pexels photo (woman) - 11100

সেদিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নারীনেত্রীদের বৈঠকে সৌভাগ্য হয়েছিল উপস্থিত থাকার। আমি নেত্রী নই। যে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তার প্রতিনিধি হিসেবেই আমাকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আলোচনায় এসেছে নারীদের ভোটপ্র্রদান ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়। নতুন ও তরুণ ভোটারদের নির্বাচনমুখী করা। উল্লেখ্য যে, নতুন ৪২ লাখ ভোটারের মধ্যে শতকরা ৫২ ভাগই নারী। নির্বাচন কমিশনারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে নারী ভোটারদের উপস্থিত শতকরা নব্বই ভাগ হয়ে থাকে। নির্বাচনে নারী ভোটারদের আধিক্য হলেই বুঝা যাবে কোনো পরিবর্তন আসছে। সে কারণে নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের কাছে নারী ভোটারদের গুরুত্ব বেড়ে যায়।

তবে নারী ভোটারদের মধ্যে কজন নিজের ইচ্ছা বা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বাড়ির পুরুষরা যাদের ভোট দিবে, নারীরাও তাদের দিবে এমনই বিধান চলে আসছে। নারী ভোটার বেশি হওয়া মানে নারীর পছন্দের রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় চলে আসা তা কিন্তু নয়। শিক্ষিত ও সচেতন নারীদের মাঝে কেউ কেউ ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছা বা পছন্দের স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে পারলেও পারতে পারেন। এক সময় গ্রামে প্রগতিশীল এনজিওগুলো নারীদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাবান্বিত করতে পারত। এখন এ ধারা বেশ কমে এসেছে। ইদানিং ধর্ম দিয়ে নারীদের প্রভাবান্বিত করা হচ্ছে, প্রকাশ্যে না হলেও ভিতরে ভিতরে। তা করছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসহও তাদের পৃষ্ঠপোষক এনজিওরা।

শুধু নারী কেন, এদেশে ধর্মর সুড়সুড়ি সবাইকে দেওয়া যায়। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে শুধু গ্রামের অশিক্ষিত মানুষদের নয়, শিক্ষিত ও তথাকথিত প্রগতিশীলদের ইদানিং বশ মানানো যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দুর্বলের মধ্যে দুর্বল নারী, তাদেরকে অতি সহজে ধর্মের ভয় দেখানো সম্ভব। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই অস্ত্র ব্যবহার করেছিল যারা পরবর্তীতে তারা পূর্ণিমার মতো ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছিল। কোরান শরীফ ছুঁয়ে নারীদের থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল একটি নিদিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে। আমরা যারা বাংলাদেশকে আবার অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র দেখার স্বপ্ন দেখি তারা এবার এ ধরনের শঙ্কা করছি আরও বেশি। চারপাশে নাগিণীরা নিঃশ্বাস ছাড়ছে। কালো আবরণে আপদমস্তক ঢাকা এ নাগিণীরা ভোটের আগে কী মিশন নেবে তা ভেবে আমরা আতঙ্কিত।

রাজনৈতিক দলের কাছে নারী ভোটার যতটা আদরণীয় নারী প্রার্থী ততটা অবহেলিত। নারী প্রার্থী কারও স্ত্রী, কারও কন্যা। তৃণমূল বা সক্রিয় সদস্য থেকে কতজন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়? অবশ্য দলসমূহে তো নারী সদস্যের আকাল রয়েছে। বড় বড় দল যেগুলোর শীর্ষপদে নারীরাই অধিষ্ঠিত রয়েছেন, সেখানেও শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগের মধ্যে নারী সদস্য সংখ্যা সীমিত। অথচ ২০০৮ সালে গণপ্রতিনিধি অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক দলসমূহে শতকরা ৩৩ ভাগ নারী থাকতে হবে। তা না হলে দলের রেজিস্ট্রেশন হবে না। তিন বছরেরও কম সময় আছে। নারী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির কোনো আলামতই দেখা যাচ্ছে না।

 

Women Parliamentarians - 111
বড় বড় দল যেগুলোর শীর্ষপদে নারীরাই অধিষ্ঠিত রয়েছেন, সেখানেও শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগের মধ্যে নারী সদস্য সংখ্যা সীমিত

 

ভয়ঙ্কর কথা হচ্ছে, কিছু ইসলামি দল এই নিয়ম বাতিল করতে চাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। যার মধ্যে ১৮টি ইসলামিক দল। অর্থাৎ প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ। তাদের এ ধরনের মন্তব্য ভয়াবহ, আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অপেক্ষা করতে হবে এদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়। তেত্রিশ ভাগ তো নয়ই, এ সকল ধর্মভিত্তিক দল একজনও নারী সদস্য রাখতে চায় না। বরঞ্চ তারা অন্য একটি দল তৈরি করতে চায় যেখানে সব সদস্যই নারী থাকবে। তাহলে তো সেটি অন্য একটি রাজনৈতিক দল হবে এবং তাকে আলাদা করে নিবন্ধন নিতে হবে। এতটুকু বুদ্ধি কি তাদের নেই?

নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে তাদের কাছে সবচেয়ে অসহ্য একটি শব্দ। নারীকে ধর্মের প্রতিপক্ষ তৈরি করে নিয়েছে তারা। কিন্তু এটা বলে না যে, নারীদের ভোটের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র ভোটার হিসেবে নারীরা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য। তাদের মুরব্বি সৌদি আরবের মতো নারীরা যদি ভোটাধিকার না পেত তাহলেই হয়তো তারা সবচেয়ে বেশি খুশি হত। পারলে এ দাবি তারা যে ভবিষ্যতে তুলবে না এ নিশ্চয়তা কে দিতে পারে? আর তাদের এ দাবী যে মানা হবে না এমন নিশ্চয়তাই-বা কোথায়?

স্কুল পাঠ্যবই, মেয়েদের বিয়ের বয়স ইত্যাদিতে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে তাতে তো বুঝা যাচ্ছে যে, তাদের দাবি পূরণে সমস্যা হবে না। দেখেশুনে মনে হয়, নারীদের ভোট অর্ধেক আর মোল্লাদের ভোট গোটা!

দলে তেত্রিশ ভাগ নারী সদস্য যদি না রাখা যায়, তাহলে প্রার্থী মনোয়নের সময় তেত্রিশ ভাগ নারীকে মনোয়ন দেওয়া হোক, কারও কারও সুপারিশ। মনোনয়ন মানে তো এখন কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য। নারীদের অত টাকা কোথায়? ত্যাগী সাহসী প্রার্থী নয়, কয়েকশ কোটি টাকার মালিক এখন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। নারীদের হাতে টাকা কম থাকে। যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন তাদের বেশিরভাগ সৎ উপায়ে ব্যবসা করেন। কালোবাজারি, চোরাকারবারিতে নারীদের অংশগ্রহণ খুবই কম।

আর সম্পত্তিতে নারীর অধিকার? তথৈবচ। পিতৃসম্পত্তিতে কন্যা পুত্রের অর্ধেক পাবে, ধর্মে বলা আছে। ধর্মে বলা আছে সুদ খাওয়া যাবে না। ব্যাংক, সঞ্চয় পত্রসমূহ থেকে যারা সুদ খাচ্ছেন তারা কন্যার সম্পত্তি দেওয়ার ব্যাপারে অনেক ধার্মিক হয়ে যান। একটা ঘটনা বলি।

মেয়েদেরকে সমান সম্পত্তি দিতে চেয়েছিলেন এক মা। রে রে করে উঠেছে ছেলে। মাকে বলে, “ধর্মের বাইরে যেতে পারবে না।”

মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “বাবা, তোকে তো একদিনও পশ্চিম দিকে সেজদা দিতে দেখলাম না জীবনে। এখন এমন ধার্মিক হয়ে উঠলি?”

