শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সরকার– শিক্ষার তিন অংশীদার। একজন অভিভাবক কেন তার সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলতে চান? শিক্ষার্থীই-বা কোন ‘আশার ছলনে ভুলি’ শিক্ষিত হওয়ার জন্যে আদাজল খেয়ে লাগে? সরকারই-বা কেন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে? উচিত বা উপযুক্ত শিক্ষা বলতেই-বা কী বোঝায়?

যখন থেকে মনের ভাব প্রকাশ বা ধারণ করার জন্যে লিপি ব্যবহারের সূচনা হয়েছে, সেই সুমের বা মিসরে, তখন থেকেই লিখতে ও পড়তে জানা, অর্থাৎ শিক্ষিত লোকদের একটা চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু অন্য কর্মজীবীদের তুলনায় কলমজীবীদের পারিশ্রমিক সাধারণত বেশি, সেহেতু ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’ এই চিরন্তন আকুতি থেকে পিতামাতারা সর্বযুগেই বহু ত্যাগ স্বীকার করে সন্তানদের লেখাপড়া শেখাতে চেয়েছেন।

এ তো গেল ব্যষ্টিক অর্থনীতির দিক, সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে যদি দেখি তবে আধুনিক রাষ্ট্র অনেকটা নিজের স্বার্থেই জনগণের জন্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে আসছে। কারণ রাষ্ট্রের সার্বিক অগ্রগতির জন্যে শিক্ষিত নাগরিক অপরিহার্য। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ একটি বাজারের প্রয়োজন। ধরা যাক দুটি প্রতিবেশি রাষ্ট্র– একটিতে সব নাগরিক অশিক্ষিত এবং অন্যটিতে সবাই উচ্চশিক্ষিত– এ দুই রাষ্ট্রের বাজারের প্রকৃতি এক হবে না। প্রথম রাষ্ট্রের তুলনায় দ্বিতীয় রাষ্ট্রের বাজার অনেক বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হবে। একজন অশিক্ষিত লোকের যা যা প্রয়োজন– যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি– তার প্রায় সবকিছুই একজন শিক্ষিত লোকের প্রয়োজনের তালিকায় আছে। কিন্তু একজন শিক্ষিত লোকের এমন অনেক কিছুই প্রয়োজন হয়– যেমন বই, কলম বা কম্পিউটার– যাতে অশিক্ষিত লোকের তেমন প্রয়োজন নেই।

মহাভারতের বনপর্বে বকরূপী যক্ষ যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্ন করেছিল: “সুখী কে?”

যুধিষ্ঠির উত্তর দিয়েছিলেন: “অঋণী, অপ্রবাসী এবং দিনান্তে শাকান্নভোজী মানুষ সুখী।”

নিজের বাজারের আয় থেকেই যদি কোনো রাষ্ট্রের সব নাগরিকের গ্রাসাচ্ছাদন ভালো রকম চলে যায়, তবে সেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের মা-বাবা-স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে বহু বিচিত্র ঝুঁকি নিয়ে প্রতিকূল পরিবেশে গিয়ে অন্য জাতির গোলামি করতে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যা এতটাই ক্রমবর্ধমান এবং বাংলাদেশের বাজার এখনও এতটাই অনুন্নত যে, বাঙালির সামনে আরও অনেক দশক ধরে অন্য দেশে গিয়ে গতর ও মস্তিষ্ক খাটানোর বিকল্প নেই।

কৃষি কিংবা শিল্পের উন্নয়নের অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের সর্বাধিক দৃষ্টি দিতে হবে মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে, যেহেতু এই সম্পদটি প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি আছে আমাদের। মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ দর্শনীয় উন্নতি করেছে বা নিদেনপক্ষে করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে, এমনটা বলা যাবে না। বাঙালি শ্রমিকেরা শ্রীলঙ্কা, ভারত বা ফিলিপাইনের শ্রমিকদের তুলনায় কম বেতন পায়, কারণ তারা অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত। উপযুক্ত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা গেলে বাংলাদেশের জনসংখ্যা জনসম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে। এই জনসম্পদ প্রথমত, বর্তমানের চেয়ে বহুগুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে, এবং দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ বাজারের বিস্তৃতি ও উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অন্য যে কোনো খাতে বিনিয়োগের চেয়ে ফলদায়ী হবে– রাজনৈতিক অর্থনীতিতে আগ্রহীমাত্রেই এই দাবির সঙ্গে একমত হবেন।

 

Education - 111

 

বাংলাদেশ সরকার ২০১৬-১৭ বাজেটের সর্বোচ্চ অংশ (১৫.৬%) শিক্ষা খাতের জন্যে বরাদ্দ করেছে (জনপ্রশাসন: ১৩.৯%, যোগাযোগ: ১১%, প্রতিরক্ষা: ৬.৫%,স্বাস্থ্য: ৫.৩%)। এই বরাদ্দ পাশ্চাত্যের অনেক দেশের (যুক্তরাষ্ট্র ২%, কানাডা ৩%, জাপান ও ফ্রান্স ৪%) চেয়ে চার থেকে আটগুণ বেশি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ (ভারত ১৩% এবং পাকিস্তান ১৪%)। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অর্থের প্রায় অর্ধভাগ প্রাথমিক শিক্ষাখাতে ব্যয়িত হচ্ছে। আন্তর্জালে সহজলভ্য বিভিন্ন দেশের বাজেটের পাইচার্টের তুলনা থেকে এ তথ্যগুলো উঠে এসেছে। কাজীর গরু যদি শুধু হিসাবে থাকে এবং হিসাবেও যদি ভুল থাকে, তবে আমি নিরুপায়!

সরকার শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে সক্ষম হচ্ছে। নারীশিক্ষায় দর্শনীয় অগ্রগতি হয়েছে। পরীক্ষাগুলো ঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবু আজ প্রশ্নফাঁস, কাল কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলবাজির মহোৎসব, পরশু পরীক্ষায় উত্তর বলে দেওয়া, তরশু হেফাজতের দাবি মানতে গিয়ে সিলেবাসের গায়ে (সুকুমার রায়ের ভাষায়) ‘টকটক গন্ধ’– শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশে অভিযোগ এবং ইস্যু অন্তহীন।

দেশে এবং বিদেশে বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি অংশ আশঙ্কা করে, বাংলাদেশে লেখাপড়ার ১২টা বেজে গেছে। তাদের অভিযোগ: শিক্ষার উন্নয়নের দাবির পুরোটাই মূলত এবং কার্যত চমৎকার এক চক্ষুসাফাই, তলে তলে কোম্পানিকা যাবতীয় মাল দরিয়ামে ঢালা হচ্ছে। নচিকেতা যেমনটা গেয়েছেন:

“রাজা দেয় প্রতিশ্রুতি হ্যান কারেগা, ত্যান করেগা; করেগা কচু, আসলে ব্যাটা পকেট ভারেগা!”

