জানি, পশ্চিমের এই শহরটাতে তুলনামূলকভাবে আমার দুই কন্যাসন্তান নিরাপদ। কোনো অপরাধের শিকার হলেও, প্রচলিত আইনে ন্যায্য বিচার তারা পাবে। পাবেই, কোনো মন্ত্রী-আমলা-টাকার কুমিরও সেই শাস্তি থেকে ছাড় পাবে না। একচুলও নয়। আহ্‌, এইটুকু নিরাপত্তাবোধ যে কী বিশাল স্বস্তি!

আমার মেয়ে যতই বুক চিতিয়ে হাঁটুক না কেন, হাঁটুর উপরে স্কার্ট পরে ঘোরাঘুরি করুক না কেন, ওর মাথাতেই নেই এতে ওর নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হতে পারে। ওর দিকে কেউ বাঁকা চোখে তাকাতে পারে। ও পরিষ্কার জানে, একটি ছেলে তিন সেকেন্ডের বেশি ওর শরীরের কোনো অংশে মনোযোগ দিলে ওর কর্তব্য কী। ও জানে, সেলফোনে তিনটি নম্বর ঘোরানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে ওকেই বিশ্বাস করবে সবার আগে। শুধু মেয়েই নয়, সম্ভাব্য ধর্ষকও এ তথ্য জানে। স্কুল ওকে প্রতি পলে পলে শিখিয়েছে সব। ছেলেশিশুদের যথাযোগ্য মগজ ধোলাইয়ের কাজও সারা হচ্ছে স্কুলে, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে। পরিবার কী ভাবল বা না ভাবল, রাষ্ট্র তার থোড়াই পরোয়া করে। রাষ্ট্রের কাজ নাগরিকের সুরক্ষা দেওয়া। তাই সমাজ-আইন-রাষ্ট্র আমার মেয়েকে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা দিতে তৈরি হয়ে আছে।

ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কানাডার ক্লাসে যখন সামাজিক অপরাধ, অ্যাবিউজ, জেন্ডার নিয়ে পরিষ্কার সতর্ক উচ্চারণে খোলামেলা আলোচনা হয়, তার মধ্য দিয়েই ছেলেশিশুটি পরিষ্কার বার্তা পেয়ে যায় তার শরীর, শরীরের ব্যবস্থাপনা, সামাজিক কর্তব্য আর দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে। মেয়েশিশুটিও জেনে যায় তার শরীর আর সুরক্ষার বিষয়গুলো। মেয়েদেরকে শত হাতে সাহায্য করবার জন্য মুখিয়ে থাকে নানা প্রতিষ্ঠান। ছেলেরা জেনে যায় ধর্ষণ তো দূরের কথা, মেয়েদের সামান্য অ্যাবিউজ করে কেউ ছাড় পাবে না আইন ও প্রতিষ্ঠানের হাত থেকে, সামাজিক অবমাননা থেকে। এমনকি এ-ও দেখা গেছে যে, ধর্ষকের বাবা-মা সোচ্চার হয়েছেন ছেলের বিরুদ্ধে, অংশ নিয়েছেন সামাজিক সচেতনতায়। ব্যতিক্রম আছে, তবে সেটা এখানে মূখ্য নয়।

কিন্তু আমার মেয়ের উপর হওয়া যে কোনো অন্যায়ের, যে কোনো অপরাধের শাস্তি হবে, এই নিশ্চিত বোধও আমাকে সম্পূর্ণ শান্ত রাখে না, আমার স্বস্তি হয় না। আমার শান্তি হয় না যখন শুনি বাংলাদেশ নামের দেশটিতে ৯ বছর বয়সী কন্যার পিতা ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ট্রেনের তলায় কাটা পড়তে যান। রাতে আমার ঘুম আসে না যখন শুনি পুলিশের কাছে গিয়ে অসহায় হয়ে উল্টো অপরাধের বোঝা মাথায় নিয়ে ফেরে আমার দেশের ধর্ষণের শিকার কন্যারা।

মেয়েদেরকে নিয়ে যখন ‘পিংক’ ছবিটি দেখেছি, ওরা সহ্য করতে পারছিল না। দুয়েকবার উঠে গেছে টিভির সামনে থেকে। ছোটটি কান্না শুরু করে দিয়েছিল ইংরেজি সাবটাইটেল পড়তে পড়তে। এইবার যখন ধর্ষণের সত্যিকারের গল্প আমার মেয়েরা শোনে, তারা কেঁপে ওঠে, ফুঁসে ওঠে। তাদের চোখ ছলছল করে অচেনা সেই মেয়েদের জন্য। তারা জানতে চায়, “মা, ওরা কী করবে এখন? ওদেরকে যদি মেরে ফেলে খারাপ লোকগুলো?”

মেয়েরা তাদের ঘৃণা প্রকাশ করে রাষ্ট্রের ভূমিকায়। তারা করুণা করে জিজ্ঞেস করে, “প্রধানমন্ত্রীসহ সকল মন্ত্রী-সাংসদদের লজ্জা লাগে না? তারা যে তাদের পদের যোগ্য নয়, এটা কি অনুভব করে না তারা? হাউ অ্যাবাউট আদার ইনফ্লুয়েন্সেয়াল পিপল?”

আমি কী উত্তর দেব? লজ্জা আমারই লাগে যে!

সুদুর বাংলাদেশে থাকা বোনের কন্যার মুখ, বন্ধুর কন্যার মুখ, আত্মীয়ের কন্যাদের সারি সারি মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ভেসে ওঠে চাষীর কন্যা আর শ্রমিকের কন্যার মুখ। ধর্ষণের শিকার মৃত আর জীবিত কন্যাদের চেহারা দেখতে পাই মনের চোখে। যতদিন পর্যন্ত একটি মেয়েও অনিরাপদ, একটি মেয়েও ধর্ষণের বিচার না পাবার অসহায়ত্বে ভুগবে, ততদিন স্বস্তি পাবার সুযোগই নেই যে। শান্তিও নেই। শুধু আমার কন্যাই নিরাপদ, আমার কন্যার ধর্ষকদেরই বিচার হবেই হবে, এই নিরাপত্তাবোধ আর আমাকে নিশ্চিত করে না। বেদনার্ত হই, মুষড়ে পড়ি, অসহায় বোধ করি।

তারপর, আমি শাহবাগের মুখগুলো তুলে ধরি কন্যাদের সামনে। ফেসবুক ঘেঁটে ঘেঁটে প্রতিবাদের শব্দগুলো পড়ে শোনাই তাদের। আঙুল দিয়ে দিয়ে পয়েন্ট করে দেখাই, “এই দেখ মা, এঁরা আমার দেশের মানুষ। এঁরা প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমেছে। এরা সাহস করেছে। এরা মানুষ, দেখ মা, মানুষের মুখ দেখ! হতে পারে এরা সংখ্যায় কম, হতে পারে এরা ‘ইনফ্লুয়েন্সিয়াল পিপল’ নয়, হতে পারে এদের কথা কেউ কানে নেবে না। কিন্তু দেখ মা, এরা মানুষ। এরা প্রকাশ্যে বলতে পেরেছে, ধর্ষণ অপরাধ, অপরাধীর শাস্তি হওয়া দরকার।”

গলা আর্দ্র হয়ে এলেও সেই ভেজা কণ্ঠে মেয়েদের শোনাই: “দেখ মা, বাংলাদেশে কিন্তু মানুষও আছে।”

সেরীন ফেরদৌস‘নতুন দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক

৪৯ Responses -- “কিছু ‘মানুষ’ও দেখেছি”

  1. আজিজ

    ভাই আমি একটা তত্ত্ব দেই, ধর্ষণের বিচার যদি ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী হয় এবং সবাই যদি পর্দা করে তাহলে ধর্ষণ অনেক কমে যাবে ।

    Reply
  2. রোদেলা নীলা

    কেউ যদি নিজের কন্যা সন্তানকে নিয়ে উন্নত একটা দেশে নিরাপদ মনে করে তবে অসুবিধার কিছুতো দেখি না।তবে মানুষ দেখানোর জন্য শাহবাগ খুব উপযুক্ত জায়গা না বলেই আমার বিশ্বাস ,এখানে অধিকাংশই উপস্থিত থাকে মিডিয়ার খাতিরে নয়তো সংগঠনের তাগিদে।
    মানুষ দেখাতে আমি যে মেয়েকে কোথায় নিয়ে যাব তাই জানি না।

    Reply
  3. Rasha

    Afsan Choudhury’s comment is total irrelevant and insane. It does not match with the writer’s expression and mode with the write-up. We all know about rape victims fate and societal view of Bangladesh. Here Ms.সেরীন ফেরদৌস is talking about State Role and responsibilities which gives country dwellers/citizens confidence and safety. We all want that assurance from law and order and we feel we don’t have that assurance in many cases.Thanks Ms. Serin for your eloquent and fruitful write-up.

    Reply
    • Farooque Chowdhury

      জনাব Rasha,

      “insane”, এতটা বলার দরকার নেই; এটা একটু বেশি হয়ে পড়ে। দরকার কি এমন কথা বলার? পাঠকরা বোকা নন, পাঠকরা বোঝেন,পাঠকদের ওপর ছেড়ে দিন।

      এ লেখা নিয়ে আপনার বাকি কথার সাথে একমত।

      বিষয়টির সাথে জড়িত সমমান আর মানুষ। এ সমমান কেবল নারীর সমমান, তা নয়; এ সমমান সকলের, সকল মা-বোনের, সকল বাবা-ছেলের, সকল চাষীর, সকল মজুরের। এই চাষী-মজুরের মেহনতেই এত কিছু; আর, এরাই মার খায় বার-বার; এদের কথাই থাকে না-বলা। বাদানুবাদে এদের কথাই হারায়।

      Reply
  4. falgun

    সেরীন, আপনি লিখেছেন আপনি কতটা নিরাপদ বোধ করেন কানাডার আইনি ব্যবস্থার কারণে – ওখানকার আইন ব্যবস্থা কতটা সক্রিয়।

    কিন্তু এতো সক্রিয় আইন ব্যবস্থা থাকার পরেও কানাডার নারীদের প্রতি যৌন নিগ্রহের হার কিন্তু অনেক উঁচু। প্রতিবছর গড়ে ৪৬০,০০০ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার হোন।

    বলা বাহুল্য এই সংখ্যা কেবল মাত্র যেগুলো পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয় তা। তাহলে চিন্তা করা যায় প্রকৃত সংখ্যা কত হবে?

