Feature Img

350-300sizeবাংলাদেশে গতকাল তিন দফা মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ৮ দশমিক ৬ মাত্রার প্রবল ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারির পর তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রথমে সুনামি (Tsunami) সম্পর্কে একটু বলে নেই। সমুদ্র বা হ্রদের কোন বিস্তৃত এলাকার পানি সরে যাওয়ার ফলে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকেই সুনামি বলে।

ভূমিকম্প (মূলত সমুদ্রের তলদেশে) সুনামি সৃষ্টি হওয়ার একটি প্রধান কারণ। ঘূর্ণিঝড়ের ফলে উপকূলীয় এলাকায় যে জলোচ্ছ্বাস হয় তার চেয়ে সুনামি বেশ ভিন্ন। আমরা জানি জলোচ্ছ্বাসের সময় আমাদের উপকূলে ঢেউয়ের উচ্চতা অনেক বেশি হয়, কারণ আমাদের উপকূলের মহীসোপান (continental shelf) বেশ অগভীর। কিন্তু সুনামির ক্ষেত্রে এটা আবার ‘শাপে বর’ অবস্থা অর্থাৎ এর প্রভাব বিপরীত। কারণ, সুনামি মূলত তরঙ্গের গতির ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশের উপকূলের মহীসোপান শুধু অগভীরই নয়, বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃতও (প্রায় ১০০ কিমি থেকে ২৫০ কিমি পর্যন্ত)। সুনামির তরঙ্গ উপকূলে যে গতি নিয়ে আসে স্বল্প গভীরতার জন্য ঘর্ষণপ্রাপ্ত হয়ে তা বেশী দূর অগ্রসর হওয়ার কথা নয়। আবার বিস্তৃত মহীসোপানের শেষ প্রান্তে আসতে আসতে এর গতিও অনেক কমে যাওয়ার সম্ভাবনা।

চিত্র-কঃ এপ্রিল ১১, ২০১২ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় সৃষ্ট ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের এপিসেন্টার ও ফল্টলাইনের অবস্থান (সূত্রঃ ইউএসজিএস)
চিত্র-কঃ এপ্রিল ১১, ২০১২ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় সৃষ্ট ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের এপিসেন্টার ও ফল্টলাইনের অবস্থান (সূত্রঃ ইউএসজিএস)

এছাড়া সুনামির ক্ষেত্রে যে স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে সেখানে ফল্ট (চ্যুতি) লাইনের প্রেক্ষিতে ভৌগলিক অবস্থানেরও একটা বিশাল ভূমিকা রয়েছে। সাধারণত ফল্টলাইন যে বরাবর থাকে কম্পন তার বিপরীত দিকে বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে যে ভয়াবহ সুনামি হয়েছিলো তার ভূ-কম্পনের ফল্টলাইন উত্তর-দক্ষিণ বরারর থাকায় এর কম্পন ছড়িয়ে পড়েছিল এপিসেন্টার থেকে লম্ব অর্থাৎ পশ্চিম বরাবর। ফলে পশ্চিমে অবস্থিত শ্রীলংকাসহ অনেক দূরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশকে আঘাত হানলেও বাংলাদেশ উত্তরে ফল্টলাইন বরাবর অবস্থান করায় এবং মহিসোপান অনেক দূর বিস্তৃত থাকায় আঘাত তেমন টের পাওয়া যায় নি। গতকাল (১১ই এপ্রিল) সুমাত্রায় যে ভূমিকম্প হয়েছে সেটাও ঠিক কাছাকাছি জায়গায় এবং একই ফল্টলাইন বরাবর (চিত্র-ক)। এ ক্ষেত্রে সুনামি সৃষ্টি হলেও তা থেকে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ছিলো কম। কাজেই সুনামির ক্ষেত্রে আতংকিত না হয়ে বা প্যানিক না ছড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

