Pinak Ranjan Chakravarty - 111

কূটনীতিক হিসেবে পিণাক রঞ্জন চক্রবর্তী ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর পক্ষে সফল কূটনীতিক হওয়া বেশ কঠিন ছিল। বাংলাদেশে এ অব্দি অনেক সফল ভারতীয় কূটনীতিক কাজ করে গেছেন। তাদের কেউ কেউ এখনও চাকুরিতে আছেন। তাই সবার নাম উল্লেখ করার সময় আসেনি।

যাহোক, পিণাক অর্থ শিব। শিব যেমন সত্য ও সুন্দরের প্রতীক তেমনি একটু বদমেজাজেরও। সম্প্রতি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা বা মিয়ানমার-বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে পিণাক বিবিসি বাংলাকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেখানে তাঁর ভাষার মধ্যে একটু তাচ্ছিল্য ও ক্রোধ প্রকাশ পেয়েছে। কেন তিনি এমনটি করলেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। তাঁর মানের একজন সিনিয়র কূটনীতিক যে কূটনৈতিক টেম্পারমেন্ট হারাবেন এমনটি ভাবা যায় না। ভাবা সঠিক নয়। তারপরেও মি. পিণাকের এ ভাষা ব্যবহার একটু হলেও ভাবিয়ে তোলে। তিনি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেন:

“চায়না ওদের (বাংলাদেশের) বিশেষ বন্ধু হয়েছে এখন। চায়নাকে জিজ্ঞেস করুক। ওরা কিছু করুক… কিছু রোহিঙ্গা চায়না নিয়ে নিক না।”

কুটনীতি ও রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু মিত্র নেই। তবে কুটনীতির ক্ষেত্রে একটি বিষয় সব সময় ভিন্ন; সেটা হল প্রতিবেশি। প্রতিবেশি যেহেতু প্রতিদিনের সাথী, তাই তার সঙ্গে কূটনীতি করতে হয় সরলরেখায়। ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ রেখা ১৯৭৫এর পনের আগস্টের পর বেশ বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে দুই দেশের কূটনীতি যখন বন্ধুত্বের আবহাওয়ায় চলছে সে সময় পিণাকের মতো একজন সিনিয়র কূটনীতিকের এ ভাষায় কথা বলা মানায় না। যেমন পিণাক বলেছেন, ‘চায়না এখন ওদের বন্ধু হয়েছে’– এ কথার মধ্যে একটি সূচালো খোঁচা রয়েছে। মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ অব্দি চীন যে আমাদের বন্ধু ছিল না সে কথা।

মি. পিণাকেরই ভালো জানার কথা যে, ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পর থেকে ‘চীন-হিন্দ ভাই ভাই’ সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। তখনও চলছে জওহরলাল নেহরুর জমানা। আবার ১৯৮০এর দশকে এসে চায়নায় পা রাখেন নেহরু পরিবারের উত্তরাধিকার, প্রযুক্তির ভারতের নির্মাতা রাজীব গান্ধী। নেহেরুর দৌহিত্র রাজীবের আমলে যখন চীন-ভারত বন্ধুত্বের দুয়ার খোলে তখন কোনো কূটনীতিক বা রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই বলে সুচালো খোঁচা দেননি যে, ‘ভারত এখন চায়নার বন্ধু হয়েছে’।

 

INDIA-CHINA - 111
তারপরও ভারত-চীনের বন্ধুত্বে ছেদ পড়ছে না

 

বরং কেউ কেউ সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে, এ বন্ধুত্ব স্থায়ী রূপ নেবে না। আবার অনেকের ধারণা ছিল যে, এশিয়ার এই দুটি উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে যদি বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকে তাহলে দ্রুতই পশ্চিমা বিশ্ব থেকে অর্থনীতি পূবের দিকে চলে আসবে। অনেকে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের যে বন্ধুত্ব তার ফলে ভারত-চীনের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্ক সম্ভব না-ও হতে পারে।

বাস্তবতা হচ্ছে, কখনও কিছু কিছু বিষয় প্রতিকূলে যাচ্ছে, বাকি সব থাকছে অনুকূলে। তারপরও ভারত-চীনের বন্ধুত্বে ছেদ পড়ছে না। এমনকি ডোকলামের পরও তাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়ে গেছে। আবার চীনের ওয়ান-ব্লেট-ওয়ান রোড নীতির পরও দেশ দুটির কূটনৈতিক যোগাযোগ এগিয়ে চলেছে।

