Rohingya village - 111

দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করা বন্যার পানি শুকায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দোরগোড়ায় পৌঁছানো দেশটার অবর্ণনীয় ফসলহানির হিসাব এখনও সম্পন্ন হয়নি। বন্যায় গৃহহীন, সহায়-সম্বলহীন মানুষের আহাজারি স্তিমিত হয়নি। এমন একটা সময়ে মাত্র দুসপ্তার ব্যবধানে চেপে বসেছে তিন লক্ষ উদ্বাস্তু সামাল দেওয়ার মতো জটিল এক চাপ। আশি শতাংশ নারী ও শিশু– বাকি কুড়ি শতাংশ নানান বয়সী পুরুষ। নির্মমভাবে জবাই হওয়া, পেট চিড়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরা কিংবা মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পরিবার ও নিকটজনদের সামনে গুলি; হত্যাপর্ব শেষে নারীদের ধর্ষণ। উন্মুক্ত পাহারা চৌকি থেকে পালাবার পথ পেলেই প্রাণভয়ে ছুটে আসা এ উদ্বাস্তুদের অনেক মরেছে পথে পিছু ধাওয়া করা সেনাদের গুলিতে; পথে, বনে-জঙ্গলে, গাদাগাদি-চাপাচাপি করে অজানার পথে ভাসিয়ে দেওয়া নৌযানে।

প্রতিবেশি দেশের অন্তর্গত সমস্যার জের ধরে অকস্মাৎ চেপে বসেছে খোলা আকাশের নিচে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-পানি-পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যাজর্জরিত এ উদ্বাস্তুদের বিষয়টি। এদের অপরাধ, এরা মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা। সাদা উচ্চারণে বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ মানুষ বলছে, জাতিগত সংঘাতের জের ধরে রোহিঙ্গা মুসলিমদের অবৈধ নাগরিক বিবেচনায় দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়াই এর পেছনের কারণ।

বাস্তবতা এই যে, জাতিগত সংঘাত সংগঠিত হবার পেছনে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ব্যুৎপত্তিভিত্তিক বৈষম্য কারণ হবার কথা সে প্রেক্ষাপট দৃশ্যমান হবার অন্তত তিন থেকে চার দশক আগে থেকে এ সংঘাত সেখানে বিদ্যমান ছিল। তাছাড়া মুসলিম বলেই যদি শুধু এই বিদ্বেষের শিকার হতে হত তবে সেখানকার যেখানে মুসলমানরা সংখ্যালঘু সেখানেই ঘটনাটা ঘটবার কথা। তা নয়। অন্তর্গত অন্য সমস্যার কারণে সৃষ্ট এ সমস্যার মাধ্যমে সত্যকার বিবেচনায় মিয়ানমার তাদের নিজ ঘরের সমস্যার উছিলায় ঠেলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়ে উদ্বাস্তু শিরোনামে চাপিয়ে দিচ্ছে এমন এক বোঝা যা পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোতেও এ মাত্রায় সামাল দেবার নজির নেই।

আঞ্চলিক ও জাতিগত বিভেদ ঘিরে কেন্দ্রের সঙ্গে সব প্রদেশের কমবেশি সহিংসতা বিরাজমান থাকার দেশ মায়ানমার। অর্ধশতাব্দী ধরে চলমান পরিকল্পিত এক নির্মূল প্রক্রিয়ার জের ধরে রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গাদের প্রতি নজিরবিহীন নৃশংসতায় সংঘটিত হচ্ছে সহিংসতা, সেই ১৯৪২ সাল থেকে। বৌদ্ধ-অধ্যুষিত দেশটির প্রাচীন আরাকান অর্থাৎ বর্তমান গণতান্ত্রিক মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মুসলমানদের সংখ্যাধিক্য অতীত থেকে। সমুদ্রসীমা আর (বিশ্বখ্যাত আকিয়াব) বন্দর সুবিধার বিবেচনায় রাখাইন প্রদেশের গুরুত্ব অন্য রকম। এর দখল ঘিরে নানান শক্তির আশা-আকাঙ্ক্ষাই এ সংঘাতের মূল।

 

Rohingya - 888
অবশ্য পুরো রাখাইন প্রদেশের চিত্র এক নয়, বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষেই এ উন্মত্ততা সীমাহীন

 

