- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

আবু বাকারের লেখা ও আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মনস্তত্ত্ব

সম্প্রতি কাশেম বিন আবু বাকার নামের এক লেখকের উপন্যাস নিয়ে খুব সোরগোল হচ্ছে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তার সাক্ষাৎকারও প্রচারিত হয়েছে টিভি চ্যানেলে। কারো কারো মতে আবু বাকার একজন ‘নিষ্পাপ লেখক’। যুব ও তরুণ বয়সীদের সবচেয়ে আকষর্ণীয় বিষয় ‘প্রেম’ নিয়ে লিখেছেন মাত্র। তবে তার ভেতর ইসলামি মূল্যবোধের মশলা ঢুকিয়েছেন তিনি।

একদিকে ইসলামি মূল্যবোধ অন্যদিকে ‘অশ্লীলতা’ ঢুকিয়ে তিনি তার লেখাকে মুসলমান তরুণ সমাজের কাছে লোভনীয় করে তুলছেন। টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি ‘অসাম্প্রদায়িকতার’ কথা বলেছেন। হিন্দু-মুসলমানে তার কাছে কোনো ভেদাভেদ নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন। এরপরও কেন তিনি শুধু মুসলমানদের জন্য লিখছেন এর উত্তর অনেকটা ছিল এরকম:

“আমি যা অনুসরণ করি তা লিখি।”

‘ধর্মীয় অনুভূতি’ পুঁজি করে লিখলেও তার এই অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য প্রগতিশীলরা হয়তো তাকে ক্ষমা করে দেবেন। তবে কথা হচ্ছে, তার লেখা নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু তার লেখনিতে নারীদের কীভাবে উপস্থাপনা করা হচ্ছে তা নিয়ে কেউ আলোচনাও করেননি, উদ্বিগ্নও নন। তার ‘ফুটন্ত গোলাপে’র নায়িকা চা-কফি খান না এ কারণে যে, চা-কফি খাওয়া ‘মেয়েদের’ জন্য ভালো না। যদিও তার নায়িকা কলেজে পড়ে, ক্লাসে ফাস্ট হয়, কিন্তুু সে উর্দু গজল গায়, কারণ অন্য গান গাওয়া ‘হারাম’। অবশ্যই তার নায়িকারা বোরকা পরিহিতা।

এদেশের গড়পড়তা পুরুষ যেভাবে নারীদের দেখতে চায় ঠিক সেভাবেই তার লেখায় নারী চরিত্র উঠে এসেছে। নারী থাকবে পুরুষের অনুগত। স্বামীর পায়ের নিচে বেহেস্ত, এই চর্বিত-চর্চিত বাণী জায়গামতো উপস্থাপন করতে তিনি ছাড়েননি। প্রায় ৩০ বছর আগের বাংলা সিনেমার গানের কথা মনে পড়ে যায়:

“আমি তোমার বঁধু, তুমি আমার স্বামী
খোদার পরে তোমায় আমি বড় করে জানি…”

এখনও যদি এ ঘরানার গান বা সংলাপ সেই একইভাবে জনপ্রিয় হয় তাহলে দুঃখ করতে হয় এই ভেবে যে, আমাদের মনমানসিকতা এক জায়গায় আটকে আছে।

গ্রাম বাংলায় নারীরা এগিয়েছে। একসময় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বেশি ছিল। এখন বাংলাদেশে থেকে পাকিস্তানের জনসংখ্যা বেশি। এর কারণ হচ্ছে এদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সফল হয়েছিল, আর তা সম্ভব হয়েছে গ্রামের নারীদের জন্য। একটি বেসরকারি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, স্বামীর কাছে গোপন রেখে গ্রামের নারীরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করতেন।

এখন আমাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ঢিলে হয়ে গেছে। এর কারণ এনজিওগুলো দ্বারে দ্বারে গিয়ে নারীদের কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ করছে না। ফলে ইচ্ছা থাকলেও গ্রামের বহু নারী জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারছে না। জন্ম নিয়ন্ত্রণের দায়ভার শুধু নারীদের– এ মানসিকতা যেমন দাম্পত্য জীবনে তেমনি রাষ্ট্রীয় এমনকি বিশ্বজুড়েও বিরাজমান।

শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, শিশু মৃত্যুহার কমানোর সফলতার পিছনেও গ্রামের নারীদের ভূমিকা অনেক বড়। তারা এখন জানে, শিশুর কোন বয়সে কী টিকা দিতে হবে, ডায়রিয়া হলে ওরাল স্যালাইন খাওয়াতে হয়। মানুষকে একধরনের আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। এর সঙ্গে সংসারে তার একটা মর্যাদা তৈরি করে নিতে সাহায্য করেছে। কোনো কোনো গ্রামে মেয়েদের সাইকেল চালাবার দৃশ্য সহজ হয়ে উঠছে, ঘোড়া সওয়ার হচ্ছে গ্রামবাংলার মেয়েরা। বাড়ির পুরুষদের সহযোগিতা পাচ্ছে কেউ, কেউ অগ্রাহ্য করছে পুরুষের বৈরিতা।

Futonto Golap by Kashem Bin Abu Bakar [১]

সুতরাং বিষয়টা ইসলামের ভাবধারা বা প্রেমের বিষয় নয়। প্রেমও খারাপ কিছু না, ধর্মও না। বিষয়টি হচ্ছে নারীদের সে বইগুলোতে কী স্থান দেওয়া হচ্ছে। মেয়েদের বিয়ের বয়স কমিয়ে যে পশ্চাতপদতা প্রশাসনের তরফ থেকে দেখানো হল বা পাঠ্যবই হেফাজতিকরণ এবং কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মর্যাদা প্রদানের ঘোষণা, হাইকোর্টের সামনে থেকে গ্রিক দেবী থেমিসের ভাস্কর্য সরানোর হেফাজতিদের দাবি উচ্চপর্যায় থেকে সমর্থন দেওয়া, এগুলোর পাশাপাশি আবু বাকারের বই সমাজকে আরও পিছিয়ে নিতে ইন্ধন যোগাচ্ছে কি না, তা নিয়ে মনে একটা ভীতি কাজ করছে।