একজন প্রগতিশীল ভদ্রলোক। ছোট ভাই মারা গেছেন এক মেয়ে রেখে। ভাইয়ের পুরো সম্পত্তি ভাইঝিকে দেননি। কারণ শরিয়াতে নাই। অনেক বোন সেই অর্ধেক সম্পত্তিও পায় না। এক ওয়াজে মৌলভী সাহেব বলছিলেন (এই প্রথম কোনো ওয়াজে ভালো কথা শুনলাম), “ভাইয়েরা বোনদের সম্পত্তি দিতে গেলে এমন এক জমি খুঁজে তাদের দেবে যার কোনো মূল্যই নাই। হয়তো বাড়ির পিছনে বন-জঙ্গলভারা জমি দেখে সেটি বোনদের দিবে। শহরে তবু এখন ফ্ল্যাট তৈরি হওয়ায় বোনরা একটা করে ফ্ল্যাট পায়। তবে এমনও শুনেছি সব বোনকে দেওয়া হয় না। বাবার অন্যান্য সম্পত্তি, যেমন গ্রামের জায়গা-জমি, ব্যাংকের টাকা-পয়সা সব ভাইদের। সেগুলোর কোনো ভাগ বোনরা পায় না।”

কারও কারও উদ্ভট যুক্তি, মেয়েরা বাবার সম্পত্তি পায়, স্বামীরটাও পায়। আমরা অনেকেই ভুলে যাই যে, ছেলেরাও বাবারটা পায়, স্ত্রীরটা পায়। বরঞ্চ স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির যেটুকু পায়, স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ভাগ আরও বেশি পায়। স্ত্রীরা পায় স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ আর স্বামীরা স্ত্রীর সম্পত্তির ১/৪ ভাগ!

১৯৯৭ সালে তৎকালীর শাসক দল আওয়ামী লীগ একটি উদার নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করেছিল। সেই নীতিতে পৈত্রিক সম্পত্তিতে ছেলেমেয়ের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছিল। এ নীতি পাশ করে যেতে পারেনি তৎকালীন শাসক দল আওয়ামী লীগ। জোট সরকার এসে নারীনীতির কিছু পরিবর্তন করে। মারাত্মক পরিবর্তন হয় পৈত্রিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে। তারা পৈত্রিক সম্পত্তিতে ছেলেমেয়ের সমান অধিকারের বিধানটি উঠিয়ে দেয়। ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার সেই বিধান রেখে নারীনীতিটি পাশ করাতে গিয়ে মোল্লাদের ভয়াবহ তাণ্ডবে পড়ে।

দুঃখের বিষয়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেও নিজেদের বিধান ফিরিয়ে আনেনি।

পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান ছিলেন স্বৈরশাসক। পূর্ব পাকিস্তানকে বঞ্চিত করেছেন সর্বক্ষেত্রে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন। ইতিহাসে তিনি কুখ্যাত হয়ে থাকবেন। বাঙালির মনে তিনি সবসময় ঘৃণিত ব্যক্তি। এরপরও, ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ জারি করে তিনি প্রশংসার দাবিদার হতে পেরেছেন। এ আইনের কিছু দিক উল্লেখ করছি।

এর আগে শরিয়াহ আইন মোতাবেক কোনো ওয়ারিশের দাদা বেঁচে থাকতে তার বাবা মারা গেলে সে দাদার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হত। ১৯৬১ সালের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সেটি পরিবর্তিত হয়ে মৃত ব্যক্তির সন্তানদেরকে দাদার সম্পত্তির ভাগিদার করা হয়। পিতৃহারা বহু শিশু আক্ষরিক অর্থে বাঁচতে পেরেছে এ আইন পরিবর্তনের কারণে।

যে রাষ্ট্র ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে উঠে সে দেশে শরিয়াহ আইন পরিবর্তন করা গেছে। আর যে রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারায় জন্ম নিয়েছিল সে দেশে ধর্মের দোহাই দিয়ে এভাবে নারীদের প্রতি বৈষম্য চলছে! শুধু নারীদের অধিকার দিতে গেলেই রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, রাষ্ট্র কেমন যেন একাট্রা হয়ে যায়।

ধর্মীয় আইনে মেয়েরা ছেলেদের অর্ধেক সম্পত্তি পাবে। কিন্তু সমান সমান পেলে গুনাহ হবে এমন কথা ধর্মীয় গ্রন্থে লেখা নেই। এছাড়া যখন এ বিধান জারি হয় তখন মেয়েরা বিয়ের পর দূরে চলে যেত। সম্পত্তি হয়তো বিক্রি করে দিত। এখন নিম্ন উচ্চ প্রায় সব শ্রেণির পরিবারে দেখা গেছে, সামর্থ্য থাকলে মেয়েরাই বাবা-মাকে দেখছে। এসব যুক্তি দেখিয়ে পিতার সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকার আদায় করা যেতে পারে। কে বলবে? বিড়ালের গলায় ঘণ্টি বাঁধার জন্য যে কেউ নেই। মোল্লাদের ভয়ে থরথর কম্পমান সকলে।

প্রতিক্রিয়াশীলদের একটি ভোট, নারীদেরও একটি। তাদের সকল দাবি মানা হবে, নারীদের নয়। যে সকল নারী তাদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার তাদেরকে পাত্তা না দিলে চলবে। কারণ তাদের ভোট তো সংরক্ষিত আছে। ভোটের ক্ষেত্রে সমানাধিকার, সম্পত্তির ক্ষেত্রে নয় কেন?

এ প্রশ্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীরা করতেই পারে। ধর্ম আর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে যুক্তি দিয়ে নারীর অধিকার দেওয়ার সময় এল বুঝি।

পারভীন সুলতানা ঝুমাসাংবাদিক, কলামিস্ট

২২ Responses -- “গোটা ভোটে অর্ধেক সম্পত্তি!”

  1. আশিকুল ইসলাম

    আপনার লেখা নিঃসন্দেহে খুব ভাল। তবে আপনি যতই লেখেন না কেন, মুসলিম পুরুষদের জন্যে নারীর সমঅধিকারের বিষয়টি মেনে নেয়াটা কষ্টকর বা ক্ষতিকর।

    কারণ, আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা ও মর্যাদা দিয়েছেন। আমাদের স্ট্যাটাস মহিলাদের চেয়ে অনেক উপরে। যেমন, আমরা চারটা স্ত্রী রাখতে পারি (যেমন ওসামা বিন লাদেনের মোট ৬ জন ও মোল্লা উমরের ৪ জন স্ত্রী ছিলেন), স্ত্রী অবাধ্য হলে শরীয়ত অনুযায়ী হাল্কার উপর মারধর করতে পারি, সম্পত্তিতে আমরা মুফতে বোনেদের চেয়ে ডবল ভাগ পাই ইত্যাদি।