কিচিন বা শান প্রদেশের মতো সহিংস রাখাইনের রোহিঙ্গারা কখনও ছিল না। হয়তো এটি দুর্বলতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুতা বিবেচনায় রোহিঙ্গা মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারে নিশ্চিহ্ণ হবার লক্ষ্য এক জনগোষ্ঠী। অবশ্য পুরো রাখাইন প্রদেশের চিত্র এক নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষেই এ উন্মত্ততা সীমাহীন। তাড়া-খাওয়া রোহিঙ্গারা সর্বাধিক সংখ্যায় বসবাস করছে বুচিদং, মঙডু, রাথেডুঙ এলাকাগুলোতে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী, নাসাকা এবং সহিংস বৌদ্ধ গোষ্ঠী মিলে হটিয়ে তাড়িয়ে এক প্রান্তে এনে হাজির করছে এদের।

রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে ঘর গুণে মানুষের নাম নথিবদ্ধ করে পরিচয়পত্র দিয়েছে সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ পাণ্ডাদের দল। যখন-তখন মাইকিং করে ঘোষণা দিয়ে ওরা গ্রাম ঘেরাও করে, শুমারি করে। কোনো ঘরে সদস্য কম থাকলে বা কোথাও বাড়তি কাউকে পেলে নেমে আসে নির্মম শাস্তি– হত্যা। নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ কারও রেহাই নেই। তারপর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ণ করে তবে শেষ।

এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে হলে সেনাবাহিনীর পূর্বানুমতি নিয়ে যেতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সরকার কয়েক দশক ধরে বলছে যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিকই নয়। তারা আগন্তুক, মিয়ানমারে অবৈধভাবে থাকছে, থাকতে চাইছে। অর্ধশতাব্দী সময়কাল ধরে বিরামহীন অত্যাচার আর প্রাণহানির ঝুঁকির ভিতর কেউ কি ভুলেও কোথাও গিয়ে অভিবাসী হতে চায়! অথচ মিয়ানমার সেটাই বলতে চাইছে। এমনকি রোহিঙ্গাদের ওরা নাম দিয়েছে বাঙালি। কারণ হিসেবে বলতে চায়, চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে ভাষাগত সামঞ্জস্যের কথা। তেমন হলে তো ত্রিপুরা আর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সব মানুষ বাঙালি বাংলাদেশি হত।

বর্তমানে আশ্রয় নেওয়া তিন লক্ষের পাশাপাশি আরও অর্ধলক্ষ ঠাঁই নিয়েছে নো ম্যানস ল্যান্ডে বা সীমান্তবর্তী জঙ্গলে। ১৯৭৭ সালে রোহিঙ্গা সমস্যা স্বরূপ পাল্টাবার পর থেকে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আগে থেকেই এদেশে ছিল। যাদের কেউ কেউ এদেশের পাসপোর্ট বাগিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে।

যারা রয়ে গেছে তারা সস্তা শ্রমিক হচ্ছে বাঁচার তাগিদে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের পাশাপাশি অনৈতিক এবং ড্রাগ বা অন্য চোরাচালান সংক্রান্ত-কাজে বৃহৎ সংখ্যায় নিযুক্ত হয়ে আছে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলোয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে ছাড়িয়ে আনছে তাদের স্থানীয় কর্মসংস্থানকারীরা। এক অর্থে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যপক ক্ষেত্রে তারা হয়ে উঠেছে বিবিধ অপকর্মের সহযোগী শক্তি।

বাংলাদেশের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে আশ্রয় নিয়েছে আরও প্রায় ছয় লক্ষ রোহিঙ্গা। পাকিস্তানে ও সৌদি আরবে দুই লক্ষ করে। থাইল্যান্ডে এক লক্ষ, মালয়েশিয়া ও ভারতে চল্লিশ হাজার করে; ইন্দোনেশিয়ায় বার হাজার। মোট মিলিয়ে বার লক্ষ থেকে বেড়ে এখন পনের লক্ষ রোহিঙ্গা দেশছাড়া। আর মাত্র চার লক্ষের মতো রোহিঙ্গা আছে মিয়ানমারে। যারা সুযোগ পেলেই দেশ ছেড়ে পালাবে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে।

কোনঠাসা হতে হতে মাঝে মধ্যেই প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে উঠতে চাচ্ছিল রোহিঙ্গারা। কিন্তু কঠোর অবরোধ আর সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে থেকে খুব একটা কিছু করতে সক্ষম হওয়া বাস্তবে সম্ভব ছিল না তাদের জন্য। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বেশ কিছু সশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপের খবর শোনা যাচ্ছে। ‘আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’ বা আরসার সশস্ত্র সংঘাতের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়বার কথা আছে সেসব খবরের শিরোনামে। আগে ‘ফেইথ মুভমেন্ট’ বা ‘হারাকাহ আল ইয়াকিন’ নামে পরিচিত এ দলটির হাতে সাম্প্রতিক সময়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখা গেছে। রাখাইনে রাশিয়ার বিনিয়োগের সূত্র ধরেই বুঝিবা তাদের হাতে দেখা গেছে চকচকে কালাশনিকভ। এমন যদি সত্যিই হয় তবে রাশিয়ার স্বার্থ বুঝতে কারও অসুবিধা হবার কথা নয়।