আগেই বলেছি পরপর ঘটে যাওয়া প্রশাসন কর্তৃক হেফাজতি তোষণনীতি আমাদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে। পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্যেন সেন, জ্ঞানদাস, ভারতচন্দ্র রায় গুনাকর, রনেশ দাসগুপ্ত, রঙ্গলাল বন্দোপোধ্যায় আর সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো অমুসলিম লেখকদের লেখা যেমন, তেমনি হুমায়ুন আজাদ, এস ওয়াজেদ আলী, কাজী নজরুল ইসলাম, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, সানাউল হক এবং এমনকি গোলাম মোস্তফার মতো মুসলিম লেখকদের লেখাও।

অক্ষর শেখাতে গিয়ে শিশুদের শেখানো হচ্ছে ‘ও’-তে ‘ওড়না’। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা হাই কোর্টের সামনে থেকে লেডি জাস্টিসের ভাস্কর্য সরানোর পক্ষে, এবং সেটি জানাতে উচ্চপর্যায়ে গিয়ে দেখা করছেন। অথচ একটা প্রজন্মকে সাম্প্রদায়িক করার লক্ষ্যে যে পাঠ্যপুস্তকের পাঠ্যসূচি পরিবর্তন করা হচ্ছে তা নিয়ে কোনো বিকার নেই, শীর্ষপর্যায়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানানো তো দূরের কথা, তেমনি মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানো নিয়েও নয়।

হয়তো দুয়েক বছর পর পাঠ্যপুস্তক আবার তার অসাম্প্রদায়িক অবয়ব ফিরে পাবে, কিন্তুু মাঝখান দিয়ে ওই পুস্তক পড়ে যে প্রজন্ম বের হবে, তাদের সামলাবে কে? তারপর কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া, কওমি মাদ্রাসায় কী পড়া হয়, আমরা জানি না। অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানচেতনামূলক, বিশ্বসেরা সাহিত্য বা আধুনিক আইনসমূহ পড়ানো হলে তো ভালো, আর যদি না পড়ানো হয়– যেটার আশঙ্কা বেশি– সেটির পরিণতি হবে মারাত্মক। হয়তো এরপর তারা সরকারি চাকরিতে কোঠার জন্য দাবি জানাবে, বলা বাহুল্য সেই দাবি পূরণ করা হবে।

মধ্যযুগীয় আইন পড়ে এরা কীভাবে আধুনিক রাষ্ট্র চালাবে? পাকিস্তানে দাওয়ায়ে হাদিস ডিগ্রি স্বীকৃত। তাহলে কি আমরা পাকিস্তানকে অনুসরণ করছি? দুঃখ হয় যখন দেখি টিভি চ্যানেল সমাজের কিছু বিজ্ঞজন এ স্বীকৃতি প্রদান সমর্থন জানান; তারা পরোক্ষভাবে ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থাই সমর্থন করছেন।

ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা হলে তা কোনোক্রমেই একটি সম-অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র হতে পারে না। এটি ন্যূনতম জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ মাত্রই উপলদ্ধি করতে পারেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠা যদি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করার মূল উদ্দেশ্য হয় তাহলে নারীর সম-অধিকার কেন উপেক্ষা করা হবে? কেন পৈত্রিক সম্পত্তিতে কন্যা ও পুত্রসন্তান সমান ভাগ পাবে না? তেমনি সন্তানের উপর বাবার মতো মায়ের অধিকারের বিষয়টিও আমল দেওয়া হচ্ছে না।

‘সিডও’এর এ-সংক্রান্ত দুই ধারার উপর সংরক্ষন রেখে বাংলাদেশে নারী উন্নায়নের জন্য যত কাজই করা হোক না কেন, সবই হবে শুভঙ্করের ফাঁকি। শুধু নারীর অধিকার নয়, যাদের কথা মুখে আনলেই মোল্লারা চাপাতি নিয়ে ছুটে আসবে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে তারা আর দশটা মানুষের মতোই স্বাভাবিক, তাদেরও কোনো স্বীকৃতি দেবে না ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র। আধুনিক যুগে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা মানে একটা জাতিকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়া; আফগানিস্তান এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

এসব প্রগতিশীল এসব ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের আশঙ্কা দেখেও চুপ করে আছেন। তারা মনে করছেন হেফাজতিদের কথা শোনা একটা কৌশল মাত্র। অথবা মনে করতে পারে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র শাসিত হলে নারীরা ঘরে আটকে থাকবে মাত্র, তাদের কী? নারীকে নিয়ন্ত্রণ করার সুপ্ত ইচ্ছা তথাকথিত অনেক প্রগতিশীল পুরুষের মধ্যেও লুকায়িত থাকে। তাই তাদের স্ত্রীরা যখন হিজাবে আবৃত হয় তখন তাদের মধ্যে ‘অসাম্প্রদায়িক’ মানসিকতাও উধাও হয়ে যায়।

ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম হয়নি, এরপরও ঢাকার রাস্তায় আমার নারী সহকর্মীরা দাড়ি-টুপিওলা পুরুষদের দ্বারা হেনেস্থা হচ্ছে। একা পেয়ে পাশে যেতে যেতে তারা ঘোমটা বা হিজাব ছাড়া নারীদের বলছে: “মাথায় ঘোমটা দে।”

কী দুঃসাহস!

আবু বাকারের লেখা নারীর পর্দা নিয়ে উদ্বিগ্ন পুরুষদের আরও উৎসাহিত করবে। তবে আবু বাকারের লেখা নতুন নয়। ‘এএফপি’র মতো একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা তাকে হাইলাইট করায় বর্তমানে তা ‘বুদ্ধিচর্চাকারীদের’ আলোচনার টেবিলে চলে এসেছে।

আবু বাকার ‘চটি বই’ লেখেন। ‘চটি বই’ সবসময় একশ্রেণির পাঠকের কাছে আদরনীয়। তবে এই চটি বইতে ধর্ম অনুসরণ অন্তর্ভুক্ত করার কারণে একটা ভীতি কাজ করছে। ভয় হচ্ছে হেফাজতিরা না আবার আবু বাকারের লেখা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়; তেমন দাবি জানালে সেটি যে পূরণ করা হবে না সে গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না।

৩৩ Comments (Open | Close)

৩৩ Comments To "আবু বাকারের লেখা ও আমাদের পুরুষতান্ত্রিক মনস্তত্ত্ব"

#১ Comment By neel On মে ১৭, ২০১৭ @ ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

what the heck was this!!!!!??

