Feature Img

tarana-fআমি কিন্তু একান্তই আমার ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকে পয়লা মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। কাউকে প্রতিনিধিত্ব করতে নয় বা কেউ আমাকে এ বিষয়ে কোন মধ্যস্থতার জন্য দায়িত্বও দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনেট সদস্য হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে, এখানে আমার ভূমিকা রাখা উচিত। আমি মনে করি, শুধু সিনেট সদস্য হিসেবে নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও বিশ্ববিদ্যলয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আমার কিছু দায়িত্ব রয়েছে। কিছু পত্রিকায় এসেছে যে আমি সিনেটের পক্ষ হয়ে কাজটা করেছি। সিনেট কাউকে প্রতিনিধিত্বের জন্য পাঠালে সেটার জন্য সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এখানে তেমন কিছুই হয়নি।

আমি ভেবেছিলাম, আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকট নিরসন করা সম্ভব হয় তাই বা কম কিসে? তাই খুব খোলামন নিয়ে ওখানে গিয়েছিলাম। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দু’ পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করলাম। যে মন নিয়ে গিয়েছিলাম সে মন নিয়ে কিন্তু ফিরতে পারিনি। কারণ শুরুতে আমার ধারণা ছিল সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক কারণে কিছু ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংকটটা তৈরি হয়েছে। দু’পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করে আমার মনে হল, সংকটের কারণটা একদম রাজনৈতিক। দুটো বিষয় বলব। আমাদের দেশে কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের একটা বিশাল ঐতিহ্য রয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, তারপর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ নানা আন্দোলনে ছাত্রসমাজ মূল ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু একটা সময়ের পর কিছু কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে ছাত্রদের ব্যবহার করতে শুরু করেছে। আর এর ফলেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সময়ে নানা সংকট তৈরি হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। এখানেও কারও কারও রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। প্রথমত যে কারণে আমার একথা মনে হয়েছে তা হল, এখানে আন্দোলনকারী এবং আন্দোলনবিরোধী দুটি পক্ষের অভিযোগ একই। উপাযার্য-বিরোধী আন্দোলন যারা করছেন তারা বলছেন, উপাচার্য বা তার পক্ষের শিক্ষকরা স্বাধীনতাবিরোধী জামাত ও শিবিরের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। একইভাবে উপাচার্যের পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছেন তারাও আন্দোলনকারীদেরকে মৌলবাদীদের সমর্থক বা পৃষ্ঠপোষক বলে সমালোচনা করছেন। ভারি অদ্ভুত মনে হল আমার কাছে। যারা আন্দোলন করছেন আর যারা আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, দুটো পক্ষের অভিযোগ অভিন্ন হয় কী করে?

আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীনতাবিরোধী ও মৌলবাদী কোন গোষ্ঠীকে কোন ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছাড় দিতে রাজি নই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, জাহাঙ্গীরনগরে পরস্পরবিরোধী দুটি পক্ষ একে অন্যের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ কেন দিচ্ছেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি এই সংকটটা তৈরির পেছনের কারণগুলো রাজনৈতিক নয়?

আমি আইনের ছাত্রী। একজন আইনজীবীও। সে হিসেবে বলব, সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিক পথে এগুতে হবে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন শিক্ষার্থী নিপীড়নের শিকার হোক বা খুন হোক এটা আমরা চাইব না। আবার কোন শিক্ষককে অন্য শিক্ষক বা ছাত্ররা মারধোর করবেন সেটাও তো হতে পারে না। শিক্ষক বা ছাত্র হত্যা বা নির্যাতন যেমন মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন, তেমনি উপাচার্যকে সপরিবারে তার বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখাও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। কোনটিই গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধেই আমি কথা বলব। ন্যায়-অন্যায়ের মাপকাঠি তো ঘটনা বিবেচনায় পৃথক হতে পারে না।

এসব কারণেই খুব খোলামন নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আমি অত্যন্ত আহত হয়ে ফিরে এসেছি। আমি ওখানে উভয় পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। আমার বক্তব্য হল, সবকিছুরই একটি প্রক্রিয়া আছে। আমি কোথাও কোন অন্যায়ের শিকার হলে অভিযোগ করতে পারি, বিচার চাইতে পারি। নিজে পাল্টা অন্যায় করতে পারি না। কোন শিক্ষার্থীই অন্য শিক্ষার্থীকে আঘাত করতে পারে না। এক শিক্ষক অন্য শিক্ষককে মারধর করলে অবস্থা কী দাঁড়াবে?

আমি কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরে আন্দোলনরতদের কথাই প্রথম শুনেছি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের দেশে সাধারণত আন্দোলনরতদের উপেক্ষা করা হয়। আমি সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-সংস্কৃতিকর্মী সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। সব পক্ষের বক্তব্যই শোনার চেষ্টা করেছি। আমার মূল উদ্বেগের বিষয় ছিল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন। আমার যদিও কিছু করার এখতিয়ার নেই, কিন্তু উভয় পক্ষকে আমি এটাই বলেছি যে উপযুক্ত জায়গায় আমি বিষযগুলো তুলে ধরব। তাই দু’পক্ষকেই কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিতে বলেছি।

একথা সত্যি, জাহাঙ্গীরনগরের পরস্পরবিরোধী দুটি পক্ষই আমার সদিচ্ছার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। তারা আমাকে খুব আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণও করেছেন। উপাচার্যের পক্ষের শিক্ষক-ছাত্রদের গ্রুপটি আমাকে বলেছেন, আমি যে সিদ্ধান্ত দেব তাই তারা মেনে নেবেন। উপাচার্যের বিরোধী পক্ষটি আমাকে জানিয়েছেন, তারা কেবলমাত্র উপাচার্যের পদত্যাগই চান। আমি তাদের কাছে একটু সময় চেয়েছিলাম। যাতে আমি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারি। সিনেটের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে আলাপ করতে পারি। কারণ আামি তো এসেছি ব্যক্তিগত তাগিদ থেকে। তাই একটু সময় লাগবে। কিন্তু উনারা বললেন, এভাবে অনেকবার আমাদের কথা দেয়া হয়েছে কিন্তু তা রাখা হয়নি। আমি তাদের বলেছি যে, আমি হয়তো কোন অথরিটি নই, তবে অন্তত তাদের কথা যথাযোগ্য জায়গায় পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করতে পারি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক মাসে যেসব সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে, জুবায়ের নামে একজন প্রতিভাবান ছাত্র খুন হয়েছে, এ নিয়ে আমি কথা বলেছি ওখানে দু’পক্ষের সঙ্গেই। আন্দোলন-বিরোধী পক্ষটি বলেছেন, ঘটনাগুলোর তদন্তে কমিটি হয়েছে, মামলা হয়েছে। আন্দোলনের পক্ষটি বলেছেন, কিছুই হয়নি। আসলে আমি নথিপত্র কিছুই দেখতে পাইনি। তাই এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারছি না। ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আমি ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে জানিয়েছে ওখানে কোন কমিটি নেই আজ কয়েক বছর ধরে। তাদের নাম করে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস করে একটি গ্রুপ। আমি তাদের বললাম, বিষয়গুলো তোমাদের মিডিয়ার কাছে বলা উচিত। কারণ তা না করাতে তো বদনাম হচ্ছে তোমাদের। ওরা আমাকে অনেক অনুরোধ করল যাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কাউন্সিল করে কমিটি গঠনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেই।

