- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

অনেক দিন ধরে চললেই অন্যায্য ন্যায্য হয়ে যায় না

ব্যাংক খাতে আবগারি শুল্ক নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। সরকার ও তার সমর্থকরা বোঝাবার চেষ্টা করছেন যে, ব্যাংক সেবায় আবগারি শুল্ক তো অনেক বছর ধরেই ছিল, এখন শুধু শুল্কহার একটু বাড়ানো হয়েছে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে তা মেনে নেওয়াই ভালো। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন যে, এতে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিমুখ হয়ে আমানতকারীরা ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ করবেন। ফলে বিনিয়োগের চাকা ঘুরে আরও কর্মসংস্থান হবে, দেশের উন্নয়নে তা সহায়ক হবে।

স্রোতের বিপক্ষে দাঁড়ানো বড় অংশ দাবি করছেন এটা দিনেদুপুরে ডাকাতির সামিল। সরকার জোর-জুলম করছেন। এতে অনেকেই ব্যাংকবিমুখ হবেন, অন্যত্র বিকল্প খুঁজবেন। ফলে অনেকের কষ্টার্জিত সঞ্চয় ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। ব্যাংকারদের বেশিরভাগও এর বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন। এফবিসিসিআই বলেছে আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যহার করে নিতে। বাংলাদেশ ব্যংকের প্রাক্তন গভর্নর এ নিয়ে নেতিবাচকতা আরও ছড়াবার আগেই সরকারকে এটা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবার আহ্বান জানিয়েছেন।

যে টাকা ব্যাংকে রাখা হয়, তা ব্যবসায়ীরই হোক কী চাকুরীজীবীর, টাকার উপর আয়কর দেওয়া হয়। যদি টাকাটা চাকুরীজীবীর হয় তাহলে তো কথাই নেই, উৎসে আয়কর কাটার পরেই চাকুরীজীবীর টাকা ব্যাংকে আসে। কাজেই যে পরিমাণ টাকাই ব্যাংকে থাকুক না কেন তা আয়কর দেওয়া বা দেওয়া হবে। যদি এর ব্যত্যয় হয় তবে তা হবে আয়কর বিভাগের সক্ষমতার অভাবে বা অন্য কোনো সমঝোতায়।

ব্যাংককে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। ব্যাংকগুলো যে মানুষের টাকা তাদের ব্যংকে রাখে তা দয়া করে রাখে না। আমানতকারীরা ব্যাংককে রীতিমতো বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ দেন। সেই সার্ভিস চার্জের উপর সরকার ভ্যাট আদায় করেন ১৫ শতাংশ হারে। এরপর ব্যাংক যে কোনো সেবার জন্য আলাদা করে সার্ভিস চার্জ আদায় করেন। যেমন, চেক বইয়ের পাতার জন্য, ঢাকার বাইরে থেকে চেক এলে তা ক্লিয়ার করার জন্য, ইত্যাদি। এসবের একটা বিরাট তালিকা আছে যা বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন করে দিয়েছেন।

 

Money - 222 [১]

 

এর বাইরেও ব্যাংক অনেক সময় নানা প্রকার নতুন শব্দ দিয়ে টাকা কেটে নেয়। যেমন, একবার দেখলাম লিখেছে, রিলেশনশিপ ফি ৫০০ টাকা। এই নানা প্রকার মাশুলের সঙ্গে অবধারিতভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কাটা হচ্ছে। আমানতের বিপরীতে যে সুদ আসে তার উপর উৎসেই ব্যাংক টিআইএন থাকলে ১০ শতাংশ আর না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ সমস্ত কিছু কাটার পরও গত প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে ব্যাংক একাউন্ট থেকে আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়া হচ্ছিল।

আমি ব্যক্তিগতভাবে ২৮ বছর ধরে নিয়মিত আয়কর দিই। প্রায় ২০ বছর যাবত আমাকে ব্যাংক বিবরণী জমা দিতে হয়। ঠিক কবে থেকে আবগারি শুল্ক আরোপিত হল সঠিক মনে পড়ে না। তবে মনে হয় শুরুতে এ অংক ছিল ১০০ বা ১৫০ টাকা। সরকার বাজেটে ঘটা করে না বলে চুপচাপ এসআরও করে হার বাড়িয়ে নিয়েছে। আবার কখনও বছরে দু কিস্তিতে টাকাটা কেটে নিয়েছে যাতে আমানতকারীরা তেমন একটা টের না পায়। এভাবেই আবগারি শুল্কের বাৎসরিক অংক ধীরে ধীরে ৫০০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছিল।

