- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

ধর্ম যার যার উৎসব সবার

আমাদের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে পাকিস্তানে। আমরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছি পাকিস্তানে। আর এটাও আমাদের সবার জানা যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রটি ছিল সাম্প্রদায়িক। দ্বিজাতি-তত্ত্ব ছিল পাকিস্তানের ভিত্তি। হিন্দুর জন্য আলাদা রাষ্ট্র, মুসলমানের জন্য আলাদা রাষ্ট্র। এই চরম সাম্প্রদায়িক ব্যবস্থাটি তখনকার রাজনীতির কারবারিরা মেনে নিয়েছিলেন। ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশ তাড়ানোর আন্দোলন পরিণতি পেয়েছিল দেশভাগের মধ্য দিয়ে। ভাবা হয়েছিল, এভাবে ধর্মভিত্তিক দুটি রাষ্ট্রের উদ্ভব হলে শান্তি আসবে, স্বস্তি আসবে, আসবে দুই ধর্মবিশ্বাসী মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি। হিন্দুর জন্য ভারত, মুসলমানের জন্য পাকিস্তান।

দেশভাগের পর দেখা গেল চিত্র ভিন্ন হয়েছে। পাকিস্তানে হিন্দু থাকল, ভারতে মুসলমান। দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে, রক্ত, অশ্রু, বেদনা-বিচ্ছেদের সকরুণ অসংখ্য কাহিনি তৈরি করেও ভারতকে মুসলমানমুক্ত করা যায়নি, পাকিস্তানকেও হিন্দুমুক্ত। সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে দেশ ভাগ হল এবং দুই দেশের রাজনীতিতেই সাম্প্রদায়িকতা স্থায়ীভাবে জায়গা পেয়ে গেল। যদিও ভারত রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ধর্ম নয়, ধর্মনিরপেক্ষতা গ্রহণ করল আর পাকিস্তান থাকল ধর্ম নিয়েই। ধর্ম মানে ইসলাম ধর্ম।

হিন্দুরা পাকিস্তানে থাকল দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে। তাদের মর্যাদা এবং অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তারপরও নিরুপায় বিপুল সংখ্যক হিন্দু জনগোষ্ঠী পাকিস্তানে থেকে যায়। যেমন আমরা ছিলাম। কেমন দেখেছিলাম আমাদের মুসলমান প্রতিবেশি, এলাকাবাসী এবং বন্ধুদের?

বলতে দ্বিধা নেই, আমরা যে তখন খুব অনিরাপদ বোধ করেছি কিংবা কথায় কথায় আমাদের সম্মানহানির ঘটনা ঘটত তা কিন্ত নয়। মুসলমান বন্ধুদের সঙ্গে, প্রতিবেশিদের সঙ্গে সদ্ভাব নিয়েই আমরা থেকেছি, চলেছি। ‘মালাউন’ শব্দটি তখন খুব শুনেছি বলেও মনে পড়ে না। পূজার সময় মুসলমান বন্ধুদের যেমন পাশে পেয়েছি, ঈদেও আমরা তাদের সঙ্গে থেকেছি। নামাজ পড়তাম না কিন্তু ঈদ জামাতের কাছে উপস্থিত থাকতাম। নামাজ শেষে কোলাকুলি করতাম। মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে তাদের বাসায় গিয়ে সেমাই–পোলাও খেতাম। মুসলিম বন্ধুরাও মন্দিরে গিয়ে পুজা-প্রার্থনায় অংশ না নিয়েও উপস্থিত থেকে আমাদের উৎসাহিত করত, প্রসাদ গ্রহণে দ্বিধা করত না। উৎসবগুলো মূলত ধর্মীয় হলেও তাতে সম্প্রীতির খুব ঘাটতি ছিল না।

বিশেষভাবে বলার মতো কথা হল তখন ঈদুল আজহায় এত গরু কোরবানি দিতে দেখিনি। দুচারটা যা গরু কোরবানি হত তা একটি নির্দিষ্ট জায়গায়, একটু বিরল বসতি দেখে। ফলে কোরবানির ঈদেও আমাদের খুব অস্বস্তিতে পড়তে হত না।

 

EID - 11 [১]
উৎসবগুলো মূলত ধর্মীয় হলেও তাতে সম্প্রীতির খুব ঘাটতি ছিল না

 

দুই.

এখন পরিস্থিতি দেখি ভিন্ন। গরু যে অধিকাংশ হিন্দু জবাইঅযোগ্য মনে করে এটা জেনেও কোরবানি দেওয়ার বেলায় হিন্দুদের অসুবিধার দিক একটুও বিবেচনা করা হয় না। সম্প্রীতির স্বার্থে হিন্দুদের সব কিছু মেনে নিতে হয়। আজানের সময় মন্দিরে শব্দ করা যাবে না, কিন্তু পুজার সময় মাইকে আজান প্রচার বন্ধ থাকবে না। এভাবে মেনে নেওয়া এবং মানিয়ে নেওয়ার নামই এখন সম্প্রীতি। সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্লোগান জনপ্রিয় হয়েছে সংখ্যালঘুদের মধ্যে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। ধর্ম তো যার যার ঠিক আছে, কিন্তু রাষ্ট্র কি সবার সমান সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারছে?

সব ধর্মের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সবার সম্মিলিত ত্যাগ, কষ্ট, অশ্রু, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছিল অসাম্প্রদায়িক পথে। ধর্মনিরপেক্ষতা হয়েছিল অন্যতম রাষ্ট্রনীতি। যারা মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, অংশ নিয়েছিলেন, তারা ভেবেছিলেন যেহেতু পাকিস্তানকে পরাজিত করে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে, সেহেতু পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রচিন্তাও পরাভূত হয়েছে। এই ভাবনাটি ছিল অতিসরলীকরণ দোষে দুষ্ট। সাম্প্রদায়িকতা মানুষের মনোজগতের ব্যাপার। এটা গড়ে ওঠা এবং বেড়ে ওঠা সব সময় দৃশ্যমানও হয় না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া মাত্রই মানুষের মন থেকে পাকিস্তানি মানসিকতা দূর হয়ে গেছে বলে ভাবনাটির মধ্যেই চরম গলদ ছিল। তখন ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অত উচ্ছ্বাসপ্রবণ না হয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো উচিত ছিল।

ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে এক পক্ষ যখন বাইরে গদগদ ভাব প্রকাশে ব্যস্ত, অন্যপক্ষ, মানে পরাজিত পক্ষ তখন এ নিয়ে বিরুদ্ধ প্রচারণায় বাতাস বিষাক্ত করে চলছিল। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হয়ে তারা নিজ নিজ এলাকা থেকে গা-ঢাকা দিয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে মসজিদ-মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়ে প্রচার চালিয়েছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ধর্মহীনতা। কিছু কিছু বাস্তব কারণে সাধারণ মানুষ ওই প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেওয়া হয়। পেছনে হাঁটা শুরু হয়। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। সামরিক ডিকটেটর এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করে বাংলাদেশকে আবার কার্যত সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করেন।

তারপর বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা নতুন মাত্রা পেতে থাকে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো ধর্ম নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কেউ নিজেদের ‘ধর্মহীন’ প্রমাণ করতে চায় না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কেবলই বাড়ছে। আওয়ামী লীগও এখন আর ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে না। ধর্ম নিয়ে যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, যারা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষক, তাদের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ ‘কৌশলগত’ ঐক্য ও সমঝোতার পথেই চলছে। বাংলাদেশ আবার অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে-– এটা অনেকটা কষ্টকল্পনা বলে মনে হয়।

 

Shafi hefajot - 111 [২]
ধর্ম নিয়ে যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, তাদের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ ‘কৌশলগত’ ঐক্য ও সমঝোতার পথেই চলছে

 

তিন.

এবার আসা যাক উৎসব প্রসঙ্গে। উৎসবের আভিধানিক অর্থ আনন্দানুষ্ঠান, ধুমধাম। অর্থাৎ যে সব আনন্দ আয়োজন ধুমধাম করে করা হয় তাকে আমরা উৎসব বলতে পারি। উৎসবকে আনন্দ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করা হয়। কারও কাছে-বা উৎসব হল ব্যক্তিগত কিংবা জাতিগত আইডেনটিটি বা পরিচয়চিহ্ন। উৎসব বিভিন্ন রকম হয় বা হতে পারে। রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, ঐতিহ্যগত ইত্যাদি ধরনের উৎসবের সঙ্গে আমাদের মোটামুটি পরিচয় আছে। উৎসবের উৎপত্তি মূলত লোকবিশ্বাস এবং ধর্মবিশ্বাস থেকে। আমাদের দেশে ধর্মীয় বিশ্বাসজনিত উৎসবই ব্যাপকতা লাভ করেছে। ঈদ, পূজা, বড়দিন ইত্যাদি উৎসবের ভিত্তি হল ধর্মাচার বা ধর্ম। আর পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে বলা যায় ধর্মবিশ্বাসনির্বিশেষে বাঙালির ঐতিহ্যগত সামাজিক উৎসব।

মেলা, খেলাধুলা, নৌকাবাইচ, গান-নাচ, যাত্রা-– এসব একইসঙ্গে উৎসব এবং সংস্কৃতি। উৎসব তো আসলে সংস্কৃতিরই অংশ। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে কিছু দিবস আছে যেগুলোর সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক নেই। বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস-– উৎসবমুখর পরিবেশে এগুলো পালনের সঙ্গে ধর্মবিশ্বাসের সম্পর্ক নেই।

