মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে এক সভায় চলচ্চিত্রকার খান আতার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ তুলে নতুন করে প্যান্ডোরার পুরনো একটি বাকসো খুলে দিয়েছেন: ১. ১৯৭১ সালে খান আতা রাজাকার ছিলেন এবং ২. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর খান আতা নাকি স্যাম্পেনের বোতল খুলে উল্লাসই শুধু করেননি, ঘাতকদের প্রশংসা করে গানও লিখেছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাচ্চুর বক্তব্য প্রচারিত হবার পর চলচ্চিত্রকার সোহেল রানা এবং নায়ক-মুক্তিযোদ্ধা ফারুক দাবি করেছেন, খান আতা বন্দুকের মুখে পাকিস্তানের পক্ষালম্বন করেছিলেন। ১৫ আগস্টে মদ্যপানের ঘটনা নিয়ে কেউ কেউ বলছেন, এটা মিথ্যা; কেউ-বা ব্যাপারটি এড়িয়ে যাচ্ছেন। হাসান ইমামসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একাধিক বুদ্ধিজীবী বলেছেন, জনাব বাচ্চুর বক্তব্য সর্বৈব সত্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খান আতার রাজাকারত্ব প্রতিপাদন ও খণ্ডন করে তুমুল বাদানুবাদ চলছে। আতা গাছে তোতা পাখি গিয়ে বসেছে দেখে অনেকেই এলোপাতাড়ি ঢিল ছুঁড়তে শুরু করেছে।

হোমিওপ্যাথির ভাষায় বলা যায়, উপরোক্ত ঘটনা একটি উপসর্গ মাত্র, সত্যিকারের রোগ অনেক গভীরে।অন্যভাবে বলা যায়, ঘটনাটি এমন একটি বিষফোঁড়ার মুখ যার নিচে পর্বতপ্রমাণ পুঁজ জমা আছে, যে পুঁজ গত পাঁচ দশকেও বাঙালি-মানস থেকে বের হতে পারেনি; আগামী পাঁচ দশকেও বের হবে কিনা সন্দেহ। যদিও এই পুঁজ বের হবার উপরই কোনো একদিন বাঙালি রাষ্ট্র-জাতির গঠন নির্ভর করছে। সুতরাং আতা গাছে তোতা পাখি বসে ভুল নাকি ঠিক করেছে, কে বা কাহারা ফোকটে ডালিম গাছের মৌ খেয়ে নিচ্ছে– এই সব প্রশ্নের জবাব দেবার আগে সমস্যার গভীরে যাওয়া যাক।

বহু শতাব্দী ধরে ঘটে যাওয়া বহু বিচিত্র ঘটনার ঘনঘটার প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রশ্নে বাংলাদেশের জনগণের সংখ্যাগুরু অংশটি, ধরা যাক, গত শখানেক বছর ধরে, কমপক্ষে তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে আছে। প্রথম দল বাঙালি সংস্কৃতি আর ইসলাম ধর্ম উভয়ই ষোল আনা বজায় রাখার পক্ষপাতী। দ্বিতীয় দল শুধু ধর্ম বজায় রাখতে ইচ্ছুক এবং সংস্কৃতি বেমালুম বাদ দিতে বদ্ধপরিকর (এরা মূলত বকধার্মিক অর্থাৎ ধর্মের ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে চায় কিনা, সে জটিল বিচারে যাচ্ছি না)।

তৃতীয় সংখ্যালঘু দলটি সাধারণত রাষ্ট্রের সঙ্গে ধর্মের মিলন চায় না। তাদের কথা হচ্ছে: ধর্ম যার যার, সংস্কৃতি সবার (এদের একটি অংশ অস্থির নাস্তিক, অর্থাৎ যৌবনে অগভীর উপলব্ধির ভিত্তিতে নাস্তিক হন, কিন্তু প্রৌঢ় বয়সে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে ধর্মকর্মে মন দেন)।

 

pexels-photo-Culture - 111
তাদের কথা হচ্ছে: ধর্ম যার যার, সংস্কৃতি সবার

 

ভূপৃষ্ঠের টেকটোনিক প্লেটগুলোর মতো বাংলাদেশের উপরোক্ত তিন জনখণ্ডের মধ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে সন্দেহ নেই। এতে কে জিতবে, অথবা এই তিন পক্ষের মধ্যে কী ধরনের মীমাংসা হবে বা না হবে, তার উপরও নির্ভর করবে নিকট ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি রাষ্ট্র-জাতি গঠন করা সম্ভব হবে কিনা।

এই তিন দলের বিভিন্ন উপদল আছে এবং রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত ভেদে এই সব দল-উপদলের মধ্যে সংযোজন-বিয়োজনের ঘটনাও প্রায়শই ঘটে। প্রথম দলের একটি উপদল ৭২ সালেই জাসদ গঠন করে মূল দলের সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হয়েছিল। সত্তরের দশকে তৃতীয় দলের দুটি প্রধান উপদল ছিল, যার একটি মস্কোপন্থী, অন্যটি পিকিংপন্থী। মস্কো যেহেতু ১৯৭১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের পক্ষে ছিল, সেহেতু মস্কোপন্থী উপদলটি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। পিকিংপন্থী উপদলের একটি অংশ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল বটে, কিন্তু অন্য একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধকে (চীনের কথামতো) ‘দুই কুকুরের লড়াই’ বিবেচনা করে নির্লিপ্ত ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দলের রাজাকার-আলবদর বাহিনী এই নির্লিপ্ত বুদ্ধিজীবীদেরও রেয়াত করেনি, এদের মধ্যে অনেককেই তারা হত্যা করেছিল ১৪ ডিসেম্বর।

পিকিংপন্থীদের অনেকে অবশ্য অভিযোগ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগে সত্যতা আছে। তবে চীন যে যুদ্ধে ভারত ও বাংলাদেশের বিপক্ষে, সেই যুদ্ধে চীনের মতাদর্শেই চলে এমন কাউকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গ্রহণ করাটা সুবিবেচনার কাজ হত কিনা সমর বিশেষজ্ঞরা তা ভালো বলতে পারবেন।

