Abdullah Abu Sayeed - 11000

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বহুদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষকে আলোর পথ দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এবং পরবর্তীতে ‘আলোর ইশকুল’, ‘আলোর পাঠশালা’ ইত্যাদির মাধ্যমে তিনি আলোকিত মানুষ গড়ার কাজে ব্যস্ত। সাহিত্য অঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখা সত্বেও তিনি শিক্ষক হিসেবেই অধিক জনপ্রিয়। জীবন্ত কিংবদন্তীতুল্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বাংলাদেশে মানুষের কাছে ‘স্যার’ নামে খ্যাত।

জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থানরত এই শিক্ষক এখনও অতিথি বক্তা হিসেবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে গিয়ে দেশ ও মানবতার সপক্ষে যুবসমাজকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, মেধা, চিন্তা ও ভাবপ্রকাশের ভিন্নতার কারণে তিনি অগণিত শিক্ষার্থীদের মনের গভীরে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন: “আমার চ্যালেঞ্জ ছিল কেবল শিক্ষক হওয়া নয়, সব ছাত্রের হৃদয়ের কাছে পৌঁছানো, সব ছাত্রের হৃদয় আপ্লুত করা৷”

তাঁর এই চ্যালেঞ্জ তিনি যে সাফল্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ করেছেন সে নিয়ে কারও মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

যে সমস্ত ব্যক্তি সশরীরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বক্তৃতা শুনতে পারেন না তারা অনলাইন বিশেষ করে ইউটিউবে গিয়ে তাঁর বক্তৃতা শুনে থাকেন। সময় পেলে আমিও ইউটিউবে গিয়ে তাঁর বক্তব্য শুনি। ইউটিউবে অপলোড করা একটি ভিডিও ক্লিপে দেখলাম প্রবাসী শ্রমিক বনাম অনাবাসী প্রফেশনালদের নিয়ে স্যারের একটি বক্তব্য। একটি বিশেষ কারণে তিনি শক্ত ভাষায় অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যাপারটা খুলেই বলি।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন,

“যে সব বাংলাদেশি শ্রমিকরা বিদেশে থাকে তারা আমাদের দেশে রেমিটেন্স করে, টাকা পাঠায়, তাদের কষ্টে-শ্রমে-ঘামে-রক্তে উপার্জন করা টাকা দেশে পাঠায়, সেই টাকা দিয়ে আমাদের বাইশ বিলিয়ন ডলার জমেছে। এর ফলে আমাদের শিরদাঁড়া কিছুটা শক্ত অবস্থায় আছে। কিন্তু আমাদের যারা প্রফেশনালরা বাইরে আছে তারা কী পাঠায়? কয়জন পাঠায়? আমি তো মনে করি একজন শ্রমিকের ঋণ এই দেশের কাছে যতটা একজন প্রফেশনালের ঋণ তার থেকে বেশি না কম? অনেক বেশি। অনেক বেশি ঋণ। তারা এই দেশ থেকে সব নিয়েছে। গরিব মানুষের রক্ত– যে গরিব মানুষের ছেলেটা কোনোদিন কলেজে আসতে পারবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারবে না– তার সেই হাড়ভাঙ্গা খাটনির উপার্জিত অর্থ দিয়ে সে এদেশে পড়াশুনা করে চলে গেছে।”

“ঋণ থাকলে তো তার ঋণ পরিশোধের একটা হৃদয় থাকা উচিৎ। তোমাকে এই দেশের জন্য কিছু না কিছু করতেই হবে। কিছু না কিছু তোমায় দিতেই হবে। তুমি যদি না দাও আমি মনে করি তারও শাস্তি হওয়া উচিৎ। আমি গভার্মেন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথাবার্তা শুরু করেছি যে, যারা দেশের বাইরে আছে তাদের আর্নিংএর থ্রি পার্সেন্ট বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। এই থ্রি পার্সেন্ট সে দিয়ে দেবে না। এই থ্রি পার্সেন্ট হয় সে ইনভেস্ট করবে তারই জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ ডলারটা পাবে। সে ইনভেস্ট করবে, না হলে সে কোনো আত্মীয়কে দেবে, স্বজনকে দেবে। না হলে কিছু একটা ভালো কাজের মধ্যে দেবে। এইটুকু হওয়া উচিৎ। আর তা না হলে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট যদি থাকে সেটা ক্যানসেল করে দেওয়া উচিৎ এবং কোনোদিন যেন সে ভিসা না পায় বাংলাদেশের আসার সে ব্যবস্থা করতে হবে।”

 

Workers at KSA - 111
“বাংলাদেশি শ্রমিকরা তাদের কষ্টে-শ্রমে-ঘামে-রক্তে উপার্জন করা টাকা দেশে পাঠায়, সেই টাকা দিয়ে আমাদের বাইশ বিলিয়ন ডলার জমেছে”

 

অপর একটি বক্তৃতায় দেখলাম তিনি এই প্রসঙ্গে আমেরিকাপ্রবাসী এক ভদ্রমহিলার কথা উল্লেখ করে বলেছেন,

“আমি সেই মহিলাকে ঠিক একই কথা বলেছিলাম। বাংলাদেশের বাইরে গিয়ে শিক্ষিত প্রফেশনালেরা যখন কোনো ডলার বাংলাদেশে পাঠাবে না তাদের পাসপোর্ট বাতিল করে দেওয়া হোক। এই দেশকে যখন সে ভালোবাসে না, এদেশকে যখন সে কিছু দেবে না, এই দেশের সাথে যখন কোনো সম্পর্ক রাখবে না, তাহলে দেশ কেন তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে? সেই মহিলা অপমানিত হয়ে তার পাসপোর্ট ফেলে দিয়ে বলল, ‘এই নেন আপনার পাসপোর্ট’।”

বিয়েবাড়ির আড্ডায় স্যার তখন সেই মহিলাকে (মহিলার শরীর-স্বাস্থ্য-নখ নিয়ে পরিহাস করে) বলেছিলেন,

“হ্যাঁ, এখন তো পাসপোর্টের আর দরকার নেই। কেননা যা মাখন-ননি খাবার ছিল তা তো খাওয়া শেষ। এখন তো বাংলাদেশের আর প্রয়োজন নেই।”

এই বক্তৃতায় তিনি পুনরায় বললেন,

“মানুষ যে, সে তার ঋণ পরিশোধ করে। অমানুষ ঋণ পরিশোধ করে না।”

প্রসঙ্গত আরও একটি বক্তৃতার কথা উল্লেখ করেতে চাই। সেই বক্তৃতায় (ইউটিউব দেখা) আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার বুঝাতে চেয়েছেন যে, যারা বিদেশে থাকে তারা জীবনের স্বাদ পায় না। তিনি বলেছেন,

“আমি বিদেশে গিয়ে দেখেছি যারা চাকুরী করে– সেই সকাল ছয়টায় উঠে রেডি হয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে অফিসে যায়। তারপর সারাদিন অফিস করে রাত আটটা সাড়ে আটটার দিকে ফেরে। একটু যদি ভাগ্যবান হয়, মানে নিচের দিকের অফিসার হয়, তারাই তাড়াতাড়ি ফেরেন। আর উপরের হলে তো রাত বারোটার আগে কোনো উপায় নেই। বাড়িতে আসল, বসল, সোফার উপর টাই টেনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বোকার মতো ফ্যালফ্যাল করে একটু টেলিভিশন দেখল। কিছু খেল, কিছুক্ষণ ঘুমল। পরের দিন আবার সেই দৌড়। পাথর ঠেলতে ঠেলতে আর দৌড়াদৌড়ি করতেই জীবন শেষ হয়ে গেল। জীবন কত মহিমান্বিত আলোকময়, সৌন্দর্যময়, শ্রেষ্ঠ, মহৎ সে কথা জানার কোনো সুযোগ মানুষ পাচ্ছে না।”

আমি বলব যথার্থ পর্যবেক্ষণ। লেখাপড়া করার খচর না মিটিয়ে দেশ ছেড়ে যারা দীর্ঘদিন বিদেশে থাকছে তারা জন্মভূমি বাংলাদেশের ঋণ কেন শোধ করবে না? তবে এ প্রসঙ্গে কিছু বলার আগে প্রথমে বলি ‘প্রবাসী’ এবং ‘অনাবাসী’ এই দুটো শব্দের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে। যিনি প্রবাসী আর যিনি অনাবাসী দুজনেই থাকেন বিদেশে। প্রবাসী বলতে আমরা বুঝি যারা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে চুক্তিভিত্তিক চাকুরীতে নিয়োজিত আছেন তাদেরকে।

প্রবাসীরা যেহেতু চুক্তিভিত্তিক অন্য দেশে অবস্থান করছেন, তাই চুক্তি শেষ হয়ে গেলে তাদের দেশে ফিরে আসতে হয়। চাকুরীর ধরন (দক্ষ, আধা-দক্ষ, অদক্ষ, লিগ্যাল, ইল-লিগ্যাল ইত্যাদি) অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে এদের বসবাসের পরিবেশ ও আয়-ব্যয় ভিন্ন। প্রবাসীদের বেশিসংখ্যক সদস্য পরিবার নিয়ে বিদেশে যেতে পারেন না। বিদেশে যাবার অনুমতি না থাকার কারণে কিংবা সন্তানদের স্কুল-কলেজের টিউশন ফি, চিকিৎসা এবং আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর সাধ্য থাকে না বলেই এরা বিদেশে একা থাকেন। সংসারের দায়িত্ব মেটাতে তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারকে এদের টাকা-পয়সা পাঠাতে হয়। এছাড়াও যেহেতু চুক্তি শেষ হয়ে গেলে তাদের দেশে ফিরে যেতে হয়, তাই উপার্জিত অর্থের পুরোটাই দেশে না পাঠিয়ে উপায় থাকে না।

