Feature Img

Anjan“জীবন মানুষের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। এই জীবন সে পায় মাত্র একটি বার। তাই এমনভাবে বাঁচতে হবে, যাতে বছরের পর বছর লক্ষ্যহীন জীবন যাপন করার যন্ত্রণা ভরা অনুশোচনায় ভুগতে না হয়। যাতে বিগত জীবনের গ্লানি ভরা লজ্জার দহন সইতে না হয়। এমনভাবে বাঁচতে হবে যাতে মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষ বলতে পারে, আমার সমগ্র জীবন আমার সমগ্র শক্তি আমি ব্যয় করেছি এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আদর্শের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামে।”

নিকোলাই অস্ত্রভস্কি’র এই মহান বাণী সত্য হয়ে উঠেছিল ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল, রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে। এ ভূ-খণ্ডের গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের এই অবিস্মরণীয় দিনে তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকারের রক্তের হোলি খেলায় ঝরে যায় ৭টি বিপ্লবী প্রাণ। বন্দী অবস্থায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন কমিউনিস্ট কর্মী সুধীন ধর, বিজন সেন, হানিফ শেখ, সুখেন্দু ভট্টাচার্য, দেলোয়ার হোসেন, কম্পরাম সিং ও আনোয়ার হোসেন। সেদিনের লড়াইয়ে একদিকে ছিলেন নিরস্ত্র রাজবন্দিরা, অন্যদিকে ছিল গণসংগ্রামে ভীত লীগ সরকারের সশস্ত্র পেটোয়াবাহিনী।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর, পূর্ব পাকিস্তানে বিভিন্ন দাবিতে গণ-আন্দোলন গড়ে উঠতে থাকে। জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ ও ভূমি সংস্কারের মতো গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে জনগণ সোচ্চার হতে থাকে। এই সময়কালে ভাষা আন্দোলন, তেভাগা-হাজং-টঙ্ক আন্দোলন, চা শ্রমিকদের আন্দোলন, সুতাকল ও রেল শ্রমিকদের আন্দোলনের পাশাপাশি, বিভিন্ন পেশার আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কোথাও কোথাও শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এসব লড়াই-সংগ্রামে কমিউনিস্টরা ছিলেন নেতৃস্থানীয় ভূমিকায়। ফলে তাঁদের ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকে, ধরে ধরে জেলে ভরা হয় কমিউনিস্ট নেতা-কর্মীদের। কমিউনিস্ট বন্দীদের দ্বারা ভরে যায় পূর্ববাংলার কারাগারগুলো।

ব্রিটিশ সরকার রাজবন্দীদের বিশেষ মর্যাদা দিতে বাধ্য হলেও, মুসলিম লীগ সরকার সেই মর্যাদা তুলে নেয় এবং রাজবন্দীদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে বিবেচনা করে। জেলের সাধারণ কয়েদীদের সাথে পশুর মতো আচরণ করা হতো। তাদেরকে দিয়ে জেলের ঘানিও টানানো হতো। অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে জেলের মধ্যেই আন্দোলন শুরু করেন কমিউনিস্ট বন্দীরা। জেল থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনেন তাঁরা। কমিউনিস্ট পার্টির নেত্রী কমরেড ইলা মিত্রসহ সংগ্রামী কৃষকদের ওপর বর্বর অত্যাচার, হত্যা, লুণ্ঠন, লড়াকু কৃষকদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ আনেন রাজবন্দীরা।

সকল মানুষের সমান অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সভা-সমিতি-সংগঠন করার স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি তোলেন কমিউনিস্ট বন্দীরা। যুক্ত নির্বাচনসহ প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, বিনা খেসারতে জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ করে ভূমিহীন ও গরিব কৃষকদের মধ্যে জমি বণ্টন, ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ নীতির আশু বাস্তবায়ন, বিদেশী পুঁজির অনুপ্রবেশ বন্ধের দাবি তোলেন তাঁরা। কারা আইনের আমূল সংস্কার করে নতুন করে কারা আইন প্রবর্তন এবং বিচারাধীন মামলাসমূহের অতি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কমিউনিস্ট বন্দীরা। জেলের অভ্যন্তরে এসব দাবি উত্থাপন ও আন্দোলন গড়ে তুললে, উত্তেজিত ও বেসামাল হয়ে সরকার কমিউনিস্ট বন্দীদের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