১৯৭১ সালের গণহত্যা প্রথম ও তৃতীয় দলের উপর দ্বিতীয় দলের প্রতিশোধ। এরাই রাজাকার হয়েছিল, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অত্যাচার করেছিল আপামর বাঙালির উপর। এদের সিংহভাগ ধর্মপন্থী। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে ভাবা হয়েছিল, দ্বিতীয় দল বাংলার ইতিহাসে চিরদিনের জন্যে পরাজিত হল। কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে দ্বিতীয় দল পুনরায় যুগপৎ উল্লসিত ও আশাবাদী হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সেনাশাসন যুগের প্রথম পর্বে (১৯৭৫-১৯৮১) মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান দ্বিতীয় দলের পুনর্বাসন করেছিলেন। দ্বিতীয় পর্বে (১৯৮২-১৯৮৯) এরশাদীয় স্বৈরাচার যুগে এবং দ্বিতীয় (অনেকের মতে প্রথম) গণতান্ত্রিক যুগের প্রথম পর্বে (১৯৯০-১৯৯৫) দ্বিতীয় দলের সার্বিক অবস্থা প্রথম দলের তুলনায় ভালো ছিল। দ্বিতীয় গণতান্ত্রিক যুগের দ্বিতীয় পর্বে (১৯৯৬-২০০১) প্রথম দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যে দ্বিতীয় দলের বরাভয় প্রয়োজন হয়েছিল। তৃতীয় পর্বে (২০০১-২০০৬) দ্বিতীয় দলের নেতারা মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন।

প্রায় দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক হাইফেনের পর তৃতীয় গণতান্ত্রিক যুগের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে প্রথম দল আবার ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপিতা হত্যাকারীদের এবং ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দ্বিতীয় দলের প্রথম সারির নেতাদের বিচার করে শাস্তি বিধান করেছে। তৃতীয় গণতান্ত্রিক (?) যুগের দ্বিতীয় পর্ব এখনও শেষ হয়নি। উপরিউক্ত কালবিভাগের সঙ্গে সবাই পুরোপুরি একমত নাও হতে পারেন, তবে ঘটনাপ্রবাহ যে অনেকটা এ রকমই, সে ব্যাপারে খুব বেশি দ্বিমত হয়তো থাকবে না।

বাঙালির তথাকথিত হাজার বছরের ইতিহাসে ১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধ এক অভূতপূর্ব ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। কারণ মানুষের স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ এখনও তাজা এবং মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, দেখেছেন– এমন অনেক মানুষ এখনও জীবিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উপরিউক্ত তিন দলের সংবেদনশীলতা তিন রকমের। প্রথম দল ভাবে, বাংলাদেশ তারাই স্বাধীন করেছে এবং বাংলাদেশ তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। মুক্তিযুদ্ধে অন্যেরা সঙ্গে ছিল, তবে কেউ সঙ্গে না থাকলেও স্বাধীনতা আটকাত না। দ্বিতীয় দল তো স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতাই করেছিল এবং এখনও তারা বাংলাদেশকে ‘বাংলাস্থান’ বানাতে মুখিয়ে আছে।

তৃতীয় দলের কোনো কোনো নেতা ভেবেছিলেন, বাংলাদেশ তারাই স্বাধীন করবেন। কিন্তু বহু বিচিত্র কারণে স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্ব চলে গিয়েছিল আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে। এই নেতারা এবং তাদের হাল আমলের সমর্থকদের সারাজীবনের দুঃখ এই যে, হাতি ঘোড়া গেল তল, কোথাকার কোন শেখ মুজিব, সে কিনা যুদ্ধে অনুপস্থিত থেকেও দেশ স্বাধীন করে ‘রাষ্ট্রপিতা’হয়ে গেল!

 

Nasiruddin Yousuff - 111
জনাব বাচ্চু কি আতাফলের পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে ভুল করেছেন– কেন তিনি এতদিন পরে এসব কথা তুলছেন

 

স্বাধীন হবার পর পর তৃতীয় দল প্রথম দলকে প্রস্তাব দিয়েছিল সর্বদলীয় সরকার গঠন করতে। কিন্তু প্রথম দলের নেতারা তখন ডালিম গাছে চড়ে বসেছে। মজাসে ডালিমের সবটুকু মৌ চুষে নেবার সুযোগ ছাড়বে কেন তারা? এমনিতেই জনগণ প্রথম দলকেই ভোট দিত, তবুও বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে কমবেশি কারচুপি করে প্রথম দল নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছিল। তাতেও অবশ্য সন্তুষ্ট হয়নি তারা, প্রায় দুই দশকের জন্যে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে একদলীয় শাসন চালু করেছিল।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে দ্বিতীয় দল, প্রথম দলের উপদল জাসদ এবং তৃতীয় দলের নেতা বা সমর্থকদের মধ্যে অনেককেই উল্লাস করতে দেখা গেছে। প্রথম দলের বেশ কিছু নেতা মীরজাফর খোন্দকার মোস্তাক সরকারে যোগ দিয়েছিলেন। তারাও খান আতাদের মতো বন্দুকের নলের দোহাই দিয়েছিলেন, যে ধরনের দোহাই কারাগারে নিহত চার নেতাকে দিতে দেখা যায়নি। খান আতা যদি উল্লাস করেও থাকেন, তবে তিনি একা নন। তাছাড়া ভুলে গেলে চলবে কেন যে, এই উল্লাসকদের কেউ কেউ আজ প্রথম দলের অন্যতম সহযোগী?

মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের নায়ক ইব্রাহিম কার্দি এবং একটি পার্শ্বচরিত্র আতা খাঁর আলোচনা এখানে প্রাসঙ্গিক। ইব্রাহিম কার্দি ছিলেন জন্মগতভাবে মুসলমান, কিন্তু পাঠানদের বিপক্ষে মারাঠা বাহিনীর হিন্দু সেনাপতি ছিলেন তিনি। কারণ মারাঠারা তাঁর সামরিক যোগ্যতার মূল্যায়ন করেছিল। আতা খাঁ ওরফে অমর যতটুকু মনে পড়ে, জন্মগতভাবে মুসলমান ছিল, কিন্তু তাকে মানুষ করেছিল হিন্দু মারাঠারা।দ্বৈত-গুপ্তচর হিসেবে দুই শিবিরেই যাতায়াত ছিল আতা খাঁর। ইব্রাহিম কার্দি জানতেন তিনি আসলে কে, কিন্তু আতা খাঁ জানত না সে আসলে কোন পক্ষের লোক।

বাংলাদেশ শুধু নয়, যে কোনো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ রকম হাজার হাজার কার্দি বা আতা খাঁ থাকে।মুনীর চৌধুরী বা খান আতার মধ্যেও ইব্রাহিম কার্দি বা আতা খাঁর ছায়া খুঁজে পাওয়া অসম্ভব নয়। এমনও হতে পারে যে, এই চরিত্রগুলোর মধ্যে নাট্যকার মুনীর চৌধুরী নিজের মানসিক অবস্থাই তুলে ধরেছিলেন।প্রধানত আতা খা বা ইব্রাহিম কার্দিদের সঙ্গে নিয়েই দুই মেয়াদে সরকার গঠন করা বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছিল।

‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবিতে প্রতিবাদী ভগ্নীপতির চরিত্রে অবিস্মরণীয় অভিনেতা কিংবা ‘নবাব সিরাজদৌলা’ এর পরিচালক খান আতার সঙ্গে কাদের মোল্লা কিংবা সাকা চৌধুরীকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। একইভাবে অন্য অনেক স্বাধীনতাবিরোধীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না ‘কবর’ বা ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ এর নাট্যকার মুনীর চৌধুরীকেও, যিনি স্বাধীনতার আগেই স্বীকার করেছিলেন: ‘আমি জীবনের মোহের কাছে পরাজিত হয়েছি!’ (সরদার ফজলুল করিমের ‘সেই সে কাল: কিছু স্মৃতি, কিছু কথা’ দ্রষ্টব্য)।

১৪ ডিসেম্বর আলবদরের হাতে নিহত এক বামপন্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের স্ত্রীকে এক বেতার সাক্ষাৎকারে আমি নিজমুখে বলতে শুনেছি: ‘আমার স্বামীকে কেউ না কেউ মারতই! হয় এরা, নয়তো ওরা!’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং এর অব্যবহিত পূর্বে সময়টা খুব সরল ছিল না। এই জটিল সময়ে কার্দি বা আতা খাঁয়েরা বহু বিচিত্র কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হতেও পারে।

দ্বিতীয় সেনাশাসন আমলে একটা গল্প ছিল এরকম: স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপ্রধানের চুল কাটতে কাটতে তাঁর নাপিত প্রায়ই জিগ্যেস করে: ‘স্যার, আপনি চট্টগ্রাম যাইবেন কবে?’

কয়েক বার একই অবান্তর প্রশ্ন শুনে রাষ্ট্রপ্রধান বিরক্ত হয়ে ধমক দিলে নাপিত বিনীতভাবে বলেছিল: ‘স্যার চট্টগ্রামের নাম শুনলেই আপনের চুল খাড়াইয়া যায়। আমরা কাটতে সুবিধা হয়!’

মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলে দ্বিতীয় দলের সদস্যদেরও আতঙ্কে চুল দাঁড়িয়ে যায়। যে কয়েকটি কাহিনি এদের মনে (জীবনানন্দের ভাষায়) ‘দুদণ্ড শান্তি’ দিয়ে থাকে সেগুলো হচ্ছে: ১.মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের নেতারা কোলকাতায় ছুটি কাটিয়েছেন আর কষ্ট করে যুদ্ধ করেছেন (জিয়াউর রহমানের মতো অ-আওয়ামী) মুক্তিযোদ্ধারা; ২. স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা ডাকাতি করে বেড়িয়েছে; ৩. শান্তিবাহিনীর অনেক চেয়ারম্যান গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছে (যার নিগলিতার্থ হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে কিছু কিছু রাজাকারেরও ইতিবাচক ভূমিকা আছে)।

জেলে খুন হওয়া চার জাতীয় নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় কোলকাতাতেই অবস্থান করছিলেন বটে। তাজউদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের সব নেতা যদি কোলকাতায় ছুটি কাটিয়ে থাকবেন, তবে যুদ্ধটা পরিচালনা করল কে? বহু ধরনের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। তাদের মধ্যে কারও কারও পদস্খলন নিশ্চয়ই হয়েছে। কিন্তু এমন মুক্তিযোদ্ধাও তো আছেন যারা সারাজীবন সৎপথে থেকে বৃদ্ধ বয়সে ভিক্ষা করে জীবন ধারণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কোন ধরনের মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বেশি, অসৎ নাকি সৎ? মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস, দেশপ্রেম আর সততা নিয়ে কটা ছবি হয়েছে, কটা উপন্যাস লেখা হয়েছে? তাছাড়া যে সমাজে বেশিরভাগ লোক অসৎ, যেখানে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারেরা রাজার হালে জীবন কাটায়, সেখানে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদেরই-বা কেন সৎ থাকতে হবে?

 

Adolf Hitler - 333
হিটলারও ভালো ছবি আঁকতে জানতেন

 

খান আতার বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ এই যে, ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করে এবং হানাদার বাহিনীর প্রশংসা করে রেডিও পাকিস্তানের জন্যে বেতার-কথিকা লিখেছেন। সোহেল রানা এবং ফারুকের দাবি, খান আতা বন্দুকের মুখে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই অপকর্ম করেছেন। খান আতার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ, তিনি তাঁর ‘আবার তোরা মানুুষ হ’ ছবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের চারিত্রিক পদস্খলন দেখিয়েছেন। শিল্পীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যায় না বলে আমরা অবশ্যই জিগ্যেস করতে যাব না, কেন খান আতা তাঁর কোনো ছবিতে রাজাকার ও পাকিস্তানি হানাদারদের অপকর্ম তুলে ধরেননি। বাকি থাকে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে খুন হওয়াতে খান আতার উল্লাস প্রকাশ এবং খুনিদের প্রশংসা করে গীত রচনার অভিযোগ। শেষ দুটি অভিযোগ যদি প্রমাণ করা যায়, তবে বন্দুকের নল এবং শিল্পীর স্বাধীনতার মতো শক্ত অজুহাতও হালে পানি পাবে না।

