Dhaka Airport - 111

‘আজি হতে’ প্রায় চার দশক আগে, ১৯৮৩ সাল থেকে ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে নিয়মিত আসা-যাওয়া করছি। আশির দশকে আমার সদ্যতরুণ চোখে এই বিমানবন্দর ছবির মতো মনে হত। ছবিটি দিনে দিনে নষ্ট হয়েছে। গত পঁয়ত্রিশ বছরে ঢাকা বিমানবন্দরের ‘নাম’ পাল্টেছে দুইবার, কিন্তু যাত্রীসেবার ‘মান’ খুব একটা বাড়েনি। বিমানবন্দরের প্রায় সর্বত্র অসভ্যতা ও কুরুচির ছাপ। গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মতো বিনামেঘে অপমানের বজ্রপাত নেমে এসে আঘাত করে নাজেহাল যাত্রী ও তাদের সঙ্গীদের।

ঢাকা বিমানবন্দরে ঢোকার আগেই যাত্রীদের গাড়ি চেক করা হয়। প্রথমত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একবার শুধু চোখ বুলিয়ে কী চেক হয় জানি না এবং দ্বিতীয়ত, এই অনর্থক ও অকার্যকর তল্লাসি বিদেশিদের মনে এই (ভুল?) ধারণা দিতে পারে যে, বাংলাদেশ একটি সদাশঙ্কিত পুলিশি রাষ্ট্র। যাত্রীর সঙ্গে আসা বাকি নিকটাত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবদের অনেক সময় রাস্তার উপরই নামিয়ে দেওয়া হয়। পৃথিবীর অন্য কোনো বিমানবন্দরে এমন অপমানজনক এবং নিষ্ঠুর ব্যবস্থা দেখিনি।

বিমান ভ্রমণের সঙ্গে অন্য সব ভ্রমণের তফাৎ আছে। সাধারণত অনেক দিনের জন্যে বিদায় বা অনেকদিন পরে আগমনের কারণে আপনজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই বিমানবন্দরে (চট্টগ্রামের ভাষায়) ‘উজাইতে’ (অর্থাৎ ‘সি-অফ’ বা ‘রিসিভ’ করতে) আসে। পৃথিবীর বেশিরভাগ বিমানবন্দরে যাত্রী ইমিগ্রেশনে ঢোকার আগ পর্যন্ত এই ‘উজানি’ অভ্যাগতদের খাদ্য ও পানীয় দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা আছে। এতে বিমানবন্দরের কিছু অর্থাগমও হয়। বাংলাদেশের বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া বাকি লোকদের টিকেট কেটে বিমানবন্দরে ঢুকতে হয়। গরিব মানুষ টিকেট কেনার ঝামেলায় যায় না বা সেই সামর্থ্যও তাদের নেই। সুতরাং তারা এতিমের মতো ঘুরে ঘুরে বিমানবন্দরের গ্রিল কিংবা কাচের ফাঁক দিয়ে তাকাতে থাকে, যদি বাপ-ভাই-স্বামীকে শেষ বারের মতো এক নজর দেখা যায়।

ঢাকা বিমানবন্দরের স্থাপত্যটাই যাত্রীবান্ধব নয়। বাঙালি চরিত্রের অপরিণামদর্শিতা বিমানবন্দরের স্থাপত্য ও ব্যবস্থাপনায় প্রকটভাবে দৃশ্যমান। সত্তর দশকের স্থপতিরা কল্পনাই করতে পারেননি যে, তিন বা চার দশক পর তাদের পরিকল্পিত বিমানবন্দরের কাজের চাপ কেমন হবে। কেন জানি না ঢাকা বিমানবন্দরে এসে নামতেই নিরাপত্তাহীনতা ভর করে মনে। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় এই বুঝি কোনো বিপদ হল।

এর কারণও নিশ্চয়ই আছে। যেমন ধরা যাক, পৃথিবীর কোনো বিমানবন্দরের প্রবেশপথে পাসপোর্ট দেখাতে হয় না। দর্শনার্থী হিসেবে যারা ঢাকা বিমানবন্দরে ঢোকে তাদেরও কোনো প্রকার পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র দেখানোর প্রয়োজন নেই, গলায় বিমানবন্দর দর্শনের ইজারা নেওয়া কোম্পানির কার্ড ঝোলালেই চলে। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে, ট্রলিতে লাগেজের পাহাড় নিয়ে যেসব যাত্রীরা ঢুকছেন, তাদের পাসপোর্ট দেখানো বাধ্যতামূলক। বিমানবন্দরে ঢোকার অনেকগুলো দরজা থাকলেও খোলা থাকে একটি কিংবা দুটি। কর্তৃপক্ষ সব ফ্লাইটের যাত্রীদের সেই দুই-একটি দরজা দিয়ে ঢুকতে বাধ্য করে। কোনো কারণে আপনার লেট হয়েছে কিনা, আপনার ফ্লাইট ধরার তাড়া আছে কি নেই, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। দুই হাতে ট্রলি ঠেলে নেবার সময় পাসপোর্ট দেখানো সহজ নয়। এত ঝামেলায় পাসপোর্ট বেহাত হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

কিছুদিন আগে বিমানবন্দরে ঢোকার পথে পাসপোর্ট দেখানোর অযৌক্তিকতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে সিকিউরিটি অফিসার ছুটে এসে বললেন, ‘এটা বিদেশ নয়। আপনার পছন্দ না হলে দেশ ছেড়ে চলে যান!’