আরসার নাম মূলত শোনা যাচ্ছে গত তিন বছর ধরে। যার নেতৃত্বে পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া আরাকানি রোহিঙ্গা ‘আতাউল্লাহ’ ওরফে ‘আবু আমর জুনুনি’। পাকিস্তান থেকে জুনুনি সৌদি আরবে চলে যান, সেখানে মক্কার দশ শীর্ষনেতা ও সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা এবং অর্থায়নে জন্ম নেয় আরসা। আরসার বক্তব্য হচ্ছে এই যে, তারা কোনো ইসলামি সন্ত্রাসী গ্রুপ নয়, নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের মৌলিক অধিকার ও নাগরিকত্ব আদায়ের দাবিতে শুধুমাত্র নির্যাতনকারী সেনাবাহিনী সদস্যদের প্রতি জিহাদ সংঘটনের লক্ষ্যে সৃষ্ট একটি বিপ্লবী দল।

এমন প্রেক্ষিতে মিয়ানমার সরকারের সহিংসতায় সমর্থন দিচ্ছে অধিকাংশ দেশ আর রোহিঙ্গাদের উৎসাহ দিচ্ছে মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশ। তা বাদে বাকি পক্ষ-প্রতিপক্ষ সব এক সুরই গাইছে। তুরস্ক মুসলিম বিশ্বে মোড়লিপনা আর আমেরিকার তাঁবেদারির লক্ষ্যে। ইরান ইসলামি ভাতৃত্ববোধে রোহিঙ্গাদের অধিকারের দাবিতে সমর্থন দিচ্ছে। রাশিয়ার বিনিয়োগ আছে রাখাইনে ও মিয়ানমারে– তাই এবং হয়তো কালাশনিকভ সংযোগ-সূত্রেও। আমেরিকা, ইউকে আর জাতিসংঘের ভূমিকা একসূত্রে গাঁথা; যার স্বার্থ ইঙ্গ-মার্কিন পরাশক্তির অর্থনৈতিক ঔপনিবেশবাদ। চীনের ভূমিকা বেশি দীর্ঘতম সীমান্তরেখার ভাগীদার ও দীর্ঘদিনের মিত্র শক্তি হিসেবে যতটা না, তার চেয়ে আসলে বাণিজ্যিক আধিপত্যবাদ ঘিরে। ভারতের ভূমিকাটাও ওই বাণিজ্যিক আধিপত্যবাদের ঘেরাটোপেই বাকি সবার মতো মিয়ানমার সরকারের পক্ষে।

অতিউন্মুক্ত নীতিতে চলা বর্তমান মিয়ানমারে বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যক্তিখাতের কিছু বিনিয়োগ থাকলেও তা হয়তো রাষ্ট্রের বিবেচনায় আনবার মতো সুবিশাল কিছু নয়।

পাকিস্তান, সৌদি আরব রোহিঙ্গাদের মদদ দিচ্ছে ইসলামি জিহাদের প্রস্তাবনায়। সার্বিক অরাজকতার সুযোগে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী প্রতিরোধের পথে ঠেলে দিতে চাইছে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত ধর্মভিত্তিক উগ্রপন্থী দলগুলো। কিন্তু বিশ্বের এগারতম বৃহৎ ও নৃশংসতার ঐতিহ্যের ধারক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মাত্র কয়েকশ বা কয়েক হাজার বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা বিপ্লবী দিয়ে আসলে কোনো কিছুই যে করা সম্ভব নয় তা বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ মাত্রেই বুঝতে পারছে। সহিংসতার বুদ্ধিতে অস্ত্র আর ট্রেনিংপ্রাপ্ত যোদ্ধারা পরিশেষে পারিপার্শিক এলাকায় সামাজিক সঙ্কটের কারণ ছাড়া আর কিছুই হয়ে উঠতে পারবে না।

 

Rohingya - 33333
এমনকি রোহিঙ্গাদের ওরা নাম দিয়েছে বাঙালি, কারণ হিসেবে বলতে চায়, চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে ভাষাগত সামঞ্জস্যের কথা

 

