President Abdul Hamid - 1

অজস্র ধন্যবাদ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। দেশব্যাপী ধর্মনিরপেক্ষ ও ইসলামি রাষ্ট্রধারণার ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের মধ্যে আপনার মন্তব্য ‘বিশ্বকে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রধারণা থেকে বের হতে হবে’ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, বিশেষ করে যেখানে দেশে শরিয়া আইনের অর্থাৎ ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রধারণার পক্ষে জনসমর্থন বেড়ে চলেছে (পিউ ও রিজলভ সংগঠনের জরিপ)। যেহেতু চিন্তার সংঘাতই অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি, তাই এ ব্যাপারে জনগণকে দুপক্ষের যুক্তি ও ইতিহাসের শিক্ষায় শিক্ষিত করার সমূহ দরকার আছে।

এক ধর্মের ধর্মরাষ্ট্র বানাবার চেষ্টা করলে দুনিয়ার প্রতিটি ধর্মের আলাদা রাষ্ট্রকে বৈধ ও উৎসাহিত করা হয়। দুনিয়ায় অসংখ্য ধর্মের ধর্মীয় রাষ্ট্র হলে বিশ্ব মানবসমাজ ধর্মের ভিত্তিতে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। ভ্রান্তিময় মানুষ যখন ঐশী ধর্মের মালিক হবার অপচেষ্টা করে তখন এসব হতে বাধ্য।ভারতে হিন্দুরা কিংবা ইসরাইলে ইহুদিরা কিংবা পশ্চিমে খ্রিস্টানরা ওদের ধর্মরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আমাদের ওপরে ওদের আইন চাপিয়ে দিলে আমাদের যে ভয়ানক অবস্থা হবে তার জন্য দায়ী কে হবে? আমরা ওদের ওপরে আমাদের আইন চাপাব আর ওরা আমাদের ওপরে ওদেরটা চাপাতে পারবে না, এ দাবি-বা করি কী করে?

এসব কারণ ছাড়াও অসংখ্য মুসলিম এমনকি আলেম-উলামা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি সংগঠন ‘নাহদালাতুল উলামা’ কেন ইসলামি রাষ্ট্রতত্বের ঘোর বিরোধী তা দেশবাসীকে জানানো দরকার। তাদের প্রকাশিত ‘দ্য ইলিউশন অফ অ্যান ইসলামিক স্টেট’ (ইসলামি রাষ্ট্রের বিভ্রম) বইটা ছড়ানো দরকার।

ADD – TREE IS KNOWN BY ITS FRUIT – NO NEED TO GO TO THEOLOGICAL EXPLANATION

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে প্রত্যেকের মানবাধিকার সুরক্ষিত এবং আইনের চোখে সবাই এক। অথচ ধর্মরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধান “‘হদ্দ’এর আওতাভুক্ত কোনো অপরাধ করিলে তাহার বিরুদ্ধে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাইবে না”–বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ৩য় খণ্ড আইন নং ৯১৪ গ এবং হানাফি আইন হেদায়া পৃষ্ঠা ১৮৮। ‘হদ্দ আইন’ হল ডাকাতি, চুরি, মদ্যপান, খুন-জখম, মানহানি, যৌন-ব্যাভিচার ইত্যাদি। এটাও দেখুন, তওবা করলেই গণহত্যাকারীর শাস্তি হবে না– বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ১ম খণ্ড ধারা ১৩।

এসব আইন দিয়ে কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে এ রকম ভয়াবহ আইন হয় না। ধর্মীয় রাষ্ট্র হাজার হাজার বছর সময় পেয়েছিল নিজেদের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার; এখনও পাচ্ছে কিছু দেশে। কিন্তু কিছু হাতেগোনা শাসকের সময় ছাড়া এর ইতিহাস ভারাক্রান্ত হয়ে আছে জনগণের দুর্ভোগে, মানবাধিকার লঙ্ঘনে, নারীর অশ্রু আর রক্তে।

 

Ancient India - 111
ইতিহাস ভারাক্রান্ত হয়ে আছে জনগণের দুর্ভোগে, মানবাধিকার লঙ্ঘনে, নারীর অশ্রু আর রক্তে।

 

অতীতে ভারতের হিন্দুরাষ্ট্রের কিছু উদ্ধৃতি দিচ্ছি। সূত্র ডক্টর সুকুমারী ভট্টাচার্য্যের ‘প্রাচীন ভারত, সমাজ ও সাহিত্য’।

• জীবন্ত বিধবাকে মৃত স্বামীর সঙ্গে পুড়িয়ে মারার আইন

[অথর্ববেদ ১৮/৩/৩]

• পিতামাতার জন্য কন্যা অভিশাপ
[ঐত্তরীয় ব্রাহ্মণ ৬/৩/১৩]

• লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে মেরে দুর্বল করা উচিত যাতে শরীরের ওপরে তার কোনো অধিকার না থাকে
[শতপথ ব্রাহ্মণ ৪/৪/২/১৩]

• সর্বগুণান্বিতা নারীও অধমতম পুরুষের চেয়ে অধম

[তৈত্তরীয় সংহিতা ৬/৫/৮/২]

• পুত্রকন্যার সামনে স্বামী উপপত্নী আনা বা বেশ্যাগমন করতে পারবে কিন্তু স্ত্রীর সামান্য পদস্খলনে সমাজ কঠোর দণ্ড দেবে

[মৈত্রায়নীর বিভিন্ন আইন ও তৈত্তিরীয় সংহিতা ৬/৫/৮/২]

• কালো পাখি, শকুন, নেউল, ছুঁচো, কুকুর ও নারী হত্যার প্রায়শ্চিত্ত একই
[আপস্তম্ভ ধর্মসূত্র ১/৯/২৩/৪৫]

• নারীকে অবরুদ্ধ রাখো, নাহলে তার শক্তিক্ষয় হবে -শতপথ ব্রাহ্মণ ১৪/১/১/৩১।

• একটি যজ্ঞে ‘সদ্যোজাত পুত্রকে ওপরে তুলে ধরা হয়, কন্যাকে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়

[তৈত্তরীয় সংহিতা ৬/৫/১০/৩]

• উত্তম নারী হল ‘যে স্বামীকে সন্তুষ্ট করে, পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় ও স্বামীর কথার ওপরে কথা বলে না’
[ঐত্তরীয় ব্রাহ্মণ ৩/২৪/২৭]

• সন্তান না জন্মালে ১০ বছর পর ও পুত্র না জন্মালে ১২ বছর পর স্ত্রীকে ত্যাগ করা যাবে
[আপস্তম্ভ ধর্মসূত্র ১/১০-৫১-৫৩]

• যার স্ত্রীর চেয়ে পশুর সংখ্যা বেশি সে সৌভাগ্যবান

[শতপথ ব্রাহ্মণ ২/৩/২/৮]।

ভয়াবহ ব্যাপার, কল্পনা করলেও গা শিউরে ওঠে! ইউরোপের গীর্জারাষ্ট্রের অত্যাচারও ছিল এমন ভয়ংকর।

ডিকশনারিতে লেখা আছে ধর্মনিরপেক্ষতা অর্থাৎ সেকুলারিজমের অর্থ হল এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা যা ধর্মবিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে। এর কারণও আছে। হাজার হাজার বছর ধরে ধর্মীয় রাষ্ট্রের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিতিবিরক্ত জনগণ ঘৃণা ও গণবিক্ষোভের দ্বারা ধর্মীয় রাষ্ট্র উৎখাত করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়েছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই বলা ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রে ধর্মের স্থান নেই। বাস্তবে এখন সেকিউলারিজমের অর্থও বদলে গেছে আমূল। ঠিক যেমন ‘মীরজাফর’ শব্দটার অর্থ চমৎকার কিন্তু তা এখন এতই ঘৃণিত যে কোনো বাঙালি তার ছেলেরও নাম রাখেনি কোনোদিন, রাখবেও না। রাজাকার বা আল্ব-দর শব্দেরও ওই দশা। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলো এখন ধর্মের বিরোধী তো নয়ই বরং সাংবিধানিকভাবে সব ধর্ম রক্ষা ও সহায়তা করে।

আমাদের প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার বানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামি ফাউণ্ডেশন। বায়তুল মুকাররমের সমস্ত খরচ দেয় আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। ইউরোপ-আমেরিকা-ক্যানাডা-অস্ট্রেলিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সরকারগুলোর অজস্র টাকা ও সহায়তায় মুসলিম অভিবাসী, ইসলামি সংগঠন, মসজিদ-মাদ্রাসা, ওয়াজ-মহফিল, রেডিও-টিভি চ্যানেল, এমনকি শারিয়া-ব্যাঙ্ক, শারিয়া-মিউচুয়াল ফাণ্ড, শারিয়া-ইকুয়িটি ইত্যাদি গত কয়েক দশকে বিস্ফোরিত হয়েছে কয়েকশ গুণ। মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি দিনার-দিরহামকে কোনো ধর্মনিরপেক্ষ সরকার বাধা দেয়নি হাজার হাজার মসজিদ ও ইসলামি সংগঠন বানাতে। উদ্ধৃতি দিচ্ছি ধর্মনিরপেক্ষতা-বিরোধী ইসলামি রাষ্ট্রপন্থী দৈনিক থেকে:

