Indigenous People - 222

১.

একটা দেশ কেমন চলছে সেটা বোঝার উপায় কী? জ্ঞানী-গুণী মানুষদের নিশ্চয়ই এটা বের করার নানা উপায় আছে। তারা অর্থনীতির দিকে তাকাবেন; দেশের আইন-শৃঙ্খলা বিবেচনা করবেন; দুর্নীতির পরিমাপ করবেন; দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যাচাই করবেন এবং আরও অনেক কিচু বিশ্লেষণ করে একটা রায় দেবেন।

আসলে দেশ কেমন চলছে সেটা বের করা খুবই সহজ। দেশের একজন সংখ্যালঘু মানুষকে নিরিবিলি জিজ্ঞেস করবেন, ‘দেশটি কেমন চলছে?’ সেই সংখ্যালঘু মানুষটি যদি বলেন ‘দেশ ভালো চলছে’, তাহলে বুঝতে হবে দেশটি ভালো চলছে। আর সেই মানুষটি যদি ম্লান মুখে মাথা নেড়ে বলেন ‘দেশটি ভালো চলছে না’, তাহলে বুঝতে হবে দেশ আসলেই ভালো চলছে না।

দেশে দশটা পদ্মা সেতু, এক ডজন স্যাটেলাইট আর দশ হাজার ডলার পার ক্যাপিটা আয় হলেও যদি সংখ্যালঘু মানুষটি বলেন ‘দেশ ভালো নেই’ তাহলে বুঝতে হবে, আসলেই দেশ ভালো নেই।

(সংখ্যালঘু শব্দটি লিখতে আমার খুব সংকোচ হয়। সবাই একই দেশের মানুষ। এর মাঝে কেউ কেউ সংখ্যাগুরু, কেউ কেউ সংখ্যালঘু, সেটি আবার কেমন কথা! কিন্তু আমি সে কথাটি বলতে চাইছি সেটি বোঝানোর জন্যে এই শব্দটি ব্যবহার করা ছাড়া উপায় ছিল না।)

এখন যদি আমরা এই দেশের একজন হিন্দু, সাঁওতাল বা পাহাড়ি মানুষকে জিজ্ঞেস করি ‘দেশ কেমন চলছে’ তারা কী বলবেন? নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে সবাইকে ঘরছাড়া করা হয়েছিল। গাইবান্ধায় পুলিশেরা সাঁওতালদের ঘরে আগুন দিচ্ছে, পত্রপত্রিকায় সেই ছবি ছাপা হয়েছে। সর্বশেষ হচ্ছে রাঙামাটিতে লংগদুর ঘটনা। পাহাড়ি মানুষদের বাড়ি জ্বালিয়ে তাদের সর্বস্ব লুট করে নেওয়া হয়েছে।

প্রাণ বাচাঁনোর জন্যে যে মা তার সন্তানদের বুকে চেপে ধরে মাইলের পর মাইল পাহাড় অতিক্রম করে জঙ্গলে লুকিয়ে আছেন, বৃষ্টিতে ভিজেছেন, রৌদ্রে পুড়েছেন, অভুক্ত থেকে মশার কামড় খেয়ে প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে চমকে চমকে উঠেছেন– আমি যদি তাকে বলি ‘বাংলাদেশ অনেক বড় সম্ভাবনার দেশ, এবারে উন্নয়নের বাজেটটাই হয়েছে চার লক্ষ কোটি টাকার, পদ্মা ব্রিজের চল্লিশ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে, আগামী মাসে আমাদের নিজস্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হবে– সেই অসহায মা কি আমার কথা শুনে শূন্য দৃষ্টিতে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকবেন না? তাঁকে কি আমি কোনোভাবে বুঝাতে পারব আমাদের অনেক কষ্ট করে, যুদ্ধ করে, রক্ত দিয়ে পাওয়া দেশটি স্বপ্নের একটি দেশ?

আমি তাঁকে কিংবা তাঁর মতো অসংখ্য পাহাড়ি মানুষকে সেটি বোঝাতে পারব না। তাদের কাছে এই দেশটি হচ্ছে একটি বিভিষীকা যেখানে প্রকাশ্যে হাজার হাজার মানুষ এসে পুরোপুরি নিরপরাধ মানুষের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। তাদের রক্ষা করার কেউ নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে থেকে এই ঘটনাগুলো ঘটতে দেয়। এই ঘটনাগুলি ঘটবে সেটি সবাই আঁচ করতে পারে, তারপরও কেউ সেটা থামানোর চেষ্টা করে না।

 

Chakma people - 444

 

আমি নিজেকে এই পাহাড়ি মানুষদের জায়গায় বসিয়ে পুরো বিষয়টা কল্পনা করে আতঙ্কে শিউরে উঠেছি।