মগ জলদস্যুতার ঐতিহ্য নিয়ে গোটা মিয়ানমারের অমানবিকতার ইতিহাস অত্যন্ত নিকৃষ্টমানের। শত শত বছরের সেই ঐতিহ্য এখন দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দিয়ে পালিয়ে বেড়ানো ক্ষুদে বিদ্রোহী দল-উপদলগুলো স্থানীয়দের সহানুভূতি কতকাংশে অর্জন করলেও আস্থা সেভাবে অর্জন করতে পারেনি। কিছু তরুণ এবং পুরুষ ছুরি-তলোয়ারের নিচে বা বুলেটে মারা যাওয়ার চেয়ে জিহাদি বা বিপ্লবী তকমায় আত্মঘাতী হবার সিদ্ধান্ত নিয়ে দলে যোগ দেওয়া মানে কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিজয় অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া নয়। এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিকভাবে কুটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা।

মিয়ানমারের অন্তর্গত সমস্যার জের ধরে উদ্ভুত উদ্বাস্তু সমস্যা বাংলাদেশের উপর মিয়ানমার সরকারের চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসন ছাড়া অন্য কিছুই নয়। মিয়ানমারের বৌদ্ধ-বংশোদ্ভুত রোহিঙ্গা গবেষক, ১৯৮৮ সালে মিয়ানমার ত্যাগ-করা ড. মঙ জার্ণির বিশ্বব্যাপী অগণিত উপস্থাপনা অনুযায়ী, নিকটবর্তী চট্টগ্রাম এলাকার বাংলাভাষীদের সঙ্গে ভাষাগত মিলের সূত্র ধরে রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা আসলে গোয়েবলসের পূনপুন মিথ্যা উচ্চারণের মাধ্যমে সেটি সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার সফল এক মিয়ানমার সরকারি অপচেষ্টা। গণহত্যার চার চারটি সূত্র ভয়ানকভাবে প্রমাণিত, নির্মূল লক্ষ্যে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞটি মিয়ানমার সরকার কর্তৃক ঘটমান ভয়াবহ এক গণহত্যা ছাড়া আর কিছুই নয়।

দুঃখজনক আরও এই যে, নোবেলজয়ী অং সান সু চি গণহত্যার সত্যটি বারবার অস্বীকার করে নোবেলকে নয়া ঔপনিবেশবাদের এক হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছেন। সারাবিশ্বের মানুষ এ নিয়ে হতাশ হলেও রাষ্ট্রপক্ষ নীরব বা কখনও এমনকি সরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল মিয়ানমার সরকার এবং নির্লিপ্ত সু চিকে। সবার আগে নৈর্ব্যাক্তিকভাবে সত্যের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়া বক্তব্যে সোচ্চার হয়েছেন কানাডার রাষ্ট্রপ্রধান জাস্টিন ট্রুডো। বাংলাদেশ সরকারের কুটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং কফি আনান কমিশনের প্রস্তাবনার জের ধরে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজনমত একটু একটু করে নড়তে শুরু করেছে।

তবু প্রশ্ন থেকে যায় অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থের বিবেচনা পাশ কাটিয়ে মানবতার স্বার্থ বিবেচনা করবার মতোন সত্য অবস্থানে আসতে পারবে কি বিশ্বনেতৃত্ব? বাংলাদেশের কুটনৈতিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা এক্ষেত্রে সম্ভবত খোদ রোহিঙ্গাদের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। আর তাতে সফল হলে এদেশের জন্য দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং জ্বলন্ত এক সমস্যার সমাধানও সম্ভব হয়ে উঠবে। এ লক্ষ্যে কুটনৈতিক মঞ্চকে সচলতর, সক্রিয়তর করা সময়ের সবচেয়ে জোর দাবি।

সরকার সুস্পষ্ট বক্তব্য রেখে গত দুদিনে দেশে ও বিদেশে নিজেদের অবস্থান এবং ভাবমুর্তি যতটা স্পষ্ট করেছে ততটাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, বিশাল শরণার্থী এলাকা বরাদ্দ, মানবাধিকারের প্রশ্নে মানবতার ঝাণ্ডা তুলে ধরবার মানসিকতা প্রসংশিত হচ্ছে। পাশাপাশি আপামর জনতার সোৎসাহ মানবিক সাহায্যের হাত অগণিত মানুষের খাদ্য ও বস্ত্রের সংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাসস্থানের ব্যবস্থাকল্পে সরকারের জায়গা ব্যবস্থা করবার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি ব্যক্তি ও সামাজিক কল্যাণ উদ্যোগগুলো তাঁবু ও অন্যান্য অস্থায়ী আয়োজন এবং পয়নিষ্কাশন ব্যবস্তা স্থাপনে উদ্যোগ নিয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে।

