- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

ভূমিকম্প: দুর্যোগে যা করনীয়

wahiduzzaman-fআজ ১৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে একটি ভূমিকম্প হয়ে গেল। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে যে ভূমিকম্পগুলো অনুভূত হয়েছে তার সবগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিলো বাংলাদেশের বাইরে। তবে এবারকার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো দেশেরই ভেতরে। আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে- এর উপকেন্দ্র ছিলো ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার বহরা ইউনিয়নের শুভারিয়া মৌজায় ইছামতি নদীর উত্তর তীরে। অক্ষাংশ: ২৩.৬৫৬২°, দ্রাঘিমাংশ: ৯০.১৮০৬° (প্রায়) । কেন্দ্র ছিলো ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কি.মি. গভীরে (প্রায়)। রিখটার স্কেলে ৪.৬ মাত্রার এই ভূমিকম্প স্থানীয় চ্যুতির (Fault) কারণে ঘটেছে। এই মাত্রার ভূমিকম্পে তেমন কোন ক্ষয় ক্ষতি হবার কথা নয়। তবুও ভূমিকম্প বিষয়ে সতর্ক হবার এবং ভূমিকম্প পরবর্তী বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

earthquake-1
আমরা জানি যে, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেটটি প্রতি বছর ৫ সেন্টিমিটার হারে ইউরেশিয়া প্লেটের নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে। এই সরনের ফলে দু’টি প্লেটের সংযোগস্থলে যে শক্তি জমা হচ্ছে তা ইলাস্টিক রিবাউণ্ড তত্ত্ব অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাধ্যমে নির্গত হচ্ছে।
earthquake-2

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ছোট-বড় চ্যুতিগুলো (Fault) একইভাবে চাপ মোকাবেলা করছে এবং একই পদ্ধতিতে শক্তি নির্গত করছে। যার ফলাফল আজকের এই ভূমিকম্প।

earthquake-3

ইলাস্টিক রিবাউণ্ড তত্ত্ব
একটি শিলাস্তর যখন দু’টি ভিন্নমুখী চাপের সম্মুখীন হয় তখন এর কেন্দ্রবিন্দুতে পরস্পর বিপরীতমূখী চাপের এক দ্বৈত শক্তি জমা হতে থাকে। চাপ যখন শিলাস্তরের স্থিতিস্থাপকতা অতিক্রম করে তখন সেখানে ফাটল (Fault) সৃষ্টি হয়ে প্রচণ্ড বেগে শক্তি নির্গত হয়। এই শক্তিই বিভিন্ন তরঙ্গের মাধ্যমে ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে।

earthquake-4

আমরা কতটুকু প্রস্তুত?
যে কোন সময় একটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানলে আমাদের কী হবে? আমরা কতটুকু প্রস্তুত? অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আমাদের দেশে ভূমিকম্পের বিষয়টি দেখাশোনা করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ওই প্রতিষ্ঠানটির কাজ করার কথা বায়ুমণ্ডল নিয়ে অথচ তাঁরা শিলামণ্ডল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে। এখনো আমাদের দেশে ভূমিকম্প পূর্বভাষ কেন্দ্র স্থাপন করা হয় নি। আধুনিক সিসমোগ্রাফ নেটওয়ার্ক নেই। ফলে ভূমিকম্প হবার পর আমেরিকার USGS এর ওয়েব সাইটে গিয়ে নিজ দেশের ভূমিকম্পের খবর নিতে হয়। ভূগোল-ভূতত্ত্ব বিষয়ের লোকের বদলে পদার্থবিজ্ঞানী বা পরিসংখ্যানবিদ দিয়ে ভূমিকম্প মাপমাপি করলে এমনটাই হবার কথা। কাজেই ভূমিকম্পের মত প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে জাতীয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে বিষয় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের এর দায়িত্বে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এই মূহূর্তে সবচেয়ে জরুরী কাজ।