পৃথিবীতে অন্যায় কিংবা অপরাধ হয় না তা নয়। আমরা প্রতি মুহূর্তেই আমাদের চারপাশে এগুলো দেখছি। কিন্তু লংগদুর ঘটনাটা ভিন্ন। যুবলীগের একজন কর্মীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কে মেরেছে ঠিকভাবে জানা নেই। প্রচার করা হল, দুজন চাকমা তরুণ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের শাস্তি দেওয়ার জন্যে বেছে নেওয়া হল পুরোপুরি নির্দোষ কিছু পাহাড়ি গ্রামবাসীকে। একজন দুইজন ক্রুদ্ধ মানুষ নয়, হাজার হাজার সংগঠিত মানুষ পেট্রোলের টিন আর ট্রাক্টর নিয়ে হাজির হল। পেট্টল দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে আগুন দেওয়া হল। ট্রাক্টর ব্যবহার করা হল লুট করা মালপত্র বোঝাই করে নেওয়ার জন্যে।

বিচ্ছিন্ন একজন কিংবা দুইজন মানুষ বাড়াবাড়ি কিছু একটা করে ফেলেছে সেটি বিশ্বাস করা যায়। কিন্তু কয়েক হাজার মানুষ মিলে একটা ভয়ংকর অন্যায় করার জন্যে একত্র হয়েছে, সেটা আমরা বিশ্বাস করি কেমন করে?

কিন্তু আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। কারণ আমরা বার বার এই ঘটনা ঘটতে দেখেছি। আমরা কেমন করে এত হৃদয়হীন হয়ে গেলাম!

২.

আমরা জানি কিছুদিন আগেও আমাদের ছেলেমেয়েদের পাঠ্যবইয়ে আদিবাসী মানুষদের সম্পর্কে অনেক ধরনের অসম্মানজনক কথা লেখা থাকত। সচেতন মানুষেরা একটি একটি করে বিষয়গুলো সবার চোখের সামনে এনেছেন। তখন সেগুলো ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু একটা প্রশ্ন তো আমরা করতেই পারি, এই পাঠ্যবইগুলো তো হেজিপেজি অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, রুচিহীন, বুদ্ধিহীন মানুষেরা লিখেন না– এই বইগুলো লিখেন গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা। তাহলে পাঠ্যবইগুলোতে এরকম অবিশ্বাস্য সাম্প্রদায়িক কথা কেমন করে লেখা হয়? কেমন করে আদিবাসী মানুষদের এত অসম্মান করা হয়?

কারণটা আমরা অনুমান করতে পারি। আমরা যাদেরকে বড় বড় শিক্ষিত মানুষ হিসেবে ধরে নিয়েছি তাদের মনের গভীরে লুকিয়ে আছে সংকীর্ণতা। যারা ‘আমার মতো নয়’ তারা অন্যরকম। তার মানেই নাক শিটকে তাকানো।

অথচ পুরো ব্যাপারটাই আসলে ঠিক তার বিপরীত। সারাজীবনে আমি যদি একটা বিষয় শিখে থাকি তাহলে সেটা হচ্ছে, একটা উপলদ্ধি যে, ‘বৈচিত্রই হচ্ছে সৌন্দর্য’। কোনো মানুষ কিংবা সম্প্রদায় যদি অন্যরকম হয়ে থাকে তাহলে সেটা হচ্ছে বৈচিত্র্য এবং সেই বৈচিত্র্যটুকুই সৌন্দর্য।

পৃথিবীতে অনেক সৌভাগ্যবান দেশ রয়েছে যেখানে অনেক দেশের অনেক মানুষ পাশাপাশি থাকেন। তারা দেখতে ভিন্ন, তাদের মুখের ভাষা ভিন্ন, তাদের কালচার ভিন্ন, ধর্ম ভিন্ন, খাবার কিংবা পোশাক ভিন্ন। আমরা সেদিক থেকে অনেক দুর্ভাগা। আমাদের দেশে মানুষের মাঝে সেই বৈচিত্র্য নেই। ঘর থেকে বের হয়ে আমরা যেদিকেই তাকাই সেদিকেই আমরা একই রকম মানুষ দেখতে পাই– তাদের মুখের ভাষা, চেহারা, পোশাক কোনো কিছুতে পার্থক্য নেই।

আমাদের দেশের একটুখানি ভিন্ন ধরনের মানুষ হচ্ছেন সাঁওতাল কিংবা গারো মানুষ, পাহাড়ি মানুষ। এই মানুষগুলোকে আমাদের বুক আগলে রাখার কথা, অথচ আমরা তাদের অবহেলা করি।

আমাদের পরের প্রজন্মকে শেখাতে হবে পৃথিবীর সৌন্দর্য হচ্ছে বৈচিত্র্য। সারা পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হচ্ছে ‘ডাইভারসিটি’। একটি দেশের যত বেশি ডাইভারসিটি সেই দেশটি তত সম্ভবনাময়। নূতন পৃথিবী আধুনিক পৃথিবী। আধুনিক পৃথিবীর মানুষেরা একে অন্যের সাথে বিভেদ করে না। শুধু যে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করে না তা নয়, গাছ-ফুল-পশু-পাখি সবাই মিলে যে একটা বড় পৃথিবী এবং সবার যে পাশাপাশি বেঁচে থাকার অধিকার আছে সেটিও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে।

অথচ আমরা সবিস্ময়ে দেখতে পাই একজন দুইজন নয়, কয়েক হাজার মানুষ মারমুখী হযে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। কী তাদের অপরাধ? তাদের অপরাধ, সেই মানুষগুলো আমাদের থেকে একটু ভিন্ন।

৩.

