Hindu (Rangpur incident) - 111

আমরা বড় হয়ে উঠেছিলাম কতগুলো নীতিবাক্য এবং এমন কিছু কবিতা পাঠ করে যা আমাদের মধ্যে এক ধরনের মানবিক বোধ জাগিয়ে তুলত। আমরা কে কোন ধর্মের অনুসারী সেটা কখনও বড় বিষয় হয়ে দেখা দেয়নি। হিন্দু, না মুসলিম এই জিজ্ঞাসা আমাদের মধ্যে প্রবল ছিল না। আমরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করেছি: ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’

ভূপেন হাজারিকার সেই কালজয়ী সঙ্গীত আমাদের মর্মমূলে গাঁথা ছিল: ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।’

আমরা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার লাইন কণ্ঠে ধারণ করেছি গভীর মুগ্ধতায়: ‘মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই’।

কামিনী রায়ের কবিতা আমাদের কতই-না প্রাণিত করত: ‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ’পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’।

আল হাসিদের বাণী মনে রেখেছি মানবধর্মের প্রাধান্য দিয়েই: ‘যে ব্যক্তি মানুষের দয়া করে না, আল্লাহতায়ালা তাহার উপর রহমত বর্ষণ করেন না’।

শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ লিখেছেন: “মানুষের জন্য যাহা কল্যাণকর, তাহাই ধর্ম। যে ধর্ম যাপন করিতে গিয়া মানুষের অকল্যাণ করিতে হয়, তাহা ধর্মের কুসংস্কার মাত্র। মানুষের জন্য ধর্ম। ধর্মের জন্য মানুষ নয়।”

কিন্তু আজ আমরা চারপাশে কী-সব ঘটতে দেখছি? ধর্মের জন্য, ধর্মের নামে কতিপয় মানুষের এ কী সংহার রূপ! মনে পড়ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর পংক্তি: “অলৌকিক আনন্দের ভার, বিধাতা যাহারে দেন, তার বক্ষে বেদনা অপার।”

দুই.

এই ভূমিকাটুকু করলাম সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর আলোকেই। ১০ নভেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার হরকলি ঠাকুরপাড়া গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজনের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে, লুটপাট করেছে। উন্মত্ত হামলাকারীদের ভয়ে আগেভাগে পালিয়ে না গেলে হয়তো অনেকের জীবনও যেত। কী অপরাধ করেছিল ওই হিন্দুরা?

 

Facebook - 11100
ঠাকুরপাড়া গ্রামের মৃত খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায় নাকি ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়ে ইসলাম ধর্মানুসারীদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়েছে

 

ঠাকুরপাড়া গ্রামের মৃত খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায় নাকি ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়ে ইসলাম ধর্মানুসারীদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়েছে! যদি টিটু রায় এমন কাজ করেই থাকে তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার জেল-জরিমানা যা হবার তা হলে কারও কিছু বলার থাকত না। কিন্তু টিটু রায় নামের ‘হিন্দু’ ছেলেটি কথিত অভিযোগের জন্য দায়ী কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই শান্তি দেওয়া হল তার পাড়াপড়শিদের। টিটু রায়কে ধরে ক্ষিপ্ত ধর্মানুরাগীরা মারধর করলেও এই ভেবে সান্ত্বনা পাওয়া যেত যে, ব্যাটা ‘মালাউন’ ইসলামের পবিত্রতা নষ্ট করায় উচিত শিক্ষা পেয়েছে!

না, টিটুকে পাওয়া যায়নি। কারণ সে দশ বছর ধরে ওই গ্রামেই থাকে না। যে গ্রামছাড়া হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করছে। তার কথিত অপরাধের শাশ্তি ভোগ করতে হল নিরীহ গ্রামবাসীদের। এখন জানা যাচ্ছে, টিটু রায় লেখাপড়াই জানে না। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থাকার কথা নয়। যে স্ট্যাটাস দিয়ে পবিত্র ইসলাম ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে সে পোস্টটি আসলে একজন ঈমানদার মুসলমানই দিয়েছেন!

হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকেই যে এই অপকর্ম করা হয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। হিন্দুদের ওপর চড়াও হওয়ার একটি অজুহাত বের করার এই যে জঘন্য পদ্ধতি এটি আর কতদিন অনুসরণ করা হবে? মিথ্যা অভিযোগ তুলে কিছু ধান্ধাবাজ মতলববাজ আর কতদিন হিন্দু এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত অন্যদের জীবন, সম্পদ ও সম্ভ্রম নিয়ে এ রকম ছিনিমিনি খেলবে?

এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে গত বছর ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরেও একই কায়দায় হিন্দুদের ওপর হামলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, রসরাজ দাস নামের এক স্বল্পশিক্ষিত দরিদ্র জেলে ফেসবুকে কী এক স্ট্যাটাস দিয়ে মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়েছে। ব্যস, শুরু কর হিন্দুদের ওপর আক্রমণ। তার আগে, ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বর্বর আক্রমণ পরিতালিত হয়েছিল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর। তখন অভিযোগ করা হয়েছিল যে, উত্তম বড়ুয়া নামের এক বৌদ্ধ যুবক ইসলামের পবিত্রতাহানি করেছে।

অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাই না করে, একজনের কল্পিত অপরাধের দায়ে একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এমন হামলে পড়া কি স্বাভাবিক কিংবা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা? কেউ কেউ হয়তো সেটা বলে এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করতে চান। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। এই ঘটনাগুলো যদি বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু বিতাড়নের একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ বলা হয়, তাহলে কেউ কেউ নিশ্চয়ই তার প্রতিবাদ করবেন। বলবেন, না, বাংলাদেশ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ফসল। এই দেশের জন্য মুসলমান , হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মবিশ্বাসীর আত্মদান ও ত্যাগ রয়েছে।

এই কথাগুলো বলতে ভালো লাগে। এক সময় শুনতেও খারাপ লাগত না। এখন এসব কথা সংখ্যালঘুদের মনে বিশেষ কোনো আবেগ তৈরি করে বলে মনে হয় না। শখ করে কেউ দেশত্যাগী হয় না। দেশত্যাগের, ভিটেমাটি ছাড়ার বেদনা অবশ্য ভুক্তভোগী ছাড়া কারও বোঝার কথা নয়। দেশে মুসলিম জনসংখ্যা যেখানে ক্রমাগত বাড়ছে, সেখানে হিন্দু এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা কেন কমছে সে প্রশ্নের মুখোমুখি আমরা হতে চাই না। সংখ্যালঘুদের নীরব দেশত্যাগ যে নীরব সাম্প্রদায়িকতার কারণেই ঘটেছে, সেটা আমরা মানতে চাই না। অথচ সত্য এটাই যে, অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না।

 

Rothajatra - 11100
সংখ্যালঘুদের নীরব দেশত্যাগ যে নীরব সাম্প্রদায়িকতার কারণেই ঘটেছে, সেটা আমরা মানতে চাই না

 

এ কথা ঠিক যে, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। কিন্তু নানা ঘাত-প্রতিঘাত, রাজনৈতিক উত্থান-পতন, ক্ষমতার রাজনীতির জটিল সমীকরণ আমাদের নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনোভাবেই সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ বাসভূমি নয়। এক সময় হিন্দু প্রতিবেশির প্রতি মুসলিম প্রতিবেশির যে সহানুভূতি ছিল, এখন তাতে চির ধরেছে। আক্রান্ত হিন্দু প্রতিবেশিকে রক্ষার জন্য মুসলিম প্রতিবেশি কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। অনেকেই এখন আর নিজেকে ‘হিন্দুদরদী’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। এক সময় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঐতিহ্য বহন করা আওয়ামী লীগ নামের দলটিও আর সে পরিচয় গায়ে সেঁটে রাখতে চায় না।

