১.

খবরের কাগজে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ছবি দেখে দেখে এতদিনে আমাদের অভ্যস্ত হয়ে যাবার কথা ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা এখনও অভ্যস্ত হতে পারিনি। সম্ভবত তার প্রধান কারণ হচ্ছে রোহিঙ্গা শিশু। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ তার জীবনের সব কিছু পিছনে ফেলে হেঁটে হেঁটে অনিশ্চিত একটা জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেই দৃশ্যটি যথেষ্ট হৃদয়বিদারক। তার চাইতে শতগুণ বেশি হৃদয়বিদারক দৃশ্য একটি অবোধ শিশু যখন তার চারপাশে কী ঘটছে তার কিছুই বুঝতে না পেরে তার বাবা বা মায়ের পাশে পাশে হেঁটে হেঁটে যায়। তাদের চোখে এক ধরনের বিস্ময়, এক ধরনের অবিশ্বাস এবং আতঙ্ক। সেই চোখের দৃষ্টি দেখে বিচলিত না হয়ে নিরাসক্ত দৃষ্টিতে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

শিশুগুলো যখন খুব ছোট তখন তারা থাকে তাদের মায়ের কোলে। একটুখানি বড় হয়ে গেলে বাবার কোলে বা কাঁধে। তারা যদি হাঁটতে শিখে তাহলে নিজেরাই বাবা কিংবা মায়ের পাশে পাশে হেঁটে হেঁটে আসে। আরেকটু বড় হয়ে গেলে অবধারিতভাবে তাদের মাথায় একটা বোঝা থাকে।

এই কিশোর কিংবা কিশোরীর চোখের দৃষ্টি দেখে কেন জানি নিজের ভেতরে এক ধরনের তীব্র অপরাধবোধের জন্ম হয়। এই পৃথিবীতে কত সম্পদ, কত ঐশ্বর্য– অথচ এই রোহিঙ্গা শিশুদের জন্যে কিছু নেই। শুধুমাত্র প্রাণটুকু বাঁচিয়ে রাখতেই তাদের পুরো জীবনীশক্তি ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা শিশুদের দেখে প্রথমেই আমার মনে হয় এখন তাদের স্কুলে যাবার কথা। কিন্তু সেই কথাটি উচ্চারণ করাই মনে হয় একটা উৎকট রসিকতার মতো মনে হবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষা শেষে অনেকেই বাবা-মায়ের সাথে বেড়াতে যাবে। আগ্রহ নিয়ে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবে। নূতন বছর শুরু হলে তাদের সবার হাতে নূতন বই উঠবে। সেই বই হাতে নিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠবে। অথচ এই রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার কিছু নেই। শুধুমাত্র শরণার্থী শিবিরে একটি দিনের পর আরেকটি দিন বেঁচে থাকা!

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম মহিলা যখন তার মিলিটারি জেনারেলদের নিয়ে রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে দেশছাড়া করেছিল তখন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষদের নিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা ষোল কোটি মানুষ যদি খেতে পারি, তাহলে এই দশ লক্ষ লোকও খেতে পারবে’।

 

Rohingya - 36000
আমরা আমাদের শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেব, কিন্তু একই ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া অন্য শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করব না?

 

নূতন এবং পুরাতন মিলে প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন এই দেশের মাটিতে স্থান পেয়েছে, মাথার উপর একটুখানি আচ্ছাদন পেয়েছে, দুই বেলা খেতে পারছে অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, প্রাণের ভয়ে তাদের বনের পশুর মতো বনেজঙ্গলে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে না। এই মুহূর্তে পৃথিবীর কত জায়গায় কত রকম যুদ্ধ-বিগ্রহ, কত রকম নিষ্ঠুরতা, তার ভেতরে হতদরিদ্র দুখী রোহিঙ্গাদের কথা পৃথিবীর মানুষের দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারত। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি, পৃথিবীর সব মানুষ এই রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের কথা জানে।

(শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া পৃথিবীর একজন নিষ্ঠুরতম মহিলার সম্মাননা একটি একটি করে প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে, এর চাইতে বড় লজ্জা আর অপমান কী হতে পারে?)

