Aung San Suu Kky - 111

প্রিয় অং সান সু চি,

আপনাকে চিঠি লেখার কোনো বাসনা ছিল না। সে যোগ্যতাও আমার নেই। আজও লিখতাম না যদি না আপনি বলতেন, রাখাইনে সবাই নিরাপদ। সেখানে রোহিঙ্গা নির্যাতনের সংবাদ অপপ্রচার মাত্র।

রাখাইনের রোহিঙ্গাদের উপর হত্যা-ধর্ষণ-লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ দীর্ঘদিন থেকেই চলছে। তাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার জন্য আপনার আগের সামরিক শাসকরা বহুবার বলেছেন, তারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। যখন সারা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা-ধর্ষণ করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং উগ্র বৌদ্ধরা– যখন নিরীহ নারী-পুরুষ-শিশুর জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নিচ্ছে পাহাড়ে-জঙ্গলে ও বাংলাদেশের সীমান্তে– হাজার হাজার মহিলা-শিশু-বৃদ্ধসহ আপামর জনতার কাফেলা ঢুকছে জীবন বাঁচানোর জন্যে– তখনও আপনি তাদের পক্ষে নেই। আপনার এই আচরণে সারাবিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষ অবাক হয়েছেন। কারণ মানবাধিকার রক্ষার জন্যে নোবেল শান্তি পুরস্কারের তকমা রয়েছে আপনারই।

আপনার এই আচরণ, আপনার কথাগুলো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি’ কবিতার কথা মনে করিয়ে দিল। তখন ভারতের গুজরাটে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা। হাজার হাজার ঘরবাড়ি রেললাইন গাছপালা উপড়ে পড়েছে। পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে বৃদ্ধের চশমা। মৃত পশুর পাশে ঘুরছে ছন্নছাড়া বালক। সেই সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে গুজরাটের আকাশে বিমানে করে বন্যার দৃশ্য দেখতে না আসার জন্য কবি অনুরোধ করেছিলেন সেই কবিতায়। কারণ কবি ভয় পাচ্ছিলেন, বিমানের জানালায় বসে শূন্য থেকে তিনি দেখতে পাবেন চারিদিকে সাদা থৈ থৈ পানি, তার মধ্যে সবুজ গাছপালা। প্রকৃতির এই দৃশ্য দেখে তাঁর মুখ ফসকে হঠাৎ বের হয়ে যেতে পারে, ‘বাহ কী সুন্দর!’

যদিও ইন্দিরা গান্ধীর মতো নেত্রী এমন কথা কখনও বলেননি। কিন্তু শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত আপনি সেই কথাই বলে দিলেন। দাউ দাউ আগুনে রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা যখন জ্বলছে, নিষ্পাপ অসহায় শিশুর লাশ নাফ নদীতে ভাসছে, সেই সব দৃশ্য দেখেও বললেন, ভুয়া তথ্যের অবাধ প্রবাহের কারণে রাখাইনের পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যের প্রত্যেকের সুরক্ষা দিচ্ছে বলে দাবি করলেন। অথচ আপনিই সবচেয়ে ভালো জানেন আপনার এই দাবি যৌক্তিক কিনা।

 

Aung San Suu Kky - 222
অথচ আপনিই সবচেয়ে ভালো জানেন আপনার এই দাবি যৌক্তিক কিনা

 

আপনি আরও বললেন, মানবাধিকার বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক সুরক্ষার অর্থ আপনি খুব ভালো করেই জানেন। তাই আপনার দেশের সব মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক অধিকারের সুরক্ষা আপনি নিশ্চিত করেছেন।

তাই তো হওয়ার কথা ছিল। তাই হবে বলেই মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের অক্লান্ত সংগ্রামের জন্যে আপনি শান্তির দূত হিসেবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। কিন্তু তা না করে কাদের প্ররোচনায় কীসের আশায় আপনি এমন অপরাজনৈতিক বক্তব্যের পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন তা ঈশ্বরই ভালো বলতে পারবেন।

মিয়ানমারের প্রিয় নেত্রী,

আপনি বলেছেন, রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে অপপ্রচার চলছে পৃথিবীজুড়ে যা সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করছে। বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সন্ত্রাসী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়ছে। রাখাইনের সংখ্যালঘুদের জাতীয়তাবাদের চেতনার বিরুদ্ধে এবং তাদের জাতিগত নির্মূল করার প্রচেষ্টার সপক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তোলার সে এক চমৎকার প্রচেষ্টা আপনার! আর তাই একটিবারের জন্যেও বললেন না নির্বিচারে হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পর প্রাণে বাঁচতে রোহিঙ্গারা যে দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকছে তাদের কথা। এতে কি আপনার সারাজীবনের মানবাধিকার রক্ষার সাধনা বাধাগ্রস্ত হয়নি?