জনাব বাচ্চু কি আতাফলের পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে ভুল করেছেন– কেন তিনি এতদিন পরে এসব কথা তুলছেন, অথবা অন্য ছদ্ম-রাজাকারদের কথা কেন তিনি বলছেন না– এ ধরনের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। দ্বিতীয় দলের সমর্থকেরা প্রায়ই বলে থাকেন: ‘পুরনো কথা তুলে কী লাভ?’ কারণ কে না জানে, মুক্তিযুদ্ধে কার কী ভূমিকা জাতি সেটা ভুলে গেলে, দ্বিতীয় দলের লাভই সবচেয়ে বেশি। ইতিহাস রচনার স্বার্থে পুরনো, নতুন সব কথা তুলতেই হবে। প্রতিটি শিল্পী একজন মানুষও বটেন। শৈল্পিক গুণের জন্যে তাঁর যেমন প্রশংসা ও পুরষ্কার পাওয়া উচিত, তেমনি মানুষ হিসেবে তাঁর অপরাধের জন্যে শাস্তি বা নিদেনপক্ষে তিরষ্কার তাঁর প্রাপ্য। পুরস্কার যদি মরণোত্তর হতে পারে, তবে তিরষ্কারই-বা হবে না কেন?

হিটলারও ভালো ছবি আঁকতে জানতেন। সারাদিন গ্যাস দিয়ে জীবিত ইহুদি বা জিপসি পোড়াতেন যেসব জার্মান পুলিশ অফিসার, নিজেদের ছেলেমেয়েদের কাছে তারা একেক জন স্নেহময় বাবাই ছিলেন (জীবিত পুড়ে ছাই হওয়া ইহুদি ও জিপসিদের মধ্যে ছিলেন বহু শিল্পী-সাহিত্যিক-বিজ্ঞানী। এদের মধ্যে আইনস্টাইনও থাকতে পারতেন, যদি তিনি সময়মতো আমেরিকায় পালিয়ে না যেতেন, অথবা থাকতে পারতেন কার্ল মার্ক্স, যদি তিনি কিছুদিন পরে জন্ম নিতেন)!

হিটলারের শৈল্পিক গুণের কথা আমরা অবশ্যই বলব, কিন্তু তাঁর নৃশংসতার কথও আমরা বিস্মৃত হব না। জাতির জানা উচিত কোনটা সাদা কোনটা কালো এবং কোনটা সাদা-কালো। জনাব বাচ্চু মুক্তিযুদ্ধে খান আতার ভূমিকা নিয়ে কথা তোলাতে ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক এবং চলচ্চিত্রকার হাসান ইমামের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে আমাদের। এই সব বক্তব্য ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্মোহ ইতিহাস রচনার উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

‘আতা গাছে তোতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ। এত ডাকি, তবু কথা কয় না কেন বউ’? প্রথম চরণটি নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের কাছে এই শিশুতোষ ছড়ার শেষ চরণটি অধিকতর দুশ্চিন্তার কারণ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। গত একশ বছরে দুই দুই বার স্বাধীন হয়েও বহু বিচিত্র (বদ) জাতের তোতাপাখিদের জ্বালায় বউমা পরম শান্তিতে আতা গাছের তলায় পা ছড়িয়ে বসে আতা খেতে পারেনি।

এদিকে তিন দলের ধান্দাবাজ সব নেতা ডালিম গাছের বেশিরভাগ মউ খেয়ে নিয়েছে অথবা ফোকটে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে, বংশানুক্রমে রসিয়ে রসিয়ে খাবে বলে। হিন্দিতে বলে: ‘বাপ পেরেশান বেটাসে, দেশ পেরেশান নেতাসে।’ বাংলাদেশ শুধু কেন, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের মধ্যেই ‘নে-তা’ বেশি, ‘দে-তা’ কম! গত শখানেক বছর ধরে ধান্দাবাজ নেতাদের রাজ্যের যত ফালতু ডাকে সাড়া দিতে দিতে ইদানিং যুগপৎ অবসন্ন ও হতাশ বৌটি ধরেই নিয়েছে, এদেশের কিছু হবে না, অথবা ভাবছে, বৃথাই ১৯৭১ সালে রক্ত ঝরিয়েছেন হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা।

বউ এখানে বাংলাদেশের জনগণ, বলাবাহুল্য।

শিশির ভট্টাচার্য্যঅধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯ Responses -- “আতা গাছের তোতা পাখি ও হতাশ বউটির কথা”

  1. Hamidul Islam

    আমরা আসল সত্য জানতে চাই, অনুমান নয় প্রকৃত সত্য,আমরা নতুন প্রজন্ম কথিত বুদ্ধিজীবীদের উপর বিরক্ত
    হিটলারের ছবি আকা আর দেশের স্বাধীনতার জন্য সিনেমা(জীবন থেকে নেয়া) বানানো এক নয়। আঁতা হঠাৎ কেন পল্টি মারলেন? কেনই বা বজ্ঞবন্ধু স্বাধীনতা বিরোধী একজন কে তার বাসায় ডেকে নিয়ে সিনেমার(আবার তোরা মানুষ হ) প্রশংসা করবেন? আর কেন আগে তাকে নিয়ে সবাই নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করলেন? এগুলো সবই আমাদের কাছে তুলে ধরতে হবে? আর রাজাকারের সঠিক ডেফিনেশন ও দিতে হবে। আমেরিকা থেকে বসে বসে খালি লেকচার দিলে হবে না।। আবার ও বলছি আমরা তরুন প্রজন্ম আপনাদের উপর বিরক্ত

    Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      প্রথম কথা, প্রকৃত সত্য জানতে হলে আপনি নিজে খোঁজ করছেন না কেন? দ্বিতীয়ত, জীবন থেকে নেয়া খান আতা বানাননি। বানিয়েছেন জহির রায়হান। তৃতীয়ত, আমেরিকা থেকে বসে বসে লেকচার দিচ্ছি, এতটা নিশ্চিত হলেন কী করে? আমি দেশে থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও তো লেকচার দিতে পারি। আমার লেকচার যদি আপনার ভালো না লাগে, তাহলে অন্য কারও লেকচার শুনুন বা নিজেই লেকচার দিতে শুরু করুন। আমরা তরুণ প্রজন্ম মানে? আমি যে তরুণ নই তা আপনাকে কে বললো? যে প্রশ্নগুলো করেছেন আপনি নিজে সেগুলোর উত্তর খুঁজুন। সব কিছু অন্যদের কেন আপনাদের কাছে তুলে ধরতে হবে? কী দায় পড়েছে অ্ন্যদের?

      Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      রাজাকার হচ্ছে তারা যারা ৭১ সালে হানাদার সেনাবাহিনীর পক্ষে এবং বাংলাদেশের জন্মের বিপক্ষে ছিল।রাজাকার হচ্ছে তারা যারা ২০১৭ (৭১/১৭) সালেও বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখে, মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে না এবং ৭১ সালকে ‘গণ্ডগোলের বছর’ ভাবে।

      Reply
  2. বকুল জহুরুল হক//ইউ এ ই

    জীবন্ত ইতিহাস,অসাধারণ সাহিত্য,এমন লেখা যুগোপযোগী কারণ এই প্রজন্মের ইতিহাস পড়ার সময় নাই? তবে গল্পের ছলে নতুন প্রজন্ম কিছু জানতে পারে
    এই আর কি? খান আতার সাথে হিটলারের তুলনা,খান আতার সঙ্গে কাদের মোল্লা কিংবা সাকা চৌধুরীকে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। একইভাবে অন্য অনেক স্বাধীনতাবিরোধীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে চলবে না, সব কিছু মিলে যুগ-উপজুগি
    হয়েছে লেখাটি !! ধন্নবাদ আপনাকে !!

    Reply
  3. আবুল হাসেম

    ষোলো তারিখ নিয়াজীর আত্মসমর্পণ পর থেকেই শুরু হয়েছিলো বহু মুক্তিযোদ্ধার উন্মত্ত আচরণ । মুক্তিযোদ্ধারা বাজি পোড়ানোর বদলে রাইফেল অথবা স্টেনগানের গুলি ছুঁড়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করতে আরম্ভ করে।
    ১৬ই ডিসেম্বর রাত্রি থেকে বিজয়োল্লাসে মত্ত যেসব “মুক্তিযোদ্ধা” ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তাদের হাতে একে ৪৭ রাইফেল আর স্টেনগান। এইসব অস্ত্র কখনো মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের কোন ইউনিট কম্যান্ডার এদের শনাক্ত করতে পারেনি। এদের বেশীরভাগই প্রভাবশালী অভিভাবকের নিরাপদ আশ্রয়ে এই নয়মাস কাটিয়েছে যুদ্ধের ধারেকাছেও তাঁরা যায়নি। এরাই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ও তাদের সমর্থকদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র, পাকিস্তানী অস্ত্রাগার থেকে লুট করা অস্ত্র নিয়ে রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা বনে যায়। এদেরই একটি অংশ অন্যের গাড়ি বাড়ি, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বিনামুল্যে বা নামমাত্র মুল্যে দখল করে নেয়।
    যাদের ক্ষমতা ছিলো, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছিলো। অনেকে দেশে ফিরে প্রথমেই পূর্বশত্রুতার শোধ নিয়েছিলো।
    যাঁরা কোনো দিন মুক্তিযুদ্ধের ধারে-কাছে যাননি, তাঁরাই ১৭ তারিখ রাস্তায় বের হন দর্পভরে, কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ গাড়িতে। এদের কেউ কেউ অবাঙালিদের সম্পত্তি লুটপাট করতে শুরু করে। অন্যদের ওপর চড়াও হয়। এদের তখন নাম হয় ‘সিক্সটিন্থ ডিভিশন’-ষোড়শ বাহিনী। কারণ এর সূচনা হয় ষোলো তারিখ। অবাঙালিদের সম্পত্তি লুটপাট করায় যে-উৎসাহ দেখা গিয়েছিলো, এই সিক্সটিন্থ ডিভিশনের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিলো না। ভদ্রলোকরাও এই লুটপাটে সমান উৎসাহী এবং সমান বিবেকবর্জিত ছিলেন। ষোড়শ ডিভিশনের এই ব্যাধি অচিরেই সংক্রমিত হয় মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের মধ্যে।
    সন্ধ্যা হলেই প্রচুর ফাকা গুলির আওয়াজ শোনা যেত। এটা ছিল বিজয় উল্লাস। শেখ মনি এসব দেখে বলেছিলেন, “ছেলেরা করছে কী? এত গুলি নষ্ট করছে কেন? এসব তো রাখা দরকার ভবিষ্যতের জন্য”।