আমার শৈশবটি কেটেছে বাংলাদেশের নানা এলাকায়। বাবা পুলিশের অফিসার হিসেবে দুই তিন বছর পর পর নূতন জায়গায বদলি হযে যেতেন। সেই সুযোগে আমরা বাঙামাটি আর বান্দরবান এই দুই জায়গাতেও ছিলাম। বান্দরবানে আমি স্কুলে পড়েছি। আমাদের ক্লাসে বাঙালি ছেলেমেয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি ছেলেমেয়েরাও ছিল। তাদের অনেকে ভালো বাংলা বলতে পারত না। এখন অনুমান করি, সে কারণে লেখাপড়াটা নিশ্চয়ই তাদের জন্যে অনেক কঠিন ছিল। ক্লাসের ভেতরে লেখাপড়া নিয়ে আমাদের আগ্রহ ছিল না। ক্লাস ছুটির পর বনে-জঙ্গল-পাহাড়ে-নদীতে ঘুরে বেড়ানোতে আমাদের আগ্রহ ছিল বেশি। তাই ভালো বাংলা না জানলেও সেটা কোনো সমস্যা হত না।

ধর্ম, ভাষা, গায়ের রং, শরীরের গঠন কিংবা কালচার ভিন্ন হলেও সব মানুষ যে একেবারে একই রকম সেটি আমি শিখেছি নিজের অভিজ্ঞতায়।

 

Chakma people - 13111

 

বান্দরবানের সেই স্কুলে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ শিক্ষক পেয়েছিলাম যাঁর কথা আমি কখনও ভুলিনি। আমি আমার নিজের শিক্ষকজীবনে তাঁর শেখানো বিষয়গুলো এখনও ব্যবহার করে যাচ্ছি এবং এখনও ম্যাজিকের মতো ফল পেয়ে যাচ্ছি।

আমাদের এই শিক্ষক ছিলেন একজন পাহাড়ি (সম্ভবত মারমা) মহিলা। পাহাড়ি পোশাকে ক্লাসে আসতেন। একজন মানুষকে বিচার করতে হলে কখনও তাঁর চেহারা নিয়ে কথা বলতে হয় না। কিন্তু অসৌজন্যমূলক হলেও আমাকে একটুখানি বলতে হচ্ছে। মধ্যবয়স্কা এই মহিলার গলগণ্ড রোগ ছিল বলে তাঁকে কোনো হিসাবে সুন্দরী বা আকর্ষণীয় বলার উপায় নেই। ভদ্রমহিলা এক দুইটির বেশি বাংলা শব্দ জানতেন না। তিনি আমাদের ড্রয়িং টিচার ছিলেন। কিন্তু ছবি আঁকতে পারতেন না। কোনোদিন চক হাতে বোর্ডে কিছু আঁকার চেষ্টা করেননি। কিন্তু তারপরও আমাদের ড্রয়িং ক্লাশ নিতে কখনও তাঁর কোনো অসুবিধা হত না। ক্লাসে এসে তিনি বলতেন, ‘লাউ আঁক’ কিংবা ‘বেগুন আঁক’– এর বেশি কোনো কিছু বলেছেন বলে মনে পড়ে না।

আমরা তখন লাউ কিংবা বেগুন আঁকতাম। আমাদের সবারই স্লেট-পেন্সিল ছিল। যাবতীয় শিল্পকর্ম সেখানেই করা হত। ছেলেমেয়েরা লাউ কিংবা বেগুন এঁকে আমাদের ড্রয়িং টিচারের কাছে নিয়ে যেত। লাউয়ের এবং বেগুনের আকার-আকৃতি দেখে তিনি বিভিন্ন মাত্রার উল্লাস প্রকাশ করতেন এবং চক দিয়ে স্লেটের কোনায় মার্ক দিতেন। কেউ চার, কেউ পাঁচ, কেউ ছয় কিংবা সাত। আমার ছবি আঁকার হাত ভালো ছিল। তাই আমার লাউ কিংবা বেগুন দেখে তিনি উল্লাসিত হয়ে দশ দিয়ে দিতেন।

