MYANMAR-ROHINGYA/CRISIS

গত বেশ কিছুদিন হল পত্রপত্রিকার পৃষ্ঠার দিকে আর তাকানো যাচ্ছে না না। মানুষের নিষ্ঠুরতার কথা পড়তে ভালো লাগে না। এরকম খবর পত্রপত্রিকায় ছাপা হলে নিজের অজান্তেই চোখ ফিরিয়ে নিই। একত্তর সালে আমাদের এরকম নিষ্ঠুরতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল, তখন চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো উপায় ছিল না। আমাদের চারপাশেই সেই ঘটনাগুলো ঘটেছিল। মনে হচ্ছে সেই দিনগুলো বুঝি আবার ফিরে এসেছে। আমি না চাইলেও আবার সেরকম ঘটনাগুলো দেখতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে।

একজন মা তার মৃত সন্তানের মুখের সাথে মুখ লাগিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এরকম দৃশ্য সহ্য করা কঠিন। কিন্তু এখন আমরা সবাই জানি খবরের কাগজের এরকম একটা ছবির পিছনে এর চাইতেও ভয়ংকর নির্মম আরও হাজারটি কাহিনি আছে। রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে– মেয়েদের ধর্ষণ, গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে– নারী-পুরুষ-শিশুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ভয়ংকর অত্যাচার থেকে রক্ষা পাবার জন্যে একজন দুইজন নয়, চার লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এত অল্প সময়ে এত বেশি শরণার্থী আর কোথাও প্রাণ বাঁচানোর জন্যে হাজির হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থাকত। এই মূহূর্তে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গার সংখ্যা কমে হাতেগোনা পর্যায়ে চলে এসেছে। তাদের বেশিরভাগই সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। বহুদিন থেকে মিয়ানমার এটিই করতে চেয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত এটি করতে পেরেছে। পৃথিবীর মানুষের সমালোচনা কিংবা ধিক্কার এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতে পারলে মিয়ানমার তাদের বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত চূড়ান্ত সমাধানটি শেষ পর্যন্ত করে ফেলতে পেরেছে।

পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম চূড়ান্ত সমাধানের কোনো অভাব নেই। ইজরায়েল নামক রাষ্ট্রটি এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। জোর করে একটি জায়গা থেকে সব অধিবাসীকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে ইজরায়েল রাষ্ট্রটি তৈরি করা হয়েছে, বিশ্ববিবেকের তাতে একটি আঁচড়ও পড়েনি। কাজেই হঠাৎ করে রোহিঙ্গাদের জন্যে পৃথিবীর মানুষ ব্যাকুল হয়ে উঠবে আমি একবারও সেটি মনে করি না।

আমার নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি আমাদের পাশের দেশ ভারতবর্ষে এই রোহিঙ্গা-বিপর্যয় নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। চীন এবং রাশিয়া মোটামুটি স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে তারা মিয়ানমায়ের পক্ষে। একাত্তরে যখন বাংলাদেশে গণহত্যা চলছিল, আমাদের চোখের সামনে যখন শুধু মানুষের লাশ এবং লাশ– ঠিক তখনও আমরা শুনতে পেতাম এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন বিষয়। এতদিন পর সেই একই ভাষায় একইভাবে আমরা শুনতে পাচ্ছি, রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়টি হচ্ছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন বিষয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ আমেরিকার রিফিউজি বা শরণার্থী নিয়ে রীতিমতো এলার্জি আছে। তাই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে তাদের কোনো গরজ থাকার কথা নয়। নিউইয়র্ক থেকে শেখ হাসিনা সেটা সোজা ভাষায় আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন।

সদাহাস্যময় মিয়ানমারের জেনারেল সাহেব ইউরোপে খুবই জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি সারা পৃথিবীতে খুবই দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অং সান সু চিকে সাধারণ মানুষজন ইন্টারনেটে একটু গালমন্দ করছে। চোখ-নাক-মুখ বন্ধ করে এই সময়টা পার করে দিলেই পৃথিবীর মানুষ এর কথা ভুলে যাবে।

 

Myanmar Army - 111
বহুদিন থেকে মিয়ানমার এটিই করতে চেয়েছিল, তারা শেষ পর্যন্ত এটি করতে পেরেছে

 

আমি প্রত্যেকদিন ইন্টারনেটে বিবিসিতে একবার চোখ বুলিয়ে দেখি, এর মাঝেই প্রাত্যহিক খবরে এখন রোহিঙ্গাদের কোনো খবর নেই। প্রাণ বাঁচানোর জন্যে লক্ষ লক্ষ নারী-শিশু-পুরুষের নিজ বাসভূমি ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাটির গুরুত্ব বিশেষ অবশিষ্ট নেই। কাজেই মোটামুটি অনুমান করা যায়, মিয়ানমার তাদের রাখাইন রাজ্যটি মোটামুটি ঝামেলামুক্ত করে ফেলেছে, সেখানে আর কোনো রোহিঙ্গা নেই। কাজটি করতে হয়তো অনেক সময় লাগত, কিন্তু অনেক দ্রুত করে ফেলা গেছে।

