Anisul Huq - 1

আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আনিসুল হককে নিয়ে গুজবে ভরে গেছে ঢাকা শহর। বাঙালি তথ্যের চেয়ে গুজব তৈরি ও ধারণা করতে ভালোবাসে বেশি। রাতে কোনো ক্লাবে বা কোথাও যাওয়ার মতো নেই। সবখানে নোংরা গুজব তাঁকে ঘিরে। চারদিকে এই নোংরামি দেখে মনে হল, বন্ধু ও সাংবাদিক হিসেবে আমার কিছু করার আছে। আমাদের লন্ডন প্রতিনিধিকে ফোন করে রুবানা হকের ফোন নাম্বার দিলাম। বললাম, “আপনি তাঁকে বলেন আমি কথা বলতে বলেছি। আপনি তাঁর সঙ্গে কথা বলে আনিস ভাইকে দেখে আসুন এবং একটা তথ্যভিত্তিক নিউজ পাঠান।”

কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের লন্ডন প্রতিনিধি আমাকে ফোন করে জানালেন যে, রুবানা হক তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের নাম্বারে তাঁকে ফোন করতে বলেছেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ফোন করি। তিনি বললেন, “স্বদেশদা, আপনি তো জানেন কী অবস্থার ভিতর আছি। আনিসের দিকে তাকাতে পারি না, তার ভেতর এই সব! পেরে উঠছি না।”

রুবানা হককে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জানেন, তিনি দশ-পাঁচ জনের মতো সাধারণ নন। তিনি শুধু বিবিসির জরিপে সেরা ১০০ ওয়ার্ল্ড উইমেনের একজন নন, তাঁকে যারা কাছ থেকে দেখেছেন তারা জানেন, কতটা শক্তি রাখেন এই নারী। তাঁর এমন ভেঙে-পড়া গলা শুনতে হবে কখনও ভাবিনি। তাঁর গলার স্বরেই আমার চশমার গ্লাসের কোণ বেয়ে চোখের পানি নেমে আসে। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বলি, “ভাবি, আমি চাচ্ছি কারও বরাত দিয়ে একটা তথ্যনির্ভর নিউজ করতে। যাতে গুজবের কিছুটা অবসান হয়।”

রুবানা হক জানালেন যে, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত ফোন করে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। হাইকমিশনার ও তাঁর স্ত্রী যা করছেন সে ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবেন না বলেও জানালেন রুবানা। হাই কমিশনারের স্ত্রী তাদের জন্য রান্নাবান্না করে নিয়ে যেতেন প্রায়ই। তারপরে তিনি জানালেন, হাইকমিশন থেকে আজ মনে হয় ওরা কিছু বলবে। ভাবিকে বলি, তিনি যেন হাইকমিশনারকে বলেন কিছু বলার জন্যে। পরদিন হাইকমিশন থেকে দেওয়া প্রেস রিলিজ ও হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলে আমাদের রিপোর্টার একটি রিপোর্ট করেন আনিসুল হকের বাস্তব অবস্থা নিয়ে।

আমাদের সেই রিপোর্টও পারেনি গুজব ঠেকাতে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় পরনিন্দা, পরচর্চায় পারদর্শী এই বাঙালির মুখের গুজব বন্ধ করা সত্যি কঠিন কাজ। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর ভিতর দিয়েই টানা হল সে অপপ্রচারের সমাপ্তিরেখা।

যাহোক, এরপর মাঝে মাঝেই রুবানা হককে ফোন করেছি। তখন শত অসুবিধার মধ্যেও আনিস ভাইয়ের খবর দিতেন আমাকে। অমন যোগ্য মানুষটার ওই দীর্ঘশ্বাসসহ কথা– “স্বদেশদা, কী বলব বলেন, আনিসের সেই একই অবস্থা। শুধু মাঝে মাঝে একটু চোখের পাতা পিট পিট করে নড়ে।”

তাঁর কথা শুনে এতই কষ্ট লাগত যে, পরে আর নিজে তাঁকে ফোন করতাম না। কখনও কখনও অনিমেষের মাধ্যমে আনিস ভাইয়ের খবর নিতাম। এছাড়া মাঝে মাঝে এসএমএস পাঠাতাম। তিনি উত্তর দিতেন আর দোয়া চাইতেন। বুঝতাম তাঁর কষ্ট। কারণ আমরা আমাদের আপনজন, বন্ধু আনিসুল হকের সঙ্গে কতটুকু সময়ই-বা কাটাতাম! তাই সারাক্ষণ মনে পড়ে হাস্যোজ্জ্বল পরম আনন্দ বয়ে বেড়ানো মানুষটিকে। আর এই মানুষটিকে যিনি জীবনের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী হিসেবে দেখছেন– তাঁর পক্ষে প্রায় নিথর এক আনিসুল হককে দেখা কত যে কষ্টের!