    এরপরেও আপনি নিরাপদ বোধ করেন। কেন? কারণ আফসান চৌধুরী যেটা বলেছেন কানাডার (তথা পশ্চিমাদের) প্রতি আপনার রোমান্টিসিজম

    আপনি যখন খুব নিরাপদ বোধ করছেন তখন হয়তো কোন নিগ্রহকারী অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে ক্ষতি করে ফেললো – ক্ষতি করার পর বিচার হলো কিন্তু যা হারালো তা কি আর পাওয়া যাবে?

    পশ্চিমা প্রভুদের প্রতি পূর্বের মানুষের অন্ধ আনুগত্য এর থেকে বোধহয় আর বেশি নির্বোধ হতে পারে না

    Reply
    • Sohel Sohrab

      “প্রতিবছর গড়ে ৪৬০,০০০ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার হোন।”- এই তথ্যের সোর্স কি? স্ট্যাটিসটিক্স কানাডা? পুলিশের বার্ষিক রিপোর্ট? কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান দিচ্ছেন আপনি বা আফসান চৌধুরী?অথেনটিক সোর্সের ডাটা ছাড়া গুগল করে পাওয়া তথ্য এর গুরুত্ব কি?

      Reply
    • Sohel Sohrab

      ভাই ফালগুন,
      “প্রতিবছর গড়ে ৪৬০,০০০ নারী যৌন নিগ্রহের শিকার হোন।”- এই তথ্যের সোর্স কি? স্ট্যাটিসটিক্স কানাডা? পুলিশের বার্ষিক রিপোর্ট? কোন তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান দিচ্ছেন আপনি বা আফসান চৌধুরী? অথেনটিক সোর্সের ডাটা ছাড়া গুগল করে পাওয়া তথ্য এর গুরুত্ব কি? এই ধরনের আনঅথেনটিক ডাটা দিয়ে আফসান চৌধুরী বা আপনি মানসিক শান্তি পেতে পেরেন, কিন্তু তাতে কানাডার কিছু যায় আসে না।
      অথেনটিক সোর্সবিহীন একটি পরিসংখ্যান নিয়ে পশ্চিমের সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে আপনাদের এতো উদ্বেগের কারনটাও বোধগম্য হলো না। সেটি কি নিছক হীনমন্যতা, জেলাসি নাকি সংকীর্নতা? আর মনে যাদের হীণমন্যতা তাদের সঙ্গে যুক্তি নিয়ে আলোচনাও অর্থহীন।
      আফসান চৌধুরী সিনিয়র সাংবাদিক । একজন পশ্চিমের একটি শহরে নিরাপদ বোধ করছে বলাতেই তিনি এভাবে তেড়ে আসলেন কেন? আবার আপনিও তার হয়ে অশ্লীল আক্রমন করতে এগিয়ে এলেন। আপনাদের সমস্যাটা কোথায় বুঝতে পারছি না।
      কানাডার প্রতি আপনাদের ক্ষোভের কারনটা কি ভাই?

      Reply
      • falgoon

        তথ্যের সোর্স আমি লিংক সহ দিয়েছিলাম, মডারেশনের সময় বোধহয় লিংক রিমোভ করে দিয়েছে। যাই হোক সোর্স হচ্ছে হাফিংটোন পোস্ট কানাডা। আপনি ইংরেজিতে ‘রেপ স্ট্যাটিসটিক্স ইন কানাডা’ লিখে গুগল করলেই এই সোর্স সহ আরো অনেক অথেন্টিক সোর্স পাবেন

      • Sohel Sohrab

        falgoon
        কানাডায় সংঘটিত অপরাধের পরিসংখ্যান পুলিশ এবং স্ট্যাটিসটিক্স কানাডা নিয়মিত প্রকাশ করে। সেই পরিসংখ্যান থাকতে আফসান চৌধুরীর মতো সাংবাদিকদের মস্তিষ্কপ্রসূত আনঅথেনটিক সোর্স এর নিয়ে আলোচনা করার কিছু নাই।

      • r.Masud

        mr. sohel
        why u r denying mr. falgun’s given source?
        do you have the correct data? if yes, then before denying pls. depict the value n then utter.
        definitely, the contents of ms sherin’s aticle is very much time worthy … but i wonder whether mrs. sherin’s two daughter knew about the slavery history of NA? How many cc of tears they had shown=?

    • মোহাম্মদ কাজী

      শাহবাগের মুখগুলো আসলে অমানুষের মুখ ।পাশ্চাত্যের জীবনধারায় আকৃষ্ট গুটিকয়েক তরুণ-তরুণী সস্তা সেলিব্রেটি বনে যাওয়ার লালসায় এবং নিয়ন্ত্রনহীন জীবনযাপনের মানসে নাস্তিকতার নামে ধর্মদ্রোহীতার প্রতিযোগিতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে।
      পাশাপাশি গড়ে ওঠে ধর্মদ্রোহীদের গোপন নেটওয়ার্ক। আর এর মাধ্যমেই এরা
      ইন্টারনেটে ছড়াতে থাকে ধর্মীয় বিদ্বেষ। এদের জীবন চলার পথ তথা
      লাইফস্টাইল সম্পর্কে দেশের মানুষের তেমন কিছুই জানা ছিলো না। কিন্তু,
      শাহবাগ মুভমেন্টের পর থেকে প্রকাশিত হয়ে পড়ে এদের আসল চেহারা। এরপর একের পর এক যতজন নাস্তিক ব্লগার নিহত হয়েছে প্রত্যেকের মৃত্যুর পরেই বেরিয়ে
      এসেছে এদের লাগামহীন জীবন যাপনের দৃশ্য। যার সর্বশেষ উদাহরণ আশা মনি ও
      নিহত ব্লগার নিলয়ের সম্পর্ক। ঠিক একইভাবে অভিজিতের মৃত্যুর পরও জানা
      যায় তাদের লাগামহীন লাইফ স্টাইল। মদ, নারী আর অবৈধ মেলামেশার মধ্যে
      যারা মুক্তচিন্তার স্বাদ অন্বেষণ করে বেড়ায় তাদের মাঝে আরে বনের পশুর
      মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করা বেশ কষ্টসাধ্য। বনের পশুও তো জৈবিক
      চাহিদা পূরণ করে। তাদের বিয়ে করতে হয় না। সংসার গোছাতে হয় না। বলতে
      পারেন ওরাই প্রকৃত মুক্ত ও স্বাধীন। কিন্তু মানুষ হয়ে ওঠার জন্য তো আর ওভাবে
      জীবন যাপন করলে চলে না। শাহবাগের প্রতিটা চরিত্র কোনও না কোনও ভাবে এথিক্যালি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। একেকজন একেক কারণে এথিক্যালি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন এবং এথিক্যালি রিজেক্টেড হয়েছেন। নাস্তিক মানেই মুক্তমনা নয় , মুক্তমনা মানেই নাস্তিক নয় . আস্তিক ও মুক্তমনা হতে পারে . নাস্তিকরাও হতে পারে . কিন্তু গাধা যদি নিজেকে ঘোড়া বলিয়া দাবি করে সে ঘোড়া হয়ে যায় না .তার মধ্যে ঘোড়ার বৈশিষ্টগুলো থাকতে হয় .মুক্তমনার ইংরেজী প্রতিশব্দ হল ফ্রি থিংকার . অর্থ্যাত্‍ যে মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারে . যে নিরেপেক্ষভাবে জ্ঞান আহরন করে . যে অন্ধ নয় অর্থ্যাত্‍ যে শুধু এক পক্ষীয় জ্ঞান আহরনে নিজেকে ব্যাপৃত রাখে না . যে সব কিছুই পড়ে যে বেদ ও পড়ে . কোরআন ও পড়ে . বাইবেল ও পড়ে . ডকিন্সের লিখা ও পড়ে . ডাঃ জাকির নায়েকের বই পড়ে . আরজ আলী থেকে আহমদ ছপা ভাগ করে না . মোদ্দাকথা নিরেপেক্ষভাবে জ্ঞান আহরন করে ।

      Reply
  5. Farzana naz

    সুদুর বাংলাদেশে থাকা বোনের কন্যার মুখ, বন্ধুর কন্যার মুখ, আত্মীয়ের কন্যাদের সারি সারি মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ভেসে ওঠে চাষীর কন্যা আর শ্রমিকের কন্যার মুখ। ধর্ষণের শিকার মৃত আর জীবিত কন্যাদের চেহারা দেখতে পাই মনের চোখে। যতদিন পর্যন্ত একটি মেয়েও অনিরাপদ, একটি মেয়েও ধর্ষণের বিচার না পাবার অসহায়ত্বে ভুগবে, ততদিন স্বস্তি পাবার সুযোগই নেই যে। শান্তিও নেই। শুধু আমার কন্যাই নিরাপদ, আমার কন্যার ধর্ষকদেরই বিচার হবেই হবে, এই নিরাপত্তাবোধ আর আমাকে নিশ্চিত করে না। বেদনার্ত হই, মুষড়ে পড়ি, অসহায় বোধ করি। keep writing please its amazing and very inspiring

    Reply
  6. Farooque Chowdhury

    এ দেশে ত বড় গবেষকরা আছেন, বিআইডিএস সহ নানা প্রতিষ্ঠানে। জানি না, ওনারা “আমি গবেষণা করেছি, আমি গবেষণা করেছি ” বলে বেড়ান কি-না, এখানে কেউ-কেউ যেমন বলছেন।

