চার লক্ষ কোটি সংখ্যাটি ভাবতে গেলে আমার মতো অনেকেরই আসলে দৃশ্যমান ফ্রেমে আনতে কষ্ট হবে। বাঁ থেকে শুরু করে ডানে যেতে যেতে হয় চার হারিয়ে যাবে নয়তো ডান থেকে বাঁয়ে আসতে আসতে দু’চারটা শূন্য টুপটাপ পড়ে যাবে।

স্বাধীনতার পর বাজেটের সংখ্যাটি মাত্র সাতশ ছিয়াশি দিয়ে শুরু হয়ে আজ চার লক্ষে পৌঁছেছে। লাখের ঘর পার করেছে বছর দশেক আগে মাত্র। হামাগুড়ি দিতে, হাঁটতে, দৌড়ুতে শিখতে বেশ অনেকটা সময় লেগেছে ঠিকই, কিন্ত দৌড়ুনো যখন একবার শিখে গেছে আমাদের অর্থনীতি তখন থেকেই আর পিছু ফেরা নেই, ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছেই।

সংখ্যায় যেহেতু বোঝা গেল না ব্যপারটা তো নাহয় আমরা জীবনমান নিয়েই খানিক তুলনা করি।

আশি-নব্বইয়ের দশকে উচ্চবিত্তরা কোটির ঘর ছাড়িয়ে বাড়ি করলে অনেকেই তা দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসত। আমার মনে আছে, চট্টগ্রামে আগ্রাবাদ সিডিএ. যা ছিল একসময়কার উচ্চবিত্তের লোকালয়, সেখানে প্রথম কোটি টাকার বাড়ি করেন মার্কিনপ্রবাসী একজন। লোকজন দূর থেকে যাওয়ার সময় আঙুল তুলে বলাবলি করত, এটা সেই বাড়ি। আর এখন পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই অনেক উচ্চবিত্তের ছেলেদেরই মাসে পার্টি-নেশা-বান্ধবীদের পেছনে কোটি টাকার বরাদ্দ থাকে।

তখন রিকশা চড়ে বাজারে গিয়ে সপ্তাহে দুচারবার মাছ-মাংস কেনার টাকা হয়তো মধ্যবিত্তের পকেটে থাকত, কিন্ত কিছুদিন পরপর ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার মতো সঞ্চয় থাকত না। আর এখন মধ্যবিত্ত দামি গাড়িতে চড়ে, হুটহাট এমেক্স লাউঞ্জে চেক-ইন দেয়, বছরে দুএকবার দেশের বাইরে হাওয়া-বদলে যায়।

আর নিম্নবিত্ত কিংবা দরিদ্র? টিভি, ফ্রিজ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক গেজেট এখন অনেকেরই আছে। শ্রমের দাম বেড়েছে অনেকগুণ, সে গ্রামের জমিতে চাষার শ্রমই হোক কিংবা ইট কাঠের শহরের রাস্তায় রিক্সাচালকের।

বিভিন্ন প্রাকৃতিক বা সামাজিক সমস্যার কারণে চূড়ান্ত দারিদ্রসীমায় যে কেউ নেই তা বলছি না, তবে এখানে বলছি সাধারণ চিত্রের কথা। বাসাবাড়িতে কাজের লোক যখন অনেক বেতন দিয়েও পাওয়া যায় না বলে মা আফসোস করেন তখন বুঝতে পারি আমাদের অর্থনৈতিক উত্তরণ সঠিক পথেই আছে। যে সময়টাতে বিশ্বমন্দায় অন্যরা পেছন দিকে হেঁটেছে, বাংলাদেশ তখন দৃপ্ত পায়ে সামনেই এগিয়েছে।

নব্বইয়ের দশকের পর থেকে আমাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা– প্রায় সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। বিশেষত শিক্ষায় উন্নয়ন বহির্বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ, মাধ্যমিক পর্যন্ত উপবৃত্তি প্রদান এর অসাধারণ কিছু উদাহরণ। মাস ছয় আগে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পারিবারিকভাবে গড়ে তোলা ভাঙাচোরা স্কুলঘরের চেহারা দেখি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ভেতরে গিয়ে শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলাপ করে উপলব্ধি করতে পারলাম, সরকারিকরণের সঙ্গে সঙ্গে স্কুলগুলোর দেখভালের কাজ বেশ আন্তরিকভাবেই করা হচ্ছে। পাশের হার বেড়েছে অনেক। পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে।

 

pexels-photo (man-field-smartphone) - 111

 

ঠিক একইভাবে অর্থনৈতিক সূচকে পরিবর্তনের সঙ্গে উন্নয়ন এসেছে স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, সর্বক্ষেত্রে। এত এত উন্নয়ন সূচক নিয়েও ঠিক কোথায় যেন হিসাবগুলো গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে। মাঝেসাঝেই এখানে-সেখানে ভয়ংকরভাবে তাল কেটে যাবার মতন।

২ মেতে আকস্মিক একটি খবর বেরোয় পত্রিকার পাতায়, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির তথ্যমতে, ২০০৫ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭২,৮৭২ কোটি টাকা। তার মানে হল, উপরে উল্লিখিত বিষয়সমূহের বাইরেও সূচক লোকচক্ষুর আড়ালে আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রেই এগিয়েছে! যদিও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য হল “এগুলো রংচঙ দিয়ে বলা হয়। আমাদের অর্থপাচার খুব বেশি নয়।”

খুব স্বাভাবিক। উনি ম্যক্রো দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন। যেমন হলমার্ক ঘটনার পর বলেছিলেন, সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বড় অঙ্কের অর্থ নয়। আমরা যারা সাড়ে চার লক্ষ কোটি সংখ্যাটা ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারি না তাদের জন্য অঙ্কগুলো অনেক বড় বলে ভ্রম হয়!

আবার সেই মুহিত সাহেব যখন বলেন– ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে লুটপাট হয়েছে, সেটা শুধু পুকুরচুরি নয়, সাগরচুরি’– তখন সেই চুরির ব্যাপ্তি নিয়ে আমরাও সংশয়ে পড়ে যাই।

যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফ্লাইওভার নির্মাণে বাংলাদেশের খরচ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। উদাহরণ, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার– শুরুতে যার প্রকল্প-ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫০ কোটি টাকা তা ধাপে ধাপে বেড়ে দাঁড়ায় ২৩০০ কোটি টাকা। যা ছয় গুণের বেশি।

কাজেই দেখা যাচ্ছে সূচক আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্নীতিতে এবং তার উল্লম্ফন উন্নয়ন সূচকটি নিশ্চিতভাবে ছাড়িয়ে গেছে। আর তাই বাজেটের অংক যত বাড়ে তা ঘিরে শঙ্কাও বাড়ে।

এদিকে জিপিএ ৫ পাওয়ার সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রশ্নফাঁস। ২০১৭তে এসে তো ফলাফল ফাঁসেরও ঘটনা ঘটে গেল যদিও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সরকারিভাবে আজ পর্যন্ত স্বীকার করা হয়নি। প্রতিটি পরীক্ষার আগেই বেশ তর্জন গর্জন করে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হলেও ফলাফল যে-কে-সেই। পরীক্ষার আগের রাতে অতীতে ছাত্রছাত্রীরা বইয়ে ডুব দিয়ে থাকত। এখন এক চোখ অনলাইনে ব্যস্ত রাখতে হয়। তাদের সঙ্গে বাবা-মায়েরাও প্রশ্নের খোঁজে নির্ঘুম রাত পার করেন। ফলাফলে মুড়ি-মুড়কির মতো জিপিএ ৫ পাওয়ারাই এসে আবার আটকে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেল ভর্তিপরীক্ষায়।

ঠিক এরকম আরও অনেক সূচক বেড়েছে। বেড়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক হয়রানি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নিষ্পেষণ, পাহাড়ে সেটেলার আর সামরিক বাহিনীর আগ্রাসন, শিশু ও নারীধর্ষণ ও নির্যাতন, রাজনৈতিক দল ও সরকারি বাহিনী কর্তৃক চাঁদাবাজি ইত্যাদি।

