পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত পাহাড়ি আদিবাসীদেরকে খুন করা, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, তাদের সম্পত্তি লুঠপাট করার জন্য দুর্বৃত্তরা, যারা বেশিরভাগে ক্ষেত্রে সেটেলার বাঙালি, সব সময় একটা অজুহাতের অপেক্ষায় থাকে। তবে সব সময় যে অজুহাত লাগে তা-ও নয়, বিনা অজুহাতেও পাহাড়িদের আক্রমণ করা, লুঠপাট করা এবং হত্যা করার অসংখ্য নজির বাংলাদেশ আমলের বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি।

আবার কোনো কোনো সময় নিজেরাই অজুহাত তৈরি করে। তারপর শুরু হয় তাণ্ডবলীলা। ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া, ঘরবাড়ি লুঠপাট করা, সুযোগ পেলে হত্যা করা– এসবই নিয়মিত ঘটনা।

গত ২ জুন একই ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিনটিলা এলাকায়। ১ জুন নুরল ইসলাম নয়ন নামে লংগদু নিবাসী ভাড়ায়চালিত মোটর সাইকেল ড্রাইভারের লাশ পাওয়া যায়। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা না গেলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহস্রাধিক বাঙালির একটা মিছিল থেকে ২ জুন রাঙামটি জেলার লংগদু উপজেলায় তিনটিলা এলাকার আদিবাসীদের গ্রামে সাম্প্রদায়িক হামলা, লুঠপাট, অগ্নিসংযোগ এবং হত্যার তাণ্ডবলীলা চালায়। এ হামলা ও অগ্নিসংযোগে আদিবাসীদের ২০০ ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু পালিয়ে গিয়ে কোনোরকমে প্রাণে রক্ষা পেলেও ৭০ বছরের বৃদ্ধা গুনবালা চাকমা হত্যার শিকার হন। এরই মধ্যে প্রশাসন লংগদুতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। অথচ কারো কোনো মাথাব্যথা নেই; মিডিয়ার কোনো নজর নেই।

কারণ গোটা বাংলাদেশ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া এবং সেনসেটিভ শিক্ষিত নাগরিক মধ্যবিত্ত এখন বাজেট, ব্যাংকের টাকা রাখার শুল্ক, ভোট আর ভ্যাট নিয়ে ব্যস্ত। সবাই ‘অর্থনীতিবিদ’ হয়ে উঠছেন, তাই সবাই বাজেট ও অর্থকড়ির বিষয়-আশয় নিয়ে ব্যস্ত। মানুষ ও মানবতার বিষয়-আশয় এখন ‘নন-এজেন্ডা’!

ফলে লংগদুতে দিনদুপুরে আদিবাসী গ্রামে অগ্নিসংযোগ হয়, দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন, পুড়ছে আদিবাসীদের ঘরবাড়ি এবং প্রাণভয়ে মানুষ দৌড়ে পালানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, কিন্তু আমাদের মানবিক অনুভূতি ভোঁতা হয়ে গেছে, তাই আমাদের টনক নড়ে না। আমাদের মানবিক সেনসিটিভিটি কর্পোরেট হয়ে গেছে, তাই বাজেটের লাভ-ক্ষতি এবং জিনিসপত্রে দাম হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে আমরা ব্যস্ত।

প্রাণভয়ে পলায়নরত আদিবাসী মানুষের তীব্র আত্মনাদ এবং করুণ আহাজারি তাই আমাদের কানে-মনে পৌঁছায় না। এ জন্যই বাজেটের আকার বাড়ে কিন্তু মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বাড়ে না। আদিবাসীদের জীবন দিন দিন আরও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। লংগদুর ঘটনা তারই নজির। আদিবাসীদের গ্রামে আগুন দিয়ে, মনে হচ্ছে, সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার বাজেট সেলিব্রেশন হচ্ছে! চিয়ার্স!

