Education - 111

৪র্থ অঙ্ক, ১ম দৃশ্য

[তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বিশ্রামাগার। বেলা দ্বিপ্রহর। কয়েকজন অতিসাধারণ শিক্ষক: মৈমনক, মৈসদক ও শৈশরক চা-সহযোগে সিঙ্গারা ও কদলি ভক্ষণ করিতে করিতে খর্জুরালাপ করিতেছেন।]

মৈমনক: আর্য্য, মাসাধিককাল পূর্বে, শ্রী ঐরাবিণের অন্যতম সৈন্যাধ্যক্ষ অসৈফল ঐলমকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন পদ হইতে রেহাই দিয়া মজলিশে সুরার অন্যতম নেত্রী শ্রীমতি চৈতকা হৈলমকে উক্ত পদে নিয়োগ দেওয়া হইয়াছে। সম্প্রতি আবার গৌলম রাব্বণ প্রকটক পদে অধিষ্ঠিত হইয়াছেন। অথচ ঐরাবিণের দক্ষিণ হস্ত খাজাঞ্চি কৈমলদ্দন বহাল তবিয়তে স্বপদে বহাল! এক যাত্রায় কেন পৃথক ফল ফলিতেছে, ঈষৎ বুঝাইয়া বলিবেন কি?

শৈশরক: সুহৃদ মৈমনক, অনুমতি পাইলে মুফতে তোমাকে কিঞ্চিৎ জ্ঞানদান করি যাহা এক ঢোক চায়ের সহিত গলাধঃকরণ করিয়া লইলে হজমে তোমার সুবিধা হইবে। মনুষ্যশিশু দুইখানি মাত্র পদ লইয়া জন্মগ্রহণ করে। হিন্দু দেবতাগণের মধ্যে কাহারও কাহারও দুই, চার, দশটি হইতে শুরু করিয়া সহস্র মস্তক ও হস্ত থাকার কথা শোনা যায়, কিন্তু কোনো দেবতারই দুইটির বেশি পদ নাই। ইহার কারণ কী হইতে পারে, কখনও ভাবিয়া দেখিয়াছ কি? মনস্বী দেবতারা জানেন, প্রথমত, পদবৃদ্ধি হইলেই পদস্খলন অনিবার্য এবং দ্বিতীয়ত, পদধারী মাত্রেই কোনো না কোনোভাবে পদলেহী, (আত্মতৃপ্তিতে) নিজের, কিংবা (ভয়ে বা কৃতজ্ঞতায়) অন্যের। কোনো কোনো শিক্ষক এতটাই লেহন-তৎপর হইয়া থাকেন যে, তাঁহাদের প্রভুর পাদুকা কখনই কালি করাইতে হয় না।

দুইটিমাত্র পা দিয়া ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন বটে, কিন্তু শিশুকাল হইতে অভ্যাস করিয়া মনুষ্য তাহা শিখিয়া উঠিতে পারে। তুমি বলিবে, রিকশা, নসিমন, সিএনজি বা (রেল)গাড়ির দুইয়ের অধিক পা কিংবা চাকা আছে। তোমার কথা মিথ্যা নহে, কিন্ত ইহাও তো সত্য যে, এই সব শকট যত বেশি দুর্ঘটনায় পতিত হয়, মনুষ্য তত বেশি আছাড় খাইয়া ভূমিষ্ঠ হয় না (সুন্দরী অষ্টাদশী ছাত্রীর দিকে অপলক তাকাইতে গিয়া কাম-কদলির ছিবড়ায় পা পিছলাইয়া গেলে অবশ্য ভিন্ন কথা)।

সত্য বলিতে কী, বহুপদাধিকারী অতিরিক্ত ক্ষমতার অধিকারী মনুষ্যগণের কপালেই নিদারুণ সব কঠিন আছাড় জুটিয়া থাকে। সাধারণ, অর্থাৎ দুই পদওয়ালা মানুষ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ জীবন যাপন করে।

