syllebus

নিউটন নাকি বলেছিলেন, তিনি সারা জীবন জ্ঞানসমুদ্রের উপকূলে নুড়িপাথর কুড়িয়েছেন। সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা যদি করতেই হয়, তবে সেই সমুদ্রটি হবে অজ্ঞানতার, যার উপকূলে জ্ঞানের দুয়েকটি নুড়িপাথর কুড়ানো অসম্ভব নাও হতে পারে। গড় বাঙালি যে এই নুড়িপাথর কুড়াতে খুব বেশি আগ্রহী নয়, তার প্রমাণ: ‘জানতে জানতে জানোয়ার’ অথবা ‘জানার কোনো শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই’ ইত্যাদি অর্বাচীন ও জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ।

অজ্ঞান সমুদ্রের উপকূলে আছড়ে পড়া জ্ঞানের ক্রমবর্ধমান নুড়িগুলোর মধ্যে কোন নুড়িগুলো নেহায়েত না কুড়ালেই নয়? মধ্যযুগ থেকে নুড়ি কুড়ানোর ইতিহাসের দিকে তাকানো যাক।

মধ্যযুগে ইউরোপের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সিংহভাগ জুড়ে থাকত ধর্মীয় শিক্ষা। একমাত্র পাঠ্যবই ছিল বাইবেল। ফরাসি দার্শনিক রাবলে (১৪৮৩-১৫৫৩) একান্তভাবে ধর্মভিত্তিক এই ‘মধ্যযুগীয়’ শিক্ষার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, গ্রিক, লাতিন, হিব্রু, (ব্যাবিলনের ভাষা) কালডিয়ান, আরবি এবং সমসাময়িক ভাষাগুলোসহ কমপক্ষে সাতটি ভাষা শিখতেই হবে।

‘গ্রিক যে জানে না সে কিসের জ্ঞানী?’ মুক্তকলা, জ্যামিতি, অংক, সংগীত, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, জ্যামিতি, আইন ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ছাড়াও শেখাতে হবে অস্ত্রবিদ্যা, অশ্বচালনা, ব্যায়াম ইত্যাদি। শিক্ষার্থীর শরীর ও মনন দুই-ই যেন সুগঠিত হয়। তবে জ্যোতিষশাস্ত্র এবং আলকেমির মতো ‘ভুয়া বিষয়’ শিখতে রাবলে শিক্ষার্থীদের নিষেধ করেছেন।

শিক্ষার্থীকে প্রচণ্ড কৌতূহলী হতে হবে, বলেছেন রাবলে। এমন কোনো সাগর বা নদী থাকবে না, যার মাছের নাম সে জানবে না। পৃথিবীর সব পাখি, সব গাছ, ঝোপঝাড়, বন, ঘাস-লতা-পাতা, প্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের যাবতীয় খনিজ ইত্যাদি সবকিছুই শিক্ষার্থীর নখদর্পণে থাকবে। এমন কোনো ইতিহাস, কাহিনি যেন না থাকে যা শিক্ষার্থীর অজানা। গ্রিক, আরব, রোমান, ইহুদি সব ঘরানার চিকিৎসাবিদ্যার পুস্তক তাকে পড়তে হবে, এমনকি মানবদেহ ব্যবচ্ছেদ করে শিক্ষার্থীকে অ্যানাটমিও শিখতে হবে। পাশে যে আছে, সে যেই হোক না কেন, তার প্রতি সেবার মনোভাব থাকতে হবে এবং তাকে নিজের মতো করে ভালোবাসতে হবে। যে সম্পদ ও ক্ষমতা ঈশ্বর আমাদের দান করেছেন তার বিন্দুমাত্র অপচয় করা চলবে না।

বোঝাই যাচ্ছে, রাবলের দৃষ্টিকোণ থেকে একেকজন শিক্ষার্থী হবে একেকটি চলমান বিশ্বকোষ। রাবলের প্রায় সমসাময়িক ফরাসি দার্শনিক মোঁতেইন (১৫৩৩-১৫৯২) শিশুদের এত কিছু শেখানোর পক্ষপাতী ছিলেন না। তিনি লিখেছেন:

“বহু কষ্টে, বহু সময় ব্যয় করে শিশুদের আমরা এমন সব জিনিস শেখাতে যাই, যেগুলো শেখা বা প্রয়োগ করার জন্যে প্রাকৃতিকভাবেই তারা উপযুক্ত নয়। সুতরাং সেইসব জ্ঞান ও দক্ষতার দিকে শিক্ষার্থীদের ধাবিত করতে হবে, যেগুলো তাদের জন্যে সর্বোত্তম এবং সর্বাধিক লাভজনক।”