সে সব বিচার করে বলতে হয়, বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বন্ধুত্ব হয়েছে তা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সঙ্গে যেমন চীন-ভারত মিত্রতার ধরন মিলবে না, তেমনি চীন-বাংলাদেশের যোগাযোগের সঙ্গেও নয়। কারণটা অতি সহজ। নিকটতম প্রতিবেশির সঙ্গে সব সময় ভিন্ন ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেখানে শত্রুতা হলে লোকসান।

যেমন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চিরস্থায়ী শত্রুতায় দুদেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হচ্ছে। পাকিস্তানি রাজনীতিবিদরাও এ সত্য উপলব্ধি করেন। তারপরও সন্ত্রাসবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের কাছে তারা এতটাই বাধা পড়েছেন যে, তাদের কিছুই করার নেই। এমনকি পাকিস্তানে কোনো রাজনীতিক যদি ডায়নামিক হয়ে ওঠেন তাকে প্রাণ দিতে হয়, না হয় ক্ষমতা ছাড়তে হয়। এর জ্বলন্ত উদাহরণ প্রয়াত বেনজীর ভুট্টো ও সদ্যক্ষমতাচ্যুত নওয়াজ শরীফ।

তারপরও কূটনীতির এ খেলায় মাথা গরম করার কোনো স্থান নেই। এখানে উস্মা দেখানোরও সুযোগ অনুপস্থিত। বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে রোহিঙ্গারা শরণার্থী হিসেবে এসেছেন। তবে এত বড় ঘটনার পরও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি, এমনকি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি হবে না। চিরশত্রু ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেও এমন ঘটনার উদাহরণ রয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন কারগিল নিয়ে যুদ্ধ চলছিল সে সময়ও পাকিস্তান তাদের নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ভারতের কাছ থেকে পেয়েছে। তাই রোহিঙ্গা ইস্যুর পরও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ছেদ পড়বে না।

তবে তাই বলে মিয়নামারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ইস্যুতে বাংলাদেশ একা লড়বে না। কূটনীতিক তৎপরতাও এভাবে চালাবে না। এখানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে যেমন সঙ্গে নেব আমরা তেমনি মিয়ানমার ও আরেক প্রতিবেশি হিসেবে ভারতকেও সংযুক্ত করতে চাইব। কূটনীতিকভাবে বাংলাদেশ যদি সফল হয় তখন ভারত অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে। মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের ভালো সম্পর্ক বলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত একদম গোঁড়াভাবে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবে এমন চিন্তা কূটনৈতিক শাস্ত্রে নেই।

অন্যদিকে, এক দেশের মানুষ নির্যাতিত হয়ে, প্রাণভয়ে পালিয়ে অন্য দেশে চলে গেলে তাদেরকে সবাই মিলে ভাগ করে নিবে এমন কোনো নীতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নেই। যদি আগেকার সেই দাস বিক্রির যুগ থাকত তাহলে অসহায় মানুষদের সস্তা শ্রমিক হিসেবে নানা দেশ ভাগ করে নিত। বর্তমান পৃথিবী মানবতার পৃথিবী। এখানে ‘চায়না কিছু নিয়ে নিক’ জাতীয় অকূটনৈতিক, উস্মা-প্রকাশক বাক্যচয়নের বাস্তবতা নেই।

 

PM at China - 111
সে সব বিচার করে বলতে হয়, বর্তমানে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বন্ধুত্ব হয়েছে তা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন কিছু নয়

 

রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান নিলে জঙ্গিবাদের পালে হাওয়া লাগবে এমন আশঙ্কারও বাস্তব ভিত্তি নেই। বাংলাদেশ তার সীমানার ভেতরের জঙ্গিদের দমন করতে পারছে সফলভাবে। আর দশ লাখ রোহিঙ্গার যে কজন জঙ্গি হবে বা জঙ্গিবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হবে (যদি তর্কের খাতিরে ধরে নিই যে, মিয়ানমার ওদের ফেরত নিচ্ছে না এবং আমাদেরকেই ওদের পালতে হচ্ছে, তাহলে আর কী) তেমন দুষ্টের দমন কঠিন হবে না।