    এই সব নানাবিধ কারনে বাংলাদেশের সব দলের মুসলিম পুরুষেরা সমতা-সংক্রান্ত আইন পাশ করতে বাধা দিবে মনে হয় মুখে যতই প্রগতিশীলতার কথা বলুক না কেন। পাশাপাশি, ধর্মের দোহাই দিয়ে মহিলাদেরকে মগজ ধোলাই করতেও কেউ ছাড়বে না । আর বিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্যে মহিলাদের জন্যে পুরুষদেরকে ছাড় না দিয়ে উপায় নেই।যদিও মহিলা প্রধানমন্ত্রী কিন্তু প্রধানত পুরুষ-প্রধান সমাজ ও সংস্কৃতি ।

    বিশেষ ভাগ্যবতী ও ক্ষমতাশালী মহিলাদের কথা অবশ্য আলাদা, তবে তারা তো সংখ্যায় মাইনরিটি।এরকম আরো অনেক সমস্যা আছে, তবে সেগুলো বললে অনেকেই মাইন্ড করবেন জন্যে আজ এখানেই ইতি। ধন্যবাদ।

    Reply
  2. Khayeruzzaman

    আপনারা যারা নারী নেত্রী সেজে আছেন তারা হিসাবে স্বেচ্ছায় ভূল করেন। বিয়ের সময় কাবিননামা করা হয় তা বন্ধ বা বাতিল করার প্রস্তাব করছেননা। স্বামী নামক পুরুষের কাছ থেকে ভরন-পোষণ, দেনমোহর আদায় এবং ২ আনা স্পত্তির দাবী ত্যাগ করছেননা। কথাপ্রসঙ্গে সমানাধিকারের কথা বলেন কিন্তু সংসারের কাজকর্ম থেকে যাবতীয় খরচাদির ক্ষেত্রে সমানাধিকার চাননা। এ কোন ধরনের অধিকার দাবী করেন। সুবিধাজনক কারণসমূহে অধিকার দাবী করবেন, কোরআনের নিয়ম মানবেন আবার অন্যখানে মানবেননা এরকম কি হয়?

    Reply
  3. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    মুক্তমনা’রূপী কিছু ভণ্ডমনা দীর্ঘদিন ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে নিজ রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করে ফেলা হয়েছে যে, ইসলামই সবচেয়ে পুরুষতান্ত্রিক ও নারী-বিদ্বেষী। এতদিনে এই ভাইরাস যখন তাদের মুরিদদের মন-মগজে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে এবং তাদের মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা সম্পর্কে অনেকেই যখন অবহিত হয়েছে, তখন কেউ কেউ ঝুলি থেকে অন্যান্য দু-একটি ধর্মের কতিপয় নেগেটিভ বিষয় উল্লেখ করে সাথে সাথে সমস্বরে বলে উঠছে-
    সকল ধর্মই আসলে পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী; সব ধর্মেই রয়েছে সমসাময়িকতার প্রবল প্রভাব।
    তাই নাকি? এই ধরণের চরম প্রতারণামূলক ও অসত্য প্রলাপ বকতে হলে নিশ্চিতভাবেই কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে। সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী কি-না কিংবা সব ধর্মেই সমসাময়িকতার প্রবল
    প্রভাব আছে কি-না, তার কিছু নমুনা এই লেখায় তুলে ধরা হচ্ছে।
    ১. বৌদ্ধ ধর্ম বলে: নারীরা অস্পৃশ্য ও সকল প্রকার অনিষ্টের মূল- পুরুষদের নির্বাণ লাভের পথে অন্তরায়। কাজেই নারীসঙ্গ অবশ্যই পরিত্যাজ্য। এর অর্থ হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মে নারীদেরকে মানুষই মনে করা হয়নি।
    হিন্দু ধর্ম বলে: নারীদের সাথে কোনো স্থায়ী বন্ধুত্ব হতে পারে না। নারীদের হৃদয় হচ্ছে হায়েনাদের হৃদয়। [ ঋগ্বেদ ১০:৯৫:১৫ ]
    খ্রীষ্টান ধর্ম বলে: এই ধর্মও নারীদের সম্পর্কে অনুরূপ ধারণা দেয়।
    ইসলাম বলে: বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারী একে অপরের বন্ধু… [কোরআন ৯:৭১]
    তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক… [কোরআন ২:১৮৭]
    “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা
    ও দয়া।” [কোরআন ৩০:২১]
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ২. হিন্দু ধর্ম বলে: নারীরা শক্তিহীন বা কর্তৃত্বহীন। তারা পৈত্রিক সম্পত্তির কোনো অংশ পাবে না। [যজুর্বেদ ৬:৫:৮:২ ]
    খ্রীষ্টান ধর্ম বলে: পুত্র সন্তান থাকলে কন্যা সন্তান কোনো সম্পত্তি পাবে না। [বাইবেল; নাম্বারস ২৭:৮]
    ইসলাম বলে: পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়দের সম্পত্তিতে নারী ও পুরুষ উভয়েরই অংশ আছে। [কোরআন ৪:৭]
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ৩. হিন্দু ধর্ম বলে: বিবাহিত নারীরা তালাক দিতেও পারবে না আবার নিতেও পারবে না। একবার কারো সাথে বিয়ে হয়ে গেলে আমৃত্য পর্যন্ত তার সাথেই থাকতে হবে।
    খ্রীষ্টান ধর্ম বলে: তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করা ব্যভিচারের সামিল। তার মানে তালাকপ্রাপ্তা নারী পুনরায় বিয়ে করতে পারবে না? [বাইবেল; ম্যাথু ৫:৩২]
    ইসলাম বলে: নারীরা ইচ্ছে করলে তালাক নিতে পারবে এবং তালাকপ্রাপ্তা নারী চাইলে তার পছন্দ অনুযায়ী অন্য কাউকে বিয়েও করতে পারবে। [কোরআন ২:২২৯-২৩২]
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ৪. হিন্দু ধর্ম বলে: বিধবা নারীরা পুনরায় বিয়ে করতে পারবে না। তাদেরকে বরং নিরামিষভোজী ও অত্যন্ত দ্বীনহীনভাবে বাকি জীবন কাটাতে হবে [ মনুসংহিতা ৫ ]। সতী প্রথার কথা না হয় বাদই থাকলো।
    ইসলাম বলে: বিধবা নারীরা ইচ্ছে করলে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে৷
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ৫. বৌদ্ধ ধর্ম বলে: নারীরা পুরোপুরি আলোকিত (Fully Enlightened or Buddha) হতে পারবে না।
    ইসলাম বলে: “যে ব্যক্তি ভালো কাজ করবে, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, এবং সে ঈমানদার হবে, এরূপ লোক জান্নাতে দাখিল হবে, আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না।” [কোরআন ৪:১২৪]
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।
    ৬. বৌদ্ধ ধর্ম বলে: পুরুষের কাজ হচ্ছে বিরামহীনভাবে জ্ঞানের অন্বেষণ করা, আর নারীদের কাজ হচ্ছে বাড়ি ও স্বামীকে দেখাশুনা করা।
    হিন্দু ধর্ম বলে: নারী ও শূদ্ররা বেদ পড়া বা শোনার উপযুক্ত নয়।
    খ্রীষ্টান ধর্ম বলে: নারীরা চার্চের মধ্যে চুপচাপ থাকবে। সেখানে কথা বলা তাদের জন্য লজ্জাজনক। তারা চুপচাপ তাদের স্বামীদের কাছে থেকে সকল প্রকার বশীভূতকরণের মাধ্যমে শিক্ষা নিবে।
    নারীরা শিক্ষা দিতে পারবে না, এবং পুরুষদের উপর কর্তৃত্ব করার অধিকারও তাদের নেই। [বাইবেল; ১ করিনথিয়ান্স ১৪:৩৪-৩৫, ১ টিমোথি ২:১১-১২]
    ইসলাম বলে: নারী ও পুরুষ উভয়েই জ্ঞানের অন্বেষণ করতে পারবে। উভয়েই একে- অপর থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারবে।
    ভণ্ডমনারা বলে: সকল ধর্মই পুরুষতান্ত্রিক ও নারী বিদ্বেষী, তবে ইসলাম এককাঠি উপরে।