ব্যক্তি থেকে সমষ্টিতে পৌঁছানোর পথ রচনা করে উৎসব। উৎসবের উদ্দেশ্য হল সবাইকে এক করা– ভাগ করা নয়। উৎসব সবসময় একটা মিলনের জায়গা তৈরি করে। একা একা উৎসব করা যায় না। উৎসব করতে হলে একত্রিত হতে হয়, মিলিত হতে হয়। উৎসবের সঙ্গে সাজসজ্জা, পোশাক, খাওয়া-দাওয়ার বিষয়গুলো জড়িত। উৎসবস্থল দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো, নতুন পোশাক পরিধান এবং ভালো বা উন্নতমানের খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে কীসের উৎসব! ধর্মীয় কিংবা সামাজিক– সব উৎসবেই এগুলো দরকার। শুভেচ্ছা কার্ড ও উপহার বিনিময় করাও উৎসবের অনুষঙ্গ।

যে কোনো উৎসব আয়োজনই মানুষে মানুষে নৈকট্য বাড়ায়। আর মানুষ যত কাছাকাছি আসে তত তার মধ্যে শুভবোধের উন্মেষ হয়, মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটে। উৎসবের মূল কথা হল, সংকীর্ণতা পরিহার করতে হবে, উদারতা দেখাতে হবে। উৎসবই প্রকৃতপক্ষে সম্প্রীতির পথ রচনা করে।

আমরা কি উৎসবের এই মর্মবাণী উপলব্ধি করে উৎসবে সামিল হই?

 

Bengali New Year - 222 [৩]
যে কোনো উৎসব আয়োজনই মানুষে মানুষে নৈকট্য বাড়ায়

 

চার.

তাহলে সম্প্রীতি বিষয়টি কী? সম্প্রীতি শব্দের আভিধানিক অর্থ সদ্ভাব, সন্তোষ, আহ্লাদ, প্রণয়, আনন্দ। অর্থাৎ মানুষে মানুষে সদ্ভাব থাকাটাই হল সম্প্রীতি। এক সময় আমরা সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করলেও সাম্প্রতিককালে সম্প্রীতিটা একটু কমে এসেছে বলেই মনে হয়। সম্প্রীতি একজনে হয় না, হয় জনে জনে। কোনো সমাজ বিচ্ছিন্ন একক মানুষের সম্প্রীতির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে বসবাস করতে গেলে সম্প্রীতি ছাড়া চলে না। মানুষে মানুষে যোগাযোগ, সংযোগ ছাড়া সম্প্রীতি গড়ে ওঠে না। বর্তমান ভোগবাদী সমাজে আত্মস্বার্থপরতা আমাদের এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, আমরা নিজেকে ছাড়া আর কিছু বুঝি না। আত্মীয়-স্বজন, এমনকি বয়স্ক মা-বাবার ক্ষেত্রেই যেখানে কারও কারও সীমাহীন উদাসীনতা, তখন অন্য মানুষের কাছাকাছি হওয়ার সময়-সুযোগ হয় কী করে! একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার, মাড়িয়ে যাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা এখন সর্বত্র। আর এর জন্য এক ধরনের দূরত্ব মানুষে মানুষে তৈরি হচ্ছে। কবি আসাদ চৌধুরীর একটি কবিতার শিরোনাম ‘সম্প্রীতি পালাল কোথায়’।

সত্যি তো সম্প্রীতি কোথায় পালাল, কীভাবে এবং কেন, আমরা কি তা গভীরভাবে ভেবে দেখেছি? ‘সম্প্রীতি’ নামে মাসুদ খানের একটি সুন্দর ছড়া আছে। এখানে ছড়াটি উদ্ধৃত করছি :

পাঁচটি আঙ্গুল পাঁচ রকমের
পাঁচ প্রকারের কৃতি
পাঁচ ধরনের ধর্ম তাদের
পাঁচটি সংস্কৃতি।
মিলেমিশে ফুটে থাকে
হাতের পাঞ্জাদেশে
কাজের সময় ঐক্যবদ্ধ
ধর্ম নির্বিশেষে।
একটি আঙ্গুল আঘাত পেলে
অন্য আঙ্গুল এগিয়ে যায়
সমদুঃখে সমব্যথায়
দরদভরা হাত বোলায়।
হোক না আঙ্গুল নানা রকম
কেউ পিছে কেউ আগে
ভাতটা খেতে গেলে কিন্তু
পাঁচ আঙ্গুলই লাগে।

পাঁচ.

সংখ্যা দিয়ে, ধর্ম দিয়ে যখন মানুষকে বিবেচনা করা হয়, তখন স্বাভাবিক নিয়মেই মানবিকতাটা গৌণ হয়ে পড়ে। আধুনিক গণতন্ত্র সংখ্যাধিক্যের বিষয়টি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে যে, সংখ্যায় একজন বেশি হলেই আধিপত্য করার সুযোগ তৈরি হয়। আজ সংখ্যাগুরু আর সংখ্যালঘু নিয়ে পৃথিবীজোড়া যে সংকট তা কি গণতন্ত্রের একটি কুফল? ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েও আজকাল বড় ধরনের লড়াই শুরু হয়েছে। ফলে ধর্ম এখন শান্তি ও মিলনের উৎস না হয়ে অশান্তি ও বিভেদের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। যে দেশে যে ধর্মানুসারীরা সংখ্যায় বেশি সে দেশে তারা সংখ্যালঘুদের পীড়ন করা এক রকম অধিকার হিসেবে দেখছে। এর সঙ্গে আবার আছে রাজনীতি, রাজনৈতিক কূটনীতি। মানুষকে মানুষ হিসেবে না দেখার কারণেই সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। অন্য দেশের কথা বাদ থাক, আমরা বাংলাদেশেই আমাদের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখি।

 

Ramu - 111 [৪]
উপাসনালয়ে আক্রমণ, প্রতিমা ভাঙচুর নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে

 

আমাদের দেশে কি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ বিরাজ করছে? এ প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এটা ঠিক যে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলতে যা বোঝায় তা হয়নি বা হয় না। রক্তাক্ত ভায়োলেন্স না হলেও এখানে এক প্রকার নীরব সন্ত্রাস সব সময় চলে আসছে। এখানে সংখ্যালঘুরা পলায়নপর মানসিকতার কারণে পাল্টা আক্রমণ করতে পারে না। সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার সংখ্যালঘুদের দিন দিনই সংকুচিত হয়ে আসছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নানা ধরনের জুলুম–অত্যাচার ঘটছে। কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের জমিজমা, সম্পদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি হামলার শিকার হচ্ছে; কখনও কখনও বেদখল হয়ে যাচ্ছে। উপাসনালয়ে আক্রমণ, প্রতিমা ভাঙচুর নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিন্দু নারীরা ধর্ষণের শিকার হলে ভয়ভীতি দেখিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া থেকেও বিরত রাখা হয়। দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ক্রমাগত কমছে। অনিরাপদ জীবন ছেড়ে তারা অনিশ্চিত জীবনের পথে পা বাড়াচ্ছেন।

ছয়.

দায়িত্ববান ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে অনেক সময় পরামর্শ দিয়ে বলা হয়: আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। আপনারা এদেশের নাগরিক।

এ ধরনের কথা শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু বাস্তবে নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা পাওয়া যে কী কঠিন এটা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। হিন্দু বা অন্য সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠীর মানুষদের সব সময় মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে, এদেশে তার সমান অধিকার নেই। তার জন্য আছে কোটা বা বিশেষ বিবেচনা। এটা একজন মানুষের জন্য কত অসম্মানের তা বুঝতে পারলে সম্প্রীতির পরিবেশ হারিয়ে যেত না।

ক্রিকেট দলের একজন সৌম্য সরকার খারাপ খেললে দোষ হয় তার ধর্ম বা ধর্মবিশ্বাসের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা হয়। এত গ্লানি নিয়ে মাঠে নেমে তার ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটা তাকে মানসিকভাবে কতটা দুর্বল করে দেয়, সেটা বোঝার চেষ্টা করা হয় না। অথচ আরবি নামের কেউ খারাপ খেললে তার ধর্ম নিয়ে কোনো কথা হয় না।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি পদে একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিযুক্ত হয়েছেন। নিশ্চয়ই তাঁকে ওই পদে দেওয়া হয়েছে তাঁর যোগ্যতা বিবেচনা করেই। তাঁর নাম সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এজন্য নিশ্চয়ই তাঁকে প্রধান বিচারপতি করা হয়নি। কিন্তু যখনই তাঁর একটি রায় নিয়ে বিতর্ক শুরু হল, অমনি তাঁর ধর্ম সামনে চলে এল। কিন্তু একজন মুসলমান প্রধান বিচারপতি হলে কি তার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে কথা উঠত?

তারপরও বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ!

সাত.