#২ Comment By আনাস চৌধুরী On মে ১৮, ২০১৭ @ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

জী, আপনাদের বলছি। আগুনে জ্বলতে থাকুন। হিংসা বিদ্বেষে আপনাদের অন্তর জ্বলে ছাই হোক। এবং এই জ্বলন দীর্ঘ হোক।

#৩ Comment By তাইয়্যিপ রাফান On মে ১৮, ২০১৭ @ ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

আপনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‘অক্ষর শেখাতে গিয়ে শিশুদের শেখানো হচ্ছে ‘ও’-তে ‘ওড়না’। ’’

আমার প্রশ্ন ওড়না পড়া কি খারাপ? ওড়না কি ধর্মীয় পোশাক?
আমাদের এলাকার সব হিন্দু তরুণীরাই তো ওড়না পরে নিজেদের বক্ষ ঢাকে।

একজন নারী লেখক হিসেবে কীভাবে চান, পুরুষরা একটি মেয়ের উন্মুক্ত বক্ষ দেখে সুরসুরি পাক।

আর ধর্ম নিয়ে আপনাদের এত নাক সিটকানি কেন? সুলতানা নামটিও ধর্মীয় শব্দ, আরবি শব্দ। ঝেড়ে ফেলতে পারবেন?

#৪ Comment By মামুন বসুনিয়া On মে ১৯, ২০১৭ @ ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ

ঋ -তে যে ঋষি পড়ানো হচ্ছে। সেটা সাম্প্রদায়িকতা নয় কী?

#৫ Comment By shahriaf On মে ১৮, ২০১৭ @ ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ

কোন ধর্ম সম্পর্কে পুরপুরি না জেনে সব বিষয়ে জ্ঞান জাহির করা অনুচিত । আমি এটা বুঝি না যে ইসলামের প্রাধান্য সমাজকে কিভাবে পিছিয়ে নেয়! তাহলে তো সবচেয়ে বাজে সমাজ ব্যাবস্থা সৌদি আরবে । আর সবচেয়ে অগ্রগামী আমেরিকান (সর্বোচ্চ ধর্ষণের দেশ) সমাজ । একটা বইয়ে কয়েকটা কবিতা মুসলিম পন্থি হওয়ায় ঐ বই যারা পড়ে বের হবে তাদের নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবার কিছু আমি দেখি না । লেখিকা এমন ভাবে বললেন যেন ওরা বড় হয়ে দেশকে সর্বনাশ করে ফেলবে। এখনো তো লাখ লাখ মাদ্রাসা পাস বা মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র আছেন সব সমাজে। কই তাদের সাথে এক সামাজে চলতে খুব একটা অসুবিধা তো হয় না। আর কয়েকটা কবিতায় কি ই বা সর্বনাশ হয়ে যাবে ! ” অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানচেতনামূলক, বিশ্বসেরা সাহিত্য বা আধুনিক আইনসমূহ পড়ানো হলে তো ভালো ” । আপা আপনার ধর্ম বিষয়ে অনিহা থাকতে পারে কিন্তু উপরের বিষয়গুলা ভালো আর বাকি গুলার পরিণতি মারাত্মক এসব না বললেও চলতো । পশ্চিম প্রিয়তা থেকে দেশ প্রিয়তার দিকে মনযোগী হওয়া উচিত । আমার দেশ যেমন তেমন থাক, শুধু শুধু কেন পশ্চিমের মত বানানো লাগবে?

#৬ Comment By Rahman On মে ১৮, ২০১৭ @ ৪:৪১ অপরাহ্ণ

Thank you for your comment.

Rahman

#৭ Comment By Qudrate Khoda On মে ১৮, ২০১৭ @ ১০:০০ পূর্বাহ্ণ

একটি সাহসী, চমৎকার ও তথ্যবহুল লেখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা জানাই।

#৮ Comment By mamunkvafsu On মে ১৮, ২০১৭ @ ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সত্য ও সময়পোযোগী লেখাটির জন্য লেখককে ধন্যবাদ ও লাল সালাম।

#৯ Comment By md ismail On মে ১৮, ২০১৭ @ ৪:০২ অপরাহ্ণ

সাহিত্য মানুষের জীবন আচরনের বাহিরের কিছু নয়। আমরা মানি বা না মানি । ধর্ম প্রিয়তা খারাপ নয়। ধর্ম হীনতা বা ধর্মের প্রতি কটাক্ষতা খারাপ নয় কি?

#১০ Comment By abdumannan On মে ১৮, ২০১৭ @ ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

jara khnki khataye nam likhaye ora ki orhna pore thake

#১১ Comment By abdumannan On মে ১৮, ২০১৭ @ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

ai proshnota sobar nikot roilo ¿?

#১২ Comment By শুভ্র On মে ১৮, ২০১৭ @ ৪:৪০ অপরাহ্ণ

আমি এখানে কেন?