সম্পূর্ণ তালিকা উল্লেখ না করে ৫০০ টাকা উল্লেখ করলাম, কারণ আমি এই স্ল্যাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হার যখন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় এবারের প্রস্তাব করা হল তখন একটা বিস্ফোরন ঘটল। একেই বলা হয়েছে গুপ্ত সুপ্ত ইস্যু অগ্নিগর্ভ বানানো। মনে হয় বাজেটের অনেক ইস্যুর মধ্যে কেন এই বিষয়টি এমন নেতিবাচকতার জন্ম দিল তা সরকার ও সরকার সমর্থকদের বোঝা দরকার।

প্রথমত বুঝতে হবে যে, এটি একটি উপলক্ষ মাত্র। এখানে শুল্কের টাকার অংকের বৃদ্ধি কেন্দ্র করে মানুষের মনের সুপ্ত ক্ষোভ প্রকাশিত হচ্ছে। এই ক্ষোভ হল, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা-কেন্দ্রিক, রাজস্ব আদায়ে অপ্রমাণেয় প্রক্রিয়া-কেন্দ্রিক এবং অন্যায্যতার অনুভূতি-কেন্দ্রিক। ব্যাংক খাতে দুর্নীতির ব্যাপারে নিস্পৃহ থাকা, একের পর এক ঘটনা ঘটে যাওয়া সত্ত্বেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া, রাঘব বোয়ালের বদলে চুনোপুঁটি ধরা এবং সর্বোপরি জনগণের করের টাকায় নিমজ্জমান ব্যাংকগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা। জনগণ এসব ভালোভাবে নেয়নি।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থমন্ত্রীর অসংবেদনশীল কথাবার্তা এবং সাম্প্রতিককালে ব্যাংক আইনে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। এ রকম অবস্থায় অনেক নাজুক প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি দুর্নীতি দমনে আন্তরিক? তাহলে সংসদে দাঁড়িয়ে খোদ অর্থমন্ত্রীকে ব্যাংক-লুটের বিষয়ে তাঁর অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে হয়? আমাদের করের টাকা নিয়ে কয়েকটি ব্যাংককে বাঁচানোর নামে দুর্নীতি লালন করা হচ্ছে কি?

নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে এমন কথা এখন সবার মুখে মুখে এবং ক্ষোভের মূল সেখানেই।

বুঝতে হবে যে, এমন সময়ে এই আবগারি শুল্ক হার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে যখন আমানতের উপর সুদ স্মরণকালের সর্বনিম্ন। ব্যাংকগুলো যে বাৎসরিক সুদ দেবে মুদ্রাস্ফীতির হার তার চেয়েও বেশি। ফলে এমনিতেই আমানত একপ্রকার নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। তার উপর এই অতিরিক্ত শুল্ক বোঝার উপর শাকের আঁটি নয় বরং তার চেয়েও ওজনদার মনে হচ্ছে।

বেসরকারি খাতের চাকুরীজীবীরা যারা সবচেয়ে নিয়মিতভাবে আয়কর দেন এবং দিতে বাধ্য হন তাদের ক্ষোভ সবচেয়ে বেশি। কারণ নিয়মিত আয়কর দিয়েও নথি হালানাগাদ করতে জান বেরিয়ে যায়। তাদের জন্য পেনশন নেই। সরকারকে সততার সঙ্গে সারা চাকুরিজীবন আয়কর দিয়ে অবসর নেওয়ার পর তাঁকে সরকার কী দেবে? তারই করের টাকায় তাঁর সতীর্থ সরকারী চাকুরিজীবী যে সুবিধা পাবে তার ছিটেফোঁটাও সে পাবে না। উপরন্তু তাঁর অবসরের টাকা থেকে কেটে নেওয়া হবে আবগারি শুল্ক! অংকটি যাই হোক, তাঁর কাছে এই প্রস্তাবনা একবারেই অন্যায্য বা জুলুম বলে মনে হওয়া স্বাভাবিক।