 

Dhaka Airport - 6

 

ভাবা যায়? যাত্রীদের এরা কাগজের টিকেট দেখাতে বাধ্য করছে, অথচ পৃথিবীর সব বিমানবন্দরে মোবাইলে সেভ করা টিকেটের কপি দেখালেই চলে। ‘এটা বাংলাদেশ, এখানে কাগজ ছাড়া কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়’, গর্ব করে ঘোষণা দিলেন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ অফিসার। পৃথিবীতে সম্ভবত সর্বোচ্চ ভ্রমণ-কর দিয়ে বিমানবন্দর ব্যবহার করতে যাই আমরা বাংলাদেশিরা। কোথায় সেবা পাব তা নয়, পরিবর্তে জুটছে অপমান।

অনেক দেশে, যেমন কানাডায়, দেশত্যাগের সময় ইমিগ্রেশনেও পাসপোর্ট দেখাতে হয় না। ইউরোপের এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঢোকার সময়ও একই ঘটনা। তারা কীভাবে নিরাপত্তা রক্ষা করে কিংবা অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে? ইউরোপ বা আমেরিকার বেশিরভাগ বিমানবন্দরে আরোহণ বা অবতরণ কার্ড পূরণ করার ঝামেলা উঠে গেছে। এই সব কার্ডে লেখা বেশিরভাগ তথ্য তো পাসপোর্টেই লিপিবদ্ধ আছে। উন্নত দেশগুলোতে সব সময় এ ধরনের দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা কমানোর চেষ্টা থাকে। বাংলাদেশে সে সব যথাসম্ভব বাড়ানোর চেষ্টা থাকে। কারণ প্রতিটি আনুষ্ঠানিকতাই হয় দুর্নীতি নয়তো ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি করে।

আজ থেকে শখানেক বছর আগেও যে দেশ কোনো বিচারেই বাংলাদেশের চেয়ে উন্নত ছিল না, সেই মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দরের সহজ-সরল কিন্তু কেজো স্থাপত্য মনোমুগ্ধকর মনে হয়েছে আমার কাছে। কোথাও বাহুল্য নেই, অথচ স্থান-ব্যবস্থাপনা চমৎকার। অপসংস্কৃতি বা ছোটোলোকির এতটুকু ছাপ দেখলাম না কোথাও– কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, সিকিউকিরিটি তল্লাসি, কোথাও নয়।

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ঠিক মাঝখানে আছে একটি ‘বর্ষাবন’– ইংরেজিতে যাকে বলে রেইনফরেস্ট– মালয়েশিয়ার প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। সেখানে ঝর্ণা আছে, মেঠো পথ আছে, রয়েছে পাখির কলকাকলি। বর্ষাবনের আশেপাশে পরিপাটি করে সাজানো শদুয়েক দোকান। যেন বনের পাশে ছোট্ট সুন্দর একটি বাজার। দোকানগুলো পাশ্চাত্যের বিমানবন্দরে যেমনটি দেখা যায়, তার চেয়েও সুন্দরভাবে সাজানো। বিক্রেতাদের মুখে বিরক্তি নেই, মেকি হাসিও নেই। স্বাগতিক অকৃত্রিম হাসি দেখলাম তাদের চোখে। অর্থনীতিতে আমরা মালয়দের চাইতে পিছিয়ে আছি– রুচিতে এবং সেবাতেও তাদের চেয়ে এগোতে পারিনি। বর্তমান কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর নির্মিত হয়েছে ঢাকা বিমানবন্দরের কমবেশি এক দশক পরে। যার অর্থ হচ্ছে, আজ থেকে তিন দশক আগেই মালয়েশিয়ার নেতৃবৃন্দ ও স্থপতিরা চিন্তা, কল্পনা ও পরিকল্পনায় বাংলাদেশের চেয়ে বহুদূর এগিয়ে ছিলেন।

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের টয়লেটে বেসিনের পাশে টবে তাজা ফুল বা নিদেনপক্ষে গুল্ম রাখা আছে, যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। ঢাকা বিমানবন্দরে টয়লেটে প্রবেশপথে রাখা হয়েছে কুরুচির স্বাক্ষর প্লাস্টিকের গাছ। যেন বাংলাদেশে আসল গাছ, তাজা ফুল বা গুল্মের অভাব পড়েছে।

বিমানবন্দরের বাইরের টয়লেট তো কোনো ভদ্রলোকের ব্যবহার করার উপযুক্ত নয়, ভদ্রমহিলার কথা দূর অস্ত। গত তিন দশকে এই টয়লেট কোনো প্রকার সংস্কারের মুখ দেখেছে বলে মনে হয় না। তদুপরি এই নোংরা টয়লেট ব্যবহার করার বিনিময়ে টাকা (পায়খানা ৫, প্রশ্রাব ২ ইত্যাদি) নেবার জন্যে দুয়ার আগলে বসে আছে ক্রমাগত পশ্চাদ্দেশ চুলকাতে থাকা বা নাক খুঁটতে থাকা অপরিচ্ছন্ন কাপড় পরা এক বা একাধিক লোক। ভাংতি টাকা না থাকলে টয়লেট ব্যবহারের দুরাশা করবেন না। বিমানবন্দরের ভিতরের টয়লেট প্রায় কুড়ি বছর নোংরা থাকার পর গত এক বছরে কিছুটা উন্নত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ‘শুধু নিজের প্রয়োজনটুকু পূরণ করা এবং অন্যের কথা একেবারেই না ভাবার’ বদভ্যাসের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষের উচিত মিনিট বিশেক পরপরই টয়লেট পরিষ্কার করার ব্যবস্থা রাখা।