প্রবাসীদের পাঠানো বিদেশি মুদ্রা এভাবেই দেশের রেমিটেন্স বাড়ায়। চুক্তিভিত্তিক চাকুরী বা কাজ থেকে অর্জিত বেতন বা ভাতা যদি বিদেশে রাখার সুবন্দোবস্ত থাকত তাহলে কতজন শ্রমিক, চাকুরীজীবী দেশে কতটুকু রেমিটেন্স পাঠাতেন সে ভিন্ন আলোচ্য বিষয়।

 

Canada nature - 111
অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই সেই দেশের উৎপাদনে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের নাগরিক দায়িত্ব পালন

 

অন্যদিকে, যারা অনাবাসী তারা হাতে দুটি সুটকেস নিয়ে বিদেশের বাড়িতে হয় একা কিংবা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে যান। যাবার সময় হাতে দুটো সুটকেস নিয়ে গেলে কী হবে কিছুদিনের মধ্যেই এদের নিজস্ব বাড়ি, নিজস্ব গাড়িসহ দুনিয়ার টুকিটাকিতে ঘর ভরে থাকে। কোনো কারণবশত যদি এদের কাউকে দেশে ফিরে যেতে হয় তাহলে নিশ্চিতভাবে জাহাজের কন্টেইনার লাগবে।

আজ যারা অনাবাসী সাধারণত তাদের পিতামাতারা অনেক আগে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হয়েছিলেন। একবার শহরমুখী হলে কেউ গ্রামে ফিরে যেতে চান না। কাজেই বলা যেতে পারে ঐ সমস্ত পরিবারগুলো প্রথমেই দেশের মধ্যেই অনাবাসী হয়েছিলেন। অর্থাৎ আজ যারা অনাবাসী, তাদের পূর্বপুরুষেরা প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরের জীবন বেছে নিয়েছিলেন এবং শহরবাসী থেকে এখন তারা অনাবাসী হচ্ছেন। জীবনের গতি মেনেই মানুষ অগ্রসর হচ্ছেন।

ধারণা করা হয় বিভিন্ন দেশে যারা চুক্তিভিত্তিক শ্রমজীবী তাদের বেশিরভাগ এখনো স্থায়ীভাবে গ্রামের বাসিন্দা। কাজেই তাদের পাঠানো টাকা-পয়সা সরাসরি চলে যাচ্ছে পরিবারগুলোর কাছে। এরাই হয়তো কিছুদিন পর শহরমুখী হবেন। অতঃপর তাদের কিছু অংশ হবেন অনাবাসী।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার বিদেশে প্রফেশনাল বলতে অনাবাসীদেরকেই বুঝিয়েছেন। কাজেই সেই অনাবাসীদের নিয়ে কিছু কথা বলব।

একজন অনাবাসী প্রবাসের চাকুরীর বাজারে নিজ প্রচেষ্টায় এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে সুযোগ খুঁজে নেন। বলা যেতে পারে তারা স্বাধীনভাবে পেশা বদল করেন। একটা চাকুরী গেলে অন্যটা যাতে পাওয়া যায় সে জন্য বিদেশে বসেই যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার মাপকাঠিতে নিজেদের শিক্ষা-দীক্ষা অভিজ্ঞতা অনবরত উন্নত করতে থাকেন। এর জন্য তাদের ব্যয় করতে হয় প্রচুর অর্থ। এছাড়াও এদের প্রায় সবাই বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই সেই দেশের উৎপাদনে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের নাগরিক দায়িত্ব পালন। অতিরিক্তভাবে রয়েছে গাড়ির কিস্তি পরিশোধ, বাড়ির মর্টগেজ, গাড়িবাড়ি মেইন্টেনেন্স খরচ, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ ইত্যাদি মেটাতে এবং জীবন ব্যবস্থার সমতা আনতে সেই পাথর ঠেলার জীবন হয়ে ওঠে এদের।

প্রতিটা পরিবারের জন্য সন্তানই হল ভবিষ্যৎ। সেটা যেমন প্রবাসী শ্রমিকদের বেলায় প্রযোজ্য তেমনি অনাবাসী পিতামাতার জন্যও আবশ্যক। পার্থক্য হল, প্রবাসীদের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশে নিজস্ব পরিবেশ ও সমমানের জীবনব্যবস্থায় বড় হচ্ছে। সামাজিক পরিচিতি আয় ও বাসস্থান অনুযায়ী যা অভিন্ন।

অন্যদিকে অনাবাসী পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েরা মূলধারার (যে যেই দেশে থাকে) ছেলেমেয়েদের মতো কিংবা ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চক্রে হাবুডুবু খায়। ওদের তাল মিলিয়ে চলতে হয় একটা বড় ডাইভার্স গোষ্ঠীর সাঙ্গে। পিয়ার প্রেশারটা এখানে অনেক বড়। তাই মূলধারার মানুষের মতো অনাবাসী পরিবারের অনেকেই ছাত্রজীবন থেকে বাবা-মায়ের পাশাপাশি পাথর ঠেলতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। সেই পাথরটানা জীবনের আয় থেকে থ্রি পার্সেন্ট কেন বাংলাদেশ পাচ্ছে না সেটাই দেখতে হবে।

হয়তো এমন কিছু বিষয় আছে যে কারণে কোনো কোনো অনাবাসী পরিবার বাংলাদেশে সরাসরি অর্থ বিনিয়োগ করছে না। অনাবাসীদের উপার্জিত বেতন বা আয় বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করে সত্তর-আশি গুণের অঙ্ক কষলে যেটা বোঝা যাবে না তা হল, একজন অনাবাসীর নেট (গ্রস নয়) আয় থেকে মাসিক আয়-ব্যয় মিটিয়ে আদতে কি কোনো সঞ্চয় থাকে, থাকলেও কতটুকু থাকে? ডলার থেকে টাকায় কনভার্ট করলে মনে হবে অনেক বেশি টাকা। কিন্তু স্থানীয় বাজার দর, চাহিদা ও চালচলন মেটাতে গেলে সেই বেশির কিছুই থাকে না।

প্রবাসীদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যারা আছেন তাদের সুবিধা হল, আয়ের জন্য তাদের কোনো আয়কর দিতে হয় না। তাদের বসবাসও যৌথ ব্যবস্থার মধ্যে সীমিত। সম্ভবত উপার্জিত অর্থের শতভাগই তাদের হাতে পৌঁছায়। কিন্তু অনাবাসীদের পে-চেক থেকে সরকারি ট্যাক্স, কোম্পানি-প্রদত্ত স্বাস্থ্য-বীমা, সঞ্চয়-বীমা, জীবন-বীমা ইত্যাদি না কেটে কোনো টাকা দেওয়া হয় না। দেশকালপাত্রবিশেষে এই হিসাব ভিন্নতর হতে পারে, তবু মোটামুটিভাবে আয়ের ৩০-৩৫ ভাগ অর্থ চলে যায় পে-চেক হাতে আসার আগেই। এরপর বাসস্থান ও যাতায়াত বা দুএকটা ভালো গাড়ী মেইন্টেন করতেই আয়ের বাকি ৪০-৪৫ ভাগ খরচ হয়। খাওয়া-দাওয়া কিংবা লিকুইড এসেট বা অন্যান্য খরচের জন্য বাঁচে কি?

জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে বেশিরভাগ মানুষকে তাই অতিরিক্ত একটি চাকুরী করতে হয় অথবা ওভার টাইম করে অনেক রাতে বাড়ি ফিরেন তারা। যাদের কপাল ভালো কিংবা প্রফেশনাল জব করেন তারা অবশ্য একটা চাকুরী করেই সংসার সদস্যদের সঙ্গে দিনের বাকিটা সময় ব্যয় করতে পারেন।

 

Canada Bangladeshi play - 222
যারা সুদূর বাংলাদেশ থেকে শিল্পী আনতে চান না তারা এই কঠিন জীবনের মধ্যেও চার পাঁচ মাস রিহার্সাল করে বাংলা নাটক নামাচ্ছেন

 

এদিকে বাংলাদেশের মতো আবহাওয়া অনেক দেশেই নেই। বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশে বছরের মাত্র কয়েকটা দিন দীর্ঘ সূর্যের আলো পাওয়া যায়। তা না হলে অন্ধকারের মধ্যে দিনের শুরু আবার অন্ধকারেই দিনের শেষ। অনেকে বরফ ঠেলে কিংবা তাপমাত্রা মাইনাসের কোঠায় ঘুম থেকে উঠে কাজে যান। তার আগে বাংলাদেশের একজন কাজের বুয়া, ড্রাইভার চাচা যা যা করে তার সবই একজন অনাবাসীকে করতে হয় নিজ হাতে। শুধু টাই পড়া দেখে ভুল বুঝলে চলবে না, এই টাই গুঁজে বাথরুম পরিষ্কার করা, থালা-বাসন মাজা সব করতে হয় অনাবাসী পরিবারগুলোকে।