 

books

 

রাবলের উপদেশ মতো কোনো ব্যক্তি তার ক্ষমতায় কুলালে সবকিছুই শিখুক, কিন্তু রাষ্ট্রকে (মোঁতেইনের উপদেশ অনুসারে) সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সর্বসাধারণের উচিত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সিলেবাস বা পাঠক্রমে কোন বিষয়গুলো না থাকলেই নয়। সিলেবাস রচনার সময় খেয়াল রাখতে হবে–

১. সর্বজনীন, ২. স্বদেশীয়, ৩. আঞ্চলিক এবং ৪. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে যেন শিক্ষার্থীর মানসিক সংযোগ ঘটে।

আমরা এমন চারটি বৃত্ত কল্পনা করি যাতে ক্ষুদ্রতর একটি বৃত্ত বৃহত্তর একটি বৃত্তের অন্তর্ভুক্ত হবে। ক্ষুদ্রতম বৃত্তটিতে প্রথমেই থাকবে সহমর্মীতা ও সহযোগিতা, অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া (বৌদ্ধধর্মে এর নাম ‘করুণা’)। আমি শুধু শিখব, অন্যেরা কেউ কিছু না শিখুক– এটা যে একটি অসুস্থ মানসিকতা সেই বোধটা শিক্ষার্থীর মনন ও আচরণের অংশ করে তুলতে হবে।

এই ডিজিটাল যুগে ক্লাসের ছাত্রেরা সবাই নিজের নিজের ল্যাপটপ, মোবাইল বা ট্যাবলেটে নোট নিতে পারে এবং সেই নোট প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অন্যদের স্ক্রিনে চলে আসতে পারে। সবাই একসঙ্গে নোট নিলে শিক্ষকের বক্তব্যের সবটুকু শিক্ষার্থীদের চোখের সামনে চলে আসবে। হাতের পাঁচ আঙুল সমান হয় না। কেউ হয়তো একটু ধীরে বোঝে, কেউ বোঝে একটু তাড়াতাড়ি। সহপাঠীদের সহায়তা করে সবাই একসঙ্গে শিখতে হবে।

জ্ঞান লুকিয়ে রাখার জিনিস নয়। শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দিতে হবে: শিক্ষা জিনিসটা ‘যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে!’ পরীক্ষায় কে কেমন করবে, কার কতটা মনে থাকবে, সেটা অবশ্য ভিন্ন ব্যাপার। কেউ একবারে পাস করবে, কেউ একাধিকবারে। একাধিকবার পরীক্ষা নিয়ে সবাইকে ভালো নম্বর পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে।

প্রথম বৃত্তে এছাড়া থাকবে কার্যকর যোগাযোগের পদ্ধতি (বলা এবং লেখা), বিজ্ঞান, অংক ও জ্যামিতির মতো সর্বজনীন বিষয়।

দ্বিতীয় বৃহত্তর বৃত্তে থাকবে স্বদেশের ভাষা সাহিত্য, দর্শন, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, ইতিহাস ইত্যাদি।

তৃতীয় ও চতুর্থ বৃহত্তর বৃত্তদুটিতে থাকবে যথাক্রমে আঞ্চলিক (অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশগুলোর) ও আন্তর্জাতিক ভাষা, সাহিত্য, দর্শন, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, ইতিহাস ইত্যাদি। ইতিহাসের জ্ঞান যেন খণ্ডিত বা একপেশে না হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একভাবে উপস্থাপিত হয় না। চীন বা কোরিয়ার উপর জাপানের অত্যাচারের উল্লেখমাত্র নেই জাপানের পাঠ্যবইয়ে। পাঠ্যপুস্তকে জাতীয় ইতিহাস খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে একেকজন অতি জাতীয়তাবাদী ‘জন্তু’তে পরিণত করা।

বার্ট্রান্ড রাসেল মনে করেন, দেশ ও বিদেশ– এই উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসকে বিচার করতে শেখাতে হবে শিক্ষার্থীদের।