পশ্চিমা কিছু সাংবাদিক শুধু নয়, এশিয়ার অনান্য দেশেরও অনেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি শেখ হাসিনার ধর্মীয় রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখছেন। তারা যে ভুল করছেন তা হল, তারা রোহিঙ্গাদের মুসলিম হিসেবেই দেখছেন, বিপন্ন মানুষ হিসেবে নয়। সেভাবে দেখলে বরং বলা যায়, শেখ হাসিনা মানবিকতার রাজনীতি করছেন– মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু যে ধারার রাজনীতি করেছিলেন– বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে যে বিশ্বমানবতার আদর্শ গ্রহণ করেছিলেন– সে সবই শেখ হাসিনার সম্পদ। এই দশ লাখ মানুষের দায় তিনি নিজের দরিদ্র দেশের ওপর চাপিয়েছেন। তাই এখানে ক্ষুব্ধ যদি হতে হয় তবে বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষের হওয়া উচিত– অন্য কোনো দেশের কোনো কূটনীতিকের নয়।

পশ্চিমা সাংবাদিক ও এশীয় কূটনীতিকদের অনেকে একটি সত্য বুঝতে মনে হয় ভুল করছেন। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যাটি কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি মানবিক বিপর্যয়ের সমাধানের জন্য আলোচনা ও পদক্ষেপের দরজা খুলে দিয়েছেন। পথটি পেরুতে বেশ সময় লাগবে। শেখ হাসিনার নিজের দেশের মানুষদের এ জন্য কিছু মূল্য দিতে হবে। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের পুরনো একটি জাতিগত সমস্যা এবারই প্রথম বিশ্বসভায় নিয়ে গেছেন তিনি। তাই জটিলতম এ সমস্যার সমাধানে সময় তো লাগবেই।

পরোক্ষভাবে হলেও মি. পিণাক একটি বিষয়ে একমত। তিনি বলেছেন, আর্ন্তজাতিকভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে। সেখানে তিনি চীন ও রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেছেন। বাস্তবে শুধু চীন ও রাশিয়া নয়, আসিয়ানভুক্ত সকল দেশ এবং পশ্চিমা বিশ্বকে এক করেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক। সেখানে তারা ফিরে পাক নাগরিকত্ব। শত নৃগোষ্ঠীর দেশ মিয়ানমার ধীরে ধীরে একটি বহুত্ববাদী দেশে পরিণত হোক। যেখানে মেজরিটির সঙ্গে মাইনরিটি একই সমান্তরালে বাস করতে পারবে। শেখ হাসিনা সেই প্রত্যাশা থেকেই এগুচ্ছেন এখন।

রাজনীতিবিদরা নিঃসন্দেহে স্বপ্ন দেখেন, আবার তার বাস্তবায়ন করেন। অন্যদিকে, কূটনীতিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করেন রাজনীতিবিদদের অধীনে। কখনও কখনও দেখা যায় প্রাক্তন কূটনীতিকরা রাজনীতিকদের অনেক জ্ঞানও দিচ্ছেন। তবে কূটনীতিবিদদের মধ্যেও অনেকে রাজনীতিবিদদের মতো মহৎ দায়িত্ব পালণ করে বিশ্বকে উপকৃত করেছেন।

তেমন সুযোগ পেলে পিণাক রঞ্জনরা তা করে দেখাতে পারেন। সেটি না করে কূটনীতির সব বিষয় জেনেও নিস্ফল উস্মা দেখিয়ে তিনি বিশেষ কিছু ফায়দা করতে পারবেন না। না ভারতের জন্য, না বাংলাদেশের, না রোহিঙ্গাদের।

স্বদেশ রায়সাংবাদিক

১৭ Responses -- “রোহিঙ্গা ইস্যুতে পিণাকের উস্মা ও কূটনীতির ভাষা”

  1. সেতাব উদ্দিন

    যে যত কিছুই বলুকনা কেন ভারত আমাদের কাছের বন্ধু। বার্মা এবং চীন ও আমাদের প্রতিবেশী হিসাবে বন্ধু বই কি? বার্মা যা করছে তা মোটেই বন্ধু সুলভ নয়। চীনের বিরোধিতাও অবন্ধুসুলভ! তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে কেন? পিনাক বাবু একজন কূটনীতিক ।বাঙালি। তিনি এদেশে ছিলেন।তিনি হয়ত ভাবছে চীন আমাদের বন্ধু হওয়াই আমরা ভারত থেকে দূরে সরে গেছি! আজকের বিশ্বে একজন ঝানু কূটনীতিক এমনটা ভাবতে পারলেন ?