বলা হয়, একজন অনাবাসী মা দিনে প্রায় দুটি ফুলটাইম চাকুরীর সময় ব্যয় করেন পরিবারের জন্য। বিশেষ করে যারা নিউকামার বা যাদের ছেলেমেয়েরা এখনও স্কুল-কলেজের গণ্ডি শেষ করতে পারেননি তাদের অবস্থা আরও করুণ।

এছাড়াও বাচ্চাদের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়া, সুইমিং শিখতে কিংবা মিউজিক ক্লাসে, লাইব্রেরিতে নিয়ে যেতে হয় অভিভাবকদের। বাড়িতে নানি-দাদি নেই, আয়া-বুয়া নেই, ফুপাত-খালাতো ভাইবোন নেই– বাচ্চাগুলো তো আর চার দেওয়ালের মধ্যে বসে থাকতে পারে না। তাই বাবা-মাকে ছুটতে হয় ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে।

এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের সব কিছুর পেছনে টাকা লাগে। ভাগ্য ভালো হলে কেউ কেউ হয়তো সরকারি সুযোগ সুবিধার কিছু ভোগ করতে পারে। জানি না এরপরও কজনের হাতে টাকা জমা থাকে যা দিয়ে থ্রি পার্সেন্ট শোধ করতে পারবেন।

বাস্তবতা হল, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি অংশ কোনোদিন দেশে ফিরে যাবে না। তাদের ছেলেমেয়েরাও হয়তো কখনও বাংলাদেশে গিয়ে বসতবাড়ি গড়বে না। ঠিক আজ যারা বাংলাদেশে শহরবাসী হয়ে আছেন তাদের মতন। বিশেষ করে যারা ঢাকাবাসী তারা যেমন বাসাবাড়ি ছেড়ে বাপ-দাদার ভিটেমাটিতে আর ফিরে যাবেন না, অনাবাসীদের ছেলেমেয়েরাও হয়তো তাই করবেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যারিবিয়ানদের মতো বাংলাদেশের এক বড় জনগোষ্ঠী বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে এবং বলবে, আমাদের ফোর-ফাদার্স এসেছিল বাংলাদেশ থেকে।

আগে মানুষ মারা যাবার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত ব্যক্তির লাশ প্লেন করে দেশে নিয়ে যাওয়া হত। এখন সেটা খুব দেখা যায় না। ইতিমধ্যেই বিদেশের মাটিতে অনাবাসীরা নিজস্ব কবরস্থানের ব্যবস্থা করে ফেলেছেন। মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, বাংলা স্কুল, বাংলা গ্রোসারি অঞ্চল, বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার থেকে শুরু করে যা যা লাগে সব ব্যবস্থা করে বিদেশের মাটিতে মিনি বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন। বাংলা টাউন শব্দটা এখন বহুলশ্রুত শব্দ। এই বাংলা টাউনে মূলধারার মন্ত্রী-মিনিস্টার-মেয়রদের আনাগোনা বেশি। মূলধারার নাগরিকেরা বই-পুস্তকে কিংবা ম্যাপে দেখে থাকবে বাংলাদেশের মানচিত্র। অনাবাসীরা তাদের কাছে সাক্ষাত বাংলাদেশ।

এক সময় দেশের ছেলেমেয়েদের শাসন বারণ করা হত যেন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে না পড়ে। ছোটবেলায় তাদের ভয় দেখানো হত, বিদেশি সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতিকে একদিন গিলে খাবে। এখন উল্টোটা হচ্ছে। বিদেশের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি ঐতিহ্য পালনের মধ্য দিয়ে অনাবাসীরা সেই দেশের মানুষদের কাছে টেনে আনছে। বিদেশি সংস্কৃতি আমাদের গিলে খেতে পারেনি, অনাবাসীরাই বরং তাদেরকে শীতের পিঠা খাওয়াচ্ছেন। ওরাও শাড়ি পরে বাংলাদেশের অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হচ্ছেন।

এবার বলছি, কী করে কিছু কিছু অনাবাসী তবু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সাহায্য করছেন। বাংলাদেশের উৎপন্ন শাক-সবজি মাছ থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পণ্য যা কিছু বিদেশে আসে, অনাবাসীরা বিদেশের মাটিতে বসে সেগুলো ক্রয় করে অর্থনীতির চাকা সক্রিয় রাখতে সাহায্য করছেন। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহলও কথাটি স্বীকার করে নিয়েছেন। আমি যা জানি তাতে মনে হয় অনাবাসীরা যদি বাংলাদেশের রপ্তানিকৃত পণ্য থেকে হাত উঠিয়ে নেন তাহলে বড় একটা ধস নামবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে।

কথা হল, হাত উঠানোর তো প্রশ্নই আসে না বরং এর উল্টোটা হচ্ছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানদেরকেও বাবা-মায়েরা দেশি খাবার খাওয়ানো শেখাচ্ছেন। ছোট্ট টুকটুকে মেয়েটাও এক প্যাঁচে শাড়ি পরে মেলায় যাচ্ছে।

এছাড়াও অনাবাসীরা যা করেন তা হল, সপ্তাহের ছুটির দিনে ছেলেমেয়েদের বাংলা গানের স্কুল, নাচের স্কুলে নিয়ে যান। দেশে গেলে সুটকেস ভরে নিয়ে আসে বাংলাদেশি পণ্য। হারমোনিয়াম, পায়ের নূপুর, বই, হস্তশিল্প থেকে শুরু করে যা যা সুটকেসে আটে ডলারগুলো বাংলাদেশে রেখে পণ্যগুলো নিয়ে আসেন বিদেশের বাড়িতে। ঢাকা বিমানবন্দরে গিয়ে দাঁড়ালে দেখা যাবে অনাবাসীদের আসা-যাওয়ার সঠিক চিত্র। বিশাল বিমানবন্দর এমনিতেই প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে নাই, এর পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে।

বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীরা এসেও অনাবাসীদের কাছ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন প্রচুর ডলার। যারা সুদূর বাংলাদেশ থেকে শিল্পী আনতে চান না তারা এই কঠিন জীবনের মধ্যেও চার পাঁচ মাস রিহার্সাল করে বাংলা নাটক নামাচ্ছেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহে লেগে থাকে স্থানীয় শিল্পীদের দ্বারা আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখন তো বাংলাদেশের সিনেমাও আসতে শুরু করেছে প্রবাসে। এগুলো বাংলাদেশি ছাড়া অবাঙালি কেউ হলে গিয়ে দেখে না। বিদেশের মাটিতে শুধুমাত্র বাংলা বই বিক্রি করে অনেকে তাদের সংসার চালাচ্ছেন।

তাই বলা যেতে পারে, কচুর লতি থেকে শুরু করে বাংলা সিনেমা পর্যন্ত, অর্থাৎ বিনোদন থেকে শুরু করে উৎপাদনের বিভিন্ন শাখার অর্থনীতির চাকা অনাবাসীরা সক্রিয় রেখেছেন।

শুধু শাড়ি আর পাঞ্জাবির হিসাবটাই কম কীসের? বিশেষ করে ঈদ, পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস বিজয় দিবসের কাপড়-চোপড়ের দিকে নজর দেওয়া যায় তাহলে দেখা যাবে, দেশি পণ্যের জন্য অনাবাসীরা কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন। আগে ছিল পালা-পার্বণ উপলক্ষে দেশি কাপড় পরার চল। এখন দেশি শাড়ি লুঙ্গির দোকান খুলে নিত্যদিনের প্রয়োজনও মেটানো হচ্ছে। পণ্য আসছে সেই বাংলাদেশ থেকেই।

একজন লোক অনাবাসী হয়েছেন বলেই নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতি আচার-ব্যবহার খাবার অভ্যাস পরিবর্তন করে বিদেশিদের মতো বসবাস করছেন বলে যাদের ধারণা, তারা অনাবাসীদের চিনতে ভুল করেছেন। কাজেই অনাবাসীরা ঠিকই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতির পেছনে তাদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করছেন। কথা হল, সেই ডলার বাংলাদেশ কীভাবে ইনভেস্ট করছে সেটা দেশের সরকারের দেখা উচিৎ।

একজন অনাবাসী বিদেশের মাটিতে নিয়ম-শৃঙ্খলায় অভ্যস্ত হয়েও ঢাকা বিমানবন্দরে পা রাখার পর থেকে অনিয়মের পাহাড়ের মধ্য ছুটি কাটিয়ে আসেন। তবুও তাদের মুখে বিরক্তির ছাপ নেই। শুধু তাই নয়, পরবর্তী বছরে আবার দেশে যাবার জন্য তাদের মন কাঁদে। রেমিটেন্স পাঠানো থেকে হয়তো বেশি ডলার পাউন্ড সাথে করে নিয়ে আসেন অনাবাসীরা। এদের যদি শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয় তাহলে অনেকেই দেশে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

স্যার আর একটি কথা বলেছিলেন,

“তাদের (অনাবাসীদের) বাবা মারা গেলে ঐ বাড়ি বিক্রি করার জন্য দেশে আসে, ঐ প্রোপার্টিটা নিয়ে যেতে আসে।”

ঢালাওভাবে অনাবাসীদের লোভী ও অকৃতজ্ঞ ভাবার কী কারণ সেটা কিন্তু স্যার পরিষ্কার করে বলেননি। কিছু লজ্জা, কিছু অপমানবোধ থেকে হয়তো অনাবাসীরা নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে মনে করতে পারেন।