    Reply
    • Yeasin Ali

      অন্যের ধর্মকে ছোট না করে ,শ্রদ্ধা করতে শিখুন l সুবিধাজনক উপমা দিয়ে কি হবে ? ইয়েমেনে সৌদি আরব কি করছে?আজ পাকিস্তান,আফগানিস্তান , সিরিয়া , মিশর, ইরাক , ইরান, কি অবস্থা?আয়নায় নিজের মুখ দেখুন ! শিয়া আর সুন্নিতে আজ মুখোমুখি , কে কাকে মেরে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবে তার প্রতিযোগিতাi এমন কোনো শুক্রবার নাই যেখানে বোমা ফুটানো হচ্ছে নাl মানুষ মেরে সাত বেহেশত যাওয়ার লোভ কারা দেখাচ্ছে ? আর এই লোভে প্রাণ দিচ্ছে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ এটা হলো বর্তমানে বাস্তব , অযথা ধর্মের অপব্যাখ্যা মানুষকে কুপথে চালিত করছে, আর্ত্মহননে দ্বিধা করছে না l এটা কি কোনো ধর্ম বলে ? কিন্তু ধর্মের নামে এ সব হরহামেশাই হচ্ছে lআর জন্যে কি কোনো ধর্ম দায়ী ?

      Reply
  4. আইরিন ইরা

    খুব ভাল লিখেছেন। আপনাদের মত মানুষ থাকতে আমাদের দেশ বদলাবেই একদিন ইনশাল্লাহ।

    Reply
  5. MD. Khairul Hasan

    ধর্মে বলেছে বলেই এদেশের বেশিরভাগ মানুষ বিয়ে করে, সভ্য মানুষ হতে চেষ্টা করে, তাই ধর্মকে এত তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা উচিত হবে না। আপনাদের মন-মানস চিন্তা চরিত্রের উৎস যে দেশ, সেই আমেরিকায় মহিলারা নিজের গর্ভপাতের অধিকার রাখে কিনা তা নিয়ে বিশাল ঝগড়াঝাটি চলছে। মোল্লারা খুবই খারাপ, ব্রিটিশরা দুইশ বছর তাদের পোশা কাকাতুয়াদেরকে এটা শিখিয়ে গেছে। কারণ, ফকির-সন্ন্যাসী, তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রভৃতি ‘মোল্লা’ রা ব্রিটিশদের খুবই ডিস্টার্ব করতো। যে দেশে আঠারোর আগে ৭৫% শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় সেখানে মহিলা এমপি-মন্ত্রী বেশি চাই বলে শোরগোল করার বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। সমাজের এলিট গোত্রের মহিলারা জানে এই ধরণের আন্দোলনের ১০০% সুফল অর্থাৎ মন্ত্রী-এমপির পদ তারাই পাবেন। এরাই ‘সংরক্ষিত আসনের’ জন্য কান্নাকাটি করেন। শিক্ষিত, স্বচ্ছল পিতা কেন নিজের মেয়েকে শিক্ষিত করেন, গরীব পিতা কেন মেয়েকে শিক্ষিত করতে পারেন না, এসব নিয়ে চিন্তা করার সময় কোথায় ? আজকাল পার্টি, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের পরিমাণ যেভাবে বেড়েছে তাতে অন্যদিকে উনারা নজর দিতে পারেন না। তাই সুদী কারবারী এনজিও যখন ৩০% হারে মহাজনের মত সুদ আদায় করতে নামে তখন উনাদের আওয়াজ পাওয়া যায় না। আর, বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ মানে এখানে রাষ্ট্রের চোখে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারো পক্ষপাতিত্ব করা হয় না, নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নিজ ধর্মের বিধান মেনে চলতে রাষ্ট্র এখানে বাধা দেবে একথা আপনাকে কে বলেছে ?

    Reply
  6. তানভির

    চমৎকার লেখা। আওয়ামী লীগ যে কেন মোল্লাদের সাথে আপোষ করছে বুঝতে পারছি না। আজ যে ধর্মভীরু দানবগুলো দেখা যায় দেশ জুড়ে তারা গত চল্লিশ বছরের মাদ্রাসাভিত্তিক কুশিক্ষা ও অসংখ্য ইসলামী বয়ানের ফল। দেশের সমস্ত শিশুকে সেক্যুলার শিক্ষার আওতায় না আনা পর্যন্ত নারীমুক্তি একটা কাল্পনিক বিষয় হয়েই থাকবে। হয়ত আরও কয়েকটা টার্ম আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা আস্তে আস্তে সেদিকে এগুতে পারব।

    Reply
  7. Qudrate Khoda

    মৌলিক, চমৎকার, শিক্ষণীয় ও অসাধারণ রচনা। ধন্যবাদ!

    কিন্তু , দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে বাঙালী মুসলমানের মাথায় এই সমতা ও মানবতার বাণী ঢোকার সম্ভাবনা ক্ষীণ । কারণ, এটার মানে হলো পুরুষদের ব্যাবসায় ব্যাপক লস বা ক্ষতি । অতএব, তারা ছলে- বলে- কলে- কৌশলে মা-বোনের বা নারীদের বিষয় সম্পত্তি কিভাবে ভোগদখল করা যায় তার ফন্দি আবিস্কার করবেই।

    ফলে, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী- মিনিস্টার, ব্যারিস্টার সহ এলিট শ্রেণীর মহিলারা যতদিন এটা না চাইবেন ততদিন পুরুষেরা এই সুযোগ সুবিধা আল্লাহর ওয়াস্তে আরামসে এঞ্জয় করতে থাকবেন। নো প্রব্লেম !

    তবে, আমি আশাবাদী ঃ বাংলাদেশ যেভাবে ডিজিটাল হচ্ছে তাতে আগামী শতকের শুরুতে মহিলারা সম্পত্তিতে সমঅধিকার বা মানবাধিকার আশা করতে পারে ইনশাল্লাহ!