ড্রয়িং ক্লাস হতে লাগল। তিনি আমাদের শিল্পকর্মে নম্বর দিতে লাগলেন এবং আমরা আবিষ্কার করলাম তাঁর দেওয়া নম্বরও বাড়তে শুরু করেছে। দশের বাধা অতিক্রম করে কেউ পনের, কেউ সতের পেতে লাগল। কত এর ভেতর পনের কিংবা সতের সেটা নিয়ে আমাদের কোনো প্রশ্ন ছিল না। হয়তো প্রজাপতি আঁকতে দিয়েছেন, কেউ প্রজাপতি এঁকে নিয়ে গেছে এবং তাকে বাইশ দিয়েছেন। পরের জনের প্রজাপতি হয়তো আরও সুন্দর হয়েছে, তাকে তিরিশ দিলেন। এর পরের জন হয়তো পুরো চল্লিশ পেয়ে গেল।

আমরা সব ক্লাসেই লেখাপড়া করে আসছি। কোথাও এরকম নম্বর পাইনি। একটা কলা এঁকে যখন নব্বই পেয়ে যাই তখন মনে হয় রাজ্য জয় করে ফেলেছি।

কাজেই আমাদের এই ড্রয়িং ক্লাসটা ছিল আনন্দময় একটা সময়। লাউ-কলা-প্রজাপতি শেষ করে তখন আমরা পশুপাখি আকঁতে শুরু করলাম। শুধুমাত্র একটা গরু এঁকে একদিন আমি আটশত পঞ্চাশ পেয়ে গেলাম। আনন্দে-উত্তেজনায় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার অবস্থা। আমাদের ড্রয়িং টিচার ততদিনে বুঝে গেছেন আমি ভালো আঁকতে পারি এবং সেজন্যে আমার প্রতি তাঁর এক ধরনের স্নেহ ছিল। প্রায় নিয়মিতভাবে আমি ক্লাসে সব সময় সবার চাইতে বেশি নম্বর পেয়ে আসছি।

একদিন ক্লাসে এসে বললেন, ‘বুড়ডিশ আঁক’। শব্দটি আমি বুঝতে পারিনি, তখন অন্যরা বুঝিয়ে দিল। ড্রয়িং টিচার বৌদ্ধমূর্তি আঁকতে বলেছেন। আমি তখন বিপদে পড়ে গেলাম। বান্দরবানের ক্যাং ঘরে নানারকম বৌদ্ধমূর্তি দেখে এসেছি। কিন্তু তার ছবি আঁকার মতো খুঁটিনাটি লক্ষ্য করিনি। আমাদের ক্লাসে আরও একজন মারমা ছেলে ভালো ছবি আঁকত। সে অসাধারণ একটা বৌদ্ধমূর্তি এঁকে নিয়ে গেল এবং ড্রয়িং টিচার তাঁকে চৌদ্দশ নম্বর দিয়ে দিলেন। আমি বসে বসে মাথা চুলকে যাচ্ছি। আমার ড্রয়িং টিচারের তখন আমার জন্যে মায়া হল। মারমা ছেলেটির স্লেটটি আমার সামনে রেখে সেটা দেখে দেখে আঁকতে বললেন। আমি সেটা দেখে দেখে একটা বৌদ্ধমূর্তি আঁকলাম এবং আমিও চৌদ্দশ পেয়ে গেলাম।

এরপর এত বছর পার হয়ে গেছে, আমি আমার এই ড্রয়িং টিচারের কথা ভুলিনি। তিনি আমাকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি দিয়ে গেছেন; সেটি হচ্ছে, ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিতে হয়। আমিও আমার সারাটি জীবন ছেলেমেয়েদের উৎসাহ দিয়ে আসার চেষ্টা করে আসছি এবং দেখে আসছি এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

এই মারমা ড্রয়িং টিচারের মতো নিশ্চয়ই একজন সাঁওতাল বৃদ্ধ কিংবা গারো যুবক রয়েছেন যাঁর কাছ থেকে আমার জীবনের কোনো একটি শিক্ষা পাওয়ার কথা ছিল– আমরা সেটা পাইনি। আমরা মানুষে মানুষে বিভাজন করে নিজেদের ভাষা-ধর্ম কালচার নিযে অহংকার করে অন্যদের তাচ্ছিল্য করতে শিখিয়েছি, অবহেলা করতে শিখিয়েছি। আমরা যদি আধুনিক পৃথিবীর আধুনিক মানুষ হতে চাই তাহলে সবাইকে তার প্রাপ্য সম্মান দিয়ে বেঁচে থাকা শিখতে হবে।

৪.

হয়তো বাংলাদেশ কিছুদিনের মাঝে অনেক উন্নত হয়ে যাবে। আমাদের মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে যাবে। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের প্রশ্ন ফাঁস হবে না, স্কুলে আনন্দময় পরিবেশে ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে। নিজেদের অর্থে আমরা বিশাল বিশাল পদ্মা ব্রিজ তৈরি করব। কিন্তু যদি একটি পাহাড়ি শিশু তার মায়ের হাত ধরে আতঙ্কে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়ের জন্যে জঙ্গলে ছুটে যেতে থাকে তাহলে কি আমাদের সব উন্নয়ন পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে যাবে না?