    Reply
  4. আরিফ আজাদ

    মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালীর আম ভূমিকার স্বরুপ কেমন ছিলো? স্বাধীনতাত্তোর প্রজন্ম সেটার একটা একপেশে একাডেমিক বয়ানে প্রভাবিত হয়ে মানসপটে যে চিত্রটা আজতক এঁকে এসেছে সেটা হচ্ছে ইসলামী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেকুলারের বিজয়।
    এই রেটরিককে ভাগাড়ে নিক্ষেপের পাশাপাশি বামদের জালিয়াতিকে সামনে তুলে এনেছে এই বইটি।অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের সমাহারে পুষ্ট বইটির চোখ দিয়ে দেখা ইতিহাসের ভেতরে প্রবেশ করলে ইতিহাস বিকৃতির নগ্ন নৈরাজ্য অনুধাবন করা সাধারন ইতিহাস পাঠকের পক্ষেও সম্ভব।
    বঙ্গবন্ধু সেকুলার বয়ানে যেভাবে এতদিন চিত্রিত হয়ে এসেছেন তাতে করে বলা যায় বঙ্গবন্ধুকেও তারা নিগৃহীত করেছেন।তাঁর ধর্মীয় চেতনার যে দিকটি প্রমান সহ এই বইটি তুলে এনেছে এতে এটা পরিষ্কার। তিনি মুক্তিযুদ্ধকে পোশাকী ইসলামের বিরুদ্ধে সত্যিকারের ইসলামের যুদ্ধ বলেছেন।
    মূলত বইটি বিভিন্ন তথ্য,উপাত্ত দিয়ে প্রমান করেছেন মুক্তিযুদ্ধটাই মূলত ধর্মীয় চেতনার পাটাতনের উপর দাড়িয়ে হয়েছে।সেখানে সেকুলাররা মিথ্যা মিথকে প্রতিষ্ঠিত করে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ইসলামকে শত্রু হিসেবে হাজির করেছে।সেই মিথ থেকেই সংস্কৃতির মাধ্যমে ইসলামী লেবাসকে গনশত্রুর রুপ দিয়েছেন।
    মজার ব্যাপার হলো এমন একটা সময় Pinaki Bhattacharya সেকুলারদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন যখন তরুন প্রজন্ম আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতির সন্ধানের স্বরুপ ভার্চুয়াল নির্ভর হয়ে পড়েছে।
    তাই সঙ্গত কারনেই বইটি তাদের হাতে সহজে পৌছাবে এবং সত্যের বন্দরে গিয়ে ইতিহাসের পাঠ নোঙর করবে।
    বইটিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বামে বিলীন হওয়া বন্ধু দেশের প্রভাবে নব্য চেতনার উদয়ের বিষয়টি পরিচ্ছন্নভাবে তুলে এনেছে। পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকে সেকুলারদের সম্পত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্যারাডাইম বাতিল হয়ে যাচ্ছে এই বইটির কাছে।
    আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঠিক ধারা প্রবাহ “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” বইটির মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

    Reply
  5. আরিফ আজাদ

    “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের দেশে একটা বয়ান হাজির আছে। সেই বয়ানে ইসলাম অনুপস্থিত। আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করানো হয়েছে ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক ছিল। এভাবেই তৈরি হয়েছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য আর হেরিটেজের নির্মাণ”। লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য বাম সেক্যুলারকুলের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ভূমিকা থেকে ইসলাম ও ধার্মিক মুসলমানদেরকে দুরে সরিয়ে এবং শত্রু জ্ঞান করে দেশ থেকে ইসলাম বিদায় করার অপকৌশলের খোলস উপড়ে দিয়েছেন তাঁর বইয়ে। আমার ধারণা, পিনাকী’র “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” বইটি ইসলাম বিদ্বেষী অপরাজনীতি ও মিথ্যাচারকে হাতিয়ার করা সেক্যুলারকুলের জন্য বিশাল এক আঘাত। মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম বইয়ে লেখক প্রমাণ করেছেন যে, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আটক হওয়া রাজাকার ও পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগী যাদের ছবি এবং ভিডিও বিভিন্ন আর্কাইভে পাওয়া যায়, তাদের কারো মুখেই দাঁড়ি কিংবা মাথায় টুপি দেখা যায় না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত এই দেশের প্রায় সকল নাটক-সিনেমা এবং মুক্তিযুদ্ধকে উপলক্ষ করে প্রকাশিত পত্রিকায় বা পোস্টারে রাজাকার চরিত্রকে মুখে দাঁড়ি আর টুপি-পাঞ্জাবী পরিয়ে ইসলামী লেবাসে হাজির করা হয়ে আসছে। আলেম সমাজের মাতৃভাষায় সাহিত্য চর্চা এবং সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতায় অনুপস্থিতির সুযোগে আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও দেশ পরিচালনায় পশ্চিমা ও সোভিয়েতপন্থী ভারতীয় প্রভাব বলয় একচেটিয়াভাবে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পায়। আলেম-উলামার এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে সোভিয়েত ও পশ্চিমাপন্থীরা মিলেমিশে বাংলাদেশের মূল ধারার শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা ও রাজনীতিসহ দেশপরিচালনা থেকে আলেম সমাজ ও দ্বীনদার মুসলমানদেরকে কোণঠাঁসা করে রাখতে সক্ষম হয়। অবশ্য সেক্যুলারদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় আমাদের ইসলামী নেতৃবৃন্দের দায়ও একেবারে এড়ানো যায় না।
    যে দেশের শতকরা নব্বইভাগ মানুষ ধর্মভীরু মুসলমান, সেই দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের ধর্মের একটি বয়ান থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। অথচ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে কত অবলীলায় ইসলামের বয়ানকে মুছে ফেলে মুসলমানদেরকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষ রূপে চিহ্নিত করা হয়। পিনাকী ভট্টাচার্য তার “মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম” বইটিতে মোট ১১৩টি রেফারেন্সের মাধ্যমে ইতিহাসের এই মহাসত্যটাই সামনে এনেছেন। মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগ যে তার জন্মলগ্ন থেকে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত একটি ইসলামের প্রতি সংবেদনশীল রাজনৈতিক দল ছিল, লেখক বইয়ের শুরুর দিকেই সেটি প্রমাণ করেছেন। ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার পর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে তাদের সংবিধান প্রণয়ন কমিটি কর্তৃক যেই খসড়া সংবিধানের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়, তাতে “পাকিস্তানের মুসলমানদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে কুরআন সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলার” কথা স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রথম অনুষ্ঠানের শুরু হয়েছিল- ‘নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লী আলা রাসূলিহীল কারীম’-এর মাধ্যমে এবং শেষ হয়েছিল, ‘নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন কারীব” বাক্যের মধ্য দিয়ে। এছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রতিদিনের অনুষ্ঠান শুরু হতো পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও তরজমা পাঠের মাধ্যমে। সেখান থেকে নিয়মিতভাবে পবিত্র কুরআন এবং হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধকে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও দেশের শত্রু প্রতিহত করতে ইসলামী নির্দেশনা মতে ‘জিহাদ’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম ওলামাগণও যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই সত্যটা সেক্যুলারদের বয়ানে তৈরী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পাওয়া যায় না। অথচ এই বিষয়টিকে পিনাকী ভট্টাচার্য তার বইয়ে রেফারেন্সসহ তুলে এনেছেন- “সেই সময়ে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম হাফেজ্জী হুজুর (রাহ.) মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানিদেরকে জালেম এবং মুক্তিযুদ্ধকে ‘জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াই’ বলে অভিহিত করেন”। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম’-এর পূর্ব পাকিস্তানের আমীর মরহুম শায়খুল হাদীস মাওলানা আজিজুল হক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন; এই বিষয়টিও এই বই থেকে জানা যায়। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা আরো অনেক আলেম-উলামার রেফারেন্সও এই বইয়ে পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের আলেম-উলামার পাশাপাশি উপমহাদেশের আলেম-উলামাগণও মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছিলেন, যা এই বইয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের তৎকালীন সেক্রেটারী জেনারেল ও ভারতীয় পার্লামেন্টের লোকসভার সদস্য শায়খুল ইসলাম আল্লামা আসআদ মাদানী ), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পশ্চিম পাকিস্তানের সেক্রেটারী মুফতী মাহমুদ এবং মাওলানা কাওসার নিয়াজী অন্যতম। শুধু এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যে বেতার ভাষণ দিয়ে বিজয় ঘোষণা করেন, সেখানে তিনি বক্তৃতা শেষ করেন এই বলে, “আমি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টানসহ সব দেশবাসীকে আল্লাহর প্রতি শোকরিয়া জ্ঞাপনের জন্য ও একটি সুখী সমৃদ্ধশালী সমাজ গঠনে আল্লাহর সাহায্য ও নির্দেশ কামনা করার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি”। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম আওয়াজ তুলে ছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ।