সব মিলিয়ে আমার মনে হয়নি যে আমি তেমন ইতিবাচক কিছু করতে পেরেছি। তবে এখন সময় এসেছে শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে রাজনৈতিক বিভাজন দূর করা। এই যে সাদা-লাল-নীল-হলুদ-সবুজ এত সব রঙের কী দরকার? হ্যাঁ, ছাত্ররা রাজনীতি করবে, তবে তাদের কোন দলীয় পরিচয় থাকবে না। আমার কথা হল, আমি বাংলাদেশের নাগরিক। সে হিসেবে দেশের মঙ্গল আমার কাছে সবচেয়ে আগে।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে উদারতার চর্চাটা তাই এখন জরুরি। একটি ঘটনার কথা বলব। আমার এলাকার এক উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বিরোধী দলের সমর্থক বলে আমার কাছে সুপারিশ এসেছিল তাকে বদলি করার। আমি কিন্তু তা করিনি। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে দলীয়করণে বিশ্বাসী নই। আমার সরকারও এ ধরনের কাজ করুক তা আমি চাই না। মজার ব্যাপার হল, ওই সরকারি কর্মকর্তা কিন্তু আমার উদারতাকে গ্রহণ করতে পারেননি। তিনি প্রটোকল মেনে কখনও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। আমার কোন অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার প্রয়োজনও অনুভব করেননি। তবে আমি সন্তুষ্ট এই ভেবে যে, আমি তো অন্য কারোর রাজনীতি করতে আসিনি, এসেছি জনগণের সেবা করতে। এ প্রসঙ্গে দু’বছর আগের আরেকটি ঘটনার কথা বলছি। দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর একটি প্রোগ্রাম করেছিলাম আমরা। প্রধানমন্ত্রী প্রোগ্রামের উদ্বোধন করলেন। ওই অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেত্রীরও উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি এলেন না। দেশের মঙ্গলের জন্য একটি অনুষ্ঠান করছি আমরা, সেখানেও কেন দলীয় চিন্তা?

এই জায়গা থেকেই বলব, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে উদারতার চর্চা করতে হলে সব পক্ষের মধ্যেই সেই মানসিকতা থাকতে হবে। যেটা যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত বিশ্বে এমনকি ভারতেও রয়েছে। সেসব জায়গায় যে কোন সংকটে সব পক্ষ এক হয়ে যায়।

আর আমাদের দেশে আমরা এখন আমাদের নাগরিক পরিচয়ের আগে দলীয় পরিচয় দেই। এটা আমার খুব খারাপ লাগে। এরই প্রকৃষ্ট প্রমাণ যেন পেলাম সেদিন জাহাঙ্গীরনগরে। আমার মনে হয়েছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিপথগামী করা হয়েছে। শিক্ষকরা কি মানুষ গড়ার কারিগর থেকে এখন মানুষকে ব্যবহারের কারিগর হয়ে গেলেন?

আমি তো এখনও আমরা শিক্ষকদের সম্মান করি। আমার সেই উদয়নের শিক্ষক শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, আমার হলিক্রসের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম, আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শিক্ষকরা, তাদের সঙ্গে এখনও দেখা হলে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করি। আমার চোখে সানগ্লাস থাকলে খুলে ফেলি। মনে হয় এতে যেন ওনাদের অসম্মান করা হয়। আমার কথা হল, এখনকার শিক্ষার্থীরা কি পনেরো কী বিশ বছর পর তাদের শিক্ষকদের দেখলে এভাবে শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়বে? নাকি বলবে, ‘দ্যাখো দ্যাখো, উনারা আমাদের ব্যবহার করেছিলেন!’

সেদিন জাহাঙ্গীরনগরে গিয়ে আমি হয়তো কিছুই করতে পারিনি। হয়তো বা সবটাই শূণ্য। তবে আমার মনে হয়েছে, দু’পক্ষের কথা শুনতে পেরেছি এটাও একটা কাজ হয়েছে। কারণ এদেশে তো দু’পক্ষের কথা শোনার লোক নেই। এরপর আমি হয়তো বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনার উদ্যোগ নেব। সিনেটের সভা হতে পারে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আচার্যর কাছে যাবে। হয়তো বিষয়টিতে আচার্যকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে। তবে আমার খারাপ লাগছে যে শিক্ষার্থীদের অনশনটা বন্ধ করাতে পারলাম না।

আমার বারবার মনে হয়েছে যে, আমরা দু’কান দিয়ে শুনি না। দু’চোখ দিয়ে দেখি না। শেষ পর্যন্ত মনে হল, আমাদের বিবেকের জায়গাটাও বুঝি বড় বেশি দুর্বল হয়ে গেছে। তবে আমার নিজের একটা উপকার হয়েছে। আমি সবসময় সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো দেখেছি। মাঝে যে রঙগুলো আছে সেগুলো চেনার জন্য আমার ওখানে যাওয়ার দরকার ছিল।
আমি খুব স্পর্শকাতর একজন মানুষ। কিন্তু আমার ক্ষমতা সীমিত। তবু চাই কোথাও কোন ছাত্র নির্যাতনের শিকার হবে না। খুন হবে না। তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হবে না। শিক্ষকরাও পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবেন না। সবচেয়ে বড় কথা, শিক্ষার্থীরা কারও দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবত হবে না। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের একটি সুন্দর সমাধান হবে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে। আবার তাদের কলকাকলিতে মুখর হবে প্রতিষ্ঠানটি।