দেশের একটি নাগরিককেও যদি আমরা সম্মান নিয়ে শান্তিতে নিজের ঘরে ঘুমানোর পরিবেশ তৈরি করে দিতে না পারি তাহলে বিশাল পদ্মা ব্রিজ দিয়ে কী হবে?

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭ Responses -- “পদ্মা ব্রিজ দিয়ে কী হবে?”

  1. Sayed

    ঘর-ই যখন নিরাপদ নয়……………….. সাগর রুনি

    প্রাণ বাচাঁনোর জন্যে যে মা তার সন্তানদের বুকে চেপে ধরে মাইলের পর মাইল পাহাড় অতিক্রম করে জঙ্গলে লুকিয়ে আছেন……..

    Reply
  2. শুভ

    লেখাটি ভাল লাগল, কিন্তু এটাই তো হবার কথা, আমাদের দেশ যে অর্থনীতি ও রাজনৈতিক চিন্তার লালন পালন করে সেখানে এটাই হবার কথা, ১.খাদ্য ২.বস্ত্র ৩.বাসস্থান ৪.শিখা ৫.চিকিৎসা এ সব প্রয়োজন গুলো মিটাতে যে টাকার প্রয়োজন, এ সমাজ এমন ভাবে গঠন করা যাতে সাধারণ মানুষ ভাল্ভাবে না বাঁচতে পারে আর তাই মানুষ যখন সুযোগ পায় তখন লুণ্ঠন করে, জনসংখ্যা কমান, ব্যবসায়িরা কতো টাকা মুনাফা করেন সেটা জানতে হবে, সঠিক বেতন দেয় কিনা সেটা জানতে হবে ,সাহস আছে কোন সরকারের , জানি কিছুই হবেনা, পদ্মা সেতু হচ্ছে খুব ভাল কথা, কিন্তু Dhaka Medical দশ গুন বড় করা দরকার সেটা হবে না তখনি প্রশ্ন জাগে পদ্মা সেতু আমাদের চেয়ে ও ব্যবসায়িদের বেশী দরকার তাই হয়েছে ,সব গুলু বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ করে দেন,চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়া বন্ধ করে দেন,দেখেন কি হ্য় কিন্তু।আমাদের দেশের নেতারা পরের দিন বলবেন জনগণের জন্য এটা ১০ গুন বড় করছি, সবশেষে বলতে হয় এমনি হওয়ার কথা এমনি হবে স্যারকে আর ও বহু কলাম লিখতে হবে।

    Reply
  3. সৈয়দা ফাতেমা নাজ

    চমৎকার লেখাটির জন্য স্যার কে ধন্যবাদ। তবে, আমরা যদি শুধু পড়েই ক্ষান্ত হই, আর কিছুই না শিখি, তাহলে কি লাভ? যতদিন আমরা নিজের দেশ কে ভালোবাসতে শিখব না, দেশে শুধু পদ্মা সেতুর মত উন্নয়ন-ই হবে, আসল উন্নয়ন পদ্মায় ডুবে যাবে আমাদের সাথে। লংদুর ঘটনায় সবার টনক নড়া উচিত। দেশে শিক্ষিত বিবেকহীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে যা একটি অশনিসংকেত।

    Reply
  4. আলতাফ মাহমুদ

    ১৪ এপ্রিল, ১৯৭১। প্রবাসী সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি নির্দেশাবলি প্রদান করা হয়। এই নির্দেশনাপত্রের শীর্ষেই লিখা হয় ‘আল্লাহ আকবর’। সে নির্দেশনামায় স্বাধীনতার প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, “বাঙালির অপরাধ তারা অবিচারের অবসান চেয়েছে, বাঙালির অপরাধ তারা তাদের মা-বাপ, ভাই-বোন, সন্তান-সন্ততির জন্য অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে, বাঙালির অপরাধ আল্লাহতায়ালার সৃষ্ট পৃথিবীতে, আল্লাহর নির্দেশমতো অন্যায়, অবিচার, শোষণ, নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে এক সুন্দর ও সুখী সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলবার সংকল্প ঘোষণা করেছে। ….
    আমাদের সহায় করুণাময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য। মনে রাখবেন, আপনার এ সংগ্রাম ন্যায়ের সংগ্রাম, সত্যের সংগ্রাম। পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার দুশমন বাঙালি মুসলমান নারী-পুরুষ, বালক-বালিকা কাউকে হত্যা করতে, বাড়িঘর লুট করতে, আগুন জ্বালিয়ে দিতে এতটুকু দ্বিধা করেনি। মসজিদ-মিনারে আজান প্রদানকারী মুয়াজ্জেন, মসজিদ গৃহে নামাজরত মুসল্লি, দরগাহ-মাজারে আশ্রয়প্রার্থী হানাদারদের গুলি থেকে বাঁচেনি। … এ সংগ্রাম আমাদের বাঁচার সংগ্রাম। সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে ন্যায়ের সংগ্রামে অটল থাকুন। স্মরণ করুন : আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘অতীতের চাইতে ভবিষ্যৎ নিশ্চয়ই সুখকর।’ বিশ্বাস রাখুন ‘আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী’।” (দ্রষ্টব্য : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, তথ্য মন্ত্রণালয়, ১৯৮২, তৃতীয় খণ্ড, স্বাধীনতার লক্ষ্য,পৃ.১৯-২২)