বাংলাদেশে কাগজে-কলমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক। উচ্চশিক্ষাও এদেশে প্রায় বিনামূল্যেই পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাড়ানোর কথা বলেছেন। ফেল কড়ি মাখ তেল! উচিত শিক্ষা কি অবৈতনিক হওয়া উচিত নয়? ইওরোপের একাধিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পিতামাতার আয় অনুসারে শিক্ষার্থীর ফি নির্ধারিত হয়।

শিক্ষা বা চিকিৎসা, রাষ্ট্রের যে কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্যে টিন নম্বর বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবা যেতে পারে। সরকারি কোনো বিদ্যায়তনে ভর্তি হওয়ার সময় পিতামাতার আয় দেখে জানা যাবে, শিক্ষার্থীকে কোনো বেতন দিতে হবে কি না। তবে টিন নম্বর থাকলেই বছরে ছয় হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে, আয় থাকুক বা না থাকুক, এরকম হাস্যকর নিয়ম বাতিল করলে ভালো হয়। ঘরের চালেই যার টিন লাগানোর ক্ষমতা নেই, সেই অভিভাবকের উপরে টিন নম্বর চাপিয়ে কী হবে!

সরকারি সুবিধা তারই পাওয়া উচিত, যার আসলেই সেই সুবিধার প্রয়োজন আছে, কিন্তু ক্রয়ের ক্ষমতা নেই। তেলা মাথায় তেল দিলে জনগণের অর্থের অপচয় হবে।

শিক্ষার তিনটি ধাপ: প্রাথমিক, (নিম্ন ও উচ্চ) মাধ্যমিক ও উত্তর-মাধ্যমিক (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর) বা উচ্চশিক্ষা। শিক্ষার আটপৌরে বাংলা প্রতিশব্দ: ‘লেখাপড়া’ বা ‘পড়ালেখা’। ইংরেজিতে বলে, ‘থ্রি আরস’ (Rs): রিডিং, রাইটিং এবং অ্যরিথম্যাটিক।

ন্যূনতম প্রাথমিক শিক্ষার অধিকারী বলে দাবি করতে হলে একজন মানুষকে অবশ্যই লিখতে ও পড়তে জানতে হবে এবং যোগ-বিয়োগ-গুন-ভাগসহ কমবেশি গণিতও জানতে হবে। মাধ্যমিক এবং/বা স্নাতক ডিগ্রির অধিকারী কোনো ব্যক্তি যৌক্তিক বিশ্লেষণশক্তির অধিকারী হওয়া বাঞ্ছনীয়। শিক্ষাদান যদি ঠিকঠাক পরিচালিত হয়, তবে কারও পক্ষে একজন স্নাতককে সাত-পাঁচ-চৌদ্দ বোঝাতে পারার কথা নয়। মাধ্যমিক বা উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে স্বাধীনভাবে জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ ও ক্ষমতা থাকাও অপরিহার্য। এসব দক্ষতা কমবেশি আছে কি না বিচার করেই শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া উচিত।

“লিখে দিলাম কলাপাতে, ঘুড়ে মরগে পথে পথে!”

কোনো ডিগ্রির যেন এই করুণ পরিণতি না হয়।

লেখাপড়া যেহেতু ভাষানির্ভর এবং যে কোনো রাষ্ট্রে যেহেতু একাধিক ভাষাভাষী লোক থাকে, সেহেতু রাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কোন ভাষাটি শিক্ষার মাধ্যম হবে। মাতৃভাষা শিক্ষার মাধ্যম হলে সবচেয়ে ভালো হয়– এতে দ্বিমত নেই। কিন্তু সব নাগরিককে তার মাতৃভাষায় লেখাপড়া শেখার সুযোগ দেওয়ার মতো আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা বেশিরভাগ রাষ্ট্রেরই থাকে না।

 

Student - 222

 

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসীর মাতৃভাষা বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। রাষ্ট্রভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করতে যে কোনো সরকার বাধ্য। রাষ্ট্রভাষা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মাতৃভাষা হয়ে থাকে, তবে রাষ্ট্রের শিক্ষার খরচ অনেকটাই কমে যায়। কিন্তু এটাও ঠিক যে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলার তুলনায় ইংরেজির গুরুত্ব বেশি। কিন্তু বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীকে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার সাধ্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নেই। উচিতই মেলে না, আবার মিষ্টান্ন!

সুতরাং যে কোনো বিচারে বাংলা ছাড়া আর কোনো ভাষাই বাংলাদেশে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হতে পারে না। তবে জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অন্যান্য মাতৃভাষাগুলোতেও লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে (এবং বর্তমান সরকার তা যথাসাধ্য করছেও), যদি এই কাজের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত সঙ্গতি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের থাকে।

বাংলাদেশের অনেক শিক্ষায়তনে শিক্ষার মাধ্যম বাংলা নয়। অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে একটি বাংলা শব্দ উচ্চারণ করলেও নাকি শাস্তি পেতে হয়! বেসরকারি মাদ্রাসা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল– এ দুই ধরনের বিদ্যালয়ের মধ্যে মিল রয়েছে। দুটোর কোনোটির সঙ্গেই দেশীয় বাঙালি সংস্কৃতির তেমন যোগ নেই। দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই জাতীয় সংগীত না গাওয়ানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা, জাতীয় পাঠ্যক্রম অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। এ দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়েই নিজভূমে পরবাসী এবং জঙ্গি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

দুই ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাই তাদের খদ্দের অর্থাৎ শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মাকে স্বর্গে নেওয়ার লোভ দেখায়। ইংলিশ মিডিয়ামের স্বর্গ হচ্ছে ‘ইংল্যান্ড’ এবং তার প্রাক্তন উপনিবেশগুলো, যেখানে জীবদ্দশাতেই যাওয়া যায় ভাগ্য ভালো হলে। মাদ্রাসার নির্দেশিত স্বর্গ ‘পরলোক’। তবে কিছু ইংলিশ মিডিয়াম মাদ্রাসা বা ধর্মভিত্তিক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল রয়েছে, যেখানে ভর্তি হতে পারলে ‘গাছেরটা খাওয়া এবং তলারটা কুড়ানো’, অর্থাৎ দুই স্বর্গেরই টিকেট পাওয়া অসম্ভব নয়!