ধারণাটি যদি ভিত্তিহীন হত তাহলে গুজব ছড়িয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে হাজারে হাজার জমায়েত হয়ে সংখ্যালঘুদের গ্রাম-পাড়া আক্রমণ করা সম্ভব হত না। অসাম্প্রদায়িক চেতনার শুভবোধসম্পন্ন মানুষই প্রতিরোধে শামিল হত।

রংপুরের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকাও খুব দুঃখজনক। প্রশাসনের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাসময়ে তৎপর হলে ঘটনাটি অন্তত প্রতিহত করা যেত। কয়েক দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েই হামলা হয়েছে। হঠাৎ কিছু হয়নি। যখন হাওয়া গরম করা হচ্ছিল তখন নাকে তেল দিয়ে সুখনিদ্রায় থেকে হামলার পর তৎপর হওয়ায় ক্ষতি হয় দুদিক থেকে।

এক. হামলার শিকার হিন্দুরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। তারা মনোবল হারিয়ে ফেলে। দেশত্যাগের পরিকল্পনা করে। দুই. আক্রমণকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য গুলি ছুঁড়লে আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তখন আক্রমণকারীদের প্রতি এক ধরনের সহানুভূতি তৈরি হয়। কোনো কোনো জ্ঞানপাপী বলার সুযোগ পায় যে, হিন্দুদের বাড়িঘরের ক্ষতি হল, সেগুলো তো আবার বানানো যাবে, কিন্তু মুসলমানের যে জীবন গেল, তা তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না।

সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের সাফাই বক্তব্য দিয়ে বলা হয়, যারা সরকারকে বিব্রত করতে চায় তারাই উস্কানি দিয়ে এসব অপকর্ম করে থাকে। হতে পারে এই বক্তব্যই ঠিক। প্রশ্ন হল, সরকার বা প্রশাসন এই উস্কানিদাতাদের কেন প্রশ্রয় দেয়? কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না? যদি আগের ঘটনাগুলোর যথাযথ বিচার হত, অপরাধীরা শাস্তি পেত তাহলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি নাও ঘটতে পারত। চোরকে চুরি করার সুযোগ দিয়ে গৃহস্থকে প্রবোধ দেওয়া অর্থহীন, তামাশা ছাড়া কিছু নয়। সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো বন্ধ করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ অচিরেই ‘সংখ্যালঘু সমস্যামুক্ত দেশ’ হিসেবে পরিচিতি পাবে এই কারণে যে, তখন এক ধর্মের মানুষের বাসভূমি হবে এই দেশ।

আইনস্টাইনের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ কতে পারছি না। তিনি বলেছেন: “এই পৃথিবী কখনও খারাপ মানুষের খারাপ কর্মের জন্য ধ্বংস হবে না। যারা খারাপ মানুষের খারাপ কর্ম দেখেও কিছু করে না, তাদের জন্যই পৃথিবী ধ্বংস হবে।”

পাদটীকা:

এই যে আমরা বলছি দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে, সাম্প্রদায়িকতা বিষয়টি আসলে কী? সাম্প্রদায়িকতা শব্দটির ব্যাখ্যা উইকিপিডিয়ায় দেওয়া হয়েছে এভাবে:

“সাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে এক ধরনের মনোভাব। কোনো ব্যক্তির মনোভাব তখনই সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা দেওয়া হয় যখন সে এক বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ভুক্তির ভিত্তিতে অন্য এক ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধাচরণ এবং ক্ষতিসাধন করতে প্রস্তুত থাকে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধন করার মানসিক প্রস্তুতি সেই ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচয় অথবা বিরুদ্ধতা থেকে সৃষ্ট নয়। ব্যক্তিবিশেষ এ ক্ষেত্রে গৌণ, মুখ্য হল সম্পদায়। ধর্মনিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্ক আছে ধর্মীয় তত্ত্ব এবং আচার-বিচারের। সাম্প্রদায়িকতার যোগ আছে সম্প্রদায়ের সাথে। অর্থাৎ ধর্মনিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের আচরণ এবং ধর্মবিশ্বাসের গুরুত্ব বেশি।”

সাম্প্রদায়িকতার ক্ষেত্রে নিজের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ এক জাতীয় আনুগত্যের গুরুত্ব বেশি। সত্যিকার ধর্মনিষ্ঠা পরকালমুখী। পরকালেই তার আসল পুরস্কারের আশা। সাম্প্রদায়িকতার মুনাফা ইহলোকে। ধর্মনিষ্ঠার জন্য অন্যের বিরুদ্ধাচরণের প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশে এই প্রবণতাই কি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে না?