সুনামির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য আতংকজনক তেমন কিছু না থাকলেও ঘনবসতিপূর্ণ এদেশে বড় কোনো ভূমিকম্প যে বিশাল দুর্যোগ বয়ে নিয়ে আসবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিরোনামে প্রস্তুতি ও করণীয় বলতে এখানে মূলত ভূমিকম্পে ব্যক্তিগত প্রস্তুতির কথাই তুলে ধরা হয়েছে। প্রচারণা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে রাষ্ট্র এবং নগর কর্তৃপক্ষগুলোর প্রস্তুতি ও ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের সাথে অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলির মধ্যে একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে এটি খুব কম সময়ে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই সম্পন্ন হয়। ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেবার মতো কোনো উপযুক্ত পন্থা বা প্রযুক্তি এখনও আবিষ্কৃত হয় নি। ভূমিকম্প বিষয়ে তাই সবার ব্যক্তিগত পূর্বপ্রস্তুতি ও এ সময়ে করণীয় সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরী।

ভূমিকম্প ঝুঁকি
নিজ এলাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা রাখাও প্রস্তুতির একটা অংশ। ভূমিকম্প ঝুঁকি অনুযায়ী ভূ-তাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশকে তিনটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। সিলেট বিভাগসহ নেত্রকোনা, শেরপুর, কুড়িগ্রাম জেলা এবং ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, গাইবান্ধা, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলার অংশবিশেষ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ইত্যাদি জেলা মাঝারি ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় পড়েছে। (চিত্র-ক)

চিত্র-কঃ ভূমিকম্প ঝুঁকি অঞ্চল (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)
চিত্র-কঃ ভূমিকম্প ঝুঁকি অঞ্চল (সূত্রঃ উইকিপিডিয়া)

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বশেষ সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল ১৯১৮ সালে তৎকালীন শ্রীমঙ্গল বা সিলেট অঞ্চলে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৬। এছাড়া, ১৮৯৭ এবং ১৯৫০ সালে আসামে যে দু’টো বিশাল ভূমিকম্প হয়েছিল, তা ছিল সিলেট সীমান্ত থেকে খুব কাছেই। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের খুব কাছে ডাউকি ফল্ট (চিত্র-খ) এবং ইউরেশিয়া-ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলের অবস্থান হওয়ায় এ অঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

চিত্র-খঃ বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ভূমিকম্প মাত্রা (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
চিত্র-খঃ বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ভূমিকম্প মাত্রা (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হলেও বিশেষ করে ঢাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ন, নাজুক দালান-কোঠা এবং অত্যধিক জনসংখ্যা ভূমিকম্পে ক্ষয়-ক্ষতির সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে। ১৮৮৫ সালে ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জে বিশাল এক ভূমিকম্প হয়েছিল (আনুমানিক ৭ থেকে ৮ মাত্রার) যা ইতিহাসে ‘বেঙ্গল আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত। এখন যদি ঢাকায় এ ধরনের কোনো ভূমিকম্প হয়, তবে অবস্থা কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। চট্টগ্রামেও ১৭৬২ সালে চট্টগ্রাম-আরাকান সীমান্তে একটি বড় ভূমিকম্প হয়েছিলো। সাম্প্রতিককালে, চট্টগ্রামে ১৯৯৭ সালে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ২৩ জন লোক নিহত হয়েছিল।

ভূমিকম্পের ফলে ক্ষয়ক্ষতির তীব্রতার যে মাত্রা রয়েছে সে সূচক অনুযায়ী ঢাকা পৃথিবীর শীর্ষ ২০ টি ঝুঁকিপূর্ণ শহরের অন্যতম। ভূমিকম্প ঝুঁকি অনুযায়ী ঢাকাকে চারটি এলাকায় ভাগ করা যায় (চিত্র-গ)। ম্যাপে দেখা যাচ্ছে উত্তরা এলাকা সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং খিলগাঁও, বাড্ডা, গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট এবং পুরনো ঢাকার বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন অঞ্চল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে।

চিত্র-গঃ ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি এলাকা (সূত্রঃ ডেইলি স্টার)
চিত্র-গঃ ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি এলাকা (সূত্রঃ ডেইলি স্টার)