যারা ভাবছিলেন এতে লোকজন ব্যাংক খাত থেকে সরে নতুন নতুন বিনিয়োগ করবেন তাদের বলব বাস্তবতা মিলিয়ে দেখতে। বিনিয়োগের জন্য মানুষ প্রথমেই খুঁজে নিরাপত্তা। শেয়ার মার্কেট কতটা নিরাপদ তা তো সবার জানা। বাকি রইল সঞ্চয়পত্র। এর বাইরে মানুষ কোথায় যাবে? কী উপদেশ দেবেন মানুষকে? যারা এর পক্ষে বলছেন নিজে কী করেছেন বুকে হাত দিয়ে ভাবুন তো। সাধারণ মানুষ চাকুরি করবে নাকি ব্যবসার জন্য ঘুরবে? বিনিয়োগের পক্ষে এই যুক্তি এবং অনুমান একান্তই তত্ত্বীয়।

আমার মনে হয়েছে এই ভাবনার জন্মদাতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তারা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সহজ কিছু পথ বেছে নিয়েছে। ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্কের হার বাড়ানো এরকম একটা সহজ পথ। যারা বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতার ঘাটতির কথা বলেন তাদের জন্য এটা একটা চমৎকার উদাহরণ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হয়তো এ প্রস্তাবে এরকম প্রতিক্রিয়া আশা করেনি। তারা হয়তো বুঝতে পারেনি যে, লেবু চিপে রস বের করা হয়ে গেছে। যা প্রস্তাব করা হয়েছে তা লেবুর খোসা চিপে তিতা রস বের করার মতো।

তবে এই আলোচনা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে: ব্যাংকের আমানতের উপর আবগারি শুল্ক আরোপ আদৌ ন্যায্য কিনা। প্রশ্নটির উত্তরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হয়তো পক্ষে অনেক কিছু বলবে। কিন্তু প্রতিবেশি দেশসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংক খাতের এরকম আবগারি শুল্কের আরোপ দেখা যায় না। সচরাচর আবগারি শুল্ক স্বাস্থ্যহানিকর পণ্যের উপর উৎপাদনকালে আরোপ করা হয়। বাংলাদেশেও সেরকমই প্রচলিত। সেবা খাতে এর প্রয়োগ হয়েছে বলে জানা নেই।

আয়কর দেওয়া টাকা ব্যাংকে রাখা হচ্ছে, ব্যাংক সেবা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত হারে মাশুল নিচ্ছে, সেই মাশুলের উপর ভ্যাট কাটা হচ্ছে, তাহলে আবার কেন আবগারি শুল্ক দিতে হবে? ব্যাংক-সেবা স্বাস্থ্যহানিকর সেবা নয়। কাজেই ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্কের আরোপ একেবারেই অন্যায্য। এটি পুরোপুরি তুলে দেওয়া উচিৎ।

হয়তো অর্থমন্ত্রী বলবেন, “ঠিক আছে, বাড়তি হার নেওয়া হবে না– এতদিন দিচ্ছিলেন যখন বাড়তি হারে না দেন, চলমান হারে তো দেবেন।”

আমাদের উত্তর হবে, “না; একটি অন্যায্য অনেক দিন ধরে চললেই তা ন্যায্য হয়ে যায় না। সামরিক শাসনের সকল ফরমান প্রায় ৩০ বছর ধরে আইনসম্মতভাবে চলে আসছিল। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও তাঁর সাথী বিচারকবৃন্দ সামরিক শাসনের ৩০ বছরের ফরমান এক রায়ে বাতিল করে দিয়েছেন। বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চললেই বেআইন কখনও আইন হয়ে যায় না; অন্যায্য ন্যায্য হয় না। কাজেই দেরিতে হলেও এই অন্যায্য শুল্ক সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া উচিত।”

১৪ Comments (Open | Close)

১৪ Comments To "অনেক দিন ধরে চললেই অন্যায্য ন্যায্য হয়ে যায় না"

#১ Comment By Abul Hasan Mia On জুন ৫, ২০১৭ @ ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