#১৩ Comment By মহিউদ্দিন On মে ১৮, ২০১৭ @ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

একের এক প্যালেস্টাইন ইরাক মিসির লিবিয়া সিরিয়া ধ্বংস হয়ে যাবার পরেও যারা বাংলাদেশে নানান ছুতায় দাঙ্গা লাগাতে চায়, যেহেতু ভারতে নিত্যদিনই কোথাও না কোথাও মুসলমান নির্যাতন ধর্ষণ বা দাঙ্গা চলছে — তাদের চিনে রাখুন।
তারা কি চায় বুঝতে চাইলে মধ্য প্রাচ্যের দিকে তাকান। এদের রুখে দিন।
আবারও বলি, ইসলাম শুধু মুসলমানদের জন্য আসে নি, এমনকি শুধু মানুষের জন্যও না, পশুপাখি কীটপতঙ্গ জীব অণুজীবসহ — সকল প্রাণের মহিমা ও প্রাণের হেফাজতের জন্য এসেছে। মানুষের মর্যাদা রক্ষা এই ধর্মের অতি আবশ্যিক সার্বজনীন নীতি যার সঙ্গে নৈতিকতা, আইন এবং উন্নত ও মহৎ শাসন ব্যবস্থার ধারণা জড়িত। একে কায়েম করে সাম্প্রদায়িকতা, হিন্দুত্ববাদ ও সাম্রাজ্যবাদকে উপযুক্ত জবাব দিন।

#১৪ Comment By হ্যাপি On মে ২০, ২০১৭ @ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

সোভিয়েত রাশিয়ায় যারা আপনার মত না তাগো জায়গা ছিল সাইবেরিয়া শ্রম শিবির। সেই রাষ্ট্র টেকে নাই। ভয় দেখাইয়া, দমন কইর‍্যা, কণ্ঠস্বর রুদ্ধ কইর‍্যা, গুম কইর‍্যা সরকার তো দূর কি বাত রাষ্ট্রই টিকতে পারেনা। আমাগো স্যেকুলারেরা সেই সোভিয়েত কমুনিস্টদের মতো। তারা তাঁদের মতের বাইরের মানুষদের মানুষ বলেই মনে করেনা, মনে করে তারা “ছাগল”, এবং এরা নির্মুলযোগ্য, এদের এই দেশে থাকার অধিকার নাই বলে মনে করে, তাঁদের কথায় কথায় পাকিস্তানে পাঠায়ে দেয়। এরা আসলে সরকার টিকাইতে গিয়া রাষ্ট্রের বারোটা বাজাইতেছে। এইখানে স্যেকুলারেরা পলিটিক্যালি ফেইল করছে। তারা দেখাইছে, দানবীয় রাষ্ট্র শক্তি ব্যবহার কইর‍্যা ভিন্নমতরে সে ডিল করবো, এবং তা সে করতেছে।
এইখানেই আসে ভবিষ্যৎ রাজনীতির সম্ভাবনা। ভবিষ্যৎ রাজনীতিরে দেখাইতে হইবো, যে আপনার মতো না তারে কেমনে আপনি ডিল করবেন। ধরা যাক এই স্যেকুলারকুল, তারা আপনারে যেমনে ডিল করছে তারে কি আপনি তেমনভাবেই ডিল করতে চান ক্ষমতাবান হইলে; মানে তারে শক্তি প্রয়োগে দমন করবেন? যদি স্যেকুলারগো পাল্টা তাই করতে চান তাইলে আপনার কোন পলিটিক্যাল সম্ভাবনা নাই। আপনারে সবাইরে জায়গা দিতে হইবে, সবার কথা বলার স্পেইস দিতে হইবে আর সবচেয়ে বড় কথা সবাইরে নিয়া রিপাবলিক বানাইতে হইবে, তারে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন। স্যেকুলারেরাও কইবো, এই রুলাররে আমি পছন্দ করিনা, কিন্তু হ্যারা যেই সিস্টেমে রাষ্ট্র বানাইছে এই সিস্টেমে আমি হ্যাপি,ওগেরে আমরা মিছামিছি ডরাইছি।

#১৫ Comment By সিরাজ On মে ২০, ২০১৭ @ ১০:৫১ অপরাহ্ণ

“মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ওপরে মানুষের আস্থা নেই। গত তেতাল্লিস বছরে মানুষ এদের কাছ থেকে কিছু পায় নি। এরা দূর্নীতির সাথে যুক্ত, লুন্ঠনের সাথে যুক্ত। এরা যতই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলছে – ততই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দূর্বল হচ্ছে আমাদের দেশে।”
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
(মুক্তমনায় প্রকাশিত সাক্ষাতকারের অংশ। সাক্ষাতকারটি ২০১৩ সালে নেয়া )

#১৬ Comment By আনোয়ার পাশা On মে ১৮, ২০১৭ @ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

হেফাজতের সমালোচনা করেন কিন্তু ফ্যাসিস্টগিরি ছাড়েন। ‘এসো হে বৈশাখ রবীন্দ্রনাথ’ লিখেছেন বলে একেই ‘বাঙালি’র সংস্কৃতি বলে এই দেশের সমস্ত জনগণকে মেনে নিতে হবে – এই দাবির যুক্তি কি? কেন? এতো উগ্র আর হিংস্র হয়ে যাচ্ছেন কেন? এতোদিন পেরেছেন এখন যখন সার্বজনীন প্রমাণ করতে পারছেন না তখন প্রতিপক্ষের যুক্তি শুনুন। অথচ আপনি চাপিয়ে দেবেনই। এটা কেমন কথা? আপনাদের জন্য করুণা হয়! উচ্চ বর্ণের হিন্দুর হাতে ‘বাঙালি’ নামক যে ধারণা ঔপনিবেশিক আমলে গড়ে উঠেছে সেটা উচ্চ বর্ণের হিন্দুরই ধারণা। সার্বজনীন বাঙালির না। আর সার্বজনীন বাঙালির ধারণা বানাতে হলে আনফরেচুনেটলি আপনাকে এখন মুসলমান বাঙালির আপত্তি শুনতে হবে। তাকে দাবড়াইয়া ‘বাঙালি’ হতে পারবেন না। উচ্চ বর্ণের হিন্দু থাকবেন থাকুন। যারা আপনারে শূদ্রের অধিক মর্যাদা দেয় নি, ভবিষ্যতেও দেবে না, তাদের আপনি মাথায় তুলে রাখুন, সেটা আপনার খাসিলত হতে পারে, কিন্তু ‘বাঙালি’ হিসাবে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। এই গুলা বদ্ধ উন্মাদদের কাজ। হেফাজত ঠিকই বলে, আপনারা উচ্চ বর্ণের হিন্দুর ‘হিন্দুয়ানি’কে সার্বজনীন বাঙালি সংস্কৃতি বলে এতদিন চালিয়ে আসছিলেন। এইটা বমাল যখন ধরা পড়ে গিয়েছে এই দেশের জনগণকে আর ধোঁকা দিতে পারবেন না। এটা নরেন্দ্র মোদীর ভারত না।