ভূমিকম্প হবার আগে বেশ কিছু ছোটছোট ফোরশক হয়। যেসব প্রাণী মাটির নীচে থাকে তারা তাদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সেগুলো টের পেয়ে মাটির উপরে চলে আসে। ২০০৯ সালে চীনে ভূমিকম্পের আগে অনেক ব্যাঙ রাস্তায় উঠে এসেছিলো। এসব দেখে আমরা সতর্ক হতে পারি। আগামীকালের পত্রিকা খুলে বাংলাদেশের কতগুলো ভবনের ফাটলের কথা শুনবো জানি না, তবে এখনো সময় আছে, আমাদের ভবন নির্মাণ নীতিমালায় ভূমিকম্পরোধ ব্যবস্থা বাধ্যতামূক করার এটাই বোধ হয় শেষ সময়।

ভূমিকম্পের সময় উপদ্রুত এলাকাবাসীর করনীয়
সরকারী পদক্ষেপের বাইরে সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু বিষয় জানা থাকা প্রয়োজন। ভূমিকম্পের সময় মোটেই আতঙ্কিত হবেন না। এই দূর্যোগে রক্ষা পেতে সাধারণভাবে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিন।

১: নিজেকে এবং পরিবারকে রক্ষা করুন
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব কয়েক সেকেণ্ড হতে সর্বোচ্চ মিনিটখানেক। এই সময়ে ঘরে অবস্থান করলে টেবিল বা ডেস্কের নিচে সপরিবারে অবস্থান নিন। আপনার মাথায় কোনকিছুর আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।

earthquake-5

২: গ্যাস, তেল বা ইলেক্ট্রিক চুলা দ্রুত বন্ধ করুন
ভূমিকম্পের সময় আগুন লেগে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান অনেক বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে যত দ্রুত সম্ভব রান্না ঘরের গ্যাস, তেল বা ইলেক্ট্রিক চুলা বন্ধ করুন। মনে রাখবেন যত ছোট ভূমিকম্পই হোক না কেন চুলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

৩: তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেড় হবেন না
ভূমিকম্পের সময় তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেড় হতে গেলে ভীড়ে চাপা পড়ে বা উপর হতে মাথায় কিছু পড়ে আহত হতে পারেন। এই জন্য তাড়াহুড়ো না করে ধীর স্থিরভাবে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করে তারপর বাইরে বেড় হবার চেষ্টা করুন।

earthquake-6

৪: দরজা খোলার ব্যবস্থা করুন
দালানে বসবাসকারীদের প্রধান সমস্যা হয় ভূমিকম্পের সময় দরজা আটকে বন্দী হয়ে যাওয়া। এইজন্য বাইরে যাবার দরজাটি খোলার ব্যবস্থা করুন।

৫: মাথা রক্ষা করুন
ভূমিকম্পের সময় বহুতল ভবন হতে বাইরে বেড় হবার সময় অনেকেই উপর হতে কোন কিছু পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে থাকেন। এটা এড়াতে বাইরে বেড় হবার সময় মাথার উপর শক্ত বোর্ড বা ট্রে জাতীয় কিছু ধরে রাখুন। এতে করে উপর থেকে কিছু পড়লেও আপনার মাথায় আঘাত লাগবে না। বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ভূমিকম্প হলে বালিশটি মাথার নীচ হতে মাথার ওপরে আনুন।

earthquake-7

৬: সিনেমা হল বা ডিপার্টমেণ্টাল স্টোরের মত পাবলিক প্লেসে করনীয়
সিনেমা হল, অডিটোরিয়াম, ডিপার্টমেণ্টাল স্টোর, রেল স্টেশন বা এয়ারপোর্টের মত পাবলিক প্লেসে থাকলে সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পরামর্শ অনুসরন করুন।

৭: গাড়ি বামদিকে পার্ক করুন
ভূমিকম্পের সময় আপনি যদি গাড়ি চালানো অবস্থায় থাকেন তাহলে ধীরে ধীরে আপনার গাড়িটি রাস্তার বামপাশে পার্ক করুন। কোন অবস্থাতেই ভূমিকম্পের সময় গাড়ি চালাবেন না।
earthquake-8