 

Indigenous People - 10

 

আজ থেকে ঠিক ২৮ বছর আগে ১৯৮৯ সালের ৪ মে রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার ছয়টি গ্রামে এক বিরাট হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল, যা নৃশংসতার বিচারে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। শত শত ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। লুটপাট করা হয়েছিল আদিবাসী জনপথ। গুলি করে পশুপাখির মতো খুন করা হয়েছি আদিবাসী আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা।

‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’-এর তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী ৩৬ জন নারী-পুরুষকে হত্যা করা হয়। আদিবাসীদের দাবি অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। আহত হয়েছিলেন শত শত। হত্যার পর, এমনকি লাশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি নিহত পরিবারের কাছে যাতে পরিবারের লোকজন যথাযথভাবে সৎকার করতে পারে। এ ঘটনায় দুটি গির্জাসহ অসংখ্য বৌদ্ধমন্দির ধ্বংস হয় এবং ভেঙে বা পুড়িয়ে দেওয়া হয় অসংখ্য বুদ্ধমূর্তি।

এ ঘটনা কোনো উপনিবেশিক শাসন আমলে বিদেশি শাসকের অধীনের ঘটেনি। এ ঘটনা ঘটেছিল স্বাধীন বাংলাদেশে এবং রাষ্ট্রের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায়, কেননা এ ঘটনায় সেটেলার বাঙালিদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, আনসার ও ভিডিপির সদস্যরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে জোরালো অভিযোগ আছে।

২০১৭ সালে এসে সেই লংগদুতেই প্রায় একই কায়গায় (তিনটিলা এলাকায়) চললো আরেক সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ ও লুঠপাটের ঘটনা। একটি গণতান্ত্রিক দাবিদার সরকারের আমলে আদিবাসীদের উপর এভাবে নৃশংস ও নারকীয় ঘটনা ঘটল যা ২৮ বছর আগের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অনেককে মনে করিয়ে দিয়েছে। রাঙামাটির লংগদুর ঘটনার পর লংগদুর অধিবাসীদের অনেকেই বলেছেন, ‘১৯৮৯ সালে একবার সর্বস্বান্ত হয়েছিলাম। এখন আবার হলাম।’

অর্থাৎ ১৯৮৯ সাল আর ২০১৭ সালের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কোথায়? হয়তো মৃতের সংখ্যা ও অগ্নিসংযোগের তীব্রতার মধ্যে একটা পার্থক্য আছে, কিন্তু ঘটনার অনুঘটক, প্রতিক্রিয়া ও প্রতিফল মোটামুটি একই রকম। কেননা, লংগদুর তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আব্দুর রশীদ সরকার নিজ অফিসে অজ্ঞাতনামা বন্ধুকধারীদের গুলিতে নিহত হন। এর জের ধরে লংগদুর উপজেলার ছয়টি গ্রামে যে তাণ্ডবলীলা ও গণহত্যা চালানো হয, সে কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা প্রতিবছর ৪ মে ‘লংগদু গণহত্যা দিবস’ পালন করে।

২০১৭ সালের ১ জুন একইভাবে একজন ভাড়াটে মোটরসাইকেল ড্রাইভারের লাশ পাওয়া যায়। লংগদুর আদিবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী যার সঙ্গে যে গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে গ্রামের অধিবাসীদের কোনো সম্পর্ক নাই। সুতরাং এটা কেবল একটা অজুহাত, যাকে ‘সেন্সিটাইজ’ করে আদিবাসী গ্রামকে জ্বালিয়ে দেওয়ার পেছনে একটা ন্যায্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। সেই ১৯৮৯ সাল যেন ২০১৭ সালে ফিরে এসেছে!

লংগদুর ঘটনাকে নিয়ে সবচেয়ে অদ্ভুত আচরণ করেছে বাংলাদেশের মিডিয়া। লংগদুর হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ/প্রচার করেছে ‘একজন যুবলীগ নেতার হত্যার জের ধরে লংগদুতে ২০০ ঘরবাড়িতে আগুন’ প্রায় এই শিরোনামে। অর্থাৎ যে বয়ান (নেরেটিভ) আদিবাসীদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড জায়েজ করার জন্য রাষ্ট্র ও বাঙালি সেটেলাররা উৎপাদন করেছে, সেটাকেই আনক্রিটিক্যালি মিডিয়া পুনরোৎপাদন করেছে। অদ্ভুত আমাদের ইন্টেলেজেন্সিয়া! অদ্ভুত আমাদের মিডিয়ার দায়িত্বশীলতা ও গণমাধ্যমতা।

এখানে মনে রাখা জরুরি যে, দুর্বৃত্তদের হাতে মোটরসাইকেল চালকের প্রাণ হারানোর ঘটনা যে রাঙামাটিতে এবারই প্রথম ঘটেছে তা নয়। এ ধরনের ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্যবার ঘটেছে।