    Reply
  5. Samit Sarker

    একটি বাগানে শুধু এক রকমের ফুল না থেকে যদি বিভিন্ন রকমের ফুল থাকে তবে বাগানটি অনেক বেশী সুন্দর দেখায়। এই বিষয়টি যদি অবচেতন মানুষগুলো হৃদয় দিয়ে একটু অনুভব করত, তাহলে বাংলাদেশ নামের সুন্দর বাগানটি আরও বেশী সুন্দর হত।

    Reply
  6. বাঙাল

    আন্দোকার সমুদ্রে তীরের ঠিকানা পাওয়ার জন্য দিকহারা জাহাজের প্রয়োজন একটি বাতিঘরের। সেই বাতিঘর কুলহারা জাহাজকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়, নিজের সঠিক পথ বেছে নেয়ার। আমাদের বাংলাদেশের নুতন প্রজম্নের জন্য সেই বাতিঘর যদি কেউ থাকেন তবে তিনি হলেন জাফর ইকবাল স্যার। স্যারে লেখা পরেই একাত্তররের ঘাতকদের চিনতে শিখেছি, ঘৃনা করতে শিখেছি। মাঝে মাঝে ভাবি এই সব কুলাঙ্গরা কি কোন দিনই মানুষ হবে না? কোনদিনই এরা পাকিস্থানিদের দালালি ছাড়তে পারবে না? স্যারকে ধন্যবাদ আবারও অামাদের আলোর পথ দেখানোর জন্য।

    Reply
  7. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম

    স্যার,
    আপনাকে ধন্যবাদ।
    কেউ শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে নিরীহ মানুষ হত্যা করে অশান্তি সৃষ্টি করে।
    কেউ ধর্ম প্রতিষ্ঠার নামে নিরীহ মানুষ হত্যা করে অধর্ম সৃষ্টি করে।
    কেউ রাজনীতির নামে নিরীহ মানুষ হত্যা করে অপরাজনীতি সৃষ্টি করে।
    এরা মানবজাতির অভিশপ্ত অংশ।

    Reply
  8. মুকুল

    বিদ্যমান ফ্যাসিস্ট রাষ্ট ব্যবস্থা এবং ফ্যাসিস্ট ক্ষমতা চর্চার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ইসলাম নির্মূল ছাড়া বিশিষ্টজনেরা আর কোন গণভিত্তিক রাজনীতির কথা ভাবতে অক্ষম যার মধ্য দিয়ে নতুন গণপরিসর গড়ে উঠতে পারে এবং সমাজে নানান শ্রেণি, গোষ্ঠি ও মতাদর্শ জারি থাকলেও ‘জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়’ (বাহাত্তরের সংবিধান পড়ুন) ধারণ করে বিদ্যমান ফ্যসিস্ট ব্যবস্থার রূপান্তর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। সেটা দূরে থাকুক, বরং আওয়ামী লীগ কেন সংখ্যালঘুর দৃষ্টিতে দেখতে ও বুঝতে পারছে না, তার জন্য বিশিষ্টজনদের অন্তঃসারশূন্য হাহাকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। হাস্যরসের জন্ম দিলেও সামগ্রিক ভাবে আমাদের সমাজের রাজনৈতিক চিন্তার চরম অক্ষমতার প্রকাশ ।

    Reply
    • শোয়েব

      মুকুল/ একদিকে বলেন ইসলাম নির্মূল হচ্ছে আরেক দিকে সংখ্যালঘুদের জনাও মাতম করেন ব্যাপারটা স্ববিরোধি নয়? এদেশে যারাই সবকিছুতেই ইসলাম বিপন্ন খুঁজে ইতিহাস বলে তারাই সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করে। বেশিদুর যেতে হবেনা ফেইসবুকের মন্তব্যগুলো পড়লেই তা বুঝা যায়।

