Rohingya - 777

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

মাননীয় স্পিকার,

আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করছি এবং মাননীয় সংসদ সদস্য এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দিপু মনি যে প্রস্তাবটি এখানে উত্থাপন করেছেন আমি তার প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে এটুকু বলব যে, আমাদের বাংলাদেশে আমাদের প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার থেকে প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ আজ আশ্রয় নিয়েছে। এখানে আসতে বাধ্য হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কারণ একটি দেশের নাগরিক, তাদের উপর অমানবিক অত্যাচারের যে সমস্ত চিত্র আমরা দেখলাম তা নিন্দা করবার ভাষা আমি পাচ্ছি না।

রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারেরই নাগরিক এটা তো সকলেরই জানা। ১৯৫৪ সালে বার্মা অর্থাৎ বর্তমান মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী উ-নু রোহিঙ্গাদের অন্যান্য যে জাতিগোষ্ঠী আছে, যেমন–, কাটিন, কাইয়া, মুন, রাখাইন, সান– এ ধরনের আরও বিভিন্ন প্রায় একশ পঁয়তাল্লিশটির মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি আছে– তাদের সকলের সঙ্গেই সমান অধিকার এই রোহিঙ্গাদের আছে– সে কথা তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং রেডিওতে তা প্রচার করা হয়েছিল। কাজেই যে অধিকার তারা একবার দিয়েছিল এবং তাদের ভোটের অধিকার ছিল, সব কিছুই ছিল– কিন্তু সেখানে দেখা গেল যে, ১৯৭৪ সালে এই বার্মা, বর্তমান মিয়ানমারের মিলিটারি জান্তা এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। আমরা লক্ষ্য করলাম যে, ১৯৭৮ সালে এ রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন করা শুরু করেছিল।

এরপর তারা ১৯৮২ সালে যে ‘সিটিজেন আইন’ করে, সে আইনে একটা চার স্তরবিশিষ্ট সিটিজেনশিপ প্রয়োগ করে। এটা করার উদ্দেশ্যই ছিল এদের অধিকারটা কেড়ে নেওয়া। আর ২০১৫ সালে এসে এই রোহিঙ্গাদের সমস্ত ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়। এভাবে একটা জাতির প্রতি এই ধরনের আচরণ মিয়ানমার সরকার কেন করছে, এটা সত্যিই আমাদের বোধগম্য নয়।

আমরা বারবার এটার প্রতিবাদ করেছি এবং বিশেষ করে ’৭৮ সালে একদফা এই রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়। এরপর ১৯৮১-৮২ সালে, এরপর ১৯৯১-৯২ সালে।

মাননীয় স্পিকার,

ইতোমধ্যে আপনি আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে শুনেছেন যে, তখন মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটা কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং একটা সমঝোতা স্মারক হয়। যার ফলে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা তাদের নিজের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করে। তখন এই আড়াই লাখ রোহিঙ্গাকে তারা ফেরত নিয়ে গেল। ১৯৭৮ সালে যারা এসেছিল তারাও সকলে চলে গেল। ১৯৮১-৮২ সালে যারা এসেছিল তাদেরও ফেরত নেওয়া হল। ১৯৯১-৯২ সালে যারা এসেছিল তাদেরও ফেরত নেওয়া হল।

কিন্তু সেখানে কিছু রোহিঙ্গা থেকে গেল। সেখানে সেই সময়ে রেজিস্টার্ড প্রায় ২৫ হাজারের মতো ছিল আর আন-রেজিস্টার্ড বেশকিছু তারা থেকে গিয়েছিল। তাদের আর ফেরত নেওয়া হল না। সেখানেই একটা বাধা পড়ল। আমরা বারবার এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বলেছি যে, তাদের নাগরিকদের তাদের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। আমি যতবার মিয়ানমার গিয়েছি– সেখানে সেই সময়ে– মিয়ানমারে তখনও গণতন্ত্র ফিরে আসেনি– সেখানে মিলিটারি শাসকেরাও ছিল। তাদের আমরা অনুরোধ করেছিলাম যে, এরা আপনাদেরই নাগরিক, আপনারা তাদের ফেরত নিয়ে যান, এরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এরপরে যখন গণতন্ত্র ফিরে এল, অং সান সু চি হচ্ছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আমার বিভিন্ন সময়ে দেখা হয়েছে। যখনই দেখা হয়েছে তাঁকেও আমরা এই অনুরোধটা করেছি যে, যারা এখন আমাদের দেশে আছে তাদের ফিরিয়ে নাও। কিন্তু ফিরিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা, আমরা দেখলাম এরপরে আবার সেই ২০১২ সালে একদফা আবার এই রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হল। কারণ তাদের উপর একটা অমানবিক অত্যাচার শুরু হল।

এরপর ২০১৫-১৬ সালে, আবার এই ২০১৭ সালে এখন ব্যাপক হারে এসেছে। এই ঘটনার সূত্রপাতটা আমরা যেটা দেখি– ওখানে কোনো একটা গোষ্ঠী আছে, তারা মিলিটারির উপর হামলা করেছে। মিয়ানমারের যে বর্ডার ফোর্স– তাদের উপর হামলা করে বেশ কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করে। ২০১২ সালে একবার এই ঘটনা ঘটায়। তখনই সাধারণ নাগরিকের উপর অত্যাচার শুরু হয়।

আবার ২০১৬ সালে এবং ১৯১৭ সালে ঠিক একই ঘটনা ঘটানো হল। সেখানে অনেকগুলি বর্ডার ফোর্সের সদস্যদের, বর্ডার পুলিশকে হত্যা করেছে। আর্মির উপরে তারা আক্রমণ করেছে। যার ফলাফলটা হল যে, সাধারণ নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার, নির্যাতন শুরু হল। এই নির্যাতন এমন পর্যায়ে এখন গেছে যে, যেটা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।

যখন মানুষ আসতে শুরু করেছে আমরা দেখেছি নারী, শিশুই বেশি। নৌকাডুবি হয়ে সেখানে শিশুর লাশ নাফ নদীতে ভাসছে। এমনকি গুলি খাওয়া, মাথায় এবং বুকে গুলি খাওয়া লাশ নদীতে অথবা সাগরে ভেসে ভেসে সেই লাশ চলে আসছে। সেখানে আগুন দিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের উপর পাশবিক অত্যাচার করা হচ্ছে।

 

Rohingya - 666
সেখানে আগুন দিয়ে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, মেয়েদের উপর পাশবিক অত্যাচার করা হচ্ছে

 

মাননীয় স্পিকার,

এই দৃশ্য দেখা যায় না! আমরা তো মানুষ! আমাদের ভেতরে তো একটা মনুষ্যত্ব আছে। তাদের আমরা নিষেধ করব কীভাবে? কারণ আমাদেরও তো অভিজ্ঞতা আছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঠিক যেভাবে, যে কায়দায় আমাদের উপর অত্যাচার শুরু করেছিল– অগ্নিসংযোগ করা, মেয়েদের রেপ করা, মানুষকে হত্যা করা এবং ছোট্ট শিশুকে হত্যা করা– ঠিক সেই ঘটনার সেই দৃশ্যগুলি যেন আবার চোখের সামনে ভেসে আসছে। আর এরা জীবনের ভয়ে পালিয়ে আসছে।

আমাদের জন্য এটা কঠিন যে, এতগুলো মানুষকে এখানে রাখা, তাদের আশ্রয় দেওয়া। কিন্তু এরা তো মানবজাতি। আমরা তো ফেলে দিতে পারি না। কারণ আমরা ভুক্তভোগী, আমরা জানি। আমিও রিফিউজি ছিলাম ছয় বছর। ১৯৭৫এ যখন আমার মা-বাবা, ভাই-বোন সকলকে হত্যা করল– আমিও দেশে আসতে পারিনি। কাজেই রিফিউজি হয়ে থাকা– সেটা যে কতটা অবমাননাকর– এই যন্ত্রণা তো আমি আর আমার ছোট বোন রেহানা খুব ভালোভাবে বুঝি। তাই আমরা এদের আশ্রয় দিয়েছি মানবিক কারণে।

কিন্তু আমরা চাই তারা তাদের নিজের ভূমিতে যেন ফিরে যায়। আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয় এই নীতিতে বিশ্বাসী। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে পররাষ্ট্রনীতি দিয়েছেন সেই নীতিমালা অনুসরণ করেই আমরা প্রত্যেক দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। কারও সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক হোক সেটা আমরা চাই না। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়েই থাকতে চাই।

মিয়ানমার সরকারকে আমি এটুকু বলব যে, তাদের নাগরিক, শত শত বছর ধরে তারা বাস করছে, এক সময় তাদের ভোটের অধিকার ছিল, তাদের সবই ছিল– হঠাৎ তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা তাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া বা তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা– এর ফলাফল ঠিক কী দাঁড়াতে পারে সেটা কি তারা চিন্তা করেছে? কেন তারা এ ধরনের কাজ করছে?