“জার্মানিতেই বর্তমানে আড়াই হাজারের ওপর মসজিদ রয়েছে। সে-দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন তাঁর সরকার জার্মানিতে আরও মসজিদ তৈরি করবে। একই ঘোষণায় তিনি এ-ও জানান, জার্মানির সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় জার্মান ভাষায় ইসলাম শিক্ষা দেওয়া হবে।… এ বোধোদয় ফরাসি প্রেসিডেণ্ট সারাকোজির মধ্যেও এসেছে।… উদ্যোগ নিয়েছেন যাতে তিনি ফ্রান্সে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে অর্থ সহায়তা দিতে পারেন। বৃটেন ইতোমধ্যে মুসলমানদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অর্থ সাহায্য প্রদান করেছে।… ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ইতালীয় ইসলামি সংহতকরণ’ নামে ইতালিতে মুসলমানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান চালু করেছেন। এভাবে ইউরোপের প্রায় সব দেশই রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে।”

[ইউরোপ ও ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৩ জুলাই, ২০০৮]

 

Secularism - 111
বাস্তবে এখন সেকিউলারিজমের অর্থও বদলে গেছে আমূল

 

আমেরিকার ডলারে লেখা নেই ‘ইন্ গড উই ট্রাস্ট’? আদালতগুলোতে বাদি-বিবাদিকে ধর্মীয় শপথ নিতে হয় না? সাংসদ ও রাষ্ট্রপ্রধানকে ধর্মীয় শপথ নিতে হয় না? কানাডায় সাংবিধানিকভাবে ক্যাথলিক স্কুলে প্রচুর সরকারি টাকা যায় না? সমস্ত ধর্মীয় স্কুলে সরকারি আর্থিক অনুদানের প্রস্তাব করেনি এক রাজনৈতিক দল? বিলেতের সরকার রাষ্ট্রীয় ট্রেজারি থেকে শারিয়া-বন্ড বাজারে ছাড়েনি? আমেরিকার ট্রেজারি ইসলামি ব্যাংকিংএর অনুমোদন দেয়নি? আমেরিকার সরকারি প্রতিষ্ঠান এআইজি শরিয়া-ব্যাঙকিং অনুমোদন দেয়নি?

লন্ডনের বিশাল মসজিদের জন্য দশ কোটি পাউন্ড সরকারি অনুদানের প্রস্তাব ছিল না? জার্মানির কোলনে বৈধভাবে সুবিশাল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে না? বিলেত ও জার্মানি তাদের আইনে মুসলিম নাগরিকদের জন্য বহুবিবাহের কিছু উপাদান গ্রহণ করেনি? লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিল আটত্রিশ হাজার পাউন্ড অনুদান দেয়নি কর্ডোভা ফাউণ্ডেশনকে? সরকারগুলো পুলিশ দিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর তত্ত্বাবধান করে না? করে।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলস শহরে সরকার শরিয়ার বিরুদ্ধে মিছিল নিষিদ্ধ করেনি? এক টরণ্টো শহরেই রেজিস্টার্ড ইসলামি সংগঠন একশ একুশটা! অনানুষ্ঠিানিক আরও কয়শ। ইংল্যান্ডে-জার্মানিতে-ফ্রান্সে প্রায় সাত হাজার বৈধ ইসলামি সংগঠন আছে। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো সাধারণত বিশাল জমির ওপরে বিরাট দালান হয়। অনেক দেশে সাংবিধানিকভাবে সেগুলোর সম্পত্তি-কর ও পানি-বিজলির কর মওকুফ করা হয় যার পরিমাণ বিপুল।

প্রশ্ন হল, সরকারগুলোর কি ক্ষমতা নেই এগুলোর প্রত্যেকটি বন্ধ করার? আছে, কবে করে না। বরং টরন্টোতে দেখি, স্কুল বোর্ডে প্রতি অক্টোবর মাসে সরকারি খরচে ‘ইসলামিক ঐতিহ্য মাস’ পালিত হয়।

ওপরের প্রত্যেকটি প্রশ্নের জবাব ইতিবাচক, অর্থাৎ হ্যাঁ। এরই নাম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। কাজেই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে ধর্মহীন বা ধর্মবিরুদ্ধ বলাটা প্রতারণামূলক অকৃতজ্ঞতা। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় কিছু ত্রুটি অবশ্যই আছে। যেমন এর ভেতর থেকেই বুশ-ব্লেয়ারের মতো গণহত্যাকরী দানব উঠে এসেছে। কিংবা দুর্নীতি, অস্ত্র ও পেশিশক্তির কারণে অনেক দেশে জনগণ ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারে না ইত্যাদি। কিন্তু বহু দেশে এটা অত্যন্ত সফলও। সময়ের বিবর্তনে জনগণের শিক্ষা-সচেতনতায় ত্রুটিগুলো কেটে যাবে আশা করা যায়।

কিন্তু ‘নিরপেক্ষতা’ শব্দের অর্থ ‘হীনতা’ হলে বলতে হয়, বিবেকহীন লোক আসলে বিবেক-নিরপেক্ষ লোক, প্রাণহীন দেহ আসলে প্রাণনিরপেক্ষ এবং বৃষ্টিহীন মরু আসলে বৃষ্টিনিরপেক্ষ মরুভূমি। দাবিটা ভিত্তিহীন, তা ব্যাখ্যার দরকার হয় না। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রধান কাজই হল অন্য ধর্মের লোকদের চেয়ে নিজ ধর্মের অনুসারিদের বেশি অধিকার ও সুবিধা দেওয়া। না হলে সেটা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রই হয় না। ফিলিস্তিনিরা কি ইসরাইলে সমান অধিকার পেতে পারে? পারে না। আমাদের জীবনকালেই ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারীরা ধর্মের নামে দুটো দেশ বানিয়েছিল– ইসরায়েল ও পাকিস্তান। দুটোই এখন সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। ভারতে হিন্দু রাষ্ট্রবাদীরা মুসলিমদের উপর কী তাণ্ডব চালাচ্ছে তা তো আমরা দেখছি।

ইসলামের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ব্যাখ্যার যে দ্বন্দ্ব সে জটিলতায় আমার পাঠকদের আমি এখনই টেনে নেব না যদিও সেটাও দরকার হবে ভবিষ্যতে। আপাতত বিশ্বমুসলিমের ওপরে ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ফলাফল দেখা যাক কারণ যতই মিষ্টিমধুর বাগাড়ম্বর করা হোক না কেন বৃক্ষের আসল পরিচয় তার ফলেই।

ইতিহাসের শিক্ষা কী? ইসলামী ইতিহাসের যে কোনো ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলে কিংবা ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে মুসলিম ইতিহাস মুসলিমের হাতে মুসলিমের ওপরে গণহত্যা, হত্যা, বিদ্রোহ, পাল্টা বিদ্রোহ, রক্তক্ষয় ইত্যাদিতে পরিপূর্ণ। “খলিফা” নামধারী গণহত্যাকারীদের হাতে ইসলাম পড়লে কি সর্বনাশ হয়, ইমাম গাজ্জালী থেকে তার উদ্ধৃতি দিয়েছেন মওলানা মওদুদি:

“বাদশাহদের প্রায় সব জমিজমা ও প্রাসাদ (রিয়েল এস্টেট) অবৈধভাবে অর্জিত। কাহারো উচিত নহে এসব সুলতানকে মুখ দেখানো বা তাহাদের মুখ দেখা। তাহাদের অত্যাচারের জন্য তাহাদিগকে ঘৃণা করা উচিত, তাহাদের অস্তিত্বকেই নিন্দা করা উচিত, তাহাদের প্রশংসা করা উচিত নহে…তাহাদের রাজপ্রাসাদ ও সাজ-পোশাককে নোংরা ও অনৈসলামিক ঘোষণা করা উচিত”… তিনি সকল মন্ত্রীদিগকে চিঠিতে লেখেন যে, − “স্বৈরতন্ত্রের অত্যাচার সকল সীমা অতিক্রম করিয়াছে। আমি এইস্থান ত্যাগ করিয়া যাইতেছি যাহাতে স্বৈরতন্ত্রের এই নিষ্ঠুর ও নির্লজ্জ কর্মকাণ্ড আমাকে দেখিতে না হয়।”

[এ শর্ট হিস্ট্রি অব্ দ্য রিভাইভালিস্ট মুভমেণ্ট ইন্ ইসলাম− পৃষ্ঠা ৬২-৬৩]