    আর, পশ্চিমা সমাজ খারাপ; তার মানে কি পূরব-দেশীয় সরবাততকবাদী ধারণা ভাল? তা নয়।

    Reply
  7. Tahamina Shimu

    প্রত্যেকটা মানুষ তিনটি সত্তার সমন্বয়ে গঠিত- দেহ, মন এবং আত্মা। এর মধ্যে আত্মার পরিশুদ্ধতা গড়ে উঠে নৈতিক শিক্ষার উপর। কবি মিল্টন বলেছেন, Education is the harmonious development of body, mind and soul অর্থাৎ দেহ, মন এবং আত্মার সুসামঞ্জস্য বিকাশই হচ্ছে শিক্ষা। কবি রবীন্দ্রনাথ এভাবে বলেছেন, “মানুষের অভ্যন্তরের মানুষটিকে পরিচর্যা করে একজন খাঁটি মানুষ বানানোর প্রচেষ্টাই হচ্ছে শিক্ষা।” লক্ষ, কোটি টাকা পয়সা, বিত্ত-বৈভব যা কিছুই থাকুক না কেন আপনার, মানসিক শান্তি না থাকলে সবই বৃথা। আর এই মানসিক তথা আত্মিক শান্তি পেতে হলে নৈতিক শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমেই আত্মাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। আবার শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু কিছু বড় বড় ডিগ্রি অর্জন নয় বরং একটি সম্মানজনক জীবন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনই হচ্ছে শিক্ষা।
    আজকের বর্তমান সমাজে আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধর্ম ও নৈতিকতার বাইরে রাখতে চাচ্ছি। ফলে সমাজের প্রতিফলনও সেরকম পাচ্ছি। যে কোন ধর্মের কথাই বলেন না কেন, ধর্মীয় শিক্ষা, ধর্মবিশ্বাস তথা স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যই পারে একজন মানুষকে ন্যায়পরায়ণ, কর্তব্যনিষ্ঠ, সৎকর্মশীল, দায়িত্বশীল, বিনয়ী এবং জবাবদিহি মনোভাব হিসেবে গড়ে তুলতে। এ বিষয়ে Bartrand Rasel বলেছেন, তথ্য ও তত্ত্বভিত্তিক জ্ঞান যদি বৃদ্ধি পায় কিন্তু সে অনুপাতে যদি নৈতিক জ্ঞান বৃদ্ধি না পায় তাহলে সে জ্ঞান শুধু দুঃখকেই বাড়িয়ে দেয়।
    বিখ্যাত মনীষী Sir Stanely Hull বলেছেন, “If you teach your children three R’s: Reading, Writing and Arithmetic and leave the fourth ‘R’: Religion, then you will get a fifth ‘R’: Rascal.” অর্থাৎ আপনি আপনার শিশুদেরকে যদি তিনটি তথা পঠন, লিখন ও গনিতই শেখান কিন্তু চতুর্থ তথা ধর্ম না শেখান তাহলে এর মাধ্যমে আপনি একটি পঞ্চম অর্থাৎ নিরেট অপদার্থই পাবেন।
    সুতরাং পৃথিবীটাকে সুন্দর তথা বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন Morality বা Manner বা Ethics । আর তা মানুষের মধ্যে কেবলমাত্র জাগ্রত করতে পারে ধর্মীয় শিক্ষা তথা সঠিক ইসলামী শিক্ষা। এ জন্যই মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের নাজিলকৃত প্রথম শব্দটিই ছিল ‘ইকরা’ অর্থাৎ ‘পড়’। এমনকি শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করো।”

    Reply
  8. রুদ্র আমিন

    একটা সমাজের মানুষের যখন নীতি নৈতিকতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়, তখন সামাজিক কাঠামোতে পোকা ধরে। ভেঙ্গে পড়ে ধীরে ধীরে।
    প্রশ্ন হল এই নৈতিকতা অর্জিত হবে কীভাবে? ডেল কার্নেগীর বই পড়লে? শরৎ রবীন্দ্র নজরুল পড়লে? অস্কারজয়ী সামাজিক মুভি দেখলে? কীভাবে হবে এই অর্জন? এর উত্তর আমরা আসলে জানি না। যারা এর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেন তারা গোঁজামিল দিয়ে একটা কাঁচা উত্তর দাঁড় করান মাত্র যার কোন বাস্তবিক ভিত্তি নেই। তবে একটা উত্তর আছে যার ভিত্তি ও প্রমাণ উভয়ই বিদ্যমান। আর তা হল ইসলাম।
    একজন মুসলিম যখন নিজেকে ইসলামে ডেডিকেট করবে, তখন তার জীবন পরিচালনার একটা ম্যানুয়েল থাকে। টম ডিক এন্ড হ্যারিদের মত সকাল বিকাল চেঞ্জ হওয়া মানসিকতা তার থাকে না। একটা স্ট্রিক্ট গাইডলাইন সে ফলো করে। প্রতিটা মুহূর্তে, প্রতিটা একশান সে কম বেশি মিলিয়ে দেখে তার গাইডলাইনের সাথে। সে প্রতিদানের আশাতেই করুক, শাস্তির ভয়ে করুক, বা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার কারণেই করুক। বাস্তবতা হল সে এই কাজটা করে। এটাই তাকে নীতিবান হতে শেখায়। নীতির পেছনে যে কারণই থাকুক, এপারেন্ট বিষয় হল সে নীতি ধারণ করতে শিখেছে। এটাই সত্য।
    আমাদের ইসলাম না মানা এই সমাজের নৈতিকতা আর বোধশক্তি আশঙ্কাজনক হারে ডিগ্রেড করেছে। বাড়িয়ে বলছি না এতটুকু। আমাদের এই সোশাল মিডিয়ার যুগে আপনি কোন ক্রাইম যদি ভিডিও করে আপলোড না করেন, তবে জাতির কারো টনক নড়ে না। কোথাকার কোন অথর্ব ছেলে আরেক অপদার্থ ছেলেকে দু’টো চাপড় মেরেছে, তা নিয়ে গোটা অনলাইন অফলাইন জ্বরে পুড়ে গেলো। অথচ এ দেশের জনগণের রক্ত পানি করা কোটি কোটি টাকা কিছু অজগর গিলে খেয়েছে জেনেও কেউ রা টুকু করে না। আমি নিজে অনেক বড় কুতুব তা বলছি না, কিন্তু আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের নীতি নৈতিকতার গ্যাং রেপ হয়ে গেছে। এরা ক্রাইমের ভিডিও না দেখলে ক্রাইমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় না। এদের মোবাইলে ক্রাইম ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড দিয়ে চেতনা জাগাতে হয়। অন্যথায় যাবতীয় ক্রাইম পত্রিকার কলামেই আটকে থাকে।
    জাতি ব্যস্ত থাকে মাশরাফির কান্না নিয়ে।

    Reply
    • Salah Uddin Tito

      আপনার এ কথাটা ধরে আগাতে চাই, “আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষের নীতি নৈতিকতার গ্যাং রেপ হয়ে গেছে।” ফেইসবুকে ক্রাইম ভিডিও আপলোড করলেই যে এদের চেতনা জাগ্রত হয় তাও না, এদের মেমরীটাও হয়ে গেছে গোল্ডফিসের মত। অ্যাকুরিয়ামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গেলে যাত্রা শুরুর স্মৃতিটুকুও যেমন ভুলে যায় তেমনি। আমি বাংলাদেশ ভূখন্ডের কথা বলছি, বড় কোন ম্যাসাকার (লোকক্ষয়) ছাড়া এ অঞ্চলে নীতি নৈতিকতা ফিরিয়ে আনা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন নারী শিক্ষার্থী ধর্ষিতা হয়েছেন এবং এর বিরুদ্ধে গোটা দেশ প্রতিবাদ করছে এটা খুবই যৌক্তিক। কিন্তু কিছুদিন আগে ভারতের সাথে আমাদের যে সামরিক সমঝোতা ও চুক্তি হলো তার প্রকৃত সংখ্যা কয়টি সেটিই এখন পর্যন্ত কেউ পরিষ্কার করলেন না। সমঝোতা বা চুক্তির বিশদ বিবরন নাই বা জানলাম। অথচ আগামী দশকগুলোর জন্য যা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্মপূর্ন। সেলুকাস, কি বিচিত্র জাতি আমরা।