বাংলাদেশি অনাবাসীরা অর্থাৎ যারা বিদেশের নাগরিকত্ব নিয়েছেন বা নিতে পারেন তারা দেশ ও সংস্কৃতির ঋণ কীভাবে শোধ করছেন তার আরও কিছু উদাহরণ রয়েছে। বিদেশ থেকেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রস্তাব উঠেছিল। অনাবাসীরাই খুঁজে খুঁজে প্রামাণ্য ফুটেজ যোগাড় করেছিলে বলেই ‘মুক্তির গান’ বানানো সম্ভব হয়েছিল। বিদেশের পার্লামেন্টের স্পিকার বা সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্ট ভবনে উড়াচ্ছেন বাংলাদেশের পতাকা। বিদেশি রাষ্ট্র বা স্থানীয় সরকার উদযাপন করছে বাংলাদেশ দিবস। এসব উদ্যোগ অনাবাসীরাই নিচ্ছেন।

 

Canada demonstration - 111
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে হালের রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশের অনাবাসীরা পথে নেমে আসতে পিছপা হননি

 

এরাই আবার বিদেশের মাটিতে গড়ে তুলছেন শহীদ মিনার। বাংলায় লেখা সাইনবোর্ড চোখে পড়ার মতো। প্রায় প্রতিটি শহরে পাওয়া যায় বাংলা পত্রিকা, বাংলা টেলিভিশন কিংবা রেডিও। কেউ হাত গুটিয়ে বসে নেই। বিদেশের মাটিতেই ছায়ানট উদীচীর মতন সংগঠন নিয়মিতভাবে জাতীয় ও বিশেষ দিনগুলো উদযাপন করছে। শুধুমাত্র রসের পিঠা কিংবা মেজবানির আয়োজন করতে নয় দেশীয় বন্ধন টিকিয়ে রাখতে এরা চিটাগাং ফরিদপুর সিলেট বরিশাল নানা জেলার নামে এসোসিয়েশন গড়ে তুলেছের।

বন্ধন আর অতীত দিনের স্মৃতিবিজড়িত সুখ আনন্দ পেতেই এগুলো করা হয়। এই সমস্ত এসোসিয়েশন জীবন্ত ফেসবুক। স্কুলের জীবনের বন্ধুদের মিলনমেলা। দেশের সঙ্গে বন্ধনমুক্ত নয়, বন্ধনে আবদ্ধ থাকার প্রয়াসে ব্যস্ত অনাবাসীদের সকল প্রচেষ্টা।

অনাবাসী ব্যবসায়ীদের চেম্বার অব কমার্স ও বিভিন্ন সংগঠন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। প্রায় প্রতিটি রপ্তানিযোগ্য পণ্যের জন্য স্থানীয় এজেন্ট বা পার্টনার রয়েছে প্রবাসে। বাংলাদেশি টেলিভিশনগুলোর মালিকদের জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে বিদেশি দর্শকদের কাছ থেকে কী পরিমাণ আয় উপার্জন তারা করছেন। অনলাইন সার্ভিস– সে অনলাইন পত্রিকা হোক কিংবা ওয়েব সাইট– সেগুলো কী পরিমাণ ভিজিট করে অনাবাসীরা সে হিসাব পাওয়া কঠিন কিছু নয়।

একজন অনাবাসী বাংলাদেশি শিক্ষক ত্রিশ বছর যদি শিক্ষকতা করে থাকেন তবে তিনি প্রতি ব্যাচের বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে একজন বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাঁর বাংলাদেশি নাম সেই সমস্ত স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চারিত হচ্ছে ঘূর্ণির মতো।

একইভাবে পেশাজীবী, শ্রমজীবী অনাবাসীরা বাংলাদেশের পতাকা ভাষা-সংস্কৃতি প্রতিদিন প্রকাশ করছেন অবাঙালিদের কাছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে হালের রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশের অনাবাসীরা পথে নেমে আসতে পিছপা হননি। শাহবাগ আন্দোলন, বন্যাকবলিত এলাকার জন্য সাহায্য, লেখক ও মুক্তমনাদের হত্যা, রেপ ভিকটিম, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার কোনো ইস্যুতেই অনাবাসীদের বসে থাকতে দেখা যায় না। এরপরও কী করে বলি অনাবাসীরা দেশের কথা ভাবেন না?

একজন অবাঙালি মূলধারার নাগরিক যখন মেইড-ইন-বাংলাদেশ কাপড় বা পণ্য কিনে কোনো অনাবাসীকে দেখিয়ে বলে, ‘তোমার দেশের পণ্য কিনলাম’- তখন সেই অনাবাসীর নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্তি পর্যায় থেকে উড়ে গিয়ে হয়ে ওঠে জীবন্ত বাংলাদেশ। ভেবে দেখুন বিদেশ জন্ম নেওয়ার পরও যখন পিতামাতা তার সন্তানের নাম রাখেন ‘কথা’ ‘কাব্য’ ‘অভিধান’ ‘বর্ণমালা’ কিংবা ‘সুগন্ধা’র মতো বাংলা নাম আর যখন সেই নামে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি কর্মক্ষেত্রে উচ্চারিত হয় তখন কে জয়ী হয়? সঙ্গে সঙ্গে কি বেজে উঠে না বাংলাদেশের গান?

থ্রি পার্সেন্ট টাকা-পয়সা পাঠিয়ে যে সম্পর্ক ধরে রাখার কথা বলা হচ্ছে, তার বদলে তো দেখি নিরানব্বই পার্সেন্ট সম্পর্ক ধরে রেখেছে অনাবাসীরা। থ্রি পার্সেন্ট হলে হয়তো একশো পার্সেন্টের উপর হত। কিন্তু ঐ যে বললাম, অন্যদেশের নাগরিকত্ব নিলেই হবে না, সে দেশের কাছেও ঋণ আছে সেটাও বজায় রাখতে হবে।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার যদি বাংলাদেশিদের অনাবাসী হবার কারণ ও সূত্র খুঁজে একটা প্রতিকারের কথা বলতেন যাতে দেশের মানুষকে দেশ ছেড়ে আর বিদেশে যেতে হত না এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্ভাবনার সুযোগ যদি দেখা দিত, তবে শুধু থ্রি পার্সেন্ট নয়, অনেক অনাবাসী দেশে ফিরে এসে শতভাগ দিতে প্রস্তুত বলে আমি মনে করি। এখন কথা হল, দেশ এদের ফিরে পেতে চায় কি না। এই অনাবাসীরা থ্রি পার্সেন্ট পরিশোধ না করার জন্য যদি শাস্তি পান তবে তারা কতটুকু কষ্ট পাবেন জানি না।

আগেও কিছু কিছু মানুষ উচ্চশিক্ষা কিংবা প্রফেশনাল ট্রেনিং নিতে বিদেশে এসেছেন। তারা পড়ালেখা বা কোর্স শেষ করে আবার দেশে ফিরে গেছেন। সাধারণত শিক্ষকেরা এই সুযোগ পেয়ে থাকেন বেশি। তাদের ফিরে যাওয়াটাও সঠিক হয়েছে। কেননা তাঁরা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত অবস্থায় স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে এসেছিলেন।

কথা হল, তাদের সঙ্গে বর্তমান প্রফেশনালদের যে তুলনা করা হয়েছে সেটা বোধহয় এক মাত্রার তুলনা হল না। এখন গ্লোবাল ভিলেজ বা মুক্ত অর্থনৈতিক বাজারে মেধা মাইগ্রেশন বা মেধা ইমিগ্রেশনের ব্যাপারটা অনেক খোলামেলা। আগের দিনগুলো ছিল অনেক লম্বা। একই নিয়ম চলত অনেক বছর ধরে। এখন সুযোগ-সুবিধা নিয়ম-কানুন দ্রুত বদলে যায়। সেই বদলানো ব্যবস্থায় যদি কেউ স্বেচ্ছায় অনাবাসী হতে চান সেটা বোধহয় রোধ করা যাবে না। দেশে এরা পড়ালেখা করেছেন ঠিকই কিন্তু বিদেশে আসার যোগ্যতা তাঁর নিজস্ব যোগ্যতা ও জোগাড় করা ব্যবস্থা।

 

Miami - 111
তারা ফ্ল্যাট কিংবা শেয়ার বা ব্যবসায়ের লগ্নি ফ্লোরিডায় করলে বলা যেত, অনাবাসীরা অর্থনীতিতে অংশীদারিত্ব করছেন না

 

দেশে পড়ালেখা করার সময় কেউ বিনা বেতনে পড়েছেন কি না বা পড়লেও কেউ কতদিন বিনা পয়সায় পড়েছেন জানি না। টিউশন ফি, মাসিক বেতন, খাতা কলম পেন্সিল বই তো কিনেই পড়ত। স্কুল-ড্রেস, যাতায়াত খরচ এগুলো সবই দিয়েছেন একজন ছাত্র। কথা রয়ে গেল ভর্তুকি অংশটুকু। মানলাম সেই ভর্তুকি এবং প্রত্যাশার অংশটুকু অপরিশোধিত থাকা ঠিক নয়। দেনা-পাওয়া মিটিয়ে দেয়াই ভালো। সে কারণেই অনাবাসীদের এগিয়ে এসে ঋণ পরিশোধ করা উচিৎ। যেটা অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলছেন।