যে বাংলাদেশের প্রয়োজন মেটানোর জন্যে আশির দশকে চালু হয়েছিল ঢাকা বিমানবন্দর, সেই বাংলাদেশ গত চার দশকে প্রয়োজন ও আকাঙ্ক্ষার দিক থেকে ভীষণ রকম বদলে গেছে। স্থাপত্য ও স্থান-ব্যবস্থাপনার দিক থেকে দেখলে ‘আন্তর্জাতিক’ হওয়ার কোনো যোগ্যতা নেই এই ‘বুড়ি’ বিমানবন্দরের। বাংলাদেশের মতো একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ বা বাঙালির মতো একটি অভিবাসন-প্রবণ জাতির জন্যে যে ধরনের বিমানবন্দর অপরিহার্য, তার ধারেকাছেও নেই ঢাকা। বর্তমান বিমানবন্দরকে অভ্যন্তরীন বিমান-চলাচলের জন্যে ছেড়ে দিয়ে ঢাকা বা ঢাকার অদূরে নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

 

Dhaka Airport - 333

 

স্থাপত্যের দিক থেকে কেমন হওয়া উচিত সেই নতুন বিমানবন্দর? ঢাকা শহরের বিশ্রি সব ভাষ্কর্য ও স্থাপত্য দেখে দেখে বিরক্ত মন শান্ত হয়েছিল কিছুদিন আগে, আগারগাঁওয়ে নবনির্মিত মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর দেখে। স্বপ্ন দেখি, প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে অনুরূপ প্রতিভাবান কোনো স্থপতি বা স্থপতি গোষ্ঠী ঢাকার নতুন বিমানবন্দরের পরিকল্পনা করবেন। যাতে সৌন্দর্য ও প্রয়োজনের সুষম সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হবে। বস্তু ও আয়তনের সুষমতা থাকা বাঞ্ছনীয়, তবে বস্তু অপেক্ষা আয়তন তিন বা চারগুণ বেশি হলে ভালো হয়।

বিমানবন্দরে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা থাকবে। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের মতো মেঝেটা এমন হবে, যাতে হাঁটতে পায়ের আরাম হয়। অবশ্যই মেট্রো ও অন্যান্য দ্রুতযানে মূল শহরের সঙ্গে বিমানবন্দরের যোগাযোগ থাকতে হবে। খুব বেশি গাড়ি যেন সেখানে প্রবেশ করতে না হয়। নতুন বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে চক্রাকার (এই আধুনিকতম প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে হল্যান্ডে)। হিথ্রো বিমানবন্দরের ৫ নং টার্মিনালের অনুরূপ লাগেজ-ব্যবস্থাপনা থাকলে ভালো হয়।

নতুন বিমানবন্দরের টার্মিনাল শুধু সুন্দর ও ব্যবহার-উপযোগী হবে না, একই সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতিও ধারণ করবে। সেখানে পুকুরসহ বাংলাদেশের একটি গ্রাম থাকতে পারে। সঙ্গে একটি বাজার। গ্রামের বাড়িগুলো হবে মাছ-ভাত-ডাল-ভর্তাসহ সুস্বাদু বাঙালি খাবারের এক একটি রেস্টুরেন্ট। বাজারে থাকবে দেশি পণ্যের দোকান (এখন যে দোকান আছে সেগুলো একেবারেই মানসম্পন্ন নয়)। বিমানবন্দরে পরবর্তী ফ্লাইট ধরার জন্যে অপেক্ষমান যাত্রীরা পুকুরের পাড়ে দুদণ্ড বসে দেশি মাছ-হাঁস-বক দেখবে। বড়শি দিয়ে মাছ ধরার বা নিদেনপক্ষে মাছ ধরতে দেখার ব্যবস্থা থাকলেই-বা ক্ষতি কী?

এভাবে বিমানবন্দরেই বিদেশিরা আমাদের সুন্দর দেশ সম্পর্কে কমবেশি একটি ধারণা পেয়ে যাবে। বিমানবন্দরে সুভেনির ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিষ কেনার একাধিক ভালো দোকান থাকতেই হবে। যাতে যাত্রীরা প্রকৃত কেনাকাটা এবং দৃষ্টিলেহন (উউন্ডো শপিং) করে সময় কাটাতে পারে।

যেসব যাত্রী সাত/আট ঘণ্টার মতো বিমানবন্দরে অবস্থান করে বিশেষত তাদের কথা ভেবে যেসব সেবা বিমানবন্দরে রাখা যেতে পারে: বিনামূল্যে শক্তিশালী ওয়াইফাই, চুলকাটার ব্যবস্থা, (বিভিন্ন ধরনের) স্নান, কয়েক ঘণ্টা ঘুমানো বা বিশ্রাম নেবার জায়গা, শিশুদের খেলার জায়গা, ব্যায়ামাগার, মাসাজ-পার্লার, পাঠক সমাবেশ, বাতিঘর বা দীপনপুরের মতো লাইব্রেরি কাম বুকশপ, থিয়েটার-সিনেমা হল (কোরিয়ার কোনো কোনো বিমানবন্দরে যেমন আছে), শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনা ইত্যাদি। বিমানবন্দরে লাগেজ রেখে কোনো যাত্রী কেন ঢাকা শহর দেখতে যেতে পারবে না? এই ব্যবস্থা কি বর্তমান বিমানবন্দরে আছে?