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর যদি না বলত শুধুমাত্র আগস্ট মাসে রাখাইনে নির্যাতিত এক লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাহলে সম্ভবত সেটাও অস্বীকার করে বসতেন।

প্রিয় মানবাধিকারের প্রতীক,

আপনি জানেন কি, সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে এই যাত্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে? না, এটা আমার কথা নয়। জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক মানবাধিকার প্রতিনিধি ইয়াংহি লিএর কথা। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এমন কথাই বলেছেন তিনি। জাতিসংঘ বলেছে, শুধুমাত্র সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের থাকার মতো যথেষ্ট জায়গাও হচ্ছে না। গুলিবিদ্ধ অনেক রোহিঙ্গা মৃত্যুবরণ করছে আশ্রয় শিবিরে। সীমান্তে শরণার্থী শিবিরে ৬ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়েছে।

শুধু কি তাই? নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় প্রবল স্রোতে কত সংখ্যক রোহিঙ্গা নারী-শিশু প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে তার হিসাব কে রাখে প্রিয় সু চি!

 

Rohingya - 88888
নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় প্রবল স্রোতে কত সংখ্যক নারী-শিশু প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে তার হিসাব কে রাখে

 

প্রিয় গণতন্ত্রকামী নেত্রী,

ডেসমন্ড টুটুর কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ১৯৮০ সালের দিকে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৪ সালে তিনিও আপনার মতো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। সম্প্রতি তিনি টুইটারে আপনাকে লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যা আপনার সময়েও চলছে। ন্যায়পরায়ণতার প্রতীক হয়ে ওঠা আপনার মতো একজন মনীষীর জন্য এমন একটি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া বড়ই বেমানান!’ ন্যায়বিচার মানবাধিকার এবং জনগণের একতার কথা ভুলে না যাওয়ার জন্য তিনি আপনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রার্থনা করেছেন, আপনার সুমতির জন্য– বাড়তে থাকা রোহিঙ্গা সংকট যেন আপনার হস্তক্ষেপেই প্রশমিত হয় সেজন্য।

সারা পৃথিবীর শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রকামী ও মানবাধিকার পূজারী মনীষীরা আপনার আচরণে আজ বিব্রত বোধ করছেন। ‘দ্য পারফেক্ট হোস্টেজ’ এর লেখক যুক্তরাজ্যের জাস্টিন উইন্টল সম্প্রতি বলেছেন, ‘সু চি তাঁর নিজের প্রচার করা মূল্যবোধই মানছেন না। অথচ এই মূল্যবোধ তাঁকে একজন মহান ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।’ তিনি দুঃখ করে বলেছেন, ‘আপনার জনসমর্থন আছে, ক্ষমতা আছে, কিন্তু বহির্বিশ্ব আপনাকে নিয়ে কী ভাবছে সে বিষয়ে পাত্তাই দিচ্ছেন না। আপনি আপনার মূল্যবোধের খেই হারিয়ে ফেলেছেন।’

প্রিয় শান্তির দূত,

আপনি নিশ্চয়ই ভুলে যাননি মুসলিম-অধ্যুষিত সেই স্বাধীন আরাকান রাজ্যের কথা। আজকের রোহিঙ্গাদের পূর্বপুরুষরা সেই রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। পরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বার্মা ব্রিটিশ শাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই সময়েও মুসলিম রোহিঙ্গারা অন্যদের মতো নাগরিক অধিকার ভোগ করতেন। শত শত বছর ধরে বাস করে আসছি্লেন তারা– সেই আরাকান রাজ্যই আজকের রাখাইনরা। তারা আজ মিয়ানমারের অধিবাসী নয়, উগ্রবাদীদের এই যুক্তি কীভাবে আপনার সম্মতি পায়?

আপনি নিশ্চয়ই ভুলে যাননি তৎকালীন বার্মার সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আপনার মানবতার জয়গান গাওয়ার কথা? আপনার অনুপ্রেরণা ছিল মহাত্মা গান্ধীর কথা। আপনি সেই সময়কার বার্মায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। এজন্য প্রায় ১৫ বছর কারা ও গৃহবন্দী জীবন কাটাতে হয় আপনাকে। তারই স্বীকৃ্তি হিসেবে ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান আপনি। আর সেই আপনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে রাখাইনে গণতন্ত্র হত্যা ও মানবাধিকারের অপমৃত্যুর জন্যে বিশ্বজুড়ে যে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হচ্ছে, নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার যে দাবি উঠছে তা কি একেবারেই অমূলক?