      Reply
  9. রেজাউল

    একজন খ্রীষ্টান ‘নান’ বা ধর্মজাজিকা যখন লম্বা গাউন আর মাথা-ঢাকা পোশাক পড়ে থাকেন তখন তা আর পশ্চাৎপদতা, উন্নয়নের অন্তরায় বা নারীকে শৃঙ্খলিতকরণের প্রয়াস বলে বিবেচিত হয় না। বরং তা শ্রদ্ধা, ভক্তি বা মাতৃত্বের প্রতীক রূপেই বিবেচিত হয়।★অতএব, ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থা নারীকে শৃঙ্খলিত করার পরিবর্তে তাঁকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, সমাজে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ-ব্যবস্থারপ্রবর্তন করেছে। তথাকথিত_প্রগতি, নারী-স্বাধীনতা,নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা সমাজকে বা নারীকে কী দান করেছে।বর্তমান যুগে, বিশেষত পাশ্চাত্য-বিশ্বে নারীকে তাঁর নিজের ভাগ্যনিয়ন্তা রূপে আখ্যায়িত করা হয়। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সাথে তাল-মিলিয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের তুলনায় অধিকতর যোগ্য বা efficient বলেও চিহ্নিত করা হচ্ছে।
    ★কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সত্যিই কি নারী লিঙ্গ-বৈষম্যকে অতিক্রম করে পুরুষের সমান মর্যাদা লাভ করতে পেরেছে???
    ★কলঙ্কময় অতীতের’ নিগ্রহ ও দমন-নিপীড়ন থেকে রক্ষা পেয়েছে???
    ★তথাকথিত নারী-স্বাধীনতা কি নৈতিকতা সম্বৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ একটি নতুন সমাজ-ব্যবস্থার ইঙ্গিত প্রদান করে???
    ★সত্যিই কি নারী প্রকৃত সামাজিক ন্যায়-বিচার লাভে সমর্থ হয়েছে? আমরা যদি বর্তমান পাশ্চাত্য-সমাজের দিকে তাকাই তাহলে এর #উত্তর_হবে: ‘না’।
    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারী তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হলেও পাশ্চাত্যের সমাজ-ব্যবস্থা আজ এক ভয়াবহ সঙ্কটের সম্মুখীন। তাই এককালের ‘সেকেলে’ বা ‘out dated family concept’ বা পারিবারিক প্রথা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীগণ নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। নারী-নির্যাতন, শিশুহত্যা, পতিতাবৃত্তি, ধর্ষণ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, লিভিংটুগেদার, মাদকাসক্তি, কুমারী-মাতৃত্ব বাsingle mother, ইত্যাদি সমস্যা আজ #পাশ্চাত্য_সমাজকে_কুঁড়ে_কুঁড়ে_খাচ্ছে।
    ★ কেবল পাশ্চাত্য বা উন্নত বিশ্বই নয়, আজ আমাদের সমাজেও এ-সকল ব্যাধির ক্রমশ সংক্রমন ঘটছে। বাহ্যিক চাকচিক্য আর উন্নতির খোলস ভেদ করতে পারলেই আমরা সেই অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো দেখতে পাই।
    #প্রচলিত সাধারণ ধারণায় বিংশ শতাব্দী, বিশেষ করে দ্বিতীয়-বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান কাল পর্যন্তসময়কে #নারী_স্বাধীনতার_স্বর্ণযুগ_বলে_আখ্যায়িত করা হলেও এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, এই সময়ে বিশ্বে #নারী_নির্যাতন_বৃদ্ধি_পেয়েছে_শতকরা_পঁচিশ_ভাগ। ধর্ষণঃধর্ষণের প্রকৃত সংখ্যা জানা সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী এ-বিষয়ে রিপোর্ট করে না। ফলে, যে-সংখ্যা পাওয়া যায়, বাস্তবে তা অনেক বেশি ঘটে। ব্রিটিশ পুলিশের মতে ১৯৮৪সালে, এই এক বছরে, বৃটেনে ২০,০০০(বিশ হাজার)-এর অধিক নিগ্রহ এবং ১৫০০ (পনের শ’) ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। The London Rape Crisis Center -এর মতে বৃটেনে প্রতিবছর অন্তত পাঁচ থেকে ছয় হাজার ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড হয়ে থাকে, আর প্রকৃত সংখ্যা তার চাইতেও বেশি। ১৯৯৪ সাল নাগাদ এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩২,০০০ হাজারে। উক্ত সংস্থার মতে “If we accept the highest figures, we may say that, on average, one rape occurs every hour in England.” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি সবচাইতে ভয়াবহ। এখানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে। সে সংখ্যা জার্মানীর সংখ্যার চাইতে চারগুণ, বৃটেনের চাইতে ১৮ গুণ আর জাপানের চাইতে প্রায় বিশগুণ বেশি। পশ্চিমা-বিশ্বেরতথাকথিত”নারী স্বাধীনতার” আরেক অভিশাপ হলো কুমারী-মাতৃত্ব।বৃটেনে একজরিপে দেখা যায় যে, ১৯৮২ সালে যেখানে কুমারী-মাতার সংখ্যা ছিল নব্বই হাজার, ১৯৯২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লক্ষ পনের হাজারে। ১৯৯২ সালে জন্ম নেওয়াশিশুদের ৩১% ছিল অবিবাহিতা মাতার সন্তান। এই অবিবাহিতা বাকুমারী-মাতাদের মধ্যে আড়াই হাজারের বয়স ১৫ (পনের) বছরের নীচে। বিবাহ-বিচ্ছেদঃবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ‘Live Together’ -এর প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৬০ সালে জন্ম গ্রহণকারী বৃটেনের নারীদের প্রায় অর্ধেক প্রাক-বিবাহ সহবাসের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এর পক্ষে তাঁদের যুক্তি ছিল যে,এর ফলে নর-নারী একে অপরকে ভালোভাবে জানতে পারে এবং এর পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তা স্থায়ীত্ব লাভ করে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যাণ্ডেই সর্বাধিক বিবাহ-বিচ্ছেদেরঘটনা ঘটে থাকে।

    Reply
  10. এ.আর.ফারুকী

    সোশিওলজিস্ট জিগমুণ্ড ব্যোম্যানের ভাবনা === সামাজিক এতিম, শিকড় হারা শরণার্থী, দুস্থ ও খ্যাপাটে তরুণ, পণ্যাসক্ত ক্রেতা, বিশ্বায়নের কুফল তথা আজকের মানব-বাস্তবতা নিয়েই। সংহতি ও ভালোবাসা হারানো মানব মনের এক্সরে যেন ব্যোম্যানের গবেষণাগুলো। ‘গ্যাং–কালচার’ ভয়ের শাসনেরই প্রতিবিম্ব। তারুণ্য নিজেই যেমন ঝুঁকিতে, তারাই আবার ঝুঁকিরও সর্বনাম
    লিক্যুইড মডারনিটি বইয়ে তিনি দেখান, সংহত আধুনিকতা থেকে তরল উত্তরাধুনিকতায় ভাসতে ভাসতে দিশা হারাচ্ছে সভ্যতা। ষাটের দশকে (আমাদের আশির দশক পর্যন্ত) মানুষে মানুষে আস্থা ছিল, রাষ্ট্রের কাছ থেকে ভরসা ছিল, মানবতার মুক্তির আশা ছিল। তিনি একে বলছেন সলিড মডার্নিটি বা সংহত আধুনিকতা। কিন্তু বিশ্বায়িত পৃথিবীতে সবই গলে গলে গরল ভেল হয়ে গেছে। সলিড বিশ্বাস, সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র সব যেন গলে যাচ্ছে। সমাজ নিজেই এতিম, মানুষ হয়ে গেছে নিঃসঙ্গ। রাষ্ট্র হয়ে পড়ছে নিদায় ও নির্দয়। নতুন প্রজন্ম মানাতে পারছে না পরিবার বা প্রতিষ্ঠান কোনো কিছুর সঙ্গে। এরা কেউ বা মাকড়সার মতো নিজ জালের মধ্যে নিঃসঙ্গ, কেউবা ফেঁসে যাওয়া সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে হয়ে পড়ছে খুনি, মাদকাসক্ত বা জঙ্গি। এভাবে সৃষ্টি হচ্ছে বাড়তি, পরিত্যক্ত ও খরচযোগ্য মানুষের। ব্যোম্যানের লিক্যুইড লাভ বইটি আগের যুগের অমর প্রেমের তরল বাসনায় বুদ্বুদের মতো ফেটে পড়ার বিবরণ। আগেকার সম্পর্কগুলো ছিল ল্যান্ড ফোনের মতো স্থির ও প্লাগ্ড। আর এখনকার প্রেম মোবাইল ফোনের মতো আনপ্লাগ্ড; চলমান ও বদলযোগ্য। লিক্যুইড ফিয়ার বইয়ে এই উত্তরাধুনিক জীবনের অফুরান অনিশ্চয়তায় তটস্থ মানুষের ওপর আলো ফেলেছেন। তাঁর এসব কাজের ওপর ভিত্তি করে সমাজতত্ত্বে লিক্যুইড সোসিওলজি নামে একটি ধারাই গড়ে উঠেছে।

    Reply
  11. আসিফ

    তনুরে নিয়া কত হইচই করলাম! লাভ কই? দুইদিন পরে আমাদের জানানো হইলো ‘তনু ধর্ষণ হয় নাই’! এরপরেও ভাবলাম খুন হইছে! মিনিমাম খুনিরে তো বের কইরা শাস্তি দিবে! কই কি? এই গুলারই কিছু কূল কিনারা করতে পারি নাই! যেই গুলা চোখের আড়ালে হইছে, অন্ধকারে হইছে সে গুলার বিচার পামু সেই আসা করি কেমনে কন? তবুও আমরা আশাবাদী জাতি তাই আন্দোলন করি! কিন্তু এতো চিৎকার চেচামেচি করেও কেন প্রশাষনের আকর্ষনের কেন্দ্র বিন্দুতে আসতে পারি না? রাজন হত্যার পরেকি আরো শিশু নির্যাতিত হয় নাই! কৃষ্ণ কলির বাড়িতেই তো কয় দিন আগে একটা মরলো! যদি প্রশাষন দুষি গুলার লাইগ্যা আরেকটু কঠিন শাস্তি দিত! প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার দুষিদের আরেকটু কঠোর বিচার করতো তাইলে কি এই হত্যা, ধর্ষন, অত্যাচার আরো কিছু কমতো না? সাধারণ মানুষ জন, নিজেদের হেফাজত রাখার চেষ্টা করুন রাখুন। প্রভূর কাছে প্রার্থনা করুন উনি যেন সহায়তা করে! কারো মৃত্যু কামনা থেকে বিরত থেকে তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করুন! আর সত্য ধর্ম, সত্য ধর্মের বাণীকে আঁকড়ে ধরে জীবন গড়ুন। সকল ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ভালো থাকুন।

    Reply
  12. সাগর

    ধর্ষনের তালিকায় শীর্ষে অাছে যুক্তরাষ্ট্র।সেখানে৪৭ ভাগ নারী ধর্ষনের শীকার হয়।যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১০৭ সেকেন্ডে একজন নারী ধর্ষিত হয়। ১২-১৮ বছর বয়সী ২ লাখ ৯৩ হাজার শিশু কিশোরীর ধর্ষিত হয়।৬৮ শতাংশ ধর্ষনের রিপোর্ট হয়না। ৯৮ শতাংশ ধর্ষকের শাস্তি হয়না। এমনকি কারাগারেও নারীদের স্বস্তি নেই। ২ লাখ ১৬ হাজার নারী প্রতিবছর কারাগারে ধর্ষিত হয়ইংল্যান্ড অার ওয়ালসে প্রতিদিন ২৩০জন ধর্ষিত হইতেছে।অন্যদিকে দক্ষিন অাফ্রিকায় ১১ বছরের নিচেই ১৫ শতাংশ মেয়ে ধর্ষনের শীকার হয়। ধর্ষনে কেউদোষী প্রমানিত হলে মাত্র ২বছরের জেল দেওয়া হয়।জিম্বাবুয়ে প্রতি ৯০ মিনিটে ১জন ধর্ষিত হয়।ভারতে প্রতি ২০ মিনিটে ধর্ষিত হয় একজন।ধর্ষন অপরাধ সবচেয়ে বেশি ঘটে যে ১০টি দেশেতার মদ্ধে বাংলাদেশ নেই।তবে অামাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিতকরে সেই ১০টি দেশের একটাকে পিছিয়ে একসময় দশটি দেশের একটি হয়ে যাবে।এমনটা হবে অচিরেই……..সব সম্ভবের দেশ বলে কথা।