    Reply
  8. ইকবাল হুসাইন

    মুসলমান নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা ও গণহত্যার মতো ঘটনায় মানবতা লঙ্ঘনের বিষয়টি অনুচ্চারিতই থেকে যায়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো কখনোই মানবতার বিষয়টি উত্থাপন করেনি। অথচ মুসলমান বাদে অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে পান থেকে চুন খসলেই তারা হায় হায় করে উঠে। এই যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালাচ্ছে, এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রসহ প্রতিবেশি ভারত, চীন, রাশিয়া একেবারে নিশ্চুপ রয়েছে। মানবতাবিরোধী এই অপরাধের ব্যাপারে তারা টুঁ শব্দটি করছে না। তাদের আচরণে স্পষ্ট, মুসলমান মারলে মানবতা লঙ্ঘিত হয় না। এটাই যেন স্বাভাবিক। রোহিঙ্গা মুসলমান গণহত্যায় মানবাধিকার বিষয়ে তাদের মৌণতা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘসহ কিছু দেশ ও সংস্থা মুখে মুখে গণহত্যা বলেই খালাস হয়ে যাচ্ছে। মানুষ নিধন বন্ধে ত্বরিৎ কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করছে না। তাদের বক্তব্য সর্বস্ব লিপ সার্ভিসের সুযোগে মিয়ানমারও রোহিঙ্গাদের মেরে-কেটে, বিতাড়ন করে সাফ করে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র আমরা দেখি। সেখানে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী ফিলিস্তিনীদের অত্যাচার, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করলেও পশ্চিমা দেশগুলো কোনো ধরনের প্রতিবাদ করে না। অর্থাৎ বিশ্বের যে প্রান্তেই মুসলমানরা হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হোক না কেন, তাতে পশ্চিমা দেশগুলো যেন খুশি হয়। রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে তারা উচ্চবাচ্য করছে না। ত্রাণ সহযোগিতা ছাড়া হত্যা ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কেবল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভ্রাতিত্ববোধ এবং মানবিক টানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না। বরং নবোদ্যমে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রতি যে মমত্ববোধ দেখাচ্ছে, তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের দেশে একশ্রেণীর সুশীল মানুষ নীরব হয়ে রয়েছেন। অথচ এই তারাই দেশে সংখ্যালঘুদের উপর দুষ্কৃতিকারীদের হামলা হলে উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠেন। মানবতা লঙ্ঘন, সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে বলে সভা-সেমিনার করে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে তোলপাড় অবস্থার সৃষ্টি করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হন। মুসলমান নিহত ও নিপীড়িত হচ্ছে বলেই কি তাদের এ নীরবতা? নাকি রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বললে তাদের মান-সম্মান বলে কিছু থাকবে না? প্রগতিশীলতা বিনষ্ট হয়ে যাবে? তাদের এ ‘স্পিকটি নট’ অবস্থা পর্যবেক্ষণে বুঝতে অসুবিধা হয় না, সা¤্রাজ্যবাদী এবং মুসলমান বিরোধী শক্তি ও তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাদের হাবভাবে এটাই প্রকাশিত হচ্ছে, প্রগতিশীল বলতে তারা কেবল মুসলমানদের বিপক্ষে কথা বলাকেই বোঝেন। এক্ষেত্রে মুসলমানদের মানবিকতা ক্ষুন্ন হলেও তাদের কিছু যায় আসে না। তথাকথিত এই প্রগতিশীলদের চরিত্র দেশের মানুষ বুঝে গেছে। তাদের কাছে মানবতা বলতে যে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রকে বোঝায়, তা পরিস্কার হয়ে গেছে।

    Reply
  9. নুরুজ্জামান

    আমরা যারা সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত হই তাঁদের মাথায় ছোটবেলা থেকেই গেঁথে দেয়া হয় যে সফলতার সংজ্ঞা হল পশ্চিমাদের মতো হওয়া। একই সাথে এই শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সমাজ আমাদের শেখায় পশ্চিমাদের সব দাবিগুলোকে ধ্রুব বাস্তব সত্য হিসেবে মেনে নিতে। কোন অপ্রিয় প্রশ্ন উত্থাপন না করতে। আমরা পশ্চিমাদের বড় বড় স্কাইস্ক্রেইপার আর বিশাল অর্থনীতি দেখি, কিন্তু এগুলোর পেছনে ঔপনিবেশিক এবং নব্য-ঔপনিবেশিক লুটপাটের ভূমিকা দেখি না। আমরা রেনেসন্স আর এনালাইটেনমেন্ট থেকে শেখার কথা বলি কিন্তু রেনেসন্স আর এনলাইটেমেন্ট মুসলিমদের কাছে কতোটা ঋণী সেটা জানার চেস্টা করি না। আমরা জেনেভা কনভেনশানের কথা বলি, কিন্তু জেনেভা কনভেনশানের প্রায় সাড়ে ১৩০০ বছর আগে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ যে মানবাধিকার এবং যুদ্ধবন্দীর অধিকারের ব্যাপারেয়া মানব ইতিহাসের সর্বোৎকৃষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে গেছেন এটা নিয়ে বলতে সংকোচ বোধ করি। জন স্টুয়ারট মিল, বেন্থাম, লিঙ্কনম, প্লেইটো, মার্ক্স যেখানে এতো কারুকার্যময় ব্যাখ্যা দিয়েছেন এগুলোর মাঝে আল্লাহ-র দেয়া সরল ব্যাখ্যা, যা বেদুইন আর বিজ্ঞানী, সবার কাছেই বোধগম্য, আমাদের আকর্ষণ করে না। আমাদের মধ্যে ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স কাজ করে। আমরা নিজেদের ক্ষুদ্র, অপাংতেয় মনে করি। আমরা মনে করি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ হবার উপায় হল পশ্চিমাদের অনুসরণ করা। আমাদের সফল হবার উপায় হল ফিরিঙ্গীদের মতো হবার চেস্টা করা। তাই আমাদের সমাজে পশ্চিমাদের অনেক বাদামী চামড়ার সন্তান আছেন যারা পশ্চিমাদের ইসলাম বিদ্বেষ অনুসরণ করাকে সভ্যতা, সাফল্য আর জ্ঞানের মাপকাঠি মনে করেন, এতে অবাক হবার কিছু নেই। এই মানুষগুলো পশ্চিমা বিশ্বকে প্রভু হিসেবে, পশ্চিমা আদর্শকে জীবনবিধান, দ্বীন, হিসেবে গ্রহন করেছে।

