AppleMark

১৯৯০ সালের একদিনের ঘটনা। সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের রাস্তায ৪৬ জন নারীকে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। সবাই চাকরিজীবী নারী। এ ঘটনার পর তাদের সবাইকে শাস্তি হিসেবে যার যার কর্মস্থল থেকে বরখাস্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, তাদের দেশের বাইরে যাওয়ার উপরও নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়।

২০০৮ সালের আগস্টের আরেক দিন। দুঃসহ গরমের মধ্যে ওয়াজেদা নামের এক সৌদি নারী তার আবায়া (বোরকা বা কালো আলখাল্লা) ছুঁড়ে ফেলে বাহরাইন ও সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী সেতুতে এসে ‘গিভ উইমেন দেয়ার রাইট’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। বছর দুই পর এই ওয়াজেদাই মরভূমিতে গাড়ি চালিয়ে তার তিন মিনিটের ভিডিও ইউটিউবে ছেড়ে দেন।

২০১১ সালে মানাল আল-শরীফ নামের আরেক নারীকে গাড়ি চালানোর অপরাধে নয় দিন জেল খাটতে হয়। তখন ইমামরা তাকে চাবুক মারার দাবি জানান।

২০১৪ সালে আরেক নারী আরব আমিরাত থেকে গাড়ি চালিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করলে তাকে ধরে নিয়ে জেলে পুরে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে ৭৩ দিন থাকতে হয়।

এভাবে বেশ কজন সাহসী সৌদি নারী আইন ভেঙে গাড়ি চালিয়ে রাস্তায় বের হয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে মুচলেকা লিখিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। কেউ কেউ কারারুদ্ধ হয়েছেন। কাউকে কাউকে আবার চাবুকও মারা হয়েছে।

এত দিন আমরা জানতাম, সৌদি আরব বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে নারীরা গাড়ি চালাতে পারেন না। কিন্তু সামনের বছর থেকে দৃশ্রপটে পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর এক ডিক্রিবলে সৌদি সরকার ঘোষণা করেন, এবার থেকে নারীরা গাড়ি চালাতে পারবেন। এর আগে অবশ্য এ নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তারা নারীদের গাড়ি চালানো-সম্পর্কিত নানা দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেবে। ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে এই ডিক্রি কার্যকর হবে। শরিয়া আইন, ওয়াহাবি নীতি, আরবীয় সামাজিক আচার সব কিছুর নিরিখে নারীদের গাড়ি চালানোর বিষয়ে থাকবে কিছু বাধ্যবাধকতা।

 

A Saudi woman poses in this picture to illustrate driving a car in Jeddah June 17, 2011. Saudi Arabia has no formal ban on women driving. But as citizens must use only Saudi-issued licences in the country, and as these are issued only to men, women drivers are anathema. Outcry at the segregation, which contributes to the general cloistering of Saudi women, has been fuelled by social media interest in two would-be female motorists arrested last month. Picture taken June 17, 2011. REUTERS/Susan Baaghil (SAUDI ARABIA - Tags: SOCIETY) - RTR2NW31
সামনের বছর থেকে দৃশ্যপটে পরিবর্তন ঘটতে চলেছে

 

অনেকের হয়তো মনে আছে কিছুদিন আগে সে দেশে সাদ আল-হিজরা নামের এক ধর্মীয় নেতা, যিনি আসির প্রদেশের ফতোয়া নেতা, বলেছিলেন, “নারীদের মগজ পুরুষের চেয়ে অর্ধেক। তারা শপিংএ গেলে মগজ আরও সংকুচিত হয়ে যায়। তখন পুরুষের মগজের তুলনায় নারীদের মস্তিস্ক এক চতৃুর্থাংশ থাকে। এই মগজ নিয়ে নারীরা গাড়ি চালাতে পারবে? একজন পুুরুষের মস্তিস্কও যদি স্বাভাবিকের চাইতে এক চতুর্থাংশ থাকে তাকে কি কর্তৃপক্ষ গাড়ি চালাবার লাইসেন্স দিবে?”

টুইটারে সে ব্যক্তির এ স্ট্যাটাস ছড়িয়ে পড়লে ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ উনিশ হাজার হ্যাশট্যাগ পড়ে। এ ঘটনার পর সেই ধর্মীয় নেতাকে সকল ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়। কারণটা কি নারীকে অপমান করার জন্য? তাই কি মনে হয়? তা-ও আবার সৌদি আরবে?

আসলে রাজপরিবার যেখানে চাচ্ছে নারীরা গাড়ি চালাক সেখানে এ ধরনের মন্তব্য বরদাস্ত হবে কেন? এখনও সৌদি আরবের যে কোনো নারীকে আইনি বা রাষ্ট্রীয় বা বৈষয়িক বেশিরভাগ কাজে পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়। তা ভ্রমণ, পড়াশোনা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা– যা কিছুই হোক না কেন। এটা কি নারীদের জন্য খুব একটা সম্মানজনক? এসব আইন প্রমাণ করে যে, নারীদের অর্ধেক মানব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্ধেক মানবের তো অর্ধেক মগজ থাকবে।”

নারীদের নিয়ে এ ধরনের অসভ্য মন্তব্য এর আগেও সৌদি আরবের বহু ধর্মীয় নেতা করেছেন। কই, তখন তো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

২০১৩ সালে সৌদি নারীরা এটিভি নামের এক ধরনের মোটর বাইক চালানোর অধিকার পায়। তবে শর্ত ছিল, তারা শুধু বিনোদন এলাকায় সেটি চালাতে পারবেন, সম্পূর্ণ ইসলামিক পোশাক পরে এবং সঙ্গে থাকতে হবে একজন পুরুষ আত্মীয়। গাড়ি চালানোর ব্যাপারেও এ ধরনের শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে নিঃসেন্দহে। শর্তগুলো শোনা যাচ্ছে এমন, তারা শুধু কর্মস্থলে আসা-যাওয়া বা দোকানপাট করার নিমিত্তে গাড়ি চালাতে পারবেন, কোনো জয়রাইডিং নয়। অর্থাৎ বন্ধুবান্ধব মিলে বা পরিবারের মানুষদের নিয়ে কোনো লংড্রাইভে নয়। সম্ভবত তাদের গাড়ি চালানোর সময়কালের একটা গণ্ডি বেঁধে দেওয়া হবে।

তারপরও মন্দের ভালো হিসেবে সৌদি নারীরা তো বটেই গোটা দুনিয়ার নারীঅধিকারের জন্য সোচ্চার ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো এই ডিক্রিকে স্বাগত জানিয়েছে। সৌদি নারীরা রীতিমতো উল্লাস প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও অন্যত্র।

‘তবে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’, বলছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞ। পদক্ষেপটি মোটেও সৌদি নারীর সমানাধিকার স্বীকার করা থেকে হয়নি, এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়। এই ডিক্রি জারির কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় বড় গাড়ি নির্মাতা বিজ্ঞাপন ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের সব চমক-লাগানো শ্লোগান শুনে মনে হবে, সৌদি নারীরা বুঝি জীবনের সব ক্ষেত্রে পুরুষের সমান অধিকার পেয়ে গেছেন! ফোর্ড গাড়ি নিমার্তাদের বিজ্ঞাপন ছিল সবচেয়ে মনোগ্রাহী– ‘ওয়েলকাম টু দা ড্রাইভার সিট’ লেখা এ বিজ্ঞাপনে সম্পূর্ণ কালো এলাকাজুড়ে দেখা গেছে গাড়ির রিয়ারভিউ আয়নায় একজোড়া নারীর চোখ। নিশান ভক্সওয়াগানও তাদের মতো করে বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করেছে– অবশ্যই নারী গাড়িচালকদের লক্ষ্য করে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গাড়ি আমদানি করে সৌদি আরব। গাড়ির বাজারে তাদের অবস্থান ১৯৮এর মধ্যে ২১তম। হিসাব করে দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবার পর গাড়িবিক্রেতারা ৮০ লাখের মতো সম্ভাব্য ক্রেতা পাবে। অর্থাৎ ৮০ লাখ সৌদি নারী গাড়িচালককে নতুন গাড়ি ক্রেতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।। এদের বয়স ১৫ থেকে ৫৪ বছর। সৌদি আরবে বসবাসরত ২৭ লাখ বিদেশি নারীকে অন্তর্ভুক্ত করলে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। অনেক বাড়িতে যে গাড়ি নারী বা সন্তানদের চলাচলের জন্য নির্ধারণ করা ছিল সেটি এখন পরিবারের নারী সদস্যরা চালাবেন। সুতরাং এত নতুন গাড়ি না-ও বিক্রি হতে পারে। তবে অধিকাংশের মত, এখন না হলেও কিছুদিন পর নারীরা তাদের নিজস্ব গাড়ির দাবি করতে পারেন। সে হিসেবে ক্রতা বাড়বেই।

