Education - 999

শপিং মলের খোলা একটা জায়গায় একটি সুন্দর বসার জায়গা। সেখানে তের-চৌদ্দ বছরের একজন কিশোরকে নিয়ে তার মা বসে আছেন। মায়ের বয়স খুব বেশি নয়, চেহারার মাছে মার্জিত রুচিশীলতার ছাপ রয়েছে। কিশোরটিরও বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা। মা হাসি হাসি মুখে তার ছেলেটিকে বললেন, “বাবা, ঐ যে কাপড়ের দোকানটা দেখছিস?”

ছেলে বলল, “হ্যাঁ মা দেখছি।”

“ওখানে একজন মহিলা কেনাকাটা করছে দেখেছিস?”

ছেলে মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ মা, দেখছি।”

মা বললেন, “মহিলাটা তার ব্যাগ পাশে চেয়ারটার উপরে রেখেছে।”

ছেলে মাথা নাড়ল, “মা তখন তুই গিয়ে ঐ ব্যাগটা নিয়ে ছুটে বলে আয়।”

ছেলেটি একটু অবাক হয়ে বলল, “মানে ব্যাগটা চুরি করব?”

“হ্যাঁ হ্যাঁ চুরি করবি।”

“তুমি আমার মা, তুমি আমাকে চুরি করতে বলছ?”

মা হাসি হাসি মুখে বলল, “তুই এত অবাক হচ্ছিস কেন? সবাই চুরি করে।”

“যদি ধরা পড়ে যাই? সিসি ক্যামেরাতে ছবি উঠে যায়?”

“ধরা পড়বি কেন? আরে সিসি ক্যামেরাতে ছবি উঠলেও কোনো সমস্যা নেই। তোর বয়স কম, তোকে কেউ কিছু বলবে না। পত্রপত্রিকায় ছবি উঠলেও তোর মুখটা ঝাপসা করে রাখবে। কমবয়সী চোরদের চেহারা পত্রিকায় ছাপানোর নিয়ম নেই।”

মায়ের উৎসাহ পেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার কিশোরটি কাপড়ের দোকান থেকে মহিলাটির ব্যাগটি চুরি করে নিয়ে এল। ছেলেটি যখন মায়ের কাছে ফিরে এল, মা ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “বাবা, আজকে তোর চুরিতে হাতে খড়ি হল।”

ছেলেটি হাসিমুখে বলল, “তুমি উৎসাহ দিয়েছ বলে পেরেছি।”

মা বললেন, “পরের বার বাসা থেকে বড় চ্যালা কাঠ নিয়ে আসব। তুই পিছন থেকে একজনের মাথায় মারবি। মানুষটা পড়ে গেলে তার হ্যান্ডব্যাগ, মানিব্যাগ সব তুলে নিয়ে আসবি। পারবি না?”

ছেলেছি উজ্জল চোখে বলল, “কেন পারব না মা ? তুমি দোয়া কর আমার জন্যে।”

মা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “সব সময় দোয়া করি। একজন মা যদি সন্তানের জন্যে দোয়া না করে তাহলে কে করবে?”

আমি জানি, পাঠকদের যারা এই পর্যন্ত পড়ছেন তারা নিশ্চয়ই খুব বিরক্ত হচ্ছেন। মা-সন্তানকে নিয়ে এরকম জঘন্য একটা কাহিনি তৈরি করেছি বলে অনেকে হয়তো আমাকে শাপ-শাপান্ত করছেন।

আমি আবার পাঠকদের আমার গল্পটা পড়তে বলব। এবারে যেখানে যেখানে ‘ব্যাগ চুরি’এর কথা বলা হয়েছে সেখানে ‘প্রশ্নফাঁস’ কথাটা ঢুকিয়ে দিতে হবে (চুরি করা অন্যায়, প্রশ্ন ফাঁসও অন্যায়। এই দুইয়ের মাছে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই)। হঠাৎ করে পাঠকেরা আবিষ্কার করবেন আমার গল্পে বিন্দুমাত্র অতিরঞ্জন নেই। আমাদের দেশের মা-বাবা কিংবা শিক্ষকেরা নিজ হাতে তাদের সন্তানদের অন্যায় করার হাতেখড়ি দিচ্ছেন। বড় হয়ে যেন আরও বড় অন্যায় করতে কুণ্ঠিত না হয় তার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পাবার পর যখন এই সব বাবা-মায়ের ছেলেমেয়েরা গোন্ডেন ফাইভ পাবে তারা বন্ধুবান্ধবের বাড়িতে মিষ্টি পাঠাবেন। চুরি করার মতো অন্যায় করা এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে।