সেখানে কেবল বাঙালি চালক নয়, বহু আদিবাসী চালকও প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার যথাযথ তদন্ত করার দায়িত্ব সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের। আমরাও চাই, এরকম সব হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হোক এবং দুর্বৃত্তদের এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের জের ধরে নির্দোষ আদিবাসীদের গ্রামে এভাবে আগুন দিয়ে শত শত ঘরাবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার ও বৈধতা কারো নেই।

এখানে প্রশাসনের ‘ডাবল’ ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়। মোটর সাইকেল চালকের হত্যাকারীদের গ্রেপ্ততারের ব্যর্থতা এবং আদিবাসী গ্রামকে বাঙালি সেটেলার কর্তৃক অগ্নিসংযোগ থেকে রক্ষা করতে না-পারার ব্যর্থতা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৪৪ ধারা জারি করার পরও লংগদুর আদিবাসী গ্রামে এ আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় ২০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হল, সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন। তাই ‘তাহলে কি সেটেলার বাঙালিদের এ তাণ্ডবলীলায় প্রশাসসের পরোক্ষ সমর্থন ছিল’– কেউ যদি এরকম অভিযোগ তোলে, তবে তাকে একেবারে ফেলে দেওয়া যাবে না।

লংগদুর ঘটনা নতুন কিছু নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে সারা বছর ধরে আদিবাসীদের উপর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, লুঠপাঠ এবং অকারণ গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়মিতভাবেই ঘটে। তার কিছু কিছু মিডিয়ার সুবাদে আমাদের কানে আসে এবং আমরা কিছুটা মৌসুমি কানাকানি করি। আমাদের নির্বিকার চৈতন্যে কিঞ্চিত বিকার আসে এবং সে বিকারের ঠেলায় কিছুটা ফেসবুকিং করি, সম্ভব হলে গো-বেচারা মানববন্ধন করি এবং টুকটাক বিবৃতি দিই। যার মধ্য দিয়ে মূলত ‘আদিবাসী বান্ধব’ আর ‘স্ব-দাবিকৃত মানবাধিকার কর্মী’ হওয়ার আইডেনটিটি ঝালাই করে নিই! কিন্তু বেশিরভাগ ঘটনাই আমাদের জানাজানির ও কানাকানি বাইরে পাহাড়েই নীরবে-নিভৃতে বাতাসের সঙ্গে হাওয়া হয়ে যায়।

কী পাহাড় কী সমতল আদিবাসীদের অবস্থা প্রায় একই রকম। কেননা স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি, বাঙালির মেজরিটারিয়ান মানসিকতা এবং প্রশাসনের বৈমাত্রেয় সুলভ আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সে কারণেই ফি-বছর আদিবাসী হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ক্রমবর্ধমান।

‘কাপেং ফাউনডেশন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সালেই পাহাড় ও সমতল মিলে হত্যা করা হয়েছে ১৭ জন আদিবাসীকে, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে ১৬১ জন আদিবাসীকে, লুঠপাট করা হয়েছে ৯৭টি ঘরবাড়ি এবং আগুন দেওয়া হয়েছে ২০৭টি ঘরবাড়ি।

এর কোনোটারই কোনো বিচার হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। ঘটনা ঘটার পর যেমন লোক দেখানো কিছু আনুষ্ঠানিকতা হয়, লংগদুর ঘটনার পরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে। যেমন: প্রশাসনের উচ্চপদস্থ লোকজন এলাকা ভিজিট করেছেন, শত শত অজ্ঞাত লোকের নামে মামলা করা হয়েছে, তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দোষীদের যথাযথ বিচারের জন্য শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে… ইত্যাদি। কিন্তু ঘটনা ও উত্তেজনার তীব্রতা সময়ে সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে আর আমাদের সাময়িক উত্তেজনা প্রশমিত হবে। মামলা-মোকাদ্দমা-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার সব ‘লাল ফিতা’র নিচের চলে যাবে!

দুর্বৃত্তরা নতুন অজুহাতের অপেক্ষায় থাকবে, যাতে করে নতুন করে অন্য কোনো গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া যায়, নতুন কোনো গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং নতুন করে আদিবাসীদের সর্বস্বান্ত করা যায়। কিন্তু এভাবে আর কত?