    Reply
  6. আবু আমীন

    “১৬ই ডিসেম্বর রাত্রি থেকে বিজয়োল্লাসে মত্ত যে সব “মুক্তিযোদ্ধা” পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ১৭ই ডিসেম্বর দেখা যায় তাঁদের অনেকের হাতেই চীনা AK47 রাইফেল ও স্টেন গান। এই সব অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সরবরাহ করার কোন প্রশ্ন ছিল না। বস্তুত এই সব অস্ত্রধারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কখনো মুক্তিযোদ্ধাও ছিল না।”
    (সুত্রঃ মুলধারা’৭১ মঈদুল হাসান, ইউপিএল,মার্চ ২০১৩, পৃষ্ঠা ১৯৬-১৯৭)
    স্টেনগান ধারী মুক্তিযোদ্ধাদের ছবিকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা উচিৎ নয়, সন্দেহ করুন। মুক্তিযোদ্ধারা আর যেই অস্ত্রই পাক না কেন অফিসিয়ালি স্টেন গান পায়নি, মঈদুল হাসানের তথ্যে এটা স্পষ্ট। আর যদি মঈদুল হাসানের তথ্য ভুল হয়ে থাকে, তবে তিনি তো এখনো বেচে আছেন, তার কাছে থেকে ব্যাপারটা পরিস্কার করে নেয়া উচিত।

    Reply
  7. আবু আমীন

    আমরা দীর্ঘদিন জাইন্যা আসছি, ছবিটা পাকিস্তানি আর্মির। সে লুঙ্গী খুইল্যা চেক করতেছে ধৃত লোকটা হিন্দু নাকি মুসলমান। কেউ কেউ আবার এই ছবির ক্যাপশনে কাব্য ফলাইতো “হিন্দু না ওরা মুসলিম এই জিজ্ঞাসে কোন জন” বইল্যা। ম্যালা জায়গায় এখনো এই ছবিটা পাইবেন পাকিস্তানি আর্মি বইল্যা।
    আসলে এই ছবিটা ইণ্ডিয়ান আর্মির। ছবিটা তুলছে কিশোর পারেখ আর ছবিটা ছাপা হইছিল বাংলাদেশ এ ব্রুটাল বার্থ বইয়ে। লোকটা রাজাকার সন্দেহে ধৃত আর ইন্ডিয়ান আর্মি চেক করতেছে তার লুঙ্গীর ভিতরে অস্ত্র আছে কিনা? এই ছবিটার মিথ ভাংছে ২০১৩ সালে। চিন্তা কইর‍্যা দেখেন, কেউ বুঝে নাই এতোদিন। তাইলে কি হেরা ইণ্ডিয়ান আর্মি বা পাকিস্তানি আর্মি কোনটাই দেখে নাই? দুই আর্মির তো ড্রেসই আলাদা।
    এইরকম ম্যালা ভেজাল ছবি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ঢুইক্যা আছে। স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের মতো আমাদের একটা মুক্তিযুদ্ধের পিয়ার রিভিউড আর্কাইভ দরকার। যেই জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের অথেন্টিক ছবি পাওয়া যাইবে। ছবিটা কে তুলছে, কীভাবে তুলছে, কখন তুলছে, ছবিতে কাদের দেখা যাইতেছে এইসব থাকবে।
    একটা জাতির রক্তাক্ত রাষ্ট্র বিপ্লবের ইতিহাসে কোন জঞ্জাল থাকা কাম্য নয়।

    Reply
  8. আব্দুল্লাহ

    দুনিয়ার লেফট রাজনীতি কীভাবে পাল্টাচ্ছে দেখুন। এরা ক্রিস্টমাসকেকে লাল বানাতে চায়। মানে ক্রিসমাসের স্পিরিটের সাথে বাম চিন্তাকে মিলিয়ে দিতে চায়। রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি যে একসময় চার্চ ভাঙাকেই বিপ্লব মনে করেছিল, সে এখন অর্থডক্স চার্চের সাথে এলাই করছে। ল্যাটিন আমেরিকা অনেক আগে থেকেই ধর্মের সাথে ঐক্য করেছে। তাই এতো চেষ্টা করেও কেউ ল্যাটিন আমেরিকার লেফট অরিয়েন্টেশনকে ঠেকাতে পারেনি।
    বাংলাদেশের নাস্তিক ইসলাম বিদ্বেষী বাম নামের গনবিরোধীদের হাত থেকে বামপন্থাকে উদ্ধার করে নতুন দিনের বামেরা যেদিন বাংলাদেশে ইসলামের হাত ধরে একসাথে হাটতে শিখবে সেদিন শুরু হবে এক নতুন ইতিহাস। বাংলাদেশ সেই ইতিহাস রচনার অপেক্ষায়।