আমার জানামতে, অনাবাসীরা বাংলাদেশ কনসুলেট সার্ভিসসহ পাসপোর্ট ভিসার জন্য যে পরিমাণ ডলার খরচ করেন তা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারে একাউন্টেই চলে যায়। একজন অনাবাসী বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় যে পরিমাণ ডলার নিয়ে এসে খরচ করেন তা পুরোটাই বাংলাদেশ পায়। এছাড়াও বড় বড় প্রজেক্ট হাউজিং এস্টেটে অনাবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছেন আমি মনে করি তা কাঙ্ক্ষিত গড় থ্রি পার্সেন্টের অনেক বেশি।

অনাবাসীদের অনেকেই বাংলাদেশে ফ্ল্যাট কিনছেন, কারখানা বানাচ্ছেন। এমনকি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করছেন। কেউ কেউ যে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা করছেন না তা কিন্তু নয়। সরকার প্রদত্ত সঞ্চয় পত্র, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড এ সবেও অংশ নিচ্ছেন অনেকে। যদি এই ফ্ল্যাট কিংবা শেয়ার বা ব্যবসায়ের লগ্নি বাংলাদেশে না করে ফ্লোরিডা বা মালয়েশিয়া কিংবা অন্যান্য দেশে করতেন তাহলে হয়তো বলা যেত, বাংলাদেশের অনাবাসীরা অর্থনীতিতে অংশীদারিত্ব করছেন না।

যে কথাটা পরিষ্কার বোঝা গেল না সেটা হল, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এবং তাঁর থ্রি পার্সেন্ট মতবাদ কি প্রত্যেক অনাবাসীর জন্য এককভাবে প্রযোজ্য নাকি অনাবাসীদের থ্রি পার্সেন্ট একটা গড় হিসাব? আশা করি তিনি তাঁর এই থ্রি পার্সেন্ট মতবাদের পক্ষে আবার যখন বলবেন একটু বিস্তারিত তথ্য প্রদান করবেন।

যে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়ার কথা স্যার বলেছেন তাঁর পরামর্শে হয়তো সরকার যে কোনোদিন কার্যকর করে ফেলতেও পারে। কিংবা বিদেশি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশিদের ভিসা না-ও দিতে পারে। সেটা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের ইচ্ছা। আসলে ভিসা পাসপোর্ট কোনো পরিচয় নয়। পাসপোর্ট বা ভিসা হল ভ্রমণ অনুমতির দলিল। সেগুলো না থাকলে অনাবাসীরা জন্মভূমি বাংলাদেশে প্রবেশাধিকার হারাবেন এ কথা ঠিক। হয়তো তখন লজ্জায় মাথা নিচু করে তাদের সন্তানদের বলবেন, ‘হাত ধরে তোমাকে যে বাংলা স্কুলে নিয়ে যাই বাবা, আমি আর সেই বাংলাদেশে যেতে পারব না। তারা আমাকে চায় না। আমি ঋণ শোধ না করার জন্য ‘অমানুষ’ খেতাব পেয়েছি’।

জানি না এমনটি হলে কী বলবে অনাবাসীদের সন্তানেরা। প্রবাসী ও অনাবাসীর পর আরও একটি নতুন শব্দ যোগ হয়েছে, সেটা হল বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত। যেমন বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত মেয়র, বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত এমপি অথবা বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত লেখক।

থাক এসব কথা। আশা করা যায় গরিবের টাকায় পড়ালেখা করে পালিয়ে আসা অনাবাসীরা পাসপোর্ট রাখার অধিকার হারিয়েও হয়তো মাইনাস ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে মগ্ন হয়ে গেয়ে যাবেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ কিংবা ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। গাইতে গিয়ে তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়বে। সিল-ছাপ্পরের বদৌলতে কি এগুলো বন্ধ করতে পারবে কেউ? হৃদয়ের সিল কী করে মুছে যাবে, কে নেবে সেটা কেড়ে?

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের একটি কথা দিয়ে শেষ করতে চাই। তিনি বলেছেন,

“আমি আশাবাদে বিশ্বাস করি। পতন বলে কিছু নেই, নৈরাশ্য বলে কিছু নেই। নৈরাশ্য বলতে কিছু নেই পৃথিবীতে। নৈরাশ্য এক ধরনের বিভ্রম।”

স্যার, অগুনতি ছাত্রের মতো নিঃসন্দেহে অনাবাসীদের হৃদয়ের কাছে আপনি অনেক আগেই পৌঁছে গেছেন। তাদের হৃদয় আপ্লুত করেছেন। আপনি ভালো থাকুন, স্যার।

আকতার হোসেনলেখক

২৮ Responses -- “অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের থ্রি পার্সেন্ট প্রস্তাব ও কতিপয় কৈফিয়ত”

  1. Abdullah

    প্রফেসর সাহেব বাংলা পড়েছেন, পড়িয়েছেন ।-বাংলা যারা পড়ে বা পড়ায় – তারা ম্যাথকে তত গুরুত্ব দেয় না বা দিতে পারে না, স্বভাবতঃ। যাক, সবাই সব কিছু পারবে এমন তো নয়!
    আসুন কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা যাক। জটিল নয়, খুব সরল ম্যাথ! বিজ্ঞান না পড়লেও সমস্যা নেই- বাংলা পড়নেওয়ালাদেরও বুঝার কথা।
    ১। বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা শতকরা কত ভাগ ?
    উত্তর নিয়ে মতভেদ আছে- তবে যুবক বা যুবতীদের মধ্যেই – শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ । এমন গগনচুম্বী বেকার সমস্যা কারনেই সৃষ্টি হচ্ছে অরাজকতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, চুরি বাটপারি রাহাজানি ছিনটাই – নানা অসামাজিক কর্ম। এই বেকারদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে বাংলাদেশ ‘আকাশে উঠে যেত। অসৎ রাজনীতিক আর তথাকথিত বুদ্ধি চিবানো জীবদের নেতৃত্ব গত ৫০ বছরে এই দেশটিকে একটা সুস্থ দিক নির্দেশনা দিতে ‘ব্যর্থ হয়েছে! বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে তলাবিহীন ঝুড়ি। অবিচার, দুর্নীতি, অসততা, অসাধুতা, পুকুর চুরি, দায়িত্বে ফাঁকি- কাজ না করে বেতন নেয়া, লিজ – প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বা পাবলিকের সম্পত্তি জবর দখল সব চলছে- দিনের আলোতে! এই চোর এবং অথর্বের দল- কাজের চাইতে কথা বলে বেশী, এবং নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে দিতে চায় অন্যদের ঘাড়ে! সেই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর আরেক প্রচেষ্টা – আমাদের ‘শ্রদ্ধেয় প্রফেসর সাহেবের অনাবাসীদের প্রতি আক্রমণ!

    ২। এখন যে সকল অনাবাসী দেশ ছেড়ে বিদেশে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন, তারা যদি একদিনে দেশে ফিরে যায়- বাংলাদেশে কি তাদের কর্ম সংস্থান হবে? ৪০% বেকারের সাথে আরও কত পারসেন্ট যোগ হবে? তাতে কি বাংলাদেশের উপকার হবে?
    ৩। অনাবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে বাংলাদেশের যে ‘বাজার চাহিদা গড়ে উঠেছিল- কচুর লতি থেকে ইলিশ মাছ- এই ব্যবসার সাথে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কর্মসংস্থান হচ্ছিল যাদের – তারাও বেকার হবে! ফলাফল?
    ৪। এত মানুষ নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করলে কার সুবিধা হবে? মেধা আর শ্রম বিক্রি করে মুল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠায় না – এখন পর্যন্ত এমন মানুষ আমি দেখিনি। যারা দুই পুরুষ ধরে বিদেশে থাকেন, তারাও তাদের উপার্জনের একটা অংশ দেশের আত্মীয় স্বজন অথবা যাকাত ফিতরা- বন্যা দুর্গতদের জন্য সাহায্য হিসেবে দেশে পাঠিয়ে থাকেন। নিদেন পক্ষে, বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্য ও পোশাকের চাহিদা সৃষ্টি করছেন তারা- এর মুল্য কম নয়। দেশে বেড়াতে গেলে- ভিসা ফি দিয়ে দেশে ঢুকেন তারা, ফ্রি নয়।
    ৫। এত দিনের পাঠানো বিদেশী মুদ্রার সঠিক ব্যবহার কি হয়েছে? চোরের পেটে ঢুকে গেছে- বেশীর ভাগ, অনেকটা আবার ফিরে এসেছে- মন্ত্রী মিনিস্টার সচিব- আমলা এমন কি এম পি দের বিদেশে বাড়ি কেনা বা তাদের ছানাপোনাদের বিদেশে লেখাপড়ার পেছনে খরচ হয়েছে! আমাদের অধ্যাপক সায়েব ‘তেনাদের বিরুদ্ধে বা তেনাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দু এক কলম লিখলে বা ‘ভাষণ দিলে জাতি আরেকটু বেশী উপকৃত হত। বাংলাদেশের জাতীয় সমস্যার মূলে ‘অনাবাসীরা নয় – দুর্নীতি। আর যারা দুর্নীতি করে- তাদেরকে আমাদের শ্রদ্ধেয় ‘অধ্যাপক সায়েব খুব ভাল করে চেনেন, কিন্তু কিছু বলতে পারেন না! সেজন্য টার্গেট করেছেন- দেশের নানা অবিচার অসঙ্গতি কর্ম সংস্থানের অভাব- মেধার অমর্যাদা এসব এর প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে যারা দেশ ছেড়ে এসেছে- এবং নিজের শ্রম আর মেধা দিয়ে বিদেশের মাটিতে জায়গা করে নিয়েছে- সেই ‘অনাবাসীদেরকে। দিনে রাতে সমানে পরিশ্রম করে যারা মাথা উঁচু করে জায়গা করে নিতে চাইছে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা আর মুক্ত অর্থনীতির যুগে – তাদের ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে অধ্যাপক সায়েব টার্গেট করেছেন- সফট টার্গেট! যারা লাঠি সোটা নিয়ে অধ্যাপক সায়েবের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে না! এরা সেই দল- যারা লেখাপড়া করে এবং দেশ দুনিয়ার খবর রাখে- এক্কটা জাতির কোথায় অসুখ তা বোঝে, মাথায় ঘা থাকতে পায়ের তালুতে মলম মালিশ করার পরামর্শ দেয় ন!
    যদি অনাবাসিরা দেশের সমস্যার মূল কারণ হত, আর তারা ৩
    % পেনাল্টি দিলে জাতির সমস্যা র সমাধান হত তাহলে অনাবাসীরা অবশ্যই তা দেবে বলে আমার বিশ্বাস! কিন্তু এখন দেশের যা পরিস্থিতি – অনাবাসীদের ৩০০% দিলেও সে সমস্যার সমাধান হবে না!
    অধ্যাপক সায়েব