লড়াইয়ের অন্যতম পন্থা হিসেবে রাজবন্দীরা বেছে নেন অনশনকে। ১৯৪৯ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত, ঢাকা ও রাজশাহী জেলের কমিউনিস্ট বন্দীরা ৪ দফায় মোট ১৫০ দিন অনশন করেন। খুলনা জেলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় কমিউনিস্ট কর্মী কমরেড বিষ্ণু বৈরাগীকে। কমিউনিস্ট কর্মী কমরেড নাদেরা বেগমের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা জেলে অনশন শুরু হয়। এই খবর পেয়ে রাজশাহী জেলেও কমিউনিস্ট বন্দীরা অনশন শুরু করেন। কমিউনিস্ট বন্দীরা চেষ্টা করেন সব জেলে একযোগে আন্দোলন গড়ে তুলতে। বদলীকৃত বন্দীদের দ্বারা তখন খবর আদান-প্রদান করা হতো। ঢাকা জেলে জোর করে অনশনকারীদের ফিডিং করাতে গেলে, ৮ ডিসেম্বর কমরেড শিবেন রায়ের মৃত্যু হয়। সরকার কিছু দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

রাজবন্দীদের মর্যাদার দাবিতে ব্রিটিশ আমলে ৬৩ দিন অনশন করে জীবন দিয়েছিলেন কমিউনিস্ট কর্মী কমরেড যতীন দাশ। ১৯৪১ সালে হিজলী বন্দী নিবাসে গুলি করে কমিউনিস্ট কর্মী কমরেড সন্তোষ মিত্র ও কমরেড তারকেশ্বর সেনকে হত্যা করা হয়। এসব আত্মদান আন্দোলনকারী বন্দীদের প্রেরণা জোগাতো।

কমিউনিস্ট বন্দীরা জেলের মধ্যে নিয়মিত সভা করতেন। আন্দোলন পরিচালনার জন্য জেলের মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টির কমিটিও ছিল। ‘জেল বিপ্লব’ তত্ত্ব, জেলে লাল পতাকা ওড়ানো, জেল ভেঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া, আইন অমান্য করা ইত্যাদি বিষয়ে তাঁদের আলোচনা চলতো।

রাজশাহী জেলে ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে সাধারণ কয়েদীরা অনশন শুরু করলে, কমিউনিস্ট বন্দীরাও যোগ দেন। ঘানি টানানো হবে না, ভালো খাবার দেওয়া হবে- এই আশ্বাসের ভিত্তিতে ১৪ এপ্রিল অনশন প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এরপর থেকে কমিউনিস্ট বন্দীদের ওপর জুলুম বাড়তে থাকে। প্রচণ্ড মানসিক চাপের মুখে রাখা হয় তাঁদের। ২১ এপ্রিল রাজবন্দীদের প্রতিনিধি কমরেড আব্দুল হক আর কমরেড বিজন সেনকে ধমক দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়, শাস্তি হিসেবে ১০ জন বন্দীকে কনডেমনড্ সেলে (ফাঁসীর আসামী যে সেলে রাখা হতো) স্থানান্তর করা হবে। কমিউনিস্ট বন্দীদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির উদ্দেশে করা এই শাস্তিমূলক আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন খাপড়া ওয়ার্ডের কমিউনিস্ট বন্দীরা। কনডেমন্ড সেলে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ২২ ও ২৩ এপ্রিল রাজবন্দীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন কয়েক দফা। ২৩ এপ্রিল সারা রাত আলোচনা করার পর, ২৪ এপ্রিল সকালে কমরেড কম্পরাম সিং তেজদীপ্তভাবেই বলেন, ‘শাস্তি আমরা মানবো না- সেলে আমরা যাবো না, নিতে এলে বাধা দেবো।’ তাঁর এই বক্তব্য সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়।