মজার বিষয় হল, গোটা সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানো অপরাধ নয়। বিখ্যাত তেল কোম্পানি আরামকোর দাহরাম কম্পাউন্ডে নারীদের গাড়ি চালাতে দেখা যায়। আবার বেদুইন নারীরা লাইসেন্স ছাড়াই মরুভূমিতে বড় বড় ট্রাক চালান।

 

Saudi women - 10111
সৌদি আরবে গ্রাজুয়েট পুরুষের তুলনায় গ্রাজুয়েট নারীর সংখ্যা বেশি

 

এককালে পেট্রো ডলারে পুষ্ট সৌদি আরবের অর্থনীতি ক্ষীয়মান এখন। বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক নিয়ে আর কতদিন চলবে? তাদের টনক নড়ছে। তারা শুধু আমদানি নয়, নিজ দেশে বিদেশি বিনিয়োগের উপরও জোর দিচ্ছেন। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে সম্ভবনাময় খাত অটোমোবাইল শিল্প। সে জন্যও নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া দরকার ছিল। শুধু নারীরা নন, যুবকরাও সেখানে গাড়ি শিল্পের টার্গেট। সৌদি নাগরিকদের গড় বয়স ২৭ বছর। তাদের জনসংখ্যার অর্ধেকের বয়স ২৪ বছরের নিচে। ২০ বছর ধরে সৌদি আরব তার গাড়ি শিল্পের বিকাশের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেক ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাপান, ইটালি, সুইডেন ও ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে গাড়ি নির্মাণ হচ্ছে সেখানে। সৌদি আরবের লক্ষ্য ২০১৫ সাল নাগাদ তারা ছয় লাখ গাড়ি নিজেরাই তৈরি করবে।

নারীদের গাড়ি চলানোর অনুমতি দিয়ে সৌদি আরব তার অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চাইলেও, এই নিষেধাজ্ঞা উঠলে প্রাইভেট গাড়িচালকদের অনেকের কপাল পুড়বে। সৌদি আরবে প্রায় আট লাখ বিদেশি গাড়িচালক রয়েছেন। এদের সিংহভাগ দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত, বাংলাদেশি চালকও রয়েছেন প্রচুর। এদের গড় মাসিক বেতন ৪০০ ডলার এবং তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। তাদের অন্যত্র চাকরি দেখতে হবে বা সৌদি আরব ত্যাগ করতে হবে। আরও যাদের কপালে চিন্তার রেখা পড়েছে তারা হল উবার এবং ঐ ধরনের অ্যাপ-নির্ভর ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস। তাদের যাত্রীদের শতকরা আশি ভাগই নারী।

সৌদি আরবে নারীদের অবস্থান গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৬ অনুযায়ী ১৪৪এর মধ্যে ১৪৩তম। সৌদি সরকার এ বিষয়ে এখন একটু নড়েচড়ে বসছে। ভিশন ২০৩০ নামে তারা একটা পরিকল্পনা নিয়েছে সেখানে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবে গ্রাজুয়েট পুরুষের তুলনায় গ্রাজুয়েট নারীর সংখ্যা বেশি। একটা বিরাট মানবসম্পদ অলস পড়ে আছে। অবশ্য তারা তো এত দিন নারীকে মানব বলেই মনে করত না। সুতরাং তারা আর মানবসম্পদ হল কীভাবে?

গত ডিসেম্বরে একদল সৌদি নারীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে তারা তাদের সেই আবায়া পরে বেসবল খেলছেন, নাচছেন এবং খেলনা গাড়ি চালাচ্ছেন। মূলত সৌদি নারীদের প্রায় সকল ক্ষেত্রে পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নেওযার যে বিধান সেটির প্রতিবাদে ছিল এ ভিডিও।

মানাল আল-শরিফ যিনি ‘উওম্যান হ্যাস ড্রাইভ’ নামে এ ক্যাম্পেইন শুরু করেছিলেন সেই নব্বই দশকে, এই ডিক্রি জারির পর বলেন, ‘ছোট একটা ফোঁটা দিয়ে বৃষ্টি শুরু হল।’

গাড়ি চালানোর অধিকারের পর সৌদি নারীরা আশায় বুক বাঁধছেন একদিন তারা নিজেদের জীবন চালানোর অধিকারও পাবেন। পুরুষ অভিভাবকদের অনুমতি নিয়ে চলার দিন বুঝি শেষ হয়ে এল।

পারভীন সুলতানা ঝুমাসাংবাদিক, কলামিস্ট

৪৮ Responses -- “গাড়িচালক সৌদি নারী নিজের জীবনের চালক হবেন কবে?”

  1. Rasha

    কিছু মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে নারী কোনোদিনও নিজের জীবনের চালক হতে পারবে না । এ লেখার প্রকৃত মর্ম যদি বুঝে থাকি তা হচ্ছে “নারীর মানবাধিকার”,এটির মধ্যে
    ১. বিবাহ বিচ্ছেদ
    ২. ধর্ষণ
    ৩. পারিবারিক কলহ
    ৪. পারিবারিক ব্যাবস্থার বিলোপ
    ৫. সামগ্রিক আইন শৃখলার অবনতি। ইত্যাদি ইত্যাদি।
    উপোরোক্ত বিষয়গুলো কিভাবে সম্পৃক্ত বুঝতে পারছি না, নারীকে তার ইচ্ছার বিরূদ্ধে গৃহবন্দী রেখে যদি বিয়ে টিকিয়ে রাখতে হয় তাহলে সেই দাম্পত্যে ধিক্!
    যারা সমতা আর সভ্যতায় বিশ্বাসী নহেন তারা এসব বলতেই পারেন,তাতে নারর জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের যয়যাত্রা বন্ধ হবে না,জয়তু নারীর অগ্রযাত্রা! এটিই বিধাতার ইচ্ছে !

    Reply
    • রেদোয়ান খান

      যদি আসলেই বুঝতে চান তবে প্রকৃত ইসলামিক জীবনযাপন করুন। ডাক্তার যদি বলেন মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিক বাড়বে তবে তা আমরা মেনে চলি। মিষ্টির মধ্যে তো আপনি শত চেষ্টা করেও ডায়াবেটিক খুঁজে পাবেননা ,বিষয়টি যদি সত্যি বুঝতি কেউ বুঝতে চায় তবে তাকে ডাক্তারি পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা এতো কিছু খুঁজিনা, ডাক্তারের উপদেশ মাথাপেতে নেই। কিন্তু যারা আলেম, ধর্ম সম্পর্কে বুঝে, যাদের একটা বিশাল অধ্যায় ধর্মশিক্ষায় ব্যায় করেছেন, তাদের উপদেশ আমরা মাথা পেতে নিতে শংকিত হই। ধর্মতো শুধু নামাজ,তিলাওয়াত, রোজা,হজ,জাকাত, ইত্যাদির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের পুরা জীবনই ধর্মের আওতায়। আল্লাহ তালা বলেন ”إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ” আপিন বলুঃ আমার নামায, ও আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।-আন-আম-১৬২ ” তো , নারী সম্পর্কে ইসলামে বিস্তারিত বিবরণ আছে, তারা কিভাবে চলবে ,কি পড়বে কিভাবে জীবনযাপন করলে সমাজে ফিতনা হবেনা ,তাদের ইজ্জতের উপর কলঙ্কের কালিমা লেপন হবেনা। তাদের জীবন যাপন সম্পর্কে নিম্নে আল কাউসার থেকে আলোচনা করা হলো।

      আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে নারী ও পুরুষ দুই ভাগে সৃষ্টি করেছেন। অতপর তাদের মাধ্যমে মানবজাতির বিস্তার ঘটিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তা থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন। যাতে সে তার নিকট শান্তি পায়। (সূরা আ’রাফ (৭) : ১৮৯)
      অন্যত্র ইরশাদ করেন, (তরজমা) হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তা থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু নর ও নারী । (সূরা নিসা (৪) : ১)
      নিজ নিজ অবস্থা ও উপযোগিতা অনুসারে দুনিয়ার দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে ও আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে উভয়েই সমান অংশীদার। আর কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণ প্রায় সকল দ্বীনী বিষয়ে নারী-পুরুষ উভয়ই সমান। তাদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন-তাওহীদ, আকীদা-বিশ্বাস, আল্লাহ তাআলার প্রতি সমর্পণ, কৃতকর্মের প্রতিদান-পুরস্কার কিংবা শাস্তি, ছওয়াব ও ফাযাইল ইত্যাদি। তেমনিভাবে শরীয়তের সাধারণ দায়িত্ব ও অধিকারের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
      আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) আমি সৃষ্টি করেছি জীন ও মানুষকে। এজন্য যে, তারা আমারই ইবাদত করবে। (সূরা যারিয়াত : ৫৬)
      পুরুষ অথবা নারীর মধ্যে কেউ সৎ কাজ করলে ও মুমিন হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তার প্রতি অণু পরিমাণও জুলুম করা হবে না। (সূরা নিসা (৪) : ১২৪)
      মুমিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকর্ম করবে তাকে আমি নিশ্চয়ই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব। (সূরা নাহল (১৬) : ৯৭)
      যা দ্বারা আল্লাহ তোমাদের কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তোমরা তা লালসা করো না। পুরুষ যা অর্জন করে তা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে তা তারই প্রাপ্য অংশ। (সূরা নিসা (৪) : ৩২)
      তবে সৃষ্টির উদ্দেশ্য, দৈহিক ও মানসিক গঠন ইত্যাদি দিক থেকে আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষের মাঝে কিছু পার্থক্য রেখেছেন। পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন পূর্ণ শক্তি দিয়ে। নারীর সকল দায়িত্ব পালন, তার নিরাপত্তা বিধান, ভরণ-পোষণ ও বংশের সংরক্ষণ ও প্রতিপালন তার দায়িত্ব ও কর্তব্য। পুরুষের দায়িত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এজন্য যে, পুরুষ তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে আল্লাহর হিফাজতে তারা হিফাজত করে। (সূরা নিসা (৪) : ৩৪)
      নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে যেমন আছে তাদের উপর পুরুষদের। কিন্তু নারীদের উপর পুরুষের মর্যাদা আছে। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সূরা বাকারা (২) : ২২৮)
      বিত্তবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবনোপকরণ সীমিত সে আল্লাহ যা দান করেছেন তা থেকে ব্যয় করবে। (সূরা তালাক (৬৫) : ৭)
      জনকের কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণ-পোষণ করা। (সূরা বাকারা : ২৩৩)
      পুরুষের এই দায়িত্ব-কর্তব্য ও শ্রেষ্ঠত্ব হাদীস শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট স্ত্রীর প্রতি পুরুষের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যখন তুমি খাবে তখন তাকেও খাওয়াবে, যখন তুমি বস্ত্র পরিধান করবে তখন তাকেও পরিধান করাবে …। (সুনানে নাসায়ী ৫/৩৭৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৮৩০)
      অন্য হাদীসে আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, স্ত্রীদের বিষয়ে তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। কেননা তারা তোমাদের নিকট আবদ্ধ। আল্লাহ তাআলার আমানতে তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছ, আল্লাহর কালিমা দ্বারা তোমরা তাদের লজ্জাস্থানকে বৈধ করেছ। আর তাদের জন্য তোমাদের উপর রয়েছে তাদের সঙ্গত ভরণ-পোষণ। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪৭; জামে তিরমিযী, আবওয়াবুর রিযা’ হাদীস : ১১৬৩)
      উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস দ্বারা বোঝা যায় যে, নারীর সকল গুরুভার পুরুষের কাধে। পুরুষের দায়িত্ব হল নিজের ও পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা। আর এসবের যোগান দেওয়ার জন্য প্রয়োজন জীবিকা উপার্জনের। সুতরাং তাকে গ্রহণ করতে হবে চাকরি, ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো পেশা। আর ঘরের কোণে বসে এ দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ঘরের বাইরে বের হওয়া। এমনকি প্রয়োজনে দূর দূরান্ত সফর করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে যেন তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমআ (৬২) : ১০)
      অন্য আয়াতে বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে দেশভ্রমণ করবে। (সূরা মুয্যাম্মিল (৭৩) : ২০)
      সুতরাং বহিরাঙ্গনই হল পুরুষের প্রধান কর্মক্ষেত্র। বাইরে অবস্থান হল তার সাধারণ অবস্থা। ঘরে বসে থাকা পুরুষের জন্য শোভনীয় নয়।
      পক্ষান্তরে নারীকে আল্লাহ বানিয়েছেন দুনিয়ার জান্নাত। তিনি স্বামীর জন্য প্রশান্তি, সন্তানের জন্য আশ্রয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সংগিনীদেরকে যেন তোমরা তাদের নিকট শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম (৩০) : ২১)
      (তরজমা) তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন ও তা থেকে তার স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন। যাতে সে তার নিকট শান্তি পায়। (সূরা আরাফ : ১৮৯)
      নারী, সন্তান, রাশিকৃত স্বর্ণরৌপ্য আর চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদি পশু এবং ক্ষেত-খামারের প্রতি আসক্তি মানুষের নিকট সুশোভিত করা হয়েছে। (সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৪)
      হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-দুনিয়া হচ্ছে ক্ষণিক উপভোগের বস্ত্ত। আর এর সর্বোত্তম সম্পদ নেককার নারী।
      একমাত্র ইসলামই নারীকে বানিয়েছে সর্বোচ্চ সংরক্ষিত। পরপুরুষ তার দিকে মুখ তুলেও তাকাতে পারবে না। নারীদেরকে আল্লাহ আদেশ করেছেন তারা যেন নিজেদেরকে সংরক্ষিত রাখেন। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তারা যেন নিজেদের আভরণ প্রকাশ না করে তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, আপন নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যারা যৌন কামনা-রহিত পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতীত অন্য কারো নিকট।
      তারা যেন তাদের গোপন আভরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূর (২৪) : ৩১)
      (হে নবী!) মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া নিজেদের আভরণ প্রদর্শন না করে। (সূরা নূর : ৩১)
      বলাবাহুল্য যে, নারীর নিজের ও নিজের সৌন্দর্যকে পরপুরুষ থেকে আড়াল রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হল গৃহে অবস্থান। কেননা গৃহের চার দেয়াল এবং পর পুরুষের সামনে না যাওয়া ও তাদের সঙ্গে উঠাবসা-চলাফেরা থেকে বিরত থাকাই নারীর জন্য বড় পর্দা। আর এজন্যই আল্লাহ তাআলা নারীকে আদেশ করেছেন গৃহের অভ্যন্তরে অবস্থানের। ইরশাদ করেছেন, আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না। (সূরা আহযাব : ৩৩)
      সুতরাং গৃহে অবস্থানই হল নারীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং এটিই তার প্রধান কর্মক্ষেত্র। তবে প্রয়োজনে সে বাইরে যেতে পারবে। কিন্তু বাইরে অবস্থান শুধু প্রয়োজনবশত ও প্রয়োজন পরিমাণ হতে হবে। আর এ সময়ও নিজেকে ও নিজের সৌন্দর্যকে রাখতে হবে পরপুরুষের দৃষ্টির আড়ালে।
      গৃহে অবস্থান নারীর ধর্মীয় অধিকার
      কুরআন মজীদে নারীদেরকে গৃহাভ্যন্তরে অবস্থানের আদেশ করা হয়েছে। ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) আর তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং জাহেলী যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না। (সূরা আহযাব (৩৩) : ৩৩)
      এই আয়াতে গৃহকে নারীর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। এটি ছাড়া সমগ্র কুরআন মজীদে আর মাত্র দুটি আয়াত এমন আছে, যেখানে গৃহের সম্বন্ধ নারীর দিকে করা হয়েছে।
      গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, নারীর দিকে গৃহের এই সম্বন্ধ তার মালিকানা বোঝানোর জন্য নয়; বরং তা নারীর জন্য সর্বদা গৃহে অবস্থান আবশ্যক হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
      অতএব বোঝা গেল, নারীর প্রধান কর্মক্ষেত্র ও তার সকল কর্মব্যস্ততা হবে গৃহের অভ্যন্তরে। ঘরোয়া ও সাংসারিক কাজকর্মই হবে তার প্রধান কাজ। আর পুরুষের কর্মক্ষেত্র ও কর্মব্যস্ততা হবে গৃহের বাইরে।
      নারী-পুরুষ প্রত্যেকের সমাজ হবে আলাদা। নারীর বিশেষ সমাজ শুধু নারীর সঙ্গে; গৃহের অভ্যন্তরে। আর পুরুষের বিশেষ সমাজ হবে শুধু পুরুষের সঙ্গে ও গৃহের বাইরে।
      তো ইসলামে যেহেতু নারীকে ঘরে অবস্থানের বিধান দেওয়া হয়েছে তাই সমাজের কর্তব্য, তাকে এই বিধান পালনের সুযোগ দেওয়া। চাপ প্রয়োগ করে বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নারীকে এই বিধান পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এটা নারীর ধর্মীয় অধিকার।
      তাছাড়া সৃষ্টি ও উদ্দেশ্য বিচারেও গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান নারীর অধিকার। কেননা আল্লাহ তাআলা নারীকে সৃষ্টি করেছেন দুর্বল করে। তাকে সৃষ্টি করেছেন আদমের পাজর থেকে। ফলে সে আদমের (পুরুষের) একটি অংশবিশেষ। নারীকে মুখোমুখি হতে হয় ঋতুচক্রের, ধারণ করতে হয় গর্ভ, সহ্য করতে হয় প্রসব বেদনা, স্তন্যদান ও আনুষঙ্গিক দায়িত্ব। সর্বোপরি তাকে পালন করতে হয় ভবিষ্যত প্রজন্মের লালন-পালনের গুরুভার।
      আর এ কথা তো দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, যে নারী অফিস-আদালত, কল-কারখানায় কাজ করে তার পক্ষে এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয়। কেননা সে তো সর্বদা ব্যস্ত থাকে তার কর্মক্ষেত্রের নানা কাজে। অফিসের বিভিন্ন দায়িত্বে তাকে সময় দিতে হয়। ফলে ঘরে তার সময় দেওয়া, সন্তানদের দেখাশোনা, খোঁজখবর নেওয়া দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
      সুতরাং সৃষ্টি-উদ্দেশ্য এবং দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিচারেও ঘরে অবস্থানের সুযোগ নারীর প্রাপ্য। এটা তার মানবিক অধিকার। বিশেষত যখন বর্তমান সমাজে নারীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ সর্বত্রই যখন নারী অনিরাপদ। তার ইজ্জত-সতিত্ব, জীবন-প্রাণ যখন প্রতি মুহূর্তে চরম হুমকির সম্মুখীন তখন নারীর জন্য ঘরের নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে নিজেকে নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি করা, নিজের সতীত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে পদে পদে উত্যক্ততা, ধর্ষণের শিকার হওয়ার কোনো যুক্তি হতে পারে না।
      অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হল, প্রগতির দাবিদার এক শ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও নারীবাদী একটি গোষ্ঠি মিথ্যা আশ্বাস ও প্রলোভন দিয়ে নারীকে আজ ঘরের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের হীন স্বার্থে তারা নারীকে ও নারীর রূপ-সৌন্দর্যকে ব্যবসার পণ্যে পরিণত করছে। তারা নারীকে বোঝাচ্ছে যে, ঘরের কোণে পড়ে থাকায় কোনো স্বাধীনতা নেই। স্বামীর অনুগত থাকায় কোনো সম্মান নেই। প্রকৃত সম্মান কেবল বাইরের জীবনে। তাই পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও উপার্জন করতে হবে। কমপক্ষে নিজের প্রয়োজন পূরণের মতো উপার্জন-উৎস তার থাকতে হবে। তবেই সে হবে প্রকৃত সুখী, প্রকৃত স্বাধীন। তারা দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে আনে পশ্চিমা সভ্যতাকে। যেখানে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, বাজার-শপিংমলসহ সর্বত্র নারীরা কাজ করে চলেছে।
      আর অবলা নারীও প্রলুব্ধ হয়ে নির্বোধের মতোই পশ্চিমাদের অন্ধ অনুকরণে মেতে উঠেছে। প্রগতিশীল হওয়ার তাগিদে সে ঘর থেকে বের হয়ে গেছে। পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে অফিস-আদালতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরের চার দেয়ালে আবদ্ধ থাকাকে পরাধীনতা মনে করতে শুরু করেছে। স্বামীর অনুগত হওয়াকে অসম্মান মনে করছে।
      আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক উপলব্ধি ও জ্ঞান দান করুন। আমীন।