মনে রাখতে হবে, বিমানবন্দর একটি দেশের ড্রয়িংরুমের মতো। এটা সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে হবে। অতিথি যেই হোক না কেন, আপ্যায়নের যেন ত্রুটি না থাকে। এমন কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন সেখানে না থাকে যার বিরুদ্ধে অসভ্যতা, নোংরামি বা অভদ্রতার একটি অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্বপ্ন দেখি, নতুন বিমানবন্দরে ভয়ের নয়, নিরাপত্তার ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করবে।

বাংলাদেশের সিংহভাগ বিমানযাত্রী গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল লোক এবং অধিকাংশই প্রায় অশিক্ষিত। অনেকেই হয়তো প্রথমবারের মতো বিদেশ যাচ্ছে। ভুলে গেলে চলবে না যে, এরাই বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতি সচল রেখেছে। এদের ঘামঝরা দিনার-রিয়ালের বদৌলতে আমরা নাগরিক বাঙালিদের যত নর্তন-কুর্দন। অথচ বিমানবন্দরের পরিবেশ এমন করে রাখা হয়েছে যে, এই যাত্রীরা অত্যন্ত অসহায় বোধ করেন। লক্ষ্য করেছি, এয়ারলাইন্সের কর্মচারীরা গরু-ছাগলের মতো ব্যবহার করে এই বিশেষ যাত্রীগোষ্ঠীর সঙ্গে। ফর্ম পূরণ ইত্যাদি কাজে সহায়তা করা, যাত্রীদের অসহায়ত্ব দূর করার জন্যে বিমানবন্দরে লোক থাকা দরকার। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে ছাত্র বা স্কাউটদের পার্টটাইম এই কাজে লাগালে কেমন হয়?

নতুন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিছক পাসপোর্ট দেখানোর উপর নির্ভর করবে না। যাত্রীর গায়ে হাত না দিয়েই নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করতে জানবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। লাইনে যেন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না হয় কোনো যাত্রীকে। ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তারা যথাসম্ভব ভালো ব্যবহার করবে যাত্রীদের সঙ্গে– এই সত্যটা স্মরণে রেখে যে যাত্রীরাই মূলত তাদের অন্নদাতা। আমলা, শিক্ষক, সেনা, বিচারক সবাই আমরা জনগণকে সার্ভিস বা সেবা দিচ্ছি। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’, সোজা বাংলায় যার আক্ষরিক অর্থ: ‘জনগণের চাকর’। ‘চাকর’ যদি অভদ্র ব্যবহার করে তবে ‘মালিক’ জনগণ কেন তা মেনে নেবে?

সাধারণ ও গরিব জনগণের সঙ্গে সুব্যবহার এবং ভদ্রতার প্রসঙ্গটার পুনরাবৃত্তি করছি ইচ্ছে করেই। কারণ ভালো ব্যবহারে নিজের বংশের তো বটেই, জাতিরও পরিচয়। ব্যবহার খারাপ হলে ‘সকলি গরল ভেল’, অর্থাৎ বিমান বন্দরে অন্য হাজার সুবিধা দিয়েও কাজ হবে না।

স্বীকার করতেই হবে যে, ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা আগের তুলনায় বেড়েছে। এখানে ওখানে ফোন রাখা আছে। যাতে যাত্রীরা প্রয়োজনে নিখরচায় অভ্যর্থনাকারী আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। ডিউটি ফ্রি শপে এক সময় ঢাকঢোল বাজিয়ে বিক্রেতার ঘুম ভাঙাতে হত। দোকানদার মহোদয় কোনোমতে লুঙ্গির গিঁট মেরে লোমশ নাভি চুলকাতে চুলকাতে এসে রাগতঃস্বরে জিগ্যেস করত, ‘কী চাই’!

এখন অবস্থা দেখলাম আগের তুলনায় অনেক ভালো। স্মার্ট দোকানদার, ততোধিক স্মার্ট তার সহকারী।

 

Dhaka Airport - 444

 

একদিন সকালে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অফিসারদের চৌকশ ব্যবহার লক্ষ্য করেছিলাম বটে। এক ভারতীয় যাত্রী এসে হিন্দি ভাষায় অবতরণ ফর্ম চাইল। এক ইমিগ্রেশন(পুলিশ) অফিসার বুঝলেন না বলে পাশের অফিসার তার হিন্দি না-জানা নিয়ে কিঞ্চিৎ অনুযোগ করলেন। একটু পরে এক চীনা যাত্রীকে দেখে সেই হিন্দি না-বোঝা অফিসারটি বললেন, ‘নি হাঁও’, অর্থাৎ ‘কেমন আছেন?’