বিভুরঞ্জন সরকারসাংবাদিক ও কলামিস্ট।

২৬ Responses -- “সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মানুরাগ এবং মানবিকবোধ”

  1. বিল্লাল হোসেন

    বাংলাদেশ সরকারের উচিত কাল ভারতে একজন মুললিমকে অন্যায় ভাবে হত্যা করেছে তার জন্য ভারত কী করল। মুসলিম হত্যার জন্য ভারত সরকার কি করছে তা জেনে ব্যবস্থা নেয়। ভারত সরকার মুসলিমদের বরাবরই নিযাতন করে আসছে। এটা যেন বাংলাদেশ সরকার মাথায় রাখে।

    Reply
  2. বিল্লাল হোসেন

    বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যপারে….ভারত নামক উগ্র এবং নিৎকৃষ্ট দেশ কিভাবে আশ্বস্ত করার সাহস পায়…!!!!!!
    ভারতে…..প্রতি দিন উগ্র হিন্দুদের হাতে মুসলিম এবং হিন্দুদের বিভিন্ন জাতের ব্যক্তিগন নির্যাতিত হচ্ছে…..এ উগ্র এবং নিৎকৃষ্ট মানের ভারতকে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশ তখন আশ্বস্ত করে না!!!!”
    বাংলাদেশ কে আশ্বস্ত করার সাহস পায় কিভাবে নিৎকৃষ্ট নামক ভারত!!!!!

    Reply
  3. বিল্লাল হোসেন

    কিছুদিন আগেই আসামে মুসলিমদের বাংলাদেশি বলে চরম নির্যাতন করেছেন। গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করেছেন,রোহিঙ্গারা মুসলিম বলে তাদের প্রতি কোনো মায়া দেখাচ্ছেন না অথচ আপনারাই নীতি করেছে বাইরের দেশের হিন্দু ক্রিস্টান আপনাদের ওখানে গেলে নাগরিকত্ব দিবেন। মাংস পাওয়ার অভিযোগে জ্যান্ত মানুষ মেরেছেন।
    এত সাম্প্রদায়িক কর্মকান্ড করে আপনারাই আমাদের উপর আবার দাদাগিরি করতে পারতেছেন শুধুমাত্র সরকারেরর কারনে। যদিও আমি এদেশে হিন্দুদের উপর এই হামলার নিন্দা জানাই…একেই ভাবে উস্কানিদাতার ও চরম শাস্তির কামনা করি

    Reply
  4. বিল্লাল হোসেন

    রংপুরের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে টুইট করেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ।
    বেশ ভালোই তো।
    তো গতকাল ভারতের রাজস্থানে একজন মুসলিম গরু খামারিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে জঙ্গি হিন্দুত্ববাদীরা, আপনার দেশ এতে কি পদক্ষেপ নিয়েছে!!
    আমাদের এই বাংলাদেশ পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ।
    আমাদের দেশের বিষয় আমরাই মিটমাট করবো।
    এখানে আপনাদের নাগ না গলালেও চলবে।
    আমাদের দেশে সরকার আছে আইন আছে বিচার অবশ্যই হবে।
    আপনারা আপনার দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় রাখুন??
    নাকি আমাদের দেশ নিয়ে গভীর পরিকল্পনা আছে????