    Reply
  10. মাইন উদ্দিন

    পশ্চিমা বিশ্ব এবং মুসলিম বিশ্বে তাদের অন্ধ অনুসারীরা ইসলামকে আক্রমণ করার সময় কয়েকটা ধরাবাঁধা আর্গুমেন্ট ব্যবহার করে। এগুলোর বেশীরভাগই হল প্রাচ্যবিদ বা ওরিয়েন্টালিস্টদের দ্বারা ব্যবহৃত নানা বস্তাপচা যুক্তি, যেগুলোকে বাস্তবতা বিবর্জিত এবং তথ্যগত ভাবে ভুল। যুক্তিগত বা নৈতিক উৎকর্ষ না, ফ্যাকচুয়াল অ্যাকিউরিসি না, এই আর্গুমেন্টগুলোর মূল চালিক শক্তি হল এগুলোর ইনবিল্ট ইসলামবিদ্বেষ। দুঃখজনক ভাবে আমাদের সমাজে এরকম মানুষের অভাব নেই যারা হাসি মুখে এবং খুশি মনে পশ্চিমা বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক গোলামীকে মেনে নিয়েছেন। পশ্চিমাদের যেকোন দাবি তারা বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিতে রাজি। এই কারণে আর্গুমেন্টগুলোর প্রচার আমাদের শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও বেশ ভালো মতোই হয়েছে। ইসলামবিদ্বেষীদের এরকম একটি আর্গুমেন্ট হল মরাল সুপিরিওরিটি-র আর্গুমেন্ট। পশ্চিমা উদারনৈতিক চিন্তাধারা [Liberalism] এবং সেক্যুলারিসমকে নৈতিকভাবে ইসলামের চাইতে শ্রেষ্ঠতর দাবি করা। লিবারেলিসম আর সেক্যুলারিসমের এথিকাল সিস্টেমকে ইসলামের দেয়া নৈতিক ব্যবস্থার চেয়ে শ্রেষ্ঠতর দাবি করা। পশ্চিমাদের আদর্শ পুরুষকে লম্পট এবং নারীকে পণ্যে পরিণত করে। এই আদর্শগুলো মানুষকে “অধিকার, মানবতা, স্বাধীনতা”-র মতো কিছু সুন্দর সুন্দর শব্দ শুনিয়ে অন্ধ ও বধির বানিয়ে রাখে। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত অর্থ-সম্পদ-নারীর পেছনে ছুটে চলা এক ঘোরগ্রস্থ জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করে। এই আদর্শগুলো ন্যায়বিচার দেয় না, সুশাসন দেয় না, নৈতিক উৎকর্ষতা আনে না বরং উল্টোটা করে। এই আদর্শ এমন কিছু মানুষ তৈরি করে যারা মুখে মানবতা আর মানবাধিকারের কথা বলে, কিন্তু কাজের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। তাদের বর্বরতা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ক্রুসেইডার পূর্বপুরুষদের হিংস্র পাশবিকতাকেও ছাড়িয়ে যায়। .
    অন্যদিকে ইসলাম প্রকৃত ভাবে মানুষকে মুক্ত করে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করে। নারীকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেয়, সুরক্ষিত রাখে এবং মানবচরিত্রের অন্ধকার দিকটিকে লাগাম দিয়ে রাখে। ইসলাম মানুষকে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনে। সৃষ্টির উপাসনা থেকে মুক্ত করে মানুষকে এক আল্লাহ-র ইবাদাতে নিয়োজিত করে। অর্থ, সম্পদ, সম্মান, ক্ষমতার পেছনে ছোটার বদলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মানুষকে প্রতিযোগিতা করতে শেখায়।

    Reply
  11. মামুন রশিদ

    পশ্চিমের দেশগুলোতে নারীরা শুধুমাত্র দুটি পেশায় পুরুষদের চাইতে বেশী উপার্জন করে, তার একটি হচ্ছে মডেলিং আর অন্যটি হচ্ছে পতিতাবৃত্তি।
    পশ্চিমা বিশ্বে নারীরা সবচাইতে জঘন্য ভাবে নির্যাতিত হয় পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে। যেখানে, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির মতোই নগ্ন নারীদেহকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে পৃথিবী ব্যাপী মুনাফালোভী এক চক্র।
    আর, এর জঘন্য শিকার হচ্ছে লক্ষ কোটি অসহায় নারী ও শিশু। শুধু নগ্ন নারী দেহকে উপজীব্য করে এই পৃথিবীতে ৫৭ বিলিয়ন ইউ.এস ডলারের পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি গডে উঠেছে।
    যুক্তরাষ্ট্রের পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক রাজস্ব সে দেশের বহুল প্রচারিত ইলেক্ট্রনিক মিডিযা এ.বি.সি, সি.বি.এস এবং এন.বি.সি-র প্রদত্ত মোট রাজস্বের চাইতেও বেশী (৬.২ বিলিয়ন ডলার)। প্রকৃতপক্ষে, পুঁজিবাদী মন্ত্রে দীক্ষিত মানুষের সীমাহীন লোভ আর চূডান্ত স্বেচ্ছাচারীতাই বিশ্বব্যাপী পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি গডে উঠার মূলকারণ।
    নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার পর্ব শেষে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষ সঙ্গী আর্থিক বা সামাজিক কোন দায়দাযি়ত্ব স্বীকার না করায় একাকী নিতে হয় তাকে অনাহুত সন্তানের দাযি়ত্ব। আর, অপরিণত বয়সে পর্বতসম দাযি়ত্ব নিতে গিয়ে তাকে হতে হয় ভয়ঙ্কর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার।
    যুক্তরাষ্ট্রের গুটম্যাচার ইনস্টিটিউট এর প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযাযী়, যক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ১৫-১৭ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার অবিবাহিত নারী গর্ভবতী হয়। আর, সেদেশের ক্যালিফোর্নিযা রাজ্যে বছরে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কিশোরী মেয়ে গর্ভধারণ করে।
    ফ্যাশন, ডাযে়ট আর কসমেটিকস্ ইন্ডাস্ট্রিগুলোই নির্ধারণ করে নারীর পোশাক, তার সাজ-সজ্জা, এমনকি তার দেহের প্রতিটি অঙ্গের মাপ। স্বাধীনতার মিথ্যা শ্লোগানে নারীকে তারা বাধ্য করে জঘণ্যভাবে দেহ প্রদর্শন করতে। তারপর, অর্ধনগ্ন সেইসব নারীদেহকে কেন্দ্র করে গডে তোলা হয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা।

    Reply
  12. মোঃ শাহিদুজ্জামান

    ইসলাম বিরোধী তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার ফলে মার্কিনিরা ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী আব্দুর রহমান নামে একজন নওমুসলিম এ বিষয়ে বলেছেন, ইসলাম সম্পর্কে অনেক পড়াশোনার পর বুঝতে পেরেছি কোন কোন প্রচার মাধ্যম ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব কথাবার্তা বলছে তা আসলে সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরো বলেছেন, বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে পশ্চিমারা যেই ইসলাম ধর্মগ্রহণ করকে না কেন দেখা যায় শেষ পর্যন্ত সে নিজেই ইসলাম ধর্ম প্রচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে মুরেন স্কারনেস নামে ৩৩ বছর বয়সি এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর অন্তত বিশ হাজার মানুষ মুসলমান হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কারণ, তারা এটা বুঝতে পেরেছে, কয়েকটি উগ্র গোষ্ঠীর সাথে ইসলামকে এক করে দেখানোর যে চেষ্টা করা হচ্ছে বাস্তবতার সাথে তার কোন মিল নেই। মার্কিনিরা আরো বুঝতে পেরেছে, মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ আল কায়দা গোষ্ঠীর মত উগ্র গোষ্ঠীগুলোর জন্ম দিয়েছে এবং তাদেরকে লালন পালন করছে। ইসলামে আল্লাহর ওপর নির্ভর, এক খোদার প্রতি আনুগত্য, যে কোন কুসংস্কার থেকে দূরে থাকা ও মানবীয় মূল্যবোধ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়ায় এবং সর্বোপরি পবিত্র কোরআনে আজ পর্যন্ত কোন বিকৃতি না ঘটায় প্রভৃতি কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্রমেই ইসলামের প্রতি মানুষের ঝোঁক প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসলামের এ বিস্তৃতি ঠেকানোর জন্যই ইসলাম বিদ্বেষী একটা মহল পরিকল্পিতভাবে ইসলামের নামে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরী করে এবং গণমাধ্যমের সাহায্যে ইসলাম সম্পর্কে অপপ্রচার চালিয়ে খ্রীস্টানদের ইসলামের ব্যাপারে নিরৎৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।