চীনা যাত্রীটি শুনে আপ্লুত। এমন অফিসারই তো চাই!

কিন্তু বিমানবন্দর পুলিশের পোশাকটাই তো আনস্মার্ট। এমন বিশ্রি রঙ ও কাপড় কে যে পছন্দ করেছিল! এই নিম্নমানের সিনথেটিক কাপড় অনেকক্ষণ পড়ে থাকলে গায়ে চুলকানি হয়ে যাওয়ার কথা। ‘বাঘে ছুলে আঠার ঘা’ কেন হয় তা জানি না, তবে ‘পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ ঘা’ হওয়ার কথা যে শোনা যায়, সেটা এই অস্বাস্থ্যকর পোষাকের কারণে নয়তো?

পুলিশ বা সেনা অফিসারের কাঁধের তকমাগুলো হতে হবে চকচকে পিতলের বা ইস্পাতের। যাতে ঠিকরে পড়া আলো দেখে অপরাধীর পিলে চমকে যায়। এখন সুতায় তৈরি অ্যামব্রয়ডারি করা তকমাগুলো পুলিশের পোশাকের মতোই ম্যাড়ম্যাড়ে। পুলিশের পোশাক উন্নত ও দৃষ্টিসুখকর করার বিকল্প নেই।

লাগেজ পেতে বেশি সময় লাগে যেসব বিমানবন্দরে, সেগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত যাত্রীদের লাগেজের জন্যে কেন হত্যে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? নতুন বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীর মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ চলে আসবে ঠিক কোন জায়গায় তার লাগেজগুলো রাখা আছে সে বিষয়ে। বিমানবন্দরের সাফাইকর্মীরা বা হুইল চেয়ারের সঙ্গে থাকা বিমানবন্দরের পরিচারকেরা কেন সুবেশ স্মার্ট হবে না? কেন তারা পরিশ্রান্ত, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ যাত্রীদের কানের কাছে টাকা-ইউরো-ডলার চেয়ে ঘ্যানর ঘ্যানর করবে?

লাগেজ বহনের রঙচটা ট্রলিগুলো অবিলম্বে বদলাতে হবে। দেশের মানসম্মানের প্রশ্ন। বিমানবন্দরে আগমনস্থলে কমপক্ষে দশটা মানি এক্সচেঞ্জ আছে। পৃথিবীর যে কোনো বিমানবন্দরে থাকে দুয়েকটা। এত মানি এক্সচেঞ্জ কেন এবং অন্য কোনো দোকান কেন নেই? এর শানে নজুল কি এটা নয় যে, বাংলাদেশে ‘টঙ্কাহি কেবলম্’ অর্থাৎ ‘টাকাই সব কিছ’?

ঢাকা বিমানবন্দরের দেয়ালগুলো রড-সিমেন্ট আর ফোন কোম্পানির রুচিহীন বিজ্ঞাপনে সয়লাব। বিশ্বকে বাংলাদেশের আর কিছুই কি দেওয়ার বা দেখাবার নেই? এক জায়গায় দেখলাম, অনেক বেওয়ারিশ লাগেজ পড়ে আছে। আর্দ্রতাদুষ্ট হয়ে কয়েকটি দেয়ালের রঙ চটে আছে। দেখে চটে যাবে যে কোনো রুচিবান, মননশীল মানুষ।

নটে গাছটি মুড়োয়নি এবং আমার কথাটিও এখনও ফুরোয়নি। বিমানবন্দর থেকে বের হতেই বিদেশি বা বহুদিন পরে বিদেশ-প্রত্যাগত যাত্রী বাইরে তাকিয়ে দেখে, নটে গাছ নয়, দুই পাশে কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে লাগানো অদ্ভূতদর্শন খটমটে (‘মেড ইন চাই না’) বনসাইয়ের (যেন বাংলাদেশে গাছের আকাল পড়েছিল) সারি। মাঝখানের রাস্তায় ছুটে চলেছে ঘেয়ো কুকুরের মতো দেখতে মান্ধাতার বাবার আমলের রঙচটা লক্কর-ঝক্কর বাস। যাতে উপচে পড়ছে অসহায় নাগরিক। হায়, আমাদের নেতৃবৃন্দ বা নগরপিতারা কি জানেন, রোজপাউডার লাগিয়ে মুখের অপুষ্টি ঢাকার বৃথা চেষ্টা হচ্ছে অনুন্নয়নের অন্যতম লক্ষণ?

পৃথিবীতে বাংলাদেশ হচ্ছে সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে বেশিরভাগ ট্রাক দেখতে বাসের চেয়ে সুন্দর। বাস কোম্পানিগুলোর অসৎ সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি সবগুলো সরকার ও নগর কর্তৃপক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দূরে থাক, দৃষ্টিনন্দন এবং আরামদায়ক বাসের ব্যবস্থা করতেও সক্ষম হয়নি স্বাধীনতার পর গত হওয়া প্রায় পঞ্চাশ বছরে। মেট্রো হলে এসব সমস্যা অনেকখানি মিটবে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু মেট্রো হওয়া দূরে থাক, মেট্রোর কাজ ঠিকঠাকমতো শুরু হবারই-বা আর ‘কত দেরি, পাঞ্জেরী?’