    Reply
  2. teto cool

    আমাদের কথা হল রোহিঙ্গারা তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাক। ভারত বিষয়টা নিয়ে জল ঘোলা করবে । চীন মিয়ানমার পক্ষে এটা বারবার প্রমানিত । আমাদের (বাংলাদেশ সরকার) বিকল্প পথে হাটতে হবে । বাংলাদেশের মানুষ সারা বিশ্বে যে যে অবস্তানে আছে রোহিঙ্গা ইসু কাজ করতে হবে। একটা সামাজিক বিল্বপ করতে হবে আন্তর্জাতিক মহলে । সারা বিশ্বের সোশ্যাল মিডিয়ায় তড়পার করে দিতে হবে।

    Reply
  3. Leopavel@gmail.com

    I felt insulted, humiliated when I listening the BBC Bangla live. He absolutely denied the depth of the problem and considered BD problem so lightly.He is the most stupid and typical Indian minded (extremely selfish) guy who did not show any sympathy nor intention to provide assistance resolving the issue. India is one of the biggest supporter based on Myanmar is doing such atrocities. Can explain a lot, but in one word, If India is your friend you do not need an enemy. They are proving again and again…

    Reply
  4. ইসরাত জাহান

    একটি স্বাধীন দেশ কাহাকে করিডোর দিবে তাতে তথাকথিত বন্ধুরাষ্টের বিরোধিতা কি প্রমান করে তাহা কি মুক্তিযুদ্বের স্বপক্ষের শক্তির অনুসারিরা ব্যাখ্যা করে বলতে পারবেন (সঙ্গে বিনা ফিতে ট্রানজিট ব্যাপারটাও মনে রাখবেন)। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক গত সপ্তাহে দিল্লি সফরে এসে স্পষ্ট করেছেন, তার
    দেশের কাছে অর্থনীতির দাবি আগে – এবং বাংলাদেশ আশেপাশের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলাতেই বেশি গুরুত্ব দেবে। ফলে গত আট-নবছরে ভারত ও বাংলাদেশ মিলে প্রায় একশোর কাছাকাছি কানেক্টিভিটি প্রকল্পবাস্তবায়ন করার পর হয়েছে এখন বিসিআইএম করিডরকে ঘিরে দুটো দেশ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে –
    আর তার মূলে আছে এই প্রকল্পে চীনের ভূমিকা। বিতর্কিত কাশ্মীর এলাকার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলে চীনের বেল্ট রোড ইনিশিয়িটেভ থেকে ভারত গত মে মাসেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল – আর বিসিআইএমও যেহেতু চীনের সেই উদ্যোগেরই অংশ, তাই ভারত সেখানেও শীতল মনোভাব দেখাচ্ছে। দিল্লির ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটের মঞ্চে কিন্তু শহীদুল হক পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তারা বিষয়টিকে ভারতের মতো করে দেখছেন না। মি হক সেখানে বলেন, “সার্বভৌমত্ব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভৌগোলিক ও অন্যভাবেও যেহেতু আমরা ছোট দেশ – তাই সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতে হলে আমাদের বাকি দুনিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতেই হবে। তাই আমাদের এলাকার অন্য অনেক দেশের চেয়ে অনেক আগে আমরা নিজেদের দরজা
    খুলে দিয়েছি।”

    Reply
  5. Jahidul

    একাত্তরে ভারত আমাদেরকে আশ্রয় দিছে, মানবতা, এইসব ভুগিচুগি কথা বলে লাভ নাই, এই মুহূর্তে এগুলা কোন যুক্তি বা সমাধান হতে পারে না। ভারতের সাথে এককভাবে থাকলে আমাদের ভবিষৎ অন্ধকার কারন তারা সবসময় শোষন করার চিন্তা নিয়ে থাকে আমরা ভারতের কাছে আবদ্ধ হয়ে থাকতে চাই না।। বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমারের মধ্যে দিয়ে প্রস্তাবিত বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডরকে
    কেন্দ্র করে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য সামনে চলে এসেছে।ভারত তার বন্ধুত্বের পরিচয় দিতে পারে নাই তারা প্রকৃতপক্ষে আমাদের শত্রু।ইন্ডিয়ানরা যে ধরনের সুবিধা নিচ্ছে ট্রানজিটে তা মোটামুটি অন্যান্য দেশের তুলনায় মাগনা…..মানে মাগনা তিনদিক থেকে আমাদের লুটে পুটে খাচ্ছে…….সেই তুলনায় চীনের সাথে গ্লোবাল লিংক রোড হলে বাংলাদেশের পাওনা হবে ভারত থেকে খুব সামান্যই….যদিও ভারতীয় উগ্ৰ রাজনৈতিক নেতারা চাইবে না বাংলাদেশ এগিয়ে যাক….