ভূমিকম্পের সময় আসলে কতটুকু সময় পাওয়া যায়?
ভূমিকম্পের সময় প্রথম যে কম্পন টের পাওয়া যায় তা হলো প্রাইমারি ওয়েভ বা P-wave. এর গতিবেগ ১-১৪ কিমি/সে পর্যন্ত হতে পারে। এরপর আসে সেকেন্ডারি ওয়েভ বা Shear wave যার গতিবেগ ১-৮ কিমি/সে। এ দু’টো বডি ওয়েভ (চিত্র-ঘ)। এছাড়া লাভ এবং রেলেই নামে আরো দু’টো ওয়েভ আছে যেগুলো সারফেস ওয়েভ এবং তুলনামূলকভাবে শ্লথগতিসম্পন্ন।

চিত্র-ঘঃ ভূমিকম্পের সময় অনুভূত বিভিন্ন প্রকারের ওয়েভ
চিত্র-ঘঃ ভূমিকম্পের সময় অনুভূত বিভিন্ন প্রকারের ওয়েভ

আমরা ভূমিকম্পে যে ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ধ্বংস হতে দেখি তার জন্য মূলত দায়ী সেকেন্ডারি ওয়েভ এবং সারফেস ওয়েভগুলো- কারণ, এগুলোই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। এখন প্রাথমিক ভূ-কম্পন বা P-wave টের পাবার কতো সময় পর বাকিগুলো টের পাবেন? উত্তর হচ্ছে ব্যবধান খুব সামান্য। ধরুন আপনার অবস্থান ভূমিকম্পের এপিসেন্টার বা উৎপত্তিস্থল থেকে ২০০ কিমি দূরে। সেকেন্ডে যদি ১৪ কিমি বেগে P-wave আসে তবে ২০০ কিমি অতিক্রম করতে সময় নেবে প্রায় ১৪ সেকেন্ড। আর এরপর ৮ কিমি/সে বেগে সেকেন্ডারি ওয়েভ আসতে সময় নেবে প্রায় ২৫ সেকেন্ড। অর্থাৎ আপনি ভূমিকম্প টের পাবার মোটামুটি ১১ সেকেন্ডের ব্যবধানে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। এর মধ্যেই আপনাকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রস্তুতি
• আপনি যদি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকেন তবে খোঁজ নিন আপনার ভবনটিতে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা আছে কিনা, থাকলে তা কী মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে পারবে। যদি না থাকে তবে রেট্রোফিটিং-এর ব্যবস্থা নিন। কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুরনো ভবনেও রেট্রোফিটিং-এর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। জাপানে ভূমিকম্প একটি নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু তাদের ভবনগুলিতে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা থাকায় তাদের ক্ষয়ক্ষতি হয় অতি সামান্য।
• পরিবারের সবার সাথে বসে এ ধরনের জরুরী অবস্থায় কি করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে- মোট কথা আপনার পরিবারের ইমার্জেন্সি প্ল্যান ঠিক করে সব সদস্যদের জানিয়ে রাখুন। ভূমিকম্পের সময় হাতে খুব সামান্যই সময় পাওয়া যাবে। এ সময় কী করবেন তা সবাইকে নিয়ে আগেই ঠিক করে রাখুন।
• বড় বড় এবং লম্বা ফার্নিচারগুলোকে যেমন- শেলফ ইত্যাদি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখুন যেন কম্পনের সময় গায়ের উপর পড়ে না যায়। আর টিভি, ক্যাসেট প্লেয়ার ইতাদি ভারী জিনিষগুলো মাটিতে নামিয়ে রাখুন।
• বিছানার পাশে সবসময় টর্চলাইট, ব্যাটারী এবং জুতো রাখুন।
• বছরে একবার করে হলেও ঘরের সবাই মিলে আসল ভূমিকম্পের সময় কী করবেন তার একটা ট্রায়াল দিন।