রোহিঙ্গাদের চরমপন্থী দল আরসা পুলিশ-মিলিটারির ঘাঁটি আক্রমণ করে অল্পকিছু পুলিশ-মিলিটারিকে মেরে পুরো কাজটি খুব সহজ করে দিয়েছে। এখন মিয়ানমারের বিশাল মিলিটারি বাহিনী খুবই যৌক্তিকভাবে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা করতে পারছে। এভাবে যে গণহত্যা করা যায় আমরা আমাদের চোখের সামনেই সেটি অনেকবার হতে দেখেছি।

২.

শান্তির জন্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ভদ্রমহিলা অং সান সু চি সেদিন তাদের টেলিভিশনে একটা বক্তৃতা দিয়েছেন। বক্তৃতায় কী বলবেন মোটামুটি অনুমান করা যেত এবং মোটামুটি সেটাই বলেছেন। একাত্তরে বাংলাদেশের এক কোটি শরণার্থী ভারতবর্ষে আশ্রয় নিয়েছিল, পৃথিবীর বেশ কিছু দেশ যখন সেটা নিয়ে পাকিস্তানের উপর চাপ দিয়েছিল, তখন কোনো এক পর্যায়ে পাকিস্তান মিলিটারি শরণার্থীদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিল। সেই আহ্বান শুনে একজন শরণার্থীও ফিরে যায়নি। কেন যাবে? পাকিস্তান মিলিটারিরাও জানত সেটা ফাঁকা বুলি। শরণার্থীরাও জানত সেটা ধাপ্পাবাজি। নিজের জীবন নিয়ে কে ধাপ্পাবাজির ফাঁদে পা দেবে? মিলিটারির গুলি খেয়ে মারা যাওয়া থেকে অনাহারে-রোগে-শোকে-কলেরায় মারা যাওয়াটচাই তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল। শরণার্থী ক্যাম্পে তখন প্রায় আট থেকে দশ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল।

এবারে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ভদ্রমহিলা পাকিস্তান মিলিটারি থেকে এক কাঠি সরেস। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নেওয়া হবে। যাচাই-বাছাই করার প্রক্রিয়াটি কী আমরা এখনও জানি না। যারা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে এসেছে তাদের কাছে কী কাগজপত্র প্রমাণ হিসেবে আছে আমার জানা নেই। সবচেয়ে বড় কথা, এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কোনো নাগরিকত্ব নেই।

ব্যাপারটা আমি বুঝতেই পারি না। একজন মানুষ একটি দেশে থাকে, কিন্তু সে এই দেশের নাগরিক নয়! দেশের সংবিধানের কথাগুলো লেখা থাকে সেই দেশের নাগরিকের জন্যে। কাজেই যারা সেই দেশের নাগরিক নয় তাদের জন্যে রাষ্ট্রের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। যার অর্থ, রোহিঙ্গা শিশু লেখাপড়া করতে পারবে না। অসুস্থ হলে চিকিৎসা পেতে পারবে না। বাসে-ট্রেনে উঠতে পারবে না। দেশের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারবে না। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা, দেশের সুনাগরিকেরা যদি দা-চাপাতি হাতে নিয়ে কিছু রোহিঙ্গাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে সেটা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। রোহিঙ্গা মেয়েরা যেহেতু নাগরিক নয়, কাজেই তাদেরকে ধর্ষণ করাও নিশ্চয়ই গুরুতর অপরাধ নয়।

যে রাষ্ট্রের কিছু মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয় সেই দেশের সংবিধানটি দেখার আমার খুবই কৌতূহল।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ভদ্রমহিলা শরণার্থীদের যাচাই-বাছাই করে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা বলে অবশ্য স্বীকার করে ফেলেছেন যে, শরণার্থী বলে কিছু একটা আছে। আমি ভেবেছিলাম তিনি সেটাও অস্বীকার করবেন। চীন, রাশিয়া এবং ভারতবর্ষ পাশে থাকলে যে কোনো মিথ্যা কথা খুব জোর দিয়ে বলা যায়। নাফ নদীর এপার থেকে যখন দেখা যায় রাখাইন রাজ্যে গ্রামে গ্রামে আগুন জ্বলছে তখন আগুনটা অস্বীকার করা একটু কঠিন হয়ে যায়। রাখাইন রাজ্যের কর্মকর্তারা বলেছে, মানুষগুলো নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। এর চাইতে নিষ্ঠুর কৌতুক আর কী হতে পারে!

