Sheikh Hasina - 111

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে মানুষের সচেতনতা তুঙ্গে। আগেও লিখেছি, দলের চাইতে তাঁর ইমেজ বড় এখন। তিনি নিজগুণে তা তৈরি করেছেন। একটা সময় ছিল যখন এমনও শুনতাম বা বিশ্বাস করা হত যে, তাঁর অতিকথন বা বক্তব্য দলের জন্য অহিতকর। সে বদনাম যে মিথ্যা সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন ধারাবাহিকভাবে দুবার দেশশাসনে আসার পর। এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন আর তিনি সমার্থক।

এটাও দেখছি, তাঁকে হেয় বা ছোট করার রাজনীতি কেমন গুটিয়ে গেছে। একজন মানুষের সব কিছু ভালো হতে পারে না। রাজনীতি কাউকে মানবের ওপরে তুললেও নয়। তিনি তাঁর মতো। তবে এটা মানতেই হবে যে, প্রাজ্ঞতা আর দূরদর্শিতায় তিনি এখন আছেন বা উঠেছেন এমন জায়গায় সেখানে বাংলাদেশ তাঁকে ছাড়া মূলত অভিভাবকহীন।

একসময় আমাদের নেতারা বিদেশের নেতাদের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে বিনয়ের অবতার হয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাতেন। এখন দেখুন, জার্মানির মতো দেশের নির্বাচনে অ্যাঞ্জেলার বিলবোর্ড বা পোস্টারে তাঁর সঙ্গে ছবি দেওয়া হয়। কানাডার জাস্টিনের সঙ্গে ছবিগুলো মজার। শেখ হাসিনাকে মায়ের মমতা দিয়ে ভালোবাসা বা অবলোকনের ছবিগুলো দেখলে জাস্টিন ট্রুডোকে মনে হয় তাঁর পুত্রসম। সেদিন দেখলাম, ট্রাম্পও ঝুঁকে পড়ে তাঁর সঙ্গে বেশ সময় নিয়েই কুশল বিনিময় করলেন। Seeing is believing মানলে বুঝতে কষ্ট হবে না দিন ঘুরছে, চাকা ঘুরছে সময়ের। সেই বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশে অনেক ফারাক। আর এই তফাৎ রচনা করার মূল নেতা শেখ হাসিনা।

ফলে তাঁর কুশল ও নিরাপদ থাকা না-থাকা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। তিনি যখন জাতিসংঘে তখনও আমরা আমাদের দেশের বহুলপ্রচলিত দৈনিকটিতে আলো অন্ধকারে আবারও ষড়যন্ত্রের মুখ দেখেছি। তারা বলতে চেয়েছিল যে, বাংলাদেশ বন্ধুহীন। আর প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় নাকি আসনগুলো খালি ছিল। পরে অবশ্য সে খবর তুলে নেওয়া হয় তাদের ইন্টারনেট ভার্সন থেকে।

যা বলছিলাম, শেখ হাসিনা যখনই কোনো সফরে যান আমরা দেখি এক ধরনের ষড়যন্ত্র আর তাঁর ওপর আক্রোশের খবর বেরিয়ে আসে। একবার শুনলাম খাদ্যে নাকি বিষ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আর একবার আকাশে প্রায় সমূহ বিপদের হাত থেকে বেঁচে আসেন তিনি। চাকা খোলা থেকে চাকা বন্ধ এসব চক্রান্তের লোকেরা থেমে নেই।

 

Angela-Hasina - 111
এই তফাৎ রচনা করার মূল নেতা শেখ হাসিনা

 