ভূমিকম্পের সময় করণীয়
নিচের পরামর্শগুলো বেশি কার্যকরী যদি ভবনে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা থাকেঃ
১। ভূমিকম্পের সময় বেশি নড়াচড়া, বাইরে বের হবার চেষ্টা করা, জানালা দিয়ে লাফ দেবার চেষ্টা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিত। একটা সাধারণ নিয়ম হল- এ সময় যত বেশি মুভমেন্ট করবেন, তত বেশি আহত হবার সম্ভাবনা থাকবে। আপনার ভবনে যদি ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা থাকে বা রেট্রোফিটিং করা থাকে তবে ভূমিকম্পের সময় বাসায় থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ।
২। আমেরিকান রেডক্রসের পরামর্শ অনুযায়ী- ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে উত্তম পন্থা হল ‘ড্রপ-কাভার-হোল্ড অন’ বা ‘ডাক-কাভার’ পদ্ধতি। অর্থাৎ কম্পন শুরু হলে মেঝেতে বসে পড়ুন, তারপর কোন শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নীচে ঢুকে কাভার নিন, এমন ডেস্ক বেছে নিন বা এমনভাবে কাভার নিন যেন প্রয়োজনে আপনি কাভারসহ মুভ করতে পারেন।
কোনো ভবন ভূমিকম্পরোধক হলে তা খুব কমই ধসে পড়ে; যেটা হয় তা হল আশেপাশের বিভিন্ন জিনিস বা ফার্নিচার গায়ের উপর পড়ে আহত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এগুলো থেকে বাঁচার জন্য এ সময় কোন শক্ত ডেস্ক বা টেবিলের নিচে ঢুকে আশ্রয় নেয়া জরুরী।
৩। ভূমিকম্পের সময় এলিভেটর/লিফট ব্যবহার পরিহার করুন।
৪। ভূমিকম্পের সময় যদি গাড়িতে থাকেন তবে গাড়ি বন্ধ করে ভেতরে বসে থাকুন। গাড়ির বাইরে থাকলে আহত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
৫। ‘মেইন শক’ বা মূল ভূমিকম্পের আগে এবং পরে মৃদু থেকে মাঝারি আরো কিছু ভূমিকম্প হতে পারে যেগুলো ‘ফোরশক’ এবং ‘আফটার শক’ নামে পরিচিত। সতর্ক না থাকলে এগুলো থেকেও বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। সাধারণত কোনো বড় ভূমিকম্পে ‘আফটার শক’ প্রথম ঘণ্টার মধ্য থেকে শুরু করে কয়েক দিনের মধ্যে হতে পারে।
৬। প্রথম ভূমিকম্পের পর ইউটিলিটি লাইনগুলো (গ্যাস, বিদ্যুত ইত্যাদি) একনজর দেখে নিন। কোথাও কোন লিক বা ড্যামেজ দেখলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন।

ধ্বংসস্তুপে আটকে পড়লে করণীয়

১। ধুলাবালি থেকে বাঁচার জন্য আগেই সাথে রুমাল বা তোয়ালে বা চাদরের ব্যবস্থা করে রাখুন।
২। ম্যাচ জ্বালাবেন না। দালান ধ্বসে পড়লে গ্যাস লিক হয়ে থাকতে পারে।
৩। চিৎকার করে ডাকাডাকি শেষ অপশন হিসেবে বিবেচনা করুন। কারণ, চিৎকারের সময় মুখে ক্ষতিকারক ধুলাবালি ঢুকে যেতে পারে। পাইপে বা ওয়ালে বাড়ি দিয়ে বা মুখে শিস বাজিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতে পারেন। তবে ভাল হয় সাথে যদি একটা রেফারির বাঁশি বা হুইসেল থাকে, তার প্রিপারেশন নিয়ে রাখুন আগেই।

তানভীর ইসলাম: নগর পরিকল্পনাবিদ ও সহকারী অধ্যাপক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জ্যাকসনভিল স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র।

১১ Responses -- “বাংলাদেশে ভূমিকম্প: ঝুঁকি, প্রস্তুতি ও করণীয়”

  1. Khabirul Haque Kamal

    আপনার অসাধারণ লেখাটি আমাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মাষ্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে বাংলাদেশের দুর্যোগাক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।