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ভদ্রমহিলার বক্তব্যের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হচ্ছে যে, তাদের দেশের মিলিটারিরা সেপ্টেম্বরের পাঁচ তারিখের পর আর কিছু করেনি। বক্তব্যটি সোজা বাংলায় অনুবাদ করলে এরকম শোনাবে: “আগস্টের ২৪ তারিখ থেকে আমাদের মিলিটারি রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা করেছে, মেয়েদের ধর্ষণ করেছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচানোর জন্যে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। মোটামুটি সবাইকে যেহেতু তাড়িয়ে দেওয়া গেছে, এখন হত্যা করার জন্যে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সেপ্টেম্বরের পাঁচ তারিখ থেকে হত্যা-ধর্ষণ-বাড়ি জ্বালানো বন্ধ আছে।”

তবে এই কথাটাই নির্জলা মিথ্যা। সেপ্টেম্বরে পাঁচ তারিখের পরেও রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রাম পোড়ানো হয়েছে, তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ভদ্রমহিলার বক্তব্য শুনে মনে হল, সেপ্টেম্বরের পাঁচ তারিখে মিলিটারি অ্যাকশন বন্ধ করার জন্যে তিনি সারা পৃথিবী থেকে এক ধরনের বাহবা কিংবা সম্ভব হলে শান্তির জন্যে দ্বিতীয় আরকটি নোবেল পুরস্কার আশা করছেন। তা না হলে এত বড় গলায় এত বড় একটা মিথ্যা কথা কীভাবে বলা হয়?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মিয়ানমারে ছুটে গিয়েছিলেন। সামরিক শাসন শেষ হয়ে মিয়ানামার গণতান্ত্রিক দেশ হয়ে গেছে সেই আনন্দে সারা পৃথিবী উদ্বাহু হয়ে নৃত্য করেছে। রোহিঙ্গা-বিপর্যয়ের কারণে আমরা এখন মিয়ানমায়ের গণতন্ত্রের প্রকৃত ছবিটা দেখতে পাচ্ছি। তাদের সংসদের শতকরা পঁচিশ ভাগ সিট মিলিটারিদের জন্যে। শুধু তাই নয়, কোনো বিল পাশ করতে হলে শতকরা পঁচাত্তর ভাগ ভোট পেতে হয়। যার অর্থ, কোন বিল পাশ হবে এবং কোন বিল পাশ হবে না সেটি সেই দেশের মিলিটারি ঠিক করে দেয়।

মজা এখানেই শেষ নয়, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে মিলিটারি, কিন্তু দেশটাকে পৃথিবীর সামনে উপস্থাপন করার জন্যে রয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া, সারা পৃথিবীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় সিক্ত ফটোজেনিক একজন ভদ্রমহিলা। কী মজা!

 

MYANMAR-ROHINGYA/CRISIS
সব নিয়ন্ত্রণ করে মিলিটারি, কিন্তু দেশটাকে পৃথিবীর সামনে উপস্থাপন করার জন্যে রয়েছেন সারা পৃথিবীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত ফটোজেনিক একজন ভদ্রমহিলা

 

আমি দেশ রাজনীতি, অর্থনীতি কিছুই বুঝি না। সাধারণ মানুষের কমন সেন্স দিয়ে সব কিছু বোঝার চেষ্টা করি। একেবারে মৌলিক যে বিষয়গুলো কমন সেন্স দিয়ে বুঝতে হবে সেটি হচ্ছে, এই পৃথিবীতে সব মানুষের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। পৃথিবীটাকে নানান দেশে ভাগ করা আছে, সব দেশের দায়িত্ব নিজের দেশের মানুষকে সুখে-শান্তিতে বেঁচে থাকার জন্যে সাহায্য করা। গায়ের রং, মুখের ভাষা কিংবা ধর্মের জন্যে কাউকে পছন্দ না হলেই তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া যাবে না। ইজরায়েল কিংবা মিয়ানামার সেটা করতে পারবে না। তাদের যত বড় খুঁটির জোরই থাকুক না কেন, সেটা অন্যায় সেই কথাটি আমরা উচ্চকণ্ঠে বলতে পারব।

আমার উচ্চকণ্ঠ আমার চারপাশের মানুষের কান পর্যন্ত পৌছায়। কিন্তু যখন এক ডজন নোবেল পুরস্কার পাওয়া মানুষ সেই একই কথা বলেন তখন সেই কথাটা সারা পৃথিবীর বিবেকে নাড়া দেয়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে যখন বলা হয় এটি হচ্ছে একটা জাতিকে নিংশেষ করে দেওয়ার ধ্রুপদী প্রক্রিয়া তখন একটুখানি হলেও পৃথিবীর সব মানুষের উপর বিশ্বাস আরও একটুখানি ফিরে আসে।