কীটের বহুপদ থাকে, কমপক্ষে ছয়টি। ঐরাবিণ একসঙ্গে পাঁচ-ছয়টি ‘পদ’ দিয়া কোনো কোনো শিক্ষক নেতাকে ‘আশরাফুল মুখলুকাৎ’ মনুষ্য হইতে ‘ইতরাতুল আদেখলাৎ’ কীটে পরিণত করিয়াছিল। ষড়পদী কোনো কীটের, ধরা যাক, কোনো চিঙ্গড়িমৎস্য কিংবা তৈলপায়িকার একটি পা ভাঙিয়া দিলে তাহার কিঞ্চিৎ কষ্ট হইবে বটে, কিন্তু জীবন-সংশয় হইবে না। তবে সবগুলা পা একবারে ভাঙিয়া দিলে চিঙ্গড়িমৎস্য বা তৈলপায়িকাটি অতিঅবশ্যই মৃত্যুমুখে পতিত হইবে। ঐকত্রজম্মন যদি উত্তম ক্রীড়াবিদ (‘ক্রীড়নক’ শব্দের সহিত গুলাইয়া ফেলিও না যেন!) হইয়া থাকেন, তবে তিনি একসঙ্গে ঐরাবিণের আমলের সকল কীটের সকল পদ কর্তন করিবেন না। কারণ সেক্ষেত্রে ‘পরের পা কাটিয়া নিজের যাত্রাভঙ্গ’ হইতে পারে। কাহারও কাহারও দুই একটি পা ভাঙিয়া দিয়া (ঐলমের ক্ষেত্রে যাহা ঘটিয়াছে) তিনি প্রথমে নিজের ক্ষমতা দেখাইবেন (ক্ষমতাতো প্রদর্শনের বস্তু। ক্ষমতা প্রদর্শন না করিলে আম-শিক্ষকগণ ভীত কিংবা মুগ্ধ হইবেন কী প্রকারে?)

অতঃপর উক্ত ছিন্নপদ মজলিশে সুরার পদপ্রার্থী কোনো কীটের শরীরে জুড়িয়া দিয়া (চৈতকা কিংবা রাব্বণের ক্ষেত্রে যাহা ঘটিয়াছে) মজলিশকে পুলকিত রাখিবেন। তক্ষশীলার উপাধ্যক্ষ মাত্রকেই এই ধরনের শল্যচিকিৎসায় পারদর্শী হইতে হয়। মজলিশ ভাবিবে, ‘মারহাবা! এই হাবা তো দেখি আমাদিগের নির্দেশমতই কার্য করিতেছে’, কিন্তু একমাত্র ঐকত্রজম্মন জানিবে।

প্রথমত, প্রকৃত সত্য ইহা হইতে বহু ‘দূর অস্ত’ এবং দ্বিতীয়ত, হাবা নহেন, বুদ্ধিতে তিনি তাহাদিগের বাবার বাবা। ঐকত্রজম্মনের নিজস্ব কীটেরাও বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিশ্রামাগারে বসিয়া নিশ্চিন্তে উভয় হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলি চুষিবে না। তাহারাও অচিরে পদাকাঙ্ক্ষী হইতে তদবির করিতে শুরু করিবে। নিজের বশংবদ নতুন বা পুরাতন কিছু কীটের পা গজাইতে ঐকত্রজম্মন নিজেও যে প্রযত্ন করিবে না এমন নহে। ঐরাবিণের আমলের ডিগবাজি বিশারদ কিছু আ-পদ বা নিস্পদ কীটেরও নতুন করিয়া পদবৃদ্ধি হইলে আশ্চর্য হইবার কিছু নাই। মানুষ বহু চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করিয়া ক্ষমতার হিমালয়ে আরোহণ করিয়া থাকে। জীবন-পর্বতের কোন উপত্যকার কোন মোড়ে, কাহার সহিত তাহার কীভাবে, কখন যোগাযোগ হইয়াছিল, তাহা একমাত্র কল্পতরু সৃষ্টিকর্তা ছাড়া অন্য কাহারও পক্ষে জানা সম্ভবে না।

মজলিশে সুরা। সুরাপানে বোতল এবং পানপাত্রের প্রয়োজন হয়, তবে বোতলের গুরুত্বই যেহেতু সর্বাধিক, সেহেতু সুদৃশ্য বোতলগুলিকে তুমি হয়তো তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতার আলমারির গুরুত্বপূর্ণ সব তাকে একে একে অধিষ্ঠিত হইতে দেখিবে। পানপাত্রগুলি সম্ভবত তেমন কিছু পাইবে না। পানকার্য শেষ হইবার পর পাত্রে যে কিছুটা তলানি পড়িয়া থাকে, মজলিশের একাধিক সদস্য সেই তলানিটুকু পান করিয়াই ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো লাফাইতে থাকিবে।