৮: পাহাড়ী রাস্তায় ভূমিধ্বস এবং গড়িয়ে পড়া পাথর খেয়াল করুন
ভূমিকম্পের সময় আপনার গাড়িটি পাহাড়ী এলাকায় থাকলে ভূমিধ্বস এবং গড়িয়ে পড়া পাথরের আঘাত এড়াতে নিরাপদ স্থানে গাড়িটি পার্ক করুন।

৯: উপদ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে হাটুন
ভূমিকম্প উপদ্রুত এলাকা হতে নিরাপদ এলাকায় সরে যাবার জন্য গাড়ি ব্যবহার করার চেয়ে পায়ে হাটা অনেক নিরাপদ।

earthquake-9

১০: গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না
ভূমিকম্পের সময় গুজব বা ভুল তথ্যের কারনে অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকে বিপদ ডেকে আনেন। এজন্য সঠিক তথ্য পেতে রেডিও/টিভির বুলেটিন শুনুন।

ভূমিকম্পের সময় করনীয় বিষয়ক একটি আত্মরক্ষমূলক গাইডের লিংক নীচে দেয়া হলো এটি ডাউনলোড করে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।

http://www.seikatubunka.metro.tokyo.jp/index3files/survivalmanual.pdf

(১৮, মার্চ, ২০১২)
এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান [১]: গবেষক ও কলামিস্ট। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশের শিক্ষক।

২৩ Comments (Open | Close)

২৩ Comments To "ভূমিকম্প: দুর্যোগে যা করনীয়"

#১ Comment By ARIFUR On মার্চ ১৮, ২০১২ @ ১০:১২ অপরাহ্ণ

তথ্য বহুল । ধন্যবাদ লেখককে । প্রতিটি বাড়ির সামনে এই তথ্য দেয়ালে লাগিয়ে রাখা উচিত ।

#২ Comment By মো: ফজলুর রহমান খান On মার্চ ১৮, ২০১২ @ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

অসংখ্য ধন্যবাদ। অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম আপনার এই আর্টিকেলের মাধ্যমে।

#৩ Comment By Enayet Karim On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ

খুব ভালো লেখা। ধন্যবাদ।

#৪ Comment By পিনাকী রায় On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ৬:২৮ পূর্বাহ্ণ

Sir, লেখার জন্য ধন্যবাদ। তবে এটার এপিসেন্টার মনে হয়, ১৫,৭ কিঃমিঃ গভিরে, ৭,৬ না। এর আগে ১৯৯৮, ২০০১, ২০০৪, ১৮৮৫ সালে ঢাকার আশেপাশে ভুমিকমপ জেনারেট করেছে – পিনাকী

#৫ Comment By এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ৭:১১ অপরাহ্ণ

পিনাকী’দা,
এই লেখাটি শুরু করেছি এবং ম্যাপটি তৈরী করেছি USGS এর ডাটা দিয়ে। সকাল ১০ টায় ওই ওয়েবসাইটে গভীরতা ৭.৬ কি.মি লেখা ছিলো। পরে সংশোধন করে ১৫.৭ লেখা হয়েছে।

এমনটা হতে পারে। এই উপাত্তগুলো ওরা সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে বসানো সিসমোগ্রাফের গড় থেকে। প্রাথমিক ভাবে ওরা নিজেদের সিসমোগ্রাফের রিডিং হতে উপাত্ত তৈরী করে। পরে এপি-সেণ্টারের কাছাকাছি অন্য দেশের সিসমোগ্রাফের রিডিং পেলে মাঝে মধ্যে সংশোধিত উপাত্ত দেয়। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর সিকিম ভূমিকম্প নিয়েও এমনটা হয়েছিলো। গভীরতা প্রথমে লিখেছিলো ১০.৬ তারপর সংশোধনী এল ১৯.৭। আমি জানি না এই ভুলটি মূল লেখায় সংশোধন করা যাবে কি না। সম্পাদককে অনুরোধ করছি যদি সম্ভব হয় সংশোধনীটি দিয়ে দেয়ার জন্য।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

#৬ Comment By A.Z.M. Obaidullah On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