 

Anisul Huq - 444

 

আনিস ভাই যে স্ত্রী রুবানা হককে কতটা ভালোবাসতেন বন্ধু হিসেবে আমরা তার সামান্য যা দেখেছি তাই অবাক করে। লিখতে বসে মনে পড়ছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রুবানা হকের পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে আনিসুল হকের উচ্ছ্বাস। মাঝে মাঝে বৃহস্পতিবারে কোলকাতায় বা বোম্বেতে বড় পর্দায় ছবি দেখতে যাওয়া। তাদের কাশ্মীর ভ্রমণের সেই ঘোড়ায় চড়ার স্মৃতি নিয়ে আনিসুল হকের উচ্ছ্বাস।

উজ্জ্বল ও উচ্ছ্বল এই মানুষটি যখন ক্রমেই রাজনীতির দিকে আসছিলেন, তখন নানা কারণে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ছিল। মাঝে মাঝে মনে হত, আনিসুল হক অনেক বুদ্ধিমান, কিন্তু কুটিল নন। পারবেন কি– যদি রাজনীতিতে যান– নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে? তবে রাজনীতিতে তিনি যে আধুনিকতা দেবেন তা নিয়ে সন্দেহ ছিল না। তার প্রমাণ তিনি প্রথম রাখেন ২০১৪ সালে নির্বাচনের বেশ আগে– প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের কথামতো আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও ভোট ক্যাম্পেইনের জন্য কিছু প্রমোশনাল তৈরির ভেতর দিয়ে। সে সময় জয় ও ববির তত্ত্বাবধানে বেশ কিছু প্রমোশনাল তৈরি হয়। সেগুলো ছাড়া আর যে আধুনিক প্রমোশনাল কয়েকটি তৈরি হয়েছিল সব আনিস ভাইয়েরই অবদান।

মেয়র হিসেবে ঢাকা শহরের মানুষ এক কাজপাগল আনিসুল হককে দেখেছেন। যে কোনো ভালো কাজ করার জন্যে পাগলপ্রায় হয়ে যেতেন। ২০০১১-২০১২এর দিকে বিএনপিসহ এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী সরকারকে প্রায় কোণঠাসা করে ফেলেছে এই বলে যে, সরকার কুইক রেন্টাল, আইপিপি এই সব বিদ্যুত কেন্দ্রে ভর্তুকি দিয়ে দেশকে দেউলিয়া করে দিয়েছে। বামপন্থীরাও কোনো হিসাবনিকাশ ছাড়াই একথা বলছেন। এই মিথ্যে প্রচারের প্রভাবে পড়ে অর্থমন্ত্রী নিজেও বলে বসলেন, কুইক রেন্টাল করে তাঁরা ভুল করেছেন।

অর্থমন্ত্রী এ কথা বলার পর আমি আমাদের সাংবাদিকদের মেথডে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে একটা লেখা তৈরি করি যেখানে দেখাই যে, বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি গেছে নয় হাজার কোটি টাকার মতো। আর এই বিদ্যুতের ফলে রফতানি, কর্মসংস্থান সব মিলে অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। এরপর অর্থনীতিবিদ রমণীমোহন দেবনাথ দেখান কৃষিসহ এই যোগ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।

এই সময় একদিন আনিসুল হকের বাসায় বসে শুধু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করেছিলাম যে, এই বিষয় নিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা হলে ভালো হত। তার প্রায় তিন মাসের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে আনিসুল হক গবেষণা করান যাতে দেখা গেল যে, ওই ভর্তুকির বিপরীতে যোগ হয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকা। এটা অর্থমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে গেলে তিনি সেটা বাজেটের অংশীভূত করেন।