খবরের কাগজে দেখতে পাচ্ছি আলোচনা চলছে, চুক্তি হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা হচ্ছে। বিগত দিনে তিনশত করে শরণার্থী প্রক্রিয়া করা সম্ভব হবে বলে দেখেছি। সেটি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে দশ লক্ষ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দশ বছর সময় লাগবে! সোজা বাংলায় যার অর্থ, এই রোহিঙ্গা মানুষগুলোকে আমাদের বছরের পর বছর আশ্রয় দিতে হবে।

যদি তাই সত্যি হয় তাহলে এই রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ কি আমাদের একটু আলাদাভাবে দেখার প্রয়োজন নেই? আমরা আমাদের শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেব, কিন্তু একই ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া অন্য শিশুদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করব না? তাদের ভবিষ্যতের কোনো স্বপ্ন থাকবে না?

আমরা যখন স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করেছি তখন চীন দেশের কমিউনিস্ট নেতা মাও সে তুংয়ের কথা খুব শুনতে পাওয়া যেত। তার একটা বিখ্যাত উক্তি ছিল এরকম, একজন মানুষ খাওয়ার জন্যে একটি মুখ, কিন্তু কাজ করার জন্যে দুটি হাত নিয়ে জন্মায়। আমরা কি এখন রোহিঙ্গা শিশুদের জন্যে সেই কথাটিই ব্যবহার করতে পারি না? তাদের মুখ একটি, হাত দুটি এবং মস্তিষ্কে নিউরন একশ বিলিয়ন?

২.

একজন মানুষকে ঘরছাড়া কিংবা দেশছাড়া করার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে তার বাড়িতে আগুন দিয়ে দেওয়া। শান্তিতে নোবলে পুরস্কার পাওয়া পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম মহিলা এবং তার জেনারেলরা সেই তথ্যটি খুব ভালো করে জানে। তাই তারা একটি একটি করে রোহিঙ্গা গ্রামের প্রতিটি বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে তাদের ঘরছাড়া করেছে, দেশছাড়া করেছে।

কেউ কি লক্ষ্য করেছেন আমার নিজের দেশের রংপুরে হিন্দুদের বেলায় হুবহু একই ব্যাপার ঘটেছে? অনেক মানুষ মিলে পুলিশের সামনে হিন্দুদের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও একই প্রক্রিয়ায় একই ব্যাপার ঘটেছিল। তখন রসরাজ নামে একজন অসহায় নিরীহ মানুষকে ব্যবহার করে কাজটি করা হয়েছিল। এবার টিটু রায় নামে অন্য একজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পুরো ব্যাপারটির মাঝে এক ধরনের অচিন্ত্যনীয় নিষ্ঠুরতা রয়েছে। অথচ অবিশ্বাসের কথা হচ্ছে, এই টিটু রায়কে দিনের পর দিন রিমান্ডে অত্যচার সহ্য করতে হচ্ছে।

আমরা রোহিঙ্গদের বুক পেতে গ্রহণ করেছি অথচ হিন্দুদের বুক আগলে রক্ষা করব না? এ কেমন কথা?

 

Communal Violence - 888
আমরা রোহিঙ্গদের বুক পেতে গ্রহণ করেছি অথচ হিন্দুদের বুক আগলে রক্ষা করব না?

 

৩.

সবেমাত্র জেএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। খবরের কাগজ থেকে জানতে পেরেছি সবগুলো পরীক্ষার সবগুলো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সারা দেশে যেরকম তুলকালাম কাণ্ড হওয়ার কথা ছিল তার কিছুই হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সাথে সাথে পরীক্ষাটি বাতিল হয়ে যাবার কথা। একটি পরীক্ষাও বাতিল হয়নি। কাজেই ধরে নিচ্ছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি মেনে নিয়েছে। যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়াটি মেনে নেয় তাহলে ছাত্রছাত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিভাবকেরা সেটি কেন মেনে নেবে না? সবাই মেনে নিয়েছে এবং বিষয়টা একটা উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে এর চাইতে কালো কোনো অধ্যায় কি হওয়া সম্ভব?