হিন্দু–মুসলমানের বিরোধ একদিনে তৈরি হয়নি, একটি ঘটনা থেকেও তৈরি হয়নি। এর পটভূমি ও প্রেক্ষাপট রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ব্যাধি ও প্রতিকার’ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন:

“আমরা জানি, বাংলাদেশের অনেক স্থানে এক ফরাশে হিন্দু–মুসলমানে বসে না– ঘরে মুসলমান আসিলে জাজিমের এক অংশ তুলিয়া দেওয়া হয়, হুঁকার জল ফেলিয়া দেওয়া হয়।”

আবার ‘কালান্তর’ প্রবন্ধে তিনি লিখছেন:

“হিন্দু-মুসলমানের প্রার্থক্যটা আমাদের সমাজে আমরা এতই কুশ্রীভাবে বেআব্রু করিয়া রাখিয়াছি যে, কিছুকাল পূর্বে স্বদেশী অভিযানলর দিনে একজন হিন্দু স্বদেশীপ্রচারক এক গ্লাস জল খাইবেন বলিয়া তাঁহার মুসলমান সহযোগীকে দাওয়া হইতে নামিয়া যাইতে বলিতে কিছুমাত্র সংকোচ বোধ করেন নাই।”

এ সব ধরাছোঁয়ার বিষয় এখন আর নেই। কিন্তু পূর্বপুরুষের মুখে শোনা গল্প এখন নতুন করে বিশ্বাসের মূলে নাড়া দিচ্ছে না, কD করে অস্বীকার করি?

 

Rabindranath Tagore - 111 [৫]
“আমরা মুসলমামকে যখন আহ্বান করিয়াছি তখন তাহাকে কাজ উদ্ধারের সহায় বলিয়া ডাকিয়াছি, আপন বলিয়া ডাকি নাই”

 

১৯১১ সালের অক্টোবরে এক বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথ বলছেন:

“হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সকল দিক দিয়া একটা সত্যকার ঐক্য জন্মে নাই বলিয়াই রাষ্ট্রনৈতিক ক্ষেত্রে তাহাদিগকে এক করিয়া তুলিবার চেষ্টায় সন্দেহ ও অবিশ্বাসের সূত্রপাত হইল। এই সন্দেহকে অমূলক বলিয়া উড়াইয়া দিলে চলিবে না। আমরা মুসলমামকে যখন আহ্বান করিয়াছি তখন তাহাকে কাজ উদ্ধারের সহায় বলিয়া ডাকিয়াছি, আপন বলিয়া ডাকি নাই। যদি কখনো দেখি তাহাকে কাজের জন্য আর দরকার নাই তবে তাহাকে অনাবশ্যক বলিয়া পিছনে ঠেলিতে আমাদের বাধিবে না-– মুসলমান এই সন্দেহটি মনে লইয়া আমাদের ডাকে সাড়া দেয় নাই। আমরা দুই পক্ষ একত্র থাকিলে মোটের উপর লাভের অঙ্ক বেশি হইবে বটে, কিন্তু লাভের অংশ তাহার পক্ষে বেশি হইবে কি না, মুসলমানের সেইটেই বিবেচ্য। অতএব মুসলমানের কথা বলা অসঙ্গত নহে যে আমি যদি পৃথক থাকিয়াই বড় হইতে পারি তবেই তাহাতে আমার লাভ।”

মুসলমানরা যে হিন্দুদের পাশাপাশি থেকেও ক্রমে পৃথক হয়ে গেল তার দায় কি তৎকালীন হিন্দু সমাজপতি ও রাজনৈতিক নেতাদের ওপর চাপানো যায় না? পশ্চিমবঙ্গের গবেষক সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য এখানে প্রণিধানযোগ্য। তিনি লিখছেন:

“আজও পশ্চিমবঙ্গে প্রচারের ধারাটা এমন যে মুসলমানরা পাকিস্তান চাইল বলেই দেশ ভাগ হয়ে গেল। তাদের জানা থাকে না যে, পাকিস্তানের আগে মুসলমানরা চেয়েছিলেন মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। সে অধিকার স্বীকার করা হয়নি বলেই, ওঠে পাকিস্তানের দাবি।”

মানুষের মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত না হলে মানুষ ‘আলাদা’বোধ করবেই। যেটা এখন বাংলাদেশের হিন্দুরা করছে।

আট.

ধর্ম নিয়ে আজকাল এক ধরনের উন্মাদনা শুরু হয়েছে। মানুষ নিধন করা হচ্ছে ধর্মের নামে। যা মানুষকে বিবেকহীন, মানবিক বোধহীন করে তোলে তাকে কি ধর্ম বলা চলে? ‘আত্মপরিচয়’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন:

“সকল মানুষেরই আপন ধর্ম বলে একটা জিনিস আছে। কিন্তু সেইটেকেই সে স্পষ্ট করে জানে না। সে জানে আমি খৃস্টান, আমি মুসলমান, আমি বৈষ্ণব, আমি শাক্ত ইত্যাদি। কিন্তু সে নিজেকে যে ধর্মাবলম্বী বলে জন্মকাল থেকে মৃত্যুকাল পর্যন্ত নিশ্চিত আছে সে হয়তো সত্য তা নয়– যেটা বাইরে থেকে দেখা যায় সেটা আমার সাম্প্রদায়িক ধর্ম। সেই সাধারণ পরিচয়েই লোকসমাজে আমার ধর্মগত পরিচয়। সেটা যেন আমার মাথার উপরকার পাগড়ি।”

রবীন্দ্রনাথের মতে, মানুষের সত্যিকারের ধর্ম হল ‘মাথার ভিতরকার মগজ, যেটা অদৃশ্য, যে পরিচয়টি আমার অন্তর্যামীর কাছে ব্যক্ত’।

ভেতরের মগজটা ব্যবহার না করে আমরা যত দিন মাথার ওপরটা নিয়ে হৈচৈয়ে মত্ত থাকব তত দিন প্রকৃত সম্প্রীতি আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে পারব কি?

৬২ Comments (Open | Close)

৬২ Comments To "ধর্ম যার যার উৎসব সবার"

#১ Comment By দিলশাদ মাহমুদ মাহদি On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ @ ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

লেখকের কথাটা অন্য যেকোনো ধর্মের ব্যাপারে সত্য হতে পারে, কিন্তু ইসলামের ব্যাপারে সত্য নয়। ইসলামে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে কোনোরূপ হস্তক্ষেপে নিষেধ রয়েছে অর্থাৎ তারা নিজেদের যেকোনো ধর্মীয় উৎসব তাদের মতো করে পালন করতে পারবেন কিন্তু, মুসলিমরা তাতে কোনোরূপ অংশ নিতে পারবে না, কেননা তা সম্পূর্ণ হারাম। এখন, ‘সাম্প্রদায়িকতা’, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ইত্যাদি জিনিসের ‘ক্রমপরিবর্তনশীল’ সংজ্ঞার দৃষ্টান্ত টেনে, শরিয়তে বর্ণিত জিনিসকে সম্পূর্ণ উল্টিয়ে দেওয়া যাবেনা। কেননা, ইসলামি শরিয়ত ‘সম্পূর্ণ’ এবং ‘অপরিবর্তনীয়’। তা কোনো যুগের তাড়নায় সৃষ্ট কিছু ব্যাখার মুখাপেক্ষী নয়। কারো মানতে ইচ্ছে হলে মানবে, মানতে ইচ্ছে না হলে মানবেনা। কিন্তু, কারো ব্যক্তিগত ইচ্ছের বাস্তবায়ন করতে গিয়ে স্বতঃসিদ্ধ জিনিস উল্টিয়ে দেওয়া, নিতান্ত বোকারই কাজ।

#২ Comment By Qudrate Khoda On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ @ ৭:২০ অপরাহ্ণ

Excellent!

#৩ Comment By আইরিন ইরা On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ @ ৮:৪৯ অপরাহ্ণ

ভাল লিখেছেন।

#৪ Comment By সাহিত্যিক হাসান On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ @ ১০:০৫ অপরাহ্ণ

তারপরও দেশের সনাতন ধর্মালম্বিদের সুযোগ সুবিধা মুসলমানদের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতে মুসলমানরা কতটুকু শান্তিতে আছে,তারচেয়ে এদেশের সনাতন ধর্মালম্বিরা বহুগুনে শান্তিতে আছে। ভারতে মুসলিমদের বিনা দোষে পিটিয়ে হত্যা করেছে অনেকবার,এদেশে কবে হিন্দুদের এভাবে মারা হয়েছে?