 

Education - 10111
আমাদের দেশের মা-বাবা কিংবা শিক্ষকেরা নিজ হাতে তাদের সন্তানদের অন্যায় করার হাতেখড়ি দিচ্ছেন

 

জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রত্যেক দিন ফাঁস হয়েছে। পত্রপত্রিকায় তার খবর বের হয়েছে। ছবি ছাপা হয়েছে। কিন্তু কোনো পুলিশ র‌্যাব মিলিটারি বিজিবি কাউকে ধরতে যায়নি। কোনো মোবাইল কোর্ট কাউকে বিচার করে শাস্তি দেয়নি। তের-চৌদ্দ বছরের ছেলেমেয়েরা ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন দেখে নিয়মিত পরীক্ষা দিচ্ছে, অথচ একটি রাষ্ট্রের কোনো মাথাব্যথা নেই, সবাই নিরাসক্তভাবে দেখছে, এটি কেমন করে হতে পারে?

বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। পরীক্ষার আগে ছেলেমেয়েরা আমার কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন পাঠায়। পরীক্ষা হয়ে যাবার পর তারা আমার কাছে আসল প্রশ্নটি পাঠায়। আমি অবাক বিস্ময়ে দেখি হুবহু মিলে যাচ্ছে। আমি এই একাট্য প্রমাণ দেখিয়ে লেখালেখি করেছি কিন্তু কারও ভেতরে কোনো চিত্তচাঞ্চল্য নেই!

শেষে কোনো উপায় না দেখে আমি ঠিক করলাম ‘প্রশ্ন ফাঁস মানি না মানব না’ লিখে একটা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ হিসেবে শহীদ মিনারে বসে থাকব। আমার প্রতি মায়া দেখিয়ে আমার কয়েকজন বন্ধুবান্ধব, পরিচিত মানুষ এবং বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্প কিছু ছেলেমেয়ে আমার সাথে ছিল। (মজার কথা, আমি যে প্ল্যাকার্ডটি নিয়ে বসেছিলাম তার বক্তব্য একটু পরিবর্তন করে আমার একটা ছবি নেটওয়ার্কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল)।

পরে শুনেছি আরও কিছু ছেলেমেয়ে শহীদ মিনারে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদের ভয় দেখানো হয়েছিল বলে তারা সাহস করে আসেনি। টেলিভিশনের অনেক চ্যানেল এসেছিল। তারা নিশ্চয়ই অল্পরিস্তর প্রচারও করেছিল। তার ফলে কিছু দিনের ভিতরে তদন্ত কমিটি হল। তারা তদন্ত করলেন। বড় বড় সরকারি কর্মকর্তারা আমার বাসাতেও এসে আমার বক্তব্য শুনে গেলেন। সমস্যাটা সমাধানের পথ খুঁজে বের করার জন্যে দেশের বড় বড় শিক্ষাবিদদের নিয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে একটা মিটিং ডাকলেন।

মিটিংয়ের এজেন্ডাতে ‘প্রশ্ন ফাঁস’ কথাটি নেই, সামগ্রিক ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা কথা বলা হয়েছে। তাই খুবই স্বাভাবিকভাবে দেশের বড় বড় বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদেরা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। দেশের বড় বড় শিক্ষাবিদেরা রিটায়ার করার পর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়ে যান। তাই কিছুক্ষণের মাঝেই আলোচনা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার দিকে মোড় নিল।

আমি এতক্ষণে বুঝে গিয়েছি প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারটা চাপা পড়ে গিয়েছে। বড় বড় শিক্ষাবিদ যারা এসেছেন তাদের কাছে প্রশ্ন ফাঁস গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইস্যু নয়। আমি ততক্ষণে ঠিক করে নিয়েছি কোনো কথা না বলে বিদায় নিব। মিটিংয়ের শেষের দিকে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় নিজে আমাকে কিছু বলতে অনুরোধ করলেন। আমি কিছু বললাম, অন্যেরাও কিছু বললেন, আলোচনা শেষ।

তখন কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এতাদিন পর আমার আর সেটি মনে নেই, কিন্তু এটুককু সবাই জানে যে, সমস্যাটির সমাধান হয়নি। এখনও নিয়মিতভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন দেখে পরীক্ষা দেওয়া অন্যায়। সারা পৃথিবীতে অন্যায় কাজ করা হয় গোপনে, শুধু আমাদের দেশে এটি করা হয় প্রকাশ্যে। কী লজ্জা! কী লজ্জা!