মাননীয় স্পিকার,

এটা ঠিক যে, এক সময় আমাদের দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হত প্রতিবেশি দেশে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ইসার্জেস অ্যাক্টিভিটি চালানোর জন্য। আমি যখন থেকে সরকার গঠন করেছি, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে, তখন থেকে আমরা সোজা ঘোষণা দিয়েছি যে, আমাদের এই মাটি আমরা কাউকে ব্যবহার করতে দেব না, কোনো প্রতিবেশি দেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর। সেটা কিন্তু আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছি। এ ধরনের কোনো কিছু আমরা করছি না।

বারবার আমাদের বর্ডার গার্ড এবং মিয়ানমারের বর্ডার পুলিশের মধ্যে সবসময় আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আমরা কথাবার্তা বলছি, আলোচনা করছি। কখনও কোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সেটা জানানো হচ্ছে। যখনই আমাদের কাছে কেউ ধরা পড়ছে, আমরা তাদের হাতে ফেরত দিচ্ছি। আমরা কখনই এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করব না। কারণ আমাদের একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে।

আমাদের দেশেও পার্বত্য চট্টগ্রামে একটা অশান্ত পরিবেশ ছিল। দুই দশক ধরে অর্থাৎ সেই ১৯৭৬ সাল থেকে এই সমস্যাটা সৃষ্টি হয় এবং সেটা অব্যাহত ছিল। ১৯৯৬ সালে যখন আমরা সরকার গঠন করি, তখন পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা শান্তি চুক্তি করি। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই অশান্ত পরিবেশ মোকাবিলা করার জন্য এখানে সামরিক কায়দায় এটাকে সমাধানের চেষ্টা করা হত। যখন আমাদের দেশে যে সামরিক জান্তারা ক্ষমতায় ছিল তারা ঐ পথ অনুসরণ করত।

আমি ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসে ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, এটা সামরিকভাবে সমাধান করার যোগ্য নয়। এটা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে ছোট্ট একটা সেল গঠন করি এবং সঙ্গে সঙ্গে জানার চেষ্টা করি। যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করি, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পার্লামেন্টের একটা কমিটি করে আমরা এটা সমাধান করি। আমরা শান্তি চুক্তি করি এবং বাংলাদেশের যারা নাগরিক ভারতে রিফিউজি হিসেবে ছিল তাদের সকলকে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করি। কারণ আমি মনে করি, যারা আমার দেশের নাগরিক, তারা অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে থাকা– এটা আমার দেশের জন্য মোটেই সম্মানজনক নয়। কারণ আমাদের নাগরিক আমাদের দেশেই থাকবে। অন্য দেশে তারা কেন থাকবে? তাই তাদের আমরা ফিরিয়ে এনেছি।

আমি এ কথাটা বারবার মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যখনই আমার কথা হয়েছে তখনই বলেছি। এমনকি এদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা এটাও বলেছি যে, আমরা আমাদের বহু গৃহহারা মানুষ, নদীভাঙ্গা মানুষ, ভূমিহীন মানুষ তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে থাকি। কাজেই আমরা এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করতে পারি। আমাদের অভিজ্ঞতা তারা যাতে কাজে লাগাতে পারে, সে ব্যবস্থা আমরা করে দেব। কিন্তু তারা যেন তাদের লোকগুলো ফেরত নিয়ে যায়।

মাননীয় স্পিকার,

আপনি শুনেছেন, আমাদের পররাষ্ট্র সচিব বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেখানে গেছেন। আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেছেন, আলোচনা করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, তারা ফেরত নেওয়া তো দূরের কথা, এমন একটা অবস্থার সৃষ্টি করল যে, আজকে সমস্ত বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে– যখন দেখা যাচ্ছে যে, এভাবে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে এবং তাদের উপর অমানবিক অত্যাচার করা হচ্ছে।

আমি ঠিক জানি না। বিশ্বব্যাপী আমি যদি তাকাই আমার খুব কষ্ট হয়। সমস্ত বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের উপরে আক্রমণ করার একটা মানসিকতা দেখতে পাচ্ছি। মুসলমানরা এসব রিফিউজি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে সেখানে। আমরা যেমন আইলানের লাশ দেখেছি সাগরপাড়ে ঠিক তেমনি নাফ নদীতে দেখি শিশুদের লাশ। কেন?

আমাদের আর একটা দুর্ভাগ্য হল যে, আমাদের সমস্ত মুসলিম দেশগুলো বা মুসলিম উম্মাহ যদি এটা অনুভব করতে পারত আর সবাই যদি ঐকমত্যে থাকতে পারত, তাহলে মুসলমানদের উপর এই অত্যাচারটা কেউ করতে পারত না। আমি বারবার ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেলকে বলেছি। যখন সম্মেলন হয়েছে তখনও বলেছি। আমি বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে যখন কথা বলেছি তখনও বলেছি যে, কোনো রকম সমস্যা থাকলে আমরা আলোচনা করি, আমরা সমাধান করি। কিন্তু আমরা অন্যের হাতের খেলার পুতুল কেন হব?

কিন্তু দুর্ভাগ্য, এটা আমি দেখতে পাচ্ছি বিশ্বব্যাপী এরকমই একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এখানে কে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এটা কোনো কথা নয়। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখি এবং মানবিকভাবে তাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। কারণ এখানে শুধু মুসলমান না, বেশ কিছু হিন্দুও নির্যাতিত হয়ে এসেছে। আজকে আমরা যখন দেখি ঐ লাশের ছবি, আজকে সত্যিই বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

 

Rohingya - 555
আমাদের অভিজ্ঞতা তারা যাতে কাজে লাগাতে পারে, সে ব্যবস্থা আমরা করে দেব, কিন্তু তারা যেন তাদের লোকগুলো ফেরত নিয়ে যায়

 

এখানে অনেকেই অং সান সুচির ব্যাপারে তুলেছেন কথা। আপনারা জানেন যে, মিয়ানমারে দীর্ঘদিন মিলিটারি ডিকটেরশিপ চলেছে। কেবল গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু। কিন্তু সেখানেও আইন করে অং সান সুচিকে কিন্তু মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি হতে দেয়নি বা সরকারপ্রধান হতে দেয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে। কাজেই তাঁর ক্ষমতাই-বা কতটুকু আছে, সেটাও আপনাদের একটু বিবেচনা করতে হবে। নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে পার্লামেন্টে, সেখানেও কিন্তু তাদের সংখ্যাধিক্য বেশি। মিলিটারি প্রতিনিধির সংখ্যা বেশি। পলিসি মেকিংয়ে তারা যেটা বলবে, সেটাই। কাজেই এখানে যেটা দেখা যাচ্ছে যে, তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে। তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করছে। কেন তারা এটা করছে? সেটাই হল আমাদের প্রশ্ন।

আজকে আমরা মানবিক কারণে তাদের জায়গা দিচ্ছি। আমাদের সমস্যা যে, এত লোক এখানে এসে গেছে– ছোট ছোট শিশুরা, নারীরা– এদের আমরা কোথায় ঠাঁই দেব? আজকে আমরা তাদের জায়গা দিচ্ছি। কারণ আমরা তো অমানুষ হতে পারি না। আমরা অমানবিক আচরণ করতে পারি না। কিন্তু মিয়ানমারকে এটা স্পষ্টভাবে মানতে হবে যে, তাদেরই নাগরিক– আইন করে যেভাবেই হোক তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারবে না।

মিয়ানমারের এক জেনারেল সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন, এরা সবাই বাঙালি। বাঙালি তো শুধু বাংলাদেশে নাই, বাঙালি তো পশ্চিমবঙ্গেও আছে। বাঙালিও পৃথিবীর বহু দেশেই আছে। বাঙালি বলেই তাদের তাড়িয়ে দেবে, এটা কেমন কথা? তাদের ভাষা, সব কিছু তো আলাদা– তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ আলাদা– সবই তো বার্মিজ, মিয়ানমারেরই। তো তাদের আবার কালার দেওয়া হবে কেন?

আর মানুষ কখনও এদিকে আসে, ওদিকে যায়, এরকম তো যাতায়াত করতেই থাকে– যুগ যুগ ধরে হয়েছে। কিন্তু এত শত শত বছর ধরে মিয়ানমারেই থেকেছে, ওখানে তাদের আদি নিবাস। তাহলে তাদের কেন এভাবে বিতাড়িত করা হবে? অত্যাচার করা হবে? এভাবে নির্যাতন করা হবে?

সেই সঙ্গে আমি বলব যে, যারা দুইটা পুলিশ মারল, দশটা পুলিশ মারল, কী পাঁচটা মিলিটারি মারল বা একশটা আর্মি লোক মারল– এটা মেরে তারা কী অর্জন করছে? তারা কি এটা বোঝে না যে, তাদের এ সমস্ত কারণে আজকে লক্ষ লক্ষ মানুষ, যারা নিরীহ, তাদের ঘরবাড়ি পুড়ে যাচ্ছে? তারা মৃত্যুবরণ করছে, তাদের উপরে আঘাত করছে, ছোট ছোট শিশুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, তাদেরই মা-বোনদের উপর পাশবিক অত্যাচার হচ্ছে। তাহলে এ অত্যাচারের সুযোগটা এরা কেন সৃষ্টি করে দিচ্ছে? আর এ থেকে তারা কী অর্জন করেছে?