এ সবের সঙ্গে দিনমান অভিযোজন দিয়ে চলেছে আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় আচার, মূল্যবোধ আর চিন্তা-চেতনা। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে আমাদের সম্ভাষণ-রীতি কেমন যেন পরিবর্তিত হয়ে যেতে লাগল। ‘কেমন আছেন’এর উত্তরে ‘ভালো আছি’এর জায়গা দখলে নিল ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বা ‘ইনশাল্লাহ ভালো আছি’। রমযানের শুভেচ্ছা হয়ে গেল ‘রামাদানুল কারিম’।

ধর্মানুভূতি ধীরে ধীরে প্রখর হতে লাগল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের। নব্বইয়ের শেষদিকে কিংবা দুহাজারের প্রথম সময়টাতেও ব্যস্ত রাস্তায়, ঈদ শপিংএ, অনুষ্ঠানে-আয়োজনে হিজাব-পরিহিতার সংখ্যা হাতে গোণা যেত। এখন হিজাবহীনের সংখ্যা গোনা যায়। এর মানে এই নয় যে, মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে গেছে আমাদের চিরায়ত উৎসবে-আয়োজনে। বরং ছেলেমেয়েনির্বিশেষে অংশগ্রহণ বহুগুণে বেড়েছে। এটা একটা অদ্ভুত বৈপরীত্য যা আমাদের পরিচয় সঙ্কট প্রকাশ করে।

অনুভূতিপ্রবণতা আবার সব ক্ষেত্রে বেড়েছে বলা যাবে না। ক্ষেত্রবিশেষে কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। আমরা দারুণ সহনশীল হয়েছি দুর্নীতি বিবেচনায়। ঘুষগ্রহণ, অর্থ-আত্মসাৎ, শক্তিমানের তোষামোদ করে কাজ পাওয়া– এগুলো আমরা এখন আর ঠিক পাপ বা অপরাধ হিসেবে ধরি না। আমাদের মূল্যবোধগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে। অপরাধ পাশ কাটিয়ে যাওয়া, দুর্নীতিতে অংশগ্রহণে এখন আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত। কাজ করে দেবার প্রতিশ্রুতিতে ঘুষের টাকা পকেটে রেখেই আমরা নামাজের সময় টুপি মাথায় দাঁড়িয়ে যাই। সন্তানদের মধ্যেও একই মূল্যবোধ প্রবাহিত। ন্যুনতম প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ে সাফল্য আজ সবার লক্ষ্য।

তাই উন্নয়নের গুণগত মাণের চেয়ে সংখ্যাগত সমৃদ্ধি দেখিয়ে রাজনৈতিক জয় ধরে রাখতে সরকারও নিবিড়ভাবে প্রচার করে চলে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা সমষ্টিগতভাবে, সর্ব ক্ষেত্রেই এখন সাফল্য প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। সন্তানের শিক্ষাগত অর্জনই হোক আর জিডিপির প্রবৃদ্ধি হোক, সবাই সংখ্যার মাপকাঠিতে তার মূল্যায়নে বিভোর। গুণগত মানের বাছ-বিচার নেই।

দুর্নীতি আর ধর্মীয় লেবাস আজ মিথোজীবী, পারস্পরিক নির্ভরতায় একটি আরেকটির অবস্থান শক্তিশালী করে তুলেছে দিনকে দিন। যারা ব্যাংক থেকে সাধারণ জনগণের টাকা মেরে দেয়, তারাই মাদক থেকে শুরু করে হুন্ডি কিংবা আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে– তারাই রাজনীতি করে– উপাসনালয়ে ডোনেশন দিয়ে সমাজের মান্যবর হয়ে থাকে।

মাস ছয়েক আগে দেশের মাটিতে নেমেছি। সেদিন শুক্রবার। সকাল এগারোটার মতো বাজে। গাড়ি এয়ারপোর্ট সীমানা ছাড়িয়ে লোকালয়ে ঢুকতেই প্রথম যে চীৎকার কানে ভেসে এল তা হল ‘মুসলমানদের ধ্বংসের ষড়যন্ত্র আজ আমার এই দেশে’। মসজিদের মাইক থেকে হুযুরের গগনবিদারী হুঙ্কার। বুঝলাম জুমার বয়ান শুরু হয়ে গেছে বেশ আগেভাগেই এবং যথারীতি ধর্মীয় হিংসাত্মক বাণী প্রচার চলছে। যদিও বাস্তবতা হল, মুসলমান ছাড়া অন্য সকল সংখ্যালঘুদের উৎখাতের দারুণ উৎসব দেশজুড়ে, তারপরও তৌহিদী জনতাকে সর্বদা উদ্দীপ্ত রাখতে হবে।

আমরা বেশিরভাগই মসজিদে, ঈদগাহে, ইসলামি মাহফিলে ইহুদি-নাসারা-খ্রিস্টান-কাফের সকলের অমঙ্গল ও ধ্বংসের মোনাজাত শুনে ও তার সঙ্গে ‘আমিন’ বলে এই হিংসাত্মক ইচ্ছার সঙ্গে একাত্মতা জানাতে বহু আগে থেকেই অভ্যস্ত। কিন্ত গত দশ বছরে তা যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মিডিয়ার সহজলভ্যতা পুঁজি করে এর প্রচার হচ্ছে মুড়ি-মুড়কির মতো। মেরুকরণের প্রভাবে একসময়ের নিরীহ ধর্মভীরু বাঙালি হয়ে উঠছে সাচ্চা মুসলমান। চল্লিশ পেরোনোর আগেই মক্কা মদিনা ঘুরে এসে চাপদাড়িতে মেহেদি রঙ করে রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলছেন। যিনি কিছুদিন আগেই পার্টিতে বা বিয়েবাড়িতে রঙিন পানীয়তে বুঁদ হয়ে রাতভর নাচানাচি করতেন, সেই তিনিই ভোল পাল্টে বাণী দেওয়া শুরু করেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা হারাম’।

এই ভোল পাল্টানোর দুটো উপকার। প্রথমত, ক্রমশ মৌলবাদী হতে থাকা সমাজে নিজের অবস্থান নিরাপদ করা; দ্বিতীয়ত, দুর্নীতিতে শক্তিশালী পক্ষের সঙ্গে আঁতাতের মধ্যে থেকে ইহকাল ও পরকাল দুটোরই প্রাপ্তি ও ভোগ নিশ্চিত করা।

 

pexels-photo (Terrosrism) - 111

 

এভাবে ক্রমশ ধর্মীয় মেরুকরণে আর দুর্নীতির জালে জড়াতে থাকা একটি দেশের অর্থনৈতিক ও জীবনমানের আপাত দৃশ্যমান উন্নতি নিয়ে কি আদৌ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা যায়? আমরা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব আমাদের সন্তানদের জন্য আমরা ছেড়ে যাচ্ছি যে ভূখণ্ড তা গুণগতমানে ফেলে আসা সময়ের চেয়ে নিরাপদ, সুখী আর প্রাঞ্জল হতে যাচ্ছে?

আমার মনে হচ্ছে না। রাক্ষুসে মাছ জলে রেখে আপনি যতই পোনা ছাড়ুন না কেন একসময় সে রাক্ষুসের অধিকারেই সব যাবে। আমরা সব একই ট্রেনের যাত্রী। একজন পচা মাছ সঙ্গে নিয়ে উঠলে সে গন্ধ অন্যদের গায়েও ছড়ায়।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আমাদের নাম আসছে। বেশিরভাগ দেশে এখনই আমাদের বিনা ভিসায় যাওয়ার অধিকার নেই। তার কারণ বিবিধ। কিন্ত অন্ততপক্ষে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মতো ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের ছাপ এখনও আমাদের গায়ে লাগেনি। এখনও উন্নত বিশ্বের সরকারি সাইটগুলোতে তাদের অধিবাসীদের অন্য দেশ ভ্রমণে ট্র্যভেল এডভাইস ঘাঁটলে তুলনামূলক বিচারে বাংলাদেশ অনেক পরিচ্ছন্ন দেখায়। এই ছাপ আমরা কতদিন ধরে রাখতে পারব সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির চর্চা এ দেশের ইতিহাসে জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে। কিন্ত ধর্মভিত্তিক দেশভাগের মূলমন্ত্রের বিপরীতে লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা সহজ মনের প্রগতিশীল মানুষজনকে ধর্মের বড়ি গেলাতে পারেনি জামায়াত দীর্ঘ চল্লিশ বছরেও। যত তারা ধর্ম বোঝাতে গেছে এ মানুষদের ততই তারা একদলা থু দিয়ে মুখের উপর বলে দিয়েছে, ‘যা ব্যাটা, তুই রাজাকার’। কিন্ত তাদের এ দীর্ঘ শ্রম একেবারে বিফলে যায়নি। রাজাকার ট্যাগ থাকার কারণে তাদের ফসল অধিকারে নিয়েছে হেফাজত।