ইমাম গাজ্জালীর ইসলামি ব্যাখ্যার সাথে অনেকের দ্বিমত থাকতেই পারে এবং ছিলও। কিন্তু খলিফাদের অত্যাচারে তাঁর হৃদয়ের বেদনা এতে ফুটে উঠেছে। বস্তুত প্রায় প্রতিটি ইমামই এই কষ্ট নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন যে, ইসলামের নামে ভয়াবহ শাসন চলেছে। নেতাদের প্রতি আহ্বান রইল তাঁরা যেন কোন কিছু না লুকিয়ে জাতিকে প্রকৃত ইতিহাস শেখান। এটা আমাদেরই ইতিহাস, এর মুখোমুখি না হয়ে উপায় নেই আমাদের।

মুসলিম-সভ্যতার যা বিপুল অর্জন তা সেই কৌতূহলী, মানবদরদী এবং মেধাবী বৈজ্ঞানিকদের উপহার এখনও দুনিয়ার বৈজ্ঞানিকেরা স্মরণ করেন কৃতজ্ঞতার সাথে। হাতেগোনা দুএকজন জ্ঞানপিপাসু খলিফা ছাড়া এর সাথে মুসলিম খেলাফতের যোগ সামান্যই। ইউরোপের বিখ্যাত শরিয়া-সমর্থক বিশেষজ্ঞ বিলাল ফিলিপের বই ‘দি এভল্যুশন অব্ ফিক্হ্’-এর ১০৭ ও ১৩৯ পৃষ্ঠা থেকে সংক্ষেপে উদ্ধৃতি দিচ্ছি:

“এইভাবে ইসলাম ধর্মটি চার মজহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ হইয়া পড়িল। কেহ এই মজহাবের কোনোটিকেও না মানিলে তাহাকে ইসলাম-ত্যাগী ধরা হইত। এই অতিরিক্ত রক্ষণ-প্রবণতা এতদূর গিয়াছিল যে কোনো এক মজহাব ছাড়িয়া অন্য মজহাবের অনুসারী হইলে তাহার শাস্তি হইতে পারিত। হানাফি মজহাবে শাফি- অনুসারীদের সহিত বিবাহ নিষিদ্ধ করিয়া আইনও করা হইয়াছিল।”

তথাকথিত ‘ইসলামি’ রাষ্ট্রের এই অনাচার থেকে রেহাই পায়নি কাবা শরীফও। খেলাফতের দ্বন্দ্বে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সৈন্যেরা মক্কা আক্রমণ করে ভেঙে দিয়েছিল কাবার শরীফের দেয়াল, আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল তার চাদরে। এই হল তথাকথিত “ইসলামী রাষ্ট্র”-এর তাণ্ডব, অস্বীকার করতে পারবেন তথাকথিত “ইসলামীরাষ্ট্র”-এর প্রবক্তারা?

 

East London Mosque - 111
কাজেই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে ধর্মহীন বা ধর্মবিরুদ্ধ বলাটা প্রতারণামূলক অকৃতজ্ঞতা

 

বিলাল ফিলিপ বলছেন,

“এক মজহাবের অনুসারীরা অন্য মজহাবের ইমামের পেছনে নামাজ পর্যন্ত পড়িত না। এজন্য মসজিদের ভিতরে নামাজ পড়ার আলাদা জায়গা করা হইয়াছিল। কাবা ঘর পর্যন্ত বাদ যায় নাই। প্রত্যেক মজহাবের ইমামের জন্য কাবার চারিপাশে পৃথক চারটি মঞ্চ বানানো হইয়াছিল। আশ্চর্য যে, কাবা’র চারিপাশে এই পৃথক নামাজের জায়গা বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত অক্ষত ছিল। বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদি (সৌদি আরব ও সৌদী বাদশাহীর প্রতিষ্ঠাতা) ১৯২৪ সালের অক্টোবরে মক্কা বিজয় করিয়া মজহাব নির্বিশেষে একই ইমামের পিছনে নামাজে সব মুসলিমকে একত্রিত করেন।

এই হলো অবস্থা। যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম আবু হানিফাকে, ইমাম তাইমিয়াকে জেলখানাভেতরে হত্যা করেছিল “ইসলামীরাষ্ট্রের” খলীফারাই। ইমাম শাফি, ইমাম মালিক,ইমাম হানবলের ওপরে মর্মান্তিক অত্যাচার করেছিল “ইসলামী রাষ্ট্রের” খলীফারাই। ইমাম মালিকের সমর্থকরা ইমাম শাফি’কে এত মর্মান্তিকভাবে প্রহার করেছিল যে তাতেই তিনি কয়েকদিন পরে মৃত্যুবরণ করেন। চার ইমামের ওপরে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কেতাবের একটা “দ্য ফোর ইমামস”− আবু যাহরা, পৃঃ ২৭৩। এ-বইটা দুনিয়ার সর্বোচ্চ গবেষকেরা সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, যেমন ইখওয়ানুল মুসলেমীনের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্নার নাতি ডঃ তারিক রামাদান। এই খেলাফত ফিরে পেতে চাই আমরা? কখনোই নয়!

শারিয়া অতীতে ন্যায়ভিত্তিক বিচার-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল একথাও ঠিক নয়। আইনগুলো পড়ে দেখুন, ও-আইনে ন্যায় বিচার হওয়া সম্ভব নয়। অসংখ্য আইন ও মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে ড. আমিরা আজহারি তাঁর ‘উইমেন, দ্য ফ্যামিলি অ্যাণ্ড ডিভোর্স ল’জ ইন ইসলামিক হিস্ট্রি’ বইতে দেখিয়েছেন অতীতেও শারিয়া-রাষ্ট্রে মুসলিম নারীর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এমনকি তাঁদের ন্যায্য অধিকার ছেড়ে দেবার জন্য শারিয়া কোর্ট নতুন এক কোরান-বিরোধী ফর্ম বানায় যাতে নারীরা বাধ্য হয়ে সই করত। উদাহরণ দিচ্ছি-

“…তালাকের পর মোহর আদায় করা স্ত্রীদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য ছিল……সতেরো ও আঠারো শতাব্দীতে প্রচুর খুলা হইত। খুলা পদ্ধতিতে স্ত্রীকে যে কোন প্রাপ্য, এমনকি স্ত্রীর নিজের ও সন্তানদের ভরণপোষণও পরিত্যাগ করিতে হইত। এই জন্য খুলার দলিলে এক অতিরিক্ত কাগজ সংযোজিত করা হয়। উহাতে সন্তানদের নাম, পিতার নাম ও সন্তানদের খরচের ব্যাপারে (স্বামীর দায়িত্ব নাই, এই ব্যাপারে – লেখক) স্ত্রীর স্বীকৃতির কথা লিখা থাকে। ভিদিন অঞ্চলের হাওয়া খাতুন ১৭৮৩ সালে স্বামীকে খুলা-তালাক দেয়। তাহাকে মোহরের ৪০০০ অ্যাক্সেসের (তৎকালীন তুর্কী টাকা) অপরিশোধিত ১০০০ অ্যাক্সেস এবং ভরণপোষণের অর্থ পরিত্যাগ করিতে হয়…। জুলাই ১৮০২ − ইস্তাম্বুলের হালিমা খাতুন আসিয়া দাবি করিল যে মোহর পরিত্যাগ করিবার জন্য তাহার স্বামী আহমেদ তাহাকে খুলার জন্য চাপ দিতেছে…। দুর্নীতিপরায়ণ কাজিরা ষড়যন্ত্র করিত ও ঘুষ খাইত”

(পৃঃ ৮৯, ৯২, ১০০, ১০৪, ইত্যাদি)।

ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ইহুদী-খ্রীষ্টানদের পাদ্রী-রাবাইরাও বানায়নি, গীর্জাতেও বানানো হয়নি। ওগুলো সংসদে বসে বানিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানীরা যাঁরা আধুনিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত, বাইবেল-এ নয়। সমাজ-বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে সংবিধানকে পরিবর্তন করছেন জনগণের নির্বাচিত সাংসদেরাই, গীর্জার পাদ্রী-রাবাইরা নন। ঠিক যেমন বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে বহু কষ্টের গবেষণায় বানিয়েছে বহু ওষুধ যা আমাদের প্রাণ রক্ষা করে বা দালান-ব্রিজ-কারখানা ও শিল্পায়নের প্রযুক্তি দেয়।

তাই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি “ইহুদী-খ্রীষ্টানদের শয়তানি ষড়যন্ত্র” ও “কুফরি আকিদা” হয় তবে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের আবিষ্কৃত টুথব্রাশ চিরুণি থেকে শুরু করে বক্তৃতার মাইক বাস ট্রাক কাপড় হিটার এয়ারকণ্ডিশনার জুতো মাথাব্যথার ট্যাবলেট বুড়ো বাবা-মা’র ইনসুলিন কম্পিউটার রেডিও টিভি গাড়ি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি হাজারো ওষুধ সবই “ইহুদী-খ্রীষ্টানদের শয়তানি ষড়যন্ত্র” এবং “কুফরি আকিদা” হতে হয়।