হয়তো যারা এদের অস্ত্র সরবরাহ করছে, তারা লাভবান হচ্ছে। কারণ অস্ত্র বিক্রি করতে পারছে। এদের অর্থ যারা জোগান দিচ্ছে, হয়তো তারা লাভবান হচ্ছে। কিন্তু আজকে তাদের এ সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে আজকে মিয়ানমারের লোকগুলি কষ্ট পাচ্ছে। আজকে তারা গৃহহারা, ঘরবাড়িহারা, মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কাজেই আমি এটা বলব যে, এ সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। মিয়ানমার সরকারকেও আমরা এটাও বলছি যে, আমরা এদের আমরা কোনোমতেই প্রশ্রয় দেব না। আমাদের যে সিদ্ধান্ত, এটা আমরা সব সময় রক্ষা করি। আমরা কখনও প্রশ্রয় দেব না। কিন্তু মিয়ানমারকেও সেরকম ব্যবহার করতে হবে যে, কয়েকটা লোক, যারা অপরাধী তাদের খুঁজে বের করুন। কিন্তু কিছু ঠকবাজদের কথা বলে এরা সাধারণ মানুষকে হত্যা করবে– ছোট ছোট শিশুরা কী অপরাধ করেছে? নারীরা কী অপরাধ করেছে? তাদের উপরে অত্যাচার হবে, এটা আমরা কখনও মানতে পারি না। এটা কিছুতেই মানা যায় না।

কাজেই তাদের এটা বুঝতে হবে। তাদেরই নাগরিক, যারা আজকে বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সকলকে তাদের ফেরত নিতে হবে। সেখানে তাদের প্রত্যাবসনের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা আজকে দেশ ছেড়ে চলে এসেছে,তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে ‘সেফ জোন’ করে তাদের সেখানে রেখে সমস্ত নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি করে দিতে হবে। আর রাখাইন রাজ্য থেকে যাদের বিতাড়িত করেছে, তাদেরও তাদের ফেরত নিতে হবে।

আর কফি আনান যে সুপারিশটা করেছেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এই কফি আনান কমিশন মিয়ানমার সরকারই গঠন করেছে। তারা কফি আনানকে আসতেও দিয়েছে, সেখানে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। তাহলে তাঁর সুপারিশটা তারা গ্রহণ করবে না কেন? আর যদি সেখানে তাদের কোনো আপত্তি থাকে, তারা আলোচনা করতে পারে। আলোচনা করে তারা যেভাবে হোক এ সমস্যাটা সমাধান করুক। আমাদের এখানে যারা আশ্রয় নিয়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে এবং এখন যারা এসেছে, তাদের প্রত্যেক নাগরিককে তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। কারণ এ সমস্যা মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে। এ সমস্যার সমাধানও মিয়ানমারকেই করতে হবে। এটা হল বাস্তবতা।

এখানে যদি কোনো রকম সহযোগিতা লাগে– হ্যাঁ, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে আমরা সে সাহায্য করব। আমি এটুকু বলতে চাই যে, অনেকে আজকে যারা আমাদের এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে– তাদের আমি ধন্যবাদ দিচ্ছি। আমি এটুকু বলব যে, এরা আজকে কষ্ট করে আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে, এদের এ দুর্ভোগ্যের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন একদিকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা না করেন। আর কেউ কেউ এখান থেকে নিজেদের ভাগ্য গড়ার জন্য চেষ্টা যেন না করে। আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা যেন না করে।

ষোল কোটি মানুষকে আমরা খাবার দিই– তার সঙ্গে আরও এরকম দু-চার/পাঁচ লাখ লোককে খাবার দেওয়ার মতো সে শক্তি বাংলাদেশের আছে। এটুকু আমি অন্তত বলতে পারি। আমাদের সাধ্যমতো আমরা সে চেষ্টা করে যাব। হ্যাঁ, তারপরে যারা যারা সাহায্য দেবেন– ইতোমধ্যে আমাদের কমিটি করা আছে– সে কমিটির মাধ্যম এটা দিতে হবে। আমাদের প্রত্যেক এলাকায় আমাদের লোক আছে। আর প্রত্যেকে– যারাই ঢুকবে– প্রত্যেকের ছবি তোলা, তাদের নাম, ঠিকানা লেখা এবং তার একটা সম্পূর্ণ হিসেব আমরা ইতোমধ্যে করতে শুরু করেছি।

এর জন্য কোনো প্রকল্প নয়, আমি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল এবং কল্যাণ তহবিল থেকে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি ইতোমধ্যে। এটা করার জন্য যা যা খরচ লাগে, ইতোমধ্যে আমরা দেওয়া শুরু করেছি এগুলোর সমস্ত তালিকা করে। কেউ দুই লাখ বলবেন, কেউ পাঁচ লাখ বলবেন, কেউ দশ লাখ বলবেন। যে যার মতো বলতে থাকবেন, সেটা নয়। সত্যিকার যারা এসেছে তাদের সম্পূর্ণ ছবি থাকবে, তাদের আইডেন্টিটি থাকবে যে, তারা কারা। তাদের আপাতত মানে সাময়িকভাবে একটা আশ্রয়ের ব্যবস্থা, সেটাও আমরা করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি। সেটা আমরা করে দিচ্ছি।

এ ক্ষেত্রে যদি কেউ সহযোগিতা করেন নিশ্চয়ই আমরা সেটা নেব। কিন্তু আবার এদের এ দুর্দশা মুলধন করে কেউ কারও ভাগ্য গড়বে, সেটা আমরা করতে দিতে চাই না। কেউ যেন এটা নিয়ে রাজনীতি না করে– মানে কোনো সাহায্য নেই, সহযোগিতা নেই– বড় বড় এক একখানা স্টেটমেন্ট দিয়ে আর বড় বড় কথা বলবেন, সেটা কিন্তু হবে না– সেটা আমরা চাই না।

আপনারা জানেন যে, আমি ১৬ তারিখে জাতিসংঘে যাচ্ছি। সেখানে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেব। নিশ্চয়ই আমি আমার বক্তব্যে মিয়ানমারের বিষয়টা তুলে ধরব। আমাদের যারা ওখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা আছেন, যে সমস্ত প্রতিনিধিরা আছেন, তাদের সকলেই এদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাছাড়া প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, আমাদের বর্ডার গার্ড থেকে শুরু করে সকলে এখন সক্রিয় আছেন, সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে আমাদের দলের থেকেও ত্রাণের ব্যবস্থা আমরা করেছি। তারাও কাজ করে যাচ্ছে।

মানবতার খাতিরে আমরা এদের পাশে দাঁড়িয়েছি। এদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কিন্তু এটা সাময়িক ব্যবস্থা। অবশ্যই মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকত্বের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তাদের নিজের ভূমিতে ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকেই, সে কথা বলেই আজকে যে প্রস্তাবটি এসেছে– মাননীয় স্পিকার– সেটা হল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ধর্মীয়, জাতিগত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর অব্যাহত নির্যাতন, নিপীড়ন বন্ধ, তাদের নিজ বাসভূমি থেকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশে ‘পুশ-ইন’ করা থেকে বিরত থাকা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের উপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানানো হোক। সংসদে এই যে প্রস্তাবটি আমাদের ড. দিপু মনি নিয়ে এসেছেন, আমরা এ প্রস্তাবটি সর্বান্তকরণে সমর্থন জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পিকার,

আপনাকে ধন্যবাদ।

[জাতীয় সংসদে ১১সেপ্টেম্বর ২০১৭ রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রদত্ত ভাষণ]

শেখ হাসিনাগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী

২২ Responses -- “রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব দিয়ে নিরাপদে বসবাসের অধিকার দেওয়া হোক”

  1. ভবঘুরে পথিক

    After one year of consultations held across Rakhine State and in other parts of the country and the region, the Advisory Commission submitted its final report to national authorities on 23 August. The report recommends urgent and sustained action on a number of fronts to prevent violence, maintain peace, foster reconciliation and offer a sense of hope to the State’s hard-pressed population.

    The final report of the Advisory Commission chaired by Kofi Annan puts forward recommendations to surmount the political, socio-economic and humanitarian challenges that currently face Rakhine State. It builds on the Commission’s interim report released in March of this year.

    “Unless concerted action – led by the government and aided by all sectors of the government and society – is taken soon, we risk the return of another cycle of violence and radicalisation, which will further deepen the chronic poverty that afflicts Rakhine State”, said Kofi Annan, Chair of the Advisory Commission on Rakhine State.

    The final report addresses in depth a broad range of structural issues that are impediments to the peace and prosperity of Rakhine State. Several recommendations focus specifically on citizenship verification, rights and equality before the law, documentation, the situation of the internally displaced and freedom of movement, which affect the Muslim population disproportionally. An overview of the thematic focus areas of the report and its recommendations can be found below.

    The report is the outcome of over 150 consultations and meetings held by the Advisory Commission since its launch in September 2016. Commission members have travelled extensively throughout Rakhine State, and held meetings in Yangon and Naypyitaw, Indonesia, Thailand, Bangladesh, and Geneva.

    “The Commission has put forward honest and constructive recommendations which we know will create debate,” Commission Chair Kofi Annan said. “However, if adopted and implemented in the spirit in which they were conceived, I firmly believe that our recommendations, along with those of our interim report, can trace a path to lasting peace, development and respect for the rule of law in Rakhine State.”

    With the submission of its final report, the Advisory Commission on Rakhine has completed its mandate. However, the Commission’s report recommends a national mechanism be established to ensure the effective implementation of its recommendations.

    “We propose a ministerial-level appointment to be made with the sole function of coordinating policy on Rakhine State and ensuring the effective implementation of the Rakhine Advisory Commission’s recommendations,” says Commission Chair Kofi Annan. “The appointee should be supported by a permanent and well-staffed secretariat, which will be an integral part of the Central Committee on Implementation of Peace and Development in Rakhine State and support its work.”