মহামতি চাণক্য বলেন, ক্ষমতা জেরুজালেমের মতো। জেরুজালেম একসময় হাতছাড়া হইয়াই যায়। যে সামান্য পদের লোভে এক বা একাধিক পদধারী মহান কীটগণ এত নর্তন-কুর্দন করেন, অন্যকে অ-পদস্থ করিতে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন, পরমারাধ্য সেই পদ হারানোর পর তাহাদের যে কী করুণ দশা হয়, তাহা আমরা কে না দেখিয়াছি? যে কোনো বাদশাই আগে পরে ‘বাদ’ হইয়া যায় বলিয়াই তিনি ‘বাদ-শাহ’ (পারসিক ভাষায় ‘বাদশাহ’-কে বলে ‘পাদশাহ’, সেক্ষেত্রে তাঁহার নির্গমণ অধিকতর দুর্গন্ধযুক্ত!)।

কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা ইহাই যে, ক্ষমতালিপ্সুরা কখনই নিজের পরিণতির কথা ভাবে না। তক্ষশীলার কলা অনুষদের বিশ্রামাগারে ‘পুরনো এই ডিনের কথা শুনবি কে রে হায়!’ বলিয়া এককালের প্রতাপশালী ডিনগণ যখন ক্রমাগত স্মৃতিচর্বণ করিতে থাকেন, তখন সাধারণ শিক্ষকেরা ‘কাজ আছে’ বলিয়া পড়ি-কী-মরি করিয়া উঠিয়া পালায়। রবীন্দ্রগীত ‘ডিন চলে যায়!’ কিংবা গ্রাম্যকবির গান: ‘এই ডিন ডিন নয়, আরও ডিন আছে!’ সম্ভবত ইহাদের লক্ষ্য করিয়াই রচিত হইয়াছে। অসৈফল ঐলম, মৈকশুদ্ধ কমল কিংবা চৈতকা হৈলম কি এইসব চিরায়ত সঙ-গীত শ্রবণ করিয়া থাকেন?

পতিত উপাধ্যক্ষগণের ভাগ্য তো অধিকতর খারাপ। চারি বা অষ্টবর্ষ অ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করিয়া তাঁহারা কখনই আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়া আসিতে পারেন না। ক্ষমতা হারাইবার পর তাঁহারা এতটাই অ-সহায় হইয়া পড়েন যে অজ্ঞাত শত্রু হইতে তাহাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাহাদের কক্ষের সন্মুখে সরকারী খরচে পুলিশ পুষিতে হয় (চৈতকা হৈলম সম্প্রতি যাহার প্রতিবাদ করিয়াছেন)। সরকারি বাসভবনটি ছাড়িয়া অন্যত্র গমনের সৎসাহস পর্যন্ত তাহাদিগের থাকে না। তক্ষশীলার প্রাক্তন এক উপাধ্যক্ষ বৃদ্ধবয়সে মানসিক ভারসাম্য হারাইয়া আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক গৃহবন্দি হইয়া মৃত্যুবরণ করিয়াছিলেন। তাহার সময়ের বশংবদ কীটগণ একবার তাঁহাকে চোখের দেখা পর্যন্ত দেখিতে যায় নাই। এই কয়দিনেই ঐরাবিণের গৃহে কি আগের মতো গভীর রাত পর্যন্ত করুণাকাঙ্খী, ধান্দাবাজ শিক্ষকবৃন্দের ভিড় হয়?

লোকমুখে শুনিয়াছি, পুরাতন অভ্যাসবশত গভীর রাত অবধি তিনি একাকী উপাধ্যক্ষ-নিবাসে মন্ত্রণা-বাসর সাজাইয়া অপেক্ষা করিতে থাকেন, কিন্তু এক কালের ধামাধরা শিক্ষক-কর্মকর্তারা দূর অস্ত, কোনো রক্তপিয়াসী ডেঙ্গু কিংবা এ্যাডিস মশাও ভুলক্রমে সেখানে উঁকি দেয় না। শিক্ষকেরা না যাইবার অবশ্য বিশেষ কারণও আছে। কোন শিক্ষক কতটার সময় ঐরাবিণের সহিত দেখা করিতে যাইতেছে, তাহা নাকি সিসি ক্যামেরায় অনুক্ষণ রেকর্ড হইতেছে। পাগলেও নিজের ভালো বোঝে এবং তক্ষশীলার শিক্ষকদের অন্য যত দোষই থাক, সম্ভবত তাঁহারা পাগল নহেন।