এবারের বোমটি ফাটিয়েছেন কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক। খবরটিরে বিস্তৃতি ও ভয়াবহতা আমাদেরকে আক্রান্ত করবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা অনেকে তা শেয়ার করেছি এই ভেবে যাতে মানুষ সতর্ক হতে পারেন। এর সঙ্গে ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য ভালোবাসা ও আবেগের বহিপ্রকাশ। এটি এত দ্রুত এত বেশি প্রচারিত হয় যে, এর সন্দেহ নিরসনে একাত্তর টিভি সুবীর ভৌমিককে নিয়ে আসে পর্দায়। তিনি অবশ্য এখনও বলছেন, জেনেবুঝেই রিপোর্টটি তৈরি করেছিলেন তিনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একে গুজব বলা হয়েছে এবং এ ধরনের কিছু প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সাবধানও করা হয়েছে।

আমরা অবশ্যই তাদের কথা বিশ্বাস করতে চাইব। এ-ও চাই এ ধরনের খবর গুজবই হোক। কারণ আমরা খুব ভালোভাবে জানি যে, অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ হবে না। এই দেশ ও আমাদের ইতিহাস বলে, যারা দেশ ও দশের জন্য কাজ করেছেন করছেন তাদের কাউকেই ছেড়ে দিইনি আমরা। কে না জানে, আমাদের দেশের প্রতিক্রিয়াশীল চক্র কত শক্তিশালী। তারা যেমন অপপ্রচারে এক কাঠি সরেস তেমনি তাদের নেটওয়ার্কও কম নয়। তাদের হাতে আছে অঢেল অর্থ, বিভিন্ন দেশের মদদ, ভিনদেশি গোয়েন্দা সংস্থাসহ আমাদের দেশের বিপথগামী রাজনীতিও।

একুশে আগস্ট যেহেতু সত্য, আমরা কিছুতেই কারও জড়িত থাকা না-থাকার বিষয়টা সহজে উড়িয়ে দিতে পারি না। মনে রাখা উচিৎ যে, প্রেস রিলিজে স্বস্তি আছে কিন্তু ভয় কাটাতে লাগবে সতর্কতা আর আন্তরিক ভালোবাসা। দেশে দেশে অঘটনগুলো সব সময় ঘটায় কাছের মানুষরাই। তাদের ছাড়া কোনো ষড়যন্ত্র কোথাও কোনো দিন সফলতার মুখ দেখেনি।

আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এ প্রতিবেদন ছিল বানোয়াট বা গুজবের অংশ। শেখ হাসিনাকে অন্ধ সমর্থন না করলেও বিশ্বাস করি, তিনি ছাড়া এই দেশ ও সমাজ এখন কিছুতেই এমনভাবে চলতে পারবে না। আর যারা যেনতেন প্রকারে নিয়ম-অনিয়মের তোয়াক্কা না করে তাঁর বিদায় চায় তাদের কাউকে কাউকে আমরা হররোজ দেখি। মোকাবেলা করি। এরা ধূর্ত ও মধ্যপন্থী। এদের মুখে এক আর ভেতরে আরেক। শেখ হাসিনার উন্নয়নের সবকিছু ভোগ করা মানুষগুলোই আসলে মুখোশধারী।

এখনও শেখ হাসিনার বিকল্প যেমন আওয়ামী লীগে নেই বা তৈরি হয়নি তেমনি তিনি ছাড়া এই সমাজের পরিণাম হবে ভয়াবহ। যারা মুখ বুজে চোখ বন্ধ করে আছেন তারাও বাঁচতে পারবেন বলে মনে হয় না।

একবার ভেবে দেখুন তো কী হতে পারে? যারা ওঁৎ পেতে আছে তারা কারা? জামায়াত-শিবির আপাতত নেই মনে হলেও সময়মতো ঠিকই বেরিয়ে আসবে। জনমনে তাদেরও জায়গা আছে। আর সবচেয়ে ভয়ংকর হবে যুবরাজ ও তার দোসররা। একটি ভিডিওতে দেখা গেল, জাতিসংঘের সামনে মুখোমুখি দুদল; একদিকে আওয়ামী সমর্থকরা, আরেক দিকে বিএনপি। উভয় দিকের আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণ এমন ছিল যে, বেচারা পুলিশ অসহায়ের মতো উভয়দিকে দৌড়াচ্ছে!