তবে সত্যি বলতে, কোথা দিয়ে কী করে আমাদের নিরীহ অসাম্প্রদায়িক মানুষেরা দিনে দিনে বদলে গেল সেটার হিসাব আমারও ঠিক মেলে না। সমাজবিজ্ঞানীরা ভালো বলতে পারবেন।

সমাধান কী? দুর্নীতি আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতির লাগাম টানতে হবে সবার আগে। একসময়ের শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করতে গিয়ে ধর্মীয় শক্তির সঙ্গে হাত মেলানোতে সরকার সাময়িক স্বস্তিলাভ করলেও অদূর ভবিষ্যতে এটা বুমেরাং হতে বাধ্য। কারণ মৌলবাদের হাত ধরে আসে সাংস্কৃতিক-সামাজিক-ধর্মীয় বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ; বিজ্ঞানচর্চার বদলে অপবিজ্ঞানের বিকাশ; জাতিগতভাবে মননের ক্ষয় আর পেছনে চলা।

অন্যদিকে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ সময়সাপেক্ষ হবে নিঃসন্দেহে। সর্বস্তরে তথ্যপ্রযুক্তির যথাসাধ্য প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারি সকল সেবা ও দাপ্তরিক কার্যপ্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক ফর্মে সম্পাদনের আওয়ামী লীগ সরকারের একুশ শতকে ডিজাটাল বাংলাদেশের রূপরেখা যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বচ্ছতা, সেবা বা কার্যপ্রক্রিয়া সম্পাদনের সময়সীমা (Turn Around Time), স্বয়ংক্রিয় নিরীক্ষা ইত্যাদি বিষয়সমূহ নজর দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসনের নিশ্চয়তা ছাড়া শুধু ডিজিটাল করে খুব বেশি সফলতার মুখ দেখা যাবে না। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাগরচুরি সুশাসনবিহীন ডিজিটাল ব্যবস্থার সার্থক উদাহরণ।

যে কোনো বিনাশী শক্তির একটা নিয়ন্ত্রণযোগ্য সীমারেখা থাকে। তারপর সে তার ধ্বংসের পথে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিছুতেই তাকে আর রুখে দেওয়া যায় না। তখন একটাই উপায় থাকে, ভোরের জন্য অপেক্ষা। কারণ ধ্বংসের পরেই শুধু পুননির্মাণ সম্ভব। যদি পুননির্মাণেরও অযোগ্য হয়ে পড়ে তবে তা হয়ে পড়ে ওয়্যাস্ট ল্যান্ড বা পতিত। তা ছেড়ে তখন অন্যত্র চলে যেতে হয়।

২০১৬এর বক্স অফিস সাড়াজাগানো ও রেকর্ডসংখ্যক ছয়টি ক্যাটাগরিতে অক্সার জেতা Mad Max Fury Roadএ প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভূমির অধিকার ফিরে পেতে নগরে ফিরে আসে ফ্যুরিওসা। দখলদার জোএর হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় অধিকার। আমরাও ছাড়তে চাই না। দুর্নীতি আর মৌলবাদের মিথোজীবী শক্তিকে এখনই রুখে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতা শেষ করেছেন রবার্ট ফ্রস্টের উক্তিতে– miles to go before I sleep– চোখ বুজে আসার আগে আমরাও দেখে যেতে চাই ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা’।

মাকশুমুল হকতথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ

৪০ Responses -- “উন্নয়নের মহাসড়কে আমাদের গন্তব্য: বিপত্তি আর সতর্কীকরণ চিহ্নসমূহ”

  1. ‌মো: আল আমিন

    লেখক‌কে বল‌ছি, ইসলা‌মের বিরু‌দ্ধে এত কম লিখ‌লে তো ভাই আপ‌নি বড় মা‌পের লেখক হ‌তে পার‌বেন না! সরসর‌ি ইসলা‌মের ‌বিরু‌দ্ধে লিখুন, নবী‌কে নি‌য়ে সমা‌লোচনা দিন তাহ‌লে দেখ‌বেন আপ‌নি রাতারাতী কত বড় লেখক হিসা‌বে গন্য হ‌বেন, কিছু দি‌নের ম‌ধ্যেই আপ‌নি পে‌য়ে যা‌বেন মুক্তমনা সহ অসংখ্য বি‌শেষন, জয় হক আপনার!

    Reply
  2. bahar azam

    দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ধর্মানুরাগী-ধর্মাবলম্বী বিধায় কোন ব্লগার কিংবা তথাকথিত মুক্তচিন্তক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়ে কিছু বলা, করা, দেশে প্রচলিত আইনের ফৌ.কা.বি. আইনের-২৯৫ ধারার লঙ্ঘন এবং একটি ফৌজদারি অপরাধ। ব্লগার ও মুক্তচিন্তকগণ প্রগতিপণ ও মুক্তচিন্তার নামে সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারেন না, ২৯৫ ধারাও লঙ্ঘন করতে পারেন না। দেশে প্রচুর আইন-কানুন ও বিধি-বিধান আছে। ব্লাসফ্যেমি আইনের কোন প্রয়োজন নেই। ব্লগার ও মুক্তচিন্তকগণ যেমন ধর্ম ও সমাজবিরোধী বক্তব্য দিতে পারেন না, ঠিক তেমনি ইসলাম ও ইনসাফের নামে গুপ্ত হত্যা কিংবা হত্যা করা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার নামান্তর। জঙ্গিদের নামে এভাবে ব্লগার হত্যা যেমনভাবে পবিত্র ইসলাম ধর্মের বিরোধী ঠিক তেমনি দেশে প্রচলিত আইন-কানুন ও বিধি-বিধানেরও পরিপন্থী। মুক্তচিন্তার অধিকারী মুক্তচিন্তক ব্লগার বন্ধুগণের ইসলাম ধর্মের প্রতি অধিকতর উষ্মা এবং এত ধর্মবিরোধী হওয়ার তো কোন কারণ থাকতে পারে না। ইউরোপ-আমেরিকায় গীর্জা ও চার্চসমূহকে আস্তাবল বানানো হয়নি, বাইবেল ও টেমস আমাজনে বিসর্জন দেয়া হয়নি। পোপ-পাদ্রীদের ভূমিকা পাশ্চাত্য সমাজে একেবারে গৌণ নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের মিত্র-আমাদের নিকট প্রতিবেশী ধর্মনিরপেক্ষ বিশাল ভারতবর্ষ ধর্মহীন সমাজ নয়। মৌলবাদ-উগ্রবাদের আস্তানাও ভারতবর্ষ। মধ্যপন্থী প্রগতিশীল সেক্যুলার দল কংগ্রেসের, অতঃপর কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ এলায়েন্স-ইউপিএ-এর সুদীর্ঘ শাসনামলে ভারতবর্ষে মৌলবাদ-উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়নি, বরং গান্ধী, নেহেরু-ইন্দিরার ভারতবর্ষের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জেঁকে বসেছে অক্টোপাসের মতো, গিলছে ভারতের সমাজ ও রাজনীতিকে। মি. নরসিমারাও-এর কংগ্রেসী সরকারামলে ভারতীয় মৌলবাদী জঙ্গিরা ‘জয়হিন্দ’ সেøাগান দিয়ে বাবরি মসজিদ ভেঙে দিয়েছিল, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের মুখে কলঙ্কের কালিমা লেপন করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন যাবত বাম সরকারের শাসনাধীনে। সিপিএম-তৃণমূল কংগ্রেস ধর্ম বিসর্জন দেয়নি, বরং পশ্চিমবঙ্গে পৃথিবীর বৃহত্তম দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতে শিবসেনা, আরএসএস জাতীয় উগ্র হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন আছে। ভারতীয় জনতাপার্টি-বিজেপি একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। আশির দশকে মাত্র দুটি আসন দিয়ে সংসদীয় রাজনীতি শুরু করে এখন বিজেপির জোয়ারে ভেসে গেছে শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধীর কংগ্রেস। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বিরোধী দলের নেতা হওয়ার মতো আসনও পাননি।