মৈমনক: পরশ্ব তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈয়সী মিলনায়তনে মৌর্যপন্থী নলদলের সভায় যে তথাকথিত ন্যাক্কারজনক কা- ঘটিয়া গেল, সেই বিষয়ে আর্য্যরে কী ব্যাখ্যা জানিতে মন অতি উচাটন হইয়া আছে।

শৈশরক: অধ্যাপক অজৈজ এবং ফৈহমদ্যসহ একাধিক শিক্ষক এই ঘটনায় লজ্জ্বায় মরিয়া যাইতেছেন বলিয়া ফৌসবউক নামক সামাজিক ও অন্যান্য গণমাধ্যমে মন্তব্য করিয়াছেন। এই লজ্জ্বাবোধ প্রকৃতপক্ষে তাহাদের নিজস্ব রাজনীতির অংশ। বিনা কারণে শিক্ষকেরা যেমন পরস্পরকে আঘাত করে নাই, তেমনি খামাখা কেহ লজ্জ্বা পাইবারও কথা নহে।

এই লজ্জ্বাবানেরা বিস্মৃত হন যে, শিক্ষকেরাও মানুষ মাত্র, দেবতা নহেন। মানুষের মাথা কারণে-অকারণে গরম হইতেই পারে। যেখানে স্বার্থের ব্যাপার রহিয়াছে, সেখানেই দ্বন্দ্ব থাকিবেই এবং দ্বন্দ্ব যে শুধু বাক্যবাণেই সীমাবদ্ধ থাকিবে এমন তো কোনো কথা নাই। অক্সফোর্ড কিংবা প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত বৎসরব্যাপী খুনাখুনির ইতিহাস ইহারা জানেন বলিয়া মনে হয় না। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়েও এক শিক্ষক অন্য শিক্ষককে কোনো ভবনের উচ্চতর তল হইতে নিম্ন নিঃক্ষেপ করিবার কথা শোনা যায়। সভ্যদেশের আইনসভাতেও হাতাহাতির ঘটনা অভূতপূর্ব নহে।

সমস্যা আসলে অন্য জায়গায়। লক্ষ্য করিয়া থাকিবে যে, তৈয়সী মিলনায়তনের অধ্যাপক-ধুন্ধুমারের ঘটনাটিকে আর্যাবর্তের একেক সম্বাদপত্র একেকভাবে বর্ণনা করিয়াছে। এই বর্ণনা এতটাই পরস্পরবিরোধী যে, কে যে প্রকৃতপক্ষে আক্রান্ত হইয়াছে, আর কে যে প্রকৃত আক্রমণকারী তাহা একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষকবর্গ অথবা ঈশ্বর ব্যতীত কাহারও জানিবার উপায় নাই। অনেক সম্মানীয় অগ্রজ অধ্যাপকও নিজের কিংবা নিজের উপদলের স্বার্থে মিথ্যা বিবৃতি দিয়া জনগণকে বিভ্রান্ত করিবার প্রয়াস পাইয়াছেন। লেখাপড়া ও গবেষণার কথা বেমালুম বিস্মৃত হইয়া শ্রেফ নোংরা রাজনীতি করিয়া করিয়া ফোকটে বেতন-ভাতা খাইতে খাইতে শরীরে মাত্রাতিরিক্ত স্নেহপদার্থ জমিয়া গেলে তাহা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের পশ্চাৎদেশে না মাখিয়া নিজেরা দ্বন্দ্বযুদ্ধ করিয়া কিঞ্চিৎ কমাইয়া লইতে পারিলে মন্দ হয় না।

কিন্তু দেখা যাইতেছে, পত্রকার, শিক্ষক হইতে শুরু করিয়া আর্যাবর্তের তাবৎ বুদ্ধিজীবীদের মস্তিষ্কে মগজের পরিবর্তে স্নেহপদার্থের আধিক্য ঘটিয়াছে, যাহার কারণে হীন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী-স্বার্থের চশমা পড়িয়া তাহারা ইচ্ছাপূর্বক দিবসকে রাত্রি কিংবা রাত্রিকে দিবস বলিয়া বর্ণনা করিতেছেন। জনগণ পত্রকারগণের নিকট হইতে তথ্যনিষ্ঠা এবং অধ্যাপকদের নিকট হইতে চিন্তা, বাক্য ও আচরণে সততা আশা করিয়া থাকে। এই আশা যে ক্রমে দুরাশায় পরিণত হইতেছে, তথ্যকে যে স্বস্বার্থে এবং শ্বস্বার্থে ইচ্ছামত বিকৃত করা হইতেছে, তাহাই প্রকৃতপক্ষে আর্যাবর্তের জন্য আশঙ্কার বিষয়।

মৈসদক: একটি ব্যাপার কিছুতেই আমার মস্তিষ্কগত হইতেছে না: অধ্যাপক-ধুন্ধুমারে আহত আমাদিগের সহকর্মী তক্ষশীলার বৈদ্যভবনে না গিয়া কী কারণে সদ্যসাবেক উপাচার্য-ভবনে তাঁহার ভগ্ন, রক্তাক্ত নাসিকা গলাইতে গেলেন?