#৫ Comment By সালমান On সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ @ ৬:৫২ অপরাহ্ণ

ঠিক বলেছেন

#৬ Comment By ekjon 3rd class citizen On অক্টোবর ১, ২০১৭ @ ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

jekono desher minorities der common rights guloke confirm korar jonno law enforce agencies guloke ektu beshi kaj korte hoi(again i repeat to make sure even moderate security). eita right, sujog subida na. moreover je deshe police protection diye minority der religious festival korte hoi, sei deshe common right ta o absent Shahitik sir. Sujog subida to durer kotha. Apnar kothar mane holo, eta to confirm je muslim majority country te onno religion der right bolte kichu thakena eventually. seta jodi compare koren onno muslim country er sate bangladesh er. tahole apni tik e mean korate cheyechen. Ar mone rakben, Eta Bangladesh. India ba Pakistan na. Exceptional case is not an example. apnader moto communal mentality er manush gulor sobsomoy kharap jinish ta choke pore, karo balo jinish ta choke porbeina. Apni declaration diye dilen, ar amra ete mene nilam je amra shantite achi.!!!?? India er muslim der jiggesh korun giye tara ki Pakistan ba bangladesh aste chay kina? answer ta peye jaben. Okane They get academic scholarship only for their minority identity. Train er reservation confirm kora thake sob minority er jonne. muslim , jain, or jhat etc. ekta subject niye lekhar aghe balobabe jene pore likben. emon kono desh paben na, jekane minroty khotigrosto hoina. tai bole oi desher sob manush kharap hoina. “এদেশে কবে হিন্দুদের এভাবে মারা হয়েছে?” oh tar mane amra dosh korechilam, kintu doya kore amader pran bhikka diyechen. ! sotti apnader moto sobai bikargrosto na ei desher manush. tahole apni bolte chacchen, muslim terrorist mondire suicide bombing kore niroho manush mereche bole sei oporade apnakeo fasite julano uchit???? karon apnio muslim!!!!!!! nijer bibek ja jagroto korun, communal manoshikota teke beriye ashun. ar desh ta ke apnar bap dadar sompotti mone koiren na. muslim sonkai apnara beshi tai bole desh ta kine nen nai. onek onek bochor age teke apnar bap dada muslim howar onek onek age tekei amra ei desher. ar apnara eto bar identity paltiyeo shanti te nei. mon ta ke shada korun, shanti paben. balo thakben.

#৭ Comment By Nebedita Dey On অক্টোবর ১, ২০১৭ @ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

Mr. Hasan, Muslim’s of India are still enjoying secure life in India. Over there Muslims are not discriminated by the name of ‘Enemy Property’ or by the state Religion of Islam (HM Ershad Made) which always kills mentally all Hindus mind in Bangladesh.

#৮ Comment By dipayan On অক্টোবর ৫, ২০১৭ @ ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

Would you please give some examples supporting your opinion? And please do not give example like “Indian Hindus kill Muslims, but Bangladeshi Muslims do not do that-It is a huge opportunity for Hindus in Bangladesh!”””

#৯ Comment By Mukul Mia Talukder On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ @ ১০:৪১ অপরাহ্ণ

খুব সত্য বলেছেন।

#১০ Comment By মুহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। একেবারে খাঁটি কথা। কোনো ভুল নেই। কিন্তু ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এটা আবার কেমন কথা। কেনো আপনারা বার বার একটা অযৌক্তিক বাক্যকে প্রতিষ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালান আমার বোধগম্য হয় না।

#১১ Comment By syful On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা বিজ্ঞান দ্বারা প্রমানিত।অন্য কোন ধর্মের ভিত্তি নেই।

#১২ Comment By Sumitendra Mazumdar On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

Turkish President Erdogan just forbade teaching of Evolution theory in high schools. Assuming that President Erdogan is an expert on Islam, does not it ay that Islam is worng when it comes to the origin of human beings?
Human beings should be free to believe whatever religious philosophy they want to have. But there is no existing organized religion that is “based on science”. None.

#১৩ Comment By Prince On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ২:৫৮ অপরাহ্ণ

Charles Darwin’s theory of evolution is just a “Theory” & yet “Unproven”. Why should we believe a “controversial”, “unproven” theory? Is that a good idea to teach school going children such “controversial”, “unproven” things?

#১৪ Comment By আইরিন ইরা On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৬:৩৮ অপরাহ্ণ

Exactly.

#১৫ Comment By Sumit Mazumdar On সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭ @ ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ

It is not true at all that Darwin’s theory is unproven. These days it is possible to find the rankings of the world’s Universities. I will challenge anyone to find one, just one, biology or life sciences professor from the world’s top 300 Universities who disbelieves Darwin’s theory. Some of the links between different points of development in Darwin’s theory are still unknown, but I repeat no respectable scientist disbelieves evolution.
That said, one can move to geology and physics. The Abrahamic religions, all three of them insist that the world is 5000-10,000 years old. I will challenge anyone to find one physicist, chemist, or geologist who does not believe that the earth is less than 5 million years old.

#১৬ Comment By Sumit Mazumdar On সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭ @ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ

Sorry about last sentence in previous comment.

I mean that there is NO physicist, chemist, or geoscientist from the world’s top 300 Universities who does not believe that the earth is 5 million years old.

#১৭ Comment By mohammad anwarul haq jamadar On সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭ @ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

100%true islam is only religion..no dout.

#১৮ Comment By Ami Muslim On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ

Tahole indiate kano musolmander upor eto julum hosse

#১৯ Comment By Redwan Khan On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দা.বা.

কাছাকাছি সময়ে এ বছর মুসলমানদের ঈদুল আযহা-কুরবানী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। বিগত কয়েক বছর যাবতই ঈদ ও পূজা কাছাকাছি সময়ে উদযাপিত হচ্ছে। বর্তমানে শুধু রাজধানী ঢাকাই নয় বরং পুরো বাংলাদেশ জুড়েই পূজার আয়োজন চলে মহা সমারোহে। প্রস্তুত হয় হাজার হাজার পূজামণ্ডপ। এসকল মণ্ডপে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই ভিড় করে না। বরং বহু মুসলমানও যায় পূজা দেখতে,কেউবা আনন্দ উপভোগ করতে। আর বেশি যান নেতা-নেত্রীরা। ছোট থেকে সর্বোচ্চ স্তরের নেতা-নেত্রীগণও যান। অথচ কয়েক বছর আগেও দৃশ্যপট এমন ছিল না।

এদেশের হিন্দুগণ তাদের এই ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন বহু বহু বছর থেকেই। তখন তা সীমিত থাকত ঢাকেশ্বরী মন্দীর ও নির্দিষ্ট কিছু মন্দীর-মণ্ডপ পর্যন্ত। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের একান্ত ধর্মীয় বিষয় বলে মুসলমানরা সেখানে যেত না। সরকারী-বেসরকারী মুসলিম নেতাদের উপস্থিতিও ছিল কম। কিন্তু বিগত কয়েক বছর থেকে যেভাবে পূজো উদযাপন হচ্ছে এবং সর্বপ্রকারের মিডিয়ায় যেভাবে এর প্রচার-প্রচারণা হচ্ছে তা সম্পূর্ণই ভিন্ন। এখন পূজার সময় মনে হয় না, এটি এদেশের ১০%-১২% নাগরিকের একটি উৎসব। বরং সবকিছু দেখে মনে হতে পারে এ যেন হিন্দু-প্রধান একটি দেশ।

সে যাই হোক। পূজা যাদের, তারা সেটা নিরাপদে আর আনন্দেই পালন করুক। এসমস্ত পূজামণ্ডপে গিয়ে কিংবা পূজাকেন্দ্রিক কোনো উৎসবে উপস্থিত হয়ে জাতীয় নেতাদের কেউ কেউ বিভিন্ন নীতিবাক্য ও উপদেশও উচ্চারণ করে থাকেন। সংখ্যালঘুরা যেন এদেশে বুক ফুলিয়ে চলতে পারেন, তারা যেন তাদের সব অধিকার নিজেরাই আদায় করে নেনÑ সেসব কথাও বলা হয়। বলা হয় তাদেরকে দেয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা এবং তাদের পাশে যে এ দেশের নেতারা সজাগ ও সক্রিয় আছেনÑ সেকথাগুলোও তারা বলেন। এরই সঙ্গে সম্প্রতি তারা আরেকটি কথাও বলতে শুরু করেছেন। সেটি হচ্ছে, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। কোনো কোনো নেতা বলেছেন, ধর্ম সম্প্রদায়ের উৎসব সকলের। আমাদের আলোচনায় আমরা পূজাকেন্দ্রিক উৎসব নিয়ে নেতাদের মুখে উচ্চারিত এ দুটি বাক্য কিংবা এ দুটি বাক্যের মূলকথা বা নির্যাস নিয়েই কিছু আরয করতে চাই। শুরুতেই আমাদের নিবেদন হচ্ছে, যেহেতু এসব পূজা-উৎসব কিংবা অপর ধর্মীয় কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রটিতে ঈমানের প্রশ্ন জড়িত, তাই এ বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণটি শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে হওয়াই প্রয়োজনীয়। অন্য কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক তত্ত¡ কিংবা ভাবাবেগের সাহায্য এক্ষেত্রে গ্রহণ করা সমীচীন নয়। সে হিসেবে প্রথমেই আমরা যে কথাটি পেশ করতে চাই সেটি হচ্ছে, সাধারণ যুক্তিতে কিংবা শরীয়তের আলোকে এই বাক্য দুটিকে বাস্তবসম্মত বলে সাব্যস্ত করা যায় না। কারণ, বিগত কয়েক বছর যাবৎ আমরা এই যে কথাটা শুনছি, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এটি কেবল পূজার সময়ই এবং পূজাকে উপলক্ষ করেই বলা হচ্ছে। মুসলমানদের কোনো উৎসব নিয়ে এ জাতীয় বাক্য উচ্চারিত হতে শোনা যায়নি। আর পূজার বিষয়টি সম্পূর্ণই ধর্মীয় বিশ্বাসনির্ভর। যা সংশ্লিষ্ট ধর্মের লোকেরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও নীতির ভিত্তিতে করে থাকে। এ উপলক্ষে তাদের যে উৎসব-আনন্দ সেটি সম্পূর্ণই পূজাকে কেন্দ্র করে। পূজাকে কেন্দ্র করে ‘প্রতিমা’ তৈরি করা হয়। প্রসাদ বিতরণ করা হয়। বহু রকম কেনাকাটা ও আয়োজনের সমারোহ চালানো হয়। এভাবেই পূজাকেন্দ্রিক মহা এক উৎসবের ব্যবস্থা হয়। সুতরাং এ উৎসব-আনন্দ আর ধর্মীয় বিশ্বাস প্রত্যেকটাই একটা অপরটার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাই এখানে উৎসব-আনন্দের বিষয়টিকে পৃথক করে দেখা এবং পূজার বিষয়টিকে পৃথক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়গুলো আসলে পৃথক নয়।