কেউ সওয়াল করতে পারেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং বেসরকারি মাদ্রাসাগুলো যেহেতু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বা অর্থায়নে চলে না, সেহেতু এই প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে কোন ভাষা ব্যবহার করবে সেটা রাষ্ট্র কেন ঠিক করে দেবে? এর জবাবে আমরা দুটি কারণ দেখাব।

প্রথমত, রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ততক্ষণ পর্যন্ত বরদাস্ত করা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই স্বাধীনতা রাষ্ট্রের ক্ষতি না করছে। যেহেতু বাংলা ও ইংরেজি ভাষার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব সমান নয়, সেহেতু এ দুটি ভাষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব অবশ্যই বাংলাদেশ রাষ্ট্রে বিভক্তি ও বৈষম্য সৃষ্টি করার সম্ভাবনা থাকবে। যে কোনো ধরনের বিভক্তি ও বৈষম্য সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতি ব্যাহত করে। কারও কুড়াল কেনার সঙ্গতি আছে বলেই রাষ্ট্র তাকে কুড়াল কিনতে দিতে পারে না। রাষ্ট্র যদি নিশ্চিত জানে যে, অন্যের বা নিজের পায়ে মারার উদ্দেশ্যেই দেশি ও বিদেশি উদ্যোগে সে কুড়াল জোগাড় করা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, মধ্যযুগের ইওরোপে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সূচনাপর্ব (১১০০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ) থেকেই ডিগ্রি দেওয়ার অধিকার রাষ্ট্রের উপর অর্পিত হয়েছে। রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ব্যতীত কোনো ডিগ্রিরই গ্রহণযোগ্যতা থাকে না, থাকা উচিতও নয়। রাষ্ট্র যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেয় অথবা রাষ্ট্রের সীমানার ভেতরে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডিগ্রি দেওয়ার অনুমতিও দেয়, তবে সেই প্রতিষ্ঠান কী পড়াচ্ছে, কোন ভাষায় পড়াচ্ছে এ সবগুলো বিষয়ে খবরদারি করার অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে এবং রাষ্ট্রের হয়ে রাজা বা সরকার এই অধিকার প্রয়োগ করে আসছে সেই মধ্যযুগ থেকে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সমাপনী পরীক্ষা পাস করা শিক্ষার্থীরা কি গ্রহণযোগ্য বাংলা ও ইংরেজি লিখতে পারে? ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রেরা কি ইংরেজি ঠিকমতো বলতে ও লিখতে পারে? মাদ্রাসা থেকে পাশ করা ছাত্রেরা কি আরবি ও উর্দু শুদ্ধভাবে বলতে ও লিখতে পারে?

পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা যেতে পারে, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী বাংলায় ও ইংরেজিতে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না, এতে সম্ভবত কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না। যে কোনো একটি ভাষা শ পাঁচেক ঘণ্টা শিখেই তাতে মনের ভাব প্রকাশ করা সম্ভব। উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শেখে কমপক্ষে এক হাজার ঘণ্টা। বাংলা শেখে কমপক্ষে তার পাঁচগুণ বেশি সময় ধরে। শিক্ষার্থীরা যদি বাচনে ও লিখনে এই ভাষাগুলোতে (অন্ততপক্ষে বাংলায়) মনের ভাব প্রকাশ করতে না পারে তবে স্বীকার করতেই হবে যে, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ‘ফাঁকির শুভঙ্কর’ চলছে।

লেখা ও পড়াই যদি না শিখল তবে বেশুমার ‘জিপিএ-পঞ্চ’ প্রসবে কী ফায়দা? উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদরঘাট! ঠিকমতো লিখতে পড়তে না জানা একেক জন লেফাফা-দুরস্ত কিশোরের শিক্ষার পেছনে বিনিয়োগকৃত ১২টি বছর আর পরিবার ও রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হবার দায় কে নেবে?

কানাডার কুইবেকের ফরাসি স্কুলে বিভিন্ন বিষয়ে লিখতে শেখানো হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এই কাজেই সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করা হয়। ছাত্রেরা ফরাসি বা ইংরেজি ব্যাকরণে দুর্বল থাকলেও ফরাসি বা ইংরেজি কমবেশি শুদ্ধভাবে লিখতে পারে। বাংলাদেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক– প্রতিটি ক্লাসে বাংলা ব্যাকরণের মোড়কে সংস্কৃত ব্যাকরণের পুনরাবৃত্তি করাতে গিয়ে যে সময় বেহুদা নষ্ট হয়, সেটা লিখতে শেখানোর কাজে ব্যবহার করা যেত। ছাত্ররা লিখতে জানে না, কারণ আমরা তাদের লিখতে শেখাই না। লিখতে শুধু কেন, শিক্ষার্থীদের আমরা যুক্তিসম্মতভাবে, গুছিয়ে কথা বলতেও শেখাই না। এই দোষ প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে যায়। কারণ রোগই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।

বাংলাদেশে বাংলা ও ইংরেজি রচনা মুখস্থ করার বই আছে, কিন্তু মনের ভাব প্রকাশ করে লিখতে শেখানোর কোনো বই নেই। এর মানে হচ্ছে বাংলাদেশে শিক্ষাবিষয়ক নীতিনির্ধারকেরা চান– বহু যুগ যাবৎ চেয়ে আসছেন– শিক্ষার্থীরা রচনা মুখস্থ করুক। ছাত্রাবস্থায় ইংরেজি-বাংলা রচনা, বড় প্রশ্ন, ছোট প্রশ্ন, ব্যাখ্যা, ভাবসম্প্রসারণ, ভাবসংক্ষেপ, পত্ররচনা– সবকিছু আমরা নোটবই থেকে ঝাড়া মুখস্থ করতাম। মূল বই পারতপক্ষে পড়তাম না।

শিক্ষকেরা আমাদের নিজের কথা নিজের মতো করে বলতে-লিখতে শেখাতেন না। নিজে থেকেও যে লেখা যায়– এমন ‘সৃষ্টিছাড়া’ কথা কোনো শিক্ষক কখনও আমাদের বলেননি। একবার আমি দশ পঙক্তির এক কবিতার সারসংক্ষেপ দুই লাইনে লিখেছিলাম বলে শিক্ষক আমার পিঠে বেতের বাড়ি দিয়ে বলেছিলেন: কেন আমি নোটবই থেকে দেখে আরও বড় করে লিখিনি।

 

Girl Student - 11111

 

পাঠদানের এই ‘তোতাপাখি পদ্ধতি’ এখন আমূল পরিবর্তন হয়েছে শুনলে খুশি হতাম।

শিক্ষার মাধ্যম নির্বিশেষে বাংলাদেশের যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রভাষা বাংলায় লিখতে ও পড়তে শেখানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করার বিকল্প নেই। বাংলাদেশে শৈশব ও কৈশোর অতিক্রান্ত হয়েছে এমন যে নাগরিক বাংলা ভাষায় গ্রহণযোগ্যভাবে লিখতে ও পড়তে জানে না, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে সে অশিক্ষিত বা মূর্খ বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।

মূর্খদের কেন ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে? কিছু আকাট মূর্খের ডিগ্রির স্বীকৃতিই-বা কেন দেওয়া হচ্ছে? পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশে কি রাষ্ট্রভাষায় লিখতে-পড়তে না শিখে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপনী ডিগ্রি পাওয়া যায়?