পজিটিভ কিছু করার সুযোগ পেলেই যেন পাগলপ্রায় হয়ে যেতেন মানুষটি। সব কাজেই তিনি একবার শুনতেন রুবানা হকের মতামত। সাহায্য নিতেন তাঁর। বাইরে যেমন তিনি তাঁর বন্ধুদের অন্যতম সেরা বন্ধু, তেমনি ঘরের বন্ধুটিরও ছিলেন তিনি এক অনন্য বন্ধু।

আনিসুল হকের জানাজা থেকে ফেরার পর রাতে মতিয়া চৌধুরী ফোন করেন। তাঁর কথা শুনে বুঝলাম তিনি ঠিক মেনে নিতে পারছেন না বিষয়টি। আসলে গোটা জাতি তাঁর এই অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারেনি। মতিয়া আপা টেলিফোনে অত্যন্ত ভারী গলায় বললেন, “আনিস যেভাবে রুবানাকে দেখত, তাতে ওর কষ্টটা মনে করে কিছুই ভাবতে পারছি না। সে অনেক বেশি ভেঙে পড়েছে।”

এ সময় আনিসুল হকের দুবছরের কাজ নিয়ে মতিয়া আপার সঙ্গে অনেক কথা হয়। বাস্তবে গত দুই বছরে আনিসুল হক শুধু ঢাকা উত্তরের চেহারা বদলে দেননি, সব থেকে বড় যে বিষয়টি তিনি প্রমাণ করেছেন তা হল, কাজ করার ইচ্ছে থাকলে করা যায়। তাঁর এই কাজ করার ইচ্ছে থেকে মেয়র হবার অনেক আগেই তিনি পরিকল্পনা করেই নেমেছিলেন মেয়র নির্বাচনে।

মনে পড়ছে মেয়র প্রার্থী হবার আগে একদিন অর্থমন্ত্রীর বাসায় বসে তিনি তাঁকে বললেন, “স্যার, আমি যদি মেয়র নির্বাচিত হই ঢাকা উত্তরের, আপনি কি আমাকে ১৮০০ কোটি টাকা বাড়তি দেবেন কাজ করার জন্যে?”

মুহিত ভাই তাঁর পরিচিত দিলখোলা হাসি দিয়ে বললেন, “এটা শেখ হাসিনার সরকার, তুমি কাজ করতে চাও আর টাকা পাবে না? যাও, তুমি মেয়র হলে আমি তোমাকে বাড়তি তিন হাজার কোটি টাকা দেব।”

আনিস ভাইও তাঁর পরিচিত উচ্চস্বরের হাসি দিয়ে বললেন, “স্যার, তাহলে আমিও আপনাকে কথা দিলাম, তিন বছরেই বদলে দেব ঢাকা উত্তর সিটি।”

আনিসুল হক তিন বছর সময় পাননি। তার আগেই নিষ্ঠুর মৃত্যু, দুরারোগ্য রোগের ভিতর দিয়ে তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিল। এর মাধ্যমে শুধু ঢাকা উত্তরের নাগরিকরা একজন আনিসুল হককে হারাননি, গোটা দেশ হারিয়েছে এক সম্ভাবনাময় রাজনীতিককে। সফল ব্যবসা শেষে মাত্র চৌষট্টি প্লাসে চলে গেলেন তিনি। তাঁর যা গতিবেগ ছিল, তাতে আরও পনের বছর সমান গতিতে তিনি দেশকে দিতে পারতেন। চলে যেতেন তিনি ঢাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া পিতার সন্তান আনিসুল হক সঠিক রাজনীতির পথটি বেছে নিয়েছিলেন। ভুল পথ তাঁকে ডেকেছে, তবে তিনি কখনও তাতে পা দেননি। আনিসুল হক নিজেই যে কথা বলে গেছেন ব্যক্তিগত আলোচনায়। এক-এগারোর পর ড. ইউনূস রাজনৈতিক দল করার ঘোষণা দিয়ে আনিস ভাইকে ডাকেন। তিনি গিয়ে দেখেন সেখানে আছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ড. ইউনূস আনিসুল হককে বললেন, “আপনাকে আমার সঙ্গে থাকতে হবে।”

আনিস ভাই বলেন, “স্যার, আমি তো ব্যবসায়ী, আমি কেন রাজনীতি করতে যাব? তাছাড়া আপনি যে রাজনৈতিক দল করবেন, আপনি কি দলের সেক্রেটারি পাবেন?”

তিনি বললেন, “কেন পাব না?”

তখন আনিসুল হক বলেন, “কে হবেন আপনার সেক্রেটারি? দেবপ্রিয়?”