পেশাদার ব্যক্তিদের সহায়তায় চতুর্বৃত্তের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিলেবাস তৈরি করে দেবেন এবং সেই সিলেবাস অনুসারে পাঠ্যপুস্তক রচনা করবে আগ্রহী এক বা একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। পণ্ডিতেরা পাঠ্যপুস্তকের রিভিউ লিখবেন। সেই রিভিউ পড়ে এবং নিজেদের বিবেচনায় যে পাঠ্যপুস্তক বিষয়বস্তু, মুদ্রণ, বাঁধাই ইত্যাদি দিক থেকে সর্বোচ্চমানের মনে হবে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সেই পাঠ্যপুস্তকটিই সংগ্রহ করবে।

ভিন্ন ভিন্ন বিদ্যালয় ভিন্ন ভিন্ন পাঠ্যপুস্তক ব্যবহার করতে পারে। ফ্রান্স ও কানাডায় এমনটাই হতে দেখেছি। সরকার নিজে পাঠপুস্তক না ছাপিয়ে প্রত্যেক ছাত্র বা বিদ্যালয়কে পাঠ্যপুস্তক কেনার অর্থ সরবরাহ করতে পারে। সরকার যত বেশি দায়িত্ব নিজের মাথায় নেবে তত বেশি দুর্নীতি ও অপচয় হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

আমরা কি কখনও দেখেছি, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলোতে ভাষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান বা ইতিহাসের সিলেবাসে কী থাকে, বা কীভাবে সেখানে এসব বিষয় পড়ানো হয়? আমরা কি জানতে চেয়েছি ফিনল্যান্ড, জাপান, রাশিয়া বা আফ্রিকায় কীভাবে যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অংক শেখানো হয়। শিক্ষাদানের একাধিক পদ্ধতির মধ্যে তুলনা করলে আমরা জানতে পারতাম, কোন জাতির বা কোন দেশের শিক্ষণপদ্ধতি অধিকতর কার্যকর। বাংলাদেশে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে চলেছে। পরীক্ষায় নকল হয়েই চলেছে। আমরা কি কখনও জানতে চেষ্টা করেছি, অন্যান্য দেশ এই সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করেছে?

সিলেবাস নিয়ে তারই কথা বলা উচিত, যার কথা বলার মতো জ্ঞান ও যোগ্যতা আছে। জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনে চীনে গিয়ে আমি কীভাবে আশা করতে পারি যে চীনাদের কোনো জ্ঞান আমার রুচি বা ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করবে না? নিজের বিশ্বাস বা রুচির সঙ্গে মেলে না– এমন কিছু যদি আমি না-ই শিখি, না-ই জানি, তবে চীনে গিয়েই বা কী লাভ? পান থেকে খসে পড়া চুনের আঘাতে ধর্মবিশ্বাসের সরা যদি হরহামেশা ভেঙে যায়, তবে আর যা-ই হোক, জ্ঞানচর্চা হবে না।

রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ইউরোপে যখন অন্ধকার যুগ নেমে এসেছিল তখন সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, সিসেরো, ওভিড ইত্যাদি গ্রিক-রোমান লেখকদের কথা সবাই ভুলেই গিয়েছিল। আরবেরা এই মনীষীদের রচনা আরবি ভাষায় অনুবাদ করে, টীকাভাষ্য রচনা করে প্রায় চারশ বছর ধরে ইউরোপের হারিয়ে যাওয়া জ্ঞানের চর্চা অব্যাহত রেখেছিল। একাদশ-দ্বাদশ শতকে ক্রুসেড যুদ্ধ করতে এসে ইউরোপীয়রা আরব মনীষীদের দ্বারা সযত্নে রক্ষিত গ্রিক-রোমান জ্ঞানশিখাটির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হয়েছিলেন। এই পরিচয়ের সূত্রে ইউরোপে আবার পুরোদমে গ্রিক-রোমান জ্ঞানচর্চা শুরু হয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় পঞ্চদশ-ষোড়শ-সপ্তদশ শতকে পুনর্জাগরণ এবং আজকের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজের সূচনা হয়েছে।

আরবেরা যদি বলত, তারা মূর্তিপূজক বা নাস্তিক গ্রিক ও রোমান পণ্ডিতদের লেখা পড়বে না, অথবা ইউরোপীয়রা যদি বলত, তারা বিধর্মী মুসলমানদের রচনা এড়িয়ে চলবে, তাহলে পুনর্জাগরণ কি আদৌ সম্ভব হত? সিলেবাসে কোনো রচনা অন্তর্ভুক্তির সময় লেখক কোন ধর্মের বা কোন তরিকার সেটা না দেখে বরং দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট রচনাটি উপরে উল্লেখিত চতুর্বৃত্তের কোনোটির সঙ্গে যুক্ত কি না।