এই প্রসঙ্গে কিছু জ্ঞানপাপী কুযুক্তি দেয়: উন্নত দেশগুলো এমন অনেক কিছু করতে পারে, যা উন্নয়নশীল বাংলাদেশ পারে না। উন্নত দেশগুলো কি উন্নত হওয়ার কারণে মাতৃভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারছে, নাকি মাতৃভাষাকে শতাধিক বৎসর যাবৎ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে শতভাগ নাগরিক সমভাবে শিক্ষিত হওয়াতে সেই দেশগুলো উন্নত হয়েছে?

প্রতিটি পরীক্ষা হবে এক একটি ছাঁকুনি যা গলে শিক্ষিত অনায়াসে বের হয়ে যাবে, কিন্তু মূর্খ ততক্ষণ পর্যন্ত আটকে থাকতে বাধ্য হবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে শিক্ষিত না হচ্ছে। গুনাহগার ও নেকদিল উভয়ে যদি হেসে-খেলে পুলসিরাত পার হয়ে যায়, তবে তো শেষ বিচারের দিনেও ধুন্ধুমার লেগে যেতে পারে!

এমন কোনো শিক্ষাপদ্ধতি ও পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা কি সম্ভব, যাতে করে অপরিহার্যভাবে রাষ্ট্রভাষা বাংলা (এবং সম্ভব হলে ইংরেজি) পড়তে ও লিখতে না শিখে কোনো শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পাস করতে না পারে?

শিক্ষিত ব্যক্তিরাই ডিগ্রি পাবে, মূর্খরা নয়– সৃজনশীল পদ্ধতি কি এই নিশ্চয়তা দিতে পারবে? মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক ডিগ্রি দেওয়ার আগে প্রত্যাশিত দক্ষতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। যেনতেন প্রকারে পাসের হার বাড়ানো আখেরে দেশ ও জনগণের জন্যে মঙ্গলজনক হবে না।

কাজীর গরু হিসাবে নয়, গোয়ালে থাকতে হবে।

শিশির ভট্টাচার্য্যঅধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭ Responses -- “উচিত শিক্ষা-১ : মূর্খদের কেন ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে?”

  1. আমিরুল আলম খান

    লেখাটা মে মাসে, আর আমি পাঠ করলাম আজ, অগাস্টের ৫ তারিখে। সেটি আমার দুর্ভাগ্য। কেননা, শিশির ভট্টাচার্য্য আমার প্রিয় লেখক, মত প্রকাশে তিনি অসাধারণ তেমনি ভাষার গাঁথুনি।
    একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা আমার আছে, নিজের মত করে লেখার স্বাধীনতা বিষয়ে। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে শিশির বাবু লিখেছেন, “শিক্ষকেরা আমাদের নিজের কথা নিজের মতো করে বলতে-লিখতে শেখাতেন না। নিজে থেকেও যে লেখা যায়– এমন ‘সৃষ্টিছাড়া’ কথা কোনো শিক্ষক কখনও আমাদের বলেননি। একবার আমি দশ পঙক্তির এক কবিতার সারসংক্ষেপ দুই লাইনে লিখেছিলাম বলে শিক্ষক আমার পিঠে বেতের বাড়ি দিয়ে বলেছিলেন: কেন আমি নোটবই থেকে দেখে আরও বড় করে লিখিনি।”

    ১৯৬৫ সালে আমি যখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র তখন আমাদের বাংলা শিক্ষক জনাব জাফর আলী স্যার ক্লাসে একদম নিজের অভিজ্ঞতা নিজের ভাষায় রচনা লিখতে বলতেন। তিনি আমাদের কাঁচা রচনা ভাল করে পড়তেন, বানান, বাক্য গঠন, ভাব প্রকাশ সব কিছু সম্পর্কে তিনি মন্তব্য লিখে দিতেন।
    তাঁর কাছে একটা দামি বিষয় শিখেছিলাম। তা হল, কারো লেখা সংশোধন করার সময় লেখকের ভাবনা, ভাষাভঙ্গী যেন বদলে না যায়। তিনিই আমাদের বলেছিলেন, “একজন ক্লাস সেভেনের ছাত্র তার মতই ভাববে, তার মত করেই বলবে, লিখবে। শিক্ষক হিসেবে আমার কাজ সেগুলো যুক্তিসঙ্গতভাবে সাজাতে সাহায্য করা।” যারা বই মুখস্থ করে রচনা লিখত তিনি তাদের নিজের ভাষায় লিখতে বলতেন।
    এ জন্য তাঁর কিছু অভিনব পদ্ধতি ছিল। যেমন, ছাত্রদের ক্লাসের বাইরে এনে তিনি বললেন, “চারিদিকে ভাল করে চেয়ে দেখ। যা দেখছ তাই তোমার মত করে লেখ।”
    হয়ত শরতে আকাশ দেখিয়ে “আজকের শরতের আকাশ” সম্পর্কে দশটি বাক্য লিখতে দিলেন।
    জীবনী লেখা শেখাতে নিজের বাবার জীবনী লিখতে বলতেন তিনি। অথবা মা আজ কীভাবে জামা কাপড় পরিয়ে স্কুলে পাঠিয়েছেন তা, অথবা আজ কি কি খেয়ে স্কুলে এসেছি তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা লিখতে দিতেন। ইত্যাদি।
    আমাদের জাফর স্যার সত্যিকার অর্থে ছিলেন সৃজনশীল এক শিক্ষক। ্ততিনি বলতেন তোমার অভিজ্বেঞতা আর কল্পনার মিশেলই তোমাকে ভাল বক্তা বা লেখক বানাবে।
    তবে তাঁর মত শিক্ষক আর ক’জনই বা ছি্লেন বা আছে্ন!