এর মাঝে আরও একটি ব্যাপার আছে, পৃথিবীতে বৈচিত্র্য হচ্ছে সৌন্দর্য। একটা দেশের মানুষের ভেতর যত বৈচিত্র্য থাকবে সেই দেশটি হবে তত সম্ভাবনাময়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই দেশে পুথিবীর সব দেশের সব জাতির মানুষ রয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, এটি একটি বড় দেশ নয়, এটি একটি ছোট পৃথিবী। সে কারণে এই দেশটি এত উন্নত হতে পেরেছে।

(এই মূহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দেশটির প্রকৃত সৌন্দর্য অস্বীকার করে এটাকে বৈচিত্র্যহীন দেশে পরিণত করার চেষ্টা করছে।)

আমাদের দেশের মানুষের মাঝে বৈচিত্র্য খুব বেশি নয়। সে জন্যে অল্প যে কয়জন আদিবাসী বা ভিন্ন কালচারের মানুষ রয়েছে তাদেরকে আমাদের বুক আগলে রাখার চেষ্টা করতে হয়। মিয়ানামারের জন্যেও সেই কথাটা সত্যি। তাদের দেশের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। কাজেই অল্প যে কয়জন ভিন্ন ধর্মের মানুষ রয়েছে তাদেরকে মূল্যবান সম্পদের মতো বুক আগলে রক্ষা করার কথা ছিল। মিয়ানমারের জেনারেলদের সেই সৌন্দর্য অনুভব করার ক্ষমতা নেই, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী তাদের কাছে আপদ বালাই। তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে তাদের শান্তি। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, তারা আধুনিক পৃুথিবীর মানুষ এখনও হতে পারেনি। তাদের জন্য আমাদের করুণা হয়।

বাংলাদেশি হিসেবে আজ আমি অনেক গর্ব অনুভব করি যখন দেখতে পাই আমাদের দেশটি হতভাগ্য রোহিঙ্গাদের বুক আগলে রক্ষা করার জন্যে এগিয়ে এসেছে। আমাদর প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখতে শরণার্থী শিবিরে গিয়েছিলেন। তখন একজন বিদেশি সাংবাদিক তাঁকে জিজ্ঞেস করল, “এই রোহিঙ্গাদের আপনি কতদিন রাখবেন?”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, “কতদিন? এরা সবাই মানুষ।”

পৃথিবীর সবাই লাভ-ক্ষতির হিসাব করছে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই লাভক্ষতির হিসেব করেননি। একেবারে পরিস্কারভাবে বলেছেন, তিনি মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮ Responses -- “মানুষ মানুষের জন্য”

  1. Masud Ahmed

    স্যার, আপনি কি এই লেখাটি ইংরেজিতে লিখবেন দয়া করে । এই লেখাটি আশা করি বিভিন্ন দেশের পত্রিকায় প্রকাশ করার জন্য পাঠাবেন । তাহলে লেখাটি পড়ে অং সান সূচি সহ বিশ্বের অনেকে লজ্জা পাবে । ব্যাক্তিগত ভাবে আমি বিশ্বাস করি, কারো মুখের উপর সত্যি কথাটি বলে দাও, শুরুতে সে অনেক তর্ক করবে, কিন্তু মাথার ভেতর কথাটি বসে যাবে এবং কথাটি কুরে কুরে খাবে । কথাটি তাঁর ভবিষ্যতে ছায়া ফেলবে অনিবার্য ভাবেই ।

    Reply
  2. Musa Palash

    হায়রে স্বার্থ! স্বার্থের কারণেই মানুষ নৈতিকতা বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করেনা।বিশ্ব রাজনীতিতে রাষ্ট্রগুলিও জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন,মানবাধিকার,পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও কুটনৈতিক রীতিনীতিকে মাঝেমধ্যেই জলাঞ্জলি দিচ্ছে সেই অনাদিকাল থেকে।নইলে নির্যাতিত শ্রমজীবীদের মহান আদর্শে মাও সে তুং কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সাম্যবাদী(Communist) চীন কেন ১৯৭১ সালে শোষিত,বঞ্চিত,নিপীড়িত,আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার(Self-determination) প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামরত বাঙ্গালিদের পক্ষ না নিয়ে হানাদার,বর্বর পাকিস্তানিদের দোসর হলো!বর্তমানে আমরা কী দেখছি?আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চীন আমাদের পরীক্ষিত মিত্র ও উন্নয়ন সহযোগী হয়েও অধিকতর স্বার্থের কারণে বাংলাদেশকে বিপদাপন্ন করে রোহিঙ্গা গণহত্যাকারী ও জাতিগত শুদ্ধির(Ethnic cleaning) মাধ্যমে তাদের নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াসরত অসভ্য বর্মি(Burmese) শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে দাঁড়িয়েছে।আর সামরিকবাহিনীর পুতুল(Puppet) অং সান সু চি বাস্তবতাকে অস্বীকার করে নিজেকে হাস্যাস্পদ করেছেন।সর্বক্ষেত্রেই ম্যাকিয়াভেলির(Machiavelli) শিষ্যদের জয়জয়কার!