কিন্তু তিন লক্ষ সহায়সম্বলহীন আশি ভাগ নারী ও শিশুর পরিসংখ্যান মিললে সঙ্কটের গায়ে আরও কিছু শঙ্কা জুড়ে যায়। সেটা সামাল দেওয়া, বায়োমেট্রিক উদ্যোগের নগন্য সাফল্যকে দ্রুত পুর্ণাঙ্গ সম্পন্নতায় পৌঁছে দেওয়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ। ত্রাণ ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা একটা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অধীনে এনে সুযোগসন্ধানী লোকদের আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বড় তহবিল আসার আগেই সামলে না নিলে ফলাফল বাংলাদেশকে আরও বিবিধ জটিল সমস্যার মুখোমুখি করবে তাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নেই। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য দ্রুততর সময়ের ভিতর উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

কল্যাণমুখী উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় মানবতা রক্ষার পাশাপাশি সঙ্কট মোচনের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করতে হবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উদ্বাস্তু প্রশ্নে যা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। কারণ এমন দৃততার সঙ্গে মানবতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার নজির বড় ও শক্তিমান রাষ্ট্রগুলোও অতীতে দেখাতে সমর্থ হয়নি। এর পিঠে জোর আশাবাদের সঙ্গে নেতিবাচক সম্ভাব্য পথগুলো রুদ্ধ করবার জন্য সরকার ও জনগণ হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করলে দেশ ও নেতৃত্বের জন্য সমস্যাসঙ্কুল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পাশাপাশি আশীষও জুটবে বলে বিশ্বাস।

লুৎফুল হোসেন

১৪ Responses -- “মিয়ানমারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উৎপাদিত সমস্যা ও বাংলাদেশের দায়”

  1. বাপ্পা

    ইউ‌রোপ আমে‌রিকা ও জা‌তিসংঘ রো‌হিংগা‌দের জন্য লোক‌দেখা‌নো মায়াকান্না কর‌ছে।কারণ এই অবর্ণণীয় দুঃসহ প‌রি‌স্থি‌তির জন্য প‌শ্চিমারাই দায়ী।ওরা ত‌লে ত‌লে সূ‌চি‌রে সা‌পোর্ট কর‌তে‌ছে আর ভাব দেখাইতা‌ছে ওরা মানবতার জন্য কত দরদী!কারণ ও‌দের সা‌পোর্ট না থাক‌লে বার্মার মত একটা নপুংসক রাষ্ট্র কখ‌নোই রো‌হিংগা‌দের বিরূ‌দ্ধে এরকম দুঃসহ আচরণ করার সাহস পেত না।

    Reply
  2. সেবাব নেওয়াজ

    আই এস নাকি ভয়ঙ্কর, তাই আই এসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিশ্বের সবাই এক জোট হয়েছে। কিন্তু বার্মার এই পশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিশ্বের মানুষের বিবেক কি একবারও নাড়া দেয় না। তাহলে বিশ্বে যারা শান্তির কথা বলে তারা কি চায়?

    Reply
  3. সাঈফ রফিক

    আসুন দেখি বৌদ্ধ ধর্ম প্রাণী হত্যা সম্পর্কে কি বলে, প্রথম ব্রতটি এরূপ: আমি সকল সূক্ষ্ম বা স্থূল, জড় বা অজড় জীবন্তসত্তা হত্যা করা পরিত্যাগ করবো। কিংবা আমি নিজে জীবন্তসত্তা হত্যা করবো না।আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন এসব পাপ কাজের কথা স্বীকার করছি। এ জন্য নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করছি। অনুশোচনা করছি। আমি মানসিক, দৈহিক এবং বাক্য- এই তিন উপায়ে এসব পাপ কাজ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখবো।হত্যা করা থেকে শুধু বিরত থাকাই নয়, সকল জীবন্ত সত্তাকে ভালোবাসা।বৌদ্ধধর্মের পাঁচটি অনুশাসনের মধ্যে একটি হচ্ছে অহিংসা যা পঞ্চশীল নামে পরিচিত। অনুশাসনের ব্রতটি হচ্ছে, সকল জীবন্তসত্তার ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকার অনুশীলন নীতি গ্রহণ।গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে বৌদ্ধধর্মে অহিংসা বলতে শুধু জীবন্ত সত্তাকে হত্যা করা বা ক্ষতি করা নয়। জীবন্তসত্তাকে ক্ষতি করার ইচ্ছাপোষণ করা বা এরূপ উদ্দেশ্য থাকা প্রাণহরণের মতোই পাপকাজ।”এই হল বৌদ্ধদের মূল নীতি।কিন্ত এই বৌদ্ধরাই রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ,দুধের বাচ্চাদেরকে যেভাবে কেটেকুটে কুচিকুচি করে পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে তা দেখে মনে হচ্ছে খুনখারাবিই তাদের ধর্মের প্রথমও প্রধান ব্রত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বৌদ্ধদের মত নৃশংস দয়ামায়াহীন কসাই জাতি এই গ্রহে আর দ্বিতীয়টি নেই।