জেএসসি পরীক্ষা শেষে পিইসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। জেএসসি পরীক্ষার ‘ঐতিহ্য’ ধরে রেখে এর প্রশ্নও ফাঁস হতে শুরু হয়েছে। প্রাইমারির ছেলেমেয়েরা একেবারেই শিশু, তাদের প্রশ্নফাঁসে অভ্যস্ত করে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুরতা আর কী হতে পারে? জেএসসি এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে যে লাগামছাড়া সমস্যার জন্ম হয়েছে, প্রাইমারি পরীক্ষার বেলায় সেটি একেবারেই হওয়ার কথা ছিল না। কারণ এই পরীক্ষাটি হওয়ার কথাই ছিল না। এই দেশের লেখাপড়া নিয়ে কথা বলা হলে যে শিক্ষানীতির কথা বলা হয় সেই শিক্ষানীতিতে প্রাইমারি পরীক্ষাটির কথা বলা নেই। শিক্ষানীতিকে সম্মান দেখিয়ে যদি এই পরীক্ষাটিকে পাবলিক পরীক্ষার মতো একটি বিশাল দক্ষযজ্ঞতে রূপান্তর করে ফেলা না হত তাহলে এই প্রশ্নফাসেঁর ব্যাপারটাই থাকত না। যদি পরীক্ষাই না থাকে তাহালে কেন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হবে?

এবারের পিইসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সাথে সাথে আমরা নূতন আরও একটা বিষয় দেখতে পেয়েছি; সেটি হচ্ছে প্রশ্নপত্রের ভুল। যারা পত্রপত্রিকা পড়েন তাদের একজনও নাই যারা প্রশ্নের ইংরেজিটি দেখে আতঙ্কে শিউরে উঠেনি। প্রশ্নপত্রের এই ভুলটি যেরকম অবিশ্বাস্য এর প্রতিকার হিসেবে যে কাজটি করা হয়েছে সেটি আরও অবিশ্বাস্য। খুঁজে খুঁজে সেই মানুষটিকে বের করা হয়েছে যে প্রশ্নপত্রটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে। তারপর তাকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়েছে।

যে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে তার ইংরেজির জ্ঞান খুব কম। তার পক্ষে এর চাইতে ভালো ইংরেজি লেখা সম্ভব নয়, তাই সে এরকম একটি অনুবাদ করেছে। এটি অন্যায় হতে পারে না, এটি হচ্ছে ব্যর্থতা। ব্যর্থতার জন্যে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। যদি শাস্তি দিতেই হয় তাহলে শাস্তি দিতে হবে এই প্রশ্ন প্রণয়নকারীর দায়িত্বে থাকা কমিটিকে, তার সভাপতিকে, তার সদস্যদের। তারা অনেক বড় অন্যায় করেছেন, তারা এমন একজন মানুষকে প্রশ্ন অনুবাদ করার দায়িত্ব দিয়েছেন যিনি ইংরেজি জানেন না। শুধু তাই না, ইংরেজিতে অনুবাদ করার পর সেই কমিটি প্রশ্নপত্রটিতে চোখ বুলানো প্রয়োজন মনে করেননি কিংবা চোখ বুলিয়ে ভুল ইংরেজি দেখার পরও সেটি সংশোধন করা দরকার মনে করেননি।

একটি বিশাল বিপর্যয় ঘটবে, যারা সেই বিপর্যয়টি ঘটাবে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে, খুঁজে পেতে সবচেয়ে নিরীহ এবং ক্ষুদ্র মানুষটিকে বের করে তাকে শাস্তি দিয়ে সবাই আনন্দে বগল বাজাতে থাকবে, এটি কেমন কথা? একজন মানুষ ইংরেজি না জানলে তাকে শাস্তি দেওয়া যায় না। যে তাকে দিয়ে ইংরেজি অনুবাদ করেছে তাকে খুঁজে বের করে প্রয়োজন হলে তাকে শাস্তি দিতে হবে!

সবচেয়ে বড় কথা, একটা বিপর্যয় ঘটে যাবার পর কাউকে খুঁজে বের করে তাকে শাস্তি দিয়ে কোনো লাভ নেই। বিপর্যয় না ঘটলে অনেক বড় লাভ হয়, এই সহজ কথাটি কেউ কেন বুঝতে পারছে না?

৪.