    Reply
  3. Md.Nazmul

    রোহিঙ্গারা যদি মুসলামান না হয়ে খ্রিস্টান বা ইহুদি হতো; সারাবিশ্বে এতক্ষণে যুদ্ধ বেঁধে যেতো না। এরা যদি হিন্দু হতো নরেন্দ্র মোদি কী পারতেন অং সান সু চির অন্যায়কে সমর্থন করতে?

    Reply
  4. Md.Nazmul

    আসলে স্বার্থের কাছেই সবাই মাথানত করে।মানবতার কাছে নয়। রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান বর্বর হত্যাযজ্ঞ নিয়ে কোনো কথা বলেননি মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    Reply
  5. আইরিন ইরা

    ‘আমি দেশ রাজনীতি, অর্থনীতি কিছুই বুঝি না। সাধারণ মানুষের কমন সেন্স দিয়ে সব কিছু বোঝার চেষ্টা করি। একেবারে মৌলিক যে বিষয়গুলো কমন সেন্স দিয়ে বুঝতে হবে সেটি হচ্ছে, এই পৃথিবীতে সব মানুষের সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। পৃথিবীটাকে নানান দেশে ভাগ করা আছে, সব দেশের দায়িত্ব নিজের দেশের মানুষকে সুখে-শান্তিতে বেঁচে থাকার জন্যে সাহায্য করা। গায়ের রং, মুখের ভাষা কিংবা ধর্মের জন্যে কাউকে পছন্দ না হলেই তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া যাবে না। ইজরায়েল কিংবা মিয়ানামার সেটা করতে পারবে না। তাদের যত বড় খুঁটির জোরই থাকুক না কেন, সেটা অন্যায় সেই কথাটি আমরা উচ্চকণ্ঠে বলতে পারব।’
    খুব সুন্দর লিখেছেন।

    Reply
  6. muktinoor24@gmail.com

    পৃথিবীর সবাই লাভ-ক্ষতির হিসাব করছে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই লাভক্ষতির হিসেব করেননি। একেবারে পরিস্কারভাবে বলেছেন, তিনি মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন

    Reply
  7. সরকার জাবেদ ইকবাল

    চোখের জলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই পথেই হাঁটছেন। আমি তাঁর সাফল্য কামনা করি।

    Reply
  8. বেলায়েত হোসেন

    এই মুহূর্তে ঘটনার হোতা হয়েও মিয়ানমারই কূটনীতিতে এগিয়ে। তারা পুরো ঘটনাকে ‘দুষ্ট প্রচারণা’ বলে উপস্থাপন করছে। ইতিমধ্যে এশিয়ার দুই প্রধান শক্তি ভারত ও চীনকেও তারা পক্ষে পাচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ (এবং ভারতও) সচরাচর দাবি করে থাকে যে, ঢাকা ও দিল্লির বন্ধুত্ব ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। আবার বেজিং ও ঢাকা এও বলে যে, এই দুই দেশ হলো ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার’। কিন্তু ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক সংকটে দেখা গেল চীন ও ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের প্রতিপক্ষের পাশে। চীনকে ব্যবহার করে ১৯৭৮-৭৯ সালে বাংলাদেশ যেভাবে মিয়ানমারকে প্রভাবিত করেছিল এবার তেমন চেষ্টা লক্ষ্যগোচর হলো না।
    কার্যত রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের কূটনীতিক সামর্থ্য ও স্বাধীন সক্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং যার পরিণতি অন্তত তিনটি কারণে ভয়াবহ হতে বাধ্য।
    প্রথমত, মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনীতিক পরাজয় ঢাকাকে লাখ লাখ শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি ভরণপোষণে বাধ্য করবে এবং এটা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ভিন্ন ধরনের নতুন কিছু সংকটের জন্ম দেবে।
    দ্বিতীয়ত, এই অধ্যায় বাংলাদেশের কূটনীতিক ও সামরিক যেসব দুর্বলতাকে উন্মোচন করেছে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র হিসেবে শুভ ফলদায়ক হবে না। আঞ্চলিক আরো বহুধরনের খবরদারির মুখে পড়বে এখন থেকে বাংলাদেশ।
    তৃতীয়ত, মিয়ানমারের সঙ্গে একটি ‘উইন-উইন’ সমাধানে পৌঁছাতে না পেরে চীনের সড়ক ও নৌ সিল্করুটে যোগদানেও বাংলাদেশ বাস্তব প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ল। চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ স্থল যোগাযোগের সম্ভাবনা আপাতত সুদূর পরাহত এবং এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ আপাতত এশিয়ার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক উলম্ফনে নিজেকে শামিল করতে ব্যর্থ হলো।