    Reply
  2. সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ

    কওমি সনদ বিষয়ে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি ঘোষণার পর থেকে দেশের ধর্মের চিরশত্রু প্রগতীশীল কথিত আধুনিকদের দোষরদের গায়ে যেন আগুন ধরেছে।
    তারা একের পর এক অনলাইন-অফলাইনে শেখ হাসিনাকে ও আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে নিয়ে নানা কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য, কার্টুন এবং অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করে চলছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে এদেশের মূল ধারার কওমি আলেমদের সম্পর্কের গভীরতা নতুন নয়। এটা ঐতিহাসিক স্বীকৃত যে, কওমি মাদরাসার আলেমদের নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কওমি মাদরাসার ছাত্ররাই আওয়ামী লীগের জন্ম দিয়েছে।
    যে আওয়ামী লীগ সৃষ্টি না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না, সেই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মজলুম জননেতা কিংবদন্তী আলেম মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার ছাত্র। আওয়ামী লীগের একটানা দশ বছরের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ ছিলেন এই কওমি মাদরাসার ছাত্র। বঙ্গবন্ধুর এই রাজনৈতিক দুই সহচর ছিলেন একান্ত আপনজন। আওয়ামী লীগের জন্ম থেকে বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনৈতিকভাবে এদেশের হাজার হাজার আলেম ছিলেন। কওমির সনদ স্বীকৃতি বাস্তবায়ন আন্দোলনের পুরোধা শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রাহ. বিএনপি সরকারের আমলে ৫দিন মুক্তাঙ্গনে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

    Reply
  3. মুহাম্মাদ শফিকুর রাহমান

    “মূর্খদেরকে ডিগ্রী দেয়া ঠিক নয়” কথাটা ঠিক। কিন্তু কার সংজ্ঞায় কে মূর্খ?
    . . . . . . . . . . . . . .
    কওমী মাদ্রাসার সনদকে যে ভাষা ও বিষয়ের ভিত্তিতে মাস্টার্সের মান দেয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই বলেই কি আমি এর বিরোধিতা করব?
    এর দ্বারা কি নিজের অজ্ঞতাই প্রকাশ পাচ্ছে না?
    . . . . . . . . . . . . .
    মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ “আল কোরআন”র ভাষা যেহেতু আরবী| তাই কওমী মাদ্রাসায় মাতৃ ভাসার পরেই আরবী ভাষাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে অধিক। আর সে কারণেই তাদেরকে “ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবী ভাষা”র উপর মাষ্টার্সের মান দেয়া হচ্ছে|
    . . . . . . . .
    আর জঙ্গিবাদ মূলতঃ RAW – মোসাদ ও CIA র উৎপাদিত পণ্য। “কওমী মাদ্রাসার সাথে জঙ্গিবাদের কোন সম্পর্ক নেই” এটা আজ প্রমাণিত।

    Reply
  4. আওয়ার ইসলাম

    মাদরাসা থেকে জঙ্গীবাদ তৈরি হয় না বরং প্রাইভেট বিশবিদ্যালয়ের ছাত্ররাই জঙ্গীবাদের সাথে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, দেশের কওমি, আলিয়া ও ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোতে সঠিক ইসলাম শিক্ষা দেয়া হয়, এখান থেকে জঙ্গীবাদ তৈরি হওয়ার প্রশ্নই উঠে না।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনসারুল্লা বাংলা টিম, জেএমবি ও আইএসের নামে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বোমাবাজী, মানুষ হত্যার নামে জেহাদ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের উদ্যেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ইসলাম ধর্মের কোথায় মানুষ হত্যা করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে তা তিনি জানতে চান। ইসলাম শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়, তাই বলে এ নয় যে এ দেশের মানুষ জঙ্গীবাদে বিশ্বাসী। তিনি আরো বলেন, এ সরকার আলেম ওলামা বিরোধী নয়, বরং তাদের পক্ষের সরকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইসলাম বিরোধী কোনো আইন করেননি। ভবিষ্যতেও করবেন না।

    Reply
  5. BRITTOCHAP

    Shishir Babu, have patience, I’m hopeful, our honourable PM may kindly declare the illiterati of our country masters.

    Reply
  6. md musa Islam

    ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। মাদ্রাসায় কোরআনের আলোকে শিক্ষা দেওয়া হয়, সেখানে কোন জঙ্গি তৈরি করে না। সকল মুসলমান কে কোরআন ও সুন্নাহ আলোকে অবশ্য চলতে হবে। জুলুমকারী কে আল্লাহ কঠোর শাস্তি দিবেন। আল্লাহ আকবার।

    Reply
  7. জুয়েল শাহআলম

    উচ্চশিক্ষার নামে কুশিক্ষা এবং সুশিক্ষা আর সঠিক দীক্ষা কি আমরা শিখছি আমরা নিজের ভিতর কি বীজ বপন করছি!এ যুগে শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড কথাটা ঠিক নয়। শ্লোগান হবে ‘সুশিক্ষাই জাতীয় মেরুদন্ড’।সেক্রিফাইস নামক ইংরেজি শব্দটা শিক্ষিত মানুষদের জন্য সৃষ্টি হলেও,ত্যাগ নামক অশিক্ষিতদের বাংলা শব্দটার কাছে বার বার হেরে যায়। কারন অশিক্ষিত অজপাড়ার মানুষ গুলি শিক্ষিতদের প্রানের সব টুকু দিতে জানে, কিন্তু উচ্চ শিক্ষিত মানুষটি তা জানেনা। আর এটাই হচ্ছে সুশিক্ষা আর উচ্চ শিক্ষা নামে কুশিক্ষার মধ্যে ছোট্ট একটি পার্থক্য। খুব পুরোনো একটা প্রবাদবাক্য নিয়ে আমার মতো সবাই বোধ করি স্কুল জীবনে ভাব-সম্প্রসারণ লিখতেন,‘ দূর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য, সর্পের মস্তকে মণি থাকলেও সে কি ভয়ংকর নহে ? এরসাথে আরো একটি যোগ না করে পারছিনা ‘গুরুজনে করো নতি, সেবা করো কায়মনে।