      Reply
  9. Paritoshtangail@yahoo.com

    লেখক সব কিছুই সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন এবং পূর্বেও ধরিয়াছেন। উন্নয়নের জোয়ার এখন দেশের উত্তরাঞ্চল সাঁওতাল পল্লী থেকে শুরু করে সমস্ত দেশকে প্লাবিত করে রাঙামাটি লংগদুর ঐ পাহাড় পর্বতকেও প্লাবিত করছে। এ জোয়ারে যদি কেউ ভেসেও যায় তাহলে দেখার কি কেউ আছে ? এই চরম দু:সময়ে সমস্ত ঘটনার জন্য উচ্চপর্যায় থেকে কোন বিচারের আশ্বাস, সান্তনা বা বক্তব্য না থাকলেও দেশের দু/এক জন যে এনিয়ে ভাবে এটাই ভীকটিমদের জন্য সান্তনা। আমি স্যারের দীর্ঘায়ু কামনা করি।

    Reply
  10. Akhteruzzaman Chowdhury

    এরশাদ সাহেব যখন যমুনা ব্রিজ পরিকল্পনা করেন তিনি বলেছিলেন রাজশাহী রংপুর বিভাগে অনেক শিল্পায়ন এবং অর্থ প্রবৃদ্ধি হবে। এখন ২০ বছর পরে দুই বিভাগে তেমন একটা প্রবৃদ্ধি দেখা মেলে না। যমুনা ব্রিজ ছিল মাত্র ৫০০০ কোটি টাকার প্রকল্প। এখন পদ্দা ব্রিজ এবং রামপাল এবং পায়রা বন্দর এবং অন্য প্রকল্পে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বয়ে করা হবে। পদ্দা পশ্চিম অঞ্চলে কি ১০ বছরে অনেক শিল্পপতি জন্মাবে এবং শিল্পায়ন হবে। না কি অনেক গুলি সাদা হাতি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে খেয়ে ফেলবে।

    Reply
      • Shopnobaz

        Mr. Masud,
        Try to catch the inner meaning.. Then you will understand. Otherwise you will end up miss-understanding the concept.

        Thanks.

      • Sumit Mazumdar

        You did not understand his point. He is saying what good is prosperity alone if society is run by goons who are hellbent on oppressing the weak? Bairer chakchikya hridayer sangkirnata dhaka deyna – that’s his point.

      • R. Masud

        @Shopnobaz
        What is the inner meaning?
        For your understanding, fonder below few lines —
        If Mr. X appear a tougher exam, there may be less chances to pass it; if he don’t appear the exam, however, there will have 0% chances to pass the exam.
        Which one you will choose, appear the exam or avoid it?
        If you choose the later one, no need to reply!!

    • Prince

      উত্তর অন্চল যে আগের থেকে অনেকটাই উন্নয়ন হয়েছে যমুনা সেতুর করণে তা কানা থেকে শুরু করে সবাই জানে

      Reply
  11. KanchanC

    অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ অাপনাকে স্যার। আপনি আমার মনের ভিতরের (অন্তর জ্বালা) কিছুটা আপনার লেখায় প্রকাশ করেছেন বলে। এ যে কি জ্বালা যা প্রকাশ করতে না পারা কি যে অসয্য যন্তনা তা আপনি বুঝতে পারেন। অনুরোধ রইল আপনার সামনে যখনই কাগজ, কলম থাকবে আপনি লিখে প্রকাশ করবেন যেটা আমরা পারি না স্বাধীন দেশের (সংখ্যালঘু) নাগরিক হয়ে। আমরা চাই সবাই মিলে এক সাথে আনন্দে সকলের সুখে, দুঃখে দিন যাপন করতে কিনতু কেন আমাদের লেজ গুটিয়ে থাকতে হয় স্বাধীন দেশে। অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে আছে কিনতু প্রকাশ করতে পারি না। অবারও ধন্যবাদ আপনাকে।

    Reply
  12. মোঃ আলী আজম

    স্যার, পদ্মাই যদি না পেরোতে পারি সংকীর্নতার হিমালয় টপকাবো কী করে?

    Reply
  13. R. Masud

    জাফর স্যারের লিখটা পড়ে যখন শেষ করতে যাবো তখনই বেশ হাসি পেয়েই পড়াটা শেষ করতে হলো! কোন ভাবেই এই হাসির কথা বলাটা sarcasm(বিদ্রূপ) করার জন্য নয়, সত্যিকার অর্থে নির্মল হাসিই ছিল। ব্যাপার খানা খুলে বলতে হচ্ছে–

    ড্রয়িং টিচারের নির্দেশে বৌদ্ধমূর্তি যখন আঁকতে বলা হলো, কিশোর জাফর (তখনো আজকের জাফর স্যার হননি বলে) থ হয়ে বসে রইল, কারন বৌদ্ধমূর্তির মুখের চেহারা নিয়ে তার কোন ধারনা ছিলনা।
    সেই সময় ড্রয়িং টিচার, চমৎকার বৌদ্ধমূর্তি আঁকতে জানে মারমা ছেলেটার আঁকা বৌদ্ধমূর্তি টা এনে ধরলেন জাফর এর সামনে আর তা দেখে কিশোর জাফর যেই ছবিটা আঁকলো। ফল হলো, তাতে খুশি হয়ে ড্রয়িং টিচার মারমা ছেলেটার সমান নাম্বার কিশোর জাফরকেও দিলেন।
    উপরের অংশটাই হাসি পাবার কারন। যেই জাফর স্যার প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নফাসের জন্য গেলো কয়েক বছর ধরেই রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেছেন, সেই স্যার অবলিলায় উপরের গল্পটা বলে গেলেন।