    Reply
  9. মুহাম্মদ ইউছুফ

    ২০১৭ সালের বাংলাদেশ যেমন পূর্ববাংলা নয়-তেমনি আজকের ভারতের শাসক প্রধানমন্ত্রীও সেদিনের ইন্দিরা গান্ধী নন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর আরাকান অভিযানের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই হলেন কোনো বিদেশি দেশের সর্বোচ্চ নেতা যিনি দুই সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার সফর করছেন এবং প্রকাশ্যেই ভারত আরাকান অধ্যায়কে সমর্থন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রায় এক ঘরে মিয়ানমারের জন্য মোদির সফর ছিল বিরাট এক স্বস্তি। বস্তুত ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী যেভাবে পূর্ববাংলা সংকটে ভারতের ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ দেখেছিলেন-আজকের ভারতও আরাকান গণহত্যার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের লাভালাভ বুঝে নিচ্ছে। এ মুহূর্তে মিয়ানমারের পাশে মোদির দাঁড়ানোর অর্থই হলো মিয়ানমারের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের পক্ষে চীনের সিল্করুটে যুক্ত হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভারতই ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতা’র ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিয়তি হয়ে থাকা।

    Reply
  10. মুহম্মদ তৌফিক

    একটি ব্যাপার পরিষ্কার, আপনি যদি কোনো রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ না হন তবে আপনি এই গ্রহের মানুষই না। আপনি রাষ্ট্রীয় পরিচয় হারানোর সাথে সাথেই ‘নাগরিক’ কিংবা ‘মানুষ’ পরিচয় থেকে হয়ে যাবেন ‘শরণার্থী’ নামধারী নিছক একটি ‘জীব’। শরণার্থী হলো সেই অবস্থা যাকে মানুষ আর বন্য পশুর মধ্যবর্তী অবস্থার সাথে তুলনা করা যায়। চেহারায় মানুষ কিন্তু বেঁচে থাকা সম্পুর্ণ জন্তু জানোয়ারের মত। মানবজাতির ইতিহাসে এর চেয়ে লজ্জাজনক ঘটনা আর কি হতে পারে ?

    Reply
  11. মামু বচন

    ভারতের বিজেপি সরকার ঘোষণা করে ভারতে বসবাসরত ৪০ হাজার রোহিঙ্গার সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। উল্লেখ ভারতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ হাজার জাতিসংঘ নিবন্ধিত শরণার্থী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের ঠিক আগে দিল্লির পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য বিবৃতির মূল্য উদ্দেশ্য বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারের সাথে অধিকতর ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি করা। ভারত চাইছে সংখ্যাগরিষ্ঠ বার্মিজদের রোহিঙ্গা বিরোধী কট্টর মনোভাবের সাথে একাত্ম হতে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে চীনের মৌনতার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি সরকার। ভারতের বুদ্ধিজীবীদের অভিযোগ রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রশ্নে বার্মিজ জাতীয়তাবাদী এবং কট্টর বৌদ্ধরা নরেন্দ্র মোদি এবং তার দল বিজেপির সাথে একাত্মবোধ করে। ভারত যে স¤প্রতি বিশেষ অভিযানের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলেছেন সেটা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনা অভিযানের প্রতি সমর্থন।

    Reply
  12. হাবিবুর রহমান

    রোহিঙ্গা সংকট সামনে রেখে বিশ্বরাজনীতিতে ভিন্ন বার্তা বহন করছে, তাতে আর সন্দেহ কী? এক সময়কার শত্রু এখন মিত্র হবে। মিত্র শত্রু হবে এটাই স্বাভাবিক।
    রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর বর্বর নির্যাতনকে সাম্প্রদায়িক বিভাজন রাজনীতির দিকে বিশ্বকে ঠেলে দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে, যেটা বিশ্ব রাজনীতির জন্য ভয়াবহ অশনি সংকেত।

    Reply
  13. তানভির হায়দার

    বাংলাদেশ এ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কোন নির্যাতন হলেই সোচ্চার হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।রোহিঙ্গাদের মধ্যেও #হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর এ নির্যাতনের ঘটনায় তিনি চুপ কেন?? আসলে স্বার্থের কাছেই সবাই মাথানত করে।মানবতার কাছে নয়। রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান বর্বর হত্যাযজ্ঞ নিয়ে কোনো কথা বলেননি মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।উল্টো তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সঙ্গে যূথবদ্ব্দ হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো আহ্বান জানাননি মোদি। রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্ব, বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলো চাপ দেওয়া অব্যাহত রাখলেও মিয়ানমারের পক্ষে মোদির এমন অবস্থান নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