পাকিস্তান আমলে ব্যাংকগুলো ছিল পরিবারভিত্তিক এবং ২২ পরিবারের হাতে। পাকিস্তানের ব্যাংকের যাবতীয় ধনসম্পদের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতে। আমরা কি তাদের জায়গায় ৪০ ব্যাংকে ৪০ পরিবার সৃষ্টি করে তাদের ব্যাংকের সম্পদের ব্যবহারকারী করে দেব? এটা তো পেছনে যাওয়ার চেষ্টা।

ব্যাংক খাতে অনিয়মের জন্য আমি দায়ী করব অর্থ মন্ত্রণালয়কে। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও শাহ এ এম এস কিবরিয়া ব্যাংকব্যবস্থাকে সংযত রাখতে চেষ্টা করতেন। এখন সে রকম কিছু দেখাই যাচ্ছে না। অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক শক্তি তথা রাষ্ট্রকে ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষণ এই ঘটনা। বর্তমান রাষ্ট্রপতি স্পিকার থাকাকালে বলেছিলেন, তিনি যে সংসদের স্পিকার সেই সংসদের শতকরা ৬২ ভাগ অত্যন্ত ধনী। অথচ একসময় উকিল সাহেব, অধ্যাপক সাহেব, ছোট ছোট ব্যবসায়ী সংসদে আসতেন। স্পিকার হিসেবে এটা তাঁর পর্যবেক্ষণ। এখন অনুপাতটা আরো অনেক বেড়েছে। সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে ততক্ষণ, যতক্ষণ সেখানে ধনীদের প্রভাব কম থাকবে। ভারতের ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে কম ঢোকেন। টাটা-বিড়লারা কিন্তু এমপি হতে যান না। আমাদের ধনীদের এমন সচেতনতা কম। আমাদের নব্যধনীরা রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক আদর্শকে আরও নষ্ট করে ফেলবে। টাকা-পয়সার মাদকতা আছে। সেই মাদকতা হলো নিয়ন্ত্রণের মাদকতা, একচেটিয়া ।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ: ব্যাংকার, সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।

#২ Comment By আবু হোসাইন On জুন ৫, ২০১৭ @ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

লুটপাটনির্ভর খাতগুলো পরিপুষ্ট হচ্ছে। গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণ জানাচ্ছে, ‘২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট পাচারের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। পাচার হওয়া ওই সব সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সরকারের কোনো উদ্যোগের কথা মন্ত্রীর বক্তব্যে নেই। কিন্তু নানা কৌশলে কথিত ঋণ খেলাপের মাধ্যমে দেউলিয়া হতে যাওয়া রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে বাজেটে আবারও ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। এই রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে বর্তমান অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ১৪ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। এ পর্যন্ত খেলাপিতে পরিণত হওয়া এবং অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।’
ভারত-চীনের চেয়ে ১০ গুণ ব্যয়ে সড়ক-সেতু বানানোর খেসারত, অঢেল দুর্নীতির খেসরাত তো জনগণকেই দিতে হবে। জনগণের বড় অংশ হলো তরুণেরা। তারা ক্ষমতা না, সকল অক্ষমতার উৎস, সকল সম্পদহরণের শিকার। সুশাসনবিরোধী প্রশাসন চালানোর জন্য, দুর্নীতির গর্ত পূরণের জন্য, ঋণ করে ঘি খাওয়া এবং রাজনৈতিক সুবিধা বিতরণের তহবিল জোগানোর জন্য আর কে আছে এমন জনগণ ছাড়া?

#৩ Comment By পাশা On জুন ৫, ২০১৭ @ ১১:০১ অপরাহ্ণ

দেশি-বিদেশি ঋণের সুদবাবদ বর্তমানে বাজেটের ১৭ শতাংশ চলে যাচ্ছে। নতুন আরও ৪৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। সুতরাং আগামীতে সুদ-আসল ফেরত বাবদ প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাঁধে সিন্দাবাদের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছি। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না করায়, এসব ঋণের সুফল তারা পাবে না। কর্মসংস্থানহীন এ প্রবৃদ্ধি তরুণদের আশা দেখায় না। প্রবাসীদের বড় অংশটাই যুবক বয়সী, ব্যাংকে লাখ টাকার ওপর আবগারী শুল্ক বসানোয় তারা ব্যাংকের বাইরে ছায়া অর্থনীতির আশ্রয় নেবে। এভাবেই লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে যাবে। কথায় বলে, মরা রে মারো ক্যা? উত্তর: নড়েচড়ে ক্যা? এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, যেখানে সবলেরা দুর্বলের ওপর এমনভাবে চেপে বসতে পারে! এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রীর ‘শ্রেষ্ঠ বাজেটে’ ভরসা করে মালয় দ্বীপের সেই শেয়ালের মতো হব কি? যে কিনা মুরগি এঁকে দেয়ালে, আপন মনে চাটতে থাকে খেয়ালে!