যেখানে আমেরিকায় এই হাল সেখানে দেশে কে কী করবে তা কি অনুমান করা খুব কষ্টের? তাছাড়া যারা ধরে নিয়েছিল গদি বা শাসন তাদের অধিকার, কেউ তাদের থেকে তা কেড়ে নিতে পারবে না, তারা আজ দশ বছর ধরে কেমন জীবন কাটাচ্ছে? আমাদের দেশে কোনো দল রাজনীতি বা প্রতিশোধের বাইরে পা ফেলতে পারেনি। শেখেওনি। ফলে এদেশের সকল প্রগতিশীল ও সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের জন্য আরেকটি অমানিশা নেমে আসাই স্বাভাবিক।

বিষয়টি আবার এমন নয় যে, আওয়ামী লীগ ধোয়া তুলসী পাতা বা তাদের মন্ত্রী নেতারা যা করছেন তা-ই ভালো। বরং এরা জনমনের কোন জায়গাটিতে আছেন জানতে পারলে ভালো হত। তাদের ধারণাও নেই তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে কী ভোগ করে চলেছেন। এটাও নিশ্চিত যে, এরা প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করতেও পারবেন না। যারা পারবেন তাদের দেশে থাকাটাই হবে কাল।

ইতিহাস ও অতীতের দিকে তাকিয়ে এর চেয়ে ভালো কিছু বলা মানে মিথ্যাচার। যদি দেশ রাজনীতি বা পরিবেশ স্বাভাবিক হত, নিয়মতান্ত্রিক গণতন্ত্র আর শুদ্ধ রাজনৈতিক আবহ থাকত, আমাদের উৎকণ্ঠা তীব্র হত না। যেহেতু সামান্য ভোট বা জনঅধিকার নিয়েও ঐক্য নেই, আছে ষড়যন্ত্র আর চক্রান্তের রাজনীতি, আমরা শেখ হাসিনার জন্য উদ্বিগ্ন থাকব এটাই স্বাভাবিক।

তাই সরকারি প্রেস নোটের পাশাপাশি সত্যিকার সংকট বা ষড়যন্ত্র আঁতুড়ঘরে নির্মূল করাটাই হবে কাজের কাজ।

অজয় দাশগুপ্তকলামিস্ট।

১৩ Responses -- “প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও কিছু ভাবনার খোরাক”

  1. Rasha

    History repeats! Sheikh Hasina’s security should be strengthened as opponents knows only killing! BNP/Jamat supporters often utters the word Kill her! don’t trust these Mir-Jafars traitors. We love Hasina and her wonderful ruling which is total democratic! Long live Sheikh Hasina and AL.

    Reply
  2. জয়দত্ত বড়ুয়া

    তারপরও প্রধানমনত্রীর নিরাপত্তার বিষয়ে সদা-সর্বদা সচেতন থাকা উচিৎ। মোশতাক, মীরজাফররা চারি দিকে ঘুরঘুর করছে। প্রধামন্ত্রীকে জন্মদিনের প্রাণঢালা ফজলেল শুভেচ্ছা। ওনার নিরাপদ দীর্ঘায়ু কামনা করি।

    Reply
  3. সত্য নয়

    একটা সময় ছিল যখন এমনও শুনতাম বা বিশ্বাস করা হত যে, তাঁর অতিকথন বা বক্তব্য দলের জন্য অহিতকর। সে বদনাম যে মিথ্যা সেটা তিনি প্রমাণ করেছেন ধারাবাহিকভাবে দুবার দেশশাসনে আসার পর। এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন আর তিনি সমার্থক।
    জলিল সাহেবের কথাগুলো এখনও আকাশে বাতাসে ভাষছে কি? ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন তো বিশ্ববাসী জানে? তেল বেশ সস্তা মনে হচ্ছে?