    Reply
  13. সেরীন ফেরদৌস

    অাফসান ভাই, আপনি উত্তেজনার বশে আমার লেখাটি পড়তে গিয়ে তাড়াহুড়া করেছেন বলে মনে হচ্ছে। কি কারনে উত্তেজিত হয়েছেন ধারনা করতে পারছি না। শাহবাগের ছেলেমেয়েগুলোকে “মানুষ” বলাতে? কে জানে! আমি লিখেছি “তুলনামূলক নিরাপদ”। এই তথ্যে সমস্যা কোথায়? আমি যে শহরে থাকি গত ১৪বছর ধরে, সে শহরে আমি নিরাপদ বোধ করি কি না বা আমার মেয়ে নিরাপদ কি না তা যারা এই শহরে না থাকে, তাদের জানার বা বোঝার কথা না। আমি যদি শতভাগ নিরাপদ বোধ করি, যেখানে আপনার ডাটার কি ভূমিকা পালন করা উচিত তা আমার মাথায় আসে না। আর ঢাকা শহরে কোনো নারী যদি নিরাপদ বোধ না করে, আর তা ক্রমাগত প্রকাশ করতে থাকে, তবে তা ডাটা দিয়ে কিভাবে ঢাকবেন তা-ও আমার মাথায় আসে না। আমার পুরো লেখার ভিত্তি ছিলো অপরাধের প্রতিকার কানাডার মতো রাস্ট্র কিভাবে করছে। অপরাধ ব্যবস্থাপনায় কি কি উদ্যোগ নিচ্ছে। আপনি সেদিকে না গিয়ে লেখার খানিকটা অংশ নিয়ে স্ট্যাটিসটিক্সের প্যান্ডোরার বাক্স নিয়ে কি মেসেজ দিতে চাচ্ছেন!

    Reply
  14. Sohel Sohrab

    সেরীন ফেরদৌসের লেখা নিয়ে আফসান চৌধুরীর দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া পড়লাম। লেখাটার কোন অংশ নিয়ে আফসান চৌধুরীর এতো চিত্ত জ্বালা ঠিক বোঝা গেলো না। সেরীন তার লেখায় বলেছেন, তিনি নিশ্চিত তার মেয়ে তার শহরে নিরাপদ। আফসান চৌধুরী বলছেন, এই বক্তব্য ‘মিসলিডিং’। তিনি দাবি করছেন- কানাডার কোনো মহিলা নাকি নিরাপদ নয়। আফসান চৌধুরীর এই ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছুলেন কিভাবে?
    সেরীন কানাডায় থাকেন। একজন নারী হিসেবে, একজন কন্যার মা হিসেবে তিনি যদি তার শহরকে জীবন যাপনের জন্য, তার কন্যার বেড়ে ওঠার জন্য নিরাপদ মনে করেন, তা হলে আফসান চৌধুরী সেটিকে জোর করে অনিরাপদ বানাতে চান কেন?
    একটি জনপদ নিরাপদ কী না সেটি তো পরিসংখ্যান দিয়ে নির্ধারিত হয় না, সেটি নির্ধারিত হয় যারা বসবাস করেন তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে। রাত একটায় কোনো বাঙালী গৃহবধু যদি হাইওয়েতে ১১০ মাইল গতিতে গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে জোসনার আলো দেখেন, মধ্যরাতে কোনো তরুনী রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে আয়েশ করে কফির কাপে চুমুক দেন আর গুন গুন করে রবীন্দ্রসঙ্গীত গান- কেউ তাদের দিকে বাঁকা চোখে না তাকায়, কেউ অশোভন ঈঙ্গিত না করে- আফসান চৌধুরী কি গায়ের জোরে তাদের অনিরাপদ বানিয়ে দেবেন?
    সেরীন তার লেখায় নিজের ভাবনার কথা বলেছেন। কানাডায় তিনি নিজের এবং নিজের কন্যার নিরাপদ জীবনের কথা বলেছেন, সচেতনভাবে ছেলেমেয়েদের বেড়ে ওঠার কথা বলেছেন। সেরীন কিন্তু বাংলাদেশ খারাপ সে কথা তার লেখায় বলেন নি। বরং দরিদ্র কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনায় অসস্থির কথা বলেছেন। এখানেই কি আফসান চৌধুরীর আপত্তি? বনানী ধর্ষনঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতাদের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সেরীন মানুষ বলেছেন। এখানেই কি আফসান চোধুরীর আপত্তি?
    সেরীনের লেখায় বাংলাদেশ কানাডার অপরাধের তূলনা নাই। কোনো পরিসংখ্যানের ব্যবহার নাই। সেরীন তার অভিজ্ঞতার কথা, ভাবনার কথা বলেছেন। আফসান চৌধুরী সেখানে পরিসংখ্যান নিয়ে এসেছেন। এই পরিসংখ্যানগুলোর সোর্স কি? কোনো গ্রহনযোগ্য সংস্থার ডাটা কি এগুলো? স্ট্যাটিসটিক্স কানাডার ডাটা? গুগল করলে তো অনেক তথ্যই পাওয়া যায়? কাগুজে ডাটার চেয়েও যে রিয়েল সিচুয়েশনটা অধিক সত্য সেটা আফসান চৌধুরী হয় তো মানতে চাইবেন না। কারন তারা ঘরে বসে কাগুজে ডাটা ধরে বকতে পছন্দ করেন। মাটে ঘাটে গিয়ে মানুষের সাথে মিশে বাস্তবতা অনুদাবন করা তাদের কাজ না।
    আফসান চৌধুরী দাবি করেছেন- বাংলাদেশের অবস্থা আফসনা চৌধুরী সেরীনের চেয়ে ভালো জানেন। একতম। সম্পূর্ণ একমত। কানাডার অবস্থাও কিন্তু আফসান চৌধুরীর চেয়ে সেরীন ভালো জানেন। কারন সেরীন ওই শহরটায় থাকেন- আফসান চৌধুরী থাকেন না।
    আবারো বলি, কানাডায় থাকা একজন নারী যদি ওই শহরটাকে নিজের জন্য নিরাপদ মনে করেন- ঢাকায় ধর্ষকদের গ্রেফতাদের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মানুষ মনে করেন- তাতে আফসান চৌধুরীর চিত্তে বিরক্তি তৈরি হয় কেন?

    Reply
  15. Farooque Chowdhury

    কয়েকবার পড়েও এ লেখার কোথাও কানাডার গুণগান পেলাম না। লেখিকা কানাডার কয়েকটি ব্যবস্থার কথা বলেছেন। তিনি মূলত: আমাদের দেশের সাহসী মানুষদের এবং “বোনের কন্যার মুখ, বন্ধুর কন্যার মুখ, আত্মীয়ের কন্যাদের সারি সারি মুখ … চাষীর কন্যা আর শ্রমিকের কন্যার মুখ”, মানে, সাধারণের কথা বলেছেন। তিনি কোনো তুলনা করেন নি; তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন: “কোনো … টাকার কুমিরও সেই শাস্তি থেকে ছাড় পাবে না”। তিনি লিখেছেন: “তুলনামূলকভাবে”, এবং “যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণ হলেই আমার দেশের ধর্ষনের বিচার না পাওয়া জায়েজ হয় না”।

    আর, ওমুক খারাপ, তাতে কি আমার খারাপ মেনে নেয়া যায়?

    লেখিকা মনতবেব কিছু প্রশন করেছেন, সেসবের জবাব কেউ দেন নি। সে জবাবগুলো ত আশা করা যেতেই পারে?

    Reply
  16. Sohel Abrar

    This author wrote Canada is a country of peace and harmony and strictly maintain law and order. As a Canadian immigrants i can only say the author is not saying right information. Here in Canada now a days law and order, unemployement rate, poverty has risen up trmendously. Yes I have agreed with him in Bangladesh female abuseness has gone up drastically and we must stop this barbarians attitudes from social miscreants

    Reply
    • মহিউদ্দিন

      পর্ণোগ্রাফি প্রদর্শনের ফলে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এর পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।বর্তমান চলচ্চিত্র, স্যাটেলাইট, ওয়েবসাইট ও মোবাইলের মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফি সংক্রামক ব্যাধির মত দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। পর্ণোগ্রাফি যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর শিকার হয়ে অনেক নারী পুরুষ ও শিশুকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে।