ভূতের পা নাকি থাকে গোড়ালির উল্টো দিকে এবং সে কারণে এগোতো গেলেই ভূতেরা পিছিয়ে যায়। লেখক হিন্দু বা নাস্তিক, লেখায় মূর্তিপূজা বা নাস্তিক্যবাদের ছোঁয়া আছে– এসব হাস্যকর অজুহাতে যারা কোনো বিশেষ রচনা না পড়ার বা না পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তারা জ্ঞানচর্চার আরব ও ইসলামি ঐতিহ্যের সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে অগ্রসর না হয়ে ভূতের মতো উল্টো দিকে হাঁটছে।

 

book-alphabets-study-learning-159771

 

বহু শতকের ধর্মীয় দাঙ্গার পটভূমিতে সংগঠিত ফরাসি বিপ্লবের সূচনা থেকেই রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফ্রান্স, কানাডা বা অন্য অনেক পাশ্চাত্য দেশে খ্রিস্টান, ইহুদি এবং ইদানীং ইসলামি ভাবধারার স্কুল রয়েছে, কিন্তু এসব স্কুলে সরকার কোনো অর্থসাহায্য দেয় না, স্কুল পরিচালনার ব্যাপারে খুব একটা খবরদারিও করে না। যে স্কুলেই শিক্ষার্থী বিদ্যালাভ করুক না কেন, তাকে রাষ্ট্রের মাধ্যমিক (আমাদের দেশে উচ্চমাধ্যামিক) পরীক্ষায় পাস করতেই হয়।

বলা বাহুল্য, পরীক্ষা হয় রাষ্ট্রভাষায়: ফরাসি, ইংরেজি, জার্মান, স্পেনিস চেক, ইত্যাদিতে। এছাড়া বাধ্যতামূলক অংক, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সাহিত্য ইত্যাদি বিষয়ও সবাইকেই পড়তে হয়, যার ফলে সব শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্ঞান ও দক্ষতার সমতা নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয়।

বাংলাদেশেও সরকারগুলো ইতোপূর্বে বেসরকারি মাদ্রাসার ব্যাপারে খুব একটা মাথা ঘামাত না, যার মানে হচ্ছে, অন্ততপক্ষে শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা রাখার আধুনিক ঐতিহ্য অনুসরণ করত। কিছুদিন আগে সরকার এই ঐতিহ্য থেকে সরে এসে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অনেক মনে করেন (রাজনৈতিক উদ্দেশ্য যা-ই হোক), এটা বর্তমান সরকারের একটা ভালো উদ্যোগ, কারণ, এর ফলে বিশাল একটি জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের নজরদারিতে আসবে। মাদ্রাসার ছাত্ররা এমন কিছু ভিনগ্রহের প্রাণী নয়, তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রেরই নাগরিক। সুতরাং তাদেরও রাষ্ট্রের মনোযোগ ও সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

আরবি একবচন ‘মাদ্রাসা’ (বহুবচন ‘মাদারিস’) শব্দের অর্থ নিছক ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’, ‘ইসলাম ধর্মশিক্ষার প্রতিষ্ঠান’ নয়। মধ্যপ্রাচ্যে আরবিভাষী খ্রিস্টান ও ইহুদিদেরও মাদ্রাসা ছিল, সাম্প্রদায়িক হামলার ডামাডোলে এখনও হয়তো কয়েকটি অবশিষ্ট আছে। যে কোনো ধর্মের অনুসারীর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হতে বাধা নেই।

শুনেছি, রাজা রামমোহন রায় মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। কওমি মাদ্রাসাগুলো যদি উচিত শিক্ষার অলঙ্ঘনীয় শর্ত: রাষ্ট্রভাষায় লেখা ও পড়া, বিজ্ঞান, অংক, অর্থনীতি, নীতিশিক্ষা, ইংরেজি ভাষা ইত্যাদি শেখানোর শর্ত পূরণ করতে না পারে, তবে নামকা ওয়াস্তে সরকারি স্বীকৃতিতে কোনো ফায়দা হবে না। সিলেবাসের অপরিহার্য অংশে যদি মিল থাকে তবে স্কুল আর মাদ্রাসার মধ্যে তেমন তফাৎ থাকার কথা নয়।

আন্তর্জালে একাধিকবার দেখেছি, পশ্চিমবঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০% ভাগের কাছাকাছি হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তারা অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে আরবি ভাষা শিখছে, ইসলাম সম্পর্কেও কমবেশি জ্ঞান অর্জন করছে। মাদ্রাসা বা সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন দর্শন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে বাধা কোথায়? বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন ‘মানব-দর্শন’, ‘নীতিশাস্ত্র’ ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হয় না, যেখানে সবগুলো ধর্ম, দর্শন, নীতিবোধ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা থাকবে?