প্রশ্নফাঁসের ব্যাপারটি আমাকে যেটুকু আহত করে তার থেকে বেশি আহত করে এই পুরো ব্যাপারটি নিয়ে দেশের বড় বড় মানুষের নির্লিপ্ততা। এই দেশে কত শিক্ষক, শিক্ষক সংগঠন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, ভাইস চ্যান্সেলর, কোর্ট, হাইকোর্টের বিচারপতি, সাংবাদিক, সম্পাদক। কত পুলিশ, র‌্যাব, মিলিটারি! কত সাংসদ, মন্ত্রী, কত বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক নেতা! কিন্তু কেউ জোর গলায় এর প্রতিবাদ করছে না। কিন্তু একটা জাতির জন্যে এটা যে কত বড় একটা বিপর্যয় সেটা কি কেউ ভেবে দেখেছে?

এই দেশের একটা শিশু বড় হচ্ছে অন্যায় করতে শিখে। পুলিশ কাউকে ধরতে পারে না। অথচ আমার কাছে স্কুলের শিশুরা নিয়মিত চিঠি লিখে জানায় কে কোন সেন্টারে পরীক্ষা দিচ্ছে, সেই সেন্টারের কোন শিক্ষক কীভাবে কোন স্কুলের ছেলেমেয়েদের কাছে প্রশ্ন ফাঁস করে দিচ্ছেন, তার উত্তর বলে দিচ্ছেন। একটা স্কুলের বাচ্চারা যে অপরাধীদের চিনে, এই দেশের পুলিশ মিলিটারি র‌্যাব মিলে সেই অপরাধীদের ধরতে পারে না, এটা আমি কেমন করে বিশ্বাস করি? তাই আমাকে মেনে নিতেই হচ্ছে যরা প্রশ্ন ফাঁস করছে তাদের ধরার ব্যাপারে কারও কোনো আগ্রহ নেই।

একেবারে প্রথম দিন থেকে আমি যে কথাটা বলে আসছি এখনও আমি সেই একই কথা বলছি। একটা সমস্যা সমাধান করতে হলে প্রথমে সমস্যাটা বুঝতে হয়। সমস্যাটা বুঝতে পারলেই সমস্যার অর্ধেক সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু সেই সমস্যাটা যদি কেউ বুঝতেই না পারে তাহলে তার সমাধানটা হবে কেমন করে? এখন পর্যন্ত কেউ সমস্যাটা বোঝার পর্যায়েই যায়নি। কেমন করে যাবে? তাহলে স্বীকার করতে হবে প্রশ্নটা ফাঁস হয়েছে। কেমন করে স্বীকার করবে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে? তাহলে পরীক্ষাটি বাতিল করতে হবে। কাজেই কখনোই ঘোষণা দিয়ে স্বীকার করা হয়নি প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। যেহেতু প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলা হয়নি তাই যারা প্রশ্ন ফাঁস করেছে তাদেরকে অপরাধী বলায় সুযোগ নেই। বরং আমি উল্টোটা হতে দেখেছি, যখন কেউ প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে চিৎকার করেছে তখন তাকেই গুজব ছড়ানোর অভিযোগে শাস্তি দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

 

HSC result - 666
যারা ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছিল তাদের কেউ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি!

 

অথচ খুব সহজে প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করা সম্ভব। শুধু মাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা দিতে হবে, ‘যা হবার হয়েছে, এই দেশের মাটিতে ভবিষ্যতে আর কখনও প্রশ্ন ফাঁস হবে না’। কিন্তু আমি অনেকবার অনুরোধ করেও তাদের মুখ থেকে এই ঘোষণাটি বের করতে পারিনি। অথচ আমি নিশ্চিতভাবে জানি এই সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব। এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহ আছে, ভালোবাসা আছে এরকম অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, প্রযুক্তিবিদ রয়েছেন, অসংখ্য তরুণ-তরুণী আছে যারা সাহায্য করার জন্যে প্রস্তুত। শুধু তাদের সাহায্য নিতে হবে।

যখন দেশে বন্যা হয়, ঘূণিঝড় হয় তখন দেশের সব মানুষ সাহায্য করার জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই সমস্যাটি বন্যা-ঘূর্ণিঝড় থেকেও বড় বিপর্যয়। এর সমাধানে দেশের মানুষ এগিয়ে আসবে না আমি বিশ্বাস করি না।

আমি এই লেখাটি আশার কথা দিয়ে শেষ করতে চাই– আমি আশাবাদী মানুষ, আমি দেখেছি আমার জীবনে আমার কোনো আশাই বিফলে যায়নি।

কয়েক বছর আগের কথা। একটি মেয়ে আমাকে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছে। খুবই মন খারাপ করা ই-মেইল। সে লিখেছে, তার আশেপাশে যত ছেলে মেয়ে আছে তারা সবাই ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন দেখে দেখে পরীক্ষা দিয়েছে। এই মেয়েটি কখনও কোনো প্রশ্ন দেখেনি। কারণ সে পণ করেছে, অন্যায় করবে না, ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্ন দেখবে না। কাজেই সবার পরীক্ষা খুব ভালো হচ্ছে। যে প্রশ্নে পরীক্ষা দেবে সেই প্রশ্ন আগে থেকে জানা থাকলে পরীক্ষা ভালো না হয়ে উপায় কী?