যেমনিভাবে মুসলমানদের ঈদুল আযহায় ঈদের নামায ও কুরবানী-প্রধান দুটি কাজ। এই দুই কাজের ওপর ভিত্তি করেই আনন্দ-উৎসব করা হয়। তাই ঈদুল আযহার আনন্দ-উৎসবকে ঈদের নামায ও কুরবানী থেকে পৃথক করে দেখার সুযোগ নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে যে নামায ও কুব্যক্তি ঈদের রবানী করবে না (ওয়াজিব হওয়া সত্তে¡ও), তার জন্য কোনোক্রমেই ঈদুল আযহার আনন্দ-উৎসব করার অধিকার নেই। সে হিসেবে ঈদুল আযহার ব্যাপারে এখন কেউ যদি বলে, ধর্মীয় কাজগুলো মুসলমানদের হলেও এ উৎসবটা সকলের,স্পষ্টতই তা বাস্তবসম্মত হবে না। তাইতো কোনো ঈদের জামাতের আশেপাশে বা জাতীয় ঈদগাহ ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী বা অন্য ধর্মের লোকদের সমবেত হতে দেখা যায় না। ব্যাপারটা আরো পরিষ্কার করে বোঝার জন্য ঈদুল আযহা নিয়ে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মানসিক অবস্থা বিচার করলেও যথেষ্ট হবে। তাদের কাছে গরু হলো পবিত্র পশু। এই গরু নিয়ে কত করুণ কাণ্ডই না ঘটে যাচ্ছে আমাদের প্রতিবেশি হিন্দু-প্রধান দেশে। সেখানে সরকারী দলের লোকদের হাতে নিহত, নিগৃহীত হচ্ছে সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজ। শুধু গরুর গোশত খাওয়ার অপরাধে বা অভিযোগে। এমনকি গরুর পবিত্রতা প্রকাশ করতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ(!) ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে গরুর গোশতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকাশ্যে স্বস্তির বাণী প্রকাশ করেছেন। এ হচ্ছে গরু সংক্রান্ত হিন্দুদের বিশ্বাস। অপরদিকে মুসলমানরা সেদিন গরু যবেহের মাধ্যমে আল্লাহর হুকুম পালন করে আনন্দ করে থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, মুসলমানদের এই আনন্দের দিন ও উৎসবটা হিন্দুদের জন্য আনন্দের নয়। অপরদিকে আমাদের জন্য ঠিকই আনন্দের। উট-দুম্বা-ছাগল-ভেড়া-মহিষ কুরবানীর সুযোগ থাকলেও পাক-ভারত উপমহাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কুরবানী দেওয়া হয় গরু। এজন্য এতদঞ্চলে কুরবানীর ঈদকেও ‘বকরীদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয। এখানে ‘বকর’মানে গরু। এতে এ বিষয়টি স্পষ্ট হল যে, এক ধর্মাবলম্বীদের ধর্মভিত্তিক উৎসবকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসব হিসেবে সাব্যস্ত করা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।

এ বিষয়ে মৌলিক ও দ্বিতীয় আরেকটি কথা হচ্ছে, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের কথা বা আকীদায় বিশ্বাস করার কোনো সুযোগই নেই। কারণ, ঈমান ও ইসলাম হচ্ছে একক ও নিরঙ্কুশ বিষয়। এখানে কোনো প্রকারের মিশ্রণের ন্যূনতম সুযোগ নেই। আমরা যদি আমাদের দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার পটভ‚মির দিকে তাকাই তাহলে বিষয়টি আমাদের সামনে আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে। মদীনায় ইসলামপূর্বে দু’টি উৎসব চালু ছিল। নওরোয ও মেহেরজান নামে। সাহাবীগণ ওই দুটি উৎসব পালন করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পালনের অনুমতি দেননি। বরং এর উত্তম বিকল্প হিসেবে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র দুটি ধর্মীয় উৎসবÑ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপহার দিয়েছেন। এ থেকে এ সত্যটি অনুধাবন করা যায় যে যদি মুসলমানদের জন্য অন্যদের উৎসব পালন করার সুযোগ থাকতো তাহলে তিনি ওই উৎসব পালন করা থেকে সাহাবীদের বিরত করতেন না।

এ ক্ষেত্রে আরেকটি উদাহরণ আমরা গ্রহণ করতে পারি। সেটি হচ্ছে ১০ মুহাররম বা আশুরার রোযা। ইয়াহুদীদের সাথে যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ বা সাদৃশ্যপূর্ণ না হয়ে যায় সেজন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোযার সাথে আগে কিংবা পরে আরো একটি রোযা রাখতে বলেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ধর্ম বা ধর্মানুসারীদের সাথে সাদৃশ্য বা সামঞ্জস্য হওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ হাদীস শরীফে বার বার দেওয়া হয়েছে। ইয়াহুদীদের সাথে সামঞ্জস্য অবলম্বন না করতে কিংবা ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে বিভিন্নভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাদীস শরীফে বেশ কিছু ক্ষেত্রে

خالفوا المشركين خالفوا اليهود

(ইয়াহুদীদের সঙ্গে ভিন্নতা অবলম্বন করো, মুশরিকদের কাজকর্মের সাথে ভিন্নতা অবলম্বন কর) বাক্যটি ধ্বনিত হয়েছে। নামাযে আহŸানের ক্ষেত্রে ইয়াহুদী, নাসারাদের ঘণ্টা বাজানো ও সিঙ্গায় ফুঁ দেয়ার প্রথা গ্রহণ না করা, অভিভাদনের ক্ষেত্রে হস্ত উঠানোর বিকল্প হিসাবে সালামকে গ্রহণ করা, সপ্তাহের পবিত্র দিন হিসেবে শনি, রবির পরিবর্তে জুমা বারকে গ্রহণসহ এ ধরনের বহু ক্ষেত্র বিদ্যমান যেখানে ইসলামের কার্যকলাপকে অন্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে পৃথক করা হয়েছে।

তৃতীয়ত পূজার বিষয়টিকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যে কোনো মুসলমানের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তার সঙ্গে কোনোরকম সংশ্লিষ্টতারই সুযোগ কোনো মুসলমানের নেই। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের শুরুর যুগে এ জাতীয় ধর্মাচারের বিরোধিতা করেই ইসলামের তাওহীদ তথা একত্ববাদের দিকে মানুষকে আহŸান করেছেন। এবং সকল প্রকারের মূর্তি ও পূজাকে শিরিক আখ্যা দিয়ে তা থেকে বেঁচে থাকার তাগিদ দিয়েছেন। সুতরাং আকীদাগত বা বিশ্বাসগত দিক থেকে একজন মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী মুসলিম)-এর জন্য পূজা-জাতীয় ধর্মাচারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, সমর্থন করা এবং সেটিকে নিজের উৎসবের বিষয় মনে করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।

তবে এক ধর্মের সাথে অপর ধর্মের অনুসারীদের সহাবস্থান এবং অন্য ধর্মের অনুসারীদের আপন আপন পূজা-আরাধনা নির্বিঘেœ পালন করতে সহযোগিতার বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। ইসলাম এতে পূর্ণ সমর্থন দেয় ও দায়িত্ব গ্রহণ করে। মাসিক আলকাউসারে এ বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়েই আমরা আলোচনা করেছি। ইসলামের স্পষ্ট নীতি হচ্ছে, যে কোনো ধর্মাবলম্বী নিজস্ব গণ্ডির মধ্যে তার ধর্ম পালন করুক। নিজস্ব পরিধির মধ্যে তার ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা তার রয়েছে। ইসলাম এক্ষেত্রে কোনো প্রকার অসহযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। বরং তাদের নিজস্ব গণ্ডির ভেতরে থেকে এগুলো পালন করার জন্য ইসলামী সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেয়া হয়েছে ইসলামী খেলাফতের সময়গুলোতে। হযরত উমর রা. তাঁর শাসনামলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের كنيسة (কানীসা) বানানোর সুযোগও দিয়েছেন। সুতরাং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার এবং ধর্মীয় আচার-আচরণকে এক করে দেখার পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, প্রত্যেক ধর্মের নিজস্ব। এ উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব ও আনন্দও তাদের নিজস্ব। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যদের ধর্মীয় কাজে যোগ দেওয়া, সেগুলোকে পছন্দ করা, সে উৎসবকে নিজের উৎসব মনে করার কোনো একটি বিষয়ই শরীয়ত কর্তৃক সমর্থিত নয়।