    Reply
  8. নুরুল ইসলাম

    কওমি মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হয়না :আইজিপি।
    একটু দেরিতে হলেও,অবশেষে তারাও বুঝতে পেরেছে যে, কওমি মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হয় না,,……………..যাইহোক, সত্যটা বলার জন্য আইজিপি কে ধন্যবাদ না দিয়ে পারলামনা ।১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর পরই উত্তর ভারতের দেওবন্দ কেন্দ্রিক যে দ্বীনি শিক্ষাধারা চালু হয়েছিল এখন তা এ উপমহাদেশসহ গোটা দুনিয়ায় কওমী মাদরাসা শিক্ষা নামে বেশ সুখ্যাতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এ শিক্ষা ধারার উদ্দেশ্য ছিল নিরক্ষরতা দূরীকরণ, ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার, জান্নাতমুখী জনগোষ্ঠী তৈরীকরণ, সামাজিক কুসংস্কার ও কুপমন্ডুকতা বিদূরিকরণ ও ব্যক্তি চরিত্র সংশোধন। প্রচলিত ও দলীয় রাজনীতির প্রভাব বলয় থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে কওমী মাদরাসার পরিচালক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ পবিত্র কুরআন, হাদীস, ফিক্হ, ভাষা-সাহিত্য, ক্লাসিক্যাল দর্শনের শিক্ষা ও খিদমত সুচারূরূপে আঞ্জাম দিয়ে আসছেন শত বছর ধরে। বাংলাদেশের বিগত ৩৮ বছরের ইতিহাসে কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোন কর্মকান্ডে বা সন্ত্রাসী কোন তৎপরতার সাথে জড়িত থাকার কোন প্রমাণ নেই। কওমী মাদরাসা শিক্ষার সুদীর্ঘ ইতিহাসে খুন-খারাবী, টেন্ডার বা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের ন্যুনতম কোন নজির নেই। এসব মাদরাসায় রাজনীতিভিত্তিক কোন ছাত্র সংসদ নেই এবং ছাত্রদের দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততাও একপ্রকার নিষিদ্ধ। ফলে এখানে বিরাজ করে রাজনীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সুষ্ঠু শিক্ষার শান্ত পরিবেশ। সুতরাং মাদরাসায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পরিকল্পনার প্রশ্নই অবান্তর। আর সন্ত্রাসের আওতায় পড়ে এমন ঘটনা কোথাও ঘটলে তা নিশ্চিতভাবে বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই দায়ী। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কেউ যদি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের মতো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে এবং অভিসন্ধি চরিতার্থ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারের চেষ্টা চালায়, সে দায় কোন মাদরাসা নিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বা সব মাদরাসাকে ঢালাওভাবে দায়ী করাও যুক্তি সংগত নয়। সত্যিকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ অবদমনে সরকারকে সহযোগিতা করতে এ দেশের ওলামা-মাশায়েখগণ সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত বলেই বার বার প্রমাণিত। স্মর্তব্য যে, কওমী মাদরাসারসমূহ পরিচালিত হয় মূলত এ দেশের জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অর্থায়নে; সরকারী কোন অনুদান তাঁরা ঐতিহ্যগতভাবে গ্রহণ করেন না। এদেশের কোটি কোটি জনগণের সাথে কওমী মাদরাসার প্রাণের সম্পর্ক বিদ্যমান। কওমী মাদরাসা থেকে পাশ করা ছাত্ররা ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরাপের সরকারী-বেসরকারী পদে, মসজিদ, মাদরাসা পরিচালনায়, দাওয়াত-তাবলীগে, সমাজ সংস্কারে, নিরক্ষরতা দূরিকরণে এবং শিক্ষা বিস্তারে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখে চলেছেন।

    Reply
    • লোটাস

      “কওমী মাদরাসা থেকে পাশ করা ছাত্ররা ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরাপের সরকারী-বেসরকারী পদে, মসজিদ, মাদরাসা পরিচালনায়, দাওয়াত-তাবলীগে, সমাজ সংস্কারে, নিরক্ষরতা দূরিকরণে এবং শিক্ষা বিস্তারে গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখে চলেছেন।” – এতে কী লাভ? গরিব দেশের লোকজন ইউরাপে চার্চ এর ফাদার হয়। তোমরাও তাই হতে চাইছো। উন্নত বিশ্বের লোকেরা চায় শুধুমাত্র তারাই উন্নত থাকবে। আর আমরা ধর্ম নামক আফিম খেয়ে বুদ হয়ে থাকি। এবং আমরা তাদের উদ্দেশ্যটা বাস্তবায়িত হতে সাহায্য করছি।

      Reply
    • শামসুদ্দীন সাদী

      দিনের পর দিন বিভিন্ন মাদরাসা বা ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে জঙ্গি খুজতে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সামান্য সন্দেহ হলেই বিনা প্রমানে জেলের ঘানি টেনেছে নিম্নবৃত্ত পরিবার থেকে দ্বীনের আলো নিতে আসা আধপেটা খাওয়া ছাত্রটি। মিডিয়া ইজ্জতের নষ্ট করেছে বহু আলেমের।
      আমরা প্রগতীশীল কথিত আধুনিকরা তখন একবারো ভাবতে পারিনি অবিচার সায় দেওয়া বা না দেখার ভান করে যাওয়া আল্লাহ পছন্দ করেন না।
      তাই আজ ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া তরুনরা জঙ্গি ! ব্রেন ওয়াস করে সহজেই তাদের দলে টানতে পেরেছে আইএস । একের পর এক নারকীয় হত্যায় বিচলিত নাগরিক সমাজ। সুনাম নষ্ট হচ্ছে দেশের।
      মাদরাসার বদলে এখন ঢাকার ব্যাচালরদের মেস/ফ্লাটবাসাতে চলছে অভিযান !
      মন্ত্রীরা বলছেন মাদরাসায় জঙ্গি তৈরি হয় না !!
      সত্যি আল্লাহ মহান।