না, সু চি– এটা হতে পারে না। আপনাকে যারা ভালোবাসেন পৃথিবীর সেই মানবিক গণতান্ত্রিক ও শান্তিকামী মানুষদের মতো আমারও ধারণা, আপনি একটি বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন এবং সেই সুযোগটাই ব্যবহার করছে মিয়ানমারের উগ্রবাদীরা। এখনই সময় সেই বিভ্রান্তির বলয় থেকে বের হয়ে আসার।

প্রত্যাশা রইল, আজকের এই অং সান্ সু চির মধ্যে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মানসকন্যা শান্তির দুত সেই সু চি ফিরে আসুন।

সালেক উদ্দিনকথাসাহিত্যিক

১৯ Responses -- “সু চির কাছে খোলা চিঠি”

  1. সজিব

    সুচি কে ফাসিতে ঝুলানু হলে,,, রুহিঈা দের শান্তি হবে,,, আমি আল্লাহ কছে বলব আল্লাহ আমি সুচির ফাসি চাই।

    Reply
  2. S.M. Sajjad Hossain

    সুচি একটা নির্লজ্জ বেহায়ায় পরিনত্ হয়েছে। ওর কাছে মানবতার কিছুই আশা করা যায় না। এসব পাপীদের বিচার কী কখনও হবে, কখনও হয়েছে?

    Reply
  3. sottasunder

    Jemon Pakistaner PM Armyder hater putul jevabe nachya temni nache, thik Burmer Nobel joyi Suu Kyi aki rokom nacher putul matro. Chine k thamate na parle tader k keyho size korte parbe na. Ak matro chine-e pare oi janoarder thamate. Modi holo sei lok dalali kore paoa jay kichu jodi tini holen Narendra Modi. Oil. Gas Bonder r koto ki. Chine Khabe sudhu ai fake dalali kore peter moddo dhuke kichu paoar asa.

    Reply
  4. সরকার জাবেদ ইকবাল

    রাখ-ঢাকের কিছু নেই। বিষয়টি পরিস্কার; সুচি সেনাবাহিনীর কাছে দাসখত দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন এবং সেই বন্দনাই তিনি করে যাচ্ছেন। ধিক সুচি!

    Reply
  5. রায়হান

    রোহিঙ্গারা ‘হিন্দু’ হলে মোদির ভারত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যে চাপ অনুভব করত, তার ছিটেফোঁটাও এ ক্ষেত্রে নেই, যেহেতু ভিটেছাড়া রোহিঙ্গারা মুসলমান! বিজেপির দিক থেকে সবটাই তাই ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’।
    দেশের নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গারা কতখানি বিপজ্জনক, আপাতত তা প্রমাণ করাটাই হতে চলেছে ভারতের প্রথম কাজ। এটা সত্য, এখনো পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী যোগসাজশের অকাট্য কোনো প্রমাণ ভারতের কারও কাছে নেই। কেউ দেখাতে পারেনি। কিন্তু রাখাইনে যা চলছে, বাংলাদেশে শরণার্থী স্রোত যেভাবে ফুলেফেঁপে উঠছে, মিয়ানমারের থোড়াই কেয়ার মনোভাব এবং শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে ভারতের উঠেপড়ে লাগা পরিস্থিতি ঘোরালো করে তোলার পক্ষে নিতান্তই অনুকূল। ২৫ আগস্ট থেকে যা চলছে তা সন্ত্রাসীদের হাতে মোয়া তুলে দেওয়ার মতোই লোভনীয়। রোহিঙ্গারা শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর হয়ে দাঁড়ালে সে জন্য দায়ী থাকবে কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ভুল রোহিঙ্গা নীতি, রোহিঙ্গারা নয়।