তারানা হালিম: আইনজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সংসদ সদস্য।

তারানা হালিমসংসদ সদস্য; প্রতিমন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়

৬১ Responses -- “বিশ্ববিদ্যালয়ে এত রঙের কী দরকার?”

  1. Sharif M Shafique

    জুবায়ের ২০১২ সালের দ্বিতীয় সপ্তাহে ছেড়ে গেছে আমাদের। আমরা তাঁকে outsider করে দিয়ে নিজেদের স্বার্থগত দিক বিবেচনা করে অথবা নিঃস্বার্থ চিত্তে তার হত্যার পিছনে দায়ী ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি অথবা তাদের চিনে ফেলার ভয়ে এড়িয়ে যাচ্ছি। দয়া করে ২০১৩ সাল থেকে আমরা কেউ আর জুবায়েরের জন্য শুধু শুধু সময় নষ্ট করব না। আমরা মাননীয় সংসদ সদস্য তারানা হালিমের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারি যে, দায়িত্ববোধ একটা সাময়িক বিষয় মাত্র; সময়টা পার করে যেতে পারলে দায়িত্ব ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া যায়।

    কিন্তু ঝামেলা একটাই! ২০১৩ সালে আবার বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আছে, সমাবর্তন অনুষ্ঠান আছে। এসব আয়োজন তো জুবায়ের-হত্যার দিনটিকে অতিক্রম করেই করতে হবে। জুবায়ের কি তার হত্যা-দিবস পালন করবে, নাকি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করবে? সমাবর্তনেও তো তার থাকার কথা। সে তো Graduation পরীক্ষা শেষ করেছিল…

    Reply
  2. masud

    আমি ব্যক্তিগতভাবে দলীয়করণে বিশ্বাসী নই। আমার সরকারও… ”
    আর কী করার বাকি আছে যা হলে আপনার মনে হবে আপনার সরকারও বিশ্বাসী নয়?

    আপনি বলেছেনঃ “শিক্ষকরা কি মানুষ গড়ার কারিগর থেকে এখন মানুষকে ব্যবহারের কারিগর হয়ে গেলেন?”
    সেই প্রশ্নটা কি ভিসি ও তার অনুগত লাঠিয়াল বাহিনীকে জিজ্ঞেস করে আসতে পারেন নাই?

    Reply
  3. ইমদাদ হক

    তারানা হালিম, সম্মানিত একজন মানুষ। এমনিতেই তিনি একজন গ্রহণযোগ্য জন। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তিনি যা বললেন, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে গত ৩বছল ধরে দেখেছি, উপাচার্য কীভাবে অগণতান্ত্রিক আর স্বৈরাচারী শাসণের সূচনা করেছিলেন! বলা হয়ে থাকে, কোনেও হলের একটি বদনাও যদি চেঞ্জ করতে হয়, উপাচার্যের নির্দেশনা লাগবে। নির্দেশনা লাগেনি শুধু যাবতীয় অনিয়ম আর দূর্নীতিতে।
    গত চারটি মাস ধরে শিক্ষাথীরা যখন একের পর এক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন, তখন উপাচার্য আন্দোলনকারীদের দমাতে লেলিয়ে দিয়েছেন পোষা গুন্ডাবাহিনী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের। রাতের আঁধারে পুলিশ দিয়ে শিক্ষক গ্রেফতার করিয়েছেন।
    আন্দোলন যখন চরম পর্যায় তখন তিনি এলেন। এলেন আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে। উপাচার্যের দালালি করতে। আন্দোলনরত শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা যখন মানল না, তখনই তিনি ক্ষুব্ধ হলেন। যত রাগ গিয়ে পড়ল সব আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি।
    কথা হল, তিনি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনেট সদস্যও বটে। এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন? সবুজ ক্যাম্পাস যখন রক্তে লাল হয়, মিডিয়ার বদৌলতে যখন বিশ্ববাসী কেঁদে ওঠে, তখন তিনি কোথায় ছিলেন? একবার তো আসতে পারতেন, নিজ দায়িত্ব থেকে!
    অবশেষে তিনি এলেন, উপাচার্যের পদরক্ষায় আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে। শিক্ষার্থীরা যখন অনশন করে মরছেন, তখন আরও ১৫দিন আলোচনার সময় চাইতে! কী বলব এ উদ্যোগকে…

    Reply
  4. ফয়জুল হক ফয়েজ

    আসলে আমরা এমন এক জাতি যেন রাজনীতি ছাড়া কিছু বিঝুনা এবং আমরা সামান্য কিছুতেই রাজনীতিকে সম্পৃক্ত করি। যেমন ছাত্রলীগের একজন কর্মী একজন রিক্সা চালকের সাথে কথা কাটাকাটি করে এক পর্যায়ে মারধর শুরু হয়ে গেল। এবং সেটি এরকম হল যে পুরো বাংলাদেশই জানলো ছাত্রলীগের ছেলেদের সাথে অটো রিক্সা চালকদের সংঘর্ষ।

    Reply
  5. আমিত

    ১। আপনি বলেছেনঃ “আমি কোথাও কোন অন্যায়ের শিকার হলে অভিযোগ করতে পারি, বিচার চাইতে পারি। নিজে পাল্টা অন্যায় করতে পারি না।”
    তার মানে কি এই যে আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রীরা অন্যায়ের শিকার হয়ে অন্যায় করছে?
    ২ আপনি বলেছেনঃ”যেসব সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে, জুবায়ের নামে একজন প্রতিভাবান ছাত্র খুন হয়েছে”………………
    ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে জানিয়েছে ওখানে কোন কমিটি নেই আজ কয়েক বছর ধরে। তাদের নাম করে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস করে একটি গ্রুপ। আমি তাদের বললাম, বিষয়গুলো তোমাদের মিডিয়ার কাছে বলা উচিত।”
    তো আপনি বলতে চাইছেন ছাত্রলীগ যোবাইরকে খুন করে নাই। অন্য কেউ করে সুশীল ছাত্র লীগের নাম দিচ্ছে। তার জন্য আপনি মিডিয়া প্রোটেক্সনের উপদেশ দিয়ে এসেছেন?
    ৩ আপনি বলেছেনঃ”এই যে সাদা-লাল-নীল-হলুদ-সবুজ এত সব রঙের কী দরকার?
    আপনি কি বুঝাতে চাইছেন এই সরকার একটি মাত্র দলীয় ছাত্র রাজনীতি রেখে বাকি গুলো নিষিদ্ধ করে দিলে ভবিষ্যতে আর সমস্যা হবে না?…। নাকি সমস্যা দেখিয়ে দেওয়ার মত কেউ থাকবে না?