শরীয়াপন্থীরা দাবী করেন যে, ধর্মনিরপেক্ষতা আসলে ধর্মহীনতা। যেখানে মানুষের জীবন ঘিরে আছে হাজারো ধর্মনিরপেক্ষ উপাদানে সেখানে রাষ্ট্রপরিচালনায় ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতা দাবী করলে মিথ্যাকে জায়েজ করা হয়। এই মিথ্যার সাথে যোগ হয়েছে আল্লাহ-রসূলের নামে ভয়াবহ তথাকথিত “ইসলামী” রাষ্ট্রের আইন:

• “যদি উদ্দেশ্যটি বাধ্যতামূলক হয় তবে মিথ্যা বলা বাধ্যতামুলক” শাফি আইন নং আর.৮.২। অর্থাৎ যিনি ধর্মীয় রাষ্ট্রকে বাধ্যতামূলক মনে করেন তার জন্য ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতা, এই মিথ্যা বলাও বাধ্যতামূলক।তাই এ-উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, জঙ্গীতন্ত্র, বিদেশ থেকে গোপন অর্থ-সমাগম, গোপন অস্ত্রশিক্ষা, গোপন জঙ্গী সাহিত্য ইত্যাদির ব্যাপারেও মিথ্যা বলা বাধ্যতামুলক। কি ধরণের ইসলাম এটা? ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ওরকম ইসলামবিরোধী আইন হয় না, সেখানে হয় “তোমরা সাক্ষ্য গোপন করিও না… মিথ্যা বলা থেকে দূরে থাকো … সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না” – বাকারা ২৮৩ ও ৪২, মায়েদা ১০৬, ইমরাণ ১৬১, সুরা হজ্ব ৩০ ইত্যাদি।

সে নির্দেশ লঙ্ঘন করলে কি হবে ? “তাদের মিথ্যাচারের দরুণ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আজাব” বাকারা ১০।

কাজেই, “বিশ্বকে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রধারণা থেকে বের হতে হবে”, হবেই !সেই সাথে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথাও মনে রাখতে হবে। দেশ ধর্ষকের স্বর্গরাজ্য হবে, ব্যাংক লোপাট হবে, দুর্বৃত্তদের দাপটে ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগনের নাভিশ্বাস উঠবে, সরকারী ক্যাডার ও রাজনীতিবিদেরা নির্লজ্জভাবে ক্রমাগত দখল করবেন সরকারী সম্পত্তি, নদী খাল আর হিন্দুদের সম্পত্তি, সংসদে গালাগালি হবে, সরকারের প্রতিটি বিভাগ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাবে অথচ জনগণ বীতশ্রদ্ধ মরিয়া হয়ে বিকল্প খুঁজবে না তা হয় না।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি, বিশেষ করে সে বিকল্প যদি “আল্লার হুকুম” বলে প্রচার করা হয়। আর সেই কারণেই এই বীতশ্রদ্ধ মানুষগুলোকে এতো সহজে আল্লাহ-রসুলেরনামে ইসলাম বিরোধী আইন দিয়ে প্ররোচিত করা যায়।

হাসান মাহমুদওয়ার্ল্ড মুসলিম কংগ্রেসের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য, মুসলিমস রিফর্ম মুভমেন্ট ও আমেরিকান ইসলামিক লিডারশিপ কোয়ালিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য

৩৩ Responses -- “ধন্যবাদ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি”

  1. Mohammad Jahirul Islam

    Amar Ja mone holo ta holo writter Main point holo Bangladesh Jeno Kokhono Soriah Rules Used na hoi…or,airokom kono political party jeno na ase jara sudu soriah rules chalate pare….jodi tara ase tara hoitu islam ar kharap sasoner manus gulor moto hobe tara valo hote parbe na…ami o akmot ay kothar sathe.. prithibi akhon Huge Update Akhon apni 100℅ religion Everyday Life A Use korte parben na…Tai akhon bangladesh ar moto deshe na ata kokhono hobe …na age hoise…Ami Writter Lekhar kono Importance dekhte passi na…Manush Akhon Onek Update …Jar dormo se Tar moto palon kore abar update prithibir sathe mile Sob kore….Akhon R Kono deshe Female ke Baje Chokhe Dekha hoi na.. female Ra o Akhon purusher moto Jekono Kaj korte pare..Soudi Arabia Porjonto Akhon Female Der Freedom disse Sekhane BD ar Moto Islamic country ar kotha ki bolbo… Jai Bolle Ses Hobe na …tobe Ai toko bolbo BD Agami 100 Years A O kono Islami Soriah party power A Asbe na…Muslim Religion Sotto Ata Prithibir onno Sob Dormer Sobai Jane…hoitu kew bole kew bole na….Arpor Islam Dorme Fire Asa…agulo Normal Sobai Jane…Akhon prithibir manus chai Peace…Jar dormo Se palon korbe ..kono Restriction nei . tobe apni Apnar dormo prokash O pochar korte parben pacefully…Jekono Allah Al-Quarn A nije bolecen…”Diner Upor Kono Jor Jobor dosti nei…” Tobe As A muslim Ami Chai Sara prithibir Manus Islam Dormo Aceept koruk…Islam Anujai Jipon Japon koruk..tahole prithibite neme asbe santi…prithibir manush ke or,apnar nearest people ke Islam muki korar jonno political power ar proyojon nei…proyojon apnar honesty,good charecter,good behaviour…and dormo palone apnar Eligibity…taholei Se apnake follow korbe…..One time Whole world will Be told like this…Only Islam Is Real…💚💛💛

    Reply
  2. Aminul Islam

    Excellent and timely writing on the subject. The entire Islamic World is very badly misguided in the name of Sharia. That Sharia is far away from real Islamic teachings and values are not conceded by even the learned religious leaders mainly for personal and group benefits. May GOD help us. Thank you Mr. Hasan Mahmood for your excellent exposition of the reality of wrong values of Sharia.Keep going as long as GOD allows you time and energy.Amen.

    Reply
  3. Aminul Islam

    The entire Islamic World is going through a terrible turmoil because of wrong and misguiding interpretation of Islam. Your writings/comments are appropriate and timely. Excellent efforts. May God help you keep good health and allow you time and energy to go on writing more on the same theme. This may help the believers of Sharia understand the real nature of Islam and the misguiding nature of Sharia that is making our life hell. Good luck Mr. Hasan mahmood and GOD speed.

    Reply
  4. স্বপন

    এখানে সকল রেফারেন্সের ক্ষেত্রে যথাযথ ভাবে বিবরন দেওয়া হয় নাই। যিনি লিখেছেন তারা লেখার ক্ষেত্রে ভুল রয়েছে

    Reply
  5. nitul

    “এসব জিহাদি এবং কট্টরপন্থীরা আসলে বিপথগামী মানুষ। এরা বাঁচে ঘৃণার ওপর, এবং অশুভ শক্তি তাদের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে,”

    Reply
  6. Rasha

    I read the article carefully and a very big thanks to the writer. After that I tried to understand all the comments from reader,now I am afraid of Mr. Redwan Khan as his understanding is so poor! if we have many people like him then the country people are at danger!
    Following all the rituals and living life in the path of Islam is so good fort an individual but when it comes State/country,it should be out of Religion or Sariah!

    Reply
    • Redwan Khan

      বান্দা রেদোয়ানের মতো করেই পৃথিবীর সব আলেম দ্বীন বোঝে। অর্থাৎ আমি প্রজ্ঞাবান আলেমদের অনুসরণে দ্বীন বুঝার এবং মানার চেষ্টা করি। গায়ক বদকদের মতো বদ -দ্বীন বুঝার আমার দরকার নাই।

      Reply
    • Redwan Khan

      বান্দা রেদোয়ানের মতো করেই পৃথিবীর সব আলেম দ্বীন বোঝে। অর্থাৎ আমি প্রজ্ঞাবান আলেমদের অনুসরণে দ্বীন বুঝার এবং মানার চেষ্টা করি। গায়ক বাদকের মতো বদ -দ্বীন বুঝার আমার দরকার নাই।

      Reply
  7. সুকুমার

    আমার মনে হয় এই লেখায় লেখকের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল, বিভিন্ন ধর্মকে হেয় করা, কিংবা তার কূৎসা রটানো।।।। বিশেষ করে সনাতন ধর্ম নিয়ে যেভাবে রেফারেন্স দিয়ে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে,,, তাতে উদ্দেয়শ্য সফল।। আমার কথা হল উনি এসব উদাহরন, আর রেফারেন্স কোথায় পেয়েছেন আমি জানি না।।।। কিন্তু বেশির ভাগ রেফারেন্স ই মন গরা।।। জানিনা উবি কোন ধর্মীয় বই থেকে এসব উদাহরন নিয়েছেন,, নাকি কোন পন্ডিত লেখকের বইথেকে এসব লেখাকে রেফারেন্স হীসেবে নিয়েছেন।।।।। তবে আমি বলব কোন কিছু লিখলে সঠিক রেফারেন্স নিয়ে লিখবেন।।। ভুল ভাল রেফারেন্স আর তথ্য দিয়ে পাঠকদের বি ভ্রান্ত করবেন না।।।।। আমার মতে এটা আপনার লিখা গুলো ভয়াবহ তথ্য সত্রাস এর মধ্যে পরে।।।।। সাধ্য থাকলে আপনার এই লিখার জন্য কোর্টো মামলা করতাম।। কেননা আপনি আপনার লেখার মধ্যে নিজের মনগরা লেখা লিখে পাঠককে বিভ্রান্ত করছেন।। আর নিজেকে দাবি করছেন একজন মানবিক লেখক বলে।। যা কখনই শোভা পায় না

    Reply
  8. Qudrate Khoda

    Brilliant as usual!
    Very logical, informative, analytical and useful article.
    May Hassan Bhai live long and continue to write for the benfit of the poor, wretched Bangali Muslim.