প্রতিবেশীকে জানি না, বুঝি না বলেই আমরা সাম্প্রদায়িক এবং কূপমণ্ডূক হই। প্রতিবেশীর ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক জেনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকেরা একেকজন কাজী নজরুল ইসলামের মতো ‘অতিসাম্প্রদায়িক’ ব্যক্তি হয়ে উঠুক। একজন অতিসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি দেশের/পৃথিবীর সব সম্প্রদায়কে জানবেন, ভালোবাসবেন এবং নিজের মধ্যে ধারণ করবেন, নজরুল যেমনটা করতেন।

ইসলামের স্বর্ণযুগে বাগদাদ বা কর্ডোভায় আরবরা কি গ্রিক-রোমান ধর্ম ও দর্শনকে ‘বেদাত’ বিবেচনা করে সজ্ঞানে পরিহার করতেন? সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জ্ঞান বিচার করার অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যে শিক্ষার বদৌলতে মানুষ নিজের ধর্ম মানে, নিজের সংস্কৃতির চর্চা করে, কিন্তু একইসঙ্গে পরের ধর্ম, দর্শন ও সংস্কৃতি সম্পর্কেও সম্যক ওয়াকিবহাল থাকে তাকেই আমরা বলতে পারি ‘উচিত শিক্ষা’।

শিশির ভট্টাচার্য্যঅধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১২ Responses -- “উচিত শিক্ষা-৫: সিলেবাসে কী থাকা উচিত?”

  1. Qudrate Khoda

    খুব ভাল লেখা নিঃসন্দেহে, কিন্তু দুঃখজনক, জনৈক “হৃদয়ে বাংলাদেশে”র মন্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপ্রাসঙ্গিক।

    Reply
  2. abdul Kader

    খুবই সুন্দর বলেছেন। বিটিশ আমল থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২ ভাভে বিভক্ত হয়। যার ফসল/আগাছা এখনো যায় নি। তবে সরকার এর উদ্ধেগ ১ম ধাপ….. শেষ টা পয়ন্ত অপেক্ষা করা উচিত আমাদের।

    Reply
  3. মো: ছায়েদ উজ্জামান

    চারুকলা পরীক্ষা বন্ধ হলে কি সৃজনশীলতার চর্চা কমবেনা? হৃদয়ে বাংলাদেশকে কতটুকু ভালবাসি তা যদি ছবি একেঁ না বুঝাতে পারি তা কি হয়?

    Reply
  4. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    ইসলামি স্বর্ণযুগ ৬২২ সালে মদিনায় প্রথম ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি শক্তির উত্থানের সময় থেকে শুরু হয়। ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের দ্বারা বাগদাদ অবরোধের সময়কে এর শেষ ধরা হয়। ১৪৯২ সালে ইবেরিয়ান উপদ্বীপের আন্দালুসে খ্রিষ্টান রিকনকোয়েস্টার ফলে গ্রানাডা আমিরাতের পতনকেও এর সমাপ্তিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়। আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদের (৭৮৬-৮০৯) সময় বাগদাদে বাইতুল হিকমাহর প্রতিষ্ঠার ফলে জ্ঞানচর্চার প্রভূত সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফাতেমীয় যুগে (৯০৯-১১৭১) মিশর সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং উত্তর আফ্রিকা, সিসিলি, ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, আফ্রিকার লোহিত সাগর উপকূল, তিহামা, হেজাজ ও ইয়েমেন এর অন্তর্গত ছিল। এই যুগে মুসলিম বিশ্বের রাজধানী শহর বাগদাদ, কায়রো ও কর্ডো‌বা বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, বাণিজ্য ও শিক্ষার বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। [১] আরবরা তাদের অধিকৃত অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ছিল। হারিয়ে যেতে থাকা অনেক ধ্রুপদি রচনা আরবি ও ফারসিতে অনূদিত হয়। আরো পরে এগুলো তুর্কি, হিব্রু ও ল্যাটিনে অনূদিত হয়েছিল।