    Reply
  6. Azim

    আজ বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তখন নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের বিপক্ষে গিয়ে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিলো । অথচ পাকিস্তানের সাথে যখন ভারতের যুদ্ধ লেগে যাবে এমন একটা সুর উঠেছিলো এ বছরের প্রথম দিকে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেশ জোরেশোরেই বলেছিলেন, ” ভারত পাকিস্তান ইস্যুতে বাংলাদেশ ভারতের পক্ষেই অবস্থান নিবে, কারন ভারত বরাবরের মতই বাংলাদেশের বন্ধু ছিল তাই বাংলাদেশও ভারতের বন্ধুত্ব বজায় রেখেই চলবে ” ।

    Reply
  7. Lutfur Rahman

    কি স্পর্ধা পিনাকের…!
    স্বাধীন বাংলাদেশ কি গো-দের তাবেদার সিকিম..!
    এমন প্রশ্নের জবাবে পিনাক রঞ্জন বলেন, আমার মনে হয় না ভারত বেশি কিছু করতে পারবে। বাংলাদেশে ভাবছে ভারত সমস্যা সমাধান করে দেবে। এটাতো আর ভারতের সমস্যা নয়, এটা মিয়ানমারের সমস্যা। চীন এই সমস্যার সমাধান চায় কিনা জানিনা। কারণ চীন মিয়ানমারের পুরোপুরি পক্ষে আছে। এখন চীনও বাংলাদেশের বিশেষ বন্ধু হয়েছে। চীনকে জিজ্ঞেস করুক চীন কি চায়? যখন কিছু দরকার হয় তখনতো চীনের কাছে ছুটে যায় বাংলাদেশ। এখন চীনই সাহায্য করুক। বাংলাদেশ চীনকে বলতে পারে, তোমরা অন্যদিকে সাহায্য করছো, তবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও সাহায্য করো।

    Reply
  8. Sabet Bhuiya

    প্রবাদে আছে, “বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু”
    .
    তাহলে,
    #আমাদের_প্রকৃত_বন্ধু_রাষ্ট্রকে????.
    চীন? না সামান্য রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভেটু প্রদান করেছে চীন। সরাসরি অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমারের পক্ষে। .
    ভারত?
    এটাত হতেই পারে না। যেই দেশ মুক্তিযুদ্ধের পর ২৭০০০+ কোটি টাকার অস্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আর সীমান্তে উপহার দিয়েছে। লাশ।
    এখন আবার সুচিকে গণহত্যা করতে উস্কানি দিচ্ছে, সেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ।
    তাহলে,
    যুক্তরাষ্ট্র???
    এটা হতে পারে না কারণ, তারা জন্মগত ভাবে, স্বার্থপর।
    রাশিয়া???
    এটাও মনে হয় হবে না। কারণ, চীন রাশিয়াতে বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এক কথায় রাশিয়ার অর্থনীতি চীনের উপর নির্ভরশীল। আর যদি সামরিক ভাবে আমরা আক্রান্ত হই, তাহলে রাশিয়া, আমাদের অস্র দিবে না। বলতে পারেন কেন??? কারণ তাদের সাথে আমাদের এমন কোন প্রকার চুক্তি নাই।.
    এখন কি করা যায়, কেউত আমাদের সাথে নাই?