    Reply
  3. শিমূল বিন আহেম্মদ

    “যারা বুঝতে চান তারা অবশ্যই বুঝবেন।
    দিল্লির হিন্দুত্ববাদকে ন্যায্য প্রমান এবং দিল্লীর স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্য বাংলাদেশেও হিন্দুকে উচিত শিক্ষা দেওয়া এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষকে অপমানিত করা নরেন্দ্র মোদীরই প্রকল্প। আলাদা কিছু না।
    ইসলাম ইহলোকে শুধ মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই এসেছে — এটা ইসলামের আদর্শ নয়, সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন। সভ্য ভব্য জগতের সার্বজনীন আদর্শের বিপরীতে ইসলাম অসভ্য ও বর্বরদের ধর্ম, এই ধর্মকে শায়েস্তা না করলে বিশ্ব সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে — এটা কাদের বয়ান?
    এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের বয়ান।
    শ্যামল কান্তি ভক্ত কে কানে ধরিয়ে ওঠবস করার মতো ঘটনা, মন্দির ভাঙা, হিন্দু বা বিধর্মীদের বাড়ি হামলা তেমনি ঘটনা যা এই বয়ানটিকেই অনায়াসে প্রমাণ করে।
    একের এক প্যালেস্টাইন ইরাক মিসির লিবিয়া সিরিয়া ধ্বংস হয়ে যাবার পরেও যারা বাংলাদেশে নানান ছুতায় দাঙ্গা লাগাতে চায়, যেহেতু ভারতে নিত্যদিনই কোথাও না কোথাও মুসলমান নির্যাতন ধর্ষণ বা দাঙ্গা চলছে — তাদের চিনে রাখুন।
    তারা কি চায় বুঝতে চাইলে মধ্য প্রাচ্যের দিকে তাকান। এদের রুখে দিন।
    আবারও বলি, ইসলাম শুধু মুসলমানদের জন্য আসে নি, এমনকি শুধু মানুষের জন্যও না, পশুপাখি কীটপতঙ্গ জীব অণুজীবসহ — সকল প্রাণের মহিমা ও প্রাণের হেফাজতের জন্য এসেছে।
    মানুষের মর্যাদা রক্ষা এই ধর্মের অতি আবশ্যিক সার্বজনীন নীতি যার সঙ্গে নৈতিকতা, আইন এবং উন্নত ও মহৎ শাসন ব্যবস্থার ধারণা জড়িত।
    একে কায়েম করে সাম্প্রদায়িকতা, হিন্দুত্ববাদ ও সাম্রাজ্যবাদকে উপযুক্ত জবাব দিন।”

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      ইসলাম শ্যামল কান্তিকে কান ধরে উঠবস করানাে, মন্দির ভাঙ্গা, ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেয়ার জন্যও আসেনি, – এই কথাটাও বলুন।

      Reply
    • নুর আহমদ বকুল

      ধর্মীয় শক্তি যতই আঘাতপ্রাপ্ত হয় ততই তাদের উত্থান ঘটে। আর ধর্মীয় শক্তির যত উত্থান ঘটে কথিত গনতন্ত্রীরা ততই ধর্মের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়।কেউ তসবিহ জপেন তো কেউ পীরের অাস্তানায় হাজিরা দেন।কেউবা তাহাজ্জুদ ধরেন।
      এই পরিক্রমায় বামেরাও আস্তে আস্তে ডানে মোড় নেয়।কেউ কেউ বাড়ি বদল করেন। পাজামা পাঞ্জাবি ঠিকই থাকে,শুধু কমরেডের বিখ্যাত কাঁধে ঝুলানোর ব্যাগটা গায়েব হয়ে যায়,সেখানে স্থান করে নেয় টুপি।
      অতঃপর একসময় ডান,বাম সবাই মক্কায় পৌছে যায়।
      বিঃদ্রঃ- বয়স যখন প্রান্তে পৌছায়,সব হরিই তখন সাধু হওয়ার চেষ্টা করে,নাটাইয়ের সুতোই টান পড়লে অন্তত ঘুড্ডি টের পায়. 🙂

      Reply
    • কামাল পাশা

      হেফাজতে ইসলাম, ওলামা লীগের মতো সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ও আস্ফালনে দেশের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। হেফাজতে ইসলামের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন, ভাস্কর্য অপসারণ করায় ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিজনরা অভিযোগ করেছেন, সরকার প্রকারান্তরে দুধকলা দিয়ে হেফাজতকে পুষছে। এর ফল অচিরেই সরকার পাবে। —– নাট্যকার নাসির উদ্দিন ইউসুফ

      Reply
      • ajam

        kamal pasha shaheb amra apnar motamot ta o jante chai…. apni nijetow vlo-e lekhen akn abr onner motamot prochar korsen cano…?

  4. azad

    বঙ্গ স্যেকুলারদের দেশীয় সব কিছুতেই আপত্তি। ধরেন রোগ মুক্তির জন্য যদি দেশের আলেমসমাজের কাছে থেকে কেউ দোয়া দরুদ নেয় তাতেও তাদের জ্বালাপোড়া শুরু হয়ে যায়।
    ধর্মীয় নেতাদের রোগের হিলিং প্রসেসে যুক্ত হওয়ার যে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আমাদের ছিলো সেটাকে ব্যঙ্গ, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে আমাদের স্যেকুলারেরা আধুনিকতার জয়গান গায়। তাদের কাছে নিজের ঐতিহ্য আর প্র্যাকটিসকে ব্যঙ্গ করাই প্রগতি। অথচ তারাই দেখে যে, এখনো ইউরোপের মানুষ চায় পোপ তার রোগমুক্তির জন্য প্রে করুন যীশুর কাছে।
    এই স্যেকুলারেরাই যখন পশ্চিমের হাসপাতালে যায় তখন তাঁরা নিশ্চয় দেখেন চ্যাপিলেন্সি সার্ভিস বলে একটা গুরুত্বপুর্ণ ডিপার্টমেন্ট থাকে হাসপাতালে যেখানে উপযুক্ত রোগীকে ফেইথ হিলিং স্পিরিচুয়াল এবং রিলিজিয়াস সাপোর্ট দেয়া হয়। এই সাপোর্ট দেন ধর্মিয় নেতারাই।
    পশ্চিমারা এটা তাদের হাসপাতালগুলোতে এমনি এমনি আমদানী করে নাই। পশ্চিমা গবেষনাতেই দেখা গেছে রোগের দ্রুত মুক্তির জন্য স্পিরিচুয়াল এবং রিলিজিয়াস সাপোর্ট একটা জরুরী বিষয়। এরফলে রোগমুক্তি দ্রুত হয়, এমনকি শুধু এই সাপোর্টেই অনেক ফাংশনাল রোগের মুক্তি ঘটে।
    আমাদের দেশেও আধুনিক চিকিৎসার সাথে ফেইথ হিলিং যুক্ত করা উচিৎ। এবং সেখানে ধর্মীয় নেতাদের যুক্ত করা উচিৎ। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নতি হবে।
    রোগমুক্তিতে আলেমদের দোয়া দরুদ ফেলে দেয়ার বিষয় নয়। পশ্চিম যেটা নতুন করে শিখছে নিজেদের অগ্রসর করার জন্য, আমাদের সেই আবহমান প্র্যাক্টিসকে আমরা ছুড়ে ফেলে আধুনিক হবার প্রাণান্ত চেষ্টা চালাই সত্যিই এটা হাস্যকর।
    তবে স্যেকুলারদের সম্ভবত খ্রিষ্টান ফাদার দিয়ে ফেইথ হিলিং করানোতে আপত্তি থাকবেনা, তাদের যত আপত্তি মাদ্রাসার আলেমদের দিয়ে ফেইথ হিলিং করানোতে। কেন আপত্তি সেটাও বুঝি, কিন্তু বারবার সেটা আর বলতে চাই না।