কালকে যা হলো, তাতে মনে হয় আমরা যদি ঠিক মত প্রস্তুতি না নেই তাহলে বড় ধরণের বিপদের সম্মুখীন হতে হবে ।
আর এটা ভেবেও অবাক হচ্ছি যে আবহাওয়া অধিদপ্তরকে এই কাজ দেওয়া হয়েছে, তাহলে বাংলাদেশের শত শত ভূগোলবিদ-ভূতত্ববিদদের কাজ কী হবে??
জনসচেতনতামূলক এই লেখাটির জন্য লেখক ও বিডিনিউজকে ধন্যবাদ।

#৭ Comment By শফিকুল ইসলাম On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ

অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লেখা। এই জনসচেতনতা বিষয়ে বাংলায় ইলাস্ট্রেটেড বুকলেট তৈরী করা যায় না? বিডি নিউজ ২৪ কে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করছি। সেই সাথে রাজনৈতিক মতামতের পাশাপাশি এমন প্রয়োজনীয় লেখা দেবার জন্য দাবী জানাচ্ছি।

#৮ Comment By Anjuman Shirin On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

আপনার নিবন্ধটি পড়ে অনেক কিছু জানলাম। ক্ষমতাশালীরা অনেক কিছুই করছে কিন্তু দেশে আধুনিক সিসমোগ্রাফ স্থাপনের উদ্যোগ নেয় নাই , জন কল্যাণে এটা খুবই প্রয়োজনীয় বিষয় । তবে কে শোনে কার কথা?

#৯ Comment By manik On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

লেখাটা পড়ে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম।
প্রাকৃতিক দূর্যোগের পরে বিশ্বব্যাপি রেডক্রস জনসেবামূলক কাজে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমার মনে হয়,প্রাকৃতিক দূর্যোগের পূর্বে এ ধরনের তথ্যবহুল লেখা রেডক্রস এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচার করে তাহলে আমরা জানমাল নিয়ে নিরাপদে অবস্থান করতে পারব।
লেখককে অনেক ধন্যবাদ।
manik

#১০ Comment By অথৈ হক On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

খুবই সুন্দর হয়েছে স্যার। সবাই শুধু ভূমিকম্পে কী কী ক্ষতি হলো, কিভাবে ভূমিকম্প হয়, বছরে কোথায় কয়টি ভূমিকম্প হয় এইসব নিয়ে লিখে। আপনি ভূগোলবিদ হিসেবে ভূমিকম্প নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট দিয়েছেন।

#১১ Comment By Bulbul Anwar On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

কোন কোন ক্ষেত্রে প্রকৃতির কাছে আমরা অসহায়। পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা করি ঢাকায় যেন ভুমিকম্প না হয়।

#১২ Comment By Dilruba Haider On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

বড় জরুরী একটা লেখা দিলেন। বিষয়টা হলো, আমাদের দেশের জনগন বড় হতভাগা। এখানে আগুন লাগার পরে সরকার বুলি ঝাড়ে- কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু কয়েকদিন পরেই সব হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। রাষ্ট্রের জরুরী কাজ–জননিরাপত্তা, চলাচল, ও ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট; এসকল বিষয়ে দেশের সরকার বড় উদাসীন। এখানে নাগরিকদের প্রাণ দিয়ে প্রমান করতে হয়, আমাদের নাগরিকরা কত অবহেলিত। বছরের পর বছর ধরে শুনে আসছি, ভূকম্পের ক্ষয়ক্ষতির কমানো এবং উদ্ধারের যন্ত্রপাতি নাই। নাই অগ্নি নির্বাপন ও দুর্ঘটনা থেকে উদ্ধারের যন্ত্রপাতি। দেশের বাজেট হাজার কোটি টাকা থেকে লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু ঐসব যন্ত্রপাতি, সতর্কতা সিস্টেমস, নিরাপদ জনপদ গড়া, ট্রেনিং, ও জনবল সংস্থানের কোনো নাম গন্ধ নাই। তাহলে কি পাবলিকের জান বাঁচানোর জন্য নিজেদের ব্যাপক জনআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে নাকি লাখ লাখ মানুষ মারা না গেলে সরকারের টনক নড়বে না? কিন্তু মুশকিল হলো, ভূকম্পনের মত বিপদ যখন আসে, তা আমির ফকির চিনে না। সব সমান করে দেয়!