#১৭ Comment By Abul Hasan Mia On মে ১৮, ২০১৭ @ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

স্যেকুলারেরা হাহাকার করেছিল এই বলে যে, সরকারী পাঠ্যক্রমকে হেফাজতিকরন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ ছিল হেফাজত বেছে বেছে হিন্দু লেখকদের লেখা বাদ দেয়ার সুপারিশ করেছে।
সম্ভবত স্যেকুলারেরা কখনো দেখেনি কওমি মাদ্রাসা নিজেরা কী বাঙলা পড়ায়। কওমি মাদ্রাসাগুলোতে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত নিজেদের বই নিজেরাই রচনা করে এবং বেফাক সেগুলো ছাপায়। এই বইগুলো লেখেন কওমি ঘরানার বরেণ্য আলেমরাই।
আমি বেফাক থেকে কওমি মাদ্রাসার পাঠ্য ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত বাঙলা বই সংগ্রহ করেছি। এবং আমার বিশ্বাস স্যেকুলারেরা যে বই লিখে তার চাইতে অনেক ভালো হয়েছে এই বইগুলো।
প্রথম শ্রেণীতে তারা প্রথম যেই কবিতা পড়ে সেটা রবীন্দ্রনাথের “ছুটি”, দ্বিতীয় কবিতা কাজী নজরুলের “ভোর হোল”, তৃতীয় কবিতা জসীমউদ্দিনের “মামার বাড়ী।
দ্বিতীয় শ্রেণীতে আরো অনেক কবিতার সাথে পড়ে মদনমোহন তর্কালংকারের “আমার পণ”, রবীন্দ্রনাথের “আমাদের ছোট নদী, রজনীকান্ত সেনের “স্বাধীনতার সুখ”, নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের “কাজের লোক”।
তৃতীয় শ্রেণীতে কুসুমকুমারী দাশের “কাজের ছেলে”
চতুর্থ শ্রেণীতে, কালিদাস রায়ের “মাতৃভক্তি”, যতীন্দ্রমোহন বাগচীর “কাজলা দিদি”।
পঞ্চম শ্রেণীতে, সুনির্মল বসুর “সবার আমি ছাত্র”, জগদীশ্চন্দ্র বসুর “গাছের জীবন কথা”, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুদিত “উত্তম অধম”।
স্যেকুলারেরা যে দাবী করেছিল, হেফাজতিকরন মানে, হিন্দু বিদ্বেষ থেকে পাঠ্য বই থেকে বেছে বেছে হিন্দু লেখকদের লেখা বাদ দেয়া। তাহলে তারা নিজেরা কেন তাদের লেখা পাঠ্য বইয়ে এতো হিন্দু লেখকদের লেখা নিজেরাই লিখেছে?
জবাব আছে তাদের কাছে?

#১৮ Comment By রেজাউল On মে ১৮, ২০১৭ @ ১০:৪০ অপরাহ্ণ

“ওড়না:
কোনো মেয়েকে জিজ্ঞেস করিনি। তবে শুনেছি যে মেয়েরা ওড়না ব্যবহারকে বিড়ম্বনা মনে করেন। তারা ওড়না ব্যবহার করতে চান না।”
-জাকির তালুকদার
কোনো মেয়েকে জিজ্ঞেস না করেই তিনি শুনেছেন যে, মেয়েরা ওড়না ব্যবহারকে তারা বিড়ম্বনা মনে করেন এবং মেয়েরা ওড়না ব্যবহার করতে চাননা।
এমন কামেল লোকেরই অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ।

#১৯ Comment By subrata On মে ২০, ২০১৭ @ ১০:৪০ অপরাহ্ণ

ইসলামবিদ্বেষ (মতান্তরে ইসলামভীতি) নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
ভারতীয় বাঙালি উচ্চবর্ণ হিসেবে, ইসলামভীতি আমার মিম-গত বৈশিষ্ট্য। তার কারণ হিসেবে দুটো মনে হয়।
ক) শূদ্রবিদ্বেষঃ ভারতের এইখন্ডে মুসলমান মূলতঃ ধর্মান্তরিত নমঃশূদ্র বা অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠী। দলিতবিদ্বেষের বহমানতাতে মুসলমান বিদ্বেষ এসে গেছে। শূদ্রবিদ্বেষ না থাকলে বর্ণহিন্দু পরিচিতিই বিপর্যস্ত হয়। তাই নমোর মতন নেড়েরাও প্রায় অস্পৃশ্য।
খ) ইউরোপের ইসলামভীতিঃ আমি তো শুধু বর্ণহিন্দু নই। আমি ১৮০০+ সালের আলোকপ্রাপ্তি নিয়ে কলোনিসন্তানও। কলোনির প্রভুরা ইতিহাসের এক আদিপর্বে আদ্ধেকের বেশি মহাদেশ ইসলামের নিচে পদানত হতে দেখেছেন। তারপর খলিফার সভ্যতার ওপর প্রায় দুশো বছর ধরে দাঙ্গা চালিয়েছেন। তারপর যখন সভ্যতর পূর্ব-দিকে কলোনি বাড়ানোর কথা ভাবলেন, ভারত থেকে শুরু করে আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য এমন কী আফ্রিকার একাংশেও তাদের মূল যুদ্ধ হয়েছে ইসলাম-অবলম্বী শাসকদের সঙ্গেই। শাসন, সংস্কৃতি, শিক্ষা সবকিছুতেই ইউরোপের কলোনিমালিকদের (বিশেষতঃ বৃটিশ) যুদ্ধ করতে হয়েছে বিভিন্ন স্থানীয় ঐস্লামিক ব্যবস্থার সঙ্গে। ফলে আজকের উত্তরকলোনির গায়ে মিশে আছে ইসলামভীতির চিহ্ন।
এই দুইদিক ব্যাপ্ত করে রয়েছে আমার ইসলামবিদ্বেষ। আপনাদের?