    ৪ আপনি বলেছেনঃ”আমি ব্যক্তিগতভাবে দলীয়করণে বিশ্বাসী নই। আমার সরকারও ”
    আর কি করা বাকি আছে যা হলে আপনার মনে হবে আপনার সরকারও বিশ্বাসী নয়?

    ৫ আপনি বলেছেনঃ “শিক্ষকরা কি মানুষ গড়ার কারিগর থেকে এখন মানুষকে ব্যবহারের কারিগর হয়ে গেলেন?”
    সেই প্রশ্নটা কি ভিসি ও তার অনুগত লাঠিয়াল বাহিনীকে জিজ্ঞেস করে আসতে পারেন নাই?

    Reply
  6. রাকীব, পল্লবী

    তারানা হালিম, আপনি আপনার এলাকার এক সরকারি কর্তা ব্যক্তিকে বদলি করেন নাই, এটা আপনার উদারতা নয়, নৈতিক দায়িত্ব। ভালো কাজ নিশ্চুপে করতে শিখুন।

    Reply
  7. altaf parvez

    বিশ্ববিদ্যালয়ে রঙের দরকার কারণ, রঙ না থাকলে আপনারা সংসদ সদস্যরা এবং আপনাদের ক্ষমতাসীন পার্টি ভিসি বানাবেন কাকে। সুতরাং কেবল রঙ থাকলেই হবে না, সেখানে ‌বঙ্গবন্ধু পরিষদ থাকতে হবে, বঙ্গমাতা পরিষদ থাকতে হবে, জিয়া পরিষদ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় যে রঙ্গিন সেটা আসলে রাজনীতির দেউলিয়াত্ব নির্দেশ করে। আপনারা যারা আওয়ামী লীগ-বিএনপি করছেন তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী।

    Reply
  8. মশিউর রহমান খান

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিসি সর্বোচ্চ কী কী করতে পারেন, বা কী করলে তার ক্ষমতার অপব্যবহার হয় এ নিয়ে নিশ্চয়ই আইন আছে। তেমনি আন্দোলনকারীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করার নামে কী করতে পারে তারও নিশ্চয়ই সঠিক ব্যাখ্যা আছে। জাবির আন্দোলনটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। এখানে সরকার বা সিন্ডিকেট অনেক আগেই তদন্ত করে ছাত্রদের ক্লাসে যেতে বলতে পারতেন। আমাদের সরকারও রাজনৈতিকভাবে সমাধান চান সবকিছুর, তাহলে সিন্ডিকেট বা বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যন্ড কমিশনের কী দরকার? বুয়েটেও একই সমস্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দয়া করে বিশ্ববিদ্যায়গুলোকে দলীয়করনণর বাইরে রাখুন। এতে ভবিষ্যত ফলাফল ভালো বৈ মন্দ হবে না।

    Reply
  9. Dipen

    সরলতার মুখোশ পড়ে সুচতুরতা ! আপনি একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী. ছাত্রলীগের ছেলেরা আপনাকে যা বোঝাল আপনি তাই বুঝলেন, এবং অত্যন্ত চালাকির সঙ্গে ছাত্রলীগের ভয়ংকর অপকর্মগুলোকে এড়িয়ে গেলেন. জামাত-শিবির কে প্রশ্রয় দেবার প্রসঙ্গ তুলে, ভিসির বিরুদ্ধে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর বাপরে কিছুই বললেন না!
    ইনিয়ে বিনিয়ে পক্ষান্তরে ছাত্রলীগের সাফাই গাইলেন !
    বিভিন্ন কারণে আপনাকে শ্রদ্ধা করতাম। এই লেখা পড়ে সেই শ্রদ্ধা হারালাম। আপনার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে এই লেখা আপনি লিখতেই পারেন। অন্যায় করেছেন এতটা innocent আর naive ভাব ধরে। এই লেখায় নিরপেক্ষতার সামান্য কোনো ছাপ দেখলাম না. বরং আপনার দলকে যে কোনোভাবে বাঁচানোর চেষ্টা খুবই স্পষ্ট। এটা কি বিবেকবান মানুষের কাজ হতে পারে?
    সরি ম্যাডাম, ইউ আর স্ট্যান্ডিং অন দ্য রং সাইড অব দ্য হিস্টরি…….

    Reply
  10. pantho

    ভালোই হল। সবাই কিছুটা সময় কাটালাম। কাজের কাজ কিছুই হল না। সব মিলিয়ে একটা ঘোড়ার ডিম পেলাম।

    Reply
  11. সৌরভ

    আমরা সবাই এখন শুধু লীগের দোষই দেখছি । অথচ বিএনপি যে দেশে কী তাণ্ডব করে গেছে সেটা ভুলে গেছি। এই একটি কারণেই আমাদের দেশের উন্নয়ন হয় না ।

    Reply
    • Dipen

      BNP যেই তান্ডব করে গেছে, তার শাস্তি কি বিএনপি পায়নি? এখন বিএনপি করেছে বলে আওয়ামী লীগকে একই কাজ করতে হবে, এবং কিছুই বলা যাবেনা (যেহেতু বিএনপি করেছে)–এমন পিকুইলিয়ার মানসিকতার মানুষের জন্যই দেশের উন্নয়ন হয়না জনাব!

      Reply
  12. ইশতিয়াক

    তারানা হালিম বাংলাদেশের একজন ‘সংসদ সদস্য।’ উনি ‘সাংসদ’ নন। ‘সাংসদ’ কথাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত। তারানা হালিম একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মহিলা। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষকরা কেন লেখাপড়া বাদ দিয়ে আন্দোলনে সময় অপচয় করছেন তা বুঝতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই। কথায় আছে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হবার সৌভাগ্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে এরা জনগণ ও ঘটনা-তথ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন যেটাকে ইংরেজিতে ‘out of touch’বলে। কাজেই তারানা হালিম যদি তার জ্ঞানের ভান্ডার হালনাগাদ করার জন্য ক্যাম্পাসে বেড়াতে গিয়ে থাকেন তাহলে উনি নিজের জন্য সঠিক কাজটি করেছেন।