#১৩ Comment By ড. রেজাউল আলম On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১২:০১ অপরাহ্ণ

প্রথমেই বিডি নিউজ ২৪ কে ভূমিকম্প নিয়ে প্রয়োজনীয় দু’টি লেখা মতামত বিভাগে প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দু’টো লেখাই পড়লাম। এই লেখাটি বেশি প্রয়োজনীয় মনে হলো। ভূমিকম্প একটা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় আসলেই আমরা কতটুকু প্রস্তুত এটি এখন ভেবে দেখার সময় হয়েছে। সরকারী উদ্যোগের যে অবস্থা তার ওপর ভরসা করতে ভয় হয়। যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাতেই তাই সেনা বাহিনীকে ডাকতে হয়।

ব্যক্তি পর্যায়ে এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় আপনার এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো খুবই কাজে দেবে মনে হচ্ছে। আপনার দেয়া লিংক থেকে সারভাইবাল ম্যানুয়ালটি ডাউনলোড করলাম। আমার মনেহয় এই ম্যানুয়ালটি বাংলায় আমাদের দেশের উপযোগী করে প্রকাশ করা দরকার। কোন বেসরকারী সংস্থা এ কাজে এগিয়ে আসবে বলে আশা করছি।

#১৪ Comment By Jahangir Hossain On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১২:০২ অপরাহ্ণ

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।
জাহাংগির হোসেন
জেনারেল ফারমা

#১৫ Comment By ফাহমিদা On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১:৩২ অপরাহ্ণ

অনেকদিন আগে ভারতীয় টিভি চ্যানেলে একটা বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম এরকম, একজন ডাক্তার, দোকানদার, গৃহিনী এরকম সাধারন মানুষ কয়েকজন, হঠাৎ কোন খান থেকে দুর্যোগের ঘোষণা শুনে একটা নিওনরঙা জ্যাকেট বের করে গায়ে দিলো, তারপর বাক্স/ ড্রয়ার খুলে ব্যান্ডেজ/ টর্চ লাইট ইত্যাদি ইমার্জেন্সি সাপ্লাই বের করে নিয়ে রওনা হলো দুর্গতদের সাহায্য করতে। এরা সবাই স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী, স্বপ্রণোদিত হয়ে ট্রেনিং নিয়েছেন।
সবাইকে সচেতন করা হয়ত সম্ভব নয়। কিন্তু এরকম একটা সেচ্ছাসেবক উদ্ধারকর্মী দল যারা বিপদে কি করতে হবে তার জন্য প্রস্তুত থাকবে, তারা অন্যদের সাহায্য করতে পারবে। এরকম একটা গ্রুপ কি তৈরি করা যায়? পাড়ায় বা একটা এপার্টমেন্ট বিল্ডিং এ ২-৩ জন করে থাকলেই যথেষ্ট। শুরু হতে পারে ফেসবুক গ্রুপ হিসেবে আগ্রহীদের নিয়ে।

#১৬ Comment By হাফিজুর রহমান On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১:৪০ অপরাহ্ণ

এই কথাগুলো সবারই কম বেশী জানা থাকা উচিৎ। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

#১৭ Comment By হেলাল আহাম্মদ On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ১:৫৭ অপরাহ্ণ

সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য donor এজেন্সিগুলিকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। ফিনিক্স ভবন বা “স্পেকট্রাভবন” ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের সময় আমরা দেখেছি যে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধার কর্মীরা অসহায় বোধ করেছে। ভেতর থেকে মোবাইল ফোনে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানাচ্ছিলো কিন্তু তাকে উদ্ধার করা যাচ্ছিলোনা। দিনের পর দিন সময় লেগেছে। সেই অবস্থার কি খুব একটা উন্নতি হয়েছে? না হয় নি। তবুও স্প্রেকটা গার্মেন্টসের চারিদিক ফাঁকা থাকায় উদ্ধার কর্মীরা চারিদিক থেকে ঘটনাস্থলে যেতে পেরেছিলো। কিন্তু ভূমিকম্পের সময় শহর এলাকায় যতগুলি বিল্ডিং ধ্বংস হবে, বড় বড় ট্রাক্টর বা বুল্ডোজার দিয়ে রাস্তা পরিস্কার করে উদ্ধারকর্মীরা সব জায়গায় পৌঁছাতে পারবেন সেটা আশা করা অমূলক। একটা সার্বিক পরিকল্পনার খুবই প্রয়োজন অনুভব করছি।

