখতে হয়, চরিত্র হারাতে হয়, বিবেক-বিবেচনা, ন্যায়-সত্যকে বর্জন করতে হয়। এখনো সবাই সে সব পারে না। সে সবের জন্য যতটা খেলো বিবেকহীন হতে হয় সামান্য রাজনীতি করলেও সহজে তেমন হওয়া যায় না। রাজনীতির একটা মহিমা আছে। রাজনীতি ভালোবাসা জাগায়, মানবতা জাগায়, সম্মান ও মর্যাদাবোধ জাগায়। একটা চরিত্রহীন অথর্বের চাইতে সাধারণ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তৃণমূল পর্যায়ের একজন কর্মীর মেরুদণ্ড অনেক শক্ত, অনেক চনমনে। রাজনীতির সঙ্গে উঠাবসা যে কোনো মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ অনেক বেশি। তাই রাজনীতিবিদ নয়, রাজনীতিক কর্মকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রে কলুষিত হয়ে গেছে। ধুয়ে-মুছে ঝাড়পোছ করে রাজনীতি কিছুটা কলুষমুক্ত করা গেলে এবং দলে কর্মীদের মতামতের প্রাধান্য পেলে ভোটার নির্বিঘ্নে তাদের ইচ্ছামতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারলে দেশের অর্ধেক দুর্নীতি আপনা-আপনি যে বন্ধ হয়ে যাবে, এতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। কিন্তু ঢালাওভাবে রাজনীতিকরা দুর্নীতি করে—এ বক্তব্যের সঙ্গে কখনো একমত পোষণ করতে পারি না। আগে রাজনীতিকরা রাজনীতি করত। রাজনীতি স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ছিল। এখন বেশিসংখ্যক দুর্নীতিবাজরা শক্তি ও অর্থের বলে রাজনীতি দখল করে আছে আর রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাত থেকে বেদখল হয়ে গেছে। ভোটারের ভোট নেই, রাজনীতিবিদদের রাজনীতি নেই। তাই দেশ দুর্নীতিতে ছেয়ে আছে। কৃষক যখন খেত বাঁচাতে বেড়া দেয়, সেই বেড়ায় খেত খেলে কৃষকের কিছু করার থাকে না, তেমনি রক্ষক ভক্ষক হলে দুর্নীতির গলা টিপে ধরা যায় না। যে গলা টিপে ধরবে সেই যদি দুর্নীতি করে তাহলে তার গলা টিপবে কে? এরকম সমস্যা আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ দুর্নীতি এবং যেভাবে তা শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছে তার তুলনায় রাজনীতি একেবারেই ম্রিয়মাণ।

    Reply
  11. নিশাত

    একটি দেশ থেকে যখন কেউ নোবেল পান তখন এটি কেবল ব্যক্তি পর্যায়ে নয় বরং একটি দেশের জন্য বিরাট সুনাম বয়ে আনে। আমার জানামতে বাংলাদেশ থেকে কেবল হাসিনা ই ছিলেন শান্তিতে নোবেল পাওয়ার ভাগিদার। সে হিসেবে হাসিনা নোবেল পেলে কেবল তিনি ই প্রশংসিত হতেন তা নয় বরং বাংলাদেশ ই বেশি প্রশংসিত হতো এই ভেবে যে- শান্তিতে দুটি নোবেল এখন বাংলাদেশের ঝুলিতে। আহা! যে দেশ দূর্নীতিতে ভরপুর সে দেশে কি না দুজন নোবেল জয়ী আছেন! তাও আবার শান্তিতে!
    হাসিনা নোবেল পাওয়ার যোগ্য কি না সেটা নিয়ে আমি কখনোই চিন্তিত ছিলাম না। আমি খুব করেই চেয়েছিলাম- কোন যোগ্যতা না থাকলেও হাসিনা শান্তিতে নোবেল পাক। খালেদা থাকলেও আমি এই কয়েকটি বাক্যই লিখতাম, মনেপ্রাণে চাইতাম নোবেল খালেদাই পাক। চিৎকার করে সাপোর্ট দিয়ে যেতাম- নোবেল খালেদা ই পাওয়ার যোগ্য।
    হাসিনা নোবেল পান নি। আমি অবশ্যই ব্যথিত। আমি হয়তো ৩ নম্বর জাতি (কেউ বিশ্বাস করুন আর না করুন) তাই আমার মত অনেকেই ৩ নম্বর জাতীয়তা নিয়ে আমার মত ব্যথিত হতেই পারেন। না হলেও অবশ্য অবাক হবো না।
    মন্তব্য: প্রতিপক্ষকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানানোর মন মানসিকতাও রাজনীতিরই অংশ। কোন ব্যক্তি যদি একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তবে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে তাকে সমর্থন দেওয়াই কি শ্রেয় নয়?