    Reply
  5. বিল্লাল হোসেন

    আমি বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক, আমি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ কে অনুরোধ করছি বাংলাদেশের ব্যাপারে( নাকগলানের )উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না, হিন্দুরা আমার বাংলাদেশের মানুষ, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান, আমার বাঙালি জাতির অহংকার, আমাদের দেশের সরকার আছে, বিরোধী দল আছে, আমরাই সেই সমস্যা সমাধান করব ।সুষমা স্বরাজ আগে দেখেন আপনার ভারতের মুসলমান ভাই বোনদের উপর কত অত্যাচার, নির্যাতন, জুলুমবাজি করা হচ্ছে, হত্যা করা হয়েছে, মুসলিম ভাইদের তাদের ধর্ম পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না, কই তখনতো দেখিনা আপনাদের মুসলমানদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলতে ।অত এব বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশের ব্যাপারে আপনাদের ভারতীয়দের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করি না ।

    Reply
  6. বিল্লাল হোসেন

    নিজের দেশ নিয়ে ভাবেন । আপনাদের দেশে কি হয়? গো রক্ষার নামে মুসলিম খুন করেন, আবার বড় বড় কথা। হিন্দুদের উপড় যত হামলা হয় সব রাজনৈতিক বা পূর্বশত্রুতার জেরে, কোন ধর্ম নিয়ে নয়।

    Reply
  7. বিল্লাল হোসেন

    ভারত কে নিশ্চয়তা দিতে হবে কেন????? আমরাও চাই দোষীদের বিচার হোক। যথাযোগ্য ক্ষতিপূরণ দিক।
    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপ গ্রহনযোগ্য নয়। বাংলাদেশ সরকার কি ভারতের কেনা গোলাম নাকি। নাকি বাংলাদেশ ভারতের প্রদেশ….!!!!!!!!!!!!! এমন খবর লজ্জার, ধিক্কার বাংলার নেতাদের। পেটনীতি দিয়ে আর কতদিন চলবেন। দেশকে এতটুকু অন্তত ভালোবাসুন। নয়তো দেশ আর স্বাধীন থাকবে না। অন্যর শাসনের জন্য তৈরি থাকুন বাংলার জনগন। মেরুদন্ডহীন রাজনীতি দিয়ে দেশ রক্ষা করা যায় না।

    Reply
  8. বিল্লাল হোসেন

    আমরা সংখ্যায় মুসলিম হলেও বাংলাদেশ কিন্তু হিন্দু রাষ্ট্র, তা’না হলে তাদের এখানে মাথা ব্যাথা কেন? বাংলাদেশ একটা স্বাধীন রাষ্ট্র এখানে আইন আছে আদালত আছে, কেউ যদি অপরাধ করে দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিচার করবে, তাহলে তারা এখানে বৃবরিতি দিবে কেন? বার্মাতে এতো মুসলি মারা হচ্ছে কোই ঐখানেতো তারা বৃবরিতি দিচ্ছে না।

    Reply
  9. বিল্লাল হোসেন

    এটা কে বলে নগ্নতা, আজ মায়নামারে লক্ষ লক্ষ মুসলিম নির্যাতিত হলেও সুষমা চুপ, ভারত চুপ, অথচ বাংলাদেশে কোন হিন্দুর জর আসলেও সুষমা টুইট করে, মায়ানমার করলে, অদের অভ্যান্তরিন আর বাংলাদেশে হলে, মনে হয় ওর ঘর, ভারতে এই পর্যন্ত অনেক মুসলমান কে মেরে ফেলা হল, কিন্তু তখন বলার কেউ নাই। হায়রে রাজনিতি। ধিক্কার জানাই এই রাজনিতি বিদদের

    Reply
  10. বিল্লাল হোসেন

    যদি হিন্দু হওয়ার কারণে ক্ষতিপুরণ দাবী করে তাহলে তো বুঝা যায় বাংলাদেশ তাদের দেশ না, তারা ভাড়াটিয়া কিংবা সাময়িক অতিথি। বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদে তাদের কোন দাবী নাই।