      Reply
  2. Redwan Khan

    নিঃস্বন্দেহে এটা দ্বীন বিদ্ধংসী সিদ্ধান্ত। এর ফলে সমাজের যা যা খারাপ পরিণতি হবে তা হলো :
    ১. বিবাহ বিচ্ছেদ
    ২. ধর্ষণ
    ৩. পারিবারিক কলহ
    ৪. পারিবারিক ব্যাবস্থার বিলোপ
    ৫. সামগ্রিক আইন শৃখলার অবনতি। ইত্যাদি ইত্যাদি।

    যে সমস্ত ঘটনা আমরা পশ্চিমা দুনিয়াতে অহরহ দেখছি। তার পরও আমাদের মোহো কাটেনা। আমরা পশ্চিমের মতো হতে চাই। অরে, যেখানে সূর্য অস্ত যায় অর্থাৎ পশ্চিমে সেখানে কোনো আলো থাকতে পারেনা সেখানে অমানিশার আঁধার। আর ওরা সেই আঁধারে হাবুডুবু খাচ্ছে। জানিনা আরব কোন আঁধারের দিকে চলছে।

    Reply
  3. md abu sayeed

    আল্লার রসুলের পবিত্র ভূমিকে অনেক আগেই অপবিত্র করেছে এজিদের বংশধর আরও একধাপ নষ্টামিতে এগিয়ে যাবে সৌদি রাজপরিবার

    Reply
  4. সৌদি প্রবাসী

    দেখুন ঝুমা

    অন্যের চিন্তা না করে
    নিজে সহীহ মুসলিম হয়ে যান
    দুনিয়ায় কয় দিনের জন্য এলেন

    Reply
  5. Abdur Rouf Chowdhury

    A significant writing indeed.Thank you Jhuma,you always write well.But I don’t think merely allowing Soudi women to drive cars will enable them to acquire equivalent dignity as their nearest neighbour Iran’s women did.Iranian women became Nobel laureate,judge,parliamentarians,high officials etc..Superstition-blind Soudiarabeans like Saad-al-Hijra won’t let their women keep pace with Iranian women.No full will probably praise Soudiking’s using golden escalator in plane.Will any?It is a glaring example of extravagance which in Islam is said to be brother of satan.Does a multimillionaire of any other religion do so? Is there any country in the world where decapitation is done in public as done in Soudiarabea in the name of justice? To Iran’s-humanity’s indeed-bad luck,in the eyes of Trump’s America,this Soudiarabea is their sworn friend and Iran, a formidable foe! So,nothing good can be expected from ‘half-brained’ Soudi women dominated by ‘full-brained’ Soudiarabeans like Saad-al-Hijra. ( please, read ‘no full’ as no fool in line 7)

    Reply
  6. Abdur Rouf Chowdhury

    A significant writing indeed.Thank you Jhuma,you always write well.But I don’t think merely allowing Soudi women to drive cars will enable them to acquire equivalent dignity as their nearest neighbour Iran’s women did.Iranian women became Nobel laureate,judge,parliamentarians,high officials etc..Superstition-blind Soudiarabeans like Saad-al-Hijra won’t let their women keep pace with Iranian women.No full will probably praise Soudiking’s using golden escalator in plane.Will any?It is a glaring example of extravagance which in Islam is said to be brother of satan.Does a multimillionaire of any other religion do so? Is there any country in the world where decapitation is done in public as done in Soudiarabea in the name of justice? To Iran’s-humanity’s indeed-bad luck,in the eyes of Trump’s America,this Soudiarabea is their sworn friend and Iran, a formidable foe! So,nothing good can be expected from ‘half-brained’ Soudi women dominated by ‘full-brained’ Soudiarabeans like Saad-al-Hijra.