    Reply
  13. মোঃ শাহিদুজ্জামান

    আজকের ঘুণে ধরা সমাজে জীবনের সব ক্ষেত্র থেকে নারী এবং বৃদ্ধদের প্রতি প্রথাগত শ্রদ্ধা কমে যাওয়ায় অনেকে দুঃখবোধ করেন। এই মূল্যবোধগুলো প্রতিফলিত হয়েছে কুরআনে যা মুসলিমদের মেনে চলতে হয়।
    এই মূল্যবোধই কর্নওয়ালের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়েসী ইয়োগা শিক্ষিকা ক্যামিলা লেল্যান্ডকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করেছে। দুই বছর বয়েসী কন্যা ইনায়ার সিঙ্গল মাদার ক্যামিলা নারীবাদী এবং বুদ্ধিবাদী মনোভাবের কারণে মধ্য বিশের দিকে ইসলাম গ্রহণ করেন।
    তিনি বলেন, “আমি জানি নারীবাদী এবং ইসলাম – এ দুটো শব্দের একত্র উচ্চারণে মানুষ বিস্মিত হবে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে ইসলাম নারীকে সমতা দিয়ে থাকে এবং সেটা যে সময়ে এই ধর্ম জন্ম নিয়েছিল সেই সময়কার পুরুষতান্ত্রিক ধারণার বিপরীত।”
    “মানুষ ভুল করে সংস্কৃতিকে ধর্মের সাথে গুলিয়ে। হ্যাঁ, অনেক মুসলিম সমাজে নারীদের নিজস্ব কোন স্বাধীনতা নেই, কিন্তু আমি যখন বড় হই তখন পশ্চিমা সমাজ দিয়ে আরো নির্যাতিত বোধ করি।”
    তিনি বলেন, “নারীদের উপর অব্যাহত চাপ রয়েছে ড্রিংক এবং সেক্সের ক্ষেত্রে পুরুষের মত আচরণ করার। এর সত্যিকার কোন মানে নেই। ইসলাম অনুযায়ী, তুমি যদি কোন সম্পর্ক শুরু করো তবে তা হৃদয়ের প্রতিশ্রুতি।”
    অনেক নারীবাদী আবার অভিযোগ করে থাকেন যে, তাদের ব্রেইন ওয়াশ করা হচ্ছে। কিন্তু এই অভিযোগ নিতান্তই হাস্যকর। তাদের দাবি অনুযায়ীই যদি পশ্চিমা নারীরা সবচেয়ে বেশি স্বাধীনচেতা, শিক্ষিত এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অধিক সচেতন হয়ে থাকে, তবে কোন যুক্তিতে এই অভিযোগ উত্থাপন করা যায় যে, এসব নারীদের ব্রেইন ওয়াশ করা হচ্ছে আর তারা নির্দ্বিধায় তা মেনে নিচ্ছে!!
    তাছাড়া ইসলাম গ্রহণ করা প্রতিটি মুসলিম নারীই বলেছেন যে, তারা ইসলাম গ্রহণ করার আগে অনেকদিন যাবত এই বিষয়ে যথেষ্ট পড়ালেখা করে, বহু ভাবনা চিন্তার পর, তারপরই ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

    Reply
  14. মোঃ শাহিদুজ্জামান

    ইসলামে নারীকে কোন মর্যাদা দেয়া হয় নি, উত্তরাধিকার সহ নানা ক্ষেত্রে নারীকে ইসলামে বঞ্চিত করা হয়েছে- এ মর্মে যখন সারা বিশ্বে বিশেষ করে পশ্চিমা মিডিয়াতে ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তখনই খুবই বিস্ময়করভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, পশ্চিমা বিশ্বেই সবচেয়ে বেশী সংখ্যক অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে। ফলে ইসলাম এখন পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে (যা প্রায় ২৩৫%!)। আরো অবাক করা বিষয় হলো, এত অপপ্রচার চালানোর পরও ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় মহিলারাই বেশী এগিয়ে রয়েছেন।
    ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় ধর্মান্তরিতদের সংখ্যা গণনা করাটা একটু সমস্যাই বটে। কারণ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের জরিপের সময় ধর্মান্তরিতদের তাদের আগের ধর্মের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি। ব্রিটিশ মসজিদগুলোও ধর্মান্তরিতদের কোনো কেন্দ্রীয় তালিকা সংরক্ষণ করে না।
    অনেক ধর্মান্তরিত ব্যক্তি তাদের নতুন ধর্ম গ্রহণের বিষয়টি তাদের বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে গোপনও রাখেন। তবে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলসের ট্রিনিটি সেইন্ট ডেভিডের গবেষক কেভিন ব্রাইস বলেন, ‘মসজিদগুলোকে সরবরাহ করা প্রশ্নপত্র থেকে এ হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি বছর অন্তত ৫ হাজার ২০০ ব্রিটিশ ইসলামে ধর্মান্তরিত হচ্ছেন এবং এখন পর্যন্ত এদের মোট সংখ্যা প্রায় ১ লাখ।’ আমেরিকায়ও সংখ্যাটা প্রায় কয়েক লাখ।
    এছাড়া বিভিন্ন ধর্মের উপর গবেষণা পরিচালনা করে এমন একটি সংস্থা “ফেইথ ম্যাটার” এর পরিসংখ্যানে আরো দেখা গেছে যে, এসব মুসলিমের ৭৫ শতাংশই নারী এবং তাদের অধিকাংশের গড় বয়স হলো ২৭।
    কিন্তু মিডিয়া এবং তথাকথিত নারীবাদী সংগঠনগুলোর এত প্রচার-প্রচারণার সত্ত্বেও দিন দিন কেন শিক্ষিত এবং আধুনিক নারীরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে?