    Reply
  9. Irfan

    ভারতের নিজের স্বার্থ তো বটেই, এই অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থ দেখারও দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশ ভারত। ভারতের রিলায়েন্সসহ বড় কিছু প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারে গেছে। মিয়ানমারের সমুদ্রে বিপুল গ্যাস সম্পদ তারা আবিষ্কার করেছে। মিয়ানমারের উপর চীনের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দিতে চায় না ভারত। আমেরিকার নীতিও তাই। আমেরিকা প্রকাশ্যে মিয়ানমারের গণহত্যা নিয়ে কিছু কথা বললেও, মিয়ানমার বিষয়ে মোটেই কঠোর কোনো অবস্থান নেবে না। ভারত তো সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় বালির একটি আন্তর্জাতিক ঘোষণা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ভারত। ভারতের অবস্থান কত শক্তভাবে মিয়ানমারের পক্ষে তা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আবার আমেরিকার বিপরীতে চীনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। চীন-রাশিয়া জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশের প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে তার প্রকাশ ঘটিয়েছে। অর্থাৎ মিয়ানমার সংকটে এই অঞ্চলের বৃহৎ শক্তি চীন এবং ভারত সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষে। গণহত্যা এবং রোহিঙ্গা বিতাড়নের পথ বন্ধ করার ক্ষেত্রে চীন-ভারতের কোনো উদ্যোগ তো নেই-ই, উল্টো শতভাগ প্রকাশ্য সমর্থন আছে। চীন এবং ভারতকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এবং আমেরিকার সমর্থনও মিয়ানমারের পক্ষে।

    Reply
  10. Babor Ali

    বাংলাদেশের বর্তমান সরকার গণতন্ত্র চর্চার পথ রুদ্ধ করে দিয়ে উন্নয়নের আইয়ুবি ধারায় পথ চলতে চেষ্টা করেছে। সাড়ে আট বছরের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে, যে দিকেই দৃষ্টি দেয়া হয় সে দিকেই সমস্যা-সঙ্কটের পাহাড় জমে আছে।

    মিয়ানমারের সাথে টানাপড়েন শুরু হওয়ার পর দেখা গেল, ভারত আমাদের স্বার্থের পক্ষে নেই। চীন আমাদের কথা ভাবছে না। প্রভাবক মুসলিম দেশগুলোর ভূমিকা কাক্সিক্ষত নয়। জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বাড়া ভাতে ছাই ছিটাচ্ছে পড়শিরা- তাও মুসলিম বিশ্বের বন্ধুদের বিরাট বাজারে। পোশাক শিল্পের বাজারেও আমাদের উপস্থিতি ম্লান করে দিচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে পিছিয়ে পড়ার কারণে। এক ‘ইউনূস ইস্যু’তে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে বসল। তাই বাড়তি বাণিজ্যিক সুবিধাপ্রাপ্তি ঝুলে গেল। ইউরোপ থেকে বাংলাদেশী বিতাড়নের সময় কোনো দেশই বাংলাদেশীদের ব্যাপারে বাড়তি সিম্প্যাথি দেখাল না। তাদের বাজারে আমাদের উপস্থিতির ক্ষেত্রেও রক্ষণশীলতা প্রদর্শন করল। ভারত যখন পাকিস্তানের সাথে ক্রিকেট কূটনীতির আসর জমায়, তখন বাংলাদেশকে প্রপাগান্ডার মেশিন বানিয়ে পুরনো গীত গেয়ে যেতে ইন্ধন জোগায়। আমরাও সেই কার্ড খেলতে নেচে উঠি।

    Reply
  11. Azmer Zaman

    সাধারণ কূটনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির খাতায় জমা-খরচের হিসাবটা কোথায়? সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর একটি উক্তি আশাবাদী করেছিল। তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কও থাকবে, আবার খুনসুটিও চলবে। মনে হয়েছিল, তিনি কূটনীতির শিরদাঁড়াটা চিনেছেন এবং বুঝেছেন। কিন্তু চীন-ভারতসহ লুক ইস্ট নীতিতে এর কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না। আরব বিশ্ব ও পশ্চিমা রাজ্যে আমাদের নতুন কোনো ইমেজ সৃষ্টি হলো না। বন্ধুও তৈরি হলো না।
    এখন বঙ্গোপসাগর-লাগোয়া ভূরাজনীতিতে নতুন পাশাখেলা শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা গিনিপিগ। বাংলাদেশ পরিস্থিতির শিকার। ইউরোপ-আমেরিকার ঘুম নেই। তাই খেলাটা আগে-ভাগেই শুরু হয়ে গেল। পরিস্থিতি যে খারাপের দিকে যাবে, তাতে সন্দেহ কী? চীন-ভারত এই পাশাখেলায় অসম পার্টনার। এ খেলায় দ্রুত পক্ষ হয়ে যাবে ইউরোপ-আমেরিকা। বাংলাদেশ পক্ষ হবে কি না, সময় বলে দেবে। তবে খেলাটা বাংলাদেশের জন্য সহজ ফর্মুলায় নেই।