    From America

    Reply
  9. Stupid Buster

    janab redoyan
    mr. hasan mahmood didn,t asked you to quite islam, instead he advised to you people to get cleared from the dirty mind controlled,like ISIS, and then become a real ashraful mokhlukat.

    Reply
    • Redwan Khan

      Mr. Stupid, আপনাকে ওই নাম ডাকতে আমার লজ্জ্বা লাগছে , কি উত্তর দিবো বুঝতে পারছিনা। তারপরও না লিখে পারছিনা .
      ইসলামের মৌলিক বিষয় ,সাহাবাদের জীবনী ,নবীজির সঃ জীবনী ইত্যাদি আপনি বিজ্ঞ কোনো আলেমের তত্ত্বাবধানে জানুন। যদি শুধু নিজে পড়তে চান তবে কোনো প্রশ্ন হলে বিজ্ঞ আলেমকে জিজ্ঞাসা করুন নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নিলে গোমড়া হওয়ার আশংকা থাকে। যেমন মানুষ কোনো অজানা দেশে যেতে চাইলে টুরিস্ট গাইডের সাহায্য নেয়, রোগের কারণ হলে মানুষ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়, বাড়ি বানাতে ইঞ্জিনীয়ারের সাহায্য নেয়, এমনকি চুল কাটলে নাপিতের সাহায্য নেয় আর ধর্মরের মতো এমন বিষয় যা মানুষকে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দিবে এমন বিষয় কেন আলেমের সাহায্য নিতে হবেনা ? তবেতো দিন প্রচারের জন্য নবীদের দরকার ছিলোনা নবীকে সাহায্য করার জন্য সাহাবাদের দরকারছিলোনা। কোরান কোনো পাহারার চূড়ায় আল্লাহর হুকুমে জিব্রিল আ : রেখে দিতেন আর ঘোষণা দিতেন তোমরা পরে দেখো।

      যারা ইসলাম সম্পর্কে কিছু মাথা মোটা যুক্তির পিছনে পরে যারা ইসলামের আসল চাওয়া , আমাদের কাছে ইসলামের কি দাবি ইত্যাদি ভুলেযায় তাদের বিজ্ঞ কোনো আলেমের নিকট কাউন্সেলিং এর প্রয়োজন। সর্বপ্রথম যুক্তি দিয়েছিল ইবলিশ। তাকে সেজদা করতে বলায় সে বলেছিল ”আমি আগুনের তৈরী আর সে (আদম) মাটির তৈরী” অর্থাৎ আগুনের ধর্ম উপর উঠা আর মাটি সসময় নিচে থাকে। কিন্তু শয়তান ভুলে গিয়াছিল যে , আল্লাহর আদেশ পালন করাই বড় যুক্তি হওয়ার কথা ছিল। সাহাবারা রাদি: তো বলতেন ”আমরা শুনলাম আর মানলাম”

      হাসান মাহমুদ কি মেসেজ দিচ্ছেন তা বুঝতে না পাড়ার মতো কোনো কারণ আমার নাই তার মেসেজ ইসলামের ওই শিশুটিও বুঝতে পারবে যে কিনা কিছুদিনের জন্য কোনো (প্রজ্ঞাবান) আলেমের সাথে উঠাবসা করেছে। আমাদের সমস্যা হল আমরা আলেমদের সম্পর্কে খুব ভুলধারণা নিয়ে বড় হই। আমাদের ধারণা মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। আসলেই তো যার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত সে অবশ্যই আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে। কারণ মসজিদ আল্লাহর ঘর। সে যাই হোক ইসলাম সম্পর্কে এমন সব ধারণা যা খরুল কুরুনে (সাহাবা,তাবিঈ,তাবিতাবিঈ )ছিলোনা তা আমরা অনুসরণ করিনা। হাসান মাহমুদ বড়োজোর একজন কবি, গায়ক, নাট্যকার, সাংস্কৃতিক কর্মী। তিনি কোনো ইসলামিক ব্যাক্তিত্ব নয় তাই তাকে ফলো করার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ আমাদের নাই।

      Reply
      • Stupid-Buster

        Dear Mr redowan
        You are really an unfortunate creature who had lost his identity due to your Kakatua nature. Otherwise, you could had realised that you are referring some thing but the same you are percepted in a wrong way; such as the word AMAR you are explaining it as AMADER.
        Thus I termed you as a stupid, thusly my name is Stupid-buster, which means ousting all the stupid ,like you, from the society.

      • Redwan Khan

        দুঃখিত জনাব ইয়ে, আপনি বোধহয় কখন আমার আর কখন আমাদের ব্যবহার হয় এবং এটা কি অর্থ বহন করে তা বুঝতে পারছেননা। আপনার ধর্মের জ্ঞানের সাথে বাংলার জ্ঞান দেখে বিস্মিত হচ্ছি !

      • মাতুব্বর আজাদ অভিজিৎ

        আপনাদের মত জঙ্গিবাদে সমর্থন যারাই দেবেনা তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুয়া হলেও তারা ষ্টুপিড আপনাদের কাছে। যারা আপনাদের মত সুঁই হয়ে ঢুকে সেলাই হয়ে বের হবার নীতিতে বিশ্বাস করেনা তারাই ষ্টুপিড আপনাদের কাছে। যারাই আপনাদের মত নিজের বেলায় অধিকার অন্যদের বেলায় বিদ্বেষ মনে করেনা ধর্মপালনকে তারাই ষ্টুপিড।

  10. Redwan Khan

    মানুষের শরীরে ফোঁড়া উঠে, তাই বলে কেউ পুরো শরীরের দোষ খুজেনা। সমান্য ফোঁড়ার জন্য কেউ তার শরীরকে আস্তাকুড়ে ফেলে দেয় না। সে ফোঁড়ার চিকিৎসা করে। কোরানের শরীফের উপর কেউ ময়লা আবর্জনা রাখলে (নাউযুবিল্লাহ) কোরান বেদামি হয়না বরং যেই ব্যাক্তি এই জঘন্য কাজ করেছে সে নিকৃষ্ট হয়েছে। ইসলামী খেলাফতে কেউ কেউ যেমন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ জুলুম করলে সেটা তার ব্যক্তি জীবনের উপর কলংকের ছাপ পড়েছে পুরো ইসলামের উপর নয়। হাজ্জাজ ইসলামের বা খেলাফতের রোল-মডেল নয়। খেলাফতের রোল মডেল হলেন ৪ খলিফা রাদি: এবং তাদের অনুসরণে ওমর বিন আব্দুল আজিজ রঃ।

    কবি বলেন, ”বাগান দেখে বুঝে নাও কেমন আমার বসন্ত” ইসলামকে ছেড়ে অন্য কিছু আমি কেন গ্রহণ করবো ? ধর্মকে টিকিয়ে রাখতে অধার্মিক রাষ্টের উদাহরণ টেনে আনা বোকামি ছাড়া কিছু নয়। ইসলাম ছেড়ে যে অন্য কারো অনুসরণ করবে তার সম্পর্কে হাদিসে এসেছে – عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ) رواه أبو داود (اللباس / 3512) قال الألباني في صحيح أبي داود : حسن صحيح . برقم (3401 অর্থাৎ যে ব্যক্তি যে জাতির অনুসরণ করবে সে ব্যক্তি সে জাতির অন্তর্ভূক্ত হবে।
    আল্লাহ তায়ালা বলেন,ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَىٰ شَرِيعَةٍ مِّنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ অর্থঃ অতঃপর আমি আপনাকে শরীয়াত উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং আপনি তার অনুসরন করুন। আর আপনি অজ্ঞদের খেয়াল খুশির অনুসরন করবেন না।-৪৫/১৮
    সুতরাং আমরা এমন লোকদের অনুসরণ করিনা যারা বলে শরীয়াত মানুষের সৃষ্টি-নাউযুবিল্লাহ ! যাদের কোরানের প্রাথমিক জ্ঞান নাই তারাই আজ ইসলামের মোড়কে বাতিল মনগড়া সব মতবাদ রপ্তানি করছে।

    Reply
    • Stupid Buster

      I don’t think mr. redowan had correct understanding about koran or islam.
      as per his argument , no organization or group,like jamat or chatro-league chatro-dal shibir, can be blamed because of wrong doing by its some members. or allah didn`t even arranged islam for his bandah in this world.