মেয়েটি তার ই-মেইলে লিখেছে, সবার পরীক্ষা খুবই ভালো হচ্ছে, শুধু তার পরীক্ষা সেরকম ভালো হয়নি। বিশেষ করে পদার্থ বিজ্ঞানের পরীক্ষাটি বেশি খারাপ হয়েছে। কারণ প্রশ্নটি বাড়াবাড়ি কঠিন হয়েছে। পরীক্ষার খবর দেওয়ার পর মেয়েটি লিখেছে, যেহেতু তার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল যথেষ্ট ভালো হবে না তাই সম্ভবত সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেওয়ারই সুযোগ পাবে না। যেহেতু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না তাই তাকে হয়তো কোনো কলেজে যেনতেনভাবে লেখাপড়া শেষ করে একটি প্রাইমারি স্কুলে মাস্টারি করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে হবে। তার স্বপ্ন দেখা শেষ!

মেয়েটির ই-মেইলের উত্তরে তাকে আমি শান্তনা দিয়ে কী লিখব বুঝতে পারছিলাম না। কারণ সে যে কথাগুলো লিখেছে সেটি সত্যি। ‘কোনোভাবে অন্যায় করব না’ পণ করার কারণে এই দেশে একটি ছেলে বা মেয়ের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতেই পারে! অনেক চিন্তা করে আমি মেয়েটিকে লিখলাম, “প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেওয়া নিয়ে তুমি মন খারাপ কর না। আমিও ঠিক করেছি, রিটায়ার করার পর প্রত্যন্ত কোনো গ্রামে একটা প্রাইমারি স্কুল খুঁজে বের করে সেখানে মাস্টারি করে জীবন কাটিয়ে দেব। তুমি আর আমি মিলে একই স্কুলে মাস্টারি করব, সমস্যা কী?”

আমার এই উত্তরে কাজ হল, বুঝতে পারলাম সে মহাখুশি। প্রাইমারি স্কুলে মাস্টারি করার জন্যে তখন আমরা দুজনেই মানসিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।

তারপর অনেকদিন কেটে গেছে। হঠাৎ একদিন সেই মেয়েটির আরেকটি ই-মেইল এসেছে। সেখানে সে লিখেছে, “স্যার, আমি শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিপরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। মজার কথা কী জানেন, আমি যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দিয়েছি সবগুলোতে চান্স পেয়েছি। আর আমার পরিচিত বন্ধুবান্ধব যারা ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছিল তাদের কেউ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি!”

আমার সাথে সেই মেয়েটির প্রাইমারি স্কুলে মাস্টারি করার পরিকল্পনাটা সম্ভবত আপাতত স্থগিত হয়ে আছে। কিন্তু আমি খুব খুশি হয়েছি দুই কারণে। প্রথমত, ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে পরীক্ষার ফলাফল হয়তো ভালো করা যায় কিন্তু তাতে জীবনের কোনো লাভ হয় না, সেটি খুব ভালোভাবে প্রমাণিত হল। দ্বিতীয়ত, অন্যায় না করে মাথা উঁচু করে থাকার মাঝে বিশাল একটা মর্যাদার ব্যাপার আছে। সেটিও সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো সম্ভব হল।

আমি আশা করে আছি, আমাদের দেশের সব ছেলেমেয়ে এ রকমভাবে মাথা উঁচু করে থাকবে এবং এই ছেলেমেয়েদের উঁচু করে থাকা মাথাকে ভূলুণ্ঠিত করার জন্যে যেন কোনো কোচিং সেন্টার, কোনো শিক্ষক কিংবা কোনো দায়িত্বহীন অভিভাবক তাদের ধারেকাছে আসতে না পারে।

যদি এইটুকু আমরা নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখব কেমন করে? আমরা তো দুঃস্বপ্ন দেখতে চাই না, স্বপ্ন দেখতে চাই।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮ Responses -- “স্বপ্ন এবং দুঃস্বপ্ন”

  1. Md. Hazrat Ali

    It is high time we started together a massive campaign against the obnoxious ` Prasna Fus’. Sir, It is you who is most powerful to call all sections of people to come together to raise our voice recording the highest voice to be recorded in the Greenwich book.