    Reply
  4. আলম ইবনে সাজিদ

    মুসলিম ট্যাররিষ্ট এমনিতেই তৈরি হয়না। পরিবারের সদস্য হারানো প্রত্যেক রোহিঙ্গা মিয়ানমার এবং হত্যা, নিধন বন্ধে কার্যকারী পদক্ষেপের বিপরীতে এদের প্রতি সমর্থনকারী প্রত্যেক দেশের জন্য একদিন আত্নঘাতী হয়ে উঠবে বলে আমার ধারনা। যেভাবে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ধ্বংস ও এদের বাসিন্দাদের করুণ, জর্জরিত জীবনের জন্য দায়ী ইউরোপ, আমেরিকায় প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে।

    Reply
  5. শাহ আলম

    প্রথমে প্রতিবাদ, এখন তীব্র প্রতিবাদ! এরপর জোড়ালো তীব্র প্রতিবাদ, তারপর মারাত্মক তীব্র প্রতিবাদ,………….. এভাবে বাংলাদেশ মহা তীব্র প্রতিবাদী এক রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে!!! যা বিশ্ববাসীর কাছে তীব্র প্রশংসিত হতে যাচ্ছে!! এর জন্য বাংলাদেশ সরকার কে নোবেল পুরষ্কার দেওয়ার জন্য তীব্র অগ্রিম দাবি জানাচ্ছি!!!! ।ভাগ্যিস বাংলাদেশ সাবমেরিন কিনে নিজেদের সামরিক শক্তি একটু বাড়িয়ে নিয়েছে,এই জন্য মিয়ানমার শুধু সীমানা ঘেষে বারবার চলে যাচ্ছে। তানাহলে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে রোহিঙ্গাদের মারত।আর বাংলাদেশ আবার কূটনীতিক ডেকে পাঠাত।

    Reply
  6. শাহ আলম

    বাংলাদেশ প্রতিবাদ করা ছাড়া যুদ্ধে যাবার মতো অর্থ ব্যাংকে জমা নেই,যা ছিলো সব চোরে চুরি করে নিয়েগেছে। নেই নিজেদের তৈরি কোন যুদ্ধাস্ত্র,বন্ধুদের দেওয়া পুরাতন অস্ত্র নিয়ে লড়তে গেলে ভয় আছে।

    যেদেশে নতজানু সরকার থাকে সেদেশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের আখড়াই পরিণত হবার সম্ভাবনা থাকে। বর্তমান সরকার অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল হওয়ায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর বারবার আঘাত আসা সত্বেও ব্যবস্থা নিতে পারছেনা। এ সরকার দেশের বিরোধীদল কে দমন করতে বিজিবি কে বিচি শূন্য করে দিয়েছে। যার কারণে বিজিবি সীমান্তে শুধু মার খায়, মার দিতে পারেনা।

    Reply
  7. শাহ আলম

    মায়ানমারের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার আর ড্রোন ১৮ বার বাংলাদেশের সীমানা লংঘন করে ঢুকে পড়েছিলো। যুদ্ধে লিপ্ত হবার পরিষ্কার আহবান।

    কিন্তু ওরা জানে না, কার সাথে ওরা যুদ্ধ করতে নামছে। সেই ২০১৩ থেকে যুদ্ধের অপেক্ষায় থাকা… ওরা সেই দুর্ধর্ষ বিরিয়ানী যোদ্ধাদের নাম শোনেনি…. যেই যোদ্ধাদের শুধু চারস্তরের নিরাপত্তা আর ফ্রি বিরিয়ানীর সাথে ফ্রি ওয়াইফাই কানেকশন দিয়েই দেখুন – আমেরিকান সীল কানে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। ওরা প্রফেসর জেডবালের ড্রোনের নাম শোনেনি, যে ড্রোন পুরো মায়ানমারের সামরিক জান্তাকে সকালবিকাল চেতনার সমুদ্রে চুবিয়ে মারবে। ওরা ভয়ংকর ধর্ষকলীগ-যোদ্ধালীগের নাম শোনেনি, শিশ্নাস্ত্র দিয়ে মায়ানমার কাবু করে দেবে। ওদের নেই মোটিভেশন… ওদের নেই শাহরিয়ার কবির… ওদের নেই ফেসবুক সেলেব্রিটি… ওদের নেই ৭১ টিভি… ওদের নেই হাজার বছরের ইতিহাস….