    Reply
  2. Nawazeesh Muhammad Ali

    Bangladesh is a small country area is 147570 sq.meteronly with a huge population of more than 16.8 crore and our country has small land..But Myanmar is a big country with area of 676578 square meter with a small population.It is not fair that despite such a large population we are having to keep Rohyinag refugees to our small land.This is not allowed in any country for long time since 1978.However,for 10 months during our independence 1 crore people get shelter at India.Bangladesh Govt. and BGB should strict and not to give entrance of them in the country.Why we are bowing down to Myanmar’s injustice and also global human beings.In Bangladesh overpopulation creates serious problems like unemployment,traffic jams,insufficient health care,food shortage and more.Under Prime minister Sheikh Hasina we are moving forward and we have a good scope on Blue economy.It is also another reason.Maynmar female soldiers violates on male. as well male soldiers violates female.In Rakhain area poverty is 74% while in Myanmar as a whole it is 34%. Unequal distribution of wealth ,prosperity and resources.World leaders should force Myanmar to take back the Rohiynga and prevent their further entry into our sovereign nation at all cost under strategic leader Prime minister Sheikh Hasina. Long live Sheikh Hasina for human dignity and social welfare.

    Reply
  3. Muhamamd Mahboob Ali

    I want to congratulate Sheikh Hasina -our Honourable Prime Minister for her prudent, judicious decision.She is some thing special-she believes in uniqueness,peace and tranquility.For the welfare of human being she tried her best.The way she is trying to solve the issue of Rohiynga -I fully support from the core of the heart.Our Hat’s off to her.She is unique,stable and devoted to peace and tranquility.I hope that our Honourable Prime Minister-Sheikh Hasina will get Nobel prize.Nobel Laureate Aung San Suu Kyi is skipping U.N. Assembly as Pressure Mounts Over Rohingya issue which proves that she should not get Nobel prize.The leader is who gets really effective and efficient under stress can do well.Aung San Suu Kyi doesn’t have that quality but Sheikh Hasiana has that quality as she loves human being.Gen Min Aung Hlaing of Myanmar is one of the architect of bloody genocide and “ETHNIC CLEANSING”. These Rohiynangas are not Bangali rather they are Mog.
    As such he must be trailed under International special tribunal along with Aung San Suu Kyi.Both are criminal -crimes against humanity and engaged in genocide.On the other hand for innovative ideas,to love human being and arranging shelter at Bangladesh-Sheikh Hasina should get noble prize.All rohiyngas who are coming since 1978 should be given identity card as a Rohyingas .Myanmar is the country where at the age of 11 male and female join in the armed force as per ILO.It is reported that not only women are raped by male soldiers and others on the other hand women soldiers are engaged raping male rohiyngays.A true Buddhist cannot do such offense.Now it is high time to take back them in theirown home i.e. Myanmar.
    Special envoy at least similar to the position of Minister should be sent to five main member countries i.e. USA,UK,China,Russia and French.Hope that India will also side with us as Norandra Modi is a good leader.UN Secretary General Antonio Guterres is also trying his best.Kofi Annan, Chair of the Advisory Commission on Rakhine State should be practically
    implemented by Myanmar.

    Reply
  4. প্রতীক বর্ধন

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জাগ্রত কবি মুহিব খানের খোলা চিঠি।

    শ্রদ্ধাভাজন প্রধানমন্ত্রী,

    আসসালামু আলাইকুম।

    নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভুতিশীল হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রেখে তাদের সার্বিক সেবা ও সুরক্ষাও এখন আপনারই মানবিক কর্তব্য। কঠিন কাজ, তবু আপনাকেই করতে হবে, আপনিই পারবেন।
    শুধু তাই নয়, জরুরি অবস্থায় সাময়িক আতিথেয়তার পর তাদেরকে নিজভূমিতে পূণর্বাসিত ও পূণর্প্রতিষ্ঠিত করতে মগের মুল্লুক মিয়ানমারের অত্যাচারী শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাদের মুক্তিসংগ্রামেও আপনাকে পাশে দাঁড়াতে হবে। মুসলিম বিশ্বের সাথে হাত মিলিয়ে হতে হবে তাদের স্বাধীনতার সঙ্গী।
    আপনি বঙ্গবন্ধুকন্যা। আপনার কিংবদন্তী পিতার মতো সাহসী হয়ে উঠুন। নিষ্পেষিত মানবতার পক্ষে রোহিঙ্গাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতায় অবদান রাখুন। সুচি’র শান্তি (!) নোবেল ছিনিয়ে আপনার হাতে তুলে দেবে সভ্য পৃথিবী। তাই যেন হয়।
    অযাচিত যুদ্ধে জড়িয়ে শক্তি ও সৈন্যক্ষয়ের ভয়! ঠিক, আমাদের জানবাজ সামরিক সন্তানদের ব্যাক আপে রিজার্ভ রাখুন।

    আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ। একজন কবিমাত্র। তবে শব্দ-বারুদে আগুন জ্বালাতে পারি বরফখণ্ডেও। সুর-ঝংকারে চেতনা জাগাতে পারি লাশের মিছিলেও।
    ‘আপনি শুধু অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিন, আমি সারাদেশ থেকে একলক্ষ দেশপ্রেমিক বেসামরিক জানবাজ তরুণ যোদ্ধা আপনাকে উপহার দেবো।’

    আল্লাহ আপনার সহায় হোন।
    —————————–
    ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, জুমাবার।

    Reply
  5. মানিক বৈরাগী

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা,
    পরম শ্রদ্ধা ভক্তি ও মুজিবীয় সালাম গ্রহণ করুণ। আমি আপনার রাজনীতির মজলুম নিবেদিত কর্মী হই, আপনি আজ সমুদ্র নন্দিনী নদী মেখলা সবুজে শ্যামলা বিশ্বের অনন্য স্বাস্থকর স্থান কক্সবাজারে আসছেন। আপনাকে এই বারআউলিয়া পূণ্যভূমি দরিয়ানগরের আলোকিত মানুষের পক্ষ থেকে আমার কলব নিংড়ানো ভালোবাসা ও সংগ্রামী অভিবাদন।

    বিশ্ব ভূ-রাজনীতি ও ভূ-প্রাকৃতিক সম্পদ, জল সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বিশ্ব নন্দন রাজ্যে ভূয়শী প্রশংসা অর্জন করেছে। তারই আলোকে আরও একটি মানবিক বিপর্যয় রাষ্ট্রীয় দস্যুতার বিপরীতে, রাষ্ট্র সৃষ্ট রোহিঙ্গা দুর্যোগে আপনার মানবিক হৃদয়ের উদারতার বহিঃপ্রকাশ পূর্বেই পেয়েছি। তারই বাস্তব কর্ম প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ দর্শনের জন্য ককসবাজারে আপনার আগমন।

    মাননীয় নেত্রী,এই আলোকে আপনার আগমনের প্রেক্ষাপটে আমার এই খোলা চিঠি। ১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধে আপনার বাবা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় ২৪ বছর ঠিকানাবিহীন বাঙালি জনগোষ্ঠি অধিকার স্বাধিকার স্বায়ত্বশাসন সর্বোপরি বাঙালির একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের যে ভূমিকা রেখেছেন তার অনন্য স্বীকৃতি স্বরূপ আজকের বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশের তারই কন্যা হিসেবে আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত হিসেবে বিবেচ্য এবং প্রনম্য। মিয়ানমার (বার্মা) প্রেক্ষাপটটি আর ও ভিন্ন তারই একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আপনার সামনে উপস্থিত করতে চাই।

    বিট্রিশ সাম্রাজ্যবাদের কলোনির পূর্বে আরাকান সাম্রাজ্য (বর্তমান রাখাইন প্রদেশ) একটি স্বাধীন সার্বভৌম প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে আলোকিত চিত ছিল। সেই রোহিঙ্গা রাজবংশে ভারত উপমহাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য শিল্পস্রষ্টা কবি সাহিত্যিক সঙ্গীত শিল্পী বুদ্ধিজীবী লালিত পালিত এবং আতিথ্য গ্রহণ করেন। এর মধ্যে আমাদের বাংলা সাহিত্যে মহাকবি আলাওল রোহিঙ্গা রাজসভায় বসে মহাকাব্য পদ্মাবতীসহ বহু কাব্য রচনা করেন। তারই পাশাপাশি দৌলত কাজী, মাগন ঠাকুর, নসরুল্লাহ খন্দকার, আবদুল হাকিম প্রমুখ। জীবিকা নির্বাহের তাড়নায় আকিয়াব শহরে-পাথুরে কিল্লায় ভাগ্যান্বেষণে যান বাংরা সাহিত্যের প্রখ্যা কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তিনি সেখানে বসে শ্রীকান্ত উপন্যাস রচনাকরেন। রোহিঙ্গা রাজসভার রাজার আমন্ত্রণে আতিথ্য গ্রহণ করতে যান বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তিনি সেখান থেকে ফিরে রাজর্ষি উপন্যাস ও দালিয়া ছোটগল্পটি লিখেন। দালিয়া ছোটগল্পকে ‘আরাকানের মহারানী’ নামে নাটকে রুপদান করেন এবং কলকাতা ও লন্ডনে প্রায় শতাধীকবার মঞ্চায়ন করেন। বাংলার জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম ও আব্বাস উদ্দীন রোহিঙ্গা রাজসভার আমন্ত্রণ থেকে বাদ যায়নি। নদী ও সমুদ্র ভ্রমণে দশটিরও অধিক গান রচনা করে আব্বাস উদ্দীন তা কণ্ঠে ধারণ করেন। যে গানগুলো আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিগণিত।