    Reply
  7. R mahmud

    ম্যাডাম, আপনি আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর নিচ্ছেন মনে হয়। সৌদি আরব নারিদের যে পরিমান সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকে তার কোন খাবর আপনার কাছে আছে? আপনি যে দেশের নাগরিক সেই দেশে কি হয় তা নিয়ে কথা বলেন তো? আপনার দেশে প্রতিদিন কতগুলো ধর্ষণ হয়? কতো নারি অত্যাচারিত হয়? আপনার দেশে কতজন নারি দৈনিক আত্মহত্যা করে? সেসব নিয়ে বরং লিখুন।

    Reply
  8. adnan

    আমার বৌ চালায় আমি গাড়ীতে ঘুমিয়ে থাকি , জায়াগায় এলে সে জাগিয়ে দেয়।জেগে দেখি তার পাটাদানের মত প্রসস্ত অবয়ব , আমি হেসে উঠে চুমু খাই , বলি নাজওয়া শোন , আজ হতে তোমার গাড়ীর আমি পেচেঞ্জার । হাজার বছর আমি চালিয়ে ক্লান্ত , এখন তুমিই চালাও ।

    Reply
  9. Rasha

    পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো প্রকৃত ইসলাম ধর্মের বদনাম করার জন্য ওয়াহাবিদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে মাঠে নামিয়েছে। But my concern, are these Wahabees and their supporters kids or stupids. why this naive support from other Muslims just like some commentator here. Actually still most of muslims are not logical in their practice and that’s why easily vested interest group can use them.
    And Mr. Inran becoming self driver as women is a collective development and it’s result,woman stand alone could not do anything until and unless all people are involved in this process irrespective men/women! still as Bangladeshi we are far behind but we are in a process in this patriarchal society.

    Reply
  10. শুভ্র

    অনেক সুন্দর লেখা। এরকম আরো লেখা আশা করছি। প্রতিদিন দুইটা করে লেখা চাই এরকম টপিক নিয়ে। সৌদি নারীদেরওযে মিস ওয়াল্ড সৌদি রিয়েলিটিতে অংশগ্রহন করে নাভী, পেট, বক্ষ দেখিয়ে প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার অধিকার আছে তা নিয়ে একটা সিরিজ লেখার অনুরোধ রইল। মঙ্গল গ্রহের অনাবিষ্কৃত অনুজীবদের অধিকার নিয়ে লেখালেখি পড়ার সৌভাগ্য থেকে আশা করি লেখিকা আমাদের বন্চিত করবেননা। যদিও এই কমেন্টটি করলাম শুধুমাত্র লেখার শিরোনাম পড়ে তাতে কিন্তু লেখিকার লেখার সারমর্ম উদ্ধারে একটুকুও ভুল হয়না বলেই বিশ্বাস

    Reply
  11. খন্দকার ছাকিব

    মুখে যতই নারীদের অধিকার নিয়ে বলা হোক না কেন, মনে কিন্তু এখনো সেই গনিমতের মাল।

    Reply
  12. মোঃ আরিফুল ইসলাম

    নারী তখনই অনুমতিহীন তথা লাগামহীন স্বাধীনতা পেতে সক্ষম হবে যখন সে/তার/নারীঃ

    #১. অভিভাবকহীন হয়ে কোন ধরণের কর্তৃত্ব প্রদানের ক্ষেত্র তৈরি না করবে
    ___[অভিভাবক প্রত্যয়টি ‘অনুমতি’র সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত]
    ___[যদি সব কিছুই অনুমতি ছাড়া করতে পারে, তবে কেউ আর তার অভিভাবক থাকে না]
    #২. যৌন চাহিদা মেটাতে কোন পুরুষের প্রয়োজন পড়বে না
    ___[সক্ষম না হলে,………………]
    ___[স্বামী নামক কর্তৃত্বকারী তৈরির আশংকা]
    #৩. বিনোদনে (গান, খেলাধুলা, ভ্রমণ) কোন পুরুষের উপস্থিতি না রাখা
    ___[বয়ফ্রেন্ড নামক মেকি অনুমতি-দাতা তৈরির আশংকা]
    #৪. অর্থনৈতিকভাবে পুরুষের নির্ভরশীল না থাকা
    ___[নিজস্ব উপার্জন দিয়ে মৌলিক চাহিদা, গাড়ি, বাড়ি, শপিং, ভ্রমণ ও ব্যাংক ব্যাল্যান্স করা]
    ___[বিশ্ব দাতা সংস্থা ঋণ প্রদানের সময় গ্রহীতা দেশকে নানা শর্ত (কোন খাতে বিনিয়োগ,
    ___উৎপাদিত পণ্যটির মূল্য ও ভর্তুকি পরিমাণ) আরোপ করার অধিকার প্রতিষ্ঠিত সত্য]
    ___[পুরুষ কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে নারীর লাগামহীন বিনোদনে যোগান প্রদান অযৌক্তিক]
    ___[বাবা বা বড়-ভাই নামক অভিভাবক তৈরির আশংকা]
    #৫. পৈত্রিক সম্পত্তির মুখে লাথি মারা
    ___[পিতা নামক পুরুষটির নির্দেশনা প্রদানের আশংকা]
    #৬. পিতার শুক্রাণু ছাড়াই নারীর জন্মগ্রহণ করা
    ___[শিশুর প্রতি পিতা-মাতার প্রাকৃতিক অধিকার তৈরির আশংকা]
    #৭. পরিবার বিচ্ছিন্ন থাকা
    ___[সম্মান-রক্ষার্থে মায়ের অবাধ কর্মকাণ্ডে বড়-ছেলের হস্তক্ষেপের আশংকা]
    #৮. সমাজে বা সম্প্রদায়ে বসবাস না করা
    ___[সামাজিক রীতি পুরুষ দায়িত্বপালনকারী ও অভিভাবকত্ব সৃষ্টির আশংকা]
    #৯. সৌন্দর্য চর্চা বাদ দিয়ে রাজনীতি অংশগ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা
    ___[পুরুষ রাজনীতিবিদদের দ্বারা কর্তৃত্ব-পরায়ণ আইন তৈরির আশংকা]
    #১০. সন্তান উৎপাদনে পুরুষের সাহায্য না নেওয়া
    ____[মা হিসাবে নিজ সন্তানের একছত্র অধিকারে বাবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের আশংকা]
    #১১. কর্মস্থলে কোন কাজ করতে মেয়ে বলে অক্ষমতা প্রকাশ না করা
    ____[পুরুষ সহকর্মীটির প্রমোশন পেয়ে বস হয়ে যাওয়ার আশংকা]
    #১২. চারদিকের বস্তুগত সভ্যতা ও আবিষ্কারে সমান অবদান রাখা
    ____[ব্যবহারে অনুমোদন দিয়ে পুরুষ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আশংকা]
    ____[সমানাধিকারের প্রশ্নে সমান কাজ করা অপরিহার্য]
    #১৩. যুদ্ধ ও নিরাপত্তা তথা কোন কঠিন কাজ পুরুষের জন্য নির্ধারিত না করা
    ____[দুর্বলের প্রতি কথা মানার বাধ্যবাধকতা তৈরির আশংকা]
    #১৪. জীবন চলার কোন পথেই পুরুষের মুখাপেক্ষী না হওয়া
    ____[পুরুষের প্রতিটি দায়িত্ব পালনই একটি সম্পর্কিত অধিকারের অস্তিত্ব তৈরির আশংকা]
    #১৫. ইসলাম ধর্ম থেকে বিচ্যুত হওয়া
    ____[অধীনস্থ নারীদের বেহায়াপনা রোধের ‘দায়িত্ব পালন’ থেকে নিয়ন্ত্রণের আশংকা]

    শেষকথাঃ নারী নিজের জীবনের চালক তখনই কেবল নিজেই হবেন, যখন সে নিজেই অন্য পুরুষকে _______নিজ জীবনে না জড়াতে সক্ষম হবেন।