#৪ Comment By রহমান সুহাইল On জুন ৫, ২০১৭ @ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হবে। ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত দেড় হাজারের পরিবর্তে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে। ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক সাড়ে ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর ৫ কোটি টাকার বেশি থাকলেই ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে।
এর ফলে খুদে সঞ্চয়ীদের আয় কমে যাবে। যেমন বর্তমানে ব্যাংকে এক লাখ টাকা রাখলে বছরে লাভ বা মুনাফা পাওয়া যায় তিন হাজার টাকার মতো। হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যাংক খরচ হিসেবে কেটে নেবে প্রায় অর্ধেক। এটিএম কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং হিসাব ইত্যাদি ধরলে আরও বেশি টাকা কাটা যাবে। এরপর সরকার ৮০০টাকা আবগারি কর নিলে তাঁর মুনাফা ৫০০ টাকার বেশি থাকবে না। অথচ অর্থমন্ত্রী নিজেই মূল্যস্ফীতি ধরেছেন ৫.৫ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা ৫.৫ শতাংশ কমে দাঁড়াবে ৯৪. ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ তার প্রকৃত আয় কমে যাবে।
এ অবস্থায় মানুষ কেন ব্যাংকে টাকা রাখবে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন লিখেছেন, তিনি ব্যাংকে টাকা না রেখে এখন থেকে মাটির ব্যাংকে রাখবেন এবং তিনি এর চেয়ারম্যান ও তাঁর স্ত্রী এমডি এবং ছেলে-মেয়েরা পরিচালক হবেন। বাংলাদেশের অনেক বেসরকারি ব্যাংকে এই রীতিটি চালু আছে।

#৫ Comment By হুমায়রা সুলতান On জুন ৫, ২০১৭ @ ১১:০৫ অপরাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে চুরিচামারি, জালিয়াতি নাকি অন্য দেশেও হয়। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মতো ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা বিশ্বের আর কোথাও হয় না। তবে কোথাও থাকলেও সেটা হচ্ছে মন্দ বা খেলাপি ঋণ। তাও বড়জোর এক থেকে দু’শতাংশের মধ্যে। অথচ আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে বড় অংশই হচ্ছে মন্দ এবং খেলাপি ঋণ। তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। এখনো এর ৬০ শতাংশের বেশি মন্দ ঋণ। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) ক্ষেত্রেও মন্দ ঋণের হার একই।’ অন্যান্য দেশে অর্থ লোপাট বা চুরি চামারির ঘটনা ঘটলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অর্থ লোপাটকারীরা শাস্তি পান। আর আমাদের দেশে তার বুক ফুলিয়ে হাটেন। পার্থক্য এটুকুই। ২০১০সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি উদ্‌ঘাটনে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বাজার কারসাজির জন্য যাদের দায়ী করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করলেও রহস্যজনক কারণে সেটি হয়নি। দুই একজন ছাড়া কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

#৬ Comment By Qudrate Khoda On জুন ৬, ২০১৭ @ ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

Very well written.

#৭ Comment By সরকার জাবেদ ইকবাল On জুন ৬, ২০১৭ @ ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সুপ্রিয় খায়রুল ভাই, আপনার এই লেখার মাধ্যমে আমার মত লক্ষ লক্ষ মধ্যবিত্তের বুকচাপা কান্নার বহিপ্রকাশ ঘটেছে। আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। আশা করি আপনার লেখাটি সরকারের নজরে আসবে এবং তারা আপনার মতামতকে বিবেচনায় নেবেন।

#৮ Comment By Md. Javed Rasheed On জুন ৬, ২০১৭ @ ২:২৬ অপরাহ্ণ

Surcharge on post-tax salary of private service holders bank deposit is ‘Double Taxation’. It is not only unjust but ‘ZULUM’. Besides, RIBA is haram in Islam. How can a Allah fearing Muslim invest his hard earned savings in Bangladesh? Any suggestions…?