সাম্প্রতিক ঘটনার মাঝে আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে যে ঘটনাটি সেটি হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি ঘোষণা। সেটি হচ্ছে, তারা এখন স্কুলে স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করবে। নিজের কানে শুনেও আমি কথাটি বিশ্বাস করতে পারছি না। বর্তমান ছাত্রলীগ কি আমাকে সারা দেশে একটি ঘটনার কথা বলতে পারবে যেটি দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে, আমার স্কুলে পড়ুয়া সন্তানকে ছাত্রলীগের সদস্য করে দিতে হবে?

যদি না পারে তাহলে তাদের এই সর্বনাশা প্রজেক্টে হাত দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১১ Responses -- “সাম্প্রতিক ভাবনা”

  1. পাভেল

    আদর্শের কথা বলা আর সেই পথে চলা দুটোই আলাদা। আমরা প্রথম টা ভালবাসি। দুর্ভাগ্য ক্রমে আমিও সেই দলে। আমরা মানুষের সমালোচনা করি, আদর্শ বা মানবতা নিয়ে কথা বলতে ভালবাসি। যদি সেটা নাহ করে আপনার সামর্থ্য দিয়ে যতটুকই সম্ভব ততটা সাহায়্যের হাত বাড়িয়ে দিতাম সেটাই লাভজনক হত। সবাই জাতির মানবতা নিয়ে নাহ ভেবে আপনার টা ভাবলে জাতি একদিন ঠিকই আদর্শ জাতি তে পরিণত হবে।

    Reply
  2. দুনিয়াজুড়ে ‘ভঙ্গুর গণতন্ত্র’ থেকে বেসামরিক কর্তৃত্ববাদী শাসন

    প্রযুক্তির উন্নতি ও শ্রমশক্তির কল্যাণে দুনিয়াজুড়ে উৎপাদন ও সম্পদ বাড়ছে ও এখনো বাড়ছে। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক ন্যায় কমছে, অন্যায় বাড়ছে। এটা বৈশ্বিক ক্ষেত্রে যেমন স্বদেশের ক্ষেত্রেও তেমনই। বৈশ্বিক ক্ষেত্রে সারা পৃথিবী আজ গ্লোবাল ভিলেজের অন্তর্গত হলেও তা নামসর্বস্ব। তথাকথিত বিশ্বায়িত বিশ্বে আজ শান্তির বাতাবরণ নেই। রাষ্ট্রগুলো আজ নানা গোষ্ঠীতে বিভক্ত। ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য বিভিন্ন রাষ্টীয় গোষ্ঠী চরম সংঘাত ও খুনখারাবিতে লিপ্ত। অন্যদিকে এক একটা রাষ্ট্রের ভেতরে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় কারণে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব, সংঘাতের ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা, নির্যাতন, বিতাড়ন চলছে।
    বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে লড়াই, সংঘাত রোধ করার জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই জাতিসংঘ গঠিত হয়। কিন্তু জাতিসংঘ লড়াই, সংঘাত রোধে কতটা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পেরেছে তা আমরা স্পষ্টভাবেই দেখতে পারছি। জাতিসংঘ গঠনের পর থেকেই বিশ্বের পরাশক্তিগুলোই জাতিসংঘের মোড়লিপনার দায়িত্বে আছে। ওইসব মোড়ল রাষ্ট্রগুলোই এক সময় দেশে দেশে ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই সব রাষ্ট্র আজ কৌশলে বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোকে কব্জা করে রেখেছে। অতীতের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখতে পাই, বিংশ শতাব্দীতে দুই দুটো বিশ্বযুদ্ধে পৃথিবীতে মানবতা পাশবিক শক্তির পদতলে কীভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের পরাজয়ের পর বিজয়ী মিত্রবাহিনীর জয়জয়কার হয়। বিজয়ী মিত্রবাহিনীর দেশগুলোর মধ্যে মতাদর্শগতভাবে বিভেদ থাকলেও একনায়ক স্বৈরশাসক হিটলারকে পদানত করার জন্য তারা একাট্টা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয় লাভের পর থেকে বিজিত সম্পদ, ভূখণ্ড ও মানবসম্পদকে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আর একাট্টা থাকে না। বামপন্থার ধারক ও বাহক সোভিয়েত রাশিয়া ও তার দোসররা, ধনতন্ত্রবাদের ধারক ও বাহক যুক্তরাষ্ট্র ও দোসররা হিটলারের অক্ষশক্তিকে মিলিতভাবে পরাজিত করার পর স্ব স্ব মতবাদে বলিয়ান হয়ে দুনিয়াজুড়ে ওপর আধিপত্য কায়েম করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালপর্বে অদ্যাবধি বিভিন্ন দেশে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়নের ফলে মানবতা কি ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে না? গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে উগ্রবাদীদের হামলার সূত্র ধরে রাখাইন রাজ্যে দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এরপর থেকেই প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকায় রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা অব্যাহত আছে। নতুন শরণার্থীর সংখ্যা তিন লাখে পৌঁছেছে।
    গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের নামে প্রগতিবিমুখতা ও অনাচার, সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবিগ্রহ, তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকদ্রব্যের প্রসার, নৈতিক অবক্ষয়, অসামাজিক কার্যকলাপ, নারী নির্যাতন, অর্থনৈতিক বঞ্চনা, জুলুম-জবরদস্তি, অপব্যবস্থা, দুর্নীতি আজ বিশ্বসমাজকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রগতিশীল চিন্তা চেতনা ও কর্মস্পৃহার অভাবে ও সাম্রাজ্যবাদী তৎ্পরতার কারণে ইতিহাসের চাকা পেছন দিকে ঘুরছে। মধ্যযুগের পরাজিত সব সংস্কার, বিশ্বাস ও ভাবধারা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। নৈরাজ্যবাদ ও শূন্যতা সামনে এসেছে। মানুষ এখন সংঘবদ্ধ হতে চায় না, রাজনৈতিক দলও চায় না, একলা চলতে চায়। অন্যদিকে, সর্বজনীন গণতন্ত্রের ইতিবাচক রূপরেখায় চালিত কার্যক্রম অপরিহার্য হলেও কায়েমি-স্বার্থবাদীদের কূটচালে জনসাধারণকে হুজুগে মাতিয়ে স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ভেকধারী গণতন্ত্রকামীরা।