    Reply
  13. মোঃ আরিফুল ইসলাম

    ১। নারীর গাড়ি চালানোয় দোষের কিছু নেই; ইসলামিক রীতিও নারীর প্রতি এরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি।
    ২। নারী যদি তার উর্বর মস্তিষ্ক ও শারীরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে (১) নিরাপদ ড্রাইভিং নিশ্চিত করা
    এবং (২) লাইসেন্সের জটিল টেস্টে উত্তীর্ণ হয়, তবে তা প্রদান করাই অধিক যুক্তিসংগত।
    ৩। বাধ্যবাধকতা না থাকা স্বত্বেও, বাংলাদেশী নারীদের কেন সচরাচর প্রাইভেট-কার চালাতে দেখা যায় না?
    ৪। লেখিকা নিজেই যে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ও কর্মস্থলে গাড়ি চালিয়ে যান, সে অভিজ্ঞতা কেন লিখলেন না?
    ৫। সৌদি নারীরা তাদের নিজস্ব গাড়ি পরিবারের কাছে দাবি না করে নিজেদের উপার্জনে ক্রয় করাটাই কাম্য।
    ৬। বাঙ্গালি নারীরাও যদি বিজ্ঞাপনের যৌন-বস্তু ও বডি (সুডৌল বুক) দেখানো সেলসম্যান/রিসিপসনিষ্ট না হয়ে
    বেদুইন নারীর মত কোম্পানির গাড়ি ও বড় বড় ট্রাক চালাত, তবে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমার
    পাশাপাশি দেশ শিল্প ও বাণিজ্যে অধিক লাভবান হত।
    ৭। ‘সৌদি নারীর সমানাধিকারের প্রশ্নে বাংলাদেশী চালকের কপাল পুড়াটা মোক্ষম বিষয় নয়।’
    দক্ষিণ এশিয়ার চালকদের আর্থিক প্রসঙ্গ আনাটা লেখিকার এক ধরণের স্ববিরোধীতা।
    ৮। ‘পুরুষ অভিভাবকহীন নারী স্বাভাবিকভাবেই সমাজে কম মূল্যায়ন পাবে।’
    ‘যেমন সিটি কর্পোরেশন ঢালাওভাবে কুকুর নিধনের সময়, গলায় লাগামের চিহ্নযুক্ত কুকুরটিকে ছেড়ে দেয়।’
    ‘লাগামহীন নারী সমাজে অনিরাপদ হয়ে পড়বে এবং তাকে সবাই সরকারী সম্পত্তি হিসাবে দেখবে।’
    ৯। পারিবারিক অনুমতি তথা পরামর্শহীন লেখিকার কল্পিত সমাজে লাগাম ছাড়া নারীরা বেশি লাঞ্ছিত ও
    অপরাধের ভিকটিম হবে; এবং সেটি হবে ‘বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি’ নিয়ে বসবাসরত এক জনগোষ্ঠীর নামান্তর।

    Reply
    • আইরিন ইরা

      ওয়াও ! কি সুন্দর বিশ্লেষণ ! জনাব, মোঃ আরিফুল ইসলাম ভাই, মেয়েরা মানুষ। কুকুর নয়। আপনার যেমন ছেচল্লিশটা ক্রোমোসোম আছে, মেয়েদেরও ঠিক তাই। আর আপনে যেভাবে এবং যে প্রক্রিয়ায় মায়ের পেট থেকে জন্মাইছেন, মেয়েরাও ঠিক এমনেই জন্মায়। কুত্তার পেট থেকে জন্মায় না কিন্তু।
      আর অপরাধ যে করছে বা করতে পারে পারলে তারে সংশোধন হইতে বলেন। ভিকতিমকে না। ওকে?

      Reply
      • মোঃ আরিফুল ইসলাম

        জনাবা আইরিন ইরা আপু, আমরা মানুষ বলেই কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়, পশুর মতো যা খুশি তাই করতে পারি না। আমাদের সকলের লক্ষ্য একই (নারীর জন্য নিপীড়নমুক্ত নিরাপদ সমাজ গড়া) হলেও, তা অর্জনের ভিন্ন ভিন্ন পন্থা প্রস্তাব করতেই পারি।

        এই সমাজ বাস্তবতায় আপনি অপরাধ সংঘটনে ভিকটিমের ‘প্ররোচনা ও ভূমিকাকে’ একে বারেই অস্বীকার করতে পারেন না। তাই বলে আমি কাউকে ‘সক্ষম অভিভাবকের’ অনুপস্থিতিতে কেন নারীকে ‘উপযুক্ত টার্গেট’ মনে করে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলছিনা। আমি শুধু নারীকে পুরুষের সস্তা পণ্য হতে নিরুৎসাহিত করছি। আমি ঐ সকল বোনদের বলছি, ‘যারা পরিবারের বড় ভাই বা বাবার সাথে পরামর্শ না করেই- ইচ্ছে মতো প্রেম করছে, প্রথমে রিক্সায় অসভ্যতা, পরে পার্কে এবং শেষে লিটন-ফ্লাটে ভিডিও ক্লিপ ধারণ করছে। কিন্তু কিছু দিন পর প্রতারিত হয়ে আত্মহত্যা করছে বা কথিত প্রেমিকই হত্যা করে হোটেলে লাশ ফেলে যাচ্ছে। স্বাধীনতার নামে আমি আমার বোন আইরিন ইরাকে তার ইচ্ছামতো লাগামছাড়া লাইফ স্টাইল গড়া তথা ‘প্রতারক, ধর্ষক ও খুনিদের’ হাতে ছেড়ে দিতে পারি না।

        মেয়েরা যদি বেপরোয়া চলাফেরা বা ঐশীর মতো লাগামছাড়া লাইফ স্টাইল লিড করে, তখন কোন বিপদ হওয়ার পূর্বে তাকে রক্ষা জন্য রাষ্ট্র (পুলিশ) বা পরিবারের কতটুকু করার থাকে? তবে অপরাধ সংঘটনের পর দোষী ছেলেটিকেও একচুল ছাড় দিতে রাজি নই। আমি আমার আত্মার মত প্রিয় বোন-ভাগ্নিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেই, তাদের সব সময় সাবধান করিতে থাকবো। সাথে আমার দ্বারা অন্য কারো বোন যেন এমন ভিকটিম না হয়, সে জন্য যতটা সম্ভব আত্মসংযমী হবো।

    • রোমান

      নারীরা এক মুখে স্বাধীনতার কথা বলে আবার তারাই পুরুষের একটু প্রলোভনেই নিজেরা পণ্য হতে দ্বিধা করেন না। পুরুষ স্বাধীনতার নামে পুরুষ খোলামেলা হয়ে ঘোরে না এবং পুরুষের অভিজাত পোষাক হিসেবে ব্যবহৃত হয় শার্ট এর উপর ভারী কোট,প্যান্ট,টাই!কিন্তু নারী স্বধীনতার নামে নারীকে বলা হয় খোলামেলা পোষাকেই আভিজাত্য আর স্বধীনতা!! পুরুষ তান্ত্রিক সমাজের তীব্র বিরোধীরা পুরুষের কাছে নিজেদের সস্তাদরে বিক্রি করে নিজেদের গর্বিত হয়ে যায়।

      Reply
  14. রামা রাও

    সৌদি আরবের নারীদের নিয়ে চিন্তিত না হয়ে বরং আপনার বাসার কাজের মেয়েকে টেবিলে বসে খেতে দিন, সোফায় বসে টিভি দেখতে দিন কিংবা বাইরে রেষ্টুরেন্টে খেতে গেলে কাজের মেয়েকেও নিয়ে যান সাথে করে খাওয়ানোর জন্য।
    Change begin at home

    Reply
  15. মোঃ কামরুজ্জামান

    পৃথিবীর যে কোন দেশের নারীরা যদি ঘরেই আবদ্ধ থাকেন, তবে সেই দেশের অর্থনিতীতে একদিন না একদিন নেতীবাচক প্রভাব পড়বেই। আর পৃথিবী এখন সকলের হাতের মুঠোই, মাল্টি-কালচারাল সোসাইটিতে সমৃদ্ধ অথচ, আমরা সৌদি নারিদের ক্ষেত্রে কি জানি বা দেখি এই দেশের শিক্ষিত নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশী হলেও তাঁদের সম্মানীত ও গর্ববোধ করার মতো কোন কাজে নিয়োগ দেওয়া হয় না। শুধু তাই না এই সৌদি নারীদের প্রায়ই ৯০% নারীদের নিজস্ব পছন্দমতো কোনও পুরুষকে বিবাহের কোন অনুমতি নাই। আর বিদেশী কোনও পুরুষকে তো নইই, অথচ এই সৌদি আরবের পুরুষরা নিজেদেরকে ভোগ সামগ্রী হিসাবে এই সমস্ত শিক্ষীত ও মেধাবী নারীদেরকে ভোগের সামগ্রী হিসাবে ব্যবহার করার জন্য ঐ সমস্ত পুরুষ একাধিক নারীকে বিবাহ করে এবং পৃথিবীর বিভীন্ন দেশে গিয়ে সৌদি আরবের পুরুষরা ফূর্তী করে থাকে। এটা সত্যিই একজন নারীর প্রতি চরম অবমাননা করা হয় অথচ আমাদের নবী (সঃ) নারীদেরকে সর্বোচ্চ সম্মানের স্থানে রাখার জন্য বার বার তাগিদ দিয়েছেন এমনকি পবিত্র কোরআনেও নারীদেরকে সর্ব্বেোচ্চ সম্মানের অধিকারী করতে বলা হয়েছে। কিন্তু তার পরিবর্তে সৌদিতে বিপরীত দিক লক্ষ্য করা যায়, যার আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই ও অচিরেই সৌদি নারীদেরকে উপযুক্ত কর্মসংস্থান, সমাজ ও বিশ্ব অর্থনিতীতে অবদান রাখার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হউক!