    ওরা কোন সাহসে যুদ্ধ করতে চায়?

    Reply
  8. প্রকাশ

    গত ২০ বছরে আমাদের জাতিগত অর্জন হলো: আমরা এভারেস্ট জয় করেছি, এভারেস্টে বাঙালি মেয়েও চড়িয়েছি, আমরা সমুদ্রজয় করেছি, আমরা ক্রিকেট বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গিয়ে সাউথ-সাউথ পুরস্কার, উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম জাতীয় আরও কিছু পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন, আমাদের সিনেমা কান ফেস্টিভালে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
    #আর_বার্মাকে দেখুন। ওদের কেউ এভারেস্টে চড়েনি, ওদের ক্রিকেট বলে কিছু নেই, ফুটবলেও ওরা যা-তা, ওদের সিনেমারও কোনো খবর শুনিনি কখনো।
    কিন্তু ওরা রাশিয়ার সহযোগিতায় পারমাণবিক চুল্লি বানাচ্ছে, রাসায়নিক অস্ত্র ইতিমধ্যে হয়তো মজুত করে রেখেছে, ওদের সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক অস্ত্র, বিমান, ড্রোন সবই আছে।
    আপনি-আমি বিপুল বিক্রমে হাবিব-অমিতাভ রেজা-মেহজাবিনের পিছনে দৌড়েছি, ওদিকে বার্মিজরা আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্রেরজন্য রাশিয়া-ব্রিটেনের পিছনে দৌড়েছে।
    আমরা যখন তামিম-সাকিবের সেঞ্চুরির জন্য মোনাজাত ধরেছিলাম, তখন বার্মিজরা উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর টিপস নিচ্ছিল।
    আমাদের সেনাবাহিনীকে যখন আমরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে উচ্চবেতনের ভাড়াটে সৈন্য বানাচ্ছিলাম, তখন বার্মিজ সেনাবাহিনী চীনের কাছ থেকে উচ্চতর যুদ্ধ কৌশলের ট্রেনিং নিচ্ছিল। এখন তাই বার্মিজরা বারবার আমাদের আকাশসীমায় আসবে – এটাই স্বাভাবিক। বারেবারে এইরকম লাত্থি খাওয়ার জন্য রেডি হও, বীর বাঙালি। তোমার সাকিব-জেমস-ফারুকী-মাহি কিংবা তোমার ডলারের গোলাম সেনাপতিরা তোমাকে এখন বাঁচাতে আসবে না।

    Reply
  9. নাজমুল হোসাইন

    প্রত্যেক মানব সন্তানকে স্রস্টা বিবেক, বুদ্ধি দিয়ে পাঠিয়েছেন। মানুষের বিবেক, বুদ্ধি, বিবেচনা আছে বলেই সৃষ্টির সেরা। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতার চরম উৎকর্ষের এযুগে মায়ানমারের সরকার, সেনাবাহিনী, আর সাধারণ মানুষ নিষ্ঠুরতার যে পরিচয় পৃথিবীর মানুষকে দেখিয়েছে এরকম আদম সৃষ্টির পর কেউ/ কোনো সরকার/ সেনাবাহিনী / কোনো জাতি করেছে বলে আমার জানা নেই। ইতিহাসের কোনো ছাত্র যদি তার স্টাডি থাকে তাহলে আমি তার কাছ থেকে জানতে আগ্রহী।
    এরচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো-
    জাতিসংঘ, আমেরিকাসহ বিশ্বমুড়লদের নিরবতা!