    Reply
  3. আবুল হাসান

    বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে রাষ্ট্রের আনুকূলে। ফলে এখানে অনেক দুর্বলতা রয়ে গেছে। এ দেশে সমন্বয়ের সংস্কৃতি ছিল হাজার হাজার বছর ধরে। এখন সেটা হয়তো কমছে। ধর্ম নিয়ে হইচই শুধু বাংলাদেশে নয়, সব দেশেই আছে। এটি দূর করা সম্ভব নয়। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। একধরনের বেসামরিক কর্তৃত্ববাদ তৈরি হয়েছে। সামাজিক পরিমন্ডলেও এটি ছড়িয়ে পড়েছে। ২০০৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বেসামরিক সরকার আসলেও কর্তত্ববাদী শাসনের বিপদ থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীনরা এককভাবে নির্বাচন করায় সংসদে বিরোধী দলের কোনো অস্তিত্বই নেই। ঐ নির্বাচনের আগে এবং পরে ক্ষমতাসীন দল এমন সব ব্যৗবস্থা গ্রহণ করেছে যা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গণতান্ত্রিক বলে বিবেচিত হতে পারে কিনা তা প্রশ্নসাপেক্ষ। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুটি বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে বা হচ্ছে। এখন মুক্ত চেতনা নেই, তার কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা। অর্থনীতিতে সাফল্য এসেছে। কিন্তু বৈষম্য ও বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ ঘটছে। কিন্তু তারা ষাটের দশকের মধ্যবিত্তের মতো রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনুৎসাহের কারণ কী? তারা কি গণতন্ত্রকে ভিন্নভাবে দেখছে? মধ্যবিত্তের কি রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই? বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে মধ্যবিত্তের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার রূপান্তরই বর্তমান সংকটের কারণ। ‘ভঙ্গুর গণতন্ত্র’ থেকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্থান হয়েছে বা হচ্ছে।