      Reply
    • ashraf ahmed

      ফ্রয়েডের মতে মানুষের ব্যক্তিত্ত্বের বিকাশ হয় শৈশবেই। এক্ষেত্রে সাধারণত পাচ বছর বয়সেই মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকশিত হয়ে যায়। এসময়েই যেসব শিশু তার অহং এবং অধিশাস্তার উপর নিয়ন্ত্রণ ( এই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বাবা মার বাস্তবতা বিবর্জিত কর্মকান্ড এবং শিশুকে নিজের সকল চাহিদা চাওয়া মাত্র পূরণ করে দেওয়ার ফলে।) হারিয়ে ফেলে তারা স্বাভাবিকতা বিবর্জিত হয়।
      এরা প্রচন্ড রকম আমিত্ববোধ এ ভুগে এবং আত্মগরিমা বোধ করে এরা। এদের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট হলো এরা নিজেকে সবসময় সঠিক মনে করে এবং নিজের ভুলকে কখনো কোন অবস্থানেই স্বীকার করে না।এরা যে ভুল করতে পারে তা এদের কখনো বোধেই আসে না। এরা নিজের মতো করে সবকিছুর ব্যাখ্যা দেয় এবং এর বিরুদ্ধাচরণ হলে এরা প্রচণ্ড রকম খেপে যায়। এরা প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক হয় চিন্তা ভাবনায় ও কাজেকর্মে। এরা কোন ভাবেই নিজের সমালোচনা সহ্য করতে পারেনা,নিজেকে শোধরানো তো দূরে থাক। এরা এতটাই আত্মকেন্দ্রিক যে এরা সবকাজের পেছনে একটা কারণ বের করতে পারে যেটা তাদের কাছে সঠিক মনে হয় কিন্ত বাস্তবতা হলো সেটা আদতে মানসম্মত নয়।
      বর্তমান যুগে (১৯৯৫ -বর্তমান) এমন তরুণ তরুণীর সংখ্যা অনেক। এতটাই বেশি যে এরা আমাদের দেশে একটা ভাববাদী সংস্কৃতিকে সমূলে ধ্বংস করে বস্তুবাদী সংস্কৃতি আমদানি করেছে। অবশ্য এতে আকাশ সংস্কৃতির অবদান ও অনেক। এরা আবার দ্বিমুখী মানসিকতার। এরা একই সাথে ভোগবাদী এবং মানবতাবাদী;যদিও তাদের ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গিটা তাদের মানবতাবাদকে ঢেকে রাখে। এজন্যই এরা অস্থির প্রকৃতির হয়। ব্যক্তিজীবনে এরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয় কিন্ত সে অনুযায়ী কাজ করার ধৈর্য্য এদের থাকে না। কথায় প্রচন্ড রকম পটু হয়, কিন্ত কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা।

      Reply
  17. afsan chowdhury

    Please read the following before you romanticize Canada rape situation and make your NRB life look so good.
    ———————————————-.

    Sexual Assault Statistics in Canada

    A Numerical Representation of the Truth

    Of every 100 incidents of sexual assault, only 6 are reported to the police
    1 – 2% of “date rape” sexual assaults are reported to the police
    1 in 4 North American women will be sexually assaulted during their lifetime
    11% of women have physical injury resulting for sexual assault
    Only 2 – 4% of all sexual assaults reported are false reports
    60% of sexual abuse/assault victims are under the age of 17
    over 80% of sex crime victims are women
    80% of sexual assault incidents occur in the home
    17% of girls under 16 have experienced some form of incest
    83% of disabled women will be sexual assaulted during their lifetime
    15% of sexual assault victims are boys under 16
    half of all sexual offenders are married or in long term relationships
    57% of aboriginal women have been sexually abused
    1/5th of all sexual assaults involve a weapon of some sort
    80% of assailants are friends and family of the victim

    The above noted statistics have been taken from various studies across Canada. While the numbers can never been 100% accurate, a few key generalizations can made:

    sexual assault is far more common than most would suspect
    relatively few incidents of sexual assault are reported to the police
    young and otherwise vulnerable women are most likely to be sexually abused
    most sexual assaults are committed by someone close to the victim, not a stranger

    Reply
    • afsan chowdhury

      Your daughter is much less safe than you think. I worked with Canadian immigrants and sexual assault given all that you mention is very high. Please don’t advertise disbalanced facts. Thanks

      Reply
      • সেরীন ফেরদৌস

        আফসান ভাই, আমার লেখার বিষয় ছিলো ঘটনা প্রকাশ পেলে কি ব্যবস্থা হয় তা নিয়ে। যেটার রিপোর্ট হয় না, সে নিয়ে তো প্রতিকারের কথাও ওঠে না। ওঠে কি? আমি বলতে চেয়েছি এ্যাবিউজ রিপোর্টেড হলে প্রতিকার পাওয়া যায় কি না। মানুষ যেখানে থাকবে, অপরাধ থাকবে। অপরাধের টলারেন্স রাষ্ট্র কতখানি করে, সমাজ কতখানি করে তা ছিলো আমার লেখাটির আলোচ্য বিষয়। অপরাধ যদি জিরো থাকতো, তবে তো স্কুল-কলেজে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার দরকার পরতো না। আপনি কি অস্বীকার করতে পারবেন, এখানে অপরাধ ধরা পরলে বিচার হয় না? টাকার জোরে, ক্ষমতার জোরে অপরাধী ‍পার পেয়ে যায়? পুলিশ ঘুষ খেয়ে ধর্ষক ছেড়ে দেয়? এই জায়গাগুলোতে আপনার অমত আছে? প্রমাণ আছে? আপনি কি বলতে চান, এ্যাবিউজের জায়গায় বাংলাদেশ আর কানাডার প্রতিকার ব্যবস্থা্ একই রকম? যদি হ্যাঁ বলেন, তবে আমার দুইখান কথা আছে। এইখানে আমি তুলনা করি নাই, সমাজের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি। কিন্তু আপনি কথা তুললেন বলে বলি, আর একটা কথা, কানাডায় এ্যাবিউজের সংজ্ঞা অনেক অনেক ওয়াইড বাংলাদেশের তুলনায়। এখানে, এমন কি, মুখের কথাও এ্যাবিউজ হিসেবে গণ্য হয়। এখানে তো সংখ্যা আছে, হিসাব আছে। বাংলাদেশে কি তা-ও আছে? যদি ওয়াইডার রেঞ্জে ধরেন, বাংলাদেশে এ্যাবিউজের শিকার কি কোটির নাম্বারেও কুলাবে? তুলনামুলক প্রতিকারের দিকে কিভাবে আগানো যায়, তা কি আমরা বলবো না? শুধু স্ট্যাটিকস দিয়ে কি দায়িত্বের পালা চুকাবো?
        তাহলে একটা উদাহরণ নিয়ে কথা বলি। কানাডার সিনেটর ডন মেরিডিথ টিএন এজারের সাথে যৌন সম্পর্ক করার দা|য়ে পদ হারিয়েছে। তার জন্য কিন্তু কানাডীয়ানদের আন্দোলন করতে হয়নি, মিছিল করতে হয়নি। সংসদ তদন্ত করে তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। একজন ব্যবসায়ীর ছেলেকে আইনের আ্ওতায় আনার জন্য কি আন্দোলনটাই না করতে হলো আপনাদের।
        এইবার সাফাতের বাপের কথা বলি। এই লোকটি যে বললেন, “অল্পবয়সী ছেলেরা এক-আধটু করে থাকে, আমিও করেছি।” এই কথা বলার জন্যেই, নিজের ধর্ষণের অপরাধ নিজের মুখে স্বীকার করেছেন বলেই গ্রেফতার হয়ে যেতেন। যেতেন না কি! তাই, ধন্যবাদ প্রসঙ্গ তোলার জন্য, আসুন আলোচনা করি, আরো কথা বলি। বলতে বলতেই হয়তো পথ পরিষ্কার হবে, দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে।

      • Sohel Sohrab

        আফসান চৌধুরী
        আপনি কানাডায় এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশিদের দ্বারা তৈরি, বাংলাদেশীদের জন্য কাজ করে, কিন্তু বাংলাদেশি কমিউনিটিতেই পরিচিতি বা গ্রহনযোগ্যতা পায়নি।
        যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি কমিউনিটিতেই পরিচিত নয় সেই প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা দিয়ে আপনি কানাডার সমাজকে মূল্যায়ন করতে চান। ইন্টারেস্টিং !

      • R. Masud

        Dear Mr. Asfan
        There are some Wrong/Lie which is much better than the Correct/True.
        In this case the article of Mrs সেরীন ফেরদৌস reflects the first. By this writing (even if data not perfect), some people or group of people in Bangladesh may raised their hand to stop the rape.
        Thusly, in no way Mrs সেরীন ফেরদৌস writing will cause to detoriarate the rape crime situation in bangladesh; instead it will help to reduced.

      • Abedin Quader

        Dear Afsan Bhai:
        I am really surprised! Do you have so much time to express your reactions on opinionated writings!!!!!!!
        Regards.
        Abedin Quader.

      • Sohel Sohrab

        These are not Statitics Canada’s data. All the statistics Afsan Chowdhury has used is from unauthenticated unnamed sources .

    • নাজিম

      এখনকার দিনে ১১ বছর বয়সী শিশুরা স্মার্টফোন এবং অন্যান্য ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বসে দিনে ঘন্টার পর ঘন্টা পর্ণোগ্রাফি নিয়ে ব্যস্ত থাকছে। মূলত স্মার্টফোনের প্রযুক্তি পর্ণোগ্রাফিকে শিশুদের একদম হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। অষ্ট্রেলিয়ার এক ইন্টারনেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, নিয়মিত ইন্টারনেটে পর্ণোগ্রাফি দেখে এমন ব্যবহারকারীদের ৪৩% এর বয়স ১১ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। গবেষণার সাথে জড়িত একজন মনোবিজ্ঞানী জানান তিনি ব্যক্তিগত ভাবে গবেষণা করে দেখেছেন ১৪ বছর বয়সী বেশির ভাগ শিশুই পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। এদের মধ্যে অনেকেই দিনে ১০ ঘন্টার মত সময় ইন্টারনেটে পর্ণ দেখতে ব্যয় করে। গুগল অবশ্য বলেছে সন্তানরা কি করছে তা দেখভাল করার দায়িত্ব অভিভাবকদের। এজন্য ইন্টারনেটকে দায়ী করা যায় না। অপরদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত শিশুরা তাদের পরবর্তী জীবনে আচরণগত সমস্যায় পড়তে পারে। আর শিশুদের এই আসক্তি থেকে উদ্ধার করতে এখন অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের স্মার্টফোনে স্পাইওয়্যার গোপনে ইনস্টল করে রাখেন, যার মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করে তাদের সন্তানরা কি করছে, ইন্টারনেটে কোন সাইট ব্রাউজ করছে এমনকি তাদের টেক্সট ম্যাসেজ পর্যন্ত পড়তে পারেন।

      Reply
    • R. Masud

      Definitely some has to go to hidden area, like people in the houses of Sylhet, Jinahdsh, chittagong etc., and those were surrounded by police and then cleaned.
      Even today also two houses were cordoned by law enforcing forces.
      Thusly, we undersatnd your pain.