      Reply
  11. Logical Viewer

    Apni ekti new model er onek dami car kinlen. Kintu apni driving na jene car calie kichu manush kill korlen. Problem ta apni driving na jene car drive korechen. Ekhane car er kono problem nai. Islami state ekti driver and allahor rasul (SM) soho 1st 4(Four) khalipah chilen trained driver. Tader model follow kore islami state nie comment korun. Jodio jani apni apnar analysis theke shorben na. Kintu neutral viewer jate vhul concept na accept kore ekarone comment kora.
    Onekgula bad statement diechen Hinduism nie, kintu Al quarn theke non-logical ekta statement o dite parben na. Onno dormo gulo bad experience er jonno islam responsible n

    Reply
    • Stupid Buster

      yes you are correct mr logical viewer
      mr. hasan mahmood asked the same. such as , to trained the driver like you to drive the car (islam) safely and correctly. otherwise, people like logical viewer and redowan khan will genarate new isis or bokoharam or jmb…

      Reply
  12. Redwan Khan

    যখন নিজের মতের সাথে মিলেনা তখন বুখারীর হাদিস পরিত্যাজ্য, কুরআনের তাফসীরের বেলায় ইবনে আব্বাস গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু যখন মতের সাথে মিলে তখন বাতিল পন্থীর আমীর মৌদুদীর অনুবাদ খুব মনে ধরে। এর উধাহরণ যেন উটকে বোঝা বহন করতে বলায় সে বললো আমিতো উঠ পাখি আমি কিভাবে বোঝা বহন করবো, তো যখন তাকে উড়তে বললো তখন বললো আমিতো মরুচারী উঠ আমি কিভাবে উড়বো !

    Reply
  13. Redwan Khan

    আজকাল ইসলাম সম্পর্কে আজব কিছু থিম শুনি এবং খুব আহত হই। যেই দ্বীনের জন্য রসূল সঃ ওহুদে দান্দান শহীদ করেছিলেন, তায়েফে জুতা মুবারকে রক্ত জমা হয়ে আটকে গিয়েছিল, উম্মতের নাজাতের চিন্তায় তিনি সারাক্ষন চিন্তিত থাকতেন, সাহাবারা রাদি: তাদের জান-মাল সব অকাতরে ইসলামের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন ঘর ছাড়া হয়েআছেন, স্ত্রীদের বিধবা করেছেন, সন্তানদের এতিম করেছেন তাদের কুরবানীর বিনিময় আমরা আজ মুসলমান। আল্লাহকে আল্লাহ বলে ডেকে হৃদয়ের তৃষনা মিটাচ্ছি। সেই দ্বীনের ব্যাপারে এমন সব নতুন ধ্যান-ধারণা যা সাহাবা রাদি: জানতেননা সেই সবের এখন ব্যাপক চর্চা প্রচার আমাদের নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। এই সম্পর্কে মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মালেক রবিউল আউয়াল ১৪৩১ . মার্চ ২০১০ আল-কাউসারে আলোচনা করেছিলেন :