    Reply
  12. কামরুল

    এই দেশে ফ্যাসিবাদ শেকড় গেঁড়ে বসেছে আপনাদের হাত ধরে ইমরান সাহেব । আপনারাই তিনবছরের শিশুর গলায় তুলে দিয়েছিলেন —- “ফাঁসি চাই”… … “ফাঁসি চাই” শ্লোগান । আদালতকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সংস্কৃতি আপনারাই জেঁকে বসতে দিয়েছেন। চেতনার দোহাই তুলে মোটা দাগে পুরো দেশটাকেই বিভক্ত করে দিয়েছিলেন আপনারা ।
    আপনারা হয়ে উঠেছিলেন প্যারালাল আরেকটা সরকার। ক্ষমতা মদমত্ত এই আপনাদের চোখে তখন সরকারের কোন অন্যায় চোখে পড়েনি । আপনারা তখন বাংলা পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
    ভাগ্যের কি পরিহাস, “ফাঁসি চাই” “ফাঁসি চাই” শ্লোগানে শাহবাগ মোড় কাঁপিয়ে দেওয়া বিপ্লবীদদের নামেই আজ আদালত প্রাঙ্গনে শ্লোগান উঠে —- “ফাঁসি চাই … … ফাঁসি চাই, ইমরান এইচ সরকারের ফাঁসি চাই !” সেই সাথে ডিম থেরাপি তো আছেই । এতকাল যাদের পারপোস সার্ভ করেছেন আজকে তাদের হাতেই দাবড়ানি খেতে হয়। পঁচা ডিমে ভারী দুর্গন্ধ, তাই না মি. ইমরান !!!
    আপনাদের ভরা যৌবনেই বলেছিলাম—
    আজ যাদের মন সংসদ থেকে শাহবাগ ছুটে যেতে চায় সে তারাই একদিন আপনাদেরকে পরিত্যক্ত কন্ডমের মত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলবে । সেটিই হয়েছে । আপনারা ভুলেই গিয়েছিলেন হোয়াট গোজ এরাউন্ড… কামস এরাউন্ড।

    Reply
  13. আশিক রাহমান

    এ দেশে শিক্ষিত মানুষ প্রচুর থাকলেও, সুশিক্ষিত মানুষ নেই।
    এ দেশে ধনী ব্যক্তি থাকলেও, দরদি মানুষ নেই।
    এ দেশে দরিদ্রের সাহায্যের জন্য সংগঠন থাকলেও, সাহায্য করার মানসিকতা ওয়ালা মানুষ নেই। এ জাতি বাঁচার চেষ্টায় উন্মাদ হলেও, বাঁচানোর চিন্তা কারোরই নেই।। এই কারণেই আজও আমরা তৃতীয় বিশ্বের দেশ। যতদিন আমরা নিজেরা আমদের দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করতে না পারবো, ততদিন শুধু দেশের বার্ষিক আয়ই বাড়বে,, প্রকৃত সোনার বাংলা তৈরি হবে না…😊😊

    Reply
  14. প্রভাতী

    সত্যি বলছি, এমন দেশ চাইনি আমরা!!!
    এই চোর ডাকাতরা ক্ষমতায় থাকবে, লুটপাট করবে, ধর্ষণ করবে, খুন করবে কিন্তু কিছুই বলা যাবে না। প্রতিবাদ করলে মামলা করবে, আদালতে গেলে সন্ত্রাসী হামলা করবে। খুন-ধর্ষণ-হত্যা, হামলা-মামলা সবখানেই এখন স্লোগান ‘জ্য় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।
    ছি! আমরা কি এই দেশ চেয়েছিলাম?

    Reply
  15. বেলায়েত

    সরকার আমাকে একটা গ্রেট অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। আমি পেয়েছি জঙ্গি আখ্যায়িত র‍্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত আমার একমাত্র সন্তানের লাশ। আমি ও আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছি। আমি তো রাষ্ট্রের পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। এমন অ্যাওয়ার্ড তো চাইনি। আমার নিখোঁজ সন্তানকে খুঁজে বের করে দেওয়ার জন্য তাদের কাছে কতবার যে গিয়েছি। গত বছর ৭ জুলাই রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। কিন্তু এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব। তারা যদি দায়িত্ব নিয়ে আমার ছেলেকে খুঁজে বের করত তবে আজ তাকে জঙ্গি অপবাদে মরতে হতো না।