    Reply
  12. আব্দুল্লাহ

    মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুতে সরকার সব আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ‘মিথ্যাবাদী’ সাজিয়ে দিতে চাইল। অথচ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে অভিযোগ খণ্ডনের কোনো সাহস প্রদর্শন করল না। রাজনীতির সস্তা ভাষায় কূটনীতি করা সমীচীন নয় জেনেও বাংলাদেশ সরকার সব কিছু অস্বীকার করা যে সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে- তাতে বন্ধুও বাড়েনি, শত্রুও কমেনি; বরং দূরত্ব বেড়েছে। নিজেদের অবস্থানও পরিষ্কার হয়নি। শুধু বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-অপহরণ নিয়ে নয়, আইনের শাসন, গণতন্ত্রচর্চা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টকেও যখন রাজনীতির সস্তা ভাষায় চ্যালেঞ্জ করা হয়, তখন আমাদের ভাবমর্যাদা কূটনীতিক পাড়ায় ধস নামায়। বিদেশীদের কাছে আমরা অবিশ্বস্ত প্রমাণিত হই। এর খেসারতটা কূটনীতির ব্যর্থতার খাতায় জমা হয়। হোলে আর্টিজানের অভিযান কূটনীতিকদের আস্থাকে মেরামত করে, কিন্তু আশ্বস্ত করেনি। কারণ উগ্রপন্থী ইস্যুর সাথে বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়টিকে জড়িয়ে সরকার তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়নি। না জেনে বুঝেই বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অন্তহীন যুদ্ধে পশ্চিমাদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে।

    Reply
  13. সৈয়দ আলী

    ভুলিনি, ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও পরে রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জী আইলা দুর্যোগের পর ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৫ লাখ টন চাল সাহায্য করার ঘোষনা দেন। দীর্ঘদিন সে চাল না আসায় সাংবাদিকেরা পিণাকিকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করায়, টিভিতে দেখেছি, দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে পিণাকি বলেছিলো ‘আমরা না খেয়ে আপনাদর খাওয়াবো’?
    তবে পিণাকির এমন কথা বলার হক আছে। চৌদ্দগুষ্ঠি বাংলাদেশেরটা খেয়ে গায়ে-গতরে চর্বি হয়েছে তো এধরণের কথা বলেই সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলো মাত্র।

    Reply
  14. Abdur Rouf Chowdhury

    While listening to BBC Bangla morning news a few days earlier about Mr Pinak’s sneering comments,my reaction was also similar to what you wrote Mr Roy.The first thing PM Sheikh Hasina did after coming to power second time was to uproot anti-Indian activists from the soil of Bangladesh.This she did feeling gratitude for contribution to the war of liberation ’71.Honourable Sushma Swaraj reminded it in a debate in the Indian parliament : We can now sleep in peace and snore for Sheikh Hasina.Mr Pinak seems to have forgotten it? Thank you Mr Swadesh Roy for your good writing.

    Reply
  15. Mirza Kibria

    Nothing more can explain Hasina’s basis of looking at Rohinga issue:-
    অনেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি শেখ হাসিনার ধর্মীয় রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখছেন। তারা যে ভুল করছেন তা হল, তারা রোহিঙ্গাদের মুসলিম হিসেবেই দেখছেন, বিপন্ন মানুষ হিসেবে নয়। – Wow!!!!!!
    Sree Pinak was always an unsuccessful diplomat during his entire tenure in BD.

    Reply
  16. নওফল

    লেখাটা পড়ে নিজের মনের মধ্যে বহুত্ববাদ ও বিশ্ব সম্প্রদায় সম্পর্কে অসাধারণ ধারণা তৈরি হয়েছে। স্যারের লেখা এতোটাই সহজ কিন্তু তথ্য সম্পদে ভরপুর। ধন্যবাদ স্যার, আপনার এই অসাধারণ লেখাটার জন্যা। আপনি আগামীতে আরো বিষয় নিয়ে নিয়ে লিখবেন আর আমাদের মতো ছাত্রদের জন্য আপনার লেখা হয়ে থাকবে বাতিঘর।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—