    Reply
  9. আবদুর রাজ্জাক

    কক্সবাজারের মেজর নাজিমেরা আছে জন্যই ভরসা পাই, আমরা একদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ এই গুমকারীদের হাতেনাতে ধরে দেখিয়ে দেয়ার জন্য কারা সরকারী পোষাক পরে গুম আর অপহরনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধকেও বানিজ্য বানিয়ে ফেলেছে।

    Reply
  10. ফয়সাল মাহমুদ

    বাংলাদেশের বামপন্থীরা বলে তাঁদের নাকি স্বাধীনতা যুদ্ধে ম্যালা অবদান ছিল। আসেন দেখি প্রখ্যাত বামপন্থী নেতা নির্মল সেন বামপন্থীদের মুক্তিযুদ্ধে অবদান নিয়ে কী মুল্যায়ন করেছিলেন।
    “৭১ এর সংগ্রামে আমাদের তেমন কোন ইতিবাচক ভুমিকা ছিল না। আমরা আমাদের শ্রমিকদের ৭১ এর সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম কি? আদৌ নয়। আমি ইতিপুর্বে বারবার উল্লেখ করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা। এ ব্যাপারে সেকালের বিভিন্ন আত্মগোপনকারী বামপন্থী দলসহ ছাত্রলীগের নেতারাও আমাদের সাথে কথা বলেছেন। আমরা বারবারই বলেছি স্বাধীন বাংলাদেশের রুপরেখা আমরা জানতে চাই। আর আমরা আরেকটা পাকিস্তান গড়তে চাইনা। আমরা শোষণমুক্ত বাংলাদেশ চাই। এ কথায় আমাদের সাথে আলোচনা ভেঙে গেছে।
    আমাদের ভুমিকা ওই পর্যন্তই। এর পরে আমরা দেশ স্বাধীন করার নিজস্ব কোন উদ্যোগ গ্রহণ করিনি। হাত পা গুটিয়ে বসে থেকেছি। ১৯৭১ সালে সংগ্রাম শুরু হওয়ার পর আমরা গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেজেছি। আমার জানা মতে এটাই ছিল মোটামুটিভাবে বামপন্থীদের ভুমিকা।”
    (সুত্রঃ নির্মল সেন, আমার জবানবন্দি, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ – ফেব্রুয়ারি, ২০১২, পৃষ্ঠা ৫৭৫)

    Reply
  11. ফয়সাল মাহমুদ

    নির্মল সেনের বইটার পরতে পরতে চমক আছে। তিনিই প্রথম বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের মুল নেতাদের বাদ দিয়ে বাকীদের সাধারণ ক্ষমা করে দেয়া হোক। এই কথা বলার জন্য তাকে নানা গঞ্জনা শুনতে হয়েছিল সেইসময়। তাঁর যুক্তিটা ছিল অসাধারণ। তিনি লিখছেন, “৭১ সালে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিঘরেই যুদ্ধ নিয়ে মতানৈক্য ছিল। সে মতানৈক্যের পটভুমি বুঝতে হবে। লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড দিয়ে একটা বিরাট জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতা বিরোধীদের শিবিরে ঠেলে দেয়া যাবেনা।”
    প্রত্যেক ঘরেই তো তাহলে আজকের চেতনাজীবিদের ডেফিনেশনে এক-দুইজন রাজাকার ছিল। তাহলে কি দালালদের বিচার করতে গিয়ে ঘরে ঘরে অশান্তি লাগিয়ে দিতে হবে? এটা তো কাণ্ডজ্ঞানের বিষয়। সেই কাণ্ডজ্ঞান আর কারো না থাকলেও নির্মল সেনের ছিল। এমন নির্লোভ, প্রজ্ঞাবান মানুষকে আমরা আবার কবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেখতে পাবো কে জানে?

    Reply
  12. মসিউর রাহমান

    স্যার, অনেক কঠিন হয়ে গেছে। আপনি অবশ্য বলতেই পারেন এটা আমজনতার জন্য নয়।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      যে কোনো লেখাই শিক্ষিত লোকের জন্য। আমজনতা যদি এই লেখাও বুঝতে না পারে তবে তার দায় আমার নয়, বাংলাদেশের অভিভাবক ও শিক্ষাব্যবস্থার।

      Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      খান আতার সঙ্গে হিটলারের তুলনা করা হয়নি। ভিন্ন প্রসঙ্গে হিটলারের উদাহরণ ব্যবহার করা হয়েছে। যে কোনো মন্তব্য করার আগে লেখা ভালো করে পড়তে হবে, একাধিক বার পড়তে হবে।

      Reply
  13. miltonkumar

    একদিকে অসাধারণ সাহিত্য আর অন্যদিকে জীবন্ত ইতিহাস। মনে হল, ৫০ বছরের ইতিহাস একবারে পড়ে ফেললাম। এমন লেখা নিশ্চয় যুগোপযোগী কারণ এই প্রজন্মের ইতিহাস পড়ার সময় কই? এই ভাবে গল্পের ছলে যদি নতুন প্রজন্ম কিছু জানতে পারে তাতে ক্ষতি কি? আর অনেক বুদ্ধিজীবীর ত ইতিহাস বিকৃতির অভ্যাস আছে। তাদের জন্য নতুন প্রজন্ম যে ঘোর শঙ্কটে পড়বেনা তার নিশ্চয়তা কোথায়? ধন্যবাদ স্যার।

    Reply
    • মসিউর রাহমান

      এখানেই যে ইতিহাস বিকৃতির হয়নাই সেটা কে কনফার্ম করবেন?!

      খান আতা সত্য বলতে দিধা করে, বা বন্ধুকের নলে বসে অসত্য বলে রাজাকারদের হেল্প করে যে ভুল করলেন, বাচ্চু সাহেবের আতা-সত্য বলতে ৪০ বছর দেরি করা কি সেই আতার অবস্থাই জাস্টিফাই করেনা?

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—