      Reply
  18. Qudrate Khoda

    চমৎকার, হৃদয়স্পর্শী, সত্য ও সময়োপযোগী লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    ক্যানাডা

    Reply
  19. Farooque Chowdhury

    অনেক ধন্যবাদ এ লেখার জন্য।

    তবে, দেশে এ মানুষরা কম নয়, কোটি কোটি, কেবল সংগঠিত নয়।

    কোটি কোটি চাষী-মজুর-সাধারণজন-গরিব আছেন। এরা সবাই সমমান নিয়ে জীবন কাটাতে চান। এরা তা করবেনও।

    Reply
  20. shaheen nawaz

    মুক্ত সমাজ, মুক্ত মানুষ, মুক্ত অর্থনীতি ইত্যাদি পশ্চিমা পুঁজিবাদী জীবনদর্শনের মূলমন্ত্র হলেও, মুক্ত সমাজের মুক্ত জীবনের ধারণা নারীকে মুক্তি দেয়নি বরং বহুগুণে বেড়েছে তার উপর অত্যাচার আর নির্যাতনের পরিমাণ। বাস্তবতা হলো, ফ্রিডম বা স্বাধীনতার ধারণা পশ্চিমা সমাজের মানুষকে ঠেলে দিয়েছে স্বেচ্ছাচারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন এক জীবনের দিকে। যেখানে স্বাধীনতার অপব্যবহারে নির্যাতিত হচ্ছে নারীসহ সমাজের অগণিত মানুষ। জবাবদিহিতার অনুপস্থিতিতে এক মানুষের স্বাধীনতা হচ্ছে অন্য মানুষের দাসত্বের কারণ। আর, ব্যক্তি স্বাধীনতার চূড়ান্ত অপপ্রয়োগে তাদের সমাজে বাড়ছে খুন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানী, পারিবারিক সহিংসতাসহ এবং সকল প্রকার নারী নির্যাতন। এছাড়া, সীমাহীন স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে বড় বড় মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোও শুধুমাত্র লাভবান হবার জন্য নারীকে পরিণত করছে নিখাদ ভোগ্যপণ্যে। তথাকথিত নারী-স্বাধীনতার নামে নারীকে আজ যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিজ্ঞাপন-সামগ্রী এবং পর্নোগ্রাফীতে। পুঁজিবাদী সমাজ নারীকে দেখে নিরেট ভোগ্যপণ্য ও মুনাফা হাসিলের উপকরণ হিসাবে। ফলে, নারী সমাজের কোন সম্মানিত সদস্য হিসাবে বিবেচিত না হয়ে, সমাজে প্রচলিত অন্যান্য পণ্যের মতোই, পরিণত হয় বিকিকিনির পণ্যে। আর হীন স্বার্থ সিদ্ধির মোহে অন্ধ মানুষ নারীর দৈহিক সৌন্দর্যকে পুঁজি করে চালায় জমজমাট ব্যবসা। বস্তুতঃ নারীর প্রতি এ জঘন্য দৃষ্টিভঙ্গির প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসাবে স্বেচ্ছাচারী মানুষ শুধুমাত্র লাভবান হবার জন্য, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র সকল নারীকেই করে নির্যাতিত।পণ্যের বিজ্ঞাপনে নারী যেন আজ একটি অপরিহার্য বিষয়। সম্প্রতি দি ওয়াশিংটন পোষ্ট পত্রিকার বরাত দিয়ে আমাদের ঢাকার দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়,
    “আমেরিকার মেয়েরা যৌন-আবেদনময়ী হওয়ার পরিবেশেই বড় হচ্ছে। তাঁদের সামনে যেসব পণ্য ও ছবি তুলে ধরা হচ্ছে তাতে তাঁরা যৌনতার দিকেই আকৃষ্ট হচ্ছে। মার্কিন সংস্কৃতি, বিশেষ করে প্রধাণ প্রধাণ প্রচার-মাধ্যমে মহিলা ও তরুনীদের যৌন-ভোগ্য-পণ্য হিসেবে দেখানো হচ্ছে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোসিয়েশন (এপিএ) টাষ্ক ফোর্স অন দ্যা সেক্সুয়ালাইজেশন অব গার্লস-এর সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে একথা বলা হয়। রিপোর্টের প্রণেতাগণ বলেন, টিভি-শো থেকে ম্যাগাজিন এবং মিউজিক-ভিডিও থেকে ইণ্টারনেট পর্যন্ত প্রতিটি প্রচার-মাধ্যমেই এই চিত্রই দেখা যায়। …………. প্রণেতাদের মতে, যৌনরূপদান তরুনী ও মহিলাদের তিনটি অতি সাধারণ মানসিকস্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এগুলো হলো পেটের গোলযোগ, আত্মসম্মানহানিবোধ এবং মনমরা ভাব। …………….. লিজ গুয়া নামের একজন মহিলা বলেন, তিনি তাঁর ৮ (আট) বছরের মেয়ে তানিয়ার উপযোগী পোশাক খুঁজে পেতে অসুবিধায় রয়েছেন। প্রায়ই সেগুলো খুবই আঁটসাঁট, নয়তো খুবই খাটো। যৌন-আবেদন ফুটিয়ে তোলার জন্যই এ ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়।” (দৈনিক জনকন্ঠ, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০০৭)

    Reply
  21. মোঃ রহমান দোহারী

    এক নজরে পশ্চিমা সমাজে নারী নির্যাতন:
    ১. ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির নির্যাতন: পশ্চিমা সমাজে মূলতঃ
    তাদের ফ্যাশন, ডায়েট আর কসমেটিকস্ ইন্ডাস্ট্রিগুলোই নির্ধারণ করে নারীর পোশাক, তার সাজ-সজ্জা, এমনকি তার দেহের প্রতিটি অঙ্গের মাপ। স্বাধীনতার মিথ্যা শোগানে নারীকে তারা বাধ্য করে জঘণ্যভাবে দেহ প্রদর্শন করতে। তারপর, অর্ধনগ্ন সেইসব নারীদেহকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। ১৯৮৮ সালে টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিউটি ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্রতিবছর ৮.৯ বিলিয়ন পাউন্ড মুনাফা অর্জন করে থাকে। আর, সমস্ত বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিগুলো বছরে অর্জন করে মাত্র ১.৫ হাজার বিলিয়ন ডলারের মুনাফা। অপরদিকে, নামকরা মডেল বা সুপার মডেল হতে গিয়ে নারীকে কমাতে হয় আশঙ্কাজনক পর্যায়ে তার ওজন। পরিণতিতে বন্ধ্যাত্ব, ভয়াবহ নিম্ন রক্তচাপ, অ্যানোরেক্সিয়া কিংবা বুলেমিয়ার মতো মারাত্মক রোগ হয় তার জীবনসঙ্গী। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেনটাল হেলথ এর প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ২০ জনে ১ জন নারী অ্যানোরেক্সিয়া, বুলেমিয়া কিংবা মারাত্মক ক্ষুধামন্দার শিকার হয়। আর প্রতিবছর ১০০০ জন মার্কিন নারী অ্যানোরেক্সিয়া রোগে মৃত্যুবরণ করে। (সূত্র: আমেরিকান অ্যানোরেক্সিয়া/বুলেমিয়া অ্যাসোসিয়েশন)। বস্তুতঃ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিগুলোর বেঁধে দেয়া ভাইটাল স্ট্যাটিকটিকস্ অর্জন করতে গিয়েই পশ্চিমে অকালে ঝরে যায় এ সব নারীর জীবন।
    ২. ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি:
    নারী-পুরুষের লাগামহীন মেলামেশা আর প্রবৃত্তি পূরণের অবাধ স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ ফলাফল স্বরূপ পশ্চিমা সমাজের নারীরা অহরহ হয় ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার। এমনকি এই বিকৃত আচরণ থেকে সে সমাজের নিষ্পাপ শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পায় না। নারী স্বাধীনতার অগ্রপথিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে ধর্ষিত হয় একজন নারী, আর বছরে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় সাড়ে সাত লক্ষে। (সূত্র : দি আগলি ট্রু, লেখক মাইকেল প্যারেন্টি)। আর, বৃটেনে প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন নারী ধর্ষিত হয় এবং মাত্র ১০০ জনের মধ্যে একজন ধর্ষক ধরা পড়ে।
    ৩. কর্মক্ষেত্রে হয়রানি:
    গণমাধ্যম গুলোতে নারীকে প্রতিনিয়ত সেক্স সিম্বল হিসাবে উপস্থাপন করার ফলে নারীর প্রতি সমাজের সর্বস্তরে তৈরী হয় অসম্মানজনক এক বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গী। আর বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গীর ফলাফল হিসাবে শিক্ষিত নারীরাও কর্মক্ষেত্রে তাদের পুরুষ সহকর্মীর কাছে প্রতিনিয়ত হয় যৌন হয়রানির শিকার। মিডিয়া ও সরকারী তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ৪০-৬০% নারী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়। আর ইউরোপিয়ান উইমেনস লবির প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাজ্যেও ৪০-৫০% নারী তার পুরুষ সহকর্মীর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হয়।
    ৪. পারিবারিক সহিংসতা:
    যে সমাজে নেই কারো কোন জবাবদিহিতা, নেই পরস্পরের প্রতি কোন শ্রদ্ধাবোধ আর সেই সাথে রয়েছে সীমাহীন স্বাধীনতার সুযোগ, সে সমাজে ভয়াবহ পারিবারিক সহিংসতা হয় নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। বস্তুতঃ জীবন সম্পর্কে এ ধরণের ভয়ঙ্কর ভ্রান্তিমূলক ধারণা থেকেই বিয়ের পূর্বে বা পরে সবসময়ই পশ্চিমের নারীরা হয় তার পুরুষসঙ্গীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১৮ সেকেন্ডে একজন নারী স্বামী কর্তৃক প্রহৃত হয়। ইউএস জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট এর ১৯৯৮ সালে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ৯ লক্ষ ৬০ হাজার পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আর, প্রায় ৪০ লক্ষ নারী স্বামী তার অথবা বয়ফ্রেন্ডের দ্বারা শারীরিকভাবে হয় নির্যাতিত।
    ৫. কুমারী মায়েদের যন্ত্রণা:
    নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার প্রধান অসহায় শিকার হয় পশ্চিমের কুমারী অল্পবয়সী নারীরা। আনন্দের পর্ব শেষে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষ সঙ্গী আর্থিক বা সামাজিক কোন দায়দায়িত্ব স্বীকার না করায় একাকী নিতে হয় তাকে অনাহুত সন্তানের দায়িত্ব। আর, অপরিণত বয়সে পর্বতসম দায়িত্ব নিয়ে গিয়ে তাকে হতে হয় ভয়ঙ্কর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার। যুক্তরাষ্ট্রের গুটম্যাচার ইনস্টিটিউট এর প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ১৫-১৭ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার অবিবাহিত নারী গর্ভবতী হয়। আর, সেদেশের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে বছরে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কিশোরী মেয়ে গর্ভধারণ করে।
    ৬. কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নির্যাতন:
    পশ্চিমা সভ্যতা পৃথিবীব্যাপী নারী-পুরুষের সমঅধিকারের বার্তা প্রচার করলেও তাদের নিজেদের সমাজেই নারীরা প্রচন্ড বৈষ্যমের শিকার। শুধু মাত্র নারী হবার জন্য একই কাজের জন্য তাকে পুরুষের চাইতে দেয়া হয় অনেক কম অর্থ। এখন থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে প্রেসিডেন্ট কেনেডি যুক্তরাষ্ট্রে ইকুয়েল পে অ্যাক্ট আইন পাশ করলেও, এখনও ১৫ বছর ও তার উর্ধ্বে কর্মরত নারীরা একই কাজের জন্য পুরুষদের চাইতে প্রতি ডলারে ২৩ সেন্ট কম উপার্জন করে। ইউ.এস গর্ভমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস এর জরিপ থেকে দেখা যায়, সে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা বিভাগের মোট কর্মচারীর প্রায় ৭০ ভাগ নারী হলেও নারী ব্যবস্থাপকরা পুরুষের চাইতে অনেক কম অর্থ পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, ১৯৯৫-২০০০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নারী-পুরুষের উপার্জনের এই বৈষম্য ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। বস্তুতঃ পশ্চিমের দেশগুলোতে নারীরা শুধুমাত্র দুটি পেশায় পুরুষদের চাইতে বেশী উপার্জন করে, তার একটি হচ্ছে মডেলিং আর অন্যটি হচ্ছে পতিতাবৃত্তি।
    ৭. পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির নির্যাতন:
    পশ্চিমা বিশ্বে নারীরা সবচাইতে জঘন্য ভাবে নির্যাতিত হয় পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে। যেখানে, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির মতোই নগ্ন নারীদেহকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে পৃথিবী ব্যাপী বিস্তৃত মুনাফালোভী এক চক্র আর, এর জঘন্য শিকার হচ্ছে লক্ষ কোটি অসহায় নারী ও শিশু। শুধু নগ্ন নারী দেহকে উপজীব্য করে এই পৃথিবীতে ৫৭ বিলিয়ন ইউ.এস ডলারের পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রির বার্ষিক রাজস্ব সে দেশের বহুল প্রচারিত ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এ.বি.সি, সি.বি.এস এবং এন.বি.সি-র প্রদত্ত মোট রাজস্বের চাইতেও বেশী (৬.২ বিলিয়ন ডলার)। প্রকৃতপক্ষে, পুঁজিবাদী মন্ত্রে দীক্ষিত মানুষের সীমাহীন লোভ আর চূড়ান্ত স্বেচ্ছাচারীতা বিশ্বব্যাপী পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠার মূলকারণ।