মৈসদক: সুহৃদ মৈসদক, ভগ্নদূতের কর্তব্যই এই। প্রাচীনকালে রাজারা সৈন্যবাহিনীকে শত্রুশাতনে প্রেরণ করিয়া যত বেশি দিন সম্ভব প্রাসাদে অবস্থান করিতেন। রাজপ্রাসাদ ছাড়িয়া অন্য কোথাও যাইবার সাহস যুগপৎ অসৎ ও দুর্বল রাজাদিগের হইত না। দুর্ভাগ্যক্রমে যুদ্ধে রাজার বাহিনীর সমূহ পরাজয় ঘটিলে আহত ভগ্নদূত রাজাকে গিয়া দুঃসংবাদটি (রাজা, তোমার আর বেইল নাই!) দিত এবং মহারাজ অতঃপর রাজধানী রক্ষায় সম্পূর্ণ নিরাশ হইয়া কোনো সুরঙ্গপথে গোপনে রাজপ্রাসাদ পরিত্যাগ করিয়া নিরাপদ স্থানে পলায়ন করিতেন। দ্বাদশ শতকে রাজা লক্ষণ সেন বকতিয়ার খিলজির নিকট পরাজিত হইয়া রাজধানী নদীয়া হইতে ঢাকার বিক্রমপুরে পলায়ন করিয়াছিলেন বলিয়া কথিত আছে।

ঐকত্রজম্মনের মতোই বকতিয়ার দীর্ঘকায় ছিলেন না, কিন্তু ঐকত্রজম্মনের মতোই তাঁহার হাত অনেক ‘লম্বা’ ছিল এবং তিনিও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও করিৎকর্মা ছিলেন। বকতিয়ারের হস্তে বঙ্গে তুর্কি শাসনের সূচনা হইয়াছিল। ঐকত্রজম্মনের উদ্যোগে তক্ষশীলায়ও নতুন করিয়া সুলতান সুলাইমানের ক্ষমতা দখল-বেদখলের সিরিয়াল শুরু হইলে আশ্চর্য হইও না। সবেমাত্র কলিকালের সন্ধা নামিয়াছে। ভবিষ্যতে চর্মচক্ষে আরও কত কী দেখিবে!

নলদলে আরও বিভক্তি আসিবে এবং এই বিভক্তির ফলশ্রুতিতে তক্ষশীলার শিক্ষক নির্বাচনে নলদলের ভরাডুবি হইলেও অবাক হইও না। এই ভরাডুবির প্রভাব যে, জাতীয় নির্বাচনেও পড়িবে না তাহাই বা নিশ্চিত করিয়া কে বলিতে পারে? বানরের পিঠাভাগে নেপোয় মারে দই। বিবদমান শিক্ষকগণ নিজেরাও জানেন না তাঁহারা কাহার হইয়া খেলিতেছেন। নলদলের শিক্ষকগণের অবিলম্বে বোঝা উচিত, রাজনীতির এই ক্রান্তিকালে, বিভেদ নহে, ঐক্যেরই প্রয়োজন ছিল। জানি না, মহান চন্দ্রগুপ্ত ও তাঁহার মহামাত্য চাণক্য তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করিতেছেন কিনা।

মৈসদক: আর্য্য, আমি সব সময় আপনার কথাবার্তায় কেমন জানি চাণক্য-সুলভ দার্শনিক ভাব লক্ষ্য করিয়া থাকি। আপনিই ছদ্মবেশী চানক্য নহেন তো? শুনিয়াছি, ঐরাবিণের অপশাসনের অন্যতম ভুক্তভোগী, অন্যায়ভাবে পদোন্নতি-বঞ্চিত চশমিশ সহকর্মী তৈনবীর হৈনফ (তিনি তৈলবীর নহেন!) চন্দ্রগুপ্ত যাত্রাপালার শুভসূচনা হইতেই এই সন্দেহ করিয়া আসিতেছেন।