#২০ Comment By আকবরঊদ্দিন ওয়েসি On মে ২০, ২০১৭ @ ১০:৪১ অপরাহ্ণ

দুনিয়ার সবার কথা পড়া যাবে, শুধুমাত্র ইসলামের শেষ নবী (সা.) এর কথা বাদ দিয়ে।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা হলেও রবীন্দ্র নাথ ছিলেন বাংলাদেশের মুসলমানদের উন্নতির বিরোধী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন এই গোড়া হিন্দু। তবু তার আদর্শ পড়া যাবে, নবীর আদর্শ নয়।
ভারতীয় বাঙ্গালিরা সংখ্যা গরিষ্ঠ হিন্দু, তারা ইচ্ছা করেই জঙ্গলা হিন্দু রাষ্ট্র ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই হিন্দুত্ববাদীদের কাছে বাঙালি জাতিসত্বা গুরুত্ব পায়নি, পেয়েছিল হিন্দুত্ববাদ। এখন তারা বাংলাদেশের মানুষদের আমরা বাঙালি ছবক দেয়। আর এদের কিছু দালাল আছে যারা এই দেশে বসে সেই তালে নাচে। আপনারা বাকস্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা – এসবকিছুতে ততক্ষণই বিশ্বাস করেন যতক্ষণ সেসব আপনাদের আইডিওলজি, আপনাদের চিন্তাভাবনার সীমাবদ্ধ গন্ডির ভিতরে থাকছে।
স্বীকার করুন যে আপনারা সিলেক্টিভ বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী।
স্বীকার করুন, যে আপনাদের আসল সমস্যা হল ধর্ম।
স্বীকার করুন, যে আপনারা যদি কোনদিন কোন দেশে ভুল করেও ক্ষমতায় আসেন, সেখানে ধর্ম সংক্রান্ত সমস্ত আলোচনা বন্ধ হবে এবং শুধুমাত্র নাস্তিকতার চর্চা হবে।
স্বীকার করুন, যে যদি কেউ বলে থাকেন যে ইসলামিক রাষ্ট্রে নাস্তিকতার প্রচার এবং চর্চা নিষিদ্ধ তাহলে তার সাথে আপনাদের আইডিওলজির বিশেষ কোন ফারাক নেই।
স্বীকার করুন, ধর্ম এবং ধর্মীয় সংস্কারের বিরুদ্ধে লেখালিখির জন্য আপনারা অভিজিৎ রায়, দাভেলকর,পানেসর বা তসলিমা নাসরিনের পক্ষ নিতে পারেন কিন্তু একজন ধর্মপ্রচারকের কিছু ধর্মীয় বক্তব্য আপনাদের মতে না মিললেই তাকে ব্যান করার জন্য হ্যাশট্যাগ ইউজ করতে আপনাদের জাস্ট দু মিনিটও ভাবতে লাগে না।
আসলে স্যর, হিন্দু মৌলবাদ বা আরএসএসের বিরোধীতা করে করে আপনারা স্যাচুরেশন পয়েন্টে পৌঁছে গেছেন।

#২১ Comment By আনিসুজ্জামান On মে ১৮, ২০১৭ @ ১০:৫১ অপরাহ্ণ

“পাকিস্তানি ভাবাদর্শ” টা কী আসলে? পাকিস্তান হাসিলের লড়াই তো বঙ্গবন্ধুও করেছিলেন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীও করেছিলেন। পাকিস্তান হাসিলের লড়াই যে কারনে হয়েছিল সেই আকাংখা বাস্তবায়িত হয়নি জন্যই তো স্বাধীন বাংলাদেশের লড়াই করতে হয়েছে। আপনাদের কাছে “পাকিস্তানি ভাবাদর্শ” আসলে “ইসলাম”। আপনারা চান ইসলামের নাম নিশানা যেন বাংলাদেশে না থাকে। এইটা বলতে পারেন না তাই ঘুরায়ে বলেন পাকিস্তানি ভাবাদর্শ। জামাতের দায় আপনি সবার উপরে দেন কেন? জামাত আর হেফাজত এক? এই রাজনৈতিক পর্যালোচনার হিম্মত হয়না আপনাদের তো রাজনীতি নিয়ে কথা কইতে আসেন কেন? রাজনীতি, ইতিহাস সমাজ এইগুলার তো ছাতা কিছুই বুঝেন না।
আপনারা না নিজেকে মার্ক্সবাদী বলে দাবী করেন। মার্ক্স বাবাজি তো বলেছেন, “ধর্ম হচ্ছে নির্যাতিত জীবনের দীর্ঘশ্বাস, হৃদয়হীন জগতের হৃদয়, আত্মাহীন অবস্থার আত্মা।” বাংলাদেশে যতদিন জুলুম থাকবে, নিপীড়িত মানুষ তার আচরিত ধর্ম ইসলামের ঝাণ্ডা তুলে প্রতিরোধ জারি রাখবে। এইটাই মার্ক্সের শিক্ষা। আপনি এইবার নিজেরে জিগান বাম স্যেকুলারপন্থী ভাই বেরাদারেরা, আপনারা নিজেরা আসলে কী? আপনি আসলে কার রাজনীতি করতাছেন। আমাগো “প্রগতিশীল”রা পোশাকে মডার্নিজম না পাইলে, আর বয়ানে ইসলামের ভাব পাইলেই তারে পশ্চাৎপদ কয়। এই সো কল্ড প্রগতিশীলেরা শুধু চিন্তাতেই অক্ষম না, নিরেট মুর্খও বটে।দেশের মানুষ আপনাগো আগেই চিনছিলো, যখন মুখোশ খুইল্যা পরেনি, তখনো। তারা বুঝছিলো, আপনারা আসলে হাড়ে মজ্জায় ইসলাম বিদ্বেষী। তাই মুখে যত মিঠা কতাই কন না কেন, আপনাগো তারা গ্রহণ করে নাই।

#২২ Comment By আখতার On মে ২০, ২০১৭ @ ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