রুচি ও অপরিণামদর্শিতার খরার অবসান হয়ে জানি না কবে আমাদের জীবনে ও মননে সুরুচি ও দূরদর্শী পরিকল্পনার বৃষ্টি নামবে। বর্ষা অবশ্য ইতোমধ্যে শেষ। তবে ভরসা এই যে, সামনে আরও অগুনতি বর্ষাকাল আছে।

আশা করি, ঢাকা B-মানবন্দর আমাদের জীবৎকালেই A-মানের হবে।

শিশির ভট্টাচার্য্যঅধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬ Responses -- “ঢাকা বি-মানবন্দর কবে এ-মানের হবে?”

  1. Qudrate Khoda

    স্যার, আপনার লেখা পড়ে যারপরনাই আনন্দ পাই বলাই বাহুল্য। তবে, আমার কেবলই মনে হয় আপনি উলু বনে মুক্তা ছড়াচ্ছেন । কারণ, বিমান মন্ত্রণালয়, বিমান বন্দরের কর্মকর্তা ও আমলারা সবই জানেন ও বোঝেন।

    কিন্তু, বিমান বন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন হলে উনাদের আয়-উপার্জন বা উপরি কামাই বন্ধ হওয়ার ভয় আছে। পাবলিকের যত ভোগান্তি, উনাদের তত প্রশান্তি । এয়ারপোর্টের যতো অধোগতি উনাদের তত উন্নতি!

    অতএব, আপনি বরং কীভাবে বাংরেজির আসক্তি হতে বাঙালিকে মুক্ত করা যায়, কীভাবে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করা যায়, ইত্যাদি বিষয়ে আরও বেশী লিখলে মূর্খ বাঙালি উপকৃত হবে।

    পরিশেষে, ধৈর্য ধরুন ও আল্লার ঊপর ভরসা রাখুন, আগামী ৩০১৭ সালের মধ্যে আপনার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে ইনশাল্লাহঃ বি- মান থেকে এ-মান বন্দরে উন্নীত !

    Reply
  2. Abdul Karim

    According to my knowledge I believe that, there is so many changes is done till now, since 1982 I am working in abroad and from that year every one year I am travelling to my home country (Bangladesh) through the Dhaka Airport, since that time every year I found the Airport staff with their different attitude which is improved according to travellers need, I ask all of our readers please don’t compare any others country Airport with Dhaka Airport, one day Innsha Allah we will reach our digital goal , so don’t late my country showing Dhaka Airport is below the others country.Thanks . Mr. Abdul Karim.

    Reply
  3. Syed M Osman Ghani

    Many many thanks to Prof. Shishir for his beautful Descriptions with comments. Hope he, as an eminent writer/ columnist ventilated the public grievance. ut itis the fact that the Airport and other concerned authorities responsible for this will like to hardly listen. still we are hopeful for the remedy.

    Reply
  4. P. Cabral

    Shisir apnar lekhata pore khub valo laglo. Dhonnobad apnake. 2015 te Bangladesh theke phire asar somoy amar chele ar relatives der Dhaka airport e dhokar pore pothe namiye dey. We were not ready for that. Amar airport e vitore dhokar somoy luggage carry korte ar trolly te uthate khub kosto korte hoye chilo. I am an aged woman. Ar amar kichu health issues chilo. Airport er entrance fee tao mene nite kosto hoy. Modhobittoder jibonta hiseb kore cholte hoy. I love my country so much.

    Reply
  5. Md. Mostafa

    I traveled to India by train and come back to Dhaka by air from Bengalore. I would like to request the author please visit the Bengalore airtport. It will fulfill the demands what a civilized passenger want. Its modern design, interior architecture, behavior of the office staffs are very gentle as well as neat and clean.
    But I was surprised and astonished when I landed to our Dhaka airport. It was seen like a warehouse from my birds eye view while landing the plane. I was upset more when I advanced up to main gate. When will we civilized and gentle? Civilized will be our airport and officials?

    Reply
  6. Abu Nayeem

    Thank you for your useful writing particularly the caption of your write up. Transportation situation at airport should have been included. However, thanks again. But I am worried, does it make any sense for the people concerned? Several reports have been published on Biman (Naki Beiman chalito Air?), probably the highest number of reports on any institution. They seem to be DUMB and DEAF!!!

    Reply
  7. jakir hossain

    বাংলাদেশ বিমানকে ফোন করলে ফোন রিসিভ করেই বলে, “হ্যালো বিমান”।
    ২০১৭ সালে এসে যারা সামান্য বিনয়টুকু দেখাতে পারেনা সেখানে ব্যবস্থাপনা যে তথৈবচ হবে এটাই স্বাভাবিক।