      Reply
  9. এস এম আব্দুছাত্তার

    প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

    #প্রাথমিক_শিক্ষার_লক্ষ্যঃ
    শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাতিক ও আবেগিক বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্ববোধ, বিজ্ঞানমনস্কতায়, সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা।
    #প্রাথমিক_শিক্ষার_উদ্দেশ্যঃ
    ১। আল্লাহ তা’লায়া/সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস ও শিশুর মধ্যে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করা এবং সকল ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
    ২। শেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি মাধ্যমে শিশুর কল্পনা-শক্তি, সৃজনশীলতা ও নান্দনিকবোধের উন্মেষে সহায়তা করা।
    ৩। বিজ্ঞানের নীতি-পদ্ধতি ও প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন, সমস্যা সমাধানে তার ব্যবহার এবং বিজ্ঞানমনস্ক ও অনুসন্ধিৎসু করে গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
    ৪। ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশ এবং নিজেকে প্রকাশ করতে সহায়তা করা।
    ৫। গাণিতিক ধারনা, যৌক্তিক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা।
    ৬। সামাজিক ও সুনাগরিক হওয়ার গুনাবলি এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সহায়তা করা।
    ৭। ভালো-মন্দের পার্থক্য অনুধাবনের মাধ্যমে সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।
    ৮। অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পরমসহিস্নুতা, ত্যাগের মনোভাব ও মিলেমিসে বসবাস করার মানসিকতা সৃষ্টি করা।
    ৯। প্রতিকূলতা মোকাবেলার মাধ্যমে শিশুর আত্নবিশ্বাস সৃষ্টি করা।
    ১০। নিজের কাজ নিজে করার মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদা উপলব্ধি ও আত্নমর্যাদা বিকাশে সহায়তা করা।
    ১১। প্রকৃতি, পরিবেশ ও বিশ্বজগৎ সম্পর্কে জানতে ও ভালোবাসতে সহায়তা করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা।
    ১২। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা।
    ১৩। জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে বাংলা দেশকে ভালোবাসতে সাহায্য করা।

    Reply
  10. নূরুল ইসলাম

    সভ্য যে কোনো দেশ , এমনকি পরিবারও তার নাগরিক আর সন্তানদেরকে প্রথমেই কিন্তু শিক্ষা দেয় সত্যবাদিতা , নীতিনৈতিকতা , ন্যায়পরায়নতা , আচারাচরণ এবং মানবতাবোধ !! এটাকেই বলাহয় পাবিবারিক শিক্ষা !! যে শিক্ষা না থাকলে একটি মানুষ সমাজে কিছুতেই সুনাগরিক এবং পরিপূর্ণ একজন সুন্দর মনের মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয় না !! পরিবার ও সত্যিকার অর্থেই অনুকরনীয় জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে এই শিক্ষাটা না পেলে , যা কোনদিনই কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর শেখানো সম্ভব হয় না !! তাই তো উন্নত দেশ গুলোও সে সমস্থ দেশের স্কুল গুলুতে , এবং বিশেষত: রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আচার আচরণ ও কথা বার্তাতেও যেন এসব ব্যাপার গুলোকে খুব স্বতর্ক ভাবেই অনুসরণ করা হয় , তা নিয়ে সে দেশের নাগরিকরা থাকেন বেশ উদ্বিগ্ন ও স্বতর্ক !! বিশ্ব জুড়ে ঠিক ভদ্র কোনো পরিবারের মতই কোনো দেশের বেলায়ও কিন্তু কোন দেশ কতটা সভ্য আর উন্নত সেটাও বিবেচিত হয় সেই সমস্থ দেশের সংখাধিক্য সুনাগরিকদের কর্মকান্ড বিবেচনা করেই !!

    Reply
  11. আজিজ

    লেখাটা খুবই সময় উপযোগী। কিন্তু লেখক এখানে ইসারায় মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

    মাদরাসার ছাত্ররা শুদ্ধ করে আরবি লিখতে বা পড়বে না। ইংলিশ মিডিয়াম এর ছাত্ররা শুদ্ধ ভাবে ইংলিশ লিখতে বা পড়তে পারবে না।….
    তাহলে, স্কুল-কলেজের বা ভার্সিটির কয়জন ছাত্র শুদ্ধ করে বাংলা লিখতে বা পড়তে পারে? যেখানে বাংলা একাডেমীর এক জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি বলতে পারে “বানান ভুল হতেই পারে”?

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      একেবারেই না। বাংলা মিডিয়ামের অনেক ছাত্র বাংলা ভালো লিখতে পারে না – এ কথা বলা হয়েছে। যে কোন মিডিয়ামের শিক্ষার্থীকে বাংলা লিখতে ও পড়তে জানতে হবে।

      Reply
  12. Kibria Khan

    We have to change our education system from Pre-K/Primary level. Bangla can be used only for language not for any degree…….

    Reply
  13. Qudrate Khoda

    An excellent and original article as usual on the virus infected eduction sysytem of Bangladesh. Must thank Prof Shishir for his contribution (or a thankless job?).

    Reply
  14. মীর জাফর আলী

    একজন জ্ঞান পিপাসু ও আদর্শ শিক্ষকের জন্য সৃজনশীল পদ্ধতি অবশ্যই একটি পরম পাওয়া। তবে যথাযথ প্রশিক্ষনের অভাবে এবং প্রায়োগিক তদারকির দূর্বলতার জন্য আজ এটি বিষফোঁড়ায় পরিনত হয়েছে।শিক্ষকদের প্রশিক্ষন এত নিম্নমানের হয় যা বলতে লজ্জাবোধ করি। প্রশিক্ষনের নামে সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। মনে হয় কোন রকম সময় পার করে পেমেন্ট আদান/ প্রদানই হলো এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, প্রতিষ্ঠানের জন্য কী নিয়ে যাবে তা যেন গৌন বিষয়। বোধকরি বস্তুনিষ্ঠ ও মানসম্মত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করলে প্রশিক্ষনের জন্য ভালো শিক্ষকদের মাঝে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। নিজের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সকল সচেতন শিক্ষক সর্বদা তৃষ্ণার্ত। তারপরও যেটুকু প্রশিক্ষন গ্রহন করি তা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করতে নানা বিপত্তির সম্মোক্ষিন হতে হয়। প্রেস থেকে নিম্নমানের প্রশ্ন কিনে আনা হয়। এতে একদিকে যেমন সিলেবাসের সাথে মিলেনা, অন্যদিকে শিক্ষকদেরও ট্রেনিংয়ের চর্চা করার সুযোগ ১০০% নষ্ট হয়। তাহলে শিক্ষকরা প্রশ্ন করার সুযোগ না পেলে, তাদের দক্ষতা না বাড়লে কিভাবে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল পদ্ধতি শেখাবেন তা বোধগম্য নয়। পাশাপাশি দক্ষ ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষকদের সম্মানির ব্যাপারে সরকার বিবেচনা করলে এ পেশায় অনেক মেধাবী ছেলেরা আসবে, আর তবেই শিক্ষার মান উন্নত হবে।

    Reply
  15. ashraf ali

    দেশে এখন পরীক্ষাসর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থা চলছে। শিক্ষা আর পরীক্ষার ফলকে এক করে ফেলা হয়েছে। সৃজনশীল পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবিমুখ করছে।

    Reply
  16. মহিউদ্দিন

    একই ভাবে কোনও শিক্ষার্থীকেই খালি হাতে না ফেরানোর যে কৌশল আমরা গ্রহন করেছি তাতে উচ্চ ফলনশীল জিপিএ পাঁচ প্রকল্প হয়তো সফল হবে, কিন্তু একটা গোটা প্রজন্মকে পঙ্গু করে দেবার যে কল আমরা চালু করেছি সেই অপরাধে আমাদের কি শাস্তি হওয়া উচিত?