    Reply
    • নুরুজ্জামান

      পৃথিবীতে আদর্শের সংকট চলছে । বিগত শতকে যখন পুঁজিবাদের সাথে সমাজতন্ত্রের বিরোধ ছিল তখন যেসব তরুণ পুঁজিবাদে বিশ্বাস করতেন না তারা সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুকে যেতেন। কারণ তরুণদের বেঁচে থাকার জন্য বেড়ে ওঠার জন্য একটা আদর্শ বা বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়। তবে সমাজতন্ত্র যখন পিছুহটা শুরু করল তখন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী তরুণদের আদর্শ বলতে আর কিছু থাকল না তখন ধর্মবিশ্বাস এবং ইসলাম তাদের সামনে একটি আদর্শ হিসেবে উপস্থিত হয়। আর ইসলামের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভিন্নমত আছে বিভিন্ন বিষয়ে যেমনটি অন্যান্য আদর্শের ক্ষেত্রেও আছে। আমরা যদি পেছন দিকে তাকিয়ে স্যামুয়েল হান্টিংটনের কথা মনে করি তাহলে দেখব তিনি বলেছিলেন, একবিংশ শতাব্দীতে খৃষ্টান ও মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে সংঘর্ষ বা সংকট দেখা দেবে। আর বাংলাদেশেও তো তার ঢেউ লাগতেই পারে। কারণ বাংলাদেশ তো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো রাষ্ট্র নয়। এখন ইন্টারনেটের যুগে বাংলাদেশের তরুণরা পৃথিবীর কোথায় কি হচ্ছে ঘটছে তার খোঁজ খবর নিচ্ছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে আমাদের তরুণদের চিন্তা করার,
      সময় কাটাবার মতো কোনো কিছু নেই। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থাকত- তাহলে তরুণরা ওইসব কর্মকাণ্ডে অনেক বেশি জড়িত হতে পারত। আর তারা ওইসব কাজে জড়িত হলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতি
      সৃষ্টি হতো না, তাদের নিজেদেরকে নিয়ে ভাবতে হতো না।
      এই মুহূর্তে তারা যেভাবে প্রভাবিত হচ্ছে এর কারণ তাদের সামনে যেহেতু খুব বড় একটা শূন্যতা আছে—এরমধ্যে আছে বিশ্বাস বা দর্শনের অভাব,
      আত্মপরিচয়ের সংকট আছে, তাদের সময় কাটানোর একটা বিষয় আছে এখানে তাদের সাংস্কৃতিক একটা শূন্যতাও আছে। কারণ তরুণদের যে বয়স সেই বয়সটা স্বক্রিয় হওয়ার একটা বয়স এই বয়সটি আসলে কর্মের প্রতি আকৃষ্ট
      হওয়ার একটি বয়স। তো সেই বয়সে এসব সংকট ও সমস্যার কারণে তারা এভাবে চলে যাচ্ছে। তাদের শূন্যস্থানটাকে পূরণ করার জন্য তাদের সামনে ইসলামকে
      একটু ভিন্নধরণের ব্যাখ্যা দিয়ে উপস্থাপন করা হয় তখন তারা এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। আমি যদি মনে করি ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা সম্বলিত দর্শনটি তরুণদের বিভ্রান্ত করছে তাহলে তাদের সামনে এর সুষ্ঠু ব্যাখ্যাটা তুলে ধরতে হবে অথবা পাল্টা একটা দর্শন বা একটি আদর্শ তাদের সামনে দিতে হবে। একটা তরুণের জীবনে ভালোবাসা
      আছে, স্বপ্ন আছে, প্রেম আছে, আছে ভবিষ্যতের স্বপ্ন এর সবকিছুই সে ভুলে গিয়ে ওই দিকে সে ধাবিত হয়। কাজেই যিনি বা যারা তরুণদেরকে মোটিভেশন
      করেন তাদের শক্তিটাকেও কিন্তু আমাদেরকে বিবেচনায় নিতে হবে। সেটাকে যদি আমরা বিবেচনায় না নেই তাহলে বিষয়টিকে ঠিক যেভাবে ধরবার সেভাবে
      ধরতে পারব না। একধরণের ডিনায়েলের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। আমার কাছে এটা খুব পরিষ্কার যে এটা রাজনৈতিক সমস্যা। আর রাজনৈতিক সমস্যাকে সমাধান করতে হলে দেশে যে বড় দুটি রাজনৈতিক ধারা আছে তার মধ্যে একধরনের আপোশ হতে হবে। তাদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ কর্মকাণ্ডের প্রয়োজন হবে। কারণ তারা
      বলছে যে সমাজে একতা আনতে হবে। কারণ বাংলাদেশের সমাজ একেবারেই রাজনীতির আবর্তে দ্বিধাবিভক্ত।