    Reply
    • হাশেম

      বিএনপি অনেক শক্তিশালী দল, ৫ জানুয়ারী নির্বাচন প্রতিহত করতে জ্বালাও-পোড়াও,বোমা ককটেল কুড়াল কিরিচ সব ব্যবহার করতে পারছে শুধু নির্বুদের মত নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারেনি।আগের গুনাবলী গুলো ১৬ আনা ছিলো,পরের টা তাদেরকে পাশের নিশ্চয়তা না দিলে নানা অজুহাত।

      Reply
  4. Shahid Ali

    If Islamic Militants exists in Bangladesh there is anti Bangladeshi ( ( Specially pro Indian ) conspiracies exists in Bangladesh as well. These Anti Bangladeshis are taking the advantage of current secular good government. So Bhoumiks are actually helping these anti Bangladeshi pro Indian activities. Country knows these peoples very well.
    Myself agree with the write up of Nilladri & Naam Prokashe Onicchuk.

    Reply
  5. শামীম খান

    জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র শুরু থেকেই হয়ে আসছে এবং চলমান । ইতিহাসের অন্যতম নির্মম ২১শে আগস্টের বোমাবাজি তার একটি জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত । আক্রমণটি ব্যর্থ হয় । নেতা-কর্মীরা তাঁকে মানব বর্মে আচ্ছাদিত করে ফেলেছিলেন । তিনি আহত আহত হলেও জীবন রক্ষা পায় নেতাকর্মীদের ভালবাসায় , আশীর্বাদে । এখানেই মুল দৃষ্টি রাখা দরকার । ষড়যন্ত্রকারীরা সেদিন দলের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মীর জাফরদের সম্পৃক্ত করতে পারেনি । আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় । দলের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে বহুগুনে । নেত্রীকে সেই সব মানুষদের থেকে নিরাপদ দুরত্বে রাখতে হবে । আমার বিশ্বাস , নেত্রী নিজেও এসব ব্যক্তিদের সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন । এটাও আমার দৃঢ় বিশ্বাস ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই । শুধু দলের বাইরের অংশ দলের ভিতরের অংশের সাথে সমন্বয় সাধনের অপেক্ষা মাত্র । সাবধান । জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি প্রত্যাশার নাম , প্রত্যয়ের নাম । একটি বিশ্বাসের নাম । বিশ্বের বুকে বাঙালীর মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার আলোকবর্তিকাটির নাম । তাঁকে যদি আমরা নিরাপত্তা দিতে গাফিলতি করি , আমাদের টিকে থাকার আর কোন অবলম্বন রইবে না ।
    সুলিখিত রচনাটিতে অনেক মুল্যবান বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে । অজয় দা’কে ধন্যবাদ ।