    Reply
  16. সরকার জাবেদ ইকবাল

    ‘ছোট একটা ফোঁটা দিয়ে বৃষ্টি শুরু হল।’ – একদম সত্যি কথা। বিষয়টিকে ব্যবসা-নীতির ঘোলাজলে বিবেচনা না করে এভাবে দেখাই সমীচীন বলে মনে করছি।

    Reply
  17. Hasan Mahmud

    অনবদ্য নিবন্ধ। অবশ্যই “একদিন তারা নিজেদের জীবন চালানোর অধিকারও পাবেন”, সত্যিই ‘ছোট একটা ফোঁটা দিয়ে বৃষ্টি শুরু হল’। স্রষ্টার নামে নারী-নিগ্রহের শতাব্দী সঞ্চিত মহাপাপের ভারে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে ষড়যন্ত্রের প্রাসাদ। মুখঢাকা নিকাব নিষিদ্ধ হচ্ছে দেশে দেশে, নারীরা বিচারক হচ্ছেন, সমাজ-রাষ্ট্রে এমন কোনো সাফল্য নেই যা নারীরা অর্জন করেন নি। সৌদি আরবে সব নারী বিরোধী আইনের নাটের গুরু হল অন্ধ গ্র্যাণ্ড মুফতি আবদুল আজিজ বিন বাজ (১৯১০ – ১৯৯৯)। তার “ইসলামিক ফতোয়া রিগার্ডিং উইমেন” বইতে কোরান-হাদিসের কিছু উদ্ধৃতি দিয়ে সে লিখেছে “অতএব প্রমাণিত হইল” ইসলামে নারীরা কি করতে পারবেন আর কি পারবেন না, যেগুলো সৌদি আইন। ফতোয়াগুলো যতনা হাস্যকর তার চেয়ে অনেক বেশী বিপজ্জনক। নারীরা গাড়ী চালাতে পারবেন না এটা আছে ৩১০ – ৩১৩ পৃষ্ঠায়। অন্ধ বিন বাজদের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসছে মধ্যপ্রাচ্য সহ বিশ্ব মুসলিম, সবচেয়ে ভালো করছে বাংলাদেশ।
    নারীকে সাহায্য করুন বা না করুন, বাধা দিন বা না দিন তাঁরা অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন, দেখাচ্ছেন, দেখাবেন। মাভৈ : !

    Reply
    • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

      আরবের অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেকটি রাষ্ট্রনয়ক এখন আমেরিকার খেলার পুতুল।কান ধরতে বললে কান ধরে,বসতে বললে বসে, উঠতে বললে উঠে।এই যখন পরিস্থিতি তখন মুসলমানদের অবস্থা বা অার কতোটুকু-ই ভালো থাকবে তা তো নতুন করে বলার কিছুই নাই।সবি দৃ্শ্যমান। সৌদির দুটি জিনিস খুব প্রয়োজন।এক হলো রাজপরিবারের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য ভালো মানের শেল্টার।তাই বাদশা ফাহাদ সাদ্দামের ভয়ে সৌদিতে আমেরিকান সৈন্যের আগমন ঘটান।ব্যাপারটা কেমন জানি ‘মুরগীর ঠুকর থেকে বাঁচতে বাঘের কাছে আশ্রয়’।আসল কথা হচ্ছে সৌদি বাদশাহরা নিজেরা নিজেদের জনগণকেই বিশ্বাস করেনা এবং অন্যান্য মুসলিম দেশকেও তারা বিশ্বাস করেনা কারণ তাদের ক্ষমতার উতস গনতন্ত্রও নয় এবং জনগণও নয়, তাদের ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখে তাদের প্রভু রাষ্ট্র আমেরিকা। সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৩৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে। তার মধ্যে ১১ হাজার কোটি ডলার বা ১১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হচ্ছে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি। সৌদি আরব ১১০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনবে আমেরিকা থেকে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসকদের মূল্যবোধও গনতন্ত্র প্রতিষ্টা নয়, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে পুঁজিবাদের এবং অস্ত্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা।আমেরিকা ২০০১/২০০২ এর দুটি নতুন থিওরি নিয়ে আসে ও প্রয়োগ শুরু করে এক হল ‘ক্রমাগত যুদ্ধ’ ( perpetual war) যার অর্থ হচ্ছে দুনিয়া ব্যাপি একের পর এক ক্রমাগত যুদ্ধ চলতে থাকে বা বাধিয়ে দেওয়া হবে। যা আমরা আফগানিস্থান যুদ্ধ থেকে দেখতে পাচ্ছি। আর এই সব যুদ্ধ কয়েক মাত্রায় হবে কনভেনশনাল, ৫ম জেনারেশান যুদ্ধ ( উগ্র বিক্ষুব্ধ গোস্টিকে লালন পালনের মাধ্যমে)।

      Reply
    • Redwan Khan

      “ইসলামিক ফতোয়া রিগার্ডিং উইমেন” বইতে কোরান-হাদিসের কিছু উদ্ধৃতি দিয়ে সে লিখেছে “অতএব প্রমাণিত হইল” ইসলামে নারীরা কি করতে পারবেন আর কি পারবেন না,
      -আপনি কি কোরান হাদিসের বদলে নিজস্ব যুক্তিতে বিশ্বাসী ?—তওবা তওবা…..