    Reply
  5. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    রাসায়নিক শাস্ত্রকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রাচীন লোকের ভ্রান্ত ধারণা থেকে উদ্ধার করে পরিপূর্ণ বিজ্ঞান হিসেবে উন্নত করতে মুসলিম বৈজ্ঞানিক জাবির ইবনে হাইয়ানের অভূতপূর্ব অবদান। জার্মান পন্ডিত j Ruska, Paul Kraus, ইংল্যান্ডের E j Holnyard এবং আমেরিকার G Sarton স্বীকার করেন যে, জাবির ইবনে হাইয়ান ছিলেন পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাসায়নিক। ইবনে নাদিমের মতে জাবির (Geber) ২ হাজারেরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন; তার মধ্যে রয়েছে ২৬৭ খানা গ্রন্থ রসায়নশাস্ত্র নিয়ে রচিত। জাবির কুফায় একটি Laboratory স্থাপন করেন, তার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অসাধারণ কৃতিত্বে সৃষ্টি হয় কিমিয়া বা ক্যামেস্ট্রি।

    মধ্যযুগে চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে গভীর সাধনা করেন ইবনে সিনা, ইবনে জাহর, আল জাহরাওয়ি, উবায়দুল্লা জেব্রিল, আলী ইবনে সহল রব্বান আল-তাবায়ি, আল রাজি, আলি বিন-আব্বাস ও আল মজসি। চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে ইবনে সিনার লিখিত গ্রস্থ ‘আল কানুন’কে চিকিৎসাশাস্ত্রের বাইবেল বলা হয়।

    আরববাসীর মধ্যে গণিতশাস্ত্রে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন খারিজমি ও ইবনে মুল্লাহ। খারিজমির লিখিত ‘হিসাবুল জবর ওয়াল মুকাবল’ গ্রন্থটি সর্বপ্রথম বীজগণিতের পাঠ্যপুস্তকরূপে সমাদৃত হয়। পৃথিবী যে গোল তাও তিনি ১১৮৬ সালে তার রচিত ‘সুরাত আল আরদ’ নামক গ্রন্থ দ্বারা প্রমাণ করে দেখান। তাছাড়া ইবনে মুসা একাধারে গণিতবিদ, ভূগোলবিদ, জ্যোতির্বিদ ও দার্শনিক ছিলেন। ৮৫০ সালে তিনিই প্রথম মানচিত্রের ব্যবহার দেখান।

    Reply
  6. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    ইসলামে জ্ঞানবিজ্ঞানের মান-মর্যাদায় অনুপ্রাণিত হয়ে মধ্যযুগের মুসলমানরা আপন হৃদয়ের জ্ঞানরূপ আলোকবর্তিকা দিয়ে পৃথিবীর সব জ্ঞানভান্ডার আহরণ করে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেন। মুসলিম বৈজ্ঞানিকরা লোহাকে সোনা করার অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন যদিও তা সম্ভব হয়নি তথাপি এ গবেষণা সূত্রপাত করল নব উপাদান আবিষ্কারের। খলিফা মনসুর, হারুন আল রশিদ, মামুন, মালিক শাহ প্রমুখের সময় জ্ঞানবিজ্ঞানের এহেন সাধনা চরমে পৌঁছেছিল। বাগদাদ, মিসর, মরক্কো, স্পেন, পারস্য, সিসিলি, গ্রানাডা প্রভৃতি স্থান ছিল সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, ভূগোল, উদ্ভিদবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, অঙ্ক, বিজ্ঞান, বীজগণিত, জ্যামিতি, চিকিৎসাশাস্ত্র, সামরিক শিক্ষা, তফসির, হাদিস, ফিকাহ, শিল্পকলা, নৌবিদ্যা, শিল্প বাণিজ্য ইত্যাদি শিক্ষা লাভের প্রাণকেন্দ্র। সংক্ষেপে বলতে গেলে ইউরোপে যখন জ্ঞানের আলো পৌঁছেনি তখনও আরববাসী জ্ঞানবিজ্ঞানে ছিলেন অনেক পারদর্শী।