২৪ এপ্রিল সোমবার আনুমানিক সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে, সাম্প্রদায়িক মুসলিম লীগ সরকারের বিশ্বস্ত তাবেদার রাজশাহী জেল সুপারিন্টেনডেন্ট এডওয়ার্ড বিল দলবল নিয়ে হঠাৎ করেই খাপড়া ওয়ার্ডে ঢুকে পড়েন এবং কমরেড আব্দুল হকের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। বিল সাহেব যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই ওয়ার্ডে ঢুকেছেন, সেটা কারো বুঝতে অসুবিধা হয় না।
এক পর্যায়ে ‘কমিউনিস্টরা ক্রিমিনাল’ বলে গালি দিতে দিতে বিল ওয়ার্ড থেকে বের হয়েই দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। বিল বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই পাগলা ঘণ্টা বাজতে শুরু করে। মশারি টাঙানো মোটা তার দিয়ে দরজা আটকিয়ে জানালা ভেতর থেকে বন্ধ করা হয়। বিল এবার গুলি চালাতে নির্দেশ দেন। বাঁশ দিয়ে জানালার কাঁচ ভেঙে, জানালার ফাঁকের মধ্যে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে গুলি করতে থাকে সিপাহীরা। রক্তে ভেসে যায় খাপড়া ওয়ার্ড। রাজবন্দীরা চিৎকার করে দরজা খুলে দিতে বলেন। দরজা খুলতেই সিপাহী ও কয়েদী পাহারা মেটরা, আহত-নিহত নির্বিশেষে সবাইকে পেটাতে শুরু করে।

এমন সময় পুলিশ লাইনের বেলুচ আরআই’র নেতৃত্বে দুই ভ্যান পুলিশ ওয়ার্ডে ঢুকে বলে, ‘আমাদের তো আর দরকার নেই। এদের চিকিৎসা দরকার, নইলে প্রচুর লোক মারা যাবে’। সেই মুহূর্তেই বিলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওয়ার্ডে ঢুকে লাঠিপেটা শুরু করে। বিল নিজ হাতে পেটাতে থাকেন কমরেড আব্দুল হককে। বেলুচ আরআই বিলকে বের করে নিয়ে যান। রক্তস্নাত খাপড়া ওয়ার্ডে ঘটনাস্থলেই ৫ জন কমরেড শহীদ হন। রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কমরেড কম্পরাম সিং আর কমরেড বিজন সেন। তাঁদেরকে হয়তো বাঁচানো যেত। কিন্তু আহতদের কোন চিকিৎসাই হয়নি। মৃত্যুর আগে কম্পরাম বলেছিলেন, ‘কমরেডস্ যারা বেঁচে থাকবেন, তারা বাইরে গিয়ে সবাইকে বলবেন যে কম্পরাম লাল পতাকার সম্মান রক্ষা করেই মরেছে।’ শহীদদের মরদেহ ওয়ার্ডের বাইরে নেবার সময়, আহত কমরেডরা কোনো রকমে দাঁড়িয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে লাল সালাম জানিয়ে শেষ বিদায় জানান। এরপর শহীদদের মৃতদেহের খবর কারো পক্ষেই জানা সম্ভব হয়নি।

নিরস্ত্র ৩৬ জন (সংখ্যা নিয়ে মতভেদ আছে) বন্দীর ওপর ১৮০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল সেদিন। হানাদারদের ৩ দফা লাঠিচার্জ থেকে অর্ধমৃত ও নিহতরাও বাদ যান নি। রেহাই পাননি রাজশাহী জেলের অন্যান্য ওয়ার্ড ও সেলের রাজবন্দীরাও। খাপড়া ওয়ার্ডের জীবিত প্রত্যেক বন্দীই গুলি ও লাঠিচার্জে গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। গুরুতর আহত কমরেড নুরুন্নবী চৌধুরীর পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। পঙ্গু হয়ে যান কমরেড অনন্ত দেব। খাপড়া ওয়ার্ডের স্মৃতি হিসেবে সেদিনের আহত অনেকেই শরীরের ভেতরে গুলি পুষে রেখেছিলেন। মাঝে মাঝে প্রচ- যন্ত্রণা হলেও, খাপড়া ওয়ার্ডের গুলি অপারেশন করে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেননি। মনসুর হাবিব, আব্দুল হক, আশু ভরদ্বাজ, প্রসাদ রায়, আমিনুল ইসলাম বাদশা, আব্দুস শহীদসহ খাপড়া ওয়ার্ডের আহত প্রায় সকল কমরেডই একে একে বিদায় নিয়েছেন।

খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদরা ছিলেন সমাজ বদলের সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিক। শ্রমিকনেতা কমরেড সুধীন ধর দেশের ডাকে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। ১৯৩৭ সালের আন্দামান অনশনের নেতা কমরেড বিজন সেন যুক্ত ছিলেন কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে। শ্রমিক পরিবারের সন্তান কমরেড হানিফ শেখ যুক্ত ছিলেন শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে। অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতে খড়ি হয় কমরেড কম্পরাম সিংয়ের। তোলাপ, আধিয়ার, তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি। দরিদ্র কৃষক পরিবারের মেধাবী সন্তান কমরেড আনোয়ার হোসেন ছিলেন ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী। পারিবারিক-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা কমরেড সুখেন্দু ভট্টাচার্য ছিলেন তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের প্রথম সারির নেতা। কৃষক পরিবারের সন্তান কমরেড দেলোয়ার হোসেনকে অল্প বয়সে কর্মজীবন শুরু করতে হয় এবং মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি দায়িত্বশীল সংগঠক হন।

খাপড়া ওয়ার্ডের বন্দীরা সকলেই ছিলেন সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদের আদর্শে উজ্জীবিত। আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে যে কোনো ত্যাগে প্রস্তুত ছিলেন তারা। জীবন উৎসর্গ করতে তাই পিছপা হননি। খাপড়া ওয়ার্ডের হত্যাকাণ্ড নিছক কোন দুর্ঘটনা ছিল না, ছিল পূর্বপরিকল্পিত। জেল প্রশাসনের আদেশ অমান্য করার পরিণতি কী, তা ভালো করেই জানতেন খাপড়া ওয়ার্ডের কমিউনিস্ট বন্দীরা। জেনে বুঝে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি তাঁরা। বুঝিয়ে দিয়েছেন, জেলে পুরেও, গণআন্দোলন থেকে, আদর্শ থেকে সত্যিকারের বিপ্লবীকে কখনো বিচ্ছিন্ন করা যায় না।

সেদিনের শহীদরা জীবন দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে রাজশাহী জেলে খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে, প্রতি বছর ২৪ এপ্রিল ফুলে ফুলে ভরে ওঠে খাপড়া ওয়ার্ডের স্মৃতিফলক। কিন্তু শহীদরা এখনো রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পাননি। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুগ যুগ ধরে প্রেরণা যোগাবে। শহীদরা থাকবেন চিরস্মরণীয় হয়ে। তাঁরা বেঁচে থাকবেন প্রতিদিনকার বিপ্লবী আন্দোলনের মধ্যে। খাপড়া ওয়ার্ডের শহীদ-যোদ্ধাদের স্বপ্নের ‘মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে।
বর্তমান সময়ে রাজনীতি থেকে দেশপ্রেমকে নির্বাসন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে রাজনীতির প্রতি করা হচ্ছে বীতশ্রদ্ধ। ভোগবাদ আর ক্যারিয়ারিজমের নেশায় বুদ করে, তরুনদের আত্মত্যাগের পথ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই নষ্ট সময়ে খাপড়া ওয়ার্ডের গৌরবোজ্জ্বল লড়াইকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। আমাদের অগ্রজদের সেদিনের লড়াইয়ের তাৎপর্যপূর্ণ কাহিনী ও শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে সবখানে। শুধু অতীতকে জানার তাগিদ থেকে নয়, ভবিষ্যতের পথ সন্ধানের জন্যও, খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই ও সেদিনের বিপ্লবী যোদ্ধাদের জানা খুবই প্রয়োজন। খাপড়া ওয়ার্ডের লড়াই আমাদের গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। তাঁদের প্রত্যেকের জীবন-সংগ্রাম এখনও আলোড়িত করে, আত্মত্যাগে মানুষকে উজ্জীবিত করে। খাপড়া ওয়ার্ডের সেদিনের লড়াই মুক্তির লড়াইয়ে এখনও পথ দেখিয়ে চলেছে।

অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন : ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সদস্য।