ওবামা সম্ভবত এই সময়ের সবচেয়ে জরুরী কথাটি বলেছেন আফ্রিকা গিয়ে। তিনি বলেছেন, ” “when you start treating people differently not because of any harm they are doing to anybody, but because they are different, that’s the path whereby freedoms begin to erode “.
যার বাংলা করলে দাঁড়ায়, ” “যখন তুমি কোন একজন মানুষকে ভিন্নভাবে বিচার করো সে কার কী ক্ষতি করছে তা না দেখে বরং সে শুধু অন্যরকম এজন্যে, তখনই স্বাধীনতা ক্ষয়প্রাপ্ত হবার পথ তৈরি হয়ে যায়।” মানব সম্প্রদায়ের জন্যে সবচেয়ে লজ্জাকর বিষয় হলো এখনও পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যাদের কে এই কথা বার বার কথা মনে করিয়ে দিতে হয়। বাংলাদেশের জন্যে বিশ্বাসে (আস্তিক বা নাস্তিক) বোধকরি কথাটি বেশ প্রযোজ্য এবং এটা বুঝতে পারলেই অনেক অসহিষ্ণুতা কমে যেতে পারে।

#২৩ Comment By চৌধুরী On মে ২০, ২০১৭ @ ১১:০৫ অপরাহ্ণ

উপমহাদেশে হিন্দু উগ্রবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মুসলিম উগ্রবাদের জন্ম। একজাতি তত্ত্বের কারণেই দ্বিজাতি তত্ত্বের অবশ্যম্ভাবী উত্থান ঘটেছিল। অবিভক্ত ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা দাবি করেছিল। কংগ্রেস সে দাবী মেনে নিলে পাকিস্তান দাবিই উঠত না। বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমান উদারবাদী মুসলমান। তাঁরা ধর্মীয় আচরণে খুবই সহনশীল, অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একটি জনগোষ্ঠীর ১০ ভাগ লোক যদি অসহিষ্ণু হয় তাবে তা সমাজ বাস্তবতারই অংশ মাত্র। এবার ভারতের দিকে তাকান। সেখানে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন এবং একের পর এর অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহিংস আগ্রমণ চালাচ্ছে। যে কয়েকটি রাজ্যে এখনও বিজেপি ক্ষমতা নিতে পারে নি সেগুলি দখলের জন্য তাঁরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় ঢোলল বাজিয়ে তাঁদের অনুষ্ঠানাদি উদযাপন করলে কেউ বাঁধা দেয় না। কিন্তু ভারতে এক সংগীত শিল্পীর নাকি আযানে ঘুমের ব্যাঘাত হয়! একটা আযানে সময় লাগে মাত্র দু মিনিট। পাঁচ বার আযানে মোট ১০ মিনিট যারা সহ্য করতে পারে না তারা কতক্ষণ ঢোল বাজায় তা হিসেব করে দেখতে পারেন। হেফাজতকে নিয়ে আওয়ামী লিগ রাজনীতি করবে, এটা এই দলের ভবিতব্য। ইসলামফোবিয়া ইউরোপিয়ান রাজনীতির ধারা পরিবর্তন করে দিয়েছে। সাধারণত রাজনীতিবিদরা তাদের স্বভাব অনুযায়ী যেকোনো ইস্যুকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ফায়দা উসুল করতে সিদ্ধহস্ত। ইসলামফোবিয়ার মতো লাভজনক একটা ইস্যুকে তারা এমনিতে ছেড়ে দিবে এটা কল্পনা করাও অন্যায়।

#২৪ Comment By মামুন বসুনিয়া On মে ১৯, ২০১৭ @ ৫:২৯ পূর্বাহ্ণ

ঋ-তে যে ঋষি পড়ানো হচ্ছে সেটা কিন্তু প্রগতিবাদীদের চোখে পড়ে না।

#২৫ Comment By সাহিত্যিক হাসান On মে ১৯, ২০১৭ @ ৬:০১ পূর্বাহ্ণ

ও তে ওড়না চাই দেখে যাদের মাথা ব্যাথা তাদের তো কখনই দেখলাম না #ঋ তে ঋষি, #র তে রথটানি এর সম্পর্কে বলতে,তাহলে আমরা কিভাবে নিরপেক্ষ হলাম?

#২৬ Comment By বায়েজীদ On মে ১৯, ২০১৭ @ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

আপা! ইসলামের বিষয় আপনি সম্পূর্ন মূর্খ।আর এসব আবোল তাবোল না লিখলে আপনার রুজি জোটেনা।বুঝিতো।

দেশের প্রতি দরদ দেখানোর নামে পেট চালানোর ধান্দা।

#২৭ Comment By Cornell Macbeth On মে ১৯, ২০১৭ @ ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

১. দেশের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা সম্পন্ন ‘ব্যক্তিবর্গরা’ ইসলামী মূল্যবোধ এবং ভাবধারাকে যথেষ্ঠ পরিমান ঘৃনা করেন অথচ নিজের ‘আকীকা’ দেওয়া নামখানি ‘এফিডেভিট’ করতে লজ্জাবোধ করেন।
২. দেশের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা সম্পন্ন ‘ব্যক্তিবর্গ’ যতই ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে তার বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব ব্যক্ত করুক না কেন- “ঈদের শুভেচ্ছা” বিনিময় করতে তারা কখনই দ্বিধা বোধ করেন না।
৩. দেশে প্রগতিশীল চেতনা সম্পন্ন ‘ব্যক্তিবর্গরা’ সুযোগ পেলে ‘দাড়ি-টুপিওলা পুরুষদের’ নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠেন কিন্তু ‘শ্মশ্রুমণ্ডিত’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা শ্রী রবি শংকরকে যথেষ্ঠ সমীহ করে চলেন।
৪. দেশের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা সম্পন্ন ‘ব্যক্তিবর্গরা’ সর্বদাই সনাতন ধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম, শিখ ধর্ম কিংবা বৌদ্ধ ধর্মের বিরুদ্ধে তাদের ‘বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য’ ব্যক্ত করতে বেশ কার্পণ্য বোধ করেন।
৫. দেশে যখন ‘ইসলাম ধর্মকে’ নিয়ে কটাক্ষ কিংবা আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়, তখন প্রগতিশীল চেতনা সম্পন্ন ‘ব্যক্তিবর্গ’ সেটার মধ্যে অসাম্প্রদায়িকতা এবং সহনশীলতার সুন্দর অবয়ব খুঁজে পান।
৬. দেশে যখন ‘ইসলাম ধর্মের’ অনুশাসন এবং মূল্যবোধের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা সম্পন্ন ‘ব্যক্তিবর্গরা’ সেটার মধ্যে সহিংসতা খুঁজে পান।
৭. দেশে যখন ‘দোল উৎসবের’ নামে সব বয়সের নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ‘বেহাল্লপনায়’ মেতে ওঠে, তখন সেটার পরিচয় হয় ‘অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রকাশ ও বিকাশ’ হিসেবে।
৮. দেশের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা সম্পন্ন ‘ব্যক্তিবর্গরা’ নারী-পুরুষের ‘বিবাহ বর্হিভূত’ সম্পর্ককে একটি মৌলিক এবং সার্বজনীন অধিকার হিসেবে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দেন।
৯. দেশের অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল চেতনা সম্পন্ন ‘ব্যক্তিবর্গদের’ কাছে ‘নারীর নগ্নতা’ হচ্ছে একটি বিমূর্ত শিল্প- যার মাধ্যমে ‘মুক্তমনা পুরুষ’ তার আকাঙ্খা খুঁজে পায়।