শৈশরক: সুহৃদ মৈসদক, চানক্য হইবার জন্যে ছদ্মবেশ ধারণ নিস্প্রয়োজন। ‘চান’ (নবকালী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষের নামের সঙ্গে গুলাইয়া ফেলিও না যেন!) এবং ‘ঐক্য’– এই দুই শব্দ যুক্ত হইয়া সৃষ্টি হয় ‘চাণক্য’। গণবিবেকের নামই ‘চাণক্য’, কারণ বিবেকবান মানুষ মাত্রেই ‘চান ঐক্য’, বিভেদ কদাপি নয়। তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয় তথা মৌর্য সা¤্রাজ্যের শিক্ষার উন্নয়নই আমাদিগের মূল লক্ষ্য নহে কী? সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর (এই ‘পুষ্টি’ কেমন হওয়া উচিত, চিরক্ষমতাবঞ্চিত নিবেদিতপ্রাণ অধ্যাপক তৌরব রহম হয়তো বলিতে পারেন!)

ঐক্য ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভবে না। তুমি, আমি, আমরা সবাই কমবেশি গণবিবেকের অংশও বটি। সুতরাং কখনও কখনও চাণক্যের সহিত আমার, তোমার, অনেকের ভাবনা কিংবা মন্তব্য কাকতালীয়ভাবে মিলিয়া গেলে অবাক হইবার কিছু নাই।

শিশির ভট্টাচার্য্যঅধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১২ Responses -- “যাত্রাপালা: চন্দ্রগুপ্ত- ৪”

  1. মাহবুবুল মান্নান

    হুমায়ুন আজাদের ‘আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম?’ বইটিকে লিখা নিচের এসব কথা কেন তার মৃত্যুর কারণ বলবেন না?!

    “মুজিবের কথা মনে হলে আমার জুলিয়াস সিজারের কথাই মনে পড়ে।

    মুজিব ক্রমশ হয়ে উঠতে থাকেন একনায়ক, গণতান্ত্রিক জুলিয়াস সিজার হয়ে উঠতে থাকেন একনায়ক সম্রাট জুলিয়াস সিজার, কিন্তু মুজিবের দুর্ভাগ্য তাঁর কোনো আন্তোনি ছিলো না।

    মুজিব পরিবৃত ছিলেন দুষ্ট রাজনীতিক, বিশ্বাসঘাতক, ও স্তাবকদের দ্বারা, স্বার্থপরতা আর কৃতঘ্নতা ছাড়া যাদের আর কোনো প্রতিভা ছিলো না। তাঁরা অনেক আগে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে থাকে, তিনি তা বুঝতে পারেন নি। চক্রান্ত করার থেকে যা ভয়াবহ তা হচ্ছে তারা তাঁকে দূষিত করতে থাকে; জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকে।

    মুজিবও ভুলে যাচ্ছিলেন নিজেকে ও জনগণকে।

    মুজিবকে রাজমুকুট দেয়া হয় নি, দেয়া হয়েছিলো সংবিধানের ‘চতুর্থ সংশোধনী’। সেটি তিনি হাতে ঠেলে সরিয়ে দেন নি, গ্রহণ করেছেন; সেটি ছিলো রাজমুকুটের চেয়েও শক্তিশালী।

    মুজিবকে ‘চতুর্থ সংশোধনী’র মাধ্যমে অর্পণ করা হয় মহারাজমুকুট, ক্ষমতা দেয়া হয় স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। একনায়ক হওয়ার দিকে কেনো তিনি ঝুঁকেছিলেন? তাঁর কি মনে হয়েছিলো, তাঁর পুজোরীরা কি তাঁকে বুঝিয়েছিলো, যে তাঁকে বিধাতা হতে হবে?

    তিনি কি চেয়েছিলেন আমরণ বাঙলাদেশের অধীশ্বর থাকতে? তিনি কি একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে রেখে যেতে চেয়েছিলেন যুবরাজদের, যারা তাঁর পরে হবে বাঙলাদেশের নিরঙ্কুশ অধীশ্বর?