    Reply
  5. মুহাম্মাদ যুবায়ের

    আগামীর রিপাবলিকের কথা শুনে স্যেকুলারদের ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আপনি সংখ্যায় বেশি বা কম হন, আপনি যে কোন ধর্মের হন, আপনি সাওতাল হন বা চাকমা হন, নির্বিশেষে সবাই সমান মানবিক মর্যাদায় সেই রিপাবলিকে থাকবেন।
    আপনাদের সকলেরই কথা বলার স্পেস থাকবে। বরং এখনকার চেয়ে ভালোভাবে বলতে পারবেন (দুঃখিত কেবল কোন ধর্মবিদ্বেষ করতে দিতে পারবো না)। আর এখন তো পুলিশের পাহারায় কথা বলতে হচ্ছে, তখন পুলিশের পাহারা ছাড়াই কথা বলতে পারবেন। এই কথা বলার জন্য কেউ আপনাকে গুম করবেনা, ক্রস ফায়ারে মেরে ফেলবেনা। কাউকে তার চিন্তা বা বিশ্বাসের কারণে পাকিস্তান বা ভারতে চলে যাওয়ার নসিহত দেয়া হবেনা। জনগনের যে ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছে সেই ক্ষমতা এবার তাঁরা ফিরে পাবে। আমরা বাঙালি নাকি বাংলাদেশী সেই কূটতর্কে কাউকে লিপ্ত হতে হবেনা, আমরা সবাই হবো বাংলাদেশ নামের এক অগ্রসর রিপাবলিকের গর্বিত নাগরিক। মানুষ মানুষকে ভালবাসতে শিখবে, জীবনের ইতিবাচক দিক আর সম্ভাবনাকে তুলে ধরে, নেতি বা ঘৃণার চর্চা অসম্ভব করে তোলা হবে। মানুষ সমাজের মঙ্গল কামনাকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেবে। তরুণ পাবে শিক্ষা, যৌবন পাবে কাজ আর বয়স্করা পাবে নির্ভরতা। মুরুব্বীরা হবেন সন্মানীয়, নারীরা যথাযোগ্য গুরুত্ব ও জ্ঞানে হবেন সন্মানিত। জীবন থেকে শঙ্কা, ভয়, কুট চিন্তা, অনিশ্চয়তা দূর হয়ে সকল নাগরিকের জীবন হয়ে উঠবে এক দারুণ এডভেঞ্চার।
    বাংলাদেশ নামের ভূখণ্ড হয়ে উঠবে এক অমিত সম্ভাবনার নাম।
    আসুন সেই অনাগত সময়ের জন্য, মুক্তিযুদ্ধের অমর তিন নীতি সাম্য, মানবসত্তার মর্যাদা আর ইনসাফের ভিত্তিতে সবাই এক আলোকিত ভবিষ্যতকে আলিঙ্গন করার জন্য প্রস্তুত হই। যেই রাষ্ট্র আমাদের গড়তে দেয়া হয় নাই, সেই রাষ্ট্র তৈরির জরুরী কাজে হাত দেই।
    সৃষ্টিকর্তা আমাদের সেই অসমাপ্ত মহান কাজ করবার তৌফিক দান করুন।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      আপনি কোন আদর্শ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বুঝতে পারলাম না। ভাই, ‘৪৭-এ দই ভেবে চুন খেয়ে আমাদের মুখ পুড়েছে। ‘৭১-এ সেই জ্বালা থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমাদেরকে নতুন করে আর দই খাওয়ার দাওয়াত দেবেন না। আমরা ভয় পাই।

      Reply
  6. সায়েম তালুকদার

    বাম ঘরানা সব সময় নিজেকে রাজনীতি বুঝা বিরাট কুতুব মনে না করতে পারলেও মনে করে তারা বিরাট ব্যাখ্যাদাতা বিশ্লেষক। আসলে তাদের কাজই হচ্ছ যড়যন্ত্র-তত্ব ছড়ানো। তো এদের কারো কারো মত দেখে মনে হচ্ছে থেমিস ইস্যু না থাকলে তারা রিলায়েন্সের সাথে করা (বিনা টেন্ডারে করা বিদ্যুৎ উতপাদন ) চুক্তি ঠেকায়ে দিতে পারতেন। এইটা হইতেছে তাদের চিন্তা। থেমিস আইস্যা তাগো ম্যালা ঝামেলা কইর‍্যা দিছে। বামপন্থীরা প্রায় ভ্যানিশ হয়ে গেলেও এই বাম চিন্তার ফ্রেইম অনেকের মগজে ঢুকে আছে।
    সারাক্ষণ তারা স্কিজোফ্রেনিকের মতো ষড়যন্ত্র আবিস্কার করতে থাকে। এরা সব সময়েই সিনিক্যাল। একবার বলে রামপাল থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য সরকার এসব করছে। আরেকবার বলে রিলায়েন্সের সাথে চুক্তি থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য সরকার করছে।
    এই প্রিজামশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা তা হচ্ছে জনগনকে বেকুব ভাবা, তার বিচারশক্তিকে তুচ্ছ করা। এইটাও একটা বাম রোগ। তারা মনে করে পাবলিক ভোদাই, কম বুঝে। তারাই সবকিছু বুঝে। পাবলিক ভোদাই না হইলে তো তারা বামপন্থিদের ধইর‍্যা আইনা ক্ষমতায় বসাইতো। যেহেতু তারা বামগো ক্ষমতায় বসায় না তাই পাবলিকের বিচারশক্তিরে সে তুচ্ছ জ্ঞান করে।

    Reply
  7. আনিস রায়হান

    সমাজে নানা দ্বন্দ্ব বিরাজ করে, থাকে। সেই দ্বন্দ্বের কোনটা ছোট কোনটা বড় কোনটা অতি বড় কোনটা বা অতি ক্ষুদ্র। এই দ্বন্দ্বগুলোর উৎপত্তি এবং বিকাশ কিছু সামাজিক নিয়ম মেনে চলে। কোনটা প্রধান দ্বন্দ্ব হয়ে উঠবে এইটা মুলত ব্যক্তির ইচ্ছা নিরপেক্ষ বিষয়। সমাজের নানা উপাদান দ্বন্দ্বগুলোকে রূপ দেয়।
    তাই থেমিস না থাকলে রিলায়েন্সের চুক্তি বাংলাদেশের প্রধান দ্বন্দ্ব হয়ে উঠতো এই চিন্তাটাই বেকুবি।
    সচেতন প্রয়াসে সমাজের তুলনামূলক গৌণ দ্বন্দ্বকে প্রধাণ দ্বন্দ্ব করে তোলা যায় হয়তো। কিন্তু সেই দ্বন্দ্বের নিজেরো মেরিট থাকতে হবে প্রধাণ দ্বন্দ্ব হয়ে ওঠার। রিলায়েন্স চুক্তির সেই মেরিট নাই। কথাটা শুনতে খারাপ শোনালেও তাই।
    সিপিবিতো মনে করে বাংলাদেশের প্রধাণ দ্বন্দ্ব হইতেছে পুঁজিপতির সংগে শ্রমিকের দ্বন্দ্ব। তা তারা এইটারে পারছে বাংলাদেশে প্রধাণ দ্বন্দ্ব কইর‍্যা তুলতে তার প্রতিষ্ঠার পর থিকা? না পারে নাই।
    পাবলিক যখন চাইছে স্বাধীনতা তখন আর কিছু দিয়া তারে থামানো গেছে? তার দৃষ্টি ফেরানো গেছে? যায় নাই।
    পাবলিকরে বেকুব ভাইবেন না। কোনটারে কখন কী গুরুত্ব দিতে হইবো সেই হুশ পাবলিকের টনটনা। কামটা তো পাবিলিকরে মাঠেই করতে হইবো। তাই তারে তার চিন্তাটা করতে দেন। আপনার চাইতে তার বুদ্ধি কম নাই।

    Reply
    • সৈয়দ মোহাম্মদ

      মুসলমানের দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার আখের ভাল হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত উল্লেখিত তিন মন্ত্রীসহ তাদের সমর্থিত মন্ত্রীদের মন্ত্রী সভা থেকে বহিস্কার করা। একই সাথে উচিত এই তিন মন্ত্রীর সমর্থনপুষ্ট বাম-রাম নেতাদের সাথে সরকারের সম্পর্ক ছিন্ন করা।
      রেজাউল করীম- শায়েখ চরমোনাই বলেন, উল্লেখিত তিন বাম মন্ত্রী বরাবরই ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছে। এই তিন মন্ত্রী রাষ্ট্র ধর্মের বিরুদ্ধে, হিন্দুত্ববাদী পাঠ্যসূচি এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার পক্ষে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। সর্বশেষ তারা সুপ্রিমকোর্টে মূর্তি স্থাপন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের বিরোধীতা করেছেন। তাদেরই প্রশ্রয়ে একটি মহল থেকে ইসলাম ও রাসূল সা, নিয়ে কটাক্ষ করা হচ্ছে। এভাবে তারা সরকারের বিরুদ্ধে এবং দেশের ইসলামী জনতার সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধে কথা বলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে দেশে নতুন নতুন সঙ্কট সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত এই বাম ও নাস্তিকরা। কাজেই সময় থাকতে এদের সরান এবং মূর্তিসহ সকল ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকুন। মুসলমানের দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তার আখের ভাল হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত উল্লেখিত তিন মন্ত্রীসহ তাদের সমর্থিত মন্ত্রীদের মন্ত্রী সভা থেকে বহিস্কার করা। একই সাথে উচিত এই তিন মন্ত্রীর সমর্থনপুষ্ট বাম-রাম নেতাদের সাথে সরকারের সম্পর্ক ছিন্ন করা।