    Reply
  6. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে মোদী সরকারের মায়ানমারের সাথে হাত মেলানোর নীতি খোদ ভারতেই বিপুল সমালোচিত হয়েছে- এ নিয়ে দেশের মধ্যে ও বাইরে বেশ চাপে আছে তারা। বিশেষ করে, প্রায় বিনাশর্তে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়া হাসিনা সরকারের সাথে এহেন বেইমানী ভাল চোখে দেখছে না ভারতীয়রা। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে ‘হাসিনার হত্যা প্রচেষ্টা’ নিয়ে সুবীর ভৌমিকের বেহুদা রিপোর্টটা এই চাপ সরানোর একটা প্রচেষ্টা হতে পারে। আইএসআই-আরসা-জঙ্গিবাদ ও হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা- এইটা মোটামুটি একটা কমপ্লিট প্যাকেজ। সুবীর ভৌমিকের প্যাকেজ রিপোর্টটি বিনা চ্যালেঞ্জে পার পেয়ে গেলে ভারত ও বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে মায়ানমার রাষ্ট্র ও রাখাইনদের হাতে চলমান রোহিঙ্গা গণহত্যা বৈধতা পেয়ে যেতো, মোদী সরকারের পজিশনও জাস্টিফাই হতো। ব্যাপারটা এমন দাঁড়াতো যে মায়ানমারও তো সেই একই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধেই লড়ছে। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হচ্ছে- মায়ানমারের একটি অনলাইনে খবরটি প্রথম আমরা জানতে পারলাম। ৩৭ বছর সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সুবীর ভৌমিক এই খবরটা প্রকাশ করার আর কোনো জায়গা পেলেন না? ভারতীয় যেই টিভি চ্যানেলটি এই খবর দিয়েছে- তাদেরও আগে পরে গুজব প্রচারের কুখ্যাতি রয়েছে।
    ৭১ টিভিতে সুবীর ভৌমিকের কথা শুনছিলাম- এরকম আত্মম্ভরি শব্দচয়ন কোনোকালে কোনো সাংবাদিককে করতে শুনেছি বলে মনে পড়ে না। তিনি বললেন, বিডিনিউজ সহ যারা এর আগে তার সংবাদের অথেন্টিসিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে- তারা নাকি ‘বাপ বাপ’ বলে আবার তার খবর প্রকাশ করেছে। এই ‘বাপ বাপ’ বলে কথাটা তিনি কয়েকবার উচ্চারণ করলেন। কেন? খালি কলসি বলে?

    Reply
  7. নীলাদ্রি

    সুবীর ভৌমিক এস এস এফ কে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে এস এস এফের মনোবল ভেঙে দেয়া এবং আর্মির গায়ে কালি লাগানোর চেষ্টা কেন করেছিল সেইটার খোজ নেয়া দরকার। টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ২০১৩ র নভেম্বরের ১ তারিখে সুবীর ভৌমিক একটি লেখা লিখেছিলেন তার শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশ একটি সহিংস পর্বের মধ্যে রয়েছে’; ‘বাংলাদেশে যেন বন্ধু সরকার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করতে পারে সেটা দেখার জন্য ভারতের অবশ্যই যা কিছু দরকার তার সবই করা উচিত’ (Bangladesh is in a violent phase and India must do all it can to see a friendly regime return to power)।
    সেই লেখায় তিনি লিখেছিলেন, “As Bangladesh slides into a violent imbroglio, India appears nervous over the future of its east and northeast which are afflicted by violent statehood movements and insurgencies. It cannot afford a hostile government in Dhaka. This, in a way, revives the pre-1971 scenario where a similar situation forced India to back the Bengali insurrection and militarily intervene in East Pakistan, braving threats of a US naval intervention”. দুর্ভাগ্য হচ্ছে, ভারতের সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে সুবীরের মতো চিন্তার মানুষের সংখ্যাই বেশি। আরো বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে বাংলাদেশের স্যেকুলারপন্থীরাও সুবীরবের মতোই চিন্তা করে। তাদের কাছে আওয়ামীলীগের বাইরে যে কাউ ভারতের জন্য হোস্টাইল বা দুষমন সরকার। এই বয়ানই বাংলাদেশের স্যেকুলারেরা দেয়, তাদের বয়ানে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে যেকোন মুল্যেই ক্ষমতায় রাখতে হবে। আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বয়ান খাড়া করতে গিয়ে তাদের একটা আজগুবি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি আবিষ্কার করতে হয়েছে। তাদের বয়ানে জামাত, বি এন পি, হেফাজত ইত্যাদি সবাই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। এই বিভাজন আসলে দিল্লীর প্রেসক্রিপশন মোতাবেক করা হয়েছে। কারণ তাঁরা বাংলাদেশের সমাজকে দুইভাবে বিভক্ত দেখতেই পছন্দ করে। এভাবে তারদের স্বার্থ ভালোভাবে হাসিল হয়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—