    অনাবাসী’ শব্দটি এই যুগে এক ধরনের ‘অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ। এর মধ্যে এক ধরনের শ্লেষ লুকিয়ে আছে। একজন মানুষ শখ করে নিজের আত্মীয় পরিজন ছেড়ে বিদেশে পারি জমায় না! অভিবাসনের কারণ রয়েছে অনেক- অধ্যাপক সায়েবের জানার কথা! বাংলাদেশীদের অভিবাসীদের মূল কারণ – হল কর্মসংস্থান; তাদের ৯৯% হচ্ছে ইকোনমিক ইমিগ্রান্ট, চিকিৎসা শিক্ষা রাজনৈতিক অস্থিরতা যে যেটা কারণ দেখিয়ে বিদেশে আসুক না কেন, দেশে সম্মানজনক কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা থাকলে, সুবিচার আর শান্তি পূর্ণ জীবন যাপনের গ্যারান্টি থাকলে শতকরা ৯৫ জন মানুষ দেশে ফিরে যেত! অনেক জাতির মানুষকে আমি উদাহরন হিসেবে উল্লেখ করতে পারি। জাপানিজ, এমনকি মালয়েশিয়ানদের দেখুন; এমনকি লিবিয়ানরাও লেখাপড়া শেষে দেশে ফিরে যেত কদিন আগেও ( এখন আর যাচ্ছে না-কারন সবার জানা ) ।
    বাংলাদেশে কি স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি আছে? আছে কর্ম সংস্থানের – সম্মান জনক এবং শান্তি পূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা? যারা দুর্নীতিবাজ এবং সমাজের প্রভাবশালী তারা গোটা সমাজ ব্যবস্থাকে জিম্মি করে ফেলেছে! অধ্যাপক সায়েবরা এ বিষয় নিয়ে উচ্চ বাচ্য করার বিপদ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, কাজেই তারা মূল সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে উদর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে ‘দেশ উদ্ধার করছেন!
    আজ যদি দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যায়- সুবিচার প্রতিষ্ঠা হয় – দলবাজি নয়, মানুষের শ্রম আর মেধার মূল্য নিশ্চিত হয়, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি হয় আর মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা যায় – পেশাজীবীদের বিশাল অংশ আগামী কাল দেশে ফিরে যাবে, আমি এই গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। বিদেশে মানুষ স্বস্তিতে থাকে – শান্তিতে নয়। নিজের বাবা মা ভাইবোন আত্মীয় পরিজন ছেড়ে শান্তিতে থাকা যায়না । অবশ্য আপনি এটা বুঝবেন না! বিদেশে বেড়াতে না এসে কিছুদিন এমন জীবন যাপন করলে বুঝতেন, সন্দেহ নেই!

    Reply
  2. RUHUL AMIN

    লেখককে ধন্যবাদ। সায়ীদ স্যারকেও ধন্যবাদ।
    Mr. Akhtar explained the WORDS from HEART of every Non-Residence of Bangladeshi.
    Ruhul

    Reply
  3. Dr.Mohd.Mozammel Haque

    This article carries some true facts.Full of PATRIOTISM and patriotism is a sign of good man and a good man with only patriotism can not be so; he must have many other qualities also.So let us develop one after the other quality every day because we are far behind any nation who cherish these many people with many good qualities.

    Reply
  4. ইকবাল হাসান খান, ঢাকা, বাংলাদেশ।

    অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, আক্তার ভাই ধন্যবাদ আপনাকে, এই গভির অনুভূতি দিয়ে অনাবাসীদের অবস্থান ব্যাখ্যা কড়ার জন্য। পরিবার, সমাজ তথা দেশের প্রতি অনাবাসীদের ভালোবাসা প্রশ্নাতীত, এটা আমি দেখেছি এবং ভালোভাবে জানি। আজ আপনার লেখা পড়ে অনাবাসীদের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ অনেক গুণ বেড়ে গেল।

    Reply
  5. Mukul Mia Talukder

    I was born in Bangladesh and studied at a Bangladeshi university with scholarship money and worked at a Bangladeshi research organization. But the higher education was blocked by the Chairman of that organization. So, I decided to come to the USA in 1979 for higher studies with my own (borrowed) money. It took me 6 long years to complete my doctoral degree in Food Science. I worked part-time as a slaughter house cleaner for 4 hours a day to earn enough money to survive as a student. It was very hard work. I still smell the air of the slaughter house storage room (smell of any Bangladeshi railway station latrine). However, after graduation, I got a job as a Quality Control Supervisor and slowly rose through the ranks. After 32 years, I was worldwide quality head of a worldwide food company.

    Now, let us do the math. How much I took from Bangladesh is impossible to measure as I was born and brought up there. I can never even try to repay the loan I have from Bangladesh. Having said that, let me add what I have tried to give back. I left my job as a Senior Scientist and one Bangladeshi got that job. I had a staff quarter in Dhaka, someone was housed there after I left. I sent about 100 dollars per month out of my 350 dollar monthly earning for 32 years and visited Bangladesh every 3-5 years. I financed all my brothers and sisters (10 of them) and three of their children for college education. I supported my father (50%) to build a family house. I am still supporting two of my sisters children for college education. I am also writing a science dictionary in Bengali (soon to be published) with my little knowledge.

    Now, I would like to invite anyone to do this simple math and draw their own conclusion. Dear Professor, one size does not fit all! Thanks.

    Reply
  6. Ashis Ranja Dey

    আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, সায়ীদ স্যার কারো পার্সপোর্ট কোড়ে নেবার পক্ষের লোক নন। তিনি যা বলতে চেয়েছেন তা হলো এই বাংলাদেশী উচ্চশিক্ষিত নাগরিকরা যাদি দেশে থাকতেন তাহলে এই দেশটা আরো উন্নত/সুন্দর হতো। অনেকে নিশ্চই দেশের সামগ্রীক পরিবেশের কথা বলবেন। মন্তব্যটা যখন লিখছি তখন আমার মনেও সেই চিন্তা হচ্ছে- আমাদের দেশে কি সেই সুন্দর পরিবেশ আছে যা হলে একজন শিক্ষিত কর্মঠ লোক এ দেশে চলে আসবেন। না নেই। এই চক্রের কারনেই উচ্চশিক্ষিত লোকজন নিজ দেশে আসতে চান না। আবার তাঁদের অনুপস্থিতিতে অযোগ্য লোকজন দেশের চালকের আসনে বসে আছেন। দিন দিন পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। কেউ যদি মাদক বিক্রি করে টাকা অর্জন করে সংসদে বসে উচ্চশিক্ষিত মানুষের জন্য আইন বানায় তাহলে সেই দেশে উচ্চশিক্ষিতদের আসবার কোন কারন থাকে না। যাঁরা আসেন তারা নমস্য। তাদের প্রত্যেকের সাথে কথা বললে যানা যাবে তাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। সায়ীদ স্যার সেই দিকটা উল্লেখ করেননি। কারন তাঁর উদ্দেশ্য ছিলো কোমনমতি শিশুদের এই দেশে থাকতে উৎসাহ দেয়া। তাদের মেধাকে এই দেশে বিনিযোগ করার আগ্রহ তৈরী করা।

    Reply
    • ফারুক খান

      এটা খুবই দুঃখজনক যে একজন প্রবীণ শিক্ষক কিভাবে কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ে তাদেই স্বজাতির বিরুদ্ধে মিথ্যা ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে পারেন! বিষয়টা অনেক দিন থেকেই গণ মাধ্যমে আলচিত হচ্ছে কিন্তু এটা নিয়ে উনার কোন বিবৃতি এখনো চোখে পরেনি।

      Reply
  7. Sadaq

    Mr Aktar,thank u for real nd right reply.some Q want to add
    1. Why i become non resident? (as i didn’t get job/ respect in bd).
    2.am i care/ fear about passport / visa of BD? (as by blood i m bd).
    3.Who will take responsibility of my 3%? Where my money safe?