    এদিকে ‘মৌলবাদ’ শব্দটা ২০০৯ সাল থেকে সরকারপক্ষ অত্যন্ত কৃতকার্যের সঙ্গে দেশের অর্ধেক জনগণকে গেলাতে সক্ষম হয়েছে। বাকি অর্ধেক জনগণকে জোর করে গেলাতে হিমশিম খাচ্ছে যেটাকে ইংরেজিতে ‘force feeding’বলে। দেখা যাক জনগণ কী খায়। কিন্তু মূল বিষয়টা হল, ১৯৭১ সালে দেশে নিরক্ষরের হার ছিল শতকরা ৮২ ভাগ আর ২০১২ সালে দেশে নিরক্ষরের হার শতকরা ৪০ ভাগ।

    Reply
    • kohinoor

      মাননীয় সংসদ সদস্য তারানা হালিম এর উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

      Reply
  13. Suchana

    যে কোনো সংবেদনশীল লোক তারানা হালিমের সঙ্গে একমত হবেন।

    Reply
  14. সাহাব উদ্দীন

    উনি সাংস্কৃতিক কর্মী হয়েও সন্ত্রাসীর আখড়া ছাত্রলীগের পক্ষে কথা বলেছেন এটা খুবই দুঃখজনক। আমাদের দেশের রাজনীতিকরা, যেখান থেকেই তাদের উৎপত্তি হোক না কেন, রাজনীতিতে এলে তাদের চরিত্র এক হয়ে যায়। তারানা হালিম এর ব্যতিক্রম হতে যাবেন কেন?

    Reply
  15. Arif Ahmed

    আওয়ালীগের সময় আর মাত্র বছর খানেক। এখনও অনেক মন্ত্রী-এমপিকে জনগন চেনেনা। কারন এ্ই সকল অযোগ্য মন্ত্রী-এমপিদের সকল কর্মকান্ড প্রধানমন্ত্রীকেই দেখতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে নিজেকে জাহির করার জন্য উল্টা-পাল্টা কর্মকান্ড, বক্তব্য দিয়ে নিউজ হেডলাইন হওয়ার চেষ্টা করে। এবং তাই হচ্চে। অন্তত আমার তো তাই মনে হয়।

    Reply
  16. সাঈদ মজুমদার

    মাননীয় সাংসদ, আপনাদের কাছে আমরা সমাধান চাই, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চাই না। সমস্যা যে রাজনৈতিক সেটা আপনাদের মতো মানুষের বুঝতে জাবিতে যাওয়া লাগল?

    Reply
  17. মোঃ ছানোয়ার হোসেন

    তারানা হালিম -তার কথা ঠিক আছে। তবে সবাইকে মনে রাখতে হবে, তবে সরকারের কাছ থেকে রাজনীতির সঠিক চর্চার পরিচয় আজ পাওয়ার সময়ও ঘনিয়ে এসেছে।

    Reply
  18. সাদামন

    আপনার আত্বোপলব্ধি,”আমি খুব স্পর্শকাতর একজন মানুষ। কিন্তু আমার ক্ষমতা সীমিত।” আপনি একজন প্রতাপশালী সরকার দলীয় সাংসদ, একজন প্রথম সারির সংস্কৃতিকর্মী, একজন আইনজীবী। তারপরও কেন আপনার এত সীমাবদ্ধতা? প্রশ্ন করেছেন কখনও নিজেকে? মিশুক মুনির, তারেক মাসুদ হত্যা নিয়ে কিছু একটা করার চেষ্টা করে পরে কোনো এক অশনি সংকেতে নিশ্চুপ হয়ে গেলেন চিরতরে। সাগর-রুনির হত্যা নিয়ে আপনাদের কোনো বিবৃতিও চোখে পড়ে নাই। সবকিছুতেই যুদ্ধোপরাধীদের বিচারের ইস্যু এনে আর লোক হাসাবেন না দয়া করে। আপনি কি আপনার সীমাবদ্ধতা জাহির করার জন্য লিখলেন? সেটাতো আপনার কাজেই প্রকাশ পাবে। আমিও এইদিকে আগ্রহ নিয়ে আপনার লেখাটা পড়ে ও কমেন্ট করে কিছুটা সময় নষ্ট করে ফেল্লাম।

    Reply
    • salauddin

      আমি সাদামন-এর কথার সঙ্গে একমত। দেশের ভালোই যদি চাইবেন, তাহলে জনগনের কাতারে এসে কথা বলুন । তখন আপনার কথায় কোনো কমেন্টস করতে আমাদেরও ভালো লাগবে । আপনারা চাইলে এ দেশটাকে সুন্দর করতে পারেন । আপনাকে আঘাত করে এই কথাগুলা লিখতাম না, যদি না দেশটার এই খারাপ আবস্থা করতেন আপনারা ।

      Reply
    • iqbal hossain

      থ্যাঙ্কস তানবিরা, খুব ভালো বলেছ…… তোমার মতো কয়েকজনকে আজ দেশের দরকার….

      Reply
  19. ড। তপু

    বিশ্ববিদ্যালয়, এর রাজনীতি, কার্যকলাপ নিয়ে দেখি সবারই আগ্রহ। থাকবেই না কেন? এতে যে স্বার্থ উদ্ধার করা যায়। সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান রঙের কথা বলে কিন্তু আপনারা আইনজীবীরাও কি রঙের বাইরে? নিজেদের সমিতির নির্বাচনের সময় নানান রঙের বাহার কি দেখা যায় না? আসলে রাজনীতিবিদরা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্বশাসন দিয়ে তাদের খবরদারি করার জায়গাটা কমে গেছে। তাই তারা সবসময় ভিন্ন পথে নাক ঢুকায়।
    সবার সব জায়গায় হাত বাড়ানোর দরকার নাই।