    পশ্চিমা ও সাম্প্রদায়িক ডামাঢোলে বাংলা সাহিত্যেকে‘ অন্ধকার যুগ’ বলে যে অপবাদ চাপানো হয়েছিল সেই অপবাদকে আলোকায়ন করেন আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ। তিনি স্ব-উদ্যোগে আরাকানে গিয়ে ভঙ্গুর আরাকান রাজসভা থেকেআমাদের মূল্য সম্পদ পুথিসাহিত্য মহাকাব্য ও অন্যান্য সাহিত্য সমগ্র উদ্ধার করেন। যে পুথিগুলো তিনি পরে বাংলা সাহিত্যকে উদ্ধার করেন।
    সংগীত ও নৃত্য-নাট্যে আমরা যে সমৃদ্ধির কথা বলি তার অনন্যটা নৃত্যুগুরু বুলবুল চৌধুরী।

    তিনি আরাকান রাজসভাকে ঘিরে প্রাচাত্যের বিপরীতে প্রাচ্যের যে লোকমানসের সত্তাকে ভিত্তি করে ৫টিরও অধিক গীতিনৃত্য রচনা করেন এবং মঞ্চস্থ করেন। এই আরাকান রাজসভার বিপর্যয়ের পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন রোহিঙ্গাদের উপর সাম্প্রদায়িক জাতি নিধনকে ঘিরে ‘প্রাচী’ নামে এক বিখ্যাত উপন্যাস রচনা করেছিলেন।

    ভারতের সেভেন সিস্টার প্রদেশের ব্যবসায়ী ভাগ্যান্বেষণ কারী ও চাকরজীবীরা রোহিঙ্গাদের কাছে হাত পাততেন এবং ভাগ্য করতেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় নীলিমা দত্তের ‘আসাম-ত্রিপুরা এবং বাঙলা আরাকান রিলেশন’ এবং প্রবোধ চন্দ্র ঘোষের ‘বাঙালী’ নামক ফ্রান্সিস বুখাননের ‘দক্ষিণ পূর্ব বাংলায় ফ্রান্সিস বুখানন’ গ্রন্থে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত রতন লাল চক্রবর্তীর ‘বাংলাদেশ-বার্মা সম্পর্ক,বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত সিরাজুল ইসলামের ইঙ্গ-বর্মী সম্পর্ক’, চট্টল ইতিহাসবিদ আবদুল হক চৌধুরীর ‘প্রাচীন আরাকান রোয়াইাঙ্গা হিন্দু ও বড়ুয়া বৌদ্ধ অধিবাসী’ ও ‘চট্টগ্রাম-আরাকান’ অভিবক্ত বাংলার মুসলিম সাংবাদিকতার অগ্রদূত এম আবদুর রশিদ ছিদ্দিকীর চাটিগামী-রোয়াইতত্ত্ব, ডা. রামচন্দ্র বড়ুয়া,চট্টগ্রামের মগের ইতিহাস,পূর্ণচন্দ্র চৌধুরীর চট্টগ্রামের ইতিহাস নামক বইগুলোতে।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তির অনন্য অগ্রদূত উপর্যুক্ত বিষয়ে সংক্ষিপ্তসারে রোহিঙ্গা জনজাতিগোষ্ঠীর তথ্য ইতিহাস পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের নয় এতে রয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ ধর্মালম্বীর এবং প্রকৃতি পূজারীদেরও অবস্থান রয়েছে। বর্তমান মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদেরকে মুসলিম বানিয়ে যে জাতিগত নিপীড়ন, ধ্বংস হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট ও ধর্ষণের মত ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছে,এমনি করে ১৯৪৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালি জাতির উপর পাকিস্তানি হায়েনার বাহিনী সবাইকে হিন্দু অভিধায় অভিযুক্ত করে এই বাংলাদেশের ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা এবং দু লক্ষ মা বোনকে ধর্ষণ করেছে।

    এ পুরনো তথ্যটি মিয়ানমার প্রধানমন্ত্রী অংসান সুচি ও তার পূর্ববর্তী সামরিক সরকারগুলো একই অপরাধযজ্ঞ করে গেছে এবং বর্তমানেও করে যাচ্ছেন।

    এখানে ভূরাজনীতির মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কৌশলও একটু পরখ করা দরকার। যেমন একাত্তর সালে পাকিস্তানির মিত্রশক্তি ছিল গণচীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সাথে সংযুক্ত আরব রাষ্ট্র সৌদি আরব। এই মিত্র শক্তির দেশগুলো মিয়ানমার সরকারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র চুক্তি যেমন রয়েছে ঠিক একই ভাবে চায়নার সাথে প্রাকৃতিক সম্পদ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার চুক্তি চলমান। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মস্কো-পিকিং বিরোধের জের ধরে চায়না, পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে মিত্রটা তা এখনো অটুট আছে বলেই বর্তমানে আধা সামরিক ধ্বজা নব্য গণতন্ত্রী সূচির সরকার আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক মিত্রটার কারণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী একটি খেলার পুতুল মাত্র।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চায়না ও জাপানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক বিরোধের সময়েও জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পক্ষালম্বন করেছিলো তার বিপরীতে চীন, পাকিস্তান, মিয়ানমার বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন। কক্সবাজারের প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কক্সবাজারে আওয়ামীলীগ তথা সংগ্রাম কমিটির নেতারা যেমন আরাকানে আশ্রয় নিয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে রোহিঙ্গাদের একটি গোষ্ঠী পাকিস্তানপন্থী বিধায় মিয়ানমারের কেন্দ্রিয় সরকারের হাত মিলিয়েছিলো। আবার রোহিঙ্গাদের যে প্রগতিশীল ও মানবিক অংশ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামীদের আশ্রয় প্রশ্রয় এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সে সময়ে এমএনএ নুর আহমদ, এমপিএ ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ ইদ্রিস এমপিএ,ক্যাপ্টেন হারুন আহমদ চৌধুরী, আফসার কামাল চৌধুরী, বাদশা মিয়া চৌধুরী, শমসের আলম চৌধুরী.প্রফেসর মোশতাক আহমদ, কামাল হোসেন চৌধুরী, প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন এবং অনেক বাধাবিপত্তির মধ্যেও চারটি গ্রুপ বাংলাদেশের রণাঙ্গনে পাঠিয়েছিলেন এবং কয়েকটি গ্রুপের অপারেশন সফল হয়েছিল বান্দরবান-কক্সাবাজর রণাঙ্গনে।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সাল যেমন চীন মার্কিন পাকিস্তান, স্বদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের যৌথ ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানপন্থী জিয়া-এরশাদ-খালেদা আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে মধ্যযুগের বর্বরতায় পরিচালিত করেছিলো তারই অংশ হিসেবে আরাকানে আইএসআই ও মোসাদের মধ্য দিয়ে জামাতে ইসলামসহ অন্যান্য ওয়াহাবী পন্থী ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো প্রত্যক্ষ মদদে আরাকানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে হাতিয়ার করে তাদের (রোহিঙ্গাদের) যে উগ্রপন্থীগ্রুপ পাকিস্তানের পক্ষে ছিলো তাদেরকে সংগঠিত করে। এর ফলে বিশ্ব মিডিয়ায় রোহিঙ্গা জনসাধারণ জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব রটনার খবর প্রকাশ হতে ধারাবাহিকভাবে।

    এই কারণে কয়েকটি বিষয়, কয়েকটি রাষ্ট্রের স্বার্থ সিদ্ধি হয়। যেমন পাকিস্তান বাংলাদেশের উপর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চায় মিয়ানমারের সাথে অস্ত্র ও অন্যান্য বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে চায়। চায়না এমনিতেই তাদেরকে সামরিক দখল, ভূপ্রাকৃতিক সম্পদ কাঁচামাল হিসেবে সংগ্রহ করে। ইতোমধ্যে নতুন যোগ হয়েছে ইসরাইল ও অন্যান্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী জোট। তাদের বহুজাগতিক কোম্পানী গুলো কোকাকোলা, পেপসি ব্যবসার প্রাথমিক সুযোগ লাভ করেছে।

    এ সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চায় না। আরাকানে মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস-হাইড্রোকার্বন-আকিয়াব পাথর। এসব প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের জন্য মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তারা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির রাজনৈতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে। তারই অংশ হিসেবে আজকের এই রোহিঙ্গা সংকট। মার্কিন ও ইসরাইল এবং তাদের মিত্র জোট পরোক্ষভাবে চীনের সম্প্রসারণ বাণিজ্যকে বেঘাত ও প্রতিবন্ধকতার তৈরির হাতিয়ার হিসেবে আরাকানরাজ্য ( রাখাইন স্টেট) তাদের উপাদেয় ভূ-স্থান।