    Reply
  8. আশফাক

    প্রথমেই আসি শিক্ষিত প্রবাসীদের কথায়। একজন যুবক/যুবতী অনেক কষ্ট করেই নিজের স্বপ্নের পিছনে দৌড় দেয় বলেই হয়ত দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে বাইরের উন্নত বিশ্বের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারে। আমাদের শিক্ষার মান এত্ত ভাল নয় যে সরাসরি কেউ নিজেকে অন্য সব উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থার সাথে সমান তুলনায় গৃহীত হয়। তাকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েই স্ব-স্থানে দাড়াতে হয়। সে কেন এত্ত কষ্ট করে? শুধুই কি কাড়ি কাড়ি টাকা আয় করার লোভে নাকি নিজের মেধার ও স্বপ্নের সঠিক অবস্থান জানার জন্য? যে লোক তার পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে (উদাহরন দেশ) আমেরিকায় গিয়ে জীবন যাপন করছে সে যে তার নিজের দেশের প্রতি টান ও দায়িত্ববোধ অনুভব করছে না সেটা কিভাবে জানেন আপনি?! আপ্নারা যারা দেশের নীতি নির্ধারনী দলের অন্তর্ভুক্ত, দেশকে চালিয়ে বেড়াচ্ছেন, তারা বলুন তো, ঐ যে আমেরিকায় পি এইচ ডি শেষ করার পর একজন বাংলাদেশী কি অনুভুতি নিয়ে দেশে আসবে? এই দেশে তার জন্য কোন কাজের ক্ষেত্র রচনা করছেন যে দলে দলে অইসব বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে লোকগুলা অই জায়গায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করবে?! সবাইকেই উদ্যোগী হতে বলবেন না, কারন পি এইচ ডি করার পর একজন বিশেষজ্ঞকে এক্কেবারে স্ক্র্যাচ থেকে শুধু দেশের মায়ার কথা পড়িয়ে অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিতে পারেন না আপনি (দেশের প্রশাসন এর মাথা / উপদেষ্টা)। একটা অথর্ব ব্যবস্থা সেই কবে যে চালু করেছেন, সরকারি চাকুরির প্রবেশের শেষ বয়স ৩০ বছর! আরে ভাই, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যদি প্রাইভেট চাকুরির পা চাটুকার হতে হয় তাহলে দেশে আসব কেন! কেন উন্নত দেশে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত লোকটিকে আপনি দেশে একটা সরকারী কাজে নিয়োজিত করতে পারছেন না! মুক্তিযোদ্ধাদের বংশধরদের জন্য যদি অনেক নিয়ম নীতি লাঘব করেন তাহলে যারা দেশকে মাথা খাটিয়ে (যে মাথা খাটায় তার কায়িক শ্রম ও অনেক, শুধু তা আমরা দেখতে ভুলে যাই) এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদের জন্য কোন আলাদা সু্যোগ তৈরী করতে পারেন না! এটা কি ছোটলোকি চিন্তা না?! নাকি নিজেদের আসন পাকা করতে গিয়ে সেই দিকটা ভুলেই যাচ্ছেন আপ্নারা! শুধু যেই ছেলে/মেয়েটা দেশের বাইরে গেল তারেই আপনি দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে বলছেন, দেশের সকল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টানের কত শতাংশ বাইরে যাচ্ছে আর কত শতাংশ রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়ে , ক্যাডার হয়ে অমানুষ হচ্ছে? কতজন সরকারের উচ্চ পদস্ত কর্মচারী হয়েও কুকুরের মত ঘুষ খেয়ে অনৈতিক কাজ করছে? তাদেরকেও শিখান একটু দায়িত্ববোধ! দেশের যতগুলা সরকারী/আধা সরকারী প্রতিষ্ঠান একজন নৈতিক, উচ্চ শিক্ষিত, বিশেষজ্ঞ কর্মীর অভাবে খুঁড়িয়ে চলছে, সেখানে অনাবাসি বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞকে আনা যায় যদি তাকে তার সম্মনটা দেন। দিবেন আপনি ? দায়িত্বজ্ঞাণহীনতার জন্য আপনি অনাবাসির জন্মগত পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়ার কথা চিন্তা করছেন, তো দেশের কুকুর-বিড়াল গুলার জন্য কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

    আজ আর বেশি নয়, আরেকদিন বাকিটুকু লিখবখন।

    Reply
  9. Bazlur

    Thank you Mr Akter Hossain. I did not go through in details, just glimpsed over the article. Still I understood It was an excellent reply to respectable professor Abdullah Abu Syid (I do appologize for possible spelling mistakes). The learned professor, like all men in this world, has perhaps some limitation in generalizing the non-resident Bangladeshis’ situations and their love for the Bangladesh. Their love for the country has been under evaluated by giving a money value to it. I believe on an average non-resident professional Bangladeshis remittance to Bangladesh is many times more than 3% of income even with doing highly improvised job, though it is not the most important criteria to judge the love for country of birth. They send only from their deepest love for the country and relatives.
    Thanks Mr Hossain again for the commentary again.

    Reply
  10. ফারদিন

    এক বিজ্ঞ সাংসদ আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার সম্পর্কে বলেছেন, ” একজন শিক্ষকের গাড়ী বাড়ি থাকে কি করে? “উত্তরে স্যার বলেছেন, ” আমি দু কামরার একটি ঘরে ভাড়া থাকি। যদি ম্যাগসাসাই পুরষ্কার নাপেতাম তবে রক্ত পরীক্ষার টাকাটাও হতনা।”উপলব্ধিঃবিজ্ঞ সাংসদ বিশাল অসংগতি খুঁজে পেয়েছেন!যদিও, এদেশে কথিত কম্যুনিস্ট শিল্পমণ্ত্রীর নামে ৬টি সরকারী প্লট কিংবা বিলাসবহুল গাড়ী উপঢৌকন অসংগতি নয়।দরিদ্রতম দেশের সাংসদের প্রাডো, লেক্সাস, অডির মতো বিলাসবহুল গাড়ী হাঁকানো অথবা প্রকাশ্যে পিস্তলের মহড়া অসংগতি নয়।স্যারের দুকামরার ঘরতো বিরাট অসংগতি!দুদক হাত পা গুটিয়ে বসে আছে কেনো?

    Reply
  11. Sharif

    আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এমন কথা বললেন, শুনে ভীষণ কষ্ট পেলাম । দেশান্তরী হবার সময় ভেবেছিলাম প্রতি দু’বছর অন্তর সপরিবারে দেশে যাবো । এগারো বছরেও তা আর হলো না । সাধ্যে কুলাচ্ছে না । জীবিকা উপার্জন এখানে কত যে কষ্টকর, অধিকাংশ মানুষের কার্ডে যে কত দেনা জমে আছে সে হিসেবে ক’জন রাখে ।

    Reply
  12. M A Rashid

    আকতার হোসেন খুব দক্ষ হাতে আন্তরিকতার সাথে আমাদের প্রবাসী অনাবাসী জীবনের বাস্তব চিত্র এঁকেছেন । আমার ধারণা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার এর বক্তৃতার “থ্রি পার্সেন্ট প্রস্তাব” কথাটি মূল বিষয় নয়। আমি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার এর আজীবন ভক্ত মুগ্ধ একজন ছাত্র। ৩৮ বছর ধরে দেশে বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। দেশের প্রতি সায়ীদ স্যার এর ভালবাসা অকৃত্রিম, অফুরন্ত। তাঁর এই কথা গুলি আক্ষরিক অর্থে আমি কখনোই দেখিনি। কথা গুলির অন্তর্নিহিত বাণীটিই আমার কাছে মহা মূল্যবাণ। আর তা বোধ হয় প্রবাসী, অনাবাসী সবারই দেশের প্রতি ভালবাসা, দেশপ্রেম এবং কৃতজ্ঞ থাকার গুরূত্ব। “বাংলাদেশি পাসপোর্ট যদি থাকে সেটা ক্যানসেল করে দেওয়া উচিৎ এবং কোনোদিন যেন সে ভিসা না পায় বাংলাদেশের আসার সে ব্যবস্থা করতে হবে।” এটা নিতান্তই একটি কথার কথা, আমরা যেন দেশকে ভুলে না যাই, সে জন্যই হয়তো বাড়তি এই ভয় দেখানো, যেমন একজন শিক্ষক তাঁর প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীকে শাস্তি দেবেন না যেনেও ভয় দেখিয়ে থাকেন। লেখকের প্রতি শুভেচ্ছা এবং সায়ীদ স্যারের প্রতি সালাম ও শ্রদ্ধা।

    Reply
  13. সাচ্চু খান

    সুন্দর একটা লেখা।লেখককে ধন্যবাদ।
    সাচ্চু খান
    টরন্টো
    কানাডা

    Reply
  14. শিল্পী

    অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের এই ভিডিওটি বছর দুয়েক আগেই ফেসবুকে দেখেছিলাম এবং তাঁর বক্তব্যের বিরোধীতা করে মন্তব্য করেছিলাম একজন প্রবাসী হিসেবে। আমার বয়স ৪০, আমি একজন শিল্পী । আজ থেকে ১৪ বছর আগে আমি দেশ ত্যাগ করি। এবং আত্ম-পরিচয়ের অনুসন্ধানের যাত্রাই আমার শিল্প সাধনার মূল বিষয়। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের মতো গুণীজনেরা দেশটার ভিত্তি গড়তে ব্যার্থ হয়েছেন বলেই আমাদের মতো অনেকেরই দেশত্যাগ করতে হয়েছে। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, প্রস্তাবনার পূর্বে কি ভেবে দেখেছেন কেনো একজন দেশপ্রেমী শিল্পীকে তার মাতৃভূমি ত্যাগ করতে হয়েছে? এখানে বলে রাখা প্রয়োজন ভাগ্যের অন্বেষণে বা অর্থ উপার্জনের জন্য সবাই প্রবাসে আসেন না, এর পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। একজন বিদ্বাণ হিসেবে উনার ভেবে দেখবার দরকার ছিলো, কথা গুলো উচ্চারণ করবার আগে। তিনি কথাগুলো বলেছিলেন অনেক তিক্ততা নিয়ে, তার কারণ আজো অজানা যদিও।
    লেখককে সাধুবাদ।

    Reply
  15. Muhammad Nazmul

    Thank you so much for writing this well readable article. I can type in English only, so writing in English.