    Reply
  20. অঞ্জন

    লেখায় বলা হয়েছে, “ …এখানেও কারও কারও রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। প্রথমত যে কারণে আমার একথা মনে হয়েছে তা হল, এখানে আন্দোলনকারী এবং আন্দোলনবিরোধী দুটি পক্ষের অভিযোগ একই। উপাযার্য-বিরোধী আন্দোলন যারা করছেন তারা বলছেন, উপাচার্য বা তার পক্ষের শিক্ষকরা স্বাধীনতাবিরোধী জামাত ও শিবিরের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। একইভাবে উপাচার্যের পক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছেন তারাও আন্দোলনকারীদেরকে মৌলবাদীদের সমর্থক বা পৃষ্ঠপোষক বলে সমালোচনা করছেন।…”
    এভাবেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আন্দোলনকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আন্দোলনের মূল বিষয়টি না বলে জামাত-শিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে। এটা এই আন্দোলনের ক্ষেত্রে আওয়ামী পন্থীদের আবিষ্কার। আন্দোলনের কৌশলগত দিক সম্পর্কেও বলা হয়েছে। যেমন, অবরোধ না করা, নিয়মতান্ত্রিক পথে এগুনো, বিচার চাওয়া ইত্যাদি বিষয় বলা হয়েছে।
    একজন রাজনৈতিক নেতা হয়েও লেখক কেন অবরোধের মতো স্বীকৃত গণতান্ত্রিক কর্মসূচির বিরাধীতা করলেন, তা আমার মাথায় আসে না। আর নিয়মতান্ত্রিক পথটাই বা কী?
    যে কারণে আন্দোলন সেই মূল বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ভিসি’র দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ, জুবায়ের হত্যাকারীসহ সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতি চর্চার ওপর আঘাত এসব বিষয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এড়িয়ে গেছেন লেখক। এসব অভিযোগ বিষয়ে তার মতামত লেখার মধ্যে নেই।
    লেখক ছাত্রলীগের কমিটি নেই বলে ছাত্রলীগকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ না থাকলে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে কারা? জাবিতে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন চলাকালে একদল বুদ্ধিজীবী ছাত্রলীগকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি।

    Reply
  21. মোঃ গালিব মেহেদী খান

    মাননীয় সাংসদ, বিশ্ববিদ্যা্লয়ে এত রঙয়ের কী দরকার? প্রশ্নটা কি আপনার বিশ্বাসের জায়গা থেকে করলেন? প্রশ্ন করছি এ জন্য যে আমাদের দৌড় এ পর্যন্ত, তাই আমরা লিখি। কিন্ত আপনারা তো বাস্তবায়ন করতে পারেন। নিদেনপক্ষে মহান সংসদে উপস্থাপন করতে পারেন। তবু বলছি, যেভাবেই বলুন না কেন বলেছেন যে এতেই সন্তষ্ট হলাম। আমাদের কথা বুঝতে পারছেন এই ভেবে।

    Reply
  22. nazmul

    তারানা হালিম শুধু শুধু কষ্ট করে লিখলেন যা সবাই জানে। নিজের জায়গা CLEAR করলেন না। আপনি জাবিতে থাকেন না। আপনি পেপার পড়ে একদিন গিয়ে কিছুই বুঝবেন না। বোঝার কথা না। আপনি নিজে সরকার দলীয় মানুষ। মতামত সবাই দেয়। কাজ কেউ করতে চায় না। আপনিও তাই। কাজ করে তারপর লিখেন । দেখবেন নিজের লেখা আমুল বদলে গেছে। আফসোস আপনাদের মতো মানুষদের জন্য।

    চোখ খুলুক আপনার এই কামনায়।

    Reply
  23. Ram Chandra Das

    ভালো বিশ্লেষণ। অন্তত লেখার শেষে একজন স্পর্শকাতর মানুষের কাছ থেকে একটি শুভকামনাও আছে। ভালো লেগেছে কারণ একজন রাজনৈতিক (আধা-রাজনৈতিক?) লোকের মনে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যাপারে যে চাওয়া আছে সাধারণ্যে তার প্রকাশ ঘটেছে। এই প্রত্যাশা বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছেই ছিল কিন্তু তা কখনও পাইনি আমরা। আমার ধারণা আপনি দলের হাইকমান্ডের কাছে বিষয়টা তুলে ধরবেন। আমাদের মনে হয়, আমাদের রাজৗনতিক সংস্কৃতির নোংরামির বৃত্তে পড়ে আওয়ামী লীগও অসহায় হয়ে পড়েছে।

    তাই বলব, দয়া করে ইতিহাস ও সমসাময়িক প্রমাণগুলো থেকে শিক্ষা নিন। ধন্যবাদ।

    Reply
  24. Sayema Khatun

    লেখাটিতে সততার ছাপ নেই ….. মূল সমস্যাটিকে অন্য খাতে নিয়ে যায়।

    Reply
  25. K.M.Jawadul Baki

    আপনাকে শ্রদ্ধা করি সেই ছোটবেলা থেকেই। লিখাটাকে ওজনদরে মেপে ফেলার সাহস করলাম। এটাকে পাবলিক কনটেন্ট না করে পারসোনাল ডাইরিতে ”এভরিডে ডিটেইল” হিসেবে লিখলে ভালো হত। তবে আপনার উপলব্ধির ব্যাপ্তির প্রশংসা করতে হয়।

    Reply
  26. ফয়সাল রহমান

    আমি জাবি’র প্রাক্তন ছাত্র। আপনার সঙ্গে কিছু বিষয়ে একমত নই। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কৌশলগত কারণে শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্ব হয়েছে । তাতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না। জাবি’র রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই আপনার মনে হয়েছে যে, “কিন্তু একটা সময়ের পর কিছু কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে ছাত্রদের ব্যবহার করতে শুরু করেছে। আর এর ফলেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সময়ে নানা সংকট তৈরি হয়েছে।”

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। তাই ভিসির বিদায় গত দু’বছর ধরে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীর (শুধুমাত্র ভিসিপন্থী গুটিকয় ছাত্রলীগ ছাড়া) প্রাণের চাওয়া। আপনার লেখায় অবশ্য ভিসিপন্থী গুটিকয় ছাত্রলীগকে দুধের বাচ্চা মনে হল।

    আরেকটা কথা। এত যে নিয়ম নিয়ম করছেন, ভিসি নির্বাচনের যে নিয়ম আছে সে নিয়মের কথা বললেন না কেন?

    Reply
  27. শাহ নেওয়াজ

    তারানা হালিম লিখেছেন, “ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আমি ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে জানিয়েছে ওখানে কোন কমিটি নেই আজ কয়েক বছর ধরে। তাদের নাম করে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস করে একটি গ্রুপ। আমি তাদের বললাম, বিষয়গুলো তোমাদের মিডিয়ার কাছে বলা উচিত। কারণ তা না করাতে তো বদনাম হচ্ছে তোমাদের। ওরা আমাকে অনেক অনুরোধ করল যাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কাউন্সিল করে কমিটি গঠনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেই।”

    হেসে বাঁচি না ! উনি যাদের কথা লিখেছেন, তারা হচ্ছে ছাত্রলীগের ভিসিগ্রুপের শীর্ষস্থানীয় ক্যাডার। গত কয়েক বছরে ভিসি শরীফ এনামুল কবীরের মদদে শত শত হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে এরাই। সেদিন সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর হামলায় ওরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। ওদের সঙ্গে কথা বলার আগে তারানা হালিমকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শরীফ এনামুল কবীরের ওই ক্যাডারদের ‘অ্যাকশনের’ ছবিও দেখিয়েছেন। তারপরও তিনি তাদের কথায় আস্থা রেখে “তাদের নাম করে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস করে একটি গ্রুপ” বলে কেমন নিরপেক্ষতা দেখাতে চাইলেন?