আদিবাসী মানুষ এদেশে এখনও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায় না, জীবনের কোনো নিরাপত্ত পায় না, নিজের সহায়-সম্বলটুকু আগলে রাখার অধিকার পায় না। এভাবে আর কত? অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নৈতিক বিকাশও যে জরুরি সেটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

যতই আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করি না কেন, যতই আমরা গণতন্ত্রের জিগির করি না কেন, যতদিন এদেশে ভিন্ন ভাষার, ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন বর্ণের, ভিন্ন জাতিসত্তার এবং ভিন্ন চিন্তার মানুষের সুযোগ ও অধিকারের সাম্যতা নিশ্চিত না হবে, ততদিন এদেশ একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করতে পারবে না। তাই লংগদু ঘটনা এবং লংগদুর মতো সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আদিবাসী মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার চাই।

রাষ্ট্রের সত্যিকার গণতন্ত্রায়ণের জন্য সবার সুযোগ এবং অধিকারের সাম্যতা অধিকতর জরুরি।

রাহমান নাসির উদ্দিননৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

১৫ Responses -- “লংগদুর ঘটনা ও আমাদের বিকার!”

  1. lawrencelushai77@gmail.com

    দেশ সবারই তৎদ্রুপ বেচে থাকারও সবার।
    হিংসাহিংসি কোনো ধমর্ই শিক্ষা দেই না।
    কিন্তু যা ঘটনা প্রবাহিত হলো তার মাঝে ঘৃণার আভাষ খুজে পাওয়া যায়।
    সরকারের নজরদারি খুবই কম বলে আমি মনে করি।
    কারন তার আগেও অনেক বার হামলা হয়েছে তাৎক্ষনিক সরকারের উচিত ছিল সুরক্ষা দান করা। সেটাও করেনি।

    তাই আমি আশাকরি পরবর্তীতে
    সরকারের অক্ষমতা যাতে প্রকাশ না পায়।

    Reply
  2. Mohammad Imran

    একজন অপরাধ করবে আর অন্যজন শাস্তি পাবে তা তো হয়না। অনতি বিলম্বে নুরল ইসলাম নয়নের হত্যাকারীদের শাস্তি এবং হত্যা পরবর্তী দাঙ্গার সাথে জড়িতদের শাস্তির ব্যাবস্থা করা উচিৎ। আর পরবরতিতে যাতে এই ধরনের ঘতনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই পদক্ষেপ ও নেয়া উচিৎ।

    Reply
  3. আকাশ

    হারে মুন্সি বক্করচক্কর
    এখন কীসের বকর বকর!
    “তাহলে সেই আপনাকেই তো দেখা গিয়েছিল শাহবাগে দৈনিক আমার দেশ বন্ধের দাবি জানাতে। আপনি সফলও হয়েছিলেন। সরকার যখন দৈনিক আমার দেশের তালা বন্ধ করে দিল, আপনি তো তার পক্ষেই ছিলেন। সরকারের দিক থেকে সেটা ছিল আইন বিরোধী অবৈধ কাজ। সেই অবৈধ কাজে আপনি সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। সেই বে-আইনী তালা এখনও কিন্তু ঝুলছে। দৈনিক আমার দেশ এখনও বন্ধই আছে। তখন কিন্তু আপনি হাততালি দিয়েছিলেন এবং শাহবাগে মিষ্টি খেয়েছিলেন। এতোদিনে হয়তো ভুলে গিয়েছেন কিভাবে আপনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। ভুলে যাবেন না, দিগন্ত টেলিভিশনও কিন্তু বেআইনী ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এখনও বন্ধই আছে। বন্ধ আছে ইসলামিক টিভি। তাহলে সঙ্গত প্রশ্ন উঠবেই মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে আপনি যে হাতির আণ্ডা বোঝেন সেটা কি গাছে ধরে, নাকি রান্না করে খেতে হয়? নিজের বেলায় দইয়ের হাঁড়ি, পরের বেলায় মাথায় বাড়ি। তাই না? এই যে আপনার নীতি নিজেরটা খাই পরেরটা মারি এই নীতি কি ঠিক?”
    বাজেট তো দেখেছেন, আজ যখন ল্যাংটা হয়ে ডাকাত আপনার পুরা দেশ লুটতে নেমে পড়েছে, তা ধরিয়ে দিয়ে আপনার পক্ষে কথা বলার একটা গণমাধ্যম নাই। যেখানে প্রধান বিচারপতি আপনার নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষা করবার কথা, তিনি উচ্চ আদালতে শাড়ী পরা দেবি থেমিসের মূর্তি বসিয়ে আপনাকে ব্যস্ত রাখছে। আর আপনি তাদের টেলিভিশানে তাদের টকশোতে কে কি বলল তার জন্য তার হাড়গোস্ত খুলে নেবার বী্রত্ব দেখাচ্ছেন। নিজের টেলিভিশানে নিজের টকশোতে তার পালটা উত্তর দেবার কোন সুযোগ আপনার নাই। কোন সুযোগ আপনি রাখেন নি। ওদের মনের কথাই ওরা বলেছে, পারলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সব মসজিদই ভেঙ্গে দিত। বাংলাদেশে এটাই সেকুলারিজম।
    কিন্তু লড়বার ক্ষেত্রগুলো ঠিক ভাবে চিনে নিন। হিম্মত থাকলে যারা আপনার টুঁটি চেপে ধরে আপনাকে কথা বলতে দিচ্ছে না, প্রতিবাদ করতে দিচ্ছে না, আপনার পক্ষের পত্রিকা, টেলিভিশান বন্ধ করে রেখেছে — তাদের আলটিমেটাম দিন। জনগণকে তাদের কর্তব্য বোঝাতে হলে আপনার কন্ঠস্বর আগে সংযত, মুক্ত ও হেফাজত করুন। আর ঐদিকে দেখেন, সোনার বাংলার সোনার ছেলেরা লংগদুতে পাহাড়িদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে তাদের দেশপ্রেম ও বীরত্ব দেখাচ্ছে। যান, এখন এইসব নিয়ে ব্যাতিব্যস্ত থাকেন, যাতে ডাকাত আপনার পুরা দেশটাই নিয়ে যেতে পারে!
    আর কতো?