    Reply
  7. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    ৭১২ সালে আরবরা যখন ভারতের সিন্ধু মুলতান ও পাঞ্জাব জয় করে তখন থেকে আরব জাতি ভারতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। আলবেরুনি মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে সংস্কৃত ভাষায় পান্ডিত্য লাভ করে আরবি ভাষায় সংস্কৃতের অনেক নীতিমূলক গল্প ও তত্ত্ব তুলে ধরেন। বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতাও এক্ষেত্রে ভারতের মান-মর্যাদা পৃথিবীর মানুষের সম্মুখে তুলে ধরেছেন। তাছাড়া আলবেরুনি ‘আল-হিন্দ’ গ্রন্থটি বিশ্বে আলবেরুনির ইন্ডিয়া নামে পরিচয় লাভ করে। গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসা শাস্ত্র, ভূগোল, ইতিহাস নিয়ে গভীর সাধনা করেন আলবেরুনি।

    Reply
  8. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    মুসলিম মনীষীদের মধ্যে ওমর খৈয়ামের দান অতুলনীয়। তিনি গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ ও প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন। আরববাসীর মধ্যে দর্শন নিয়ে গভীর সাধনা করে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছেন ইমাম গাজালি, আল ফারাবি, ইবনে সিনা এবং আলকিন্দি। মালিক শাহ নিজামুল মুলকের সরকারের নিয়ম কানুন ও কৌশল সংক্রান্ত ‘সিয়াসত নামা’ গ্রন্থটি রাজনীবিদদের পথ প্রদর্শনস্বরূপ।
    খলিফা মনসুর পৃথিবীর প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর আরবি ভাষায় অনুবাদ বিভাগ স্থাপন করেন। খলিফা হারুন ও মামুনের সময় তা আশাতীত প্রসার লাভ করে। মামুন লুকের ছেলে কাতাকে আর্কিমিডিস, ইউক্লিড, অ্যারিস্টটল, প্লেটো, গ্যালন প্রমুখ গ্রিক মনীষীদের গ্রন্থাবলি অনুবাদের পদে নিযুক্ত করেন।
    পন্ডিত হোসাইনকে বিদেশি বিজ্ঞানের গ্রন্থাবলি, আহয়া নামক পারসিককে ফারসি গ্রন্থাবলি এবং ভারতের ব্রাহ্মণ দুবানকে সংস্কৃত ভাষায় মূল্যবান গ্রন্থ অনুবাদের জন্য নিয়োগ করেছিলেন। তিনি ‘বায়াতুল হিকমা’ বাগদাদে স্থাপন করে ন। প্রসিদ্ধ জ্যোর্তিবিদ মোহাম্মদ-বিন-ইব্রাহিম আল ফাজারি খলিফা মামুনের অনুরোধে ভারতীয় জ্যোর্তিবিদ্যার ‘সিদ্ধান্ত’ গ্রন্থটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করেন।

    Reply
  9. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    প্রিয় নবীর (সা.) একটি সুবিখ্যাত উক্তি, ‘আমার শিক্ষার একটি বাণী হলেও তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়ো’ (বুখারি)। প্রকৃতপক্ষে ইসলামের বাণী ও বার্তা পৌঁছাতে মুসলমানদের জাহাজ ক্যান্টন বন্দরের শান্ত ভূমিতে নোঙর করেছিল। কিন্তু স্থাপত্য, প্রযুক্তি, ঐতিহ্য ও আধুনিকতায় চীন কত যে বিশাল তা বলাই বাহুল্য। এখানেই বোঝা যায় চীন ভ্রমণের তাৎপর্য। যার আরেক নমুনা ‘মহা প্রাচীর’। জানা যায়, খ্রিস্টের জন্মের ২০৮ বছর আগে শুরু হয়ে পাঁচ দফায় এ মহা প্রাচীর তৈরি হয়। তিন লাখ শ্রমিকের ৩০০ বছরের অর্থহীন অমূল্য শ্রম-ঘামে এ প্রাচীর নির্মাণকালে দুর্ঘটনায় প্রাণ দেয় লক্ষাধিক শ্রমিক। এখানে এসে বিশেষভাবে বলার বিষয় হলো, পবিত্র কোরআনে আছে—‘হে জুলকারনাইন! তারা বলে/ ইয়াজুজ মা’জুজের অশান্তি চলে। আমাদের দেশের এই অভ্যন্তরে/ করো কিছু মোদেরে দিন ধার্য করে/প্রাচীর যাহা দ্বারা তৈরি করিয়া/ তারাও মোদের মাঝে দিন রাখিয়া। ’ (কাব্যনুবাদ, সুরা কাহাফ : ৯৪)