      Reply
  8. দেবঅপ্রিয় মজুমদার

    “কুত্তার মতো পিটামু”
    এর মানে কুকুরকে বেদম পিটানো যায়!!!
    কুকুরকে আমাদের পুর্বপুরুষেরা ডমেস্টিকেইট করেছিলো তার জীবন সংগ্রামের সহযোগী হিসেবে। মানুষ আর কুকুরের পারস্পরিক ভালোবাসা আর আনুগত্য পৃথীবির সভ্যতাকে অগ্রসর করেছে। ওই প্রানীটি হিন্দু ধর্মে এক বিশেষ অবস্থান নিয়েছে। কুকুরের রূপ ধরে স্বয়ং ধর্ম যুধিষ্ঠিরের সাথে স্বর্গে গিয়েছিলো। যুধিষ্ঠিরকে যখন বলা হলো কুকুরকে রেখে স্বর্গে প্রবেশ করতে যুধিষ্ঠির তা অস্বীকার করেছিলো।
    ইসলাম ধর্মেও প্রত্যেক প্রাণ ও প্রকৃতির খলিফা হিসেবে মানুষ পৃথিবীতে বিরাজ করে। তার কর্তব্য সকল প্রাণ এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করা। এমনকি একটা কীটের জীবনকেও রক্ষা করার দায়িত্ব মানুষের।
    আমাদের আচরিত ধর্ম আর ঐতিহ্য থেকে এরা কত দূরে। এদের কাছে সব কিছুই বধ্য, সব কিছুই পিটিয়ে নির্মমভাবে মেরে ফেলার বিষয়। হোক সে মানুষ হোক সে অবলা প্রাণী হোক সে প্রকৃতি, আমাদের মুল্যবোধ, আমাদের বৈচিত্র্য, আমাদের ভিন্নমত আওব কিছুকেই দানবীয় শক্তিকে নির্মুল করে দিতে চায় এরা।
    ইমরান এইচ সরকার নিশ্চয় বুঝতে পারছে যেই ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থানে তার নির্ধারক ভুমিকা ছিলো তাদের কাছেই সে এখন নির্মুলযোগ্য।
    হায়, ইতিহাসের কি নির্মম প্রতিশোধ!!

    Reply
  9. নাইমুর রহমান

    স্যেকুলার ভাইয়েরা কী করবেন এখন? আওয়ামী কুল তো গেলো। আওয়ামীলীগ আপনারে ত্যাগ করলেও আপনারা তো আওয়ামীলীগ ছাড়তে পারবেন না। ভাবছেন কিছু? এক কাজ করেন। কমিউনিস্টেরা দল ভাঙলে যেমন পাশে ব্রাকেটে লাগাইতো (মার্ক্সবাদী – লেনিনবাদী) তেমন আপনারা দল খুলতে পারেন; নাম দিতে পারেন, আওয়ামীলীগ (প্রগতিশীল- স্যেকুলার)।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      ভালোই বলেছেন। আওয়ামী লীগের এই আদর্শিক বিচ্যুতি দু:খজনক। তারা মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ভুলে গেছে। তারা এখন টিকে থাকার প্রয়োজনে নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

      Reply
  10. আতাউল্লাহ শাহ

    আল্লামা শফি সাহেবের অসুস্থতায় কয়েকজন মিলিট্যান্ট স্যেকুলার আর ইসলামোফোবের উল্লাস দেখলাম। একজন বয়স্ক মানুষ অসুস্থ, আরা তারা করে উল্লাস!! আমাদের সমাজে তো শত্রুরও সুস্থতা কামনা করার রীতি ছিলো। সেসব কোথায় হারালো? আর মানুষের মৃত্যু কামনা কোন সুস্থ মাথার কেউ ভাবতে পারে? অবিশ্বাস্য!! কারো ফাসির রায়ে শাহবাগে মিষ্টি খাওয়ার এবং অন্যকে খাইয়ে দেয়ার এটা অনিবার্য পরিণতি। শাহবাগের বিকৃতি আমাদের সমাজে যেই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত রেখে গেছে সেটা সারাবার উপায় কী? ঘৃণা চর্চাকেই যদি আপনার রাজনীতির প্রধাণ কৌশল করে তোলেন তাহলে পালটা ঘৃণায় আপনারা কোথায় উড়ে যাবেন সেই খেয়াল আছে? হুশে আসুন।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব আতাউল্লাহ শাহ, আমি আল্লামা শাফি সাহেবের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, – ইসলাম ফ্যাৎনা-ফ্যাসাদ পছন্দ করে না। হুশে আসুন।

      Reply
  11. কে, জেড, সোহাগ।

    সমসাময়িক বিষয়ের উপর লেখা বর্তমান লেখকদের মধ্যে আমার প্রিয় লেখকদের একজন হলেন আপনি। লেখাটা পড়ে বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।

    Reply
  12. ফজলুল করীম মারুফ

    আমাকে একজন বন্ধু প্রশ্ন করলেন, দেশের উন্নয়ন হইছে বুঝবো কেমনে? আমি বললাম, কোন দেশের জনগনের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান, সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে পারলে তবেই সেই দেশে উন্নয়ন ঘটেছে বলা যেতে পারে। আর এইসব নিশ্চিত করা তখনি সম্ভব যখন মানুষের কর্মসংস্থানের অনেক বেশী সুযোগ থাকে। কর্ম সংস্থানের জন্য দরকার শিল্পবিপ্লব আর নিরাপদ অভিবাসন। শিল্পবিপ্লবের জন্য দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিদ্যুৎ, জালানি, রাস্তা, রেল, ব্রিজ, কালভার্ট, অবকাঠামো গত উন্নয়ন, দেশী বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করা। নিরাপদ অভিবাসনের জন্য সরকার সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশীদের জন্য জব খুজে দ্বীপাক্ষিক চুক্তিনামা করে বিদেশে লোক পাঠাবে আর এ্যাডভোকেসির মাধ্যমে প্রবাসীদের মানবাধিকার রক্ষা করবে। সুশাসন ও মানবাধিকার বলতে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হইল, আসল আসামি সাজা পাইলো, আসল বাদী বিচার পাইলো, আর আমরা যদি পাই ঘুষ দুর্নীতি মুক্ত সমাজ তবেই আমরা বলতে পরবো আমরা উন্নত একটা দেশ পাইছি। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা যেকোন মুল্যে না কমালে আর একটি সরকারকে কমের পক্ষে ১০ বছর শান্তি মত দেশ সেবা করার সুযোগ না দিলে আমাদের দেশের কোনদিন উন্নয়ন সম্ভব না। দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব ও এর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অপরিহার্যতার স্বীকৃতি পাওয়া যায় রাজনৈতিক ও সরকারি প্রতিশ্রুতিতে। রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহার, সরকারের বাৎসরিক বাজেট বক্তৃতা, বাৎসরিক উন্নয়ন কর্মসূচি, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ২০১০-২১ ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ দলিলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের গুরুত্বের স্বীকৃতির পাশাপাশি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ থাকে।
    তবে সমস্যা হয়, যখন এসবেরই সমর্থনে ও সহায়ক ভূমিকার প্রয়াসে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে দুর্নীতিবিষয়ক তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন বা প্রকাশ করা হয়। সরকার ও রাজনৈতিক মহলসহ ক্ষমতাবানদের একাংশ একধরনের অস্বীকৃতির মানসিকতা, সমালোচনা সইবার সৎ-সাহসের ঘাটতি, সমালোচক মাত্রই শত্রু, সমালোচক কখনো শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না এরূপ ভাবধারায় আবদ্ধ থেকে বার্তাবাহককে স্তব্ধ করার প্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন।