    Reply
  28. গৌতম রায়

    আপনি আসলে কী বলতে চেয়েছেন তা অপরিষ্কারই রইল। দলীয় পরিচয়ের বাইরে আপনি কেন যাবেন। সমাধান না করতে পারলে গিয়ে কী করতে চেয়েছিলেন, এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদারনৈতিক চর্চা কিংবা সমস্যাটির সমাধান কীভাবে সম্ভব- সব মিলিয়ে গুবলেট পাকিয়ে ফেলেছেন। অনুরোধ করব, এরপর থেকে লেখা প্রকাশের আগে আরেকবার পড়ে দেখবেন। আপনার বক্তব্য পরিষ্কার নয়!

    Reply
  29. Ira

    আপনার কি মনে হয় বুয়েটেও একই ঘটনা ঘটছে? ছাত্রলীগ সেখানে কিছুই করছে না। লোকে খামোখাই ওদের ওপর সব দোষ চাপাচ্ছে…

    Reply
    • সজল

      “আমরা তারানা আপার বক্তব্যর সঙ্গে একমত” মানে কি? আমরা বলতে কি বুঝাইলেন? আপনার পুরা ফ্যামিলি নাকি আপনার দল?

      Reply
  30. jafar

    “আমার কথা হল, আমি বাংলাদেশের নাগরিক। সে হিসেবে দেশের মঙ্গল আমার কাছে সবচেয়ে আগে।” তারানা হালিম

    Reply
  31. হাসনাঈন শাওন

    আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রথম শ্রেণীর নাগরিক, সাধারণ জনগণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অত্যন্ত সম্মান করে। তারা কেন রাজনীতি করেন,শিক্ষক কেন দলের পিছনে,রাজনৈতিক আর্দশের পিছনে দৌড়ান, শিক্ষকরা শিক্ষকতা,গবেষণা বাদ দিয়ে নোংরা রাজনীতিতে নিজেদের লিপ্ত রেখেছেন, জাহাঙ্গীরনগর এবং বুয়েটে অচলাবস্থার পিছনে মুল দায়ী শিক্ষক রাজনীতি। আমাদের শিক্ষকরা শুধুমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু তারা রাজনীতি করেন না।শিক্ষকদের দালালী করতে দেখলে অত্যন্ত খারাপ লাগে।সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষ্ক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে।

    Reply
  32. Shamsuddin

    বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোনো নিয়োগ তো অবশ্যই মেধার ভিত্তিতে হতে হবে। সেক্ষেত্রে যে কারোর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচিতি থাকতে পারে। তাতে কিছু যায় আসে না। মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হল জাতীয় সম্পাদ। তাই এখানে স্বচ্ছতা, সততা আর মেথার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হলে সমস্যা থাকে না। সেটা করা হচ্ছে কিনা তাই হল আসল কথা। রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন ভিন্ন হলেও সবাই তো এ দেশেরই নাগরিক…

    Reply
  33. হাসিব

    “আমার এলাকার এক উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বিরোধী দলের সমর্থক বলে আমার কাছে সুপারিশ এসেছিল তাকে বদলি করার। আমি কিন্তু তা করিনি। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে দলীয়করণে বিশ্বাসী নই। আমার সরকারও এ ধরনের কাজ করুক তা আমি চাই না। মজার ব্যাপার হল, ওই সরকারি কর্মকর্তা কিন্তু আমার উদারতাকে গ্রহণ করতে পারেননি। তিনি প্রটোকল মেনে কখনও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেননি। আমার কোন অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার প্রয়োজনও অনুভব করেননি।”-ব্যাপারটা দিয়ে কী বোঝাতে চাইছেন?

    ভাসা ভাসা অস্পষ্ট লেখা; নিজেকে আড়াল করার প্রবণতা …

    Reply
  34. Rihan

    অনেক কিছুই এড়িয়ে গেলেন ম্যাডাম।
    সবচেয়ে বড় কথা হলো আপনার রাজনৈতিক অবস্থান জনগণ জানে। সুতরাং যতই উদারমনস্ক ভাব দেখান, লাভ হবে না…

    Reply
  35. আরিফুর রহমান

    অনেক সময় সমস্যা সমাধানের প্রথম পর্যায় হয় সমস্যার জড় খুঁজে বের করা। এক্ষেত্রে আপনি দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বেশ ক’টি কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় বের করে এনেছেন।

    ১. //ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আমি ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাকে জানিয়েছে ওখানে কোন কমিটি নেই আজ কয়েক বছর ধরে। তাদের নাম করে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস করে একটি গ্রুপ। //

    আমি মনে করি আমাদের বর্তমান সমস্যা, বা সমস্যাগুলোর গোড়া এখানে।

    বাংলাদেশে বর্তমানে তীব্র মৌলবাদবিরোধী ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঢেউয়ের অপব্যবহারও শুরু হয়েছে।

    স্বাধীনতার পরের সুদীর্ঘ সময় যে বিভ্রান্ত ও ধোলাইকৃত মগজ নিয়ে যে ক’টি প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে তাদের কিছু অংশ অসম্ভব ধূর্ততার সঙ্গে আমাদের মাঝে মিশে গিয়ে এখন প্রায় সবাইকেই মৌলবাদী বানিয়ে দিয়েছে।

    তার উদাহরণ উপরে উদ্ধৃত করা আপনার বক্তব্যটি। যেখানে ছাত্রলীগের কোনো কমিটিই নেই, সেখানে ছাত্রলীগ কী করে সন্ত্রাস করে? অথবা ঘুরিয়ে বললে সন্ত্রাসের দায় ছাত্রলীগের ঘাড়ে চাপাবার জন্য সবাই এত উন্মুখ কেন!!