    Reply
  14. তানভির হায়দার

    রোহিঙ্গা নিধন ইস্যুতে মিয়ানমার বিশ্বব্যাপী প্রবল চাপে পড়লেও প্রতিবেশী ভারত বলছে, তারা দেশটিকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। মূলত এই সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বার্তার মাধ্যমে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত মিয়ানমারের প্রতি জোরালো সমর্থনের ইঙ্গিতই দিল। খবর: রয়টার্স ও ইন্ডিয়া টুডে’র। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিয়ানমার নৌবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ অ্যাডমিরাল তিন অং সানের নয়াদিল্লি সফরে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ভারতের প্রতিবেশী নীতি বিশেষজ্ঞ কে ইওমে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সমালোচনা করছে, সে সময় উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের আনছে ভারত সরকার, এটা একটি বার্তা দিচ্ছে। বার্তাটি হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ভারত মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আছে।’ গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে এই সঙ্কট শুরু হওয়ার পর মিয়ানমার সফর করে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির পাশে দাঁড়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানায় নয়াদিল্লি।

    Reply
  15. মাহতাব

    জাতিসংঘ বলছে, রাখাইনে যা হচ্ছে, তা পরিস্কার জাতি নিধন। মিয়ানমার জানে এটা স্বীকার করলেই তারা বিপাকে পড়বে। তাই তারা একে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বলতে চাইছে। আর মিয়ানমারের এই দাবি মিথ্যা জেনেও কিছু দেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমারের দাবির অসারতা প্রমাণে বাংলাদেশ সীমান্তে সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ অভিযানের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার তাতে সায় দেয়নি। দিলেই যে গোমর ফাঁস হয়ে যাবে।
    রোহিঙ্গামুক্ত মিয়ারমার গড়ার স্বপ্নে বিভোর অং সান সু চি নিশ্চয়ই সাফল্যে বগল বাজাচ্ছেন। কিন্তু মিয়ানমার যে সারাবিশ্বে খুনী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যাচ্ছেন, তার খেয়াল কি আছে?

    Reply
  16. হাসান মুয়াজ

    তুরস্কের সমূদ্র সৈকতে এক আয়লানের মরদেহ সারাবিশ্ব বিবেককে কাঁদিয়েছিল। আর আজ নাফ নদীতে শত শত আয়লানের লাশ ভাসছে, বিশ্ব বিবেক আজ বুঝি ঘুমাচ্ছে। ঘুমাও বিবেক ঘুমাও, জেগে দেখবে তোমার বিবেক মরে গেছে।
    অন্য সব বিষয়ে মুসলমানদের ভিক্টিম বানানো হলেও, আমার ধারণা ছিল অন্তত রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুসলমানরা নির্যাতিত হিসেবেই বিবেচিত হবে। কিন্তু ধূর্ত অং সান সু চি রোহিঙ্গা ইস্যুকেও জঙ্গী ইস্যু বানিয়ে ফেলতে চাইছেন। রাখাইনের গণহত্যাকে তারা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের আবরণ দিতে চাইছেন। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের রিপোর্টেই ছিল রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের সূত্র। তিনি আইন মেনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়া এবং বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু এই রিপোর্ট দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনা ক্যাম্পে হামলাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিশ্চিহ্ন করার মরণ কামড় দেয় মিয়ানমার সেনারা।

    Reply
  17. নাজমুল হোসাইন

    পশ্চিমাদের নির্লিপ্তি দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। তাদের কাছে মানবিকতাটা আপেক্ষিক। মানুষ নয়, তাদের কাছে স্বার্থটাই বড়।
    মিয়ানমার যে ১০/১২ দিনে তিন হাজার মানুষকে মেরে ফেলে, ৩ লাখ মানুষকে দেশছাড়া করলো; পশ্চিমা মিডিয়ার আওয়াজ আপনার কানে এসেছে? ধর্মকে বিবেচনায় নিতে চাই না, কিন্তু ভাবুন তো একবার রোহিঙ্গারা যদি মুসলামান না হয়ে খ্রিস্টান বা ইহুদি হতো; সারাবিশ্বে এতক্ষণে যুদ্ধ বেঁধে যেতো না। এরা যদি হিন্দু হতো নরেন্দ্র মোদি কী পারতেন অং সান সু চির অন্যায়কে সমর্থন করতে? সবার ক্ষেত্রেই মানবাধিকার, মানবতা আপেক্ষিক।

    Reply
  18. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    পশ্চিমা মিডিয়ার কাজই হলো সন্ত্রাসের সাথে ইসলামকে গুলিয়ে ফেলতে টানা অপপ্রচার চালানো। কিছু সন্ত্রাসী ইসলামের নাম ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, এটা ঠিক। কিন্তু তাই বলে, অল্প কয়েকজন মানুষের অপকর্মের দায়ে তো আপনি বিশ্বজনীন একটি ধর্মকে কোনঠাসা করতে পারেন না। কিন্তু ১৬ বছর ধরে তাই হয়ে আসছে। পৃথিবীর যে প্রান্তে যাই ঘটুক, খুঁজে খুঁজে মুসলমান কারো ঘাড়েই দায় চাপানোর চেষ্টা হয়। মুসলমান নাম হলেই বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হয়রানি করা হয়। এমনকি এ হয়রানি থেকে রেহাই পান না ভারতের রাষ্ট্রপতি বা তারকা অভিনেতাও।