    Reply
  8. সিকদার তাহের আহমদ

    প্রায় আট বছর প্রবাসে থাকার পর, বছর খানেক আগে বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশী পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং মেশিন-রিডেবল পাসপোর্ট সংগ্রহে না থাকায় বিদেশী পাসপোর্ট নিয়েই গিয়েছিলাম।
    ঢাকায় এয়ারপোর্টে কর্মকর্তাদের ব্যবহারে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ ও প্রীত হয়েছিলাম। সত্যিই। আমার মূল লাগেজে সামান্য কিছু সোনার গয়না এবং ধাতুর তৈরি হাতঘড়ি বিক্ষিপ্তভাবে কাপড়েরর সঙ্গে মিশে ছিল। আর ছিল একটি কারুকাজ করা শাড়ি। সম্ভবত এসব কারণেই স্ক্যানিংয়ের পর আমার লাগেজে চকমার্ক দেওয়া হয় এবং শুল্ক বিভাগে যেতে বলা হয়। নতুবা সোজা বের হয়ে যাওয়া যেত।
    যাহোক, শুল্ক বিভাগে গিয়ে অপেক্ষা করছি। অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তা তখন অন্য এক লোকের টিভি সেট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বলছিলেন, “আপনি যদি আর এক ইঞ্চি ছোট মনিটর আনতেন তাহলে ২২ হাজার টাকা কর দিতে হতো, এখন দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা” ইত্যাদি। ভদ্রলোক মানতে না চাইলে সেই কর্মকর্তা বললেন, ভাই টাকা তো আপনি আমাকে দিচ্ছেন না, আমি কাগজ তৈরি করে দিচ্ছি, আপনি ব্যাংক কাউন্টারে গিয়ে টাকা জমা দিয়ে রশিদ নিয়ে নিবেন।
    এরপর আমার পালা এল। ব্যাগ খুলে দেখালাম, তখন পিছনের কামরা থেকে একজন বয়স্ক এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এলেন। তিনি সব শুনে বললেন, কলকাতা থেকে এসেছেন? আমি বললাম, না, সিডনি থেকে এসেছি। শুনে তিনি আরেকজন সহকর্মীকে বললেন, দেখ সিডনি থেকে এসেছে, তাকে এখানে পাঠিয়েছে! আর আমাকে বললেন, সিডনিতে শাড়ি পাওয়া যায়?! আমি বললাম, এটা ঢাকায় কেনা শাড়ি, কোনো কারণে ফেরত নিয়ে এলাম। বললেন, আপনি চলে যান।
    চলে যাচ্ছি, তখন আবার পেছন থেকে তরুণ কর্মকর্তা ডাকলেন। বললাম, আমাকে যেতে বলা হয়েছে। তিনি বিষয়টি যাচাই করে নিলেন এবং আমার লাগেজে চক দিয়ে টিক মার্ক করে দিলেন। নাহলে গেটে আবারও আটকাতো।
    আমি এদের কর্মতৎপরতায় মোটেও বিরক্ত হই নি। বরং খুশিই হয়েছি।
    সাধারণত গণমাধ্যমে শুধু নেতিবাচক কথাগুলোই বড় করে দেখানো হয়।এর বিপরীতে ভাল ভাল বিষয়ও রয়েছে। সেজন্যই আমি আমার ভাল অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিত প্রকাশ করলাম।

    Reply
      • ফাইয়াজ

        লেখক কি বুঝাতে চেয়েছে আপনি মনে হয় না বুঝেই কমেন্টস সেকশন এ এসে দেশ দরধী হয়ে উঠেছেন !! উনি পরিষ্কার বাংলায় ভালো-মন্দ দুটোই উল্লেখ করেছেন, আপনি ১০ বছরে দু’বার এসে ঢাকা বিমানবন্দরে ফুটানি করে ইউ,এস,এ পাসপোর্ট দেখিয়ে কি অভিজ্ঞতা হয় সেটা আমরা ভালোই জানি, দয়া করে একখান বাংলা পাসপোর্ট নিয়ে অাসেন তারপর আপনার অভিজ্ঞতা আমরা মন ভরে শুনবো !!

      • Mahabub

        Sorry ফাইয়াজ, I live in USA with Bangladeshi Passport, currently completing my education. I used our airport five times In last three years. The depicted picture of the writer is not new — probably, two/thre years old. There are numbers of europian and western countries who will ill-treat you/us only based on our color, but you probably don’t have eyes to get it.