    হ্যা, যদি কোন সন্ত্রাস গুষ্ঠি বা অন্য কারো হাতে কোন ব্যক্তি বা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে রাষ্ট্রের উচিত যথাসম্ভব সাহায্য করা। তবে সেটা হতে হবে দল মত, ধর্ম বর্ণের পারথক্যের উর্ধ্বে যেয়ে। অন্য দশ জনের সময় যেভাবে সাহায্য করা হয় এক্ষেত্রেও তেমনিভাবে সাহায্য করা উচিত। এক্ষেত্রে জাতিগত পার্থক্য করলে বিশাল সমস্যা।

    আর এই ক্ষতিপুরণ দেয়া বা না দেয়া সম্পুর্ণ দায়িত্ব উক্ত দেশের উপর। অন্য কোন দেশ এভাবে এক পাক্ষিক কথা বলা বা অধিকার খাটানো সম্পুর্ণরুপে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ, এছাড়া আর কিছুই না।

    রংপুরের ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক। আর মানুষের বাকস্বাধীনতা সংরক্ষনের ও শক্তিশালী আইন করা হোক।

    Reply
  11. বিল্লাল হোসেন

    নিজের দেশ নিয়ে ভাবেন
    । আপনাদের দেশে কি হয়? গো রক্ষার নামে মুসলিম খুন করেন, আবার বড় বড় কথা।

    হিন্দুদের উপড় যত হামলা হয় সব রাজনৈতিক বা পূর্বশত্রুতার জেরে, কোন ধর্ম নিয়ে নয়। আর ৯৯% হামলা চালায় সরকারীদল আওয়ামী অঙ্গসংগঠন ।
    হিন্দুরা লাথী গুতা খায় লীগের কাছে, আবার লীগকেই তারা ভগবান মানে

    Reply
  12. বিল্লাল হোসেন

    মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বর্মী সেনা বাহিনীর হামলার ব্যাপারে ভারত এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি।
    ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকারের ঘোষিত নীতি হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে সংখ্যালঘু হিন্দু খৃস্টান বৌদ্ধ যারাই ভারতে পালিয়ে আসবে তাদেরকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
    এই তালিকায় মুসলমানদের নাম নেই।
    একারণে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসহ ভারতেও অনেকে বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
    বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যে ভারতের সমালোচনা করতে পারে না।

    Reply
  13. বিল্লাল হোসেন

    যদি তাই হয় ভারতের বাবরি মাসজিদ সহ সমস্ত মুসলমানদের ক্ষতিপূরণ দিয়েইই এমন বক্তব্য দিন মন্ত্রী মহোদয়।

    Reply
  14. বিল্লাল হোসেন

    নিজ দেশের নাগরিকদের অধিকার নিশ্চয়তা অন্যদেশ কে দিতে হয়!! স্বাধীন দেশ না ভারতের প্রদেশ যে ভারতকে নিশ্চয়তা দিতে হবে???

    Reply
  15. বিল্লাল হোসেন

    বুঝলামনা! এটাতো বাংলাদেশের একান্তই অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, তাঁরা কেন নাক গলাতে আসছেন?! রংপুর থেকে তো কেউ শরণার্থী হয়ে এখনো ভারতে গিয়ে ওঠেনি যে তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। ভারতে প্রতিদিন গোহত্যার অজুহাতে মুসলিম নির্যাতিত হচ্ছে, বাংলাদেশতো নাক গলাতে যায়না!(?)

    Reply
  16. বিল্লাল হোসেন

    ভারত নাকি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র।। এই দেশের নাগরিকের সমস্যা সেটা বাংলাদেশ সরকার দেখবে। ভারত কেন এই বিশয়ে কথা বলবে। হোক হিন্দু হোক মুসলিম তারা কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিক, ভারতের না। মিয়ানমার এর ঘটনা আমরা দেখছি ভারতের ভুমিকা। রংপুরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর আঘাত ক্ষতিপূরণ সরকার দেবে ওটা ভারতকে কেন আসস্ত করতে হবে সেটা বোধগম্য নয়। এসব অভন্তরীন বিশয়ে নাক গলানো মোটেও ভালো কথা নয়।