দেবপ্রিয় বলেন, “আমি কেন হতে যাব?”

আনিস ভাই তখন বলেন, “মতি ভাই, টিটু ভাই (মাহফুজ আনাম) হবেন?”

মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনাম বলেন, “না, আমাদের পেশা তো ভিন্ন।”

আনিসুল হক তাঁর স্বভাব অনুযায়ী ড. ইউনূসকে মুখের ওপর বলে দেন, “একজন সেক্রেটারি পাচ্ছেন না দলের, রাজনীতি করবেন কীভাবে?”

মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষক পিতার ছেলে নিজ থেকেই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। অর্থাৎ রাজনীতির সঠিক প্লাটফর্মটি চিনতে তিনি ভুল করেননি।

মানুষ মাত্রই ভুল করে। তারপরও তাঁর চৌষট্টি-প্লাস জীবনে ওভাবে তাঁর কোনো ভুল চোখে পড়ে না। বরং এখন চোখের পানি মুছতে মুছতে বলতে ইচ্ছে করে, প্রিয় আনিস ভাই, আপনি বড় ভুল করলেন এভাবে অকালে চলে গিয়ে। আপনার এই একমাত্র ভুল দীর্ঘকাল বহু মানুষকে চোখের জল মুছতে বাধ্য করবে।

স্বদেশ রায়সাংবাদিক

২৯ Responses -- “আনিসুল হক: গুজব ও মৃত্যুতে সমাপ্তি”

  1. PRONOB

    আনিস সাহেবের মৃত্যু হয়নি তিনি তার সততা এবং কাজের মাধ্যমে প্রমান করে গিয়েছেন তিনি আজিবন আমাদের মাঝে আছেন এবং থাকবেন। আনিস সাহেব যেখানেই থাকবেন ভালো থাকবেন।

    Reply
  2. Jamal

    আনিস ভাই ও সরকারকে ঘিরে যারা মিথ্যা বানোয়াট এবং গুজব রটিয়েছে তাদের বিরুদ্বে কি কোন ব্যবস্হা সরকার নেবেনা ?

    Reply
  3. Ali Idris

    স্বদেশ দা, প্রয়াত মেয়র সম্পর্ অনেক অজানা তথ্য জানলাম, ধন্যবাদ- আলী ইদরিস

    Reply
  4. Md Saker hossan

    আমার মনে হয়, একটি অস্বচ্ছ অার জোরজবরদস্তির নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁর মেয়র হওয়াটা উনার জীবনের সমষ্ত অর্জনকে কলন্কিত করেছে। তিনি একজন সদালাপী, সজ্জন এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর রূহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করছি।

    Reply
  5. Dr.Mohd.Mozammel Haque

    The death of a public popular leader some devils to suffer in their heart and they wanted his rapid transit to the other world without loosing his credentials.Good bless.Let us think better for his departed soul and family.

    Reply
  6. হায়দার মির্জা

    নমস্কার। প্রবাসী বাঙালি আমি । জার্মান দেশে চার দশকের উপর আছি। লেখাটা পড়ে বাংলাদেশের উন্নত মানের মানুষ আছে জেনে ভালো লাগলো। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আনিসুল হকের ভালো কাজের উপযুক্ত সম্মান পান এবং উনার স্ত্রীর জীবন শান্তি ফিরে আসুক।
    পেশাদার প্রকৌশলী হিসেবে বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি বিষয়ক কাজ সারা বিশ্বে করেছি। রেন্টাল বিদ্যুতের কাজ সফল হয়েছে তাই দেশে এখন বেশি ক্ষমতার বড়ো বড়ো বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা ও বসানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিদেশীরাও অর্থ নিয়োগ করছে। এটা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের উপর আস্থা রাখার জন্যই সম্ভব হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত দেশের কাতারে কাতারে অচিরেই যোগ দিবে। জয় বাংলা। জয় বাঙ্গালী জাতি। জয় বঙ্গবন্ধু।

    Reply
  7. কাজী ইমাম

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রয়ানে আমরা এটা বুঝতে পেরেছি যে, তিনি সততা ও কাজের নিষ্ঠার যে উদাহরণ রেখে গেলেন তা যদি অন্য কেউ করতে না পারে তাহলে নিশ্চই জনগন দ্বারা প্রত্যাখিত হবে।