    Reply
  6. রায়হান

    নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফরের সময় রোহিঙ্গাদের পক্ষে কিংবা তাদের ওপর অত্যাচার বন্ধে রা কাড়েননি; বরং সু চির সঙ্গে যৌথ যে বিবৃতি দিয়েছিলেন তাতে রোহিঙ্গাদের সহিংসতা, তাদের সন্ত্রাসবাদী চরিত্র নিয়ে কঠোর সমালোচনা ছিল। তত দিনে দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ভারতের আশ্চর্য রকমের নীরবতা, মিয়ানমারের সেনা ও সরকারের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ও সমস্যা সমাধানে বিন্দুমাত্র চাপ সৃষ্টি না করা যে বিস্ময়ের জন্ম দেয়, সেটাই ছিল বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার তাগিদ। সে দেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী যেদিন বিকেলে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করে এই দুর্বিপাকে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন এবং অবশ্যই ভারতের নীরবতায় বিস্ময় প্রকাশ করেন, সেদিনই রাতে ভারত ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’র ঢংয়ে এক বিবৃতি দেয়। সেই বিবৃতিও চরিত্রে প্রচণ্ড রকমের নিরামিষ, যা ভারতের ‘অতিথি দেব ভব’ ভাবমূর্তির সঙ্গে বেমানান।
    রোহিঙ্গা-প্রশ্নে ভারত কেন ঢোঁড়া সাপের মতো নির্বিষ, সবার কাছে আজ তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। মিয়ানমারে ভারতের প্রবল অর্থনৈতিক স্বার্থ, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে সফল করতে মিয়ানমারের সাহায্য ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা, চীনের প্রভাব কমাতে চোখ বন্ধ রেখে মিয়ানমারকে কোল পেতে দেওয়া এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মোকাবিলায় সে দেশের সেনাবাহিনীর সাহচর্য—এসবই ভারতের কাছে মানবিকতা ও গণতন্ত্রের সার্থক বিকাশের চেয়ে বেশি জরুরি।

    Reply
  7. হেলাল উদ্দিন

    সুচিকে মানুষ বলা যায় কি? না কি নোবেল জয়ী পিসাচ???????????????????
    ভুল লিখলেম ক্ষমা করবেন।

    Reply
  8. Ripon

    আমরা বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ ও সারা বিশ্বের মুসলমানদের প্রতি একটাই দাবি তা হলো মিয়ানমারের এ নিষ্ঠুর আরচরণ, গণহারে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও হত্যা বন্ধের জন্য আপনারা আরও বেশি তৎপর হন। আপনারা মায়ানমার নেত্রী অং সান সু চি’র কাছ থেকে শান্তি নোবেল পুরস্কার কেড়ে নিন এবং তাকে মায়ানমারের মুসলমানদের উপর অত্যাচার বন্ধ করার ব্যবস্থার জন্য কঠোর চাপ সৃষ্টি করুন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ঘর-বাড়ী এবং তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করুন। অং সান সু চি’ কে তার পাপের উচিত শিক্ষা দেওয়া হোক । এটাই আমাদের চাওয়া ।

    Reply
  9. Mohammed Saiful Islam

    বিভিন্ন সংঘঠন তাদের দেওয়া এওয়ার্ড ফিরিয়ে নিচ্ছে বা নেওয়ার চিন্তা করছে। নোবেল কমিটি সে ব্যাপারে চিন্তা করতে পারে। বিশ্বের জনগণ নিশ্চয় এর পক্ষে রায় দিবে।

    Reply
  10. মোঃ হান্নান

    রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান কখনো কুটনৈতিক উপায়ে হবে বলে মনে হয় না।
    আগের শরনার্থী আছে ,তার কোন সমাধান হয়নাই নতুন করে আরো 5/6
    লাখ।অপ্রত্যাশিত হলেও যুদ্ধো করে অথবা জাতিসংঘ শান্তিবাহিনী মোতায়েন
    করে।তানাহলে মায়ানমার প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে অত্যাচার
    করার সম্বাবনা বেশি।

    Reply
  11. hemayet uddin

    কাকে আপনি মানবতাবাদি বলছেন। একজন ক্ষমতালোভী পরোক্ষ হত্যাকারি, মানবতা ধর্ষণে সহায়তাকারি, সমর্থনকারী বিশ্ববাসী যাকে ভুল ভাবে জানতো/চিনতো মানবতা শব্দটা তার নামের সাথে যুক্ত করে মানবতাকে অপমান করবেন না। যে সামরিক জান্তা তাকে ১৫ বছর কারাগারে গৃহ বন্ধী করে রেখেছিল তাদের হত্যা, অগ্নি সংযোগ, ধর্ষণকে সমর্থন করে নিজেকে বিশ্ববাসীর কাছে নির্লজ্জ বেহায়ার মত মিথ্যাচার করছে শুধু ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য আমের মতে তার আরও সময় গৃহ বন্ধী থাকলে উচিত শিক্ষা হত। সত্য বলার সাহস না থাকায় তাকে ধিক শত ধিক—

    Reply
  12. রেদোয়ান খান

    ১৬ কোটি মানুষ বার্মায় গিয়ে যদি কেবল থুথু ফেলে আসতো তবে থুতু প্লাবনে ওই
    পিচাশ জাতি ডুবে মরতো।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—