    Reply
  2. একজন ব্যাস্ত ভবঘুরে

    “সবাই জিতে যেতে চায়,প্রথম হতে চায়,কেউ টিকে থাকতে চায় না”

    আমাদের মধ্যে একটা নতুন করে বিপ্লব দেখা দিয়েছে,
    আজকাল সবাই প্রতিযোগিতা করতে চায়,এবং এগিয়ে যেতে চায়,উপরে থাকতে চায়;
    কিন্ত দুর্ভাগ্যবশত খুবই দুঃখজনক যে তারা কেউই টিকে থাকতে চায় না!!!
    কারন তাদের কে শেখানো হয় কিভাবে উপরে উঠতে হবে ,কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে,
    কিভাবে প্রথম হতে হবে;তারা সেটাই শিখে ; যদি তাদের শেখানো হতো কিভাবে লাড়াই করতে হয়, কিভাবে টিকে থাকতে হয়,তারা সেটাই শিখতো;
    যার ফলাফল খুবই সুমিস্ট মনে হলেও,এর বলি হবে পুরো জাতি!!!!
    প্রশ্নপত্র পাশ

    Reply
  3. বাংলাদেশী

    আমাদের প্রশ্ন ফাঁস হওয়া আটকানোর দরকার নাই, দরকার মূল্যবোধের পরিবর্তন। আমরা যদি বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিই তাহলে তারা এসব বিষয়ে উৎসাহিত হবে না। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ফেসবুকে পঁচুক, কেউ যদি তা দেখতে না যায় তাহলে দুদিন পরেই আর প্রশ্ন ফাঁসকারীর উৎসাহ থাকবে না। বাচ্চাদের সুস্হ মন-মানসিকতার বিকাশ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা না বুঝলে এই অবস্হাই চলবে। জাফর স্যারের সাধাসিধা কথাবার্তা শুনে,পড়ে অনেকে মুখ বাঁকান। আমাদের নিজেদের ভাগ্যবান মনে করা উচিত যে এরকম লেখা পড়ার সুযোগ পাই।

    Reply
    • মুহম্মদ আবু রাজীণ

      তাহলে আজ এই মুহুর্ত থেকেই শুরু হোক ‘দরকারি মূল‌্যবোধের পর্র্তিন’। এবং আশাকরি অাপনার হাত ধরেই এই পর্র্তিনের জোয়ার ছড়িয়ে পড়বে দেশময়।

      Reply
  4. শঙ্খচিল

    প্রশ্নফাঁস ক্রমান্বয়ে এদেশের ঐতিহ্য হয়ে উঠছে, যেন এটা বন্ধ করার কোন উপায়ই আমাদের জানা নেই।

    Reply
  5. Maksudur Rahman

    যেসব শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আপনার মত শিক্ষাবিদ প্রশ্ন ফাঁস মানেন না, মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান তাদেঁর উচিত পরীক্ষা বয়কট করা। শিক্ষার্থীদের উচিত সকালে গিয়ে যখন দেখে তার সহপাঠিরা মোবাইল ফোনে প্রশ্ন উত্তর দেখছে তখন পরীক্ষা না দিয়ে চলে আসা। শিক্ষকদের উচিত যখন কোন শিক্ষক মোবাইলে প্রশ্নের ছবি তুলছে তখন তার হাত চেপে ধরা এবং তাও করা সম্ভব না হলে স্কুল থেকে চলে আসা।

    শুধু পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয় না, চাকুরীর পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হয়। এইসবের কারণ অসম্ভব অসম প্রতিযোগীতা আর বিত্তশালীদের জয়লাভের অদম্য ইচ্ছা। রাজধানী, বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর নামকরা স্কুলের নামকরা শিক্ষকেরা পরীক্ষার আগে মোবাইলে প্রশ্নের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে প্রশ্ন সমাধান করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেন তাদের স্কুলের “শিক্ষার্থীদের” (?) ভাল ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য। প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলে প্রশ্ন ফাঁস হয় না, কারণ তাঁরা অসম প্রতিযোগীতা করে জয়ী হয়ে সমাজে উচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অসুস্থ ইচ্ছা মনের মধ্যে পুষে রাখে না।