    আজকের কালের কণ্ঠের লিড নিউজটা পড়লে বুঝতে পারবেন শিক্ষার কসমেটিক উন্নয়নের জন্য কি ভয়ংকর আত্মবিধ্বংসী, আত্মপ্রতারনামুলক প্রকল্প আমরা চালু করেছি!

    যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র ফেল করাকে যে শিক্ষক খাতা দেখেছেন তার অপরাধ হিসাবে দেখা হয়, আগাপাশতলা ভুল উত্তর দিলেও চার নম্বরের মধ্যে দুই নম্বর দিতে হয়, লিলিপুট ছাত্রকে টেনে গালিভার বানানো হয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে গালিভারের মতো বড় দেখানোর আশায়, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের দায়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কি একটুও অনুতাপ বোধ করেন না? এই পাপের দায় মাথায় নিয়ে উনি কালকে সকালেও কি এই চেয়ারে বসবেন ? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দয়া করে এই দিকে নজর দেন। এই বুদ্ধিবৃত্তিক গণহত্যা বন্ধ করান । আমাদের দরকার ভালো শিক্ষা। তাতে পাসের হার কমলেও কেউ আপনাকে বলবে না এটা আপনার সরকারের ব্যর্থতা।

    Reply
  17. রোমান

    সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি বনাম শিক্ষার মান!
    ——————————————————
    “দেশে শিক্ষার মান বাড়েনি”,,,,বহুবার প্রতি বছর একথা উচ্চারিত হয়েছে। যদিও শিক্ষার মান বলতে কি বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
    ******************************************
    #যদি ধরে নিই, সৃজনশীল পদ্ধতিটি ভালভাবে রপ্ত করার মাধ্যমে যদি পড়াশোনা করে ভাল ফলাফল করা যায়, তাহলেই শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষা পেয়েছে, তাহলে গোড়াতেই প্রশ্ন জাগে, এই পদ্ধতি চালু করার আগে আমরা কি সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানুষ গড়ার কারিগর অর্থাৎ শিক্ষক বানাতে পেরেছি?
    ———————————————*-*———–
    *উত্তর হচ্ছে,,,,”না”। তাহলে আমরা ঘোড়ার সামনে গাড়িটি জুড়ে দিয়েছি কিনা। ‘কুইক ফিক্স-সোর্টকাট’ কোন রাস্তায় মজবুত কোন জাতি তৈরি হয় না।

    Reply
  18. যোবায়ের

    কে শিক্ষিত আর কে মূর্খ তা তো নির্ণয় করার বিষয়। একজন বলে দিল আর আরেকজনের গায়ে মূর্খের ছাপ লেগে গেল, বিষয় কখনও এমন নয়।

    Reply
  19. R. Masud

    উন্নত কোন দেশেই বাধ্যতামূলক শিক্ষার লেবেল পর্যন্ত বাচ্চাদের ফেল করার মুখামুখি হতে হয়না, মানে পাশ ফেলের বিচারের সন্মুখীন হতে হয় এমন কোন পরিক্ষাই নেই।
    তারমানে এই নয় যে, সেখানে পরীক্ষা দিতে হয়না, পরীক্ষা হয় তা ফেল করছে বলে আগের ক্লাসেই বসিয়ে রাখতে হবে তার জন্য নয়, তাকে বুঝতে দেওয়া কোথায় সে দুর্বল সেই দিকে জোর দেবার জন্য যদি সে বাধ্যতামুলক লেবেলের পরেও আরো উপরের লেবেলে যেতে চায় —

    Reply
  20. সাহিত্যিক হাসান

    একাত্তরের রাজাকারদের মুরগি সাপ্লাইকারীরাই উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে জঙ্গিবাদকে উস্কে দিয়েছে।মাদ্রাসায় জঙ্গি তৈরি হয়না,যদি তৈরিই হত তাহলে দেশ জঙ্গিতে পরিপূর্ন হয়ে যেত,তারচেয়ে জেনারেল পড়ুয়াই বেশি জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত হয়েছে ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি সংবাদ মাধ্যম মারফত। কারন জেনারেল পড়ুয়াদের ধর্মীয় জ্ঞান নেই,তাই তাদের বিভ্রান্ত করা খুবই সহজ।তাই প্রতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত দুইজন ধর্মীয় শিক্ষক রেখে প্রতিটা ডিপার্টমেন্টের ছাত্রদের অন্তত সপ্তাহে একটি ক্লাস নিয়ে তাদের সামনে জিহাদ বিষয়টাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবে ও জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে ছাত্রদের অবহিত করবে,ফলে জেনারেল পড়ুয়ারা জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত হবেনা।

    Reply
    • রহমান সুহাইল

      বাংলাদেশের প্রগতিশীল এবং মুক্তমনাদের দেখি মাদ্রাসার ছাত্রদের হেয় করে কথা বলতে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বরঞ্চ মাদ্রাসার ছাত্রদের বরঞ্চ অনেক বেশী সুনাগরিক বিবেচনা করি – অন্তত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আর ব্যবহারের দিক দিয়ে তারা অনেক বেশী এগিয়ে থাকে – তথাকথিত আধুনিক শিক্ষার শিক্ষিত লোকজনের মতো রাস্তায় দাড়িয়ে মুত্রত্যাগ করে না – অথবা বাসে ২ টাকা ভাড়া নিয়ে হৈ চৈ করে না।

      Reply
      • R. Masud

        মাদ্রাসার ছাত্ররা ভাল তা ঠীক, তবে তারা দেশের অগ্রগতির চাকায় রুপান্তরিত হতে পারেনা। এত বড় একটা জন গুষ্টি দেশের অগ্রগতির চাকায় রুপান্তরিত না হয়ে বরং তাতে চেপে বসলে সে দেশের সামনে চলার গতি কমতে বাধ্য। তারও উপর, ধর্মের ব্যাপারে এত মুনির জন্ম হলে ” ঐ যে কথায় বলে আতি সন্যাসিতে গাজন নষ্ট” হবেই।

        সেও ফল তো আমরা হাতে নাতেই পাচ্ছি। আলকায়েদা, আইএসআইএস, বোকো-হারাম এর মত “ইসলাম বাঁচানোর” কত দল যে তৈরী হলো, সে সুবাধে আজ আমাদের ধর্ম ইসলামের এমন নাজুক অবস্থা —

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—