    মাননীয় নেত্রী আপনার মনে আছে কিনা জানি না ১৯৭১ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জোসেফ ফারল্যা- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা দিলে বিনা রক্তপাতে মার্কিন সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেবে’ বলে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর প্রস্তাবে প্রত্যাখান করে ক্ষান্ত হননি, ফারল্যান্ডকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, মি. ফারল্যা-আমি আপনাকে চিনি। ইন্দোনেশিয়া ও আর্জেন্টনিয়ায় থাকাকালে আপনার কারণেই গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলে এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছিলো। আপনাকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি পাকিস্তানি শেয়াল থেকে দেশ মুক্ত করে মার্কিন বাঘের তুলে দিতে চায় না।’ বঙ্গবন্ধুর এই উক্তি ও মার্কিন প্রস্তাবকে মাথায় রেখে বলতে চাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণপূর্ব এশিয়াকে শাসন-লুণ্ঠন ও চায়না-জাপানের ব্যবসায়িক অগ্রগতিকে ব্যাহত করার জন্য মার্কিন ইসরাইল পাকিস্তানের অবশ্য আরাকান রাজ্য (রাখাইন স্টেট) দরকার। যার ফলে পাকিস্তান-মার্কিন নিতে পারবে পুরনো পরাজয়ের প্রতিশোধের স্বাদ, আর চায়না হবে খন্ডবিখন্ড বিধ্বস্ত। মাঝখানে মরবে নিরীহ রোহিঙ্গা জনগোষ্টী ও আমাদেরকেও অধিনস্থ করার অনৈতিক ব্যবস্থার চিন্তা।

    মাননীয় দেশরত্ম শেখ হাসিনা এসব বিষয় বিবেচনা রেখে আপনার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অসহায় চিত্র বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য আসিয়ান ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়নে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে দুতোয়ালি সফর করেছিলেন ঠিক তেমনি আপনার দুতোয়ালি সফর আবশ্যক মনে করি। আর বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ তৈরি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে সামরিক বাহিনীর মধ্যে দিয়ে একটি জায়গায় আবদ্ধ রেখে মানবাধিকারের সকল সুযোগ বাস্তবায়ন করার জন্য জাতিসংঘের মধ্যে দিয়ে দাতাগোষ্ঠীর কাছে পরিকল্পিত সহায়তার আহ্বান জানানো সময়ের দাবি।

    Reply
  6. আলতাফ মাহমুদ

    চেতনাশিবির এখন রোহিঙ্গা প্রেমী সাজছে। এতোদিন আমাদের কতই না গালমন্দ করেছে। যখন দেখেছে পুরো দেশ রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছে তখন সুর পাল্টাতে শুরু করেছে। একে একে মন্ত্রীরা কথা বলতে শুরু করেছে। দুইদিন পরে এরাই ক্রেডিট নেবে এই বলে যে আমরাই তো রোহিঙ্গাদের পাশে এসে দাড়িয়েছি প্রথমে।
    পাবলিক ওপনিয়নের ক্ষমতা দেখেন। আমরাই এই ফেইসবুকে পাবলিক অপিনিয়ন মোবিলাইজ করেছি। দেশে এবং বিদেশে। ত্রাণ তুলেছি, ত্রাণ বিতরণ করেছি। আমাদের কাজে নানাভাবে বাধা দেয়া হয়েছে। যাই হোক তাদের বোধোদয় হয়েছে সেইজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।
    পাবলিক অপিনিয়ন দেশে আর বিদেশে মবিলাইজ করার একটা বেইসিক প্রিন্সিপল বলি। হিউম্যান রাইট ভায়োলেশন হলে আপনি ঝাপাইয়া পড়বেন হিউম্যান রাইট বা মানবাধিকার প্রটেক্ট করার লাইগ্যা। পৃথিবীতে সকল মানুষ কয়েকটা অবিচ্ছেদ্য অধিকার নিয়ে জন্মায়। এই অধিকার লংঘন হইলেই দাড়াইবেন।
    তবে লড়াই শেষ না, কেবল শুরু। মনে রাইখেন মোদীর হিন্দুত্ববাদ, ইসরায়েলের জায়নবাদ আর মায়ানমারের মায়ানমারিজম এইখানে হাত মিলাইছে। এই তিনিটা বাদই আসলে দাড়াইয়া আছে পিওর রেইসিজমের উপরে আর এই অঞ্চলে তাদের এজেন্ডা ইসলামবিদ্বেষ।
    এ এক ভয়ংকর যোগ। এই অশুভ অক্ষশক্তিকে পরাস্ত করতে হবে; নাহলে এই উপমহাদেশে শান্তি আসবেনা। এইটা শুধু মুসলমানদের লড়াই না। এইটা যারা নিজেদের মুক্তবুদ্ধির আর প্রগতিকামী বলে জানেন, তাদেরও লড়াই।
    এই লড়াইয়ে বিজয়ি হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন বিকল্প নাই।

    Reply
  7. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

    মিয়ানমার তার দুর্বলতা পাচার করেছে, উশকাচ্ছে। ফাঁদে পা না দেয়াই উচিত। কিন্তু দুর্বল যে হয়েছি, সেটা ভোলা উচিত না। বর্মী জঙ্গীবাদ মোকাবেলার বর্তমান উপায় রিস্ট্রেইন-সংবরণ। ব্রেভহার্টের একটা যুদ্ধদৃশ্য মনে পড়ে? ইংরেজ বাহিনী অাসছে, ঘাড়ের ওপর চলে অাসছে তাদের ঘোড়সওয়াররা। (বাঁক ঘুরে অশ্বপদ বাহিনীর ছুটে অাসার ওই ফর্মটা অাইজেনস্টাইনের অালেক্সান্ডার নেভস্কি ফিল্ম থেকে নেওয়া বিপ্লবী শট) নায়ক উইলিয়াম ওয়ালেস তার বাহিনীকে ভয় না পেতে ও বর্শা ততক্ষণ পর্যন্ত সংবরণ করতে বলছেন, ‘restrain, restrain’। যতক্ষণ না ওরা তোমার শক্ত হাতে ধরা বর্শার ওপর ঝাঁপাতে গিয়ে বুক পেতে দেয়, ততক্ষণ মাটি কামড়ে থাক।
    টলস্টয়ের ওয়ার অ্যান্ড পিসের ঘটনা। ফরাসিরা রাশিয়া দখল করছে মারছে পোড়াচ্ছে। সেনাপতি তবু সংবরণ করছেন। জেনারেলরা খ্যাপা। তারা সেনাপতিকে ঘিরে ধরলো, ব্যাখ্যা চাইলো।
    তিনি বললেন, কৃষকেরা কী করছে?
    : পালাচ্ছে।
    অার কী করছে?
    : ফরাসিরা যাতে কিছু না পায় তা নিশ্চিত করছে।
    জেনারেলের উত্তর : ধৈর্য ধরো, যতক্ষণ না শীতের বরফ পড়ছে, অার তারা রুখে দাঁড়ানোর জন্য তৈরি হচ্ছে!
    সেই শীতে বরফে অার রুশ কৃষকসেনাদের অাক্রমণে নেপলিয়ন ৫ লাখ সেনা হারিয়ে হার মেনেছিলেন। তার পতনের সেটাই শুরু।
    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও একই কৌশলে তারা জার্মান ওয়ার মেশিনকে রুশ মাটিতে কবর দিয়েছিল। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মুক্তযুদ্ধ কৌশলও তাই ছিল। সিরিয়ার সেনাবাহিনীও এই কৌশলেই জিতছে।
    এখন ঘর গোছানোর সময়। এই দিন দিন না, অারো দিন অাছে। এই দিনেরে নিতে হবে সেই দিনেরি কাছে।
    বাংলাদেশকে বলকান যুদ্ধের, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যথেষ্ঠ শিখতে হবে। ফাঁদে পা দেয়া যাবে না। অামেরিকার চাইতে চীন-ভারতকে লাইনে অানা ভাল। এশিয়ার উরুসন্ধিতে বাংলাদেশ, একে ধর্ষণের শিকার করতে গেলে মাইনকা চিপায় পড়তে হবে, সেটাই ভাবতে হবে প্রতিবেশীদের। নিজেদের ঐক্য থাকলে স্ট্র্যাটেজিক লেনাদেনা করে বেরিয়ে অাসতে পারব অামরা।
    যে বিএনপির ত্রাণ অাটকেছে, সে একটা রাজাকারি করেছে। সরকারের এসব ফালতু ঝামেলা এড়ানো উচিত। প্রধানমন্ত্রী সরকারকে রোহিঙ্গাদের পাশে নিয়ে জনগণের অাত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন। দলীয় বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, যূদ্ধস্পৃহা অাছে সত্য, কিন্তু এসব ক্যাচাল সংবরণ না করা হবে অাত্মঘাতী।
    ঘর গোছানোই রাষ্ট্রের কাজ। তাতে ব্যর্থ বর্মী ব্রুটাল বর্ণবাদ বিনাশর লাইনে নিয়ে নিজের কবর খুঁড়ছে। সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের বৈশ্বিক অাঁতাত।
    সমস্যার চরিত্র সামরিক না, রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক।