    যতদিন এই দরিদ্র দেশে ধনীদের অসুস্থ অদম্য ইচ্ছাকে সামাজিক সমর্থন দেওয়া হবে ততদিন কোন প্রযুক্তিই প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ করতে পারবে না। প্রশ্ন যতই কেস স্টাডি, এসাইমেন্ট, গ্রুপ ওয়ার্ক, ক্লাস রুম পারর্ফমেন্স ভিত্তিক হোক, প্রশ্নটি যতই ইন্টরনেটে পরীক্ষার ঠিক ১/২ ঘন্টা আগে প্রকাশ করে প্রজেক্টরে পরীক্ষার হলে প্রদর্শন করা (গ্রামের স্কুলে তা সম্ভব নয়) হোক, প্রশ্ন যতই “সৃজনশীল” হোক- কোনদিনই প্রশ্ন ফাঁসের লোভ বন্ধ হবে না। বিত্তের কাছে এখানে বিবেক এবং মানুষের সহজাত কৌতূহল হেরে গেছে।

    শুধু “আমি ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দেখিনি” বলে মনে সান্তনা দিয়ে পরবর্তীতে জীবনে ভাল করা যাবে এই আশায় থাকা অর্থহীন কারণ বহু বহু মানুষ ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে দিতে জীবনের উঁচু উঁচু পদে আসীন হয়ে সমাজকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। যাঁরা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন না দেখে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান, পরবর্তী জীবনে সফল হতে পারছেন তাঁদের সংখ্যা হাতে গোনা

    Reply
  6. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    এক প্রজন্মের শিক্ষকের ওপর নির্ভর করে আরেক প্রজন্মের শিক্ষক। আর এসব কারণে, যারা এ প্রজন্মের শিক্ষক তাদের মাথায় এ বিষয়টা থাকা উচিৎ যে তাদের দক্ষ শিক্ষাদানের মাধ্যমে তৈরী হবে পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষিক। তবে কি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্কট? সেটা আপনারাই ভালো জানেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে যায় সমাজের মঙ্গলের জন্য যে শিক্ষা সে শিক্ষাই হয় প্রকৃত শিক্ষা। কিন্তু এখনকার প্রজন্ম কেমন শিক্ষা পাচ্ছে তা ভেবে দেখা দরকার। শিল্পচর্চার জন্য যে জ্ঞান, যে মেধা বা যে শ্রম দরকার তা আমাদের বর্তমান সময়ের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নেই । তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এমন কোন চিন্তা, মতাদর্শ ও সংস্কৃতি আমরা তৈয়ার করতে পেরেছি কিনা যা ষোলকোটি মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে? এটাই তো এখনকার কাজ। যদি সে মতাদর্শকে ‘জাতীয়’ হতে হয় তাহলে তার কেন্দ্রে সাধারন মানুষ — অর্থাৎ শ্রমিক, কৃষক মেহনতি মানুষের স্বার্থের কথা থাকবে। ঢাকা শহরের শার্টপ্যান্ট পরা পোলাপান তরুন আর মাদ্রাসার টুপিকোর্তা পরা গরিব ছেলে কি তাহলে তরুণ না? শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থ নয়, ধর্ম, সংস্কৃতি, লোকায়ত চিন্তা, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সম্পর্কে সাধারণ মানুষের নিজেদের মূল্যায়ন এবং সর্বোপরী নৈতিক মূল্যবোধ ও সংবেদনা — অর্থাৎ মানুষের সজীব জীবনের সকল বিষয়ই এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে বাধ্য। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা কতোটা ‘মুক্ত’ চিন্তার অধিকারী? কতোটা বদ্ধ, গোঁড়া, গণবিরোধী ও গনবিচ্ছিন্ন এলিট অনুমানের কাছে জিম্মি? সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও উৎকন্ঠাকে তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণি কি আমলে নিতে রাজি? সাধারণ মানুষের ভাবনা চিন্তার বিপরীতে কতোটা নিজেদের চিন্তা ও আদর্শ আমরা পর্যালোচনা করি? তথাকথিত ‘তরুন প্রজন্ম’ কতোটা নিজেদের ভুল কবুল করতে রাজি? তারা কতোটা আত্মপ্রত্যয়ী? আমার মনে হয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া দূরে থাকুক, তারা কী বলে বা কী বলছে সে সম্পর্কে তাদের নিজেদেরই কোন হুঁশ নাই ।

    Reply
  7. সৈয়দ আলী

    ‘প্রতিকার আছে জানা,
    মাথার উপর সুপারি রাখিয়া কাষ্ঠপাদুকা হানা’- ফজলে লোহানী।

    Reply
  8. Prof. Dr. Muhammad Abdul Goffar Khan

    “স্যার, আমি শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিপরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। মজার কথা কী জানেন, আমি যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দিয়েছি সবগুলোতে চান্স পেয়েছি। আর আমার পরিচিত বন্ধুবান্ধব যারা ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছিল তাদের কেউ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি!”
    1. Admission test is necessary.
    2. We can not trust Govt. authority to arrange/conduct combined/central admission test.