  9. Apple Graphic Studio

    মাইন্ড ব্লোইং লেখা ভাই। কিন্তু এ লেখা পড়ে বোঝার ক্ষমতা তাদের কারোরই নাই। আফসোস।

    Reply
  10. Morshed Alam Rana

    বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট।
    এখানে যারা কাজ করে তাদের অধিকাংশ কর্মকর্তাই খারাপ। এরা যে অনেকেই খারাপ তা তারা নিজেরাই নিজেদের কাজ এবং কথাবার্তায় প্রকাশ করে ফেলে। এদের খারাপের কারনে বাকি যারা ভালো কর্মকর্তা রয়েছেন তাদেরও বদনামী হচ্ছে। নতুন পুরাতন অনেকেই ফ্যামিলি ছেড়ে বিদেশ আসে কাজের জন্য, কত কস্ট যন্ত্রণা বুকে নিয়ে ফ্যামিলিকে বিদায় দিয়ে তারা বিদেশ আসে তা শুধুই তারাই জানে যারা এমন ফ্যামিলিকে ছেড়ে বিদেশ আসতছে। কিন্তু বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট হয়ে আসার সময় দেখা যায় অনেক যাত্রী এয়ারপোর্ট এর ভিতরের অনেককিছু জানেনা। যেমন বডিং পাস কোথায় থেকে নিতে হয়, ইমিগ্রেশন কোনদিকে হয় ইত্যাদি সহ আরো অনেককিছু। এইসব কিছু যারা জানেনা তারা অনেকেই এয়ারপোর্ট এর ভিতরের পুলিশ, আনসার, ক্লিনার সহ অনেককেই জিগ্যেস করে থাকেন। এদের মধ্যে হাতে গনা ২/১জনে কথা শুনে বলে দিলেও অনেকেই কথা শুনেনা, আবার কেউ কেউ এমনও আছে কথা শুনে বলে আপনি খুইজা দেখেন। এমন যদি হয় তাদের কাজকর্ম ও ব্যাবহার তাহলে আমরা যাবো কই।
    আমি ছোটবেলা থেকেই একটু প্রতীবাদী তাই কোথাও আমার সামনে খারাপ কিছু হতে দেখলে আমি প্রতীবাদ করে ফেলি। তেমনি কয়দিন আগে এয়ারপোর্টে আমার সামনে এমন কিছু হলো যাতে আমি বাদা দিয়ে থাকি। বাদা দিলাম একজনকে আর আমার সাথে তর্কে জড়াই পড়লো কমপক্ষে ১০/১৫ জন। এতে আমি বিন্দুমাত্রও চিন্তিত হই নাই যেমন ওরা বলছে তেমনি আমিও বলছি। সর্বশেষ যার সাথে শুরুতে ঝগড়া হলো সেই আনসার কবিরকে ঘা মুছে ৩০০ টাকা দিয়ে আসলাম এবং এটাও বললাম সবার সাথে সুন্দর ব্যাবহার করে কাজ করবি নয়তো না জানি কয়জনের জুতার বাড়ি খেতে হয় তা আল্লাহ ভালো জানে।
    দেশে ভালো ভালো বেকার লোকের অভাব নাই, তাই এয়ারপোর্ট এর ম্যানেজমেন্টের কাছে আমার আবেদন এইসব অসৎ লোকদের দিকে ভালোভাবে নজর দিয়ে সাবধান করে দিন। এরপরও এরা ভালো না হলে এদেরকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে নতুন কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ দিন।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      অনেক ভালো বিষয় আছে। সেগুলোর কথা লিখেছিও। যেসব অব্যবস্থা আছে সেগুলো দূর না হলে আমাদের নিজেদেরই ক্ষতি। ধন্যবাদ।

      Reply
  11. miltonkumar

    অসাধারণ লেখা। স্যার, আপনার প্রতিটি লেখাই বাস্তবসম্মত ও তথ্যে পরিপূর্ণ। ধন্যবাদ স্যার।

    Reply
  12. বকুল জহুরুল হক//ইউ এ ই

    অনেক অনেক সুভেচ্ছা আপনাকে মনের
    সকল কথা প্রকাশের জন্য !!

    Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      বিমান বন্দরে কদিন পরপরই এক দুই কেজি সোনার চালান ধরা পড়ে। একটা বোকাও জানে যে এই দুই এক কেজি স্বর্ণ হচ্ছে হিমশৈলের দৃশ্যমান উপরিভাগ মাত্র। সন্দেহ নেই যে বিমানবন্দরের অব্যবস্থাকে পুঁজি করে লাভবান হচ্ছে এক বা একাধিক গোষ্ঠী। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা যদি উন্নত হয়, তবে এই সব গোষ্ঠীর ধান্দা চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনও হতে পারে যে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে কি হবে না সেই সিদ্ধান্ত যারা নেয়, তাদের সঙ্গে ঐ গোষ্ঠীগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। যেহেতু কেউই পারতপক্ষে নিজের পায়ে কুড়াল মারতে চায় না, সেহেতু ঢাকা B-মানবন্দর A-মানের হতে আরও বহুযুগ লেগে যেতে পারে।

      Reply
  13. মশিউর রহমান

    ঢাকা বিমান বন্দরের অসুন্দর বিষয়গুলো সুন্দর ভাবে তুলে ধরলেন। আরও অনেক বিষয় আছে যার উল্লেখ করলে আরও ভাল হত। সাদা পোশাক পড়া কর আদায়কারীরাও পৃথিবীর সবচেয়ে আনস্মার্ট। যেমন একজন প্রবাসী শখকরে একটি অরিজিনাল টিভি আনলে তাকে কি হয়রানি করা হয়।আর সোনা ধারিরা কি সহজে পার হয়ে যায়। ফলে “আপন”দের আর সোনা আমদানি করতে হয়না। একটু বড় সাইজের ব্যাগ থাকলে দেখেছেন কত জন “হেল্প” করতে আসে। কৌতূহল ভরে আপনাকে এয়ারপোর্ট পার করে দিতে আসে। এই দালাল চক্রের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচার্য্য

      দুর্নীতির শিকার আমিও হয়েছি কখনো সখনো,তবে আমি মনে করি, দুর্নীতি নয়, অব্যবস্থাই আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা।

      Reply
      • Md. Abu Sayed Khan

        Dada,
        Well come to you for your tropics.
        Is the CIVIL SERVANTS are servant ?
        They mean they are the Civil Master, They are the roller,
        not the servant. They thought civil peoples are nonsense people.
        They can do what they like with a civilian, they are the pillar of the govt. as well as country. They have the power to utilize upon mass people with the ready force under them.

        Shishir Dada, thanks to you to write a tropics which every citizens avoid to tell for fear. Write mre & more so that once the govt. will woke up.
        Thanks.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—