    ‘চতুর্থ সংশোধনী’টি পড়ার সময় রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে যায়; করুণা জাগে, এবং দেশ ও তার মহাননেতার ভবিষ্যৎ ভেবে হাহাকার করতে ইচ্ছা করে।

    মুজিবই ছিলেন বাঙলাদেশে প্রকৃত একনায়ক-মহাএকনায়ক; তাঁর পরে যে সামরিক স্বৈরাচারীরা এসেছে, তারা তাঁর পাশে তুচ্ছ, আমের আঁটির ভেঁপু বাজানো বালকমাত্র।

    চতুর্থ সংশোধনী তাঁকে করে তুলেছিলো মহাএকনায়ক; কিন্তু ওটি ছিলো তাঁর জন্য আত্মহত্যা; তারপর তিনি বেশিদিন জীবিত ছিলেন না, নৃশংসভাবে ঘাতকদের হাতে নিহত হয়েছিলেন; নিহত যদি নাও হতেন, চতুর্থ সংশোধনীর পর তাঁর জীবন হতো ধারাবাহিকভাবে আত্মহত্যা, মহানেতার শোচনীয় মর্মস্পর্শী পরিণতি।

    ১৯৭২ এ মুজিবের নেতৃত্বে প্রণীত হয় একটি অসাধারণ সংবিধান; কিন্তু ১৯৭৫ এর ২৫ জানুয়ারিতে তাঁরই হাতে নিহত হয় তাঁরই অসামান্য সংবিধানঃ বাঙলাদেশ গণতন্ত্র থেকে পা দেয় চরম একনায়কতন্ত্রে।

    মুজিবের সামন্ততান্ত্রিক বঙ্গীয় দাম্ভিকতা সম্পর্কে আমার কিছু ধারণা ছিলো, ‘আমি’ ও ‘আমার’ ছিলো তাঁর প্রিয় শব্দ এবং ‘তুই’, তিনি তাঁর প্রিয় বা নিম্নদের ‘তুই’ বলতেই পছন্দ করতেন বলে শুনেছি; মুজিব ‘বাঙলাদেশ’-এর জায়গায় ব্যবহার করতেন ‘আমি’:যেখানে তাঁর বলার কথা ছিলো ‘বাঙলাদেশের জনগণ’, ‘বাঙলাদেশের সেনাবাহিনী’, সেখানে তিনি বলতেন, ‘আমার জনগণ, আমার সেনাবাহিনী’।

    মুজিবপুত্রের বিয়েতে রাজমুকুট পরানো হচ্ছে, পথে পথে লাশ পড়ে থাকছে, লাশ বিক্রি হচ্ছে, হিংস্র রক্ষীবাহিনী ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে-এসব সংবাদেন রক্ত কাঁপতো, বাঙলাদেশের মানচিত্রকে সোনার জুতাপরা পায়ে দলিত রুগ্ন জীর্ন অনাহারে মৃত ভিখিরির লাশ মনে হতো।

    প্রকৃতি বেশি আতিশয্য সহ্য করে না, ইতিহাসও করে না।

    ১৯৭৫ অব্দের ২৫ জানুয়ারি বাঙালি, বাঙলাদেশ, ও মুজিবের জন্যে রাহুগ্রাসের দিন-ওই দিন মধ্যাহ্নেই অস্তমিত হয় বাঙলাদেশের সূর্য; ওই দিন বাঙলাদেশের সংবিধানকে ঠাণ্ডা মাথায় বলি দিয়ে গ্রহণ করা হয় ‘চতুর্থ সংশোধনী’।

    ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ মুজিব একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে গ্রহণ করিয়ে নেন চতুর্থ সংশোধনী বিল। বিলটি চরম একনায়কত্বের বিল, এতো ভয়াবহ যে ভাবতেও বুকের রক্ত তুষার হয়ে ওঠে।

    সংসদে এটি নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি, কেননা আলোচনা করা সম্ভব ছিলো না; মুজিব তা চেয়েছিলেন আর তাঁর স্তাবকেরা হয়তো আরো বেশি চেয়েছিলো।

    মাত্র ১ ঘণ্টায় বাঙলাদেশের মহান সংবিধানকে হত্যা করা হয়।

    ওটা ছিলো হত্যাকাণ্ডই, দীর্ঘ ছুরিকার দিন-ছুরিকার পর ছুরিকা চালিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হয় বাঙলাদেশের সংবিধানকে। পড়ে থাকে সংবিধানের মৃতদেহ।

    একজনকে সর্বশক্তিমান করার জন্যে এটি তৈরি করা হয়, এটি একজনকে রাষ্ট্রবিধাতা করার শোচনীয় পুন্যগ্রন্থ। মুজিব হন রাষ্ট্রপতি, বাঙলাদেশের বিধাতা; দেশের স্থপতি দেখা দেন মহাএকনায়করূপে।

    মুজিব হয়ে উঠেন প্রভু, সংবিধান হয়ে উঠে তার পদতলের পাপোশ!