      Reply
  4. Fahad Hossain Fahim

    স্যার, আপনার প্রতিটি কথার সাথেই আমি একমত কিন্তু, একটা বিষয় এখনো বুঝে উঠতে পারছি না, প্রায় সাড়ে ষোল কোটির এই বাংলাদেশে আমাদের নিজেদের খাবার জোটে না, সেখানে আমরা রোহিঙাদের জন্য কেন এত কিছু করবো।আমি বলছি না, আমাদের অমানবিক হতে হবে।কিন্তু, মানবিকতার এই দায়িত্বটার বোঝা আমরা কেনো বইবো?

    Reply
  5. Maksudur Rahman

    যেসব শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আপনার মত শিক্ষাবিদ প্রশ্ন ফাঁস মানেন না, মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান তাদেঁর উচিত পরীক্ষা বয়কট করা। শিক্ষার্থীদের উচিত সকালে গিয়ে যখন দেখে তার সহপাঠিরা মোবাইল ফোনে প্রশ্ন উত্তর দেখছে তখন পরীক্ষা না দিয়ে চলে আসা। শিক্ষকদের উচিত যখন কোন শিক্ষক মোবাইলে প্রশ্নের ছবি তুলছে তখন তার হাত চেপে ধরা এবং তাও করা সম্ভব না হলে স্কুল থেকে চলে আসা।

    শুধু পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় না, চাকুরীর পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়। এইসবের কারণ অসম্ভব অসম প্রতিযোগীতা আর বিত্তশালীদের জয়লাভের অদম্য ইচ্ছা। রাজধানী, বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর নামকরা স্কুলের নামকরা শিক্ষকেরা পরীক্ষার আগে মোবাইলে প্রশ্নের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে প্রশ্ন সমাধান করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেন তাদের স্কুলের “শিক্ষার্থীদের” (?) ভাল ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য। প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলে প্রশ্ন ফাঁস হয় না, কারণ তাঁরা অসম প্রতিযোগীতা করে জয়ী হয়ে সমাজে উচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অসুস্থ ইচ্ছা মনের মধ্যে পুষে রাখে না।

    যতদিন এই দরিদ্র দেশে ধনীদের অসুস্থ অদম্য ইচ্ছাকে সামাজিক সমর্থন দেওয়া হবে ততদিন কোন প্রযুক্তিই প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে পারবে না। প্রশ্ন যতই কেস স্টাডি, এসাইমেন্ট, গ্রুপ ওয়ার্ক, ক্লাস রুম পারর্ফমেন্স ভিত্তিক হোক, প্রশ্নটি যতই ইন্টরনেটে পরীক্ষার ঠিক ১/২ ঘন্টা আগে প্রকাশ করে প্রজেক্টরে পরীক্ষার হলে প্রদর্শন করা (গ্রামের স্কুলে তা সম্ভব নয়) হোক, প্রশ্ন যতই “সৃজনশীল” হোক- কোনদিনই প্রশ্ন ফাঁসের লোভ বন্ধ হবে না। বিত্তের কাছে এখানে বিবেক এবং মানুষের সহজাত কৌতূহল হেরে গেছে।

    শুধু “আমি ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দেখিনি” বলে মনে সান্তনা দিয়ে পরবর্তীতে জীবনে ভাল করা যাবে এই আশায় থাকা অর্থহীন কারণ বহু বহু মানুষ ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে দিতে জীবনের উঁচু উঁচু পদে আসীন হয়ে সমাজকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। যাঁরা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন না দেখে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান, পরবর্তী জীবনে সফল হতে পারছেন তাঁদের সংখ্যা হাতে গোনা

    Reply
  6. Md. Habibur Rahman

    The Great Dr Zafar Iqbal is an honorable farmer of education sector who ploughed the Bangladesh for growing young educated person who are able to run Bangladesh smoothly.