      Reply
    • শাহরিয়ার কবির

      বিশ্বব্যাপী আদর্শিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে ইসলামের সম্ভাব্য পুনর্জাগরণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে তাকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে পাশ্চাত্যের জন্য সবচাইতে কার্যকর ও কৌশলগত পরামর্শটি প্রণয়ন করেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিজ্ঞানী প্রফেসর হান্টিংটন। আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক দীর্ঘকালীন উপদেষ্টা এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের Olin Institute for strategic studies এর পরিচালক Samuel P Huntington (স্যামুয়েল পি হান্টিংটন ) নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিশ্ব রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে নাটকীয় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ‘The Changing Security Environment and American National Interest’ (টি চেঞ্জিং সিকিউরিটি এনভায়রনমেন্ট এন্ড মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ ) শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে লিখেছেন : ‘World Politics is entering a new phase in which the fundamental sourec of conflict will be neither ideological nor economic. It will be the clash of civilization.’ (ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স ২ এন্টারিং আ নিউ ফাসে ইন হোইচ টি ফান্ডামেন্টাল সৌর্য অফ কনফ্লিক্ট উইল বা নেইথের ইডিওলজিক্যাল নর ইকোনমিক. ইট উইল বা টি ক্লাস অফ সিভিলিজাটিও. ) অর্থাৎ পরাশক্তিদ্বয়ের ঠাণ্ডা লড়াইয়ের যুগের অবসানের পর বিশ্বরাজনীতি এমন একপর্যায়ে অনুপ্রবেশ করছে যেখানে সংঘাতের মৌলিক উৎস আর আদর্শও হবে না, অর্থনীতিও হবে না।সেই সংঘাত হবে মূলত সভ্যতা সমূহের মধ্যে সংঘাত।
      এর পর হান্টিংটন সাহেব পাশ্চাত্য শক্তিবর্গকে তাদের পরবর্তী আক্রমণের টার্গেট নির্দেশিত করে বলেন : ‘Those countries that for reason of culture and power do not wish to join the west. Compete with the west, by developing their own economic, military and political Power. The most prominent form of this Co-operation is the Confucian- Islamic connection that has emerged to challenge western interest, values and power’ (ঠোসে কান্ট্রিস থাৎ ফর রিসন অফ কাল্টুরে এন্ড পাওয়ার দ নোট্ উইশ তো জয়েনও টি ওয়েস্ট. কপিতে উইথ টি ওয়েস্ট, বি ডেভেলপিং থেইর ওন মিলিটারি এন্ড পলিটিক্যাল পাওয়ার. টি মোস্ট প্রমিনেন্ট ফর্ম অফ থিস ক-অপারেশন ২ টি কনফুসিয়ান- ইসলামিক কানেকশন থাৎ হস্ এমেরগেদ তো চ্যালেঞ্জ ওয়েস্টার্ন ইন্টারেস্টইকোনমিক ভ্যালুজ এন্ড পাওয়ার’? ) অর্থাৎ প্রাচ্য দেশীয় যে সকল জাতি পাশ্চাত্য সভ্যতা, সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে অনিচ্ছুক বরং নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রাখতে আগ্রহী, তারা নিজেরাই অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। এ জাতীয় দেশসমূহের মধ্যে সহযোগিতার সুপ্রত্যক্ষ উদাহরণ হচ্ছে কনফুসিয়ান ও ইসলামী আঁতাত যা কিনা পাশ্চাত্য স্বার্থ, মূল্যবোধ এবং ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য উত্থিত হয়েছে। তিনি সরাসরি উসকানিমূলক যে বক্তব্যটি ব্যবহার করেন তা হচ্ছে : ‘A central focus of conflict for immediate future will be between the west and Islamic Confucian states’ (আ সেন্ট্রাল ফোকাস অফ কনফ্লিক্ট ফর ইমমেডিয়াতে ফিউচার উইল বা বেটোফেন টি ওয়েস্ট এন্ড ইসলামিক কনফুসিয়ান স্টেটস’? ) অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হবে পাশ্চাত্য শক্তির
      হান্টিংটন তার বর্ণনার একদিকে কনফুসিয়াস প্রভাবাধীন দেশ চীন ও কোরিয়া এবং অপরদিকে ইসলাম প্রভাবাধীন পাকিস্তান, ইরান, লিবিয়া, সুদান ও আলজেরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কতিপয় দেশে অব্যাহত সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পশ্চিমা আধিপত্যের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একই সাথে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক জোট ইকো এবং মুসলিম বিশ্বে ইসলামী পুনর্জাগরণবাদীদের শক্তি বৃদ্ধি যারা রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থাপনায় পাশ্চাত্য প্রবর্তিত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ইসলাম অনুমোদিত পদ্ধতি প্রবর্তনে আগ্রহী। তাই তিনি কনফুসিয়ান ইসলামী আঁতাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সকল পাশ্চাত্য শক্তিকে- ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। হান্টিংটন সাহেব বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় পশ্চিমা দেশসমূহের অর্থনৈতিক সামরিক ও রাজনৈতিক প্রাধান্য অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে যে সুপারিশমালা প্রণয়ন করেন তাহলো
       কনফুসিয়ান ও ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি রোধের জন্য।
       পূর্ণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার পাশ্চাত্য সামরিক প্রাধান্য বজায় বাখার জন্য;
       কনফুসিয়ান এবং ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার ব্যবধান ও সংঘাতসমূহকে কাজে লাগানোর জন্য।
       পাশ্চাত্য স্বার্থ ও মূল্যবোধের প্রতি বৈরী ভাবাপন্ন নয় বা সহানুভূতিশীল এমন অপরাপর সভ্যতা-সংস্কৃতির অধিকারী জাতিসমুহের সমর্থন আদায়ের জন্য; এবং
       পাশ্চাত্য স্বার্থকে সংরক্ষণ এবং আইনসিদ্ধ করে এমন সব আন্তর্জাতির (অর্থলগ্নি) প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করে এতে প্রাচ্যের দেশসমূহকে অধিক হারে সংশ্লিষ্ট করার জন্য।
      এভাবে হান্টিংটন তার নিবন্ধে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের নীলনকশা প্রণয়ন করেছেন।

      Reply
  18. হুমায়ন কবির

    আজকে মুসলিম দেশগুলিতে যা হচ্ছে তার দায় কি সৌদির উপর পড়ে না ? ইসলাম ধর্মের সাথে সৌদি শাসকের কিসের সম্পর্ক আমিও বুঝতে চাই। সৌদি আরব ক্রমাগত হারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেই যাচ্ছে কি কারনে ? এই অস্ত্র কি ইসলামের প্রচারের জন্য নাকি ওয়াহাবি রাজতন্ত্র বজায় রাখার জন্য জানতে ইচ্ছে করে। ইয়েমেনে এই মুহূর্তে জোটের নামে সৌদি আরব যা করছে তা আমিও মেনে নিচ্ছি না। সৌদি রাজতন্ত্রের পলিসির বিরোধিতা করার সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই, দুটোই ভিন্ন জিনিস। আপনি ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, আমেরিকার রাজনৈতিক পলিসির সমালোচনা যে ভাবে করেন সে ভাবেই সৌদির পলিসির সমালোচনা নিশ্চিন্তে করতে পারেন, এতে ইসলামের কিছুই যায় আসে না।

    Reply
  19. জাভেদ হুসেন

    ১৯৭৯ সালে তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তান দখল করলে সোভিয়েত দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রক্সি ওয়ার চালানোর জন্য বর্তমান ধারার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বীজ বপন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন তথা পাশ্চাত্য। তারা এ লক্ষ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে আফগান মুজাহিদ দলগুলোকে সামরিক সাহায্য ও ট্রেনিং দেয়ার কার্যক্রম শুরু করে। তখন থেকে আফগান মুজাহিদদের মধ্যে সৌদি আরব এবং অন্যান্য আরব দেশ থেকে ওয়াহাবি মতাবলম্বীদের অনুপ্রবেশ ঘটাতে থাকে। এ কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও পাশ্চাত্য এগিয়ে চলেছে সৌদি সরকারের হাতে হাত রেখে একযোগে।

    Reply
  20. জাভেদ হুসেন

    আশির দশকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগান মুজাহিদিন বাহিনীকে সংগঠিত করতে সৌদি আরব অর্থ ও সামান্য কিছু ওয়াহাবী জনশক্তি সরবরাহ করেছিলো। ওয়াহাবীরা ইসলামের জন্য জীবন দিতে সদা প্রস্তুত। অন্যদিকে মার্কিনীরা যা কিছু করে তার মূলে থাকে নিরবিচ্ছিন্ন্য তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। সৌদি আরব-মার্কিন সম্পর্ক পরস্পরের স্বার্থে অত্যাবশ্যক। মার্কিনীদের প্রয়োজন সৌদি তেল আর সৌদি আরবের প্রয়োজন আমেরিকা। ইসরাইলের নিরাপত্তার বিষয়টাকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি ও আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির সামরিক দিকটা সমন্বয় করা হয়। আশির দশকে রাশিয়াকে আফগানিস্তানে ব্যস্ত রেখে আমেরিকা রাশিয়াকে দেউলিয়া করে দিতে সফল হয়েছিলো।

    Reply
  21. জাভেদ হুসেন

    আফগানিস্তানে রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবেলায় আশির দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে এক মহান রাজনৈতিক জোট সৃষ্টি হয়। সেই থেকে মার্কিন মুল্লুক সহ সারা পৃথিবীতে ওয়াহাবিদের মৌলবাদী সুন্নি ইসলামের মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মার্কিন বিদেশ নীতির অনুকূলে ওয়াহাবী মতাদর্শ বিভিন্ন কারণে মার্কিন স্বার্থের অনুকূলে কাজ করে। মার্কিন বিদেশ নীতির প্রচারণা অনুযায়ী মার্কিনীরা সৌদি আরবে গণতন্ত্র রপ্তানি করেনি। আগের একটা আলোচনায় বিস্তারিত বলেছি গণতন্ত্র রপ্তানির প্রচারণার আড়ালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে কাজ করে। ওয়াহাবীরা প্রাচীন সমাজ ও জীবন ধারা থেকে বের হতে চায় না, তারা যে কোন ধরণের প্রগতিশীল সামাজিক পরিবর্তন প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং, ওয়াহাবীরা সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ বা জাতীয়তাবাদী আন্দোলন কোন কিছুই করবে না। কাজেই মার্কিন তেল-গ্যাস স্বার্থের প্রতিকুলে কোন কিছু সৌদি আরবে ঘটবে না। এমন চমৎকার বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই।

    Reply
  22. মনিরুজ্জামান

    পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো প্রকৃত ইসলাম ধর্মের বদনাম করার জন্য ওয়াহাবিদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে মাঠে নামিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদীরা বিশ্বের মানুষের কাছে প্রকৃত ইসলামের পরিবর্তে হিংস্র ওয়াহাবি সন্ত্রাসীদেরকে ইসলামের প্রতিনিধি হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সারা বিশ্বে যে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে তা সৌদি আরব সমর্থিত ওয়াহাবি মতবাদ বিস্তারেরই ফসল যার পেছনে আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। দায়েশের মতো এসব সন্ত্রাসীরা কেবল একটি দেশের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই তারা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি খোদ মার্কিন মুল্লুকেও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—