    বস্তুত চীনে মুসলমানদের অস্তিত্ব ও বিস্তার প্রিয় নবী (সা.)-এর চীন সম্পর্কিত বাণীর সার্থক প্রতিফলন, যা তাঁর ‘জীবন্ত মুজিজা’ ও বিশ্বজনীন উদারতার পরিচায়ক। এরই মাধ্যমে ইসলাম পেয়েছে বিশ্বধর্মের মর্যাদা ও মুসলমানরা হয়ে উঠল বিশ্ব নাগরিকত্বের দাবিদার। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশেরও রয়েছে চমৎকার বন্ধুত্বের সম্পর্ক। বাংলাদেশে হাদিস চর্চার বিকাশে চীনের বিখ্যাত আলিম আল্লামা আবদুর রহমান কাশগরির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকার একটি হলের নামকরণ হয়েছে ‘আল্লামা কাশগরি (রহ.)’ হল। এখানেই কবির কণ্ঠে শোনা যায় সাম্যের বিজয়গাঁথা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের অমীয় বার্তা—‘ভারত চীন আরব ভূমি/ মুসলিম আমি—/সারা বিশ্বই আমার জন্মভূমি’ (ভাবানুবাদ—আল্লামা ইকবাল)।

    Reply
  10. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    কাগজ, ছাপাখানা, কম্পাস, বারুদ, ক্যালকুলেটর, প্যারাসুট, চা, চিনি, সিল্ক ইত্যাদি বিশ্বসভ্যতার প্রয়োজনীয় অনেক কিছুরই উদ্ভাবক চীন। খনিজ সম্পদ আহরণ তথা পেট্রোলিয়াম, কয়লা আবিষ্কার ও ব্যবহার শুরু করে তারা। তারাই আধুনিক ফুটবল, গলফ ও দাবা খেলার প্রচলন করে।

    কল্যাণকর বিদ্যায় চীনের ভূমিকায় প্রিয় নবী (সা.)-এর উৎসাহের তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া যায়। কেননা তিনি বলেন, ‘জ্ঞানের কথা জ্ঞানীর হরানো মহামূল্যবান ধন, তা সে যেখানেই পাবে, তা গ্রহণ করার অধিকার আছে তার। ’ (ইবনে মাজাহ) আবিষ্কার উদ্ভাবনে অগ্রণী ভূমিকা, চীনের আধুনিকতা বা এর প্রাচীর ও বিশালত্বের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    জ্ঞানের প্রয়োজনে চীন ভ্রমণের নির্দেশ প্রিয়নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায়ই কার্যকর হয়। আর প্রাথমিক যুগের মুসলমান মাত্রই চীন যাওয়া গৌরবের বিষয় মনে করায় চীনে ইসলাম বিস্তার সম্ভব হয়। ভারতের বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক সাইয়েদ সুলাইমান নদভী, তাঁর বিখ্যাত ‘আরব ওয়া হিন্দ কি তাআল্লুকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ‘মিসর থেকে সুদূর চীন পর্যন্ত প্রলম্বিত দীর্ঘ নৌপথে আরবরা যাতায়াত করতেন। মালাবর উপকূল হয়ে তাঁরা চীনের পথে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতেন। ’

    Reply
  11. হৃদয়ে বাংলাদেশ

    নবী (স:) বলেছেন জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনে সূদুর চীনে যাও।এটা নিশ্চিত যে– চীনা সভ্যতা তখনও বিশ্বের মধ্যে উন্নত ছিল বিধায় নবীজির মূখে চীনের কথাটি এসেছে। তুলেছিলেন।এখানে দেখা যায় নবীজিও আধুনীক বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করেছিলেন।কোরানকে জানার জন্য গভেষনার জন্যেও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি থেকে নবীজি উক্ত হাদিছ দিয়েছিলেন।সবচেয়ে বড় ব্যাপারটি হচ্ছে কোরান গভেষনালব্দ ফলাফল মানুষের কল্যানে কাজে লাগানোর জন্যেও বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা তিনি উপলব্দি করেছিলেন।তিনি কখনই নৈরাশ্য বাদীতাকে ইসলামী জীবন বিধানে স্থান দেননি। কোরান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান ইহা প্রতিষ্ঠিত সত্য।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—