    Reply
  4. সাজ্জাদ রাহমান

    আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা বিবৃতি দিয়েই খালাস। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের দায়িত্বশীল কাউকেই উপদ্রুত এলাকায় যেতে দেখা যায়নি। এমনকি বিরোধী দলের কোনো নেতাকে কোনো বিবৃতি দিতে দেখিনি যাওয়া দূরে থাক। সবাই ইফতার, বাজেট, নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত। মনে হচ্ছে আসন্ন নির্বাচনে আদি বাসীদের ভোট কোনো দলেরই প্রয়োজন নেই, ওরা যেন ভীন দেশের নাগরিক। এই বিমাতাসুলভ আচরণ অগ্রহণযোগ্য। বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে লেখকের মতামতের সাথে দ্বিমত পোষণ করছি। আমার মতে আদিবাসীদের পাশে যতোখানি আছে সেটা মিডিয়া। কম হোক আর বেশী হোক, সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে মিডিয়া বরাবরই সরব, তবে সংবাদ সম্প্রচারে আরও সচেতন হওয়া দরকার, একথা সত্যি, যেন বস্তুনিষ্ঠতা ক্ষূণ্য না হয়।

    Reply
  5. বিপ্লব রহমান

    প্রথমত, ক) এবার যুবলীগ নেতার হত্যার প্রতিবাদ মিছিল থেকে পাহাড়ি জনপদে আগুন দেওয়া হয়েছে। খ্) সেনা ও প্রশাসনের সক্রিয় উপস্থিতি সেটেলার সমাবেশকে উৎসাহিত করেছে, গ) নিহতর লাশ নিয়ে পাহাড়ি গ্রামের ভেতর দিয়ে মিছিল করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে!

    দ্বিতীয়ত, এসব কারণে স্পষ্ট লংগদু সংঘাতের দায়ভার প্রশাসনের ওপর বর্তায়। বলাভাল, ১৯৭১ যেন ২০১৭ হয়ে নেমে এসেছে পাহাড়ে, সেনা-সেটেলার নিপীড়নের ধরণ এমনই ।

    তৃতীয়ত, শান্তিচুক্তির আগে ও পরে সেনা-সেটেলার যৌথায়নে পাহাড়ে আগুন জ্বলছেই। এই দুই অপশক্তির অবসান না হলে সেখানে পাকিপনার সহসাই অবসান হবে, এমন আশা করাটাই যেন বোকামী। শান্তিচুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ায় দিন দিন পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে।

    চতুর্থত, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বেসামরকীকরণ ও সেটেলারদের নিয়ন্ত্রণ তাই সময়ের দাবি।

    পঞ্চমত, এছাড়া ভোটের অংক কষে ভাস্কর্য রাজনীতির পাশাপাশি লংগদুর ঘটনা ঘটতেই থাকবে। ক্রমেই আরো রক্ত ঝড়বে পাহাড়ে।আর পাল্টা আঘাত যে আসবে না, তারই গ্যারান্টি কী?