    মুজিব কি হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন? সিজার? নেপোলিয়ঁ? হিটলার? স্টালিন? কী হ’তে চেয়েছিলেন তিনি? তার কেনো এত ক্ষমতার প্রয়োজন হয়েছিল? এত ক্ষমতা শুধু পতন ডেকে আনে।”

    এধরনের আরো অনেক কথা সেখানে লিখিত আছে। হুমায়ুন আজাদ যা লিখেছেন তার মতো লিখা তো অনেক দূরে, শেখ মুজিব সম্পর্কে তার সামান্য কথা কি এখন কেউ উচ্চারণ করতে পারবে?!

    Reply
  2. Mukul Mia Talukder

    এ এক সুরশিক শিশির বাবাজির সুরচনা। খুব ভালো লাগলো। চালিএ যাও ভাই। গুনমুগঢো মৈকুল মিআ।

    Reply
  3. শাহ মুমিন

    মান্যবর, অতিশয় রসবহুল রচনা, রম্যরচনায় আপনি অপ্রতিদ্বন্দী। আপনার বাক্যচয়নে এবং ব্যঞ্জনায় এই নগন্য প্রাক্তন ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র এবং বর্তমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে আবার সাহিত্যের দিকে টেনে নিচ্ছে…

    Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      বাংলা সাহিত্যের এই বন্ধ্যা সময়ে সাহিত্য-জগতে স্বাগতম।

      Reply
  4. ইকবাল হাসনু

    তীব্র ঝাঁঝালো পরিহাসের রচনা কেবল সাধু ভাষাতেই খোলতাই হয়। এমন শৈলচূড়াস্পর্শী দক্ষতায় রচনাটি উপহার দেওয়ার জন্য পণ্ডিত শিশির ভট্টাচার্য্যকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করি। তবে কারুণাকাঙ্ক্ষী না হয়ে কেন করুণাকাঙ্খী বা লজ্জা না হয়ে কেন লজ্জ্বা হলো, বুঝলাম না।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      এই বানানগুলো ভুল করবো না সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু (বদ) অভ্যাস ইচ্ছার তুলনায় প্রবলতর প্রমাণিত হলো। ধন্যবাদ ইকবাল হাসনু।

      Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      এই বানানগুলো ভুল করবো না সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু (বদ) অভ্যাস ইচ্ছার তুলনায় প্রবলতর প্রমাণিত হলো। ধন্যবাদ ইকবাল হাসনু। আপনার প্রশংসাকে সার্টিফিকেট বলে ধরে নিয়ে কিঞ্চিত্‌ গর্ববোধ করছি।

      Reply
  5. আইমান

    জ্ঞানী ব্যক্তির জ্ঞান সম্পর্কে তখনি উপলব্ধি করতে পারবেন
    কর্মক্ষেত্রে যখন তার অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগ দেখবেন!!!
    ফলাফল যদি ভাল হয় তাহলে সে জ্ঞানী!
    যদি খারাপ হয় তাহলে সে জ্ঞান পাপী!!!
    অহেতুক কাউকে জ্ঞানী/মূর্খ ভাবা আর বোকার স্বর্গে বাস করা একই কথা…..!

    Reply
  6. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার

    সমাজ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়ে যারা হতাশার খাতায় নাম লিপিবদ্ধ করেছে, তারা মূলত সমাজের বোঝা নন।
    বোঝা হচ্ছে ওই সব জ্ঞান পাপীরা যারা প্রতিটি পদক্ষেপে কোন ব্যক্তির গুনাবলী না খুঁজে, তার দুর্বলতম দিক গুলোকে হাইলাইট করে ওই ব্যক্তির মানষিক ফুয়েলকে ধ্বংস করে, গতিহীন একজন মানুষ হিসেবে তৈরী করে, তার পরবর্তী পদক্ষেপে যাওয়ার পথে প্রাচীর তৈরী করে রাখে।
    এভাবে, একজন জ্ঞান পাপী সৃষ্টি করে হাজারো হতাশায় নিমজ্জিত ব্যক্তিবর্গকে। তাই, সামাজিক বোঝা হিসেবে এসব জ্ঞান পাপীদের সমাজচ্যুত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—