    আমার ডিডাকশন হলো, যে সন্ত্রাসী গ্রুপটি ছাত্রলীগের নাম ভাঙাচ্ছে, তাদের প্রোফাইলিং করলে আপনি দেখবেন এদের অতীত ছাত্রশিবিরের অতীত। মৌলবাদের বিপক্ষে প্রবল জনমতের সুযোগ নিচ্ছে শিবিরের সন্ত্রাসীরা। আর এই অস্ত্রের ব্যপক ব্যবহার হচ্ছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের কর্মীদের ওপরই।

    Reply
    • rajon haque

      “আমার ডিডাকশন হলো, যে সন্ত্রাসী গ্রুপটি ছাত্রলীগের নাম ভাঙাচ্ছে, তাদের প্রোফাইলিং করলে আপনি দেখবেন এদের অতীত ছাত্রশিবিরের অতীত। মৌলবাদের বিপক্ষে প্রবল জনমতের সুযোগ নিচ্ছে শিবিরের সন্ত্রাসীরা। ”

      খ্বুবই মজা পেলাম আপনার কথা শুনে। শাক দিয়ে আর কতকাল মাছ ঢাকবেন ?

      আমি এখন পর্যন্ত দুইটা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি কিন্তু কোথাও দল দেখিনি।

      আসলে ছাত্রশিবির বলেন আর ছাত্রলীগ বলেন সব দল বন্ধ করা দরকার এখনই। তারানা হালিম এর সঙ্গে একমত প্রকাশ করলাম।

      Reply
      • সজল

        ভাই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতেই হবে কেন? ‘জাকসু’ এর নির্বাচন বছরের পর বছর বন্ধ। আমরা কেন মেনেই নিচ্ছি, যে দল ক্ষমতায় আসবে তাদের ছাত্রসংগঠনের ছেলেরাই শুধু ছাত্ররাজনীতি করবে? ‘জাকসু’ এর নির্বাচন দিলে তো যে কোন ছাত্রই ছাত্রদের অধিকারের নেতৃত্ব দিতে পারে।

  36. Reza

    আপনার তো একটা পলিটিক্যালে আইডেনটিটি আছে। তা্ই আপনি যে জাহাঙ্গীরনগরে গিয়েছেন এর পেছনে শুধু আপনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ কাজ করেছে তা নয়। আপনি স্বীকার করুন চা্ই না করুন, লোকে আপনার উদ্দেশ্য কী তা জানে…

    Reply
  37. আবুল খায়ের

    ১৯৭৬ থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক এবং ছাত্ররাজনীতি কলুষিত করার পরিকল্পিত যেসব উদ্যোগ চালু করা হয়েছিল তার আদর্শ নমুনা হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রথম সাধারণ সম্পাদক জনাব গোলাম হোসেনকে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে শিক্ষক বানানো হয়েছে এবং তার মতো বিএনপি-জামাত-শিবিরের অনুগত আরো অনেককেই শিক্ষক পদে পদায়িত করার মধ্য দিয়ে ছ্রাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের ঐতিহ্যিক পরম্পরাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। লেখকের পর্যবেক্ষণের তারিফ না করে পারছি না। উপলব্ধির সুখপাঠ্য উপস্থাপনার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

    Reply
  38. মোঃ রশিদুর রহমান

    সব নির্বাচিত সরকার কখনও ছাত্ররাজনীতি বন্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় নাই । তারা চায় ছাত্ররাজনীতি টিকে থাকুক । লাভ অনেক । ক্যাম্পাসে নিজেদের অস্তিত্ব জানানো, শিক্ষকদের মধ্যে রাজনীতির বীজ বপন করে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করা, একটি মেরুদন্ডহীন জাতি উপহার দেওয়া, ভবিষৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের যুগে নিয়ে যাওয়া, দেশকে একটি অনুন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা, জনসাধারণকে বোকা বানিয়ে বছরের পর বছর ক্ষমতায় গিয়ে দেশ পরিচালনা করা। আমরা এতই অন্ধ যে এগুলোকে খুবই গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেই । মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে । আমরা চোখ দিয়ে যা দেখছি, কান দিয়ে যা শুনছি সবই যেন স্বপ্নে ঘটছে । কবে আমাদের স্বপ্নভঙ্গ হবে ? কবে আমরা আবার জাগব ?

    Reply
  39. কামরুল

    ভাবছিলাম চিন্তাশীল মানুষেরা দেশ থেকে হারিয়ে গেল কিনা। দেশে মানুষ কোথায়? মানুষের মতো মানুষ?

    Reply
  40. Asad

    গুরুত্বহীন লেখা। বিশেষ কিছু এড়িয়ে গেলেন। বোঝা গেল, আপনি বিশেষ কোন পক্ষের হয়েই ওখানে গেছেন। জাহাঙ্গীরনগরে কী ঘটেছে, কেন ঘটছে, তা সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন। গত কয়েক মাসে পত্রিকা মারফত আপামর জনসাধারণও জানেন। আপনার সরাসরি বলতে পারা কাম্য ছিল যে ওখানে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের সরে যাওয়া উচিত। আর এখন ‘ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতির নামে যা চলছে, তা “দেশকে ভালবাসা” বা “দেশের প্রতি কর্তব্য” ইত্যাদির সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়। এই নোংরা “‘ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি” বন্ধ করতে চাওয়ার মতো সৎসাহস বোধকরি আপনাদের (বুদ্ধিজীবীদের) নাই।

    Reply
  41. আবুল হোসেন ভূইয়া

    ম্যাডাম, আপনার কথাগুলো বাস্তবসম্মত। আমাদের দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনীতি ঢুকে পড়ার ফলে কোন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ক্যাম্পাসে আবার বহুবিধ রঙের ব্যানারে শিক্ষকদের রাজনীতিচর্চা সব অনিষ্টেরর মূল কারণ। এই রঙগুলো মুছে দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে…

    Reply
  42. saif

    রঙ বাতিল করলেই যে এই সমস্যার সমাধান হবে তা নয়। এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতি বছর ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। এতে প্রকৃত আদর্শবাদী ছাত্রনেতারা বের হয়ে আসবে। এর সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকৃত সংগঠনে অভ্যন্তরীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেন সেখানেও জনপ্রিয় নেতারাই দলের দায়িত্বে থাকে।

    Reply
    • muktadir

      আপনার কথাগুলো বাস্তবসম্মত। আমাদের দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনীতি ঢুকে পড়ার ফলে কোন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

      Reply
      • Saifur

        ঠিক বলেছেন মুকতাদির। প্রথমে আমাদের জীবনের সব ক্ষেত্র থেকে রাজনীতিকে বিদায় করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—