মূলত অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সহাবস্থান, নিজস্ব পরিধির মধ্যে তাদের ধর্মপালন ও পালনের অধিকার একটি সমর্থিত ও স্বীকৃত বিষয়। এটি ইসলামেরই নীতি। কিন্তু অপর ধর্মের ধর্মীয় আচার এবং ধর্মভিত্তিক উৎসবকে নিজের উৎসব মনে করা কিংবা সে উৎসবে স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে অংশ নেয়া সম্পূর্ণ অসমর্থিত, অযৌক্তিক ও বাস্তবতাবহিভর্‚ত। মূর্তিপূজা সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান-উৎসবে কোনো মুসলমানের পক্ষে এভাবে একাত্মবোধ করার কোনো অবকাশই নেই। এটা ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা এবং ভিত্তিগত চেতনারও বিরোধী।

পরিশেষে দু’তিনটি হাদীস ও আসার পেশ করে নিবন্ধ শেষ করছি। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন,

من تشبه بقوم فهو منهم

‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে সে তাদের দলভ‚ক্ত বলে গণ্য হবে।’ Ñসুনানে আবু দাউদ,হাদীস ৪০৩১

অন্য একটি বর্ণনায় খলীফা হযরত উমর রা. বলেছেন, اجتنبوا أعداء الله في عيدهم তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাক। Ñআস্সুনানুল কুবরা, হাদীস ১৮৮৬২

অন্য বর্ণনায় তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন ‘কারণ এক্ষেত্রে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নাযিল হয়ে থাকে।’ আরেকটি বর্ণনায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেছেন

من بنى ببلاد الأعاجم وصنع نيروزهم ومهرجانهم وتشبه بهم حتى يموت وهو كذلك، حشر معهم يوم القيامة.

অর্থাৎ যারা বিধর্মীদের মত উৎসব করবে, কিয়ামত দিবসে তাদের হাশর ঐ লোকদের সাথেই হবে।Ñআস্সুনানুল কুবরা, হাদীস ১৫৫৬৩

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন। এবং সকল শিরক-মিশ্রণ হতে মুক্ত থেকে খালেছ মিল্লাতে ইব্রাহীমীর ওপর অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।

#২০ Comment By shahriaf On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ২:১৪ অপরাহ্ণ

আল্লাহহ রহম করুন। খুবই প্রাঞ্জল ভাষায় বিষয় সমূহ সামনে আনার জন্য ধন্যবাদ।

#২১ Comment By md.kamruzzaman On অক্টোবর ৩, ২০১৭ @ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

Thank vai.ay sadharon sench tuku o manus haria falaca.upojukto jobeb.

#২২ Comment By rater tara On অক্টোবর ১৯, ২০১৭ @ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

nice comment

#২৩ Comment By asokankur barua On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

Excellent and 100% true statement. But at the end no solution, minorities has to survive in this way. No choice.

#২৪ Comment By shahriaf On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

আল্লাহ বলবেন অন্য ধর্মের বা আল্লাহর ঠিক করে দেয়া উৎসব ছাড়া অন্য উৎসব পালন হারাম। আর জ্ঞানীরা বলেন ধর্মের সাথে উৎসবের কোন যোগসূত্র নাই, উৎসবগুলা সবার হোক অন্য ধর্মের লোক। কার কথা শুনবো? আমাদের জ্ঞানীদের নাকি আমার আল্লাহর? আর যখন জানি যে ঐসব উৎসবে প্রচুর বেপর্দা মহিলা আছে তবুও সেটা সবার উৎসব বলে আমার উপর চাপিয়ে দেয়া হয় কেন? একজনের ইচ্ছা সে যেকোন উৎসবে উপস্থিত থাকবে সেটা তার ইচ্ছা তাতে কোন বাধা নেই। কিন্তু উৎসব সবার একটা অযৌক্তিক আর বদ্ধমস্তিস্কের কাজ। আমার ভালো লাগলে আমি পালন করবো কিন্তু সবার বলে সেটা অন্যদের উপর চাপানোর চেষ্টা কেন করবো?

#২৫ Comment By saddam On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৫:৪২ অপরাহ্ণ

মাশাল্লাহ খুব ভাল লিখেছেন

#২৬ Comment By Redwan Khan On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

”ভেতরের মগজটা ব্যবহার না করে আমরা যত দিন মাথার ওপরটা নিয়ে হৈচৈয়ে মত্ত থাকব তত দিন প্রকৃত সম্প্রীতি আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে আনতে পারব কি?”

ঠিক, পারবেননা তাই ভিতরের মগজটা ব্যবহার কনুননা !খামোখা কেন উপরের টা ব্যবহার করছেন ?

#২৭ Comment By সৌরভ On অক্টোবর ৭, ২০১৭ @ ৯:২১ অপরাহ্ণ

মাথার ভেতরের মগজের ব্যবহার হবে না কখনও , মাথার উপরের টা নিয়েই হইচই হবে , হয়ে আসেছে এমনটাই , অতীতেও , ভবিষ্যতে ও এমনটাই হতে থাকবে …

#২৮ Comment By Arifin On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

আল্লাহ্‌’র দেয়া বিধান অর্থাৎ কোরআন পড়ুন, অর্থ বুঝুন, আর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দেয়া হাদিস জানুন এবং তার সুন্নত গুলিকে অনুসরণ করুন তাহলে সব রকম সমসসার সমাধান হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ্‌ ।

#২৯ Comment By Advocate Mohammad Hasan Al Shaif On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ

গরু যে অধিকাংশ হিন্দু জবাইঅযোগ্য মনে করে এটা জেনেও কোরবানি দেওয়ার বেলায় হিন্দুদের অসুবিধার দিক একটুও বিবেচনা করা হয় না। সম্প্রীতির স্বার্থে হিন্দুদের সব কিছু মেনে নিতে হয়। আজানের সময় মন্দিরে শব্দ করা যাবে না, কিন্তু পুজার সময় মাইকে আজান প্রচার বন্ধ থাকবে না। এভাবে মেনে নেওয়া এবং মানিয়ে নেওয়ার নামই এখন সম্প্রীতি। সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্লোগান জনপ্রিয় হয়েছে সংখ্যালঘুদের মধ্যে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। ধর্ম তো যার যার ঠিক আছে, কিন্তু রাষ্ট্র কি সবার সমান সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারছে?———এই লাইনগুলোর ব্যাপারে পুরো দ্বিমত পোষণ করছি।কোরবানীর সময় কেউ কি আপনাদেরকে জোবরদস্তি করেছে যে,গরু কোরবানীর সময় আপনাদের থাকা লাগবে বা গরুর মাংস কি কেউ খেতে বাধ্য করেছে?পূজার সময় মন্দিরে আওয়াজ করা যাবেনা।এটাতো ডাহা মিথ্যা বললেন।সত্য হলো আযান এবং নামাযের সময় পূজার মাইকটা বন্ধ রাখা হয়।মাইক বন্ধ রাখা আর পূজা বন্ধ রাখা কি এক জিনিস?আযান এবং নামাযের সময় ব্যতীত আপনাদেরকেতো কেউ মানা করছেনা মাইক বা ঢাক বন্ধ রাখতে।গভীর রাত অবধি মাইক বা ঢাক বাজে কই কেউতো কোনও অবজেকশান জানায়নি।শুধু শুধু সাম্প্রাদায়িক বিষ বাষ্প ছড়াবেন না।

#৩০ Comment By Mohammed Saifuddin On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৬:১৮ অপরাহ্ণ

What ever your intention to explain but readers will en-cash in their own way, there are no ethics – as because we most of them over-loaded by the negative politics

#৩১ Comment By Md. Abdus Salam On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৬:১৯ অপরাহ্ণ

“লেখকের কথাটা অন্য যেকোনো ধর্মের ব্যাপারে সত্য হতে পারে, কিন্তু ইসলামের ব্যাপারে সত্য নয়”
This is also not correct. Because not only Islam other religion also do not support that “ধর্ম যার যার উৎসব সবার”.

#৩২ Comment By Dr. Azizul Haque On অক্টোবর ৩, ২০১৭ @ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

I agree with Md. Abdus Salam

#৩৩ Comment By Piash Ahmed On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৭:৩৮ অপরাহ্ণ

যারা পুজায় উপস্থিত থাকে , প্রসাদ খায় তারা কিভাবে মুসলিম হলো !! মুসলমান কখনো পৌত্তলিকতাকে সাপোর্ট‌ করতে পারে না । হাতে গোনা যত জন নামধারী মুসলমান পুজায় উপস্থিত হয়ে প্রসাদ গ্রহন করে তারা মুনাফিক ।

#৩৪ Comment By Nebedita Dey On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ৯:৪৬ অপরাহ্ণ

,Dharma jar jar, utshab saber”. I think we should separate “Dharma jar jar and “Utsab saber”. For an example Puja (Durga Puja, Kali Puja etc.) Archana or prayer is a first part of the Hindu drama. The utshab is a second part which is related to any religion. Wearing the new cloths, eating delicious foods, visiting friends and relatives house, attending cultural functions also a part of th Utshab.
In the occasion of Eid ul Fiter or in the EID UL ADHA, after the Jamat/Prayer we used to visit friend’s house, enjoy with delicious food, even at that time we try to wear colourful dresses as a part of Utshab.

#৩৫ Comment By simon guha On অক্টোবর ১, ২০১৭ @ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

I think your opinion is absolutely correct.