    Reply
    • সেরীন ফেরদৌস

      বাংলাদেশের গুগল কি বলে? আছে তো কিছু সেখানে?

      Reply
  22. মিজান

    বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে সভ্যদেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের মত অপরাধের জন্য ‘মৃদু’ সাজা দেয়া হয়েছে। স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্র ব্রক টার্নারকে এক অচেতন মেয়েকে ধর্ষণের অপরাধে ৬ মাসের সাজা দেয়া হয়েছে। মার্কিন মিডিয়াগুলো জানায়, এ সাজা কমে তিন মাসে দাঁড়াতে পারে। বেশকিছুদিন আগের এ ঘটনার রায় সম্প্রতি দেন ক্যালিফোর্নিয়ার বিচারকরা। প্রমাণিত ধর্ষক ব্রক টার্নারের মামলার রায়ে বিচারকরা বলেন, এর বেশি শাস্তি দিলে সেটা অন্যায় হয়ে যাবে!
    ছেলের বাবার বক্তব্য হলো ‘মাত্র বিশ মিনিটের’ এই ঘটনার জন্য ছয় মাসের ‘কঠোর’ শাস্তি অত্যন্ত অন্যায্য হয়েছে! সিএনএন ও নিউ ইউর্ক টাইমস জানায়, ছেলে ধনী পরিবারের, হোয়াইট এলিট ও স্টানফোর্ডের সাবেক ছাত্র। উপরন্তু সে ইউনিভার্সিটির এথলেট ও সুইমিং টিমের প্রমিজিং সদস্য। পুরো ঘটনার যতগুলো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সেখানে ধর্ষককেই ‘মহৎ’ বানানো হয়েছে। আর পক্ষান্তরে ধর্ষিতাকে মদ্যপ, পতিতা ও উশৃঙ্খল ইত্যাদি বলা হয়েছে। দেশটিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, অত্যন্ত দৃষ্টিকটূভাবে বাংলাদেশে যেভাবে মেয়েদের পোশাক তুলে ভিকটিমকে ব্লেমিং করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মিডিয়া সেই কাজটাই করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ১৯ সেকেন্ড এ একজন,যুক্তরাজ্যে প্রতি ৩৭ সেকেন্ডে একজন,এবং ভারতে প্রতি ৬১ সেকেন্ড এ একজন ধর্ষিত হয়; যার জন্য বিখ্যাত মিডিয়া উগ্র পোষাক আশাককে দায়ি করেন।আমি গুগল সার্চ দিয়ে যা পেলাম তা হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৬.১৮ মিনিটে একজন, যুক্তরাজ্যে ৫.৮৪ মিনিটে একজন এবং ভারতে প্রতি ২২ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়।

    Reply
    • সেরীন ফেরদৌস

      গুগল সার্চ দিয়ে স্ট্যাটিসটিক্স পাওয়া সহজ ও দরকারি বটে! আসুন প্রতিকার নিয়ে কোন রাষ্ট্র কি কি করছে তা নিয়ে কথা বলি। দেখি কোনটা দরকার, কারা কতোটা এগিয়ে। কাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেবার আছে। সমাজের, রাষ্ট্রের কোনদিকে যাবার দরকার আছে। এখানে পশ্চিম ভালো, পুব খারাপ সেটা বিবেচ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণ হলেই আমার দেশের ধর্ষনের বিচার না পাওয়া জায়েজ হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে যদি বিচার না পাওয়া যায়, তবে সেটা নিয়েও কথা বলেন ভাইসকল! অপরাধকে অপরাধ বলেন। আমার মেয়ে কানাডায় যেটুকু নিরাপত্তাই পাক না কেন, তা যদি বাংলাদেশের তুলনায় সামান্যও বেশি হয়, সেটির দিকে আঙুল তোলেন। আগায়া যান!

      Reply
      • afsan chowdhury

        You began by saying your daughter is safe and i am saying that is misleading, certainly no woman is in Canada. Why do you bring BD into this. You didn’t mention the situation in Sweden did you ? I never ever mentioned Bangladesh where i know what the situation is better than you do. Its horrific but some people are fighting back. Had the socio-economic indicators been even remotely close, BD-Canada would be comparable. This is very unrepresentative of the sexual safety situation and you must know how to use comparative data better. The question of comparison doesn’t even arise when the indicators are so different. When you write on something like rape, you should check data properly not offer anecdotes of safety. Nor should you say that you will ignore data that you don’t know. Every researcher on such matters as rape will refer to that “unknown data ” and estimate. That’s what sexual violence measuring is all about. I have supervised several major studies on the topic and my students have reviewed practically all the data on the topic on Bangladesh. I certainly hope you will be more reticent before making such comparisons and check your data. You are a senor
        journalist. You should know how misleading data management can be. Thanks

      • জুয়েল শাহআলম

        এতদিনে শাহবাগী একটি গালি হয়ে গেছে, রাজাকার যেমন একটা গালি ছিল ঠিক তেমন। এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে তার আলোচনায় গেলে কারও না কারও উপর দোষ চাপাতে হবে। দোষ চাপিয়ে দেয়াই এদেশের সংস্কৃতি। তবে মানুষ শাহবাগী শব্দটা গালি হওয়ার পেছনে কারা দোষী তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নয়।
        শাহবাগের প্রতিটা চরিত্র কোনও না কোনও ভাবে এথিক্যালি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। একেকজন একেক কারণে এথিক্যালি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন এবং এথিক্যালি রিজেক্টেড হয়েছেন। কেউ ধর্ম বিদ্বেষী হিসেবে, কেউ ধর্মের প্রতি অরুচিশীল শব্দ প্রয়োগের কারণে, কেউ চাইল্ড পর্ণ প্রডিউসের কারণে, কেউ অবাধ যৌনাচারের কারণে, কেউ টাকাপয়সা তসরুপের কারণে, কেউ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানোর কারণে… এভাবে শাহবাগের একটি প্রত্যাখ্যাত কাল্ট হয়ে ওঠার পেছনে কারণের অভাব নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—