    Reply
  9. আকন্দ

    হেফাজত তোষণ+হিন্দু নিপীড়ণ+প্রশ্ন ফাঁস+ঢালাও নম্বর+৫৭ ধারা+গুম= ২০৪১।
    এটা নীতিগত বিষয়।
    ক্ষমতার প্রশ্ন।
    বাড়ছে মৌলবাদ, মাদক, কুশাসন, শিক্ষাবিহীন সার্টিফিকেটধারী প্রজন্ম কিন্তু সুসংহত হচ্ছে ক্ষমতা।
    দ্যাটস ইট।
    সিম্পল এন্ড ক্লিয়ার।

    Reply
  10. শান্তনু

    ২০১২ সাল থেকে তরুণদের আচরণ ও মানসিক অবস্থার হঠাৎ পরিবর্তন আসে। ১৯৮২ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে গবেষকরা বলছেন, মিলেনিয়াল প্রজন্ম। ২০১২ সাল থেকে প্রজন্মের আচরণে প্রভাব পড়ার কারণ সম্পর্কে বলা হচ্ছে, ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দা মিলেনিয়াল প্রজন্মের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্য যাদের জন্ম, তাদের ‘আইজেন’ বলা যায়। এ প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে সম্বল করে। তাদের আচরণ ও আবেগের ধরন আগের চেয়ে আলাদা। হাইস্কুলে যাওয়ার আগেই তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে। ২০০৭ সালে আইফোন যখন প্রথম বাজারে আসে, তখন আইজেন প্রজন্ম একেবারেই শিশু ছিল। ২০১০ সালে যখন আইপ্যাড আসে, কেউ হয়তো হাইস্কুলের পথে। ২০১৭ সালে পাঁচ হাজার তরুণকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি চার জনের তিন জনের কাছে আইফোন আছে। গ্রামের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পরিবারের কেউ না কেউ দেশের বাইরে থাকছে। তারা যখন বিদেশ থেকে আসার আগে বা সেখান থেকে কী পাঠাবেন, জানতে চান প্রিয় প্রজন্মমের কাছে। প্রথমেই যেটি চাওয়া, সেটি স্মার্টফোন। এর ফলে তরুণ-তরুণীদের জীবনধারায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ফলে বদলে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ধরনও। এখনকার তরুণরা আত্মহত্যাকেও অ্যাডভেঞ্চার মনে করে। এই প্রবণতা এসেছে হতাশাবোধ থেকে। তাদের কাছে এখন হয়তো সামাজিক বন্ধনগুলো আগের মতো না থাকায় পরস্পরের প্রতি মমত্ব, জীবনের প্রতি দায়বোধ বা কর্তব্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে যেটি হচ্ছে কাছের মানুষকে তারা হয়তো আপন করতে পারছে না। কিন্তু অচেনা এক মানুষ যার সঙ্গে সরাসরি পরিচয় নেই, তাকেই ভাবছে আপন মানুষ। স্কুলের বন্ধু, পাশের বাসার কেউ বা একই পরিবারে থাকে এমন সদস্যের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ভাইবার বা হোয়াটস অ্যাপে থাকা একজনের সঙ্গে নিজের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে ফেলছে সহজে। স্মার্টফোনের যুগে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে না দেওয়া সমাধান নয়। কিন্তু সেটা একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর। এরপর নজর রাখা, সে কী করছে তার দিকে। বন্ধুর মতো মিশতে চেষ্টা করা। যেন অন্তর্জালের পাশাপাশি আশেপাশের মানুষগুলোর কাছ থেকেও কোনও নোংরা প্রস্তাবে পা ফসকে না যায়। সাফল্যের গল্প শোনানো। জীবনের কোনও ধাপেই ব্যর্থ হলে সেটাকে ব্যর্থতা না ভেবে সাফ্যলের পথে এগিয়ে যাওয়ার সিঁড়ি বলেই মনে করিয়ে দেওয়া। ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া। যদিও ঢাকা শহরে মাঠ নেই, তবু ইন্টারনেট গেমের প্রতি আসক্তি কমিয়ে খেলাধুলোর প্রতি আসক্তি বাড়ানো। অন্তত দাবার মতো বুদ্ধিভিত্তিক খেলাগুলোর প্রতি। যারা শহুরে পরিবেশে মানুষ তারা যেন মাঝে মাঝে গ্রামে গিয়ে ছেলে মেয়েদের শেকড়ের সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। কিশোর-কিশোরীদের যতটা সম্ভব স্মার্টফোন থেকে দূরে রাখতে হবে। এসব কিছুর দায়িত্ব অভিভাবকের। ছেলে গেমস খেলছে সেটাতে খুশি না হয়ে বরং পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। বিভিন্ন মেলায় নিয়ে যাওয়া। বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এখনকার প্রজন্ম বই পড়তে চান কম। যারা পড়েন তারাও বেশিরভাগ দরকারে তাও আবার নেট থেকে। যে আবেগ অনুভূতিহীন প্রজন্ম সৃষ্টি হচ্ছে এরাই যখন পৃথিবীর প্রতিনিধিত্ব করবে তখন পুরো পৃথিবীটাই হয়ে পড়বে আবেগশূন্য। মানুষের প্রতি থাকবে না মমত্ববোধ, স্নেহ, প্রেম, ভালোবাসা। রোবটের দুনিয়া থেকে এর বেশি পার্থক্য থাকবে না। এসব থেকে ফেরাতে হলে উদ্যোগ নিতে হবে এখনই। নইলে সৃষ্টি হবে নষ্ট প্রজন্ম। যে প্রজন্ম ব্লু-হোয়েলের মতো গেম খেলবে। অন্যের প্ররোচনায় মানুষ হত্যা করতে দ্বিধা করবে না।