    Reply
  10. E A Bari

    শ্রদ্ধেয় লুৎফুল হোসেন সাহেব সুন্দর একটি লেখা উপহার দিয়েছেন। বেশ তথ্যনির্ভর ও বাস্তবধর্মী লেখা বটে। তবে- একটা ব্যাপার আমাদের ভাবতে হবে। মিয়ানমারের ‘মগরা’ পশুদের মতো যে হত্যাজজ্ঞ চালাচ্ছে তা শুধুমাত্র কূটেনীতিকভাবে প্রতিহত করা যাবে- তা কিন্তু বাস্তববিরোধী কথা। একই সময় আরাকানের মুসলিম রোহিঙ্গোদেরকে দেশ থেকে বিতাড়নের ব্যাপারে তারা যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তা-তো অস্বীকার করার উপায় নেই। সুতরাং আমার মতে কূনীতিক চেষ্টা ও জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি মিয়ানমারের মিলিটারী ও স্বশস্ত্র বিদ্রোহী যোদ্ধামুক্ত নিরাপদ এলাকা আরাকানে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের নাগরিক আরাকানবাসীদেরকে নিয়ে যেতে হবে। সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নিরাপদ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে দায়িত্ব নিতে হবে মিলিটারী ফোর্স মোতায়েন করে। এটাই হবে আপাতত স্বল্পমেয়াদী সমাধান। জাতিসংঘের নেতৃত্বে এরপর রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থ -সামাজিক সুযোগ-সুবিধাসহ স্থায়ী বাসস্থান গড়ে তুলতে হবে মিয়ানমারে- মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কার্যকর ডায়লগের মাধ্যমে। আর এর কাজ তো ইতোমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে কফি আনন কমিশন দ্বারা।
    আরেকটি কথা না বললে নেই। এরূপ জাতীয় একটি মহাসঙ্কটের সময়ও আমরা বাংলাদেশী বাঙালিদের অনেকেই নিছক রাজনীতি ও ঘৃণা-পছন্দকে আসল সমস্যা ও তত্ত্ব -উপাত্তের ওপর অগ্রাধিকার দেই এবং বিরূপ, স্ব-বিরোধী, আত্মঘাতী মন্তব্য দিয়ে বসি! দেশের বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে [তিনি যদি বিএনপিরও হতেন] এই জাতীয় সঙ্কটমুহূর্তে সমর্থন দেওয়া উচিৎ। এতে এই সমস্যা মুকাবিলা অনেকটা সহজ যে হবে শুধু তা না- বহির্বিশ্বেও জাতি হিসাবে আমাদের সুনাম হবে নিশ্চয়ই। সুতরাং, অনুরোধ থাকলো, যারা বর্তনাম সরকারের প্রতি নাখোশ তারাও এই মুহূর্তে বিরূপ মন্তব্য না করে সমর্থন ও পরামর্শমূলক কথা বলুন ও লিখুন। সবাইকে ধন্যবাদ।

    Reply
  11. বেলায়েত হোসেন

    এই শতাব্দীর সেরা কথা বলে দিলেন স্বনামধন্য পোপ।
    সত্যি বলতে উনি হলেন মহান মানব, তাই মহা সত্যি কথা টি খুব সহজে বলে দিলেন।
    পোপ ফ্রান্সিস বললেন এই বিশ্বের মুসলিম দুই প্রকারের যুদ্ধ করছে। প্রথম যুদ্ধ নিজেদের পিড়ীত প্রমাণ করার, দ্বিতীয় যুদ্ধ বিচার পাওয়ার। প্রথম যুদ্ধে তারা কিছু হলেও এগিয়ে যায়, কিন্তু দ্বিতীয় যুদ্ধে আজ পর্যন্ত তারা সাফল্য লাভ করতে পারেনি। ফিলিস্তীন, মায়নামার, সিরিয়া, ইরাকে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে, অথচ আশ্চর্যের বিষয় উল্টে মুসলিমদেরই সন্ত্রাসবাদী বলা হচ্ছে। আজ নিজেদের ভুলের কারণে আমাদের মার খেতে হচ্ছে।। সৌদি আরবের মত দেশ যদি শত্রুদের সাথে হাত মিলায়।

    Reply
  12. ভবঘুরে পথিক

    জননেত্রী শেখ হাসিনা যে কারনে ফিরে আসবেন খালি হাতে
    মরমী সাধক ফকির লালন শাহ বলেছেন বাড়ীর পাশে আরশি নগর। ভৌগলিকভাবে ভারত আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য ভিন্ন অর্থ। তিনি সেখানে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আশ্রিত ছিলেন। সেই ভারত, চীন এবং রাশিয়া ছাড়া মিয়ানমার সমস্যা সমাধান হবে না। তাদের সাথে তেমন কোন ক্ষেত্র তৈরী না করে চলে গেলেন জাতিসংঘে? ওহ, উনিতো ইন্ডিয়া চায়না রাশিয়ার মত বলেছিলেন এটা মিয়ানমারের আভ্যন্তরীন ব্যাপার। গতবারতো ওদেকে মত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। এবারতো পারেন নি। বাংলার জনগনের ভ্রাতৃসুলভ মন মানষিকতার কাছে তাকে হারতেই হলো। সেই পরাজয়ের গ্লানি থেকে মুক্তির জন্যই কি তাহলে কুমিরের সাথে বন্ধুত্ব না করেই কি জল আনতে গেলেন? বিএনপিসহ কিছু নেতৃবৃন্দ যে বলছেন লোক দেখানো তা হলে কি এটা লোক দেখানো?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—