#৩৬ Comment By Dr. Azizul Haque On অক্টোবর ৩, ২০১৭ @ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

Nebedity Dey, your explanation is 50% OK. When you visit a Muslim family during Eid Ul Adha no Muslim will serve you beef, similarly, when a Muslim visits you during any puja you should not serve any food associates with your puja. Because sirik is haram in Islam, Muslim beliefs Allah has no partner, He is Alone. Therefore, please do not serve any food which is associated with puja for many gods. I hope you agree.

#৩৭ Comment By গুল্লু মিয়া On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭ @ ১১:২৬ অপরাহ্ণ

কুরবানী ঈদের উৎসব এ আপনার উপস্থিতি কাম্য। আসবেন কি ?

#৩৮ Comment By Nebedita Dey On অক্টোবর ১, ২০১৭ @ ১১:৩১ অপরাহ্ণ

During the Eid , I always say to my Muslim friends ” Eid Mubarak”. I feel that I am a part of this festival. My religion is not a barrier to me. Mr. Islam please practice real religion not fundamentalism.

#৩৯ Comment By Nebedita Dey On অক্টোবর ২, ২০১৭ @ ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

No problem, of course I will come.

#৪০ Comment By বলরাম পোদ্দার On সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ @ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

আপনারাই দেশকে সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু তে ভাগ করেছেন। যাতে সংখ্যাগুরুকে কোনঠাসা করা যায়। একদিন আপনাদের তৈরী খেলায় আপনারাই হেরে বসবেন বিভু দা।
১৯৪৭ সালের রক্তক্ষয়ী দেশভাগের পর আর এইরকম বিভাজন দেখা যায় নি। কিন্তু আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনতে আপনাদেড় মত আওয়ামীলীগপন্থী বুদ্ধিজীবীরা এই ইস্যু নিয়া খেললেন। বুঝলেন না আগুন নিয়ে খেলতেসেন। আওয়ামীলীগও নির্বাচনে জিততে আপনাদের দেয়া কার্ড নিল। এখন কি হল ? আওয়ামীলীগ-হেফাজত ভাই ভাই।
অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে, সেই গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়।

#৪১ Comment By Md. Abdus Salam On সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ @ ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

Mr. Boloram Poddar,
Hope others people also realize the same as you.

#৪২ Comment By Amin On সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ @ ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

খালেদা জিয়ার জন্মদিনের উৎসবে আওয়ামীলীগের কেউ যায়?
শেখ হাসিনার জন্মদিনের উৎসবে বিএনপির কেউ যায়?
সামান্য ভিন্ন রাজনীতির অনুসারী হওয়ার কারণে কেউ কারো জন্মদিনের উৎসবে যায় না, আর সেখানে এমন এক ধর্মের উৎসবে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে যে ধর্মের ব্যপারে পবিত্র কোরআনে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।
আচ্ছা কখনো দেখেছে ঈদ-উল-আজাহার উৎসবে সনাতন ধর্মের কেউ মুসলমানদের সাথে গরু কেটেছে? না কাটেনি। কারণ এটা তাদের ধর্ম মতে পাপ কাজ।
ঠিক তেমনি মূর্তি পূজা করা বা তাতে অংশগ্রহণ করাও মুসলমানদের জন্য পাপ কাজ।
আশা করি দুটোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন।

#৪৩ Comment By keyamoni On অক্টোবর ৩, ২০১৭ @ ১০:১৫ অপরাহ্ণ

100% right

#৪৪ Comment By Mazharul Alam On সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ @ ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ

যখন দেখি মুসলমান স্বারদীয় শুভেচ্ছা জানায় তখন লজ্জায় মরে যাই। হায়রে মুসলমান ! নিজের গৌরবোজ্জ্বল জাতীয় ঐতিহ্য ভুলে বিজাতীয় বাতিল ঐতিহ্যের দিকে ছুটছে। ইয়া আল্লাহ তুমি মুসলমানদের সহি বুঝ দান কর।

#৪৫ Comment By naseem On সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ @ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

দাদা ভালো লিখেছেন। তবে মন্তব্য দেখে যে বিষয়টি নজর কাড়ল তা হলো সবকিছু কেমন যেন সবাই গুলিয়ে ফেলেছেন। সবাই তার জায়গা থেকেই ব্যাখা করেছেন, তবে আসলে ঊৎসব বলতে কিন্তু ধর্মিয় ঊৎসব মিন করা হয়নি। প্রত্যেক ধর্মের কিছু নিজস্ব আনুষ্ঠানিকতা আছে সেটায় কেঊ শরিক হতে পারেনা, যেমন ঈদের জামাতে সনাতন ধর্মের কেউ যায়না,পূজায় ও কোনও মুসলিম যাবেনা এটা সত্য। তবে প্রত্যেক ধর্মের আনন্দ ঊৎসবে পাশা পাশি মিলে থাকায় অপরাধ কোথায়? বহু সনাতন ধর্মের বন্ধুরা ঈদে বন্ধু প্রতিবেশির বাড়িতে যায়। ঈদমেলায় পাশা পাশি আনন্দে শরিক হতে দেখা যায়। পূজাতেও অনেক মুসলিম প্রতিবেশিরা বন্ধুরা মণ্ডমে ঘুরে আনন্দ ঊপভোগ করেন কিন্তু তাতে কেউ কারো ধর্ম জলাঞ্জলি দিয়ে করেনা এত সহজ কথা বুঝতে কষ্ট কেন। তাই বাঙালি মানেই সকল আনন্দ ঊৎসবে শরিক হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি বজায় থাকবে। এটাই বাস্তবতা তা সকল ধর্মের সকলকে তা মেনে সংকির্নতার উর্ধে উঠতে হবে।

#৪৬ Comment By Nebedita Dey On অক্টোবর ২, ২০১৭ @ ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

Naseem, you are 100% right.

#৪৭ Comment By md.kamruzzaman On অক্টোবর ৩, ২০১৭ @ ১১:২৭ অপরাহ্ণ

Vai aktu AL-QURAN & AL -HADIS khula dakhun ta hola bujben perthokkota kothay.

#৪৮ Comment By Bipu On অক্টোবর ৪, ২০১৭ @ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ

নাসিম ভাই আপনার এই সরল, সহজ বিষয়টা কেউ বুঝতে চায়না। ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ।

#৪৯ Comment By Nebedita Dey On সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ @ ১০:০৮ অপরাহ্ণ

“Dharma jar jar, utshab sober.” If you do believe it or not, atleast respect the other religion. Don’t destroy or demage the ‘murti’ of the temple. After year long preparation of celebrating Durga Puja or Kali Puja, one day you noticed that somebody demage all of the ‘murti’ which you have been waiting for longtime to celebrate.

#৫০ Comment By Dr. Azizul Haque On অক্টোবর ৩, ২০১৭ @ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

In Bangladesh Muslim respect all other religions or beliefs and everyone is free to celebrate according to their beliefs. What you say is a rare case and absolutely political. In India, you see the opposite.

#৫১ Comment By khondker asaduzzaman On সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭ @ ১:১৭ অপরাহ্ণ

আমি উপরোক্ত বক্তব্য এর সাথে একমত ।

#৫২ Comment By রেজাউল করিম On সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৭ @ ৯:১৮ অপরাহ্ণ

ধর্ম যার, উৎসব ও তাঁর।কারো ধর্ম পালনে কেও বেঘাত ঘটাবে না।সবাই সবার ধর্ম স্বাধীন এবং নির্ভয়ে পালন করবে।এরকম টা বলা যেতে পারে।ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিৎ হবে না।অন্য ধর্মের প্রতি কখনো কঠোর হওয়ার কোন মানে হয় না।অপরদিকে বিনয়ে কাতর হওয়ার ও কিছু নয়।সবাই সবার নিজ নিজ অবস্থানে থাকাই ভাল বলে মনে করি।।