    Reply
  11. সুরুজ বাঙালি

    প্রশ্নফাঁস নিয়ে এতো কলাম লিখে কিসুই করতে পারবেন না। এর চেয়ে একটা আন্দোলন এর ডাক দিন, কিছুটা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর কানে যাবে। এইটাতো করবেন না।
    ইদানিং কালের বুদ্ধিজীবীরা নিজের পক্ষের রাজনৈতিক দলের অন্যায় এর প্রতিবাদ করলেও কেমন যেন ভীতু সন্ত্রস্ত থাকে। আপনাদের মত বুদ্ধিজীবীদের উচিত আন্দোলনের ডাক দেওয়া। দেশের ভবিষ্যৎ এর চিন্তা করে এটা করা উচিত। খালি লিখলে নাহিদ সাহেব এইটা পড়বেনও না আর বুখবেন ও না। তার সামনে দাঁড়িয়ে বুক সোজা করে বলতে হবে।

    Reply
  12. Kolimuddi

    এগুলো হচ্ছে সরকারের জেদ। এবং শিশু সুলভ জেদ। প্রশ্ন ফাস হয়না, দেশে আইএস নাই, সংখ্যালঘুরা মহাসুখে আছে প্রভৃতি। বিএনপির আমলে পাবলিক পরীক্ষাতে নকল হত বলে সবাই ছি ছি করত। সামাজিক ভাবে ঘৃণা করা হত নকলবাজদের। সামাজিক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ ছিল। আর এখন প্রশ্নফাস নিয়ে কোন উচ্চবাচ্চ নাই। এমনকি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার কোন উদ্যোগও নাই। আগে নকল করত একজন দুইজন আর এখন এক একটা ব্যাচ বের হয় নকলবাজদের। তারপরও কোন দায়িত্বশীল দায়িত্ব নেয়না। নতুন কোন ডিজিটাল প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত হয় বা উন্ন্যয়ন (হ্যা বানান টা ইচ্ছা করে ভুল লিখেছি) এর গল্প করতে বা ক্ষমতার দম্ভ ত্রুটি করেনা যা প্রশ্নফাসের মত ভয়ংকর সমস্যাকে আড়াল করে রাখে। পরীক্ষা আসলে তখন আবার সবার প্রশ্নফাসের কথা মনে পড়ে। এই খেলা শেষ হয়না। আপনি ছাড়া কেউ কোন শব্দও করেনা। আর করবে কেন শব্দ করলে সাতান্ন ধারা গুম রাষ্ট্রদ্রোহিতা এসব তো আছেই। আরো আছে ছাত্রলীগ। আর মধ্যবিত্ত সবসময় সুবিধা খোজে। তাদের সন্তানেরা শুর শুর করে পার হয়ে যাচ্ছে, গোল্ডেন পাচ্ছে, সার্টিফিকেট পাচ্ছে অসুবিধা তো কিছু নাই। তাই এই খেলা চলতেই থাকে।

    Reply
    • জামান

      লেখালেখি, প্রতিবাদ চালু রাখতেই হবে একসময় অবশ্যই এর ফল মিলবে । হতাশ হওয়া চলবে না; আমরা আপনার সাথে আছি । ধন্যবাদ ।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—