#২৮ Comment By নোমান On মে ২০, ২০১৭ @ ১:২২ পূর্বাহ্ণ

ওড়নায় লেখিকার এত জালা কেন? ওড়না কি শুধু ইসলামী পোষাক? আমি তো প্রায় সকল হিন্দু বৈদ্ধ খৃষ্টানদের এই ওড়না পড়তে দেখি। তাহলে এটা কিভাবে সাম্প্রদায়িক পোষাক হলো? বলা যেতে পারে ভদ্রতার পোষাক। যারা ভদ্র তারাই এই পোষাক বা ওড়না পরিধান করে। লেখিকা কি এটাই চান যে, এদেশের ভদ্র নারীরা বুকের ওড়না পেলে দিয়ে বক্ষকে উঁচু করে পুরুষের সামনে দিয়ে বেশরমের মত হাটুক? আমার তো মনে হয় লেখিকা নিজেও এমনটা করে হাঁটতে পারেন না। আপনারা লিখক মানুষ লেখালেখি করে মানুষকে ভদ্রতা শিখান, অশ্লিলত বেলেল্লাপনা নয়। লেখিকার সুজ্ঞানের উদয় ঘটুক।

#২৯ Comment By হারাধন On মে ২০, ২০১৭ @ ৪:১০ অপরাহ্ণ

আসলে আমাদের দেশের নাস্তিকদের প্রভাব এত বেশী হয়ে গেছে যে এরা আর ভয় পায় না, এদের ছায়া অনেক বড়।
এ ধরনের নারীরা তাদের স্বামীদের সবসময় অত্যাচার অনাচারের মধ্যে রাখে অন্য পুরুষের সাথে লীলা খেলে। আবার অন্য নারীদের কে ও রাস্তায় উলঙ্গ করে নামানোর চেষ্টা করে।

#৩০ Comment By Mohidul islam Shiab On মে ২২, ২০১৭ @ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

আপনার নাম দেখে তো মুসলমান মনে হয়। কিন্তু আপনার কথায় কেন জানি নাস্তিকতার গন্ধ পাচ্ছি।

#৩১ Comment By Akash Malik On আগস্ট ১১, ২০১৭ @ ৬:১৭ অপরাহ্ণ

অসৎ ধর্মব্যবসায়ী রাজনীতিবিদরা দিনে দিনে তিলে তিলে আমাদের দেশটাকে, আর দেশের নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের কোন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন তা বুঝা যায় এখানকার মন্তব্যকারীদের মন্তব্য দেখে।

লেখককে ধন্যবাদ এমন একটি লেখা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্যে।

#৩২ Comment By আইরিন ইরা On অক্টোবর ১৫, ২০১৭ @ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

খুব ভালো লিখেছেন।
আসলেই বর্তমানে শিক্ষিত
মানুষের সাম্প্রদায়িকতা দেখে পিলে চমকে যায়। 2010 এর আগেও এত বোরখা আর হিজাবের বাহার ছিল না। বোকা মেয়েরা বুঝে না যে বোরখা-হিজাব, বিকিনি- উভয়েই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মেয়েরা ভোগ্যপণ্য।
ও তে ওড়না- বাচ্চাদের জন্য এর চেয়ে বৈশিষ্ট্যমূলক শব্দ কি আর নেই!?
আর পাঠ্যবই যারা প্রণয়ন করে, তারা যে এত সাম্প্রদায়িক তা ভাবতেই অবাক লাগে।

#৩৩ Comment By আইরিন ইরা On অক্টোবর ১৫, ২০১৭ @ ১১:০৬ অপরাহ্ণ

পৃথিবীর সব ধর্মই মেয়েদের
ছোট করেছে।
যে ধর্ম যত পুরনো সে ধর্ম তত মেয়েদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
যেহেতু এখানে মুমিন-মুসলমান ভাইরা ইসলাম নিয়ে উত্তেজিত, সুতরাং ইসলামে মেয়েদের কত সম্মান দিয়েছে তা বলি।
ইসলাম ধর্ম মতে, নারীর চেয়ে পুরুষের মর্যাদা বেশি যারা একাধিক স্ত্রী ও দাসী রাখতে পারেন।
শুধু তাই না ছয় বছরের শিশুর দিকেও কাম দৃষ্টিতে তাকানোর অনুমতি দিয়েছে !
এইজন্যই আজকাল দেখা যায়, হাঁটতেও ঠিকমত শেখেনি, এমন বাচ্চাদেরও বোরখা পরায় রাখছে যাতে তাদের দেখলে কোন মুমিন-মুসলমান ভাইয়ের ঈমানদন্ডে আঘাত না লাগে!
ধর্ম প্রবর্তকেরা সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে আইন-কানুন তৈরি করছেন। হয়তো তারা সৃষ্টিকর্তার বিরাজমান থাকার অনুভূতিও পেয়েছেন।
তবে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর যেভাবে মেয়েদের ভোগ্যপণ্য আর ভিন্নমতের মানুষকে কতল করার নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে সন্দেহ হয় বইকি।
সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর, ধর্মগ্রন্থ থেকে বহু উপরে।