    Reply
  16. তারিকুল বাশার

    এত অনিয়ম, ভ্রষ্টাচার, শিক্ষা ব্যবস্থার গাফলতি, ধর্ষন, ইভটিজিং, ডাকাতি, খুন, ছিন্তাই এর কোন বিচার পাওয়া যায়না। সেই দেশ নিয়ে অহংকার কিভাবে করবো? আজকাল বিদেশের মাটিতে যদি বলি আমি বাংলাদেশি, তারা পৈচাশিক হাসি নিয়ে বলে “ওহ, যেখানে ৭ বছরের বাচ্চার ধর্ষন হয়? আচ্ছা তোমাদের দেশে নাকি ক্রিকেটার দের ভিডিও বের হয়েছে? ” তখন মাথা নিচু করে চলে আসতে হয়। আমার দেশ যেখানে, বাংলাদেশ কে পরিচিত করার পেছনে বড় বড় খেলোয়ার দের হাত থাকে, সেই খেলোয়ার, অভিনেতাদের নামে বিভিন্ন আজগুবি নিউজ বের করে দেশের নাম অন্য দেশের কাছে ছোট করা হয়।
    তাই আমি এখন আমার চির সবুজ, অরন্যের প্রকৃতিতে চোখ জুড়ানো অপুর্ব মায়ায় জড়ানো দেশকে নিয়ে বড্ড মুছিবত এ আছি। আমি এমন দেশ চাইনি, আমি চেয়েছিলাম শান্তির দেশ। যে দেশের আনন্দ, ভালোবাসা, আর শান্তি দেখে অন্যসব দেশ শিক্ষা পাবে। কিন্তু আফসোস…..
    আমার সোনালী দেশ আজ রোদে পুড়ে চৌচির মাঠ হতে চলছে, শুনশান মরুভুতিতে পরিনত হচ্ছে আমার দেশের মাটি। সমাজের তরুন শিক্ষার্থীদের অবপতন, যাদের হাতে সমাজ, দেশ নির্ভর করে সে সব ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার অভাব। সব মিলিয়ে আজ আমার দেশ কোথায়? এটা কি দেশ নাকি, ঘারের উপর বেতাল কে চাপিয়ে দিয়ে বলা, যে যাও বেতালের ঘর খুজে বের করো? এখন আমার কি করনীয় বেতালের সেই ভুতবাড়ি খুজে জীবন শেষ করা, নাকি দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া?
    এমন দেশ চাইনি, চেয়েছিলাম এক শান্তির দেশ। চেয়েছিলাম সেই গানের প্রকৃত অর্থের দেশ “ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা”। আর উচ্চ স্বরে গাইতে চেয়েছিলাম “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”।

    Reply
  17. কবুল

    নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমাদের বন্ধু মুবাশ্বের হাসান সিজার বাংলাদেশকে সত্যিকারের অর্থেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দেশ ভাবতো। সে ইউরোপ আমেরিকার লোভ ত্যাগ করে বাংলাদেশেই ছিলো। ছাত্র পড়িয়ে খেতো। সেই সিজার আজ দুইদিন হলো নিখোঁজ।
    এর মানে হচ্ছে, সিজার ” অন্য কোনো জায়গায়” বসে ” অন্য কোনো ডিভাইস ” থেকে ফেসবুক খুলছেন। তাকে মেসেজ পাঠালে, সেটি সিনও হচ্ছে।
    সিজারকে কি অপহরণ করা হয়েছে? এ কেমন অপহরণকারী যে মুক্তিপণ না চেয়ে ওর ফেসবুক আর ইমেইল খুলে বসে আছে।
    শার্লক হোমস এই কেস হাতে পেলে, তাজ্জব হয়ে বসে থাকতেন। কিন্তু আমরা যারা বাংলাদেশ নামক স্বর্গে বাস করি, তারা স্পষ্টই অনুমান করতে পারছি, সিজারের ভাগ্যে কী ঘটেছে।
    সিজার যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে বলুন, কী তার অপরাধ? সেই অপরাধের বিচার করুন। দেশে বিচারালয় আছে, আইন আছে, পুলিশ আছে।
    একটা মানুষ দিনে দুপুরে নিখোঁজ হয়ে যাবে, এটা কেমন কথা? আমরা কি ঠান্ডা মাথায় একবার ভেবে দেখেছি, দেশটাকে টেনে টেনে আমরা কোন পাতালে নিয়ে যাচ্ছি? এই দেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? এই দেশ কি সিজার চেয়েছিলো?
    ছোট্ট একটা ঘনবসতিপূর্ণ শহর থেকে একটা মানুষ গায়ের হয়ে যাবে, অথচ তার ফেসবুক চলবে, তার মতো সুপরিচিত মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, এটাই কি এখনকার বাংলাদেশ?