    Reply
  17. বিল্লাল হোসেন

    বাংলাদেশের একজন হিন্দুর কিছু হলে ভারতের মাথা খারাপ হয়ে যায়,কিন্তু ভারতে প্রায় প্রতিদিন মুসলিমদের উপর অত্যাচার করা হলেও বাংলাদেশ সরকারের কোন মন্ত্রীর একটা কথা বলারও সাহস হয়না।।।।

    Reply
  18. বিল্লাল হোসেন

    বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের নগ্ন হস্তক্ষেপ সত্যিই নিন্দা জনক, ঘৃনাজনক, দুঃখজনক।স্বাধীনদেশের ভাল, মন্দ দেখার জন্য আমাদের সরকার, আমাদের প্রশাসন আছে।সুষমা কে বলছি নিজেদের চরকায় তেল দিন। আগে কাশ্মিরে গনহত্যা বন্ধ করুন।কাশ্মিরের গন মানুষকে স্বাধীনতা দিন। নিজেরা সভ্য হোন তার পর বাংলাদেশ ইস্যুতে নাক গলাতে আইসেন।

    Reply
  19. বিল্লাল হোসেন

    একজন বিচারপ্রতি কে এবাবে পদত্যাগ করিয়ে নেওয়া উচিত হয় নি। সারা বিশ্বে রাজনীতি, সরকারের চেয়ে বিচার বিভাগ বা বিচারপ্রতিগন উদ্ধে থাকে…কিন্তু, আমাদের দেশে তা আর হলো না। নোংরা রাজনীতি আর ক্ষমতার বলে এসব করা হয়েছে। যেই দলেরই সমর্থিত হই না কেন, কাজ টা জগন্য হয়েছে বলবো…হায়রে সোনার বাংলা, জাতির ভাগ্য নিয়ে খেলা করাও সম্ভব…!!!!!

    Reply
  20. বিল্লাল হোসেন

    জাতি আজ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে!!!বিচার বিভাগকে এখন আর মানুষ বিশ্বাস করে না!!! আমরা নতুন প্রজন্ম কি এই সব নোংড়া রাজনীতির কবল থেকে মুক্ত পাব কি করে!!! এখন সময় এসেছে ঘুড়ে দাড়াবার!!! আমাদের অধিকার এবং ভবিষত প্রজন্মের অধিকার আমাদের ই নিশ্চিত করতে হবে!!!! তাই আসুন আমরা যারা নতুন ভোরের আলো দেখি তারা সকল অন্যায় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই!!!

    Reply
  21. বিল্লাল হোসেন

    শাসক যদি হয় ন্যায়বান তাহলে আইন অনাবশ্যক , আর শাসক যদি হয় দুর্নীতিপরায়ন তবে আইন নিরর্থক।”
    -প্লেটো

    Reply
  22. Bongo-Raj

    If a member of “Chatro league or a Chatro Dal, or a Chatro shivir or a Awamee legue or a BNP, etc” do so bad thing, every one including all mass-media is blaming the whole group.
    So when thousnds of people of a religion is doing gravious crimes, like burning peoples home, why relegion shouldn’t be blamed?????

    Reply
  23. অমিত চক্রবর্তী

    আওয়ামীলীগের সাথে ইসলামপন্থী হেফাজতে এর আঁতাতের কারণে এই রকম ঘটনা ঘটেছে সম্ভবত।

    Reply
  24. সুরুজ বাঙালি

    আপনাদের সময় এমন কুনো বুদ্ধিজীবী ছিলেন না, যারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কে উস্কে দিতেন। এখনকার বুদ্ধিজীবিরা দুই পক্ষে বিভক্ত। এক পক্ষ অন্যের ধর্মানুভূতিকে খোঁচা মারা থেকে কটাক্ষ করেন। আর আরেক পক্ষ ধর্মানুভুতিতে অলীক আঘাতের দোহাই দিয়ে উত্তেজনা তৈরী করেন।
    এই কারণে এখন সহিংসতা বেশি। এর দায়ভার ঐসকল বুদ্ধিজীবীদের নিতে হবে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—