    প্রশ্ন : জনাব, দৈনিক কালের কণ্ঠে (১৯/০২/২০১০ ঈ.) ‘ইসলাম ধর্ম রাজনীতির উর্ধ্বে’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রবন্ধটি পড়ে খুব আশ্চর্য হয়েছি। কেননা, এতে দাবি করা হয়েছে যে, ইসলাম ও রাজনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয় এবং ইসলাম রাজনীতির প্রসঙ্গে অনুপ্রবেশ করে না। কুরআন, হাদীস ও ইসলামী শরীয়তে রাজনীতি সম্পর্কে কোনো বিধি-বিধান নেই। মদীনা-মুনাওয়ারা ইসলামী রাষ্ট্র ছিল না; বরং তা ছিল একটি ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র! আর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো ইসলামী রাষ্ট্রের নয়, তিনি ছিলেন মদীনা-রাষ্ট্রের কর্ণধার! বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্রের কোনো ধারণা দ্বীন ও শরীয়তে নেই!’
    আমার জানা মতে উপরের কথাগুলি সম্পূর্ণ ভুল, কিন্তু প্রবন্ধকার তার আলোচনায় কিছু যুক্তি-প্রমাণও উপস্থিত করেছেন। এজন্য কারো মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। আমার কাছেও কিছু কথা জিজ্ঞাস্য বলে মনে হয়েছে। আশা করি, এ বিষয়ে আলোকপাত করবেন।
    আরেকটি বিষয় এই যে, দৈনিক নয়াদিগন্তে (০৭/০২/২০১০ ঈ.) কাদিয়ানীদের বাৎসরিক সম্মেলনের উপর একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বক্তারা বলেছে যে, ‘কুরআন-হাদীসের কোথাও শরীয়া আইন ও ইসলামী রাজনীতির কথা নেই এবং আহমদিয়া জামাতের আকীদা হল, ইসলাম ও রাজনীতি দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’
    আমার ধারণা ছিল যে, খতমে নবুওয়তের আকীদাকে অস্বীকার করা এবং ভণ্ড, মিথ্যাবাদী গোলাম আহমদ কাদিয়ানীকে নবী বলে স্বীকার করার কারণে কাদিয়ানী সমপ্রদায় কাফির। এখন মনে হচ্ছে যে, তাদের আকীদায় আরো অনেক কুফরী বিষয় রয়েছে। আমার জিজ্ঞাস্য এই যে, তারা কি প্রকৃতপক্ষেই এমন আকীদা পোষণ করে, না এটি ওই সম্মেলনের বক্তাদের নিজস্ব মত, যা তারা আহমদিয়া জামাতের উপর আরোপ করেছে? আশা করি, বি্স্তারিত লিখে আশ্বস্ত করবেন।
    হাবীবুর রহমান বিন আবদুল হাকীম বাগেরহাট, খুলনা
    উত্তর : প্রত্যেক মুসলমানের ‘জরুরিয়্যাতে দ্বীন’ সম্পর্কে (অর্থাৎ দ্বীনের স্বতঃসিদ্ধ ও মৌলিক বিষয় সম্পর্কে) সহীহ ইলম ও বিশুদ্ধ ধারণা থাকা অপরিহার্য। একজন পাঠককে অন্তত এই পরিমাণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী হওয়া আবশ্যক, যাতে সে গলদ আকীদাধারী বর্ণচোরা লেখক, কলামিস্টদের মিথ্যাচার বা অপব্যাখ্যায় বিভ্রান্ত না হয়। বর্তমান সময়ে চিন্তা ও কলমের অনাচার এত প্রবল যে, কে কাকে বাধা দেয়! মিথ্যাকে প্রতিহত করার যে তিনটি উপায় ছিল, অর্থাৎ ভদ্রতা ও শরাফত, আখিরাতের ভয় এবং চার আসমানী কিতাবের সঙ্গে অবতীর্ণ পঞ্চম বস্ত ‘আলহাদীদ’ (বা ডাণ্ডা), কোনোটাই তো কার্যকর নেই। প্রথম দুই বস্তুর কথা তো বলাই বাহুল্য। এসব থেকে পাকছাফ থাকাই প্রগতিশীলতা ও মুক্তবুদ্ধির প্রথম শর্ত। অতএব আমাদের বুদ্ধিজীবী সমপ্রদায়ের নিকট এসবের আশা করাও অন্যায়। আর শাসনের দণ্ড তো আজকালকার দিনে থাকে আল্লাহর দুশমন-শ্রেণীর হাতে। অতএব তাদের লেখালেখিতে যদি আপনি এ ধরনের কুফরিয়াত দেখেন, এমনকি তাতে যুক্তি-প্রমাণ এবং হাওয়ালা-উদ্ধৃতিও দৃষ্টিগোচর হয় তাতেও আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই সমপ্রদায়ের লোকেরা তো খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ মিথ্যাচার করে থাকে।
    আপনি যে প্রবন্ধ ও প্রতিবেদনের কথা বলেছেন তা এখন আমার সামনে রয়েছে। আমি তো এখানে কোনো যুক্তি-প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি না, শুধু কতগুলি অসার দাবির সমষ্টি। সেগুলোও স্ববিরোধিতায় পূর্ণ! আর ‘প্রমাণ’ হিসেবে কিছু থাকলে সেটিও অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত। ‘যুক্তি’ বা ‘প্রমাণ’ বলা যায় এমন কিছুর অস্তিত্ব এখানে নেই।
    লেখকের স্ববিরোধিতার একটি দৃষ্টান্ত লক্ষ করুন :
    সে একদিকে দাবি করেছে যে, ইসলামে রাজনীতির বিষয়ে কোনো বিধান নেই, অন্যদিকে দুইবার রাজতন্ত্রকে ইসলামবিরোধী বলেছে। প্রশ্ন এই যে, ইসলামে যদি রাজনীতি সম্পর্কে কোনো কিছুই না থাকে তাহলে ইসলামে রাজতন্ত্র নিষিদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত সে কোথায় পেল?! উল্লেখিত প্রবন্ধ ও প্রতিবেদন দু’টোতেই মদীনা-সনদের উল্লেখ দেখা যাচ্ছে। তারা এই ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছে যে, মদীনা-সনদের কোথাও মদীনার রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ইসলাম হবে বা তা শরীয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে এমন কথা বলা হয়নি। প্রশ্নোক্ত প্রবন্ধে তো নির্লজ্জভাবে এই দাবি করা হয়েছে যে, মদীনা ছিল একটি ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র! দেখুন, মদীনা-সনদে পরিষ্কার বলা আছে-
    وإنه لا يحل لمؤمن أقر بما في هذه الصحيفة، وآمن بالله واليوم الآخر أن ينصر محدثا أو يؤويه، وإن من نصره أو آواه، فإن عليه لعنة الله وغضبه يوم القيامة، ولا يؤخذ منه صرف ولا عدل وإنه مهما اختلفتم فيه من شيء فإن مرده إلى الله وإلى محمد
    কিছুদূর যেয়ে ইহুদীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দফাগুলোতে বলা হয়েছে-
    وإنه ما كان بين أهل هذه الصحيفة من حدث، أو اشتجار يخاف فساده فإن مرده إلى الله وإلى محمد رسول الله (صلى الله عليه وسلم) وإن الله على أتقى ما في هذه الصحيفة وأبره.
    (মাজমূআতুল ওয়াছাইকিছ ছিয়ছিয়্যাহ লিল‘আহদিন নববী ওয়াল খিলাফাতির রাশিদাহ, ড, হামীদুল্লাহ পৃ. ৬১, ৬২; আল মুজতামাউল মাদানী ফী ‘আহদিন নুবুওয়াহ, ড. আকরাম জিয়া আল-উমারী পৃ. ১২১, ১২২) উপরোক্ত দু’টি গ্রন্থে এই ‘সনদে’র মূল সূত্রগুলো দেওয়া আছে।
    গিয়োমকৃত সীরাতে ইবনে হিশামের ইংরেজি অনুবাদ যা (The life of Muhammad (a translation of Ibn-Ishaq’s Sirat Rasulallah) নামে প্রকাশিত, তার ২৩১-২৩৩ পৃষ্ঠায় এই সনদটি বিদ্যমান রয়েছে। তাতে উপরোক্ত দফাগুলির যে তরজমা করা হয়েছে তা হুবহু তুলে দিচ্ছি-
    It shall not be lawful to a believer who holds by what is in this document and believes in God and the last day to help an evil-doer or to shelter him. The curse of God and His anger on the day of resurrection will be upon him if he does, and neither repentance nor ransom will be received from him. Whenever you differ about a matter it must be referred to God and to Muhammad. If any dispute or controversy likely to cause trouble should arise, it must be referred to God and to Muhammad the apostle of God. God accepts what is nearest to piety and goodness is this document.
    ইসলামিক ফাউণ্ডেশন থেকে প্রকাশিত সীরাতে ইবনে হিশামের বাংলা অনুবাদ থেকে উপরোক্ত দফাগুলির তরজমা তুলে দিচ্ছি-
    ‘২৩. আর যে মুমিন ব্যক্তি এই লিপির বক্তব্য স্বীকার করে নিয়েছে আর সে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে, তার জন্য কোন নতুন ফিতনা সৃষ্টিকারীকে সাহায্য করা বা তাকে আশ্রয় দান বৈধ হবে না। যে ব্যক্তি তাকে সাহায্য করবে বা আশ্রয় দেবে, তার প্রতি আল্লাহর লা’নত ও গযব হবে কিয়ামতের দিনে এবং তার থেকে ফিদয়া (মুক্তিপণ) বা বদলা গ্রহণ করা হবে না।’ ২৪. আর যখন তোমাদের মধ্যে কোন বিরোধ উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ তাআলা ও মুহাম্মাদ (সা.)-এর নিকট তা উত্থাপন করতে হবে।’ ৪৬. ‘এই চুক্তিনামা গ্রহণকারী পক্ষসমূহের মধ্যে যদি এমন কোন নতুন সমস্যার বা বিরোধের উদ্ভব হয়-যা থেকে দাঙ্গা বেঁধে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয় তাহলে তা আল্লাহ তাআলা এবং আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সা.)-এর নিকট মীমাসাংর্থে উত্থাপিত করতে হবে। … (সীরাতুন নবী (সা.) খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৯-১৮০)
    এই ‘সনদে’ কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানকে সর্বোচ্চ আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি? আর এমন সুস্পষ্ট ঘোষণা কি কোনো ধর্ম-নিরপেক্ষ সমাজের সংবিধানে থাকতে পারে?
    সহীহ হাদীসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন-
    لا يجتمع دينان في جزيرة العرب
    অর্থ : জাযিরাতুল আরবে দুই দ্বীন একত্র হবে না।-মুয়াত্তা ইমাম মালিক পৃষ্ঠা ৩৬০
    এগুলো কি প্রমাণ করে যে, মদীনা ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র ছিল?
    গোড়ার কথা হচ্ছে, সর্বযুগের বাতিলপন্থী লোকেরা হীনম্মন্যতার শিকার হয়ে থাকে। আমার ধারণা, বর্তমান যুগের বাতিলপন্থীদের মাঝে এই ব্যাধি আরো প্রকট। এজন্য তারা তাদের লালিত কুফরী চিন্তাগুলোকে নিজেদের পক্ষ থেকে বলার মতো সাহস সঞ্চয় করে উঠতে পারে না। ফলে কুরআন-হাদীস, সীরাত-তারীখ, ফিকহ-তাফসীর এবং ইসলামী আকাইদের মধ্যে বিকৃতি ও অপব্যাখ্যার মাধ্যমে কিংবা মনগড়া কথাবার্তা তৈরি করে তা দ্বীনের নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা এটুকুও উপলব্ধি করে না যে, এতে তাদের প্রতারণা ও মিথ্যাচার দ্রুত প্রকাশিত হয়ে পড়বে। এটা ছিল এক প্রসঙ্গ।
    দ্বিতীয় প্রসঙ্গ, অর্থাৎ কাদিয়ানী সম্পর্কে আপনার প্রশ্ন থেকে অনুমিত হচ্ছে যে, এ বিষয়ে আপনার অধ্যয়ন বেশ সীমিত। কারণ মির্জা কাদিয়ানী ও তার অনুসারীদের কুফরী শুধু এক বিষয়ে নয়, তাদের কুফরিয়াতের তালিকা অনেক দীর্ঘ। এখন যেহেতু সিয়াসত সম্পর্কে কথা হচ্ছে তাই এ বিষয়ে শুধু একটি উদ্ধৃতি আপনাকে শোনাচ্ছি।
    মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী লিখেছে যে,
    ‘আমি সত্য সত্য বলছি, অনুগ্রহদাতার অকল্যাণ কামনা হচ্ছে হারামযাদা ও চরিত্রহীন লোকের কাজ। তাই আমার ধর্ম, যা আমি বারবার প্রকাশ করেছি, তা এই যে, ইসলামের দু’টি অংশ : এক. খোদা তাআলার আনুগত্য। ২. ওই সরকারের আনুগত্য, যে সমাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং জালিমদের হাত থেকে আমাদেরকে তার ছায়াতলে আশ্রয় দান করেছে। সেই সরকার হচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। … অতএব আমরা যদি বৃটিশ সরকারের অবাধ্যতা করি তাহলে প্রকারান্তরে ইসলাম এবং খোদা ও রাসূলের অবাধ্যতা করা হয়।
    (‘‘গওরমেন্ট কী তাওয়াজজুহ কে লায়েক’’ মুলহাকা ‘‘শাহাদাতুল কুরআন’’ রচনা : মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী পৃ. জিম-দাল রূহানী খাযাইন খণ্ড ৬, পৃ. ৩৮০-৩৮১)
    উপরোক্ত উদ্ধৃতিতে দেখতে পাচ্ছেন যে, গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর মতে সরকারের আনুগত্য ইসলামের অংশ। যদি তা হয় সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ সরকার।
    বর্তমান আহমদিয়া সমপ্রদায় যদি সিয়াসতকে ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কহীন বলতে চায় তো বলতে পারে, কিন্তু অন্তত তাদের নেতার খাতিরে পশ্চিমা পিতৃকুলের আনুগত্য ও তল্পিবহনকে ‘ইসলামের অংশ’ বলা উচিত!!! (নাউযুবিল্লাহ)
    ইহুদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে কাদিয়ানী সমপ্রদায়ের গাঁটছড়া বাঁধার কাহিনী যদি জানতে হয় তাহলে জনাব বশীর আহমদ ছাহেবের রচিত Ahmadiya Movement: British jewish connections বা তার উর্দূ অনুবাদ ‘তাহরীকে আহমদিয়্যত ইহুদী ও সামরাজী গঠ্জোড়’’ পড়ে দেখতে পারেন। অনুবাদ-গ্রন’টির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৯৪৮।
    আপনার প্রশ্নের উত্তরে আপাতত এই কয়েকটি কথাই নিবেদন করলাম। আল্লাহ তাআলা যদি তাওফীক দেন তাহলে আগামী সংখ্যায় ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা এবং জীবনের সকল অঙ্গনে তার দিশারী ও রাহনুমার ভূমিকা সম্পর্কে কুরআন-হাদীস, ইজমায়ে উম্মত ও তারীখে ইসলামের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