    Reply
  7. নোমান

    মিয়ানমারে ১৯৬২ সালে নে উইন ক্ষমতায় আসার পরপরই সেনাবাহিনী সমাজসংস্কৃতির প্রতিটি স্তরে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। একটা সময় সমাজের অন্তর্নিহিত শক্তি ছিল। ভিক্ষুরা কর্তৃত্ববাদী শাসন আর ফ্যাসিবাদী আদর্শের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু সেনাবাহিনী এসে এক ধর্মের লোকজনকে অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলেন। সেনাবাহিনীর ৫৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে মিয়ানমার আজ এমন দুর্দশায় পড়েছে । শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি আস্থার প্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির প্রতি মিয়ানমারের জনগণের ব্যাপক সমর্থন ছিল। এই প্রেক্ষাপটে সু চি যখন ক্ষমতায় এলেন, জনগণের বিরাট প্রত্যাশা ছিল। ৮৮ সাল থেকেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সামরিক স্বৈরশাসনের অবসান। এটা গণতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত মূল্যবোধের চেয়ে আলাদা। ওই আন্দোলন ছিল গুলিবর্ষণ আর সহিংসতার বিরুদ্ধে। সু চি ওই আন্দোলনকে ব্যবহার করেছেন— তিনি সমগোত্রীয় অন্যদের মতো সেনাবাহিনীর ভাষায় কথা বলছেন। মানবাধিকার আর মানুষের জীবন সুরক্ষার কথা বলছেন না। পুরো সমাজকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পক্ষে নিয়ে যেতে সেনাবাহিনী সফল হয়েছে। এরা জার্মানির হিটলারের চেয়ে নিকৃষ্ট। সমাজের এই ধারণা প্রতিহত করা দরকার ছিল। অথচ দেশের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন সেনাবাহিনীকে সমর্থন করছে।

    Reply
  8. সৈয়দ আলী

    ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এমন সারল্যের সাথে লিখেন যে তাঁর বক্তব্যের ভিতরে যে দলদাসত্ব থাকে তা’ সম্পূর্ণ আড়াল হয়ে যায়। যেমন এই নিবন্ধে তিনি বৈশ্বিক বিপর্যয় নিয়ে যা করেছেন বলে ড. ইকবাল লিখেছেন, “শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম মহিলা যখন তার মিলিটারি জেনারেলদের নিয়ে রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে দেশছাড়া করেছিল তখন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষদের নিয়ে তাদের আশ্রয় দিয়েছেন। সারা পৃথিবীর মানুষের সামনে ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা ষোল কোটি মানুষ যদি খেতে পারি, তাহলে এই দশ লক্ষ লোকও খেতে পারবে’।” বক্তব্যের উধৃতিটি খুব সত্য, কোন বানোয়াট কথা ঢুকানো হয়নি।
    আমার প্রশ্ন নিজ দেশের হিন্দুদের নিয়ে এমন কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন না কেনো? ড. ইকবাল এই যৌক্তিক প্রশ্মটি করতে ভুলে গেছেন। স্কুলে স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি করা শুধু যে অনৈতিক ও আতঙ্কজনক নয় তাইই নয়, এটি সংবিধান সংবিধান বিরোধীও বটে। কারন প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর) হয়ে ভোটাধিকার না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সংবিধান কাউকে রাজনীতি করার অধিকার দেয়না।
    একথা কে না জানেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামান্য ভ্রুভঙ্গীই অনেক দুষ্কর্ম বন্ধ করতে সক্ষম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশের হিন্দু সমস্যা বা ছাত্রলীগের আচরন নিয়ে নিশ্চুপতায় মনে হয় ঘটনাগুলো অন্য কোন গ্রহে ঘটছে, আমাদের শ্যামল বাংলাদেশে নয়।
    ড. ইকবাল এতো যৌক্তিক কথা বলতে পারেন, কিন্তু দলদাসত্বের কারনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আচরণ নিয়ে কিছুই বলেননা। ড. ইকবাল, ‘যারা তার ধামাধারী, তাদেরও বিপদ ভারী’ – হীরক রাজার দেশে ছবির সংলাপ।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—