#১৮ Comment By ইফতেকার On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ২:১২ অপরাহ্ণ

লেখাটা পড়ে তো ভয় পেয়ে গেলাম। অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন ভাই। আপনাকে ধন্যবাদ।

#১৯ Comment By Jasmeen On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ২:২৯ অপরাহ্ণ

উপরের “করনীয়” গুলো আমরা সবাই ই মোটামুটি জানি। কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারিনা। ভূকম্পন শুরু হলে আতঙ্কিত না হওয়াটা ভূমিকম্প মোকাবেলার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। জাপানের উদাহরণটা টেনে আনতেই হয়। ওদের স্কুলে স্কুলে ভূমিকম্প সম্পর্কে বাচ্চাদের শেখানো হয়, বাসায়ও তাই। আমার বিশ্বাস এবারের পর সবাই নিজেরাও সচেতন হবেন এবং সাথে আপনাদের বাচ্চারাও।

#২০ Comment By Touhid On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ৩:৪১ অপরাহ্ণ

লেখককে ধন্যবাদ।

তবে দূর্যোগে প্রথমেই যে কাজটি করতে সবাইকে আমি অনুরোধ করছি তা হল ঈশ্বর-আল্লাহ্ কে ডাকুন এবং তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করুন।

আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমীন।

#২১ Comment By বিপ্লব রহমান On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ৭:১৬ অপরাহ্ণ

তথ্য পূর্ণ লেখার জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ। তুমুল জনপ্রিয় রাজনৈতিক কচকচানির চেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এ ধরণের লেখা অনেক জরুরি। চলুক। 🙂

#২২ Comment By এফ কে এস On মার্চ ১৯, ২০১২ @ ৭:২৯ অপরাহ্ণ

ঢাকাবাসীর জন্যে অতি প্রয়োজনীয় একটা লেখা। পরিকল্পনাহীন একটা শহরকে এতো সাবধানবানী দেবার পরও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্যে নাগরিকদের ‘যাচ্ছেতাই’ আচরন নিয়ন্ত্রন এখনো করতে না পারাটা খুবই দূঃখজনক। মাঝে মাঝে মনে হয়, একটা বড় দূর্যোগই মনে হয় অনেকের হূঁশ আনাতে সাহায্য করবে কিন্তু তাতে যে নিজেরও অনেক ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। এ এক অন্যরকম অশান্তি। যাইহোক, আমার মনে হয়, তাৎক্ষনিক করনীয় কর্তব্যেরতক্ষনিক’প্যানিক ম্যানেজমেন্ট’ টাও অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

#২৩ Comment By Md.Asraful alam Khan Jewel On মার্চ ২১, ২০১২ @ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

অসংখ্য ধন্যবাদ এ্যাপোলো ভাই, এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চমত্কার উপস্থাপনের জন্য । এতদিন আমরা জেনে এসেছি আমাদের দেশের পাহাড়ী এলাকাগুলো ভূমিকম্প প্লেটে অবস্থিত হওয়ার কারণে ঐ সকল অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা অনেক বেশী । কিন্তু নদী বিধৌত পলল সমভূমি অঞ্চলে এবার ভূমিকম্পের উত্স হওয়ার বিষয়টি সমগ্র বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি স্বরুপ ।বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের এত সন্নিকটে ভূমিকম্পের উত্স হওয়ায় আমাদের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত । আর ভূমিকম্পের সময় করনীয় সম্পর্কে আপনি যে গাইড লাইন দিয়েছেন তা এক কথায় অসাধারণ ।