    Reply
  14. Azadi Hasnat

    ১. লেখকের এই কথাগুলো খুবই ছিলি মনে হয়েছে। কোনো তার্কিক এই বাজে যুক্তি দিতে পারেন না। কথাগুলো হলো, ‌’তাই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি “ইহুদী-খ্রীষ্টানদের শয়তানি ষড়যন্ত্র” ও “কুফরি আকিদা” হয় তবে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের আবিষ্কৃত টুথব্রাশ চিরুণি থেকে শুরু করে বক্তৃতার মাইক বাস ট্রাক কাপড় হিটার এয়ারকণ্ডিশনার জুতো মাথাব্যথার ট্যাবলেট বুড়ো বাবা-মা’র ইনসুলিন কম্পিউটার রেডিও টিভি গাড়ি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি হাজারো ওষুধ সবই “ইহুদী-খ্রীষ্টানদের শয়তানি ষড়যন্ত্র” এবং “কুফরি আকিদা” হতে হয়।’
    ২. ইসলামী শাসন ব্যবস্থার এত সমালোচনা করলেন অথচ রাসুল স. ও চার খলিফার শাসনামলকে কোথাও উল্লেখ করেন নি। তাদের শাসনামল ছিল ৩০ বছর। তারাই ইসলামী শাসন ব্যবস্থার মডেল। লেখক এখানে একচোখা নীতি অবলম্বন করেছেন।
    ৩. উমার রা. এর ১০ বছর শাসনামলকে বেমালুম ভুলে গেছেন লেখক। তার মতো ন্যায় পরায়ন শাসকের উদ্ধৃতি না দিয়ে ভ্রান্ত মুসলিম শাসকদের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তারা আদৌ ইসলামকে রাষ্ট্রে প্রতিফলিত করেন নি। ইসলামের সঠিক অনুসারীদের তারা নির্যাতন করেছে। অথচ লেখক বলছেন তারাই নাকি ইসলামী শাসক।
    ৪. ইসলামী রাষ্ট্রে সব ধর্মের লোকদের অধিকার রয়েছে। আলী রা. শাসনামলে ইহুদির তরবারী চুরির ঘটনা কি লেখকের মনে নেই। একজন শাসক কত ন্যায় পরায়ন হতে পারে ইহুদির কাছে নত হতে পারেন। ন্যায় পরায়নতায় মাথা নত করে পরে ওই ইহুদি ইসলাম গ্রহণ করেন।
    ৫. লেখক ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষ নিতে গিয়ে ইসলামের বিরোধীতাই বেশি করেছেন। তার বক্তব্যে মনে হয়েছে, ধর্মনিরপেক্ষতার ধজাধারীরা যে ইসলামের বিরুদ্ধে কর্মে লিপ্ত তা লেখকের পুরো বক্তব্যে ক্লিয়ার হয়েছে। মুখোশধারীদের গুপ্তচর বলে মনে হয়েছে তাকে।
    ৬. লেখকের পুরো বক্তব্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তার আড়ালে রয়েছে ভয়ংকর ইসলাম বিদ্বেষ।

    Reply
  15. সৈয়দ আলী

    ভারী চমৎকার রচনা এবং সুস্থ্য জ্ঞানের পরিচায়ক। ‘এছলাম’ (বা অন্য ধর্ম) শুনলেই জজবা জেগে উঠা ইসলামের বিধান নয়। আমার বিশ্বাস, ধর্ম হচ্ছে বিবাহিত মানুষের বেডরুমের জীবনের মত নিভৃত ও ব্যক্তিগত। ধর্মকে সমাজ-জীবনে উচ্চকিত করে সমাজে Anomaly ও বিব্রতকর অসাম্য সৃষ্টি করা খুবই অন্যায়।
    ধন্যবাদ হাসান মাহমুদ। আপনার লড়াই চলুক। আমরা সাথে আছি।

    Reply
    • Redwan Khan

      জনাব আলী, আপনার ইসলামের উচ্চারণই তো ঠিক নাই তাই এর ব্যবহার কিভাবে জানবেন ? আপনিকি এই আয়াত পড়েননি যে আল্লাহ তালা বলেন ”إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ” আমার নামায, ও আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।-আন-আম-১৬২ ”

      পুরো জীবনেই যে ইসলাম আছে তা এই আয়াত প্রমান করে। আপনি শুধু বেডরুমের ইসলামের কোনো আয়াত দেখতে পারবেন?

      Reply
      • Stupid Buster

        mr redowan
        your perception is really poor!! you quated like

        “আমার নামায, ও আমার কারবািন এবং আমার জীবন ও মরণ িব িতপালক আাহরই জন।-আন-আম-১৬২ ”

        what t it mean? a wise man never take it as such to impose it to other people. instead it should be taken as an instruction for an individual..

      • সৈয়দ আলী

        আপনাদের মান্যবর হুজুর ছাহেবরা যে বানানরীতি অনুসরন করেন আমি তাই করেছি (যে কোন মাদ্রাসার পোস্টার দেখুন)। । আর ধর্ম অতো হৈহৈ করার বস্তু নয়।

  16. মোঃ শামীম মিয়া

    ইসলামি উৎসব বা অনুষ্ঠানে ইসলামের প্রশংসা করবেন আবার বলবেন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ধারনা থেকে সরে আসতে হবে, এটা কপটতা ছাড়া কিছুই নয়। ইসলাম পুর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা শুধুমাত্র উপাসনার ধর্ম নয় এটি।রসুল( সঃ) বা খলিফারা ইসলাম অনুযায়ি দেশ পরিচালনা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। এখন না হলে সেটা পরিচালকের দোষ, ধর্মের নয়।

    Reply
    • MD Golam Kibria TALUKDER

      জনাব মোঃ শামীম মিয়া, লেখাটা বার বার পড়ুন। লেখক এখানে ইসলাম ধর্ম কে দোষ দেন নাই মোটেও বরং সরিয়া আইন যে ইসলামিক আইন না এটাই বলার চেষ্টা করেছেন আর দেখিয়েছেন সরিয়া আইন কোরআন আর হাদিসের সাথে সাঙ্ঘরশিক। ইসলাম ধর্ম নিয়ে যারা ব্যবসা করে সেই সব পরিচালকদের কথাই এখানে বলা হয়েছে আর ইসলাম ধর্মের সুন্দর দিক গুলু তুলে ধরা হয়েছে। সরিয়া আইন এ তালাক, ধর্ষণ ইত্যাদির নিয়মগুলু পড়ুন আর কোরআন, হাদিসে কি লেখা আছে পড়ুন। ইসলাম কে জেনে, বুঝে পালন করতে হবে – আবেগ দিয়ে শুধু জানলেই হবে না। দিন্রাত শুধু জেনেই গেলাম, পালন করলাম না , বুজলাম না – তাহলে হবে না। সাহাবিরা (রদ;) একটা করে কোরানের আয়াত মুখস্ত করতেন, নিজের জীবনে পালন করতেন, বুজতেন তারপর পরের আয়াত মুখস্ত করতেন।

      Reply
      • Redwan Khan

        জনাব গোলাম কিবরিয়া, শরিয়া মানুষের সৃষ্টি এই ভ্রান্ত ভিত্তিহীন ধারণা আপনার কি করে তৈরী হলো। কোন বাতিল পন্থী আপনার সুস্থ মস্তিষ্কে এই ভয়ঙ্কর কুফরী ধারণা ঢুকিয়ে দিলো। পানি কি এই আয়াত তিলাওয়াত করেনি ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَىٰ شَرِيعَةٍ مِّنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ অর্থঃ অতঃপর আমি আপনাকে শরীয়াত উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং আপনি তার অনুসরন করুন। আর আপনি অজ্ঞদের খেয়াল খুশির অনুসরন করবেন না।-৪৫/১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—