    Reply
  19. মাহবুব আলম

    সফরের সময় নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনা না করেই মিয়ানমার সরকারের ভাষ্যকেই সমর্থন করেছেন, যেন এটি একটি উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসের সমস্যা। বেশ বোঝা যায়, এতে নরেন্দ্র মোদি নিজস্ব সাম্প্রদায়িক-ভেদনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।’

    Reply
  20. মাসুদ মোস্তফা

    নরেন্দ্র মোদি সরকার তার ঘোষিত অ্যাক্ট ইস্ট নীতি এগিয়ে নিতে এবং বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে, যেখানে মিয়ানমার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, সেখানে এক ধরনের কমিউনিটি গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    Reply
  21. সুবল চাকমা

    গোটা দুনিয়া অদ্ভুত নির্বিকার। নির্বিকার ভারত সরকারও। এমনকি সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কর্ণধারদের সঙ্গে দেখা হওয়া সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেননি। বরং মোদি বলেছেন, মিয়ানমারে জননেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে ভারত মিয়ানমার সরকারের পাশেই থাকবে।
    ভারতে ইতিমধ্যে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল সু চির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মোদি প্রসঙ্গটি তুলবেন। কিন্তু তিনি তো তা তুললেনই না, বরং তার সরকারের স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্রমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এ দেশে আশ্রয় দেওয়া হবে না।

    Reply
  22. সাঈফ রফিক

    ১৯৭১ সালে ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ পেলাম, তাই মোরা গর্বিত। কিন্তু ৪৬ বছর পরেও পাকিস্থান অামাদের সামরিক খাতের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা পাকিস্থানের চেয়ে এগিয়ে। সরকারের উচিত সামরিক খাতে একটু সুনজর দেয়া। কথায় আছে, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। এখনই সময়, দেশের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য আগামী পাচঁ বাজেটের কোন একটিতে সর্বোচ্চ অর্থ বাজেট বরাদ্ধ করা দরকার।

    Reply
  23. জুলফিকার আলী

    যার জীবনে ছায়া হয়ে আছে চীন,ভারত ও আমেরিকার মত দেশ গুলো তার আবার কিসের বিচার!!!যদি পারতো তবে আবার নোবেল পুরস্কার দিত কারন সে মুসলমান নিধন করছেনা!!মুসলমান যুগের আগাছা,,,,,প্রতিটা দেশে মুসলিম নির্যাচিত হচ্ছে

    Reply
  24. নুর আহমদ বকুল

    যে দেশের সংবিধান্রে সেনাবাহিনীর ভেটো দেয়ার ক্ষমতা দেয়া আছে সেখানে সু চি সাইন-বোর্ডে শুধু নিজের নামটা লিখে রেখেছে মাত্র।

    Reply
  25. জিন্নুরাইন

    রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলছে ফেইসবুক। গার্ডিয়ান নিউজ করেছে। ফেইসবুক এটা স্বীকারও করেছে। আমি আগেও বুঝেছিলাম ফেইসবুক এই অঞ্চলে ইন্ডিয়ান স্বার্থ রক্ষা করে। কাশ্মীর নিয়ে পোস্ট দেয়াতেও তারা পোষ্ট মুছে দিয়েছিলো। আমিও ব্যান হয়েছিলাম কাশ্মীর নিয়ে পোস্ট দেয়ায়। আমাদের নতুন কোন প্লাটফর্ম খুঁজে নিতে হবে। নইলে এমন ক্রুসিয়াল সময়ে সে আপনার লড়াইয়ের পিঠে ছুরি মারবে।

    Reply
  26. রনজেন চাঙমা

    রোহিঙ্গা হত্যাকান্ড বন্ধের দাবিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যখন মিয়ানমারের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করছে; তখন মিয়ানমারে সফরে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দমোদর মোদী। নরেন্দ্র মোদীর বন্ধুপ্রতীম দেশ মিয়ানমারে এই সফর শুধু আনন্দ-উদ্যমের নয়, সঙ্গে নিয়ে গেলেন ৪০ হাজার লিটার জ্বালানী তেল!!। প্রশ্ন হচ্ছে ভারত কী চায়? ভারত কি বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে আলাদা? প্রতিবেশি দেশের আগুন কি তার দেশকে স্পর্শ করবে না? রোহিঙ্গা নিধন বন্ধের দাবিতে মালদ্বীপের মতো দেশ যখন মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়; তখন মোদীর মিয়ানমার সফর এবং সে দেশে তেল রফতানী কী বার্তা দিচ্ছে……..?!?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—