    Reply
  18. তসলিমা

    মুসলিম বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিন্দু, এ নিয়ে গর্ব ছিল আমার। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুর ভারতে একজন মুসলিম বা একজন দলিত যখন রাষ্ট্রপতি, একই রকম গর্ব হয় আমার। যে দেশই বা যে মানুষই জাত ধর্ম তুচ্ছ করে মানুষের জ্ঞানকে মর্যাদা দেয়, তাদেরই আমি স্যালুট করি।বাংলাদেশের বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহা অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন। কিছুদিন যাবৎ শুনছি তিনি যে এক মাসের ছুটি নিয়েছেন, সেটি নাকি তিনি নেননি, তাঁকে বাধ্য করা হয়েছে ছুটি নিতে। এই যে তিনি মেয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন বেড়াতে, এটি কি তিনি ইচ্ছে করেই যাচ্ছেন, নাকি তিনি বাধ্য হচ্ছেন যেতে? আমাকেও যেমন এককালে বাধ্য করা হয়েছিল দেশ ছাড়তে, আমাকে যেমন আর ফিরতে দেওয়া হয় না দেশে? বিচারপতিকেও কি এ জীবনে আর ফিরতে দেওয়া হবে না ? জানি না কী দোষ করেছিলেন তিনি। আমি তো আমার দোষের কথা জানি। আমি মানুষকে ভালোমানুষ বানাতে চেয়েছিলাম, কোনও মারণাস্ত্র নিয়ে নামিনি, হাতে শুধু কলম আর কম্পিউটার ছিল। গর্বগুলো এক এক করে শুকনো ফুলের মতো ঝরে যায়। হিন্দুরা যতই কট্টর হোক, মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসীদের করে না, এরকম একটা বিশ্বাস ছিল। এই বিশ্বাসের গায়েও ফাটল ধরেছে। এক এক করে বেশ কয়েকজন হিন্দু মুক্তচিন্তক খুন হয়ে গেছেন। লোকে আশংকা করছে কট্টর হিন্দুরাই খুন গুলো করেছে। বৌদ্ধরা বেশ সহিষ্ণু, এও তো কত গর্ব করে কত কাল বলেছি। বার্মায় এই বৌদ্ধদের দেখেছি জেনোসাইড ঘটাতে, নির্বিচারে মানুষ খুন করতে, মানুষের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিতে।

    Reply
    • Bongo-Raj

      জনাবা তসলিমা
      ধর্মের বিষ নিয়ে আপনার সংগ্রাম যেদিন থেকে শুরুআমি সেই সেদিন থেকেই আপনার পক্ষে , মনের গভীর থেকেই সাপোট করে আসছিলাম। এরপর অনেক সময় পার হয়ে আপনিও বদলাতে শুরু করলেন , দেখলাম ধর্মের বিষ জায়গাগুলোর বাইরেও আপনার সংগ্রাম চড়িয়ে পড়ছে, তার বেশীর ভাগই আমার কাছে অন্যায্য মনে হয়েছে।
      যেমন – কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য কিম্বা নির্মলেন্দু গুণদাকে নিয়ে বলা কমেন্টগুলো কোন ভাবেই পরিপূর্ণ বয়সের একজন মানবের মত মনে হয়নি, বরঞ্চ তা মনে হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া কোন শিশুর নালিশের মত-

      এবার যখন, ধর্মের বিষের কারনে আপনাকে বিদেশে চলে যেতে বাধ্য করার গঠনাকে প্রাক্তন প্রধান বিচার পতি জনাব সিনহার বিদেশে যাওয়াকে মিশিয়ে এক লাইনে নিয়ে আসলেন , তখন আপনাকে বিদেশে চলে যেতে বাধ্য করার পিছনের কারন গুলো আমাকে /আমাদেরকে (আমার মত আরও হাজারো হাজারো জন যারা আপনাকে নিয়ে ভাবতাম, মনে প্রানে আপনার পাশে ছিলাম তাদেরকে ) নুতন করে ভাবাতে শুরু করেছে —
      কারন — যেই বিচারপতির কাছে পাকিস্থান হলো আদর্শের দেশ আর তার পিছনে যারা আছেন তারাও পাকিস্থানি পন্থি -, সেই বিচারপতির সাথে নিজকে এক লাইনে দাড় করানো আর যাই হোক, আমাদের মনের মাঝে এতদিন যেই তসলিমা ছিল সে আর নেই ইনি যে অন্য কেউ –!!!

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—