#৯ Comment By ঈশান আরসালান On জুন ৬, ২০১৭ @ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

এই লেখায় বিডিনিউজ২৪-এর “Resident Commentator” জনাব R. Masud সাহেবের মন্তব্য দেখলাম না।

#১০ Comment By Mohammad Imran On জুন ৭, ২০১৭ @ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

আমি একজন পজিটিভ মনা মানুষ। একান্ত না পারতে কারো বিরুদ্ধে নেগেটিভ ধারনা পোষণ করিনা। তাই শুল্কের নীতিনির্ধারকদের ব্যাপারেও আমি পজিটিভ ধারণাই পোষণ করতে চাই। আমার মনেহয় ওনারা বাংলাদেশের মৃৎশিল্পের বর্তমান দুরাবস্থার কথা চিন্তা করেই এই নতুন শুল্ককাঠামো প্রনয়ন করেছেন। কারণ ওনারা হয়তো ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন যে, এই শুল্ককাঠামোর কারণে মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্থা বিমুখী হয়ে নিজেরাই মাটির ব্যাঙ্কে টাকা জমা রাখার জন্য উদ্যোগী হবেন !!!
আর তা যদি না হয়ে থাকে, তবে আমার বুঝে আসেনা যে, তারা কোন ধরনের চিন্তা ভাবনা নিয়ে এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ শুল্ককাঠামো প্রণয়ন করেছেন ? কারণ প্রতিবেদন পড়ে আমি যা বুঝলাম তা হল, ব্যাঙ্কে যার ১,০০০০১ টাকা আছে তাকে ৮০০ টাকা এবং যার ৯৯,৯৯,৯৯৯ টাকা আছে তাকে মাত্র ২৫০০ টাকা গুনতে হবে !!!!!! এটা কোন ধরনের সামঞ্জস্যতা ???? ওনারা কি এটা বুঝে করেছেন, নাকি না বুঝেই করেছেন ????? এটা তো মরার উপর খারা ঘা আর তেলের মাথায় তেল দেয়া হয়ে গেল।
যদিও আমি একজন বিজ্ঞানের ছাত্র অর্থনীতির মারপ্যাঁচ অত ভালভাবে বুঝিনা, তারপরেও শুল্ককাঠামোর ব্যাপারে আমার একটি সরল সমীকরণ আছে আর তা হল, শুল্ককাঠামো এমন হওয়া উচিৎ যাতে মানুষ অর্থ লুকোচুরির পরিবর্তে অর্থ প্রদর্শন করতে বেশি উৎসাহী হয়। সুতরাং মানুষ যদি কম টাকা খরচ করে ব্যাংকে অর্থ জমা রাখতে পারে, তবে নুন্যতম জ্ঞানসম্পন্ন কোন ব্যাক্তিই হয়তো ঘরে টাকা জমা করে চোরের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মচন করতে চাইবে না। আর যাদের বেশি টাকা আছে তারা চাইবেনা যে তাদের অর্থ কালো তালিকা ভুক্ত হোক। আর ব্যাংক যদি মারমুখি হয়, তবে মানুষ হয়তো ঘরে টাকা রাখতে আর বিদেশে পাচার করতেই বেশি উৎসাহী হবে।
আমার মনে হয় নগদ সঞ্চয়, শূন্য থেকে ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে আছে এমন পরিবার হিসেব করা হলে বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ চলে আসবে। আর যদি শূন্য থেকে ১ কোটির মধ্যে হিসেব করা হয়, তবে হয়তো হাতেগোনা কয়েকজন বাদে সকলেই এই হিসেবের মধ্যে চলে আসবে। সুতরাং নির্দ্বিধায় বলাযায় যে, এই শূন্য থেকে ১ কোটির লোকেরাই বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণের মূল ক্ষেত্র। শুল্ককাঠামো এমন হওয়া উচিৎ যাতে এই লোকদের থেকে বেশি শুল্ক আদায় সম্ভব হয় এবং একই সাথে তারা শুল্ক দিতে উৎসাহী হয়।
আমাদের শুল্ক নীরধারনি লোকেরা এই সীমার লোকদের জন্য মাত্র দুটি কাঠামো নির্ধারণ করেছেন। ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকার লোকদের জন্য ৮০০ এবং ১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লোকদের জন্য মাত্র ২৫০০ ! এটা কেমন সামঞ্জস্যতা ? ১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত কি আরও শ্রেণীবিভাগ দরকার ছিলনা ??? আর এদের (১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি) শুল্ক হার কি আরও বাড়ানো উচিৎ ছিলনা ???? আমাদের শুল্ক নীতিনির্ধারকদের সঞ্চয়ের সীমা এই সীমার (১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি) মধ্যে পরে বলেই কি তারা তা বাড়াননি ????