#৫৩ Comment By Anisul Mustafa On অক্টোবর ১, ২০১৭ @ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ইসলাম ধর্মে খুশির দিন অর্থাৎ উৎসব নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে(দুই ঈদ)।আর ইসলাম ধর্মে যেহেতু দেশপ্রেমকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সেহেতু রাষ্ট্রীয় উৎসবগুলোও পালন করা উচিত।তবে রাষ্ট্রীয় উৎসবের অনেক অনুষ্ঠান ইসলাম সমর্থন করে না(যেমন: নাচ-গান)। কিছু সুবিধাবাধি মুসলিম নিজের সুবিধার জন্য হারাম অনুষ্ঠানগুলোকে জাতীর নাম দিয়ে হালাল করে। আসলে তারা ইসলাম সম্পর্কে গণ্ডমূর্খ। ইসলামে অন্যধর্মের কোন ধর্মীয় বিষয়ের উপর জোরাজোরি করতে নিষেধ করা হয়েছে।কিন্তু হিন্দুরা গরু জবাই করাকে ইসলামে নিষিদ্ধ করতে চাই।কিন্তু কেন? গরু আমাদের তো আমাদের ধর্মে হালাল।আর গরু সহজলভ্য বিধায় আমরা যেকোন অনুষ্টানে গরু জবাই করি।আর যেকোন পুজোর সময় কি উচ্চশব্দে ডাকঢোল বাজানো কি অতীব জরুরী? তাও আবার মাইক দিয়ে! যখন মাইক ছিলনা তখন কি করতেন? আযানের ক্ষেত্রে বলতে পারেন মানুষজন এখন আর আগের মত ছোট জায়গায় বসবাস করতে পারে না।আযানের মাধ্যমে যে আহ্বানটা করা হয় সেটা যাতে সবাই শুনতে পারে এজন্য মাইকিং করা হয়।আর তাই আপনাদের প্রার্থনায় মাইকিং বা উচ্চশব্দের বিশেষ প্রয়োজন হয় না বিধায় আযান কিংবা আমাদের প্রার্থনার সময় এসব বন্ধ রাখলে কোন অসুবিধা হয় বলে আমি মনে করি না।আর পুর্বের একই কারনে আপনাদের পূজার সময় আযান বন্ধ না রাখলেও কোন অসুবিধা হয় বলে মনি করি না।আর সম্প্রীতি মানে এক ধর্মের উৎসবে অন্য ধর্মের অংশগ্রহণ নয়।বরং এক ধর্মের উৎসবে অন্য ধর্মের নিরাপত্তা দেয়া বা যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখাটাই সম্প্রীতি।
আমাদের সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ক সমস্যার জন্য মূলত দায়ী হচ্ছে মুসলিম নামধারী কিছু নাস্তিক।তাদের ইসলাম ধর্ম পালন করতে কষ্ট হয় বিধায় নিজ ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দেয়ার চেস্টা করে এবং অন্য ধর্মের সাথে ইসলামকে মিশানোর চেস্টা করে থাকে।লজ্জা ঐধরনের মানুষগুলার জন্য??।।
আর ৯০% মুসলিমের বসবাস বিধায় এদেশকে আমরা মুসলিম দেশ হিসেবে গন্য করতে পারি।যেমনটা ভারত হিন্দুস্তান বলে দাবী করে।তবে ইসলাম কখনো আপনাদের অসুবিধায় ফেলার কথা চিন্তা করে না, করবেও না।যারা করে তারা আপনাদের সমর্থিত লীগপন্থী।যা আগামী কয়েক বছরের সহিংসতার প্রমাণ থেকে বুঝা যায়।
মূল কথা হল আমরাও সম্প্রীতি চাই।তবে সেটা ইসলামের ভিতর অন্য কোন ধর্মের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বা কোন সুবিধাবাদের আশ্রয় নিয়ে নয়। আশা করি কথাগুলো বুঝার চেস্টা করবেন।।ধন্যবাদ।।

#৫৪ Comment By আব্দুর রহমান On অক্টোবর ৫, ২০১৭ @ ১২:৩০ অপরাহ্ণ

Mr Anisul Mustafa,
নীচে উদ্ধৃত অনুচ্ছেদ ছাড়া আপনার সব লেখা যৌক্তিকঃ
“আর ৯০% মুসলিমের বসবাস বিধায় এদেশকে আমরা মুসলিম দেশ হিসেবে গন্য করতে পারি।যেমনটা ভারত হিন্দুস্তান বলে দাবী করে।তবে ইসলাম কখনো আপনাদের অসুবিধায় ফেলার কথা চিন্তা করে না, করবেও না।যারা করে তারা আপনাদের সমর্থিত লীগপন্থী।যা আগামী কয়েক বছরের সহিংসতার প্রমাণ থেকে বুঝা যায়।”
– এখানে এসে আপনি চরম বিভ্রান্তিকর কথা তুলেছেন। মুসলিম দেশ বা ধর্মভিত্তিক দেশ আরব দেশেই নেই। ইসরাইল ইহুদী রাষ্ট্র, আর পাকিস্তান-সৌদী আরব মুসলিম রাষ্ট্র। সিরিয়া-ইরাক-মিসরসহ অনেকগুলি দেশ তাদেরকে আরব রাষ্ট্র বলে পরিচয় দেয়। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগুলো সন্ত্রাস মোকাবেলা করতে গিয়ে জান-মাল হারাচ্ছে। প্রায় সব দেশই তাদের ভাষাভিত্তিক জাতীয় পরিচয়ে গর্ব বোধ করে। আপনি সহিংসতার কথা বলতে কি বুঝিয়েছেন না বুঝলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে চেয়েছেন। বাংলাদেশেও ধর্ম-ব্যবসায়ীরা সফল হয়নি, হবেনা।

#৫৫ Comment By E A Bari On অক্টোবর ১, ২০১৭ @ ৪:৪১ অপরাহ্ণ

“ধর্ম যার যার উৎসব সবার” – এ শ্নোগানের সঙ্গে একমত হতে পারলাম না দাদা। দুঃখিত। কোনো কোনো উৎসব মূলত উপাসনাধর্মী। ওসব উৎসবে বিধর্মীরা এসে যদি উপাসনা করে- তা কতটুকু যুক্তিযত একবার ভাবুন। সুতরাং আমার মতে ‘ধর্ম যার যার, উৎসবও যার তার’ -এরূপ শ্লোগানই হবে অধিক যুক্তিসম্পন্ন। মুসলমানদের ঈদ উৎসবের মূলে আছে সকালবেলা নামায (উপাসনা) পড়া। এই উৎসবে কী কোনো ভিন্নধর্মালম্বনী কখনো যোগ দিয়েছেন বা দেবেন?

#৫৬ Comment By মোঃ আবুবকর ছিদ্দিক On অক্টোবর ১, ২০১৭ @ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

শুধু শুধু সাম্প্রাদায়িক বিষ বাষ্প ছড়াবেন না| মন্তব্য করার আগে ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতের গো-রক্ষা কমিটি সহ অন্যান্য উগ্রপন্থি হিন্দু দলগুলোর চেহারাগুলোও একবার আয়নাতে দেখুন।দয়া করে এদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন।

#৫৭ Comment By Arif On অক্টোবর ৩, ২০১৭ @ ৫:২৬ অপরাহ্ণ

Tahole Kurbanir Eider Gorur Guchto Sokol dormaboli o khabe.
Jehetu Dor mo jar tar Utshob shobar Ki bolen vai apnara?????????????????????????????????????????????????

#৫৮ Comment By md.kamruzzaman On অক্টোবর ৩, ২০১৭ @ ১১:২১ অপরাহ্ণ

sikkhitor nama kicu murkho bola dhormo jer jer utsob sober.ki kora tara a rokom akta nastikko badi kotha bolta parlo.jara a dhoroner kotha bolcen tader ka uddasso kora bolci jobab din goto kurbanir eid totha eid ul azha er namazer eidgaha koto jon bedhormi eider namaz aday koraca abong apner kurbani korer kaja help korca.so ami boli dhormo jer utsob ter.

#৫৯ Comment By Niketon On অক্টোবর ৫, ২০১৭ @ ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ

কি বুঝলেন? বাংলাদেশী হিন্দুরা ইসলাম প্রচার করছে? মোটেও তা নয়! এটা প্রশাসন থেকে হুমকি!! আযানের সময় মাইক বন্ধ রাখতে হবে হিন্দুদের!
ত্যাগ শুধু কি হিন্দুদেরই করতে হবে!!?? যারা মুখ বুঝে ত্যাগ স্বীকার করতে চায় তাদের জম্ম পরিচয় নিয়ে সন্ধিহান!
মুসলিমরা প্রতিদিন (৫ বেলা * ৩৬৫)= বছরে ১৮২৫ বার নামাজ পড়ে! হিন্দুরা মাত্র কয়েকদিন দূর্গাপূজা করে। হিন্দুরাতো মুসলিমদের পূজার সময় আজান দিতে নিষেধ করে না। তাহলে মুসলিমদের সমস্যা কোথায়?
এই অল্প কয়েকদিন যদি হিন্দু -মুসলিম একসাথে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব করতে না পারে তাহলে কিসের ধর্ম নিরপেক্ষতা!

#৬০ Comment By Niketon On অক্টোবর ৫, ২০১৭ @ ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ

Monusotto boro dharmo dadara

#৬১ Comment By আব্দুর রহমান On অক্টোবর ৫, ২০১৭ @ ১২:৪২ অপরাহ্ণ

আপনি লিখেছেনঃ
“তারপর বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা নতুন মাত্রা পেতে থাকে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো ধর্ম নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। কেউ নিজেদের ‘ধর্মহীন’ প্রমাণ করতে চায় না। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার কেবলই বাড়ছে। আওয়ামী লীগও এখন আর ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে না। ধর্ম নিয়ে যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, যারা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষক, তাদের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ ‘কৌশলগত’ ঐক্য ও সমঝোতার পথেই চলছে। বাংলাদেশ আবার অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে-– এটা অনেকটা কষ্টকল্পনা বলে মনে হয়।”
আপনি এখানে একটু বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন।

“প্রতিযোগিতা” নয় বরং বিএনপিকে নিঃসঙ্গ করতে “হেফাজত”কে কৌশলগত অবস্থানে নিতে হয়েছে। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে কি না করেছে?
জামায়াত প্রকাশ্য এবং গোপনে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ।

হেফাজতকেও বিএনপি’র বলয়ে ঠেলে দিতে চান নাকি আপনারা ?

#৬২ Comment By Nahid hossain On অক্টোবর ৯, ২০১৭ @ ৩:০৭ অপরাহ্ণ

vai, amr besi kotha bola valo lage na. kom kothai sottto kore boli je ami diploma pass kore bose asi (B.Sc 5 sem.). akta job kub dorkar. gov. job na hole gf er baba biye dibe na. kub jhamelai asi. parle sorkar ke bole akta job (gov.job) dan. ato kicu likhe ki love bolen???????……