    We should not create division in our nation. Bangladeshi people who are living and working abroad, all are trying to contribute to the economic/overall progress of Bangladesh. Image of a poor country is not good at all. It is very essential to create very good image of Bangladesh abroad. All of us including professionals can play very good role in this regard. We feel proud when we came to know that some Bangladeshi/Bangladeshi-origin professionals are working in NASA, USA. Tulip Siddiq (granddaughter of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman & eldest daughter of Sheikh Rehana and niece of Bangladesh Prime Minister Sheikh Hasina), Rushanara Ali and Rupa Huq are elected MPs in British Parliament.

    Many professionals started their career in Government organizations and then left jobs mostly because of absence of good work environment in Government jobs and now living/working abroad. Corruption is widespread and usually very difficult to work for honest/sincere professionals specially on the top level positions in Government organizations. If we look at some recent issues in the country, we can realize it. It seems that there is shortage of experienced professionals in the country and few lakhs foreigners are working in Bangladesh (even in Governemnt contrlled/owned sector).

    Quoting from the article:

    “ঋণ থাকলে তো তার ঋণ পরিশোধের একটা হৃদয় থাকা উচিৎ। তোমাকে এই দেশের জন্য কিছু না কিছু করতেই হবে। কিছু না কিছু তোমায় দিতেই হবে। তুমি যদি না দাও আমি মনে করি তারও শাস্তি হওয়া উচিৎ। আমি গভার্মেন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথাবার্তা শুরু করেছি যে, যারা দেশের বাইরে আছে তাদের আর্নিংএর থ্রি পার্সেন্ট বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। এই থ্রি পার্সেন্ট সে দিয়ে দেবে না। এই থ্রি পার্সেন্ট হয় সে ইনভেস্ট করবে তারই জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ ডলারটা পাবে। সে ইনভেস্ট করবে, না হলে সে কোনো আত্মীয়কে দেবে, স্বজনকে দেবে। না হলে কিছু একটা ভালো কাজের মধ্যে দেবে। এইটুকু হওয়া উচিৎ। আর তা না হলে, বাংলাদেশি পাসপোর্ট যদি থাকে সেটা ক্যানসেল করে দেওয়া উচিৎ এবং কোনোদিন যেন সে ভিসা না পায় বাংলাদেশের আসার সে ব্যবস্থা করতে হবে।”

    I can not agree with the view of cancellation of passport and this type of remarks is not good at all. Hope, professor Abdullah Abu Sayeed will realize it soon. All of us are proud Bangladeshi whether we live in the country or outside of the country.

    Allah Hafez.

    Reply
  16. সজল

    @ জনাব আকতার হোসেন,
    মেধা পাচার এবং শ্রম পাচার এক জিনিস নয় ।
    বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেন্জ । বাংলাদেশকে যদি পৃথিবীর মধ্যে মর্যাদা সম্পন্ন একটি উন্নত দেশে পরিনত করতে হয় , তাহলে বাংলাদেশের অনেক মেধাবী প্রফেসনাল নাগরিকের প্রয়োজন । আমেরিকাতে যেসব দক্ষ ভারতীয় এবং চীনা কাজ করতো , তাদের বেশিসংখ্যক লোক নিজ নিজ দেশে ফিরে এসে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ।
    বিদেশে টাকা আছে কিন্তু সুখ নাই । সুখী মানুষ হতে হলে নিজ দেশে বসবাস করতে হবে এবং নিজের চারপাশ সুন্দর করতে হবে ।

    Reply
  17. S.H.Khan

    একটা বয়েসের পর সংসার-ত্যাগ করতে হয়—এটা শাস্ত্রীয় বিধান। সে বয়েস আগে ছিল ৫০, এখন নয় ৭০ করা যাক!
    উনি যে হঠাত করে এই ধরনের কথা বলছেন, তাতেই বোঝা যায়, উনার বয়েস হয়েছে অথচ স্বপ্ন অপূর্ণ রয়েছে। তা থাকাই স্বাভাবিক–সবারই তাই থাকে।
    আল্লাহ্‌ উনাকে বা-ইজ্জত রাখুন।

    Reply
  18. Afsar Ahmed

    লেখাটা চমৱকার। ভাল জবাব। সবচেয়ে ভাল লেগেছে, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ব্ক্তব্যটির জবাব এত বিনয় ো যু্ক্তির সংগে উপস্থাপন করবেন, লেখক তা আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে অকল্পনীয়। লেখককে শ্রদ্ধা।

    Reply
  19. অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন

    জনাব আকতার হোসেন,
    আপনার লেখা এবং কৈফিয়ত পড়লাম। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজে (বর্তমান সরকারী বিজ্ঞান কলেজ) পড়বার সময় সায়ীদ স্যারকে শিক্ষক হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ছাড়াও, পরিবেশ রক্ষা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা এমন আরো বহু কাজ তিনি করেছেন, এখনো করে যাচ্ছেন – তাতে আমাদের পিছিয়ে পড়া সমাজ আলোকিত হয়েছে। প্রবাসী খেটে খাওয়া মানুষ – যাঁদের রক্ত-ঘাম-অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশ উন্নয়নের বড় বড় সাফল্য লাভ করছে, তার কথা স্যার বিবেচনায় রেখে তাঁদের কাছে আমাদের ঋণের কথা বলেছেন। প্রবাসী প্রফেশনালদের সাথে তুলনায় তাঁদের এ ঋণ যে শতগুণ বেশী তা বলেছেন। এতে দ্বিমত করা যায় না। তারপরও দেশের কাছে প্রবাসীদের ঋণ পরিশোধে স্যারের প্রস্তাব যে প্রবাসীদের গভীর কষ্ট ও মনোবেদনার কারণ হবে তাতে কোন সন্দেহ নেয়। আপনি তাই বলেছেন এবং বিশদে যুক্তি দিয়ে তার কারণ উল্লেখ করেছেন। আপনার প্রতিটি যুক্তি অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে। সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। আশা করি স্যার আপনার লেখা এবং অভিমত গুরুত্বের সাথেই বিবেচনা করবেন। কঠিন সত্য উচ্চারণ করা মহৎ কর্ম। কিন্তু তার আগে এই বিবেচনাও করতে হবে কঠিন সত্য যথার্থ সত্য কিনা। আমি প্রবাসী নই, প্রবাসে বেশ কয়েক বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণবিজ্ঞানে উচ্চতর গবেষণায় অপার আনন্দ লাভ করেছি। সুযোগ থাকা স্বত্বেও সেখানে না থেকে দেশে ফিরে এসেছি। কিন্তু দেশপ্রেম, দেশের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আমারা ভুলতে পারিনা। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁদের ভূমিকা ভুলিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র এবং শিক্ষক হিসেবে আমার পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমার বহু ছাত্র উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের ছাপ রাখছে। তাদের সে সব অর্জন আমাদের এবং দেশের অর্জন বলেই গণ্য করি। স্যারের কত ছাত্র প্রবাসে আছেন। তাঁদের মন কোথায় পড়ে থাকে, তা নিশ্চয়ই স্যার ভাববেন। স্যারের প্রতি শুভেচ্ছা। অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন।

    Reply
  20. সৈয়দ আলী

    লেখককে ব্যাখ্যা দানের জন্য ধন্যবাদ। তবে সায়ীদ স্যারকেও ভুল বোঝা উচিৎ নয়। তিনি যে কথাটি বোঝাতে চাইছেন তার সরলার্থ এই, শ্রমজীবি অনাবাসীরা সচরাচর একম পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে বিদেশে যান যে ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবারকে জীবনযাপনের জন্য অর্থ সাহায্য পাঠাতেই হয় বা ঋণ শোধ করতেও বিদেশী অর্থ দেশে পাঠাতেই হয়। পক্ষান্তরে, লেখক যা বলেছেন তাও ও সত্য। উন্নততর কর্ম, উন্নততর জীবন যাপনের ব্যয় বৃদ্ধি করে। এখানে তুলনা করা যায়, আমরা যারা বাংলাদেশে তথাকথিত ‘ভালো’ আয়-উপার্জন করে উন্নত জীবন যাপন করি তারা দেশে থেকেই দেশের জন্য কিইবা করি?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—