    প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে জাফর স্যারের প্রতিটি লিখাই আমি কমেন্ট করে এসেছিলাম যে , মাধ্যমিক পর্যন্ত পরীক্ষার ব্যাপারে অত বেশী সেন্সিটিভ হবার দরকার নেই কারন, উন্নত কোন দেশেই ঐ লেবেলের পরিক্ষাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়না।
    যেমন — জাপানে ক্লাস নাইন পর্যন্ত পাশ ফেলের কোন পরীক্ষাই নেই, অর্থাৎ ১০০% ছাত্র/ছাত্রীরাই উপরের ক্লাসে উঠে যায় পরীক্ষা ছাড়াই- তাই বলে জাপান রসাতলে চলে যায়নি!
    কারন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাতেই ভাল খারাপ বাচাই হয়ে যায়-

    Reply
      • Zahid

        Yes, Mr. Masud supports many things such as BAKSAL, 5th January election and anything that is in favor of Awami League.

      • R. Masud

        @Zahid
        Defintely I had liked BAKSAL. Because it was most necessary for the newly born Bangladesh. For first 10 years, BAKSAL like ruling is common in all newly born countries which had suffered same extent of damage by the liberation war. Definitely, after 10 years, BAKSAL like thing is obsolete.
        Regarding, 5th Jan election, I support it 100%, Reason is, it was happened as per the constituence of Bnagladesh ; parties who didn’t participated or obstructed that elction were did crime!

      • Zahid

        বাকশাল সমর্থন করে এমন আওয়ামীলীগ কর্মী আছে জেনে অবাক হলাম! স্বয়ং আওয়ামী প্রধানকে আজ পর্যন্ত বাকশাল সম্পর্কে একটি কথাও বলতে শুনিনি। এমন যেন বাকশাল আওয়ামী আভিধান বিবর্জিত একটি শব্দ। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও অনেক আওয়ামী নেতা কর্মী লজ্জিত- যাদের সামান্যতম লজ্জা আছে।

  14. জ্যোতি রক্ষিত

    প্রিয় লেখকের লেখার বিশালত্ব হেডিং এর উপমায় বৈচিত্র্য সৌন্দর্যে পাঠকও বিশালত্বে পৌছবেন, তাতে সন্দেহ নেই। মাঝমধ্যে মনে হয়, এ রকম অার দু’জন বিশাল মনের লেখক থাকলে এ দেশটা কতোই না সুন্দর হতো.. প্রিয় লেখকের সর্বাত্মক সুস্থতা কামনা করি।

    Reply
  15. Narendra nath Das

    The Greatman Nelson Mandella once told ” If you are a gentleman, you may look me as a very gentleman of the Universe, but if you are a busterd, then you may look to me as a great busterd that you have ever seen in life.” As like this the busterds who did such against mankind should be taught a lession as like to feel………

    Reply
  16. চন্দন

    স্যার যথার্থই বলেছেন। মনে শান্তি না থাকলে অট্টালিকায় বাস করা আর জঙ্গলে বাস করা সমান কথা। এক্ষেত্রে বিশ্বের অবশ্যই আমাদের দেশের ধর্মীয় রাজনৈতিক দল সদস্যগণ সহ জাতীয় রাজনীতিতে না জড়ীয়ে সারা বিশ্ব-এর প্রতিটি মানুষ দেশ অঞ্চল কিভাবে শান্তি সম্প্রীতি সৌহার্দের মধ্যে বসবাস করতে পারে তার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনায় নিয়োজিত থাকলে অবশ্যই ঈশ্বর তাদের প্রার্থনায় সন্তষ্ট হয়ে পৃথিবীকে শান্তিময় করে দিতেন। আমাদেরকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এমন হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি ধ্বংস বিপর্যয় দেখতে হতো না বলেই আমার বিশ্বাস।

    Reply
  17. Mahbubur Rahman

    Hill men are fit for hills. Before 1975, there were no such land sliding. This happens now for random cutting trees from the hills. And it started after settler theory of Late Ziaur Rahman.

    Reply
  18. Md. Enamul Kabir Sarker

    A good read by all counts, Sir! I couldn’t agree with you more. What the barbarian so-called majority are doing to the indigenous people is really heart-rending. No language is strong enough to condemn these senseless atrocities.

    Reply

Leave a Reply to KanchanC Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—