    Reply
    • মাকশুম

      যথার্থই বলেছেন। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসেছে আপনার মন্তব্যে। সময় নিয়ে পড়া ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      Reply
  13. আশরাফুল রোমান

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন মডেলে হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। এমনকি খোদ সরকারি দলের বড় বড় নেতারাও না। বিএনপি যতই জোরেশোরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিক না কেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা বলুক না কেন, মনস্তাত্বিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা থেকে এখনো বের হতে পারছে না। বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে যতই বলা হোক আগামী নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণমূলক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে; পর্দার অন্তরালের হিসাব, আলাপ আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা অন্যমাত্রায় উঠে গেছে। বলাবলি হচ্ছে, পর্দার আড়ালে নাকি আগামী নির্বাচনে কোন দল কত আসন পাবে; সেটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।এমনকি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া দূরে থাক বিরোধী দলেও বসতে দেয়া হচ্ছে না। বলাবলি হচ্ছে, জিয়া আরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগেই দণ্ডিত হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হতে যাচ্ছেন।
    এক্ষেত্রে তাকে জেল জীবন ভোগ করতে হবে। অনেকে মনে করেন, কারাগারে নেয়া হলে বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা অনেক বাড়বে। কিন্তু শাসক জোটের অনেকের ভাষায়, জনপ্রিয়তা বাড়লেও বিএনপি সেটিকে ক্যাশ করে কোনো গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না। মামলার জালে আটকা নেতাকর্মীরা এমনিতেই দিশেহারা। তাদের ভাষায়, খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়ে জেলে গেলে, নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এক্ষেত্রে বিএনপির মূল স্রোত নির্বাচন বর্জন করুক কিন্তু খন্ডিত অংশ ভোটযুদ্ধে অংশ নিবে। সরকারে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, বিরোধী দলেও থাকবে স্বপক্ষের শক্তি। এই দর্শন নিয়ে বিগত ১ বছর ধরে রাজনীতির অন্দরে যারা কথা বলছিলেন, ভাবছিলেন তাদের অনেকেই এখন সফল হবার পথে। এক্ষেত্রে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে বিরোধী দলের আসনে বসাতে চান তারা। এরশাদ নামসর্বস্ব দলগুলো নিয়ে একটি জোট করেছেন, যেখানে আরো কিছু ইসলামী দল যুক্ত হবে। ধর্মভিত্তিক যে ভোট বিএনপির দিকে বরাবর ঝুঁকে তাদের একাংশকে টানতেই এরশাদ এখন এই পথ হাঁটছেন। এতে করে রাজনীতির অন্দরমহল থেকে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যে ছক উঠে আসছে, তাতে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে ও এরশাদকেই বিরোধী দলের নেতা করার ভোটের দিকে দেশের রাজনীতি অগ্রসর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল চাইবে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেক্ষেত্রে চলমান ছক উল্টেও যেতে পারে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নামের দলটি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরবর্তীতে তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ হেঁটেছে। শেখ হাসিনা পরিষ্কার বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আর হচ্ছে না। আগামী নির্বাচন হবে সকল দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত নাটকের শেষ অংক কিভাবে টানা হয়, সেটি দেখার অনেক বাকি রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের ভাষায়, এদেশের মানুষ বরাবর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, সুশাসন, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেখতে চেয়েছে। সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত দেখা সমাজের স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই সেটি পূরণ করতে হবে।

    Reply
    • মাকশুম

      আগামী নির্বাচন নিয়ে এখনই খুব বেশী অনুমান করা যায় না। বিশ্ব রাজনীতি বেশ গোলমেলে দিকে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য, তেল, অস্ত্র ব্যবসা ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে কাতার ইস্যু কেন্দ্র করে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ধর্মীয় মৌলবাদ তীব্রতর হয়ে উঠছে দিনদিন। আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব হিসেব নিকেশ মিলিয়ে আগামী নির্বাচন বুঝতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে নিশ্চিত।
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

      Reply
  14. জে,এ,এম,জিন্নুরাইন

    আমাদের দেশে শিক্ষিত ও বিত্তবানেরা আইন মেনে চলেনা/আইন অমান্য করে এবং তারা বিচার/শাস্তীর আওয়াতায় আসেনা। ফলে দেশে আইনের শাসন অনুপস্তিত অপরাধ ও সন্ত্রাস বেড়ে চলেছে।
    ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হকারদের উচ্চেদ করতে চাইলে সফলতা পারছেনা.আইন অমান্য গোষ্ঠীর ইন্দনে। পুলিশের কাছে গেলে মানুষ যথার্থ নিয়ম অনুযায়ী সহযোগীতা পায়না। উত্তরের মেয়র শহর পরিষ্কার রাখার স্বার্থে দেয়াল লিখন/পোষ্টার সরাবার নির্দেশ দিয়েছেনও অভিযান চালিয়েছেন কিন্তু সফলতা পায়নি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত জাতিয় উন্নয়ন যথার্থ হবেনা। উন্নয়ন কর্মকান্ডে মানুষ খুশী নয়।জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়না,বর্তমান উন্নয়ন ব্যবস্থায় দারিদ্রতা কমেনা বরং বাড়ে।ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের দেশ প্রেমের অভাব তারা আত্ম প্রেমিক।আম্তপ্রমিক নেতা কর্মীদের দ্ধারা দেশ ওজাতির উন্নয়ন হয়না দুর্নীতি বাড়ে।জাতির জনক ছিলেন দেশপ্রেমিক জনগণ প্রেমিক। বঙ্গবন্ধু কন্যাই জনগণকে আইনের/সুশাসন দিতে পারে-ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা অতিব প্রয়োজন।দুর্নীতি বাজরা সুশাসন ও ন্যায় বিচারকে ভয়পায়।

    Reply
    • মাকশুম

      সুশাসন নিশ্চিত হওয়া ছাড়া আমাদের অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছা অসম্ভব।
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

      Reply
  15. আলমগীর

    “গনতন্ত্র আগে না উন্নয়ন আগে ” বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে কথাটি প্রচার করা হচ্ছে। জনগনকে বিশ্বাস করার চেষ্টা করা হচ্ছে “উন্নয়ন আগে গনতন্ত্র পরে “।
    ১৯৫৮ সালে আইযুব খাঁন মার্শাল “ল” জারি করে জাতিকে উন্নয়নের মহাসরনীতে তুলে দেবার স্বপ্ন দেখিয়ে বিনা বাধায় এক দশক পাকিস্হান শাসন করেছেন। আইযুব খাঁন নাম দিয়েছিলেন “মৌলিক গনতন্ত্র”। ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য প্রচারনা চালাতেন “উন্নয়ন আগে গনতন্ত্র পরে “। অবশেষে সেই উন্নয়ন ফানুসে পরিনত হয়েছিল।
    বৃটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ভারতে গনতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করলেও পাকিস্হানের সামরিক জেনারেলরা গনতন্ত্রের বদলে স্বৈরতন্ত্র চাপিয়ে দিয়ে পুরো জাতিকে হতাশ, ধ্বংস ও বিভক্ত করে দিয়েছিল।
    গনতান্ত্রিক ভারত আজ অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রযুক্তিগত পরাশক্তিতে রুপলাভ করলেও পাকিস্হানের অবস্হান বহুদূর। গনতন্ত্রই ভারতকে উন্নয়ন, সমৃদ্ধি , স্হিতিশীলতা এনে দিয়েছে।
    এই মুহুর্তে দেশের সাধারন মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া রাজনৈতিক ও গনতন্ত্রের হতাশা জনক পরিস্হিতি থেকে মুক্তি। এর সাথে জড়িত আছে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক মুক্তি, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ।।

    Reply
    • মাকশুম

      গণতন্ত্র আর উন্নয়ন দুটোই আমাদের চাহিদা। একটি আরেকটির পরিপূরক ও। গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন সাময়িক ভাবে কিছু সূচকের উন্নতি দেখালেও দীর্ঘ যাত্রায় সব কিছু ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাই বেশী। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