    Reply
  8. কালের কন্ঠ।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ঠিক এই কথাগুলি-ই জাতিসংঘে আপনার অনুষ্ঠিতব্য ভাষণে তুলে ধরার জন্যে অনুরোধ করছি। বাস্তুহারা, স্বজন হারা, অসহায় নিরন্ন ১০ লাখ রোহিঙ্গার আহাজারিতে যখন আকাশ-বাতাশ প্রকম্পিত, যখন সমগ্র বিশ্বের মানুষ যখন রোহিঙ্গা নিধনের নিন্দা জানাচ্ছে, দেখুন বর্মি মগ দস্যু সেনা সরকারের কোনো বিকার নেই। অন্যদিকে অন সাং সুচি চাইলেও যে কিছু করতে পারবেনা, সেটা আপনার বক্তব্যেই পরিস্কার।
    সুতরাং বিশ্ব সম্প্রদায়কে শুধু উদ্বেগ, নিন্দা জানিয়ে থেমে থাকলে চলবেনা, বরং অর্থনৈতিক অবরোধ এবং জাতিসংঘের সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে একটি সেইফ জোন প্রতিষ্ঠার কথা ভাবতে হবে। এই গোঁয়ার মগ দস্যুদের চুড়ান্তভাবে নতজানু না করা পর্যন্ত তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিবেনা। আর অবরোধ আরোপ করলে যদি সেখানকার সামরিক সরকার সুচিকে হটিয়ে আবারো সামরিক শাসন জারি করে, তাহলেও উদ্বেগের কিছু নাই। কারণ সেখানে নামে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত, কার্যত উর্দি শাসন এখনও বলবৎ আছে। এবং গণতন্ত্রের প্রকৃত চেহারা অবশ্যই এমন হতে পারেনা। সুতরাং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের প্রতি যতোটুকু কঠোর হওয়া দরকার, ঠিক ততোটুকুই হতে হবে।
    ভারতকে বুঝতে হবে, বাংলাদেশের ১০ লাখ রোহিঙ্গার ১ লাখও যদি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, সেটা বাংলাদেশ এবং ভারত কোন দেশের জন্যেই মঙ্গলজনক হবেনা। বিশেষ করে পাকিস্তানসহ কিছু রাষ্ট্র মুখিয়ে আছে এখানে অস্থিতিশীলতা তৈরী করতে। ভারতকে বুঝতে হবে মিয়ানমারে তাদের সামান্য ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা চিন্তা করে সুচি সরকারকে ছাড় দিলে তারা মস্তবড় ভুল করবে। কারণ মগ রাষ্ট্রটি কার্যতঃ চীনেরই আজ্ঞাবহ দাস। ভারত যদি মনে করে আমরা তাদের সাথে এখনও প্রতিরক্ষা চুক্তি করিনি বলে মিয়ানমারকে কাছে টেনে নিতে হবে, তাহলে এর চেয়ে বড়ো মুর্খামি আর হবেনা। কারণ আমরাই হচ্ছি ভারতের পরিক্ষিত বন্ধু, আর বার্মা চীনের সিমানা টানা অঙ্গরাজ্য।
    বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও ভারতের বিপক্ষে ব্যবহৃত হয়না। এমন যদি হয়, বার্মা সরকারকে শায়েস্তা করার কথা বলে কোনো পক্ষ রোহিঙ্গাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিলো, তাহলে তাদের বন্দুকের নল কখন কোনদিকে ঘুরে যাবে, নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। যেটা উভয় দেশেই অস্থিতিশীলতা তৈরীর জন্যে যথেষ্ট।
    আর চীনেরও বোঝা উচিত, বাংলাদেশ চীনের শত্রুরাজ্য নয়, বরং বন্ধু রাষ্ট্র। আমাদের দেশে রয়েছে তাদের পণ্যের অনেক বড় বাজার। আমাদের অসংখ্য বৃহদাকার প্রকল্পে তাদের বিনিয়োগ এখনও চালু রয়েছে। সুতরাং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা চাইলেই কিন্তু চীনের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারি। কারও প্রতি বৈরীতা নয়, সকলের সাথে বন্ধুত্ব, এই পররাষ্ট্র নীতির কারণেই কিন্তু চীনের সাথে বন্ধুত্ব, বাণিজ্য, সব কিছু। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অকৃত্রিম সহযোগিতা, এবং চীনের বৈরীতা সত্বেও আমরা ন্যায্যতার বিচারে অনেক ক্ষেত্রে ভারতের বদলে চীনের বিনিয়োগ কাজে লাগাচ্ছি। এতদসত্বেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের এই নীরবতা আমাদের বিস্মিত করে। চীন কেন বোঝেনা রোহিঙ্গাদের প্রতি মগ সরকারের এই একি চোখা নীতি অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক নীতি বিরুদ্ধ। মিয়ানমারের ভূখন্ড রোহিঙ্গাদের আদি নিবাস এবং তারা সে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। ২০ লাখ রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দিলে মিয়ানমারের কিচ্ছু আসবে যাবেনা। অন্যদিকে কতিপয় বিপথগামির জন্যেতো পুরো রোহিঙ্গা সম্প্রদায় সাফার করতে পারেনা। এবং আরাস স্পস্টতই বলেছে তাদের এই অস্ত্র হাতে নেয়া বার্মায় তাদের নিপীড়ন বন্ধ এবং সেখানে তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে। কিন্তু তারাতো আর স্বাধীনতার ডাক দেয়নি। শুধুমাত্র দেয়ালে পীঠ ঠেকে যাওয়ার কারণেই কিন্তু ওরা অস্ত্র হাতে নিয়েছে এবং সেটা ব্যাপকতর শক্তিশালী কিছু নয়। যদিও তারা অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক এবং কুটনৈতিক ভাবেও চেষ্টা করতে পারতো। কিন্তু দূর্ভাগ্য তাদের, কারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে তেমন নেতৃত্ব সৃষ্টি হয়নি। অবশ্যই বাংলাদেশ কোনো হিংসাত্মক কর্মকান্ডকে সমর্থন করেনা। বিশ্বে অন্তত এই একটি রাষ্ট্র আছে, যেটি সব সময় শান্তিতে বিশ্বাসী।
    এমতাবস্থায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে কেবল চীনই পারে মগ সরকারকে বুঝিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মগদের হুমকী ধামকি না দিয়ে বোঝানো উচিত চীনকে। সুচিকেও বলে লাভ নেই, কারণ মগ রাজ্যের প্রকৃত ক্ষমতা সেনাদের হাতে, আর সুচি সেখানে হাতের পুতুল মাত্র।
    আরেকটি কথা না বললেই নয়, যে কোনো বিচারে শান্তিতে নোবেল যদি কাউকে দিতে হয়, সেটা আপনারই প্রাপ্য। যদিও কোনো পুরস্কারের আশায় আপনি আর্ত-পীড়িতের পাশে দাঁড়াননা। আপনি কাজ করেন আপন মহিমায়, সহজাত বৈশিষ্টের কারণে। আপনি বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ান আপনার রক্তপ্রবাহের কারণে। যে রক্ত আপনার শরীরে বহমান, সেতো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির রক্ত।
    নোবেল কমিটি বুঝুক কিংবা না বুঝুক, বিশ্বের শত কোটি শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ের নোবেল আপনি ইতোমধ্যেই পেয়ে গেছেন। ঠিক কারণেই বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ, শান্তি ও স্থিতির প্রতীক হয়ে। আমাদের বুকটা গর্বে ভরে উঠে, যখন ভাবি- আপনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

    Reply
  9. Hridoy Khan

    Excellent analysis and suggestions! Hope our Prime Minister will get some insights.রহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে অভিনন্দন জানাই। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অভাবনীয় গ্রহণযোগ্যতা আছে – বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক সাড়া প্রদানই তার সাক্ষ্য বহন করে। মানবতার জয় হোক।

    Reply
  10. সরকার জাবেদ ইকবাল

    রহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে অভিনন্দন জানাই। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অভাবনীয় গ্রহণযোগ্যতা আছে – বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাৎক্ষণিক ও ব্যাপক সাড়া প্রদানই তার সাক্ষ্য বহন করে। মানবতার জয় হোক।