১০ Responses -- “রক্তস্নাত খাপড়া ওয়ার্ড মুক্তির লড়াইয়ে আজও পথ দেখায়”

  1. চন্দন

    দেশপ্রেমিক বীরযোদ্ধাদের পরিচয় জানলাম। তাদের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে এল। এঁদের সম্পর্কে আরও আরও বেশি লেখা চাই।

    Reply
  2. গৌতম রায়

    দুর্ভাগ্যজনকভাবে খাপড়া ওয়ার্ড সম্পর্কে এ প্রজন্মের মানুষ খুব বেশি জানে না। এই লেখার রাজনৈতিক বক্তব্য এ প্রজন্মের তরুণরা কতোটুকু গ্রহণ করবে, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ; কিন্তু অনেক তরুণই যে প্রথমবারের মতো খাপড়া ওয়ার্ড সম্পর্কে জানতে পেরেছে, সেজন্য লেখককে ধন্যবাদ। আদর্শ থেকে মানুষ কোনো কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানায় আগ্রহী হয়; উল্টোটাও ঘটে সময়ে সময়ে। রক্তস্নাত খাপড়া ওয়ার্ড সম্পর্কে জেনে কেউ যদি তাঁদের আদর্শে আগ্রহী হয়, একজনও যদি আগ্রহী হয়, লেখার স্বার্থকতা সেখানেই নিহিত থাকবে।

    Reply
  3. paul

    “জীবন মানুষের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। এই জীবন সে পায় মাত্র একটি বার। তাই এমনভাবে বাঁচতে হবে, যাতে বছরের পর বছর লক্ষ্যহীন জীবন যাপন করার যন্ত্রণা ভরা অনুশোচনায় ভুগতে না হয়। যাতে বিগত জীবনের গ্লানি ভরা লজ্জার দহন সইতে না হয়। এমনভাবে বাঁচতে হবে যাতে মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষ বলতে পারে, আমার সমগ্র জীবন আমার সমগ্র শক্তি আমি ব্যয় করেছি এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আদর্শের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামে।”…………….ধন্যবাদ অঞ্জন.LAL SALAM.

    Reply
  4. মাহফুজ জুয়েল

    “জীবন মানুষের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। এই জীবন সে পায় মাত্র একটি বার। তাই এমনভাবে বাঁচতে হবে, যাতে বছরের পর বছর লক্ষ্যহীন জীবন যাপন করার যন্ত্রণা ভরা অনুশোচনায় ভুগতে না হয়। যাতে বিগত জীবনের গ্লানি ভরা লজ্জার দহন সইতে না হয়। এমনভাবে বাঁচতে হবে যাতে মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষ বলতে পারে, আমার সমগ্র জীবন আমার সমগ্র শক্তি আমি ব্যয় করেছি এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আদর্শের জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামে।”
    এ এক আশ্চর্য মহামন্ত্র! লাল সালাম কমরেড!

    Reply
  5. আরিফ

    “বর্তমান সময়ে রাজনীতি থেকে দেশপ্রেমকে নির্বাসন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে রাজনীতির প্রতি করা হচ্ছে বীতশ্রদ্ধ” এই বক্তব্যের সাথে আমি শতভাগ একমত। কিন্তু এই প্রক্রিয়া আর চলতে দেয়া ঠিক না।

    Reply
  6. rasedmehdi

    দারুন লিখেছো কমরেড….অনেক অজানাকে জানলাম। এ ধরনের লেখা আরও চাই। জানা উচিত কিন্তু জানার চেষ্টা করি না, এমন অনেক কিছু জানতে পারি এ ধরনের লেখা থেকে। অভিনন্দন কমরেড।

    Reply
  7. Bang_La

    ধন্যবাদ অঞ্জন। আজ যখন বাংলাদেশে জাল বীরদের নিয়ে মাতামাতি, ঠিক এ সময়ে খাপরা ওয়ার্ডের নির্ভীক বীরদের কথা স্মরন করে শুধু তাঁদের প্রতিই সন্মান প্রদর্শণ করলেন না বরং নতুন প্রজন্মের একাংশের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার দায়িত্বও পালন করলেন। আপনার জয় হোক। আবারো ধন্যবাদ।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—