      Reply
  16. আকবরঊদ্দিন

    গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা একটি সমাজে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। আর সামাজিক সচেতনতা একটি সমাজে কাঙ্খিত গণতান্ত্রিক উত্তরণটি ঘটায়। একটি রাষ্ট্রে যখন গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা থাকবে না, তখন সেখানে কোনো জবাবদিহিতাও থাকবে না। একটি রাক্ষস যখন জেনে যায় যে তার আর কোনো দিন মরণ হবে না, তখন সে অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রহীনতা একটি সরকারকে তেমন ধরনের রাক্ষস বানিয়ে ফেলে। আমাদের সুশীল সমাজ ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা অহেতুক কিছু ইস্যু নিয়ে বিতর্ক করছেন যেমন আস্তিক নাস্তিক,ভাস্কর্য মূর্তি ইত্যাদি।যে কর্তৃপক্ষ এটি স্থাপন করেছে,সে কর্তৃপক্ষই এটি অপসারণ করেছে।হাইকোর্ট ভবনের মূল নকশায়ও সম্ভাবত এ ধরণের কিছু স্থাপনের বিষয় ছিল না।সুতরাং এ সব নিয়ে বিতর্ক না করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি যেমন – শিক্ষা,শিক্ষানীতি ও এর বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ,পরীক্ষা পদ্ধতি,ছাত্র- শিক্ষক অনুপাত,শ্রেণী কক্ষ স্বল্পতা, স্বাস্থ্য,সরকারী হাসপাতালের পরিবেশ,স্বাস্থ্য নীতি, পরিবেশ,ভেজাল খাদ্য,রাজনীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ, ঘূষ-দুর্নীতি,সামাজিক নিরাপত্তা,আইনের শাসন,সুশাসন,স্থানীয় সরকারে কার্যকারীতা,প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যা ও আমাদের করণীয়, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান,দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি,শিক্ষার মান উন্নয়ন,বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের MPO, বেকারত্ব, দারিদ্র‍্য,ভিক্ষাবৃত্তি,বাজেট,যানজট, অপরিকল্পিত শহরায়ন,কৃষি,শিল্প সহ কত শত হাজার ও সমস্যা আছে যা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হতে পারে এবং সমাধানের লক্ষে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতে পারে।সে সব বাদ দিয়ে অহেতুক বিতর্ক করে জটিলতা সৃষ্টির কোন মানে হয় না।আসুন আমরা সবাই প্রয়োজনীয় ইস্যু গুলো নিয়ে কথা বলি,বিতর্ক করি এবং সমাধানের রাস্তা বের করতে সহায়তা করি।

    Reply
    • মাকশুম

      আমাদের ইস্যুগুলো যদিও স্বতঃস্ফূর্ত তবে তার সাথে নিয়ন্ত্রিত ও বটে। ইস্যুর প্রচারণায় এখন রাজনৈতিক-ধর্মীয় দলগুলোর পাশাপাশি মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। তাই অনেক প্রয়োজনীয় ইস্যু আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

      Reply
  17. হাকিম

    বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ছয়টি নির্ধারক নির্ণয় করেছে। এগুলো হলো- ১. জবাবদিহিতা, ২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ৩. সহিংসতা তথা সন্ত্রাসের অনুপস্থিতি, ৪. সরকারের কার্যকারিতা, ৫. আইনের শাসন ও ৬. দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। বিচার বিভাগের নাজুক অবস্থার প্রতি সব মহলের মনোযোগ প্রত্যাশা করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি পরিষ্কারভাবে কায়েমি স্বার্থবাদী মহলকে দোষারোপ করে বলেন, তারাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্ত করে চলেছে। তারাই বলার চেষ্টা করছে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা সরকারের চলার পথে বাধা। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের শাসনহীনতায় জঙ্গিবাদ জন্ম নিয়ে থাকে এবং আমাদের দেশে সেটাই হচ্ছে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পর, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে এ আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ভুল পরামর্শ দেয়া শুরু হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নেতৃত্বশূন্য করার গণবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী মহলবিশেষের চক্রান্ত সুশীলসমাজকে বুঝতে হবে। প্রথমে বঙ্গবন্ধু এবং পরে জাতীয় চার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সে কাজটি ভালোভাবে সফল হয়েছে। অন্যদের বিভ্রান্ত করাও অনেক সহজ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি তার ভাষণে বলেন, আইনের শাসন বর্তমানে ভীষণ চাপের মধ্যে আছে এবং সর্বস্তরের জনগণকে সুবিচারের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তার বক্তব্যের সারকথা হচ্ছে, শাসনতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠাই হল দেশকে জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও নৈরাজ্য থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায়। আমিও বলি, জঙ্গিবাদ রোধের পথ পাল্টা জঙ্গিবাদ নয়। আইনের শাসন উপেক্ষা করা হলে জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়া হয়। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী জঙ্গিবাদ বেড়েই চলছে। জঙ্গিবাদ দমনমূলক কর্মকাণ্ডে জনজীবনে স্বস্তির পরিবর্তে নিরাপত্তাহীনতার আতংক বিরাজ করছে। খুন ও গুমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ ও র‌্যাবের নীতি-চরিত্র এবং শৃংখলা রক্ষার ব্যর্থতা নিয়ে সবাই গভীরভাবে চিন্তিত। আশা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের সঙ্গে র‌্যাবের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কলংকের পর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। নিজেদের নিরাপত্তা বিধানের ব্যাপারে হতাশাগ্রস্ত জনগণ পুলিশ ও র‌্যাবের ওপর আস্থা হারাচ্ছে।

    Reply
    • মাকশুম

      সুশাসনের পথে আমরা এখনো যোজন যোজন দূরে। পুলিশ ও র‍্যবের অনেক সাহসী কার্যক্রম থাকলেও চরম দুর্নীতি আক্রান্ত এ দুটি সরকারী বাহিনীতে পরিবর্তন তখনই আসবে যখন এদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বন্ধ করা হবে।
      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

      Reply
  18. যোবায়ের

    সমাজের অসভ্য জনাকতেক ছাড়া এমন বক্তব্য করতে পারে বলে এদেশের মানুষ জানে না। কেননা অসভ্যতা আর দুষ্ট দুটুই তৈরি ধর্মহীনতার হাত ধরে। আলহামদুলিল্লাহ বললে যার গায়ে লাগে এমন মানুষ কখনও এদেশে কেউ কামনা করেনি আর করবেও না। সেটার জ্বলন্ত উদাহরণ তসলিমা।

    Reply
  19. সরকার জাবেদ ইকবাল

    অত্যন্ত সুলিখিত এবং বিশ্লেষণধর্মী লেখা । পড়ে ভাল লাগলো। তবে ধর্মভীরুতাকে সাধারণীকরণ (জেনারালাইজ) করে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সমীকরণ ভাল লাগলো না। ধর্মভীরু মানুষ মানেই জঙ্গি বা সন্ত্রাসী নয়। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মভীরু মানুষ শান্তি চায়; দাঙ্গা-হাঙ্গামা চায় না। আমি একজন ধর্মভীরু মানুষ; রাজাকার কিংবা জঙ্গি নই।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      আমি অন্যত্র আপনার বলা কথাটিই বলে আসছি। Religious ও Pious এক নয়। আমেরিকার সৃষ্ট কিছু জানোয়ারকে মুসলিম পরিচয়ে পরিচিত করার আপ্রান চেষ্টা করছে পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া। সাথে পোঁ ধরেছে কিছু অর্ধসিদ্ধ নির্বোধেরা।

      Reply
      • সরকার জাবেদ ইকবাল

        Right you are. Great people think alike! Isn’t it? Keep on writing for upholding the true features of Islam.

    • মাকশুম

      আসলে সরলীকরণ এর উপলব্ধি এসে থাকলে তা একান্তই অনিচ্ছাকৃত এবং আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সে ধরণের কোন উদ্দেশ্য নিয়ে লেখাটি লিখি নি। আমি জানি আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষই ধর্মভীরু, শান্তিপ্রিয়; রাজাকার এবং মৌলবাদবিরোধী। এখানে দুর্নীতি ঢাকতে যারা ধর্ম ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তাদের কথাই বলতে চেয়েছি বিশেষ করে। এই শক্তিই এখন আমাদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে।
      ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

      Reply
      • Jewel

        Allah taala manus sristy korechen akmatro golami korar jonnoi manus sob somoy allahr golami korbe r shukriya aday kore Alhamdulillah bolbe atai simple. ata negatively dekha right na.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—