    Reply
  6. Kaniska Chakma

    Govt behaves as though there is no responsibility to protect us.The settlers are continuously oppressing Jumma. Actually army, police and BGB are not active in hill tracts..They always help the settlers to oppress us.We cannot get basics right only for inactivity of police,army and BGB. If they are abuzz for the safety of hill tracts ,we would not be so oppressed. Newswriting is also surprising me.How can they mystery the events of CHT?Every jJumma is opposite of this ails.Though govt. is known about this but does not take any steps.Really it is very frustrating.

    Reply
  7. Kaniska Chakma

    Govt behaves as though there is no respoonsibility to protect us.The setlers are continuesly oppressing jumma. Actually army ,police and BGB are not active in hill tracts..They always help the setlers to oppress us.We cannot get basics right only for inactivity of police,army and BGB.If they are abuzz for the safety of hill tracts ,we would not be so oppressed.Newswriting is also surprising me.How can they mystery the events of CHT?Every jumma is opposited of this ails.Though govt. is known about this but doing nothing.Really it is very frustrating.

    Reply
  8. Nur a alam

    । একবার আধীবাসি এক নর সুন্দর সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায় আমাকে বলল জানিস লেখক,সাহিত্যিক,সাংবাদিক সব আমাদের পক্ষে।

    Reply
  9. আমিরুল আলম খান

    লংগদুর নৃশংসতা সত্যিই বাঙালি মনকে স্পর্শ করে নি। কেননা, বাঙালি উগ্র জাতীয়তাবাদ অন্য কোন জাতিসত্ত্বার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। মিথ্যা গাল্গল্প, মিথ্যাচার বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল সূত্র। এভাবে বাঙালি জাতীয়তাবাদ এক হঠাকারী বা উগ্র জাতীয়তাবাদে যাকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ন্যাশনাল শ্যুভেনিজম বলে তাতে আক্রান্ত। এ ধরনের শ্যভেনিজম অন্যের অধিকারকে অস্বীকার করে এবং শ্যুভেনিস্টিক এটিচ্যুড অন্যের উপর জোর করে চাপিয়ে দিতে চায়। বাঙালির এই চরিত্রের বিকাশ ঘটেছে গত প্রায় ষাট-সত্তর বছরে। এর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল সে সত্যকে অস্বীকার করে, অন্যের প্রতি অসম্মান দেখায় এবং সবকিছুর মাধ্যে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করতে চায়। ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা কোন কিছুই এর আগ্রাসন থেকে রক্ষা পায় না।
    লংগদুতে আমি দেখেছি, পাহাড়িদের প্রতি সেটেলারদের কী তীব্র অবিশ্বাস। অথচ তারাই সেখানকার ভূমিপুত্র, রাষ্ট্রীয় মদতে দখলদার হিসেবে সেখানে উপনবেশ গেড়েছে, পাহাড়ি জনগণকে নির্মূল করার জন্য সব সময় ওঁত পেতে থেকে।
    বাঙালি সেটেলারদের এই অশুভ ততপরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
    আমরা ২রা জুনের নৃশংসতা তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করি।
    আমরা আরও দাবি করি, পাহাড়িদের শান্তিতে বাস করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সে দায়িত্ব অবশ্যিই রাষ্ট্রের।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      জনাব আমিরুল, আপনার মন্তব্য পড়ে আমার প্রয়াত বন্ধু সুহৃদ চাকমার কথা মনে পড়ে গেল। ও বলেছিল, “আমাদেরকে উপজাতি বলবি না। জাতের কোন উপজাত হয় না। তোরা যেমন বাঙালি, আমরা তেমনি চাকমা।” সুহৃদ চাকমার বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হোক – এই কামনা।

      Reply
  10. ZAIN MOZUMDER

    দুর্বৃত্তরা নতুন অজুহাতের অপেক্ষায় থাকবে, যাতে করে নতুন করে অন্য কোনো গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া যায়, নতুন কোনো গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং নতুন করে আদিবাসীদের সর্বস্বান্ত করা যায়। কিন্তু এভাবে আর কত?

    Reply
  11. Rabindra Kumar Das

    There should be more positive and effective action to be taken by the Government keeping it in mind that Bangladesh is a democratic country and every person have a right to get full security, safety and community development from the Government. Here all of this things are absent and the liability goes to government. Government is to find out the realty and to punish the person concern so that this sorts of devil act must not occure in future.

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      I do support you Mr. Rabindra. Everything depends on the government whether they are keen in protecting the democratic rights of the hilly people and protecting their lives and properties. They are the active citizens of this country as we the Bangalees are. They are contributing in the nation building process like many others.

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—