    Reply
  15. আবুল হাসেম

    যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সেভাবেই যদি ইসলামে নারীদেরকে দেখা
    হতো তাহলে তো পশ্চিমা বিশ্বের নারীরা ইসলামের দিকে ফিরেও তাকাত না। অথচ
    পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশী!কোরআনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন নারীকে বিশেষ মর্যাদা ও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তেমনি আবার
    কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের উপর অতিরিক্ত বোঝাও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব,
    সবকিছু যোগ-বিয়োগ করে এবং নারী-পুরুষের মধ্যে যে প্রকৃতিগতভাবে কিছু পার্থক্য
    আছে সেটা বিবেচনায় রেখে কোরআনে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করা খুবই কঠিন। তবে কোরআনের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। এক্ষেত্রে আবেগের কোনো স্থান নেই। কোরআন হচ্ছে মানব জাতির ইতিহাসে প্রথম লিখিত গ্রন্থ যেটি নারী-পুরুষকে মানুষ হিসেবে সমান মর্যাদা দিয়ে নারীদের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে। পুরুষ মানেই পুরুষের পক্ষে এবং নারীদের বিপক্ষে – হাজার বছরের এই ট্যাবু বা মানসিকতাকে কোরআনই প্রথম ভেঙ্গে দিয়েছে। নিচের আয়াতগুলোতে দেখুন তো কোরআনে নারী-পুরুষের মধ্যে আদৌ কোনো পার্থক্য করা হয়েছে কি-না।
    “হে মানব-জাতি! তোমরা ভয় কর তোমাদের
    রবকে, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের এক
    আত্মা থেকে এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন তার
    থেকে তার জোড়া, আর ছড়িয়ে দিয়েছেন
    তাদের দু’জন থেকে অনেক নর ও নারী।” (আন-
    নিসা ৪:১)
    “যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে, হোক সে পুরুষ
    কিংবা নারী, এবং সে ঈমানদার হবে, এরূপ
    লোক জান্নাতে দাখিল হবে, আর তাদের
    প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে
    না।” (আন-নিসা ৪:১২৪)
    “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি এই যে,
    তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের
    মধ্যে থেকে সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে
    তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং
    সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও
    দয়া।” (আর-রূম ৩০:২১)
    “আমি বিনষ্ট করি না তোমাদের কোন
    পরিশ্রমকারীর কর্ম, তা সে হোক পুরুষ
    কিংবা নারী। তোমরা একে অন্যের
    সমান।” (আল-ইমরান ৩:১৯৫)
    “বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারী একে
    অপরের বন্ধু। তারা ভাল কাজের নির্দেশ দেয়
    এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, তারা
    সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং
    আনুগত্য করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। এদেরই
    উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করবেন।” (আত-তওবা
    ৯:৭১)
    “তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা
    তাদের পোশাক।” (আল-বাকারা ২:১৮৭)
    “হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি
    একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে এবং
    তোমাদেরকে পরিণত করেছি বিভিন্ন
    জাতিতে ও বিভিন্ন গোত্রে, যাতে তোমরা
    পরস্পরকে চিনতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর
    কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক
    মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে
    সর্বাপেক্ষা অধিক মোত্তাকী।” (আল-হুজরাত
    ৪৯:১৩)
    “যে ভাল কাজ করে এবং বিশ্বাসী, হোক সে
    পুরুষ কিংবা নারী, আমি তাকে অবশ্যই দান
    করব এক পবিত্র শান্তিময় জীবন এবং তারা
    যা করত তার জন্য তাদেরকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার
    দান করব।” (আন-নাহল ১৬:৯৭)
    “যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে সে কেবল তদনুরূপ
    প্রতিফল পাবে। আর যে ব্যক্তি ভাল কাজ
    করে সে পুরুষই হোক কিংবা নারীই হোক, সে
    যদি বিশ্বাসী হয় তবে এরূপ লোকেরাই
    জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেথায় তাদেরকে
    দেয়া হবে বেহিসাব রিযিক।” (আল-গাফির
    ৪০:৪০)
    “আমি মানুষকে তার মাতা-পিতা সম্বন্ধে
    নির্দেশ দিয়েছি তাদের সাথে সদাচরণ
    করতে। তার মাতা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে
    তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দু’বছরে তার
    দুধ ছাড়ানো হয়। সুতরাং শোকরগুজারী কর
    আমার এবং তোমার মাতা-পিতার।” (লুকমান
    ৩১:১৪)

    Reply
  16. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার

    কেউ যদি ইসলামে নারীর অধিকারগুলোর সাথে জাহেলি যুগে নারীর অধিকারগুলো তুলনা করে দেখে কিংবা অন্য সভ্যতাগুলোর সাথে তুলনা করে দেখে তাহলে বুঝতে পারবে ইসলামে নারীকে যে মহান মর্যাদা দেয়া হয়েছে অন্য কোথাও সে মর্যাদা দেয়া হয়নি।
    ৫৮৬ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে নারীকে নিয়ে গবেষণার জন্য একটি সেমিনার ডাকা হয়: নারীর কি রূহ আছে, নাকি নেই? যদি নারীর রূহ থাকে সে রূহ কি পশুর রূহ; নাকি মানুষের রূহ? সবশেষে তারা সিদ্ধান্ত দেয় যে, নারী মানুষ! তবে, নারীকে শুধুমাত্র পুরুষের সেবার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
    অষ্টম হেনরির শাসনামলে ইংরেজ পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে, সে আইনে নারীর জন্য ‘নিউ টেস্টমেন্ট’ পড়া নিষিদ্ধ করা হয়; কারণ নারী নাপাক।
    ইংরেজ আইনে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত পুরুষের জন্য নিজের স্ত্রীকে বিক্রি করে দেয়া বৈধ ছিল। স্ত্রীর মূল্য নির্ধারণ করা হয় ছয় পেনি।
    [দেখুন: আউদাতুল মারআ (২/৪৭-৫৬)]
    নারীর এ অবস্থার সাথে ইসলামে নারীর মর্যাদাকে কিভাবে তুলনা করা যেতে পারে, যেখানে ইসলাম নারীর সাথে সদ্ব্যবহার করা, তার প্রতি দয়া করা, তাকে সম্মান করা ও তার জন্য খরচ করার নির্দেশ দিয়েছে?
    প্রকৃতপক্ষে ইসলাম নারীর মর্যাদা সমুন্নত করেছে। বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীকে সমান অধিকার দিয়েছে। আখিরাতে প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও নারী পুরুষের সমান। নারীর রয়েছে মালিকানার অধিকার- নারী ক্রয়-বিক্রয় করবে, পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হবে, দান-সদকা করবে, কাউকে উপঢৌকন দিবে। নারীর অনুমতি ছাড়া কারো জন্য তার সম্পদ গ্রহণ করা জায়েয নয়। নারীর রয়েছে সম্মানজনক জীবন যাপনের অধিকার। নারীর উপর অন্যায়, অত্যাচার করা যাবে না। নারীর রয়েছে জ্ঞানার্জনের অধিকার। এরপরেও যারা বলে ইসলাম নারীকে অবমূল্যায়ন করেছে তারা আসলে নারী স্বাধীনতার নামে নারীদের অবাধ ভোগের অধিকার ছাড়া অন্য কিছুই চাইছেনা।

    Reply
  17. মো: এমারাত হোসাইন

    আপনাদের মুখে অধিকার বা মানবাধিকারের কথা মানায় না। আগে নিজেদের সংশোধন করুন, তার পর দেশ ও জাতিকে…

    Reply
  18. Hasan Mahmud

    দরকারী নিবন্ধ। কোরানের কিছু হুকুম শুধু মুসলিমের জন্য কিছু সারা মানবজাতির জন্য – কিছু শুধু পুরুষের জন্য কিছু নারীর জন্য, কিছু শ্বাশত কিছু তাৎক্ষণিক। আজকের দুনিয়ায় নারী-পুরুষের সমান উত্তরাধিকার হতেই হবে। সেটা ইসলামী পদ্ধতিতেই হতে হবে – কিন্তু ইসলামী সূত্র লাগবে, শুধু মতামতে কাজ হবেনা।

    Reply
  19. সাইফুল করিম

    দেখুন, কোরানে আল্লাহ পাক বাবা মায়ের হক্ব সম্পর্কে কি বলেছেনঃআর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে।পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার করএবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে।সূরা নিসা, আয়াত ৩৬
    আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তা এই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না,পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো, স্বীয়সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়োনা, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ।সূরা আন-আম, আয়াত ১৫১
    তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবংপিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ২৩, ২৪
    আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি।যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদেরকে বলে দেব যা কিছু তোমরা করতে।সূরা আনকাবুত, আয়াত ৮
    আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।সূরা আনকাবুত, আয়াত ১৪
    আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি।তার জননী তাকে কষ্ট সহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্ট সহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থের বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎ কর্ম পরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম।সূরা আল আহক্বাফ, আয়াত ১৫
    আসুন আমরা সবাই মা, বাবা এবং সন্তানের হক্ব সঠিকভাবে আদায় করি। মা-বাবা সন্তানের জন্য এবং সন্তান মা-বাবা’র জন্য বেশী বেশী দোয়া করবে, কারণ আল্লাহর কাছে এই দোয়ার গুরুত্ব অনেক বেশী। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে দীন মানা এবং অন্যকে মেনে চলতে সহযোগিতা করার তৌফিক দান করুন ৷ আমিন

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—