    Reply
  8. করবী মালাকার

    ট্রাক স্ট্যান্ডের রাস্তাটাকে চিনি বহু বছর ধরে। ঐ রাস্তায় একা চলার কথা ভাবতেই পারতাম না। পরবর্তীতে চাকরীর দায়ে অনেকবার যেতে হয়েছে ঐ পথ ধরে। কি দুঃসহ ছিল সে চলা। বছর দেড়েক ধরে যখন ঐ পথ ধরে যাওয়া আসা করতাম তখন ঝিরি ঝিরি রোমান্টিক বাতাস ফিস ফিস করে আমাকে জানাত – এ তারই কাজ, যাকে তুমি তোমার প্রেমিক ভাব । রবি ঠাকুর লিখেছেন,” এসেছিলে তবু আস নাই জানায়ে গেলে”। আজ যখন ঐ রাস্তা ধরে চলি বুকের ভিতর তখন হুহু করে ওঠে। যেন শুনতে পাই – চলে গেছি তবু যাই নাই, বলবে এই পথ।

    Reply
  9. মোহাম্মদ অালী

    হে মহামহিয়ান তুমি তাকে অাখেরাতের পর্ণ সফলতা দান কর
    বেহেশত এর উচ্চমাকাম দান কর।। অামীন।।

    Reply
  10. shamin

    ওনার ম্ ততুতে মনে হলো অ।ললাহ্ ও ঢাকা শহরের উননতি চান না। না হলে এমন ভালো মানুযকে কেন এত তারাতারি নিযে গেলেন।😡

    Reply
  11. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার

    তোমরা ভয় কর সে দিন কে, যে দিন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না, কারও কাছ থেকে বিনিময় গৃহিত হবে না, কারও সুপারিশ ফলপ্রদ হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত ও হবে না। ( সূরা আল বাক্বারাহ আয়াত -১২৩)

    Reply
  12. হাসিব রহমান

    ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন।একদিন আমাদের সবাইকেই এই পথের পথিক হতে হবে,আপনি আমি যত বড় বিত্তশালী বা যত বড় নেতাই হইনা কেন সবাইকেই এক দিন মৃত্যুরর স্বাদ গ্রহণ করিতে হবে।।

    Reply
  13. হাবিবুল্লাহ চৌধুরী

    স্মার্ট রাজনীতিবিদ ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমার্বতনে উনার অসাধারন বৃক্তিতা হাজারো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রকৃতির নির্মম নিয়মে সবাইকেই বিদায় নিতে হবে। তবে উনার পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক আদর্শ যুগ যুগ স্মরণীয় এবং আদর্শ হয়ে থাকবে।আনিসুল হকের মোটিভেশনাল বক্তব্যের জন্য হলেও আমি তাকে মনে রাখবো ।সত্যিই অসাধারন একজন ব্যক্তি চলে গেলেন ।

    Reply
  14. হাসান

    একটি অস্বচ্ছ অার জোরজবরদস্তির নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁর মেয়র হওয়াটা অামার দৃষ্টিতে একটি নেতিবাচক দিক। এটা বাদে তাঁকে অন্য কোন দিক দিয়ে খারাপ বলার মতো কোন দিকই অামার কাছে নেই। তিনি একজন সদালাপী, সজ্জন এবং বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর রূহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া করছি।

    Reply
  15. আবদুর রাজ্জাক

    আনিসুল হক একজন জনপ্রিয় ও সন্মানিত মানুষ তাহার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তার শোক শান্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সবশেষে একটা কথা ওনার মৃত্যুর সংবাদটা আমরা বিডিটুডেতে মঙ্গলবার দেখতে পাই। তাছাড়া অন্যকোন মিডিয়ায় দেখতে পেলাম না। কথা কেন তার মৃত্যুর সংবাদ ৪৮ ঘন্টা পর প্রকাশ করা হলো।

    Reply
  16. ইকবাল হুসাইন

    এই দেশের জনগনের প্রকৃত মুক্তি আজও হয় নি। দেশ আজও রাঘব বোয়াল, মাফিয়া, শ্রমিকনেতা, লুটকারী, ডাঙ্গার কুমির, দখলদার, চাঁদাবাজদের দখলে।
    পুরো দেশ আজ এক বিসৃঙ্খল কম্বল। সেই কম্বলের উপর দাড়িয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আপনি বিপ্লব সৃষ্টি করেছেন। কাওরান বাজর দখল মুক্তকরণ ছাড়া আপনি সর্বদায় সবজায়গায় সফল, আপনার প্রচেষ্টা ছিলো হিমমালয়ের মতো ভারী। আপনার মৃত্যুতে দখলদার দের নিবৃতের শিকল আবার উন্মুক্ত হবে কিনা, তা নিয়ে আমার সংশয়।
    নোয়াখালীর মানুষ হিসেবে খুব গর্ববোধ লাগতো, আপনার ভূমিকায়। আপনার মৃত্যুতে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে জান্নাতবাসী করুক, এই আমাদের প্রার্থনা।