শুল্ক নির্ধারণের ব্যাপারে আমার নিজস্ব একটি মতামত আছে আর তা হল, শুল্ক মুক্ত সীমা থাকবে ২০/৩০ হাজার টাকা। এই সীমার পর থেকে ৫০ হাজার পর্যন্তদের জন্য ৫০ কিংবা ১০০ টাকা, ৫০ থেকে ৮০ হাজার পর্যন্তদের জন্য ২০০ টাকা, ৮০ থেকে ১.২ লক্ষ পর্যন্তদের জন্য ৩০০ টাকা, ১.২ লক্ষ থেকে ২ লক্ষ পর্যন্তদের জন্য ৫০০ টাকা, ২-৫ লক্ষ পর্যন্তদের জন্য ৮০০ টাকা, ৫-১০ লক্ষ পর্যন্তদের জন্য ১৫০০ টাকা, ১০-২০ লক্ষ পর্যন্তদের জন্য ২৫০০ টাকা, এভাবে টাকার পরিসীমা বৃদ্ধির সাথে সাথে শুল্কহারও মোটামুটি আনুপাতিক হারে বাড়বে। এতে করে সামঞ্জস্যতাও আসবে এবং পাশাপাশি শুল্ক আদায়ের পরিমানও বাড়বে।

#১১ Comment By দেবু On জুন ৭, ২০১৭ @ ৮:১১ অপরাহ্ণ

কেউ কি আবগারি শুল্কের হিসাবে চুরি/দুর্তামি এবং ঋণ হিসেবেও শুল্ক দিতে হয়, এই বিষয়ে কিছু লিখবেন?

#১২ Comment By Rahman On জুন ৯, ২০১৭ @ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

Mr.Imran,

Thanks fr yr comment.

#১৩ Comment By Nanda Lal Sutradhar On জুন ১২, ২০১৭ @ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

Indeed, this is a good explanation on recent excise duty issue which is recently proposed in this year budget. This write up need to be well circulated through press media widely for the citizens. Thank you Khairul bhai for your in-depth analytical write up in favor of the low income group. This excise duty must be dropped by the government in consultation with policy-making body considering its inconvenience of our community as a whole.

#১৪ Comment By মনিরুজ্জামান On জুন ১৯, ২০১৭ @ ৭:৫১ অপরাহ্ণ

গত নয় বছরে ঘটেছে ছয়টি বড় আর্থিক
কেলেঙ্কারি। এসব কেলেঙ্কারিতে ৩০
হাজার কোটি টাকারও বেশি চুরি বা
আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ অর্থ দিয়েই
অনায়াসে একটি পদ্মা সেতু তৈরি করা
যেত। বড় এসব আর্থিক কেলেঙ্কারিতে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিপুলসংখ্যক সাধারণ
মানুষ। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি লাখ
লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে সর্বস্বান্ত
করেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ
পাওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা
পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের একটি
অংশ ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতে
সহযোগিতা করেছেন, নিজেরাও লাভবান
হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থা না নিয়ে
উল্টো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী
ব্যক্তিদের ছাড় দিয়েছে দুর্নীতি দমন
কমিশন (দুদক)। একটি কেলেঙ্কারিরও
বিচার হয়নি। সাজা পাননি অভিযুক্তদের
কেউ। প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। বছরের পর
বছর মামলা চলছে। অভিযুক্তদের কেউ
জেলে আছেন, কেউ চিকিৎসার নামে
হাসপাতালে আরাম-আয়েশে আছেন।
অনেকে জামিন পেয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর
সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী
পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান দুজনেই মনে
করেন, মূলত সুশাসনের অভাব থেকেই একের
পর আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।