    তাই এ বিষয়ে আরও বেশি লেখা আশা করি।

    Reply
  2. Shamsun Noor Baig

    খুব সুন্দর উপদেশ দিয়েছেন। এগুলো সরকারের পালন করা উচিত।

    লেখককে ধন্যবাদ।

    Reply
  3. মিঠুন তলাপাত্র

    আপনাকে অভিনন্দন এইরকম সহজ ভাষায় একটি প্রতিবেদন করার জন্য। সুমাত্রা বা তার আশেপাশে কোন অংশ যদি সুনামি উৎপত্তির কারণ হয় তবে তার জন্য বাংলাদেশ খুব বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে না, তা আমি বেশ কয়েকটি গবেষণা থেকে জেনেছি।
    আমি যতদূর জানি বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে তখনি যখন আরাকান-মায়ান্মার এর subduction zone এ কোন সুনামির উৎপত্তি হয়ে থাকে। এই subduction zone কে নিয়ে খুব বেশি গবেষণা হয়েছে বলে জানা নেই। CDMPর প্রোগ্রাম এ গুরুত্ত পেয়েছিল সুমাত্রা ফল্ট, কারণ ওই স্থানটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। australian geologist cummin (2007) এই আরাকান-মায়ান্মার subduction zone কে বেশ গুরুত্ত সহকারে দেখেছিলেন। আমি এই জোনকে রিস্ক জোন ধরে নিয়ে পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম এর উপর খুবই সল্প পরিসরে কাজ করেছিলাম আমার BURP Dissertation এ। আপনি যদি এই সম্পর্কে কোন তথ্য শেয়ার করতে পারেন তাহলে খুবই ভাল হয়।

    মিঠুন তলাপাত্র

    Reply
    • তানভীর ইসলাম

      গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। নেচারের (Cummins, 2007) প্রবন্ধটি প্রকাশের পর জাপান ও মায়ানমারের গবেষকরা মায়ানমার সাবডাকশন জোনে ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশ ও মায়ানমার উপকূলে তার কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তারা সাবডাকশন জোনে চারটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সিনারিও বিবেচনা করে সুনামির যে সিমুলেশন করেন তার তিনটিতেই বাংলাদেশ ও মায়ানমার উপকূলে এর প্রভাব অতি সামান্য দেখতে পান (সর্বোচ্চ উচ্চতা ১ মিটারের নিচে)। চতুর্থ যে সিনারিওটি বিবেচনা করা হয়েছিলো সেটি ছিলো এক্সট্রিম এবং তার ভিত্তিতেও তাদের গবেষণায় দেখা যায় যে সর্বোচ্চ (৩.২৬১ মি) উচ্চতার সুনামি কেবলমাত্র মায়ানমারের পশ্চিম উপকূলকেই (রাখাইন কোস্ট) কিছুটা এফেক্ট করতে পারে। সিমুলেশনের ভিত্তিতে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে মায়ানমার সাবডাকশন জোনে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও তা বাংলাদেশ (এবং মায়ানমার) উপকূলকে তেমন ক্ষতিগ্রস্থ করবে না। গবেষণার বিস্তারিত নিচের লিংক থেকে দেখে নিতে পারেন-

      NUMERICAL SIMULATION OF TSUNAMI FOR SCENARIO EARTHQUAKES ALONG THE MYANMAR (BURMA) SUBDUCTION ZONE

      http://iisee.kenken.go.jp/syndb/?action=abstr&id=MEE09181&est=S&year=2010

      Reply
  4. গৌতম রায়

    আজকাল বিশেষজ্ঞ মানুষের লেখা পড়লেই ভয়ে থাকি- বারবার জার্গন কিংবা টেকনিক্যাল টার্মগুলোর কারণে হোঁচট খাই। সহজ কথা তারা সহজে বলতে অপছন্দ করেন। সেদিক দিয়ে এই লেখাটি ব্যতিক্রম। লেখককে ধন্যবাদ সুন্দরভাবে বিষয়টি উপস্থাপন, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার জন্য।

    Reply
  5. Pritam

    দয়া করে সঠিক সোর্স উল্লেখ করুন। ভূমিকম্প ঝুঁকি অঞ্চল এবং বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য ভূমিকম্প মাত্রা বিষয়ক ম্যাপ দুটো জি.এস.বি ( ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ) এর প্রস্তুতকৃত।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—