    Reply
    • Bongo-Raj

      @ইকবাল হুসাইন সাহেব
      লিখেছেন ” পুরো দেশ আজ এক বিসৃঙ্খল কম্বল””
      বাক্যটা হওয়া উচিৎ
      “” পুরো দেশ আজও এক বিসৃঙ্খল কম্বল “”

      কারন বাংলাদেশে এখনো অনেক সমস্যা আছে তবে এর আগে বাংলাদেশ কখনো আজকের বাংলাদেশের চাইতে ভাল ছিলনা!
      এটাকে অস্বীকার করা হলে সত্যিকে অস্বীকার করা হবে আর আপনি তার সাথে বিশ্বস্ততাও হারাবেন!!

      Reply
  17. ইফরান হায়দার

    একে একে সবাই চলে যাচ্ছেন। আমরাও সেই পথে রয়েছি। কর্মব্যস্ত জীবনে মৃত্যুকে আমরা যতই ভুলে থাকার চেষ্টা করি না কেন মৃত্যু আসবেই। তাই আমাদের উচিত জীবনের হিসাব সবসময় মিলিয়ে রাখা।

    Reply
  18. মামুন রশিদ

    ইন্না,,,,,রাজিউন।আনিসুল হক ঢাকার একজন দক্ষ মেয়র ছিলেন তাতে কোন সন্দেহ ছিল না। উনি একটি রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত থাকলেও খারাপ কাজের ক্ষেত্রে কোন দলকেই উনি পাত্তা দিতেন না। আল্লাহ তাকে জান্নাত বাসী করুন।আমিন।

    Reply
  19. মাহতাব হোসেন

    হতে পারেন বিনা ভোটে ঢাকা উত্তরের মেয়র হয়েছেন তবে আমার কাছে মনে হয় মানুষ হিসেবে শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন।তার মিষ্টিভাষী কথা ভালো লাগতো।

    Reply
    • ফরহাদ

      কিসের বিনা ভোট? তাবিথ আউয়াল আনিসুল হকের ৪ লাখ ৪০ হাজার ভোটের প্রতিদন্ধিতায় ৩ লাখ ২০ হাজার ভোট পান। অন্যদিজে সাদেক হোসেন খোকা বিনা ভোট বিনা প্রতিদন্ধিতায় অখন্ড ঢাকা সিটিতে ৯ বছর মেয়রগীরি করে গেছিলেন, সেসব নিয়ে তো কিছু বলেন না।

      Reply
  20. নুরুজ্জামান

    কিছু মৃত্যু এমন আছে যার জন্য কোন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্ন আসেনা! যে যত প্রভাবশালী, পরাক্রমশালী হোক মৃত্যুর কাছে নিজকে অসহায়ভাবে সোপর্দ করতে হয়। বড় লোকের মৃত্যুতে বেশ আলোচনা হয় কিন্তু মৃত্যুর থেকে শিক্ষা কেউ নেয় না। মেয়র আনিসুল হক ছিলেন খুব বড় ধনী কিন্তু নেক আমল ছাড়া আজ আর কিছুই তার সংগী হবেনা। জীবিতরা কি এই শিক্ষাটা একবার ভাববেন?
    .
    পরিশেষে সেই কবিতার লাইন…
    “যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে,
    কেঁদেছিলে তুমি, হেসেছিলো সবে।
    তাই এমন জীবন তুমি করিবে গঠন,
    মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবন’।

    Reply
  21. Kabir Chowdhury Tanmoy

    রবীন্দ্রনাথের ভাষায় পরনিন্দা, পরচর্চায় পারদর্শী এই বাঙালির মুখের গুজব বন্ধ করা সত্যি কঠিন কাজ। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর ভিতর দিয়েই টানা হল সে অপপ্রচারের সমাপ্তিরেখা।
    লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ দাদা।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—