    Reply
  11. সাজ্জাদ রাহমান

    ১৬ কোটি বাঙালির আশা-আকাঙ্খার মূর্ত-প্রতীক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের নিপীড়িত, লাঞ্চিত মানবতার ভরসাস্থলে পরিণতঃ হয়েছেন।
    চীন, রাশিয়া, ভারতের মতো বিশাল রাষ্ট্রগুলোর অধিপতিরা যখন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা কর্তৃক মানবতার বিরুদ্ধে করা অপরাধ সংঘঠিত হওয়া সত্বেও সামান্য ব্যবসায়িক হীন স্বার্থে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন, তখন বাঙলার এক দুঃখিনী রাজকন্যা তাঁর সৎ বিবেচনাবোধকে কলুষিত হতে দেননি, তার বিবেক কেঁদে উঠেছে নিরন্ন, অসহায়, আর্তপীড়িত লক্ষ-লক্ষ রোহিঙ্গা জনতার আহাজারিতে।
    একদা সমগ্র বিশ্বের মানুষ যখন অং সান সুচির কারামুক্তিকে স্বৈরতন্ত্রের বিপক্ষে গণতন্ত্রের মুক্তির প্রতীক বলে ভেবেছিলো, যাকে শান্তিতে নোবেল প্রদান করা হয়েছিলো। বিশ্ব দেখছে, আমাদের সকলকে বোকা বানিয়ে সেই নারী আজ ইতিহাসের জঘন্নতম হত্যাকান্ডে লিপ্ত। যে সেনাতন্ত্রের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন(?) , সেই সেনাদের লেলিয়ে দিয়ে তিনি রক্তের হোলিখেলায় মেতে উঠেছেন।
    আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী হায়েনার তাড়নায় প্রাণভয়ে ছুটে আসা সহায় সম্বলহীন রোহিঙ্গাদের বুকে জড়িয়ে ধরছেন। তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন, খাবার দিচ্ছেন,
    চিকিৎসা দিচ্ছেন। জানিনা পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা আর ঘটবে কীনা,
    এমন নারীর জন্ম হবে কীনা। প্রার্থনা করি যুগে যুগে শেখ হাসিনার জন্ম হোক,
    আর সুচির মতো নারীদের বিনাশ হোক, মানবতার জয় হোক।
    অং সান সুচিকে আজ বলতে ইচ্ছে করে-
    ‘চেয়ে দ্যাখ- তুমি একটা দেশ শাসন করছো আমাদের শেখ হাসিনাও একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী। পরিস্কার একটা রেখা টানলে তুমি চরমতম বর্বরতার সাক্ষর রেখে যাচ্ছো আর আমাদের নেত্রী শিক্ষা দিচ্ছেন- পরমতম মানবতা, মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ। আমাদের দেশেও দুষ্কৃতিকারী আছে, কিন্তু তাই বলে আমরা ২/১ জনের জন্যে পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেইনা কিংবা দুষ্কৃতিকারী ছাড়া আমাদের গুলিতে একজন সিভিলিয়ান নিহত হয়না। এটাই আমাদের নেত্রীর শিক্ষা। আমাদের দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাস করে, এখানে যখনি কোনো সংখ্যালঘু আক্রান্ত হয়, তখন পুরো প্রশাসন তাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর তোমরা সংখ্যাগুরু সিভিলিয়ান এবং প্রশাসন মিলে সংখ্যালঘুদের নিধনযজ্ঞে নেমে পড়। তোমার বাবা অং সান তোমাকে গণতন্ত্রের জন্যে লড়াই করতে শিখিয়েছিলেন,
    আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুও তাঁর প্রিয় কন্যাকে শোষিতের পক্ষে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছিলেন।
    চেয়ে দ্যাখো কে তার বাবার শিক্ষাটা কাজে লাগাতে পেরেছে। তুমি তোমার দেশের সংখ্যালঘুদের নির্মূল করে সংখ্যাগুরুদের বাহবা কুড়াতে চাও, আর আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘুর কোনো পার্থক্য বোঝেন না। তিনি বোঝেন মানুষ।
    মাঝে মাঝে মনে হয় তোমার শরীরে তোমার পিতার রক্ত আদৌ্ বইছে কীনা।
    কারণ তোমার বাবা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনীর হাতে জীবন দিয়েছিলেন আর তুমি জেল থেকে ছাড়া পেয়েই সেনাদের সাথে আপোষকামিতায় মেতেছো।
    তুমি রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত হতে পারোনি, যার কানাকড়ি ক্ষমতা আছে কীনা এই মুহুর্তে আমাদের যথেষ্ঠ সন্দেহ হচ্ছে। তুমি একজন মানুষ কীনা সে বিষয়েও আমাদের ঘোরতর সন্দেহ, কারণ লক্ষ রোহিঙ্গার আহাজারিতে যখন বিশ্ব বিবেক কাঁদছে, তখন তুমি কি নির্দ্বিধায় এসির হাওয়ায় বসে মদ্যপান করছো। ধিক তোমার মানব জনম।
    চেয়ে দ্যাখ- তোমাকে একদিন যারা নোবেল দিয়েছিলো তারা আজ দেয়ালে মাথা ঠুকছে। কারণ তোমার কারণে নোবেল নামক বিষয়টির গুরুত্ব আজ ধুলোয় লুন্ঠিত।
    চেয়ে দ্যাখো তোমার দেশের লাখো অসহায় নর-নারীকে বুকে টেনে নিয়ে
    সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পৃথিবীর তাবৎ মানুষ শেখ হাসিনার স্তবগান করছে, আর তোমার কুশপুত্তলিকায় মিলছে ঘৃণার থুতু।
    এখনও সময় আছে তোমার নাগরিকদের তুমি স্বসম্মানে ফিরিয়ে নাও, যারা নির্বিবিচারে গণহত্যা, লুন্ঠন, ধর্ষণের সাথে যুক্ত, তাদের বিচার কর।
    তা নাহলে তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে করুণ পরিণতি। যুগে যুগে হিটলার, মুসোলিনি, মেলোসভিসের মতো মানবতার বিরুদ্ধে অপরা্ধীরা রেহাই পায়নি।
    অং সান সুচি তুমিও রেহাই পাবেনা। প্রার্থণা করি তোমার মতো পাপিষ্ঠের মৃতদেহ যেন পৃথিবীরে কোনো মাটি কিংবা অগ্নী গ্রহণ না করে। তোমার শবদেহের ঠাঁই হোক এই সৌরলোকের বাইরের কোনো কৃঞ্চ গহবরে।
    আর আমাদের নেত্রী শুধু বাঙলার ষোলকোটি মানুষের নয়নমনি শুধু নয়,
    তোমার ১৫ লাখ রোহিঙ্গার বুকে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে, জায়গা করে নিয়েছে সমগ্র পৃথিবীর মানবতাপ্রেমী সহস্র-কোটি গণ-মানুষের অন্তরের অন্ত:স্থলে, মানবতার যুগশ্রেষ্ঠ্ প্রতীক এবং পরম শ্রদ্ধার দেবী মূর্তি হয়ে।

    Reply
  12. Jashim

    “When you play with a gentleman, you play like a gentleman. But when you play with bastards, make sure you play like a bigger bastard. Otherwise, you will lose.”

    – Sheikh Mujibur Rahman

    Dear PM, Have you forgotten what your father said ? It’s a fact !
    Myanmar Gov. is a bastard, now you decide how you should act !

    Let’s review some facts what is going to happen :

    1. Myanmar will never take back these refugees
    2. India, China, USA, Russia and our recent friend even Japan
    won’t help us
    3. Muslim friend countries will not take any initiatives
    4. The world will just forget about the problems over time as if it never happened

    Impact of Refugees on Bangladesh :

    1. Crime will Rise to an Extreme Level
    2. Society and Local Economy will Suffer
    3. Young Rahinga’s will become a threat in future

    Suggested Inhuman Solutions :

    1. Going to War against Myanmar, concur Rakhain State and make it a part of Bangladesh, historically some of India’s and Myanmar’s area are actually our land !

    or

    2. Kill all Rahinga People with Myanmar,No Head, No Headache !

    or

    3. Give Weapons to Rahinga to Fight and make an Independant
    Rakhain State, doing so world will call us terrorist state for sure

    Suggested Human Solutions :

    1. Cut all Economic/Political ties with Myanmar

    2. Give some Rahinga (with minimum skill) Nationality

    3. Take initiatives to make agree some of our So Called Friend Nations to take some Refugees

    4. Children under 12 can be given to Bangladeshi Families with no Children

    5. Train, Educate these people with Language/Work Skill and accept them as Our People ( although they are not )

    6. Develop High Tech, Academic, Military-Weapons with our people like Iran so we don’t depend much on India/China, we will gradually reduce business with them

    7. Send the remaining Rahinga to Islands of Bangladesh, ship them to Inhibited Islands in the International Seas

    My dear PM, let me tell you the UGLY TRUTH !

    NO NATION IS OUR TRUE FRIEND, THEY ARE FRIENDS WITH BENEFITS !

    Now You Decide what is best for Bangladesh, what Bangabandhu would have done if he was alive !

    Reply
    • E A Bari

      Deer Jashim! I don’t know how old are you. Your comments seemed to be like one who’s brain is dilated by blood of anger! I guess it is justified too. Like everyone else in the civilized world I am extremely angry to the Myanmar Regime and its Military killers. No doubt these ‘Mogs’ [Forest-Robbers] have decided to carry out a vicious ‘ETHNIC CLEANSING’ operation in Rakhaine. Like the Serbians who tried to do the same to Bosnia and Kosovo. However, please calm down. Be realistic. If the people of Bangladesh make an united stance, we can force the Myanmar Rulers to take back their people. We must support our Prime Minister wholeheartedly. We must rise above local politics and be united in this national issue. The world is watching and responding like never before. We must give time for them to act. If they fail then we can think of Military intervention as a last resort. In that case too we must get support of the surrounding nations and most of the democratic nations as well. However, first we must try to solve this grave problem peacefully. In my opinion we have to follow these steps:
      1. Exert pressure to Myanmar Regime by us [we], UN, World Powers and other nations.
      2. Create a UN-lead demilitarized safe zone in Rakhaine state for the Ruhingas. The zone can be patrolled by UN forces for the safety of the Ruhingas. Meanwhile keep pressure to the Myanmar Regime to negotiate a permanent solution.
      3. Keep exerting pressure to Suki-Military lead Myanmar government to accept and carry out ‘Kofi Anan Commission Recommendation’.
      4. Diplomatic effort by our government must continue to establish the fact that if the world community doesn’t act positively right now we may have a humanitarian crisis in our hand. The world must act right now with aid for the refugees and force the Myanmar Regime to take back their people to their homes and resettle them honorably. Compensate them for the loss of their loved ones by the armed soldiers. Punish severely those who are responsible for crimes against humanity. Ruhingas are citizens of Myanmar, no one else’s! As human beings they deserve their rights.

      Reply
      • Musa

        Thanks a lot for your prudent, judicious suggestions. We should take pragmatic diplomatic steps to attract international support.There should be solution in diplomatic /political ways rather than military way.We should be discreet and patient, not whimsical.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—